| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
প্রতিটি লেখার পেছনেই এক ধরনের 'প্রসব বেদনা' থাকে। লেখাটা মাথা থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত,হাত নিশপিশ করে, গলা কুটকুট করে, ডিস্পেপ্সিয়া হয় এবং আরো অনেক কিছু। লেখাটা শেষ হয়ে গেলেই এক ধরনের ভারমুক্তির আনন্দ হয়।
আজকের বেদনার কারন এক অতিথি লেখকের এই লেখাটি ঘিরে।
-------------------------- xxxxxxxx -----------------------------
আলমগীর ভাই,
বাংলার জনগন আপনার এই মহৎ আত্মত্যাগের কথা আজীবন স্মরণে রাখবে। আমি কিঞ্চিত অনুমান করতে পারি আপনাকে কি পর্যায়ের অমানুষিক পরিশ্রম আর যন্ত্রনার মাঝে দিয়ে যেতে হয়েছে এই গান (নাকি gun ??!!) লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে। এই 'স্বর্গ-বিমুর্ছিত- নরক- উদবেলিত' গান ---- আমাদের দেশের এখনকার সঙ্গীতের অধুনাচিত্র।
আমার একটি পরম শুভাকাংখী ধরনের বন্ধু আছে, যার জীবনের লক্ষ্য হল----এই পৃথিবীতে যত রকমের জঞ্জাল আছে,সে সব কেবল সে নিজে স্বার্থপরের মত 'উপভোগ' করবে না, সাথে সাথে তার বন্ধুদের ও এই 'আনন্দ' ভাগ করে দেয়। মহৎ মানুষ,নিঃসন্দেহে।
সেই মহৎ বন্ধুটির বদান্যতায় আমার প্রথমে 'ঐ' গানটি শোনার সুযোগ ঘটে। আসলে শুধু শোনা বলাটা ঠিক হবে না----সে আসলে আমাকে একটা ভিডিও লিঙ্ক পাঠিয়েছিল।
আমি জানিনা আলমগীর ভাই আপনি কি করে এই অসাধ্য সাধন করেছেন। অধিক শোকে ( বা shock এ) আমি পাথর।
আজ গানটির পুর্নাঙ্গ রূপটি দেখে দ্বিতীয়বার মুর্ছা যেতে হল।
আমাদের দেশে অ-নে-ক দিন ভালো গান হয় না। দেশে যখন ছিলাম, তখন আধুনিক গান গুলো শুনে তীব্র বিবমিষায় মুখ (ও কান) সরিয়ে নিতে হয়েছে। ২০০০ সালে যখন দেশ ছাড়ছি, তখন কেবল আসিফ আকবর উঠতে শুরু করেছেন। ভীষন ঋষভ কন্ঠে, সেই সাথে নানান দৈহিক আক্ষেপ বিক্ষেপের সহযোগীতায় আসিফ গান পরিবেশন করেন। সে গানের যেমন কথা, তেমন সুর। ফার্মগেটের ধুলোয় ঢাকা, ধোঁয়া ঠাসা গিজ গিজে ঘর্মাক্ত মানুষের ভীড়ে হঠাত হঠাত গগন বিদারী কন্ঠে আসিফ আমাদের কানে ঝাপিয়ে পড়তেন---'ও প্রিয়া তুমি কোথায়???'
গান শুনে আমার মনে হত, এই মুহুর্তে যে কোন খান থেকে আসিফের 'প্রিয়া' কে ধরে এনে আসিফের সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে----হতভাগা যদি তাতে আমাদের রেহাই দেয়।
আমি যদি আরেকটু পেছনে চলে যাই, আমার কৈশোর আর প্রায় নিস্তরঙ্গ যৌবন কালে, তাহলে দেখতে পাই, রাস্তা ঘাটে শোরগোল তুলেছেন আমাদের 'ব্যান্ড' সঙ্গীতের সদস্যরা। তখন মাত্র তারা সন্তর্পনে আমাদের জ়ীবনে পা ফেলছেন। কাজেই গানের মধ্যে যত না 'পশ্চিমাভাব' তারচেয়ে বেশি দেশীয় সুর আর ভাবের সম্মিলন। তখনকার এক ঘেয়ে আধুনিক গানের জগতে তারুন্যের প্রতিনিধিত্ব করার মত তেমন কিছু ছিলনা। কাজেই তরুনরা প্রায় হামলে পড়ে ব্যান্ড কে আঁকড়ে ধরলেন।
সে সময়ে আর সব কিশোরের মত আমিও দিশেহারা। এই না-শিশু-না-যুবক কালে নিজেকে সঙগায়িত করাটা খুব জরুরী ছিল। একটা নির্দিষ্ট Identity -র প্রয়োজন ছিল। আমার সামনে পথ ছিল দু'টি---- ব্যান্ডের গানে মনোনিবেশ করা, অথবা সেই চিরায়ত রবীন্দ্র-নজরুলে নিজেকে বেঁধে রাখা। আমার ছোট্ট মাথা অনেক ভেবে চিন্তে দাঁড়িওয়ালা-ঝাকড়া চুলকেই বেছে নিল।
একটা পথ বেছে নেবার ফল-----অন্যপথে ভ্রমন না করা। সে সময় বার বার নিজেকে শেখাতে হত,'তুমি যা পছন্দ করেছ, সেইটাই ঠিক----ব্যান্ডের গান 'বখে' যাওয়া ছেলেরা শুনে',ইত্যাদি। কিন্তু হঠাৎ যখন কেউ শুনছে না, তখন মৃদু গুনগুন----'মাঝরাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়'...কিংবা "দৃষ্টি-প্রদ্বীপ জ্বেলে খুঁজেছি তোমায়"।
আরো পেছনে গেলে দেখতে পাব, এক ক্লাস সিক্স/সেভেনের ছেলে মাথা ঝাকিয়ে শুনছে, কুমার বিশ্বজিতের সদ্য সদ্য জনপ্রিয় হওয়া 'তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে' বা 'চতুর্দোলাতে চড়ে দেখো ঐ বঁধু যায়" (আহা, এই গানটা অনেক দিন শোনা হয় না)।
আমি নিশ্চিত---সেই সময় গুলোতে প্রচুর লোকজন নাঁক কুচকেছেন এই গান গুলো শুনে। এই চিরায়ত বনাম জায়মান সংঘর্ষ অনেকদিনের।
কিন্তু কথা হলো---- কোন জিনিসটা কে আমরা রুচিকর ধরে নেব? আর কোনটা অরুচিকর?
রবীন্দ্রনাথের সময় 'শনিবারের চিঠি' গুলোতে তার গান গুলো নিয়ে যে সব হৃদয়হীন মন্তব্য আসত---আজ তা ভাবলে অবাক লাগে। তখনকার বাইজ়ি বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের 'কেন যামিনী না যেতে জাগালে না' আর '
ওযে মানেনা মানা'---বাইজীদের প্রিয় গান ছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? এখন আমাদের রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে 'আহা উহু' শুনলে বিব্রত হতে হয়।
কেউ বুঝে করে, বেশির ভাগ না বুঝে। আমার খুব প্রিয় একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত হলঃ
" এত দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে
দেখা পেলেম ফাল্গুনে............"
এই গানের অন্তরার কথাটি শুনুনঃ
" গন্ধে উদাস হাওয়ার মত
ওড়ে তোমার উত্তরী
কর্ণে তোমার কৃষ্ণচুড়ার মঞ্জরী"
একদিন গানটা গুনগুন করতে করতে আমার বন্ধু ফক্কুলকে বললাম, গানটার এই জায়গাটা দারুন না??
ফক্কুল হাই তুলতে তুলতে বলল, কোন জায়গা?
'ঐ যে গন্ধে উদাস..."
(হাই)
'তুই উত্তরী মানে জানিস?'
কিছুক্ষন স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে ফক্কুল বলল, গান শুনতে গিয়ে যদি ডিকশনারী খুলতে হয়, তাহলে গান শোনার মজাটা কোথায়?
কাট টু ২০০৮।
২০০৭ এ বাংলাদেশে অন্যতম ব্যবসা সফল যে কয়টি গানের এলবাম বেরিয়েছে, তার মধ্যে হাবিব-ফুয়াদ-অর্নব এই ত্রয়ীর নাম সর্বাগ্রেগন্য।
হাবিবের আগমন অনেকটা ধুমকেতুর মত---এমন এক সময়ে, যখন আমাদের ব্যান্ড গুলো তাদের জৌলুস হারিয়েছে, আধুনিক গান তথৈবচ। মানুষ দিনে দিনে ঝুকছে হিন্দি গানের দিকে। হাবিব নিয়ে আসলেন এক নুতুন সাউণ্ড, ভিন্ন ফ্লেভার---- সিন্থেসাইজার, রিভার্ব মাইক্র ফোন, আর 'এ আর রহমান' এ উজ্জীবিত যন্ত্রানুষঙ্গ। তার প্রথম এলবামেই বাজীমাত। আমাদের কোনায় পড়ে থাকা হত দরিদ্র পল্লী গান এক নুতুন মাত্রা পেল। তরুনরা বহুদিন বাদে হিন্দী গানের সাথে পাল্লা দেবার মত কিছু পেলেন। ওই সময়টাতে আমি দেশে গিয়েছিলাম। আমার চমতকার লাগল তার কাজ। বিশেষ করে তার সঙ্গীতায়োজন। 'আমি কুল হারা কলংকিনী' গানটা তে আধুনিক সিন্থেসাইজার নিঃসৃত সুরের সাথে
গ্রামের কবির লড়াই বা যাত্রায় যে বেহালা বাজে, তার সংযোজন-----এক কথায় অসাধারন।
কৃষ্ণ এর পর 'মায়া', তারপর 'ময়না গো', তারপর তার একক এলবাম 'শোনো' এবং একে বারে হালফিলের 'বলছি তোমায়'। হাবিবের সাফল্য নুতুন করে একঝাক নবীন সুরকার এর দ্বার খুলে দিল।
বাপ্পা মজুমদার আমার বিশেষ প্রিয়। তার নিজের বেশ একটা আলাদা রকমের স্টাইল তৈরী হয়ে গিয়েছে। তার কম্পোজ করা গান গুলো শুনলেই বলে দেয়া যায়, এটি বাপ্পা'র। সেই বাপ্পাও দেখলাম কোমর বেধে নেমে গেলেন এই 'নুতুন' ধারাটা আত্মস্থ করে নিতে। তারই ফল---সন্দীপনের ফোক এলবাম, বাপ্পা'র সঙ্গীতায়োজনে। ফর্মুলা এক। সাফল্য ও প্রায় এক রকমের। একের পর এক হাবিবীয় ধাঁচে এলবাম তৈরী হতে লাগল। আমি শুধু খুশি হলাম এই ভেবে, যাক কিছুদিনের জন্য অন্ততঃ হিন্দী-ভুতের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল।
এরই মাঝে হঠাত করে শোনা গেল অর্নবের গান। তার গানের গলাটি বেশ সুললিত---যাকে বলা যাতে পারে কিন্নর কন্ঠী। তার গান শোনার সাথে সাথে আপনি শান্তিনিকেতনের ট্রেনিং পাওয়া গলার আমেজ পাবেন।
নানা প্রতিভায় কুশলী এই বহুমাত্রিক অর্নবের নিজের এলবামটা আর সব হাবিবীয় ধাঁচ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রয়াস। সঙ্গীতায়োজনে অর্নব হাবিবের চেয়েও কুশলী।
একটা দুর্দান্ত ট্রেনিং থাকার ফলে অর্নব অম্লান বদনে পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালান চলমান গানের কানটা ধরে।
তার প্রথম সাফল্যের মুখ দেখা 'তুই গান গা'(বাংলা ব্যান্ডের সাথে) আর 'সেযে বসে আছে'---তাকে প্রায় চূড়োয় পৌঁছে দেয়। তার একক 'চাইনা ভাবিস', 'হোক কলরব' এবং এক্কেবারে সাম্প্রতিক 'ডুব'--অর্নবের যোগ্যতা আর জনপ্রিয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তার 'চাইনা ভাবিস' এল্বামে 'অর্ধ-ঝাপ' তালে একটি গান সন্নিবদ্ধ আছে-- 'একদিন তোর কথা শুনবেই নদী"।
আমি জানিনা আমাদের এই সাম্প্রতিক কালের আধুনিক গানে আগে কখনো এই অর্ধ-ঝাপে কোন গান
সন্নিবদ্ধ হয়েছে কিনা। এর জন্য অর্নব অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার।
অর্নবের কিছু আগে আরেক 'অস্পষ্ট' গায়ক তাহসান কিছুদিন বাজারে ঘোরা ফিরা করেছেন। দেশে তখন সবে মাত্র Alternative rock শব্দটা জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। তাহসান নিজেকে খুব সম্ভবত সেই যুগের নবী ভাবতে শুরু করেছিলেন। অস্পষ্ট বাংলা উচ্চারন, র কে ড় বলা (এত যখন আপত্তি, তাহলে বাংলা বর্নমালা থেকে হতভাগ্য 'র' তুলে দিলেই হয়), এবং প্রায় 'অব্যাখ্যাত' আসঞ্জনে ক্লিষ্ট পদাবলী-----আমাদের বেহুলা প্রজন্ম ভেসে গেল বোঝা-না-বোঝার স্রোতে।
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ছে তার গাওয়া 'বৃত্তাল্পনা' গানটির কথা। অনেক অনেক বেকুবের চোখে এক ধরনের শ্রদ্ধা-মিশ্রিত অনুরাগ দেখেছি---এই অসাধারন শব্দটি বাংলা ভাষায় যুক্ত করার জন্য।
এতক্ষন যাদের কথা বলেছি, তাদের সকলের অন্তত একটি বিষয়ে সাজুয্য ছিল---গানের লিরিক্টা অন্তত ভয়াবহ ছিল না। এদের মাঝে আমি খুব সম্ভবত অর্নবের গানের লিরিক্স গুলোকে এগিয়ে রাখব। তার--
'চিলতে রোদে পাখনা ডোবায়
মুচকি হাসে শহরতলী......"
গানটার কথা নিঃসন্দেহে অসাধারন।
আমাদের দেশে যখন এই চলছে, বিদেশের মাটিতে একজন প্রস্তুত হচ্ছেন সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে---আমাদের চমকে দিতে। ইনি ফুয়াদ-আল-মুক্তাদির। ভদ্রলোক নুতুন গান তৈরির রিস্কে না গিয়ে, জীবিত গান গুলোর চামড়া ছাড়াতে বসে গেলেন। কালক্রমে তার সাথে জুটি বাঁধল একঝাক পায়রা-----প্রবাসী বাঙ্গালী। এদের মাঝে আনিলা, পুনম, আরমিন মুসা বেশ নজর কাড়লেন। এদের অনেকেই রীতিমত সাধা গলা নিয়ে এসেছেন। বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসেও তারা অন্তত বাংলা গানের চর্চা রেখেছেন----সেটার জন্য বাহবা তারা পেতেই পারেন।
আনিলা-পুনম-আরমিন মুসা প্রায় এক ধাঁচের গান নিয়ে নেমে পড়লেন। এদের কান্ডারী ফুয়াদ। তার প্রথম 'রিমেক' (তথা পরিচিত গানের চামড়া ছাড়ানো রুপ) এল্বামটি ছাড়লেন। বেশ সতর্ক নির্বাচন। খুব সম্ভবত 'Revolution' ছিল সেটার নাম। স্পষ্টতই ফুয়াদের অভিপ্রায় উচ্চকিত। এর সাফল্য মোটামুটি দেখবার মত। এর পথ ধরে একের পর এক আসতে থাকল variation # 25, বন্য(প্রথম বাংলা শিরোনামের এলবাম) ইত্যাদি।
ফুয়াদ যখন ঠান্ডা মাথায়, বাংলা সঙ্গীতে বিপ্লব আনার চিন্তা না করে, সুর করতে বসেন তখন কিছু চমতকার মৌলিক গান তৈরী হয়----'গাইব না আর', 'নিটোল পায়ে' প্রভৃতি। কিন্তু সস্তা জনপ্রিয়তার ভূতটা তার মাথা থেকে নামল তো নাই, বরং সিন্দাবাদের ভূতে রুপান্তরিত হল। 'বন্য' এলবামটি যেন তার নামের সার্থকতা প্রমান করার জন্যই এক রাশ 'অজাচারিত' বাক্যবন্ধের সন্নিবেশ ঘটাল। যদি ভুল না করে থাকি, তাহলে আপনার কষ্ট করে 'অনুদিত' গানটা ওই এলবামটির।
যে কোন ধরনের গানের জন্য এখন শ্রোতা তৈরী হয়েছে। ফুয়াদের জনপ্রিয়তা আমাদের দেশ ছাপিয়ে পাশের দেশেও আঘাত হেনেছে (সব জায়গাতেই গরু ছাগল পাওয়া যায়)।
কিন্তু আমার যে গান শুনে গা রি রি করছে, আমার চেয়ে ২০ বছরের ছোট এক কিশোরের কাছে হয়ত সেই গানটাই দুর্দান্ত। সে জানে গানটার লিরিক্স ভয়াবহ---কিন্তু গান শোনাটা সে জায়েজ করে এই বলে যে,'গানটা Funny'! খবর নিলে হয়ত জানা যাবে, তার কাছে ফুয়াদ বাংলা গানের নুতুন ধুমকেতুর আরেক নাম। তার কাছে ফুয়াদের এই প্রয়াস আসলেই এক Revolution ! বড়দের ক্ষিপ্ত আচরন কেবল তার ফুয়াদ-প্রেমে ইন্ধনই যোগায়।
আমি কি করে তাকে বুঝাই---funny এক জিনিস, আর vulgar আরেক জিনিস। হয়ত এই বয়েসে সে এই সব নিয়ে মাথা ঘামাতে ইচ্ছুক নয়। তাই হয়ত তার বয়সীদের আড্ডায় ফুয়াদ যদি রবি ঠাকুরের চেয়েও বিশাল ছায়া (ফুয়াদের শারীরিক আকৃতির কথা বলা হচ্ছে না) ফেলে হাজির হন, আমি মোটেও আশ্চর্য হব না।
আর আমি এটাও জানি, আজ থেকে ২০ বছর পরে সেও হয়ত কোনো ব্লগে লিখতে বসবে---' আজকালকার গানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলেই আমার মুখটা তেতো হয়ে যায়"
হায়---------------
২
আর আমি এটাও জানি, আজ থেকে ২০ বছর পরে সেও হয়ত কোনো ব্লগে লিখতে বসবে---' আজকালকার গানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলেই আমার মুখটা তেতো হয়ে যায়"
সর্বশেষ কথা এইটাই। আপনে যেসব গানের কথা টানলেন তার দু একটাই কেবল আমি শুনছি। তাও অন্যে বাজাইছে আমি পাশ কাটাইতে যাইয়া শুনছি টাইপ। মাথায় ঝিম মেরে থাকে জোড়াসাঁকোর বুড়াটা। আর পঞ্চকবি। সুবির নন্দী'র গান যত শুনি তার একভাগও শোনা হয়না আমার সময়ের গান। এইটা আমার ইচড়ে পাকামো হইতে পারে।
সব কিছু শেষ হইয়া গেলে নাকি থাকে শুধু অন্ধকার কথাটা বলছেন যে কবি তিনি মনে হয় এই কথাই বলতে চাইছেন, যতই লাফাও বাপেরা হ্যাশম্যাশ ঠান্ডা মাইরা ম্যান্দা মাইরা ভাবতেই হয়, ঝিমাইতেই হয়, তখনতো কুর্দন ভাল লাগেনা, তখন রবিকাহারেই টানতে হয়।
৩
জীবনানন্দ দাশ বলেছেন ‘শাশ্বত রাত্রীর বুকে সকলি কেবলি সুর্যোদয়’
আমাদের প্রতিবাদের কন্ঠ সরব থাকলে স্বর্ণলতার ঝাড় সময়ের আগেই সবুজ বৃরে মাথা থেকে সরিয়ে ফেলা সম্ভব
তাইতো মনে আশা নিয়ে গেয়ে উঠি ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে’
৪
আমি একটা বাজে মন্তব্য করি? ![]()
ফুয়াদ সাহেবের "নিটোল পায়ে" গানটা একদিন শুনলাম। গানের দ্বিতীয় লাইনে গিয়ে বুঝলাম গানটা শচীন কত্তার।
আমার কাছে মনে হল: শচীন কত্তাকে উপুড় করে ফেলে পুটকি মারলেও এর চাইতে কম অপমান করা হত।
কি মাঝি? ডরাইলা?
৬
গানটা শুইনা অনেকে লাফাইসে, আমার এত মেজাজ খারাপ হয় গানটা শুনলে বলার মত না, আমার এই আজিরা গানটা শুনলেই শচীন কত্তার জেনুইনটা শুনতে ইচ্ছা করে ।
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
৭
'বন্য' এলবামটি যেন তার নামের সার্থকতা প্রমান করার জন্যই এক রাশ 'অজাচারিত' বাক্যবন্ধের সন্নিবেশ ঘটাল। যদি ভুল না করে থাকি, তাহলে আপনার কষ্ট করে 'অনুদিত' গানটা ওই এলবামটির।
মনে হয় না। আমি কখনও এলবাম ধরে শুনিনি তবে ওয়েবের তথ্য মোতাবেক ওই গানটা variation # 25 vol/ver 2 (মাত্র ২/৩ টা গান)
আলমগীর
৯
অনিকেত আপনার সাথে একদম ১০০% একমত।
আমি আরো একজনের কথা বলতে চাই ইনি হচ্ছেন রুমানা আজাদ। বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত শিল্পী আজাদ রহমানের প্রথম কন্যা। ওনার এলবামের নাম "সুরের উত্তরসূরী" যার প্রতিটা গানের কথা এবং সুর করেছেন ওনি। গানের কথাগুলো যে কত উন্নত মানের তার কয়েকটা এক্স্যামপল দিচ্ছি,
"অলীক মায়ার মরীচিকায় সন্ধি
সোনালী আলো আধাঁরে যেন বন্দি"
or
"মনকাড়া গোধূলির রক্তিম লাজ,
দেখে বলে নিশিথিনী বাঁধ ভাঙো আজ"
or
"কল্পনায় না বলা কথা, মেলুক পাখা
তোমায় ঘিরে, পৃথিবী হোক আরো মধুর
বাঁধি নতুন কোন সুর
রঙধনু রঙে জীবনটা হোক না আঁকা।
এলবামের নাম "সুরের উত্তরসূরী" এর সাথে মিলিয়ে এলবামে গান করেছেন শিল্পী আজাদ রহমান ও সেলিনা আজাদের দুই মেয়ে, রোজানা এবং নাফিসা আজাদ, শিল্পী বারীণ ও ইলা মজুমদারের ছেলে আমাদের সবার প্রিয় বাপ্পা (উনি এ এলবামের বেশ কিছু গান কমপোসও করেছেন), শিল্পী মাহমুদুননবীর মেয়ে সামিনা ও ফাহমিদা নবী, শিল্পী খান আনাউর রহমান ও নীলুফার ইয়াসমিনের ছেলে আগুন, শিল্পী বশির আহমেদ ও মীনা বশির এর ছেলে রাজা বশির ও মেয়ে হোমায়রা বশির।
এলবামের প্রতিটা গান একটি আরেকটির চেয়ে সুন্দর আর পুরো আইডিয়াটা আমার দারুন লেগেছে যে সব প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত শিল্পীদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে করা। আপনাদের যারা শোনেননি তারা গানগুলো শুনলেই বুঝতে পারবেন।
---------------------------------------------------------
মূর্ছনা, কেটে গেছে সুর
জোছনা, ছড়ায় বেদনা, হৃদয় আনমনা ... চির চেনা তুমি অচেনা।
১০
শুনতে হবে তো !
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
১১
আমার বিশ্বাস আপনার খুবই ভালো লাগবে। যদিও রুমানা আজাদ এখনও হাবিব, ফুয়াদ বা অর্নবের মত জনপ্রিয় নন। ওনার আরেকটা গানের কিছু অংশ খুব লিখতে ইচ্ছে করছে,
" জল তরঙ্গে সুর আরোহন
রয়েছি নীরব তবু কি যে আলাপন
যে সুরে সন্ধা নিশি রাত হয়
সে রাগিনীতে মিশে ছুঁয়েছি তোমায়"
এমন গীতিকার আর সুরকার আমাদের দেশের আধুনিক গানের জগতে খুব দরকার।
-------------------------------------------------------
মূর্ছনা কেটে গেছে সুর
জোছনা ছড়ায় বেদনা, হৃদয় আনমনা ... চির চেনা তুমি অচেনা।
১২
@মুমু : কথা খুবই সুন্দর, শুনতে হবে , আপনাকে ধন্যবাদ ।
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
১৩
ইন্টারেস্টিং লেখা -- দুয়েকটা বিক্ষিপ্ত মন্তব্য।
লেখকের আশংকা সব অমূলক নয়। তবে সংস্কৃতিতে 'জাত গেলো, জাত গেলো' রবটা চিরকাল ছিল এবং চিরকাল থাকবে। এইখানে লং-টার্ম বিচার করাই শ্রেয়। যা কালের বিচারে উৎকৃষ্ট, তা টিকে থাকবে, যা কালোত্তীর্ণ নয়, তা ক্ষণিকের আনন্দ দিয়ে পরক্ষণেই হারিয়ে যাবে। নব্বইয়ের দশকে কত ব্যান্ডই তো ছিল - মাইলস ফিডব্যাক রেনেঁসা থেকে শুরু করে ডিফরেন্ট টাচ নোভা প্রমিথিউস আগুন ফাগুন কত কি। অথচ সেই ব্যান্ডের গান কয়টাই বা বেঁচে আছে এখন, আর কেই বা শোনে। ফুয়াদ, অর্ণব, হাবীবের বেলায়ও কালের আইন প্রযোজ্য হবে। কিছু টিকবে, বেশির ভাগই টিকবে না।
শর্ট টার্মে এই সবে আপত্তি করার মত মানুষেরও অভাব হবে না। কিন্তু বাক স্বাধীনতার সাথে শ্রবণের স্বাধীনতা চলে আসে। সুরুচিপূর্ণ হবার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ হবার অধিকার থাকা উচিৎ। যেমন কারো বিচারে হুমায়ুন আহমেদ কালজয়ী, আধুনিক বাংলার সেরা সাহিত্যিক - আবার কারো কাছে তিনি একজন সস্তা-দরের তৃতীয় শ্রেণীর হালকা-চটুল "অপন্যাসিক"। চল্লিশ পৃষ্ঠার তথাকথিত 'উপন্যাস' ৫০ টাকায় বিক্রি করে বড়লোক হয়েছেন, একই জিনিস ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তিরিশবার লিখলেও পাঠক খায়। প্রশ্ন হলো এখানে কে ঠিক আর কে বেঠিক?
মাকসুদ যেবার ঠাকুরের রিমিক্স করেছিলো, তার কি মুন্ডুপাতটাই না করলো সংস্কৃতির দন্ডমুন্ডের কর্তারা। তাহলে কোথায় বাক স্বাধীনতা, কোথায় শিল্পীর এক্সপেরিমেন্ট করার স্বাধীনতা? এই স্বাধীনতাগুলো তো সিলেক্টিভ নয়।
সংস্কৃতিতে গেটকিপার তাই অপছন্দনীয় এবং নিষ্প্রয়োজন। বড়জোর শিশু কিশোরদের মাঝে সাংস্কৃতিক শিক্ষা আরো জোরদার করা যেতে পারে, যাতে তারা ভালো থেকে মন্দ বিচার করতে শেখে। তবে সেটাও হিট এন্ড মিস মনে হয়। পশ্চিমে যত তরুন তরুনী মোৎসার্ট বেঠোফেন শুনে, তার থেকে অনেক বেশী শুনে স্নুপ ডগের র্যাপ বা ব্রিটনির পপ। দেশে কবিতার পাঠক যেমন অল্প, এখানেও কীট্স বা ইয়েট্স পাঠ্যবইয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। অথচ সবার হাতে হাতে ড্যান ব্রাউনের সবচেয়ে নতুন থ্রিলার।
তারপরেও যা টেকার, টিকে যায়। শেক্সপীয়ারের ৪০০ বছর পুরানো নাটক এখনো হাউজফুল করতে পারে এখানে, যদিও আজকের বিচারে শেক্সপীয়ারের ভাষা বেশ দুর্বোধ্য। আমি নিজ কানে আমার সামনের সারিতে এক দর্শককে বলতে শুনেছিলাম, "আচ্ছা ইন্টারভেলের আগে ঐ জায়গাটায় আসলে ঠিক কি হইলো? ঐ রাজপুত্রটা কি আসলে অমুকের ছেলে না তমুকের ছেলে?" !!!
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর
১৪
মোটামুটি এই কথাটাই লিখব ভেবেছিলাম ... থ্যাংক্স বস, কষ্ট কমিয়ে দেয়ায় ...
জাস্ট আরেকটু যোগ করি ... ফুয়াদের সব গান আমার ভালো লাগে না, তবে কয়েকটা লাগে [মনে হয় সচলে আর কেউ নাই যার ফুয়াদের গান ভালো পায়, কিন্তু আমার ভালো লাগে, কি আর করা
]...
আনিলা/সুমনকে নিয়ে ফুয়াদের "এখন আমি" ভালো লেগেছে, তপুর সাথে "বন্ধু ভাবো কি" এর কয়েকটা গান ভালো লেগেছে, ভ্যারিয়েশন টুয়েন্টি ফাইভের দুই একটা গান ভালো লেগেছে, অনেক আগে "মায়া" নামে বের করা আনিলা-ফুয়াদের এল্বামের দুইটা গান আমি এখনো শুনি ("গতিময় এই শহরে" আর "যদি ভাবো থাকবে একা") ... আর "নিটোল পায়ে রিমিক ঝিমিক"ও আমার ভালো লেগেছে ...
কিন্তু নীতিগতভাবে আমি অন্য কারো গান রিমিক্স করা সাপোর্ট করি না, বুঝি কাজটা ঠিক না ... কিন্তু সেই গানটা যদি শুনতে ভালো লাগে তাহলে কি করতে পারি? ... একটা কথা ভেবেই স্বান্ত্বনা পাই যে এই গানটা টিকবে না, শচীন দেবেরটাই টিকবে, যেটা সুবিনয়দা বলেছেন ...
ফুয়াদ সম্পর্কে আরেকটা অভিযোগ সে মিক্সারজাতীয় হাবিজাবি ব্যবহার করে গান বানায়, এখানে কোন কৃতিত্ব নাই ইত্যাদি ইত্যাদি ... এখানে খালি একটা কথাই বলা যায়, আমরা যখন ব্যান্ডের গান শুনতাম আমাদের বাবা-চাচারা গানের সাথে ড্রাম-টামের কি সম্পর্ক সেটা নিয়ে ব্যাপক হাসাহাসি করতেন ... তাতে কিন্তু ব্যান্ডের শ্রোতাদের কিছু যায় আসে না ... যাদের শুনতে ভালো লাগে তারা শুনবে, যাদের ভাল্লাগে না সে শুনবে না ... এতে বাংলা সংগীতের গুয়া মারা হচ্ছে এ ধরণের কথার আসলে বেইল নাই ...
কোন কিছুকে ঢালাও দোষ দিলে সমস্যার খুব বেশি সমাধান হয় বলে মনে হয় না ... আমার বাসায় মা-খালা-বোনেরা লাইন দিয়ে হিন্দি সিরিয়াল দেখতো আমি হাজার চিল্লাচিল্লি করেও সেটা থেকে তাদের ফিরাতে পারি নাই ... কিন্তু একান্নবর্তী শুরু হওয়ার পর সপ্তাহে দুইদিন সাস ভি কাভি বহু থি বাদ দিতে কারো কোন সমস্যা হয় নাই ...
কাজেই ফুয়াদরে গালি দিয়ে আসলে লাভ নাই ... ওর গান শোনার লোক আছে, কাজেই ফুয়াদও থাকবে ... আমি বরং যখন দেখি পোলাপানের নাচানাচির অনুষ্ঠানে জাস্ট চিল বা ইয়া আলীর বদলে "তোর জন্য আমি বন্য" কিংবা "যাত্রাবালা" বাজায় আমার তখন ভালোই লাগে ...
[আরেকটা কথা, ড়্যাপটা শুনতে গিয়ে চিনতে পারলাম, দেশ ছাড়ার আগেই কোথাও শুনেছিলাম, ভাল্লাগে নাই, তাই আর শুনি নাই ... যাদের ভালো লাগে তারা শুনুক, কেউ পর্ন দেখতে চাইলে আমার কি, বয়স বাড়লে হয়তো আর দেখবে না ...]
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...
১৫
ফুয়াদের কিছু গান আমার খুব ভাল লাগে। আমার সবচেয়ে ভালো লাগছে আনিলার "ঝিল মিল ঝিল মিল ঢেউ", কয়েকদিন আগে একটা শুনলাম "আরেফিনের" গাওয়া ফুয়াদের কম্পোজিশনে "বিবাগী এই মন নিয়ে"। অসাধারণ। তাছাড়া নিটোল পায়ে তো আছেই।
তপু ভাইয়ের গলায় অটো টিউনার মারায় ফুয়াদের উপর আমার বিশাল রাগ এখন।
---------------------------------
জ্ঞানীরা ভাবলেন খুব নাস্তানাবুদ করে ছাড়া গেছে...আআআহ...কি আরাম। বিশাল মাঠের একটি তৃণের সাথে লড়াই করে জিতে গেলেন।
ছোট্ট তৃণের জন্য অপরিসীম ঘৃণা।
১
অনেক কিছু বলার জন্য দাঁতে শান দেই, কিন্তু সময়াভাবে আর পোস্ট প্রসব করা হয় না ... বড় বেশি দৌড়ের উপর আছি ...
খালি দুইটা কথা বলতে লগিন করলামঃ
নিটোল পায়ে রিমিক-ঝিমিক গানটা ফুয়াদের মৌলিক না, এইটা (আমার ভুল না হইলে) এস ডি বর্মণের একাধিক গানের ঘুঁটা দিয়ে বানানো ... ফুয়াদের গানটা শোনার (এবং বলতে দ্বিধা নাই খুবই ভালো লাগার) পর এসডি বর্মণের গান দুইটা খুঁজে বের করে শুনলাম ... জানিনা "কুত্তার পেটে ঘি সয়না" জাতীয় ব্যাপার কিনা, আমি ফুয়াদেরটাই বারবার শুনি, এসডি বর্মণেরটা আর শোনা হয় নাই ...
বন্য এলবামটা আমি শুনছি ... এই গানটা মনে হয় সেখানের না ... (এই গানটা আমি এখনো শুনি নাই, লিংক দিতে পারেন কেউ?)
বন্য আর ফুয়াদ নিয়া বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে, দেখি সময় বের করতে পারি কিনা ...
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...