অগোছালো শব্দমালা: ব্যাকটেরিয়া নাকি ছত্রাক!

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি
লিখেছেন অনার্য সঙ্গীত (তারিখ: বিষ্যুদ, ০২/০৬/২০১১ - ১১:০০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কয়েক মাস আগে এক সদ্য পরিচিতের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। যেচে পড়ে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করায় তার উপর যথেষ্ট বিরক্ত ছিলাম! "কী হে! কী অবস্থা! এখন তো একটু ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে..." টাইপ কথা বলে কেটে পড়ার তাল করছি, আচমকা লোকটি একেবারে আমার হৃদয়ের দুর্বলতম কোনে ঘাই মেরে বসল! যে কথা থামাতে চাইছিলাম, সে থামলো না। আরো বেশ কিছুক্ষণ কথা চলল। তার এ প্রশ্নে সে প্রশ্নে আমার পক্ষের বেশিরভাগ জবাবই অবশ্য 'জানিনা'-গোত্রের ছিলো। বিরক্তি, ব্যস্ততা এসবের উর্ধে সেটা একেবারেই সত্যি কথা। আমি আসলেই জানিনা। তবে সেদিনের পরে এই বিষয়ে লেখার কথা মাথায় ঢুকে গেলো। কিন্তু মাথায় ঢুকলেই তো আর হবে না। কত জঞ্জাল যে মাথায় ঢুকে মাথা ঠুকে মরছে তার হিসেব কে করবে! আজকাল যেসব নতুন চিন্তা মাথায় ঢোকে সেসব ওই জঞ্জালে পড়ে টুপ করে তলিয়ে যায়। আলোর মুখ দেখে না। সম্প্রতি ভেবে দেখলাম, হিসেব করে গুছিয়ে লিখতে গেলে আর লেখা হয়ে উঠবে না। খাপছাড়া-গোলমেলে হলেও যতদূর পারা যায় এখনই লিখে ফেলা ভালো।

তো যে লোকটির কথা বলছিলাম, সে জিজ্ঞেস করেছিলো, "ব্যাকটেরিয়া খারাপ নাকি ছত্রাক খারাপ?" উল্টো করে বললে, "ব্যাকটেরিয়া ভালো নাকি ছত্রাক ভালো?"। আমার হিসেবে ভালোর দিক থেকে এই দু'দল পরস্পরকে হরহামেশা টেক্কা দেয়। সহজে শ্রেষ্ঠত্ব হিসেব করা সম্ভব নয়। তবে কিনা লোকটি দীর্ঘদিন ধরে পায়ের সমস্যায় ভুগছে। তার ডাক্তার বলেছে সেটা "ফুট রট"। যে ব্যক্তি নিজে রোগে ভুগছে সে ব্যাকটেরিয়া আর ছত্রাকের মধ্যে কে কতটা খারাপ তা জানতে চাইবে সেটাই স্বাভাবিক।

যতদূর জানি বাংলায় 'ফুট রট'কে বলে ক্ষুরা রোগ। গবাদিপশুর ক্ষুরে এই রোগ হয়ে বলে এরকম নাম। প্রধাণত দুটি 'এনারোবিক' ব্যাকটেরিয়ার কারণে এটা হয়। এনারোবিক ব্যাকটেরিয়া হলো তারা যারা অক্সিজেন মুক্ত পরিবেশে থাকতে চায়। বাতাসের স্বাভাবিক অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসলে এদের কেষ্ট প্রাপ্তি হয়। ক্ষুরা রোগের জীবাণুগুলো সুস্থ সবল কোষে সংক্রমণ ঘটায় না। কেটে গেলে অথবা আঘাত পেয়ে যখন কোষ আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে না তখন এই জীবাণুগুলো সংক্রমণ ঘটায়। গরু-ছাগল দীর্ঘ সময় পায়ে কাদা-মাটি-পানি মেখে থাকে বলে এদের ক্ষুরের আশেপাশের সুস্থ কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এরকম অবস্থায়ও ক্ষুরারোগের জীবাণু রোগ বাধানোর সুযোগ পায়।

তবে কিনা, আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি বলব না মানুষের ক্ষুরা রোগ হওয়া খুব স্বাভাবিক। বরং আমার সবার আগে মনে পড়বে অন্য দুটি রোগের কথা। যদি এনারোবিক ব্যাকটেরিয়া থেকে রোগটি হয় তাহলে গ্যাংগ্রিন, আর যদি ছত্রাকের কারণে রোগটি হয় তাহলে "এথলেট'স ফুট"। গ্যাংগ্রিনের সম্ভাবনা প্রথমেই বাদ দিচ্ছি। এই রোগটি ভয়ঙ্কর, প্রায় চিকিৎসা নেই। আর এই রোগ বাধিয়ে কারো পক্ষে দুলকি চালে সেটা নিয়ে আলোচনায় বসা সম্ভব নয়। পায়ের যন্ত্রণায় যার "শ্যাম রাখি না কুল রাখি" অবস্থা সে খুব হালকা মানসিকতায় থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। বরং সম্ভাবনা থাকতে পারে "অ্যাথলেট'স ফুট" হওয়ার। এই রোগটি খুব বেশী যন্ত্রণা না করেই বছরের পর বছর থাকতে পারে। পায়ের মৃত চামড়া উঠে যাওয়া খুব স্বভাবিক ধরে নিয়ে আক্রান্ত লোকেরাও চিকিৎসা নিয়ে খুব মাথা ঘামায় না এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে পরিবার পরিজনের মধ্যে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খানিকটা দুর্বল তাদের মধ্যে রোগটি বিলিয়ে বেড়ায়।

অ্যাথলেটস ফুট পায়ে হয়। শরীরের অন্য কোথাও হলে একই রোগের নাম বদলে হয়ে যায় রিং ওয়ার্ম। আগে মানুষের ধারণা ছিল কৃমি জাতীয় পরজীবি থেকে এটি হয়। আসলে তা নয়। রোগটি হয় ছত্রাক থেকে। খুব পরিচিত রোগ। রাস্তায় এই রোগের আশ্চর্য ওষুধ বেচে বহু লোকে করে-কেটে খাচ্ছে। বাংলায় একে "দাদ" অথবা "দদ্রু" বলে। এটি পায়ে হলে প্রথম দিকে টের পাওয়ার কথা নয়। পায়ের শুকনো মৃত চামড়া উঠে যেতে দেখা যায়। আঙুলের ভেতর দিক হালকা লাল হয়ে যেতে পারে। চুলকানি হতে পারে। রোগমুক্ত হওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। প্রয়োজনীয় সতর্ক পরিচ্ছন্নতা এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ দুটোই উপকারি। এই আলোচনায় বেশিদূর যেতে চাচ্ছি না। শুরু করেছিলাম, ছত্রাক আর ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে কে বেশি মন্দ সেটা নিয়ে কথা বলতে। টুপ করে সেই আলোচনায় চলে যাই।

সরল ভাবে বললে, ব্যাকটেরিয়া বেশি খারাপ। কারণ এরা হরহামেশা মারাত্মক সব রোগ বাধিয়ে মানুষ মরে ফেলে। ছত্রাক সেই তুলনায় কম মানুষ মারে। সমস্যা হচ্ছে, ব্যাকটেরিয়া রোগ বাধালে চিকিৎসা করা সহজ, ছত্রাকে বাধালে খুব সহজ নয়। এক কথায় এর কারণ বলে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সরল করে কারণ হিসেবে বলা যায়, ছত্রাকেরা ইউক্যারিওট। আর ব্যাকটেরিয়ারা প্রোক্যারিওট।

তাতে হলোটা কী?

ইউক্যারিওট হচ্ছে যাদের কোষে দারুণ একটা গোছানো নিউক্লিয়াস আছে। নিউক্লিয়াসের যেসব বস্তু থাকার কথা প্রোক্যারিওটদের সেসব সারা কোষে ছড়ানো। মানুষ হচ্ছে ইউক্যারিওট। গাছেরাও ইউক্যারিওট। ফুল, পাখি, সজারু, হনুমান, টিকটিকি, কাক, কবুতর এমনকি পাহাড়ে আমার আদিবাসী ভাই বোনদেরকে নির্যাতনকারী নোংরা আর কুৎসিত প্রাণিগুলোও ইউক্যারিওট।

ইউক্যারিওট হলে সমস্যা কোথায়?

আমি আসলে খুব ভালো জানিনা। একটুখানি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। একটা ব্যাকটেরিয়া মারতে গেলে আমাদের আগে বসে হিসেব করতে হয় সে কী খায়, কী পরে, কিভাবে ঘুমায়, কীভাবে কাপড় কাচে, পরকীয়া করে কিনা, ফেসবুকে 'ফেইক একাউন্ট' আছে কিনা সেসব। যদি জানা যায় একটি ব্যাকটেরিয়া জিলাপি খেতে পছন্দ করে তাহলে চিনির সিরার বদলে বিষের সিরা দিয়ে জিলাপি বানিয়ে তাকে খেতে দিলেই কেল্লা ফতে। পেনিসিলিন নামক ব্যাকটেরিয়া মারার ওষুধটার কথা বলি। পেনিসিলিয়াম নামের এক ছত্রাক এই জিনিসটা বানায়। পেনিসিলিন ব্যাকটেরিয়াকে তার কোষ প্রাচীর (মানে চামড়া) বানাতে দেয়া না। পেনিসিলিন খেলে মানুষের শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়ারা তাই পটল তোলে। কিন্তু যে মানুষটি এই ওষুধ খেলো তার কিছু হয় না। সরল কারণটা ওই। মানুষ ইউক্যারিওট আর ব্যাকটেরিয়া প্রোক্যারিওট। মানুষের কোষ আর ব্যাকটেরিয়ার কোষ আলাদা। তাদের অনেক কাজ কারবার আলাদা।

ছত্রাকের ক্ষেত্রে এই থিওরি খুব সহজে কাজে লাগে না। কারণ ছত্রাক আর মানুষ দুজনেই ইউক্যারিওট। তাদের কোষের গঠনে আছে মেলা মিল। তাদের কোষের কাজকর্মে আছে অদ্ভুত সামঞ্জস্য। ছত্রাকের জন্য মারাত্মক কোনো বিষ পাওয়া গেলে তা মানুষের জন্যেও মারাত্মক বিষাক্ত হবার সম্ভাবনা থাকে! ছত্রাক যেসব রোগ সৃষ্টি করে সেসবের চিকিৎসা করতে গেলে সবার আগের বিপদটা এখানে। আর তাছাড়া, ইউক্যারিওটরা প্রোক্যারিওটদের চাইতে উন্নত প্রাণি। ইউক্যারিওটরা যতটা বিবর্তিত প্রোক্যারিওটরা ততটা নয়। বব ডিলানের "Blowing in the wind" অথবা ওই গানটার অনুবাদ কবির সুমনের "কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়" গানটা যারা শুনেছেন তারা খানিকটা বুঝবেন। মানুষের মতই ছত্রাককেও বুঝে ওঠা খুব সহজ নয়। অনেক খানি অপচয় করতে হয়!

ছত্রাকের ক্ষেত্রে এটা ঠিক অপচয় নয় অবশ্য। অসংখ্য গবেষক খুব আগ্রহ নিয়েই ছত্রাককে জানতে চেষ্টা করেন। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ি সেখানে বেশীরভাগ কাজই হয় ছত্রাকের উপর। এই শহরটাই ছত্রাকের উপর গবেষণার জন্য বিখ্যাত। এখানে ছত্রাক কোষের একেকটা ইট খুলে নিয়ে দেখা হয় কোনটি ঠিক কিভাবে কাজ করে। মানুষের "ইমিউন সিস্টেমে" কোনটা কিভাবে সংকেত দেয়। আর মানুষের শরীরের রক্ষী কোষেরা তাদের সঙ্গে কিভাবে লড়ে। সে এক কুরুক্ষেত্রের ইতিহাস। মাথার ভেতর জমে ওঠা জঞ্জাল কমানোর তাগিদে সেসব নিয়েও কখনো লিখব আশা করি।

ব্যক্তিগত ব্লগে
প্রকাশিত।


মন্তব্য

শামীম এর ছবি

চলুক
পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সচল জাহিদ এর ছবি

চমৎকার ভাবে পার্থক্যটা জানা হয়ে গেল।

অফটপিকঃ সম্প্রতি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ছড়িয়ে যাওয়া নিয়ে একখান লেখা আশা করছি।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তাসনীম এর ছবি

দুটো মন্তব্যেই জাহিদের সাথে সহমত।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসি আইচ্চা ই কোলাই দিমুনে।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

এই জন্যেই আপনার লেখা ভালো লাগে, এই যে কী সরল করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিল রেখে বোঝার মতন করে অনুজীবদের গঠন, কাজ-কর্ম, আচরণ বর্ণনা দেন।

উত্তম জাঝা!

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

পাগল মন এর ছবি

চমৎকার লেখা, মোটেই অগোছালো নয়। এসব বিনয় ছাড়েন আর আরো ভালো ভালো লেখা দেন।

আর জাহিদ স্যারের মত আমিও ই-কোলাই নিয়ে লেখা দেয়ার দাবি জানা‌‌য়ে গেলাম। জলদি দিয়েন। হাসি

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধন্যবাদ। ই কোলাই নিয়ে লিখব।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

আয়নামতি1 এর ছবি

কঠিন একটা (আমার কাছে) বিষয় চমৎকার সহজ করে লেখেছেন বলে অসংখ্য ধন্যবাদ!

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লাফানো মন্তব্য।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কৌস্তুভ এর ছবি

(গুড়)

ইকোলাই জলদিচাই!

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধন্যবাদ। লিখব।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

আসমা খান, অটোয়া। এর ছবি

লেখা খুব ভালো লেগেছে। সহজ ভাষায় জটিল একটি বিষয় বুঝতে পারলাম, অনেক ধন্যবাদ।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মারভিন এর ছবি

সহজভাবে খুব সুন্দর করে বুঝায় দিলেন। তবে একটা কথা ছিলো- দাদের জন্য শরীরের শিরায় শিরায়, গিরায় গিরায়, রানের চিপায় চিপায়, খাউজানি, চুলকানি ভালো করতে বিচ্ছু মলম কতটা কাজে আসে ওইটা জানতে মঞ্চায়।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধন্যবাদ।

মলমের ব্যপারে নিশ্চিত নই! ঠিক ঠাক পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে এই ধরনের 'মলমে' যতদূর আন্দাজ করি মিন্ট জাতীয় উপাদান থাকে যেটা তাৎক্ষণিকভাবে চুলকানি কমিয়ে দেয়। মানুষ ভেবে বসে কী মারাত্মক ওষুধটাই না তারা পেয়েছে।

অনেকক্ষেত্রে এসব মলম বেশ উঁচু মাত্রায় জীবাণুর আবাস হয়। এতে থাকা বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান কখনো কখনো ছত্রাকের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিছু বিশেষ উপাদান থাকলে কখনো কখনো মলমটি সত্যি সত্যি রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। অনেকক্ষেত্রে এতে থাকে স্টেরয়েড জাতীয় উপাদান। কিছু কিছু স্টেরয়েড দীর্ঘদিন সর্বরোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যাবহার হয়েছে। কিন্তু এটি সঠিক সমাধান নয়। অনেকক্ষেত্রেই এটি বড় রকমের ক্ষতির কারন। খুব বিস্তারিত বলতে পারছি না। এসব মলমে ঠিক কী কী উপাদান থাকে তা জানতে পারলে হয়তো বিস্তারিত বলার চেষ্টা করতাম। আপাতত কেবল বলে রাখি, এইসব মলম ব্যাবহার করবেন না।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ভালো পোস্ট...
তয় রতন... আমি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে জানতে চাই...
এইটা নিয়া খুব জরুরি ভিত্তিতে আপনার একটা পোস্ট আশা করছি
জরুবি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসি লিখতেছি হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অমিত এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

তারাপ কোয়াস এর ছবি

চলুক


love the life you live. live the life you love.

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

ফাহিম হাসান এর ছবি

সরল ভাবে বললে, ব্যাকটেরিয়া বেশি খারাপ।

অবশ্যই। কারণ ব্যাকটেরিয়ার ছবি আমি তুলতে পারি না। কোন কোন ছত্রাকের অন্তত ফটুক তোলা যায়। চোখ টিপি

পোস্টটা ভালো লেগেছে। সাধে কী আপনারে জীবাণু ভাই ডাকি?

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

কে বলেছে যায় না! একবার আমাদের ল্যাবে বেড়াতে আসুন। ব্যাবস্থা করছি। আপাতত এটা দেখেন
Endospore staining

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

ফাহিম হাসান এর ছবি

বেশ চাঁদপনা মুখ! খাইছে

আসব, আপনার ল্যাবে গিয়ে ফটো খিঁচে তোলপাড় করে দিব। সুহাস ভাইয়ের ভাত মেরে দিব। তারপর আপনাকে মাশরুম খাওয়াবো - দৃঢ় অঙ্গীকার।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ওরে আমার ঘু ঘু পাখি, আমার পেছনে এতো বড় গীবৎ ???? রেগে টং

ব্যাক্টেরিয়ার HDR করা কিন্তু শিখামুনা ... মু হা হা হা হা ... শয়তানী হাসি

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ওরে বেডা, এইসকল ঝঠিল বিষয় ইমুন পাইন্না সহজ কইরা লিখস ক্যামতে??? আমি ফটোগ্রাফির মতো একটা পাইন্যা বিষয় লয়া কতো কিছু লেখতে চাই মাগার খালি জিলাপির প্যাজগীতে আটকায়া যাই ...

তরে লয়া একটা 'ফায়ার মলম' বানামু ... খালি আয়া ল ...

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

tanjim এর ছবি

ছত্রাকের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল এর কোষ বিভাজন কাল বেশ দীর্ঘ।সাধারণত যেসব কোষ ঝিম মেরে বসে থাকে তাদের মারা মুস্কিল। যেমন TB ব্যাকটেরিয়া।
সহজপাচ্য লিখার জন্য চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

ওডিন এর ছবি

যাক, আবার তাহলে শুরু হলো।

চমৎকার, সহজ আর ইনফরমেটিভ লেখা। হাসি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হুঁ। লিখে একেবারে ভাসায় দিব ভেবে শুরু করলাম দেঁতো হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কবি-মৃত্যুময় এর ছবি

এখানে ছত্রাক কোষের একেকটা ইট খুলে নিয়ে দেখা হয় কোনটি ঠিক কিভাবে কাজ করে। মানুষের "ইমিউন সিস্টেমে" কোনটা কিভাবে সংকেত দেয়। আর মানুষের শরীরের রক্ষী কোষেরা তাদের সঙ্গে কিভাবে লড়ে।

ভাইয়া এটা বিস্তারিত লিখেন, জানতে চাই। আর পার্থক্যটি সুস্পষ্ট জানা হয়ে গেল! চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সমস্যা হচ্ছে এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা কঠিন। তারপরও চেষ্টা করা যাবে। হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মাহবুব রানা এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মুস্তাফিজ এর ছবি

এই পোলাটা আসলেই একটা রতন। চলুক

...........................
Every Picture Tells a Story

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লইজ্জা লাগে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

স্বাধীন এর ছবি

চলুক

ব্যাক্টেরিয়া ছত্রাকের মাঝে কে ভালো সেটা বুঝা গেল। ভাইরাস আর ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে কে বেশি খারাপ খাইছে

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
হো হো হো কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান! চোখ টিপি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

স্বাধীন এর ছবি

আমার তো মনে হয় ভাইরাস বেশি খারাপ। ভাইরাসের বিবর্তনটা খুব দ্রুত, সে খুব দ্রুত এডাপ্ট করে ফেলে। ব্যাক্টেরিয়া সে তুলনায় ধীর গতির বিবর্তন। ভুল বললাম? দিন শেষে মানুষ মারার ক্ষেত্রে দু'টোই সমান খারাপ।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ভাইরাস প্রাণি নয়। ব্যাকটেরিয়া প্রাণি। ভাইরাসের কোনো নিজস্ব জীবন নেই। যেটা ব্যাকটেরিয়ার আছে। এইসবের হিসেবে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের চাইতে উন্নত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভাইরাসের যে বিবর্তনটার কথা বলছেন সেটা ঠিক ঠিক "বিবর্তন" কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমি ভালো জানিনা।

খারাপের হিসেব করলে ভাইরাস বোধহয় বেশি খারাপ! কে জানে!

একটা তথ্য, ভাইরাস এমনকি ব্যাকটেরিয়াকেও মারতে পারে। হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি
নীড় সন্ধানী এর ছবি

সরল রম্য গদ্যের কথা বাদ দিলেও আপনার সবগুলো লেখাতেই একটা না একটা নতুন জিনিস থাকে শেখার। তাই কপিরাইট লংঘন করে আপনার লেখা থেকে দরকারী অংশগুলো ব্যক্তিগত ব্লগে তুলে রাখি মাঝে মাঝে। হাসি
এইটাও সেরকম একটা পোষ্ট। উত্তম জাঝা!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আশালতা এর ছবি

ভীষণ গোছান সুন্দর লেখা । পোস্ট খুব ভালো হয়েছে । চলুক

ফালতু পাঠক এর ছবি

একটা ব্যাকটেরিয়া মারতে গেলে আমাদের আগে বসে হিসেব করতে হয় সে কী খায়, কী পরে, কিভাবে ঘুমায়, কীভাবে কাপড় কাচে, পরকীয়া করে কিনা, ফেসবুকে 'ফেইক একাউন্ট' আছে কিনা সেসব

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ভালো বলছেন, পড়তে খুব আরাম লাগে, দরকারী ইনফর্মেশন পাওয়া যায়, চমত্কার লেখা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু লেখাগুলা কেমন যেন হটাত শেষ হয়ে যায় । দুঃখিত আমি আপনার আরেকটা লেখাতেও এই অভিযোগ করেছি । লেখাটা শেষ হলে মনে হয় .."যাহ বাবা, শেষ হয়ে গেল, আরো কিছু জানার ছিল যে..." । যাই হোক সময় বের করে লিখছেন এইজন্যই অনেক ধন্যবাদ...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA