অলখ আমেরিকা - এক জুতা শিল্পীর ভালবাসা

সাইফ শহীদ এর ছবি
লিখেছেন সাইফ শহীদ (তারিখ: মঙ্গল, ০২/১১/২০১০ - ৭:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লস এঞ্জেলেসের কাছে বেশ কয়েকটা বিমান বন্দর আছে তবে এদের মধ্যে সব চাইতে বড়টি হচ্ছে লস এঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যাকে সবাই তার এয়ারপোর্ট কোড LAX নামে ডাকে। অনেক স্মৃতি বিজড়িত এই এয়ারপোর্ট আমার কাছে। এবার LAX-এ যখন প্লেন থেকে নামলাম, তখন বিকেল হয়ে গেছে। আগের থেকেই রেন্ট-এ-কার বুক করা ছিল। এয়ারপোর্ট থেকে সেই গাড়ী নিয়ে সোজা চললাম আমার গন্তব্য সান ফারনান্দো ভ্যালির পথে। আমি যদিও এর আগে প্রায় দুই বছর কাটিয়েছি LA-এর কাছের শহরে, এর আগে কখনো সান ফারনান্দো ভ্যালির দিকে যাবার প্রয়োজন হয়নি। এয়ারপোর্টের ঘোরানো প্যাচানো রাস্তা এবং কিছুটা ঘিঞ্জি এলাকা পার হয়ে ইন্টারষ্টেট ৪০৫ ধরে উত্তরে যেতে লাগলাম। এলাকাটা সুন্দর। হাতের ডান দিকে রইল বেভারলি হিলস এবং আর একটু দূরে হলিউড।

গন্তব্যে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে এল। সামনে একটা মোটেল দেখে ঢুকে পড়লাম সেখানে। মোটেল শব্দটা এসেছে 'মটর হোটেল' থেকে। অর্থাৎ গাড়ী নিয়ে এসে এ সব জায়গাতে থাকা যায়। আসলে প্রায় সব হোটেলেই গাড়ী নিয়ে থাকা যায়। তবে সাধারনত মোটেলের ভাড়া অন্য হোটেলের ভাড়ার চেয়ে কম হয়, কারণ হোটেলের মত মোটেলে রেষ্টুরেন্ট ইত্যাদি থাকে না। তবে আজকাল আধিকাংশ মোটেলে সকালের ব্রেকফাষ্ট ফ্রি দেওয়া হয়। এমনকি অনেক মোটেলে সুইমিং পুল, ইত্যাদির ব্যবস্থা আছে। গাড়ী পার্কিং-এ রেখে মোটেলে ঢুকে রিসেপসনে যেয়ে জিজ্ঞাসা করলামঃ

- কোন খালি ঘর আছে?

- কয় ঘন্টার জন্যে লাগবে?

একটু অবাক হলাম। আঙ্গুলে গুনে একটু হিসাব করে বললাম - এই ১২/১৪ ঘন্টার জন্যে হলেই হবে।

আমার দিকে তাকিয়ে আবার প্রশ্ন এল - একা?

এবার একটু বিরক্তই হলাম। বললামঃ

- না, সাথে গাড়ী আছে, তবে তার জন্যে আলাদা কোন বেড লাগবে না। সে বাইরেই থাকবে।

আমার এই ঠাট্টা রিসেপসনিষ্ট বুঝলো কিনা আমি বুঝলাম না। তার সামনের কম্পুউটারের স্ক্রিনে কিছুক্ষন দেখে বললো - ঘন্টা খানেক পরে একটা ঘর খালি হতে পারে।

ঠিক করলাম ততক্ষনে আমি বাইরে কোথাও থেকে ডিনার করে আসি। গাড়ীতে উঠে চালাবার আগে একটা দৃশ্য নজরে এলো। এক তরুন-তরুনী আমার পাশে এসে তাদের গাড়ী থামালো। কিন্তু গাড়ী থেকে নামার সময় বা ইচ্ছা যেন তাদের নেই। দু'জনেই একে অপরকে চুমা চুমি ও জড়াজড়ি করতে ব্যস্ত। ঠিক পাশেই যে আমি গাড়ীতে বসে আছি সে দিকে বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। দেখলাম মেয়েটার ড্রেসের পিছনের প্রায় সব কটা বোতাম খোলা। তাদের গাড়ীর পিছনের সীটে দু'টো সিক্স-প্যাক বিয়ারের বাক্স। বুঝলাম ফুর্তি করতে এসেছে এরা দু'জনা। এতক্ষণে আমার মাথায় ঢুকলো কেন আমাকে কয় ঘন্টা থাকতে চাই জিজ্ঞাসা করছিল রিসেপসনিষ্ট। ভুল মোটেলে এসে পরেছি বুঝে গেলাম। আবার ভাবলাম - ওরাই তো ঠিক করছে - জীবনকে পূর্ণ উপভোগ করছে ঐ বয়েসে যেভাবে করা উচিত।

গাড়ী চালিয়ে আর একটু দূরে যেতেই পেয়ে গেলাম একটি 'রেড রুফ ইন' মোটেল। এর আগেও আমি অনেক 'রেড রুফ ইন' মোটেলে থেকেছি এবং আমার বেশ পছন্দ এই মোটেলগুলি। এখানকার রুম গুলি বড় বড়, অনেক জায়গায় সুইমিং পুল আছে এবং ঘরের আসবাব এবং পরিছন্নতা বেশ ভাল। রাতে খাবার পর দেখে নিলাম নতুন এসাইনমেন্টের কাগজ-প্ত্র। এবার আমার কাজ পড়েছে একটা জুতা ফ্যাক্টরীতে। বছরে মিলিয়ন ডলারের বেশী আয় এদের জুতা রপ্তানী করে। আমার কাজ হচ্ছে প্রাথমিক ভাবে সার্ভে করে দেখা এদের ফ্যাক্টরী সম্প্রসারণ করা উচিত কিনা এবং করলে তার ফলাফল কি হতে পারে। মূলত আমার কাজ হচ্ছে ফ্যাক্টরীর মালিককে প্রভাবিত করা যাতে সে সম্প্রসারণ কাজে এগিয়ে যায় এবং আমাদের কোম্পানীকে পরবর্তী কিছু কাজ করার কন্ট্রাক্ট দেয়। আমি কিছু অতিরিক্ত কমিশন পাবো যদি কোম্পানী সেই কাজ গুলি পায়। পুজিবাদী সমাজে সব কিছুই জড়িয়ে আছে স্বার্থ আর টাকার সাথে।

সকালে ফ্যাক্টরীতে যেয়ে অনেকটা হতাশ হলাম দেখে। খুবই ছোট ফ্যাক্টরীটা। মাত্র ৫-৬ জন কর্মচারী নিয়ে এঞ্জেলোর এই প্রতিষ্ঠান। এঞ্জেলো মূলত একজন শিল্পী। সে এখানে বিশেষ 'ডিজাইনার সু' তৈরী করে ইটালীতে রপ্তানী করে। সেগুলি আবার ইটালী ভ্রমণরত আমেরিকানরা কিনে আনে। এগুলি সবই মেয়েদের জুতা এবং এক জোড়া জুতার মূল্য ৫০০ ডলার থেকে ৩০০০ ডলার হতে পারে। এখানে কয়েকটি ডিজাইনার জুতার মূল্যসহ ছবি দিলাম এক সেলস ক্যাটালগ থেকে।


এঞ্জেলোকে আমার ভালই লাগলো। আস্তে করে থেমে থেমে কথা বলে এবং কথার মধ্যে এখনো ইটালিয়ান এক্সেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। সে যখন শুনলো যে আমি মিলানো, জেনোয়া ইত্যাদি ইটালিয়ান শহরে গেছি এবং একটা-দু'টা ইটালিয়ান শব্দ বলতে পারি, তখন সেও যেন আমাকে অন্য চোখে দেখতে লাগলো। তার যে জিনিসটা আমার সব চাইতে ভাল লাগলো সেটা হল তার মধ্যে মিথ্যা কোন 'শো-অফ' করার চেষ্টা নেই। সে আমাকে জানালো প্রতি জোড়া জুতা তৈরী করতে তার খুব বেশী হলে ১০-২০ ডলারের মালামাল এবং সম পরিমান মজুরী খরচ হয়। তার সাফল্যের মূলে হলো তার সৃজনশীল ডিজাইন। তার ফ্যাক্টরী মূলত একটি বড় হল ঘর। পাশের একটা ছোট ঘরে তার অফিস। নতুন ডিজাইনের কাজ সাধারনত বাড়ীতে বসেই করে। এখানে সেই সব ডিজাইন অনুসারে মালামাল কেটে আঠা দিয়ে লাগানো হয়। একটা ছোট প্রেসিং মেশিন আছে আর আছে হিট-ট্রিটমেন্ট করার ব্যবস্থা। এছাড়া আছে ঠিক মত রং করা ও পালিসের ব্যবস্থা।

দুপুরে কাছের দোকান থেকে আনা স্যান্ডউইচ তার অফিসে বসে খেতে খেতে আমরা কিছু ব্যক্তিগত কথা-বার্তা বলা শুরু করলাম। এঞ্জেলোর জন্ম এখানেই, যদিও কয়েক পুরুষ আগে আসা তার পুর্বসূরীদের মত ভাল ইটালিয়ান বলতে পারে সে। এর ফলে ইটালিতে তার কয়েকটি বেশ ভাল ডিষ্ট্রিবিউটার জুটে গেছে। তারা মার্কেটিং-এ ভাল এবং যেহেতু প্রতিটি জুতা এখানে হাতে তৈরী তাই বিশেষ কদর তার জুতার। চার বছর আগে এই ব্যবসা শুরু করেছিল সে।

সে সময় এক এক্সিডেন্টের কারণে সপ্তাহ দুয়েক হাসপাতালে কাটাতে হয় এঞ্জেলোকে এবং সেখানেই পরিচয় হয় সেখানকার নার্স ডায়ানার সাথে। হাসপাতাল ছাড়ার পরও তাদের দেখা সাক্ষাৎ চলতে থাকে। পরে এঞ্জেলোর সাথে থাকার জন্যে তার বাড়ীতে চলে আসে ডায়ানা। বছরখানেক এক সাথে থাকার পর বিয়ে করে ফেলে দু'জনে। খুবই সুখে কাটছিল তাদের দিন গুলি। এরপর প্রথম ধাক্কা আসে যখন তারা জানতে পারে যে ডায়ানার পক্ষে মা হওয়া সম্ভব না। কিন্তু অন্য আমেরিকান বা ইটালিয়ান ছেলেদের মত ছিল না এঞ্জেলো। ডায়ানা তার জীবনের প্রথম প্রেম এবং বিয়ের রাতে এঞ্জেলো নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল তার বাকী জীবনে ডায়ানা ছাড়া সে অন্য কোন মেয়েকে স্থান দেবে না। এঞ্জেলোর এই প্রচন্ড ভালবাসা ডায়ানাকে সামলে উঠতে সাহায্য করে।

কিছুদিন পরে হাসপাতাল থেকে কাজের শেষে ফেরার সময় এক সদ্য প্রসুত বাচ্চাকে সাথে করে নিয়ে আসে ডায়ানা। বাচ্চার মা তার মেয়েকে জন্ম দেবার পর পরই মারা গেছে। অন্য কোন 'ফষ্টার হোমে' পাঠানোর আগে বিশেষ ব্যবস্থা করে এই বাচ্চাকে তার তদারকিতে নিয়ে এসেছে ডায়ানা এবং একই সাথে চাকরী ছেড়ে এসেছে যাতে বাচ্চার দেখা-শুনা করতে কোন অসুবিধা না হয়। নার্সদের যতেষ্ট ডিমান্ড এদেশে, ফলে ডায়ানা জানতো, যে কোন মুহূর্তে চাইলে আর একটি চাকরি খুঁজে নিতে পারবে সে।

খুবই সুন্দর দেখতে বাচ্চাটি। তারা বাচ্চার নাম রাখল 'এডা', দুজনের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে। দু'জনের জীবন এই বাচ্চাকে ঘিরে কেটে যাচ্ছে তখন। কিন্তু তাদের ভাগ্য নিয়ে নিষ্ঠুর বিধাতা হয়তো খেলছিল। এক বছর বয়েসেও যখন বাচ্চাটা নিজে থেকে উঠে বসতে পারেনা বা হামাগুড়ি দেবার কোন চেষ্টা করেছে না তখন সন্দেহ বসত হাসপাতালে টেষ্ট করতে নিল তারা। ডাক্তাররা কনফার্ম করলো যে তাদের বাচ্চা বেশ গুরুতর ভাবে প্রতিবন্ধী।

ডায়ানার পক্ষে এই সত্য সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ল। এর আগে দু'জনের টাকায় সংসার ভালই চলতো, কিন্তু এখন এক জনের আয়ে সংসার চালাতে যেয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। ফ্যাক্টরীর এক জন কর্মচারী ছাটাই করে এঞ্জেলো নিজে সেই কাজে লেগে গেল। অধিকাংশ দিন অতিরিক্ত সময় কাজ করে বেশী রাত্রে বাড়ীতে ফিরতে শুরু করলো এঞ্জেলো। ডায়ানার পক্ষে এটা সহ্য করা আরও কঠিন হয়ে পরলো। ছোট খাট ব্যাপার নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হতে লাগলো। এই ঝগড়া শিল্পী এঞ্জেলোর পছন্দ হতো না একেবারে । অনেকটা এইসব ঝগড়া থেকে দূরে থাকার জন্যে রাতে বাড়ী ফেরার আগে বারে যেয়ে মদ খেতে শুরু করলো সে।

এমন সময় একদিন ডায়ানা তাকে জানালো যে, সে ঠিক করেছে, সে এডাকে 'স্পেশাল হোমে' পাঠিয়ে দেবে এবং তার সাথে আর কোন সংস্পর্শ রাখবে না। এটা মানতে পারল না এঞ্জেলো - কিছু দিনের সময় চাইল চিন্তা করার জন্যে। এই সময় সৌভাগ্যক্রমে এক মেক্সিকান মহিলাকে পেয়ে গেল তারা এডার 'ন্যানি' হিসাবে। এঞ্জেলো মনে করলো এর ফলে ডায়ানার উপর চাপ একটু কমবে এবং তাদের সম্পর্কের উন্নতি হবে। কিন্তু তা আর হলো না। ডায়ানা চরম ঘোষনা দিল - এই বাড়ীতে হয় এডা থাকবে, না হয় সে। কিন্তু ঐ ভাবে এডাকে ছাড়তে রাজী হল না এঞ্জেলো। ডায়ানা বাড়ী ছেড়ে তার আগের পরিচিত এক বন্ধুর বাড়ীতে উঠলো।

এঞ্জেলোর জীবনের এই গল্প শুনে চুপ করে রইলাম আমি অনেকক্ষণ। আমরা কেউ কোন কথা বলছি না। দু'জনেই যেন নিজেদের জগতে ফিরে গেছি। বেশ অনেকক্ষণ পরে এঞ্জেলো বললোঃ

- জানি না, তোমাকে প্রথম পরিচয়ে আজ এত কথা বললাম কেন। আমি সাধারনত আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা অন্যদের সাথে আলাপ করি না।

- হয়তো কোন কারণ আছে। পৃথিবীতে কখন কি হয়, কেন হয় - সব কারণ কি আমরা জানি।

- তা বটে। তবে আমার কথা তুমি ঠিক বুঝবে কিনা আমি জানিনা।

- হয়তো না। কারও পক্ষে কি পুরাপুরি অন্যের কথা বোঝা সম্ভব?

- তুমি আসার কিছু আগে আমি ডায়ানার কাছ থেকে একটা ফোন পেয়েছি - সে ডেকেছে আজ সন্ধ্যায় যেয়ে তার সাথে ডিনার করার জন্যে। জানি না সে কি বলতে চায়। ফলে সে কথাই মাথায় ঘুরছে শুধু। যদি তার আগের সিদ্ধান্তে সে এখনও অটল থাকে তা'হলে তার প্রতি আমার এত ভালবাসা সত্বেও আমার পক্ষে এডাকে ছেড়ে তাকে ঘরে ফিরতে বলা সম্ভব হবে না।

আমরা আবার চুপচাপ হয়ে গেলাম।

এবার আমি পকেটা থেকে পার্স বের করে তার থেকে একটা ফটো বের করে এঞ্জেলোর সামনে তুলে ধরলাম। ছবির দিকে তাকিয়ে এঞ্জেলো প্রশ্ন করলঃ

- কার ছবি এটা? তোমার ছেলের? খুব সুন্দর দেখতে।

- হ্যাঁ।

- কত বয়েস হল?

- বয়েস? বিশ পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর আগে।

- দেখেতো মনে হয় অনেক ছোট। দশ-বারো বছর হবে।

- আমাদের কাছে সে আরও ছোট। এক বছরের এক বাচ্চা। সব সময় তাকে হাতে তুলে খাইয়ে দিতে হয়। তার অন্য সব কাজও আমাদেরকে করে দিতে হয়। যেহেতু সে আমাদের ভাষায় কথা বলা এখনো শেখেনি, আমরাই চেষ্টা করি তার না বলা মনের কথা বুঝতে।

- তোমরা তো তা হলে তোমাদের ছেলের জন্যে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছো।

- হ্যাঁ, তবে তার বিনিময়ে অনেক অনেক বেশী পেয়েছি আমরা।

- কি ভাবে?

- জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী, তা নতুন করে শিখেছি আমার ছেলেকে পেয়ে।

খানিকটা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল এঞ্জেলো।

সেই রাতে মোটেলে ফিরে এঞ্জেলোর অফিস থেকে আনা বিভিন্ন কাগজ পত্র পড়তে যেয়ে বুঝলাম এক সোনার খনির উপরে বসে আছে এঞ্জেলো। যে হারে চীন, ভারত ও পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলিতে নব্য ধনীরা কেনা কাটা শুরু করেছে - যদি এঞ্জেলো তার ফ্যাক্টরীর সম্প্রসারণ করে তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১০০ মিলিয়নে পৌছে যাবে তার আয়। তার এই প্রজেক্টে টাকা বিনিয়োগ করার জন্যে 'ভেঞ্চার ক্যাপিটাল'-এর কোন অভাব হবে না। এমন কি আমাদের কোম্পানীও এ ব্যাপারে তাকে যথেষ্ঠ সাহায্য করতে পারবে। আমাদের জন্যেও একটা ভাল ব্যবসার সুযোগ হবে এটি। অনেক রাত জেগে বিভিন্ন 'প্রজেক্ট পেপার' তৈরী করে ফেললাম।

সকালে যখন এঞ্জেলোর সাথে দেখা হলো তখন মনে হোল এ যেন এক নতুন এঞ্জেলো। তার চেহারাতে একটা খুশী খুশী ভাব। আমিও মুখে খুশী খুশী ভাব নিয়ে বললামঃ

- খুব ভাল খবর আছে তোমার প্রজেক্টের ব্যাপারে।

- আমার কাছেও ভাল খবর আছে।

- পৃথিবীর বাজারে এখন ডিজাইনার জুতার যে কদর, তুমি এখনই তোমার সম্প্রসারণ প্রজেক্টে হাত দিতে পারো। টাকার কোন অভাব হবে না। বাজারে 'আইপিও' ছাড়া মাত্র দেখবে সব শেয়ার বিক্রি তো হবেই, 'ওভার সাবস্ক্রাইব' হয়ে থাকবে। আমার মনে হয় আগামী ৫ বছরের মধ্যে তোমার কোম্পানীর আয় ১০০ গুন বেড়ে যেতে পারে।

খুবই আগ্রহভরে আমার রাতে করা প্রজেক্ট পেপার, চার্ট, ডায়াগ্রাম, ইত্যাদি বের করে ধরলাম তার সামনে।

- আমি রাতে ডায়ানাকে বলেছি তোমার কথা।

হঠাৎ এই ভিন্ন প্রসঙ্গের কথায় অবাক হলাম। মুখ তুলে তাকালাম তার দিকে।

- বিগত দুই বছরে ডায়ানাও নিজের সাথে অনেক বোঝাপড়া করেছে। সে এখন মন থেকে বিশ্বাস করে কোন এক বিশেষ কারণে এডা এসেছে আমাদের জীবনে। আমি শুধু তোমার সাথে দেখা করে তোমাকে ধন্যবাদ দেবার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। আমি এখনি যাচ্ছি ডায়ানাকে তার মাল-পত্রসহ উঠিয়ে আনতে।

- আর তোমার সম্প্রসারণ প্রজেক্ট?

- চাই না। আমি যেমন আছি তাই ভাল। আমার তো এখন আর কোন অভাব নেই।

- তবুও চিন্তা করে বলছো?

- হ্যাঁ। তুমিই না কাল আমাকে বললে, জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী তা নতুন করে খুঁজে দেখতে।

নতুন এক শ্রদ্ধাভরা চোখে এঞ্জেলোর দিকে তাকালাম আমি।

- একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি যদি কিছু মনে না করো?

- নিশ্চই।

- তুমিতো ডায়ানাকে অনেক ভালবেসে বিয়ে করেছিলে এবং আমি যতদূর বুঝেছি তার প্রতি তোমার ভালবাসা কখনো কমেনি। এডা তোমার ঐরসজাত সন্তান নয়, ডায়ানার গর্ভেও সে আসেনি। তবে ঐ ছোট্ট মেয়েটির কি এমন আকর্ষণ ছিল যার জন্যে তুমি ডায়ানাকে ধরে রাখতে যেয়ে এডাকে ত্যাগ করনি?

- কারও মনের গভীরে যাবার অদ্ভুত গুন আছে তোমার। এ প্রশ্ন এর আগে আমাকে কেউ করেনি - এমন কি ডায়ানাও না।

- কারণটা বলবে কি?

- ঐ সময়টা আমি দো'টানার মধ্যে আছি। ডায়ানা আমাকে সিদ্ধান্ত নেবার জন্যে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছে। আমি প্রতিদিনকার মত কাজে আসার আগে অভ্যাস মত এডার ক্রিবের পাশে দাঁড়িয়ে তার কপালে একটা চুমা দিলাম। একটু হাসি দিয়ে সে হঠাৎ তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার হাতের একটা আঙ্গুল তার ছোট হাতের মুঠার মধ্যে চেপে ধরলো। এভাবে সে কখনো আগে আমার হাত ধরেনি। একটু অবাক হলাম। ছোট্ট হাত, কিন্তু মনে হলো প্রচন্ড শক্তি দিয়ে ধরে আছে সে আমার আঙ্গুলটা। হঠাৎ করে আমার চোখে চোখ রাখলো এডা এবং এক ভাবে তাকিয়ে রইল। মনে হল সে যেন আমার চোখের ভাষা পড়ে বুঝতে চাচ্ছে সত্যি কি আমি তাকে ত্যাগ করতে চাই। আস্তে করে তাকে বললাম - "জীবনেও তোমাকে ত্যাগ করবো না আমি।" এবার আবার একটা হাসি দিয়ে আমার আঙ্গুল ছেড়ে দিল এডা।

এ কথাটা আমি এতদিন কাউকে বলিনি। কেউ বিশাস করবে না বলে।

- আমি তোমার প্রতিটি কথা বিশ্বাস করলাম।

ফেরার পথে ৪০ হাজার ফিট উঁচুতে প্লেন থেকে নীচের সাদা মেঘের দিকে তাকিয়ে মনে হলো আমি যেন দেখতে পারছি মেঘ-পরী এডা তার বাবা-মার হাত ধরে ভেসে চলেছে। সবার মুখে আনন্দ আর প্রশান্তির চিহ্ন।

সব সৃষ্টির নিজস্ব ভাষা আছে - দরকার শুধু মুক্ত মন - সেই ভাষা বোঝার জন্য।


মন্তব্য

টিউলিপ এর ছবি

খুব ভালো লাগলো।
___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, টিউলিপ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তারাপ কোয়াস এর ছবি

এঞ্জেলোর পরিবারের জন্য শুভকামনা আর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার এই মানবিক গল্প সহভাগিতা করার জন্য।


love the life you live. live the life you love.

সাইফ শহীদ এর ছবি

তারাপ কোয়াস,

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার এই মানবিক গল্প সহভাগিতা করার জন্য।
আমার তরফ থেকেও অনেক ধন্যবাদ রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সিরাত এর ছবি

প্রায়োরিটিজ। এই যে এঞ্জেলো ব্যবসায়ের বিনিময়ে এই পছন্দটি করলো, এটাও কিন্তু একটা রাশনাল চয়েজ।

দারুণ লাগলো! হাসি

সাইফ শহীদ এর ছবি

সিরাত,

কথাটা ঠিকই বলেছো, তবে 'র‌্যাশনাল' শব্দটাও আপেক্ষিক।


দারুণ লাগলো! হাসি

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছে রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

মূলত পাঠক এর ছবি

অসাধারণ!!!

সাইফ শহীদ এর ছবি

মূলত পাঠক,

অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

হিমু এর ছবি

আপনি নিজের ভেতরে সবসময় একজন পিতাকে ধারণ করে আছেন। আপনার প্রতিটি লেখা পড়েই এ কথা মনে হয়, তবে জানানো হয় না। আজকে জানিয়ে গেলাম।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সাইফ শহীদ এর ছবি

হিমু,

বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, তাই বোধ হয় আজকাল এই 'পিতা' পিতা' ভাবটা বেশী প্রকাশ পাচ্ছে। নতুন করে অনুধাবন করতে পারছি অতীতে কত অল্পেই না আমার নিজের পিতা-মাতাকে আরও খুশী করতে পারতাম, সুখে রাখতে পারতাম। কত অল্পই না ছিল তাদের চাহিদা। কেন করিনি? কেন করিনি? এই দুঃখ এখন আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।

তোমাদের যাদের এখনো সুযোগ আছে - আশা করি আমার মত বোকামী করবে না।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

কৌস্তুভ এর ছবি

ভাল লাগল, বরাবরের মতই।

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কৌস্তুভ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ!! আমার হিসেবে এটা এই সিরিজের সেরা পর্ব। হিমু ভাইয়ের মন্তব্যটি আমিও করছি,

আপনি নিজের ভেতরে সবসময় একজন পিতাকে ধারণ করে আছেন।

আর এই লাইনটা হয়েছে এক অনবদ্য সৃষ্টি।

সব সৃষ্টির নিজস্ব ভাষা আছে - দরকার শুধু মুক্ত মন - সেই ভাষা বোঝার জন্য।

অনন্ত

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনন্ত,

অনেক, অনেক ধন্যবাদ তোমার এই মন্তব্যগুলির জন্যে।

শুভেচ্ছা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

"জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী, তা নতুন করে শিখেছি আমার ছেলেকে পেয়ে" -- অনন্যসাধারন একটি কথা।

মুগ্ধ হয়ে পড়লাম।

আমিও এডার গল্পটি বিশ্বাস করলাম।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সাইফ শহীদ এর ছবি

জ্বিনের বাদশা,

মুগ্ধ হয়ে পড়লাম।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তাসনীম এর ছবি

অসাধারণ...আর কিছুই বলব না।
________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাইফ শহীদ এর ছবি

এমিল,

তোমার মন সংবেদনশীল, তাই হয়তো এ ভাবে নাড়া দিয়েছে তোমার মনকে।

অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

শামীম এর ছবি

খুব গভীরে ছুঁয়ে গেল ... ...
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

সাইফ শহীদ এর ছবি

শামীম,

খুব গভীরে ছুঁয়ে গেল ... ...
অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

নীরবতার নিজস্ব ভাষা আছে... যে দেশের- যে সংস্কৃতির মানুষই হোক না কেন; সে ভাষা সকল মানুষই বোঝে...

_________________________________________

সেরিওজা

সাইফ শহীদ এর ছবি

নীরবতার নিজস্ব ভাষা আছে..
খুব সুন্দর করে বলা।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

বারবার "অসাধারন", "একদম ছুঁয়ে গেল" ধরনের মন্তব্য অতি সাধারন মনে হয়ে, কিন্তু আপনার লেখা ঠিক এমনি মনে হয়।
-----------
চর্যাপদ

-----------
চর্যাপদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

সাঈদ,

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

[পূনঃ সাঈদ নামটার উপর আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে]

সাইফ শহীদ

নুসদিন এর ছবি

প্রথম জুতাটা কি সুন্দর মন খারাপ

পৃথিবীতে কখন কি হয়, কেন হয় - সব কারণ কি আমরা জানি।
চলুক

জানতে পারিনা দেখেই খালি ভুল করে যাচ্ছি।

সাইফ শহীদ এর ছবি

নুসদিন,

প্রথম জুতাটা কি সুন্দর
এক জোড়ার দাম বাংলাদেশী টাকায় মাত্র এক লাখ টাকার মত। পছন্দটা অবশ্য খারাপ না।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

বাউলিয়ানা এর ছবি

পড়লাম এবং বরাবরের মতই মুগ্ধ হলাম।

সাইফ শহীদ এর ছবি

বাউলিয়ানা,

অনেক ধন্যবাদ এই প্রসংশার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সানাউল্লাহ এর ছবি

লেখাটা ছুঁয়ে গেল সাইফ ভাই। অদ্ভূতরকম মানবিক। আপনার প্রায় সব লেখার কেন্দ্রে চমৎকার একটা চরিত্র থাকে। সেটিকে আপনি স্রষ্টার মতো সব মানবীয় গুন দিয়ে গড়েন। ফলে লেখাটা পড়ে শেষ হওয়ার পরও আমার মতো পাঠকের মনে দীর্ঘক্ষণ ধরে একটা প্রভাব রেখে যায়। ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা।

সাইফ শহীদ এর ছবি

লাবলু,

অনেক ধন্যবাদ তোমার সুন্দর করে লেখা এই কথাগুলির জন্যে।

আজ সকালে আমার ছেলে সাঈদকে যখন তার বিছানা থেকে উঠাবার জন্যে গেলাম, তখন দেখলাম চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার মা বললো -"এইতো সকাল ৫টা থেকে উঠে লাফালাফি করছিল, এখন কি আবার ঘুমিয়ে পড়ল?"

আমি যখন তার পাশে এসে বসে আস্তে করে তার গালে একটু হাত ছুঁইয়ে দিলাম - তখন দেখলাম চোখ বন্ধ করেই মিটিমিটি হাসছে। সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর ওটুকু আদরের জন্যেই চোখ বুজে পড়েছিল সে। বাবা আর ছেলের মধ্যে এটা এক বিশেষ খেলা - মা এখনো জানে না।

এটাই এখন আমার জীবনের বড় পাওয়া এবং হয়তো এই 'আন-ফেয়ার' পৃথিবীতে আমার মত আরও অনেকে এই নিয়েই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

শুভেছা রইল।

সাইফ ভাই

সাইফ শহীদ

শ্রাবন্তী এর ছবি

অদ্ভুত সুন্দর একটি লেখা।চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, যখন এডা তার বাবার হাত ধরে জানিয়াছিল তার নীরব আকুতি।সত্যি অদ্ভুত।এই মূহুর্তগুলোতে ঈশ্বরে বিশ্বাস ফিরে আসে আমার।বিবর্তনবাদ কি ভালবাসা ব্যাখ্যা করতে পারে ???
আমার ছোট বাচ্চার কিছুটা সমস্যা আছে।জানিনা ও রিকভার করবে কিনা। কিন্তু ও যখন আমাকে আদর করে সেই অনুভূতি বর্ণনা করার মত কোন ভাষাজ্ঞান আমার নেই।তবে সেই এখন আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা।

কৌস্তুভ এর ছবি

বিবর্তনবাদ কি ভালবাসা ব্যাখ্যা করতে পারে?

ব্যাখ্যা আছে বই কি, শ্রাবন্তীদি। একটু পড়ে দেখবেন। সেটা খুব আবেগপূর্ণ হবে না, তাই কিছুটা মেটেরিয়ালিস্টিক মনে হতে পারে, কিন্তু বেশ যুক্তিযুক্ত।

আপনার বাচ্চার জন্য ভালবাসা রইল।

সাইফ শহীদ এর ছবি

শ্রাবন্তী,

লেখাটা খুলে দেখলাম অনেকগুলি মন্তব্য এসেছে। সবার শেষে তোমার মন্তব্যের জবাব দিয়ে শুরু করছি। এডার মত ঘটনা আমার নিজের জীবনে ঘটেছিল। কিন্তু অনেক অনেক চেষ্টা করেও সেটা লিখতে পারিনি। জীবনে অনেকগুলি অনুভুতি আছে যেগুলি যেন কিছুতেই ঠিক মত প্রকাশ করা যায় না।

উপদেশ দেওয়া সহজ, সান্তনা দেওয়া সহজ - তবে অনেক কিছু সহ্য করা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে পরে। প্রার্থনা করি তোমার ছোট বাচ্চার সমস্যা ক্রমে দূর হয়ে যাক। এছাড়া আজকাল অনেক ধরণের নতুন নতুন অসুধ ও নিরাময় আবিস্কার হয়েছে এবং হয়ে চলেছে।

কিন্তু ও যখন আমাকে আদর করে সেই অনুভূতি বর্ণনা করার মত কোন ভাষাজ্ঞান আমার নেই।তবে সেই এখন আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা।
এটা যে একটা বড় পাওনা, সেটা যখন অনুধাবন করতে শিখেছো - তখন তোমাকে কিছু সহজে হার মানাতে পারবে না।

শুভেচ্ছা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

ভ্রান্ত পথিক [অতিথি] এর ছবি

"জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী, তা নতুন করে শিখেছি আমার ছেলেকে পেয়ে"-----চরম সত্যি কথা। লেখা অসম্ভব রকম ভাল হইছে।

সাইফ শহীদ এর ছবি

ভ্রান্ত পথিক,

অনেক ধন্যবাদ এই প্রশংসার জন্যে। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি কি বলতে চেয়েছো, কিন্তু "অসম্ভব রকম ভাল" কথাটার আসলে মানে কি? এটার একটা মানে কি এই হচ্ছে না, যে এই লেখাটা ভাল হবার সম্ভাবনা ছিল না, কিন্তু 'অসম্ভব' জিনিসটা সম্ভব হয়ে গেছে?

[আমার মাঝে মাঝে শব্দ নিয়ে উল্টা-পাল্টা ভাবতে ভাল লাগে - এটাও তেমনি। অন্য কোন মানে করবে না আশা করি।]

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লাগল লেখাটা।

আদনান0০৭

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, আদনান।

["0০৭" টা কি? জেমস বন্ড তো '০০৭']

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তৌফিক হাসান [অতিথি] এর ছবি

খুব ভাল লাগল।
ভাল থাকবেন।

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ তৈফিক খুব ভাল লাগার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

নাশতারান এর ছবি

অসাধারণ!

জীবন বড় অদ্ভুত! সবচেয়ে অদ্ভুত মানুষগুলো।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সাইফ শহীদ এর ছবি

বুনোহাঁস,

জীবন বড় অদ্ভুত! সবচেয়ে অদ্ভুত মানুষগুলো।
ক্ষণিকের এই জীবনে কেন আমরা একে অন্যকে আরও বেশী ভালবাসতে শিখিনা?

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

হরফ এর ছবি

হৃদয়ছোঁয়া, মন ভালো/খারাপ করা অসাধারণ একটা গল্প শোনালেন লেখক। অসংখ্য ধন্যবাদ।

ছুটলে কথা থামায় কে/আজকে ঠেকায় আমায় কে

সাইফ শহীদ এর ছবি

হরফ,

অনেক ধন্যবাদ এই ধরনের আন্তরিক প্রশংসার জন্যে/

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

আনন্দ [অতিথি] এর ছবি

আনন্দম!

সম্প্রতি বাবা হবার কারণে সাইফ ভাই এর লেখা গুলো আরো বেশি করে হৃদয়ের গভীরে ছুয়ে যাচ্ছে . আগে তার লেখা গুলো পরে আমার নিজের বাবার কথা ভাবতাম , লোকটাও এইসব বলত এখন চলে যাবার পর শুধু কাদি.

এখন নিজে বাবা হবার পর ভাবি , আমি কি এইরকম বাবা হতে পারব ? সাইফ ভাই এর মত ? এত বড় না হোক অন্তত নিজের বাবার মত . ক্ষুদ্র মানুষ আমি , তাও মন আবার ভরা লোভ আর হিংসায় . কিন্তু যুদ্ধ চালু রাখছি.

মানুষ যে কতটা হৃদয়ের কাঙ্গাল ( দেশ কাল সমাজ নির্বিশেষে) সেটা সাইফ ভাই এর লেখা আর তার পাঠক দের মন্তব্য দেখে বোঝা যায় / আমার মত অনেক পাঠকই তাকে বাবার আসনে বসিয়েছে , কারনটা খুবই সহজ বেশিরভাগ সময়ে তার চিন্তা ভাবনা বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় করে.

পিতৃ স্নেহের জয় হোক.সাইফ ভাই তার এই মানবিক গল্পের সিরিজ চালু থাকুক , আমি যেন আমার সন্তান কেও বলে যেতে পারি "তোমাকেও এইরকম বাবা হবার চেষ্টা করতে হবে ", সেই কামনায়

আনন্দ

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা পড়তে পড়তে চোখ ঝাপসা হয়ে গেলো।
আপনার ছেলের জন্য অনেক আদর রইলো।

রায়হান আবীর এর ছবি

আস্তে করে আমিও বলে যাই, লেখাটা পড়ে অদ্ভুত ভালোলাগায় মন ভরে গেলো!

শরতশিশির এর ছবি

সাইফ আংকেল,

সব পর্বই পড়ে যাই কিন্তু কিছু বলা হয় না ল্গিন করি না দেখে।

আপনাদের মতো মানুষ আছেন বলেই জীবনের নানা দুর্ঘটনায় আমি দমে যাই না। আব্বু এখনও বলেন যে মূল্যবোধ ছাড়া মানুষ হওয়া হয়ে উঠে না, যতই যশ-প্রতিপত্তি আর অর্থ-বৈভব থাকুক না কেন। তাই মাঝে মাঝে ডিসাপয়েন্টেড হলেও গা ঝাড়া দিয়ে উঠি কারণ এইসব বাঁধা-বিপত্তি পার না হলে নিজে কতটুকু 'বড়' হয়েছি কিম্বা জীবন-যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছি, বুঝবো কেমন করে।

আর, হ্যাঁ, আপনার সাথে আমি একমত। ''জীবনের কোন জিনিসের মূল্য বেশী'', তা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তা-ভাবনা চালাতাম গত কয়েক বছর। শেষে, জব অফার, ইমিগ্রেশন - সব অপশন ছেড়ে চলে আসলাম দেশে। হ্যাঁ, মানিয়ে নেওয়া একটা কষ্টকর প্রসেস, অনেক কিছু নতুন কিম্বা বদলে গেছে, সমাজে প্রচুর অসংগতি আর মূল্যবোধের অবক্ষয় (সেদিন আব্বুর অনেক জুনিয়ার এক অফিসার, আব্বুর সামনেই অন্য লোকদের কাছে প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়ার ''আবদার'' করেছিল - আমার বোকা বাবা সেদিন রাতে বাসায় এসে খুব মুষড়ে পড়ে প্রায় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিল), তারপরও চলে আসা।

কারণ, আমার বাবা-মা একদম একা হয়ে গিয়েছিলেন। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না যে সারাটা জীবন আমাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ব্যয় করে, এই বয়সে এসে একা হয়ে পড়েছেন (আমরা মাত্র দুই ভাই-বোন) তাঁরা। আমার এক ফ্রেন্ড ঠিক এই কারণেই নিউইয়র্ক ছেড়ে আবার দুবাই চলে গেলো গত বছর, আংকেল ওর হাতেই মারা যান ক্যান্সারে কয়েক মাস পরে। আমরা সারা রাত জেগে কথা বলতাম, এইসব ব্যাপার নিয়ে।

আমি আবার কবে কোথায় চলে যাব, জানি না, সেটা বলাও সম্ভবপর না। তবে, নিজের ডিসিশান নিয়ে আপাতত সন্তুষ্ট আছি। রাতের পর রাত অহেতুক দুশ্চিন্তাগুলো সেভাবে করতে হচ্ছে না, চোখের সামনেই আছেন উনারা, আমি এসে কিছুটা সংসারও দেখে দিচ্ছি - অনেক বড় কিছু না হয়তো, কিন্তু এ এক পরম পাওয়া।

ভাল থাকবেন।

[আপনার সাথে নিউইয়র্ক থেকে বেশ ক'বার কথা হয়েছে। এবার চিনতে পারছেন, আমি কে? হাসি ]

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

সাইফ শহীদ এর ছবি

শরতশিশির,

নাহ, এখনো অনুমান করতে পারলাম না। পারলে আমাকে নীচের ঠিকানায় ইমেইল করোঃ

saif_shahid@yahoo.com

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখার প্রাঞ্জলতা আর হৃদয়ছোঁয়া অভিব্যাক্তির ভক্ত আমি অনেকদিন থেকেই। এডার জন্য শুভেচ্ছা রইল।

অমিত্রাক্ষর
অমিত্রাক্ষর@জিমেইল ডট কম

স্বাধীন এর ছবি

আপনার সবগুলোই লেখাতেই কেমন মায়া জড়ানো থাকে। মনটা ভালো হয়ে গেলো এই লেখাটি পড়ে।

সচল জাহিদ এর ছবি

সাইফ ভাই, আপনার লেখা পড়া হয় সবসময় কিন্তু মন্তব্য করা হয়না। এই লেখাটা অনেক দাগ কেটে গেল। ভাল থাকবেন।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাইফ শহীদ এর ছবি

জাহিদ,

অনেক ধন্যবাদ। তোমার ব্লগে যেয়ে পানি সম্পদের উপরে কিছু লেখা দেখলাম। আমার বন্ধু নিশাতের কথার মত লাগলো তোমার বিশ্লেষণ। লেকাহ চালিয়ে যায়।

[এখন আলবার্টার শীতে এ ছাড়া আর কি কি করতে পারবে?]

শুভেচ্ছা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

কামরুল হাসান রাঙা [অতিথি] এর ছবি

আপনার প্রতিটি লেখাই অসাধারণ, এটিতে আরো একটু বেশী পেলাম।

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ কামরুল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

সাইফ আংকেল,
আসসালামুয়ালাইকুম। আপনার লেখা ফলো করি, বাট কমেন্ট করা হয়ে উঠেনা। আপনার লিখা কতটা ভাল লাগে তা হয়ত বুঝাতে পারবোনা। কিন্তু যখন কোনকিছুতে মন বসেনা, সেই সময় আপনার কোন লেখা পরলে মনে হয় যেন মনটা বাষ্পীয় অবস্থা থেকে তরল এ রুপান্তর হলো। একপ্রকার হিপ্নটাইসড্ হই, আর ভাল কিছু করার তাগিদ ফিল করি। এক কথায় বললে ইনার ইনারজি পাই।

ভাবছিলাম সবগুলো লেখা প্রিন্ট করে রাখি (ছোট ভাইবোন বা আমার নেক্সট জেনারেশনের জন্যে), কমলমতি বাচ্চারা এরকম গল্প পরলে তাদেরও মন সুন্দর হবে। আজকের দেশের ইয়াং জেনারেশন এর যে অবস্থা, মানসিক অসুস্থতা ছাডা কিছুই নয় - আমার তাই মনে হয়।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের ভক্ত। আমার মনে হয় আপনার মাঝে তাঁর ছোট গল্পের আমেজ পাই।

@শরতশিশিরঃ আপনার মত আমারো অবস্থা। ভাল লাগেনা বাবা-মা কে রেখে বাইরে থাকতে। জানিনা আর কতদিন থাকতে হবে। আমিও এক ছেলে তাঁদের। তাই দুয়া করবেন যতো দ্রুত দেশে ফিরতে পারি।

সাজ্জাদ হোসেন(shazzad2334@gmail.com)

সাইফ শহীদ এর ছবি

সাজ্জাদ,

আপনার লিখা কতটা ভাল লাগে তা হয়ত বুঝাতে পারবোনা। কিন্তু যখন কোনকিছুতে মন বসেনা, সেই সময় আপনার কোন লেখা পরলে মনে হয় যেন মনটা বাষ্পীয় অবস্থা থেকে তরল এ রুপান্তর হলো। একপ্রকার হিপ্নটাইসড্ হই, আর ভাল কিছু করার তাগিদ ফিল করি। এক কথায় বললে ইনার ইনারজি পাই।
সত্যিই কি? তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক বলতে হবে।

বাবা-মার এক মাত্র সন্তান হবার ভাল দিক ও খারাপ দিক দুটোই আছে। তোমার মনের অনুভুতি কিছুটা বুঝতে পারি। আমি নিজেও বাবা-মার এক মাত্র ছেলে ছিলাম - বেশ কিছু অনুশোচনা এখনো রয়ে গেছে। আশা করি তোমার জীবনে তেমন ভুল হবে না।

ভাল থাকো।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

কী যে গভীর মায়া বোধ হলো লেখাটা পড়ে!

[প্রকাশের পর থেকে ট্যব খুলে রেখে এদিক সেদিক করছি! শেষমেশ এই এক লাইনের বাইরে আর মন্তব্য করতে পারলাম না! ইয়ে, মানে... ]

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

সাইফ শহীদ এর ছবি

দুষ্টু মেয়েদের কি গভীর মায়া হয়?

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

হয় ভাইয়া। আড়ালে থাকে, সামনে আসে না! দেঁতো হাসি

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

নজমুল আলবাব এর ছবি

মন্তব্যের ঘরে আমার উপস্থিতি কখনই খুব বেশি থাকে না। কিন্তু পড়ার চেস্টা করি প্রায় সময়। আপনার কোন লেখাই সম্ভবত আমি না পড়িনি। অলখ আমেরিকা সিরিজের সবকটা লেখাই পড়া হয়েছে। এক ধরনের মুগ্ধতা নিয়ে আপনার সিরিজটা পড়ছি। কোনদিন সেটা বলা হয়নি। আজ বলছি সেটা। আর কোন দিন যদি নাও বলি তবু জানবেন আপনার লেখাটা গোপনে পড়ে গেছি আমি।

আপনার লেখার সবচে বড় বৈশিষ্ঠ হলো অসম্ভব মমতা নিয়ে আপনি লিখেন। মানুষের প্রতি আপনার ভালোবাসা মুগ্ধ করবে যে কাউকে। ভালো থাকবেন। এমন অসাধরণ লেখা দিয়ে আমাদের মুগ্ধতা আরো বাড়াবেন এবং আপনি, আপনার সন্তান ভালো থাকবেন এই শুভকামনা আমার।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

সাইফ শহীদ এর ছবি

নজমুল,

আর কোন দিন যদি নাও বলি তবু জানবেন আপনার লেখাটা গোপনে পড়ে গেছি আমি।
বড় সুন্দর করে লেখা কথাগুলি।

আমি 'ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল' লিঙ্কে যেয়ে অনেকগুলি লেখা পড়লাম। খুব ভাল লাগলো। আরও ভাল এই জন্যে যে আমার কর্মজীবনের শুরু কিন্তু সিলেটে - এক চা-বাগানে। অনেক অনেক স্মৃতি বিজড়িত সেই দিন গুলি।

শুভেচ্ছা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

আপনার লেখাগুলো মায়াময় হয়। তবে এ লেখাটি অন্য দৃষ্টিকোণ দিলো আমাকে, জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী তা আবারো খুঁজে দেখতে হবে হাসি

নতুন এক শ্রদ্ধাভরা চোখে এঞ্জেলোর দিকে তাকালাম আমি।
আমিও। ভালো থাকুক এই পরিবারটি।
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

সাইফ শহীদ এর ছবি

সিমন,

তবে এ লেখাটি অন্য দৃষ্টিকোণ দিলো আমাকে, জীবনে কোন জিনিসের মূল্য বেশী তা আবারো খুঁজে দেখতে হবে।
মায়ানমার (বার্মা), থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান ও চীনে আমার বেশ কিছু ভাল বৌদ্ধ বন্ধু আছে। প্রথম প্রথম আমার মনে হতো এরা আমাদের থেকে অনেক 'টিমিড' বা মৃয়মান হয়ে জীবন যাপন করে। দুর্বল মনে হতো তখন তাদেরকে। এখন বুঝি, ঐ দুর্বলতা আসলে তাদের শক্তিমত্ত্বার অন্য এক প্রকাশ রূপ।

'চক চক করলেই সব কিছু সোনা হয় না।'

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

মুস্তাফিজ এর ছবি

অনেক চমৎকার একটা লেখা। উপলব্দির গভীরে না এলে এর মর্মাথ বুঝা অসম্ভব। আপনার লেখায় জীবনের নানাদিকের যে নান্দনিক উপস্থিতি থাকে তা এক কথায় অসাধারণ।

...........................
Every Picture Tells a Story

সাইফ শহীদ এর ছবি

মুস্তাফিজ,

অনেক অনেক ধন্যবাদ এই মন্তব্যের জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

নাসির এর ছবি

আবারো পড়লাম !

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।