এসো কোয়ান্টামের রাজ্যে-১ (অথবা, ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/০৭/২০১৩ - ৩:০৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত শতকের পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়ের একটি যদি “আপেক্ষিকতা তত্ত্ব” হয়ে থাকে তাহলে আরেকটি নিশ্চিত ভাবেই “কোয়ান্টাম মেকানিক্স”। তবে এ বিষয়গুলো কেন জানি একটু অস্বস্তিকর রকমের ধোঁয়াটেও বটে। আসলে বাস্তব জীবনে আমরা যে ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত, এ দুটো তার চেয়ে একটু বেশিই ভিন্ন মাত্রার। আপেক্ষিক তত্ত্বের দরুন সৃষ্ট, চোখে দেখার মত বড় মাপের পরিবর্তন দেখতে চাইলে আমাদের গতিবেগ হতে হবে আলোর বেগের (৩×১০ টু দ্য পাওয়ার ৮ মিটার/সেকেন্ড) কাছাকাছি। একইভাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে কার্যকর দেখতে চাইলে আমাদের যেতে হবে প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবকের (৬.৬৩×১০টু দ্য পাওয়ার মাইনাস ৩৪ জুল-সেকেন্ড) কাছাকাছি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা কখনওই ১০ টু দ্য পাওয়ার ৮ এর উচ্চতায় উঠিনা, আবার ১০টু দ্য পাওয়ার মাইনাস ৩৪ এর গভীরতায়ও নামিনা। বাইরে থেকে এ দুটোই তাই পরিচিত অভিজ্ঞতার সাথে আপাত অসঙ্গতিপূর্ণ দুই প্রহেলিকা’র মত। আসুন পদার্থবিজ্ঞানের ভারী ভারী কোটপ্যান্ট ঝেড়ে ফেলে, সহজ ভাষায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের পাড়া থেকে ঘুরে আসি।

(২)
কোয়ান্টা (বহুবচনে কোয়ান্টাম) হল শক্তির প্যাকেট, বা শক্তির টুকরো। ভুরু কুচকে ভাবতে বসে গেছেন? মাছ-মাংসের কিংবা কেকের টুকরোর মত শক্তির আবার টুকরো হয় কি করে! ভাববেন না, ঠিক এই প্রশ্নটাই খোদ কোয়ান্টাম মেকানিক্সের স্রষ্টাদেরও তাড়িয়ে বেড়াত বহুদিন। সামগ্রিক ভাবে যাকে আস্ত বলে মনে হয়, তাকে কিন্তু অনেক সময়ই কাছে থেকে দেখলে বা বড় করে দেখলে ক্ষুদ্র অংশেও পৌছুনো যেতে পারে। যেমন বৃষ্টির ধারা দেখলে আস্ত একটা লাইন বলেই মনে হয়, কিন্তু স্লো-মোশনে দেখুন দেখবেন এক এক ফোটা করে পানি পড়ছে, এই একেকটা পানির ফোটাই হল গিয়ে পানির কোয়ান্টা। কিংবা দূর থেকে একটা বালির স্তুপ দেখলে পাহাড়ের মত আস্ত একটা কিছু বলেই মনে হয়, কাছে গিয়ে জুম করে দেখুন- দেখবেন ছোট অনেক গুলো একই রকম বালুকণা জমে বিশাল কিছু হয়েছে। বালুকণা হল বালুর স্তুপের কোয়ান্টা। পানির ধারায় ফোটার চেয়ে ছোট আকৃতি পাবেননা, যেমন পাবেন না বালুর স্তুপে বালুকণার চেয়ে ছোট কিছু। তেমনি শক্তি কেও যদি আমরা স্লো-মোশনে জুম করে দেখতে পারতাম, তবে আশ্চর্য হয়ে দেখতাম যেকোনো শক্তিই আসলে পানির ফোটা কিংবা বালুকণার মত টুকরো টুকরো। তবে এই জিনিসটি গনিতের ফুটোস্কোপ দিয়ে ভেবে বার করেন “ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক”। কোয়ান্টাম মেকানিক্স সংশ্লিষ্ট, সবচেয়ে বহুল ব্যাবহৃত ও বিখ্যাত ধ্রুবকটির নাম তাই তাঁর নামেই রাখা হয়েছে।

(৩)

গত শতকের প্রথম দিকে বাঘা বাঘা তাপ-পদার্থবিজ্ঞানীদের একটা হিসাব কিছুতেই মিলছিল না। বিকিরনের ক্ষেত্রে শক্তির সাথে তরঙ্গ দৈর্ঘের যে একটা সম্পর্ক আছে সেটা সবাই জানতেন, কিন্তু সেই সম্পর্কটাকে কিছুতেই এক সুতায় গাথা যাচ্ছিল না। ব্যাপারটা এমন যে, একদল যদি বলতেন যে এদের “লাভ ম্যারেজ” তো আরেক দলের ভাষ্যমতে এদের “এরেঞ্জড ম্যারেজ”। এবং অদ্ভুত ব্যাপার যে- দুই দলই সঠিক ছিলেন ভিন্ন দুই প্রান্তে; অন্তত পরীক্ষন থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি সেই সাক্ষ্যই দিত। এক দলের তত্ত্ব দিয়ে কম তরঙ্গ দৈর্ঘের অংশ টুকু ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল, আরেক দলের তত্ত্ব দিয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘের অংশটুকু। কিন্তু ঐ ছাড়া ছাড়া ভাবে, একবারে নয়। তবে দু’দলই ধরে নিয়েছিলেন শক্তি অবিচ্ছিন্ন, আস্ত। এখানটাতেই ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক বাগড়া দিলেন; তিনি হিসেব করে দেখতে গেলেন শক্তির একটা ন্যূনতম একটা মাপ থাকলে কি হত। তারপর সব শক্তিকে এর গুনিতকে প্রকাশ করলেন। অর্থাৎ তিনি বললেন পানির ফোঁটা বা বালুকণার মত শক্তির ও ন্যূনতম একটা মান আছে। (যদি সেটা “ক” হয় তাহলে দুনিয়ার সব শক্তি ক, ২ক, ৩ক, ১০০ক, ১৯৭১ক, ২০১৩ক, ২১০২১৯৫২ক এমন হবে। কখনোই দেড় ক, আড়াই ক, সাড়ে পঞ্চাশ ক, সোয়া সত্তর ক এমন হবেনা।) ফলাফল অবশেষে দুই তত্ত্ব জোড়া লাগল। দেখা গেলো তারা আসলে প্ল্যাঙ্কের পদ্ধতিরই বিশেষ রূপ; একজন বেশির দিকে, অন্যজন কমের। অধরা হিসেব শেষে মিলল, তবে সেই থেকে শক্তি হয়ে গেল টুকরো টুকরো।

(৪)
কোয়ান্টাম যুগের আগে পদার্থবিজ্ঞান ছিল নিশ্চয়তার হিসাব। বিজ্ঞানীরা হিসাব কষে বলতে পারতেন যে কার্জন হলের ছাদ থেকে কত বেগে কত কোণ করে ঢিল ছুড়লে ঠিক এভারেস্টের চূড়ায় গিয়ে পড়বে। আকাশের দিকে না তাকিয়েও তারা নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারতেন অমুক দিন অমুক সময়ে সুর্যদেব মুখ লুকোবেন, অমুক দিন চাঁদে ছায়া পড়বে। কিংবা, ঠিক কত বেগে গেলে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মহাশূন্যে পৌছুনো যাবে। আলো কত দ্রুত ঢাকা থেকে জার্মানী গিয়ে পৌঁছয় এটাও তারা মেপে বার করতে পারতেন। তখন বিজ্ঞানীরা নিপুণভাবে প্রকৃতির মোড়ক খুলে খুলে দেখছিলেন, জানছিলেন। ঠিক এ সময় বিজ্ঞানীরা জানলেন যে প্রকৃতি কখনো কখনো ঘোমটা টানা বধূর মতও আচরন করে। এই প্রথমবার বিজ্ঞানীরা জানতে পারলেন তারা চাইলেই প্রকৃতির সব প্রান্ত খুটিয়ে দেখতে কিংবা জানতে পারবেন না, কিছু জিনিস প্রকৃতি সর্বদা কুয়াশায় ঢেকে রাখবে। এক অংশ ভালভাবে দেখতে গেলে আরেক অংশ অস্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে। নববধূর মন জয় করার মত প্রকৃতির অনিশ্চয়তার হিসাব ধীরে ধীরে শিখে গেলেন বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্গে টুকরো শক্তির ধারনার পাশাপাশি “সম্ভাবনা ভিত্তিক” হিসাব পদ্ধতিও কোয়ান্টাম পরিবারের অবিচ্ছেদ্য সদস্য হয়ে উঠল। “নিশ্চয়তা” এর বদলে “সম্ভাবনা” হয়ে উঠল ক্ষুদ্র জগতের মূল আকর্ষণ। আগে বিজ্ঞানীরা চোখ বুজে বলে দিতে পারতেন সোমবার রাত দশটায় বুধ গ্রহকে ঠিক কোথায় পাওয়া যাবে; বিজ্ঞানীদের সেই নিঁখুত নিশ্চয়তা ছোট্ট একরত্তি ইলেক্ট্রনের কাছে এসে দুর্লভ হয়ে গেল। তবে বিজ্ঞানীরা এটুকু ঠিকই বার করতে পারলেন যে ইলেক্ট্রনকে কোথায় কতখানি পাওয়া যেতে পারে। এ যেন সুকুমার রায়ের “হ-য-ব-র-ল” গল্পের সেই গেছোদাদা; ইলেক্ট্রন কোথায় আছে জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে সে কোথায় কোথায় নেই। কেন নেই, কিভাবে নেই- সে অনেক বড় গল্প, সেটা আরেক দিনের জন্য তোলা থাক।

(৫)
কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে বড় বিজ্ঞানীরাই একটা দ্বিধার মাঝে ছিলেন, তাই আমাদের অস্বস্তিতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। আইনস্টাইন তো রাগ করে বলেই ফেলেছিলেন- “ইশ্বর পাশা খেলেন না” (God does not play dice.) এর জবাবে নীলস বোর আবার বলেন- তোমার পরামর্শে ঈশ্বরকে চলতে হবেনা (Don't advice God, what to do.) তবে সবচেয়ে মজার কথাটা বলেন আমুদে বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান। তিনি বলেন “আমি বলতেই পারি যে, কেউই কোয়ান্টাম মেকানিক্স বোঝেন না। আমরা আসলে এটা ব্যাবহার করতে পারি”। অনেক পদার্থবিদের হাতে গড়ে ওঠা আজকের কোয়ান্টাম মেকানিক্স আসলে গনিতের মতই একটা পদ্ধতি। এর পত্তনকারী বিনয়ী প্ল্যাঙ্কের ভাষায়- “যদিও এ পদ্ধতি প্রচন্ড নিখুঁত, তবুও এটা একটা সংযোজনী সুত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। যা কিছুটা ভাগ্যক্রমে আন্দাজ করা গিয়েছে।” তাঁর কথা মিথ্যে নয়, পরমানুর সুগভীর নিচুতলার বর্ণনা কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিখুঁতভাবেই দিয়ে চলেছে। ইশ্বর পাশা খেলুন আর নাই খেলুন, প্রকৃতি তাই পরমানুর গভীরে সর্বদা জুয়া খেলে চলেছে, নিঁখুতভাবে। এভাবেই বুঝি প্রকৃতি তার সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে বিমুর্ত চিত্রকলা কিংবা আধুনিক কবিতার মত অস্পষ্টতার মিশেল দিয়ে। প্রকৃতির সেই বিমুর্ত চিত্রের ক্যাপশন অথবা আধুনিক কবিতার সারমর্মই কোয়ান্টাম মেকানিক্স।

সাক্ষী সত্যানন্দ


মন্তব্য

ফাহিম হাসান এর ছবি

ঘোমটা টানা নববধূর উধাহরণটা জমে নাই, ক্লিশে মনে হয়েছে। বাকিটুকু ভালোই লেগেছে। কঠিন বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করেছেন। বাংলায় এরকম লেখা দেখলে খুশি হয়ে যাই। চলুক চলুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দুঃখিত, প্রথম কিনা... পরেরবার শুধরে নেব... ( এডিট করার তো উপায় নেই মন খারাপ )

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কী কমু এর ছবি

একটু ভুল হল বোধ হয়। বহুবচনে কোয়ান্টা, এক বচনে কোয়ান্টাম।

পদার্থ বিজ্ঞানের নানা সুত্র ও আবিস্কার নিয়ে মাসুদ রানা জাতীয় রমরমা রহস্য উপন্যাস পড়তে চাইলে সম্প্রতি বিখ্যাত পর্তুগিজ লেখক হোসে রদ্রিগেস দস সান্তস-এর দ্বিতীয় উপন্যাস 'দ্য আইনস্টাইন এনিগমা' পড়ে ফেলুন। প্রতীচ্যের দর্শন, পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান আর পদার্থবিদ্যার অনেক কিছুই জলের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। লাভের মধ্যে একটি মাসুদ রানা পড়ার আনন্দও পাবেন। বাজারে বইটির ইংরেজি অনুবাদ মেলে (আমি পাদ্রী আর বালতি ছাড়া আর কোনও পর্তুগিজ জানি না)। আর যদি ভারিক্কী কিন্তু বোধগম্য ভাষায় কোয়ান্টাম তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে চান, তবে ব্রায়ান গ্রীনের 'দ্য এলিগ্যান্ট ইউনিভার্স' বইটি পড়ে ফেলুন। সময় আর ধৈর্য থাকলে সংক্ষিপ্ত অনুবাদও করে ফেলতে পারেন, সচলায়তনের পাঠকেরা নিঃসন্দেহে উপভোগ করতে পারবেন।

সূচনাপর্বটা ভালই হয়েছে, চালিয়ে যান, বিষয়টা আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

একটু ভুল না তো মন খারাপ ভয়ঙ্কর ভুল
শোধরানোর তো উপায় নাই ওঁয়া ওঁয়া মডারেটরবৃন্দ সাহায্য করেন পিলিজ

"দ্যা আইনস্টাইন এনিগমা" পড়িনি... তালিকায় থাকল... এলিগ্যান্ট ইউনিভার্স পড়া হয়ে ওঠেনি, কারণ ডকুমেন্টারিটা দেখে ফেলেছিলাম... অনুবেদের কথা মাথায় থাকল...

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

গুরু গুরু
ফাটাফাটি লেখা হইসে।
পড়ে প্রচুর আনন্দ পেলাম। তবে ঐ "ঘোমটা টানা বধূর মতও আচরন" জাতীয় উপমা/তুলনা একটা ছন্দপতন ঘটায় বৈকি! গোটা লেখাটার মধ্যে যে ঝকঝকে আধুনিকতা রয়েছে সেটা এতে চোট খেয়েছে। বাকি সমস্ত অংশ অত‌্যন্ত ভালো লেগেছে বলেই এই খিঁচটা জানালাম। পরের অংশের প্রতীক্ষায় থাকলাম।
- একলহমা

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

এরপর থেকে শুধরে নেব...
পড়ার জন্য

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

দুয়েকটা জায়গায় খানিকটা ঝরিয়ে বললে ভালো লাগতো। লেখায় সময় আমার মতো বিজ্ঞানমূর্খ মানুষের কথা যদি মনে রাখেন। যদি একবার ভেবে দেখেন যে আমরা বুঝতে পারছি কিনা, তাহলে খুব ভালো হয়। এতো চমৎকার বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করেছেন, চালু রাখুন। সচলে বিজ্ঞানের আগ্রহী পাঠক অনেক।
খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম হাসি

প্রসঙ্গত, শিরোনাম মারাত্মক হইছে চোখ টিপি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কৌস্তুভ এর ছবি

বিজ্ঞানমূর্খ? কস্কি মমিন!

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

অনার্য'দা, একে আমি নতুন... তার উপর মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ... এমনে শরম দেন ক্যান? আপ্নে বিজ্ঞান্মুখ্যু হইলে আমি তো বিজ্ঞান নেগেটিভে আছি... (অ টঃ আমি সারাজীবন বায়োলজি এড়ায় গেছি... আপনার ব্লগ পড়েই বুঝলাম জিনিস টা আসলে মজারু ছিল)

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অটঃ (যদি আরও লেখা আসে) তার সবগুলোতেই এমন উপশিরোনাম থাকতে পারে... কারো কাব্যানুভূতিতে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকলে অগ্রিম ক্ষমা চাই হাসি

স্বপ্নহীন এর ছবি

উত্তম জাঝা!

আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছি পরের পর্ব গুলোর জন্য

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সাকিন উল আলম ইভান  এর ছবি

চলুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কৌস্তুভ এর ছবি

বেশ হয়েছে। লিখতে লিখতেই হাত আরো ঝানু হবে। চলুক।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- দিলে কম হয়ে যায়, লন তালগাছটা আপনাকে দিলাম

মার্বেল এর ছবি

ঘোমটা টানা বঁধু নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। বিজ্ঞান খুব প্রিয় বিষয়। আশা করছি আগামী পর্বে আরো গভীরে যাবেন। কিছু কংক্রীট বৈজ্ঞানিক কথাবার্তাও দরকার।লেখার জন্য অভিনন্দন।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

বিদ্রঃ কনক্রিট বৈজ্ঞানিক কথাবার্তার উদাহরণ পেলে ভালো হত... সমীকরন/গনিত সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গেছি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

গুড জব। ভাষা বা উপমা নিয়ে আমার আপত্তি নেই। বরং ভাষা সাবলীলই লেগেছে। সিরিজটা নিয়মিত চালিয়ে যান। এক বারে দুই-তিনটা পর্ব রেডি করে একটা একটা করে ছাড়ুন। নয়তো একটা পর্ব শশাঙ্কের আমলে আর পরের পর্ব গোপালের আমলে ছাড়লে পাঠকের উপকার হবে না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারেও তালগাছটা আপনাকে দিলাম

আরও দেড়টা পর্ব প্রায় রেডি, অচিরেই দিয়ে দেব...

নরাধম এর ছবি

ভাল লাগলো। চলুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

স্যাম এর ছবি

নিক দেখে কেঊ করিসনারে ভুল খাইছে
আপনার নিক চোখে পড়েছিল মন্তব্যগুলোয়, ভেবেছিলাম হয়তো সাহিত্যের মানুষ হবেন - একি! এ যে বিজ্ঞানের জিনিশপত্র নাড়াচাড়া করে আবার বোঝা যায় লেখার হাত ভাল । ভাল লাগল হাসি চলুক 'সাস'

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

S)

স্যাম্ভাই, সচলে বিজ্ঞানের ব্যানার মনে হয় একটু কম হয়, আমার আঁকার হাত যাচ্ছেতাই... ছাগল আঁকলে গোলামাজম হয়ে যায়... গরু আঁকলে ড্রাগন হয়ে যায় এই অবস্থা... (আসেন জোট গঠন করি, কয়দলীয় সেটা নাহয় আলচনা সাপেক্ষে ঠিক হবে)

পড়ার জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

থুক্কু, "আলোচনা" হবে

রায়হান আবীর এর ছবি

ঢাকা থেকে আলোর এখন জার্মানি আসতে কতক্ষণ লাগে? দেঁতো হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

সেটা জর্মন প্রবাসী এক দার্শনিক-কাম-বিজ্ঞানী-কাম-লেখক ভালো বলতে পারত...
কিন্তু বেচারা সদ্য অ-জীবিত... এখন ডিস্টাপ না দেই... হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তাছাড়া, আলো কি শাহবাগ হয়ে আসবে নাকি লালবাগ-মগবাজার ঘুরে আসবে... সেটাও ব্যাপার... চোখ টিপি

সত্যপীর এর ছবি

মারাত্মক হাততালি

(আমি কিছুই বুঝিনাই কিন্তু বেশ আনন্দ পাইছি পড়ে. আরো দ্যান)

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

(আপনার আনন্দে আমিও আনন্দিত হলাম... আরও লাইনে আছে... প্রথম পাতা থেকে যাক এটা...
ইয়ে মানে কোর্মা-পোলাও-ঘুটা কাবাবের স্টক কি শেষ? আগেরবার তো মতিকন্ঠে ফাঁস দিলেন, এবার কি?)

সত্যপীর এর ছবি

হ স্টক শেষ. দুই বচ্ছর বহুত কোর্মা পোলাও ঘুটা কাবাব খিলাইসি, এইবার ঘুম যামু. আপনেরা লেইখ্যা নীড়পাতা ভরায় ফেলান, গ্যালারিতে আসি.

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ওঁয়া ওঁয়া

আপনার লেখা না খাইলে নিজে লেখনের শক্তি পামু কই?

কাক্কেশ্বর কুচকুচে এর ছবি

চমৎকার লেখা।
আমার মত আকাঠ মুর্খেরা পরের পর্বের অপেক্ষায় হা হয়ে বসে থাকবে মোটামোটি নিশ্চিত হাসি
তাত্তারি করেন ।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

[লাইনে আছি চোখ টিপি ]

লুব্ধক এর ছবি

বাংলায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রহেলিকা সহজবোধ্য করে উপস্থাপনের প্রয়াস নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স পাড়ার বাকি গল্পের অপেক্ষায় রইলাম। আশা করছি উপভোগ‌্য হবে!

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

চরম উদাস এর ছবি

বিশাল আমোদ পেলাম। কোয়ান্টাম ছোটকালে ভাল বুঝতাম, বড় হয়ে ভুলে গেছি ইয়ে, মানে...
আবার মনে করিয়ে দিলেন একটু একটু।
পরের পর্বের জন্য পাটি পেতে বসলাম।
বেশী বেশী করে বিজ্ঞানের লেখা লিখেন, এই যুগের আমার মতো বখে যাওয়া ছেলেপিলেরা খালি জুকারবার্গ চিনে, হাইজেনবার্গ টার্গ এর ভাত নাই।

কৌস্তুভ এর ছবি

"এই যুগের আমার মতো বখে যাওয়া ছেলেপিলেরা খালি জুকারবার্গ চিনে, হাইজেনবার্গ টার্গ এর ভাত নাই।"
গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ভালো কথা,
উদাস'দা, পরের পর্বে উদাহরণ হিসেবে আপনাকে আনলে আপত্তি নেই তো (আপত্তি কইরেন না, পিলিজ লাগে, আবার ল্যাখতে পারুম না মন খারাপ )

চরম উদাস এর ছবি

চিন্তিত আপত্তি থাকবে কেন?

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দেঁতো হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

লইজ্জা লাগে

মন খারাপ

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অটঃ পরের পর্ব রেডি ছিল তো... কিন্তু অনার্যদার ফতোয়া শুনে তেঁতুল পাতায় ছড়া লেখার জন্য হাত চুলকোচ্ছে যে ............আর, ইয়ে জুকারবার্গ নাকী জোকারবার্গ ঠিক করে কন তো চিন্তিত

স্পর্শ এর ছবি

বুদ্ধিদীপ্ত লেখা। ভালো লাগলো খুব। পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসুক। উত্তম জাঝা!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

লইজ্জা লাগে
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অটঃ (১) পরের পর্ব রেডি করে বসে আছি ইয়ে, মানে... নীতিমালার সাথে সাঙ্ঘর্ষিক কি না বুঝতে না পেরে গতকাল বিকেলে contact@sachalayatan এ মেইল করেছি... সুপ্রীম কোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলেই পরের লেখা পোস্ট করে দেবো দেঁতো হাসি

অটঃ (২) প্রিয় গল্পকার, পরবর্তী পর্বগুলোতে কিছু কিছু অংশ আপনার অনেক পুরানো লেখার সাথে মিলে যেতে পারে (কারন তথ্যসুত্র একই, ফাইনম্যান) তবে পুরোটাই নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি... আপত্তি নেই আশা করি।

তারেক অণু এর ছবি
সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অটঃ (১) প্রিয় অভিযাত্রীকে নিজের প্রথম পোস্টে দেখে উত্তেজিত বোধ করছি হাসি

অটঃ (২) প্রয়োজন বোধে আপনাকেও উদাহরণ হিসাবে আনলে আপনার আপত্তি নেই আশা করি

তুলিরেখা এর ছবি

আমার তো সন্দেহ হয় তারেক অণু আসলেই কোয়ান্টামের জগতের। এই আছে ঢাকা তো এই চলে গেল রোম, রোমে গিয়ে দেখা গেল সেখানে সে নেই, চলে গেছে জোহানেসবার্গ, তারপরেই তাকে দেখা গেল কাজাখস্তানের আস্তানায়, তারপরেই রিও, তারপরেই সিডনি, তারপরেই হেলসিঙ্কি, তারপরেই দার এস সালাম, তারপরেই নাইরোবি, তারপরেই দেখা গেল সে মঙ্গলগ্রহে দেঁতো হাসি, কোয়ান্টামের জগতের না হলে এ জিনিস সম্ভব?

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক
আরে নাহ, তারেকাণু'দা হইলো গিয়ে "গেছোদাদা" দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

এই দুটি বিষয় মোটামুটিভাবে বোঝার জন্য সেই কতদিন থেকে অপেক্ষা করছি, দেখা যাক এবার সেই অপেক্ষার অবসান হয় কি না। ভূমিকা পর্বটি তো ভালই হয়েছে, তবে খুবই অপুষ্ট হয়েছে, বেশ জমিয়ে সময় নিয়ে পড়বো ভাবছিলাম, কিন্তু পড়া শুরু করতে না করতেই শেষ।

আব্দুল্লাহ এ এম

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আমি ভাবলাম কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নিয়া লেখা... পরে দেখি বৈজ্ঞানিক হিজিবিজি...

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হ, কোয়ান্টামের ফাউন্ডেশন নিয়াই তো লিখছি দেঁতো হাসি
ধৈর্য ধইরা পড়েন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন...
(অবশ্য "রেগে"র তালে "হেরে" উচ্চারন করা কঠিন চোখ টিপি )

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

এসেই গেলাম কোয়ান্টামের রাজ্যে দেঁতো হাসি নিরেট মাথায় সবটা ঢুকেছে বলবো না। শেষ পর্যন্ত কতটা দিগ্বজ হইতে পারি দেখা যাক শয়তানী হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দেঁতো হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তীর্থ চক্রবর্তী এর ছবি

চলুক
ভাল লাগল লেখা...তবে গাড়ি একটু দ্রুতই এগোল, কিছু জায়গায় একটু-আধটু জাম্প-ও করে গেল...যদিও এইরকম বিষয় শুধু ভাষায় বোঝানোটাও আসলে ‘ঘ্রাণেন অর্ধভোজনং’! পরের লেখার অপেক্ষায় রইলাম...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

পরের পর্ব এসে গেছে হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

কোয়ান্টাম তত্বকে মানবিক উপখ্যান দিয়ে ব্যাখাটা দারুন লাগলো।যদি ও অনেক কিছুই অধরা রয়ে গেল,পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র নই বলে।দেখি আপনাদের লেখার মাধ্যমে যদি কিছু পদার্থ নিজের অপদার্থ মাথায় গলধ করতে পারি। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

মাসুদ সজীব

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।