জার্মানির ঠোলা

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ০৬/১২/২০০৯ - ৩:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


১.
আমার পৌলিশিক অভিজ্ঞতা অপ্রতুল। পুলিশের সাথে আমার সম্পর্ক লাজুক প্রেমার্থীর মতো, যে মানসপ্রিয়াকে দূর থেকে নির্ণিমেষ নয়নে চোখ দিয়ে গেলে, আর কাছে এলে চোখ সরিয়ে অন্য কিছু দেখতে থাকে বুক ঢিপঢিপ নিয়ে।

প্রথম পুলিশের পাল্লায় পড়ি ক্লাস সিক্সে থাকতে। আমি আর আমার বন্ধু ডাক্তার মোস্তফা (সেও ল্যাদাপ্যাদাগ্যাদা ছিলো তখন) স্কুল থেকে ফিরছি। স্কুলে আমাদের আরেক বন্ধু ইকবাল একটা সুইস নাইফ নিয়ে এসেছে আমাদের দেখাতে। আমরা এরকম একই অঙ্গে এত রূপ অলা ছুরি দেখে মহামুগ্ধ। ইকবালকে বলে মোস্তফা সেই ছুরিখানা আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার জন্যে দিন কয়েকের জন্যে রিমান্ডে নিলো। স্কুল থেকে ফেরার পথে রিকশা পাই না, পাই না, পাই না, যে রিকশাঅলাকে জিজ্ঞাসা করি সে-ই অহঙ্কারভরে ফিরিয়ে দেয় রূপবতী রমণীর মতো। আমি হাঁটছি আর প্রশ্ন করছি, ওবা ড্রাইভার, যাইতায়নি বা (সিলেটে তখন রিকশাঅলাকে ড্রাইভার না বললে তারা মনক্ষুণ্ণ হতো, এখন পরিস্থিতি কী জানি না), আর মোস্তফা হারামীটা পেছনে সেই সুইস নাইফ পকেট থেকে বের করে সব ক'টা ফলা পদ্মকোরকের মতো ছাড়িয়ে মুগ্ধচোখে গিলতে গিলতে হাঁটছে। এক পর্যায়ে সে সেটা বাগিয়ে ধরে এক মহামহিমকে নিবেদন করে বসলো।

আর যায় কোথায়, এক পুলিশ এসে পাকড়ে ধরলো আমাদের দু'জনকে। সে আবার ভূমিপুত্র নয়, প্রমিত ভাষায় প্রশ্ন করলো, "কী করছো তোমরা?"

আমি কাঁচুমাচু হয়ে বললাম, "রিকশা ঠিক করি।"

"ছুরি হাতে রিকশা ঠিক করো? কোন ক্লাসে পড়ো?" আমাদের ইউনিফর্মেই আজান দিয়ে বলা আছে কোন স্কুলে পড়ি আমরা, কাজেই সে প্রশ্নে আর গেলো না সে।

আমরা ভয় পেলাম। নিজেদের কী হবে সেটা নিয়ে নয়। ছুরিখানা বাজেয়াপ্ত হলে ইকবালকে কী জবাব দেবো সেটা নিয়ে, বালকবয়সে প্রায়োরিটিগুলি অন্যরকম ছিলো, সবারই থাকে।

সৌভাগ্যক্রমে পুলিশের সেই সদস্য হৃদয়হীন ছিলেন না, তিনি ছুরিটা উল্টেপাল্টে দেখে সব ক'টা ফলা বুঁজিয়ে জানতে চাইলেন, কোত্থেকে পেয়েছি, কেন এটা হাতে নিয়ে ঘুরছি, আমরা কে কোথায় থাকি, বাবা কী করেন, ইত্যাদি। আমাদের স্কুলের সুনামের জোরে, কিংবা আমাদের নিষ্কলুষ হাবভাবের জোরে, কিংবা স্রেফ ভাগ্যের জোরেই ছুরিটা আর বাজেয়াপ্ত হলো না, তিনি সেটা হুকুম দিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে আমাদের ছেড়ে দিলেন।

সিলেটে পুলিশের কথ্য নাম ছিলো "খনাই"। সেটার উৎপত্তি "ঠোলা"র মতোই রহস্যঘেরা। সেই খনাই ভদ্রলোক বাস্তবিক একজন ভালো পুলিশ ছিলেন। হয়রানি করেননি, সাবধান করে ছেড়ে দিয়েছেন।

এরপর দীর্ঘদিন বিরহের পর পুলিশের সাথে সাক্ষাৎ পাসপোর্টের তথ্য যাচায়ের সময়। এক কড়া ভদ্রলোক এসে অনেক প্রশ্ন করলেন। পুলিশের "জিজ্ঞাসাবাদ" এর কায়দাটা অন্যরকম, টের পাই সেদিন।

অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় পুলিশ আমাকে উঠতে বসতে চেক করতো। আমার মাথায় কয়েক কেজি চুল ছিলো, মুখে গোঁফদাড়িও থাকতো মাঝে মাঝে, তারা পারলে আমাকে পথেঘাটে ন্যাংটা করে সার্চ করে। বুয়েটের আইডি দেখাই এফবিআইয়ের মতো করে, তারপরও তারা আগাপাস্তলা চেক করে। তবে যেদিন ব্যাগে বইপত্র থাকে, সেদিনই আমি ধরা পড়ি। একদিন মদের বোতল নিয়ে ফিরছিলাম, সেদিন তারা আমায় কিছু বলেনি। অপর্যাপ্ত পরিমাণে নেংটুশ চলচ্চিত্র লেনদেন হচ্ছিলো একদিন, ধরা পড়লে হয়তো আমাকে আর আমার সেই বন্ধুকে নেংটু ইন্ডাস্ট্রির ঢাকা রিজিওনাল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবেই চালান করে দেয়া যেতো, পেপারে গলায় নামাঙ্কিত কার্ড নিয়ে আমাদের বিপ্লবী মুখচ্ছবি ছাপা হতো, কিন্তু না, সেদিনও পুলিশ আমাদের দেখে স্কুলবালিকার মতো অহঙ্কারী গ্রীবা ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলো। সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাগের মধ্যে মীরমদনের কামান নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও ঢাকার নাগরিক পুলিশ আমাকে কিছু বলবে না, কাক দেখবে, নক্ষত্র দেখবে, ভালোবাসবে চলিষ্ণু মেঘ আর আশ্চর্য মেঘদল। সে তালাশ করবে আর ঘাঁটবে আর হাঁটকাবে যখন ব্যাগে থাকবে নোটস, বই, প্রেমিকার জন্যে ছোট্ট তুলোট পাণ্ডা-ছানা।

পুলিশের সাথে আরো টুকিটাকি অভিজ্ঞতা আমার আছে, যেমনটা আছে ড়্যাব, মিলিটারি পুলিশ, সেনাবাহিনীর পার্বত্য ইউনিট, বিডিআর আর ডিজিএফআই নিয়ে, কিন্তু অলমিতি বিস্তারেণ।

২.
জার্মানিতে প্রথম পা দিয়েই ইমিগ্রেশন ঠোলার পাল্লায় পড়েছিলাম। শালা আমাকে দিয়ে দোভাষীর কাজ করিয়ে নিয়েছিলো।

দ্বিতীয় যাত্রায় পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়নি বছর দুয়েক। এই গত অক্টোবরফেস্ট শেষে তীরন্দাজ পরিবার আর পুতুল পরিবারকে জ্বালিয়ে একশেষ করে এক দুপুরে উশি ভাবীর রান্না করা মুরগির ঝোল আর গরম ভাত দিয়ে ঠেসে খেয়ে ফিরছি মিউনিখ থেকে, আমি-বদ্দা-হাছিব্বাই-মনিরোশেন, স্টেশনে দুই পাহাড়ের মতো সবুজ জামা পরা ঠোলা আমাদের পথরোধ করলো। হতভাগা মনির এমন ভাব করলো যেন সে শুনতেই পায়নি, দুই ঠোলা তাকে প্রায় কানে ধরে দাঁড় করায় আর কি!

মিউনিখে আমি দুই হাজার তিন সালে বাহান্ন দিন ছিলাম। স্টেশনে গিয়েছি কম করে হলেও কুড়িবার। পথেঘাটে একটিবারও কোনো পুলিশ আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। অক্টোবরফেস্টর সময় সেদিন আবার ফেডারেল নির্বাচন, সে উপলক্ষ্যেই বোধহয় নিরাপত্তার কড়াকড়ি, আর আমরাও দেখতে সমর্থ দুষ্কৃতীর মতোই, অতএব থামাও ব্যাটাদের।

পাসপোর্ট নিয়ে এক ধলাপাহাড় চলে গেলো তথ্য যাচাই করতে, আরেকটা একাই আমাদের চারজনকে পাহারা দিতে লাগলো। সাথে টুকিটাকি আলাপ। কে কী করি, কই থাকি, কেন মিউনিখ এলাম, কেনই বা চলে যাচ্ছি, অক্টোবরফেস্ট কেমন লাগলো, সময় যখন আছে তখন আপনারা কি আপনাদের ব্যাগ খুলে দেখাবেন, ইত্যাদি। আমাদের চোখের সামনেই পেরিয়ে গেলো ঘরে ফেরার শেষ ট্রেনের সময়। তার মিনিট দশেক পর পাসপোর্ট ফেরত পেলাম, বাজখাঁই দুঃখ প্রকাশ আর বাকিটা দিন ভালো কাটার শুভকামনা জানিয়ে দুই ঠোলা আরেক অভাগার দিকে তেড়ে গেলো। আমরা অন্য আরেক ট্রেনে চড়ে মাঝামাঝি এক শহরের দিকে রওনা দিলাম, সেখান থেকে গাড়িতে লিফট নেয়ার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেলো বলাইয়ের ইন্টারনেট পরিষেবার কল্যাণে।

গতকাল ভুয়র্তসবুর্গে এক পশলা সচলাড্ডা হয়ে গেলো। এবার আর সাথে পাসপোর্ট আনিনি, সম্বল শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র, ছবিছাড়া। ভুয়র্তসবুর্গ স্টেশনে নেমে নিচে নেমে আসছি আমি, বদ্দা, বলাই-বলাইনী, এক ভীষণদর্শন মুখে-কাপাই-পরানো কুকুরের বল্গা হাতে এক পুলিশ পথরোধ করলেন।

"জার্মান বলতে পারেন কি?"

"পারি।"

"বাহ, বেশ! কোত্থেকে আসছেন?"

চলতে লাগলো জেরা। কোত্থেকে আসছি, কেন আসছি, কোথায় যাবো, কবে ফিরবো, বাহ এবার একটু পরিচয়পত্র দেখান দেখি, আচ্ছা আচ্ছা, আপনি নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে পড়েন? তো দেশে ফিরে গিয়ে কিছু করবেন এ ব্যাপারে? আপনাদের ওদিকে এই শক্তি নিয়ে কেমন কাজ হচ্ছে? আমাদের ভুয়র্তসবুর্গে কিন্তু আপনাদের দেশ থেকে অনেক লোকে আসে পড়তে (কে জানে সত্যি কি না!), উঁহুহু ম্যাডাম, কুকুর দেখে ওরকম সিঁটিয়ে যাবেন না, তাহলে কিন্তু ও ভুল বুঝবে, সবাই শান্ত থাকুন ... । ভ্যাজর ভ্যাজর চলতেই লাগলো, ওয়্যারলেসে কেন্দ্রীয় তথ্য পরিষেবায় আমাদের নাম আর জন্মতারিখ জানিয়ে জানতে চাওয়া হলো আমরা কি ঠিকঠাক নাকি। একটু দেরি হচ্ছিলো, আরেক মহিলা পুলিশ বিকট হাসি দিয়ে বললেন, "কম্পিউটারও তো মানুষ!"

আমি একটু ঝুঁকে জানতে চাইছিলাম, কুকুরটার জাতের নাম কী, অমনি ব্যাটা দুই পা পিছিয়ে গিয়ে ঝুঁকে ওঁত পাতলো। পুলিশ মহিলাটি বিরক্ত হয়ে বললেন, হঠাৎ নড়াচড়া করবেন না, ও ঝামেলা করবে। আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম তারপর, ডয়চার শেফারহুণ্ড (জার্মান শেপার্ড)। দারুণ একটা কুকুর, এক কামড়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারবে যে কাউকে। ছবি তুলতাম, কিন্তু জার্মান পুলিশ ফোটোবান্ধব নয়, আর কুকুরটাও পুলিশ।

হাছিব্বাই যোগ দিলেন এর মধ্যে এসে, তিনিও পাসপোর্ট দেখিয়ে খালাস হলেন। আমাদের আশপাশ দিয়ে যারা যাচ্ছিলো, তাদের অভিব্যক্তি দেখছিলাম মন দিয়ে, সবারই চোখেমুখে একটা ভয় পাওয়া ভাব, কারো কারো মুখে পাশাপাশি ক্ষীণ গর্ব, "হুঁ হুঁ বাবা, খুব তো চেষ্টা করছিলে, পড়লে তো ধরা" গোছের হাসি। আমাদের আটকে রেখে মহিলা পুলিশ সেই ভিড়ও মনোযোগ দিয়ে দেখছে, তবে অন্য কাউকে আটকায়নি।

কেন্দ্রীয় তথ্য পরিষেবায় কোনো খারাপ খবর ছিলো না আমাদের জন্যে, মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে এলাম বালছাল কুশল বিনিময় করে।

ফেরার পথে ট্রেনে আবার আরেক দফা চেক, তবে ভাগ্যভালো ট্রেনে চড়ার পর। ট্রেন মিস করে নিজেকে নিষ্পাপ প্রমাণ করার মতো ভোগান্তি আর হয় না। ভাগ্য খুব খারাপ থাকলে ট্রেন বদলানোর পথে কোনো স্টেশনে এই গিয়ানজামে পড়তে হতে পারে। ট্রেনে বদ্দা আর মনিরোশেনকে এমন বাঘা নজরে ছবি মিলিয়ে দেখতে লাগলো পুলিশ, যেন তারা পাসপোর্টে নিজের ছবির বদলে কোনো ইমোটিকন বসিয়ে এনেছে। এর দরকার ছিলো না হয়তো। আমাদের পাশে বসার কারণে তিন ধলা আদমীকেও তাদের পরিচয়পত্র দাখিল করতে হলো। তারা তাদের কাগজ ফেরত পেলো তৎক্ষণাৎ, আমাদের নামধামজন্মতারিখ আবার ওয়্যারলেস মারফত ভেসে গেলো কেন্দ্রীয় তথ্য পরিষেবা বরাবর, ডের ফোরনামে ইস্ট মিশায়েল আন্দ্রে হেক্টর বেয়ারলিন উনফাল বেয়ারলিন ... গেবোরেন আম ফুয়ন্ফ উন্ড ৎসোয়ানসিখটেন, নুল আখট ... । টুকটাক রসিকতা বিনিময়ও হলো।

আমরা নিঃসন্দেহ হলাম, মনিরোশেনের কারণেই আমাদের এই দুর্ভোগ, কারণ আমরা আগেও বাভারিয়ায় এসেছি তাকে ছাড়া, তখন এমনটা ঘটেনি। ব্যাটার হাবভাব এমনই সন্দেহজনক, এমনই পুলিশাকর্ষী, যে পরবর্তীতে তার সাথে এলে পথেঘাটে একসাথে না চলার প্রস্তাবও বাতাসে ঝুলে রইলো অনেকক্ষণ।

বগির বাকি যাত্রীদের সবাই জার্মান, সন্দেহের ঊর্ধ্বে রয়ে গেলো তারা, আমরা কাগজপত্র ফেরত পেলাম। না, কোনো ঝামেলা নাই।

জার্মানির আরো চারটা প্রদেশে ঘুরিফিরি প্রায়শ, সেখানেও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি, কেবল বাভারিয়াতেই এমন অবস্থা। এই হুজ্জতটা যে গায়ের কালাচামড়ার জন্যে হয়েছে, এমনটা হয়তো নয়, কিংবা কে জানে, হয়তো তার জন্যেই। অনেকবার শুনেছি এবং একবার দেখেছি, বাভারিয়ার পুলিশ ধলাচামড়ার স্বদেশীদেরও উঠতে বসতেই চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু তারপরও, বিদেশের পুলিশ পথরোধ করলে মনটা খারাপ হয়। কেবলই মনে হয়, আমাকে নয়, চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে আমার গায়ের রঙটুকুকে, আমার জাতীয়তাকে, আমার গরীব দেশকে, যার সবুজ পাসপোর্ট দেখে দেখে দেশে দেশে পুলিশদের আঁখি না ভরে।


মন্তব্য

সাফি [অতিথি] এর ছবি

আমেরিকায় আসার পর থেকে পুলিশের তেলেসমাতি দেখি। কোথাও কিছু হোক না হোক পু পু করে সাইরেন বাজিয়ে সা সা করে পিছে একটা এমবুলেন্স আর একটা ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি লাগিয়ে দেয়। এখানে পুলিশের ঘটনাস্থলে ছুটে যাবার তৎপড়তা প্রশংসনীয়, ভাব দেখলে মনে হয় ২/৩টা মার্ডার হয়েছে, কিন্তু হয়ত আসলে কেউ কারো বিড়ালকে গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়েছে

পুলিশ ম্যাগনেট মনির হোসেন ভাইরে অনেকদিন দেখিনা, উনি কই আসলে?

হাসিব এর ছবি

আম্রিকানরা হল্লা করতে ভালোবাসে ।

হিমু এর ছবি

ঠোলাম্যাগনেট বেলাল্লা মনির­­ এখন ট্রেনে। গতকাল কাসেলেই ছিলো, আজকেও থাকতে চেয়েছিলো, কানে ধরে ট্রেনে তুলে দিয়ে এসেছি।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

হাসিব এর ছবি

হ, নাইলে রাস্তার ঠোলা বাসায় হানা দিতো ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- তোরে তো টেক্সটে ছোটলোক বলার গুঠাবেন নাই, নাইলে এইখানে তোরে ছোটলোক বলতাম!

কালকে আসতে না দিয়া সবকিছুর ইয়েটা মারলি, সময় লাগলো কত্তগুলা, ঘুমের হৈলো শ্রাদ্ধ, শইল এখন ম্যাজম্যাজ কর্তাছে, হেরপর আবার সকালে কানে ধইরা ট্রেনেও তুইলা দিলি, আর ট্রেনে তোরে খুঁজতে আইসা না পাইয়া বেলাল্লা ঠোলা আমার লগে হামধুম কইরা গেলো! তোরে পাইয়া লৈ, খাড়া।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

"কেবলই মনে হয়, আমাকে নয়, চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে আমার গায়ের রঙটুকুকে, আমার জাতীয়তাকে, আমার গরীব দেশকে, যার সবুজ পাসপোর্ট দেখে দেখে দেশে দেশে পুলিশদের আঁখি না ভরে।"- কেন এমনটা হয় আমরা কেউ ভেবে দেখি না। এর জন্য কী আমরা একটুও দায়ী না? আমাদেরকে বদলাতে হবে, তবেও তারা বদলাবে। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর লেখার জন্য।

ডি,এম,কামরুজ্জামান।

হাসিব এর ছবি

আপনে কি বিদেশে আমাগো যে স্টেরিওটাইপিঙে পড়তে হয় সেইটারে হালাল করতে চাইলেন ?

দুর্দান্ত এর ছবি

এর জন্য কী আমরা একটুও দায়ী না?
না রে ভাই। আমরা দায়ী না। দায়ী আমাদের কপাল।

এনকিদু এর ছবি

আমিও বিরক্ত হলাম । ভেবে দেখিনি - এই ধারনা কোত্থেকে পেয়েছেন কে জানে ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এর জন্য কী আমরা একটুও দায়ী না?

কি বুঝাইতে চাইলেন? ভাইঙ্গা কন, আমরা দায়ী হব কেন? আমরা কি কোথাও বোমা মারছি? কারো পিছে আঙ্গুল দিছি? নাকি কারো কান্ধে কাঠাল ভাইঙ্গা খাইসি?
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দ্রোহী এর ছবি

আমেরিকায় আমারে একবার পুলিশে রীতিমতো তাড়া করে ধরেছিলো। আমার অপরাধ সাইকেল নিয়ে স্পীডিং!!!!!!!!!!!!!!!

সাফি [অতিথি] এর ছবি

আপনি ঢালিউডে যোগাযোগ করেন। শাহরুখ খান একবার রিক্সা নিয়ে পাজেরো জিপ কে ধরে ফেলেছিল 'ম্যায় হু না' ছবিতে। উপযুক্ত নায়কের অভাবে দেশে ছবিটা রিমেক করা যাচ্ছিলনা, কিন্তু এখন আর চিন্তা নাই।

দ্রোহী এর ছবি

সাফি ভাই, আমি নায়ক রিয়াজের বিকল্প হিসাবে দুই/একটা ছবিতে কাজ করার জন্য আলাপ করতেছি।

অবশ্য একটা জিনিস এখনো আয়ত্বে আসে নাই। জিনিসটা হইলো এইরকম-

নায়িকাকে গুন্ডারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। নায়িকার আর্তনাদে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। তখন দেখা যায় ২০ তলা বিল্ডিংয়ের উপর দিয়ে একটা বালিশ উড়ে আসছে। বালিশটা মাটিতে পড়ার আগেই সব গুন্ডা কুপোকাৎ।

আমি উড়ে আসা পর্যন্ত পারি কিন্তু গুন্ডাদের কুপোকাৎ করার আগেই মাটিতে ল্যান্ড করে ফেলি। কী করতাম? বুদ্ধি দেন।

বর্ষা এর ছবি

ইয়ে তুমি কষ্ট করে অনিকেতদার সাথে যোগাযোগ করো---এক্টা লোহা পকেটে রাখবা আর দুই দিকে বিশাল দুইটা চুম্বক থাকবে। মারপিত শেষে লোহা ফেলে দিবা
********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

দ্রোহী এর ছবি

সব্বোনাশ!!! অনিকেতদা বাংলা ছবিতে অভিনয় করেন নাকি?

এনকিদু এর ছবি

না, ফাইটিং কোরিওগ্রাফার হইছেন তিনি ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সাফি এর ছবি

বর্ষা আপাতো মারাত্মক বুদ্ধি দিসে! আমি তো ফার্স্টে ভাবসি বালিশটা নায়ক জসিম! তাই বলতে নিসিলাম বাদবাকী শত্রুর উপরের বালিশ পড়লেই হয়।

হাসিব এর ছবি

এইখানে আমারেও একবার পুলিশে ধরছিলো । অপরাধ আছিলো সিটি সেন্টারে সাইকেল হাকাইতেছিলাম । আমারে ধৈরা নিয়ে রাস্তার পাশে ৬ ইঞ্চি চওড়া এক সাইনবুড দেখায়া কয় এইদেহো এইখানে সাইকেল ঠেলনের নিয়ম । সেইবেলা আরকিছু না করলেও হুমকি দিছে নেক্সট টাইম দেখলে ২০ ইউরো জরিমানা ।

খেকশিয়াল এর ছবি

সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাগের মধ্যে মীরমদনের কামান নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও ঢাকার নাগরিক পুলিশ আমাকে কিছু বলবে না, কাক দেখবে, নক্ষত্র দেখবে, ভালোবাসবে চলিষ্ণু মেঘ আর আশ্চর্য মেঘদল।

হো হো হো

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

_________________________________________

সেরিওজা

রেশনুভা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

একদিন সন্ধ্যায় সিটি সেন্টার থেকে ইউনি ক্যাম্পাসে ফিরছিলাম। সেইদিন পুলিশের ডরে ছিলাম পুরোটা পথ। কারণ, সাইকেলের হেড লাইট ছিল না। ধরতারেনাই। হাসি

রাহিন হায়দার এর ছবি

আমারে একদিন ধরে ব্যাগ সার্চ করসিল মালিবাগ রেলগেটে। লম্বা চুল গোঁফ দাড়ি সহ চেহারার যে হাল ছিল, তাদেরকে দোষ দেয়া যায় না মনে হয়।

________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

হাসিব এর ছবি

ক্যান ক্রিমিনালরা সবাই লম্বা চুল দাড়ি রাখে নাকি ? অনেকদিন আগে টপটেররদের ছবিসহ পোস্টার বানানি হৈছিলো । সেইখানে আমি কাউরে লম্বা চুল দাড়িওয়ালা দেখছি বলে মনে করতে পারতেছি না ।
এক হৈতে পারে বাংলা সিনেমায় ভিলেইনগুলোর ঐরকম লম্বা চুল দাড়ি থাকে । তো সেইটা দেইখাই কি বাংলাদেশের পুলিশরা ক্রিমিনাল প্রোফাইলিং করে ?

হিমু এর ছবি

সিনেমায় শুধু ভিলেনেরই লম্বা চুল থাকে না, নায়ক পুলিশের ইন্সপেক্টর হলে তারও বাবরী কেশ থাকে। বাস্তবের পুলিশের মাথায় থাকে বাটিছাঁট। তারা জানে তারা চাইলেও ঐরাম রাখতে পারবে না। এই কারণেই ঠোলাপুঙ্গব আর হাঁটুশার্দুলরা লম্বা চুল পাইলেই চেইতা যায়।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

হাসিব এর ছবি

এইটা একটা কারন হৈতে পারে । হিংসিত প্রতিহিংসা ।

ভুতুম এর ছবি

বাংলাদেশের পুলিশ ভালু, ধর্তার্লে পাস্পুর্ট চায় না।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

এমনকি পারিবারিক দেয়ালিকার একটি সাংবাদিকের পরিচয় পত্রও দেশে ঠোলাদের মুখ কালো করে দিতে যাদুর মতো কাজ দেয়। দেঁতো হাসি

অনেক আগে শোনা এক পরিচিত বিনোদন প্রদায়কের কাহিনী>

ঠোলা: কি করস?
প্রদায়ক: সাংবাদিক
- দেখি আপনার আইডি কর্ডি
(ভাবের সহিত আইডি কার্ড প্রদান)
ঠোলা: (আইডি দেখে) ফিচার কন্ট্রিবিউটর মানে কি ভাই?
- কুটনৈতিক ও আইনশৃংখলা বিষয়ক সাংবাদিক
- ও আচ্ছা আচ্ছা... বুঝেন তো ভাই। সবাইকে যাচাই করে দেখা লাগে। চেহারা দেখে তো আর বোঝা যায় না। আপনারা সাংবাদিকরা তো সবই বুঝেন...আমার শ্বশুর বাড়ির পাশের এক সাংবাদিক ভাইয়ের বাড়ি। আমার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক...
দেঁতো হাসি
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

যহন নটরডেমে পড়ি- তহন চারিদিকে অনেক রেগুলার বোমা ফুটে। এইরকম একদিন কই জানে বোমা ফুটসে, আম্মা বাসা থেকে ফোন কইর‌্যা বলে -তুমি তাড়াতাড়ি বাসায় আইস্যা পড়। তো আমি তাড়াতাড়ি করতে গিয়া সিএঞ্জিতে আসতেসি, আমারে হাইকোর্টের সামনে বিশেষ ব্যারিকেডে থামাইলো। এক পুলিশ আইডি দেখে আর আরেকটা মেটাল ডিটেক্টর দিয়া
আমার ব্যাগ হাতায়। হঠাৎ ব্যাগ থিক্যা কীসের য্যান গন্ধে ডিটেক্টরখানা চিক্কুর দিলো...। আমি , পুলিশ - তিনজনেই ডরায়া গেলাম।

পরে দেখলাম- ঐটা আমার জ্যামিতি বক্স। দেঁতো হাসি

_________________________________________

সেরিওজা

দুর্দান্ত এর ছবি

হের পলিতসাইগেলিবটার মিশায়েল আন্দ্রে হেক্টর বেয়ারলিন উনফাল বেয়ারলিন, যিয়াফত এর ডিটেল কই?

হিমু এর ছবি

অনেক ছবি। পোস্টপ্রসেস করি। রয়েসয়ে দিবোনি।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- জার্মানীতে পাঁচ বছর ধইরা চইষা বেড়াই, আশেপাশের দুয়েকটা দ্যাশেও আমার পায়ের পবিত্র ধূলা পড়ছে, কিন্তু ঐ অক্টোবরফেস্টের আগে আর কখনো পাকড়াও খাই নাই। আমি গোনা গুইনা হিসাব মিলায়া দেখলাম। তুই আর হাসিব্বাই, ওরফে এই দুই লুলাসর্দার ছাড়া বদ্দার সঙ্গেও টুকটাক ঘুরা হৈছে। কিন্তু ভেজালটা ঘটলো তোরা দুইটা, লুলাসর্দার সাথে থাকার সময়েই। অক্টোবরফেস্টেও, ভুইৎসবুর্গেও।

আমার লগে থাকলে আমার পূণ্যির কারণে তোর মতো অকালপাপীরা বাঁইচা বুইচা যায়। কিন্তু কালকা উলটা আমিই ফাইস্যা গেছি, বুঝ তাইলে এইবার তোর মনহুঁশ চেহারার কত্তো গুণ! আর লগে যা লাগাইয়া আইছোস, আরে আমি ঠোলা হইলে তো তোরে কান ধইরা ইশটিশনে বটনি লওয়াইতাম।

তুই ব্যাটা গুনী মানুষ চিনলি না। হাসিব্বাইয়ের অক্টোবরফেস্টের বেলেল্লাপনা ঢাকতে আমার নামে কীসব হাবিজাবি কস, এইখানে সেইখানে। পূণ্যবান মানুষের পূণ্যে বার্জার রঙের ছিটেফোঁটা লাগাইতে চাস, বেআক্কেল! এখনও কই, লাইনে আয়, আয় সত্য আর গুলাবের পথে।

আজকে আসার সময় ঐ সাত সকালেও ট্রেনে আমারে ধরছে হালার্পুতেরা। তুই কিয়ের লাইগ্যা স্টেশন পর্যন্ত আইছিলি আমার লগে? মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

ঠোলাম্যাগ্নেট আর কয় কারে!

এরপর তুই টয়লেটে গেলেও দেখবি পুলিশ আইসা আউসভাইস চাইতেসে। কী করবি বল। চেহারার উপর তো কারো হাত নাই। এই যে পুলিশ চোখ পাকিয়ে ট্রেনে তোরে আধাঘন্টা ধরে দেখলো, শুঁকলো, তোর কি মনে হয় না, তোর চোরের মতো হাবভাবই এজন্য দায়ী?

আমার ফেসবুক প্রোফাইল পিক দেখে তোর বাতিল থোবড়ায় একটা পবিত্র, সমাহিত ভাব আনার পিড়াকটিশ কর। দেখবি বালিকাপুলিশ লুল আর ফুল নিয়ে কাছে আসবে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

হাসিব এর ছবি

। কিন্তু ভেজালটা ঘটলো তোরা দুইটা, লুলাসর্দার সাথে থাকার সময়েই।

কিন্তুক আমাগো কাছে ভিন্ন ড্যাটা আছে মনে হয় । মনির হোসেন যেইকয়বার গেছে সেইকয়বারই ঝামেলা হৈছে । মনির হোসেন যায় নাই ঝামেলাও হয় নাই ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ, ভুইৎবুর্গে নামার পরে যে কুত্তা লৈয়া আজান দিয়া ধরলো, তখন তো আমি আছিলাম লগে! মহিলা পুলিশ দেইখা কে জানি লুল ফেল্তে ফেল্তে ঐখানে গিয়া হাজির হৈছিলো!

ড্যাটা যদি ভিন্ন কথাই কইবো, তো আমি যে আধা ঘন্টা পরে একই রাস্তা দিয়া টইটই করলাম প্রায় পনেরো মিনিট, আমারে তো কেউ জিগাইলো না, "কই, অক্টোবরফেস্টের তোমার লগের ঐ লুল্ক্রিমিনাল গুলা কই!"

কেন জিগায় নাই? কারণ জানে, এইরকম নান্নামুন্না খোমার কারো লগে লুল্ক্রিমিনালদের পান্তামুক থাক্তে পারে না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

আর কাসেল থিকা কোয়ল্ন যাওনের সময় যখন ট্রেনে তুই একা, তখন তরে ধর্ছিল ক্যান? আমি তো একা দোকা কত জায়গায় যাই, আমারে তো কখনো ধরে না!

তর লগে আর ঘুরাঘুরি করন যাইবো না। বদনাম হয়া যাইতেছে। এরপর আমরা বসুম এক কারে, তুই আরেক্টায়। আমরা যামু এক বাসে, তুই আরেক্টায়। আমরা খামু এক দোকানে, তুই আরেক্টায়। ঠোলাম্যাগ্নেট কোনহানকার।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- দেখ, তুই আমার হাতে পায়ে ধইরা রিকুয়েস্ট কর্ছিলি যাতে আমরা বিটুইন কাইজ্যা না কারি। কিন্তু তুই খালি হাইড্রোজেন বোম্বার সলতায় তোর নাপাক হাত দিয়া দিয়াশলাইয়ের কাঠি খোঁচাইয়াই যাইতাছস, খোঁচাইয়াই যাইতাছোস।

সাত সকাল বেলা একটা পাতলা খদ্দরের পাঞ্জাবি, তার উপর মহা টাইট একটা কালা জ্যাকেট লাগাইছোস, হেরপর জিন্সের লগে সাদা রঙের ক্যাডস, মাথায় টুপি যে মাশাল্লা একটা লাগাইছোস, দিনে দুপুরে দেখলেই লোকে ডরাইবো, আর ঐটাতো ভোর বেলা, কান্ধে ঝুলাইছোস একটা বিশাল ব্যাগ এইখানে থাইমা থাকলেও হইতো। তা না, হাতে লইছস আবার পলিথিনের ব্যাগ। আরে ব্যাটা, ঠোলা ক্যান আমাগো লুদমিলাও তোরে ঐ অবস্থায় দেখলে মনে করতো এই মাত্র কাকরাইল থাইকা হয় ফজর পইড়া বাইরাইছোস নাইলে ফজরের পর এস্তেঞ্জা সাইরা কাকরাইলে ঢুকতাছোস!

ঐ অবস্থায় যে রাস্তা দিয়া একটা পুলিশের টহল গাড়ি গেছিলো তুই দেখছিলি? তোরে যে নাইমা তখন প্যাদায় নাই, তোর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া উচিৎ। তুই ইশটিশন থাইকা কাটা পাতলা দিয়া গেলিগা। আর ট্রেনে উঠার পর সাদা পোষাকের ঠোলায় ধরলো আমারে। বিশাল বড় সালাম দিয়া কয়, "বড় হুজুরটা কই?"

আমার ম্যাগনেট হইতে কুনই সমস্যা নাই। কারণ তোরে ম্যাগনেট উপাধি দিয়া পোষাইবো না। তুই হইলি ম্যাগনেট-পোল! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

তুই রংকানা যে লাল আর সবুজে প্যাচ লাগাইয়া ফালাস, অহরহ রাস্তা পার হইতে গিয়া হর্ন খাস, সেইটা জান্তাম। কিন্তু সাদা আর কালার মধ্যে যে ফারাক্কর্তারস্না, এইটা আজকে বুঝলাম। কালা বুটরে সাদা কেডস বানায় দিলি!

আমি আগাইয়া না দিলে তোরে ইষ্টিশনের সামনেই ঠোলায় ধরতো। ট্রেন মিস করতি। তারপর দুই ঘন্টা হাজতে কাটাইয়া দশটা তেইশের আপ ধরতি। ঠোলায় লোকাল গার্জেন হিসাবে তো সেই আমারেই ফোন দিতো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমি তো তাও গাড়ির হর্ণ খাই, আর তুই যে হেবোর দৌড়ানি খাস, ঐ কাহিনী আমি কৈলাম এখনো ছাড়ি নাই খালি তুই আমার দোস্ত বইলা। মাগার, খাউজ্যাবিনা কৈলাম, সিংখের কেশর দিয়া তোর ঐ নোংরা কান একদম খাউজ্যাবিনা! পরে দেখবি আমি আর তুই হাইডেলবার্গের সেই পাহাড়ের চূড়ার মতো মারামারি কর্তাছি আর জনৈক লুল্ফেলক সেইটা ভিডিও কর্তাছে! এমনেই তোর বিয়া হয় না, তার উপর সেই লুল্ফেলক যদি উক্ত ভিডিও আনশাউয়েন কইরা তোর ফিল্ডের বারোটা বাজায়, তাইলে কী করবি?

আমি তোর ভালো চাই বইলাই কইলাম। হাজার হোক, মুরুব্বি মানুষ আমি তোর। আমি তোর ভালো না দেখলে আর কে দেখবে? তবে জগতের অন্যসব পুলাপাইনের মতোন তুইও মুরুব্বী দেখলে শ্রদ্ধামদ্ধা করোস না, পাপীষ্ঠ কোনহানকার!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

বনে একবার গিয়া চেহারা দেখাইয়া আসছি দেইখাই হেবো তোরে কিলায় নাই এখনো, তুইতোকারি কইরা ছাইড়া দিসে। আর কতদিন তোরে বিনামাগ্না এইরাম পৃষ্ঠপোষকতা কৈরা যামু? তাও যদি কৃতজ্ঞতাবোধ বইলা কিছু থাক্তো তোর।

থাক, আজকে আর শাসন করুম্না। কামাছে। বৃদ্ধলুল তোর বেয়াদবি দেইখা হাস্তেছে, তারে আর মজা না দেই।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এই তো স্বীকার করলি দোস্ত তোর চেহারার মাহাত্য। হুদাই আমি তোর লগে ক্যাচাইলাম এতোদিন!

হেবো আসলেই বুঝছে যে দুনিয়াতে চেহারায় তারে কুপোকাত করার মতো কেউ আছে। সে আর যে সে কেউ নয়, কাসেলপুরী তাবলীগি মোঃ আবুল হোছেন ওরফে হিমু সুদানী। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

হুমম। গুপী বাঘা ফিরে এলো দ্যাখস্নাই? বিক্রম নামের সেই বালকের নিষ্পাপ দৃষ্টির সামনে জাদুকর ক্যাম্নে নিজের লুঙ্গির নিচে আত্মগোপন করতে যায়? হেবোর কেসটাও তাই।

তোর ভাগ্যটা খ্রাপ রে। চোরের মতো চেহারাছবি ... হেবো তোরে মাইয়াগো সাম্নে তুইতোকারি করে ... পুলিশ তোরে উঠতেবস্তে ধরে ... তুই মুখে একটা ব্যান্ডেজ বাইন্ধা ঘুর। পুলিশ জিগাইলে কবি শেভ করতে গিয়া মুখের ছালচামড়া উইঠা গেছেগা।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

আরিফ জেবতিক এর ছবি

সিলেটে পুলিশের কথ্য নাম ছিলো "খনাই"। সেটার উৎপত্তি "ঠোলা"র মতোই রহস্যঘেরা।

খনাই নয় , কথাটা কনাই।
কনেস্টবল এর অপভ্রংশ হচ্ছে কনাই।

বন্যরানা [অতিথি] এর ছবি

সিলেটে অনেকের মুখেই ক এর উচ্চারন ক এবং হ (কিংবা খ) এর মাঝামাঝি বলে মনে হয়েছে। সেক্ষেত্রে 'কনাই' হয়তো অধিকাংশ সময় 'খনাই' ই শোনায়।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

সেই যে কবে আপনার সিয়েঞ্জি থামালো, মনে পড়ে...

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহাহাহাহাহা...সকালে ঘুম থেকে উঠে এর চেয়ে ভাল কিছু আর হয় না। আমারও কিছু অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু ম্যাগনেট সাহেবের মতন অত আহামরি কিছু নয়!

আজ সকালেও নাকি বেচারা ধরা খাইছে!! কি আশ্চর্য মহাকর্ষণ!

অতিথি লেখক এর ছবি

সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাগের মধ্যে মীরমদনের কামান নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও ঢাকার নাগরিক পুলিশ আমাকে কিছু বলবে না, কাক দেখবে, নক্ষত্র দেখবে, ভালোবাসবে চলিষ্ণু মেঘ আর আশ্চর্য মেঘদল... হাঃহাঃহাঃ! *তিথীডোর

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হায়রে পুলিশ... এই জীবনে কতোবার যে ধরলো... বার কয়েক থানা হাজতে রাইত কাটানো আর একবার জেল হাজতে থাকনের অভিজ্ঞতা নিয়া আমি আর এই পোস্টে কী কমু?

আপনাদের কপাল তবু অনেক ভালো, খালি পাসপোর্ট দেখাদেখি পর্যন্তই থাকে... আমার পুলিশাভিজ্ঞতা নিয়া ইবুক করা যাইবো।
তয় এখন আমি বিরাট ভদ্রলোক হইছি। বিয়ার পর থেকা আজ পর্যন্ত পুলিশ ধরে নাই হাসি
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমার পুলিশাভিজ্ঞতা নিয়া ইবুক করা যাইবো।

করেন



অজ্ঞাতবাস

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

স্কুল লাইফের শেষদিকে পুলিশাভিজ্ঞতা বলতে এরশাদ বিরোধী মিছিলে পুলিশের মাইর খাওয়া...
কলেজ লাইফে পুলিশাভিজ্ঞতা বলতে ঘাদানিকের হয়া গোলাম আযম বিরোধী তৎপরতায়...
এটুকুই বলার মতো কিছু...

এরপরে যা কিছু, তার ৮০% মদবিহারে... বা মারামারিতে... এগুলা ইবুকের বিষয় হয়?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এরপরে যা কিছু, তার ৮০% মদবিহারে... বা মারামারিতে... এগুলা ইবুকের বিষয় হয়?

পুরা সেরকম বিষয় হয় ....



অজ্ঞাতবাস

যুবরাজ এর ছবি

আমার পোস্টিং তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এ। ঘটনার স্থান বনানীর যাত্রা দোকানের সামনে।রোজার ঈদের আগের দিন।
পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জ়েণ্ট আমাদের আটকালেন রাস্তায়। উদ্দেশ্য ঈদ উপলক্ষে কিছু নগদ নারায়ন প্রাপ্তি।আমরা ছিলাম কালো পালসার বাইকে।আমি এবং আমার এক কোর্সমেট যে র‌্যাব এর আডজুট্যান্ট ছিল এবং মহা ঘাউড়া।
সাজ়েণ্ট সাহেব আমাদের নিস্পাপ চেহারা দেখে বুঝতেই পারেন নি যে উনার কপালে সেদিন কি দূর্ভোগ অপেক্ষায় ছিল! উনি ধারনা করেছিলেন নর্থ-সাউথে পড়া ধনির দুলাল।
আমরাও নাটক জমার জন্য নিজেদের পরিচয় দেইনি।
এখনো হাসি সেই দিনের কথা মনে করে...।

খুব ভালো একটা শিক্ষা হয়েছিল সেদিন তার। সেটা পরে কোন একদিন শোনাবো।

------------------------------------------------------------------------- হাতের কাছে ভরা কলস, তবু তৃষ্ণা মিটেনা

হাতের কাছে ভরা কলস, তবু তৃষ্ণা মিটেনা।
----------------------------------------------------------------------------

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ভাই যুবরাজ, আপনার রাজ কপাল... আপনেরে স্যালুট
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

তুলিরেখা এর ছবি

আরে বয়স হয়েছে কী দেখতে কি দেখি! শিরোনামটা আমি তো প্রথমে পড়েছিলাম "জার্মানির ঠেলা"! হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ওসিরিস এর ছবি

সিলেটে তখন রিকশাঅলাকে ড্রাইভার না বললে তারা মনক্ষুণ্ণ হতো, এখন পরিস্থিতি কী জানি না

কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম সিলেট। ড্রাইভার বলে ডেকেছিলাম বারকয়েক, তাকাও না ঠিকমত। তারপর থেকে পাইলট বলেই ডেকেছি। লাভ হয় নাই। একসপ্তাহ ছিলাম, একটা রিকশাও ঠিক কর্তে পারি নাই।
এরপর গেলে সুইস নাইফ, নাঞ্চাক্কু নিয়া যামু।

***********************************************
সিগনেচার কই??? আমি ভাই শিক্ষিৎ নই। চলবে টিপসই???

হিমু এর ছবি

ঐ গানটা আবার মনে পইড়া গ্যালো

নাঞ্চাকুতে নয় ♫♪
সামুরাইতে নয় ♫♪
পেম পেম পেম দিয়ে মন করেছি জয় ♪♫♫



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

অতিথি লেখক এর ছবি

নটরডেম -এ থাকতে একবার এক ছিনতাইকারী ধরছিলাম, অই ক্ষুধানিবারণের ওই খানথিকা। কিছু উত্তম মাধ্যম দিতে যামু, তার আগেই আমাগো এক বখিল সহপাঠী ঠোলাদের ডাইক্য নিয়া আসলো নিকটবর্তী ফাঁড়ি থিকা। ওই দিন আবার পাঞ্জাবীর লগে জিন্স পড়ছিলাম, আমার চুল বরাবরি ঘাড় পর্যন্ত, আর নচিকেতার দাড়ি। তো আহাম্মক ঠোলা ভাইজান আইস্যা আমারে জেরা শুরু কইরা দিসিলো। এই দৃশ্য এক সচেতন (!) অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তিনি আম্মাজানরে ফোন দিয়া কয়, বিজনরে পুলিশ ধইরা লইয়া গেছে। বেচারী মা আমার এম্নেই হার্টের রোগী, সে আইস্যা ফাদারের রুম এ কান্নাকাটি করতেসে। আমি ঝামেলা শেষে সুবোধ বালক হয়ে ক্লাশ করতেসি। এর মধ্যে ফাদার থানায় ফাদার বকুলরে পাঠাইছে। ছুটির পড়ে বাইরে আইসা দেহি আম্মা বিলাপ পাইড়া কান্তাসে... কন দেহি ক্যমন লাগে ।

---নীল ভূত।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

পুলিশী অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই হয়েছিল, কিন্তু তা-ও সুখকর নয়। মালিবাগ মোড়ে টেম্পু থেকে নেমেই দেখি লোকজন ভিড় করে ১২/১২ বছর বয়সী একটা ছেলেকে চুড়ান্ত উৎসাহে চর-থাপ্পড় মারছে। কাছে গিয়ে দেখি মারার লিড দিচ্ছে লুঙ্গীপরা এক লোক। দেখে এতো খারাপ লাগলো যে কেন মারছে, কী দোষ না জেনেই লোকটাকে বললাম, "ভাই ছেড়ে দিননা... বাচ্চা ছেলেতো"।

ব্যাস! অমনি লোকটা তেড়ে এলো আমার দিকে। "এতো বড় সাহস তোর, পুলিশের মুখের উপর কথা?"... বাকীটা আর নাই বললাম মন খারাপ

আমি কিভাবে জানবো যে লোকটা আসলেই পুলিশ, রাজারবাগ পুলিশলাইনে থাকে... এবং লুঙ্গীপরে ঘুরতে বেরিয়ে একটু দেশ "শাসন" করতে বের হয়েছেন!

-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কানাডা রক্স চলুক

আজ ৬ বছরের উপরে হয়েছে। একদিনও কেউ জানতে চায়নি আমি কোথা থেকে এসেছি কেন এসেছি। পুলিশ তো দূরের কথা। বাসায় দুয়েকবার পুলিশ এসেছে, কিন্তু সেটা ভিন্ন কারণে। একবারই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল-- হাইওয়ের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছবি তুলছিলাম। ততক্ষণে ছবি তোলা শেষ। খালি জিজ্ঞেস করেছিল কোথায় যাচ্ছি, গাড়ি কার? লাইসেন্স নিয়ে ২ মিনিটের মধ্যেই ফেরত দিয়েছিল। হাসি

দময়ন্তী এর ছবি

আহারে! আধুলিমশাইয়ের পুলুশাকর্ষণী ক্ষমতা দেখে হাসতে হাসতে আমার চোখে জল এসে গেল৷ গড়াগড়ি দিয়া হাসি

দিল্লী অঞ্চলে পুলুশের সাথে আমার কিছু মিথস্ক্রিয়া ঘটেছিল৷ সময় পেলে কখনও লিখবোখনে৷
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- মোঃ আবুল হোছেন আপনারে কি আর সাধে 'গালফোলাদি' ডাকে! ভালো মানুষের নামে প্রপাগাণ্ডায় সাড়া দেন যে খালি!

বুঝছি, এই লেখার একটা অরিজিনাল ভার্সন ছাড়াই লাগবো মাঠে। সত্য চাপা থাকতে পারে না। আবুইল্যার খপ্পর থেকে সত্যকে ঠেলে বের করে নেয়া উচিত আমাদের সকলের।

আমি শিউর, এই লেখা পইড়া সবার মনে হৈতাছে আবুইল্যার মনহুঁশ খোমা দেইখা মহিলা পুলিশরা তার উপর লুল্ফেলতে হাজির হৈতেছে আর সেই লুল্ফেলায় আমি হয়া দাঁড়াইছি একমাত্র কাবাব ম্যায় হাড্ডি! মন খারাপ

সময়মতো সব কিছুর বিবাদভঙ্গ করা হবে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দুর্দান্ত এর ছবি

ঝাতি সময়মত'র মুলা খাইতে ছায় না।
অবিলম্বে মিম্‌হাবাদশা আর পলিত্‌সাইলুলনার লুলোলিলেখেলার আনকাট অর্জিনাল ভার্শন রিলিজ দেওয়া হোক।
ঝাতিকে অন্দকারে রেখে বিবাদভঙ্গ সম্বব না।

দময়ন্তী এর ছবি

আহাহা দিল পে নেন ক্যান? দ্যাখেন সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হয় লোক আপনারা দুইবন্ধু কেউই ভাল্না| আপনে শুরু করসেন "দন্তময়ী' দিয়া, আমার অমন সুন্দর নামটাকে অ্যাক্কেরে ইয়ে কইরা দিসেন| আপনার দেখানো কুপথ ধরেই হিমু গিয়া "গালফোলাদি' বানাইসেন| এইবারে পুলুশে হিমুকে দেইখ্যা হয়ত তেমন খারাপ পায় না, তা সেইটা আমি কি করতে পারি! আপনে কিসু একটা করেন যাতে পুলুশে আপনেরে দেইখ্যা ভালা পায়| দেঁতো হাসি

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

হিমু এর ছবি

দময়ন্তীদির মতো ভালুলুক দুনিয়াতে আমি ছাড়া খুব বেশি নেইকো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

দময়ন্তী এর ছবি

তা বটে| তবে কিনা আপনার নামে এমন কটা গপ্পো জানলেও আমি বেশ খুশী হব| দেঁতো হাসি
সত্যের খাতিরে জানিয়ে দিলাম আর কি! চোখ টিপি
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মামুন হক এর ছবি

আমার জীবনেও অনেক ঠোলা কাহিনী আছে। লিখবো কোন একদিন, রয়েসয়ে। আপাতত পানিদস্যু মশাইকে গুনে গুনে খান পাঁচেক তারা দিয়ে যাই। শব্দগুলো যেন আপনার বশংবদ হয়ে আছে,কবে যে আপনার মতো করে দুই এক ফোঁটা গদ্য রচনা করতে শিখবো!

লীন এর ছবি

মজা পেলাম। তবে রেলগাড়ি ছাড়ার পর নিষ্পাপ প্রমাণিত হওয়ায় সমবেদনা রইলো।

______________________________________
লীনলিপি

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই পোস্টে মনির হোসেনের অবমাননা করা হয়েছে। জাতিকে একটু হিন্টস দেই। প্রথমবার পুলিশ চেকের সময় মনির হোসেন সাথে ছিলো না। সুতরাং ঠোলা ম্যাগনেট হিসেবে তাকে কোনোমতেই 'ক্রেডিট' দেয়া যায় না। ঘটনা মোটামুটি এরকম। ট্রেন থেকে নেমে আমি একটু তাড়াতাড়ি হাঁটা ধরি, দেখি দুই মহিলা পুলিশ কুত্তারে মুখে ঠুলি পরাইয়া যাত্রিদের পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত। কিছুদূর আগাইয়া গিয়া দেখি হিমু আর বদ্দা আসে না। ভাবলাম, কাহিনী কি! আমি আবার পিছাইয়া গিয়া দেখি তারা ওই দুই পুলিশের কব্জায়। আমি আস্তে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কি? তারা তখন পাসপোর্ট বের করতে ব্যস্ত। এক পুলিশ কয়, "তুমিও এদের লগে নাকি? পাসপোর্ট দাও!" আমি পাসপোর্ট নিয়া ঘুরি না, হেলথ ইন্সুরেন্সের কার্ড দিলাম।

এক পুলিশ সেই কার্ড আর অন্যদের পাসপোর্ট নিয়া মুবাইলে ফোন কইরা ডেটা চেক করতে ব্যস্ত। অন্যজন হিমুর সাথে আলাপ জুইড়া দিছে। হিমুর পরনে ছিলো একটা গালিভার সাইজের রঙচঙা পাঞ্জাবির ওপর লেদার জ্যাকেট। পুলিশ জিগায়, "তুমি কি সেনেগাল থিকা আইছো?" সে মাথা নাড়ে, জাতীয়তার পরিচয় দেয়। পুলিশের চোখে তবুও সন্দেহ, কয়, "কি করো? ধর্ম প্রচার নাকি?" হিমু সজোরে মাথা নাড়ে, বলে, "পড়াশোনা করি।"
"কোন সাবজেক্ট?"
"এনার্জি"
"আরে তুমার এনার্জি নিয়া আমার টেনশন নাই, কি পড়ো তাই কও"
আমি এর মধ্যে হিমুকে বলি, "একটু বুঝাইয়া কও।"
ঠোলা আমার দিকে চোখ গরম কইরা কয়, "তোমারে কিছু জিগাইছি? কথার মধ্যে বাম হাত দাও ক্যান?" আমি বাম হাত দেই না।
তারা এনার্জি নিয়া আলাপ করে, এনার্জির প্রকারভেদ নিয়া আলাপ করে। একবার মধ্যপ্রাচ্যের আলাপ উঠায় আমি কান খাড়া করে সেই আলাপ শুনি। আবার সন্ত্রাসী বানিয়ে না ফেলে!

নাহ! হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। মিশর, সৌদি, আমিরাতের মতো দেশগুলায় কেমনে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তাই নিয়া আলোচনা চলছে!

আমি অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখি। কিছুক্ষণ পরে সবার কার্ড /পাসপোর্ট ফেরত দিয়া কয়, তুমাগো ভ্রমণ সুন্দর হোক।

আমি একটু আগাইয়া বদ্দারে জিগাই, ধরলো কেমনে? আর তুমরা দেরি করলা ক্যান? বদ্দার তখন মেজাজ খারাপ, কয় "একটু বিড়ি ধরাইতে গেছিলাম -ড়া!"

এখন কথা হলো, মনির হোসেন এর মধ্য আসে কই থিকা?

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হিমু এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ দোস্ত কান্তাছি! এক্কেরে মাটিতে থাবড়াইয়া বিলাপ পাইড়া কান্তাছি।

দোস্ত, তুই ঠিকই কইছোস। আসলেই আমি ম্যাগনেট হৈয়া গেছিলাম। কিন্তু কী করুম ক। তোর মতো এইরম একটা জলজ্যান্ত সুদানী মহাশক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র আশেপাশে থাকলে আমার মতো নাদানের ম্যাগনেট না হয়া উপায় কী! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মুস্তাফিজ এর ছবি

সময় যখন আছে তখন আপনারা কি আপনাদের ব্যাগ খুলে দেখাবেন

শালা (এইটা একটা গালি)

ভালো কথা, পুলিশের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক।

.........................................
I think what I think because that's how I am. You think what you think because that's how you are.

...........................
Every Picture Tells a Story

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো
হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো হো

জেনে ভালো লাগল যে মামু খালি আমাকেই ধরে না, আমার মত ভুক্তভোগী মনে হয় আরো অনেক আছেন। মামু কাহিনী তো কিছুটা আগেই বলেছি, তবে এনকাউন্টার আরো হয়েছে সেগুলাও না হয় পরে রসিয়ে রসিয়ে বলা যাবে। মামুর বদলে মামী হলে মনে হয় ভালু হইত, তারমধ্যে যদি তেনারা একটু হটি হয় চোখ টিপি তবে গাড়ির বাইরে থাকতে আমাকে মামু ধরে নাই এখন পর্যন্ত দেঁতো হাসি
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অমিত এর ছবি

আমরিকায় আমারেও একবার পুলিশ ধরছিল। তেমন কিছু করি নাই, খালি স্পিডিং করতে করতে যে পুলিশের গাড়িকেও ওভারটেক করছি,সেটা রাতের বেলা বুঝতে পারিনি মন খারাপ
নিতান্তই ভদ্রলোক, তাই আমারে আর কানে ধরে দাড় করায় রাখে নাই। ৩৫০ ডলাররে টিকিট হাতে ধরায় দিয়েছিল খালি।

অতিথি লেখক এর ছবি

হিমুদা,
বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম নতুন করে সাঁজানো হয়েছে।
সাঁজানোর ধারাবাহিকতার ইতিহাসও বয়াপক!

-মজনু

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।