"বাংলাদেশ ক্রিকেট, আমি সমর্থক বলছি..."

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
লিখেছেন ইশতিয়াক রউফ (তারিখ: রবি, ০৬/০৩/২০১১ - ৬:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পৃথিবী এক কালে খুব সহজ, স্বাভাবিক একটা জায়গা ছিলো। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় কিছু বিজ্ঞানী এর বিভিন্ন গোপন রহস্য প্রকাশ করতেন। সেই তথ্যের বিস্তারও ছিলো একমাত্রিক -- বিশেষজ্ঞ কেউ আবিষ্কার করতেন, বাকিরা প্রচারমাধ্যম থেকে সেই সংবাদ জানতেন। আজ পৃথিবী অনেক বদলেছে।

এই যুগে ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্র অচল। আগুন জ্বলবার জন্য বারুদ লাগে না, ডিভিডেন্ড দেওয়ার জন্য মুনাফা লাগে না, পত্রিকায় রিপোর্ট লিখবার জন্য সশরীরে উপস্থিত থাকা লাগে না। তথ্যের বিস্তারও এখন একমাত্রিক নয়। ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ, ইত্যাদির প্রসারের সূত্র ধরে সবাই এখন নিজের মত প্রকাশ করছেন। গতিময় গণমাধ্যমের আধিক্য আর সব ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াসাংবাদিকতাকেও আহত করছে। আগে একটি খেলার পর একজন রিপোর্ট লিখতেন, বিশ্লেষণ প্রকাশিত হতো সপ্তাহে একবার। ই-জেনারেশনের কারণে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এখন অনেক কিছু লিখতে হয়, অনেক দ্রুত লিখতে হয়। ফলাফল, যুক্তি-আবেগ গুলে খেয়ে নিজের মর্জিমাফিক যে যা মন চায় বলছেন।

হাওয়ার উপর তাওয়া ভাজার এই মোচ্ছবে আগের মতো রয়ে গেছে শুধু একটা ব্যাপার। আজ রিপোর্টারের সংখ্যা দুই থেকে দুই হাজার হয়েছে। নিয়মিত দর্শকের সংখ্যা দশ লাখ থেকে দশ কোটি হয়েছে। শুধু মাঠে খেলোয়াড়দের সংখ্যা রয়ে গেছে সেই ১১ জন। সংখ্যা যেমন বদলায়নি, তেমনি বদলায়নি তাদের কাঁধের আকার। ছোট্ট ঐ কাঁধে অনেক বেশি মানুষের প্রত্যাশা, উপদেশ, ও আক্রোশ ভর করছে এখন। অনেক বেশি চোখ আজ ওদের দেখে, অনেক বেশি কণ্ঠ আজ ওদের পক্ষে-বিপক্ষে আওয়াজ করে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফর্মেন্স, মাঠের ভেতরে-বাইরে দলের কাজকর্ম, দর্শক-সমর্থকদের আচরণ, মিডিয়া ও অন্যান্য জড়িত ব্যাক্তিদের দায়িত্ববোধ, ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতেই এই পোস্টের অবতারণা। ধান ভানতে এত লম্বা করে শিবের গীত গাইবার কারণ একটাই -- স্পষ্ট করে দেওয়া যে জয়-পরাজয় নির্বিশেষে সকল পরিক্রমায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাথে আছি আমরা। এই আলোচনা আমাদের নিজেদের অলস সময়ের অপচয় ও আত্মতুষ্টির জন্য, দলের কারও উপর চাপ সৃষ্টির জন্য নয়। মাঠের বাইরের অনেক কিছু দলের উপর চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের সেই অবান্তর কাজকর্ম আমাদের মধ্যেই থাকুক, এখানকার আলোচনাতেই সীমিত থাকুক।

*****************************************************************************************************

এবারে মাঠের বাইরের আলোচনায় আসা যাক। ফেসবুক, ব্লগ, ও অন্যান্য মাধ্যমে ইদানীং সর্বাধিক আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে আছেঃ

  • মোহাম্মদ আশরাফুলের দলে থাকা-না থাকা
  • টসে জিতে ব্যাটিং-বোলিং নেওয়া
  • দলনায়ক হিসাবে সাকিবের ভূমিকা
  • মিডিয়ায় বাংলাদেশ দল নিয়ে বিব্রতকর/আপত্তিকর/কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ
  • দলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন না দিয়ে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অতি-সমালোচনা
  • কোচ হিসাবে সিডন্সের ভূমিকা ও কার্যকলাপ

অধিকাংশ বিষয় নিয়েই বিক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তবুও জড়িত বিষয় হিসাবে এগুলো উঠে আসে বারবার। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ইস্যু দিয়ে শুরু করা যাক।

আজক প্রথম আলোয় সাকিব আল হাসানের একটি কলাম প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমত, টুর্নামেন্ট চলাকালে কেন একজন দলনায়ককে পত্রিকায় নিয়মিত বিস্তারিত কলাম লিখতে হবে তা আমার বোধগম্য নয়। মাঠে বাজে ফলাফলের সময় সবাই কিছুটা স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকেন। দলনায়কের জন্য তো তা আরও বেশি প্রযোজ্য। সেই দুর্বলতার কারণেই কি না জানি না, সাকিব আল-হাসান কিছু কথা বলেছেন যা তাঁর স্থিতধী ভাবমূর্তির সাথে প্রচণ্ড ভাবে বেমানান। আশাবাদ ব্যক্ত করা, মাথাগরম "সমর্থক"দের সহিংস আচরণের সমালোচনা, ইত্যাদির পর তিনি প্রাক্তন খেলোয়াড় ও অধিনায়কদের নিয়ে বেশ আপত্তিকর কিছু কথা বলেছেন। সাকিবেরই ভাষায়...

সবচেয়ে খারাপ লাগে, যখন দেখি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররাও আর দশজন সাধারণ দর্শকের মতো কথা বলেন। তাঁরা অনেক বোঝেন, অনেক খেলেছেন, এ রকম পরিস্থিতিতেও অনেকবারই পড়েছেন। তাঁদের কথাগুলোই তাই বেশি হতাশাজনক। একটা জিনিস অন্তত তাঁদের চিন্তা করা উচিত, তাঁরা কী ক্রিকেট খেলে এসেছেন। আমি চাই না কাউকে ছোট করতে। তবে কে কত দূর খেলে এসেছেন, সেটা রেকর্ড ঘাঁটলেই পাওয়া যায়। আমরা জানি, কার কেমন রেকর্ড আছে, কারা কোন ক্রিকেট খেলে এসেছেন, কী ধরনের ক্রিকেট খেলে এসেছেন। এটা স্বীকার করি, তাঁরা ওই সময় শুরু না করলে আমরা হয়তো আজ এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না। তবে আমার মনে হয় না, বাংলাদেশে এমন কোনো ক্রিকেটার আছেন, যিনি এ রকম বাজে পরিস্থিতিতে পড়েননি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়লাম। আমরা দু-তিন বছরে একদিন যে পরিস্থিতিতে পড়ছি, আমাদের তো মনে হয়, তাঁরা প্রায়ই সে রকম পরিস্থিতিতে পড়তেন! ভালো পরিস্থিতির দেখা পেতেন মাঝেমধ্যে। কাজেই সবারই বোধ হয় একটু বুঝেশুনে কথা বলা উচিত। তবে সব সাবেক ক্রিকেটারই যে এমন বলছেন, তা নয়। অনেকে আমাদের দিকে সমর্থনের হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই সমর্থন আমাদের কাছে মহার্ঘ্য।

একই দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে ৫ জন প্রাক্তন অধিনায়কের লেখায় ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার "ময়নাতদন্ত"। সেই লেখাগুলোর লিংকঃ

তাঁদের কথায় যে যুক্তিযুক্ত কিছু নেই, তা নয়। কেউ বলছেন বিপর্যয়ের মুখে এই সমালোচনাগুলো না করলেও হতো। কেউ বলছেন আলোচনা না করলে আপনা থেকেই সমস্যা নিজেকে শুধরে নেবে না।

হাওয়া-বাতাসে আরও কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে, বেনামে অনেকেই "সাবেক খেলোয়াড়" সেজে কথা ছড়াচ্ছেন। বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকায় সেই লিংক ইচ্ছাকৃত ভাবে জুড়ে দেওয়া হলো না। আলোচনাও ঐদিকে না নেওয়ার অনুরোধ রইলো। গুজব গুজবি থাকুক। স্বনামে প্রকাশিত বক্তব্য নিয়েই আলোচনা হোক।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আপনার কী মত?


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

সত্যি কথা বলতে কি মাঠের বাইরে থেকে অনেক কিছুই বলা যায়। বাংলাদেশ দলে এই সাবেক ক্রিকেটাররা যখন খেলেছেন তখনও দেখেছি কে কেমন খেলেছেন? বলার মত কিছু অর্জন আছে শুধু খালেদ মাসুদ আর আমিনুল ইসলামের। আর খালেদ মাহমুদ ওরফে চাচা সারা জীবনে বলার মত পাকিস্তান ম্যাচেই যা করেছেন কিন্তু তার প্রকৃত পারফরমেন্স ছিল পাকিস্তানের সাথে পরের ম্যাচে ৩ ওভারে ৩৩ রান। একই ভাবে নাইমুর রহমান বলার মত কিছু করেছেন প্রথম টেস্ট ম্যাচে। আর ফারুক আহমেদের কথা নাই বললাম। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে সাবেকরা এতো কথা বলছেন? সবাই কি ভুলে গেছেন ৯৮-৯৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলের সাথে বাংলাদেশ জাতীয় দল তিন দিনের ম্যাচেও কিন্তু ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। সে দলে কিন্তু আজকের সাবেকদের প্রায় সবাই ছিলেন।

-তোফায়েল

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এটা খুব বড় একটা স্লিপারি-স্লোপ। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের দিকেও কিন্তু যুক্তি আছে। ক্রিকেট তখন এত বড় ব্যবসা ছিলো না। তাঁরা অনেকেই অন্য পেশার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতেন। খুব কম খেলোয়াড়ই বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছিলেন আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে। এত এত গবেষণা এবং ট্রেনিং ছিলো না সেই যুগে। তাঁরা যদি বলেন, "আমরা তো তবুও ৫৮ রানে আউট হইনি", তাহলে জবাব কোথায়? যদি প্রশ্ন তোলা হয় একই পরিমাণ সুযোগ পেয়ে বাকি দেশের তরুণরা কেন আরও ভালো করছে, তাহলে জবাব কোথায়?

এখানে জড়িত কেউই কারও মন্দ চায় না, সবাই বাংলাদেশ দলের সমর্থক। প্রশ্নটা তাই পারফর্মেন্স বা রেকর্ডের না, শ্রদ্ধাবোধের। এই ভাবে ধামকি দেওয়া খুব অশোভন। প্রথমে শুনে বিশ্বাস করিনি যে সাকিব এমন কিছু বলবে। ওর নিজের কলামে এই লেখা দেখে খুব আহত হয়েছি। আমি ওকে পুরা দোষ দেই না। এতটা চাপের মধ্যে থাকলে এই বয়সে একটু মাথা গরম হতেই পারে। আমি বুঝে পাই না বিসিবি কেন এই চাপের মধ্যেও ওকে বাইরের পৃথিবীর সামনে এক্সপোজ করে। রাগের মাথায় মানুষ অনেক কিছুই বলে। সেগুলো রেকর্ডের অংশ হয়ে যায় পত্রিকায় প্রকাশ পেলে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সাকিবকে দিয়ে পত্রিকায় এত কথা বলানো আমি কোনো ভাবেই সমর্থন করতে পারি না। এই পরাজয়ের পর অন্তত এক ম্যাচ বা এক সপ্তাহের জন্যও এই "কলাম" বন্ধ করা উচিত ছিলো।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

মূল পোস্ট বা প্রথম মন্তব্যে নিজের মত লিখিনি ঐ দিকেই পুরা আলোচনার গতিপথ চলে যাওয়ার ভয়ে। এবারে নিজের কথাটুকু বলি একে একে।

* আমি বিশ্বকাপ চলাকালে আশরাফুলকে নিয়ে অতি-আলোচনার বিরোধী। যতদিন আমরা আশরাফুলকেন্দ্রিক আলোচনা করবো, ততদিন "দল" হিসাবে বাংলাদেশ অবহেলিত থেকে যাবে। ১৫ জনের দলে সবাই কোনো বিশেষ পজিশনে স্পেশালিস্ট কিংবা ব্যাকআপ। এটা কোনো হোম টুর্নামেন্ট না যাতে চাইলেই আর কাউকে নেওয়া যাবে। আশরাফুল দলে থাকার দায় নির্বাচকদের। বিশ্বকাপের পর এটা নিয়ে তাঁদের উপর রাগ করা যায় যত খুশি। আপাতত এটায় চিবি দেওয়া যায়। বিপক্ষ মতও আছে অবশ্যই। প্রথম পাণ্ডব তাঁর সাথে গত দুই দিন ধরে চলা তর্কের সারমর্ম তুলে দিতে পারবেন আশা করি।

* আমার মূল আপত্তি বাংলাদেশ দলে হোমওয়ার্কের অভাব নিয়ে। আমি টুর্নামেন্ট চলাকালে শুধুই দলকে সমর্থন করতে চাই, বাহুল্য যথাসম্ভব বিসর্জন দিতে চাই। কিন্তু হোমওয়ার্কের অভাব এতটাই প্রকট যে এটার আশু সংশোধন না ঘটলে অনেক বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে (?)।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারের পেছনে যুক্তি খুঁজে পাই না আমি। আমার মনে হয় না দলের সকল ব্যাটসম্যান নিজেদের সেরা পজিশন/সময়ে খেলছেন। সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসগুলো ২০ ওভারের আশেপাশে নেমে ছড়িয়ে দেওয়ার ফিল্ডিং-এর সুযোগ নিয়ে খেলা। বুঝতে পারছি না কেন উইকেট পড়ছে বলেই সাকিব ১০ ওভারের মধ্যে নেমে পড়ছে রকিবু্লের আগে।

দ্বিতীয় সমস্যা হলো প্ল্যান-বি বলে কিছু না থাকা। আমরা প্রতি খেলায় ২৮০ টার্গেট করে খেলতে নামি, এবং ৪ উইকেট চলে গেলেও টি২০ স্টাইলে ব্যাট চালাই। উইকেট পড়ে গেলে টার্গেট কমিয়ে ২২০-২৪৫ এর ঘরে নামিয়ে ধীরে খেলার কোনো চেষ্টা নেই আমাদের। স্রেফ এই সমস্যার কারণেই আমরা আয়ারল্যান্ড ও উইন্ডিজের বিপক্ষে এত বাজে করেছি আগে ব্যাট করে।

গত বছর দুয়েকে আমাদের আগে ব্যাট করে জয়ী হওয়া খেলাগুলোর স্কোর ছিলো ২২০-এর আশেপাশে। দুর্বল জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোমগ্রাউন্ডে এগুলো খুব কম স্কোর। জিতে গেছি বোলিং-এর জোরে, তাই এ-নিয়ে আলাপ হয়নি। আমরা ব্যস্ত থেকেছি বীরবন্দনায়। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টও সেই পথেই গেছে। আমাদের "৫০ ওভারে ২৮০" রানের বদলে "৩০ ওভারে ১২০/৩"-এর মতো কিছু পরিকল্পনা করার সময় এসেছে। এই মুহূর্তে আমরা খুব বেশি তামিম-সাকিব নির্ভর। এই দু'জন আউট হলে বাকি কেউ জানেও না কী করতে হবে।

* আমি সাকিবকে সিঙ্গেল-আউট করে কিছু বলারও ঘোর বিরোধী। যদি অসদাচরণ করে থাকে, সেটা টুর্নামেন্টের শেষে বিবেচনা করে দেখা যাবে। আপাতত ওদের চাই আমাদের সেরা সমর্থনটুকু।

* বিসিবি-র উচিত মিডিয়ার সামনে দলকে একটু কম এক্সপোজ করা।

তাসনীম এর ছবি

আমি ক্রিকেটের খবরাখবর বেশি রাখি না, শুধু বিশ্বকাপের সময় ছাড়া। আমারও মনে হয়েছে মিডিয়া এক্সপোজারটা একটু কমানো দরকার। এছাড়াও টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রথম আলোতে সাকিবের কলাম প্রকাশ আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। দলের আরও ডিসিপ্লিন থাকা উচিত।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

rahil_rohan এর ছবি

একদম ঠিক হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বিডিনিউজে এই প্রতিক্রিয়াটি প্রকাশিত হয়েছে। [১, ২]

আমি ভিআইপি গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলাম। তোমরা ফিল্ডিংয়ে যাচ্ছিলে। ভিআইপি গ্যালারি থেকে তখন একদল তরুণ দর্শক `সাকিব ভুয়া` বলে স্লোগান দিচ্ছিলো। প্রতিউত্তরে তুমি যা করলে সেটা খুবই অশোভন। লিখতেও আমার কষ্ট হচ্ছে। সাকিব তুমি পেছনে হাত নিয়ে দুই আঙ্গুল সোজা করে বিকৃত ইঙ্গিত করলে ওই দর্শকদের উদ্দেশে। ফিল্ডিং থেকে ফেরার পথে দুই আঙ্গুল উঁচিয়ে সেই একই ভঙ্গী করলে। একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কেউ এমন বখাটে রূপে দেখতে চায় না।

সাকিব নাকি সত্যিই মধ্যাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছেন। মাঠে দর্শকদের প্রতি এবং পত্রিকায় প্রাক্তন খেলোয়াড়দের মধ্যাঙ্গুলী প্রদর্শন করে সাকিব কি তার সমালোচকদের কথাই প্রমান করতে চান?

[১] http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=c8c1efaca9730df9826ea5f5bd72d025
[২] http://webcache.googleusercontent.com/search?q=cache%3AeY94nKqZfo8J%3Awww.banglanews24.com%2Fdetailsnews.php%3Fnssl%3Dc8c1efaca9730df9826ea5f5bd72d025%26nttl%3D2011030531541%26toppos%3D1+http%3A%2F%2Fwww.banglanews24.com%2Fdetailsnews.php%3Fnssl%3Dc8c1efaca9730df9826ea5f5bd72d025%26nttl%3D2011030531541%26toppos%3D1&cd=1&hl=en&ct=clnk&gl=us&client=firefox-a&source=www.google.com

ধুসর গোধূলি এর ছবি

অভিযোগটা তো বেশ গুরুতর মনে হচ্ছে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ নিয়ে একজন সাবেক ক্রিকেটারের ছদ্মনামে না থেকে চিঠি প্রেরণকারীর সামনে আসাটাই বাঞ্ছনীয়। চিঠি পড়ে বুঝা যায় সাবেক এই ক্রিকেটার দেশের জন্য খেলেছেন। তাঁর কথা থেকেই ধারনা জন্মে তিনি বেশ ভালোই দেশপ্রেমিক। দেশের স্বার্থেই তাঁর স্বনামে, সামনে এসে এই কথাগুলো বলা উচিৎ। 'একজন সাবেক ক্রিকেটার'-এর আড়াল নিয়ে না। এটা করতে অসমর্থ হলে বুঝতে হবে, হয় তাঁর দেশপ্রেমে ঘাপলা আছে নয়তো তিনি একজন 'ভুয়া' সাবেক ক্রিকেটার।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

প্রতিক্রিয়াটি বেনামে প্রকাশিত হলেও একজন সচল সচক্ষে এই ঘটনাটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

না না, আমি অঙুলি প্রদর্শনের কথা বলছি না। এটা খুব সাধারন সেন্সেই বুঝা যায় সাকিব ঐ কাজ করে থাকবে। আমি বলছিলাম লন্ডন বিষয়ক অভিযোগের কথা!

দ্রোহী এর ছবি

লন্ডনে বাড়ি কেনা বিষয়ে বাংলাদেশী আইনে কি কোন নিষেধাজ্ঞা আছে? যদি নিষেধাজ্ঞা না থাকে তাহলে কে কোথায় বাড়ি কিনবে সেটা কেন বিবেচনায় আসবে।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আইনতঃ নিষেধের বিষয় না। বিষয় হোলো ইনটেন্ট।

দ্রোহী এর ছবি

এখানেই আমার আপত্তি।

আমরা নিজেরা আপাদমস্তক পঙ্কিলতায় ডুবে থেকে আমাদের আদর্শগুলোকে আশা করব ধোয়া তুলসি পাতা হিসাবে।

আমেরিকানদের কথাই ধরেন। ক্লিনটন যখন মিস লিউইনস্কির সাথে আকাম করে তখন তাকে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হতে হয় অথচ একই ধরনের কাজ আমেরিকার ঘরে ঘরে হচ্ছে। তখন সেটা কোন ঘটনা না।

পয়সাওয়ালা বাঙালির কয়জনের বিদেশে বাড়ি আছে হিসাব করে দেখেন। এগুলো যদি দোষের না হয় তাহলে সাকিব বাড়ি কিনলে সেটা দোষ হবে কেন?

তাহলে কি এটাই দাঁড়ালো না যে "কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা, সাকিব করলে পাপ"।
---
অফটপিক দ্রোহী বাণী: বাঙালি গুণীজন মাত্রই মাদারচোদ। সাকিব যেহেতু বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। সুতারাং, তারও মাদারচোদ হতে বেশি বাকি নাই। দেঁতো হাসি

স্বপ্নহারা এর ছবি

সে চান্দে বাড়ি কিনলেও দোষের কিছু দেখি না, অবসরের পর সে বাইরে থাকার চিন্তা করতেই পারে...এখন থেকেই হয়ত গুছিয়ে নিচ্ছে। সেগুলোতে আপত্তির কিছু নেই বলেই মনে করি।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সাইদ এর ছবি

বাঙালি গুণীজন মাত্রই মাদারচোদ।

সেরা বাণী চিরন্তনী

ভাই আমার মনের কথাটা বলছেন।

জি.এম.তানিম এর ছবি

সাকিব কাউন্টিতে নিয়মিত খেলে না? সেটা খেলার জন্যে তাকে সেখানে থাকতে হয়। এখন সে কারণে সেখানে তিনি বাড়ি কিনতেই পারেন।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

সাকিবের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে এখন সবার বিরাগভাজন হওয়া ছাড়াও, পাবলিকের উত্তম-মধ্যমের ভয় আছে! জাতীয় শত্রু হয়ে যেতে পারেন...

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ইদানীং পত্রিকায় এত এত গুজব প্রকাশিত হয় দেখে এই রিপোর্ট ইচ্ছাকৃত ভাবেই রেফারেন্সে আনিনি। যা-কিছু স্বনামে প্রকাশিত তা-ই হিসাবে নিচ্ছিলাম। যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তবে তা খুবই গুরুতর। ক'দিন আগেই কোন এক ফুটবল দলের কোচ বরখাস্ত হয়েছে সমর্থকদের মধ্যাঙ্গুলি প্রদর্শন করায়। তিনি সরাসরি নয়, নাক চুলকানোর কায়দায় আঙুল দেখিয়েছিলেন। তবুও ঘ্যাচাং হয়েছিলেন তিনি। তানভীর ভাই মন্তব্য থেকে মাঠে গালির অভিযোগও পাওয়া যায়।

তবে, এগুলো এই মুহূর্তে আলোচ্য না। বিশ্বকাপে আমাদের পারফর্মেন্সের মধ্যেই সীমিত থাকুক এটা। একটা ভালো জয় পেলেই সাকিবের মাথা ঠাণ্ডা হবে। তখন নিজেই সংযত হবে আশা করি।

পাগল মন এর ছবি

দল হারলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসে যেটা আগে দেখা যায় না। কিন্তু সেটা নিয়ে সমালোচনা করারও একটা সময় আছে, অসময়ের কোন কিছুই ভালো না।
সাবেক ক্রিকেটাররা যা বলেছে সেটা যেমন গ্রহনযোগ্য না তেমনি সাকিবেরও এসব বলা মোটেই ঠিক হয়নি। তবে আমার ধারণা ও এগুলো হতাশা আর রাগ থেকেই বলেছে। আর তাছাড়া ও মনে হয় " Offense is the Best Defense" এই নীতি মেনে চলা শুরু করেছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। সাথে মিলেছে লীডিং পত্রিকাগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগীতা।
সবার আগে আসলে এইসব বস্তাপঁচা রিপোর্টিং বন্ধ করা উচিত। আর সাকিব কিংবা কোন প্লেয়ারের কোন দৈনিকে লেখা (কোন টুর্নামেন্ট চলাকালীন) বন্ধ করা উচিত এবং প্লেয়ারদের কাছে টুর্নামেন্ট চলাকালীন সাংবাদিক/সংবাদপত্র যাতে না পৌছাতে পারে সে ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

ফাহিম হাসান এর ছবি

সাথে মিলেছে লীডিং পত্রিকাগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগীতা।

শুধু পত্রিকা? এখন তো দেখি টিভি চ্যানেলও লাগসে!

স্বপ্নহারা এর ছবি

আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতঃ

আসল কথা বলতে হয় পারফর্ম করে...খেলোয়াড়দের মনে হয় না দর্শকদের বিপক্ষে বা সিনিয়র কারো বিপক্ষে বলার কোন দরকার আছে...পারফরমেন্সই আসল...সেটা দিয়ে জবাব দিলেই হতো। আমি বলব, আমাদের দলের খেলোয়াড়দের সংযত হতে...পাব্লিক ব্যবহার শিখতে...এত অল্প বয়সে এত্ত উপরে উঠে যাওয়ায় ওরা নিজেদের হারিয়ে ফেলতে পারে যা তাদের শেষ করে ফেলবে, আর আমরা হারাব এইসব প্রতিভা...আমাদেরই লস! পৃথিবীর অনেক বড় বড় প্রতিভা হারিয়ে গেছে এই কারণে, আর কথার যুদ্ধে নেমে...লেটেস্ট উদাহরণ যুবরাজ সিং, মোহাম্মদ আমির...তাই ভয় হয়, অহংকারে এরাও না হারিয়ে যায়... আর দর্শকদের উদ্দেশ্যে যেটা বলেছে সেটা মানতে পারলাম না!

তারা দর্শকদের পাত্তা দিচ্ছেন না...কারণ দর্শকরা খেলা বোঝেনা...কারণ তারা জিততে চায়! গত ম্যাচে তারা এই শিখেছেন...। দর্শকরা ঢিল ছুঁড়ে ভাল কাজ করেনি, খেলোয়াড়দের আক্রমণ করা উচিত হয়নি। কিন্তু দর্শক হতে-সমর্থক হতে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হবে, এটা ভাল কথা না। এই পাগলামি আছে বলেই খেলাগুলো বেঁচে আছে! ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ আয়োজন কেন জমেনি মনে আছে? সব জ্ঞানী মুখ করে বসে থাকা দর্শকের কারণে...কথায় কথায় কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয় বলেই ভারত আজ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার...সহিংসতা অবশ্যই প্রতিরোধ করা উচিত, কিন্তু দর্শকদের কারণেই আজ তারা খেলছেন, এত সম্মান পাচ্ছেন...জিম্বাবুয়ে-কেনিয়া-কানাডাতে হলে এত্ত কথা বলতে পারতেন না...

এত ঔদ্ধত্য মনে হয়না ভাল কিছু আনবে! খেলোয়াড়দের এত্ত দেবতুল্য ভাবার কারণ নেই, এইটা তাদের পেশা, তারা এজন্য টাকা-সম্মান কী না পায়, বাড়ি-গাড়ি-হাততালি নিতে পারলে গালিও নিতে হবে...এটাই জব ডেস্ক্রিপশন ...দর্শকরা কী পায়? দর্শকরা না দেখলে উনারা কোথায় থাকবেন? বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বিশেষত সাকিব-আশ্রাফুল-তামিম-মুশফিকের ব্যবহার নিয়ে আগেও বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে...যেগুলা ঠিক না...

হা, টাইমিংটা খুব খারাপ। সাবেকরা সবাই কেন একসুরে কথা বলছেন সেটা দেখতে হবে, এটা আলু কালুর তৈরি করা সমস্যা কী না সেটাও তলিয়ে দেখা উচিত! একটা আলুতে, আরেকটা কালুতে...সন্দেহের কারণ আছে বৈকী!

এখন সমালোচনার চেয়ে তাদের সহযোগিতা বেশি জরুরি, যদিও মনে হয়না সিডন্স-সাকিব.সেটা চায়! কিন্তু তাদেরকে কলাম লিখে এইসময়ে অসম্মান করা মেনে নিতে পারলাম না...

বীরপূজা করা ভাল, কিন্তু বীরের জন্য সবকিছু জায়েজ করা মনে হয় না ভাল কিছু! এই বীরপূজা আমাদের যেন আর কোন তারেক জিয়া-মণি-পবনের জন্ম না দেয়! সাকিব যে কচি দুধেল ছেলে না সেটা সবাই জানি... যদি আজ টেন্ডুলকার বলে রবিশাস্ত্রী কী কচু খেলত, তাহলে মনে হয়না কেউ তাকে রেসপেক্ট করত। ওই কথা বললে, সিডন্স ত জীবনে টেস্টই খেলেন নি! যাই বল, আমি সাকিবের প্রতি শ্রদ্ধা হারালাম।

এটা বেয়াদবি-ই না, এটা অকৃতজ্ঞতা এবং অতি অহঙ্কার। যদি সাকিব না বদলায়, আগামী দুই বছরের মধ্যে সে আস্তাকুঁড়ে যাবে....সুজন-দুর্জয়-ফারুক-পাইলট-বুলবুল এরা কেউ গ্রেট নন, কেউ হয়তো কোন কচুর প্লেয়ারও ছিলেন না...সেটা সবাই জানে, কিন্তু তাদের কারণেই সাকিব আজ এত্ত বড় কথা বলতে পারছে, তাদের কারণেই আমরা ক্রিকেটে আগ্রহী হয়েছি...তারা কী খেলতেন সেটা বলা ভদ্রতাসূচক মনে হয় না! তারাই আমাদের এই অবস্থায় এনেছেন, তা সে যা-ই খেলুন! মেট্টিক পাশ বাপরে ইঞ্জিনিয়ার পোলার অকৃতজ্ঞ কুৎসিত খোঁটার মত মনে হল...

হ্যাঁ, ওই প্রাক্তনদের ওই কথাগুলো এখন বলা উচিত হচ্ছে না...তাদের জন্যও ঘৃণা! এইটার উদ্দেশ্য ভাল না। সবাইকে খুশি করতে আমাদের ১৫ কোটি টিম লাগবে! কিন্তু খারাপ খেললে সমালোচনা হবে না এটা কী করে সাকিব আশা করে? সমালোচনা করতে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হবে?

আর সবচেয়ে বড় কথা, সাকিবকে মাথায় তুলে ওকে বখাটে বানানোটা উচিত হবে না...তার প্রতি সাপোর্ট থাক, কিন্তু তার ভুল ধরানো-শাসন করাও জরুরি...কারণটা অবধারিত, তার পা মাটিতে রাখা আমাদের জন্য খুব বেশি জরুরি...কারো পছন্দ হোক বা না হোক, তাকে অন্যায়ে সাপোর্ট দেয়া, আমি বলবো দেশের সর্বনাশ করা...

মিডিয়ায় বিশ্বাস নেই আমার! আমার ভয় একটাই, অতি অহংকার করে এরা যেন নিজেদের ধংস ডেকে না আনে...কচি পোলাপাইন, আমরা ওই বয়সে এরকম হতে পারলে মাটির ১০ ফুট উপর দিয়ে হাঁটতাম...তাই চাইনা দেশ ওদের হারাক!

বিশেষতঃ সাকিবের পা মাটিতে রাখা আমাদের জন্য খুব বেশি জরুরি...তার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ একজন ক্রিকেটার হওয়ার সামর্থ্য আছে। এত কথা বলার তার কোন দরকার দেখি না...

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

দ্রোহী এর ছবি

আফসোস, আমরা ক্রিকেট খেলি কানাডা-বারমুডা স্ট্যান্ডার্ডে আর পোন্দাপুন্দি করি অস্ট্রেলিয়া-ভারত স্ট্যান্ডার্ডে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ওঁয়া ওঁয়া ওঁয়া ওঁয়া ওঁয়া ওঁয়া

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

দু:খজনক হলেও বলতে হচ্ছে সাকিবের মধ্যে মুই কি হনুরে ভাব চলে এসেছে। যেটা অন্তত ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মানায় না। সাকিব যদি বক্সিং খেলত, আমি কিছু মনে করতাম না।

পুরানোরা যে যা-ই বলুক, তারা কে কেমন খেলতেন সেসব সমালোচনা এখন গ্রহণযোগ্য নয়। একজন বর্তমান ক্যাপ্টেন বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে কীভাবে কলাম লেখে??? খেলোয়াড়দের মধ্যে ডিসিপ্লিন বলে একটা বিষয় থাকা উচিত; মিডিয়াতে কে কখন কি বলবে সেটারও সীমা থাকা দরকার।

সাকিব যদি সত্যিই এরকম বলে থাকে, আমি তার নিন্দা জানাই। আর যদি সেটা সাকিবের বক্তব্যকে কোন রিপোর্টার এভাবে লিখে থাকে তাহলে প্রথম আলোর উদ্দেশ্য নিয়েই আমার সন্দেহ থাকবে।

সরি সাকিব, বিশ্বকাপ চলাকালীন আমি কোন সমালোচনা করতে চাইনি, কিন্তু আপনি নিজেই সে দ্বার খুলে দিয়েছেন।

স্বাধীন এর ছবি

একজন বর্তমান ক্যাপ্টেন বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে কীভাবে কলাম লেখে???

এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু এটি নিয়েই আলোচনা চলতে পারে। বিশ্বকাপ খেলা চলাকালীন সময়ে কিভাবে বিসিবি তাদের দলের ক্যাপ্টেন কে এভাবে কলাম লেখার সূযোগ দিচ্ছে? এটি কোন সাক্ষাতকার হলেও কথা ছিল। বিসিবির এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

সজল এর ছবি

সাবেকদের সমালোচনা করার সময়টা ঠিক হলো কিনা তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু সাকিব যে ভাষায় তাদের সামর্থ্য নিয়ে সমালোচনা করল, সেটা খুবই অপছন্দ করলাম। ওই সাবেকরা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আইসিসি ট্রফি জিতার পরই বাংলাদেশে ক্রিকেটের জোয়ার আসে, এত এত ইনভেস্ট তার ধারাবাহিকতা মাত্র। আর এই বিপুল অবকাঠামোর কারণেই আজকের সাকিব আর তামিমরা এত তারকাখ্যাতি উপভোগ করছে।

অবশ্যই গত ম্যাচের পরই সব শেষ হয়ে যায়নি। ওইটা একটা বাজে দিন ছিল, আমরা এখনো দলের সাথেই আছি। তবু বলি, জবাব যা দেয়ার তা মাঠে পেলেই আমরা খুশি হবো, দেশে অন্তত কলাম লেখকের কোন অভাব নেই।

আরেকটা ব্যাপার হলো আমাদের দলের গত একবছরের ইনিংসগুলার গড় নিলেই বুঝা যাবে আমাদের সামর্থ্য টেনেটুনে ২০০ করার, সুতরাং শুধু শুধু হাইপ তৈরী করে প্রত্যাশাকে মগডালে তুলে দিলে, পড়ে গিয়ে কিছু হাড়গোড় ভাঙ্গবেই।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

একটা ব্যাপার কিন্তু একেবারে দিবালোকের মত স্পষ্ট, সাবেকদের কেওই দল নিয়ে সন্তুষ্ট না। কিন্তু কেন?

একজন পাঠক এর ছবি

পুরোনোদের কথা নিয়ে সাকিব যে কলাম লিখেছেন - তার সমালোচনা করছেন অনেকেই।

আমার ব্যক্তিগত মত বা লেখাটি পড়ে আমি যা বুঝেছি - সে ক্ষিপ্ত বাংলানিউজ২৪ এর বেনামী সাবেক ক্রিকেটারে'র প্রতিক্রিয়ায়। আমি হলেও হতাম। বিশ্বকাপের সময় ফোকাস পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে আক্রমণ, তার উপর তার মাগুরা'র বাসায় আক্রমণ - এই জিনিসগুলো ফেস করে কারোরই ভাল থাকার কথা নয়। তাই এই সময় কেউ যদি ঔদ্ধত্য দেখায়ও, সেটাকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নই।

৫৮ রানের ব্যাপারটি চরম দু:খজনক। কিন্তু শেষ কয়েক সিরিজের দিকে তাকালেই দেখা যায়, সাকিব, তামিম আর রাজ্জাক ছাড়া বলার মত কেউ কিছু করেনি। ৩ জন ম্যাচ উইনার দিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে - অবুঝ মিডিয়া সেই স্বপ্নটাই অধিকাংশ মানুষকে দেখানো'র চেষ্টা করেছে। যখন মানুষ তা দেখা শুরু করল, দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টের মাধ্যমে তা ভেংগে দেয়াকে ত্বরান্বিতও করল মিডিয়া।

সবচেয়ে যে জিনিসটা খারাপ লাগছে - নিয়মিত পারফরমার হয়েও সাকিব মিডিয়া'র আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু। আশরাফুল বা মাশরাফি বারবার সাকিবের সাথে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার পরও আক্রমণ বন্ধ হয় না।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভাল করার আগে - মনে হয় মিডিয়া আর বিশাল কিছু মানুষের মন মানসিকতা পরিবর্তন দরকার।

দলনায়ক হিসেবে সাকিবের ভূমিকা আমার কাছে এখন পর্যন্ত অনেক ভাল। অধিনায়ক অবস্থায় তার ব্যটিং গড় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। বিভিন্ন সময়ে অন্যরকম সিদ্ধান্ত বা বোলিং চেন্জ সহ অন্যান্য বিষয় - এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম এবং বর্তমান সময়কার খেলোয়াড়দের মাঝে সেরা অধিনায়ক বলেই বিশ্বাস করি।

আশরাফুলের থাকা - না থাকা নিয়ে এত কথা হওয়ার কোন মানে নেই। পারফরম্যান্সের কথা চিন্তা করলে সে ১৫ জনের দলেই আসে না। এর চেয়ে শাহরিয়ার নাফিস - কে খেলানো উচিত।

টস জিতে ব্যাটিং বা বোলিং নেয়াটাও দলের নিজস্ব ব্যাপার। তবে ডিউ ফ‌্যাক্টর যাই হোক না কেন, ব্যটিং নির্ভর দলগুলো'র বিপক্ষে বোলিং আগে নেয়াটা রিস্কি হলেও - সেই সিন্ধান্তকে সমর্থন করি। কারন শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটালে ৩০০ এর উপরে চেজ করার ক্ষমতা এই দলের আছে।

তবে ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন খুব ভাল মনে হচ্ছে না।

অতিথি লেখক এর ছবি

** কোনো লিংক না থাকায় এই মন্তব্যটি মুছে দেওয়া হলো **

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

গুজব নয় তো? ক্রিকইনফোতে কিছু দেখলাম না তো!

মডুদের জন্য:

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

* মোহাম্মদ আশরাফুলের দলে থাকা-না থাকা

তাকে অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার অন্যদের সুযোগ দেয়া হোক। আশরাফুল যে পরিমাণ সুযোগের অপব্যবহার করেছে বাকিরা সেই পরিমান করার পর আবার তার সুযোগ নেয়ার পালা আসবে। সুযোগ সবার জন্য সমান!

* টসে জিতে ব্যাটিং-বোলিং নেওয়া

এই সিদ্ধান্তটা কোচ/ক্যাপ্টেন এনাদেরই নেয়া উচিত।

* দলনায়ক হিসাবে সাকিবের ভূমিকা

প্রয়োজনে তাকে ভদ্রতা শেখানোর জন্য শিক্ষক রাখা হোক। তাকে মনে রাখতে হবে তাকে যে সন্মান আর ভালোবাসা সমর্থকেরা দিয়েছে তা তার মধ্যমা দেখার জন্য নয়। লজ্জাজনক পরাজয় উপহার দেয়ার পরও তাকে কোলে তুলে চুমু দেয়ার মত দর্শক তার প্রেমিকা ছাড়া আর কেউ থাকবে বলে মনে করিনা। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দর্শকের আচরণ আমার কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। এবং দর্শকরা যে তাদের দলকে এখনো পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে সেটা দেখার জন্য পরের ম্যাচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। দর্শকের দুয়োধ্বনির জবাবে সে যদি মধ্যমা দেখানোর নোংরামি করে তাহলে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আগে পর্যন্ত খেলার অযোগ্য ঘোষণা করা হোক! তার ভুলে গেলে চলবে না যে সে দর্শকদের মত সাধারণ কেউ নয়, সে একটি সভ্য দেশের জাতীয় দলের দলনেতা!

সাকিবের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে তার অস্তিত্ব দর্শকের উপর নির্ভর করে। দর্শক এরকম ১০০ সাকিবকে ১ মিনিটে কন্ডমের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে। বিনয় দেখতে চাই, স্পর্ধা সহ্য করব, কিন্তু নোংরামি আর ত্যারামোর বিনিময় মূল্য কানে ধরে ফেরত দেয়া হবে!

* মিডিয়ায় বাংলাদেশ দল নিয়ে বিব্রতকর/আপত্তিকর/কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ

এটা একটা উভয়সঙ্কট! মূর্খ কিছু লোকের জন্য চরম বিপদে আছি আমরা সবাই। অথচ মিডিয়ার পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি বলে তাদেরকে থামানোও সম্ভব নয়! আমরা দর্শকেরা বোধহয় সম্পাদকদের কাছে দাবী করতে পারি একটু শিক্ষিত সাংবাদিক রাখার। তাছাড়া উৎপাতদের থামানোর আর কোনো উপায় দেখিনা!

* দলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন না দিয়ে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অতি-সমালোচনা

একইসঙ্গে পাঁচজন কেনো এরকম অভিযোগ করছেন তা ভাবা দরকার। আমাদের অগ্রজরা যা বলছেন তা বিবেচনা করাও জরুরী। তাঁরা কিন্তু এখন আমাদের মতই দর্শক। আর দর্শকদের মধ্যে তারা সবচে ভালো বোঝেন। হুট করে ভেবে নেয়া ঠিক হবেনা যে তারা এসব আমাদের ভালোর জন্য বলছেন না! তবে অবশ্যই নেতিবাচক চিন্তাটাও মাথায় রাখতে হবে!

পুরোনো দলের সফলতা কম ছিল বলে এখন তারা কথা বলতে পারবেনা তা মনে করিনা। দশবছর পর বাংলাদেশ দল আরো সুসংহত হবে, তখন কি এই দলের কেউ সমালোচনা করতে পারবেনা? আমি তো মনে করি প্রাক্তন খেলোয়াড়রাই সবচে ভালো সমালোচক হতে পারেন!

আমরা কাকে আপনজন/শুভার্থী ভেবে গ্রহন করবো আর কার থেকে সাবধানে থাকবো তা যদি না জানি তাহলে তারচে দুর্ভাগ্য আর হতে পারেনা!

* কোচ হিসাবে সিডন্সের ভূমিকা ও কার্যকলাপ

কিছু বলার নেই। কর্তৃপক্ষের উচিত তার আচরণ লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নেয়া। খেলোয়াড়রা তাকে পছন্দ করছে কিনা তাও দেখা দরকার! শিক্ষক পছন্দ না হলে কিছু শিখে ওঠা মুস্কিল!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নীড় সন্ধানী এর ছবি

খেলা চলাকালে দলের অধিনায়ক পত্রিকার জন্য কলাম না লেখাই উচিত। পত্রিকার এই কাটতি বাণিজ্য খেলোয়াড়ের মাথায় চাপ ফেললে তার দায় নেবে কে? সাকিবের মাথাটা এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ফারুক হাসান এর ছবি

ক্রিকেট না বোঝা জনগণের একজন এবং সাকিবের ভাষায় অসমর্থকদের একজন বলছি-

(১) বিশ্বকাপ শুরুর আগে ঠিক করেছিলাম, দলের ভালো-মন্দে পাশে থাকবো। তাই ফেসবুকে দুয়েকটা স্ট্যাটাস দেয়া ছাড়া এখন কিছু বলতে চাই না।

(২) তবে পরে বলবো। ফালতু নিউজিল্যান্ড আর পাঁচ নম্বরি ওয়েস্টইন্ডিজের সাথে জিতে যারা জনগণের টাকায় শ্রাদ্ধ করে নিজেদের পকেট ভারি করেছিলেন, গাড়ি-বাড়ি উপহার হিসেবে নিয়েছিলেন, তখন মনে ছিল না যে ঐ উপহারের টাকা সাকিবের প্রকৃত-অপ্রকৃত দুই ধরণের সমর্থকদের পকেট থেকেই আসা।

(৩) আপাতত দাবি- বিশ্বকাপ শেষ হলে বিসিবি-সিডন্স-সাকিব গং তাদের মহার্ঘ আর দুনিয়ার সবচেয়ে কনফেডেনশিয়াল পরিকল্পনাগুলো প্রকাশ করবেন জনগণের সামনে।

(৪) বাংলাদেশ টিম কোনো সুযোগের জায়গা না, যোগ্যতার জায়গা। আশু কোনো সুযোগ নয়, তার যোগ্যতা দিয়েই দলে আছে। কিন্তু সেই যোগ্যতার মাপকাঠি কি সেগুলোও আশাক্রি সিডন্স প্রকাশ করবেন। তাহলে যারা দলে ঢুকতে আগ্রহী তাদের সুবিধে হবে, আর যারা অহেতুক না জেনে চিল্লায় তাদের মুখ বন্ধ হবে।

সাফি এর ছবি

ফালতু নিউজিল্যান্ড

ফালতু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজ জিতবে, সিরিজ শুরুর আগে কি আপনি এই ব্যপারে বাজি ধরতে রাজি ছিলেন? নিউজিল্যান্ড যদি ফালতু বিশেষণ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সাথে সিরিজ হারের পরেই এই বিশেষণ পেয়েছে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ যদি ওই সিরিজে একটা/দুটা ম্যাচ জিতত তাহলেই ওটা নিয়ে আমরা খুশী থাকতাম।

আশু কোনো সুযোগ নয়, তার যোগ্যতা দিয়েই দলে আছে। কিন্তু সেই যোগ্যতার মাপকাঠি কি সেগুলোও আশাক্রি সিডন্স প্রকাশ করবেন।

এই দাবীটা মনে হয় নির্বাচকদের কাছে করা উচিৎ

সাফি এর ছবি

ঘরোয়া আলোচনায় বলা কথাগুলো আরেকবার বলি। বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা উঠে গেছে। এটা এখন হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের লড়াই এর হাতিয়ার। তাই এক কালের কন্ঠ পত্রিকায় যখন একদিনে ৬ সাবেক খেলোয়াড়ের বক্তব্য আসে এবং সেই বক্তব্যের মূল সুর যখন মোটামুটি একই থাকে (সাকিব অধিনায়ক হিসেবে দূর্বিনীত, দলের মধ্যে কোন্দল/বিভেদ সৃষ্টিকারী, সিডন্স কোচিং এর 'ক' ও জানেনা ইত্যাদি) তখন সন্দেহ হয় এই সাবেক খেলোয়াড়দের কেও ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করে নিজের বক্তব্যের বিশেষজ্ঞরুপ দেওয়া হচ্ছে।

সাকিবের কলামঃ এটা আমার কাছে খুবই বিষ্ময় জাগানিয়া ঘটনা। বেড়ে ওঠার সময়কালে আমার কাছে ক্রিকেট বিষয়ক বহির্বিশ্বের জানালা ছিলো আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, প্রথম আলো পত্রিকা। তখন বার বার সাংবাদিকদের ক্ষেদ প্রকাশ করতে দেখেছি 'কোড অব কন্ডাক্ট' বিষয়ক কালা কানুনের যেখানে কোন খেলোয়াড়কে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে হলে বোর্ডের পূর্বানুমতি লাগবে। অথচ আমার দেশে দেখছি যে যখন খুশি যেকোন খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নিতেতো পারছেন ই সেইসাথে খেলোয়াড় এবং স্বয়ং অধিনায়ক ও কলাম লিখছেন। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ক্রিকেট বলেন আর ফুটবলই বলেন বা আর যেকোন কিছুই করতে মনোযোগ খুবই বড় একটা জিনিস। খেলোয়াড় থেকে কলাম লেখক বানিয়ে দেওয়া সাংবাদিকরা এই মনোযোগেরই বারোটা বাজাচ্ছেন। আর তাছাড়া সাকিবের 'গোছানো লেখা' পড়ে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর যে তিনি নিজেই দিনের একটা নির্দিষ্ঠ সময় ধরে এই লেখা লিখেছেন। আমার ধারণা কোন সাংবাদিক তার সাথে কথা বলে লেখা ড্রাফট করেন কিন্তু বানিজ্যিক কারণে পত্রিকাগুলো সাকিবের লেখা বলে পাঠকের কাছে পরিবেশন করেন।

সাকিবের অভব্য আচরণঃ সাকিবের অভব্য আচরণ নিয়ে যে কথা উঠেছে আমি ও তার নিন্দা জানাই। সেই সাথে এটাও মাথায় রাখি এরকম পরিস্থিতিতে তার যে 'ব্রেকডাউন' হয়েছে এর যত্ন তাকে নিতে হবে। কূটনৈতিক এবং পরিশীলিত আচরণের বিকল্প নেই। তারপরেও সময় সময় খেলোয়াড়রা মেজাজ হারান - শেন ওয়ার্ন, মোটে আলু ইনজামাম, এমনকি শান্ত শিষ্ঠ বলে পরিচিত গ্লেন ম্যাকগ্রার ও এরকম উদাহরণ রয়েছে। আমার উদাহরণ দেবার উদ্দেশ্য সাকিবের আচরণকে আড়াল করা না শুধুমাত্র দেখানো যে 'শিট হ্যাপেন্স'। এবং এটা যেন বারবার না হয় এ জন্য কর্তৃপক্ষকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সাকিব খারাপ এসব বলে পত্রিকায় বিবৃতি দিলে কাদা ছোড়াছুড়িই হবে এর বাইরে না।

অনেকেই হয়ত এর আগে এক খেলায় সাকিবকে মুশফিকুর/রকিবুলকে 'খা*র পোলা' গালি দিতে স্ট্যাম্প ক্যামেরায় শুনে থাকবেন। আমার কাছে মনে হয়নি এতে দোষের কিছু আছে। আমি যদি আমার বন্ধুদের সাথে পাড়ার ক্রিকেট খেলার সময় স্টুপিড কিছু করতে দেখলে তাদের গালি দিতে পারি, সাকিবও পারে। এই গালি দেওয়া নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী আর আলোচনা সামনে আসেনি (কালের কন্ঠ ছাড়া) কারণ আমার ধারণা গালি দাতা এবং যাকে দেওয়া হয়েছে তাদের সুসম্পর্কের কারণে।

কালের কন্ঠের বক্তব্যঃ গত কিছুদিন ধরেই কালের কন্ঠের রিপোর্টের অনেকাংশ জুড়েই সাকিব বিদ্বেষ থাকে। এর পিছে কারণ কি আমি জানিনা। কিন্তু কালের কন্ঠ বিবেকের বশে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট করছে এটা আমি মানিনা। একই সাথে সাকিবও যে ধোয়া তুলসী পাতা না সেটাও আমার ধারণা কিন্তু ব্যপারটা কতখানি সত্য আর কতখানি আরোপিত সেটা নিয়ে সন্দিহান। আমি যদি আপনাকে প্রতিনিয়তই কাটা চামচ দিয়ে খুঁচিয়ে যাই তাহলে কতক্ষণ আপনি নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন সেটা ব্যক্তি আপনার উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর এখানেই আমি বোর্ডের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করি। কারণ খোঁচাগুলো যেন আমার কাছে না পৌছায় সেই দায়িত্ব বোর্ডের।

সাকিবের বাড়ি কেনা ও এ সংক্রান্ত অভিযোগ সচলে প্রায়ই এমন কমেন্ট দেখা যায়, নতুন নিক নিয়ে বোরখার আড়ালে চিমটি কাটা মন্তব্য। আমার কাছে এটাও এমন মনে হয়েছে। একজন খেলোয়াড় রিটায়ার করে ৩০+ বয়সে। বাংলাদেশের মতন একটা নতুন দলের জন্য এই বয়স আরও কম। এখনই নিজের আখের গোছাতে না পাড়লে বাকি জীবন সে কি করবে?

আমার বক্তব্য আমি মনে করি আমরা এখন একটা যুদ্ধে নেমেছি, আর সাকিব সেই যুদ্ধে আমাদের অধিনায়ক বাকী ১৪জন তাদের সহযোদ্ধা। এই অবস্থায় অধিনায়কে অনাস্থা থাকলে যদি সুযোগ থাকে তাহলে অধিনায়ককে অপসারণ করি কিন্তু সে সুযোগ না থাকলে বাকী যুদ্ধে আমাদের যোদ্ধাদেরই পাশে থাকা উচিত। দূর থেকে পাথর ছুড়ে সেই যুদ্ধে আমাদের গতি আমরা শুধু থমকেই দিতে পারি। এর বেশী কিছু না। তবে যুদ্ধের পরে অবশ্যই এসবের কারণ অনুসন্ধানে মনোযোগী হওয়া দরকার। বাংলাদেশ যদি দক্ষিণ আফ্রিকা/ইংল্যান্ডের কাউকে হারিয়ে দেয়ও সেই আনন্দে গাড়ি ফ্ল্যাট বাড়ি নিয়ে পুরোন সবকিছু ভুলে গেলে এমন অবস্থার পুনরাবৃতি হতেই থাকবে।

বিরাট মন্তব্য করে ফেল্লাম। অপ্রাসঙ্গিক হলে দুঃখিত ইশতিয়াক

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

অপ্রাসঙ্গিক হতে যাবে কেন, ভাইয়া? বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কিত সব আলোচনাই এই পোস্টে প্রাসঙ্গিক। পোস্টটা খুলেছি বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলো একত্র করতেই।

ব্রেকডাউন বা গালি দেওয়াটা অত বড় ইস্যু না, হিউম্যান মিসটেক। গাড়ি-বাড়িও ইস্যু না, হিউম্যান অ্যামবিশন। আমার মূল আপত্তি সাকিবকে দিয়ে "কলাম" লেখানোয়। এইটা যেভাবেই হোক বন্ধ করতে হবে। বড় বড় দলকে শুনেছি টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের পরিজনের সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করতে। সেই জায়গায় বাংলাদেশের অধিনায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে খাজুইরা আলাপ করেন প্রতিদিন! সাকিবই যদি পত্রিকায় লিখবে, তাহলে দলের ম্যানেজার বা মিডিয়া অফিসার কী ইয়েটা ইয়ে করে?

rahil_rohan এর ছবি

প্রথম আলো কিভাবে সাকিবকে দিয়ে "কলাম" লেখায়!!! মন খারাপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

সাকিবের কলাম লেখা তো বটেই, সাংবাদিকদের হুটহাট করে দলের একেকজনের নাম দিয়ে রিপোর্ট বের হওয়ার ব্যাপার নিয়েও আমি যথেষ্ট চিন্তিত। কোনো একটা সিরিজ চলা অবস্থায় যে কেউ চাইলের যে কোনো খেলোয়াড়ের সাথে বসে এটাসেটাহাবিজাবি নিয়ে কথা বলতে পারে না। পারার কথাও না। আর বিশ্বকাপের মতো বড় আসর হলে তো কথাই নেই। তিন স্তরের বেড়া (বোর্ড, কোচ, টিম ম্যানেজার) থাকার কথা খেলোয়ারদের সাথে মিডিয়ার যোগাযোগের ক্ষেত্রে।

কোনো এক সিরিজেই সম্ভবত, মদনলাল তখন ভারতের কোচ আর সৌরভ অধিনায়ক। সাংবাদিকেরা সৌরভকে ঘিরে ধরেছিলো কথা বলার জন্য। সৌরভের জবাব ছিলো, "মদনকে বলো। ও অনুমতি দিলে আমার কথা বলতে অসুবিধা নেই।"

সিরিজ চলমান সময়ে সৌরভের মতো একজন দাম্ভিক ক্যাপ্টেনকেই যদি কোচের অনুমতি নিতে হয় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য সেখানে আশু কী করে দলের একজন সাধারণ খেলোয়াড় হয়ে পত্রিকার প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে? রকিবুল কী করে প্রি/পোস্ট ম্যাচ সাক্ষাৎকার দেয়? সাকিব কী করে পত্রিকায় কলাম লিখে?

বাংলাদেশ টিমে আদৌ কি কোনো ডিসিপ্লিন বহাল আছে! চিন্তিত

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

বাংলাদেশের উচিত ইংল্যান্ডের আজকের ব্যাটিং-টার টেপ সংরক্ষণ করে রাখা। এই কাজটাই আমাদের করা উচিত ছিলো আগের দিন। ঐ পিচে ১৮০ নিয়েও কড়া ফাইট দেওয়া যেত।

আবির আনোয়ার এর ছবি

ইংল্যান্ড না রে ভাই এরা যদি আয়ারল্যান্ডের আজকের খেলা দেইখাও কিছু শিখে সেই আশায় আছি মন খারাপ

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

কি খবর ইশতি? খোঁজ নাও না যে বড়?

--------------------------------------------------------------------------------

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

জীবনটা যে ধোপার মতো সকালে বিকালে আছাড় মারতেসে, ভাবী... মন খারাপ ক্লাস-পরীক্ষা-কাজ নিয়ে যা-তা অবস্থা। বিশ্বকাপের উত্তেজনায় গায়ের জোরে একটু সময় বের করে নেওয়া আর কি। ভালো আছেন আশা করি।

হিমু এর ছবি

অনেক মিষ্ট কলাভোজী কলামিষ্টোরা আউলফাউল কথা লিখে তোপের মুখে থাকে। কলামিষ্টো মক্সুদ উচ্চ আদালতের হাতে নির্বোধ ও হরিদাস পাল হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। আবুলমক্সুদের মতো একজন লোমপাকা গ্যালারিচারী ব্যক্তিত্বই যখন কলাম লিখে বাটে পড়ে থাকে, তখন সাকিবের মতো মাঠের খেলোয়াড়ের আরেকটু সাবধান হওয়া উচিত।

দর্শকদের মধ্যমা দেখানোটা পছন্দ করতে পারলাম না। একজন ক্রিকেটারের উচিত না দর্শকের সাথে কোনো ধরনের ইন্টারঅ্যাকশনে যাওয়া। ৫৮ রানে লেজ গুটিয়ে ফিরে আসা ক্যাপ্টেনের গায়ের চামড়া ব্রন্টোসরাসের মতোই মোটা হওয়া উচিত।

প্রাক্তন খেলোয়াড়দের প্রতিও অনুরোধ, আপনাদের বিশ্লেষণগুলো বিশ্বকাপের পর করুন, এবং জাতীয় দলে সম্ভব হলে কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিন। পত্রিকায় কলাম লিখে এখন মিডিয়ায় বালিশযুদ্ধই হবে কেবল। এগুলো কিছু লোকের সাময়িক মনোরঞ্জন করলেও ক্রিকেটের সংস্কৃতিতে এসব বাজে উদাহরণ হয়েই থাকবে।

প্রচুর বাজে কথা লিখেও মুছে দিলাম।

আবির আনোয়ার এর ছবি

আজকের পত্রিকায় সাকিবের এই লেখা দেখে খুব খারাপ লেগেছিল এবং আরো খারাপ লেগেছে অন্য একটি খেলোয়ারেরা এখন তাদের সমর্থকদের পোকা বলে মনে করছে এটা দেখে। মানলাম সাবেকরা কেউ হাতি ঘোড়া মারতে পারেনি কিন্তু সাকিবদের বর্তমান অবস্থানের পেছনে তাদের কি কোন অবদানই নেই? পুরষ্কার নিতে যদি কোন আপত্তি না থাকে তাহলে তিরষ্কার শুনতে এতো গা-জ্বালা কেন? আরো অবাক লাগলো বারবার আলু পত্রিকা সাকিবের পোঁদে আঙুল দেয়ার পরও সে এখনও এখানে লিখে যাচ্ছে এটা দেখে।
বিশ্বকাপের আগে "সামনে ঝুঁকে জোরে পেছনে" আর "বাংলাদেশের জান সাকিব আল হাসান" দেখে মনে হচ্ছিল এসব করে ছেলের মাথা না আবার খারাপ হয়ে যায়! আমি বিশ্বাস করি তার বর্তমান কথাগুলো বয়সের দোষে ঝোঁকের মাথায় মাথা গরম করে বলা কিন্তু এটাও ঠিক যে সে যদি তার কথায় এবং ব্যবহারে আরো সংযমী না হয় তাহলে তার পতন অতি আসন্ন।

দিগন্ত এর ছবি

ইশতির লেখা আর সাকিবের কলাম দুটোই পড়লাম। আমার মনে হচ্ছে সাকিবের লেখার মধ্যে একটা ঔদ্ধত্য চলে আসছে, যেটা কখনই কাম্য নয়। সমালোচকদের স্ট্যাটিসটিকস দেখে সমালোচনার ওজন নেওয়ার অর্থ হয় না, অনেকেই ভাল না খেলেও ভাল সমালোচনা করেন, অনেকে উল্টোটা। সেরকম হলে হোসে মোরিনহো কোনো প্লেয়ারের সমালোচনা করলে তার উত্তরে শোনা যেতে পারে যে মরিনহো কখনও ফুটবল খেলেননি বা শচিন সমালোচনা ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে পারেন রেকর্ডবুক দেখিয়ে। সমালোচনা গঠনমূলক হলে শুনব, না হলে নয় - এটাই বরং সঠিক পরিকল্পনা। আর গঠনমূলক হলে যুক্তি বিচার করে দেখা যেতে পারে। এই কাজটা প্রফেশনালের মত করাটাও একটা কাজ। অন্যথায় অন্যের সাথে অহেতুক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে নিজের ফোকাস নষ্ট করা হয়, তার ওপর প্রথম আলোর মত সংবাদপত্রের রেভিনিউতে বোনাস দেওয়া হয়। এর চেয়ে খেলায় মন দেওয়া শতগুণে ভাল।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচ জিততে পারলে বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে। চট্টগ্রামে কেমন পিচ হবে জানি না, তবে ইংল্যান্ড স্পিন খেলতে পারেনি আজকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সুতরাং সঠিক পরিকল্পনা করলে ম্যাচ জেতা সম্ভব।

ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ দলের হোম এডভান্টেজ জলে যাচ্ছে হোম প্রেশারে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারত ৩৭০ তোলার পরে ব্যাটসম্যানেরা চাপমুক্ত ছিল, তাই রান উঠেছে। পরের দুটো ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ঘাড়ে টোটাল খাড়া করার দায়িত্ব ছিল - তারা চাপ নিতে পারেনি। চাপটাই আমার মনে হচ্ছে খেলায় বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে - যেটা ভাল ব্যাপার না।

পরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কোয়ালিফায়ার খেলতে হতে পারে। বিশ্বকাপ খেলাও হবে অস্ট্রেলিয়ায় - যেখানে স্পিন অতটা ভাল কাজ নাও করতে পারে। দেশে বিশ্বকাপ খেলে নিজের দলের শক্তি প্রমাণ করার সুযোগ বারেবারে আসেনা, সাকিব আশাকরি এই কথা মাথায় রাখবে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সালাহউদ্দীন এর ছবি

সাকিবের খেলা চলাকালীন কলাম লেখাটা বিস্ময়কর লাগছে, সব দেশ যেখানে খেলোয়াড়দের নানা প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করছেনা সেখানে আমাদের অধিনায়ক মাথা গরম করে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পিন্ডি চটকাচ্ছে। ৫৮ রানে অল আউট হয়ে এত বড় বড় কথা যে বলে তার ভবিষ্যত খুব ভালো বলে মনে হয়না। বড় খেলোয়াড়েরা মনেও বড় হয়ে থাকে সাধারণত, এতে তাদের নাম বাড়ে বৈ কমেনা। আশা করি সাকিব বুঝতে শিখবেন, আর দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ দয়া করে দেশের স্বার্থে আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।

একজন পাঠক এর ছবি

মা হাসতে হাসতে বলছিলো, "আস্তে যা, পরে গিয়া ব্যাথা পাবি" ...যখন আকরামের দল আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হল তখন রান্না ঘর থেকে থালা আর ভাতের চামিচ হাতে নিয়ে দৌড়ে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলাম। যখন ফিরলাম তখন থালার প্রায় সবজায়গায় ট্যাপ খাওয়া আর চামিচ বেকে ব্যবহারের অযোগ্য। বাংলাদেশের মায়েরা সেই দিন আমাদের দস্যিপনা সহ্য করেছিল। আমাদের আবেগ আকরামদের জন্যও যা সাকিবদের জন্যও তাই। কিন্তু কই,সেদিন ঐ দলে তো খুন করার লাইসেন্স পাওয়া,েখলতে নামার আগেই কাউকেই কেয়ার করিনা, হেন করব তেন করব টাইপের তামিম ইকবাল জাতীয় কেউ ছিলনা !!! তবুও আমাদের মত ক্রিকেট খেলতে না পারা, না বোঝা সাধারন দর্শকরাই সাকিবদের দেবতা বানিয়েছে। তাই বলি কি, সাবধান। যেহেতু না বুঝেই পূজা করেছি, সেই রকম না বুঝেই কিন্তু মাটিতে আছড়ে ফেলব।

একজন পাঠক এর ছবি

মা হাসতে হাসতে বলছিলো, "আস্তে যা, পরে গিয়া ব্যাথা পাবি" ...যখন আকরামের দল আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হল তখন রান্না ঘর থেকে থালা আর ভাতের চামিচ হাতে নিয়ে দৌড়ে রাস্তায় নেমে গিয়েছিলাম। যখন ফিরলাম তখন থালার প্রায় সবজায়গায় ট্যাপ খাওয়া আর চামিচ বেকে ব্যবহারের অযোগ্য। বাংলাদেশের মায়েরা সেই দিন আমাদের দস্যিপনা সহ্য করেছিল। আমাদের আবেগ আকরামদের জন্যও যা সাকিবদের জন্যও তাই। কিন্তু কই,সেদিন ঐ দলে তো খুন করার লাইসেন্স পাওয়া,েখলতে নামার আগেই কাউকেই কেয়ার করিনা, হেন করব তেন করব টাইপের তামিম ইকবাল জাতীয় কেউ ছিলনা !!! তবুও আমাদের মত ক্রিকেট খেলতে না পারা, না বোঝা সাধারন দর্শকরাই সাকিবদের দেবতা বানিয়েছে। তাই বলি কি, সাবধান। যেহেতু না বুঝেই পূজা করেছি, সেই রকম না বুঝেই কিন্তু মাটিতে আছড়ে ফেলব।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

সাফি ভাই ও দিগন্তদা'র সাথে সহমত।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

অদ্রোহ এর ছবি

সবাই সবকিছু বলে দিয়েছে, তারপরও কিছু কথা বলতেই হয়। সাকিবের ঔদ্ধত্য নিয়ে তুলকালাম পড়ে গেছে, হ্যাঁ সাকিব যেটা করেছে সেটা গর্হিত তো বটেই, এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগও নেই। এই ব্যাপারটার একটা আশু সুরাহা হওয়া দরকার। কিন্তু সাবেক খেলোয়াড়দের বাহবা দিতে পারছিনা, বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের কাঁটাছেড়া ব্যবচ্ছেদ চলবে, কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে লাগাম টেনে ধরাটা দরকার। আমার প্রশ্ন, পত্রিকায় সাকিবের কলাম লেখার সময় তাকে কোনভাবে প্রভাবিত করার কোন চেষ্টা করা হয় কিনা? দেশের প্রথমসারির একটা কাগজে বিশ্বকাপের সময় কলাম লেখাটা খুব একটা বিবেচনাপ্রসূত কাজ নয় তো বটেই। আর বিসিবির উচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ত্রিসীমানায় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। সবাই এখন যার যার জ্ঞান ঝাড়তে ব্যস্ত, তাই সব কথাই যে কেজো হবে না সেটা নিশ্চিত বলা যায়।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

আমিই সে এর ছবি

এইমাত্র ছবিটা দেখলাম ..

আরিফ জেবতিক এর ছবি

ছবিটির সোর্সটা কি জানা যাবে? কারা প্রকাশ করেছে এটি?

ami_russell এর ছবি

ভাই, এটা তো ফটোশপে বানানো ছবি - পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। এ যুগে এ ধরনের ছবি নিয়ে শোরগোল করার আগে ও পোস্ট করার আগে একটু ভেবে দেখবেন। আমাদের সবার মাথা খারাপ হয়ে গেছে ৫৮ রান করে হারার পরে।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এটা আমি দেখিনি, এটি মাঠে ঢোকার সময়ের দৃশ্য।
তবে মাঠ থেকে খেলা শেষে ফেরার পথে ঠিক প্যাভিলিয়নে ঢোকার দুই-তিন সেকেন্ড আগে সে হাত দুটো উঁচু করে একই কায়দায় মধ্যমা আঙুল দেখিয়েছে এবং গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ( সাবেক ঐ খেলোয়াড়ের তথাকথিত ভিআইপি গ্যালারি!) লোয়ার লেভেলের তৃতীয়ধাপের ৪ নম্বর সিট ( যা সাকিবদের প্রবেশমুখ থেকে মাত্র কয়েকগজ ) থেকে আমি নিজে এটি দেখেছি।
সুতরাং কাণ্ডটির সত্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন অন্তত আমার মনে নেই।

স্বপ্নহারা এর ছবি

ক্রিকইনফো তে আজ এই লেখাটা আসছেঃ http://www.espncricinfo.com/icc_cricket_worldcup2011/content/story/504533.html?CMP=chrome

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

মুস্তাফিজ এর ছবি

ঘুম ভাংলো শেষ পর্যন্ত।

ওডিন এর ছবি

কাগজেপত্রে অনেকেই খেলছেন, খেলতেছেন, খেলবেন। কিন্তু মাঠে খেলে আমাদের ছেলেরা, গালি খায় আমাদের ছেলেরা, গালিও দ্যায় আমাদেরই ছেলেরা- সবসময় ওদের সাথেই আছি! স্ক্রু এভরিবডি এলস! ইয়েস বাঘ মামা, ইয়েস!!!

আরিফ জেবতিক এর ছবি

বাংলা নিউজে বেনামে প্রকাশিত চিঠিটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতার আরেকটি নমুনামাত্র। সাকিব কোন আঙুল দেখালো সেটি আলোচনার সময় এখন নয়।

আমরা এখন একটা বিশ্বকাপের মাঝামাঝি আছি, খুব ভালো অবস্থায় যে আছি এমন নয়, তবে আমাদের আরো কয়েকটি ম্যাচ বাকি আছে। এসব আলোচনার জন্য বিশ্বকাপ শেষে আমাদের হাতে অনেক সময় থাকবে।
-
বিশ্বকাপ বিক্রির যে মচ্ছব আমাদের মিডিয়ায় লেগেছে, সেটি যাতে আমাদের দলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু বিসিবি'র।

আমাদের সাবেক ক্রিকেটাররা যে হারে প্রতিদিন শতসহস্ত্র ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন, এতে করে খেলোয়াড়রা তো বিরক্ত হবেই, আমার নিজেরই বিরক্তি লাগছে।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

কলামটা পড়ার পর খুব মেজাজ গরম হয়েছিলো - কেনো বিশ্বকাপের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলার মধ্যবর্তী সময়ে দলের ক্যাপ্টেনকে একটা পত্রিকায় কলাম লিখতে দেয়া হলো। বিসিবি কার কি চোষে?????

প্রাক্তন খেলোয়াড়দেরও মনেহয় একটু সংযত আচরণ শেখা উচিৎ।

ছবিটা দেখে বলার ভাষা হারিয়ে ফেললাম। আমাদের 'জান', আমাদের 'প্রান' এভাবেই মাঠে ময়দানে আমাদের গুয়াটা মেরে দিলো????????

... আর না, অনেক কিছু লিখে দেখলাম সবগুলোই শুধু গালি-গালাজ ... মুছে দিলাম ... ... কিন্তু মুখে ভালো কথা আসছে না ... ... ...

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

স্বপ্নহারা এর ছবি

যা যাই বলেন, এইটা সহ্য হইলো না!!!!

http://www.youtube.com/watch?v=mCHPiCpYhCg&feature=player_embedded

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

সুজনের কথাটা ভাল্লাগসে। তবে এটাও ঠিক, যে ভাবে সাকিবকে খোঁচাইসে এদ্দিন মিডিয়া, ও তার জবাব দিচ্ছে। বাটে পেয়ে ওরেও মিডিয়া এখন ধুচ্ছে।

আফসোস লাগছে, একটা কমিটেড টীম পেলে এই ছেলেটা অসাধারন একটা ফল নিয়ে আসতে পারতো। ক্যাপ্টেন হিসেবে তাঁর সেই যোগ্যতা আছে।

দেখা যাক, এই ভিডিওটা কয়জন ছড়ায়।

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

ফাহিম হাসান এর ছবি

@ স্বপ্নহারা ভাই, সাংবাদিকের প্রশ্নটা দেখেন "এত জন ব্যাটসম্যান এত বাজেভাবে আউট হলেন, কোন মনস্তাত্ত্বিক চাপ কি ছিল?"

একটার পর একটা এমন আউট হলে বা বিশ্বকাপের বড় একটা খেলায় মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে না তো কি ধনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবো? কেমুন কোশ্চেন?? এইটা তো জানা কথা চাপ আছে। এখন কী সাংবাদিকরা মনের চাপ নিয়া ফ্রয়েডের ব্যাখ্যা দিবো?? মশকরার একটা সীমা থাকা দরকার। এরা মনে হয় "পিপলি লাইভ" ছবির ক্যারেক্টার।

ফাউল রিপোর্ট করসে বাংলা ভিশন।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে না তো কি ধনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবো? কেমুন কোশ্চেন?? এইটা তো জানা কথা চাপ আছে। এখন কী সাংবাদিকরা মনের চাপ নিয়া ফ্রয়েডের ব্যাখ্যা দিবো?? মশকরার একটা সীমা থাকা দরকার।

হুম, সেটাই। চাপ থাকবে না তো কী থাকবে? সাকিব হ্যাঁ উত্তর দিলেই ঐ সাংবাদিক কি তার মনের মত উত্তর পেতেন? একটা বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করার মতো সাংবাদিকও নেই!

ডিসক্লেইমার: স্বপ্নহারা ভাই কিন্তু কিছু মনে কইরেন না। আমার মন্তব্য ঠিক আপনার উদ্দেশ্যে নয় হাসি

স্বপ্নহারা এর ছবি

আমি এইসময় এই রিপোর্টটা সহ্য করতে পারলাম না...সাকিবের পার্টটা এখানে গৌণ...মনে হল তাকে বাটে পাওয়ার চেষ্টা...সুজন ভাল বলেছে।

পিপিদা, আমার নিজের অবস্থান হল, খেলার জন্য সাকিব কে সাপোর্ট দেন, অধিনায়ক হিসাবে দেন, কিন্তু মাঠের বাইরের অন্যায়ের জন্য তারে সাপোর্ট দিয়ে মাথায় তুলে নষ্ট করবেন না...যে কারণেই হোক! বেশি লাই পেলে মানুষও কুত্তা হয়ে যায়। সাকিব আমাদের হিরো তার খেলার জন্য...এইসবের জন্য তারে হিরো বানানো হয় নাই! ওর পা মাটিতে রাখা আমাদের জন্য খুব বেশি, খুব বেশি জরুরি! সাংবাদিকরা দুনিয়ার সব দেশেই ছিলে ফেলে, ওইগুলা কোন প্লেয়ার গায়ে মাখলেতো খেলাই বন্ধ হয়ে যাবে!

সাংবাদিকরা যা করছে, তা অবশ্যই ঘৃণার! এক্স-দের কাজও খুব খারাপ...দর্শকরাও ঠিক করেনি। তাই বলে, বাই এনি মিন্স, সাকিব যা করেছে তা জায়েজ হয়ে যায় না। তাহলে যারা দেশে-দেশের বাইরে দেশের জন্য নানবিধ সম্মান আনছেন, তারাও ত দেশকে বাঁশ মারার লাইসেন্স পাওয়া উচিত! সাকিব খেলে আনছেন, আর্মি যুদ্ধ করে আনছে, বিজ্ঞানী রিসার্চ করে আনছে...

আমার ফেসবুকের স্ট্যাটাস---
মিডিয়ারে কইঃ ভাই আর কয়টা দিন চুপ থাক!
বিসিবিরে কইঃ ওই খাউয়ার দল, কোড অফ কন্ডাক্ট বলে কিছু নাই?
সাকিব রে কইঃ ভাই মন দিয়া খেল, আর যা করছস ওইটার জন্য মাফ চা। বাংলাদেশ বলে বেঁচে গেছিস, অন্যদেশ হইলে কপালে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
দর্শকগোরে কইঃ আমরা সাপোর্ট করি বাংলাদেশ টিমরে...কোন ব্যক্তিরে না। পাশে থাকুম...
নিজেরে কইঃ আর কয়টা দিন মাথা ঠান্ডা রাখ। আমরা... থাকি বস্তিতে স্বপ্ন দেখি তাজমহলের...খেলি নেপালের মত, ভাব দেখাই অস্ট্রেলিয়ার!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

একমত। এজন্য টীম ম্যানেজমেন্টের অনেককিছু করনীয় আছে। সেদিকেও তাহলে নজর দিতে হবে। ঐ ক্লিপ দেখাচ্ছে সাকিব হালকা মেজাজে প্রশ্নটাকে নিয়ে ফান করছে। এখন ফান করা ঠিক হয়েছে কিনা তা একেকজন একেকভাবে দেখবে। মুখ বেজার করে "হ্যাঁ" বলতে পারতো। তাহলেই মনে হয় সাংবাদিক সাহেব খুশী হতেন।

তবে সাকিব পরের ম্যাচে কিছু করতে না পারলে ওর মুখ দেখানো মুশকিল হবে।

মন্তব্য করবনা বলেও করে ফেলেছি। এটাই শেষ।

ফাহিম হাসান এর ছবি

তাই বলে, বাই এনি মিন্স, সাকিব যা করেছে তা জায়েজ হয়ে যায় না।

স্বপ্নহারা ভাই, এটা আপনি ঠিকই বলেছেন। সাকিবের সাফাই গাইছি না, কিন্তু আপনি শুধু প্রশ্নগুলা দেখেন প্লিজ। কৌশলী প্রশ্ন, খেলার বিশ্লেষণ এক জিনিস, আর এই সব প্রশ্ন হল নিজের মতটাকে অধিনায়কের মুখ থেকে টেনে বের করা - যাতে খবরের হেডিংটা জম্পেশ হয়। প্রশ্নের মাঝে নিজের উত্তরটাকে গুঁজে স্রেফ হ্যাঁ/না বোধক জিজ্ঞাসাকে আপনি কী বলবেন!

সাকিব মাঠে দর্শকদের সাথে অভব্য আচরণ করে খারাপ করেছে - কোন সন্দেহ নাই।
খেলা চলাকালীন সময়ে পত্রিকায় কলাম লেখা ও সিনিয়র সমালোচনার - স্ট্রাটেজিকালি ভুল ( সমালোচনার জবাব সে ব্যাট হাতে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আর সাকিব পরে এই বড় ভাইদের বলতে পারতো, ভাইয়া আপনিও তো একদিন বড় ম্যাচে হারসেন, খারাপ দিন তো আপনারো গ্যাছে তাই না, আপনি কয়েকদিন পরেও এই বিশ্লেষণটা করতে পারতেন। এই কয়টা দিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারলেন না? )
কিন্তু ঐ বেকুব সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর - আমার চোখে এই বিদ্রুপের তীর ছুঁড়ে দেওয়াটা ঠিকই আছে বলে মনে হচ্ছে। এইসব ফালতু প্রশ্নের পাহাড়ে চাপা পড়ার কোন মানে হয় না। এরা শুধু গরম খবরের খোঁজে নেড়ি কুত্তার মত ছোঁক ছোঁক করে।

স্বপ্নহারা এর ছবি

সহমত! আমি সাকিবের ভয়াবহ সাপোর্টার...আর আমি মনে করি, সাপোর্টাররাই খেলার বাপ-মা! খুব ভাল হয়, যদি সাকিব ব্যাপারটা এটলিস্ট বাইরে দিয়ে হলেও চুকিয়ে ফেলে...একটা এপোলজি লেটার দিয়ে (ফাক সাইন, সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য, সিনিয়রদের অস্মমান)! বেকুব সাংবাদিকরা ক্যাঁচাল পাকাচ্ছে...ওইটা মনে হয় না কেউই গোণায় ধরছে!

ফাহিম ভাই, সাকিব আমাদের সবে ধন নীলমণি...তাই চাইনা সে যুবরাজ-হরভজন-মোহাম্মদ আমির হয়ে যাক। সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠদের একজন হওয়ার যোগ্যতা রাখে...অহংকার যেন সেটা শেষ করে না দেয়, সেই ভয়টা-ই পাই! সেটা হওয়ার জন্য বিনয়টা খুব জরুরি, তাকে সঠিক ভাবে লালন-পালন করা জরুরি। যেভাবেই হোক, আশাকরি সে তার ভুল বুঝতে পারবে...তার সঠিক পথে থাকা আমাদের দেশের জন্য খুব বেশি-ই দরকার!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

একজন পাঠক এর ছবি

একটা ব্যাপার সবার চোখ এড়িয়ে গেছে - সংবাদ সম্মেলনটা আয়ারল্যান্ড ম্যাচ পরবর্তী । উইন্ডিজ ম্যাচের পরের না ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর দিয়েছে সাকিব। এত মিডিয়া থাকলে কী হবে ভালো রিপোর্টারের অভাব আছে। সাকিবের কলাম লেখা বন্ধ করে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। মিডিয়ার সাথে অন্তত এই মুহূর্তে ওর কোন যোগাযোগ রাখা উচিত নয়। আর সরকারেরও উচিত এখনই একটা শক্ত পদক্ষেপ নিয়ে মিডিয়াবাজি বন্ধ করতে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

@[যারা দাবি করছেন সাকিব সাংবাদিককে উচিত শিক্ষা দিয়েছে]

আশা করি আপনারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন কতটা অন্ধের মতো বলছেন কথাগুলা। সাংবাদিক সম্মেলন কোনো ছেলের হাতের মোয়া না। ওখানে গিয়ে কেউ বিবৃতি দিয়ে খালাস হয়ে যায়। ওখানে কঠিন প্রশ্নগুলো করা হয়, বেশ কড়া ভাবে করা হয়। এটা শুধু বাংলাদেশ বা ক্রিকেট না, সারা পৃথিবীর সকল সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য প্রযোজ্য। সাংবাদিক সম্মেলন মানেই খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভেতরের কথা বের করার চেষ্টা করা। অতএব, এই প্রশ্ন করেছে বলেই ভালো জবাব দিয়েছে, এই ধরনের মানসিকতা ঠিক না। দলকে সমর্থন করি, অধিনায়ককে সমর্থন করি, করে যাবো। তাই বলে অসভ্যতাকে প্রশ্রয় দেবো কেন? আপনারা প্রশ্রয় দিতে চাইলে দিন, কিন্তু লেটস বি অনেস্ট অ্যাবাউট ইট। স্বীকার করে নেন যে একটা অন্যায় আচরণকে আপনারা সজ্ঞানে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

"চাপ" তত্ত্ব দিয়ে অনেক কিছু আড়াল করা যায়, আবার অনেক কিছুই আড়াল করা যায় না। গ্রায়েম স্মিথ আরও কম বয়সে অধিনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। দেখান তো এমন একটা জবাব। পথে-ঘাটে গইড়ান দেওয়া কোনো রাজনীতিকের মতো বখাটে কথাবার্তার পর সমর্থন আশা করা দুষ্কর। আমি আঙুল দেখানোর ঘটনাও গুজব বলে ধরে নিয়েছিলাম। এখন একই সাথে ছবি + ভিডিও দেখার পর প্রচণ্ড হতাশ। এই ভাবে কিছু হয় না, হবে না। সাকিবের চেয়ে আমরা প্রত্যেকে হতাশ এবং আহত আরও বেশি যেন। ওদের সমর্থনে অন্য দেশগুলোর কম রানে অলআউট হওয়া রেকর্ড বের করেছিলাম... এখন মনে হচ্ছে অলআউট হওয়ার পর ওদের সাংবাদিক সম্মেলনের ফুটেজও খুঁজতে হবে শেখানোর জন্য।

বড় কোনো দেশ বা দলে এগুলো অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ। আমরা ছোট দেশ। আশাও ছোট, কলিজাও ছোট। তাই বীরভোগ্যা হয়েই জীবন চালিয়ে যাবো। আশা করি কেউ সাকিবকে এই নিয়ে যথোপযুক্ত শাসন করবেন। সেই ব্যাক্তি কোচ হলেই ভালো হতো, কিন্তু তিনিও একই পথের পথিক। বোর্ডের কেউও করতে পারবেন না, কারণ তাঁদের ব্যাটিং অ্যাভারেজ তো সাকিবের চেয়ে কম।

আরেকটা ব্যাপার। কেন সিডন্স নিজে এলেন না সম্মেলনে? এটাই তো ছিলো বয়স ও পদাধিকার বিবেচনায় তাঁর বড় দায়িত্ব। কেন একটা বাচ্চাকে আগুনের সামনে ফেলে দিয়ে নিজে আড়ালে থাকা? সাকিবকে তো সাংবাদিকদের সামনেই আসতে দেওয়া উচিত হয় নাই এই খেলার পর।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

প্রশ্রয় দিচ্ছি, সজ্ঞানেই দিচ্ছি। কারণ যে ছেলেটা এতদিন প্রশ্রয় পেয়ে এই পর্যায়ে এসেছে তাকে বিশ্বকাপের মধ্যে ব্লগে ব্লগে ধোলাই করার কোন কারণ আমি দেখিনা।

আমি মনে করি বিশ্বকাপের পরেই তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়া উচিত। এর মত ছেলে কিভাবে অধিনায়ক হয় সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন। রেফারেন্স দিতে পারবো না, তবে সাকিব যে টীমের মধ্যে অনেক চাতুরি করে তা এর আগেও পত্রিকার রিপোর্ট এবং সাংবাদিকদের সাথে তার কথোপকোথনে (যা পত্রিকায় এসেছিল) আমার কাছে মনে হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মধ্যে আমি আর কথা না বাড়ানোর পক্ষে।

সাকিব আঙ্গুল দেখিয়েছে, সাবেক খেলোয়াড়দের একহাত নিয়েছে-- এসব ভালো কোন কাজ নয়। সকালে তার সমালোচনা উপরের মন্তব্যে করেছি। কিন্তু এখন দেখছি বিষয়টা সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে আমি অন্তত আর কোন মন্তব্য করছি না।

ব্যস। আমার অবস্থান আমি পরিস্কার করে দিলাম।

পিএস. আঙ্গুল দেখানোর ছবি আমি বিশ্বাস করিনা। অথেনটিক সোর্স কেউ জানালে তখন ভেবে দেখবো।

নো হার্ড ফিলিংস, প্লিজ। আমি ওপেন।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ পিপি'দা। বিশ্বকাপ চলাকালে কোনো পরিবর্তন অনুচিত। তাহলে সেই গর্ডন গ্রিনিজ বিদায় নেওয়ার পুনর্মঞ্চায়ন হবে। এই মুহূর্তে করণীয় একটাই, মিডিয়া ব্ল্যাকআউট। বাদবাকি হিসাবের জন্য এপ্রিল মাস আছে।

সাফি এর ছবি

সহমত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

মন্তব্য না করে থাকতে পারছি না। পয়েন্ট কামানোর ব্যাপারও আছে চোখ টিপি

ইশতি:

এই মুহূর্তে করণীয় একটাই, মিডিয়া ব্ল্যাকআউট।

সাফি:

আমি সাকিব এর অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে বরং তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি একশন নেবার পক্ষে

একমত। ইশতি, আপনি বরং সুন্দর করে এটা নিয়ে একটা পোস্ট দেন।

ফাহিম হাসান এর ছবি

মিডিয়া ব্ল্যাকআউট - চলুক

সাফি এর ছবি

আঙ্গুল দেখানোর এই ছবি আমিও বিশ্বাস করিনা। সাকিব বিরোধী জোট এতই কর্মতৎপর যে এমন ছবির অস্তিত্ব থাকলে সেটা ম্যাচের পরের দিনই চলে আসত। কিন্তু ঘটনা আলোয় এসেছে 'সাবেক খেলোয়াড়' এর লেখার পরে।

আমি সাকিব এর অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে বরং তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি একশন নেবার পক্ষে। সেই সাথে বোর্ডের এই উপলব্ধি আসা উচিত যাবতীয় কিছু আলোতে আসছে মিডিয়ার সাথে খেলোয়াড়দের এমন খুল্লামখুল্লা সম্পর্কের কারণে। বোর্ডকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যেন যেকোন মিডিয়া কন্ট্যাক্ট বোর্ডের মাধ্যমে হয়। মিডিয়া ম্যানেজার আছে কি জন্য দলে?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

লাইক মারার বাটনটা থাকলে আমার আর এই মন্তব্য করতে হতো না। ভালো বলেছেন। বাংলাদেশের মিডিয়া ম্যানেজার, ম্যানেজার, এদের কোন কিছুই শুনিনা, খালি সাকিব সাকিব আর সাকিব! আরে বাবা ওরে খেলতে দে। বাকীটা অন্যেরা সামলাক।

স্বপ্নহারা এর ছবি

সহমত! পুরা মিডিয়া ব্ল্যাক-আউট!...

সাকিবের ক্ষেত্রে ডিসিপ্লিনারি একশন নেয়া উচিত অথবা সাকিব একটা এপোলজি লেটার দিয়েই কিন্তু সবকিছু শেষ করে দিতে পারে...

ডিসিপ্লিনারি একশনের সমস্যাঃ সাকিব বলবে আমি খেলবো না, ক্যাপ্টেন্সি করুম না (আগেও বলেছে!)! তখন সরকার-ধরে টান পড়বে কিন্তু! (খেলার বাইরেও অনেকে সাকিবকে হিরো বানান লোটাস ছাগলের সাথে কাইজ্যার কারণে!)

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ফাহিম হাসান এর ছবি

ইশতিয়াক ভাইয়া, আমি আপনার সাথে একমত না। খেলার শেষে সংবাদ সম্মেলন/ টক শো - কে আপনি যতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন আমার মনে হয় না এগুলো এতটা গুরুত্বের দাবীদার।

সাংবাদিক সম্মেলন কোনো ছেলের হাতের মোয়া না। ওখানে গিয়ে কেউ বিবৃতি দিয়ে খালাস হয়ে যায়।

ছেলের হাতের মোয়া না, ঠিক আছে কিন্তু তাই বলে আপনি ইচ্ছামত প্রশ্ন করে যাবেন, খুঁচাইতে থাকবেন মনের মত এইটাও মানা যায় না।

ওখানে কঠিন প্রশ্নগুলো করা হয়, বেশ কড়া ভাবে করা হয়।

কড়া প্রশ্ন করুক না, সমস্যা নাই। কিন্তু নিজের উত্তর প্রশ্নের মাঝে গুঁজে দিয়ে হ্যাঁ/না জিজ্ঞাসার মানে কী! আপনার কী মনে হয় কোন সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এইসব প্রশ্ন করা হয়? এইসব সাংবাদিকেরা নতুন নায়ক-নায়িকা জুটির মঝে প্রেম-বিয়ে আবিষ্কার করে, কোচ-খেলোয়াড় সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে চিন্তিত হয়, কে কার থেকে বেশি গরম মশলা মাখানো রিপোর্ট করে আরো ফাটানো অ্যাসাইনমেন্ট পাবে এই নিয়ে স্বপ্ন দেখে - এদের জন্য বিদ্রুপ অনাবশ্যক হতে পারে - কিন্তু অনাকাঙ্খিত নয় মোটেই।

আঙুল দেখানোর ঘটনাও গুজব বলে ধরে নিয়েছিলাম। এখন একই সাথে ছবি + ভিডিও দেখার পর প্রচণ্ড হতাশ।

আমি নিজেও হতাশ। কিন্তু হতাশ কারণ সমালোচনার জবাব খেলা না দিয়ে সে অন্যভাবে দিচ্ছে। তার আচরণে ঔদ্ধত্য চলে আসাটা ঠিক না। একেবারেই না। আঙুল উঁচানোটা বিরাট ভুল হইসে। দেইখেন এইটার মাশুল সে দিবে।

স্বপ্নহারা এর ছবি

খেলোয়াড়রা কেমনে ডুবেঃ পলিটিক্সে, অহংকারে, মদে, মেয়েতে, আর ড্রাগসে! সবাই শেন ওয়ার্ন না...খাইছে

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ফাহিম হাসান এর ছবি

হক কথা।

এই অহংকার ব্যাপারটা খুব গায়ে লাগছে। ভদ্রতা শেখাটা দলের অধিনায়কের জন্য জরুরী।
আমার বড় ভাই ম্যাট্রিক পাশ, আমি ভার্সিটিতে গায়ে বাতাস লাগায় ঘুরি। এখন সে আমারে পড়তে বললে আমি কি তেড়ে আইসা কমু, আপ্নে তো ইন্টার পাশ করতে পারেন নাই, এত সবক দেন ক্যা?

আর কলামের ভাষার কি ছিরি!! এত দেমাগ আসলেই ভালো না।

(তবে কালের কন্ঠ পত্রিকাতে দেখি রীতিমত সাকিব বিদ্বেষ চিন্তিত )

স্বপ্নহারা এর ছবি

ইশতি, সহমত!

সাকিব আমাদের সবে ধন নীলমণি...তাই চাইনা সে যুবরাজ-হরভজন-মোহাম্মদ আমির হয়ে যাক। সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠদের একজন হওয়ার যোগ্যতা রাখে...অহংকার যেন সেটা শেষ করে না দেয়, সেই ভয়টা-ই পাই! সেটা হওয়ার জন্য বিনয়টা খুব জরুরি, তাকে সঠিক ভাবে লালন-পালন করা জরুরি। যেভাবেই হোক, আশাকরি সে তার ভুল বুঝতে পারবে...তার সঠিক পথে থাকা আমাদের দেশের জন্য খুব বেশি-ই দরকার!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

এই রিপোর্ট অনুযায়ী এই সাক্ষাৎকারটা আয়ারল্যাণ্ডের সাথে ম্যাচের পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ম্যাচের পর না ... আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলবো দ্যাট মেইকস আ লট অভ ডিফ্রেন্স ...

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই...এইটা আয়ারল্যাণ্ড ম্যাচের পরেরর বিষয়...

ডেইলি স্টার এইটা নিয়া লেখছে। এই লিংকের দ্বিতীয় প্যারায় দেখেন।

চতুর্মাত্রিক থেকে অনীকের একটা কমেন্ট কপি পেষ্ট করলাম। সাংবাদিকদের হলুদ সাংবাদিকতার আর কি প্রমাণ দরকার!?

এইমাত্র জানলাম বাংলাভিশনের রিপোর্টটা সাংবাদিকদের বদমায়েশি। সাকিবের এই জবাবগুলো আয়ারল্যান্ডের ম্যাচের পর। সেখানে প্রেস কনফারেন্সে "ব্যাটিং কেন খারাপ হলো, কোন মনস্তাত্বিক সমস্যা ছিলো কি?" প্রশ্নের জবাবে সাকিব মজা করে বলেছে উপরের কথাগুলো। সেই ম্যাচের পরে সবাই হাসিতামাশার মুডে ছিল। বাংলা ভিশন সেটা কাটপেস্ট করে রিপোর্ট বানিয়েছে যেন মনে হয় এটা ওয়েস্ট ইন্ডজ ম্যাচের পরের ঘটনা!

At the press conference following the Ireland match, when asked, perhaps a bit naively, why they had gotten out to bad shots in their innings, Shakib's answer had some of the assembled press, who were only too relieved with the win in stitches, and others gobsmacked. "Because we wanted to get out. Because we felt it would be good for the team if we got out, and because we heard the lunch was good and we wanted to have a bite," said the Bangladesh captain.

http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=176547
ডেইলি ষ্টারের এই নিউজের দ্বিতীয় প্যারা দেখেন
আমি যেই হলুদ সাম্বাদিকতার কথা বলছিলাম, বাংলা ভিশনের লোকগুলো (এদেরকে আর সাংবাদিক ডাকা উচিত না) সেইটার ভালো উদাহরণ।

এখন থেকে বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে বের করা সকল প্রিন্ট ও অনলাইন রিপোর্টের নিকুচি করি!

খন্দকার মুজাহিদুল ইসলাম সুজন এর ছবি

এটা হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আসল ভিডিও।

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

যদ্দুর মনে পরে, প্রচন্ড রকমের ব্যর্থ বিশ্বকাপ ২০০৩ এ খালেদ মাসুদ পাইলট কলাম লিখতেন। সরাসরি বিশ্বকাপ আসর থেকে লিখেছিলেন কিনা সেটা অবশ্য মনে পড়ছেনা। তবে কলাম লেখা এবং ৬ দিনের ছুটিতে ২দিন বাড়ি কাটানোতে ১৪৪ ধারা জারী করা বাধ্যতামূলক।

কিছু সমর্থক গতকাল ওয়েস্টিন্ডিজকে স্যরি বললো। আগামীকাল সাকিবের মাগুরা বাড়িতে যেয়ে সেখানে তাঁর পরিবারকেও স্যরি বলবে। আশা করবো, সাকিব সেটা বুঝবেন, এবং মার্জিত ও সংযত আচরন করবেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি লন্ডনে বাড়ি কিনলেন না সুইস ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুললেন, তাতে কোনো কিছুই ছিড়েনা।

বিসিবি আশা করছি কিছু ছিড়ছে না, দায়িত্বের পরিধি যেন বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করে। বিসিবির দায়িত্ব কী, সেটা সমর্থকরা বোঝানো মানে, একটা প্রধান নির্বাহী ও বেশ কিছু বেতনভুক্ত পরিচালক দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে চরম ভাবে অবমাননাকর।

সব মিলিয়ে আমি 'হতাশ'!!!

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

পল্লব এর ছবি

সাকিব ছেমড়াটার জন্যে একদিক দিয়া মায়াই লাগতেসে। মনে হয় তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে এখন একটা ড্যামকেয়ার ভাব আইসা গেসে। একদিক দিয়া প্রত্যাশার চাপ, আমাদের কীড়া-সাম্বাদিকরা সারাক্ষণ তারে গাইলাইতেসে, মাঠে খেলতে নাইমা তারে সাম্বাদিকদের প্রশ্নের জবাব চিন্তা করতে হয়, আবার কলাম লেখতে হয়, খেলার পরে আবার তার বাড়িতে গিয়া (ভিত্রে মা-বোন থাকা অবস্থায়) লোকজন ইটা মাইরা আসে - এতকিছুর মধ্যে থাকলে এইটা হইতে বাধ্য। দোষ খেলোয়াড়দের আছে । কিন্তু খেলার মাঠে মাঠসুদ্ধা লোক "যাই হোক, সাথে আছি" বইলা দুয়ো দেওয়া শুরু করলে ঐ বয়সে "থোড়াই কেয়ার করি" বুঝায়া আঙ্গুল দেখানোটা স্বাভাবিকই মনে হইসে, যদিও উচিত না।

বিশ্বকাপ শেষ হইলে এই ছেলে খেলা ছাইড়াছুইড়া সত্যসত্যই বাইরে চলে যাইতে চাইলে অবাক হব না।

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

হিমু এর ছবি

আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কেমন ক্যাপ্টেন চাই? যে পদে পদে আমাদের প্রশ্নের উত্তর আর কৈফিয়ত দেয়ার জন্য উটপোঁদ শুভ্রমার্কা চ্যাটের বাল হরিদাস পাল ক্রীড়ামূর্খ হাফরেড মিডিয়াবাজের সাক্ষাতকারে বসবে আর পত্রিকায় কলাম চোদাবে? নাকি মাঠে গিয়ে খেলবে? মানতে চান আর না চান, দুইটা কাজ একসঙ্গে ভালো করতে পারে না বাংলাদেশের কোনো ক্যাপ্টেনই। সমর্থকরা আগে ঠিক করেন, ক্যাপ্টেনকে কোন জিনিসটা হাতে বেশি পারঙ্গম দেখতে চান, ব্যাট-বল নাকি কলম?

সাকিবের এই বাজে আচরণের ফল বিশ্বকাপ শেষ হবার পর ভোগ করতে দেয়া হোক। কিন্তু টুর্নামেন্টটা শেষ করতে দ্যান। প্রত্যেক ম্যাচের পর বিচার-আচার মিডিয়াসালিশ আর ভাল্লাগে না। ক্রীড়া শুয়োরবাদিকগুলিরে পাছায় লাত্থি মেরে পাকিস্তান পাঠায় দেয়া যায় না বাকিটা সময়? খেলার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলার খবর নিয়ে গুটিবাজি।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমি বুঝলাম না এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ টিমের কোড অফ কন্ডাক্ট না কি বলে সে জিনিসটা কই? যেকোন সাংবাদিক যেকারো কাছে চলে যায় আর একেকটা বিস্ফোরক ডায়লগ জোগাড় করে আনে। সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের মুখের লাগাম ছুটেছিল আগেই, তখন সবাই সাহসী ছেলে বলে বাহবা দিচ্ছিল। এখন মধ্যাঙ্গুলি দেখে টনক নড়লো। সাকিব হয়তো এরপর বলবে, আমি তো ক্যাপ্টেন্সি চাইনি। আমাকে দেয়া হল কেন? বিরাট গিয়াঞ্জাম।মনে হচ্ছে, তলে তলে বিশাল একটা ঝড় চলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। পরের ম্যাচ দু'টো ভালোয় ভালোয় পার হতে না পারলে বীভৎস, নগ্ন একটা রূপ নিয়ে সেটা বেরিয়ে আসবে।

আপাতত ওদের 'লাইসেন্স টু টক' বাতিল করা বেশি দরকার। আগেই করা উচিত ছিল, কিন্তু বেটার লেট দ্যান নেভার।

হাসিব এর ছবি

কিছু অবজারভেশন শেয়ার করি,
১. সাকিব যদি দর্শকদের ওভাবে আঙুল তুলে দেখিয়ে থাকে তাহলে এজন্য তার ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিৎ। দর্শকের জন্য খেলোয়াড়েরা খেলোয়াড়। যতসব মিডিয়া স্পন্সর, ম্যাচ ফি আসে সেগুলো ওরাই যোগান দেয়।
২. ভিডিও প্রসঙ্গে। ইশতিয়াক সংবাদ সন্মেলনের যে বর্ননা দিয়েছে বাস্তবে পোস্ট ম্যাচ সন্মেলনগুলো ওরকম হয় না। খুবই ডিপ্লোম্যাটিক পদ্ধতিতে মিডিয়া ম্যানেজারের মধ্যস্থতায় জিনিসটা হয়। সাংবাদিকেরা ওখানে দা-বটি নিয়ে বসে থাকেন না। ভিডিও দেখে আমার যেটা মনে হয়েছে সেটা হলো সাকিব ঠাট্টা করে বলেছে ঐ কথাগুলো। সংবাদ সন্মেলনে সবই যে গুরুগম্ভীর কথাবার্তা হয় এরকম না। অনেক রিপোর্টারের সাথে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক যোগাযোগ থাকে। এরকম অবস্থায় কিছু স্থুল ঠাট্টা মশকরা আসতে পারে। যে এই ভিডিওটা পোস্ট করেছে তার উচিৎ ছিলো পুরো সংবাদ সন্মেলনের ভিডিও ছাড়া। তাহলে বোঝা যেত আসলে কী প্রেক্ষিতে এই জাতীয় কথা সাকিব বলছে। আমি ওটা দেখা ছাড়া কোন রায় দেয়া থেকে বিরত থাকলাম।
৩. মিডিয়া একটা চাপ তৈরী করে এটা অনস্বীকার্য। ক্রিকেট বোর্ডের উচিৎ এই চাপ থেকে মুক্ত করতে সাকিবদের মিডিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। এমনকি পড়ার জন্য পত্রিকাও তাদের দেয়া উচিৎ না। বন্ধু বান্ধব বা পরিবার মারফতও যেন পত্রিকার চাপ তাদের কাছে না যেতে পারে সেটার ব্যবস্থা করা উচিৎ।

সাবিহ ওমর এর ছবি

সাথে এটা না বললে চলে না যে, সাকিবের বাসায় যে ঢিল পড়লো তার দায় মিডিয়া আর সমর্থকদের ((অন্ধ/চক্ষুষ্মান সবাই) উপরও যায়। বাংলাদেশ দলকে নিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই ছিল, কিন্তু তা কখনোই এরকম আকাশ্চুম্বী ছিল না। আমাদের এমন একটা ইমপ্রেশন দেয়া হল যে বাংলাদেশ এবার কাপ জিততে যাচ্ছে। অথচ এই একই টিম ক'দিন আগে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে, এই একই বোলিং এটাক পাকিস্তানের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছে, আর এই একই সাকিব আল হাসান বারবার ৩০ ওভার আগেই হেরে যাওয়া ম্যাচগুলোয় মুখ কাঁচুমাচু করে গোটা ত্রিশেক রান তুলেছে। আর আমরা? সাকিব এক ম্যাচে বিশ করলে পরের ম্যাচে দেড়শ আশা করি। তামিম একটা চার মারলে আরো দু'টা আশা করি। আর কোন বড় টিমকে একবার হারালে এমন ভাব দেখাই যেন এখন থেকে আমরা ওদের উঠতে-বসতে হারাবো। আমরা অবুঝ, আমাদের সাংবাদিকেরা অবুঝ, আমাদের খেলোয়াড়েরা অবুঝ, আমাদের স্বপ্নগুলোও অবুঝ। ভালো কিছু, বড় কিছু করতে যে সময় লাগে, শ্রম লাগে, ত্যাগ লাগে, অনেক হারের গ্লানি লাগে এটা আমরা জেনেও জানি না। আমাদের জাতিগতভাবে বেড়ে ওঠা প্রয়োজন।

সজল এর ছবি

লাইক্সদ্যাট।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

পল্লব এর ছবি

কঠিন লাইক!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

অতিথি লেখক এর ছবি

সাকিবকে নিয়ে সবাই এতো কচলাচ্ছে কেন? সেও তো মানুষ নাকি? কথা দিয়েছিলাম পাশেই থাকবো...পাশেই আছি ভয় পেও না...

দ্রোহী এর ছবি

সমর্থকদের সাথে অভব্য আচরণের বিচার সেই মুসা নবীর আমল থেকেই হয়ে আসছে। টুর্নামেন্ট শেষ হবার পর দর্শকদের প্রতি মধ্যমা প্রদর্শনের উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে বিসিবি/আইসিসির নিয়মানুযায়ী ম্যাচ ফি কেটে নেয়া থেকে শুরু করে কয়েক ম্যাচ সাসপেন্ড করা টাইপ বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।

এই মুহুর্তে এইটা নিয়ে হাউকাউ করার কোন অর্থ হয় না।

আমরা খেলি কানাডা-বারমুডার মত আর পুন্দাপুন্দিতে অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়াকেও দৌড়ের উপর রাখি।

অতিথি লেখক এর ছবি

কয়েকটা জিনিস শেয়ার করি:

১। অধিনায়কদের কলাম লেখা মোটেও কোন দূর্লভ কিছু নয়, যদ্দূর মনে পড়ে, আগের বেশ কয়েকটা বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড ইন্ডিয়ার খেলোয়াড়রা কোন কোন পেপারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতেন কলাম লেখার জন্য। চট করে গুগল করে রেফারেন্স পেলামনা, তাই ভুল হলে মেনে নিতে রাজি আছি।

২। মধ্যাঙ্গুলির ছবিটা একেবারেই অর্থহীন, কাকে দেখানো হচ্ছে তাও বোঝা যাচ্ছেনা। হতে পারে বিপক্ষ টীমকে, হতে পারে নিজের টীমের কাউকে।

৩। লেখক বললেন

@[যারা দাবি করছেন সাকিব সাংবাদিককে উচিত শিক্ষা দিয়েছে]

আশা করি আপনারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন কতটা অন্ধের মতো বলছেন কথাগুলা।

এটার সাথে একমত হতে পারলামনা। নিয়মিত বেশ কয়েকটা ফুটবল লীগের খেলা দেখতাম (এবং দেখি), সেখানে কোচ বা খেলোয়াড়কে বাঁকা উত্তর দিতে দেখেছি অ-নে-ক। সাংবাদিকদের ফেরেশতা ভাবার কোন কারণ নেই, জরুরী অনেক কথার সাথে "পাবলিকে খাবে" এমন সব অর্থহীন কথাবার্তাতেও তাদের নিদারুণ আগ্রহ, খুব স্বাভাবিক কারণেই (পেটের দায়)।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি এখানে। ফুটবল কোচ স্যার এলেক্স ফার্গুসনকে যখন এক সাংবাদিক রুনী আর রূনীর "দুর্ব্যবহার" নিয়ে প্রশ্ন করেন, কয়েকবার মানা করা স্বত্তেও, তার প্রতিক্রিয়া দেখেন (১:১৫ সময়ে চলে যান)

---দিফিও

এইতো আমি এর ছবি

সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের বলা কথাগুলো আসলে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচের পরে বলা, ভিডিও এডিটিং এর কারনে মনে হচ্ছে লাস্ট ম্যাচের পরে বলেছে। সূত্র : http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=176547

সাকিবের ব্যাপারে কোন কমেন্ট নাই, তবে ভিডিওটা হলুদ সাংবাদিকতার একটা প্রমান।

দিগন্ত এর ছবি

একটু আগে পড়লাম এটা। কি হচ্ছে এসব?


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সংবাদ সম্মেলনে অনেক কিছুই হয়। তাই বলে এই ভাবে জবাব দেওয়া সমিচীন না। উৎপাত হয় এবং তা নিয়ে রাগের উদাহরণ আছে, হ্যাঁ। কিন্তু সেটা তো ভালো কোনো উদাহরণ না। বরং এই একটা ক্ষেত্রে জর্জ বুশ ভালো উদাহরণ। জুতা ছুঁড়ে মারার পরও মাথা ঠাণ্ডা রেখে পুরো ব্যাপার সমাধা করা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।

যাক, যা হয়েছে হয়েছে। বিশ্বকাপের পর এগুলো নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নচেৎ দল কখনও ব্যাক্তির চেয়ে বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। সমালোচনাটুকু না হলে সাকিবও বুঝতো না কীধরনের আচরণ আপত্তিকর।

পল্লব এর ছবি

ফেসবুকে একজনের কথা শুনে মাথায় ঢুকল। [url=ছবিটার]http://m.facebook.com/photo.php?fbid=187190497983551&id=185867651449169&refid=7[/url] মধ্যে সাকিবের দুই বাহুই ঢাকা। বাম বাহু ক্রপড, ডানেরটা পিছের প্লেয়ার দিয়ে ঢাকা। ছবিটা আজগুবি হওয়ার সুযোগ কতটুক? এইটার ভ্যালিডিটি কনফার্মড হইসে?

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ভেরি গুড পয়েন্ট। ভিডিওর ব্যাপারেও ফাহিমের মন্তব্যের সাথে একমত। কোন খেলার পর করা হচ্ছে সেটায় তফাৎ হয় অনেক। তবুও বলবো এত হালকা ভাবে নেওয়ারই প্রতিফল হিসাবে পরের খেলা এসেছে।

মনে হয় এই ছবি + ভিডিও আলোচনার বাইরে রাখা উচিত। স্বনামে বলা কথাগুলাই আলোচ্য হওয়া উচিত।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

উইন্ডিজ ম্যাচের পরের সাংবাদিক সম্মেলনঃ

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

প্রদর্শণ নতুন কিছু না। একবার সালাম মুর্শেদি আবাহণীর গ্যালারির দিকে ক্যাঞ্চিন প্রদর্শণ করেছিলেন।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

স্বপ্নহারা এর ছবি

BCB বসে বসে কী বাল ফালায় বুঝি না! http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=4c7e17f10bce99f0c3df0f414eb9165c&nttl=2011030731552

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

একজন পাঠক এর ছবি

হলুদ সাংবাদিকতার আস্ত নমুনা এটা......কোন জায়গাতেই তিনি একবার বললেন না যে এই প্রেস কনফারেন্সটা আয়ারল্যান্ডের সাথে ম্যাচ জেতার পর ফুরফুরে মেজাজে রস করতে করতে হয়েছে.......নিকুচি করি এই সব সাংবাদিকতা নামের প্রহসনের.....থুহ্ঃ

স্বাধীন এর ছবি

দেরীতে হলেও বিসিবির শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। বিশ্বকাপ চলার সময় ক্রিকেটারদের কে কলাম লিখতে নিষেধ করা হয়েছ বলে প্রথম আলো রিপোর্ট করছে। । তবে প্রথম আলো বড় হতাশ বিসিবির এই সিদ্ধান্তে। প্রথম আলো যে বাংলাদেশ দলের খেলার চেয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক চিন্তাকেই প্রাধান্য দেয় এই হতাশা তারই প্রমান। না হলে আমি মনে করি সাকিবের এই কলাম লেখা এবং সেগুলো নিয়ে বিতর্ক দলের পারফর্মেন্সে বেশ প্রভাব ফেলে। খেলোয়ারদের উচিত এখন কোন প্রকার পত্রিকা/ফেইসবুক/ব্লগ এগুলো না পড়ে বাকি তিনটি ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকা।

ইফতেখারআহমেদ  এর ছবি

সাকিব যা করেছে তা হলো মিডিয়ার চাপে নার্ভাস ব্রেকডাউন। বিশ্বকাপের শুরু থেকে উৎপল শুভ্র মার্কা সাংবাদিকরা উঠতে বসতে ওর খুঁত বের করেছে। ঐসব কুলাংগার সাংবাদিকরা শুধু নিজেদের পত্রিকা বিক্রির চিন্তা করে, এটা ভাবে না যে আমাদের মতো প্রতিভাহীন জাতিতে খুব বেশি সাকিব আসে না। ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা আর স্বার্থপরতার জন্যই আমরা নিজেও উঠতে পারিনা, অন্যকেও উঠতে দেই না।

একজন অধিনায়ককে হয়তো এসব সামলে চলতে হয়, কিন্তু আমাদের দেশের ২৩ বছরের ছেলের থেকে আমরা তা আশা করতে পারিনা। গ্রাহাম স্মিথরা ছোটকাল থেকেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়ে বড় হয়, বিদেশে কেজি ক্লাস থেকে পাবলিক স্পিকিং শেখানো হয়, তাই ওরা অনেক বেশি ম্যাচিউরড। নিউমার্কেটের সামনে দাড়িয়ে যেকোন সাধারণ যুবককে কিছু প্রশ্ন করলেই বোঝা যাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্হা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে... আমাদের সমস্যা হল, আমরা নিজেকে চিনিনা, কিণ্তু অন্যকে যাচাই করতে পছন্দ করি।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

একটা প্রশ্ন মাথায় আসলো, খানিকটা অফটপিক, তাও করি ...

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পেছনে সরকার / ট্যাক্সপেয়ারদের খরচ ঠিক কতটুকু? বিসিবি না অনেক আগে থেকেই স্বাবলম্বী / লাভজনক?

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

এটা আমারও জানার ইচ্ছা। আমার টাকা খেলোয়াড়দের পেছনে ঠিক কতোটা যাচ্ছে, তা জানলে কতটুকু তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা জায়েজ হয়, এটাও জানার ইচ্ছে আছে।

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

বিল্লাহ মামুন এর ছবি

এই পোস্টাটতে বিস্তারিত ব্যাখাআছে যে বাংলাভিশনের রিপোর্টটা পুরাই ভূয়া এমনকি রিপোর্টারও নাকি সাকিবের কাছে ক্ষমা চাইছে পড়ে
http://bloggermamun.blogspot.com/2011/03/blog-post_07.html

মামুন বিল্লাহ এর ছবি

এই ছবিটাতে দেখা যাচ্ছে সামনের লোকটা বেসবলের গ্লাভস নিয়ে আছে আমার ধারণা এটা প্যাকটিসের সময় তোলা ছবি ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA