ছবিব্লগঃ ফটোগ্রাফির প্যারাডক্স

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি
লিখেছেন অনুপম ত্রিবেদি (তারিখ: সোম, ৩১/০১/২০১১ - ১১:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অনেকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে লিখবো বলে চিন্তা করেও লেখাটা আর হচ্ছিল না। কিন্তু ভেবে দেখলাম যে, আলসেমিটা আর না করে বরং একটু একটু করে শুরু করি, একদিন তো শেষ হবেই। সচলে আমার টুক-টাক লেখালেখি করার বিষয়বস্তু একটাই - ফটোগ্রাফি। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যমূলক লেখা এই বিষয়ে পোস্ট করিনি, তবে আজ একটু কচকচানি করতেই এই লেখা নিয়ে হাজির হলাম। তবে এটা খুব গুরুগম্ভীর বা তথ্যে ভরপুর কোনো লেখা নয়। নিতান্তই ক্যামেরা নিয়ে ঘোরা একজন স্বল্পজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের নিজের কিছু কথাকে উগরে দেয়া আর প্রয়োজনে দু'একটি ওয়েব সাইট থেকে একটু আধটু কপি-পেস্ট করা আর সাথে ৪-৫টা ছবি ... (দাঁত কেলিয়ে হাসির ইমো)।

সেই ১৮২৬ থেকে শুরু হওয়া ফটোগ্রাফি জিনিসটা আজো খুব একটা বুড়িয়ে যায়নি, মানুষের স্মৃতীকে ধরে রাখার জন্য এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম বলে। এবং এর মাঝেই ১৮৬০-এর দিকে শুরু হয় ফটোম্যানুপুলেশনের কাজ, যেখানে জন কেলনের শরীরে আব্রাহাম লিঙ্কনের মাথা লাগিয়ে একটি সম্পূর্ণ পোর্ট্রেইট তৈরি করা হয়। ১৯৬৯ তে শুরু হওয়া ফটোগ্রাফির ডিজিটালাইজেশনের পরীক্ষা (সিসিডি ইমেজ সেন্সর উদ্ভাবনের মাধ্যমে) একটি পূর্ণ রূপ পায় ১৯৮৬ সালে বিখ্যাত অপটিক্যাল প্রোডাক্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোডাকের হাত ধরে 'মেগা পিক্সেল ইমেজ সেন্সর' তৈরির মাধ্যমে। আর আজ, বর্তমানে, নিকন (নাইকন), ক্যানন, প্যান্টেক্স, কোডাক, অলিম্পাস -এর মতো বড় ও বিখ্যাত অপটিক্যাল প্রোডাক্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্যামেরা লাইন-আপে ফিল্ম প্রযুক্তি বিদায় করে শুধু ডিজিটাল প্রযুক্তিই ব্যাবহার করছে। এমনকি আজ সবার হাতে থাকা মুঠোফোনেও মেগাপিক্সেল সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা থাকার কারণে ফটোগ্রাফি মাধ্যমটি ভয়াবহ জনপ্রিয়তা পেয়ে চলেছে।

কিন্তু আমরা, ফটোগ্রাফার ও ভিউয়াররা, ঠিক কোথায় আছি? তার আগে আরো কিছু ক্ষুদ্র জিনিশ আমাদের জেনে নেয়া প্রয়োজন।

এবার একটু মনোযোগ দেই ফটোগ্রাফির কিছু বিভাজনের দিকে। ঠিক বিভাজন নয়, আমরা একে শ্রেনীবিভাগও বলতে পারি। এর প্রথম এবং প্রধানতম শ্রেনী হলো - ফটোজার্নালিজম এবং ডকুম্যান্টারি ফটোগ্রাফি। এর অন্তর্গত ব্যাপারটা কী? ফটোজার্নালিজম ব্যাপারটা হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং ঐ ঘটনার ইম্পেক্ট কী, কতটা প্রবল এবং এর এরিয়া অফ ইনফেকশন কতটুকু তা তুলে নিয়ে আসা। মনে করুন বই মেলায় জার্নালিস্টিক ফটোগ্রাফি করতে গেলে প্রথমেই আপনাকে একটি দিন বেছে নিতে হবে এবং এমনভাবে আপনাকে ফটোগ্রাফি করতে হবে যেনো আপনার ফ্রেমে ঐ দিনটার জন-সমাগম, বিক্রি, আড্ডা সব উঠে আসে। যেমন এটা যদি হয় একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন, তাহলে আপনার উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকবে ঐ দিনটায় কতটা আগ্রহ নিয়ে মানুষ বই মেলায় যাচ্ছে, মানুষের বই কেনা আগ্রহ কতটুকু, এবং বই মেলা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা কতটুকু ইত্যাদি। আপনি আবার ইচ্ছা করলে পুরো ২৮ দিন জুড়েই ফটোগ্রাফি করে বইমেলার আনন্দটুকু তুলে ধরতে পারেন। তবে একটা জিনিশ মনে রাখতে হবে যে আপনাকে কিন্তু 'নির্দিষ্ট সময়' অবশ্যই নির্ধারন করতে হবে, আপনি ২০০৯ সালের ছবি দিয়ে ২০১০ সালের বইমেলাকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারেন না। ঠিক একইভাবে ঢাকা বইমেলার ছবি দিয়েও কিন্তু আপনি বাংলা একাডেমির বইমেলাকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবেন না। আপনার ছবিতে অবশ্যই বাস্তব চিত্র থাকতে হবে। জনসমাগম কম থাকলে আপনি ৪-৫টা ছবি ক্লোন করে লোকের ভীড় দেখাতে পারবেন না, ঠিক তার বিপরীতে লোকজনকে ক্লোন মেরে ভেনিশ করে এটা দেখাতে পারবেন না যে, 'এখন আর লোকে বই কিনতে যায় না'। ২০১০ সালের অতি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ উত্তরবঙ্গের কৃষকদের দূরাবস্থা বোঝাতে আপনি ২০০৮-এর বরিশালে বন্যায় ভেসে যাওয়া ক্ষেতের ছবি উপস্থাপন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, আপনার ছবিটি সব দিক থেকে হতে হবে 'সত্য', এর কোনো অংশ কোনো ভাবেই ম্যানুপুলেটেড হতে পারবে না।

ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি প্রায় একই জিনিশ। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এর গতি একটু ধীর। অর্থাৎ জার্নালিস্টিক ফটোগ্রাফি কাজের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত প্রয়োজন হয়, আর ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি এতোটা দ্রুত প্রয়োজন হয় না। এই টাইপ ফটোগ্রাফিরও নীতি ঐ একই - একে হতে হবে শুদ্ধ, যেন এর দ্বারা ঐ নির্দিষ্ট স্থানের, নির্দিষ্ট সময়ের, নির্দিষ্ট জাতীগোষ্ঠি বা ব্যাক্তি ও ব্যাক্তি বর্গের সত্যিকারের অবস্থাটা পুরোপুরি বোঝা যায়। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, শুধুমাত্র প্রফেশনালি ব্যাবহারের জন্য করা জার্নালিস্টিক ছবি ছাড়া বাকী গুলোর বাস্তবিক ব্যাবহার বা উপস্থাপন কিন্তু খুব দ্রুততার সাথে হয় না।

এবার আসা যাক দলছুটদের গল্পে। সব ক্ষেত্রে সবসময়ই কিছু লোক থাকে যারা শুধু উল্টো চিন্তা করে, স্রোতের বিপরীতে চলে - এঁরা মস্ত পাগল ছাড়া আর কিছুই নয়। এঁদের হাতে পড়ে আরো এক পদের ফটোগ্রাফির উদ্ভব হয়, যার নাম - ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফি বা আর্ট ফটোগ্রাফি বা ফটো আর্ট। আসলে এঁরা চায় কী? ঘটনা আর কিছুই না, এঁরা নিজেদের কথা বলতে চায়, নিজের স্বপ্নকে দেখাতে চায়। কোনো স্থান, কাল, পাত্রের কোনো অবস্থা নয়। নিজের চিন্তা-চেতনা, নিজস্ব ধ্যান-ধারণা উপস্থাপন করতে চায় একান্ত নিজেদের মতো করে। এঁদের সত্যটা আসলে মুক্ত চিন্তার, নিজস্ব চেতনার সত্য। তাহলে আমরা প্রশ্ন করতেই পারি, স্থান, কাল, পাত্রের সত্যকে যারা ধর্ষণ করে নতুন এক পদের 'সত্য' বানাতে চায় তারা আসলেই কী ফটোগ্রাফার, তারা কী ফটোগ্রাফির কিছু বোঝে বা তাদের দ্বারা এই মাধ্যমের অবনতী বই উন্নতী কিছু হচ্ছে কী? তাহলে বলি শুনুন - ফটোগ্রাফিটা যখন recording fact, showing or describing the actual situation or facts হিসেবে ধরা হবে তখন ঐটাকে অবশ্যই চরম সত্য হতে হবে এবং ঐটাই ফটোজার্নালিজম বা ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি। কিন্তু এর বাইরে আমাকে আমার যে কোনো ছবি উপস্থাপনের বেলায় ঐ খৎ দিতে হবেনা যে, এইটা এক্কেবারে ট্রু। কিছু কী বোঝা গেলো?

আবার সেই প্রশ্নে আসা যাক - আমরা, ফটোগ্রাফার ও ভিউয়াররা ঠিক কোথায় আছি? আসলে সেই ১৮৬০-এর দিক থেকেই ফটো ম্যানিপুলেশনের (রি-টাচিং, এডিটিং, মনট্যাজিং ইত্যাদি) শুরু কিন্তু তখন এর বেশিরভাগ কাজই হতো ডার্করুমে অনেক স্কিল্ড হাতে, যা কিনা ক্যামেরা নিয়া ঘুরা বেশিরভাগ পাব্লিকের চিন্তার নাগালের বহু বাইরে ছিলো। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এই কাজগুলাই বিভিন্ন সফটওয়্যারে করা যায় এবং তা যথেষ্টই সহজলভ্য (সফটওয়্যারটা কিন্তু, স্কিলটা না)। ঠিক একারনেই আমরা এই ম্যানিপুলেশনকে খুব 'চিপ' একটা জিনিশ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাদের ব্যাবচ্ছেদ টেবিলে ঐ ছবির Artistic Expression টা না, কতখানি ম্যানুপুলেটেড এইটাই জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো আমরা HRD ছবিকে বানানো ছবি বলি, প্রকৃতির উপর মানুষের ডিজিটাল ডিজাস্টার হিসেবে একে উপস্থাপন করি। কোনো আর্ট ফটোগ্রাফি দেখলে সবার আগে চিৎকার করে বলে উঠি - আরে এইটা তো এডিটেড! কিন্তু ঠিক মতো খুঁড়ে দেখতে চাই না এর অন্তর্গত মূল্যটা কী বা আর্টিস্ট এখানে ঠিক কী বোঝাতে চাচ্ছেন? এখানে এই কথাটাও এসে যায় যে, ফটোগ্রাফার/আর্টিস্ট বলে না দিলে কীভাবে তার এথিকসটা বোঝা যাবে, আর্টিস্টের কোনো স্টেটম্যান্ট তো নাই! হা ... হা ... হা ... প্রত্যকটা আর্টেরই একটা নাম থাকে, যেটা আর্টিস্ট দেয় ... জাস্ট ট্রাই টু রিড দেট থিং ভেরি কেয়ারফুলি এন্ড ইউ উইল আন্ডারস্ট্যান্ড।

আমরা বেশিরভাগ লোকজনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা আসলে ফটোগ্রাফির মূল উদ্দেশ্যটা কী? কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন এটা নির্ভর করে ঐ ছবির বাস্তব ব্যাবহার ও উপস্থাপনার উপর। কেউ যদি একটা ট্রু ফ্যাক্টকে সবার সামনে অবিকৃত অবস্থায় নিয়ে আসতে চায় সেটার আবেদন ও উপস্থাপন এক জিনিশ এবং কেউ যদি কোনো ল্যান্ডস্ক্যাপ, পোর্টেট বা লাইফস্টাইলের মাধ্যমে বা স্যুরিয়েল লং এক্সপোজারের মাধ্যমে তার নিজস্ব ধারনা তুলে ধরতে চায় সেটার আবেদন ও উপস্থাপন আবার ভিন্ন জিনিশ। এছাড়াও এদের ব্যাবহারিক দিকটিও কিন্তু ভিন্ন। কিন্তু আমরা কী করি? একটা ছবিকে জাজম্যান্ট করার সময়, সেটা যে ছবিই হোক না কেনো, তার জার্নালিস্টিক এটিচ্যুডকে প্রাধান্য দেই। অর্থাৎ ছবিটা কতখানি 'রিয়েল' বা 'আন-এডিটেড' সেই দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেই। কিন্তু একবার, শুধু একবার, নিতান্ত খালি চোখে দেখলেই বোঝা যায় ছবিটা আসলেই কী উদ্দেশ্যে করা - এটা কী শুধুই কোনো সত্যকে উপস্থাপন করছে না কী কোনো ডিফরেন্ট থট নিয়ে আসছে সামনে। সত্যি বলতে আমরা 'এডিটিং কুসংস্কারে' আক্রান্ত এবং এখান থেকে বেরিয়ে এসে যে কোনো ছবিকে দেখতে হবে। তাহলে হয়তো ভিন্ন ভিউ পয়েন্ট থেকে একটা ছবিকে জাজম্যান্ট করার একটা প্রচেষ্টা আমরা নিতে পারবো।

জার্নালিস্টিক ফটোগ্রাফি বা ডকুম্যান্টারি ফটোগ্রাফি - কোনোটা নিয়েই আমার সমস্যা নেই, ছিলোও না কোনো কালে। কিন্তু আমি সবসময়ই একটা ফটোগ্রাফিকে একই মাত্রা থেকে জাজম্যান্টের ব্যাপারটাতে খুব বিরক্তবোধ করি। সবকিছুকেই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার চোখটা সবসময় খোলা রেখে চলা উচিৎ বলে আমার মনে হয়। কারন বাস্তবতা, অতি বাস্তবতার বাইরে গিয়েও ছবিকে দেখা যায়, জাজম্যান্ট করা যায়।

--------------------------------------------------------------------------------------------------

এবার কিছু ছবি দেখাই। তবে বলে রাখা ভালো যে, আমি এর আগে কখনও কোথাও এভাবে ছবি গুলোকে শেয়ার করিনি। এটা ঐ 'ব্যাবহারের পূর্বে ও পরে' টাইপ বিজ্ঞাপনের মতো। আমি এই সমস্ত ছবি এডিট করেছি এতে ভিন্ন মাত্রা দিতে, অন্যরকম করে এতে নিজস্ব কিছু চিন্তা উপস্থাপন করতে। আর এটা বলে রাখি, আমি নিজেকে আজ পর্যন্ত কোনোদিন ফটোগ্রাফার দাবি করিনি, করবোওনা ... I'm a proud PHOTO ARTIST.

১) Confusing what is real (Botanical Garden, Dhaka, Bangladesh.)
Paradox-1

২) Unchained Melody (Lama, Bangladesh.)
Paradox-2

৩) Therese nowhere else on earth I rather be (Lalakhal, Sylhet, Bangladesh.)
Paradox-3

৪) Silent hills and a solitary boat (Volagonj, Sylhet, Bangladesh.)
Paradox-4

৫) Melancholic silence (Khagrachari, Bangladesh.)
Paradox-5

-----------------------------------------------------------------------------------

ক) ফটোজার্নালিজমের এথিক্স গুলো দেখতে পারেন এখানে এবং এখানে । আরও জানতে পারবেন এখানেএখানে
খ) ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি সম্পর্কে যদি জানতে চান তবে যেতে পারেন এখানে
গ) ফটো ম্যানুপুলেশন বা এডিটিং-এর ছোট্ট ইতিহাস জানতে এখানে এবং এখানে দেখতে পারেন।
----------------------------------------------------------------------------------


মন্তব্য

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ফটোগ্রাফি শিখাইতাছো ভালো কথা। এখন আমারে ক্যামেরা কিন্না দেও!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আগেতো জিনিশটা বোঝার চেষ্টা কর ... তারপর অল্প-বিস্তর শিখ ... তারপর কিন্না দিমুনি ... চোখ টিপি

===============================================
আরিফগ্রাফি

মাহবুব রানা এর ছবি

চলুক

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনুপমদা... আপনার ফটোগ্রাফিক চিন্তার সাথে আমার ঠিক কতোটুকু মিল বা অমিল আমি জানি না। তবে একটা প্রশ্ন আমি না করে পারছি না।এবারের ছবিমেলায় কিছু ডিজিটাল ছবি(আমি এভাবেই বললাম-কারন অনেকগুলো ছবি ও কিছু সফটওয়্যার কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার জেনারেটেড ছবি) আমার মাথার ওপর দিয়ে গিয়েছে(ছবিমেলা-৩ এর পরে আর দেখা হয়নি মেলাটা)। আমি যেটা ধরতে পারছি না ওগুলোকে ফটোগ্রাফ বলার কারন কি? ঐ ছবিগুলোকে ফটোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফী কি আমাদের চেনাজানা ফটোগ্রাফীর প্রতি অন্যায় না? ওগুলোকে ডিজিটাল ইমেজ বলাটাই তো বেশী যুক্তিযুক্ত...নয় কি???

--- থাবা বাবা!

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আপনি যে সমস্ত ছবির কথা বলেছেন তার মধ্যে কিছু ছবি মনট্যাজ করা, অর্থাৎ অন্য কোনো ছবি থেকে ইলিম্যান্ট এনে বসিয়ে দেয়া। এটা তো ভাই বহু, বহু, বহু পুরানা টেকনিক। এটাকে আমি ফটোগ্রাফি বলবো, আমার ব্যাক্তিগত ভিউ পয়েন্ট থেকে (আমার দেয়া লিংক গুলো মধ্যে 'গ' নাম্বার লিংক গুলো একটু ঘাঁটা দিয়েন)। কিন্তু 'ছবিমেলা' ঠিক কী কারনে এগুলোকে তাদের এক্সিবিশনে স্থান দিয়েছে, তা বলতে আমি অপারগ। আসলে এইরকম মনট্যাজ বা আর্ট ইমেজ যদি অন্য কোনো সংস্থা শুধুমাত্র 'আর্ট ফটোগ্রাফি এক্সিবিশনে' আনতো তাহলে ভালো হতো। এবার ছবিমেলা'র এই অতি উৎসাহ দেখে সবাই দেখলাম খুবই হতাশ, কারণ ছবিমেলার আয়োজকরা সবসময় 'ফটোজার্নালিজম'কে প্রমোট করে। এঁদের হাত দিয়ে তাই এরকম একটা এক্সিবিশন আসলে একটু চিন্তার উদ্রেক করে।

আর আপনি যেই 'চেনা-জানা ফটোগ্রাফি'র কথা বলছেন, এই বিষয়ে কিন্তু আমি আগেই কথা বলেছি।

একটা ছবিকে জাজম্যান্ট করার সময়, সেটা যে ছবিই হোক না কেনো, তার জার্নালিস্টিক এটিচ্যুডকে প্রাধান্য দেই। অর্থাৎ ছবিটা কতখানি 'রিয়েল' বা 'আন-এডিটেড' সেই দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেই। কিন্তু একবার, শুধু একবার, নিতান্ত খালি চোখে দেখলেই বোঝা যায় ছবিটা আসলেই কী উদ্দেশ্যে করা - এটা কী শুধুই কোনো সত্যকে উপস্থাপন করছে না কী কোনো ডিফরেন্ট থট নিয়ে আসছে সামনে। সত্যি বলতে আমরা 'এডিটিং কুসংস্কারে' আক্রান্ত এবং এখান থেকে বেরিয়ে এসে যে কোনো ছবিকে দেখতে হবে। তাহলে হয়তো ভিন্ন ভিউ পয়েন্ট থেকে একটা ছবিকে জাজম্যান্ট করার একটা প্রচেষ্টা আমরা নিতে পারবো।

আবারও বলি - সবকিছুকেই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার চোখটা সবসময় খোলা রেখে চলা উচিৎ বলে আমার মনে হয়। কারন বাস্তবতা, অতি বাস্তবতার বাইরে গিয়েও ছবিকে দেখা যায়, জাজম্যান্ট করা যায়।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বাবা।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি যেমন ফটো মন্তাজের কথা বললেন... সেটা অনেক পুরোন। কিন্তু এখনকার ব্যাপারটা আমার কাছে বাড়াবারি মনে হয়েছে। ছবি মেলায় আমিও জানি ওরা ফটো জার্নালিজমকে প্রোমোট করে... কিন্তু এবার জনাব শহিদুল ইসলামের(নামটা ঠিক আছে তো!) বক্তব্য শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম, তিনি বলেছেন যে এখন ফটোগ্রাফাররা নতুন ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন... আমি ভাবলাম ভাল কিছু হবে হয়তো। কিন্তু গিয়ে যা দেখলাম সেটা অ্যাপ্রিসিয়েট করতে পারলাম না। জার্মান কালচারাল সেন্টারের ছবিগুলো দেখলাম এডিটেড রিয়ালিটি...! আর দৃকে দেখে তো আমি টাসকি...

ছবি জাজ করার ব্যাপারে আমি আপনার সাথে একমত... সত্যকথন না হলে খুব খারাপ লাগে। তবে একটা জিনিস আমি সব সময় খুঁজি... সেটা হলো নান্দনিকতা। ও জিনিসটা ছবিতে না থাকলে কাঠখোট্টা লাগে। তাই সাদামাটা ছবিতে আমার আগ্রহ বেশীক্ষন থাকে না...

কিছু মনে করবেন না, আপনি কি কোনভাবে দৃক বা পাঠশালার সাথে যুক্ত বা যুক্ত ছিলেন কখনো?

--- থাবা বাবা!

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

তবে একটা জিনিস আমি সব সময় খুঁজি... সেটা হলো নান্দনিকতা।

এটাই আসলে একটা ভালো পয়েন্ট এবং আরও একটা প্যারাডক্স। নান্দনিকতা একেকজনের কাছে একেকরকম। সুতরাং ছবি বিচারের ক্ষেত্রেও ওটা ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হবে। সুতরাং কি দেখা গেলো? দিন শেষে আমরা সবাই সবার নিজস্ব মতমতটাই খুঁজি। যেমন দেখুন আপনার কাছে এডিটেড রিয়েলিটি ভালো লাগেনি বা ফটোগ্রাফারদের নতুন ভাষায় কথা বলাটাও এপ্রিসিয়েট করতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে যে কারো কাছেই এটা ভালো লাগেনি তা কিন্তু নয়, নতুন ভাষাটা যে কারো কাছে বোধগম্য হয়নি সেটাও কিন্তু নয়। আমি এই ব্যাপারটাও বলতে চেয়েছি - 'ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি', যেটা আপনার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দকে পাশ না কাটিয়েও দেখা যায়। সবকিছুকেই যে ভালো লাগতে হবে তা নয়, কিন্তু একটু অন্যভাবে দেখার চোখটাকে খোলা রাখতে দোষ কি???

নাহ, আমি দৃক বা পাঠশালার সাথে কখনই যুক্ত ছিলাম না ... because thats not my cup of tea. চোখ টিপি

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

নান্দনিকতার এই এক গেড়ো... এক এক জনের কাছে৪ এক এক রকম, এক এক ঘরানার নান্দনিকতায় বিশাল পার্থক্য। আমি আমার শিক্ষা ও পেশাগতভাবে একধরনের নান্দনিকতা খুজি..., আপনি আপনার জায়গায় বসে আরেক ধরনের... তবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে আমিও বিশ্বাসী... কিন্তু মাধ্যম জিনিসটা সেখানে একটু গেরো বাঁধায়।

একটু অন্যভাবে বলি... আর্যরা শুরুতে এদেশে এসে কাঠের স্ট্রাকচার বানাতো। পাথরে খোদাই শুরতু করে বেশ পড়ে। কিন্তু পাথরে খোদাই শুরু করলেও তার চেহারা হতো কাথের বাড়ী ঘরের মতোই... মানে ডিটেইল, অজান্তা/এলোরার গুহা এর বড় উদাহরন। বিশেষ করে কাঠের জয়েন্টস আর তার ডিটেইল পাথের খোদায় করে সেটার ডেকোরেশন করা।

নয়ুন ভাষায় ফটোগ্রাফীর যে চলটা শুরু হয়েছে, সেটা আমার পছন্দ অপছন্দটা বড় কথা না... কিন্ত্য আমার ক্মনে হচ্ছে ওটার মাধ্যম ও ভাষার ফারাকটা এখনো পুরন হয় নি। ক্যামেরা ও ফটোমন্তাজের মাঝের ফিল্ম এর লিঙ্কটা এখন কম্পিঊটার রিপ্লেস করেছে ঠিকই, কিন্তু সেটার প্রকাশের ধরনপ্তা এখনো পুরোনই রয়ে গিয়েছে বলা যায়। অনেকটা কোর আই প্রসেসরের পিসি কিনে সেটাতে পেন্টিয়াম ৩ এর গেইম চালানোর মতো।

পাঠশালার কথা বলার অন্য একটা কারন ছিল... আমি ভাবলাম যে আমার ফটোগ্রাফী জ্ঞান নিশ্চই খুন কম, তাই অদের কাছ থেকে কিছু আহরন করে নিএ আসি... কিন্তু গিএ আমি হতাশ, যাদের সাথে কথা হল তারা কতোটা ফটগ্রাফী বোঝেন জানি না... তবে শো অফটা খুব বেশী মাত্রায় বোঝেন... আর আমি অ বুঝলাম যে ওটা আমার শরবতের পেয়ালা হবার নয়... !

--- থাবা বাবা!

যুধিষ্ঠির এর ছবি

চমৎকার লাগলো লেখার বিষয়বস্তু। কিছু টাইপো, আর কিছু ইংরেজি শব্দের ব্যবহার বাদ দিলে আরও ভালো হত।

এটার কি দ্বিতীয় পর্ব আসবে? মনে হচ্ছে আরও অনেক কিছু বলার রয়ে গেলো?

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

যুধিষ্ঠির দা, আসলে এটা লেখার ইচ্ছা বেশ ক' মাস আগে থেকেই। কিন্তু ইদানিং একটু বেশিই ডিসটার্বড এই সমস্ত বিষয়ে। তবে হ্যাঁ, লেখাটা পরিপূর্ণ নয়। অনেকগুলো উদাহরন দেবার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু এগুলো আরো পরে সিরিজ হিসেবে দেবো বলে তুলে রেখেছি।

হুম, পড়ে দেখলাম সিরিয়াস কিছু টাইপো ... ... ধন্যবাদ, ঠিক করে নিচ্ছি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলা অর্থের চেয়ে আমার কেনো জানি ইংরেজি শব্দটার ব্যাবহারই ভালো লেগেছে ... লইজ্জা লাগে

===============================================
আরিফগ্রাফি

রণদীপম বসু এর ছবি

ভালো লাগলো। ফটোগ্রাফি দর্শন নিয়ে এটা একটা সিরিজ পোস্ট হতে পারে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ রণদা।

... এটা একটা সিরিজের দিকেই এগুচ্ছে ... দেঁতো হাসি

===============================================
আরিফগ্রাফি

নির্জন স্বাক্ষর এর ছবি

অনেকদিন ধরেই তোমাকে বলছিলাম এমন একটা পোষ্টের জন্য। খুব দরকার ছিলো।

আমার বেশ কিছু ফাইন আর্ট বা আর্ট ফটোগ্রাফির চেষ্টা থেকে তোলা বা বানানো কিছু ছবি আপ করার পর অনেক কাইজ্যা করছি কিছু মানুষের সাথে। ম্যানুপুলেট হলে আমি বলে দেই যে এইটা বানাইন্যা ছবি। আর ম্যনুপুলেশনে কোনো গ্রামার আছে নাকি আবার? আমার মতে নাই। নিজের ইমাজিনেশনই এখানে প্রধান।এই ব্যাপারটাই "তাদের" বুঝাইতে পারিনাই। আবার লং শাটারের কিছু ছবি দেইখা আমার শুন্তে হইসে আমি নাকি ওভার প্রসেস করি। আমি তাদের কোনো মতেই বুঝাতে পারিনা যে এইগুলা আমি করিনাই বা ফটোশপে করিনাই। যা করার করসে আমার ক্যামেরা। তারা এইগুলারে ফটোগ্রাফি বলতে রাজি না।

শেষে হাল ছাইড়া দিয়া তাদের জিগাইছি, ফটোগ্রাফি মানে কি বলেন...যেইটা ক্যামেরা দিয়া আনুম তাই তো ফটোগ্রাফ।আমার লং সাটারের ঐসব এফেক্ট আন্সে আমার ক্যামেরা। তাইলে এইটা কেন ফটোগ্রাফি হবেনা?

যাওউজ্ঞা, মনের আনন্দে ছবি তুলি। তুইল্লা যামু। জীবনে গ্রামার মানিনাই কোনোকালেও, এই ফটোগ্রাফিতেও মানিনা।আমার গ্রামার আমি নিজে বানাই। (অবশ্য, ফটোগ্রাফির গ্রামার আমি তেমন কিছু জানিনা)

আর আমিও তোমার মত বলতে চাই, I'm a proud PHOTO ARTIST.

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

যার ইমাজিনেশন যত বড়, সে তত বড় আর্টিস্ট। যেমন - Ansel Adams আবার হালের Rarindra Prakarsha. আর যাদের ইমাজিনেশন ক্ষুদ থেকে ক্ষুদ্রতর তারা চোখে-মুখে-পোঁদে-বুকে সর্ব অঞ্চলে 'বাস্তবত'র ভূত খোঁজে। তাদের জন্য নির্লিপ্ত করুণা ফেলে রাখা ছাড়া আর কীই বা করার আছে?

নাহ, গ্রামার ভাংতে হলে অবশ্যই গ্রামার জানতে হবে। তখন আরো মজা করে রসিয়ে প্যাঁচিয়ে গ্রামার ভাঙ্গা যায়। এটার মজাটা ভয়াবহ পর্যায়ে। কারন তখন ঐ 'সুস্থ' মানুষগুলো আরো হা-পিত্যেশ করে আর গেলো গেলো রব ঝেড়ে চিৎকার ছুড়ে ... ... ... !!!

যারা লং শাটারকে নিয়ে 'ওভার প্রসেস' জুজুর ভয়ে গা শিটিয়ে আছে তাদের জন্য আসলে করুণা করতেও মনে বাধে। এরা আর কিছু নয়, ক্লিন বাংলায় - 'আবাল'।

Yuppi man, we r all in one club ... ... ...

===============================================
আরিফগ্রাফি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

দারুন একটা পোস্ট ।
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।
বুকমার্ক করে রাখলাম ।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, সবুজ পাহাড়ের রাজা।
একবার আপনার পাহাড়ে বেড়াতে যেতে পারলে ভালো লাগতো ... নেবেন কি ???

===============================================
আরিফগ্রাফি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

কেনো নয় ?
চলে আসুন না একবার আমাদের চট্টগ্রামে ।

নজরুল ইসলাম এর ছবি

বুঝছি, শিক্ষামূলক পোস্ট... জমায়ে রাখলাম, পরে পড়ুমনে... তয় ছবিগুলা দারুণ...
লেখাটাও যদ্দুর পড়ছি দারুণ...

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

হুম, এই পোস্ট পড়লে অনেক কিছু শিখা বড় হয়া যাইবেনগা ... !!! চোখ টিপি

ধন্যবাদ, বস।

===============================================
আরিফগ্রাফি

রেশনুভা এর ছবি

সুহাস ভাই, ন্যাচার, ল্যাণ্ডস্কেপ এগুলোর ছবি কোন শ্রেণীভুক্ত?
যারা লং এক্সপোজার এ তোলা ছবি ওভার প্রসেস বলে তারা ডিসকোর্সকে ডিকন্সট্রাকশন করে অতঃপর রিকন্সট্রাকশনের মাধ্যমে নিজেদের দায়ের উপায় মেটায় ... চোখ টিপি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ভাই, এগুলো আসলে ঠিক শ্রেনী না, এগুলো 'রকম' বা Kind.

ব্যাবহারগত দিকটা আবার ভিন্ন। যদি কোনো ডকুমেন্টেশনের জন্য আপনি ওয়াইল্ড লাইফ, ল্যান্ডস্কেপ, সিটিস্কেপ বা যে কোনো নেচারস্কেপ করেন সেটা অবশ্যই ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি। আর আপনার মনের মাধুরি মিশিয়ে যা কিছু করবেন - ওটা তো ওটাই ... দেঁতো হাসি

লং শাটার বেশিরভাগ লোকজনই বোঝে না। এদের ধরে যে কোন প্রকারের কন্সট্রাকশন করতে হবে, আল্লাহ মালুম ...

===============================================
আরিফগ্রাফি

দ্রোহী এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও ম্যাঁও

===============================================
আরিফগ্রাফি

মুস্তাফিজ এর ছবি

অনেক কিছু জানলাম, শিখলাম। দেঁতো হাসি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, বস।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা থেকে অনেক কিছু জানলাম, বুঝলাম।
তবে একটা হিসেব মেলাতে পারছি না, আমরা একেবারে নতুনরা যা করছি তা কী ঠিক হচ্ছে ? নাকি.... কোথাও কোন ভুল থেকে যাচ্ছে....???
********************
মেঘ রোদ্দুর

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ, তবে একেবারে নতুনরা যা করছে সেটা আমার মতে ভালোই হচ্ছে। কারন বেশিরভাগই দেখি জার্নালিস্টিক ফটোগ্রাফি করে, এটার লক্ষন ভালো। সব কিছু না শিখে নিজের মতো কিছু করতে যাওয়া বরং বোকামি।

===============================================
আরিফগ্রাফি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লেখাটা দারুণ লাগলো। আমি এবং আমার মতো অগণিত ফটোমূর্খের জন্যে সিরিজের তীব্র দাবি জানালাম।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ। হ্যাঁ, আশা করছি এটা একটা সিরিজই হবে।

===============================================
আরিফগ্রাফি

কৌস্তুভ এর ছবি

একটা এফেক্ট যদি ক্যামেরাতে আনা যায় আবার পোস্ট-প্রসেসিং-এও, তাহলে যেহেতু সচরাচর প্রথম কাজটাই বেশি পরিশ্রম ও দক্ষতাসাপেক্ষ হয়, তাই প্রথম ক্ষেত্রেই আমি সম্মান বেশি দেব।

ফোটো আর্ট নিয়ে আমার অভিযোগের কিছুই নাই, যদি বলে দেওয়া হয় যে এইটা তেড়েফুঁড়ে পোস্ট-প্রসেসড। নইলে অনেক কনফিউসন। আপনি ধরুন বান্দরবান গিয়ে ২(আফটার) তুলে এনে দেখালেন, আর আমি গিয়ে ২(বিফোর) এর থেকে ভাল কিছু পেলাম না ক্যামেরায়, তখন নিজেকে ব্যর্থ মনে হবে, যদি না জানি যে এক্ষেত্রে দক্ষতার লড়াইটা ক্যামেরায় নয়, কম্পুতে।

আর আপনার প্রতিবেশী বান্দরবানের যে ছবিটা পোস্ট-প্রসেসড করে তবে পেয়েছে, সেটা যদি আপনি সটান ক্লিকেই পেতে পারেন, তবে আপনাকেই বেশী কলকে দেব বইকি। এই হল আমার ধারণা।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আপনার কথাগুলোর সাথে আমি অনেক ক্ষেত্রেই একমত। তবে, এখানে পুরো চিত্রটা আসেনি, এটা আরো লম্বা হবে পরবর্তী সিরিজগুলোতে (আশা করছি)। আর্ট হলেই তাকে শুধু যে প্রসেসিং প্রক্রিয়া পেরিয়ে আসতে হবে তা নয়। বিভিন্ন ফিল্টার ও টেকনিকের ব্যাবহারের মাধ্যমে ওটা প্রি প্রসেসিংয়েও আনা যায়। আপনার লড়াইটা যদি ক্যামেরা ও ডার্করুম ভিত্তিক হয়ে থাকে তবে উভয় ক্ষেত্রেই আপনাকে দক্ষ হতে হবে। আর এখন আমরা কেউ ডার্করুমের দিকে ঠিক ভালো করে নজরই দেইনা, কারণ ওটা তো কম্পিউটারে ঢুকে গেছে। তাই এতো হেলে-ফেলা।

অনেক ধন্যবাদ আপনার মতামত খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য।

===============================================
আরিফগ্রাফি

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি

অসাধারন ছবি । সব কটাই । ৩ আর ৫ নাম্বার দু'টো আমার বেশী ভাল লাগল । আমি সাদা কালো ছবি ভালবাসি । আর আপনি সত্যি আলো আধারের কারুকাজ খুব ভাল জানেন ।

জারী থাক ক্যামেরাবাজী । আপনার ছবিতে এক আকাশ তারা ।

__________________________________________
জয় হোক মানবতার ।। জয় হোক জাগ্রত জনতার

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, ফেরদৌসী আপু।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। নাহ, আসলে এটার কোনো কালার ভার্শন করাই হয়নি।

===============================================
আরিফগ্রাফি

ধূসর স্বপ্নরা এর ছবি

অসাধারণ হয়ছে ভাই,
৩) নং টা পুরাই গডলাইক, কালার দিয়ে কোন ভার্সন করছেন?
১,২,৩ বেশী জটিল হয়ছে ...

বুনোহাঁস এর ছবি

তোমার পোস্ট পড়ার আগে আমি ছবিগুলো দেখে নিই সবসময়। আজও তাই করলাম। তবে ছবির চেয়ে আজকের লেখাটা বেশি কাজে দিলো। দেখতে ভালো লাগলেও প্রসেস করা ছবি নিয়ে আমারো শুচিবাই ছিলো কিছু। এই পোস্ট পড়ার পর আশা করি নতুন আঙ্গিকে দেখতে শিখব।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

হুম, ভালো লাগলো। আর বার্তার জন্য ধন্যবাদ।

===============================================
আরিফগ্রাফি

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

ভাই মাথা নষ্ট... গুরু গুরু

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, মানিকদা। লইজ্জা লাগে

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

'৯৮ এর দিকে আমাদের সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার বাবু ভাই আমাদেরকে ফটোশপ দিয়া দেখাইতো যে এইটা দিয়া কি টাইপের দুই নম্বরি করা যায়। আমরা তো তখন কেবল শিক্ষানবিশ তাই যা দেখি তাতেই অবাক হই। উনি দেখাইতো কি করে এক জনের মাথা অন্য জনের মাথায় বসায় দেয়, তারপর আরো কত্ত কি। কালে কালে আমরাও বড় হই, টুকটাক ফটোশপ ব্যাবহার করা শিখি, আর এখন তো সবাই ফটোশপ জানে তাই কোনো কিছুতেই আর কেউ অবাক হয় না বরংচ আজাইরা কাজ করলে ধরে বসে, কাজেই ভুলভাল দেখানোর দিন আর নাই।
আমি নিতান্তই সখের বশে টুকটাক ফটোগ্রাফি করি কয়েকদিন হয়, দুচারজন স্বনামধন্য ও ব্যবসা সফল ফটোগ্রাফারদের সাথেও পরিচয় হয় ঘটনাচক্রে- তাদের কাউকেই ফটো কে আর্ট বানানোর জন্য ফটোশপ এর অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করে ছবি বিকৃতি করতে দেখি নি। তাদের কাছে নতুন হিসাবে জানতে চাই যে এই আর্ট এর নামে ছবি বিকৃতির সম্পর্কে তাদের মতামত কি? এবং তাদের সবাই মুটামুটি পোস্ট প্রসেসিং এর নিরধারিত গণ্ডির ভিতরেই থাকার বিষয়ে একমত।
পোস্ট প্রসেসিং মুটামুটি সবাই করে এবং ডিজিটাল ছবিতে এটা করতেই হয়, কিন্তু সাদা আকাশ তুলে নিয়ে এসে কার্পেট এর মতো নিল আকাশ বানায় দিবেন, একটা সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চার ছবি তুলে এনে তাকে হতদরিদ্র দেখাবেন, মাটিকে পানি বানায় রিফ্লেকশন দেখাবেন আর সমালোচনা করলেই লোকজন আবাল হয়ে যাবে এটা ভাবাটাই আবালের লক্ষণ। আমার মন্তব্য হল আপনি আপনার তথাকথিত আর্ট ফটোগ্রাফি নিয়া থাকেন না, আপনার ইচ্ছা মতো ছবি তুলে ফটোশপ দিয়া যা ইচ্ছা তাই বানান তাতে কার বাপের কি ? কিন্তু আপনার উদ্ভট কাজ কারবার অন্যদেরকেও গিলতে হবে এ কেমন আবদার? ম্যানুপুলেশনের ব্যপারটা আগেও অগ্রহনযোগ্য ছিলো, এখনো তাই আছে এবং ব্যাপারটা আপনিও জানেন নাইলে চিৎকার করে নিজেকে ফটো আর্টিস্ট দাবি না করে মেইন্সট্রিম ফটোগ্রাফার দাবি করতেন।

--
কালো ও সাদা

কৌস্তুভ এর ছবি

অনুপম ভাই ফটো আর্টিস্ট হলেই বা আপনি এত চটে যাচ্ছেন কেন? উনি তো আপনাকে কিছু গিলতে বলেন নি। ফটোশপের দক্ষতাটাই বা খারাপ কিসে?

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি আমাকে ভুল বুঝেছেন, ফটোশপটা এখন ফটোগ্রাফারদের জীবনের একটা অংশ, কাজেই এর দক্ষতা নিয়ে কথা তোলার প্রশ্নই আসে না। কথা হচ্ছিল দক্ষতা আর অতিরিক্ত দক্ষতা ও তার প্রয়োগ নিয়ে। লেখকের মতে একটা ওভারপ্রসেস করা ছবিকে ওভারপ্রসেসড বলা যাবে না, বলতে হবে ফটো আর্ট !!! আর তা না বললেই তারা আবাল !! উনার মন্তব্যটা খেয়াল করুন-

যার ইমাজিনেশন যত বড়, সে তত বড় আর্টিস্ট। যেমন - Ansel Adams আবার হালের Rarindra Prakarsha. আর যাদের ইমাজিনেশন ক্ষুদ থেকে ক্ষুদ্রতর তারা চোখে-মুখে-পোঁদে-বুকে সর্ব অঞ্চলে 'বাস্তবত'র ভূত খোঁজে। তাদের জন্য নির্লিপ্ত করুণা ফেলে রাখা ছাড়া আর কীই বা করার আছে?

নাহ, গ্রামার ভাংতে হলে অবশ্যই গ্রামার জানতে হবে। তখন আরো মজা করে রসিয়ে প্যাঁচিয়ে গ্রামার ভাঙ্গা যায়। এটার মজাটা ভয়াবহ পর্যায়ে। কারন তখন ঐ 'সুস্থ' মানুষগুলো আরো হা-পিত্যেশ করে আর গেলো গেলো রব ঝেড়ে চিৎকার ছুড়ে ... ... ... !!!
যারা লং শাটারকে নিয়ে 'ওভার প্রসেস' জুজুর ভয়ে গা শিটিয়ে আছে তাদের জন্য আসলে করুণা করতেও মনে বাধে। এরা আর কিছু নয়, ক্লিন বাংলায় - 'আবাল'।

সিরাজুল হোসেন নামে একজন স্বনামধন্য ফটোগ্রাফার আছেন যাকে অনেকেই চেনেন, তার ফেসবুক এ একটা এলবাম আছে যার নামটা এ রকম- Fine Art [Not Computer Art] . লিংকটা এখানেএখানে
সময় পেলে একটু জিজ্ঞাসা করবেনতো যে তিনি হঠাৎ তার এ্যালবামেরএকরকম একটা নামে দিলেন কেনো ? কম্পুটার আর্ট বলতে কি তিনি অন্যকিছু মিন করেছেন ?

--
কালো ও সাদা

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

লেখকের মতে একটা ওভারপ্রসেস করা ছবিকে ওভারপ্রসেসড বলা যাবে না, বলতে হবে ফটো আর্ট !!! আর তা না বললেই তারা আবাল !!

দয়া করে আপনার এই কথাটা জাস্টিফাই করুন। আমি ওভার প্রসেসড ছবি নিয়ে এই কথাটা কিভাবে বলেছি তা আমাকে বুঝিয়ে বলুন। আর লং এক্সপোজার ছবি কি এবং এটা কিভাবে ওভার প্রসেসড হয়, তা আমার মতো 'নন-মেইনস্ট্রিম' ফটোগ্রাফারকে দয়া করে বুঝিয়ে বলুন।

===============================================
আরিফগ্রাফি

ফাহিম হাসান এর ছবি

হে কালো ও সাদা ভাই/আপা,

'৯৮ এর দিকে আমাদের সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার বাবু ভাই আমাদেরকে ফটোশপ দিয়া দেখাইতো যে এইটা দিয়া কি টাইপের দুই নম্বরি করা যায়। আমরা তো তখন কেবল শিক্ষানবিশ তাই যা দেখি তাতেই অবাক হই।

শুধু দুই নম্বুরীটাই দেখলেন। এর ভালো দিকটা দেখলেন না? কল্পনা ও সৃজনশীলতার নতুনত্ব চোখে পড়ে নাই??? চিন্তিত

উনি দেখাইতো কি করে এক জনের মাথা অন্য জনের মাথায় বসায় দেয়, তারপর আরো কত্ত কি।

নিচের বিখ্যাত ছবিটা দেখেন। এইটা এডিট করা হইসে ১৯৪০ সালে। Stalin এর পাশ থেকে Nikolai Yezhov কে ঘ্যাচাং করা হয়েছে।

এবার দেখেন -

আরো দেখেন - গুঁতা মারেন

ইচ্ছা থাকলে ম্যানিপুলেশন যে কোন ভাবে করা যায়। ফটোশপ কাজটা স্রেফ সহজ করে দেয়।

বিশ্বাস হল না তাই না? তাইলে এইটা দেখেন -

১৮৬০ সালের এডিটিং। লিঙ্কন সাহেবের মুন্ডু বসানো হয়েছে জন কালহউনের ধড়ে।

----------------------------------------------------------------------------------------------
আরেকটা ব্যাপার - আপনার কথার ধরণ ভালো লাগে নাই। তর্ক অনেক ভাবে করা যায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি খুবই দুঃখিত আমার কথার ধরণ পছন্দ না হওয়ার জন্য কিন্তু আমি এভাবেই সোজা সাপটা কথা বলতে পচ্ছন্দ করি। আমি যে কথা গুলো বলেছি সেগুলো অন্য অনেকেই বলেছে এখানে কিন্তু অন্য ভাবে, যাই হোক, আমার কথার ধরণ পছন্দ না হলেও আমি কি বলতে চেয়েছি সেটা বুঝতে পেরেছেন তো? আমি কিন্তু আপনারটা পারি নি...... মাথা কাটা তো অনেক পুরোনো বিষয় আর লিঙ্কন সাহেবের মুন্ডু জন কালহউনের ধড়ে বসিয়ে কি বিষয় টাকে জায়েজ করা গিয়েছিল?

--
কালো ও সাদা

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ভাইজান/আফা, আমার ব্যাপক প্রশ্নগুলার উত্তর কো? নাই, নাকি জানেন না?

যদি এতো সোজা-সাপ্টাই কথা কন, তয় একটু উত্তর দিয়া যান !!!

===============================================
আরিফগ্রাফি

ফাহিম হাসান এর ছবি

উহুঁ আমি তো বলি নাই জায়েজ। আমি শুধু বললাম ম্যানিপুলেশান করতে ফটোশপ লাগে না।

আপনার মন্তব্যের শুরুতে-

'৯৮ এর দিকে আমাদের সিনিয়র গ্রাফিক ডিজাইনার বাবু ভাই আমাদেরকে ফটোশপ দিয়া দেখাইতো যে এইটা দিয়া কি টাইপের দুই নম্বরি করা যায়।

nat geo মূলত ডকুমেন্টেশানের কাজ করে। ওদের ধরণ আলাদা। অনুপম ত্রিবেদী ভাইয়ের কাজ ডকুমেন্টেশান নয় বরং গ্রাফিকাল। এটাকে ফটো আর্ট বা ডিজিটল আর্ট বলাই সঙ্গত।

দেশে থাকলে ছবি মেলা ঘুরে আসুন। আলোকচিত্রের সাম্প্রতিক দর্শন সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আপনার নিজস্ব মত থাকতেই পারে। কিন্তু তা যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। দুঃখিত।

পুনশ্চ: আমি মূলত নিসর্গের ছবি বেশি তুলি। তাই সম্পাদনা করি কম। কিন্তু ফ্যাশান/ অ্যাডভার্টাইজমেন্টের কাজ করলে সম্পাদনা অতি আবশ্যক।

অতিথি লেখক এর ছবি

এটাকে ফটো আর্ট বা ডিজিটল আর্ট বলাই সঙ্গত।

আপনার সঙ্গে এই যায়গায় আমি একেবারে একমত।
ছবিমেলায় ঘোরার বেশি সময় পাই নি তবে দৃক গ্যালারিটা ঘুরেছি। বেশি ভালো লেগেছে ৪৪ ডেজ ইন ইরান ডিউরিং শাহ্‌ এর ছবিগুলো আর মুনেম ওয়াসিফ এর সল্ট ওয়াটার।
দোতালায় ছিল ডিজিটাল আর্ট- দরজায় লেখা ছিল "Some pictures have Adult Contents" আর ভিতরে কি ছিল তা থাবা বাবা বলেছেন উপরে।

--
কালো ও সাদা

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ফটোশপ দিয়ে ফটোগ্রাফির সাথে পরিচয় হলে এমনই কিছু বেসিক জিনিসে এসে হোঁচট খেতে হয়, এটা ব্যাপার না। একটু সময় নিয়ে আরো কিছু জানার চেষ্টা করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

ফটো কে আর্ট বানানোর জন্য ফটোশপ এর অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করে ছবি বিকৃতি করতে দেখি নি।

- কোথাও কি বলা হয়েছে এরকম কোনো কথা? আর 'ছবি বিকৃতি' জিনিসটা কি?

তাদের সবাই মুটামুটি পোস্ট প্রসেসিং এর নিরধারিত গণ্ডির ভিতরেই থাকার বিষয়ে একমত

- নির্ধারিত গন্ডিটা ঠিক কতটুকু ও তার সীমারেখা কি?

পোস্ট প্রসেসিং মুটামুটি সবাই করে এবং ডিজিটাল ছবিতে এটা করতেই হয়

- এই বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আপনি কতটুকু নিশ্চিত?

সমালোচনা করলেই লোকজন আবাল হয়ে যাবে এটা ভাবাটাই আবালের লক্ষণ।

কখন, কিভাবে, কাকে, কিসের ভিত্তিতে আবাল বলেছি আমি - একটু বলবেন কি?

আমার মন্তব্য হল আপনি আপনার তথাকথিত আর্ট ফটোগ্রাফি নিয়া থাকেন না, আপনার ইচ্ছা মতো ছবি তুলে ফটোশপ দিয়া যা ইচ্ছা তাই বানান তাতে কার বাপের কি ?

- এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে সবাই নিজেই এসে মন্তব্য করেছেন, কারোর আব্বু এসে মন্তব্য করেন নি। আপনি আব্বুকে টানছেন কেনো, আপনার আব্বু কি এই ছবিগুলো দেখে মন্তব্যটা করেছে? আর ফটোশপ জানলেই তো সব শেষ না, আরো জানার আছে বৎস, উপরের ৫টা ছবির ৩টাই ফটোশপ ছাড়া এডিট করা। আর 'তথাকথিত আর্ট ফটোগ্রাফি' কি জিনিশ?

কিন্তু আপনার উদ্ভট কাজ কারবার অন্যদেরকেও গিলতে হবে এ কেমন আবদার?

- পুরো লেখায় এমন আবদার কোথায় উল্লেখ আছে?

ম্যানুপুলেশনের ব্যপারটা আগেও অগ্রহনযোগ্য ছিলো, এখনো তাই আছে

- রেফারেন্স প্লিজ !

নাইলে চিৎকার করে নিজেকে ফটো আর্টিস্ট দাবি না করে মেইন্সট্রিম ফটোগ্রাফার দাবি করতেন।

- 'মেইন্সট্রিম ফটোগ্রাফার' এর সংজ্ঞা কি? রেফারেন্স সহ উল্লেখ করলে একটু জানতাম আর কি !!

আগেই বলেছি, আমি নিতান্তই ক্যামেরা নিয়ে ঘোরা একজন স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ আর আমার জানার গন্ডিটাও খুব কম। হঠাৎ আপনার মতো একজন বিশাল জ্ঞানীকে পেয়ে প্রশ্ন করার লোভটা সামলাতে পারলাম না। অনেক বেশি প্রশ্ন করেছি বলে ক্ষমা করবেন কিন্তু উত্তর না দিয়ে পিছলে যাবেন না। তাহলে মনে খুব কষ্ট পাবো।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

শুরু করি আপনার লেখার শেষ থেকেই- আপনার লেখায় এবং আপনার কমেন্টে আপনার অহমিকা চুয়ে চুয়ে পড়ছে, কাজেই আপনার সমালোচনা করে আপনাকে আমি কেনো কেউই বোঝাতে পারবে বলে আমার মনে হয় না, তবুও একটু চেস্টা করি-
আপনি ধরেই নিয়েছেন যে আপনার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমি পালিয়ে যাব (আপনার এসব করার পুর্ব অভিজ্ঞতা আছে বোধহয়), অথবা আমি এগুলোর উত্তর জানি না কারণ আপনার প্রশ্নগুলো ব্যাপক কঠিন এবং এর উত্তর দেয়া অসম্ভব তাও আবার আমার মতো দুদিনের ক্যামেরাম্যানের পক্ষে। আপনার এই ব্যাকুলতা হাসির উদ্রেক করে বইকি- যাই হোক-
মেইন্সট্রিম ফটোগ্রাফার বলতে আমি আপনার ভাষায় 'এডিটিং কুসংস্কারে' আচ্ছন্ন লোকদের বোঝাতে চেয়েছি যারা 'রিয়েল' বা 'আন-এডিটেড' ছবিকেই প্রাধান্য দেন এখনো।

ম্যানুপুলেশনের ব্যাপারটা আপনার মতো মহাজ্ঞানী জানেনা নাকি জানতে চায় না এটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। তবুও আপনার জন্য ন্যাটজিও এর একটা লিংক দিলাম যেখানে ফটো ম্যানুপুলেশন এর ব্যাপারে তাদের নির্দেশনা রয়েছে। এ ব্যাপারে অন্যদের নির্দেশনাও মুটামুটি একই বলা যায়।

উদ্ভট আবদার বলতে আমি বুঝাতে চেয়েছি আপনার জাজমেন্ট বিষয়ক কমেন্ট কে যেখানে আপনি পুরো জাজমেন্ট এর প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করতে বলছেন এই বলে যে

“সবকিছুকেই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখার চোখটা সবসময় খোলা রেখে চলা উচিৎ বলে আমার মনে হয়। কারন বাস্তবতা, অতি বাস্তবতার বাইরে গিয়েও ছবিকে দেখা যায়, জাজম্যান্ট করা যায়।“

ছবি বিকৃতি বলতে আমি নিজের ইমাজিনেশন প্রয়োগ করতে গিয়ে ছবির ট্রু ফ্যাক্ট টা নস্ট করার কথা বলেছি।

পোস্ট প্রসেসিং এর গন্ডিটা আপনি ন্যাটজিও এর লিংকটাতেই পাবেন। মনঃপুত না হলে বলবেন আমি আরো লিংক দিয়ে দেব।

আর ১৪ নাম্বার কমেন্টটা দেখে নেবেন তাহলেই আবাল সংক্রান্ত আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

“কার বাপের কি?” এর অর্থ হল কার কি এসে যায়, এটা একটা প্রচলিত টার্ম আপনি হয়তো নাও সুনতে পারেন। আমি দুঃখিত যে সাধু জায়গায় অসাধু টার্ম ব্যবহার করে ফেলেছি- নিজগুনে ক্ষমা করবেন।

পরিশেষে কৌস্তুভ এর কথাটাই রিপিট করতে চাই

“ফোটো আর্ট নিয়ে আমার অভিযোগের কিছুই নাই, যদি বলে দেওয়া হয় যে এইটা তেড়েফুঁড়ে পোস্ট-প্রসেসড। নইলে অনেক কনফিউসন। আপনি ধরুন বান্দরবান গিয়ে ২(আফটার) তুলে এনে দেখালেন, আর আমি গিয়ে ২(বিফোর) এর থেকে ভাল কিছু পেলাম না ক্যামেরায়, তখন নিজেকে ব্যর্থ মনে হবে, যদি না জানি যে এক্ষেত্রে দক্ষতার লড়াইটা ক্যামেরায় নয়, কম্পুতে।
আর আপনার প্রতিবেশী বান্দরবানের যে ছবিটা পোস্ট-প্রসেসড করে তবে পেয়েছে, সেটা যদি আপনি সটান ক্লিকেই পেতে পারেন, তবে আপনাকেই বেশী কলকে দেব বইকি। এই হল আমার ধারণা।

আপনার ছবিগুলো আমি দেখলাম এবং আপনাকে সাধুবাদ জানাই এইজন্য যে আপনি আপনার ছবিগুলোতে পোস্ট প্রসেসিং এর মাত্রাটা বলে দিয়েছেন এবং ছবিটা কি প্রক্রিয়ায় তৈরি করা তাও বলেছেন। আমার আগের এবং এখনকার মন্তব্যগুলো আসলে তাদের জন্য যারা বানানো ছবিগুলোকেই ওরিজিনাল ছবি হিসেবে চালিয়ে দিতে চায় এবং আর্ট ফটোগ্রাফির আড়ালে নিজেদের ফটোশপোগ্রাফিক পারফর্মেন্সটাকেই ফটোগ্রাফিক পার্ফমেন্স হিসেবে চালাতে চায়।
আপনি আমার কথায় আঘাত পেয়ে থাকলে আমি সত্যি দুঃখিত কারন আমার কোন কথাই আপনাকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করে নয়।

--
কালো ও সাদা

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আপনার জবাব পেয়ে ভালো লাগলো। যে কেউ আপনার মন্তব্যগুলো পড়লেই খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবে যে, আমার এই লেখাটা আপনি হয়তো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েননি। লেখার বা কমেন্টের কোথাও আমার অহমিকা চুয়ে পড়েনি, আপনি হয়তো অমনটা ভেবে নিয়েছেন।

আমি বলেছি - বাস্তবতা, অতিবাস্তবতার বাইরে গিয়েও ছবিকে দেখা যায়। এটা উদ্ভট হতো যদি আমি গিয়েই বলতাম। একটু খেয়াল করে দেখবেন, কেমন?

আমি বলেছি - "যারা লং শাটারকে নিয়ে 'ওভার প্রসেস' জুজুর ভয়ে গা শিটিয়ে আছে তাদের জন্য আসলে করুণা করতেও মনে বাধে। এরা আর কিছু নয়, ক্লিন বাংলায় - 'আবাল'।" আপনাকে লং শাটার জিনিশটা বুঝতে হবে, কারণ ওটা কোনোভাবেই ডিজিটালি প্রসেসড ইমেজ নয়, সরাসরি ক্যামেরায় তোলা। সুতরাং এটাকে কেউ যদি ওভার প্রসেসড বলে, তবে তাকে কি আর বলা যায়?

ফটো প্রসেসিং আর ম্যানুপুলেশন নিয়ে আপনার সাথে তর্ক করতে চাচ্ছিনা, দিন শেষে তালগাছটা আপনার কাছেই থাকুক। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে সিরিজটা অনেকখানি এগিয়ে যাবে। তাই এখনি এইসমস্ত আলোচনায় আসতে চাচ্ছি না।

দেখুন, আপনিই বললেন আমি চিৎকার করে নিজেকে ফটো আর্টিস্ট দাবী করছি আবার আপনিই বলেন অনেকে আর্ট ফটোগ্রাফির আড়ালে নিজেদের ফটোশপোগ্রাফিক পারফর্মেন্সটাকেই ফটোগ্রাফিক পার্ফমেন্স হিসেবে চালাতে চায়। তাহলেতো বলা বা লুকোনো দুটোই নাজায়েজ!!!!! আর আমি আমার প্রোফাইলে সমস্ত ব্যাপারগুলো স্পস্ট করেই বলেছি, আমি বলতে শঙ্কাবোধ করিনা। যেটা পারি সেটা না করার বা না বলার মধ্যে আমি কোনো অহং খুঁজে পাইনা।

আর কথা না বাড়ানোই ভালো। ভালো থাকবেন। আর সামনেও আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন। যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আপনার ফ্লিকার লিংক বা কোনো ফটোগ্রাফি এ্যালমাব থাকলে লিংক দিয়েন, একটু দেখবো।

===============================================
আরিফগ্রাফি

কৌস্তুভ এর ছবি

ডুপ্লি ঘ্যাচাং

আলমগীর এর ছবি

ভালো লাগা (তীব্রতার ক্রমানুসারে): ১, ৪, ২, ৩ (সাদা-কালো ছবি কেমন লাগে যদিও)।
এখন কয়টা প্রশ্ন:
১. এখানে প্যারাডক্স কোথায়? শিল্প তো শিল্পই। এখানে কোন ছবি নাই যেটা দেখলে ভ্রু কিংবা চোখের পাপড়ি পুড়ে যায়; অথবা মাথা ঘুরে। জাস্ট কিপাপ। আমরা নিজেদের চেহারা যে রকম দেখায় তারচে সুন্দর ছবি হলে আমোদিত হই। তখন, ফটোশপ, ক্যামেরা, ক্যামেরাম্যানকে কোন দোষ দিই না।

২. বিস্তারিত প্রসেসটা কী? ১নং ছবিতে পাতাগুলায় আলো, ২নং ছবিতে মেঘের ফাঁকের আলো কোথা থেকে আসলো?

৩. একেকটা ছবিতে কী পরিমাণ সময় ব্যয় হয়েছে?

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

১. শিল্প তো শিল্পই - এর বাইরেও অনেকেই হুদাই এডিটিং বা অবাস্তব - এরকম কথা বলে এই শিল্প জিনিশটার ধারনাতেই আসলে এই ধোয়াশার সৃষ্টি করেছে। আসলে, সবার মন মানসিকতা তো আর এক নয়।

আমরা নিজেদের চেহারা যে রকম দেখায় তারচে সুন্দর ছবি হলে আমোদিত হই। তখন, ফটোশপ, ক্যামেরা, ক্যামেরাম্যানকে কোন দোষ দিই না।

-এটাই হচ্ছে আসল মজা, মডেল ফটোগ্রাফির বেলায় যখর উড়া ধুড়া এডিট হয় তখন সেটা কেবলই সৌন্দর্য হিসেবে থেকে যায়। আর অন্য ক্ষেত্রে ওটা অবাস্তবতা !!!

২. প্রথম ছবিটাতে আলোর পুরো খেলাটাই আমি হাতে করেছি। আর ২ নং ছবিতে মেঘের ফাকে আলোটা ফটোশপের Radial Blur টুল দিয়ে তৈরি করে বসানো হয়েছে।

৩. প্রথম ছবিটাতে আসলে সময় বেশি লেগেছে, প্রায় ৪ ঘন্টা। আর বাকী গুলো এক-দেড় ঘন্টার মধ্যেই শেষ!

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

সুন্দরী ছেরিগো ফুটু তুলতে মন্চায়... চোখ টিপি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

তুলেন, তুলেন ... তুইল্লা ফালান ...

===============================================
আরিফগ্রাফি

ফাহিম হাসান এর ছবি

শুধু তোলার আগে দয়া করে অনুমতি নিয়েন ভাইডি হাসি

ওডিন এর ছবি

লেখা ভাল্লাগছে! দুর্দান্ত টু বি এক্সাক্ট।

আমার কথা হইলো যেইটা আপনার করতে ভালো লাগে, সেইটার জন্য কাউরে জবাবদিহি করার কোন দরকার নাই! পারলে কইবেন কাউরে এইরকম কিছু কইরা দেখাইতে দেঁতো হাসি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ ভায়া।

হ, সেটাই। কিন্তু সব সময় এইভাবে বলতে পারি না ... পাছে লুকে িি চেপে ধরে ... দেঁতো হাসি

===============================================
আরিফগ্রাফি

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

Melancholic silence ছবিটার মূলটা (আগেরটা) ভালো লাগছে, অন্যগুলো-ও পাংখা!

ইতিহাস জানতে চাই না, কেরামতি জানতে চাই। হাসি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।

ভাই, ইতিহাস জানতেই হইবো ... নইলে রি-কন্সট্রাকশন করবেন কিসের?

===============================================
আরিফগ্রাফি

নীল পিপড়া এর ছবি

আচ্ছা আপনিই কি সুহাস, তাহলে আবার অনুপম ত্রিবেদী কেন? আপনি যদি সুহাস হয়ে থাকেন তাহলে আপনার সাথে আমি একটু রাগ(হালকা রাগ বেশী না ..). কিছুদিন আগে ফেইস বুকে এড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম কিছু টিপস নিবার জন্য. আমার একটা CANNON DSLR 1000 D আছে ,গত দুইমাস স্কলারশিপ থেকে কিছু টাকা জমিয়েছি এখন একটা নতুন EOS 60 D কিনব নাকি কিট লেন্সেটা আপডেট করব তা নিয়ে সিধান্তহিনয়তায় ভুগছি ।আমার 50 mm f(1.4) একটা লেন্স আছে কিন্তু আমার ছবি নিয়ে আমি খুশি না। কেন যেন বার বার মনে হয় 1000 D এর বডীতে যে সেন্সর আছে ওইটা হয়ত কারন। (আচ্ছা আপনি হলে কি করতেন ?).

নীল পিপড়া
জেনেভা

ফাহিম হাসান এর ছবি

নীল পিপড়া, সুহাস ভাইকে করা প্রশের উত্তরে আমি একটু নিজের কথা বলি। আশা করি কিছু মনে করবেন না।

Canon 50 mm f/1.4 USM লেন্সটা canon এর সেরা লেন্সগুলোর একটা।

কিন্তু লেন্সটার Image Stabilizer নেই। কাজেই ব্যবহার করার সময় খুব স্টেডি/ সতর্ক থাকতে হবে। এম্নিতে এটা আপডেট করার কোন কারণ দেখি না। আর আপডেট করার অপশান তো কম -

Canon EF 50mm f/1.2L USM Lens এর দাম দেড় লাখের উপরে।

সিগমা, টোকিনা - কোনটাই Canon 50 mm f/1.4 এর ধারে কাছে নাই।

এখন একটা নতুন EOS 60 D কিনব নাকি কিট লেন্সেটা আপডেট করব তা নিয়ে সিধান্তহিনয়তায় ভুগছি ।

কিট লেন্স আপডেট করতে পারেন। কী লেন্স নিবেন তা নির্ভর করবে কী ধরনের ছবি তুলেন আপনি।

সবচেয়ে বড় কথা canon eos 1000D এর বডি খুব তো খারাপ না। শুধু শুধু বদলাবেন কেন? যদি একান্ত বদলতে হয় তাহলে একেবারে canon 7D নিয়ে নেন।

হ্যাপি ক্লিকিং

বি দ্র: উপরের কথাগুলা স্রেফ ব্যক্তিগত মত। সুহাস ভাই আপনাকে আরো ভালোভাবে উত্তর দিবেন আশা করি।

নীল পিপড়া এর ছবি

ফাহিম ভাই
অনেক ধন্যবাদ
EOS 60 D আর EOS 7 Dমুল পার্থক্য কোথায় একটু জানতে পারলে ভালো হত. ইউ টিউবে একটা রিভিউ দেখেছি কিন্তু খুব বিস্তারিত নাই,
50 mm 1.4 যে stabilizer নাই এইজন্য আমি ট্রিপড ব্যবহার করি. সচলায়তানে ছবি দেখে আমি মোটামোটি অবাক, অনেকে (সুহাস ভাই-মুস্তাফিজ ভাই-অরূপ ভাই..আরো অনেকে) আছেন ভয়াবহ সুন্দর ছবি তোলেন। আমি মুলত ছবির থিম খুঁজি, এডিটিং করা ছবি আমার খুব বেশি ভাল লাগেনা।
সুযোগ পেলে জেনেভা শহরের বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ক্লাব গুলাতে ঘুরাঘুরি করি. জাতিসংঘ থেকে প্রায় প্রতি মাসে বিভিন্ন থিমের উপর এক্সযিবিসন হয়। প্রায় প্রায় মনে হয় অনেক কিছুতে আমরা পিছিয়ে থাকলেও আমার দেশের ফটোগ্রাফারদের মান এদের মতই, অনেক ক্ষেত্রে ওদের চেয়ে ভাল।
যাইহোক সুইজারল্যান্ড বেড়াতে আসেন একসাথে ছবি তুলবনে...
নীল পিপড়া

ফাহিম হাসান এর ছবি

সুইটজারল্যান্ডে গিয়েছিলাম অতি অল্প সময়ের জন্য। দারুণ সুন্দর জায়গা! আবার গেলে আপনাকে জানাবো। কিন্তু কিভাবে?? চিন্তিত

জেনেভাতে অনেক প্রদর্শনী হয়। এগুলো ঘুরে দেখলেই অনেক শেখা যায়। এদিক থেকে আপনি ভাগ্যবান।

60D আর 7D এর তুলনা দেখুন -

এখানেএখানে

মাহবুব রানা এর ছবি

EOS Kiss X4 কিনতে যাচ্ছি, মতামত চাই।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

সরি ভাই, খেয়াল করি নাই হয়তো। আপনি সাথে একটা নোটও তো দিয়েছেন দেখলাম। ওকে, এড করে নিলাম।

ফাহিম ভাইয়ের সাথে আমি পুরোপুরি একমত। 1000D খুবই ভালো না হলেও ভালো একটা বডি। আমার মনে হয় আপাতত এটা বদলানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নতুন লেন্স কিনতে গেলে আমিও ফাহিম ভাইয়ের সুরেই বলবো যে, কী কাজ করবেন সেটার উপর আপনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

আশা করি এখন থেকে ফেসবুকে এ নিয়ে কথা হবে। আপনার কোন ধরণের ছবি তুলতে ভালো লাগে সেটা জানিয়ে মেইল করলে আশা করি উত্তর দিতে পারবো।

ধন্যবাদ।

===============================================
আরিফগ্রাফি

ফাহিম হাসান এর ছবি

অনুপম ত্রিবেদি ভাই,

দেশে থাকলে আপনার সাথে মাশরুম খাইতে খাইতে এগুলা আলোচনা করে সন্ধ্যা পার কইরা দিতাম। আফসোস।

পোস্ট পছন্দ হইসে। কিন্তু আপনার লেখার নিজস্ব ধরণটা মিস করলাম।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ফাহিম ভাই,

দ্যাশে তো একদিন আইবেনই, তখন কতা হইবো নে। ভাই এইসব লয়া আলাপ-আলুচনা-তর্ক করার মজাই আলাদা, অনেক জিনিশ বেরেন থিকা বাইর হয়।

ধন্যবাদ। তয় এরাম পুস্ট আমার 'এই' ভাষায় করন যায় না, এট্টু ভরদোলুকের ভাষা লাগে। মন্তব্যটা কিন্তু আমার মতো কইরাই করলাম, খুশি ?

===============================================
আরিফগ্রাফি

ফাহিম হাসান এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি
অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ, ধূগোদা।

===============================================
আরিফগ্রাফি

বাউলিয়ানা এর ছবি

একটা ছবিকে জাজম্যান্ট করার সময়, সেটা যে ছবিই হোক না কেনো, তার জার্নালিস্টিক এটিচ্যুডকে প্রাধান্য দেই। অর্থাৎ ছবিটা কতখানি 'রিয়েল' বা 'আন-এডিটেড' সেই দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেই। কিন্তু একবার, শুধু একবার, নিতান্ত খালি চোখে দেখলেই বোঝা যায় ছবিটা আসলেই কী উদ্দেশ্যে করা - এটা কী শুধুই কোনো সত্যকে উপস্থাপন করছে না কী কোনো ডিফরেন্ট থট নিয়ে আসছে সামনে।

দারুন একটা বিষয় নিয়ে লিখলেন।
অনেক ধন্যবাদ।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

===============================================
আরিফগ্রাফি

উজানগাঁ এর ছবি

তোমার লেখাটা পড়লাম। এই বিষয়টা নিয়ে আমার নিজেরো লেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু আমার যা অভ্যাস !!!

লেখাটা ভালো। এ বিষয় নিয়ে আরো ডিটেইল কিছূ আসবে হয়তো এর পরে। কিন্তু তোমার এই লেখা কিছু ভাবনাকে উসকে দিলো হয়তো। অনেকেই যে তোমার ভাবনার সাথে একমত হবেন না সে সম্ভাবনাই বেশী এবং স্বাভাবিক। তাঁর ভাবনা/যুক্তি কোনোটাই উড়িয়ে দেয়া যাবে না। তাঁর ভাবনার প্রতি সম্মান রেখেই তোমার কথাগুলো তোমাকে বলতে হবে।

সময় হলো সবচেয়ে বড় বিচারক। কারা থাকবে আরে কে স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে সেটা সেই নির্ধারণ করে দেবে।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।

হ্যাঁ, কথাটা পুরোপুরিই সত্য যে, সবার চিন্তাভাবনা এক না এবং সব ব্যাপারেই ভিন্ন চিন্তা থাকে। আমার আরো ডিটেইল লেখার ইচ্ছা আছে। আসলে সবার আগের কথাটা হলো এডিটিং মানেই তো আর কাটা-ছেঁড়া নয়, কপি-পেস্ট নয়। এই সামান্য ব্যাপারটা হয়তো মনের ভুলেই আমরা এড়িয়ে যাই। আর এডিট করলেই তো আর্ট হয়ে যায় না, সেখানে আর্টিস্টিক এক্সপ্রেশন থাকতে হয়। যাই হোক, সময় তার স্রোতে কী ভাসাবে বা কী ডোবাবে সেটা নিয়ে তোমার ভাবনার সাথে আমি পূর্ণ একমত।

===============================================
আরিফগ্রাফি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনুপম'দা, খুঁটিনাটি সহ আরো-আরো চাই... চলুক

"চৈত্রী"

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অপেক্ষা করতে থাকেন, আসবেই আসবে !!!

===============================================
আরিফগ্রাফি

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

ওরে সব ছবি রে--- গুরু গুরু
আপনার সবগুলা পোস্ট জমিয়ে রাখছি অনুপমদা, শুভক্ষণ দেখে একদিন আমিও ---- চিন্তিত

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

তিথীডোর এর ছবি

ফ্লিকারে অনেকদিন পর আপনার দুটো নুতন ছবি দেখলাম। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক

তিতলী এর ছবি

ভাইয়া ৩নাম্বার ছবির এফেক্টটা কিভাবে করসেন; বা এই এফেক্টার নাম কি? মানে আমি যাতে নেটে একটু খুজতে পারি তাই বলছি; নাম ছাড়া গুগলকে কি করে শুধাই?? চিন্তিত
আপনি কোন ভিডিও টিউটোরিয়ালের লিঙ্ক দিলে আরো ভাল লাগবে হাততালি ; আমার বেসিক ফটোশপ নলেজ আছে; আশা করি সমস্যা হবেনা পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA