টাইগার হিল। ভোরে সূর্য উঠা আর কাঞ্চনজংঘায় তার প্রতিফলন উপভোগ করার যে কয়টি জায়গা আছে তার অন্যতম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে যায় সে সৌন্দর্য উপভোগ করতে। দার্জিলিং শহর থেকে ১১কিমি দূরে টাইগারহিলে যেতে গেলে উঠতে হবে রাত সাড়ে তিনটায়, ওখানে পৌঁছাতে লাগে গাড়ীতে প্রায় মিনিট ত্রিশেক। টুরিস্ট সীজনে অসম্ভব ভীড়, নীচ থেকে অনেকদূর হেঁটে উঠতে হবে, ভাগ্য ভালো হলে মূল চত্বরে জায়গা মিলবে। চত্বরটির চারদিকে রেলিং এর ঘেরাও, মাঝখানে ছোট্ট তিন তলা অবজারভেশন রুম, এখানে উঠতে গেলে আলাদা টিকিট লাগে যা প্রথমেই ঢোকার মুখে কিনতে পাওয়া যায়। আমরা যখন পৌঁছাই তিল ধারনের ঠাঁই নেই, গিজগিজ করছে মানুষ, সামনে যাওয়া অসম্ভব। আমাদের ছবিয়ালদের কাছাকাছি থাকতে বললাম কারন এখান থেকে ছবি তোলার সুন্দর একটা জায়গা আছে যা কারো নজরে আসেনি এখনও, সূর্য ঊঠার আগে আগে সেখানে উঠতে হবে, এর আগে উঠলে গার্ডরা নামিয়ে দিতে পারে। অগত্যা চুপচাপ পেছনে দাঁড়িয়ে থাকলাম, অধৈর্য হয়ে এক এক করে ছবিয়ালরা সবাই ছেড়ে গেলো আমাকে। আমি তখনও দাঁড়িয়ে পেছনে।
হঠাত্ মিলিত গুঞ্জন শুনে বুঝলাম সময় হয়েছে উঠার। আশে পাশে কাউকে দেখলামনা, আমার ক্যামেরা, ৩টা লেন্স সবকিছু মিলিয়ে ওজন ১৫কেজির কাছাকাছি, সাহায্য লাগবে। খেয়াল করলাম একটা মেয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, এর আগে প্রায়ই মাঝে মাঝে খেয়াল করছিলো আমাকে, হয়ত ভাবছিলো আজব ছবিয়াল, সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যস্ত আর উনি বসে আছেন পেছনে। চোখে চোখ রেখে হাসি দিলাম, কাজ হলো, উলটো হাসি দিলো।
বললাম, সূর্য উঠা শুরু করবে এখনই, আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন?
আমি জেসিকা, দিল্লী থেকে এসেছি, বলুন কি করতে পারি?
আমি এই পাইপটা বেয়ে উপরে উঠবো, সেখানে জানালার উপর শেডে বসবো, আমার এই ক্যামেরা আর লেন্সটা ধরুন, উপরে উঠলে এগিয়ে দেবেন।
হুম, ভেরী ইম্প্রেসিভ লেন্স, শুধু টিভিতেই দেখেছি এতদিন, বলতে বলতে হাত বাড়িয়ে দিলো জেসিকা।
কালবিলম্ব না করে পাইপ বেয়ে উঠা শুরু করলাম, আমার বয়সে তা মানায়না। উপরে উঠে আরেক বিপদ, মেয়েটার হাত অতদূর আসেনা, অগত্যা সাথের ট্রাইপড লম্বা করে খুলে নিচে নামালে ও তার ভেতর ক্যামেরা আর লেন্সটা আটকিয়ে বলল, খুব সাবধান, যেনো এটার প্রতি আমার চাইতে ওর মায়া বেশী।
ছবি তুলছি এক এর পর এক, আমার দেখাদেখি এক আমেরিকান ওর ক্যামেরা নিয়ে ভাগ বসালো যায়গায়, মেয়েটার কথা মাথা থেকে সরে গেছে ততক্ষণে, সূর্যও অনেকদূর উঠে গেছে, তাকিয়ে থাকা যায়না পূবে। নামবো ভাবছি হঠাত্ চোখ গেলো মেয়েটার দিকে, উলটো দিকে ঘুরে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, ভোরের আলো ঠিকরে এসে ওর একপাশ রাংগিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। অসম্ভব সুন্দর মূহুর্ত, ক্যামেরা তাক করতেই লজ্জ্বায় মুখ নামিয়ে ফেললো, আমি ছবি তুললাম, আর কোনদিন দেখা হবেনা কিন্তু ছবিটা থাকবে

মন্তব্য
সত্যি বলতে- নিচের বড় ছবিটা দেখে মনে হয় একটা হার্টবিট মিস করলাম!

অসাধারণ, ভাষায় বর্ণনা করার মতো না- এতটাই সুন্দর হয়েছে ছবিটা!
ক্যামেরা আর তিন লেন্সেই ১৫ কেজি? না-কি আরো জিনিসপত্র ছিল? আপনার ভ্রমণকাহিনী আর ছবিগুলোর মহা-ফ্যান হয়ে গেছি, অপেক্ষায় থাকি পোস্টগুলোর
A question that sometimes drives me hazy: am I or are the others crazy?
একটা ট্রাইপড (ক্যামেরার স্ট্যান্ড) ছিলো
"হার্টবিট মিস" এর ব্যাপারে কোন উপকারে আস্তে পারবোনা, বরঞ্চ ২য় বার যাতে মিস না হয় সে বন্দোবস্থ করতে পারি
মুস্তাফিজ ভাই, আপনি এত ভাল কেন?

নেক্সট টাইম এরকম কাউকে পেলে ছবি তো তুলবেনই, সাথে যোগাযোগের ঠিকানাটাও নিয়ে আসবেন (ছবির এক কপি তাকে পাঠাবেন- এই কথা বলে)
A question that sometimes drives me hazy: am I or are the others crazy?
একটু বেশী হইয়া যায়না?
কোনটা বেশি মনে হইল, মুস্তাফিজ ভাই? আপনারে "ভাল" বলাটা, নেক্সট টাইম 'জেসিকা'-র মত কাউকে পাওয়াটা, না-কি "ঠিকানা" আনতে বলাটা?
A question that sometimes drives me hazy: am I or are the others crazy?
মুস্তফিজ ভাই মন্তব্য করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ছবি ও লেখা দুটোতেই আপনাকে জাঝা
নাহ্ দার্জিলিং খুব তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
ধন্যবাদ। ঘুরে আসার আগে টিপস্ নিয়া যাবেন
মুস্তাফিজ ভাই লেখতে থাকেন, পড়তে দারুন লাগছে, আমাদের ট্যুরটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে ।
------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'
-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'
ভারত নিয়া আজেবাজে কথা কম বলি কারণ কোন একদিন লম্বা একটা বেড়ানো দিব এই আশা মনে। আপনার সিরিজটা সময় নিয়ে পড়ব একসময়। একটা ক্যামেরাও একদিন কিনব সামর্থ হয় তো।
চালিয়ে যান।
অঞ্জন চৌধুরীর গানঃ-
খাদের ধারের রেলিংটা ... ওই ছোট্ট ...... আমার শৈশবের দার্জিলিংটা
......
খাদে নেমে প্রথম সিগারেট ওখান থেকে স্কুলের গেট
...
esnip এ পাওয়া যাবে গানটা।
অঞ্জন চৌধুরীর পড়াশোনা দার্জিলিংএ মিশনারী স্কুলে কিনা, ভদ্রলোক একবার বলছিলেন উনি খুব মিস করেন দার্জিলিংকে ... আমিও
------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি
------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !
anjan datta, not anjan chaudhury. please correct urself.
আপনি ভাই খাইয়া ফালাইছেন আমারে !
এতোদিন টের পাই নাই আমার যে হার্টের ব্যমো আছে ! আপনি করছেন কী !
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
দাদা, 'তারাসন' শুরু করেন খুব দ্রুত, ইয়োগা ছাড়া এর কোন অষুধ নাই
দাদা কি অঞ্জন দত্ত'র কথা বলছেন?
শুনেছি উনি দার্জিলিং এর অনেক পুরোনো (১৮২৩ সালে কলকাতায় শুরু হয় আর দার্জিলিং এ শিফট্ হয় ১৮৬৩সালে) সেইন্ট পলস্ এ পড়েছেন।
ভালো কথা সেইন্ট পলস্ সম্ভবত পৃথিবীতে যত গুলো হাইস্কুল আছে তার মাঝে সবচাইতে উঁচুতে (৭৫০০ফিট), আর এদের টেনিস কোর্ট ও বিশ্বের সবচাইতে উঁচু কোর্ট। একবার গিয়েছিলাম, ভেতরে ঢুকতে পারনি, এ স্কুলে 'ম্যায় হুঁ না' ছবির কাজ হয়েছিলো।
মনে করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।
অসাধারণ ... আর কিছু বলার নাই ...
[কবে যে একখান ভালো ক্যামেরা কিনবো
]
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...
আপনাকে হিংসা জানাইলাম...
কিভাবে তোলেন? শিখাইবেন?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
ব্যাপার না
ব্যাপার না
জোস্!!!!
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির
ধন্যবাদ
আপনার সিরিজ পড়ে ভাবতেছি একবার আপনার লগে বাহির হইতে হইবো। জীবনে কতো কিছু দেখার আছে।
চাকরী থাকবোনা, খুব খেয়াল
- আগ্গুন!!
লেখা পড়লাম সময় নিয়ে। দার্জিলিং যাওয়ার আজন্ম ইচ্ছেটা চাগার দিয়ে উঠছে বারবার। হয়তো আপনার বর্ণিত সেই সূর্য্যস্নানের লোভেই, কে জানে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
আগামীকাল আশা করি সে আগুনে বাতাস দিব
দার্জিলিং তো গেছি, ছবিও আছে, কিন্তু এছবির পরে অপ্রাসঙ্গিক লাগছে ।
আসলে দার্জিলিং এ সবাই ছবি তোলে পাহাড়, টয় ট্রেন, জু এসবের, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এবারের ট্যুরে আমার সাব্জেক্টে মানুষ ও ছিলো
আরো আরো আরো
হাঁটুপানির জলদস্যু
আনিসুলপনা | বরাহশিকার ♪♫ | কালাইডোস্কোপ
বড় ছবিটা দেখে হার্টবিট মিস করলাম আমিও।
=============================
নজরুল ভাইয়ের সাথে আমিও আপনার শিষ্য হইতে চাই।
যদিও আমার ক্যামেরা নাই। যা আছে তা হইলো ডিজিটাল ক্যামেরা
কবে শিষ্যত্ব পাবো জানালে হাজিরা দিতে পারি।
গল্প হউক আর সত্যি লেখাটা পড়ে ভাল লাগল।
নতুন মন্তব্য করুন