কোরবানীময় ভালোবাসা

রায়হান আবীর এর ছবি
লিখেছেন রায়হান আবীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৩/১১/২০১১ - ৪:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিশ্বাস করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই হোমোসেপিয়ান্সরা বিশ্বাস করে। বিশ্বাস শব্দটা অনেক কিছুর জন্যই প্রযোজ্য, আমরা মাধ্যাকর্ষণে বিশ্বাস করি, আবার একই সাথে বিশ্বাস করি বহুকাল আগে এক কুমারী নারীর গর্ভে সন্তান জন্ম হবার ঘটনাও। দ্বিতীয় উদাহরণে বিশ্বাস শব্দটির পরিবর্তে অন্ধবিশ্বাস ব্যবহার করা যায় বোঝার সুবিধার্থে। অন্ধবিশ্বাস হলো, পর্যবেক্ষণলদ্ধ জ্ঞান বা প্রমাণ ছাড়াই কোনো কিছু সত্য বলে মনে করা।

বিবর্তনের চালিকা শক্তি, 'আপাতদৃষ্টিতে' প্রাকৃতিক মারামারি- কাটাকাটির নির্বাচনে জিতে যাবার পেছনে আমাদের এই অন্ধবিশ্বাস করার গুণটির মহা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ছোটবেলায় মা আমাদের পুকুরে নামতে নিষেধ করেছেন, নিষেধ করেছেন আগুনে হাত না দিতে, নিষেধ করেছেন আরও অসংখ্য জিনিস না করবার- কারণ তাতে আমাদের ক্ষতি হবে। মা-বাবা কিংবা গুরুজনদের সেই কথাগুলোকে সাধারণভাবে আমরা সবাই সত্য বলেই মেনে নিয়েছি, আসলেই ক্ষতি হয় কী হয়না এটা পরীক্ষা করে দেখিনি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই গুনটি বাড়িয়েছে প্রকৃতিতে আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা।

তবে সমস্যা বেঁধে গেলো অন্য জায়গায়। মানুষ হিসেবে আমরা কেবল প্রয়োজনীয় উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হইনা, নিজেদের চিন্তা চেতনাও অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। সেলফিশ জিনের মতো সেলফিশ মিমও তাই ছড়িয়ে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আর তাই বাবা-মা এবং গুরুজনরা শিশুদের কেবল আগুন এবং পুকুরের কথা বলেই থেমে থাকেননা তারা ধ্রুব সত্য বলে বিশ্বাস করা নিজেদের লালিত অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারগুলোতেও একই সাথে দীক্ষিত করেন সন্তানদের। স্বভাবতই শিশুমন সেটাকে সত্য বলে মেনে নিয়ে বড় হতে থাকে। উদাহরণ: আপনিই মনে করুন। আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই এমন কিছু স্বভাব আছে/ছিলো যেগুলো একমাত্র কারণ ছোটবেলার শিক্ষা। এই যেমন বাম হাত দিয়ে কিছু নেওয়া/দেওয়াকে আমাদের সমাজে বেয়াদপি হিসেবে দেখা হয়- আমরা সবাই কিছু গ্রহণ করার আগে ডান হাত বাড়িয়ে দেই।

আপনার ভাবনা শেষ হলে এবার আমার যোগ করার পালা। আমাদের প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় গালগল্পে সীমাহীন আস্থা, ধর্মীয় পুস্তককে বিনা প্রশ্নে, বিনা যাচাইয়ে সীমাহীন মর্যাদা দেওয়া এবং সর্বোপরি ঈশ্বর নামক কাল্পনিক এক সত্ত্বায় বিশ্বাস সবই 'অন্ধবিশ্বাস' নামক গুনটির অবদান।

পরিবারের এই ভূমিকায় মুসলমান ঘরে কখনও হিন্দু জন্মায় না, হিন্দুর ঘরে জন্মায় না ইহুদী সন্তান। 'অলৌকিকভাবে' প্রত্যেক সদ্যজাত সন্তানই পিতা-মাতার ধর্ম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে (!!) এবং বড় হবার সাথে সাথে প্রতিনিয়ত তার কানে ঢালা হয় তার ধর্ম বাদে পৃথিবীর অন্য সকল ধর্ম ভুয়া, তার ধর্মীয় গ্রন্থ ঈশ্বর থেকে আগত বাকিগুলো মানুষের রচিত ধরণের অন্ধবিশ্বাস বীজ। তার ধর্মপ্রচারককে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং বাদবাকি ধর্মপ্রচারকদের দেখানো হয় ধান্ধাবাজ হিসেবে।

ধর্মীয় পরিবারে কখনও নাস্তিক, মুক্তমনা, অবিশ্বাসী হিসেবে কারও জন্ম হয়না। আমারও হয়নি। মুসলমান পরিবারে মুসলমান হিসেবেই আমি বড় হয়েছি এবং আমাদের ধর্মগ্রন্থ কোরানের উপর বিনা দ্বিধায় আস্থা জ্ঞাপন করেছি। পুরোটা মান্য করতে না পারলেও ইসলাম ধর্মের নিয়মকানুনকে চলার পথের সর্বশ্রেষ্ঠ পাথেয় হিসেবে বিশ্বাস করেছি। গ্রন্থ-নিয়মকানুন-অতীত ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ, নবী এই সকল বিষয়ে বিশ্বাসী থাকার সময়ে নানা ধরণের অসংলগ্নতা খেয়ালে আসলেও আমাদের এই বিষয়গুলোর উপর কখনই সন্দেহ জাগেনি, সেটা অবিশ্বাস করার কথা বা যাচাই করে দেখার কথা কল্পনাও করতে পারিনি। কোনো মুসলমান কি পারবে মুহাম্মদ কোরান সম্পাদনা করেছে এমন ধারণা নিয়ে কখনও কোরান পড়ে দেখতে? পারবেনা।

আমাদের ধর্মীয় মিম এমনভাবে আমাদের ঘিরে রাখে আমরা আসলে কখনও বৃত্তের বাইরে এসে চিন্তা করতে পারিনা, আল্লাহ বলে কেউ নাও থাকতে পারেন, মুহাম্মদও কোরান লিখে থাকতে পারেন। সুতরাং এই বিশেষ বৃত্তাধীন সময়ে কেউ আপনা-আপনি সংশয়বাদী হয়ে যাবে এমন সম্ভাবনা কম। প্রথমতঃ তাকে আগে জানতে হবে এই বিষয়গুলোকেও ক্রিটিক্যালি দেখা সম্ভব, অনেকেই দেখে। এই জ্ঞানে আলোকিত হবার পরেই কিছু মানুষ যাচাই বাছাইয়ে মনযোগী হয়, আবার কেউ এটাকে শয়তানের খেলা বলে আরও বেশি অন্ধবিশ্বাসী হবার প্রেরণা পায়।

আমার ধর্মীয় মিমের বৃত্তে বোধহয় ছোটবেলা থেকেই ফুটা ছিলো। নাস্তিক না বানালেও (আবারও বলি, সুস্থ মস্তিষ্কের কারও পক্ষে ঈশ্বরে অবিশ্বাসী এমন হওয়া সম্ভব এই ধারণাই তখন মাথায় ছিলোনা ) জীবনে ঘটে যাওয়া দু'টি ঘটনা আমার জীবনের খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমটা একেবারেই সাধারণ।

নবম শ্রেণীতে থাকার সময়ে (২০০১) মসজিদের হুজুর শুক্রবার জুম্মার নামাজের বয়ানে অসংখ্য ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক গল্প শোনালের আমাদের। গল্পের আগামাথা খেয়াল নেই এখন, তবে পাঞ্চ লাইন ছিলো কোনো এক নবী জাদু দিয়ে ভাজা মাছকে জ্যান্ত করে ফেলেছিলেন, জ্যান্ত হয়ে সে মাছ ধুপধাপ লাফালাফিও শুরু করে দিয়েছিলো। হুজুর বলেছিলেন এটা কোরানের গল্প। এমনিতে এইসব হুজুরদের বছরের পর বছর ধরে দিয়ে যাওয়া একই ধরণের বয়ানে আমরা কেউই খুব একটা নজর দেই না। আমাদের মস্তিষ্কই দিতে দেয়না। আপনার বাসায় যদি শব্দ করে এমন ফ্যান থাকে তাহলে দেখবেন, কয়েকদিন সেই শব্দ ঘুমানোর অসুবিধা করলেও পরে আর সেই শব্দের অস্তিত্বই টের পাওয়া যায়না। কারণ আমাদের মস্তিষ্ক কনস্ট্যান্ট নয়েজকে ফিল্টারআউট করে ফেলে। হুজুরদের বয়ানেও বোধহয় একই অবস্থা সৃষ্টি হয় (দেঁতো হাসি )।

ক্যাডেট কলেজের সেই দৌড়ময় সময়ে জুম্মার মসজিদের সময়টুকু ছিলো আমাদের স্বর্গীয় ঘুমানন্দ লাভের জন্য বরাদ্দ। কঠিন তন্দ্রার মাঝেও এই ভাজা মাছ কাহিনি আমার কানে এসে বাঁধলো (ঈশ্বরের ইশারাতেই বোধহয়) এবং ধর্মীয় মিম বৃত্তের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে গেলো। আমি তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম কোরানে যদি এমন কাহিনি থেকেও থাকে আমি এইটা কখনই বিশ্বাস করবোনা, দুঃখিত। সামগ্রিকভাবে কোরানের উপর আমার কোনো সন্দেহ আসেনি, আমি কেবল এই ঘটনাকে মনে মনে অস্বীকার করেছি অযৌক্তিক, অবাস্তব হিসেবে। এই ঘটনারও প্রায় ছয় বছর পরে আমি প্রথমবারের মতো ক্রিটিক্যালি ধর্মের স্বরূপ খোঁজার চেষ্টা শুরু করি। ধর্মবিশ্বাস ছুঁড়ে ফেলার পথ পরিক্রমায় এই ঘটনা আমার মনে প্রভাব রেখেছিলো বলাই বাহুল্য।

দ্বিতীয় ঘটনাটি সিরিয়াস। এবং সত্যি বলতে এই দ্বিতীয় ঘটনা বলার পরিবেশ তৈরির জন্যই উপরের এতো কথা।

ইসলাম ধর্মের দু'টি ঈদের একটি ঈদ-উল-আযহা। এদিন স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা ইব্রাহীমের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানী করে থাকে। ইব্রাহীম যিনি একজন ধর্মীয় পৌরাণিক ব্যক্তিত্ব এবং আব্রাহামিক গড, আব্রাহামিক ধর্মের প্রবক্তা (পৃথিবীর একেশ্বরবাদী বড় তিনটি ধর্ম ইহুদী, খ্রিস্টান এবং ইসলাম)। এই ইব্রাহীম একদা স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কোরবানী করার আদেশ পেলেন। সাধারণ বিবেচনাবোধে ইব্রাহীম দুম্বা কোরবানী দিলেন, স্রষ্টা সন্তুষ্ট হননা। তিনি দুম্বার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলেন, তাতেও সন্তুষ্ট হলেন না ঈশ্বর। অবশেষে ইব্রাহীম বুঝতে পারলেন, প্রিয় জিনিস বলতে স্রষ্টা কী বোঝাতে চাচ্ছেন, স্রষ্টা কাকেই বা কোরবানী করতে বলছেন। 'জিনিস'টির নাম ইসমাইল, ইব্রাহীমের পুত্র। ইব্রাহীম, ইসমাইলকে ঘটনা খুলে বললেন।

: প্রিয় পুত্র ইসমাইল। 'স্বপ্নে' ঈশ্বর আমাকে আদেশ করেছেন আমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে কোরবানী করতে। যেহেতু আমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তুমি তাই আমি তোমাকে জবাই করতে আগ্রহী।

: কোনো অসুবিধা নেই বাবা। আপনি 'স্বপ্নে' আমাকে জবাই করার হুকুম পেয়েছেন আর আমি তা বসে বসে দেখবো তা হতে পারেনা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আপনার যা করতে হয় তা আপনি অবশ্যই করবেন।

অতঃপর ইসমাইল গর্দান পেতে দিলেন। ইব্রাহীম খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের পুত্রের গলায় চালিয়ে দিলেন ধারালো ছুড়ি। জবাইয়ের পর দেখা গেলো ঈসমাঈলের পরিবর্তে আল্লাহ একটি দুম্বা বসিয়ে দিয়েছেন (ঘুরে ফিরে সেই দুম্বার কাছেই আসা হলো আবার)।

পুরো ঘটনা মোটামুটি এইরকম। আর এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করতে আমরা কোরবানী করে থাকি প্রতি বছর। ইব্রাহীমের সময়ের পর থেকে পৃথিবীর মানুষের সংখ্যা অনেক অনেক বেড়ে গিয়েছে, আল্লাহর পক্ষে প্রতিটি কোরবানীতে মিরাকল ঘটানো সম্ভব নয় এমন ধারণা থেকেই বোধহয় আল্লাহর হস্তক্ষেপের আশায় না থেকে আমরা পুত্রের বদলে সরাসরি পশুই কোরবানী করি।

মুসলমান পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের খুব ছোটবেলাতেই এই মহিমান্বিত ঘটনার সাথে পরিচয় ঘটে। আমারও ঘটেছিলো। ঠিক কখন এবং কার মাধ্যমে সেটা এখন মনে করার উপায় নেই। তবে এই ঘটনার প্রভাব খুব মনে আছে। ঘটনা জানার পর, আল্লাহর সন্তুষ্টি, বেহেশত- দোযখ ইত্যাদি সকল কিছুর ভুলে গিয়ে আমি তীব্র ভয়ে আচ্ছন্ন হয়েছিলাম এই ভেবে যে, আমার বাবা যদি কোনোদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাকেও কোরবানী দেবার হুকুম পান এবং তখন যদি আল্লাহ আমাকে না বাঁচায়?

আব্বুর হাতে জবাই হওয়া সংক্রান্ত ভয় অল্প দিনেই কেটে গিয়েছিল কারণ আমার আব্বাজান খুবই মাটির মানুষ তাছাড়া ঐ সময় ধর্ম কর্মেও খুব একটা মন ছিলোনা, তাই বোধকরি ধরে নিয়েছিলাম আল্লাহ আর যাই হোক, এতো সহজে উনার সাথে যোগাযোগ করবেন না।

আরও অনেক অনেক বড় হবার পর বুঝতে পারলাম ধর্মগ্রন্থে নানাবিধ ঘটনা/উপ-ঘটনা/অপ-ঘটনা আছে সেগুলো মানুষ খুব বিশ্বাস করলেও তাদের অধিকাংশই সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে নিজেরা কখনও করার কথা চিন্তাও করেনা। কেউ কেউ অবশ্য করে, এদের কথা বাদ, এরা হেদায়াতের অযোগ্য।

নিজেরা কখনও করবেনা, বা বিষয়টা অসভ্য, বর্বর হবে এই পর্যায়ে এসে করলে, তারপরও কেনো হাজার বছর আগে ঘটা (আসলেই ঘটছে কিনা কে জানে) এই ধরণের বিষয় নিয়ে আবেগাপ্লুত হতে হবে? এটা কেমন ধরণের মানসিক অবস্থান? আপনার বাবা কালকে সকালে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে আপনাকে জবাই করতে আসলে আপনি কী করবেন? কল্লা পেতে দেবেন, নাকি বাপকে চিকিৎসা করাবেন?

ছোটবেলা থেকেই এই কোরবানী নামক এই ত্যাগের উৎসব আমাকে অসহায়ত্বের অনুভূতি দিয়েছে, বয়সের সাথে সাথে বেড়েছে সেটা, বেড়েছে এই উৎসব অপছন্দের যৌক্তিক কারণও। ঈদের দিনে ঘটা রক্তারক্তি দেখে খুবই অসহায় বোধ করি, অসহায় বোধ করি, মাদ্রাসার পড়া কিশোরের রাম দা উঁচিয়ে চলা দেখে, অস্বস্তি বোধ করি চারপাশের সকল রক্তে। এটা কেমন ধরনের উৎসব?

অনেকে অবশ্য কোরবানী ঈদ সম্পর্কিত এই ধরণের অবস্থানকেও হিপোক্রেসি হিসেবে দেখেন। গরু খেতে পারো ইচ্ছেমতো আর কোরবানী ঈদ খারাপ? হ্যাঁ! অবশ্যই আমি গরুর মাংস খাই, পছন্দ করেই খাই এবং আমি জানি আমার শর্মার মধ্যে দেওয়া গুড়ামাংস আস্ত গরু থেকেই এসেছে এবং এজন্য একজন গরুকে জবাই হতে হয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, কোরবানীর ঈদ একদিনে সারাবছর খাবার জন্য পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত দিন নয়, এটির উদ্দেশ্য একেবারেই ভিন্ন। দিনটিকে অপছন্দ করার মূল কারণ হচ্ছে, যে স্পিরিটের প্রতিনিধিত্ব করে কোরবানীর ঈদ সেটার স্থূলতা। ইব্রাহীম নামক ব্যক্তির সত্যিকার অর্থেই অস্তিত্ব ছিলো এটা ধরে নিলাম এবং একই সাথে ধরে নিলাম ঈশ্বর নামকও একজন আছেন। কিন্তু একজন ঈশ্বরের কাছ থেকে তার বান্দা তাকে কতোটা মান্য করে এই পরীক্ষা করবার জন্য বান্দাকে পুত্র জবাইয়ের মতো নির্মম কাজ করতে বলা- কোনো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করে না, প্রতিনিধিত্ব করে মানুষের চেয়েও জঘন্য, নির্মম, স্থূল রুচিহীন এক সত্ত্বায়। এই যুগে এসেও মানুষ এই ঈশ্বরেরই পূজা করে, এই ঈশ্বরের কাছে ভালোবাসা প্রার্থনা করে? সেই অন্ধবিশ্বাসের কারণেই।

কোরবানীর সময় এলে গরীব মানুষেরা দুবেলা আয়েশ করে মাংস ভক্ষণের সুযোগ পায়। কারণ জবাইকৃত পশু তিনভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের মাঝে দান করে দেবার নিয়ম। সবকিছু অবজ্ঞা করে এই মহান কারণেই জন্যই তো এই উৎসবের বিরোধিতা করার কোনো মানে হয়না। এটা সবচেয় হাস্যকর যুক্তি। একদিন গরীবের কথা ভাবলেই মহৎ হয়ে যাওয়া যায়না- মহৎ হবার ভণিতা করা হয় কেবল। সামগ্রিকভাবে কোনো মতাদর্শ, সিস্টেম দ্বারা পৃথিবীর সকল মানুষের উন্নতি বা ভালো হবেনা, যতক্ষণ না পর্যন্ত পৃথিবীর সকল মানুষ এটা অনুধাবন করতে পারছে যে, জীবন একটাই, আমাদের প্রত্যেকের জীবন একটি বায়োলজিক্যাল দুর্ঘটনার ফলাফল। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-জাতি ভুক্ত হবার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করে, মানুষ হয়ে মানুষকে শত্রু চিহ্নিত করে নিজেদের এই একটি মাত্র চমৎকার সময় অযৌক্তিক অহংবোধেই আক্রান্ত হয়ে কাটাচ্ছি কেবল। আর এইসব মতাদর্শের কারণেই আমরা একদিন গরীবকে দুই টুকরা মাংস প্রদানের মাধ্যমে সমাজের জন্য/ মানুষের জন্য অনেক কিছু করে ফেললাম নামক মিথ্যে অহংবোধে আক্রান্ত হয়ে শান্তির ঘুম দেই। আর কয়জন খেতে পারে আপনার দেওয়া সেই মাংস? প্রতি কোরবানী ঈদের পরেই নিঃস্ব মানুষেরা তাদের ভাগে পাওয়া মাংস বেচতে বসে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। কারণ কাঁচা মাংস চট করে খাওয়া যায়না, এর জন্য তেল, মরিচ, মশলা লাগে, লাগে চালও। আমাদের মহানুভবতা এসবের যোগান দেয়না। এই কারণে তারা সেই মাংস বিক্রি করে, প্রাপ্ত টাকা দিয়ে কয়েক বেলার ডাল-ভাতের ব্যবস্থাই করে কেবল।

আবার এসেছে এই পশু কোরবানী উৎসব। প্রতিবছর এভাবে আসতেই থাকবে। প্রতিবছর আমি উপলব্ধি করবো জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেকদূর এগিয়ে গেলেও সেই জ্ঞান-বিজ্ঞান পৃথিবীর সকল মানুষকে তাদের সঙ্গী করতে পারেনি। তারা এখনও পড়ে আছে সেই মধ্যযুগে, যেই যুগে মনিবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পুত্রকে কোরবানী করার মতো জঘন্য কাজ করা হতো।


মন্তব্য

arup এর ছবি

রায়হানদা দারুণ লিখেছেন।এই ঈশ্বরের জন্ম মণ্ডুকের কুয়ো থেকে।নির্মম হওয়া তার জন্য কঠিন নয়।

রায়হান আবীর এর ছবি

হুম ... মন খারাপ

দ্রোহী এর ছবি

১.
যতক্ষণ বল আছে দেহে
গরু-ছাগল খেয়ে যাবো ঠেসে।

দেশে ছাগুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে! তাই এবারের কোরবানিতে ইন্ডিয়ার গরু বাদ দিয়ে দেশি ছাগু ভক্ষণ করুন।

২.
আকাশের ভদ্রলোকের কথা আর কী বলবো! উনি মেল, ফিমেল, ক্যামেল সবই ভালবাসেন।

রায়হান আবীর এর ছবি

দেশে ছাগুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে! তাই এবারের কোরবানিতে ইন্ডিয়ার গরু বাদ দিয়ে দেশি ছাগু ভক্ষণ করুন।

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

রায়হান আবীর এর ছবি

হাসি

হাসিব এর ছবি

পিথিমির ৭০০কোটি লুক পরহেজগার হলে বহু আগেই গরু ছাগল উট দুম্বা বিলুপ্ত হয়ে যাইতো। ভাগ্য ভালো এখনো সেইটা হয় নাই।

রায়হান আবীর এর ছবি

খাইছে

পৃথ্বী এর ছবি

আপনি সঠিক জায়গায় হাত দিয়েছেন। কোরবানীর অনেক সমালোচনা দেখি, কিন্তু সব সমালোচকদের মনে হয় ইবরাহিমের খোয়াব দেখার চেয়ে প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ের প্রতি আক্রোশ বেশি। গরুর কল্লা দিনের আলোয় কাটা যা, নিভৃতে কাটাও তা। বছরের একদিন ঘটা করে গরু খাওয়া যদি নৃশংস হয়, তাহলে প্রায়ই পিৎজা হাট কিংবা কেএফসিতে গিয়ে ভাজা মুরগী খাওয়াকেও নৃশংস গণ্য করা উচিত।

কোরবানীর কনসেপ্টটার আপত্তিকর জায়গাটা হল ইবরাহিমের খোয়াব দেখা, গরু কাটাকাটি করা না। যে আল্লাহ সবকিছু জানে, তার কেন পিতার উপর পুত্রকে জবাই করার আদেশ নাযিল করে(তাও আবার স্বপ্নে, ডাইরেক্ট ওহী না!) ঈমান পরীক্ষা করা লাগে- এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা আমি খুব কম সমালোচকদেরই করতে দেখি। রাতারাতি বুদ্ধিজীবি হওয়ার স্বপ্ন দেখা এসব সমালোচকদের বোঝা উচিত সমালোচনা ভুল জায়গায় নিক্ষেপ করলে মোল্লাদের হাতেই এমুনিশন তুলে দেওয়া হবে, এতে করে মোল্লারা "ইসলামের সমালোচনা মানেই ইসলামবিদ্বেষ" জাতীয় দাবি তুললে আপত্তি করার কোন স্কোপ থাকবে না।

আমি যেই হাস্যকর ধাচের সমালোচনার কথা বলছি, তার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল এটা(খুবই নৃশংস ছবি, আগেই সাবধান করে দিলাম)।

আরিফুর রহমান এর ছবি

@পৃথ্বী,
আপনার হয় বোঝায় ভুল হচ্ছে, অথবা ইচ্ছে করেই ভুল দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আর বিড়বিড় করে বলছেন: "এটা তো ঠিক নয়।"

ঠিক কি পয়েন্টে সমালোচনা করা হচ্ছে ধর্মকারীতে তা বুঝতে হলে আপনাকে নৃশংসতা কতটুকু পরিত্যাজ্য বা মানবতা আজকের পৃথিবীকে কোনদিকে নিতে চাচ্ছে সেদিকে নজর দিতে হবে, একমত হতে হবে। শিশুদের নতুন জামা পড়িয়ে নামাজে নিয়ে, ফিরে এসে হৈ হৈ করতে করতে হাতপা বাঁধা রক্তাক্ত পশুদেহ-জাত যে উল্লাস মোবারক বিনিময় করা হয়, তাতে আমার আর যাই হোক... হাসি আসে না।

এর পরেও সৌদি বাদশাহের মতো আপনিও হয়তো পশুর অকারন গলা কাটা উৎসবকে পেটের দায়ে মুরগী ভাজার সংগে গুলিয়ে ফেলতেই থাকবেন।

আজকের যুগে ইব্রাহীমের মতো ডিল্যুশনাল এবং পরিজন জবেহাকাঙ্খীদের ধরে স্বপ্ন বা ওহীর তোয়াক্কা না করে সোজা মানসিক হাসপাতালে অথবা জেলে চালান করে দেয়া হয়। আগের যুগে পদধুলি নেয়া হতো... যুগের ফারাক টা কি বোধে নাড়া দেয় না?

ইসলামবিদ্বেষ, ইজলামোফোবিয়া ইত্যকার ছদ্ম-শব্দের উৎপাদন ও আশকারা প্রদানে কারা উৎসুক, সে বিষয়ে গুণীজন সম্যক অবগত।

আপনার চেষ্টাকে বাহ্বাবা দেয়া ছাড়া আর কি বলা যায়? লজ্জার কথা বলে তো আর লাভ নেই, তাইনা?

সামিয়া এর ছবি

@আরিফুর রহমান, দেখুন পৃথ্বী কিন্তু আপনার থেকে আলাদা কিছু বলেননি, আমার তো মনে হলো উনার মন্তব্য বুঝতে আপনার হয়ত বা একটু ভুল হয়েছে।
'কোরবানী ঈদকে পশুবধ যজ্ঞ হিসেবে দেখা' আসলেই একপ্রকার হিপোক্রেসির নামান্তর। শর্মিলা বোস যখন প্রমাণ করে বাংলাদেশে অনেক কম মানুষ মারা গেছে, ধর্ষণের সঠিক সংখ্যা আরও কম, তখন তথ্য ঠিক কি বেঠিক, এটার আগেই আমার মনে হয়, একজন মানুষ মারা যাওয়াটাও অন্যায়, একশ জন মারা যাওয়াটাও অন্যায়। প্রতিদিন ঢাকা শহরে ছয় হাজার পশু জবাই হয়। কোরবানী ঈদের তুলনায় সংখ্যাটা নেহাত কম না। তাহলে একেও কি আমরা হত্যাযজ্ঞ বলতে পারি না?
যদি পেটের দায়ের কথাই বলতে হয় তাহলে কুরবানির জবাইকৃত পশুও তো পেটেই চালান দেয়া হচ্ছে, অন্যথা নষ্ট হচ্ছে না। সুতরাং যুক্তি ধোপে টেকে না। এজন্যই, পৃথ্বীর একথাটাকে আমি সমর্থন করছিঃ বছরের একদিন ঘটা করে গরু খাওয়া যদি নৃশংস হয়, তাহলে প্রায়ই পিৎজা হাট কিংবা কেএফসিতে গিয়ে ভাজা মুরগী খাওয়াকেও নৃশংস গণ্য করা উচিত।

আপনি নিজেই কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছেনঃ নৃশংসতা কতটুকু পরিত্যাজ্য তা আমাদের বুঝতে হবে। সাথে সাথে, লেখকের এই লাইনটা অত্যন্ত সমাদর যোগ্যঃ দিনটিকে অপছন্দ করার মূল কারণ হচ্ছে, যে স্পিরিটের প্রতিনিধিত্ব করে কোরবানীর ঈদ সেটার স্থূলতা।"

পশুকাটার ব্যাপারটা আমাদের ভাবিত করে, কারণ এই উৎসবের উৎপত্তি আমাদের ভাবিত করে। ইবারাহীমের নিজ পুত্রকে জবাই করতে চাওয়ার কামনা আমাদের ভাবিত করে। পশু কোরবানীর রক্তারক্তি আমাদের সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে কাচ্চাবাচ্চাদের উপর এর প্রভাব কেমন হবে, সেটা আমাদের ভাবিত করে। এটা কিন্তু আপনারও মত।

আজকের যুগে ইব্রাহীমের মতো ডিল্যুশনাল এবং পরিজন জবেহাকাঙ্খীদের ধরে স্বপ্ন বা ওহীর তোয়াক্কা না করে সোজা মানসিক হাসপাতালে অথবা জেলে চালান করে দেয়া হয়।-একজ্যাক্টলি। আমার তো মনে হয়, লেখক, কিংবা আর যারা কুরবানী বিরোধিতা করে, তাদের কথাই এটি। পৃথ্বীর কমেন্ট পড়ে কিন্তু মনে হলো, তিনিও একই কথাই বলতে চেয়েছেন, তাই তার সাথে শুধুশুধু দ্বিমত পোষণ করা আর কেন।
ইসলামবিদ্বেষ, ইজলামোফোবিয়া ইত্যকার ছদ্ম-শব্দের উৎপাদন ও আশকারা প্রদানে কারা উৎসুক, সে বিষয়ে গুণীজন সম্যক অবগত।
-খামোখা সবাইকে আক্রমণ করা কেন রে ভাই, আসুন না আমরা গলাগলি করে থাকি।

সোহরাব হোসেন এর ছবি

মূল পয়েন্ট বাদ দিয়ে গেলেন মনে হল। পৃথ্বী কোরবানির যেই ধরণের সমালোচনা হাস্যকর বলেছেন, সেই বিষয়ে আরিফুর রহমান লিখেছেন,
'নৃশংসতা কতটুকু পরিত্যাজ্য বা মানবতা আজকের পৃথিবীকে কোনদিকে নিতে চাচ্ছে সেদিকে নজর দিতে হবে, একমত হতে হবে। শিশুদের নতুন জামা পড়িয়ে নামাজে নিয়ে, ফিরে এসে হৈ হৈ করতে করতে হাতপা বাঁধা রক্তাক্ত পশুদেহ-জাত যে উল্লাস মোবারক বিনিময় করা হয়, তাতে আমার আর যাই হোক... হাসি আসে না।'

কিন্তু এই প্রধান বক্তব্য এড়িয়ে ('ভাবিত করে' বলেই খালাশ) অন্য প্রসঙ্গ অবতারনার প্রয়োজন কেন হল?

'বছরের একদিন ঘটা করে গরু খাওয়া যদি নৃশংস হয়, তাহলে প্রায়ই পিৎজা হাট কিংবা কেএফসিতে গিয়ে ভাজা মুরগী খাওয়াকেও নৃশংস গণ্য করা উচিত'
একে দুর্বল, তার উপরে বহুব্যাবহারে জীর্ন একই কথার পুনরাবৃত্তির কারণ একটাই হতে পারে। সেটা হচ্ছে, সহজ একটা কথা না বুঝতে চাওয়া। মানুষ মাংস খাবেই। সেইটা প্রকৃতিক। খাবে বলেই জীব হত্যাও করতে হবে। কিন্তু উৎসবের নামে এক দিনে বিপুল পশু হত্যার বিপক্ষে কথা বলার মানসিক দৃঢ়তা সবার থাকে না। কারণ, ধর্মবিশ্বাস বাধা হয়ে দাড়ায়।

প্রাত্যহিক খাদ্যের জন্য প্রাণী হত্যা আর উৎসবের জন্য এক দিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণী হত্যা, এই দুইয়ের ভিতরে কোনো তফাত খুঁজে পাননা?

পৃথ্বী এর ছবি

প্রাত্যহিক খাদ্যের জন্য প্রাণী হত্যা আর উৎসবের জন্য এক দিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণী হত্যা, এই দুইয়ের ভিতরে কোনো তফাত খুঁজে পাননা?

তফাৎ তো আছেই, আমি তা অস্বীকার করিনি। উৎসবের জন্য প্রাণী হত্যাকে কুসংস্কার বললে আমার আপত্তি নাই যেমনটা বিপদ এড়াতে ছদকা দেওয়াও এক ধরণের কুসংস্কার, কিন্তু এটা "নৃশংস" হয় কেমনে?

সোহরাব হোসেন এর ছবি

নিজের বিপদ এড়ানোর নামে প্রাণীহত্যায় নৃশংসতা নেই? তাহলে তো কথা বাড়ানর প্রয়োজন দেখছি না। কারণ, সমস্যা হচ্ছে, ধর্মের ঠুলি চোখে থাকলে কোরবানি বা ছদকা কোনটাই নৃশংস মনে হবে না।

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

উৎসবের জন্য প্রাণী হত্যা বিশুদ্ধ নৃশংসতা, কারণ শিশুদের সামনে, সাধারণ মানুষের সামনে একটা প্রাণীকে কেটে ফেলা, আর কসাইখানার ভেতরে কাটার মধ্যে একটা মূর্ত ফারাক আছে। আমার বাসায় কাজকর্মের খাতিরে বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সেটা ভোররাতে সিটি কর্পোরেশন সংগ্রহ করে চোখের আড়ালে নিয়ে যায়। বর্জ্য ভাগাড়ে ফেলা আর পাড়ার মাঠে সাজিয়ে রাখার মধ্যেও একই ধরনেরই ফারাক। মাংস খেতে হলে সেটা কসাইখানা থেকে কিনে আনা যেতে পারে। আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট ভাইয়ের সামনে একটা প্রাণীর গলা কাটার প্রয়োজন দেখি না।

পৃথ্বী এর ছবি

ঠিক কি পয়েন্টে সমালোচনা করা হচ্ছে ধর্মকারীতে তা বুঝতে হলে আপনাকে নৃশংসতা কতটুকু পরিত্যাজ্য বা মানবতা আজকের পৃথিবীকে কোনদিকে নিতে চাচ্ছে সেদিকে নজর দিতে হবে, একমত হতে হবে। শিশুদের নতুন জামা পড়িয়ে নামাজে নিয়ে, ফিরে এসে হৈ হৈ করতে করতে হাতপা বাঁধা রক্তাক্ত পশুদেহ-জাত যে উল্লাস মোবারক বিনিময় করা হয়, তাতে আমার আর যাই হোক... হাসি আসে না।

গরু কাটার সাথে মানবতার সম্পর্কটা বুঝলাম না, হতে পারে গরুদের মানবাধিকারে আমার অবিশ্বাসই এর কারণ।

আজকের যুগে ইব্রাহীমের মতো ডিল্যুশনাল এবং পরিজন জবেহাকাঙ্খীদের ধরে স্বপ্ন বা ওহীর তোয়াক্কা না করে সোজা মানসিক হাসপাতালে অথবা জেলে চালান করে দেয়া হয়। আগের যুগে পদধুলি নেয়া হতো... যুগের ফারাক টা কি বোধে নাড়া দেয় না?

আমি কি আমার মন্তব্যে ভিন্ন কিছু বলেছি?

আচ্ছা উৎসব করে পশুবধ করলে যদি মানবতা আক্রান্ত হয়, তাহলে শুধু কোরবানীর সময়ই কেন মানবতাবোধটা মাথাচাড়া দেয়, বিভিন্ন দেশে পশু শিকার কিংবা জাপানের তিমিশিকারের বেলায় কেন মানবতাবোধ আক্রান্ত হয় না? মানবতাবোধ লোকালাইজ করে ফেলাটা তো ঠিক না, এটা সব দেশ ও জাতির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

আমার মূল বক্তব্য হল- কোরবানীর কনসেপ্টটাকে কুসংস্কার বলা যায়, নির্বুদ্ধিতা বলা যায়, কিন্তু নৃশংস বলার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। আমার মন্তব্যে এটা আমি মনে হয় পরিস্কার করেই বলেছি যা ইতিমধ্যে একজন ধরতেও পেরেছেন, আশা করি "ইজলামোফোবিয়া" এর মত কিছু শব্দ দেখেই মন্তব্য লিখতে ঝাপিয়ে পড়বেন না।

সোহরাব হোসেন এর ছবি

ভাই, আপনি যদি কথা না বোঝার পণ করে থাকেন, তাহলে কিন্তু অযথা বাক্যব্যয় করা হচ্ছে। পোস্টে এবং কয়েকটা কমেন্টে খুব স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, মানুষ মাংসখেকো। তাই তারা পশুহত্যা করবেই। তবে আনন্দের নামে, উৎসবের নামে এক দিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণী বধ করা কি মানবিক?

প্রাত্যহিক খাদ্যের জন্য প্রাণী হত্যা আর উৎসবের জন্য এক দিনে লক্ষ লক্ষ প্রাণী হত্যা, এই দুইয়ের ভিতরে কোনো তফাত খুঁজে পাননা বলেই এই পোস্টের জন্যে অপ্রাসঙ্গিক বাণী লিখলেন, 'গরু কাটার সাথে মানবতার সম্পর্কটা বুঝলাম না, হতে পারে গরুদের মানবাধিকারে আমার অবিশ্বাসই এর কারণ।' এই বাক্যেই প্রাণীদের প্রতি আপনার তাচ্ছিল্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাতে আপনার কোরবানি প্রেমের কারণও পরিষ্কার হল।

জাপানের তিমি স্বীকার বিশ্বজুড়ে এমনি খোদ জাপানেও প্রবলভাবে সমালোচিত। জানা না থাকলে গুগলিয়ে দেখুন। আচ্ছা বলুন তো, জাপানিরা তিমি হত্যা করলেই কি মুসলমানদের কোরবানি জায়েজ হয়ে যায়? নইলে এই তুলনা দিলেন কেন?

ওপরের মন্তব্যেই বলেছি, ধর্মের ঠুলি চোখে থাকলে কোরবানির মত বর্বরতাও নৃশংস মনে হবে না।

রায়হান আবীর এর ছবি

কী জানি পৃথ্বী, প্রকাশ্যে গরু জবাই দেখতেও আমার খুব অস্বস্তি লাগে। গরু খাই কিন্ত জবাই দেখতে অস্বস্তি এই হিপোক্রেসী নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে মন খারাপ

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

এইটাকে হিপোক্রেসি বলতে পারি না। মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে একটা প্রাণীকে মারলাম, অথবা উৎসব করে আনন্দের উপলক্ষ বানিয়ে মারলাম, এই দুইটা উদ্দেশ্যের যা ফারাক, তাতেই নির্ধারিত হয় প্রয়োজন আর নৃশংসতার পার্থক্য।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

চলুক

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

বিলাস এর ছবি

কবে আমরা একটু বুদ্ধি, বিবেক, বিবেচনা বোধ থেকে খোলা মনে চিন্তা করতে শিখবো সেই দিনের প্রতীক্ষায়। লেখায় সাধুবাদ।

রায়হান আবীর এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ হাসি

তারাপ কোয়াস এর ছবি

চলুক


love the life you live. live the life you love.

রায়হান আবীর এর ছবি

হাসি

MAHMUD এর ছবি

এই পোস্টটা স্টিকি করে রাখার মতো!
ছোট বেলা থেকে কোরবানি বিষয়ক কোন যুক্তি অনেক চেষ্টা করেও মানতে পারিনি
মসজিদের হুজুরদের কথা বাদ দিলাম এরা কোন জাতেই পরেনা, বড় বেলায় তাবলীগ পন্থী কয়েকজন পি এইচ ডি ধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেছিলাম পরাক্রমশালী সৃষ্টি কর্তা এই সব নিরীহ প্রাণীদের রক্ত দেখে এরকম বিকৃত আনন্দ পাবার কারন কি? তেনারা যাহা বলিলেন তাহা কৌতুক কেও হার মানায়। অবশেষে আমি যুক্তি দিলাম ২০০১-২০০২ এর দিকে এক লোক ঈদের আগের রাতে স্বপ্ন দেখে ঈদের দিন তার আদরের একমাত্র পুত্রকে জবাই করে দিয়ে পত্রিকার হেড লাইন নিউজ হয়ে ছিলেন তখন সৃষ্টিকর্তা দুম্মা পাঠাইলেন না কেন?
দুম্বার দাম বেশি হতে পারে অন্তত একটা ছোট সাইজের খাসি পাঠাইলেও তো পারতেন যদি খরচের কথা বিবেচনা করে থাকেন, প্রফেসর কোন উত্তর না দিয়া আমাকে বের হয়ে যাবার দরজাটা দেখাইয়া দিলেন।
তারপর থেইক্কা আমি আল্লার গজব নিয়া বিদেশে বিদেশে ঘুরি এই কথার জবাবের জন্য, কেউ জানলে আমারে জানায়েন

মাহমুদ

রায়হান আবীর এর ছবি

ধূর মিয়া! আল্লায় পাঠায় নাই কে কৈছে? বাংলাদেশি ডাক ব্যবস্থায় দিসিলো ডেলিভারির জন্য, ঠিক সময়ে পৌঁছায় নাই খাইছে

শিশিরকণা এর ছবি

কৌতুক শুনতে মন চায়! এদের ইমাজিনেশান অসাধারণ! একেবারে বাংলা সিনেমা লেভেল এর।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সুরঞ্জনা এর ছবি

চলুক

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

রায়হান আবীর এর ছবি

নেপাল থিকা?

নীলকান্ত এর ছবি

চলুক


অলস সময়

রায়হান আবীর এর ছবি

হাসি

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

ভালো লিখছেন।

প্রোটিন(ফাইবার যুক্ত) যেহেতু মানুষের সুষম খাদ্যের তালিকায় রাখতে হবে, সেহেতু অমানবিক হলেও প্রাণি হত্যা বন্ধ হবে না। সিন্থেটিক প্রোটিন কবে জনপ্রিয় হবে জানি না। আপাতত প্রাণি হত্যায় কিছু বলা যাচ্ছে না কিন্তু যখন তা উৎসবের নামান্তর হয়, প্রকাশ্যে রক্তোৎসব হয় তখন তো অনেক কিছুই বলার থাকে।

ধর্মের সবই কল্পনাপ্রসূত, আলাদাভাবে এই কাহিনির যৌক্তিকতা খোঁজার কারণ নাই। যাহারা অন্ধত্বে বিশ্বাসী তাহারা যৌক্তিকতার ধার ধারে না।


_____________________
Give Her Freedom!

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

জীবন চলার পথে কখনও জেনেছিলাম, সূত্র জানাতে পারবোনা, ইব্রাহীমের সময়ে আরবের সমাজে প্রায় সব পরিবার তাঁদের আরাধ্য দেবতা বা গডের উদ্দেশ্যে পরিবারের প্রথম সন্তানকে বলী বা স্যাক্রিফাইস করতো, পরিবারের মঙ্গলের উদ্দেশ্য।

এই প্রথা রদ করার উপায় হিসাবে ইব্রাহীম এই পন্থা অবলম্বন করেন এবং এটাই প্রতিষ্ঠিত করেন যে, গড এখন থেকে মানবসন্তানের পরিবর্তে পশুবলীতেই সন্তুষ্ট। ভেবে দেখুন এর পিছনে যুক্তিটা কিন্তু ফেলে দেবার মত নয়।

আরিফুর রহমান এর ছবি

সূত্রহীন এই চিঠা, @প্রৌঢ় ভাবনা, আপনি ইব্রাহীমের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর কতো নম্বর পাতা থেকে পেয়েছেন জানি না... তবে ইব্রাহিমবাদীদের নিরন্তর প্রচারণা মারফতে বাকি সবাই মোটামুটি অবগত, যে তিনি 'স্বপ্নে' প্রাপ্ত টেক্সট মেসেজ থেকেই পুত্র হত্যায় উদ্যহ হয়েছিলেন।

মানব 'বলি' আজকাল তেমন একটা কেউ তো করে না। (শিবিরের / আল্কায়েদা/ আল শাবাবের কথা ভেন্ন), কিন্তু এ যুগেও আপনার ধরে রাখার মতো কোন যুক্তিতে পশু-বধ-মোবারক সাধিত হয়, শুনি?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

জনাব আরিফুর রহমান, আপনি আমার মন্তব্যের সারটি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেননি। আমি কখনও এযুগে পশুবধের যুক্তি দেইনি। বরং আমি ধর্মের বাইরে কিছু বলতে চেয়েছি।

প্রায় ত্রিশ বছর আগে কুরবানির ঈদে আমি গ্রামে ছিলাম। সূর্য উঠার আগে পুরো গ্রাম ঘুরে যতগুলো বাড়িতে হাড়ি চড়বেনা, ততগুলো বাড়িতে সদস্য অনুপাতে গোপনে টাকা দিয়েছিলাম। কুরবানি দেই নাই।

ধন্যবাদ।

বাউণ্ডুলে এর ছবি

চলুক

মন_মাঝি এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

বাকসর্বস্ব নৈতিকতা আর নৈতিক কর্মপরায়নতা, বুলিসর্বস্ব পাণ্ডিত্য আর প্রজ্ঞাশীল জীবনচর্যার মধ্যে এটাই বোধহয় পার্থক্য। পরেরটা প্রায়ই দেখা যায় না।

তবে, পরের ৩০ বছর কি করেছেন সেটা জানার আগ্রহ রইল। চোখ টিপি

নির্দয় পাঠক এর ছবি

প্রৌঢ় ভাবনা, এটাতো ঈভ টিজারদের "মেয়েরা চেহারা না ঢাকলে টিজ তো করবই" টাইপের আর্গুমেন্ট হয়ে গেল। নিজেকে এত নিচে নামাবো কেন আমরা? বিশেষত আমরা ধার্মিকেরা যেহেতু চরিত্রবলে, ঈমানবলে শ্রেষ্ঠ? এই শ্রেষ্ঠত্বের নমুনা? পশু না কাটতে দিলে ছেলে কাটুম? এটা অসুস্থতা। আমরা অনেক অনেক দূর পথ পাড়ি দিয়ে দিয়েছি সেই বর্বর যুগ থেকে। মুহাম্মদ এখন বেঁচে থাকলে তিনি অবশ্যই এই কুপ্রথা রদ করতেন। তিনি তার সময়ে যতটা সভ্য ছিলেন, তার অনুসারীরা তার কানাকড়িও না। উনি দেখলে কষ্ট পেতেন।

রায়হান আবীর এর ছবি

পৌঢ় ভাবনা,

বহুকাল আগে ইব্রাহীমের ধর্ম কাজ দিয়েছিলো, কিন্তু এখন সে শুধু আকাজই দিয়ে যাচ্ছে শুধু মন খারাপ

guesr_writer rajkonya এর ছবি

প্রোটিন(ফাইবার যুক্ত) যেহেতু মানুষের সুষম খাদ্যের তালিকায় রাখতে হবে, সেহেতু অমানবিক হলেও প্রাণি হত্যা বন্ধ হবে না।সিন্থেটিক প্রোটিন কবে জনপ্রিয় হবে জানি না। আপাতত প্রাণি হত্যায় কিছু বলা যাচ্ছে না কিন্তু যখন তা উৎসবের নামান্তর হয়, প্রকাশ্যে রক্তোৎসব হয় তখন তো অনেক কিছুই বলার থাকে।

চলুক

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ মৃত্যুময় ঈষৎ। আমার লেখায় করা আপনার মন্তব্যগুলো খুব উপভোগ করি চলুক

ছাইপাঁশ এর ছবি

সুন্দর করে গুছিয়ে কথা গুলো বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখক কে। লেখাটি পড়ে কোরবানীর পশু নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগীতায় মেতে থাকা মানুষ গুলো অন্তত একবার অন্যভাবে ভাবুক।

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ ছাইপাঁশ।

নিটোল. এর ছবি

কোরবানি নিয়ে আরো অনেক সমালোচনা পড়েছি।অনেকে অনেক পয়েন্ট নিয়ে বলেছে। কিন্তু আপনি বোধ হয় আপত্তির আসল জায়গাটাতে হাত দিয়েছেন।আর রচনা দারুণ স্বাদু!

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ নিটোল মিয়া হাসি

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ ভাইয়া, আপনার লেখা খুব ভালো পাই হাসি

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

দারুণ লেখা। এই নৃশংসতার মৌসুমে দরকার ছিলো এরকম লেখার। গুড জব।

রায়হান আবীর এর ছবি

নে- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কল্যাণF এর ছবি

আপনাদের সবার এইবার খবর আছে। জানেননাতো কাখে লাড়তে কাখে ল্যাড়েছেন। আমি ভাই কিছু বুলবোনা নাহালে আবার বুলবেহেনি "চালুনী কয় সুচ তোর পাছায় ফুটা", ভাগলাম।

রায়হান আবীর এর ছবি

কস্কি মমিন!

কল্যাণF এর ছবি

আরে ভাই মমিনের আর কিছু কওয়া লাগতেছে না, ইতিমধ্যে দেখেন

পুরাপুরি নাস্তিক জেহোভাজ উইটনেস

খেতাব পাইয়া গেছেন। তাইলে বোঝেন এইবার কই আছেন!

রায়হান আবীর এর ছবি

দেঁতো হাসি :D

তাপস শর্মা এর ছবি

লেখাটা ভাবায়। দুই তিন বার পড়লাম । কিন্তু মন্তব্য করিনি। সত্যিই কথা গুলো ভেবে দেখার মতো। আমরা সবাই জানি অথচ আমরা ধর্মের নামে বিধর্মাচার করে যাই। আসলে সমাজ বদলের খোয়াব দেখতে গেলে আগে নিজের ভেতরের জন্তুটাকে মারতে হবে আমাদের। তাহলেই সঠিক অর্থে বদলে যাওয়া হবে।

ধন্যবাদ। দাদা। ভাল লিখেছেন খুব।

তারেক অণু এর ছবি

খুব ভাল লিখেছেন। মানুষ বলে সংস্কার ছাড়া যায় না, কিন্তু ভুলে যায় সে সব সংস্কার আমাদেরই তৈরি। শোষনের জন্য, শাসনের জন্য, ভোগের জন্য।

তাপস শর্মা এর ছবি

চলুক

রায়হান আবীর এর ছবি

ঠিক ভাইয়া। আরেকটা বিষয় যোগ করা যায়, ধমক দিয়ে এক লাইনে রাখার জন্য হাসি

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ তাপস শর্মা হাসি

মণিকা রশিদ এর ছবি

খুব ভালো লাগলো।

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ মনিকা আপু হাসি

বাউণ্ডুলে এর ছবি

উত্তম জাঝা!

রায়হান আবীর এর ছবি

বেহেশতি উত্তম জাঝা! দেবার জন্য আপনারে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

স্বাধীন এর ছবি

চলুক

রায়হান আবীর এর ছবি

ম্যাঁও

ইবরাহীমে বিশ্বাসী এর ছবি

পুরাপুরি নাস্তিক জেহোভাজ উইটনেস মার্কা লেখা। ধর্ম প্রচারের কোন লেখা নাকি সচলে প্রকাশ নিষিদ্ধ, কিন্তু আপনার লেখা পড়ে সে রকমই মনে হয়। আপনি উঠে আসতে চাচ্ছিলেন এমন বিশ্বাস থেকে যা অন্য ধর্মের অনুসারীদের সামষ্টিক অবস্থান নিজের অবস্থানের চেয়ে "নিচের" মনে করে। আপনি 'প্রচলিত ধর্ম তথা অন্ধবিশ্বাস' থেকে বের হয়ে যেতে পেরেছেন ঠিকই, কিন্তু এই গুণটা সাথে নিয়ে বের হয়েছেন।

ইবরাহীম ব্যক্তিত্বে শুধু মুসলমানেরা না, খ্রীষ্টানরা এবং ইহুদীরাও বিশ্বাসী। অর্থ্যাৎ পৃথিবীর ৫৫%+ মানুষের তুলনায় আপনি অধিক আলোকপ্রাপ্ত! অভিনন্দন!

ভালো থাকবেন আপনার সদ্য প্রাপ্ত ধর্মে।

সজল এর ছবি

আলোকপ্রাপ্তির ব্যাপারটাও কি ভোটাভুটির উপর নির্ভর করে নাকি? সবখানে গণতন্ত্র নিয়া টানাটানি করলেতো সমস্যা।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

রায়হান আবীর এর ছবি

সজল ভাই অবশ্যই করে। সকল সায়েন্টিফিজ থিওরি প্রদানের পর বিজ্ঞানীরা একটি গণতান্ত্রিক ভোটাভুটির আয়োজন করে আপনি জানেন না? যদি ভোটাভুটিতে থিওরিটি অধিক ভোট পায়, তবে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি সঠিক- কারণ এতো মানুষ তো আর একসাথে ভুল করতে পারে না। তাই না? আপনাদের আম্রিকাতে কী অন্য সিস্টেম? খাইছে

মন মাঝি এর ছবি

এটাই কিন্তু দুনিয়ার সব সদ্য নবুয়্যতপ্রাপ্ত প্রেরিতপুরুষত্বের দাবিদার, পীর-ফকির-খাজাবাবা-অলৌকিকবাবা-সাধু-সন্যাসী-অবতার, ডিক্টেটর, স্বৈরশাসক, অভিজাততন্ত্রবাদী, রাজতন্ত্রবাদী, প্লুটোক্র্যাট, থিওক্র্যাট, আইডিওলোগ, সেক্ট্যারিয়ান, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, বিজ্ঞানবিরোধী ও সাধারনভাবে সব গনতন্ত্রবিরোধীদের সবচেয়ে প্রিয় ও প্রধান যুক্তি ! প্রাণের কথা! যে যার নিজের পরিস্থিতি ও সুবিধামত মূল যুক্তিটাকে কখনো-সখনো একটু টেইলর বা কাস্টোমাইজ করে নেন বড়জোর। এমনকি ইদানিংকালে যারা যুগের সাথে তাল মেলাতে গনতন্ত্রের পক্ষে লিপ সার্ভিস দেন কিন্তু অবচেতন থেকে পুরনো মনোভঙ্গি বা তার মানসিক উত্তরাধিকার কাটিয়ে উঠতে পারেননি, তারাও কিন্তু চাপে পড়লে সেই পুরনো ঐতিহ্যেই প্রত্যাবর্তন করেন।

এই ফেনোমেননটা আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। দেঁতো হাসি

****************************************

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

'অ্যাপিল টু পপুলারিটি' নামে এক ধরনের ফ্যালাসি তথা কু-যুক্তি আছে। বেশ উপভোগ্য কুযুক্তি। হাসি

রায়হান আবীর এর ছবি

প্রিয় ইবরাহীমে বিশ্বাসী।

সচলে ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ নাকি? কিন্তু আমাকে যে সচল অথোরিটি নাস্তিক্যবাদ নামক নতুন ধর্ম প্রচারের জন্য প্রতি লেখা বাবদ চেক প্রদান করে? চিন্তিত হয়ে গেলাম তো মন খারাপ

আপনার জন্য একটা লেখা। আসলে আপনার জন্য না। আপনাকে লিংক দিয়ে লাভ নেই, খুলবেন না বলাই বাহুল্য। তবে এই পোশটে যারা নজর রাখছেন তাদের জন্য- যুক্তিগত ফ্যালাইসি কি, এবং কি কারণে এটা ক্ষতিকর

rosy এর ছবি

১. আমি যতদুর জানি, কোরবানির আরেকটি শিক্ষা হচ্ছে 'মানুষের নিজের মনের পশুত্ব কে কোরবানী দেয়া' , পশু জবাই করার বেপারটা প্রতিকী |
২. আর কোরবানির ঈদের মাধ্যমে 'এক দিনই শুধু গরিবদের কথা মনে করার' বেপারটা বোধহয় ঠিক বলেননি আপনি, রোজার ঈদ এর নাম ও কিন্তু 'ঈদ উল ফিতর', গরীবদেরকে ফিতরা দেই আমরা সেই ঈদে | তাছাড়া ইসলাম ধর্মে যাকাত হচ্ছে ধনীদের সম্পত্তিতে গরিবদের অধিকার | ধনীরা যাকাত দিলে 'শুধু এক দিন গরীবদেরকে মনে করা'র বেপারটা আর থাকেনা |

রায়হান আবীর এর ছবি

হা হা হা হা। মনের পশুটাকে কোরবানী করার জন্যই বোধহয় প্রতিযোগীতা হয়, কার গরু কতো দামী তা নিয়ে দেঁতো হাসি

দুই নাম্বার পয়েন্ট নিয়ে আর কী বলবো। চৌদ্দশ বছর ধইরা ইসলাম ধর্ম আছে, কই আর্ত মানবতার কোনো উন্নতি তো দেখতেছিনা, মুসলমানদের ফিতরা এবং যাকাতের টাকার মন খারাপ

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি

চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন চলুক

------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

রায়হান আবীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অনিকেত এর ছবি

একেবারে মনের কথাগুলো গুছিয়ে লিখে দেবার জন্য রায়হান আবীরকে অশেষ অভিনন্দন!

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ অনিকেত দা। আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো হাসি

ন এর ছবি

লেখকের সাথে ১০০% একমত| গরীবদের জন\ বছরে একবার ফেতরার ফেতরা কাপড় আর হাডিড সহ ৩টুকরা গরুর মাংস না দিয়ে, নাহয় শুধু একজনকেই একটা সেলাই মেসিন কিনে দেই, নাহয় একটা পানবিরির দোকান করে দেই, নাহয় এক শিশুকে তার সারা বছরের বই খাতা কিনে দেই, এতে কিছু কাজর কাজ হবে| বছরে নাহয় অনতত একজন মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াবে|

রায়হান আবীর এর ছবি

(গুড়) আমিও তাই বলতে চাই

সাদাকালো এর ছবি

আপনার এবং লেখকের সাথে আমিও একমত। গরীবদের শুধুমাত্র একদিন ৩ টুকরা মাংস, ফেতরার টাকা বা যাকাতের টাকা দিলেই কাজের কাজ কিছু হবেনা। তাই বলে ধর্মের যেই বিধি-নিষেধ/প্রথা এগুলো পালন না করলেও কি তেমন কাজ হবে? শোনেন, আপনি, আমি আরো যারা ধর্ম-কর্ম মানি বা মানিনা তারা সবাই কিন্তু এক জায়গায় সমান তা হলো শর্টকাটে দায়িত্ব পালন করা। অনেকে কোরবনি করেই তার দায়িত্ব পালন করবে, অনেকে এগুলোর সমালোচনা করে দায়িত্ব পালন করবে, আরো অনেকে হয়তো অনেক কিছুই করবে তাতেও কাজের কাজ কিছু হবেনা। যেহেতু আপনাদের মতে সারা বছর গরু/ছাগল/মুরগী হজম করলে সমস্যা নাই কিন্তু ধর্মীয় কারণে কোরবানি করলেই সমস্যা তাই দুটা কথা শোনাই, সেটা হলো আপনি যা অনুসরণ করবেন তা ১০০% করবেন, না পারলে সর্বোচ্চ করবেন তাও যদি না পারেন তাহলে নূন্যতম কিছু করে দায়িত্ব পালন করবেন। হাদিসে আছে আশেপাশের ৪০ বাড়ি পর্যন্ত সবাই প্রতিবেশী আর যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায় অথচ প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে সে ঈমানদার নয়। আমরা কয়জন প্রতিবেশীর খোঁজ রাখতে পারি? তাই যা কেউ করেনা বা পারেনা তার জন্য সে নিজেই দায়ী ধর্ম নয়। একবার চিন্তা করেন তো (যারা ধার্মিক আর যারা ধর্মকে বিষেশ পাত্তা দেননা সবাই), আমরা কি কেউ কোনদিন আশে পাশে যারা গরীব মানুষ আছে তাদের খোজ নিই? তাই ধর্মের সমালোচনা না করে নিজের সমালোচনা করা উচিৎ। ধর্ম-অধর্ম অনুসারে মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ করা উচিৎ, নিদেন পক্ষে নূন্যতম।

হিমু এর ছবি

প্রাসঙ্গিক একটি লেখার লিঙ্ক দিলাম।

তাসনীম এর ছবি

লিঙ্কটার জন্য ধন্যবাদ হিমু। তবে কাজ হবে বলে মনে হয় না।

অনেকদিন আগে ঢাকা থেকে হিউস্টনে এসেছিল একটা বাংলাদেশি শিশু। ওদের পরিবার উঠেছিল রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউজে। হাসপাতালের থেকে হাঁটা দূরত্বে একটা বেশ বড় বাড়ি। বাচ্চাদের চিকিৎসা করতে আসা মানুষদের জন্য চমৎকার ব্যবস্থা, সব কিছু ঝকঝকে চকচকে। বাইরের হলরুমে বিশাল দেওয়ালে প্রচুর মানুষের নাম - যাঁরা ওই ফ্যাসিলিটি তৈরি করাতে সাহায্য করেছেন।

আমি দীর্ঘক্ষণ ধরে নামগুলো পড়লাম। একটাও মুসলমান নাম খুঁজে পেলাম না। হিউস্টন শহরে মুসলমানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ওখানে এদিক-ওদিক প্রায়ই মসজিদ তৈরি হয় হয়।

মুসলমানরা সোয়াবটা এয়ারলাইন্স মাইলেজের মতো ভাবেন। তাদের দান খয়রাত সাধারণ সীমাবদ্ধ থাকে মসজিদ নির্মান, মাদ্রাসা নির্মান - ইত্যাদিতে। এতে সোয়াব মনে হয় বেশি পাওয়া যায়। আমি নিকট বন্ধুবান্ধবকে কুরবানীর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দান করার অনুরোধ করেছিলাম। দেখা গেল একটা ফতোয়া নাকি আছে - কুরবানীর ঈদে পশু জবাই দিতেই হবে। এই অর্থ অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

প্রতিটি জিনিসেরই আধুনিকীকরণ হয়, মুসলমানরা তাদের ধর্মটা মধ্যযুগে রেখে দিলেন - শুধু তাই নয়, সেই ধর্মের দোহাই দিয়ে কাজে ও কর্মে তারা প্রায়ই মধ্যযুগকে আমদানী করেন এই বর্তমান সময়ে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

স্পর্শ এর ছবি

চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

রায়হান আবীর এর ছবি

তানসীম ভাই উত্তম জাঝা!

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

চলুক চলুক


_____________________
Give Her Freedom!

কাজি মামুন এর ছবি

আমাদের ধর্মীয় মিম এমনভাবে আমাদের ঘিরে রাখে, আমরা আসলে কখনও বৃত্তের বাইরে এসে চিন্তা করতে পারি না..

বৃত্তের বাইরে এসে চিন্তা করলে যে অনেক কিছুরই মানে খুঁজে পাওয়া যাবে না! পৃথিবীর অধিকাংশ প্রাণীই বিপন্ন হতে চলেছে; আমরা মানুষেরা জংগল সাফ করে নগর সভ্যতার পত্তন করছি আর সেই ঝকঝকে নগরীর রাস্তায় রক্ত দেখে শিউরে উঠছি; কিন্তু একবারও কি বৃত্তের বাইরে এসে চিন্তা করে দেখেছি যে, এই নগর বানাতে গিয়ে কত বীভৎসতা করতে হয়েছে, কত প্রজাতিকে পৃথিবী থেকে সমূলে বিনাশ হতে হয়েছে? অনেকেই প্রাণী হত্যা পছন্দ করেন না এবং নিরামিষভোজী হিসাবে নিজেদের মহত্ব জাহির করতে ভালবাসেন। কিন্তু উদ্ভিদেরও তো প্রাণ আছে! তাছাড়া মাংসাশী প্রাণীগুলোর মাংস খাওয়া ঠেকাবেন কি করে? প্রকৃতির খাদ্যচক্র ভেঙ্গে দিয়ে? কোরবানির দিন সভ্য মানুষ হিসাবে আমাদের রক্ত দেখতে খারাপ লাগে। আমরা উৎসব করে গো-হত্যা করা নৃশংস মনে করি, কিন্তু প্রত্যহই উৎসব করে গো-মাংস খেতে পছন্দ করি। এটা যে এক ধরনের হিপোক্রেসি, লেখক কিভাবে তা অস্বীকার করবেন?

আমাদের প্রত্যেকের জীবনই একটা বায়োলজিকাল দূর্ঘটনার ফলাফল।

যদি তাই হয়, তা হলে আমরা একটা বায়োলজিক্যাল প্রজাতি বই কিছু নই। আর এখানেই আসল সত্যটা নিহিত। এই যে আমরা 'মানবতা-বোধ' বলে চেঁচিয়ে যাচ্ছি, তাও একটি 'ভেগ টার্ম' ছাড়া কিছু নয়। মানুষও একটি প্রাণী এবং তাকেও নিয়ত লড়াই করে বাঁচতে হয় অন্য প্রজাতির সাথে (অতীতকালে) এবং নিজের প্রজাতির সাথেও। কোটি কোটি গরিব-দুঃখী মানুষ ধর্মানুসারে সামর্থবান মানুষদের দয়া-ভালবাসা-দান পাওয়ার যোগ্য; কিন্তু বিবর্তনের দৃষ্টিতে তারা তো পরাজিত প্রজাতি এবং বিলুপ্তির পথে যাওয়াই তাদের স্বাভাবিক নিয়তি। সুতরাং, এখানে পিউর বিজ্ঞানের কথা বললে 'মানবতাবাদ' অথবা 'নির্মমতা' শব্দগুলো একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক ও অযৌক্তিক।

রায়হান আবীর এর ছবি

কাজী মামুন আপনার কিছু কথার সাথে একমত কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমার চিন্তা আর আপনার চিন্তাধারার মাঝে ফারাক আছে। তারজন্য তো এখন বিশাল উপাখ্যান, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে যেতে হবে। আমি এমনিতেই আইলসা প্রজাতি, তাই পাশ কাটালাম। কিছু মনে করবেনা।

Nergal এর ছবি

vai pura amr moner kotha koisen ...apnake dhonnobad

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

(বাংলায়)

সজল এর ছবি

এইটা একটা চমৎকার ইমো হইছে। হাত নিশপিশ করায় আমিও একটা দিলাম।
(বাংলায়)

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

রায়হান আবীর এর ছবি

ধন্যবাদ Nergal.

অরিত্র অরিত্র এর ছবি

গুছিয়ে অনেক সুন্দর করে লিখেছেন, অনেক ভাললাগা জানিয়ে গেলাম।
ভাল থাকুন।

রায়হান আবীর এর ছবি

(গুড়)

কৌস্তুভ এর ছবি

মাংস ছেড়ে (গুড়) নিন হাসি

রায়হান আবীর এর ছবি

আপনিও নিন আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

মন মাঝি এর ছবি

লেখাটা আমার কাছে কিন্তু ঠিক পরিষ্কার হলো না।

অপছন্দ করার মূল কারণ হচ্ছে, .... স্থূলতা

রুচিগত সুক্ষতা-স্থূলতাই যদি এই পোস্ট বা আপনার আপত্তির মূল কারন হয়, তাহলে আমার মনে হয় "কোরবানি" আলাদাভাবে আইডেন্টিফাইড হওয়ার বা গুরুত্ব পাওয়ার যথেষ্ট শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট নয়, কারন প্রায় সব ধর্মেই এর থেকে অজস্রগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তিজনক বিষয় রয়ে গেছে। মানুষকেই যেখানে 'কোরবানি' দিতে উৎসাহ দেয়া হয় বা আপত্তি করা হয় না (তা সেটা শত্রুহত্যা, বিধর্মীহত্যা, বিজাতিবিদ্বেষ, জেনটাইল/আনচোজেন-হত্যা-বিতাড়ন-ক্লিন্সিং, হাত-পা কাটা, নিম্নবর্ণ-বিমানবিকীকরন বা কাস্ট-এপারথেইড, যাইহোক না কেন সেটা), সেখানে গরু-ছাগলের তাত্ত্বিক প্রায়োরিটি বা সুক্ষতা-স্থূলতা আমার কাছে অনেক নিচে। দুঃখিত।

তাছাড়া সবচেয়ে বড় বিষয় হল, আপনি যদি ধর্মের মৌল প্রেমিজগুলায় বিশ্বাসী হন তাহলে এটা এত বড় বিষয় বলে মনে হওয়ার কথা নয় কারন এর মনে হয় ইন্টারনাল ভ্যালিডিটি বা কন্সিস্টেন্সি রয়েছে। পক্ষান্তরে আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাস না করেন বা ধর্মবিশ্বাস-বহির্ভূত ভ্যালিডিটি বা কন্সিস্টেন্সি খোঁজেন তাহলে অবশ্য সমস্যায় পড়ারই কথা। এখানে কিন্তু আসল ও মূখ্য ইস্যুটা হল - ধর্ম বা তার মৌল স্বীকার্যগুলি আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও বিশ্বাসস্থাপনীয় কিনা সেটা, কোন একটা সুনির্দিষ্ট রিচুয়ালের স্পিরিটের সুক্ষতা-স্থূলতা সেকেন্ডারি বা তারও অনেক পরের বিষয়। তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে আমার মনে হয় স্পিরিটটা (অন্তত আমি যেভাবে বুঝি) সামগ্রিক ফ্রেইমওয়ার্কের (অন্তত আমি যেভাবে বুঝি) আওতার মধ্যেই পড়বে, ইনকন্সিস্টেন্ট হবে না। তবে এবং সুতরাং এক্ষেত্রে, ধর্ম বা তার সংশ্লিষ্ট মৌল স্বীকার্যগুলি বা দৃষ্টিভঙ্গিটাই আসল ইস্যু।

বক্তব্য পরিষ্কার করতে পারলাম কিনা জানি না।

তবে আপনি যদি প্রকাশ্য রক্তারক্তির ব্যাপারটা মূল আপত্তি ধরেন (এ্যানিমাল রাইটসের এ্যাঙ্গেলটা বাদই দিলাম), তাহলে আমি একমত, এবং আমার মতে এটাই পশু-কোরাবানির ডিস্টিঙ্গুইশিং ফিচার।

****************************************

সাইফ এর ছবি

আপনি যে প্রশ্ন করেছেন কুরবানির ব্যাপারে এবং ঈশ্বরের স্বপ্ন দেখানোর ব্যাপারে, সেটা কুরান এর ভুল ব্যাখা থেকে এসেছে। কুরান এ আছে যে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, এবং এটা আল্লাহ নাকি শয়তান দেখিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। আল্লাহ কুরান এ যেখানে মানুষ হত্যা মহাপাপ উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি এ ধরনের স্বপ্ন দেখাতেই পারেন না। Because, God never advocates sin, rather He upholds His law what He has revealed in the Quran. Please follow the link and the article about the sacrifice of Abraham. You will find many other articles with the reference of the Quranic Ayat in this website. If you are a logical and unbiased person, you will be benifitted, I am sure. But, first of all, forget every teachings that we have been taught from the childhood by the so called "Hujurs". http://www.quran-islam.org/articles/abrahams_sacrifice_(P1164).html

সাইফ এর ছবি

কুরবানির ইতিহাস সম্পর্কিত আগের দেওয়া লিঙ্ক টি কাজ করছে না, তাই আবার দেওয়া হল

http://www.quran-islam.org/articles/abrahams_sacrifice_(P1164).html

সাইফ এর ছবি

আগের লিঙ্ক টি কাজ করছে না, তাই আবার দিলাম।

http://www.quran-islam.org/articles/abrahams_sacrifice_(P1164).html

এক কথায়, আসলে শয়তান ইবরাহিম (আ) কে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে স্বপ্নটার উৎস কি ছিল। যেহেতু তিনি একজন ঈমান্দার ব্যাক্তি ছিলেন, তাই আল্লাহ উনাকে এ্কটা মহাপাপ থেকে বাঁচিয়েছিলেন (Allah Intervened) একটি দুম্বার কুরবানির বিনিময়ে (concession)। Article মনযোগ দিয়ে পরুন, অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।

মনু এর ছবি

শয়তান কে ? তার প্রভু কে ?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA