বখাটে ভুভুজেলা

নাশতারান এর ছবি
লিখেছেন নাশতারান (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/০৪/২০১৫ - ১০:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

♫ মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেঁটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে ♪

সময়: ৩১শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯
স্থান: টিএসসি
ঘটনা:
থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন প্রাক্কালে এক তরুণী ডজনখানেক তরুণের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হন। অনেকেই তার নাম মনে করতে পারবেন। পত্রপত্রিকায় আক্রান্তের নাম, পরিচয়, কাপড়চোপড়ের বর্ণনা, ছবি প্রকাশে সঙ্কোচ করা হয়নি তখন। যদিও সেই দশ বারোজন যুবকের নাম ধাম চেহারা কেউ দেখতে পায়নি।

ফলাফল:
আমরা জানলাম থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা খারাপ। এটা হলো অপসংস্কৃতি। মেয়েটার কাপড়চোপড় ঠিক ছিলো না। সে টিএসসিতে গেছিলো বান্ধবীর বরের সাথে। এত রাতে পরপুরুষের সাথে কেন বের হয়েছিলো সে? কেন সে শিফনের শাড়ি পরে ছিলো? নিশ্চয়ই মেয়ের চরিত্র খারাপ।

সময়: ২৬শে মার্চ, ২০১১
স্থান: ছবির হাট
ঘটনা:
বান্ধবীর সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখতে গেছিলাম। ঠেলেঠুলে যতটা সম্ভব আগানোর চেষ্টা করছি দুজনে। সামনের দিকে কোনোমতে জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়েছি। শুরু হচ্ছে হবে করে অনুষ্ঠান শুরু হতে একটু দেরিই হলো। গান আর কবিতার ছন্দে আলোর খেলা চলছে। আমরা ভিড় ঠেলে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান বোঝার চেষ্টা করছি। বারবার বাধা পড়ছে ভয়ানক বিটকেলে শব্দে। পেছন ফিরে দেখি কজন কমবয়েসি ছেলে বাঁশের বেড়ায় বসে ভুভুজেলা বাজাচ্ছে। ভীষণ মজা পাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অনুষ্ঠানে নয়, ভুভুজেলা বাজিয়ে অন্যদের মনোযোগ নষ্ট করতেই তাদের আনন্দ। কবার বিরক্ত হয়ে পরে বলে ফেললাম ওটা থামাতে। আশেপাশের কজন পুরুষ আমাদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলেন।
“বাদ দেন, বলে লাভ হবে না।”
এদিকে শুরু হলো বৃষ্টি শুরু। ফিরে আসতে চাইলাম। ছবির হাটের গেইটের কাছে একটা বটলনেক তৈরি হয়েছে। সবাই জটলা বেঁধে ঠেলাঠেলি জুড়ে দিলো। বান্ধবী আমাকে পেছন থেকে ধরে ধরে আগাচ্ছে। কোথা থেকে কী যেন হলো হঠাৎ, আমি হুমড়ি খেয়ে কাদাজলে পড়ে গেলাম। বান্ধবী পড়ল গায়ের উপর। চারদিকে অন্ধকার, ভিড়। জটলার বাইরে দাঁড়ানো এক ছেলে এগিয়ে এসে আমাদের টেনে তুলে খোলা জায়গায় নিয়ে যায়। কাকে প্রথমে তুললো মনে নেই। তাকিয়ে দেখি উসকোখুসকো দাঁড়িগোঁফে ঠাসা এক হালকাপাতলা গড়নের ছেলে। আমাদের ভিড় থেকে টেনে বের করতে করতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগল ভিড়ের উদ্দেশে। পরে জানতে পেরেছিলাম ভিড়ের সুযোগে কেউ বান্ধবীর গায়ে হাত দিতে চেষ্টা করেছিলো। ও তাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেছিলো।
সেদিনের আরেকটা ঘটনা প্রকাশিত হয় মুক্তমনায়

ফলাফল:
ছুটির দিনে বিশাল জনসমাগমে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আর শিখলাম প্রয়োগভেদে গালিগালাজ “প্রমিত” ভাষার থেকেও সভ্য হতে পারে।

সময়: ২০শে মার্চ, ২০১৫
স্থান: মহসিন হল ক্যান্টিন
ঘটনা:
পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে বাসায় ফেরার পরিকল্পনা ছিলো মেয়েটির। বান্ধবী বললো মহসিন হলের নুডুলস খাবে। বেশ। দুজনে মিলে গেল মহসিন হলে। সেখানে পৌঁছে দেখা গেল বেশ ভিড়। বসবে নাকি ফিরে যাবে এমন সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে এগোচ্ছিলো। এমন সময় একটা পুরুষকণ্ঠ বেশ গলা চড়িয়ে বলে উঠল, "আমি বুঝি না, ওদের কি ওড়না নাই? ক্যান পরে না?"
"আমাকে বললো?" বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে ভাবে মেয়েটি।

ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকালো ছেলেটির দিকে। ছেলেটিও পালটা দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো। তার নাছোড়বান্দা দৃষ্টিকে চ্যালেঞ্জ করে এক পর্যায়ে মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায় মেয়েটি। চক্ষুলজ্জা, ভব্যতার সব সীমারেখা পেরিয়ে ছেলেটি বলে, “যান যান! ছেলেদের হলে শালীনতা রক্ষা করে আসবেন।” হতভম্ব মেয়েটিকে প্রায় টানতে টানতে সেখান থেকে সরিয়ে আনে তার বান্ধবী।

ফলাফল:
একান্ত নির্জন জায়গায় ঘটনাটি ঘটেনি। অনেকেই ছিলো। অনেকেই দেখেছে। কেউ এগিয়ে আসেনি। নিজের আত্মমর্যাদা, চিন্তাভাবনা নিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী মেয়েটির আস্থা গুঁড়িয়ে যায় বখাটেদের এই দাম্ভিক আস্ফালনে আর নিজের বিবশতায়। নিজের অনুভূতি সে নিজের ব্লগে প্রকাশ করে।

সময়: ১৪ই এপ্রিল, ২০১৫
স্থান: ছবির হাট
ঘটনা:
টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটে বর্ষবরণ উৎসবে আসা কজন তরুণীর বস্ত্রহরণের চেষ্টা চালায় ৩০-৩৫ জন যুবকের এক বা একাধিক দল। আক্রান্ত নারীদের বৃত্তবন্দি করে ঘিরে তারস্বরে ভুভুজেলা বাজিয়ে চাপা দেওয়া হয় তাদের আর্তচিৎকার। সেই দৃশ্য ভিডিও করে উল্লাসে যোগ দেয় আরো কজন।

ফলাফল:
খবরে এসেছে পুলিশ কয়েক দফা লাঠিপেটা করেও থামাতে পারেনি সেই ধর্ষকাম যুবকদের। আক্রান্ত এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে আক্রান্ত হয়েছেন আরেক তরুণ। পুলিশকে গালি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ উৎসবগুলোতে ভুভুজেলাসহ উচ্চ মাত্রায় সাউন্ড সিস্টেম বাজানো নিষিদ্ধ করতে বলেছেন। পরদিন বিকেলে বিক্ষুব্ধ নারী সমাজের উদ্যোগে টিএসসিতে আয়োজিত সমাবেশের লিটন নন্দীর জবানবন্দি থেকে ঘটনার ভয়াবহতা কিছুটা ধারণা করা যায়।

২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ১৪ই এপ্রিল পয়লা বৈশাখ। থার্টি ফার্স্টের “অপসংস্কৃতিসুলভ বেলাল্লাপনা”র অজুহাত তাই এখানে আর খাটানো চলে না। যদিও সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন বলে একদল মানুষ মেয়েদের কাপড়চোপড় আর শালীনতার ধুঁয়া তুলতেই থাকবেন। খেয়াল করে দেখুন, স্থান আর অপরাধ কিন্তু একই ঘরানার। শুধু সময়গুলো ভিন্ন। এই অপরাধের নামকরণ করতে গিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে ভুগি। ইভ টিজিং নয়, ধর্ষণ নয় এমন অপরাধের জন্য পত্রিকাগুলোর প্রিয় শব্দ “শ্লীলতাহানি।” শ্লীলতা মানে ভদ্রতা, নম্রতা। সেটা নিশ্চয়ই মেয়েদের কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে লেপ্টে থাকে যেটা টেনে খুলতে পারলে অনায়াসে তার শ্লীলতায় হানি ঘটানো সম্ভব হয়। হাত দিয়ে বিবস্ত্র করতে না পারলে অন্তত দৃষ্টি দিয়ে, বাক্য দিয়ে নগ্ন করা যায় তাকে। আক্রমণকারীর ভদ্রতা, নম্রতা নিয়ে সেখানে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।

ইভ টিজিং বা শ্লীলতাহানি বলাটা কি এই উন্মত্ত উল্লাসকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করে? এই সন্ত্রাস কি শুধুই যৌনতানির্ভর?

২০১০-এর একুশে ফেব্রুয়ারির কথা মনে আছে? প্রথম আলো ও গ্রামীণ ফোনের যৌথ উদ্যোগে “দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট” নামের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা তরুণদের একটা অংশ ফেরার পথে শহীদ মিনারে উঠে গেছিলো জুতো পায়ে। শহীদ মিনার বেয়ে উঠে গেছিলো কেউ কেউ। ফুলের মালা ছিঁড়ে ছিঁড়ে উল্লাস করছিলো। যে শহীদ মিনার আমাদের অস্তিত্বের অংশ, তারও কি “শ্লীলতাহানি” হয়নি সেদিন?

গত বছর ফেসবুকে একটা ছবি পাওয়া গেল যেখানে দেখা গেল সমাবর্তনের গাউন পরা কিছু তরুণতরুণী টুপি উড়িয়ে ছবি তুলছে শহীদ মিনারে। শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ উদযাপনের দিনে শহীদ মিনারে ছবি তুলতে যাওয়া নিঃসন্দেহে দারুণ আইডিয়া। কিন্তু চোখ থমকে যায় যখন দেখি তাদের সবার পায়ে জুতো। শহীদ মিনারের বেদিতে জুতো পায়ে না ওঠার শিক্ষাটা কেউ কি দেয়নি তাদের? শহীদ মিনার কি শুধুই ছবি তোলার সুন্দর পটভূমি?

অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের শহুরে জীবনে সপরিবারে ঘুরতে যাওয়ার জায়গার খুব অভাব। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ছুটিছাটা পেলে দলে দলে মানুষ তাই বেরিয়ে পড়েন পথে। উৎসবের বাণিজ্যিকীকরণের সুবাদে একেক উৎসবে একেক রঙে বাজার গরম থাকে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে লাল-সবুজ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সাদা-কালো, পয়লা ফাল্গুনে বাসন্তী হলুদ, পয়লা বৈশাখে লাল-সাদা পোশাক পরে ঘোরা, ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করা এখন উৎসবের আবশ্যিক অংশ। দলবেঁধে ধর্ম বর্ণ বয়স লিঙ্গ নির্বিশেষে বাঙালি এক রঙের ছটায় রাঙিয়ে তুলছে নিজেদের, দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই উদযাপন কতখানি সংস্কৃতি-সম্পৃক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে যখন উপলক্ষ্যভেদে লালা-সবুজ, সাদা-কালো, লাল-সাদা, বাসন্তী থিমে পাকিস্তানি লন কিংবা ভারতীয় সিরিয়াল থেকে উঠে আসা পোশাকে বাজার সয়লাব হয়। সবাই মিলে উৎসবের একাত্মতায় মাতছে এই আনন্দে তাই বিভোর হতে পারি না।

বাহ্যত আমরা দেখি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে আমাদের জিপিএ ফাইভ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষা বাড়ছে কতটুকু? শুনেছি সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্যও নাকি গাইডবই পাওয়া যায়। গাইডবই মুখস্থ করে “সৃজনশীলতা”র পরীক্ষা দেওয়া প্রজন্ম পুরো বই পড়ার সুযোগ কি পায় আদৌ? যে মূল্যবোধ, আদবকায়দা মানুষ পরিবার আর স্কুল থেকে শেখে তার জন্য কতটুকু সময় আর চেষ্টা বরাদ্দ থাকে এখন? শুধুমাত্র কিছু একটা করে খাওয়া যে শিক্ষার উদ্দেশ্য সে শিক্ষা কি আত্মিক উন্নতি নিয়ে ভাবতে শেখায় আমাদের? শিক্ষা, সংস্কৃতিকে শুধু শরীরে ধারণ করলে, ভেতরের বোধের অংশ করে তুলতে না পারলে উৎসবকেও তারা গিলে খেতে চাইবে এটাই তো স্বাভাবিক। বাণিজ্যিক প্রচারণা উৎসববিশেষে রঙ বেঁধে দিয়ে উদযাপনের একটা পথ দেখিয়ে দেয়। আমরা আনন্দ-উন্মুক হই। কিন্তু আনন্দ উদযাপনের দিশা খুঁজে পাই না। উৎসবের উৎস, সংস্কৃতির শেকড়টুকুতে শুরু থেকেই জল-সারের আকাল থাকায় উৎসব শরীরে যতটুকু জায়গা করে নিতে পারে, আত্মায় ততটুকু ঠাঁই জোটে না তার। উৎসবের এই বাণিজ্যিক প্রচেষ্টা বিশেষ উপলক্ষ্যের সাথে এক বিছানায় তুলে দেয় আমাদের। ভালোবাসাহীন সংসর্গ তখন ধর্ষণে রূপ নেয়।

অন্যদিকে আমাদের জীবনের আনাচেকানাচে মৌলবাদের ছায়া এত গভীরে বিস্তৃত হয়েছে যে তার অন্ধকারকে আর অস্বীকার করার উপায় নেই এখন। মৌলবাদের খড়্গ বরাবরই আবহমান বাংলার সংস্কৃতির ঘাড়ে লটকানো। আর মৌলবাদের অবধারিত লক্ষ্য নারী। মৌলবাদ বাঙালি নারীর শাড়িকে অস্বীকার করে, তার কপালের টিপকে অস্বীকার করে, উৎসবে তার সরব উপস্থিতিকে অস্বীকার করে। চেতনার মূলে মূল্যবোধের বীজ প্রোথিত না হলে, ভাবনার আলোহাওয়া চলাচলের আবহ না থাকলে মৌলবাদের ডালপালা সহজে পথ খুঁজে নেয় সেখানে। শাড়ি পরা বঙ্গললনা তখন আর সার্বজনীন উৎসবের সহজাত অংশ থাকে না, কাপড়ে মোড়া এক টুকরো মাংসপিণ্ড হয়ে ধরা দেয় হায়েনার চোখে। শহীদ মিনার তখন ভাষার লড়াইয়ের মূর্ত প্রতীক থাকে না, ইট-কাঠ-পাথরের খেলনা হয়ে ওঠে অর্বাচীন প্রজন্মের কাছে।

উপরের ঘটনাগুলোর কালক্রম দেখলেই বোঝা যায় ঘটনাগুলো আমাদের সমাজে খুব নতুন কিছু নয়। যেই টিএসসিতে একের পর এক যৌন সন্ত্রাস হয়েছে, হয়ে চলেছে, সেখানেই কিন্তু চাপাতির আঘাতে খুন হয়েছেন অভিজিৎ রায়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পবিত্রভূমিতে এমন নৃশংস অপরাধ ঘটেছে ভেবে শিউরে উঠেছি, সেই পবিত্রতা যে নিছক কষ্টকল্পনা, বিষবৃক্ষ যে বেশ প্রাচীন তা স্বীকার করতে হয়ত অনীহা আমাদের। ফিডব্যাকের “মেলায় যাইরে” গানের মতো দুষ্টুমিষ্টি ভঙ্গিতে পাশ কাটিয়ে রসেবশে থাকতে ভালোবাসি আমরা। সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত "মর্যাদা" রক্ষার্থে ধর্ষণ, যৌন হয়রানির মতো অপরাধকে চেপে রাখার প্রবণতার মতো বিশ্ববিদ্যালয় ও টিএসসির "ঐতিহ্য" ও "পবিত্রতা" রক্ষা করতে আমরা লাগাতার পদস্খলনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিণ্ণ ঘটনা ভেবে অস্বীকার করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চালিয়ে যাই। উদাসীনতা দিয়ে যতদিন এই সাংস্কৃতিক সন্ত্রাস জিইয়ে রাখা হবে ততদিন উৎসবে এক শ্রেণির মানুষ ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো বেরিয়ে পড়বে আনন্দের সন্ধানে। এদের কাছে থার্টি ফার্স্ট নাইট, স্বাধীনতা দিবস, নববর্ষ, বইমেলা সবই শিকারের উৎসব। ভিড়ের অজুহাতে এরা শরীর ছুঁয়ে দেবে, আঁচল খুলে নেবে। মহসিন হলে যে যুবকের দল ক্যাম্পাসের মেয়েকে শালীনতার শিক্ষা দিতে এগিয়ে আসে ভিড়ের সুযোগে সে-ই হয়ত মেয়েটিকে বিবস্ত্র করতে উদ্যত হবে। আর বারেবারে বিবস্ত্র হবো, রক্তাক্ত হবো আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, ছবির হাট প্রাঙ্গন আমাদের তারুণ্যের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। সেখানে প্রকাশ্যে একের পর এক এহেন নীচতার পরে রেখেঢেকে লজ্জানিবারণের পথ কিন্তু আর নেই। যাকে বলে একদম ডেড এন্ডে পৌঁছে গেছি। মাথা কেটে মাথাব্যথা সারানোর অভ্যাসবশত হয়ত উৎসবে মেয়েদের অংশগ্রহণ আরো সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হবে। হায়েনাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে উৎসবের সন্ধ্যা। এভাবে নিগূঢ় অন্ধকারের দিকে পায়ে পায়ে এগোতে থাকব আমরা। এই ঘটনাপ্রবাহকে বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা ভাবাটা খুব অনুচিত নয়। নারীকে দেয়ালবন্দি করা, দৃশ্যপট থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া মৌলবাদের প্রাচীন কৌশল। একজন নারী হিসেবে, স্বাধীনতার চেতনার ধারক ও বাহক হিসেবে এই ঘটনা পরম্পরা নিশ্চয়ই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আলোড়িত করে। যতদিন না আমাদের মূল্যবোধের শূন্যস্থান পূরণ হচ্ছে, ততদিন কঠোর আইনের সুনিশ্চিত প্রয়োগ ভীষণ প্রয়োজন আমাদের। তা না হলে বখাটেদের ভিড়ে শুধু ললনাদের না, আমাদের কারুরই রেহাই থাকবে না। গোটা দেশকেই গিলে খাবে গভীর অন্ধকার।


মন্তব্য

শান্ত এর ছবি

এসব কথা বলা বারণ। এসব লিখা উচিত না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের মেরুদণ্ড শক্ত না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এগুলো চলবেই। মাঝে মধ্যে মনে হয় এই দেশের কি আদৌ কোন ভবিষ্যত আছে? হতাশ হতাশ।

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

নাশতারান এর ছবি

মেরুদণ্ড তো ছোট থাকতেই শক্ত করতে হয়। বুড়ো হাড় কি আর বাঁকানো যায় নাকি? গোড়ায় গলদ রেখে আগায় পানি দিলে তো হবে না।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

মরুদ্যান এর ছবি

মন খারাপ

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

তানিম এহসান এর ছবি

মন খারাপ

অতিথি লেখক এর ছবি

এই ঘটনাগুলো শুনি আর সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতে ইচ্ছা করে। অক্ষম ক্রোধে নিজে নিজেই ফুসতে থাকি। মন খারাপ

নাশতারান এর ছবি

ধ্বংস করতে হবে না। এমনিই ধ্বংস হচ্ছে সব। মন খারাপ

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এইদেশের পুরুষদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই নারীবিদ্বেষী। তারা সম্পত্তিতে নারীদের সমধিকারের বিরোধী, নারী শিক্ষা ও নারীদের ক্ষমতায়নের বিরোধী। এরা স্পষ্ট, এদেরকে চেনা যায়।
এদের বাইরে আরেকটা অংশ পোষাক আশাকে চেহারায় আধুনিক, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্তু চরম নারী বিদ্বেষী- নারীদের প্রতি সুযোগমতো সহিংস।
সব মিলে এদেশের পু্রুষদের কতোটা অংশ আসলে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আন্তরিকভাবে?

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

নাশতারান এর ছবি

সত্যি কথা বলতে, গড়পরতা বাঙালি পুরুষদের ব্যাপারে কখনোই খুব একটা উচ্চাশা পোষণ করতাম না আগে। পরিবার থেকেই যেখানে একটা ছেলেকে পুরুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়, প্রশ্রয় দেওয়া হয়, সেখানে যেচে পড়ে কেউ নারীবান্ধব হবে এমনটা আশা করা অবান্তর। আমার চিন্তাভাবনা বরং বদলে দিয়েছে বেশ কিছু পুরুষ যারা আন্তরিকভাবেই নারীদের মানুষ ভাবেন, বন্ধু ভাবতে পারেন। এদের ভাবনার গঠনপ্রক্রিয়ায় পারিবারিক শিক্ষার থেকে ব্যক্তিগত বুদ্ধিমত্তা আর আত্মোন্নয়নের চেষ্টা দেখি আমি। ফেসবুক আর ব্লগের যুগে তথ্যপ্রবাহ অনেক মসৃণ। ছেলেরা মেয়েরা এক প্ল্যাটফর্মে এসে আলাপ করছে, বন্ধু হচ্ছে। এর ইতিবাচক ফল ব্যক্তিজীবনে দেখতে পাই। এদের সংখ্যা কম হয়ত। কিন্তু এরা আছেন এটাই আশার কথা। তার মানে চাইলে নারী পুরুষের সহাবস্থানের স্বাস্থ্যসম্মত সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব। চেষ্টার অভাবে, নিতান্ত অবহেলায় কিংবা সচেষ্ট মৌলবাদী প্রচেষ্টা আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যাটা সনাক্ত করে সেটা নিয়ে কাজ করা খুব জরুরি। সরকারি উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা দরকার। পাঠ্যপুস্তকে জেন্ডার সমতার ব্যাপারটা আনা দরকার। আর স্কুলে স্কুলে মেয়েদের সেলফ ডিফেন্স শেখানো বাধ্যতামূলক করা দরকার। সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সচেতন বিপ্লব ছাড়া নিজেদের ধ্বংস ঠেকাতে পারব না আমরা।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

আয়নামতি এর ছবি

চলুক

শিশিরকণা এর ছবি

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন কেবল কারিকুলাম দিয়ে হবে না। শিক্ষাব্যবস্থাইয় কি শিখবে তার অনেকটাই নির্ভর করবে শিক্ষকদের উপর। আমরা অনেক ভালো শিক্ষকদের পেয়েছি। কিন্তু কয়টা প্রতিষ্ঠানে তেমন শিক্ষক আছেন?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রচন্ড খারাপ লাগল প্রতিটা ঘটনাতেই।

রাসিক রেজা নাহিয়েন

সবজান্তা এর ছবি

মানুষের কদর্যতা দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে রেখেছি,তাই এই খবরটা পেতে কিছুটা দেরি হয়েছিলো। প্রথম সারির মিডিয়ার মধ্যে বিডিনিউজই একমাত্র শুরুতে খবরটা ছেপেছিলো। এ বাদে তথাকথিত প্রথমসারির দৈনিকগুলি মোটামুটি নিরবই ছিলো। আজ লিটন নন্দীর বক্তৃতাটা দেখলাম- আমি ঠিক জানি না, কোন শব্দই যথেষ্ট কিনা এই ক্রোধকে প্রকাশ করার জন্য। বক্তৃতা দেখে আবার অনলাইন পত্রিকা খুঁজলাম- কিছু নাম না জানা অনলাইন পোর্টালে লিটন নন্দীর বক্তব্যটাই শুধু কোট করে নিউজ করেছে। প্রথমসারির এই দৈনিকগুলিতে নন্দীর বক্তব্যের সঙ্গে শুধু প্রক্টর আর ভিসির দায়সারা বক্তব্য যোগ করেছে।

আমরা কেউ কি বুঝতে পারছি না যে, আমরা কোন তলানিতে পৌছে গেছি? ঘন্টা দুয়েকের উপরে, একাধিক স্পটে, পরিকল্পনামাফিক নারীদের অত্যাচার করা হয়েছে, এই তার প্রতিক্রিয়া? এপ্রিল মাসের কালবৈশাখীর মতোই উৎসবের ভীড়ে নারী নির্যাতন যেন একটা স্বাভাবিক ঘটনা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, এমনকী নাগরিক যে প্রতিক্রিয়া দেখলাম, তীব্র হতাশ হওয়া ছাড়া আমরা কী করতে পারি? আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এই দেশে কোনো সত্যিকারের বিরোধীদল নেই, যারা এরকম মুহূর্তে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জিডিপির ঢেকুর যতোই তুলি না কেন, ভিতরে ভিতরে আমাদের পুরোটাই ক্ষয়ে গেছে- শুধু কোনো এক মুহূর্তে পুরোটা ভেঙ্গে পড়ার অপেক্ষা। নিরাশাবাদী বলে গালি দিতে পারেন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি জাতি হিসেবে আমরা ধ্বংস হয়ে গেছি। বিচারের আশা করি না- দাবিও জানাই না... এইসব মন্তব্যও আসলে অর্থহীন-অক্ষম ক্রোধ।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখার একটা পয়েন্টকে আমি সজোরে সহমত জানাচ্ছি---বাংলাদেশে, আর সম্ভবত ঢাকায়, এই সমস্যা অনেক পুরোনো। আমার পরিবারে কোনো বোন থাকায় এই জঘন্য ব্যাপারটা নিয়ে তেমন জানতাম না (বা শুনেও হয়ত তেমন গুরুত্ব দেই নি, কে জানে)। বিয়ের পরে, আমার স্ত্রীর কাছে এগুলো নিয়ে শুনে খুবই বেদনাহত হয়েছি। তিনি ঢাকা ভার্সিটি এরিয়াতেই থাকতেন, আর খুব ছোট অবস্থাতেই একুশের বইমেলায় গিয়ে ঠিক একই ধরনের এক দল লোকের খপ্পরে পড়েন। যে বয়স্ক আত্মীয়া তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তারও একই দশা হয়। দলবল বেঁধে খুব দ্রুত গায়ে বিভিন্নভাবে হাত দিয়ে চট করে সরে পড়ে, এমনভাবে ঘিরে ধরে যে আপনি সরে যাওয়ার জায়গাও ‌তেমন পাবেননা। এটা প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। এরপর থেকে ভুলেও তিনি বিকেলে ছুটির দিনে বইমেলায় পা বাড়াননি, সবসময় হিসেব করে ঠিক দুপুরবেলা যেতেন।

এই ধরনের লোকদের আরেকটা প্রিয় জায়গা ছিলো গাউছিয়া, সেই একইভাবে ভিড়ের সুযোগ নেওয়া। গাউছিয়ায় বাজার করতে গেছেন কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে লুকিয়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করেনি, সেটা খুব কমই ঘটত।

টিএসসিতে যে ঘটনা ঘটল, সেটার পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য কিছু শর্ট টার্ম পদ্ধতি ভাবা দরকার এখনই। বিদেশে অনেক ভার্সিটিতে নিজস্ব পুলিশ বাহিনী দেখেছি, ঢাবিতেও সেটা কাজে দেবে কিনা সেটা ভাবা দরকার। আর ছাত্র ইউনিয়ন বা সমমনা দলগুলি বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে পুরো ঢাবি এলাকা নজরে রাখতে পারেন, যাতে দেখা মাত্র দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া সম্ভব হয়।

----যান্ত্রিক বাঙালি

আয়নামতি এর ছবি

টিএসসি'র মত জায়গাতে পুলিশের উপস্হিতিতেই যেখানে খুনের মত জঘন্য ঘটনা ঘটে যায়, সেখানে নারীর নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব কিংবা পরস্ব যেকোন পুলিশি ব্যবস্হাই নেয়া হোক না কেন কাজের কাজ কিছুই হবে না।
যতক্ষণ পর্যন্ত না এধরণের অসুস্হ মানুষেরা নিজেই নিজেকে পরিশুদ্ধের জন্য সচেতন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এমন ঘটনা যে কোনো নারী/মেয়ে/মহিলা কে সহ্য করতে হবে। স্কুল পাঠ্যসূচীর গার্হস্হ্য বিজ্ঞানের মত আজাইরা বিষয় বাদ দিয়ে বরং আজকের বাংলাদেশে প্রত্যেকটা মেয়ের জন্য সেলফ ডিফেন্স শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। টিট ফর ট্যাট্

অতিথি লেখক এর ছবি

এটা একটা কাজের কথা বলেছেন, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান থেকে সেলফ ডিফেন্স শেখা জরুরী। সেই সাথে আরেকটা জিনিস মনে হয় বাংলাদেশে চালু করা জরুরী হয়ে পড়েছে, পেপার-স্প্রে। বাইরে দেখি, যারা রাতবিরেতে একা একা চলাফেরা করেন, তাদের অনেকেই পার্সে বা কোমরে ছোট একটা পেপার-স্প্রে ক্যান বহন করেন। বেশ কার্যকরী। অনেকগুলোতে অমোচনীয় কালিও থাকে, একবার মুখে স্প্রে করলে সেই রং ধুয়েও দুদিনের আগে ওঠানো যায় না।

অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠবেন সবাই, সেটা হওয়ার সম্ভাবনা কম, যেখানে আমেরিকার বা ইউরোপের বড় বড় , প্রগ্রেসিভ শহরগুলিতেও এখনো এদের দেখা যায়। সকলের শিক্ষা-দীক্ষা অনেক লম্বা প্রক্রিয়া তবে সেটাই সবথেকে কাজের, সন্দেহ নেই।

আর পুলিশ বা নজরদারী বাড়িয়ে এধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমানো যায়। পাড়ার যে বুড়ো পাহারাদার রাতে টহল দেয়, ২জন মুশকো ডাকাত তাকে ৫ মিনিটেই কাবু করতে পারে, কিন্তু তারপরও চট করে কেউ কিছু করার আগে ২ বার ভাববে, বিশেষ করে ছিঁচকেরা। আর আমাদের দেশে যেখানে অনেক নিরীহ চেহারা প্রৌঢ়রাও সুযোগ পেলে দাঁত নখ বের করে ফেলেন, তাদের জন্য নজরদারী কার্যকর হওয়ার কথা।

--------যান্ত্রিক বাঙালি

মাসুদ সজীব এর ছবি

বাঙালির ’বাঙালপণায়’ এখন আর নিজের নিরাশার কথা লেখতে ইচ্ছে করে না। তার নষ্ট রাজনীতি, ভন্ডামিতে ভরা আদর্শের ঝুলি, ধর্মের নামে বৈধ সন্ত্রাসী আর ভেতরে ভেতরে কু-কামনা বাসনার প্রবৃত্তি... এগুলো দেখলে মগজে আর মননে কতগুলো আবর্জনার স্তুপ জমতে থাকে আর ঘৃনা জন্মাতে থাকে অর্ধ বর্বর এই জাতিটার উপরে। মুসলমানদের সমাজ চিরকালই বর্বরচিত হয়, বাংলাদেশ সে থেকে বিন্দুমাত্র আলাদা নয়। ৯০ ভাগ মুসলমানদের ধার্মিকতায় ভরা দেশে ৯০ ভাগ পুরুষই চিন্তা-চেতনা আর দৃষ্টিতে একজন ধর্ষক আর নারী বিদ্বেষী এখানে। নারী শুধু ’ভোগ্যপণ্য’ এর বাহিরে তার কোন মূল্যায়ন নেই এদেশের পুরুষের কাছে। যতবার কোন নারী (বোন-বান্ধবী-প্রেমিকা-বউ) নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি প্রতিটি আস্তিক বাঙালি চোখের সন্ত্রাস থেকে তাদের মুক্তি দিতে পারিনি। ভাগ্যিস অন্যের মনের ভাষা মানুষ শুনতে পায়না, না হলে যে করুচিপূর্ন দৃষ্টিতে এদেশের পুরুষ নারীকে দেখে, তা দেখতে ফেলে প্রতিটি নারীর ঝুলে পড়ার কথা সিলিং ফ্যানে।

একজন মানুষ কতটা আধুনিক তা বুঝার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ‘নারীর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন সেটি যাচাই’। আর এ পদ্ধতিতে যাচাই করলে দেখা যাবে বাঙালির বেশিভাগ পুরুষই অনাধুনিক, আদিম আর অসভ্য। বাঙালি এখন ক্ষয়িত এক জাতি, যার অধ:পতনের শুরুটা এখন আমরা দেখছি মাত্র। না এগুলো কোন হাতশার কথা নয়, এটাই বাস্তবতা। মুক্তজ্ঞান চর্চা, মানবিকতা, শিষ্টাচার, নম্রতা, ভদ্রতা, পারস্পরিক সম্মানবোধ না থাকলে সে জাতি আর মানুষ জাতি থাকে না। হয়ে যায় ফানুস জাতি। আর ফানুসের স্থায়িত্ব কম। ফানুসের মেলায় মানুষের জন্যে বিচার চাই না...তবু এইযে লিখে যাই সেটি অন্ধ ক্রোধে, অক্ষমতার আক্রোশে আর বাঙালি হিসেবে নিজের জন্মের পাপ মোচন করতে। আর বলি চলুক যেভাবে চলছে সবাই নষ্টের করতলে....

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

অতিথি লেখক এর ছবি

মুসলমানদের সমাজ চিরকালই বর্বরচিত হয়, বাংলাদেশ সে থেকে বিন্দুমাত্র আলাদা নয়। ৯০ ভাগ মুসলমানদের ধার্মিকতায় ভরা দেশে ৯০ ভাগ পুরুষই চিন্তা-চেতনা আর দৃষ্টিতে একজন ধর্ষক আর নারী বিদ্বেষী এখানে।

???!!!

আপনার এই স্হুল, প্রবল-সাম্প্রদায়িক ইঙ্গিতপূর্ণ কথাগুলোর প্রতিবাদ জানালাম। এই কথাগুলোয় মুসলমান সরিয়ে অন্য ধর্মের নাম বসালে যা হয়, সেটা অহরহই শুনতাম দেশে থাকতে, রেসিস্ট আর বিগোট দের মুখে, শুনে মনে মনে কুঁকড়ে যেতাম। সেই একই ধরনের কুৎসিৎ বক্তব্য সচলায়তনে শোনাটা দুঃখজনক।

----যান্ত্রিক বাঙালি

মাসুদ সজীব এর ছবি

মন্তব্য স্থুল আর সাম্প্রদায়িক ইঙ্গিতপূর্ণ মনে হলে আপনার কাছে দু:খ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু বলার নেই। আমি ভুল না আপনি সঠিক সে আলোচনায় যেতে আগ্রহী নই। ভালোথাকুন।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

বন্দনা এর ছবি

আমরা মেয়েরা যাই পরিনা কেনো তাতেই এরা খুঁত বের করবে, জিনশ ফতুয়া, কামিজ-সালোয়ার কিংবা শাড়ী। আমাদেরকে পিছাতে পিছাতে কোন-ঠাসা করে ফেলে বোরখা পরতে বাধ্য করবে, ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিবে এই দিন যেন আমাদের না দেখতে হয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সাইদ এর ছবি

একটা কথা এখন ছড়ানো হচ্ছে যে এগুলো বহিরাগতরা করেছেন। কিন্তু আমি যদ্দুর খবর জেনেছি যে এগুলো নাকি বিশ্ববিদ্যালইয়ের ছাত্ররাই করেছে এবং এদেরকে নাকি অনেকেই চিনে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

শিক্ষার শুরুটা যদি পরিবার থেকে ধরি তাহলে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অবমাননা, অশ্রদ্ধা ইত্যাদি ঋণাত্বক ধারণা ও বিশ্বাস শেখানোটা ঐখান থেকেই শুরু হয়। না বুঝে বা এটাকেই সত্য জেনে পরিবারের নারী সদস্যরাও ছোটদের অমন শিক্ষাটা দেন। এই শিক্ষা আরো শক্তপোক্ত হয় শিক্ষায়তনগুলোতে। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ঘটনায় আমাদের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের যে সব মহান বাণী দিয়েছিলেন সেগুলো মনে করলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে। এভাবে রাস্তাঘাটে, ঘরেবাইরে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তা নারীবিদ্বেষী, নারীর প্রতি অবমাননাকর মনোভাবাপন্ন পুরুষ গড়ে তুলছে।

এবং একই শিক্ষা একজন নারীকে ভীত, সঙ্কুচিত, সীমাবদ্ধ আশা ও স্বপ্নের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। নোংরা কথা শোনা, নোংরা ব্যবহার পাওয়া, প্রহৃত-লাঞ্ছিত-ধর্ষিত হওয়া, বঞ্চিত হওয়া-প্রবঞ্চিত হওয়া, কম পারিশ্রমিক পাওয়া, পদোন্নতি না পাওয়া, ইচ্ছেমত বিষয় পড়তে না পারা, ইচ্ছেমত কাজ করতে না পারা এগুলোকে সে নির্বন্ধ বলে ভাবতে শেখে, বিশ্বাস করতে শেখে।

নারী ও পুরুষের এই শিক্ষা এবং চিন্তার পার্থক্য পুরুষকে আগ্রাসী, আক্রমণাত্মক ও পাশবিক করে তোলে। যেহেতু সমাজ তাকে এই শিক্ষা দিয়েছে তাই তার অ্যাক্টিভিটিকে সমর্থন করা ও তাকে প্রটেকশন দেয়ার কাজটাও সমাজই করে দেয়। সে জানে, ধর্ষণ করলে এমনকি হত্যা করলেও তার শাস্তি হবার সম্ভাবনা খুব কম। এরচেয়ে ছোট মাত্রার অপরাধে সমাজ ভিকটিম নারীটিকেই দায়ী করার ব্যবস্থাটি করে রেখেছে।

আমরা অন্ধকারের দিকে যাত্রা করছি না, আমরা অনেক আগে থেকেই গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নাশতারান এর ছবি

কথাগুলো বলার জন্য ধন্যবাদ, পাণ্ডবদা। হ্যাঁ, আমরা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

এদেশের প্রায় সব মেয়েরই বোধহয় এমন ঘটনায় কান্নার ইতিহাস আছে, ভীষণ একাকীত্ব আর অসহায়ত্ব থাকে সে কান্নায়। রাস্তাঘাটে একলা একা চলতে ফিরতে মেয়েরা অসংখ্যবার এমন বিভৎসতার শিকার হয়, হতে থাকে। তবু আমাদেরও তো ইচ্ছে করে বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস থেকে শুরু করে যে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে। মাঝেমাঝে মনে হয়-এই ইচ্ছে হওয়াটা বুঝি অনধিকার চর্চা-আমি একজন নারী, একজন মেয়েমানুষ-আমার বয়স থাকতে নেই, যে কোনও বয়সেই আমি নারী, সে বয়স চার মাস নাকি বাহাত্তর বছর, তা ধর্তব্য নয়। আমি একজন নারী-আমার পাবলিক বাসে উঠতে নেই, ‘শালীন কাপড়’ না পরে রাস্তায় বেরোতে নেই, কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নেই। আমার প্রতি মুহূর্ত নিজেকে বলতে থাকা উচিৎ-প্রিয় নারী, তুমি তো মানুষ নও, মানুষ যা করে, তুমি তা করতে চাইবেই বা কেন?

অনেক মেয়ের কান্না শুনেছি আমি, মুখে এটা বলা সহজ যে-তোমার গায়ে হাত দিলে তুমিও একটা চড় মেরে বসো; করাটা মোটেই সহজ নয়। কারণ চড়টা মারার পর যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে মেয়েটার জন্য, তা ধর্ষিতা হবার প্রমাণ দিতে মেয়েদের যেমন হয়রানির শিকার হতে হয়, তেমনই অসম্মানজনক। একটা পুরুষের পাশে দাঁড়িয়ে যায় সমস্ত পুরুষ সমাজ, একলা নারী আরও বেশি একলা হয়ে পড়ে। আর যে ঘটনাগুলোর কথা বলা হলো, একটা ঘটনায়ও মেয়েদের ঘুরে কিছু করার থাকে কি?

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিভাগের মাস্টার্স ট্যুর থেকে এসে মেয়েরা গল্প করতে করতে কেঁদে ফেলেছিল-ছয় বছর যাদের সাথে পড়ালেখা করেছে, নোটস শেয়ার করেছে, অসংখ্য অনুষ্ঠান করেছে, সেই ‘বন্ধুরাই’ ট্যুরে তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছিল সেই গল্প।

অতিথি লেখক এর ছবি

মেয়ে, তুমি ইচ্ছেমতন সাজো
কাজলে সাজাও চোখ, লাল টিপে
কপাল রাঙাও।
লালপেড়ে সাদা শাড়ি- তোমার পছন্দ
হলে পরো, না হয় নীলরঙা জিনস
অথবা অন্য কোনও রঙ।
তোমার ইচ্ছে হলে সকাল, দুপুর
আর সন্ধ্যার ভুলে যাও সীমারেখা
একটাই দাঁড়ি টানো-
তুমিও বাঁচতে থাক উচ্ছাসে উল্লাসে
বৈশাখ-ফাল্গুন আর স্বাধীনতা উৎসবে
যতখানি মন টানে।
মেয়ে, তুমি নাইবা থাকলে আর
সরলা অবলা জীব,
আকাশকাঁপানো ঝঞ্ঝা বরং হও-
বৃষ্টিবিহীন বৈশাখি ঝড় হও-
মেয়ে, তুমি ইচ্ছেমতন বাঁচো।

দেবদ্যুতি

রানা মেহের এর ছবি

নোংরা মানুষ পৃথিবীর সব জায়গায় ছিল থাকবে।
বাংলাদেশে এই নোংরা লোকগুলো বাড়তি দুটো সুবিধা পায়।

এক, সবকিছু ধর্মের নামে হালাল করার ধারাবাহিকতা।
দুই, ফৌজদারি অপরাধ করে আইনের হাত থেকে পার পেয়ে যাওয়া। জগ্ননাথ হ্লের ছেলেটাকে শুনলাম বহিষ্কার করা হয়েছে, খুব ভাল কথা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কী নেয়া হয়েছে কিছু বলা নেই।

এই দুটো জিনিস যতদিন থাকবে, এইসব অন্যায় বন্ধ হবার কোন সম্ভাবনা দেখিনা।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

মরুদ্যান এর ছবি

বহিষ্কার টা হচ্ছে আই ওয়াশ, আওয়ামি লীগের নাম কে পরিস্কার রাখার ব্যর্থ চেষ্টা।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

নাশতারান এর ছবি

আরেকটা ব্যাপার আছে। মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় ছাড়। ছেলেদের সব ব্যাপারে ছাড় দিয়ে দিয়ে পুরুষ করে তোলে আমাদের সমাজ। ভাবনাচিন্তায় বিকশিত না হওয়ায় শরীর ছাড়া তার আর কিছুই থাকে না। শরীরটাই তখন পৌরুষের একমাত্র চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আগে ভাবতাম সমস্যাটা মনে হয় দেশের কূপমন্ডুল বাংগালির মাঝেই আছে। মনে করতাম, এটা ফ্রাস্টেটেড তরুণ সমাজের 'আংগুর ফল টক' জাতীয় সেন্টিমেন্টের প্রকাশ, আশে পাশে হঠাত এত মেয়ে দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারে না, আর তাই বইমেলা, পহেলা বৈশাখ, ফাল্গুনের দিনগুলোতে এদের লোভ লালসা চামড়া ঠেলে বেড়িয়ে আসে। ভাবতাম, বাংলাদেশের মত কনসারভেটিভ দেশে বাস করেই এদের এই নোংরামি। বিদেশে থাকলে মনে হয় এই নোংরামি বেরোনোর পথ পেতো না। কয়েক বছর আগে লন্ডনের বৈশাখি মেলায় ভুলটা ভাংলো। লন্ডনে বেড়াতে এসে বউয়ের উতসাহে মেলায় যাওয়া, কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম সেই উতসাহ মিইয়ে গিয়ে বারবার বলছে চলে আসার জন্য। জিগ্যেস করতেই শুনলাম, ভীড়ের মাঝে একটু পর পরই তার গাউসিয়ার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সেদিনই বুঝলাম, ঢেঁকি যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, বাংগালি পুরুষও স্বর্গে গেলেও নোংরামো থেকে মুক্ত হবে না। আজকাল নিজের উপরই ঘেন্না ধরে যায়, মানুষ হিসেবে আমরা কতটা অসভ্য তাই ভেবে। নাস্তিক আস্তিক বিতর্ক, রাজাকারের ফাঁসি, ইদানিংকালের কর্পোরেট উতসব, অনেক কিছুই শেখাচ্ছে নিজেকে, নতুন করে চিনছি নিজেকে, জানি না, আমরা আসলেই কোনদিন মানুষ হব কিনা! মন খারাপ

মফিজ

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

কী বলবো বুঝে পাই না। ইতরের কুকর্মের চেয়ে আশেপাশের মানুষের নির্লিপ্ততা হতাশ করে বেশি।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা এর ছবি

গুরু গুরু
হয়ত সন্ধ্যার পর চলার উপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আসবে।
কিন্তু দিনশেষে পুরুষমানুষ থেকে মানুষ হওয়ার কথা বলা হবে না।
ঝর ধেয়ে আসছে খুব দ্রুত,পুর্বাবাস অনেকদিন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যাবে।তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেতে গেলেও রেহাই পাওয়া যাবে না।

আয়নামতি এর ছবি

এটা অফ্লাইনে পড়েছি রাতে। অসম্ভব শক্তিশালী একটা লেখা বুনোদি!
এই লেখাটা যদি সেইসব পশুদের একজনও পড়ে তবে লজ্জা পেতে বাধ্য। অবশ্য তাদের শুধু লজ্জায় কি আসে যায়।
মানুষ হিসেবে হাত পা থাকলেই হয় না, তার ব্যবহারটা মঙ্গলময় হতে হয় এই শিক্ষাটা যদি এইসব পাপীগুলোর মগজে হাতুড়ি
মেরে মেরে খুঁদে দেয়া যেত!

নাশতারান এর ছবি

শিক্ষা ব্যাপারটা দীর্ঘ চর্চা, সাধনার ব্যাপার। কাগুজে শিক্ষা না, যে শিক্ষা রক্তমাংসের মানুষকে চিন্তায় উৎকর্ষ দেয় সেই শিক্ষার কথা বলছি। সেই শিক্ষা যে এই পশুগুলোর নেই সেটা বলাবাহুল্য। সেই শিক্ষা ছাড়া এদের মনে লজ্জা জাগানো অসম্ভব। এদের জন্য শিক্ষার হাতুড়ি নয়, বরং আইনের হাতুড়ি বেশি কাজে দেবে। এরা তো নষ্ট হয়েই গেছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ অন্তত এদের নষ্টামির রাশ টেনে ধরতে পারলে পঙ্কিলতা কিছুটা কমবে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

আয়নামতি এর ছবি

চলুক
------
ডাকাত মানেই তো পিলে চমকে দেবার মত নষ্ট মানুষ। সেই ডাকাতও কেমন আচরণ করতে জানেন সময় বিশেষে।
এই
ঘটনাটা মনে কেন জানি দাগ কেটেছিল।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

ভুভুজেলা শিরোনামে একটা লেখা শুরু করেছিলাম। লেখাটা শেষ হলো না। অফিসিয়াল প্রোগ্রামে ব্যস্ত থাকায় টের পাইনি কি হচ্ছে আঁধারে, আপনার পোস্ট পড়ে সব রঙ হারিয়ে গেল। আমরা যখন আনন্দ করি চোখ বন্ধ করে আনন্দ করি। ধিক্ নিজেকে।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

নাশতারান এর ছবি

লেখাটা শেষ করুন। এই অন্ধকার অল্পে সরবে না। ভাবনাটুকু লিখে রাখুন।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ফিডব্যাকের গানের এই লাইনটা খুবই আপত্তিকর: "ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই"। আমার মনে হয় ফিডব্যাকের উচিৎ লাইনটা বদলে গানটা পুনঃপ্রকাশ করা।

নাশতারান এর ছবি

আপত্তিকর বলেই দিয়েছি। পুরুষের অপরাধকে সস্নেহ প্রশ্রয় দিয়ে পেলেপুষে রাখার সংস্কৃতি আমাদের অনেক পুরোনো। "চুমকি চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে?" তো সাদাকালো যুগের গান। একলা মেয়েকে ভালো লাগল আর পিছু নিলাম, প্রেমের নামে এই গুন্ডামিকে সিরায় ডুবিয়ে গেয়েছি আমরা। ব্যাপারগুলো এত সহজভাবে মিশে আছে আমাদের সংস্কৃতিতে যে এগুলোর দিকে আঙুল তোলার তাগাদাও অনুভব করি না আমরা। ফিডব্যাক তাদের গানের বখাটে লাইন নিয়ে এখন কী বলবে জানতে ইচ্ছা করে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

লেখালেখি চলুক। যেহেতু আমরা এর চেয়ে বেশি কিছুই করতে পারছি না আর মন খারাপ

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নাশতারান এর ছবি

লিখেই বা কী হচ্ছে জানি না। নিজের অক্ষম অস্থিরতা উপচে পড়ে কীবোর্ডে। যারা বোঝেন তারাই পড়েন। তারা, আমরা লেখা আর পড়ার বাইরে আর কিছু করতে না পারলে এই লেখালেখি অর্থহীন।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

চরম উদাস এর ছবি

কি আর কমু, দীর্ঘশ্বাস খালি

এক লহমা এর ছবি

দুঃখ লাগে। ষষ্ঠ পাণ্ডব-এর কথাটাই বলি, "আমরা অন্ধকারের দিকে যাত্রা করছি না, আমরা অনেক আগে থেকেই গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত।"

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

এদেশের তরুণ সমাজের একটা অংশ চরম বখাটে কিংবা লাফাঙ্গা(চাটগাইয়া ভাষায়)। এরা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সব লেভেলেই আছে। তিন দশক আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে আগের চেয়ে এখন অনেক বেশী সক্রিয় কেননা এখন মানুষ যেমন বেড়েছে, উৎসবে আগ্রহও তেমনি বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে বখাটেপনা। বখাটেপনার উৎসাহ কমেনি কেননা এর জন্য কঠোর কোন শাস্তি নেই। কোন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সাইবোর্ড থাকলেই সাতখুন মাফ। আজকাল রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে বিচ্ছিন্ন বখাটেপনার চেয়ে উৎসব আয়োজনে দলবেধে বখাটেপনা বেড়ে গেছে। শাস্তি না হলে বাড়তেই থাকবে।

আমরা এমন দুর্ভাগা জাতি যে এখানে উৎসবে আনন্দটাও করতে জানি না। ১৪৪ ধারা জারি করে উল্লাস নিবৃত্ত করাতে হয়। উল্লাস করতে গিয়ে আমরা এমনকি ভাঙচুর খুন খারাবিও করতে পারি। স্বাধীনতার উপাদানের মধ্যে আমরা উচ্ছৃংখলতাকেও রাখি। পহেলা বৈশাখের ঘটনাটা প্রথম ঘটনা নয়। দেশের শত শত জায়গায় এরকম ঘটনা ঘটে বিভিন্ন উৎসবে। সুযোগ সন্ধানী বখাটে লোকের অভাব কোথাও নেই। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এলাকায় এই ঘটনাগুলো আমাদেরকে জাতি হিসেবে খুব ছোট করে দেয়। আমাদের মানবিকতাবোধগুলো তার শেষ আশ্রয় হারিয়ে ফেলে। এই কুৎসিত ঘটনাটা চাপা পড়ে যাবে আরো কদিন পরে। আবারো নতুন কুৎসিত এসে জায়গা করে নেবে।

আমি ১০০% নিশ্চিত এ্‌ই ঘটনার কোন বিচার হবে না। আগেও হয়নি। একটা নজীরও আমি দেখিনি। অসহায় হয়ে আমি আমার পরিবার বা স্বজনদের বলি, ভিড় ভাট্টার উৎসবে যাবার দরকার নেই। আমরা অন্য কোন নিরাপদ জায়গায় যাবো।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।