পাকিপ্রেমের চর্বিতচর্বণ

নাশতারান এর ছবি
লিখেছেন নাশতারান (তারিখ: বুধ, ০৪/০২/২০১৫ - ৪:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছবিটি গত নভেম্বরে পুরান ঢাকায় তোলা। যে শহরে সদর্পে পাকিস্তানি পণ্যের এমন পাইকারি বিজ্ঞপ্তি চলে সেখানে পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের কথা বলতে লজ্জা হয় বৈকি। এ লজ্জা ব্যর্থতার, এ লজ্জা অধঃপাতের। আমরা সম্ভবত জাতিগতভাবেই ধর্ষকামী। পশ্চাদ্দেশে চাবুকের ক্ষত নিয়ে চাবুকধরা হাতটিকে চুম্বন করতে উদগ্রীব আমাদের ঠোঁট। শত মন্বন্তরেও আমরা শকুনের নখর চিনতে শিখি না। তা না হলে স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পরেও পাকিস্তানের সাথে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কেন রয়ে যায়? যুদ্ধোত্তর হিসেবনিকেশ মেটার আগেই কী করে এদেশে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ে, হোক তা বিশ্বকাপের মৌসুমে? কী করে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কোনো তরুণী "ম্যারি মি আফ্রিদি" লিখে গ্যালারিতে উপস্থিত হতে পারে? গালে পাকিস্তানের পতাকা আঁকার সময় কী করে তারা ইতিহাসের চপেটাঘাত অনুভব করে না? পাকিস্তানি লন গায়ে জড়িয়ে কেন তারা নিজেকে নগ্ন অনুভব করে না?

যে দেশে জন্মযুদ্ধের পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে বিয়াল্লিশ বছর অপেক্ষা করতে হয় সেদেশে এমন বিস্মৃতিপরায়ন, রাজনীতিবিমুখ স্বার্থপর ভোগী প্রজন্ম তৈরি হওয়াই হয়ত স্বাভাবিক। হয়ত কেন? বিস্মৃতির ধূসর পাতার আড়ালে ইতিহাস চাপা দেওয়ার জন্যই তো এই দীর্ঘসূত্রিতা। লক্ষ মৃত্যু আর নিগ্রহের পথ পেরিয়ে পাওয়া পতাকার ছায়ায় দাঁড়িয়ে তাই অতীত ভুলে মিলেমিশে থাকতে চাওয়ার কথা বলা আরামদায়ক, "উই হেইট পলিটিক্স" বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া সহজ। এই পাকিপ্রেমী প্রজন্ম বড্ড ভুলোমনা, ক্ষমাশীল, অরাজনৈতিক। পাকিস্তানি তারকার ছবি ফেসবুকে ঝুলিয়ে নীরব শীৎকারে তাদের সংকোচ নেই, অথচ গণহত্যাকারী ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড চাইতে তাদের ভারী সংকোচ হয়। পোষা গোল্ডফিশের মৃত্যুতে যে গভীর শোক তারা অনুভব করে তার এক কণাও হয়ত একাত্তরের নিহত, ধর্ষিত পূর্বজদের জন্য অনুভব করে না। একাত্তর তাদের কাছে সুদূরপরাহত রাজনৈতিক স্মৃতি। কে না জানে রাজনীতিতে এদের ভীষণ অনীহা? রাজনীতি ভীষণ নোংরা। এমনকি রাজাকারের হাসির থেকেও, ধর্ষকের স্পর্শ থেকেও ঘৃণ্য।

অথচ আমার কাছে সবকিছুই রাজনৈতিক। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক সব পর্যায়েই। আমি খেলার সাথে রাজনীতি মেশাই, রাজনৈতিক পক্ষপাত আমার বিনোদনের পছন্দকে প্রভাবিত করে, পেশাদারিত্বের নামে পণ্যের রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করতে পারি না। আমি পাকিস্তানি পণ্য, সেবা, বিনোদন বর্জন করি। আমি একা নই। আমার বন্ধু, পরিজন, শ্রদ্ধাভাজন সকলেই করেন। করেন বলেই তারা আমার বন্ধু, পরিজন, শ্রদ্ধাভাজন। বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিকের পাকিস্তানপ্রেম আমাকে পীড়া দেয়, লজ্জিত করে। তাদের উদারতা আমাকে সংকুচিত করে দেয়। তাদের ক্ষমাশীল আধুনিকতা আমার মাঝে অদ্ভুত অক্ষমতার বেদনা জাগায়। তাদের বহুলচর্চিত তর্কের চর্বিতচর্বন আমাকে ক্লান্ত করে। পাকিস্তানি সকল ব্যাপারস্যাপার বর্জন করা আদৌ কতটুকু বাস্তব, প্রাসঙ্গিক এবং আবশ্যক তা অল্প কথায় বলার চেষ্টা করি এই বহুলচর্চিত তর্কের সূত্র ধরে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরামে পাকিস্তানি পণ্য ও প্রেমের বিরোধিতা করতে গিয়ে এই যুক্তি ও প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হতে হয়েছে। আপাতত যে কয়টা মনে পড়ছে দিচ্ছি। আর কারো প্রশ্নোত্তর জোড়ার থাকলে কিংবা কোনো প্রশ্নের আরো জুতসই উত্তর জানা থাকলে মন্তব্যের ঘরে জানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো। পোস্টে জুড়ে দেবো।

১) পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করতে হবে কেন?

যে কারণে স্বদেশী আন্দোলনে বিলেতি পণ্য বর্জন করা হয়েছিলো। এটি আপনার বিশ্বাসের প্রকাশ। যেমন করে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে আপনি কোনো বিশেষ খাদ্য পরিহার করেন, তা যতই লোভনীয় ও দৃষ্টিরোচক হোক না কেন, তেমনি কোনো বিশেষ দেশের পণ্য বর্জন করা আপনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক চেতনার চিহ্ন। পাকিস্তান এমন একটি দেশ যা একাত্তরে পরাজয় স্বীকার করেও এত বছরে ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি, ক্ষতিপূরণের প্রয়াস পায়নি। সে দেশের পাঠ্যসূচীতে বাংলাদেশের জন্মের প্রকৃত ইতিহাসের উল্লেখ নেই। মোট কথা পাকিস্তানি চোখে বাংলাদেশের জন্মই প্রশ্নবিদ্ধ। সেই দেশের পণ্য কিনে তাদের অর্থনীতিতে আপনি রসদ জোগাচ্ছেন। তা যতই কমই হোক বা বেশিই হোক না কেন।

২) আমি না কিনলেও তো অন্য কেউ কিনবে।

ফ্যাশন একটি সংক্রামক ব্যাধি। অন্যের দেখাদেখি পণ্য কেনার হুজুগের মতো কোনো পণ্য বর্জনের তাড়নাও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। সূচনাটা নিজেকে দিয়েই করতে হবে।

৩) পাকিস্তানি লনের সমকক্ষ কাপড় দেশে তৈরি হয় না। পাকিস্তানি লনে যে আরাম, দেশি কাপড়ে সেই আরাম নাই।

লন স্বর্গের কোনো পারিজাত বৃক্ষের তন্তু দিয়ে তৈরি করা বস্ত্র নয় যা দেশে তৈরি করা সম্ভব নয়। লন একটা বিশেষ বয়নের সুতি কাপড়। এই কাপড়ে ডিজাইনারদের করা নকশা বসিয়ে পাকিস্তানি বস্ত্রশিল্পে একটা বিপ্লব এসেছে। বিশাল একটা বাজার তৈরি হয়েছে লনের। টেক্সটাইলশিক্ষার সাথে জড়িত মানুষজনের সাথে আলাপ করে জেনেছি লন বানানো এমন কোনো দুরূহ ব্যাপার না। বাংলাদেশে আমরা বস্ত্রশিল্পে এমন কোনো উদ্যোগ কেন নিইনি সেটা নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে।

৪) পাকিস্তানি পণ্য ব্যবহার করি বা পাকিস্তান টিমকে সমর্থন করি মানে এই নয় যে দেশকে ভালোবাসি না। আমার ভালোবাসা লোকদেখানো নয়। মনে ভালোবাসা থাকলেই হয়।

আপনার দেশপ্রেমের ধারণা বুঝতে আমি অপারগ। আপনার সঙ্গী আপনার জন্য হৃদয়ে অগাধ আবেগ ধারণ করে অন্যের শয্যাসঙ্গী হলেও আশা করি আপত্তি করবেন না।

৫) পাকিস্তানি খেলোয়াড়, শিল্পী এরা তো কোনো অপরাধ করে নাই। এদের পছন্দ করলে সমস্যা কী?

শিল্প, সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্রের চারিত্রিক ভিত্তি। পাকিস্তানি পণ্য, পাকিস্তানি খেলোয়াড় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক মতাদর্শকে ধারণ করে। পাকিস্তানি শিল্পী, খেলোয়াড়, পণ্য প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ নিয়ে সংশয় বা আপত্তি প্রকাশ না করা পর্যন্ত তাদেরকে সমর্থন, সহযোগিতা জোগানোকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অবমাননাকর, অসচেতন, অকৃতজ্ঞ আচরণ মনে হয়। এ নিয়ে অপরাধবোধহীন নির্ভার আবেগকে মনে হয় নিজের অস্তিত্বের সাথে বেইমানি।

৬) আবেগ দিয়ে ব্যবসা হয় না। বাজারে পাকিস্তানি পণ্যই বেশি চলে।

তা চলে। এতই বেশি চলে যে দেশি পণ্যও পাকিস্তানি ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। এ আমাদের জাতিগত কাঙালপনা। এই কাঙালপনা থেকে মুক্তির জন্য একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমরা কিছু বন্ধু মিলে। আমরা একটি মেলার আয়োজন করেছিলাম যেখানে বড় বড় করে লেখা ছিলো "এই মেলায় কোনো পাকিস্তানি পণ্য পাওয়া যাবে না"। পাকিস্তানি পণ্য ছাড়াও ব্যবসা হতে পারে, এই ভাবনাটুকু আসলেই বাস্তব এই বক্তব্যটুকু তুলে ধরাই উদ্দেশ্য ছিলো সেখানে। মুনাফাটুকু ছিলো অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। সেই মেলা থেকে প্রকাশিত ও প্রসারিত ব্যবসাগুলো এখনো সবেগে চলমান। পাকিস্তানি পণ্য ছাড়াই।

৭) পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করলে ভারতীয় পণ্য কেন বর্জন করা হবে না?

এই প্রশ্নটি আসলে পাকিস্তান আর ভারতকে এক কাতারে এনে সমপর্যায়ে দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের অপরাধকে লঘু করার প্রচেষ্টা। আগে পাকিস্তানি বর্জন করুন। তারপর ভারতীয় পণ্য।

৮) পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করা জরুরি হলে বাজারে এগুলো পাওয়া যাচ্ছে কেন? পাকিস্তানি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না কেন?

এটি সবথেকে জরুরি প্রশ্ন। আসলেই তো। পাকিস্তানের সাথে তাবত হিসেবনিকেশ না মেটা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক সম্পর্ক কি থাকা বাঞ্ছনীয়? আমাদের পাসপোর্টে কেন ইসরাইলের পাশাপাশি পাকিস্তানে ভ্রমণ নিষিদ্ধ উল্লেখ করা নেই? কেন পাকিস্তানি পণ্য বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশাধিকার পায়? রাষ্ট্রীয়ভাবেই কেন পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক রহিত করা হয়নি? কেন কতিপয় নাগরিককে নিজ দায়িত্বে এই মৌলিক অবস্থানের পক্ষে শক্তিক্ষয় করতে হচ্ছে? এই ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত মতাদর্শ কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সার্বজনীন এবং সকল তর্কের ঊর্ধে ঠাঁই পায়নি এখনো?

৯) সব পাকিস্তানি খারাপ না। আমি অমুক তমুক পাকিস্তানিকে চিনি যারা অসাধারণ মানুষ, যারা একাত্তরে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ব্যক্তিগত কিছু বিচ্ছিণ্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি সমগ্র জাতির হয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না। কোনো ব্যক্তি যেমন তার পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকেও মুক্ত নয়। যুদ্ধ, স্বাধীনতার হিসেবনিকেশ রাষ্ট্রীয়। আপনিও এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অংশীদার। ব্যক্তিগত বাতুলতা দিয়ে আপনি জাতিগত লড়াইকে স্তিমিত করার চেষ্টা করছেন। আপনার পরিচিত "ভালো পাকিস্তানি"র সদবুদ্ধি থাকলে এ ব্যাপারে তিনিও সহমত হবেন নিশ্চয়ই।

১০) একাত্তরে পাকিস্তানিরা যা করেছিলো এখন তো পাহাড়ে বাঙালিরাও তাই করছে। নিরপরাধ মানুষ মারছে, ধর্ষণ করছে। শুধু পাকিস্তানকে দোষ দিয়ে কী লাভ?

একটি অপরাধ আরেকটি অপরাধকে বৈধতা দেয় না। বাঙালি আজ পাহাড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে পাকিস্তানের পাপের দাগ ম্লান হয়ে যায় না। অন্যায়কে ঘৃণা করুন। অপরাধ স্বীকার করা সভ্যতার নিদর্শন। যেই সভ্যতা আজও পাকিস্তান দেখাতে পারেনি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সেটুকু আমরা দেখাতে পারি। নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে রুখে দাঁড়াতে পারি। নিজেদের দোষ ঢাকতে চোখ বেঁধে রক্তাক্ত অতীতকে ভুলতে হবে কেন?

১১) আপনি ভারতীয়’ দালাল। তাই পাকিস্তানি কিছু সহ্য করতে পারেন না।
পাকিস্তানকে ঘৃণা করতে ভারতের আনুগত্য স্বীকার করা আবশ্যিক নয়। যে কোনো ব্যক্তির বা দেশের দালাল হওয়াই খারাপ। তাই আমি কারো দালল হওয়ার ঘোর বিরোধী। তবে তর্কের খাতিরে বলতে চাই, ভারতের দালাল হবার চেয়ে পাকিস্তানের দালাল হওয়া কোটি গুণ খারাপ।

পাকিস্তানের বিষবৃক্ষ যে এখনো অন্তরালে শাখা বিস্তার করে দূষণ ছড়াচ্ছে তার সর্বশেষ নিদর্শন এই সংবাদ

এমন একেকটি ঘটনায় নড়েচড়ে বসে পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করা নয়, ইতিহাসের দায় না মেটা পর্যন্ত পাকিস্তানকে বর্জন করা আমাদের একটি স্থায়ী পদক্ষেপ হোক। শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, সামগ্রিকভাবে। পাকিস্তানি পণ্য, সেবা, বিনোদনকে, মোট কথা পাকিস্তানি সবকিছুকে না বলুন জোরেসোরে।


মন্তব্য

শিশিরকণা এর ছবি

পাকি জিনিসপাতি হারাম বলে একটা ধুয়া তুলবো কি না ভাবতেছি। ধর্ম ব্যবসায়ীরা সুযোগ মতন ধর্মের বাণী কোট করে তাদের চিন্তা ভাবনাকে চালিয়ে দেয়, সেই কুটিল বুদ্ধি কেন কাজে লাগানো যাবে না? কা্ঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতন।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

তারেক অণু এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি
সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

শয়তানী হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

৫ নম্বর পয়েন্টের প্যারা মাঝখানে কাটা পড়েছে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

নাশতারান এর ছবি

ঠিক করে দিলাম।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

তিথীডোর এর ছবি

৪) পাকিস্তানি পণ্য ব্যবহার করি বা পাকিস্তান টিমকে সমর্থন করি মানে এই নয় যে দেশকে ভালোবাসি না। আমার ভালোবাসা লোকদেখানো নয়। মনে ভালোবাসা থাকলেই হয়।

আপনার দেশপ্রেমের ধারণা বুঝতে আমি অপারগ। আপনার সঙ্গী আপনার জন্য হৃদয়ে অগাধ আবেগ ধারণ করে অন্যের শয্যাসঙ্গী হলেও আশা করি আপত্তি করবেন না।

গুল্লি গুল্লি গুল্লি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

অতিথি লেখক এর ছবি

আবুল মিয়া আর হাবুল মিয়া সুদে টাকা নিয়ে
‌ব্যবসা করে, দুটো সেলাই মেশিন নিয়ে বসে , সেলাই করে সেগুলোই আমজনতার পোষাক।

সেই পাকিরা দামী কাপড় আমদানি করে কয়েকটা ফুল বসিয়ে লন নামে প্রোডাক্ট লঞ্চ করে। হতে পারে সে কাপড় ইন্ডিয়া থেকে আসে।পাকিরা যদি ইনভেষ্ট করতে পারে বাঙালীরা কেন পারেনা
ট্রোল

কনীনিকা এর ছবি

অত্যন্ত ধারালো লেখা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা আপনারা যারা আগে থেকেই পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করি, তারাই ঘুরে ফিরে এই লেখাগুলো পড়ি। যাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তারা বেশিরভাগই পড়ে না। "উফ সেই চল্লিশ বছরের পুরনো প্যাঁচাল!" বলে স্ক্রল ডাউন করে ফেইসবুকে লনপড়া সেলফিতে লাইক দেয়ায় ব্যস্ত থাকে।

------------------------------------------------------------------
It is impossible to be a mathematician without being a poet in soul.

তিথীডোর এর ছবি

"উফ সেই চল্লিশ বছরের পুরনো প্যাঁচাল!" বলে স্ক্রল ডাউন করে ফেইসবুকে লনপড়া সেলফিতে লাইক দেয়ায় ব্যস্ত থাকে।

চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

দেবদ্যুতি

ইফতেখার এর ছবি

লেখাটা ভাল্লাগছে চলুক

মেঘলা মানুষ এর ছবি

পাপিস্তান থেকে কাপড়, জুস ছাড়া আর কি কি আসে তার কোন তালিকা আছে কি?
আর, বাংলাদেশ থেকে কোন কিছু কি ওখানে রপ্তানি হয়?

অতিথি লেখক এর ছবি

বিদেশে আরেকটা প্রবনতা হল, হালাল খাওয়ার জন্য পাকিস্তানী দোকানে যাওয়া, পাকিস্তানী রেস্টুরেন্ট অথবা গ্রোসারী স্টোর, এবং ব্যাপারটা মানুষ এত অবলীলায় করে রিতিমত লজ্জাজনক। আমাকে বেশ কয়েকবার অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হয়েছে পাকিস্তানী কিছু খাই না দেখে। জানি না, বিদেশে আসলে মনে হয় দেশের এইসব ছোটখাট বিষয় মনে থাকে না। আমি মোটামুটি নিশ্চিত এদের সন্তানেরা বাংলাদেশের ইতিহাস জানবে না।

তিথীডোর এর ছবি

বিদেশে আরেকটা প্রবনতা হল, হালাল খাওয়ার জন্য পাকিস্তানী দোকানে যাওয়া, পাকিস্তানী রেস্টুরেন্ট অথবা গ্রোসারী স্টোর

আর মসজিদে পাকি ভাইবেরাদরদের সঙ্গে খাস দিলে কোলাকুলি করা।

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সুমন চৌধুরী এর ছবি

পাকিস্তানের ধ্বংস কামনা শুধু সারা পৃথিবীর জন‌্য না পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের স্বার্থেও ফরজ। আসুন যে যেখান থেকে যেভাবে পারি, পাকিদের ক্ষতি করি।

নাশতারান এর ছবি

ভালোবাসাই আটকাতে পারে না! আর আপনি বলছেন ক্ষতি করার কথা। পাকিতোষণ ঘৃণা করার আত্মসম্মানটুকু দেখাতে পারলেই তুষ্ট হয়ে যাই আমি।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

বুনোহাঁসের মন্তব্যটি চমৎকার!

ভালোবাসাই আটকাতে পারে না! আর আপনি বলছেন ক্ষতি করার কথা। পাকিতোষণ ঘৃণা করার আত্মসম্মানটুকু দেখাতে পারলেই তুষ্ট হয়ে যাই আমি।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা পাকিপণ্যের বিপণন উশকে দেয়। এই ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নেয়া উচিত।

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

নাশতারান এর ছবি

হ্যাঁ, উচিত। এটা নিয়ে পরেরবার সরব হতে হবে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

জরুরী লেখা। সচেতনতা জরুরী, কিন্তু সচেতনতা সবার কাছ থেকে আশা করা ঠিক বাস্তবসম্মত না। সবচেয়ে ভালো হত যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা পাকিস্তান বর্জন করতে পারতাম। সেটা কেন পারিনি, কেন পারছিনা কে জানে! এর পরেও সংখ্যায় অল্প হলেও আমাদের বলে যেতে হবে আমাদের কথা।

সামনে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। শুরু হবে নানা কায়দায় নানা ঢং আর নানা যুক্তিতে পাকিপ্রেমের নির্লজ্জ প্রদর্শনী। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ যদি নাও আসে তবুও পাকিপ্রেমকে সামাজিক ভাবে লজ্জার বিষয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কেউ পাকিস্তানকে সমর্থন করে এটা বলতে যেন মানুষ লজ্জা পায়।

এইটা কিন্তু বাংলাদেশ

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নাশতারান এর ছবি

কী আর বলব? পাকিস্তান কেন রাষ্ট্রীয়ভাবে বর্জিত হয়নি, হচ্ছে না সেটা আমরা মনে মনে জানি। গোড়ায় গলদ থাকলে আগায় পানি ঢেলে কতটুকুই বা পুষ্টিসঞ্চার করা সম্ভব? রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা দেখে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাটুকুকে খেলো মনে হয় প্রায়ই। তারপরেও নিজের আওতায় যতটুকু সম্ভব লড়ে যেতে হবে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

পাকিস্তানের সকল ধরনের পন্য বর্জন করে চলি।

আমার কাছে সবকিছুই রাজনৈতিক। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক সব পর্যায়েই। আমি খেলার সাথে রাজনীতি মেশাই, রাজনৈতিক পক্ষপাত আমার বিনোদনের পছন্দকে প্রভাবিত করে, পেশাদারিত্বের নামে পণ্যের রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করতে পারি না। আমি পাকিস্তানি পণ্য, সেবা, বিনোদন বর্জন করি। আমি একা নই। আমার বন্ধু, পরিজন, শ্রদ্ধাভাজন সকলেই করেন। করেন বলেই তারা আমার বন্ধু, পরিজন, শ্রদ্ধাভাজন। বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিকের পাকিস্তানপ্রেম আমাকে পীড়া দেয়, লজ্জিত করে

আমার কথাও এটাই।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

মিজান, পিষে ফ্যালো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

হোক চর্বিতচর্বণ, তবুও বলে যেতে হবে। বলায় কাজ যে একেবারেই হয় না তা কিন্তু না।
কাজেই "হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে....."
ইয়ে বুনো, 'চর্বণ' বানানটা এমন বলেই জানি, সঠিক কোন্টা রে চিন্তিত

নাশতারান এর ছবি

ণ হবে। ঠিক করে দিলাম। ধন্যবাদ। দেঁতো হাসি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

বাংলাদেশীদের পাকিপ্রেম একটি লজ্জাজনক ব্যাধি! এই ব্যাধি ধর্ষকের প্রতি ধর্ষিতার প্রেমের সমতুল্য।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

নাশতারান এর ছবি

এই ব্যাধি ধর্ষকের প্রতি ধর্ষিতার প্রেমের সমতুল্য।

ভালো বলেছেন। চলুক

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

মন মাঝি এর ছবি

দারুণ! দুর্দান্ত! চলুক
সম্মিলিত ভাবে তৈরী করা এরকম প্রশ্নোত্তরের একটা ডাটাবেস বা চিরস্থায়ী স্টিকি-পোস্ট বা উপরের মেনুতে অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় সচলে থাকলে খুব ভাল হত। বিশেষ করে অনেক সময় এমন এবসার্ড আর আজগুবি সব কুযুক্তির মুখোমুখি হতে হয় যে কথার খেই হারিয়ে যায়। এরকম সময় তাৎক্ষণিকভাবে এক্সেসিবল বিভিন্ন ধরণের কুযুক্তির মুখের মত জবাব সম্বলিত একটা ডাটাবেস / লিস্ট / পোস্ট / ব্যাঙ্ক - ইত্যাদি জাতীয় কিছু একটা থাকলে খুব ভাল হত। হাসি

ইয়ে, ৯ নম্বরের উত্তরটা আমি ঠিক বুঝি নাই। মনে হচ্ছে আপনি অন্য কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। ঠিক লাগসই লাগল না। এটা একটু দেখবেন আরেকবার?

****************************************

নাশতারান এর ছবি

ধন্যবাদ।
৯ নাম্বারে আমি বলতে চেয়েছি ব্যক্তিগত বিচ্ছিণ্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে জাতীয় সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে। কারো হয়ত ব্যবহার ভালো, কেউ হয়ত প্রতিভাবান, হয়ত সে সুবিবেচক ব্যক্তি। এমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে জাতিগতভাবে ক্ষমা করে হিসেবনিকেশ চুকিয়ে ফেলাটা বাতুলতা মনে করি।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

পাকিস্তানি পণ্য
ত্যাগে হও ধন্য

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইয়ে মানে, পাকি পণ্য চিবিয়ে খেয়ে পুটু দিয়ে বের করে দেব? দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আরে নাহ! কি কন না কন! পাকি পণ্য সকল হারামের মধ্যেও হারামতম! এইটা খাইলে ক্যান্সার তো নির্ঘাত, তার চাইতেও নিকৃষ্ট কোন ব্যারাম হওয়া অসম্ভব না। ইতিমধ্যেই যদি কখনো সেজান ম্যাঙ্গো জুস খাইয়া থাকেন, তাইলে মরছেন। তাড়াতাড়ি তওবা পইড়া মাজারে সিন্নি দিয়েন, তার আগে ফুল বডি সিটি স্ক্যান, বায়োপসি এইসব যা যা আছে কইরা নিয়েন কইলাম।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নাশতারান এর ছবি

কী বলতে চাইছেন? সারকাজম বাদ দিয়ে স্পষ্ট করে বলুন, প্লিজ।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

নাশতারান এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নোত্তর সামান্য বদলে জুড়ে দিলাম।
আচ্ছা, সচলায়তনের "প্রকৃত" সচল ভাই-বোন কারা? দেঁতো হাসি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

দেশ আমাদের মায়ের মত
সদা রব তাঁর যত্নে রত।
আমাদের জ্ঞাতসারে বা আমাদের অগোচরেই আমরা এখনও আমাদের দেশ মাতৃকাকে মা হিসেবে গ্রহন করতে পারিনি। যদি তা পারতাম তবে আমার মাকে ধর্ষণকারী দেশকে যারপরনাই ঘৃণা করতাম।
যারা পাপিস্তানকে সমর্থন করে বা পাপিস্তানি স্বার্থের পক্ষে কাজ করে তাদের একটি বিরাট অংশ তা করে ধর্মীয় কারণে বা ধর্মের অজুহাত তুলে। কিন্তু তারা এটা বেমালুম ভুলে যায় যে একাত্তুরে পাপিস্তানি নরপশুরা ধর্মের কথা চিন্তা করে এতটুকু ছাড় দেয়নি আমাদের। এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন পোস্টে সংযোজন করার প্রস্তাব করছি।
পাপিস্তানের যেসব বিষয়গুলো আপনি উপস্থাপন করেছেন সেগুলো কাউকে বলতে গেলে প্রায়শই ‘ভারতীয়’ দালাল বলে গালি শুনতে হয়। তখন যে উত্তরটি আমি দেই তা এখানে উল্লেখ করলামঃ ‘যে কারও বা কোন দেশের দালাল হওয়াই খারাপ। তাই আমি কারও দালল হওয়ার ঘোর বিরোধী। তবে তর্কের খাতিরে বলতে চাই, ভারতের দালাল হবার চেয়ে পাপিস্তানের দালাল হওয়া কোটি গুন খারাপ। এ বিষয়েও একটি প্রশ্ন সংযোজন করার বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

সবশেষে বলতে চাই, কোমলমতি নূতন প্রজন্মকে তথা সমগ্রদেশবাসীকে পাপিস্তানপ্রেমী হবার মগজধুলাই নিরবিচ্ছিন্ন গতিতে সেই ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল থেকে উত্তর উত্তর বর্ধিত হারে বাধাহীনভাবে প্রবাহমান রয়েছে। আমরা তা প্রতিরোধ করার এবং তার বিপরীতে সঠিক পন্থা প্রদর্শনের কোন চেষ্টাই করিনি এবং করছি না। আমরা মনে করি, মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাপিস্তানকে ‘না’ বলবে। এ চরম হতাশার মধ্যে আপনার এ লেখাটি ক্ষীণ হলেও নিঃসন্দেহে একটি আশার আলো। সচলায়তনের প্রকৃত সচল ভাই-বোনদের উদ্যোগে সচলায়তনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বলিষ্ঠ এবং চির সচলায়মান উদ্যোগ দেখতে চাই।

- পামআলে

নাশতারান এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নোত্তর সামান্য বদলে জুড়ে দিলাম।
আচ্ছা, সচলায়তনের "প্রকৃত" সচল ভাই-বোন কারা? দেঁতো হাসি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তবে তর্কের খাতিরে বলতে চাই, ভারতের দালাল হবার চেয়ে পাপিস্তানের দালাল হওয়া কোটি গুন খারাপ।

হ, তয় পাকিস্তানের পুটু মারতে গেলে খালি ভারতের না আম্রিকা-ইংলন্ড-রাশিয়া মায় ইজ্রাইলের থিক্যা আমদানী করা রেড হেরিঙের আড়ত বইসা যায়। এইখানে তর্কের খাতির করতেও আমি আগ্রহী না।

পাকিস্তান ইজ পাকিস্তান। এন আইসোলেটেড এনটিটি টু বি ... থাক কইলাম না।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার এই লেখা পড়ে আমার একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল সেই সাথে গল্প। তখন ছাত্রজীবন ।টিউশনি করতে হয়।একটা টিউশন করতাম ।ওরা দুই বোন। তখন ছোট জন ৭ম শ্রেনীর, আর বড়জন উচ্চমাধ্যমিকের।বড় জন খুব শান্তশিষ্ট ও বইপড়ুয়া। ছোট জন দুষ্টু ও বইপড়ুয়া । কিন্তু পার্থক্য হলো, বড়জন পাকিস্থান দলের সাপোর্টার আর ছোটজন ভারতের।একদিন কথায় কথায় বড়জনের সাথে খুব তর্ক হচ্ছে আমার কারন আমি প্রশ্ন করছি ও কেন পাকিস্থান দলকে সাপোর্ট করে?। শুধু বার বার বলছে , স্যার খেলার সাথে রাজনীতি মেলাচ্ছেন কেন? ছোটজন চুপচাপ বসে আছে ও সে বুঝতে পারছে আমি আসলে কেন তর্ক করছি।এক পযার্য়ে তর্ক খুব উত্তপ্ত হয়ে উঠলো । বড় জন ১৯৫২-১৯৭১ পর্যন্ত মোটামুটি ইতিহাস জানে। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না এই জন্য যে, সে জেনে শুনে কেন এই ধরনের সাপোর্ট করবে?
যখন আমি আর পারছিলাম না তখন হঠাত করে বলে বসলাম , আচ্ছা, আমার গোষ্ঠির বা বংশের কোন ছেলে যদি তোমার বা তোমার বোনকে রেইপ করে তুমি কি কোনদিন আমার গোষ্ঠির বা বংশের কাউকে ক্ষমা করতে পারবে যত সময় ই পার হয়ে যাক না কেন?
হঠাত সবকিছু ঠান্ডা হয়ে গেল। প্রায় ১৫ দিন টিউশন যাওয়া হচ্ছে না। আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না বলে এমন একটা আঘাত করতেই হলো।১৫ দিন পর ফোন আসলো, “হ্যালো স্যার, পড়াতে আসেন আমি আর কখনো পাকিস্থান দল সাপোর্ট করবো না”।
মনটা আমার তখন অজানা আনন্দে ভরে গেল।
কিন্তু আশে পাশের হাজারো মানুষকে দেখছি পাকিস্থান প্রেমের জোয়ারে ভাসতে তাদের মধ্যে অনেকে আবার প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বলে নিজেদের জাহির করে!

------------
রাধাকান্ত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA