জাকির নায়েকের মিথ্যাচার: প্রসঙ্গ 'বিবর্তন'

শিক্ষানবিস এর ছবি
লিখেছেন শিক্ষানবিস (তারিখ: বুধ, ১৮/০২/২০০৯ - ১২:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অনেক দিন ধরেই শুনছি, ইসলামের আকাশে ধূমকেতুর মত এক মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটেছে। তার নাম জাকির নায়েক। আমি ভার্সিটিতে বেশ কয়েকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, "দেখ, জাকির নায়েক আসলে সাধারণ মানুষের স্বল্প জ্ঞানকে পুঁজি করে, সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।" কেউ মেনে নিল না। বলল, "অন্য কারও সম্পর্কে যা ইচ্ছা তাই বল, কিন্তু জাকির নায়েক সম্পর্কে কিছু বলার আগে you better prepare yourself." রীতিমত ভয় পেয়ে যাওয়ার মত কথা। কথাটার মধ্যে একটু সত্যতা আছে। জাকির নায়েকের ভণ্ডামি বুঝতে হলে সাধারণ মানুষের চেয়ে সামান্য বেশী জ্ঞান প্রয়োজন, কিন্তু খুব বেশী প্রিপারেশনের একেবারেই দরকার নেই।

দ্বিজেন শর্মা ও বন্যা আহমেদের বই, এবং ইন্টারনেটে বিবর্তন বিষয়ক প্রচুর তথ্যের বদৌলতে আমি এ সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি। অন্তত এটুকু জানি যে, বিংশ শতকের প্রথমার্ধের মধ্যেই বিবর্তনবাদ একটি পরিপূর্ণ তত্ত্বের মর্যাদা পেয়েছে এবং এ নিয়ে বর্তমানে জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন সংশয় নেই। গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্র যতটা সত্য বিবর্তনবাদও ঠিক ততটাই সত্য। কিন্তু, ইদানিং লোকমুখে শুনছি, জাকির নায়েক নাকি এই জাজ্জ্বল্যমান সত্যকে মিথ্যা বলেছেন, শুধু বলেই ক্ষান্ত হননি, সাধারণ মানুষের কাছে এটাকে মিথ্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে নেমেছেন। এ কারণেই তার এই মিশনটা সম্পর্কে জানার আগ্রহ হল।

তেমন কোন প্রিপারেশন ছাড়াই জাকির নায়েকের প্রশ্নোত্তর পর্বের একটা ভিডিও দেখতে বসে গেলাম। এক পর্যায়ে একজন মহিলা বিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করলেন। তার প্রশ্নটা ছিল এরকম: ডারউইনের বিবর্তনবাদ বলে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ অন্য প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এটা তো ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

প্রশ্ন শুনে জাকির নায়েক বীরের ভঙ্গিতে অর্থাৎ খুব কনফিডেন্স নিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে এসে দাড়ালেন। শুরু হল তার কনফিডেন্ট মিথ্যাচার। আমি অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি- একজন মানুষ কিভাবে এত কনফিডেন্টের সাথে মিথ্যা কথা বলতে পারে!? এ কোন যুগে বাস করছি আমরা? যেখানে মিলনায়তন ভর্তি মানুষের মধ্যে একজনও এই মিথ্যাগুলো ধরিয়ে দেয়ার মত জ্ঞান ও সাহস রাখে না। এতে অবশ্য আমি ঐ অনুষ্ঠানের শ্রোতাদের স্ট্যান্ডার্ড খুব ভালভাবে বুঝে গেছি। বুঝেছি কারা জাকির নায়েকের ভিডিও শুনে এবং কারাই বা তার অনুষ্ঠান দেখতে অডিটোরিয়ামে যায়। এখন আমি নায়েকের ভুল এবং মিথ্যার যে ফিরিস্তি দেব তা পড়লে আপনারাও তা বুঝে যাবেন।

প্রথমেই প্রশ্নোত্তর পর্বের ভিডিওর ইউটিউব লিংকটা দিচ্ছি। আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন:
[২২ জুন ২০১১ সংস্করণ: ইউটিউব থেকে আগের যে ভিডিউটির লিংক দিয়েছিলাম সেটি সুচতুর জনে ডিলিট করে দিয়েছেন। এখন তাই লিংকটি পরিবর্তন করলাম। এই ভিডিওতে কিছু রিবাটালও দেয়া আছে।]

প্রায় ৭ মিনিটের বক্তৃতায় জাকির নায়েক ২৮টি মিথ্যা কথা বলেছেন। অনেকে ভুলও বলতে পারেন। কিন্তু আমি ভুল বলতে রাজি না। কারণ যে ব্যক্তি ভডভড করে কুরআন-বাইবেল-গীতার অমুক চ্যাপ্টারের অমুক ভার্স বলে যেতে পারেন তার পক্ষে এত সহজ ভুল করা সম্ভব- এটা আমি মানতে পারব না। অবশ্য, আরেকটা যুক্তিতে এগুলোকে ভুল বলা যায়: তিনি বিবর্তনবাদ বোঝেন না এবং এ নিয়ে মূলধারার কোন লেখাই পড়েননি। এটা হলে ঠিক আছে। যাহোক, আমি প্রথমেই এক এক করে নায়েকের মিথ্যা/ভুলগুলো ধরিয়ে দিচ্ছি:
(নায়েকের বক্তৃতার ট্রান্সক্রিপ্ট থেকে হুবহু উদ্ধৃতি দেয়া হবে। ইংরেজি ক্যাপিটাল অক্ষরের লেখাগুলোই জাকির নায়েকের বলা। উল্লেখ্য ট্রান্সক্রিপ্টটা নেয়া হয়েছে ইসলাম.কম এ THHuxley-র একটি লেখা থেকে। এই লেখার অনেক কিছু এখানে হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে। সেই ট্রান্সক্রিপ্টের সাথে আবার নায়েকের কথাগুলোকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এই ইংরেজি লেখার লিংক নিচের রেফারেন্স অংশে যুক্ত আছে।)

’THE ORIGIN OF SPECIES’ - IT SAYS THAT… “CHARLES DARWIN WENT ON AN ISLAND BY THE NAME OF ‘Calotropis’ ON A SHIP NAMED AS ‘HMS BEAGEL AND THERE HE FOUND BIRDS PECKING AT NICHES.’

০১। প্রথমেই তিনি ভাব নিয়ে বলেছেন, "আপনারা যদি ডারউইনের "অরিজিন অফ স্পিসিস" বই পড়ে থাকেন তাহলে দেখবেন সেখানে বলা আছে..." তার মানে উনি এই বইটা পড়েছেন। কেমন পড়েছেন সেটা তার মুখ থেকেই শোনা যাক:
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, Calotropis নামে পৃথিবীতে কোন দ্বীপ নেই, উদ্ভিদের একটা গণের (genus) নাম calotropis. নায়েক সম্ভবত এখানে বিখ্যাত "গালাপাগোস" দ্বীপ বোঝাতে চেয়েছেন। আমি ডারউইনের "অরিজিন অফ স্পিসিস" পড়িনি, কিন্তু গালাপাগোস দ্বীপের নাম ঠিকই জানি। এটা সাধারণ জ্ঞান।

০২। "পেক অ্যাট নিচেস" বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা এখনও বুঝতে পারলাম না। পেক শব্দের অর্থ তো ঠোঁকর দেয়া। আর এখানে "ইকোলজিক্যাল নিচ" তথা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশ বোঝানো হচ্ছে। পরিবেশকে কিভাবে ঠোকর দেয়া যায় এটা জাকির নায়েকের সাথে দেখা হলে শিখে নেব। তবে আপাতত আমার মনে হচ্ছে এখানে, pecking এর বদলে living হবে। অর্থাৎ পাখিরা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করে।
নার্ভাসনেসের কারণেই কি তার মুখ দিয়ে এসব আবোল তাবোল কথা বেরিয়ে এসেছে। তিনি সম্ভবত এরকম কিছু একটা বলতে চেয়েছিলেন:
Darwin did spend several years sailing around the entire world as ship’s naturalist in the HMS Beagle. One of his stops were the Galapagos Islands, where he found a number of finches (birds) that LIVED (not “pecked”) in different ecological niches.
একি মিথ্যাচার! নাকি ইন্টারনেটের কোন অপবিজ্ঞান ও অন্ধ-ইসলামের প্রচারক সাইট থেকে মুখস্থ করা অংশটুকু হঠাৎ ভুলে গিয়েছিলেন!

"DEPENDING UPON THE ECOLOGICAL NICHES THEY PECK, THE BEAKS KEPT ON BECOMING LONG AND SHORT. THIS OBSERVATION WAS MADE IN THE SAME SPECIES - NOT IN DIFFERENT SPECIES"

০৩। একে তো উনি দ্বীপ এবং পাখির নাম কোনটাই বলতে পারেননি, তার উপর পর্যবেক্ষণ করা পাখিগুলোকে একই প্রজাতির বলে আখ্যায়িত করেছেন। উনি এখানে গালাপাগোস দ্বীপের ফিঞ্চ পাখির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গালাপাগোস দ্বীপে ডারউইন ফিঞ্চ পাখির ১৪ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। একটু গভীরে গেলে নায়েকের অজ্ঞতা আরও প্রকাশ পাবে। দ্বীপে পাখিগুলো দেখার সময় ডারউইন বুঝতে পারেননি যে, এগুলো একই পাখির ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি, সেটা বোঝার কোন উপায়ও ছিল না। সবগুলো নমুনা লন্ডনে ফিরিয়ে আনার পরই একজন পেশাদার পক্ষী বিশারদের সহায়তায় তিনি ভিন্ন প্রজাতির বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। নায়েক এখানে আরও একটি ভুল করেছেন, একই প্রজাতির মধ্যে beak তথা ঠোঁটের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য গণনার মধ্যেই আসে না। এই পার্থক্যটা কেবল ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রেই আসে। একই প্রজাতির ফিঞ্চ পাখির একটার ঠোঁট ছোট আর অন্যটার বড় কেন- ডারউইন নাকি এই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এসব শুনলে ডারউইন নির্ঘাত স্ট্রোক করে বসতেন।

০৪। ভিন্ন প্রজাতির বিষয়টা তো গেল। এবার পার্থক্যের কথায় আসা যাক। প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ছাড়াও আরও অনেক পার্থক্য ছিল: রং, দেহের আকার, সঙ্গীর সাথে ব্যবহার, গান এবং খাদ্যাভ্যাস। এগুলো এতই পৃথক ছিল যে ডারউইন দ্বীপে থাকার সময় বুঝতেই পারেননি, এরা সবাই ফিঞ্চ পাখি।

CHARLES DARWIN WROTE A LETTER TO HIS FRIEND THOMAS THOMTAN, IN 1861 SAYING ‘I DO NOT BELIEVE IN ‘NATURAL SELECTION’- THE WORD THAT YOU USE - I DON’T BELIEVE IN ‘THEORY OF EVOLUTION’ BECAUSE I HAVEN’T GOT ANY PROOF. I ONLY BELIEVE IN IT BECAUSE IT HELPS ME IN CLASSIFICATION OF EMBRYOLOGY, IN MORPHOLOGY, IN RUDIMENTARY ORGANS’.

০৫। THOMAS THOMTAN? এই নামে গুগল সার্চ করে কাউকে পাওয়া গেল না। অবশেষে "The Correspondence of Charles Darwin" এর স্মরণাপন্ন হতে হল। ১৪ খণ্ডের এই জ্ঞানকোষে ১৮২১ থেকে ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত ডারউনের সব লেখা স্থান পেয়েছে। চিঠি, ডায়রি, আত্মজীবনী সব ঘেটেও এই নামে কাউকে পাওয়া গেল না। তবে হ্যা, যিনি গালাপাগোসকে ক্যালাট্রপিস বলেছেন তার পক্ষে থমসনকে থমটেন বলাও বেশ স্বাভাবিক। তাই থমসন নামে সার্চ করা হল। হ্যা টমাস থমসন (১৮১৭-৭৮) নামে সে সময়ের একজনকে পাওয়া গেছে।
ডারউইন কখনই থমসনকে চিঠি লিখেননি। কিন্তু থমসন ডারউইনকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া চিঠি সম্পর্কে আমরা জানি কারণ, জোসেফ ডাল্টন হুকার ডারউইনের কাছে লেখা এক চিঠিতে থমসনের এই চিঠির কথা উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ ডারউইন ও হুকার পরস্পরকে যেসব চিঠি লিখেছেন কেবল সেগুলোতেই থমসনের নাম এসেছে।

০৬। নায়েক বলেছেন ডারউইনের এই চিঠি ১৮৬১ সালে লেখা, অর্থাৎ তার অরিজিন অফ স্পিসিস প্রকাশের (১৮৫৯) দুই বছর পর। এখানেও কন্ট্রাডিকশন এসে যাচ্ছে। ডারউইন তার বই প্রকাশের দুই বছর পর কখনই বলতে পারেন না যে, "I haven't got any proof." কারণ তার বই এই প্রমাণ জোগাড়ের কাজটাই করেছে। ১৮৩৯ সালে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারণা তার মাথায় এসেছিল, ২০ বছর তিনি বই প্রকাশ করেননি কেবল প্রমাণ জোগাড়ের জন্যই। তিনি চাচ্ছিলেন প্রকাশের আগে সবকিছু সাজিয়ে নিতে যাতে বিষয়টা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এছাড়া এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি "fact of evolution" তথা প্রাকৃতিক নির্বাচন ব্যাখ্যার জন্য একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন। বই প্রকাশের পরই বিজ্ঞানীরা মেনে নিয়েছিলেন যে, প্রকৃতিতে বিবর্তন আসলেই ঘটেছে এবং ডারউইন তার বইয়ের মাধ্যমে সেটা দেখাতে সফল হয়েছেন। কিন্তু এই বিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি যে তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন সেটা অধিকাংশ বিজ্ঞানীরাই সে সময় গ্রহণ করেননি।

CHARLES DARWIN HIMSELF SAID THAT , THERE WERE MISSING LINKS. HE DID NOT AGREE WITH IT - HE HIMSELF SAID THAT THERE WERE MISSING LINKS.

০৭। সে সময় মিসিং লিংক অবশ্যই ছিল। কিন্তু সে কারণে ডারউইন তার বিবর্তনবাদ অস্বীকার করেননি। এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহও পোষণ করেননি। এমনকি তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আফ্রিকায় মানুষের মিসিং লিংকগুলো পাওয়া যাবে। এবং আমরা জানি পরবর্তীতে আফ্রিকাতেই প্রাগৈতিহাসিক মানুষের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো বিবর্তনবাদকে আরও জোড়ালো করেছে।

THE REASON IS BECAUSE, THAT IF YOU ANALYSE, THE CHURCH… THE CHURCH WAS AGAINST SCIENCE PREVIOUSLY - AND YOU KNOW THE INCIDENCE THAT THEY SENTENCED GALILEO TO DEATH.

০৮। গ্যালিলিওকে চার্চ কখনই মৃত্যুদণ্ড দেয়নি। he was never sentenced to death. ১৬৩৩ সালের ২২শে জুন তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে শুধু গৃহবন্দী রাখা হয়। এরও অনেক পরে ১৬৪২ সালের ৮ই জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

THEY SENTENCED GALILEO TO DEATH - WHY? BECAUSE HE SAID CERTAIN STATEMENTS IN THE ASTRONOMY, ETC., WHICH WENT AGAINST THE BIBLE - SO THEY SENTENCED HIM TO DEATH , FOR WHICH THE POPE APOLOGIZED NOW. SO WHEN CHARLES DARWIN CAME UP WITH A THEORY WHICH GOES AGAINST THE BIBLE, THEY DID NOT… THEY DID NOT WANT ANY SUFFICIENT PROOF - AN ENEMY OF MY ENEMY IS MY FRIEND. SO ALL THE SCIENTISTS… MOST OF THEM - THEY SUPPORTED THE THEORY, BECAUSE IT WENT AGAINST THE BIBLE - NOT BECAUSE IT WAS TRUE.

০৯। ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে, বইটি প্রকাশের পরপর কোন বিজ্ঞানীই বিবর্তন ব্যাখ্যার জন্য ডারউইনের তত্ত্বকে মেনে নেননি। এই বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই ধার্মিক ছিলেন এবং চার্চকে ভুলেও নিজেদের শত্রু মনে করতেন না। কিন্তু প্রকৃতিতে যে বিবর্তন আসলেই ঘটেছে তা নিয়ে তাদের কোন সন্দেহ ছিল না। কারণ, অরিজিন অফ স্পিসিসে এর খুব ভাল প্রমাণ ছিল।

প্রকৃতপক্ষে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে বিবর্তনবাদ পড়ানোর যে কারণ জাকির নায়েক বলেছেন তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বানোয়াট। ডারউইনের বই নিয়ে অনেক বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক রিভিউ করেছেন। আগেই বলেছি, তাদের অধিকাংশই সে সময় ধার্মিক ছিলেন। সুতরাং চার্চের বিরুদ্ধে যাচ্ছে এমন কিছু তারা কখনোই পাঠ্যপুস্তকে যোগ করতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে তা পাঠ্যপুস্তকে যোগ করা হয়েছে, কারণ বিবর্তনবাদ নিয়ে আর কোন সন্দেহই অবশিষ্ট ছিল না। পাঠ্যপুস্তক থেকে বিবর্তনবাদ তুলে দেয়া আর নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব উঠিয়ে দেয়া একই কথা। দুটোর পক্ষেই এখন সমান প্রমাণ আছে। তাছাড়া আজ পর্যন্ত, এ ধরণের কন্সপাইরেসি থিওরির কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। কারও কোন রিভিউ থেকে বোঝা যায়নি যে, তিনি চার্চের বিরোধীতা করার জন্য বিবর্তনবাদের সমর্থন করছেন।

বরং উল্টোটাই সত্য বলা যায়। অর্থাৎ যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্র করে পাঠ্যপুস্তক থেকে বিবর্তনবাদ তুলে দেয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাই বলা যায়। একসময় এদেশের উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞানে "বিবর্তনবাদ" পড়ানো হতো। কিন্তু সরকারের অজ্ঞ-মুর্খ মন্ত্রী মহোদয়দের সিদ্ধান্তে একসময় তা তুলে দেয়া হয়। বিবর্তনবাদের বদলে জীববিজ্ঞান বইয়ে "জৈব প্রযুক্তি" অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটা সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র।

ALL THE STAGES … ‘LUCY’ - THERE WERE FOUR ‘HOMONITES’. SCIENCE TELLS US TODAY THAT THERE WERE FOUR ‘HOMONITES’ - FIRST IS ‘LUCY’ ALONG WITH ITS GUY ‘DOSNOPYTICHEST’, WHICH DIED ABOUT 3 AND A 1/2 MILLION YEARS - THE ICE AGE. THEN NEXT CAME THE ‘HOMOSEPIANS’, WHO DIED ABOUT 5 HUNDRED THOUSAND YEARS AGO. THEN CAME THE ‘NEANDERTHAL MAN’, WHO DIED HUNDRED TO FORTY THOUSAND YEARS AGO. THEN CAME THE FOURTH STAGE, ‘THE CROMAGNON’. ‘

১০। হোমোনাইট বা হোমোনাইড বলে কিছু নেই। প্রকৃত শব্দটি হবে হোমিনিড (hominid)। কিন্তু এ নিয়ে আর নায়েককে দোষ দিচ্ছি না। কারণ, আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি, তিনি বিবর্তন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তার পক্ষে সঠিক শব্দ জানাটাই বিস্ময়কর।
১১। তিনি বলেছেন, মানুষের বিবর্তনের নাকি চারটি ধাপের কথা বলা হয়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বিবর্তনের কোন টেক্সটেই চার ধাপের উল্লেখ নেই। ধাপ আছে কমপক্ষে ১৪ টি। এর চেয়ে অনেক বেশীও অনেক স্থানে উল্লেখ আছে, কিন্তু কম নেই।
১২। DOSNOPYTICHEST নামে কোন হোমিনিড নেই। লুসি যে হোমিনিডের অন্তর্ভুক্ত তার নাম "Australopithecus afarensis"
১৩। ice age তথা বরফ যুগ মোটেই সাড়ে তিন মিলিয়ন বছর আগের ঘটনা না। ১.৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে শুরু করে এই ১০,০০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত বরফ যুগ ছিল।

১৪। হোমো স্যাপিয়েন্স নাকি ৫০০ হাজার বছর আগে মারা গেছে। হোমো স্যাপিয়েন্স তো আমরা, আর আমরা তো এখনও বহাল তবিয়তে বেচে আছি।
১৫। নিয়ানডার্থালদের সাথে আধুনিক মানুষের কোন সম্পর্কই নেই। অর্থাৎ মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে নিয়ানডার্থাল বলে কোন ধাপ নেই। বরফ যুগে নিয়ানডার্থালরা বিকশিত হয়েছিল। তাদের মস্তিষ্কের আকার আমাদের সে সময়কার পূর্বপুরুষদের তুলনায়ও বড় ছিল। কিন্তু ৩০ হাজার বছর আগেই তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর নায়েক আমাদেরকে বলছেন, নিয়ানডার্থালরা মানুষের উৎপত্তির একটি ধাপ এবং তারা নাকি ১০০ থেকে ৪০,০০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে।
১৬। ক্রো-ম্যাগনন আলাদা কিছু না। ইউরোপিয়ান আপার প্যালিওলিথিক অঞ্চলের হোমো স্যাপিয়েন্সদেরকেই ক্রো-ম্যাগনন নামে ডাকা হয়।

THERE IS NO LINK AT ALL BETWEEN THESE STAGES’

১৭। হোমিনিডদের ধাপগুলোর মধ্যে অনেক লিংক আছে। শুধু Australopithecus afarensis এবং Homo sapiens এর মধ্যেই অন্তত তিনটি লিংক আছে: Homo habilis, Homo ergaster এবং Homo heidelbergensis

ACCORDING TO P. P. GRASSE IN 1971 WHO HELD THE CHAIR OF EVOLUTIONARY STUDIES IN PARIS, IN SOJERION UNIVERSITY. HE SAID… ‘IT IS ABSURD - WE CANNOT SAY WHO WERE OUR ANCESTORS BASED ON FOSSILS’.

১৮। Pierre-Paul Grasse এই কথা বলেছিলেন ১৯৭১ সালে, অর্থাৎ আজ থেকে ৩৭ বছর আগে। সে সময় মিসিং লিংক হিসেবে পরিচিত জীবাশ্মগুলোর অধিকাংশই আবিষ্কৃত হয়নি। গত ৩৭ বছরেই প্রায় সব জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে। সুতরাং গ্রাসে আজ থেকে ৩৭ বছর আগে কি বলেছিলেন তার আজ কোন মূল্যই নেই। ঠিক যেমন, এরিস্টটল আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে পরমাণু সম্পর্কে যা বলেছিলেন তার আজ কোন মূল্য নেই।
সুতরাং এত আগের একটি উক্তি তুলে এনে জাকির নায়েক অসততার পরিচয় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি আপাত অজ্ঞ মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
আরেকটি বিষয় বুঝতে হবে যে, গ্রাসে নিজেও বিবর্তন নিয়ে কোন সন্দেহ পোষণ করেননি। তিনি কেবল বলেছিলেন, সেটা প্রমাণের মত উপযুক্ত জীবাশ্ম আমাদের নেই। সেই জীবাশ্মগুলোই এর মধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে।

তবে P. P. GRASSE-র কথা বলতে গিয়েও নায়েক একটি ভুল করেছেন। প্যারিসে SOJERION UNIVERSITY নামে কিছু নেই, সমগ্র বিশ্বের কোথাও এই নামের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তিনি বলতে চেয়েছিলেন "University of Paris" এর কথা যাকে অনেক সময় "La Sorbonne" নামে ডাকা হয়।

SIR ALBERT GEORGIE WHO GOT THE NOBLE PRIZE FOR INVENTING… FOR INVENTING THE VITAMIN ‘C’ - HE WROTE THE BOOK ‘THE CAVE APE AND MAN’, AGAINST DARWIN’S THEORY.

১৯। ALBERT GEORGIE নামে কোন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী নেই। তিনি এখানে বোধহয় ভিটামিন সি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী Albert Szent-Gyorgyi von Nagyrapolt-র কথা বলতে চেয়েছিলেন।
২০। ভিটামিন সি উদ্ভাবন (invent) করা সম্ভব না। কারণ এটা প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়। এখানে উদ্ভাবনের বদলে আবিষ্কার হবে।
২১। ‘THE CAVE APE AND MAN’ নামে কোন বই নেই। তবে হ্যা, Gyorgyi-র লেখা একটি বইয়ের নাম "The Crazy Ape" (১৯৭০)। নায়েক বোধহয় এটার কথাই বলতে চেয়েছিলেন। এই বই বিবর্তনবাদের বিপক্ষে লেখা কিনা আমি নিশ্চিত নই। এর বিষয় হিসেবে ব্রিটানিকাতে লেখা আছে, পৃথিবীতে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা একটি নৈরাশ্যবাদী গ্রন্থ যাতে বিজ্ঞানের সমালোচনা করা হয়েছে। অবশ্যই এই বই তিনি কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে লিখেননি।
তবে Gyorgyi বিবর্তনবাদের সমালোচক ছিলেন এটা ঠিক। তিনি সৃষ্টিতত্ত্ববাদের পক্ষে Syntropy নামে একটি ধারণার জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ধারণা বৈজ্ঞানিক না। একে বরং অধিবিদ্যার (metaphysics) অন্তর্ভুক্ত বলা যায়। ফ্রয়েডের "অহম" বিষয়ক ধারণা যেমন অধিবিদ্যার অন্তর্গত তেমনি সিনট্রপির ধারণা অধিবিদ্যার অন্তর্গত। ফ্রয়েডের এসব ধারণাকে কিন্তু বর্তমানে অপবিজ্ঞান বলা হয়েছে।

AGAIN , SIR FRED HOYLE’S WORK - HE WROTE SEVERAL WORKS AGAINST DARWIN’S THEORY.

২২। ফ্রেড হয়েল ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। জীববিজ্ঞানের উপর তার তেমন কোন দখল ছিল না। আর জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তিনি যে মৌলিক অবদানটি রেখেছিলেন তা বর্তমানে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মহাবিশ্বের "স্থির অবস্থা তত্ত্ব" (Steady State Theory) উপস্থাপন করেছিলেন, বর্তমানে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব এটাকে প্রতিস্থাপিত করেছে। আর জীববিজ্ঞানে তার কোন মৌলিক অবদানই ছিল না। তিনি রাসায়নিক বিবর্তনের সাধারণ ধারণা মানতেন না। তার মতে, প্রথম প্রাণের উৎপত্তি হয়েছে মহাশূন্যে এবং প্যানস্পার্মিয়ার মাধ্যমে ক্রমেই মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে পড়েছে; আর পৃথিবীতে রাসায়নিক বিবর্তন ঘটেছে ধূমকেতুর মাধ্যমে আগত প্রচুর ভাইরাসের মধ্যস্থতায়।

RUPERTS ALBERT, THIS PERSON WROTE A NEW THEORY OF EVOLUTION AGAINST DARWIN’S THEORY.

২৩। রুপার্টস আলবার্ট?? এই নামে কাউকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। একজন লোক যে কি-না বিবর্তনের সম্পূর্ণ নতুন একটি তত্ত্বেরই জন্ম দিয়েছেন তার কোন নিশানাই পাওয়া যাচ্ছে না? বিস্ময়কর বটে!! তারপরও নায়েকের সাথে দেখা হলে রেফারেন্সটা জেনে নিতে হবে।

ITS UNTHINKABLE… YOU CANNOT THINK THAT WE ARE CREATED FROM THE APES.

২৪। রুপার্টস আলবার্ট নামে এক অজ্ঞাত মানুষ নাকি এই কথা বলেছেন। এতেও ভুল আছে। "we are created from the apes"- জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমরা শুধু এইপ ছিলামই না, এখনও এইপ আছি। আমরা এইপ, আবার গরিলা-শিম্পাঞ্জিরাও এইপ। বর্তমানে জীবিত সব এইপ একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে, এটাই জীববিজ্ঞানীদের ভাষ্য। আর নায়েক রুপার্টসের সূত্র ধরে বলছেন, এই ভাষ্য নাকি আনথিংকেবল।

IF YOU KNOW OF SIR FRANK SALOSBURY… HE WAS A BIOLOGIST. HE SAID… ‘IT IS ILLOGICAL TO BELIEVE IN DARWIN’S THEORY’.
SIR WHITEMEAT, HE WROTE A BOOK AGAINST DARWIN’S THEORY - HE WAS ALSO A BIOLOGIST.

২৫। একের পর এক অখ্যাত ব্যক্তিদের নাম বলে যাচ্ছেন। আসলেই অখ্যাত নাকি এ নামে কোন মানুষই নেই। এখানে SALOSBURY এবং WHITEMEAT দুজনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরা সবাই বিবর্তনের বিরুদ্ধে কথা বলার যোগ্যতা রাখেন। এত যোগ্য ব্যক্তিদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ও হ্যাঁ, Frank O. Salisbury নামে একজনকে পাওয়া গেছে। কিন্তু ইনি তো চিত্রশিল্পী।
এখানে “appeal to authority” নিয়ে আসা যায়। নামগুলো ঠিকঠাক বলতে পারলে হয়ত ধারণা করা যেত, নায়েক এগুলোর রেফারেন্স প্রদানে অথরিটি হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু যে ৬ জন বিবর্তনবিরোধীর নাম তিনি নিয়ে আসলেন, তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের নাম ঠিক হয়েছে। একজনের নাম একটু ভুল করেছেন। আর বাকি তিনটা একেবারেই হয়নি।

AN AMEBA, AT LOWER SPECIES LEVEL… AMEBA CAN CHANGE TO PAREMISHIA. QUR’AN DOES NOT SAY…‘AMEBA CANNOT CHANGE TO PAREMISHIA’ - QUR’AN DOES NOT SAY.

২৬। paremishia নামে কিছু নেই। কেউ যদি গুগলে এটা লিখে সার্চ করেন তাহলে মুসলমানদের লজ্জায় পড়তে হবে। কারণ এটা লিখে সার্চ দিলে যতগুলো রেজাল্ট আসে তার সবগুলোই কোন না কোন ইসলামী সাইটের। এখানে বোধহয় নায়েক paramecium বোঝাতে চেয়েছিলেন।

IF THEY HAVE GOT PROOF… IT CANNOT BE POSSIBLE… IT IS NOT AGAINST THE QUR’AN. BUT THERE IS NO PROOF AT ALL.

২৭। যতটুকু প্রমাণ থাকলে বিবর্তনকে একটি পরিপূর্ণ তত্ত্ব হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশী প্রমাণ আছে। পদার্থবিজ্ঞানে "মহাকর্ষ" যতটা গ্রহণযোগ্য জীববিজ্ঞানে "বিবর্তন" এর গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ঠিক ততটুকুই। নায়েকরা সেই মহাকর্ষের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। কিন্তু নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে গেছে বলেই বিবর্তনের মত একটি জাজ্জ্বল্যমান সত্যকে ঘৃণ্য উপায়ে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

PEOPLE TALK ABOUT MOLECULAR BIOLOGY THEORY - THEY TALK ABOUT GENETIC CODING. ACCORDING TO HENSES CRAKE WHO IS A AUTHORITY IN THIS FIELD - HE SAID… ‘IT IS UNIMAGINABLE’. AGAIN IF YOU DO THAT RATIO, THE PROBABILITY OF ONE DNA FORMING, ‘FROM APE TO HUMAN BEING, IS AGAIN ZERO’

২৮। আণবিক জীববিজ্ঞান সম্পর্কে জাকির নায়েকের কোন ধারণাই নেই। নামটা শুনেছেন কেবল। আর এই Henses Crake টা-ই বা কে? ইনি নাকি আবার আণবিক জীববিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত অথরিটি। আবারও ভুল করলেন নায়েক, এটা আসলে ফ্রান্সিস ক্রিক হবে। আমি ক্লাস নাইন-টেন এর জীববিজ্ঞান বইয়ে ডিএনএ-র দ্বি-সূত্রক গঠনের আবিষ্কারক জেমস ওয়াটসন ও ফ্রন্সিস ক্রিক সম্পর্কে পড়েছিলাম। আর জাকির নায়েক মেডিক্যাল পাশ করে ফেললেন, তারপরও ক্রিক-কে চিনতে পারলেন না।
একে তো নাম ভুল করেছেন, তার উপর আবার ক্রিক সম্পর্কে একেবারে আজগুবি একটা কথা অতি-কনফিডেন্সের সাথে বলে দিয়েছেন। ক্রিক নাকি বলেছেন "ইট ইজ আনইমাজিনেবল"। ক্রিক কখনই এমন কিছু বলেননি। ওয়াটসন-ক্রিকের ডিএনএ গঠন আবিষ্কারের পরই প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সবাই বুঝতে পেরেছে। ডিএনএ আবিষ্কারের পরই জিন আবিষ্কারের পথ সুগম হয়েছে, আর বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই পুরো কাজে ক্রিক নিজেই সক্রিয় ছিলেন, বিবর্তনের উপর তার শতকরা ১০০ ভাগ আস্থা ছিল।

জাকির নায়েকের বাগ্মীতা-কৌশল

এই সাধারণ ভুলগুলো বোঝার পর আমরা জকির নায়েকের বাগ্মীতা-কৌশল নিয়ে কিছুটা আলোচনা করতে পারি। মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য তিনি ঠিক কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করেন- সেটাই প্রথমে দেখা যাক:

# এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় বলেছেন, তিনি নাকি কয়েক শত বিজ্ঞানী ও নোবেল বিজয়ীর রেফারেন্স দিতে পারেন, যারা বিবর্তনবাদের বিপক্ষে ছিলেন। এটা একটা সাধারণ পদ্ধতি। মানুষ কখনই ঘাটতে যাবে না যে, আসলেই কয়েক শত এমন বিখ্যাত বিজ্ঞানী আছে কি নেই। এই কথা বলে তিনি পার পেতে পারতেন, যদি কয়েক শতের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম বলতে পারতেন। একজনের নাম বলতে পেরেছেন, ভিটামিন সি-র "উদ্ভাবক(?)" জর্জি (?)। এ সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করেছি। তার মানে তিনি বিবর্তন নিয়ে কথা বলার যোগ্য একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নামও বলতে পারেননি যিনি বিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন। ও হ্যাঁ, গ্রাশের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেটাও আমাদের আলোচনায় এসে গেছে। এভাবেই জাকির নায়েক প্রথম ধোঁকাটি দিয়েছেন।

# জাকির নায়েক বিজ্ঞানের কিছুই বোঝেন না। তার প্রথম কথাতেই সেটা বোঝা গেছে। "থিওরি" কথাটা সাধারণ মানুষ যে অর্থে ব্যবহার করে তিনিও সে অর্থে ব্যবহার করেছেন। আমরা সাধারণত থিওরি বলতে এমন কিছুকে বোঝাই যার ব্যবহারিক কোন গুরুত্ব নেই, অনেককেই বলতে শোনা যায়, "জীবনটা তো থিওরি দিয়ে চলে না" কিংবা "থিওরি কপচাবেন না"। কিন্তু বিজ্ঞানে থিওরি মানে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত একটি হাইপোথিসিস। আর জাকির নায়েক বললেন,
I have not come across any book whoich say "fact of evolution", all books say "theory of evolution".
ঐ আমরা কথায় কথায় যা বলি আর কি। এই কথা থেকেই বোঝা যায়, জাকির নায়েক "থিওরি" পরিভাষাটির অর্থ জানেন না। বিবর্তনের ফ্যাক্টগুলো কিন্তু ডারউইন সেই ১৫০ বছর আগেই তার বইয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তার সাথে উনি সেই ফ্যাক্ট ব্যাখ্যার জন্য একটি তত্ত্বও জুড়ে দিয়েছিলেন। সে তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লেগেছে, কিন্তু ফ্যাক্টগুলো নিয়ে তখনও কেউ সংশয় পোষণ করতে পারেনি। অর্থাৎ ফ্যাক্ট বোঝার অনেক পরেই আমরা তত্ত্ব হিসেবে বিবর্তনকে গ্রহণ করেছি। এখানে নায়েক এ কি উল্টো কথা বললেন!! এটাও সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার একটা উপায়। কারণ তারাও থিওরি কথাটির অর্থ জানে না।

# সবশেষে নায়েকের কনফিডেন্স, বাচনভঙ্গির কথা তো না বললেই নয়। তিনি মিথ্যা কথাগুলো কত সাহসের সাথে বলেন, ভিডিও দেখলেই সেটা বুঝে যাবেন। তাকে খুব ভাল বিতার্কিক বলা যায়। ট্রেডিশনাল বিতর্কেও জ্ঞান মুখ্য থাকে না। মুখ্য বিষয় থাকে উপস্থাপনের ভঙ্গি। জাকির নায়েক কাদের সামনে কি নিয়ে বক্তৃতা দেন সেটাও এ থেকে বোঝা যায়। বিবর্তন নিয়ে তিনি এমন সব মানুষের সামনেই কথা বলেছেন যাদের বিবর্তন জ্ঞান তার চেয়ে কম।

বিবর্তন বিষয়ে আমি কিছুটা জানতাম, তাই তার কথাগুলো odd লেগেছে। কিন্তু যে বিষয়ে খুব বেশী কিছু জানি না, সে বিষয়ে তার কথা শুনলে হয়ত মোটেও odd লাগতো না। হয়ত বাস্তবতার সাথে সেগুলোকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টাই করতাম না। তবে এক বক্তৃতাতেই নায়েক ধরা খেয়ে গেছেন। তিনি কতটা মুর্খ, ধূর্ত, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক তার প্রমাণ পেয়ে গেছি। পাঠকরাও আশাকরি কিছুটা প্রমাণ পেয়েছেন। এখন জাকির নায়েকের কোন কথাই বিশ্বাস হতে চাইবে না। আমি ভবিষ্যতে নায়েকের আর কিছুই বিশ্বাস করব না। আসলে তার কোন বক্তৃতা শোনার প্রয়োজনীয়তাও আছে বলে মনে হচ্ছে না। তারপরও সাধারণ বাঙালিদের ভুল ভাঙানোর জন্য হয়ত মাঝে মাঝে শুনতে হবে।

এসব দেখে-শুনে মুসলিমদের দুর্দশার কারণও কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি। মুসলিমরা কেন অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে আছে সেটা বুঝতে পারছি। সত্যিই তো, যাদের মহানায়ক জাকির নায়েকের মত এক মুর্খ ও চতুর ব্যক্তি তাদের উন্নতি হবে কি করে? যারা বিবর্তন এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য খুটিনাটি প্রশ্ন নিয়ে জাকির নায়েকের কাছে যায় তারা আলোর মুখ দেখবে কি করে? যারা আবদুস সালামকে কাদিয়ানি বলে গালি দেয়, আর জাকির নায়েককে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করে তাদের কোন অগ্রগতি কি আদৌ সম্ভব?

ডিসক্লেমার: এই rebuttal এর মূল কৃতিত্ব THHuxley-র (এটা অবশ্যই তার ছদ্মনাম)। তার লেখা থেকে অনেক কিছুই হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রাইমারি রেফারেন্সের সাথে সেগুলোকে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র:

# Darwin believe in evolution without proof? - James Randi Foundation forum (জাকির নায়েকের উত্তর দেখা ও শোনার পর আমি ইন্টারনেটে সার্চ শুরু করি। প্রথমে এই ফোরামের আলোচনাটা নজর কাড়ে। এজন্যই এটা প্রথমে উল্লেখ করলাম।)
# Dr. Zakir Naik: The Rising Star of Incompetent Muslim Science - Islam.com (এই সাইটে THHuxley নামধারী একজন জাকির নায়েকের ৭ মিনিটের বক্তৃতায় "২৭টি মিথ্যা" পয়েন্ট আউট করেছেন। এটা দেখেই আমার মনে এই বাংলা রিবাটালটা লেখার ইচ্ছা জাগে। এটা থেকেই সবচেয়ে বেশী সাহায্য নিয়েছি। তবে হাক্সলির প্রতিটি যুক্তিকে আবার নিভর্রযোগ্য রেফারেন্সের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানকার ২৭ মিথ্যার সাথে সংযোজন বিয়োজনের মাধ্যমে এখানে ২৮টি মিথ্যা তুলে ধরা হয়েছে।)
# উইকিপিডিয়া (অনেকগুলো নামের উইকিপিডিয়া নিবন্ধের লিংক দেয়া আছে। সেখান থেকে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।)
# এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (দ্য ক্রেজি এইপ সহ আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এর সাহায্য নেয়া হয়েছে।)
# The Correspondence of Charles Darwin (ডারউইনের সবকিছু যেখানে আছে। এটাকেই বলা যায় প্রাইমারি সোর্স বা প্রাইমারি রেফারেন্স।)
# Rebuttals to Zakir Naik - WikiIslam (এই সাইটের খোঁজ পেয়েছিলাম অনেক আগে। তবে নায়েকের রিবাটাল দেখেছি এই গত সপ্তাহে। এখান থেকেও অনুপ্রাণিত।)
# Dr Zakir Naik is a FRAUD - ফেইসবুক গ্রুপ (এই গ্রুপের সবকিছু সম্পর্কে আমি এখনও নিশ্চিত নই। সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়নি। এজন্যই এ থেকে আমি কোন তথ্য নেইনি। অন্যদেরকে গ্রুপটা সম্পর্কে জানানোর জন্যই এখানে লিংক দিলাম।)

পরিশিষ্ট

বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন সংশয় নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই বিষয়টাই জানেন না। না জানলে মেনে নেবেন কিভাবে? অনেকে কিছু না জেনেই বিবর্তনের বিরুদ্ধে কিছু লেখার চেষ্টা করেন। তাদের তথ্যসূত্র হয় ইন্টারনেটের কিছু সস্তা ধর্মীয় প্রচারণামূলক ওয়েবসাইট। অনেকে মরিস বুকাইলির "মানুষের আদি উৎস" (The Origin of Man)-কে উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। Pierre-Paul Grasse কে তারা নিজেদের নেতা মনে করেন। মুক্তমনায় কিশোর এ ধরণেরই একটি লেখা দিয়েছিলেন। "ডারউইনবাদ একটা ভ্রান্ত মতবাদ" নামের এই লেখাটির প্রত্যুত্তরে অভিজিৎ রায় লিখেছেন "এক বিবর্তনবিরোধীর প্রত্যুত্তরে"। অভিজিৎ রায়ের লেখাটি বিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ্যে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখবে।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

একটা ভিডিও রেসপন্স পাঠিয়ে দেন। দেখুন তো উনি কী জবাব দেন।

শিক্ষানবিস এর ছবি

হ্যা, একটা ভিডিও রেসপন্স পাঠানো যেতে পারে। মুক্তমনার সহায়তায় কিছু একটা করা যেতে পারে। চেষ্টা করবো।

বন্যা এর ছবি

শিক্ষানবিস, আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব এই লেখাটার জন্য তা বুঝতে পারছিনা। আমরা ডারউইন দিবস উপলক্ষে ইউটিউবে ডাঃ আখতারুজ্জামানের ইন্টারভিউটা দিতে গিয়ে প্রথম এই ভিডিও টা দেখি। এই কয়েকদিন ধরে এটা নিয়ে সচলায়তনে আর মুক্তমনায় 'হুদাহুদাই হা-হুতাশ' করলেও (ঃ)), সময় নিয়ে যে একটা উত্তর লিখব তা আর করা হয়ে ওঠেনি, আপনি সত্যিই একটা কাজের কাজ করলেন। আমিও ভাবছিলাম এর একটা উত্তর দেওয়া প্রয়োজন বাংলায় ইউটিউবে। কিন্তু সেটা করতে যে সময় এবং 'খ্যামতা'র দরকার সেটা আছে কিনা বুঝাতে পারছিলাম না। 'বিবর্তনের পথ ধরে' বইটা লিখলেও, বিবর্তনের উপর কোন 'অথোরিটি' তো আর আমি না, আমি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োটেকনলজী তে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ডিগ্রী করেছি কম্পিউটার সাইন্সে কাজও করি ফালতু আইটি তেই। বইটা লিখেছি নিজের আগ্রহ এবং রিসার্চ থেকে, অভিজিতও তো পড়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এ। সে জন্যই আমার বইটাও প্রকাশ করার আগে আমি ডাঃ আখতারুজ্জামানকে দিয়ে রিভিঊ করিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু একটা যে করা দরকার সেটা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। ইউটিউবে রেকর্ডিং করা কোন ব্যাপার না। একটা কাজ করা যায়, আমরা যদি দ্বিজেন শর্মা এবং ডঃ আখতারুজ্জামানকে এক সাথে করে প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াতে পারি এবং সেটাকে কয়েকজন মিলে ঠিকমত করে উপস্থাপন (অডিও এবং ভিডিও) করার ব্যাবস্থা করতে পারি তাহলে কিন্তু মন্দ হয় না। তবে এই সবগুলো কাজ করতে বেশ কিছু সময় এবং লোকজন লাগবে, একটা ভালো ভিডিও ও যোগাড় করতে হবে। রিচার্ড ডকিন্স বা এমন কারও ভিডিও থাকলে পারমিশান নিয়ে ব্যাভার করা যায় কিনা দেখা যায়। কিভাবে এটা করা যায় সেটা নিয়ে আপনাদের কোন প্রস্তাব থাকলে জানান। বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোর সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে আর কোন প্রফেসর আছেন যারা বিবর্তন নিয়ে আগ্রহী? শুনেছি, ইউনিভারসসিটীর বেশীরভাগ সাইন্স টিচারই নাকি দেশে বিবর্তনবাদ কে সঠিক বলে মনে করে না ঃ)। প্রফেসর দ্বিজেন শর্মা এবং আখতারুজ্জামান কে বোধ হয় রাজি করানো যাবে, কিন্তু আরও কিছু নতুন মুখ পাওয়া গেলে ভালো হত, বিজ্ঞান চেতনা পরিষদের কেউ কি আছেন? একটু খোজ খবর নিয়ে জানাবেন কি?

রাগিব এর ছবি

বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলোর সাইন্স ফ্যাকাল্টিতে আর কোন প্রফেসর আছেন যারা বিবর্তন নিয়ে আগ্রহী?

অমাবশ্যার চাঁদ খুঁজছেন মন খারাপ

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

চয়ন [অতিথি] এর ছবি

দারুন সাহসী পদক্ষেপ.....
অভিনন্দন।

নিঝুম এর ছবি

খাইছে রে...
--------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

সবজান্তা এর ছবি

শিক্ষানবিস, তোমার লেখাটা এতোই চমৎকার হয়েছে যে, মন্তব্য করতেও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

অনুরোধ থাকলো লেখাটা অতি সত্বর ইংরেজীতে অনুবাদ করে, ব্লগগুলিতে ছড়িয়ে দাও।

লেখায় উত্তম জাঝা! গুল্লি ইত্যাদি, সব !


অলমিতি বিস্তারেণ

শিক্ষানবিস এর ছবি

ইংরেজিতে লেখা আছে। ইন ফ্যাক্ট আমি একটা ইংরেজি লেখা থেকেই ২৮ ভুলের কনসেপ্টটা নিয়েছি। লিংকও দেয়া আছে:
http://www.islam.com/reply.asp?id=381583&ct=2&mn=381583

এমনিতে আমি প্রথম দেখায় ১০-১২ টার মত ভুল ধরেছিলাম। তার সাথে উপরের সাইটে দেয়া ২৭ ভুল মিলিয়েছি। সব মিলিয়ে ২৮ টা হয়েছে। কিছু কাটছাট করেছি আর অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য যোগ করেছি। এটা অবশ্য ঠিক যে ইংরেজিটার তুলনায় এই বাংলা লেখাটা বেশী rich
তারপরও ঐ ইংরেজিটার প্রচার করলেই চলবে। আপনিও বিভিন্ন জায়গায় এই লিংকের প্রচার করতে পারেন। ফেইসবুকে একটা গ্রুপ আছে দেখলাম: Dr. Zakir Naik is FRAUD নামে। ওখানেও বেশ কিছু লিংক আছে। আরেকটা সাইট এখানে:

http://www.answering-naik.info/
এই সাইটেও কিছু জিনিস আছে। এগুলোর প্রচার করতে হবে।

অভিজিৎ এর ছবি

এই হাক্সলি সাহেব (ইনি ডারউইনের বুলডগ খ্যাত সেই বিখ্যাত হাক্সলি নন, যদিও উনার নামেই নিজের লেখক-নামটি চয়ন করেছেন) আগে মুক্তমনায় লিখতেন। উনার বেশ কিছু ভাল আর্টিকেল আছে। মুক্তমনার আর্টিকেল গুলা পাওয়া যাবে এখানে

হাক্সলির প্রবন্ধগুলো সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষানবিস, আপনি আপনার মূলপ্রবন্ধেও হাক্সলির লিঙ্কটা দিতে পারেন রেফারেন্সে।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

অভিজিৎ এর ছবি

সরি, আপনি তো রেফারেন্সে হাক্সলির প্রবন্ধটার উল্লেখ করেছেনই! অযথা লিখলাম...
আসলে নীচে অনামিকার মন্তব্য পড়ে কনফিউজড হয়ে গেছিলাম।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

রায়হান আবীর এর ছবি

১।

নায়েক সাহেবের অত্যাচারে শ্যাশ। ল্যানে ঢুকলেই খালি গুরুর ভিডিও। প্রায় সবার পিসিতেই এখ্ন জাকির নায়েক সাহেবের একটা ফোলডার আছে। দেখুক না দেখুক- এই মহান ব্যক্তি ইসলাম ধর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাচছেন, ভিডিও রাখাটা অন্তত দায়িত্ব এর মধ্যে পড়ে। বাসাতেও বাবা মা মুগধ হয়ে এই জিনিস দেখে। নায়েক সাহেবের একটাই গুন, তিনি কুরআন, হাদীসের সব আয়াত মুখস‌‌থ বলতে পারেন।

২।

তাকে সত্যি কিংবা মিথ্যা যেভাবেই হোক বিবর্তন যে মিথ্যা সেটা প্রমান করতেই হবে। তাছাড়া তার ধর্ম এর কাপড় থাকে না। আদম, ঈভ, নুহ সবার কাহিনী মিথ্যা হয়ে যায়। তার মানে, তাদের পবিত্র গ্রনথও মিথ্যা হয়ে যায়।

তারচেয়ে ভালো বিবর্তনকে পঁচাও।

৩।

চমৎকার লেখাটার জন্য তোকে ধন্যবাদ। আশা করি একদিন সবাই ছোটবেলা থেকে শেখানো বুলিগুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখতে শিখবে। ধর্ম গ্রনথে যা বলা হয়েছে- সেগুলো অনধ্ভাবে বিশ্বআস না করে যাচাই বাছাই করে দেখবে।

(অভ্র ফনেটিক নাই। কোটি কোটি বানান ভুলের জন্য সরি।)

=============================

এনকিদু এর ছবি

অনেক লোক এককোষী জীব থেকে শুরু হয়ে আজকের পৃথিবীর সব মহাজটিল জীবদেহের অধিকারী হওয়ার পেছনের প্রায় এককোটি বছরের ইতিহাসটাকে কেন জানি লজ্জাজনক বলে মনে করে ।

" আমার পূর্বপুরুষ গাছে গাছে ঝুলত, হায় হায় ! "

তাদের কাছে ব্যাপারটা অনেকটা এরকম । আহারে বেচারা ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

শিক্ষানবিস এর ছবি

এইটাইতো কথা। এতে লজ্জিত হওয়ার কি আছে এখনও বুঝতে পারলাম না।

আনিস মাহমুদ এর ছবি

উদ্ধৃতি: " আমার পূর্বপুরুষ গাছে গাছে ঝুলত, হায় হায় ! "

এটা যে কতবড় সত্যি কথা, তা নিজেদের আচরণ লক্ষ করলেই বোঝা যাবে। যত সুবিধাজনক বা মজবুত বা আরামদায়কই হোক না কেন, অন্য কোনো জিনিস দিয়ে তৈরি আসবাবে মন ভরে না, পশ্চাদ্দেশের তলায় গাছের অনুভূতিটা আমাদের চাই-ই চাই। সবচেয়ে বেশি দামে বিকায়ও কাঠেরই জিনিস।

.......................................................................................
আমি অপার হয়ে বসে আছি...

.......................................................................................
Simply joking around...

এনকিদু এর ছবি

নায়েক সাহেবের একটাই গুন, তিনি কুরআন, হাদীসের সব আয়াত মুখস‌‌থ বলতে পারেন।

দাঁড়াও পথিক, কথা আছে ।

আমি নিজে কোরান হাদিস ইত্যাদি দাঁড়ি কমা শুদ্ধ মুখস্থ করি নাই । কেমনে বুঝব যে জাকির নায়েক হাদিস কোরান ভুল বলে নাই চোখ টিপি


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

রায়হান আবীর এর ছবি

এইটা সে ভালৈ পারে। কারণ যখনই আয়াত কয় তখনই টেলিভিশনের পর্দায় সুরা নং, আয়াত নং ভাইসা উঠে।

=============================

এনকিদু এর ছবি

আয়াত গুলো তো ওরাই লিখে । ওরা যে লিখতে ভুল করেনা তার প্রমান কি ?


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

এনকিদু এর ছবি

দারুন । অনেকদিন পর একটা শিক্ষানবীসিয় লেখা পড়লাম তারিয়ে তারিয়ে । যদ্দূর মনে পড়ে, জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের সাইটে তাদের সাথে যোগাযোগের উপায় পাওয়া যায় । প্রকৃতিপ্রমিকের আইডিয়াটা পছন্দ হলে একটা চেষ্টা করে দেখতে পার ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

ভাঙ্গা মানুষ [অতিথি] এর ছবি

এই লেখাটা আসলেই সবাইকে জানানোর মতো, ছড়িয়ে দেবার মতো... এক নিঃশ্বাসে পড়া শেষ করলাম

মঞ্জুর এর ছবি

অসাধারণ লেখা।
আজকাল প্রায়শঃই এই জাকির নায়েকের নাম শোনা যায়। বিভিন্ন আড্ডায় কিংবা ইমেল চালাচালিতে। ফেসবুকে ভদ্রলোকের ফ্যানক্লাবে বিশ তিরিশ হাজার সদস্য। আমি বাজি রেখে বলতে পারি তাদের কারোরই ধারণা নেই লোকটা কতবড় ভন্ড।

ধন্যবাদ শিক্ষানবিস, বরাবরের মাতোই চমৎকার লিখেছেন।

তানবীরা এর ছবি

ইউরোপে বাংলাদেশীদের ঘরে ঘরে যে টিভি চ্যানেল সবচেয়ে জনপ্রিয় তা নাম "পিস" টিভি। যেখানে জাকির নায়েক লুঙ্গী পড়ে নেমেছেন এই শতাব্দীর ইহুদী নাসারাদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে। টিভিতে জাকির নায়েকের প্রশ্নোত্তর শুনতে দারুন লাগে।
প্রশ্নঃ ইসলামে জন্ম নিয়ন্ত্রন নাই, এ সর্ম্পকে আপনি কি মনে করেন?
জাঃ নাঃ জন্ম নিয়ন্ত্রন থাকলে আমিই আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত থাকতাম না।, আমি আমার বাবা - মায়ের চর্তুথ সন্তান। (উপস্থিত সবাই হাসে, জাঃ না শুদ্ধ) নেক্সট প্রশ্ন আসে। আমি অবশ্য কিছুই বুঝি না। কারন উনি আসার সাথে না সাথে ইসলামের লিঙ্ক কি আমি ধরতে পারি না। আমার বুদ্ধি কম। বেশীর ভাগ প্রশ্ন উত্তর খেলা এই পদ্ধতিতেই হয়। সস্তা বাংলা সিনেমা, যাকে বলে। ভক্তীবাদীদের নিশ্চয়ই তাতে রক্ত গরম হয়।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

হিমু এর ছবি

এই রামছাগল যে পিতার স্পার্ম অবস্থায় আরো মিলিয়নখানেক সম্ভাব্য জাকিরনায়েককে টেক্কা দিয়ে মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পেরেছিলো, ভাবতেই খ্রাপ্লাগে। সময়মতো কনডম ব্যবহার না করার জন্য জোকারনায়েকের পিতা হয়তো একদিন তিরস্কৃত হবেন।

ভাঁড়ামো দিয়ে ধর্মকে জাস্টিফাই করতে যাওয়া ধর্মের অপমান, এটা বয়ান শুনে সোয়াব কামাতে উৎসুক লোকজন কবে বুঝবে কে জানে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

শিক্ষানবিস এর ছবি

এই রামছাগল যে পিতার স্পার্ম অবস্থায় আরো মিলিয়নখানেক সম্ভাব্য জাকিরনায়েককে টেক্কা দিয়ে মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পেরেছিলো, ভাবতেই খ্রাপ্লাগে।

এক্কেবারে মনের কথা। খুব খ্রাপ্লাগ্ছে...

রেজওয়ান এর ছবি

দারুণ গবেষণা।

অবশ্যই এ লেখাটি চারিদিকে প্রচার করতে হবে।

আমি বুঝি না কি করে একজন মানুষকে কেন্দ্র করে একটি টিভি চ্যানেল হয় যেখানে তিনি যা ইচ্ছা তাই প্রচার করে যান। আর মানুষও অন্ধের মত তার কথা শুনে।

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

হিমু এর ছবি

অসহ্য এক ক্যারেক্টার এই জোকার নায়েক। তার পিস টিভি খানিকটা দেখে আমি পিসড। তাকে আইপিসহ ব্যান করা দরকার।

লেখায় উত্তম জাঝা। এই প্রলাপ মিনিটের পর মিনিট শুনতেও ধৈর্য লাগে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

সুমন চৌধুরী এর ছবি

জাকির নায়েক হচ্ছেন এযূগের বিরিঞ্চি বাবা।



অজ্ঞাতবাস

সবজান্তা এর ছবি

হু, সেই বিরিঞ্চি বাবা দু' হাত দু'দিকে ঘুরিয়ে কিরিঞ্চি দেখাতেন, আর ইনি দেখান ধামাধাম আয়াত, শ্লোক নম্বর মুখস্ত করে !


অলমিতি বিস্তারেণ

শিক্ষানবিস এর ছবি

বিরিঞ্চি বাবার কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম। মহাপুরুষ দেখে সেইরকম মজা পেয়েছিলাম। বাবার কথা মনে থাকলে জাকির নায়েকের এই ভিডিও দেখেও মজা পাইতাম। মনে না থাকার কারণে শুধুই মেজাজ খারাপ হইছে।

খেকশিয়াল এর ছবি

"সবাই বলে ক্রসিফিকশন আমি বলি ক্রসিফ্যাক্ট, পুরোটাই তো চোখের সামনে দেখা!"

"গৌতম! ওতো সেদিনের ছেলে!"

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

এই সব ভণ্ডের ভণ্ডামি দেখলে গা জ্বলে। কখনোই মনযোগ দিয়ে যুক্তি খণ্ডানোর প্রয়োজন মনে করি না। আসলে শিক্ষানবিস এর মত করে এরকম সহজ ভাষায় এসব ভণ্ড লোকের আবোল-তাবোল বাগ্মীতাকে জনসমক্ষে ফাস করে দেয়া খুব জরুরী। অনেক ধন্যবাদ শিক্ষানবীসকে অনেক ধৈর্য ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করার জন্য।

একটা ব্যাপার চোখে পড়ায় আতকে উঠলাম -

একসময় এদেশের উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞানে "বিবর্তনবাদ" পড়ানো হতো। কিন্তু সরকারের অজ্ঞ-মুর্খ মন্ত্রী মহোদয়দের সিদ্ধান্তে একসময় তা তুলে দেয়া হয়। বিবর্তনবাদের বদলে জীববিজ্ঞান বইয়ে "জৈব প্রযুক্তি" অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটা সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র।

সাংঘাতিক কথা ! বাংলাদেশে এমনটা হয়েছে জানা ছিল না। ১৭-১৮ বছর আগে আমরা যা পড়েছি তাতে জীববিজ্ঞান বইয়ের পুরো কাঠামোই বিবর্তন ভিত্তিক ছিল। আরেকটু তথ্য সহ এ বিষয়ে আলাদা একটা পোস্ট দিতে পারেন, ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ন।

বন্যা এর ছবি

বাংলাদেশে বিবর্তনবাদের অবস্থা আসলেই বেশ খারাপ। শুধু উচ্চমাধ্যমিক স্তরেই না, এমনকি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির কারিকুলাম থেকে বিবর্তন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডঃ আখতারুজ্জামান ২০০৬ সালে 'বিবর্তনের পথ ধরে' বইটার ভুমিকা লেখার সময় এ বিষয়ে বেশ কিছু কথা লিখেছিলেন। এখানে ডঃ আখতারুজ্জামান এর সাথে নেওয়া একটা সাক্ষাতকার দেখতে পারেন, ডারউইন দিবস ২০০৯ উপলক্ষ্যে এই সাক্ষাতকারটা নেওয়া হয়েছিল।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এটা খুবই নিকট অতীতের কথা। আমি এইচএসসি দিয়েছিলাম ১৯৯৪ তে। প্রাণীবিদ্যায় আমরাও বিবর্তনবাদ পড়েছিলাম।



অজ্ঞাতবাস

শিক্ষানবিস এর ছবি

আরেকটু তথ্য সহ এ বিষয়ে আলাদা একটা পোস্ট দিতে পারেন, ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ন।

হ্যা, আমারও এ নিয়ে একটা আলাদা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে। এটা বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য একটা কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন ছোট মামার ইন্টারমিডিয়েটের বইয়ে দেখতাম, কিসব বান্দর-টান্দরের ছবি দেয়া। তখন তো কিছু বুঝতাম না। একসময় বুঝলাম সেগুলোর বিষয় বিবর্তন। বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হতো। আমি কিন্তু তখন বিবর্তনবাদকে মিথ্যা মনে করতাম। তারপরও খুব আগ্রহ নিয়ে ইন্টারমিডিয়েটের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কারণ ঐ ক্লাসে গেলে বিবর্তন পড়া যাবে।
কিন্তু তা আর হলো না। আমরা ইন্টারমিডিয়েটে ওঠার কয়েক বছর আগেই (সালটা এখনও নিশ্চিত নই) পাঠ্যপুস্তক থেকে বিবর্তন উঠিয়ে দেয়া হল। আমরা ইন্টারে গিয়ে পড়লাম জৈব প্রযুক্তির উপর একেবারে আলাদা কিছু চ্যাপ্টার। কিন্তু কোথাও বিবর্তন নেই।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এই তথ্য তো পরিসংখ্যানের নিয়মে একটাই হাইপোথিসিস তৈরী করে। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে খাসী করে দেওয়া। এমন একটা প্রজন্ম তৈরী করা, যারা প্রোগ্রামিং জানবে, ফাংশনাল ইংলিশ জানবে, ভুজুং ভাজুং জানবে, ঐ দিয়ে করে খাবে; এর বাইরে চৈতন্যের বাকিটা অর্থাৎ দার্শনিক কাঠামো হবে ছাগলায়ীত অর্থাৎ দর্শনে ইতিহাস বিরোধী, প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে বিবর্তন বিরোধী।

এসব তৈরী করে লাভ? লাভ হচ্ছে পরবর্তী ডিপ্রেশনের আগ পর্যন্ত এইসব ছাগল ক্রেতাদের কাঁধে ভর করে বাজারজুড়ে খেলাম কুঁচি।



অজ্ঞাতবাস

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

এইবার পাইলেন তো আপনার সেই চ্যাগাইয়া ওঠা পুরান প্রশ্নের জবাব?

সুমন চৌধুরী এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটি নিদারূন হয়েছে...
ভাই, এ লেখার লিঙ্ক আমি অন্তত ব্যক্তিগত সকলকে পাঠাবো, আপনি একটি শ্রমসাধ্য কাজ করেছেন- বড় একটি ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য...
(শব্দশিল্পী)

বাপ্পি এর ছবি

লেখককে রেটিং না দিতে পেরে উত্তম জাঝা! দিলাম। জোকার নায়েকের প্রধান পুঁজিই এই কথায় কথায় রেফারেন্স বলা।

কিঞ্চিৎ অফটপিকঃ জোকার নায়েকের সাথে ছানিয়া মির্জার কাপড়-চোপড় সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে সচলদের মতামত কি? চোখ টিপি

শিক্ষানবিস এর ছবি

সেইরকম একটা বিষয় নিয়ে আসছেন। ছানিয়া মির্জার বেলাহাজ চালচলন নিয়া জাকির নায়েকের কথাগুলা টিভিতে শুনছিলাম। দেঁতো হাসি
জাকির নায়েক কথা কওয়ার সময় মুচকি মুচকি হাসতেছিল, মিনকা শয়তানের মত।
আমি ভাই জাকির নায়েকরে আর বিশ্বাস করি না। পিস টিভি দেখার ফাঁকে ফাঁকে যে সে চ্যানেল চেঞ্জ কইরা টেনিস খেলা দেখায় মত্ত হয় না, এইটা কেউ হলফ কইরা কইতে পারবো না। এই লোকরে দিয়া সবই সম্ভব।

zakir naik এর ছবি

jakir naik is the top most dhandabaj in the universe........
jara zakir naik er lecture sune tara top most goru in the universe........

vai....zakir naik kintu chokhe khuub valo dekhe........uni dur theke oneeek choto lekhao porte paren..........
uni jevabe mohilader dike takan.........amar to mone hoi ................

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

বহুদিন ধরে সযত্নে এড়িয়ে গেছি এই ভাড়কে। শিক্ষানবিসের ক্ষুরধার লেখার আকর্ষন আর জাকির নায়েকের বিরক্তিকর বকবকের দ্বন্দ্বে আপাতত জাকির নায়েক জয়ী।

(ভিডিওটা শুনতে শুনতে লেখাটা পড়ছিলাম। ভাই রে, রবীন্দ্রনাথেরও সাধ্য নাই এর প্রলাপ শোনার সময় মনটা প্রশান্ত করার। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরবো লেখায়। দ্রুত চোখ বুলিয়ে গেলাম পুরোটায়। যথোপযুক্ত, দামী লেখা। প্রিয়াইলাম।)

বন্যা এর ছবি

হিমু, সবজান্তা, প্রকৃতিপ্রেমিক, রায়হান এবং অন্য সবাই যারা এখানে উত্তর দিয়েছেন, জাকির নায়েকের ভিডিও টাকে খন্ডন করে একটা ভিডিও কিভাবে করা যায় বাংলায়, সে ব্যাপারটা কি একটু দেখবেন? কেউ কি আগ্রহী হবেন একসাথে কাজটা করতে? আমি উপরে শিক্ষানবীশকে উত্তর দিয়েছি এবং একটা প্রাথমিক প্রস্তাবও দিয়েছি, কাজটা করলে প্রফেশনালভাবে করতে হবে, আপনাদের কাছ থেকে কিছু সহযোগীতা পেলে কাজটা শুরু করা যায়।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ম্যাটেরিয়াল যোগাড় হলে এই কাজে যে-কোন রকম সাহায্য করতে অধম এক পায়ে খাড়া। আমার প্রস্তাব হল, ৮-৯ মিনিটের একটি প্রামাণ্য ভিডিও তৈরি করা হোক। বক্তব্য স্ক্রিপ্ট আকারে প্রস্তুত করা হোক। মিলেমিশে সেই কাজটা শুরু করা যায়।

হিমু এর ছবি

সুজন চৌধুরী যদি সময় করতে পারতেন, দারুণ কিছু কার্টুনসহ একটা ভিডিও-উত্তর তৈরি করা যেতো।

মূল কাঠামো হিসেবে শিক্ষানবিসের পোস্টটাকেই রাখা যায়, কিছু যোজন বিয়োজন করতে হবে শুধু। উপস্থাপন এমন হতে হবে যাতে বিভিন্ন ভাষায় অডিও ডাব করা যায়। বাংলা আর ইংরেজি দিয়ে শুরু হোক। কণ্ঠদানে আমি উৎসুক।

ছাগু পিটান, দেশ বাঁচান।


হাঁটুপানির জলদস্যু

সুমন চৌধুরী এর ছবি

জার্মান অনুবাদের দায় নিচ্ছি।



অজ্ঞাতবাস

শিক্ষানবিস এর ছবি

চমৎকার। তাহলে আমাদের ডকুটা অবশ্যই হচ্ছে। কার্টুন-সহ, কয়েকটা ভাষায়। এ নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। কিভাবে ডকু তৈরীর কাজটা ম্যানেজ করা হবে সে সম্পর্কে প্ল্যান দেন। কোনটার পরে কোনটা হবে, কিভাবে হবে- এইসব তো ঠিকমতো ম্যানেজ করতে হবে।
@বন্যা আহমেদ: তাহলে একটা প্রাইমারি প্ল্যান হাতে নিয়ে ফেলেন। দ্বিজেন শর্মা ও প্রফেসর আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ তো করতে পারবেনই। আমি বিবর্তনের অথরিটি হিসেবে পরিচিত অন্য কারও খোঁজ পেলে জানাবো।

বন্যা এর ছবি

অভিজিতের সাথে কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম, বাংলাদেশের একাডেমিয়ার সাথে যুক্ত কেউ বোধ হয় এটা করতে সাহস করবে না। এই বেটা জাকির নায়েকের বিরোধিতা করাকে ইসলামের বিরোধিতা বলে গন্য করা হবে! মনে হয়, করলে আমাদেরই করতে হবে এটা। আমি বিষয়বস্তু নিয়ে খুব বেশী চিন্তিত না, কিন্তু ওই যে ভিডিও বা প্রামান্যচিত্রের জন্য কি ব্যবহার করা হবে সেটা বুঝতে পারছিনা। কিছু কার্টুন হলে ভালো হত, কিন্তু বেশ একটা জমজমাট ভিডিও কন্টেণ্টও দরকার, মরা মার্কা হলে হবে না। কিন্তু ভিডিওটা পাবো কোথায়?

বন্যা এর ছবি

সুজন চৌধুরী কই, ওনারে ধইরা আনা যায় না?

সুজন চৌধুরী এর ছবি

আমি তোমাদেরই লোক আমি আছি আপনাদের সাথে ঢাল তলোয়ার নিয়া ..........


লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ

এনকিদু এর ছবি

বাহ !


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সবজান্তা এর ছবি

খুব সম্প্রতি সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর চমৎকার একটি ডকু দেখেছি, দ্য সোভিয়েত স্টোরি। ভাষায় বর্ণনা করা খুব মুশকিল যে ও'টা আসলে কেমন। যদি কেউ দেখে থাকেন, তবে বলবো ডকুটার উপস্থাপন যেন ওই প্যাটার্নের হয়।

আর ডকুটাও এমনিতে চমৎকার। সোভিয়েত ইউনিয়নে কি পাইকারি হারে মানুষ মারা হয়েছে, তার কোন ধারণাই আমার থাকতো না ওই ভিডিওটা না দেখলে। আগ্রহীরা অবশ্যই দেখে নিবেন, নেটে বেশ সহজপ্রাপ্য।

ওই ভিডিওটার সন্ধান দেওয়ার জন্য সন্ন্যাসীদা'কে উত্তম জাঝা!


অলমিতি বিস্তারেণ

শিক্ষানবিস এর ছবি

ভিডিওটা দেখতে খুব ইচ্ছা করতেছে। এইখানে লিংকটা দেন না...

সবজান্তা এর ছবি

শিক্ষানবিস, ভিডিওটা পুরোটা ইউটিউবে খুঁজে পেলাম না, থাকতেও পারে অবশ্য কোন কোনায়।

তুমি যদি টরেন্ট ব্যবহার করে থাকো তবে আরামসে পেয়ে যাবে পাইরেট বে তে। আমি আপাতত একটা ট্রেলার দিলাম।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, এই ডকুটার কোন অংশ মিথ্যা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না নিশ্চিত নই, তবে প্রায় সবকিছুর স্বপক্ষেই প্রমাণ/দলিল দেখানো হয়েছে। তবু বিভ্রান্তি থাকতে পারে - আমি শুধু এ'টাই বলতে চেয়েছি, ডকুর উপস্থাপন ভঙ্গিমা যেন এ ধরনের হয়।


অলমিতি বিস্তারেণ

দুর্বাশা তাপস এর ছবি

এখানে দেখতে পারেন।

==============================
আমিও যদি মরে যেতে পারতাম
তাহলে আমাকে প্রতি মুহূর্তে মরে যেতে হত না।

খেকশিয়াল এর ছবি

ফেইসবুকে শেয়ার করলাম এই লেখাটা, বদ্দাও দেখি করসে দেঁতো হাসি

------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সুমন চৌধুরী এর ছবি

অসুবিধা নাই। যতবেশী লোকে করে তত ভালো।



অজ্ঞাতবাস

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ইউ টিউব থেকে মুছে দিয়েছে। নইলে মহাপুরুষ ছবিটার লিঙ্ক দিতাম।



অজ্ঞাতবাস

অভিজিৎ এর ছবি

সকলেই যখন জোকার নায়েকের বিরুদ্ধে সোচ্চার তাহলে হয়ে যাক। সচলায়তন আর মুক্তমনার যৌথ উদ্যোগে একটা ভিডিও করার প্রস্তাব রাখছি। ম্যাটেরিয়াল জোগারে কোন সমস্যা হবে না। আমাদের এবারের ডারউইন দিবস ২০০৯ পেইজটায় অনেক আনুষঙ্গিক লেখা আছে। কিছু অডিও এবং ভিডিও আছে সেগুলো দেখা যেতে পারে। তবে জাকির নায়েকেয়র এই রিবুটালটা আনপ্রফেশনালি করলে হবে না। লাইন বাই লাইন রিবিঊট করতে হবে। শিক্ষানবিসের এ লেখাটাকে বেস ধরেই এগুনো যায়। সুজন চৌধুরীর জোকার নায়েকের নূরানী মুখচ্ছবির কিছু কার্টুন পেলে তো কথাই নাই। জম্পেশ হবে।

আরেকটা কথা। আমরা রিবিঊট করলে মোল্লারা কইব - তোরা ক্যাডা? তোরা কোন অথোরিটি নি? সেজন্য ভিডিওটাতে দ্বিজেন শর্মা কিংবা ডঃ ম আখতারুজ্জামান - এরকম যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবর্তন পড়ান বা পড়াতেন -তাদের কাউকে রাখা যেতে পারে। আমরা ডঃ ম আখতারুজ্জামানের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম এবারে। সেটার কোন অংশ চাইলে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিংবা উনাকে দিয়ে আরো কিছু বলিয়ে নেয়া যেতে পারে।

শিক্ষানবিসের লেখা নিয়ে আর কি বলব। তিনি দিনে দিনে যেরকম পরিণত হয়ে উঠেছেন তাতে যে কোন বিজ্ঞান লেখকের ঈর্ষা হবার কথা হাসি



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

বন্যা এর ছবি

অভি, তোমার কি মনে হয় এনারা কেউ প্রকাশ্যে এই রিবিউটাল করতে রাজী হবে? বাংলাদেশের যে অবস্থা!

অভিজিৎ এর ছবি

সরাসরি হবে কিনা জানি না। তবে জাকির নায়েক বিবর্তনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে কিংবা যে পাগলের প্রলাপ না জাইনা বকছে - সেইগুলাকে অথেন্টিক সোর্স থেকে তো খন্ডন করাই যায়।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ঠিক এই সময়টাই জোকার নায়েকদের মতো ধাউরদের ধোলাই করার প্রকৃষ্ট সময়।

পরে ব্রুনো হবার জন্য তো বাকি জীবন থাকলোই।



অজ্ঞাতবাস

হিমু এর ছবি

কিছু প্রশ্নের উত্তর বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নেয়া যেতে পারে। তবে কেউ যদি বলে তোরা ক্যাঠা, তাহলে আমরাও বলতে পারি, তুই কোন লাটের বাঁট? পারলে খন্ডন কর নাইলে ফোট, জোকারনায়েকের কোলে বইসা দুদু খা।


হাঁটুপানির জলদস্যু

সুমন চৌধুরী এর ছবি

গেনাউ।

সেইক্ষেত্রে জোকার নায়েক ক্যাঠা এই প্রশ্নও করা যাবে।



অজ্ঞাতবাস

বন্যা এর ছবি

পারফেক্ট, আপনাদের মত লাঠিয়াল বাহিনী থাকলে তো আর চিন্তাই নাই, কাজ শুরু করে দেই তাহলে...।

অনিকেত এর ছবি

Boss...its a seminal work!
যে পরিমান পরিশ্রম তুমি করেছ এই অতীব জরুরী লেখাটির জন্যে, তা এক কথায় অসামান্য।

আমার নতজানু শ্রদ্ধা!!

Biplab Pal [অতিথি] এর ছবি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে দুটি ভিডিও রিবিউটাল আমি ইউ টিউবে দিয়েছি। প্রতিদিন ৫-১০ করে নোংরা কমেন্ট এর কারনে আমার ইমেলে বা কমেন্টে আসে-ধার্মিকরা যেরকম হয় আর কি।

http://www.youtube.com/watch?v=GBn166l3-m8

http://www.youtube.com/watch?v=5LULgVB9Tpo

বিজ্ঞান জাকির নায়েক জানে না-সেটা ত ঘটনা । কিন্ত ধর্মটাও ঠিক ঠাক জানে না। লোক ঠকানো এই লোকের একমাত্র সম্বল বাকীদের নিরক্ষরতা। ভারতীয় মুসলমানরাও ওর বিরুদ্ধে সভা ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে ভন্ডামোর কারনে। আমার মনে হয় এরকম নিরক্ষর ঠগবাজকে বেশী পাত্তা না দেওয়াই ভাল।

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

শ্রদ্ধা-জাগানিয়া দুর্দান্ত একটি কাজ, শিক্ষানবিস।

এসব দেখে-শুনে মুসলিমদের দুর্দশার কারণও কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি।

মুসলমানদের দুরবস্থা বিষয়ে নিউজ-লেটার গোছের একটি ইমেইল (৩১ কিলোবাইট) পেলাম দেশ সেদিন। সেটির বক্তব্য কতোটা সত্য, কতোটা ভ্রান্ত বা কতোটা অতিরঞ্জিত, তা বিচার করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে চিন্তার খাদ্য তাতে আছে বলেই মনে হলো।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
যৌনদুর্বলতায় ভুগছি দীর্ঘকাল। দুর্বল হয়ে পড়ি রূপময়ী নারী দেখলেই...

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

শিক্ষানবিস এর ছবি

মেইলটা দেখলাম। অতিরঞ্জিত নয় বোধহয়। আসল অবস্থাও অনেকটা এরকমই হওয়ার কথা। সব খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, জাকির নায়েকের নেতৃত্বে মুসলিমরা আরও ১০০ বছর পিছিয়ে যাবে।

ধ্রুব হাসান এর ছবি

শিক্ষানবিসকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো পরিশ্রমের জন্য। চিয়ারস্‌ ব্রাদার চলুক

আপনাদের সাথে একটু যোগ করি, চাকরীসুত্রে সেন্ট্রাল লন্ডনের এক কোম্পানীতে হপ্তাহে একদিন যেতে হয়। দিনটা হলো ঐদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘন্টা আমাকে ঐ পিসটিভির ট্রান্সমিশন প্যানেলের পাশে বসে কাজ করতে হয়! তাদের ঐ জায়গা থেকে দু'টি চ্যানেল ব্রডকাষ্ট হয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে স্ক্রীনটা ব্ল্যাক করে দেই কিন্তু প্রফেশনের কারণে যন্ত্রের মতো চুপচাপ দেখে যাই! ইদানিং এই গ্রুপটার থাবা প্রায় সবগুলো এশিয়ান চ্যানেলে গিয়ে পড়েছে এবং পড়বে! কিছুদিন থেকে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় এক বাংলা চ্যানেলেও জঘন্য বাংলানুবাদসহকারে তার বয়ান প্রচারিত হয়! এদের টার্গেট সম্পর্কে যা জানি তা হলো, সবগুলো এশিয়ান মিডিয়া নিজেদের দখলে নিয়ে সবাইকে দেশকালের নাম ঠিকানা ভুলিয়ে দিয়ে এক মুসলিম উম্মার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা! এবং এই মহতী খেলায় জাকির নায়েক হরফে ছাগলা ছাগল একমাত্র খেলোয়ার নন! তিনি হলেন মিঃ পাপেট! কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো বিশাল বড় এক ও একাধিক কর্পোরেট শক্তি এর পেছনে কাজ করছে। তাছাড়া সাম্প্রতিককালে মুসলিম আর টেরোরিষ্ট এই দুইয়ের গায়ে সার্থকভাবে একই লেবেল লাগিয়ে দেয়ার ফলে তার কাজ আরো সহজ হয়ে গেছে। একদিকে স্কীন হ্যাড সাদাদের জগণ্য ও নোংরা প্রচার, অন্যদিকে জাকির নায়েকের মতো আবাল হাফেজ-এর সংগঠিত প্রচারণা তথাকথিত উম্মাকে কই নিয়ে যাচ্ছে তা তারাই ভালো জানেন!

এসব দেখে মনে হয় একটা দুইটা ভিডিও বানিয়ে কতদূর কি সম্ভব তা চিন্তার বিষয়! যদি ঠেকাতে চান তো সংগঠিত ও নিরবিচ্ছিন্ন কার্যক্রম দরকার। তবুও ছোটখাটো প্রয়োজনে যদি প্রয়োজন মনে করেন আওয়াজ দিয়েন।

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো বিশাল বড় এক ও একাধিক কর্পোরেট শক্তি এর পেছনে কাজ করছে।

একটু নাম-ঠিকানা সহ বলেন ভাই। ছাগলভণ্ডদের কেবল না, ঐসব মহাচোর-মহাভণ্ডদেরকে আরো বেশি করে চেনা দরকার।

onamika [অতিথি] এর ছবি

It is a good idea to put a video rebuttal and invite him to respond to it. It should be in English.

Keep your calm man! You all become so emotional that you will lose your credibility. Question his content, not the intent.

Onamika

হিমু এর ছবি

আমি যতদূর জানি, ইনটেন্টের আভিধানিক অর্থ the design or purpose to commit a wrongful or criminal act । তা-ই যদি আপনি বোঝান, তাহলে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না কেনু? কেনু কেনু কেনু [সৌজন্যে মুহিব খান]?


হাঁটুপানির জলদস্যু

onamika [অতিথি] এর ছবি

Where did you get this definition of "intent" (intention)? It is aneutral word, with no outright connection with crime.

I said we should concentrate on the content than on the intent because we often spend a lot of time guessing what a person "really meant" than take the stated intention at face value. Unfortunately in doing so we often make poor choice of words (this includes myself, no offence to anyone specific). Remember the words we utter reflects more on ourselves than on the person spoken about and bad choice of words really can cloud the whole issue.

If you plainly present the facts they will speak for themselves.

শিক্ষানবিস এর ছবি

আপনার কথার সাথে শতকরা ১০০ ভাগ দ্বিমত পোষণ করছি। শুনুন:
কন্টেন্ট নিয়ে সব আলোচনা আমি মূল লেখায়ই করে দিয়েছি। মন্তব্যে কন্টেন্ট নিয়ে আর কি আলোচনা হবে বলুন তো? আপনি নিজেই কন্টেন্ট নিয়ে কিছু বলা শুরু করুন না।
আর কন্টেন্ট থেকে জাকির নায়েকের ইন্টেন্টটা পুরোপুরি বোঝা গেছে। এজন্যই মন্তব্যগুলো এসেছে ইন্টেন্ট নিয়ে। এটাই খুব স্বাভাবিক এবং পোস্টের লেখক হিসেবে আমি এটাই চাইছিলাম। জাকির নায়েক ভণ্ড, ভণ্ডের সাথে তার ভণ্ডামির কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা করাটা আপনার কাছে যুক্তিপূর্ণ মনে হলেও আমার কাছে হচ্ছে না।
আপনার যুক্তিগুলো কেমন কেমন যেন, অদ্ভুত কিছিমের...

নিঝুম এর ছবি

আর কন্টেন্ট থেকে জাকির নায়েকের ইন্টেন্টটা পুরোপুরি বোঝা গেছে। এজন্যই মন্তব্যগুলো এসেছে ইন্টেন্ট নিয়ে। এটাই খুব স্বাভাবিক এবং পোস্টের লেখক হিসেবে আমি এটাই চাইছিলাম। জাকির নায়েক ভণ্ড, ভণ্ডের সাথে তার ভণ্ডামির কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা করাটা আপনার কাছে যুক্তিপূর্ণ মনে হলেও আমার কাছে হচ্ছে না।

শিক্ষানবিস, ভাই,নো অফেন্স... তুমি কিন্তু জাকির নায়েকের কন্টেন্ট নিয়েই তোমার ব্যাখ্যা গুলো দিয়েছ । আর তার কন্টেন্ট গুলোতে ভুল থাকলে কিংবা বিভ্রান্তিকর কিছু থাকলে আমার ধারনা তা ভুল প্রমাণ করাটাই মূখ্য । এইখানে ইন্টেনশন কিংবা ল'এর ভাষায় "মেন্স রিয়া ", যাই বলি না কেন , আমার কাছে গৌণ মনে হচ্ছে ।

আর তোমার লেখা নিয়ে কমেন্ট না করি, কিন্তু,তোমার এই লেখার পেছনে পরিশ্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

শিক্ষানবিস এর ছবি

ভাই নিঝুম, আপনি কিন্তু আমার পুরো মন্তব্যের ভাবটা না ধরে আংশিক ভাব নিয়ে কমেন্ট করলেন। আমি বোঝাতে চেয়েছি:

জাকির নায়েকের কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তার ইন্টেন্টটা সবার কাছে প্রকাশ করে দেয়া। নয়ত তার মত এমন মূর্খ লোকের মূর্খামি নিয়ে মাথা ঘামানো মানে তো নিজেকে ছোট করা। লেখাটা পড়লে আপনার এতক্ষণে বুঝে যাবার কথা নায়েকের কন্টেন্ট কত নিচু মানের এবং ইন্টেন্টটা কত নিকৃষ্ট। তাই আমি যখন বলেছি ভণ্ড লোকের ভণ্ডামির কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা করা উচিত না, তখন কমেন্টের আলোচনাই বুঝিয়েছি। লেখা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে নায়েক ভণ্ড। আর লেখা থেকেই সবাই বুঝে গেছেন নায়েকের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছিটেফোটাও নেই। জাস্ট এজন্যই আমার হালকা কষ্ট করা। তাই আমি চাচ্ছিলাম মন্তব্যে সবাই তার ইন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা করবেন।

আমার এই লেখার পেছনের কথা শুনলে আর অত মুগ্ধ হবেন না। এর জন্য আমাকে খুব বেশী পরীশ্রম করতে হয়নি। জাকির নায়েক এতই মূর্খামি করেছেন যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার হালকা পরীশ্রমে তার মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া গেছে। জাকির নায়েককে নিয়ে আমাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়েছে- এটা আমার জন্যই লজ্জার বিষয়।

নিঝুম এর ছবি

বেশ কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক আমাকে জাকির নায়েকের কিছু ভিডিও দেন । অনেক দিন বাসায় পড়েছিলো । দেখা হয়নি । এরপর পিস টিভিতে ট্রুথ এক্সপোসড অনুষ্ঠানটির নাম শুনে কিছুদিন আগ্রহ নিয়ে দেখলাম । আমি বুঝতে পারছিনা , আমার মেন্টালিটির সাথে তুমি কমিউনিকেট করতে পারবে কি না , কেননা আমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা করে চিন্তা করি । তো যা বলছিলাম , আমি অই অনুষ্ঠান দেখে কিছু শিখবার বদলে বেশ মজা পেয়েছিলাম । তুমি বুদ্ধিমান । বুঝে নাও কেন... । অনেক গোঁজামিল দেয়া কথা, যুক্তি নেই বা আমি কমিউনিকেট করতে পারিনা এইরকম অনেক কথাই তিনি বললেন । আমি সেক্ষেত্রে তাঁকে ভন্ড ভাবি নাই । ভন্ড তো তারাই ,যারা বলে একটা এবং করে আরেকটা । ( খারাপ অর্থে) । আমার মনে হচ্ছিলো তিনি তাঁর একটা বিশ্বাস ভয়াবহ রকম করে আঁকড়ে ধরে আছেন , যা তিনি জানেনও না ভুল বলছেন না শুদ্ধ বলছেন । বিবর্তন বাদ সম্পর্কে তার বলা কথা গুলো যদি তার বিশ্বাস থেকে দূরে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার পর্যন্ত গড়ায় , সেক্ষেত্রে আমিও দোষ দেখি কিন্তু, তার বলা এবং পাওয়া ( হতে পারে ভুল)কন্টেন্ট গুলোই এক্ষেত্রে তার ইন্টেনশন কে আরো শক্তিশালী করেছে বলে আমার ধারনা । ( জিনিস টা একটু ফানি তো বটেই,যেখানে ইন্টেনশন মূল কার্যপ্রক্রিয়ার মূল চালিকা শক্তি হবার কথা ছিলো ) ।

আমার বলতে চাওয়া কথার বটম লাইন হচ্ছে,ইন্টেনশন্টা সম্ভবত জরুরী নয় এক্ষেত্রে । তার কন্টেন্ট গুলোই যদি বিবর্তনবাদের মূল থিওরী ( যদিও আমি কোন থিওরীকেই এক্সট্রিমলি বাহবা বা জাস্টিফাই করবার পক্ষপাতী নই) গুলোকে এলোমেলো করে দেয় সেক্ষেত্রে কন্টেন্ট গুলোই বিভাজিত হওয়া প্রয়োজন, আলোচিত কিংবা সমালোচিত হওয়া প্রয়োজন । তাঁর ইন্টেনশন নয় ।

আর সেক্ষেত্রেই তার ভুলটা মানুষ্কে বোঝানো যাবে । যেটাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য বলে আমার ব্যাক্তিগত ধারনা ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

হিমু এর ছবি

নিঝুম কি বলতে চাইছো, জাকির নায়েক যা করছে, তা কেবল আকটুস রেয়া, পেছনে মেন্স রেয়াস প্রমাণ করা যাবে না, বা সে ব্যাপারে আলোচনাও করা যাবে না?

জাকির নায়েক একটা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে খাটো করার জন্যে বা ভুল প্রমাণ করার জন্যে সে কিছু কথা মুখস্থ করে এসে উগড়ে দিচ্ছে, এখানে তার ইনটেন্ট তো পরিষ্কার। নিজের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে কিছু ভুল কথা প্রচার করা। এ নিয়ে আলোচনায় সমস্যা কোথায়?

জোকারনায়েকদের ইন্টেনশন হচ্ছে ব্যবসা করা। এবং সেটা মানুষের মনের ধর্মভীরু অংশে সুড়সুড়ি দিয়ে। তোমার দেয়া যুক্তি ধরে তো হিটলার, মওদুদী, গোলাম আযমের ইন্টেনশন নিয়ে আলাপের প্রয়োজনীয়তাও ফুরায়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

জোকার নায়েক ফ্যানক্লাব এর ছবি

চলুক

নিঝুম এর ছবি

আলোচনা করা যাবেনা কেন ? অবশ্যই যাবে । বাস্তবতা হলো আপনি যদি বলেন জাকির নায়েক হারামজাদা , কিছু পাব্লিক পাছার পাছড়া চুল্কাতে চুল্কাতে বলবে, "ইসলামরে আক্কুমন কইচ্চে "। তাই টেকনিক্যালি ভুল গুলো সবার সামনে ধরিয়ে দেয়া উচিত । তাতে করে যুক্তির কাছে হৈ হৈ রৈ রৈ ধোপে টিকবে না । আর ইন্টেনশন প্রমান করার কি আছে, যারা নায়েকের অনুসারী তারা তো বলবেই , উনি ইসলামকে বাঁচাচ্ছেন । কিন্তু যদি ধরিয়ে দেয়া হয় তার বলা কন্টেন্ট গুলো ভুল ও মিথ্যা তাহলেই সেই অন্ধ অনুসারীরা ভাবনার প্রয়াস পাবেন ।

আর মোওদুদী,নিজামী,গো।আ তো তাদের ইন্টেনশন তো বলেই বেড়াচ্ছে যে তারা শাঊয়া ফাকিংস্তান কে রক্ষা করতেই বাল ফালাইসে । এখন তাদের তাদের কর্মকান্ড গুলো তথা এক্টাস রিয়া কে পাব্লিকের সামনে ঠিকঠাক মত তুলে ধরলেই তাদের মেন্স রিয়ার ঘৃণ্য অংশটুকু উন্মোচিত হবে ।
আমরা যতই ইভিল থট করিনা কেন , কর্মকান্ডের দোষ প্রমাণ হওয়া ছাড়া তো সেই চিন্তা করা টাকে লাইম লাইটে আনতে পারি না । আইনে অনেক বড় বড় দূর্বলতা আছেরে ভাই । এইটাই দুঃখ ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

হিমু এর ছবি

হুমমম।

তাহলে ঠিকাছে। কনটেন্ট ফালতু প্রমাণিত হবার পাশাপাশি ইনটেন্টটাও শিক্ষানবিস ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে খানিকটা। তা না হলে কি আর অ্যানোনিমাস হারেরেরেতারেছেড়েদেরেদেরে আসে চোখ টিপি ?


হাঁটুপানির জলদস্যু

নিঝুম এর ছবি

ইন্টেনশন ফুটাইয়া তুলতে পারলে তো হারেরেরাতারেছেড়েদেরে বইলা আসার কথা না । আর অনেক পাব্লিকের ইন্টেনশন তাগো কন্টেন্টের মতই কিলিয়ার । যেমুন, যাঁহাঁরাঁ জাতীয় পতাকাকে বিভিন্ন শেইপে এবং বিভিন্ন জায়গায় দেখিতে নারাজ।
মুহিব মিয়ার মত আমারো কইতে মঞ্ছায়... কেনু কেনু কেনু কেনু...
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

হিমু এর ছবি

বুঝি নাই। কথাটার মানে কী?

কিংবা হয়তো বুঝছি। যেটা বুঝছি সেটা ভালো লাগে নাই। যদি সেইরকম কিছু হয়, অনুরোধ থাকলো সেই রাস্তায় না হাঁটার। সচলায়তনে ঐসব ভালো লাগে না। ঠিকাছে?


হাঁটুপানির জলদস্যু

নিঝুম এর ছবি

ভাই,আপ্নি বুদ্ধিমান,বুঝবেন । কি কিংবা কারে বুঝাইসি আর কেন বুঝাইসি । তীর টা আমার দিকেই মারলো দেইখা আমিও ফেরত দিলাম । নইলে লেখতাম না ওই কথা ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

প্রিয় নিঝুম,

জাকির নায়েক ভণ্ড না হতে পারে, হতে পারে সে কেবল একটা ছাগল পাপেট। তবে পাব্লিকে তো ঐ ছাগলের চেহারাই দেখে, ওরেই গুরু মানে। সেজন্যেই ওরে ল্যাংটা করে সবার সামনে দেখান দরকার।

আর সে যদি ভণ্ড না হয়ে কেবল ছাগল হয়, তাহলে তারে যারা চড়ায়, মানে ঐ কর্পোরেট গুরুরা, তারাই আসল ভণ্ড। যাকিরের কন্টেন্ট পাব্লিকে দেখে বলে ঐ কন্টেন্ট রিবিউট করা যেমন জরুরী, সেইরকম বা তার থেইকাও বেশি জরুরী ঐ আসল ভণ্ডগুলার ইন্টেন্ট রে ল্যাংটা কইরা পব্লিকের সামনে দ্যাখানো।

জাকির ভণ্ড না ছাগল সেইটা না দেইখা, পারলে আসল ভণ্ডগো খুইজা বাইর করেন। এই সব বিশাল কর্মযজ্ঞের পিছনে ভণ্ড ভুত আছেই।

নিঝুম এর ছবি

জনাব,
এই পবিত্র দায়িত্বটা আপ্নে নেন । আছি আপ্নের লগে ইনশাল্লাহ ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

আলমগীর এর ছবি

বাংলা বানানরীতির নিয়মে চন্দ্রবিন্দুর বিষয়টা আমাকে কেউ একটু বোঝান।

হিমু এর ছবি

তৎসম শব্দে ন আর ণ কে তদ্ভবে চন্দ্রবিন্দু দিয়ে সরানো হয়েছে।

যেমন দন্ড -> দাঁড়
চন্দ্র -> চাঁদ
বন্টন -> বাঁটা
কন্টক -> কাঁটা
রন্ধন -> রাঁধা
ক্রন্দন -> কাঁদা

ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনেককেই দেখি "কাঁদা ছোড়াছুড়ি" লিখতে। সেটা কাদা হবে। কাদা, যা কি না কর্দম।


হাঁটুপানির জলদস্যু

আলমগীর এর ছবি

না বলছিলাম: হিমু একটা ইয়ে, তাঁর মাথায় কোন চুল নেই।
দেঁতো হাসি

হিমু এর ছবি

কেনু কেনু কেনু [সৌজন্যে মুহিব খান]? দীঘল কালো কেশ আমার মাথায়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

হিমু এর ছবি

intent টার্মটা আইনে ব্যবহৃত হয় জনাব অনামিকা। আপনি আপনার হাতের কাছের ওয়েবস্টারস ঘেঁটে দেখতে পারেন সেখানে কী বলা আছে।

bad choice of words really can cloud the whole issue.

হাউ অ্যাবাউট স্টপ প্রীচিং অ্যান্ড স্টার্ট মেকিং রিয়েলি গুড চয়েসেজ অব ওয়র্ডস?

কন্ট্রোল + অল্ট + পি চাপলে ফোনেটিকে বাংলা লিখতে পারবেন। পরবর্তী কমেন্ট কষ্ট করে বাংলায় করবেন, যেমন বাকিরা করছে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

নিঝুম এর ছবি

Where did you get this definition of "intent" (intention)? It is aneutral word, with no outright connection with crime.

হিমু ভাই, বিতর্কের অন্য বিষয় গুলোতে যোগ দিচ্ছি না , যদিও অনেক কিছুর সাথে ইনিশিয়ালি একমত না । কিন্তু স্পেসিফিকালি, অনামিকার উপরের কথা গুলো , আমার যতটুকু এইবিষয়ে জানা আছে, তাতে করে ঠিক আছে ,বলা যায় । একজন আইনের ছাত্র হিসেবে আমি যতদূর জানি, ইন্টেনশন একটা নিউট্রাল ওয়ার্ড । এইটার সাথে ক্রাইমের সম্পর্ক মূলত ল'এর ভাষায় "মেন্স রিয়া" বলে । সেইটারও ধারনা এবং ব্যাক্যা ব্যাপক । সাধারণতঃ আভিধানিক অর্থে অনেক শব্দের অর্থ গুলো , আইনের সংগায় এসে খুব বড় আকারের পরিবর্তন ঘটায় ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

স্নিগ্ধা এর ছবি

সবাই সব কিছু বলে দিয়েছে, নতুন করে আর কিছু বলার নেই - শিক্ষানবিশকে অভিনন্দন দেয়া ছাড়া ..... চলুক

Onamika [অতিথি] এর ছবি

Shishkanabish:

I looked through your references and see that your article is mostly a translation of an article at islam.com, almost word for word which criticises Dr Zakir Naik.

http://www.islam.com/reply.asp?id=381583&ct=2&mn=381583

(So Muslims are not in that bad state after all!)

You should have categorically mentioned that you are primarily copying from that article point by point. Putting that website as an unqualified reference does not do any good when it is almost a copy!

Onamika

হিমু এর ছবি

অনুগ্রহ করে মন্তব্য ৪.১ এ একটু দেখুন কী বলা আছে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

শিক্ষানবিস এর ছবি

অনামিকা, আপনিও তো দেখি জাকির নায়েক স্টাইলে যুক্তি দেন। জাকির নায়েকের স্টাইল মানে হল, ডিটেলস কিছু না জেনেই তর্ক জুড়ে দেয়া। আমি রেফারেন্সে (http://www.islam.com/reply.asp?id=381583&ct=2&mn=381583) এই আর্টিকেলের নাম দিয়েছি। কিন্তু এটাকে আমি আমার প্রাইমারি রেফারেন্স বলবো না। কারণ এতে যা কিছু আছে তার প্রত্যেকটি বিষয় আমি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমি বলেছিই যে, ২৭ মিথ্যার থিমটা তার কাছ থেকে নেয়া। ট্রান্সক্রিপ্টগুলোও তার কাছ থেকে নেয়া। কিন্তু সেগুলো নেয়ার পর আমি কিভাবে কাজ করেছি শুনুন:

- ট্রান্সক্রিপ্টের সাথে নায়েকের ভিডিওর কথাগুলো মিলিয়েছি। মাঝেমধ্যে একটু সংশোধনও করেছি। বিস্তারিত পড়েননি বলে আপনি সেগুলো বুঝতেই পারেননি। পারবেন কিভাবে আপনার ঘরের সব দরজা তো খোলা নেই।
- প্রতিটি মিথ্যার সাথে নিভর্রযোগ্য রেফারেন্স মিলিয়েছি। আমার অন্যান্য রেফারেন্সগুলোও মূল লেখার সাথে দেয়া আছে। পারলে আপনিও মিলিয়ে দেখুন। ডারউইন কারেসপন্ডেন্স প্রজেক্ট, বিবর্তনের সব বই, সব বিশ্বকোষ ঘেটে আমার (বা মূল ইংরেজি নিবন্ধের) যুক্তির একটা ভুল বের করে আনুন।
- মূল ইংরেজিটার বেশ কিছু যুক্তির পরিবর্ধন, পরিমার্জন করেছি। ফ্রেড হয়েলের সিনট্রপি সম্পর্কে কি ইংরেজিটিতে কিছু বলা আছে? নেই। এটা আমার অনেকগুলো সংযোজনের একটা।

এ কারণেই আমার প্রাইমারি রেফারেন্স ইংরেজিটাকে বলা যাবে না। ইংরেজি থেকে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি, এটা ঠিক। কিন্তু সেখানকার সবগুলো যুক্তি খতিয়ে দেখার পরই এখানে নিয়ে এসেছি। আমি তো জাকির নায়েক না যে যাচ্ছেতাই বলে যাব। আমি জোকার নায়েক না যে, ইন্টারনেটের কোন এক সাইট থেকে দুই লাইন পড়েই পটাপট জ্ঞান জাহির করা শুরু করবো। আর আমার পাঠকরাও তো জাকির নায়েকের শ্রোতাদের মত অজ্ঞ-মুর্খ না যে, আমি যা বলব তা-ই বিনা শর্তে মেনে নেবেন।

শিক্ষানবিস এর ছবি

অনামিকা,
আপনার এবং অন্যান্য জাকির নায়েক স্টাইলের যুক্তিবাদীদের সুবিধার্থে আমি মূল লেখায় কয়েকটি জিনিস যোগ করেছি। আমার প্রথমেই বোঝা উচিত ছিল। তখন মনে হয়েছিল, রেফারেন্স ঘেটে সবাই বিষয়টা বুঝে নেবেন। কিন্তু সবাই তো রেফারেন্স ঘেটে লেখার মূল্য বিচার করতে চাবে না। তাই এই সংযুক্তি। সেই সাথে আমার প্লেইজারিজমের আশংকাটাও আর থাকলো না আর কি!!!

-- প্রথম থেকে পঞ্চম প্যারায় ট্রান্সক্রিপ্টের উৎস হিসেবে THHuxley-কে উল্লেখ করেছি।
-- তথ্যসূত্রের ঠিক আগে একটা ডিসক্লেমার দিয়েছি।
-- শুধু তথ্যসূত্র দিয়ে লাভ হয়নি। তাই প্রতিটি সূত্র ব্যাখ্যা করে দিয়েছি। কোন সূত্র থেকে কতটা হেল্প নিয়েছি সেগুলো বলে দিয়েছি।

কীর্তিনাশা এর ছবি

অসম্ভম, মারাত্মক, দারুন এই কাজের জন্য শিক্ষানবিশকে সালাম, শ্রদ্ধা, অভিনন্দন সহ আরো যত কিছু আছে সব চলুক চলুক চলুক চলুক চলুক

ও সেই সাথে অনেক অনেক শুভকামান দেঁতো হাসি

আপনাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সফল হোক!!

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

অতিথি লেখক এর ছবি

দারুণ লেখা!!! জ়া-ঝা!!!
এই ভন্ডের ক্যাচাল শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত।
ফেসবুকে শেয়ারে দিচ্ছি।
----------
উদ্ভ্রান্ত পথিক

তারেক এর ছবি

দারুন !! অসাধারণ একটা কাজ হয়েছে মুহম্মদ। দরকার আছে এইটার। চলুক
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমি মূর্খ মানুষ। এতকিছু জানি না। শুধু সাধুবাদটা জানিয়ে গেলাম। জোকারনায়েক গোত্রীয় লোকদের বিপরীতে সবসময় আছি।
---------------------------------------------
আমাকে ছুঁয়ো না শিশু... এই ফুল-পাখি-গান সবই মিথ্যা!

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

দিগন্ত এর ছবি

আমিও আগে এককালে এর বিরুদ্ধে কিছু লিখেছিলাম। তবে সেটা এতটা নিপুণ হাতের কাজ ছিল না। শিক্ষানবিসের লেখাটা সত্যিই খুব ভাল হয়েছে। ভিডিও তৈরীর প্রকল্পে আমি যোগদান করতে রাজি আছি।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

শিক্ষানবিস এর ছবি

আপনার লেখাটা কোন এক ফাঁকে মিস হয়ে গিয়েছিল। এই মাত্র পড়ে ফেলেছি। খুব ভাল। জাকির নায়েকদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য এরকম আরও অনেক লেখার প্রয়োজন।
তবে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, কারণ নায়েকদের মিথ্যের ঝুলি এক সময় শেষ হবেই...

এনকিদু এর ছবি

আমিও ভিডিওতে অভিনয় করব, এইপ এর চরিত্রে আগ্রহী ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

অসাধারণ কাজ শিক্ষানবিস।
এই জোকার সাহেববে কোনোকালেই দেখতে পারতাম না। পরিচয় অনেকেই এর ভক্ত বলে বিরক্ত হতাম।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

স্নিগ্ধা লিখেছেন:
সবাই সব কিছু বলে দিয়েছে, নতুন করে আর কিছু বলার নেই - শিক্ষানবিশকে অভিনন্দন দেয়া ছাড়া ..... চলুক

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

পরিবর্তনশীল এর ছবি

এই লোকের বদনখানা দেখলেই আমার গা জ্বলে।
তোর লেখা এখনো পড়ি নাই। কিন্তু বুঝতে পারছি ভয়াবহ হইছে।।
আপাতত অভিনন্দন জানিয়ে যাই।
পড়া হলে রুমে তো আছিসই। অবশ্য উইকেণ্ডে তুই কই কই যাস দেঁতো হাসি
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

শিক্ষানবিস এর ছবি

এই উইক এন্ডে তো বাসায় যামু। আর কোথাও যাওনের প্ল্যান নাই।
চিন্তা করিস না, আমার মন বলে অচিরেই এইসব নায়েক-ফায়েকের মিথ্যার ঝুলি শেষ হয়ে যাবে। মানুষ তো প্রগতির দিকে যাইতে চায়।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

উফ রে... কমেন্ট মিলিয়ে এ তো বিরাট ব্যাপার... পুরোটা পড়ে উঠতে পারলাম না। অবশ্য পড়ে বুঝতে পারবো সে গ্যারান্টিও নাই।
একটা ভিডিও বানানোর প্রিপারেশন চলতেছে শুনলাম। যে কোনো দরকারে আমারে একটা খালি টোকা দিলেই বান্দা হাজির থাকবে। জোকার নায়কের বিপক্ষে যে কোনো কাজে আমি আছি।

আরো একটা কাজ করা যায়। ঐ ব্যাটা যেরকম ভাষণ দেয়... সেরকম করে একটা ভাষণ রেকর্ড করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া যায়।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

শিক্ষানবিস এর ছবি

এইরকম দুইটা ভাষণ ভিডিও বিপ্লব পাল ইউটিউবে ছেড়েছেন। উপরে দ্যাখেন, বিপ্লব পালের কমেন্টে লিংক দুটা দেয়া আছে।
তবে আমাদের আরও করতে হবে। ডকুটা তৈরী হলেও খুব ভাল হবে। এটা তৈরীর জন্য তো বিশাল গ্যাং হয়ে গেল। ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল...

আলমগীর এর ছবি

চলুক

বিপ্লব পাল এর ছবি

যারা যারা এই ভিডিও করতে ইচ্ছুক নাম পাঠান।

আমার ইমেল

Though I did all by myself, this time I want to produce a 60 minute script-for all comprehensive rebuttal....every body has to write their part in mutually exclusive way so that all of his famous points can be exposed...then I will call you guys to record your voice together-I can put 12 people in conference and record over skype. You must download skype from skype.com -that is free.

But first we must well prepare who would tackle which points...I need more people-because more voice put together will be stronger.....also please forward me the video against which you will rebutt..this will be needed..

হিমু এর ছবি

ছোট একটা সেল এটা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। আপনি বড় কিছু তৈরি করতে চাইলে বন্যার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, তিনি বিবর্তন নিয়ে শিক্ষামূলক কিছু ভিডিও নির্মাণে আগ্রহী।


হাঁটুপানির জলদস্যু

বন্যা এর ছবি

হিমু, চলেন আগে এই ছোট ভিডিও/ডকুমেন্টারিটা সারি, দেখি কেমন হয়, তারপর বড়টা দেখা যাবে...।
বিপ্লব, বিবর্তনের উপর শিক্ষামূলক ভিডিও করতে হলে আরেকটু ভালো করে, সময় নিয়ে করতে হবে, একটা ভালো ভিডিও তৈরি করতে হবে, শুধু অডিও দিয়ে করলে হবে না।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আমাকেও সাথে পাবেন। কোন সাহায্য লাগলে এক পায়ে খাড়া।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নিঝুম এর ছবি

বিপ্লব'দা, আপনার ভিডিও লিঙ্ক টি ইউটিউবে দেখলাম । আপনার ভিডিও দেখে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে দেখলাম, আপনি ভাষন শুরু করলেন । ইট ডাজন্ট মেইক সেন্স টু মি এনিওয়ে ... আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন আছে আপনার কাছে, আপনি " কেউ হিন্দু কিংবা কেউ মুসলিম নয় " নামের যে ভিডিও টি ইউটিউবে আপলোড করেছেন তার সূত্র ধরে বলতে চাই, হিন্দু কিংবা মুসলিম ধর্মে কোথাও কিন্তু খারাপ কাজ করতে বলা নাই, মানুষের ক্ষতি করতে বলা নাই, অন্যায় কাজ গুলো করতে বলা নাই,মিথ্যা বলতে বলে নাই , মোট কথা এমন কিছু নাই যেখানে মানব সভ্যতার অপকার হয় এমন কিছু নাই । আমার প্রশ্ন হলো , এখন মানুষ যদি হিন্দু ,মুসলিম,বৌদ্ধ ,খৃষ্টান,শিখ যে কোন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে কারো ক্ষতি ছাড়া বেঁচে থাকে , তাতে সমস্যা কোথায় ??

একটু ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ ?

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সমস্যাটা হল কনফ্লীক্ট। যে বিশ্বাস করে আদম-হাওয়া থেকে আমরা সবাই সৃষ্টি হয়েছি, হাওয়া আদমের বাঁ পাজর থেকে এসেছে, জন্মনিয়ন্ত্রন সৃষ্টি বিরোধী, গে-লেসবিয়ানদের সমান অধিকার থাকতে নেই তার সাথে আর যাই চলুক যুক্তি চলে না। তখন শুরু হয় কনফ্লীক্ট। আর কনফ্লীক্ট রেজ্যুলুশনের জন্য শুরু হয় শক্তির প্রতিযোগীতা।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অভিজিৎ এর ছবি

হিন্দু কিংবা মুসলিম ধর্মে কোথাও কিন্তু খারাপ কাজ করতে বলা নাই, মানুষের ক্ষতি করতে বলা নাই, অন্যায় কাজ গুলো করতে বলা নাই,মিথ্যা বলতে বলে নাই , মোট কথা এমন কিছু নাই যেখানে মানব সভ্যতার অপকার হয় এমন কিছু নাই ।

একদমই ঠিক কথা নয়। ধর্মে অনেক ভায়োলেন্সের কথা আছে, মিথ্যাচারের কথা আছে, ক্ষতি করার কথা আছে। কিন্তু মানুষ সিলেক্টিভলি কেবল ভাল কথাবার্তার উল্লেখ করে, বাকিগুলো চেপে যায়। এই যে একসময় ভারতে হাজার হাজার নারীকে সতীদাহের নামে পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো, তার উৎস কোথায় বলে আপনি মনে করেন? এই যে শুদ্রদের সমাজে হেয় করে দেখা হয়, 'ছোট জাত' বলে দাবড়িয়ে রাখা হয়, সেগুলোর ইন্সপেরেশন এসেছে ধর্মগ্রন্থে থেকেই। মনুসংহিতায় পরিস্কার উল্লেখ আছে - মানুষের সমৃদ্ধি কামনায় পরমেশ্বর নিজের মুখ থেকে ব্রাক্ষ্মণ, বাহু থকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য, আর পা থেকে শুদ্র সৃষ্টি করেছিলেন (১:৩১)। ঈশ্বরের কাছে যদি সবাই সমান হত, তাহলে তিনি মাথা থেকে ব্রাক্ষণ আর পা থেকে শুদ্র তৈরি করতেন না। শুদ্রদের যাতে অন্য তিন বর্ণ থেকে আলাদা করে চেনা যায় এবং শুদ্ররা যেন প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখে যে তিন বর্ণের মানুষের ক্রীতদাস হয়ে সেবা করবার জন্যই তাদের জন্ম। তিন বর্ণের মানুষদের থেকে শুদ্ররা যে ভিন্নতর জীব, মনুষ্যেতর জীব তা জানানোর জন্য প্রতি মাসে মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলবার নির্দেশ দিয়েছেন মনু (৫:১৪০)। একজন শুদ্রকে বেদ পাঠ তো দূরের কথা, শ্রবনেরও অধিকার দেওয়া হয়নি। একজন শুদ্রকে তার উঁচু জাতে বিয়ে করবার অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এজন শুদ্র যদি ব্রাক্ষ্মণের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসে পড়ে, তবে তার বুকে গরম লোগার রডের ছ্যাকা দেবার অথবা পশ্চাৎদেশ কর্তন করে নেবার বিধান রয়েছে (৮: ২৮১)। এধরনের অনেক কিছুই বলা যায়।

শুধুমাত্র ১৮১৫ সাল থেকে ১৮২৬ সালের মধ্যে সতীদাহের স্বীকার হয়েছে ৮১৩৫ জন জন নারী। এগুলো এমনি এমনি হয় নি। এই দানবীয় কাজ ধর্মগ্রন্থের ইন্সপিরেশনেই হয়েছে। ‘স্বামী মারা গেলে বিধবাকে স্বামীর চিতায় আগুনে পুড়ে মরে সতী হওয়ার’ সুস্পষ্ট নির্দেশ ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ১৮নং সূক্তের ৭ নং শ্লোক(১০/১৮/৭)।

খ্রীষ্ট ধর্মে এক্সময় ডাইনী পোরানোর নামে হাজার হাজার মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিলো। এটাও বাইবেলের ইন্সপেরশনেই হয়েছে। দেখুন বাইবেল -

Kill The Witches!
"Thou shalt not suffer a witch to live. Whoever lieth with a beast shall surely be put to death. He that sacrificeth unto any god, save to the LORD only, he shall be utterly destroyed." (Exodus 22:18-20)

কোরানেও আপত্তিকর জিনিস আছে ঢের। কোরানে সত্যই অবিশ্বাসীদের অন্ধ/বর্বর, এবং এদের হৃদয়ে যে সীলমোহর এঁটে দেওয়া আছে তা বলা আছে; দেখুন সুরা ২:৭, ৪:১৫৫, ৭:১০০, ৭:১০১, ৯:৯৩, ১৬:১০৮, ৩০:৫৯, ৪৫:২৩। কোরান মুমিন ভক্তদের শেখাচ্ছে যেখানেই অবিশ্বাসীদের পাওয়া যাক তাদের হত্যা করতে (২:১৯১, ৯:৫), তাদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হতে, কঠোর ব্যবহার করতে (৯:১২৩), আর যুদ্ধ করে যেতে (৮:৬৫)। কোরাণ শেখাচ্ছে বিধর্মীদের অপদস্ত করতে আর তাদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করতে (৯:২৯)। কোরাণ অন্য সকল ধর্মের অনুসারীদের কাছ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতার নির্যাসটুকু কেড়ে নিয়ে সোচ্চারে ঘোষণা করছে যে ইসলামই হচ্ছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম (৩:৮৫)। এটি অবিশ্বাসীদের দোজখে নির্বাসিত করে (৫:১০), এবং ‘অপবিত্র’ বলে সম্বোধন করে (৯:২৮); মুসলিমদের ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আদেশ করে যত ক্ষণ পর্যন্ত না অন্য সকল ধর্মকে সরিয়ে ইসলামী রাজত্ব কায়েম হয় (২:১৯৩)। কোরাণ বলছে যে শুধু ইসলামে অবিশ্বাসের কারণেই একটি মানুষ দোজখের আগুনে পুড়বে আর তাকে সেখানে পান করতে হবে পুঁতি দুর্গন্ধ ময় পূঁজ (১৪:১৭)। এই 'পবিত্র' গ্রন্থটি অবিশ্বাসীদের হত্যা করতে অথবা তাদের হাত পা কেটে ফেলতে প্ররোচিত করছে, দেশ থেকে আপমান করে নির্বাসিত করতে বলছে আর ভয় দেখাচ্ছে এই বলে যে- 'তাদের জন্য পরকালে অপেক্ষা করছে ভয়ানক শাস্তি' (৫:৩৪)। আরও বলছে, 'যারা অবিশ্বাস করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে যাতে ওদের চামড়া আর পেটে যা আছে তা গলে যায়, আর ওদের পেটানোর জন্য থাকবে লোহার মুগুর' (২২:১৯)। কোরাণ ইহুদী এবং নাসারাদের সাথে বন্ধুত্বটুকু করতে পর্যন্ত নিষেধ করছে (৫:৫১), এমনকি নিজের পিতা বা ভাই যদি আবিশ্বাসী হয় তাদের সাথে সম্পর্ক না রাখতে উদ্বুদ্ধ করছে (৯:২৩, ৩:২৮)। ইত্যাদি।

কিন্তু বিশ্বাসীরা এই ধরোনের ভায়োলেন্ট ভার্সগুলোর কথা ভুলে গিয়ে কেবল, 'ধর্মে কোন জোরজবরদস্তি নেই', 'তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার' জাতীয় যে ২/৩ টা ইতিবাচক ভার্স আছে সেগুলোই উল্লেখ করে, আর বাকিগুলোর প্রতি উদাসীন থাকে - এজ ইফ সেগুলো ধর্মগ্রন্থে নেই। এভাবে আমরা পছন্দমত ভার্স পিক করে ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মকে মহান বানাই, আর অশোভন অংশ গুলোকে বাদ দিয়ে দেই।

আমি এ নিয়ে একবার একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম - ধর্মই কি নৈতিকতার একমাত্র উৎস? লেখাটি নিঝুমকে পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

তানভীর এর ছবি

কোরান সম্পর্কে আপনার ব্যাখাগুলো জাকির নায়েকের ব্যাখার মতই লাগল। আমি এটা নিয়ে বিস্তারিত এখানে আলাপ করতে চাই না। শুধু একটা আয়াত দিয়েই বুঝিয়ে দিতে চাই আপনি কীভাবে বিকৃত ব্যাখা করছেন।

কোরাণ ইহুদী এবং নাসারাদের সাথে বন্ধুত্বটুকু করতে পর্যন্ত নিষেধ করছে (৫:৫১),

এটা ঠিক যে বিভিন্ন ইংরেজী এবং বাংলা অনুবাদে "বন্ধু" শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যখন একটি ধর্ম বা গ্রন্থের বিরূদ্ধে অভিযোগ করবেন, তখন মূল গ্রন্থে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তার অর্থটিও বোঝা দরকার। এখানে আরবীতে 'আউলিয়া' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে- যে তোমরা ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের 'আউলিয়া' হিসেবে নিও না। আউলিয়া শব্দের আবার তিন রকম অর্থ হয়- ১) মিত্র ২) বন্ধু ৩) অভিভাবক (বাংলায় আমরা পীর/আউলিয়া শব্দটা প্রায় ব্যবহার করি যারা মুরিদদের অভিভাবক)। এখানে যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা না বলে গোষ্ঠীগত মিত্রতা/জোট গঠন (Alliance) বা অভিভাবক হিসেবে তাদের বেছে নিতে নিষেধ করা হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়।

অন্য আরেকভাবেও আপনার বক্তব্যকে খন্ডন করা যায়। মুসলিমরা 'পিপল অফ স্ক্রিপচার' তথা ইহুদি, নাসারাদের ধর্মান্তরিত না করেই অর্থাৎ তারা ইহুদি, খ্রিস্টান থাকলেও বিয়ে করতে পারে। এখন যাকে বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে, তার সাথে বন্ধুত্ব করা নিষেধ আছে- এমন আজগুবি তত্ত্ব কিভাবে উদ্ভব হতে পারে- তা আমার জানা নাই!

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমার মনে হয় শিক্ষানবিসের এই পোস্টটার হাইলাইট বিবর্তনবাদ নিয়ে জোকার নায়েকের জঘন্য বাটপারি।



অজ্ঞাতবাস

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

কয়েকটি নমুনা দিচ্ছি মন্তব্য ছাড়াই। চাইলে আরও অজস্র দেয়া যাবে।

"0 Prophet! Strive hard against the unbelievers and the hypocrites, and be firm against them. Their abode is Hell, an evil refuge indeed" (Qur'an 9:73). ("Strive hard" in Arabic is jahidi - a verbal form of the noun jihad.)

"When you meet the unbelievers in the battlefield, strike off their heads and, when you have laid them low, bind your captives firmly" (Qur'an 47:4).

"Prophet, make war on the unbelievers and the hypocrites and deal rigorously with them. Hell shall be their home: an evil fate" (Quranic 9;73)

"Those who believe fight in the cause of Allah, and those who reject faith right ire the cause of evil: so fight ye against the friends of Satan" (Qur'an 4:7).

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
যৌনদুর্বলতায় ভুগছি দীর্ঘকাল। দুর্বল হয়ে পড়ি রূপময়ী নারী দেখলেই...

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

অভিজিৎ এর ছবি

আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি, ঢালাও ভাবে যে মনে করা হয় ধর্মে কোন বিদ্বেষ নেই, হিংসা নেই - শুধু ভাল ভাল মানবিক কথাবার্তা লেখা আছে, তা মোটেও ঠিক নয়। ভায়োলেন্ট ব্যাপার আছে খুব ভালমতাই। আমি সতীদাহের উদাহরণ দিয়েছি, উইচ হত্যার কথা বলেছি - যেগুলো ধর্মগ্রন্থ থেকেই উতসারিত। আজ অনেক অথাকথিত মডার্ণ হিন্দুই এখন আপনার মত সম্পূর্ণ অস্বীকরা করে বলেন ধর্মগ্রন্থের কোথাও নাকি সতিদাহের কথে নেই। মডার্ণ খ্রিস্ট্রানেরা ডাইনীর ব্যাপারটা আপনার 'আউলিয়া'র মত নানা পদের টার্ম এনে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান। অথচ, ইউসুফ আলী পরিস্কার করেই আয়াতটার অর্থ করেছেন -

! take not the Jews and the Christians for your friends and protectors: They are but friends and protectors to each other. And he amongst you that turns to them (for friendship) is of them. Verily Allah guideth not a people unjust.

friends and protectors - শব্দগুলো খেয়াল করুন। পিকথাল এবং শাকিরও একই অর্থে আয়াতটির অনুবাদ করেছেন।

আমি আর তর্ক বারাতে চাই না এ নিয়ে। নানা পদের ব্যাখ্যা অপব্যাখ্যা নিয়ে এসে জল ঘোলাকরা যায়ই। কিন্তু মোল্লারা তো আর তানভীরের মত ঘুরিয়ে অর্থ করছে না। বিন লাদেন, বাইতুল মোকারমের খতিব, গোয়াজম, বাংলা ভাইয়ের মত অনেকেই আছেন যারা আক্ষরিক অর্থেই ধর্মগ্রন্থের স্লোক বা আয়াতকে গ্রহণ করেন এবং বিধর্মীদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ ছড়াতে থাকেন প্রতিনিয়ত। ধর্মগ্রন্থগুলোর ভায়োলেন্ট ভার্সগুলোকেই তারা তাদের কর্মকাণ্ডকে জাস্টিফাই করার কাজে ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারটা অস্বীকারের চেষ্টা বোকামী।

কোরান সম্পর্কে আমার সোজাসাপ্টা কথাগুলো যদি আপনার জাকির নায়েকের ব্যাখার মত লাগে - তা হলে আমি দুঃখিত। একই বিশেষণ যে কেউ আপনার উপরও প্রয়োগ করতে পারে কিন্তু হাসি । কাজেই এগুলো বিশেষণ ব্যবহারের আগে আমাদের সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

নিঝুমের কথার সূত্র ধরেই আমাকে দু'কলম লিখতে হয়েছে, ফলে অনেকের মনে হয়েছে আলোচনা অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। আমি সুমন চৌধুরির সাথে একমত। এ পোস্টের বিষয় বিবর্তন এনং জাকির নায়েক। কাজেই আমি আর এই থ্রেডে উত্তর দিব না। পরে অন্যত্র এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

তানভীর এর ছবি

...'আউলিয়া'র মত নানা পদের টার্ম এনে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান...।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকবো কেন? 'আউলিয়া' টার্ম আমি আনিনি, মূল আয়াতেই আছে। আপনার সুবিধার্তে ইংরেজী উচচারণসহ দিলাম।

5-51- Ya ayyuha allatheena amanoo la tattakhithoo alyahooda waalnnasara awliyaa baAAduhum awliyao baAAdin waman yatawallahum minkum fa-innahu minhum inna Allaha la yahdee alqawma alththalimeena

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

শিক্ষামূলক ভিডিওর উদ্যোগকে সাধুবাদ। ছিটেফোটা কোন কাজ বাকি থাকলে জানাবেন। এ অধম কোন কাজে লাগলে গর্বিত হব।

@ধ্রুব হাসানঃ

এই মহতী খেলায় জাকির নায়েক হরফে ছাগলা ছাগল একমাত্র খেলোয়ার নন! তিনি হলেন মিঃ পাপেট! কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো বিশাল বড় এক ও একাধিক কর্পোরেট শক্তি এর পেছনে কাজ করছে।

এই পেছনের শক্তিগুলোর ব্যাপারে একটু খোলাসা করে জানতে চাইছিলাম। content-intent এর প্যাচালে প্রশ্নটা তলে পড়ে গেছে।

আলমগীর এর ছবি

নিঝুম লিখেছেন:
হিন্দু কিংবা মুসলিম ধর্মে কোথাও কিন্তু খারাপ কাজ করতে বলা নাই, মানুষের ক্ষতি করতে বলা নাই, অন্যায় কাজ গুলো করতে বলা নাই,মিথ্যা বলতে বলে নাই , মোট কথা এমন কিছু নাই যেখানে মানব সভ্যতার অপকার হয় এমন কিছু নাই ।

নির্ভর করে 'খারাপ' কাজ কী? 'ক্ষতি' করা কী? 'অন্যায়' কাজ কী?
খারাপ/ন্যায়ের যে আভিধানিক অর্থ তা ইসলামিক অর্থ না। চুরি করার অপরাধে হাত কেটে ফেলা অন্যায় (ইসলামিক ন্যায়)।

জাকির নায়েক একালের গোপাল ভাঁড়।

রণদীপম বসু এর ছবি

শিক্ষানবিশ
ভাই, আপনি যে চমৎকার কাজটা শুরু করলেন, তাকে আর বিশেষায়িত করলাম না। তবে এটার লিঙ্ক আমি আমার ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে দিচ্ছি।
আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে আপনার সরল-সুবোধ চেহারাটাকে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে ইয়া ভারিক্কি একটা চেহারা ধরিয়ে দিতাম ! হা হা হা !
দুর্দান্ত কাজ। এভাবেই চলুক। সাথে আছি।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

বিপ্লব পাল এর ছবি

একটা ভালো ভিডিও তৈরি করতে হবে, শুধু অডিও দিয়ে করলে হবে না।

সেত জানি। সমস্যা অন্যত্র। কাজটা ঠিক কি? জাকির নায়েকের ঢপ ধরা না বিবর্তন?
জাকিরের ধাপ্পাবাজি শুধু বিবর্তনেই থেমে নাই-ধর্ম, সমাজবিজ্ঞান সর্বত্রই তার প্রভাব।
আমি বিবর্তন নিয়ে ডকু করার কথা বলি নি। আমি শুধু জাকিরের যুক্তির বিরুদ্ধে আলোচনার কথা বলে ছিলাম। বিবর্তন নিয়ে বাংলায় ভাল ভিডিও নাই। করতে হবে। বিবর্তন নিয়ে ডকুমেন্টারী করার মত জ্ঞান আমার নাই। তবে জাকিরের ধাপ্পাবাজি ধরার জন্যে আমি কিছু করতে বলে ছিলাম।

বিপ্লব পাল এর ছবি

বিপ্লব'দা, আপনার ভিডিও লিঙ্ক টি ইউটিউবে দেখলাম । আপনার ভিডিও দেখে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে দেখলাম, আপনি ভাষন শুরু করলেন । ইট ডাজন্ট মেইক সেন্স টু মি এনিওয়ে ... আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন আছে আপনার কাছে, আপনি " কেউ হিন্দু কিংবা কেউ মুসলিম নয় " নামের যে ভিডিও টি ইউটিউবে আপলোড করেছেন তার সূত্র ধরে বলতে চাই, হিন্দু কিংবা মুসলিম ধর্মে কোথাও কিন্তু খারাপ কাজ করতে বলা নাই, মানুষের ক্ষতি করতে বলা নাই, অন্যায় কাজ গুলো করতে বলা নাই,মিথ্যা বলতে বলে নাই , মোট কথা এমন কিছু নাই যেখানে মানব সভ্যতার অপকার হয় এমন কিছু নাই । আমার প্রশ্ন হলো , এখন মানুষ যদি হিন্দু ,মুসলিম,বৌদ্ধ ,খৃষ্টান,শিখ যে কোন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে কারো ক্ষতি ছাড়া বেঁচে থাকে , তাতে সমস্যা কোথায় ??

(১) ধর্মে খারাপ কাজ করতে বলা নায়-এটা ঠিক না। সব ধর্মেই ভাল খারাপ আছে। হয়ত সেই সময় এবং সমাজের জন্যে সেগুলো দরকার ছিল।
(২) সমস্যা এই 'ভাল' আর ;'খারাপ' কাজের সংজ্ঞায়।
ধর দাঙ্গার সময় তোমার বাড়িতে কোন হিন্দু আশ্রয় নিয়েছে। এবার মুসলিম ফ্যানাটিকরা তোমার বাড়ি সার্চ করতে এলে কি তুমি 'সত্যি' কথা বলবে যা ধর্মে দাবি করে?

মিথ্যে কথা বলা খারাপ কাজ। কিন্তু এখানে মিথ্যে কথা বলা কি খারাপ কাজ হবে?
(৩) অর্থাৎ ভাল আর খারাপের এই ব্যাপারটা সম্পুর্ন স্থান কাল নির্ভর। একজন অনাহারী খাদ্য চুরি করলে কি খারাপ হয়ে যাবে? একজন অত্যাচারিত স্ত্রী যদি পরকীয়া করে-তাকি কি করে খারাপ বলবে?
সুতরাং নৈতিকতার কোন নীতিমালা তৈরী করা যায় না। এটা সম্পূর্ন পোস্ট মডার্ন দৃষ্টিতে,
মানবিকতাকে সামনে রখে, বাঁচার চেষ্টাকে সন্মান দিয়ে দেখতে হবে। এই জন্যেই ধর্মের পরম নীতিমালা খুব সাংঘাতিক জিনিস।

(৪) ধর্ম মানব সভ্যতার প্রয়োজনেই এসেছে-আবার সেই জন্যেই চলে যাবে। সেই প্রয়োজনটা ছিল রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেস। এটা বুঝতে হবে আগে। এটা ঠিক ঠাক বুঝলেই বুঝবে বর্তমানে ধর্মের আর কোন দরকার নাই। রিপ্রোডাক্টিভ ফিটনেসের সাথে ধর্মের সম্পর্ক বুঝতে আমার নীচের লেখাটা পড়তে পার।
http://biplabbangla.blogspot.com/2009/02/blog-post_08.html

নিঝুম এর ছবি

জনাব,ধন্যবাদ আপনার উত্তরের জন্য ।

(১) ধর্মে খারাপ কাজ করতে বলা নায়-এটা ঠিক না। সব ধর্মেই ভাল খারাপ আছে। হয়ত সেই সময় এবং সমাজের জন্যে সেগুলো দরকার ছিল।

ধর্মে খারাপ কাজ করতে বলার ব্যাপারগুলো একটু উদাহরণ দিয়ে ব্যাক্যা করবেন প্লিজ ? তাহলে আলোচনা করা যেত ।

(২) সমস্যা এই 'ভাল' আর ;'খারাপ' কাজের সংজ্ঞায়।
ধর দাঙ্গার সময় তোমার বাড়িতে কোন হিন্দু আশ্রয় নিয়েছে। এবার মুসলিম ফ্যানাটিকরা তোমার বাড়ি সার্চ করতে এলে কি তুমি 'সত্যি' কথা বলবে যা ধর্মে দাবি করে?

আমাকে যদি প্রশ্নটি করে থাকেন ,তাহলে আমি এক্ষেত্রে বলব, আমি হিন্দু ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলাটিকে বাঁচাব । এক্ষেত্রে আমার এর পেছনের মূল মন্ত্রটিই থাকবে আমার ধর্ম এবং তার উপর ভিত্তি করে পরিবার থেকে নেয়া আমার শিক্ষা । এখন কথা হচ্ছে , আমি ইসলাম ধর্মের পাঠ নিয়ে শিখেছি বা নির্যাস্টুকু যা বুঝেছি, তা হোলো , মানুষ্কে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা , সমাজে শান্তি আনা । যারা মৌলবাদী কিংবা ধর্মের নামে উগ্রতা প্রকাশ করে থাকে, ইসলাম তো তাদের সাথেই নেই । একথা সম্ভবত সব ধর্মেই সত্য । আর কোরান শরীফে যে জিনিসের ব্যাক্যা নেই তার অনেক কিছুই মহানবী ব্যাক্যা করে গেছেন । কোন নিপিড়ীতের জীবন রক্ষা করবার ব্যাপারটি শুধু ধর্ম কেন , আমার মনুষত্বও আমাকে সঞ্চালিত করবে ।

এই জন্যেই ধর্মের পরম নীতিমালা খুব সাংঘাতিক জিনিস।

ধর্মের পরম নীতিমালাকে যদি লিটারেলী সেন্সে জাজ করা হয় তাহলে তা মাঝে মাঝে ভয়াবহ রূপ ধারন করতে পারে, এজ ইউ ডেস্ক্রাইবড আর্লিয়ার । কিন্তু মানুষ তার মনুষত্বদিয়ে ধর্মকে ব্যাক্যা করলেই সম্ভবত এই খারাপ সম্ভবনা গুলো আর মাথা চাড়া দিতে পারে না । আর ধর্মের ব্যাক্যা কয়জনই বা ঠিক দিতে পেরেছেন ।

কে বোঝে মাওলার আলেকবাজী ??

আমার কাছে মনে হয় মুসলিম হিন্দু যু শিখ ক্রিশ্চিয়ান এইখানে ফ্যাক্টর না । ধর্ম আর মানবতার মেলবন্ধন সমাজ কে এই তর্ক আর জিজ্ঞাসা গুলো থেকে মুক্তি দিতে পারে । আমার বাবার একটা কথা খুব মনে পড়ছে । তিনি সবসময় বলতেন , মানব ধর্মের কথা । আসলে এইটাই আজকাল সত্যি আর ঠিক মনে হয় ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

শিক্ষানবিস এর ছবি

মানুষ্কে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা , সমাজে শান্তি আনা ।

এগুলো বোধহয় আপনি ধর্ম থেকে শিখেননি। এগুলো তো আমিও শিখেছি। কিন্তু ধর্ম থেকে নয়। এগুলো মানুষের সহজাত বিবেক। ট্রেডিশনাল টক বাদ দিয়ে ধর্ম থেকে এক্সট্রা কি কি শিখেছেন সেটা বলেন।

কই যেন পড়েছি-
"পৃথিবীতে ভাল মানুষেরা ভাল কাজ করে, খারাপ মানুষেরা খারাপ কাজ করে। আর ধর্ম এমন জিনিস যা ভাল মানুষদের দিয়েও খারাপ কাজ করায়।"

নিঝুম এর ছবি

উদ্বৃতিতে যে বাক্যটি তুমি ব্যাবহার করেছ তার আগের লাইনেই আমি উত্তরটি বলেছি । সমগ্র ধর্মগ্রন্থ পড়ে তার নির্যাস তথা সার কথা এবং শিক্ষা আমার কাছে যা মনে হয় তা-ই উদ্বৃতিতে উল্লেখ্য বাক্যটি । তুমি যেমন ধর্ম থেকে ওই কথা গুলো শেখোনি , আমি আবার ধর্ম থেকেই ওই বাক্যটি শিখেছি । আর তোমার ব্যাবহার করা " বোধহয় " শব্দের মধ্যে যে নিশ্চিত না হবার ব্যাপারটি লুকায়িত, সেক্ষেত্রে আবারো বলি, ধর্মই আমাকে ভালো এবং মন্দের প্রভেদ টুকুই বুঝিয়েছে । তোমার ক্ষেত্রে হয়ত সোর্স ধর্ম নয় । অন্য কোন ক্ষেত্র থেকে তুমি শিখেছ । আমি "লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়া দীন" বাক্যটি থেকে যে শান্তির সুবাতাস পাই, যে সৌহার্দের ইঙ্গিত পাই , তা-ই আমার শিক্ষা । মহানবীর জীবন -যাপন থেকেও আমি জীবনের অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা পাই । মহানবীকেও আমি ধর্মের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছি । সো, তোমার কাছে ট্রেডিশনাল টক মনে হলেও আমার কাছে তা মনে হয় না ।

কই যেন পড়েছি-
"পৃথিবীতে ভাল মানুষেরা ভাল কাজ করে, খারাপ মানুষেরা খারাপ কাজ করে। আর ধর্ম এমন জিনিস যা ভাল মানুষদের দিয়েও খারাপ কাজ করায়।"

কই পড়েছ মনে করতে পারলে জানিয়ে দিও । আমার কাছে মনে হয় না ধর্মের মূল ভাব ধরতে পারলে মানুষ খারাপ কাজ করতে আগ্রহী হবে । আর ধর্ম অবিশ্বাসী মানুষরা কি খারাপ কাজ করে না ? সেক্ষেত্রে তাদেরকে, কে খারাপ কাজটা করায় ?

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমার মনে হয় বিষয়টা অর্থহীন কথা চালাচালির দিকে চলে যাচ্ছে।

সহজ কথা হচ্ছে রিলিজিওন অর্থে ধর্ম ততক্ষণই ন্যুনতম দার্শনিক গ্রহনযোগ্যতার জায়গায় থাকে যতক্ষণ তার মনোযোগের কেন্দ্র শুধুমাত্র নীতিদর্শনের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভিষন রকম সংকীর্ণ এবং প্রশ্ন সাপেক্ষ হলেও যেহেতু বিশ্বাসী মানুষ সংখ্যায় বেশী সেই জায়গা থেকে এরকম একটা কিছু মনে করলেও করা যেতে পারে।

কিন্তু যখনই রিলিজিওন ইন্সটিটিউশান এর চেহারা নেয় সেই মুহুর্ত থেকে তাঁর ভুমিকা একতরফা গণবিরোধী। ইতিহাসে এর কোন ব্যতিক্রম নেই। তুমি আইনের ছাত্র তাই কী হৈলে কী হৈতো কে তোমার বিবেচনা বহির্ভুত বলেই ধরে নিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক চেহারায় ধর্ম শুধুমাত্র শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

জোকার নায়েকদের মতো বাটপাররা সেই কাজেই সুদক্ষ সহায়ক ভুমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি মোটেই সরল বিশ্বাসী নন। তিনি হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের ভাষায় যাকে বলে ধাউর



অজ্ঞাতবাস

অভিজিৎ এর ছবি

"পৃথিবীতে ভাল মানুষেরা ভাল কাজ করে, খারাপ মানুষেরা খারাপ কাজ করে। আর ধর্ম এমন জিনিস যা ভাল মানুষদের দিয়েও খারাপ কাজ করায়।"

কই পড়েছ মনে করতে পারলে জানিয়ে দিও ।

এটা পদার্থবিদ স্টিভেন ওয়াইনবার্গের উক্তি। উনি 'ডিজাইনার ইউনিভার্স' শীর্ষক একটি বক্তৃতায় এই উক্তিটি করেন। মূল ইংরেজিটা এরকম -

With or without religion, you would have good people doing good things and evil people doing evil things. But for good people to do evil things, that takes religion.

Steven Weinberg, quoted in The New York Times, April 20, 1999



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

নিঝুম এর ছবি

স্টিভেন ওয়াইনবার্গের জন্য এই উক্তি কনভিনিএন্ট । তাই তিনি হয়ত বলেছেন । আর উক্তিটি তিনি এমন ভাবে বলেছেন যেন পুরা ইউনিভার্স ভালো এবং খারাপ এই দুই ভাগে বিভক্ত । ভালো খারাপ এইভাবে ট্যাগ করা যায় নাকি ? যেন, ভালোরা নিরন্তর ভালো করে যাচ্ছেন আর খারাপেরা অনন্তকাল ধরে খারাপ কাজ করে যাচ্ছেন ।

এইটা কতটা যুক্তি যুক্ত যে একজন মানুষ আজীবন শুধু ভালো কাজই করে যায় কিংবা জীবনভর কেবল খারাপ কাজ করে যায় ? এইটা কি সম্ভব ? উক্তিটাই তো আজগুবি লাগতেসে । আর তাছাড়া খারাপ কাজ করতে চাইলে ধর্মের দোহাই লাগেনা । এম্নিই করা যায় । ধর্মকে পাশ কাটিয়ে, বিবেক কে পরাস্ত করতে পারলেই হয় ।

ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষেরা খারাপ কাজ করেনা ? সেক্ষেত্রে কে করায় এই খারাপ কাজ গুলা ?
---------------------------------------------------------------------------

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

অভিজিৎ এর ছবি

আর তাছাড়া খারাপ কাজ করতে চাইলে ধর্মের দোহাই লাগেনা । এম্নিই করা যায় । ধর্মকে পাশ কাটিয়ে, বিবেক কে পরাস্ত করতে পারলেই হয় ।

ঠিক তাই। ভাল বা খারাপ কাজ করার ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা গৌন। স্টিভেন ওয়াইনবার্গ সেই অর্থেই বলেছেন, ধর্ম থাকুক আর না থাকুক সবসময়ই এরকম অবস্থা থাকবে যে ভাল মানুষ ভাল কাজ করছে, খারাপ মানুষ খারাপ কাজ করছে। কাজেই ধর্ম মরালিটির মনোপলি ব্যাবসা দাবি করতে পারে না। ধর্ম না মানলে সবাই যদি উচ্ছনে যেত, তবে আমরা যারা ধর্ম মানি না সবাই অমানুষ হয়ে যেতাম। ধর্ম না মানার ফলে আমাদের মরালিটিতে কোন ঘাটতি আছে, তা কি হলফ করে বলা যাবে?

তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, ধর্ম বাঁচানর জন্য মানুষ এমন সব অমানুষিক কাজ করে, তখন মানবিকতার চেয়ে ধর্মটাই তাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়। সতীদাহের সময় হাজার হাজার মানুষকে যে পুড়িয়ে মারা হয়েছে - দেখুন তাদের বিবেক একটুও নাড়া খায় নি। ঘটনা তো একতা দুটো নয়, হাজার হাজার। পুরোপুরি ধর্মের নেশায় বুদ হয়ে গনহত্যা। একই কথা বলা যায় ডাইনী হত্যার ক্ষেত্রেও। একাত্তরে রাজাকার বাহিনী ইসলাম বাঁচাতে যা করেছে তা দেখুন। এ ছাড়া, অনর কিলিং, বেগানা নারিকে পাথর ছুড়ে ছুড়ে হত্যা সহ অনেক কিছুই বলা যায়। প্যাস্কেলের একটা সুন্দর উক্তি আছে এ প্রসঙ্গে -

Men never do evil so completely and cheerfully as when they do it from religious conviction.

কথাটা কিন্তু মিথ্যে নয়।

যাকগে আমরা বরং ভিডিও তে ফিরি...।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

নিঝুম এর ছবি

দাদা শোনেন, সতীদাহ প্রথা যেমন ধর্ম বিশ্বাসীরা চালু করেছিলো,রামমোহন রায় ধর্মের ব্যাক্যা দিয়াই তা বন্ধ করছিলো । যেই কুত্তার বাচ্চা রা ৭১ এ ইসলামের নামে আমাদের মা-বোন দের হত্যা করসিলো,গণিমতের মাল বানাইসিলো সেইখানে ইসলাম কে ব্যাবহার আর তার ভুল এক্সপ্লেনেশন ছাড়া আর কিছুই ছিলো না , এইটা আমাদের দেশের সব মুসল্মানরাই জানে । তা না হইলে তো আমাদের দেশের মানুষ রা এইটারে অন্যায় কইত না । এখন কথা হইল ধর্মরে কে কেমনে ব্যাবহার করে কার সুবিধা মত । ধর্মের কিন্তু তাতে কিছুই হয় না ।

মনে নাই লালনের গানের কথা ?

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায় ,তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয় ???
--------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

শিক্ষানবিস এর ছবি

এখন কথা হইল ধর্মরে কে কেমনে ব্যাবহার করে কার সুবিধা মত।

ধর্মের আসল জিনিস তো এইখানেই। এইটারে যে যেমনে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারে। ধর্ম আর কিচ্ছু না, একটা tool যার দোহাই দিয়া যে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। মনে রাখবেন tool এর কোন মূল্য নাই, ব্যবহারটাই আসল।

নিঝুম এর ছবি

ভাইরে,একটা কথা কই । ধরা যাক, তুমি কইলা ,সব খারাপ পাব্লিকরে জেলে ঢুকানো দরকার । তুমি মিন কইরা কইলা,যে মূলত খারাপ লোক তাদেরকেই । এখন তোমার এই স্টেট্মেন্ট ইউজ কইরা কেউ যদি তার স্বার্থ হাসিল করে ,তাইলে তোমার তাতে কি ক্ষতি হইলো । তুমি তো নির্দেশনা ঠিকি দিসিলা । এখন বিবেক দিয়া সেইটা বুঝতে না পারার দায়টা কার ?ধর্ম মানুষ্রে ঠিক নির্দেশনাই দিসে , মানুষ তা শোনেনা দেইখাই গ্যাঞ্জাম ।

(এইখানে মনে করা হলো তুমিই ধর্ম,এবং তোমার কথা পালনীয়)
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

hasan Mahmud এর ছবি

আমি বাজি রেখে বলতে পারি তাদের কারোরই ধারণা নেই লোকটা কতবড় ভন্ড।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

জোকার নায়েকের বাচন ভঙ্গীর সাথে চন্দ্রস্বামীর অদ্ভুত মিল। চন্দ্রস্বামীকে মনে আছে তো? সেই যে জী টিভিতে আর এটিএনে নেচে নেচে গাইতো,

জনম জনম কী মাইলী চাদর
ভক্তি জল সে ধো লে....

তারপর সেই ভক্তিরসে মজেই একদিন দেখা গেল তিনি একাধারে মাদক এবং অস্ত্র চোরাকারবারী।

খুব খিয়াল কৈরা!!!!



অজ্ঞাতবাস

বিপ্লব পাল এর ছবি

ধর্মে খারাপ কাজ করতে বলার ব্যাপারগুলো একটু উদাহরণ দিয়ে ব্যাক্যা করবেন প্লিজ ? তাহলে আলোচনা করা যেত ।

অভিজিত এই ব্যাপারে একটা পোস্ট দিয়েছে। তাতে ধর্মের অন্ধকার দিকের কালো লিস্ট আছে। তবে আমি ধর্মটাকে যেহেতু নৃতাত্ত্বিক, ইতিহাস এবং সমাজ বিজ্ঞান দিয়ে বোঝার চেস্টা করি-তাই বলবো-উল্লিখিত ঐসব অন্ধকার দিকগুলির সাথে -ধর্মের সাহায্য নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকার, পুরুষতন্ত্রকে টেকানোর সম্পর্ক আছে। এবং সেই ব্যাপারে হজরত মহম্মদ বা হিন্দু ধর্মের কেও কম যায় না। ধর্মের আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক-দুটি দিকই সব সময় আছে। এবং সমস্যা হচ্ছে যদিও আপনি রাজনৈতিক দিক আলাদা করতে বলছেন-তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আলাদা করা যায় না-কারন মানুষের অস্তিত্ব আধ্যাত্মিক নয়-সামাজিক-আর তাই ধর্মে রাজনীতি চলে আসতে বাধ্য। আপনি এই দুটি প্রবন্ধ পড়ে দেখতে পারেনঃ

১। http://biplabpal2000.googlepages.com/Businessofreligion.pdf
২|
http://biplabpal2000.googlepages.com/ReligiousIdentity.pdf

কিন্তু মানুষ তার মনুষত্বদিয়ে ধর্মকে ব্যাক্যা করলেই সম্ভবত এই খারাপ সম্ভবনা গুলো আর মাথা চাড়া দিতে পারে না । আর ধর্মের ব্যাক্যা কয়জনই বা ঠিক দিতে পেরেছেন ।

আপনি যা বলছেন-সেটা পোস্ট মডার্ন দর্শনের মূল কথা-যে সমস্ত এনলাইট্মেন্টকে
মানবিকতা দিয়ে যাচাই করে দেখে গ্রহণ করা। সেটাতে আমার আপত্তি নেই। আমিও সেই বহুত্ববাদেই বিশ্বাসী। সমস্যা হচ্ছে ধর্ম গ্রন্থগুলি কিংবা মার্ক্সবাদও কিন্তু এই পোস্ট
মর্ডানিজম মানে না। সেখানে এবসলুটিজমের প্রভাবই বেশী-আমি ঈশ্বর বলছি-তাই আমি ১০০% কারেক্ট-এটা ত কোরানের বা গীতার ছত্রে ছত্রে আছে। এতে করে ধর্মীয় মনে এমন অস্তিত্বের সংকট ঢোকানো হয়-সে মানবতাকে ছেড়ে ধর্ম গ্রন্ধকে অক্ষরে অক্ষরে মানার চেস্টা করে। এবং সেটা করা অসম্ভব। ফলেই সেই ব্যার্থতা ঢাকতে তাকে আরো বেশী নামাজ, পূজো হজ্জ ইত্যাদি দিতে হয়-যা তাকে আরো দ্বিচারী জীব করে তোলে।

মানবতাই মানুষের একমাত্র ধর্ম।

নিঝুম এর ছবি

এবসুলিউটিজমের যে কথা বললেন, তাতে আমার দ্বিমত আছে । যদি ধরা হয় ধর্ম গ্রন্থের সব কথাই ঠিক তাহলে তার প্রণেতারও সব কথা ঠিক । এইটাই বিশ্বাস । আর বিশ্বাসীরা প্রণেতার এই এবসুলিউটিজমের উপর প্রবল বিশ্বাস স্থাপন করে । কিন্তু সমস্যা হলো , ধর্ম অবিশ্বাসীরা এই তত্ত্ব মানতে নারাজ । সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় ধর্মের যে ডিস্পিউটেড পোর্শন গুলো তাদের মূল কন্সার্ন , তার লিটারেল মিনিং নিয়েই কথা তোলে । অথচ , সঠিক ব্যাখ্যার কারনে অনেক আয়াতের মিনিং পালটে যেতে পারে । আমাদের উচিত ধর্মের বাণী গুলোর পারপোসিভ এপ্রোচ গুলো বিবেচনা করা । লিটারেল এপ্রোচ নয় । আর পূজো,হজ্জ এইগুলা ব্যার্থতা ঢাকবার জন্য না যতটুকু আপনার মনে হয় , আমার ধারনা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের কারনেই এই বহিঃপ্রকাশ । কেউ যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ফিল করতে পারে , তাতে করে অন্যায় কিছু দেখিনা ।

আর অভিজিতদার বলা কথা গুলো তানভীর ভাই খন্ডন করে গেছেন সুন্দর করেই ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

অভিজিৎ এর ছবি

ভাবছিলাম এ নিয়ে আর কিছু লিখব না। কিন্তু জল দেখছি গড়িয়েই চলেছে। একটা ছোট নোট দেই।

অভিজিতদার বলা কথা গুলো তানভীর ভাই খন্ডন করে গেছেন সুন্দর করেই ।

আমার মনে হয় না তানভীর তেমন কিছু খন্ডন করতে পেরেছে। আমি একগাদা ভায়লেন্ট ভার্সের উদাহরণ দিয়েছিলাম। উনি মাত্র একটা ভার্স নিয়ে উনার ব্যাখ্যা হাজির করেছেন। আর যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা হয়ত উনার কাছে হয়ত গ্রহণযোগ্য, আমার কাছে নয়। awliyaa শব্দের অর্থ friends/ protectors/ helpers। সেজন্য ইউসুফ আলী, পিকথাল আর শাকিরের মত পন্ডিতেরা সঠিকভাবেই এর অনুবাদ করেছেন , যা আমি আমার লেখায় উদ্ধৃত করেছি। আমি উনাদের অনুবাদটা এখানে দিচ্ছি -

YUSUFALI: O ye who believe! take not the Jews and the Christians for your friends and protectors: They are but friends and protectors to each other. And he amongst you that turns to them (for friendship) is of them. Verily Allah guideth not a people unjust.
PICKTHAL: O ye who believe! Take not the Jews and the Christians for friends. They are friends one to another. He among you who taketh them for friends is (one) of them. Lo! Allah guideth not wrongdoing folk.
SHAKIR: O you who believe! do not take the Jews and the Christians for friends; they are friends of each other; and whoever amongst you takes them for a friend, then surely he is one of them; surely Allah does not guide the unjust people.

অর্থাৎ, এই আয়াত অনুযায়ী ইহুদী খ্রীস্টান্দের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। আমিও তাই বলেছি। তানভীর ব্যাখ্যা দিয়েছেন - এখানে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বদলে গোত্র বঝানো হয়েছে - এটা উনার নিজস্ব ব্যাখ্যা। আমার এ নিয়ে কোন বক্তব্য নেই।

মূল কথা হল, এই সমস্ত 'ঐশ্বরিক' ভার্স উল্লেখ করেই ইমাম আর মোল্লারা বিদ্বেষ ছড়িয়ে থাকে, কোন কোনটা আবার সন্ত্রাসকেও উস্কে দেয়। এ রকম অসংখ্য ভার্স আমি কোট করতে পারি। কাজেই ধর্মে শুধু ভাল ভাল কথা বলা আছে, কোন অমানবিকতা নেই - এই অনুজ্ঞা খন্ডন করার জন্য এ ধরনের কয়েকটিই যথেষ্ট।

আরেকটি ব্যাপার কিন্তু লক্ষ্যনীয়। এই সমস্ত বিভিন্ন ধরনের নানা মুনির নানা ব্যাখ্যা হাজির করা হয় কেবল ভায়োলেন্ট এবং অমানবিক আয়াতের ক্ষেত্রেই। 'সঠিক ব্যাখ্যার কারনে অনেক আয়াতের মিনিং পালটে যেতে পারে' - এ নিয়ম যদি সত্য হয়ে থাকে তা ভাল খারাপ যে কোন ভার্সের জন্যই প্রযোজ্য হবার কথা। অথচ, 'ধর্মের মধ্যে কোন জোরজবরদস্তি নাই' ধরনের পজিটিভ ভার্সের ক্ষেত্রে কিন্তু 'সঠিক ব্যাখ্যা' নিয়ে আসার কোন প্রয়োজন অনুভব করা হয় না। তফসির এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় শুধু অমানবিক ভার্সগুলোর ক্ষেত্রেই। এটা কি কোন সত্য তুলে ধরে?



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

নিঝুম এর ছবি

আরেকটি ব্যাপার কিন্তু লক্ষ্যনীয়। এই সমস্ত বিভিন্ন ধরনের নানা মুনির নানা ব্যাখ্যা হাজির করা হয় কেবল ভায়োলেন্ট এবং অমানবিক আয়াতের ক্ষেত্রেই। 'সঠিক ব্যাখ্যার কারনে অনেক আয়াতের মিনিং পালটে যেতে পারে' - এ নিয়ম যদি সত্য হয়ে থাকে তা ভাল খারাপ যে কোন ভার্সের জন্যই প্রযোজ্য হবার কথা। অথচ, 'ধর্মের মধ্যে কোন জোরজবরদস্তি নাই' ধরনের পজিটিভ ভার্সের ক্ষেত্রে কিন্তু 'সঠিক ব্যাখ্যা' নিয়ে আসার কোন প্রয়োজন অনুভব করা হয় না। তফসির এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় শুধু অমানবিক ভার্সগুলোর ক্ষেত্রেই। এটা কি কোন সত্য তুলে ধরে?

উত্তরটা আপনার লেখার মধ্যেই ইন্ডাইরেক্টলি আছে । পজিটিভ ভার্সের জন্য সঠিক ব্যাখ্যার দরকার নাই কেননা তা মানব সভ্যতার জন্য কল্যান কর বলেই সকলের কাছে প্রতীয়মান হয় । আর তথাকথিত যে অমানবিক ভার্সের কথা বলছেন ( যদিও বোধগম্য নয়) তার ব্যাখ্যার দরকার পড়ে কেননা, আপাত দৃষ্টিতে তা কোন কল্যান বয়ে আনে না এই প্রশ্ন উথথাপিত হবার কারনেই । কেননা , সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েই এবং সঠিক মিনিং উদঘাটন করেই তা মানুষের সংশয় এবং "ধর্ম ভায়োলেন্স কে সাপোর্ট করে " এই বিতর্ক নিঃশেষ করবার প্রয়াস পায় ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

তানভীর এর ছবি

আরবীতে বন্ধু বলতে সাধারণভাবে যা ডাকা হয় তাহল সাদিক, রফিক বা সাহাবী। (আমার বাবার নাম রফিক, এর অর্থ তাই ভালই জানি)। বিশ্বাস না হলে ডিকশনারি বা গুগল ট্রান্সলেশনে দেখে নিতে পারেন। আউলিয়া (الآباء) অর্থ গুগল ট্রান্সলেশন আমাকে দেখাচ্ছে Parents বা অভিভাবক (আমি কিন্তু গুগলরে কই নাই যে কোরানের অনুবাদ দিসি চোখ টিপি ; এমনকি পুরা আরবী আয়াত কপি/পেস্ট দেয়ার পরেও দেখাচ্ছে Parents and Guardians. [ গুগল ট্রান্সলেশনে যাচাই করে দেখেন; লিংক দিতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কাজ করে না]

এখন আমি যদি ‘অভিজিৎ আমার বন্ধু’ এ বাক্যটা আরবীতে বলি - তবে কি আমি বলব অভিজিৎ আমার আউলিয়া (!) নাকি বলব অভিজিত আমার রফিক/সাদিক/সাহাবি? কোনটা সঠিক শব্দ হবে? কাজেই এই আয়াতে ব্যক্তিগত বন্ধুতার কথা নিশ্চিতভাবেই বলা হচ্ছে না।

ইউসুফ আলীদের অনুবাদও সরল অর্থে ঠিক আছে। অভিভাবক তো এক অর্থে বন্ধুই, সাথে ইউসুফ আলী Protector কথাটাও বলেছেন। আর অনুবাদে থাকলেই কি শুদ্ধ হয়ে গেল নাকি? ঢাকার বাংলাবাজারে ছাপা এক কপি কোরান শরীফের বঙ্গানুবাদ আমার কাছে আছে। সেটাও কোন বিদগ্ধ পন্ডিত (আশেকানে মাওলানা চোখ টিপি তর্জমা করেছেন। অন্তত ৫০০ টা ভুল ওইখান থেকে বের করা যাবে (ট্রান্সফর্মেশনটা এরকম- আরবী> ইংরেজি> বাংলা; বোঝেন ঠেলা, ব্যাটা হয়ত ইংরেজীতে দুই কলমও কোনদিন লিখে নি)। এখন আমি যদি সেগুলো কোট করে বলি কোরান শরীফে এই আছে- তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেল না! আপনারা জ্ঞানী-গুণী মানুষ। বিবর্তনের মত এত কঠিন জিনিষ বোঝেন আর ‘আউলিয়া’ বুঝতে অন্যের অনুবাদ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করেন! (চট্টগ্রাম তো ‘বারো আউলিয়া’র শহর, ‘বারো বন্ধু’র শহর নিকি চিন্তিত ? )

মূল কথা হল, এই সমস্ত 'ঐশ্বরিক' ভার্স উল্লেখ করেই ইমাম আর মোল্লারা বিদ্বেষ ছড়িয়ে থাকে, কোন কোনটা আবার সন্ত্রাসকেও উস্কে দেয়।

ঠিক তাই। ইউসুফ আলীরাও যখন অনুবাদ করেছিল, তখন তারা ভাবেন নি যে তাদের এসব সরল অনুবাদের ‘গরল’ অর্থ বের করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হবে, ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হবে। তাই, এ কাজ যারা করে তাদের সাথে জাকির নায়েক আর কাঠমোল্লাদের কোন পার্থক্য আমি দেখি না।

এ আয়াতের মত আপনার দেয়া অন্য আয়াতগুলোও খন্ডন করা যায়। কিন্তু আমি এখানে ধর্ম প্রচার করতে আসি নি। সে সময় বা দায়িত্বও আমার নাই। কিন্তু আপনি যেহেতু প্রচারে নেমেছেন (অন্তত আপনার ওয়েবসাইট তাই বলে), বিষবাষ্প ছড়ানোর আগে সেগুলো যাচাই করে নেয়া ভাল হাসি

দিগন্ত এর ছবি

friend হোক বা Protector বা অভিভাবক ব্যাপারটা আলাদা কি হয়? ইহুদী বা খ্রীষ্টানদের সম্পর্কে আলাদা করা মানেই সেটা রেসিজম। আপনাকে কেউ যদি এসে বলে আপনি মুসলিমদের/হিন্দুদের/খ্রীষ্টানদের/নাস্তিকদের/মেয়েদের ... অভিভাবক/বন্ধু/পরিত্রাতা/শাসক ... হিসাবে নেবে না, তাহলে মনে মনে আমি তাকে রেসিস্টই বলি। যাহোক এটা বাজে তর্ক, এটাতে আমি অংশগ্রহণ করবনা।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

শিক্ষানবিস এর ছবি

ঠিক, এই তর্ক এগিয়ে না নেওয়াই বোধহয় ভাল। কারণ, কুরআনকে ব্যাখ্যা করার জন্য নান ধরণের ফিল্টার আছে। কুরআনে কোনকিছুই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মত ডিরেক্টলি বলা নেই। সবকিছুই ঝাপসা। এটাকে একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করে এবং তা করার জন্য প্রত্যেকের কাছেই আলাদা আলাদা ফিল্টার আছে। তানভীর যে ব্যাখ্যাটি করলেন বহু তাফসিরকার সেটার ব্যাখ্যা অন্যভাবে করবেন।

আসমান-জমিন এক ছিল পরে আমরা তাকে আলাদা করেছি- এই আয়াত থেকে যদি বিগ ব্যাং বের করে আনা যায় তা হলে এতে আর কোন সন্দেহ নেই যে, কুরআনের যেকোন আয়াত থেকে যেকোন কিছু বের করে আনা সম্ভব।

সম্ভব... সম্ভব... সবই সম্ভব... কোনটা টিকে থাকা সেটাই এখন দেখার বিষয়...

তানভীর এর ছবি

friend হোক বা Protector বা অভিভাবক ব্যাপারটা আলাদা কি হয়? ইহুদী বা খ্রীষ্টানদের সম্পর্কে আলাদা করা মানেই সেটা রেসিজম।

ব্যক্তিগতভাবে ভাবলেই সেটাকে রেসিজম মনে হবে। কিন্তু আমি দেখিয়েছি ঐ আয়াতে ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করার কোনই স্কোপ নাই। আজকের পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে কেউ যদি বলে- 'আমেরিকা ইজরায়েলের Protector এবং সেটা ধর্মীয় কারণেই'- তাহলে কি কথাটিকে আপনার রেসিস্ট মনে হবে? যদি মনে হয়, তাহলে আমার কিছু বলার নাই। ঐ আয়াতে রহমান, স্যামুয়েল বা এন্ড্রুর কথা চিন্তা না করে কোন স্পর্শকাতর চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কোন মুসলিম গোষ্ঠী বা দেশের কথা চিন্তা করে দেখুন। এটাকে একটা সাধারণ রাজনৈতিক উপদেশ ছাড়া কিছুই মনে হবে না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এটাকে টেনে নামানো সাম্প্রদায়িক উস্কানিরই নামান্তর।

অভিজিৎ এর ছবি

আমি যতদুর জানি, আউলিয়া শব্দটি এসেছে সিঙ্গুলার ওয়ালি শব্দ হতে। ওয়ালি মানে হচ্ছে যাকে আপনি পরিপূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করতে পারেন। ইউসুফ আলী, পিকথাল, শাকির এবং আর অনেকের যা অনুবাদ দেখেছি তাতে তারা আউলিয়া কে 'বন্ধু' এবং প্রটেকটর হিসেবেই করেছেন। আর আপনি যে ভাবে ' সাধারণ রাজনৈতিক উপদেশ ছাড়া কিছুই মনে হবে না' বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এটা একান্তই আপনার অভিমত। শুধু এই একটা আয়াতেই নয়, আপনি দেখুন, 3:118, 4:114 3:28 কিংবা 9:23। পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে বিধর্মী দের সাথে কোন রকম সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব না করতে। যা হোক, আমার বক্তব্য হল - ব্যক্তিগত হোক আর সমষ্টিগত হোক, কেবল ইহুদী কিংবা খ্রীস্টান বলে অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না এই ভাবে ভাবাটাই অন্যায়। কোরানে শুধু এই আয়াতগুলোতেই নয়, অন্য অনেক আয়াতেই এভাবে অনাবশ্যক ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। এন্টিইহুদী বক্তব্য আছে 5:82 তেও। এমনকি 7:166, 2:65, and 5:60 আয়াত গুলোতে ইহুদীদের apes and pigs বলা হয়েছে। আপনি কি সত্যই মনে করেন, আমি বা অন্য কেউ একটি আয়াতকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে টেনে নামানোতেই কেবল সাম্প্রদায়িক উস্কানি আসে? এতা সত্যের অপলাপ। ভুলে গেলে চলবে না অনেকেই কিন্তু ধর্মগ্রন্থের এ সব বানীগুলোকে অক্ষরে অক্করে মেনে চলেন।

ব্যক্তগতভাবে আমার ইসলাম বা অন্যধর্মের উপর কোন আক্রোশ নেই। হিন্দুধর্মে সতী দাহের নামে যে হাজার হাজার মহিলাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে কিংবা শুদ্র বা দলিতদের উপর যে অত্যাচারের স্টিমররোলার চালানো হয়েছে, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এগুলো আমি বারবারই বলছি। ব্রাহহ্মন্যবাদী পান্ডারা ধর্মগ্রন্থ থেকেই এগুলো করার ইন্সপেরেশন পায়। হিন্দুদের হিরো রামচন্দ্র নিজেই তার তথাকথিত 'রামরাজ্যে' শম্বুককে হত্যা করেছিলেন 'ছোট জাত' হয়েও বেদ পাঠ করার অপরাধে। হিন্দুধর্মেও পরিস্কার করে বলা আছে, 'নিজ ধর্ন্মে মৃত্যও শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ'। এটা কি প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতা নয়? হিন্দুধর্ম সম্ভবত পৃথিবীর কুৎসিৎতম বিশ্বাসগুলোর একটি।

আসলে ঘুরিয়ে পেচিয়ে আমাকে সাম্প্রদায়িক বা বর্নবাদী না বানিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় - ধর্ম নিজেই এক চরম বর্ণবাদ। সেজন্যই প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরাই মনে করে নিজ নিজ ধর্মই শ্রেষ্ঠ।



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

শিক্ষানবিস এর ছবি

কিন্তু আপনি যেহেতু প্রচারে নেমেছেন (অন্তত আপনার ওয়েবসাইট তাই বলে), বিষবাষ্প ছড়ানোর আগে সেগুলো যাচাই করে নেয়া ভাল

সাইটটার নাম মুক্তমনা। এটা দেখে আপনার মনে হচ্ছে, এর কাজ কেবল ধর্মের বিরুদ্ধে বিষপাষ্প ছড়ানো? স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং অন্যকে স্বাধীন চিন্তা করতে সাহায্য করাকে আপনি ধর্মের বিরুদ্ধে বিষবাষ্প ছড়ানো মনে করেন? আপনি মুক্তমনা সম্পর্কে জানেন না বলেই এমন বলছেন বলে আমি ধরে নিচ্ছি। আমি দেখেছি মুক্তমনার প্রধান কাজ:

- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ
- বিজ্ঞান ও ধর্মকে সম্পূর্ণ পৃথক করা

এই কাজ করা মানে কি ধর্মের বিরুদ্ধে বিষবাষ্প ছড়ানো?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এসব ভাঁড়দের প্রশ্রয় দেয়ার জন্যই মুসলমানদের আজ এই অবস্থা।

onamika [অতিথি] এর ছবি

শিক্ষানবিস লিখেছেন:
অনামিকা,
আপনার এবং অন্যান্য জাকির নায়েক স্টাইলের যুক্তিবাদীদের সুবিধার্থে আমি মূল লেখায় কয়েকটি জিনিস যোগ করেছি। আমার প্রথমেই বোঝা উচিত ছিল। তখন মনে হয়েছিল, রেফারেন্স ঘেটে সবাই বিষয়টা বুঝে নেবেন।

Calm dowm, Shishkhanabish! Characterising someone with someone else is silly, especially when you do not know that person. (It is funny too, just above in my first post I supported making a video rebuttal! ) By the way, I am no "juktibadi" either.

"সেই সাথে আমার প্লেইজারিজমের আশংকাটাও আর থাকলো না আর কি!!!"

Why did you bring the word "plagiarism"? No one says it it was "plagiarism". In that case you would not be citing that article in your referenc. But I do not think the readers can be left to look into the references to judge how much of it is your own work. When you draw so much from a source you should make it clearer and refer more often to that at appropriate junctures (as is normally done). I understand you did your search and checked and perhaps made some of the points finer, but even then.

This was a sugestion perhaps a little unpleasant. No point becoming defensive to the point that you start calling names.

শিক্ষানবিস এর ছবি
বিপ্লব পাল এর ছবি

আর পূজো,হজ্জ এইগুলা ব্যার্থতা ঢাকবার জন্য না যতটুকু আপনার মনে হয় , আমার ধারনা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের কারনেই এই বহিঃপ্রকাশ । কেউ যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ফিল করতে পারে , তাতে করে অন্যায় কিছু দেখিনা ।

(১) আপনার আমার সবার জৈবিক ধর্ম সন্তান সন্ততি প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে পালন করে নতুন প্রজন্মকে দাঁড় করানো-নানান দিক দিয়ে। তার সাথে নামাজ, হজ, পূজ়ার সৃষ্টিকর্ত্তা সম্পর্ক কি? সবাই ত সেই ছেলে মেয়েদের জন্যে দোয়াই চাইছেন!!

(২) কিন্ত ধর্ম যেখানে আদর্শ পিতা বা মাতার আচরন ঠিক করে দেয়-সেখানে , জীবনের উদ্দেশ্যের সাথে ধর্ম যুক্ত হয়। নামাজ, হজ্জ, পূজোর মধ্যে দিয়ে, ধর্ম মোটেও আমাদের জৈবিক অস্তিত্ব-যা কিনা আমদের মূল অস্তিত্ব তার সাথে যুক্ত হয় না।
আপনি নামাজ পড়েন-এতে আপনার কোন অস্তিত্বের সংজ্ঞা হয়? কিন্ত পিতা, পুত্র, স্বামী হিসাবে আপনার যে অস্তিত্ব সেটা বাস্তব। সেখানে ধর্ম যখন ঢোকে-সেটাই ধর্মের আসল রূপ। সৃষ্টিকর্ত্তার কথা ভেবে আপনি মনে শান্তি পান ভাল কথা-কিন্তু তা রূপকথা ছাড়া কিছুই নয়। সুতরাং ধর্মের একমাত্র সারবক্তা হচ্ছে ঐ সামাজিক জীব হিসাবে আমাদের কি কি করিতে হইবে উপদেশগুলি।
(৩) সৃষ্টি কর্ত্তার প্রতি আনুগত্য নিয়ে কেও জন্মায় না। আপনি ধর্মভীরু পরিবারে জন্মেছেন তাই, সৃষ্টিকর্ত্তাকে মেনে চলেন। আমার ওপর তা চাপানো হয় নি-তাই আমি ওটাকে রূপকথা দেখি। এগুলো হচ্ছে সাংস্কৃতিক উত্তারাধিকার। সেটার মধ্যে ঠিক বেঠিক খোঁজা বোকামি-কারন এর কোনটাই আমাদের রিপ্রোডাক্টীভ ফীটনেসের জন্যে দরকার নেই।

আপনি বা আমি-চাই বা না চাই-আসলে একই উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছি-সেটা হচ্ছে আমাদের জীন পুলকে বাঁচানো। ধার্মিকরা না বুঝে ছুটছে-আমি বুঝে ছুটছি। এটাই পার্থক্য।

Sayeed Iftekhar Ahmed এর ছবি

তানভীর সাহেব একটি তথ্য পুরোপুরি ভাবে বলেন নি, আধাআধি বলেছেন। ইসলাম ইহুদি এবং নাসারাদের (Christian) বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে এটা ঠিক, তবে শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে মানে হল শুধু ছেলেরা তা করতে পারবে কিন্ত মেয়েরা তা পারবে না। এক্ষেত্রে বিপ্লব যেটা বলেছেন সেটা মাথায় রেখে আমাদের ভাবতে হবে মানে হল সেসময়কার socio, economic and political relaity. আর সেটা হল patriarchal society। The emergence of Islam replaced the matriarchal soceity with the patriarchal. Gender inequality-er ব্যপারটা কম বেশী সব Instituional religion এর বেলায় applicable।

One more information I would like to share. Islam did not permit a Muslim to marry a Hindu, Budhist, Jain, and any one who belong to other religions as well as an Atheist. This rule is applicable to both Muslim males and females.

অমিত আহমেদ এর ছবি

অসাধারণ পোস্ট!!!
ভিডিও তৈরির প্রস্তাবে সমর্থন জানালাম। যে কোনো সাহায্য লাগলে আমি আছি সাথে।

শেষের দিকের কথা চালাচালি নিয়ে বদ্দার মন্তব্য কোট করি -

আমার মনে হয় বিষয়টা অর্থহীন কথা চালাচালির দিকে চলে যাচ্ছে।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফেসবুক | ইমেইল

দিগন্ত এর ছবি

হ্যাঁ, ভিডিওতে ফেরা যাক। এমনিতেই সচলে আরো অনেক বিষয় নিয়ে ভাল আলোচনা হয় আর বইও বের হয়। কয়েকবার অডিও বেরিয়েছে। এবার ভিডিও উদ্যোগ নেওয়া হোক।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

শিক্ষানবিস এর ছবি

মূল আলোচনা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। ধর্ম নিয়ে তর্ক হচ্ছে, আর ওদিকে জাকির নায়েকরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তর্ক ধর্মের দিকে মোড় না নিলে ভাল হতো।
এখানে ধর্মের পক্ষে কথা বলছেন তানভীর ও নিঝুম। প্রথমে নিঝুমই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তিনি যদি ধর্মে না গিয়ে জাকির নায়েক নিয়েই আলোচনা করতেন, কিভাবে নায়েকদের ঠেকানো যায় সেটা বলতেন তাহলে সবার জন্যই খুব ভাল হত।
নায়েকে সীমাবদ্ধ থাকার জন্যই আমি আমার মূল লেখায় ধর্মকে কটাক্ষ করিনি। এমনকি শেষে লিখেছি:

এসব দেখে-শুনে মুসলিমদের দুর্দশার কারণও কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি। মুসলিমরা কেন অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে আছে সেটা বুঝতে পারছি। সত্যিই তো, যাদের মহানায়ক জাকির নায়েকের মত এক মুর্খ ও চতুর ব্যক্তি তাদের উন্নতি হবে কি করে? যারা বিবর্তন এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য খুটিনাটি প্রশ্ন নিয়ে জাকির নায়েকের কাছে যায় তারা আলোর মুখ দেখবে কি করে? যারা আবদুস সালামকে কাদিয়ানি বলে গালি দেয়, আর জাকির নায়েককে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করে তাদের কোন অগ্রগতি কি আদৌ সম্ভব?

নিঝুম এর ছবি

[i]জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে দুটি ভিডিও রিবিউটাল আমি ইউ টিউবে দিয়েছি। প্রতিদিন ৫-১০ করে নোংরা কমেন্ট এর কারনে আমার ইমেলে বা কমেন্টে আসে-ধার্মিকরা যেরকম হয় আর কি।
http://www.youtube.com/watch?v=GBn166l3-m8
http://www.youtube.com/watch?v=5LULgVB9Tpo

আমি না । বিপ্লব পাল-ই প্রথমে ধার্মিক দের কটাক্ষ করে উপরের কমেন্ট টি করেন । তারপর তার ভিডিও এর সূত্র ধরে এবং তার স্টেট্মেন্ট ধরে আমি কমেন্ট করেছি ।

ধার্মিকরা যেরকম হয় আর কি।-
শুধু এই লাইন টা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে ধার্মিকদের ওপর উনার কতটুকু ক্ষোভ উনি প্রকাশ করেছেন ।

তিনি যদি ধর্মে না গিয়ে জাকির নায়েক নিয়েই আলোচনা করতেন, কিভাবে নায়েকদের ঠেকানো যায় সেটা বলতেন তাহলে সবার জন্যই খুব ভাল হত।

তোমার উপরের লাইন গুলোকে খন্ডন করতে গিয়ে বলতে হয় ---

১। তুমি মনে করছ জাকির নায়েকদের ঠেকানো দরকার । এবং আমারো তা ভাবা উচিত, এই রকম একটা ইচ্ছা তুমি আমার উপরও চাপিয়ে দিচ্ছ , কেন ??আমি তাকে ঠেকানো প্রয়োজন মনে করতেও পারি , আবার নাও পারি , কিন্তু তোমার কমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে , তাকে ঠেকানোর প্রয়োজন আমি না চাইলেও করতে হবে ।

যাই হোক, আমি জাকির নায়েক সম্পর্কিত ভাবনায় নীচের এই কমেন্টটা দেই ( যা ধর্ম নিয়ে কথা গুলো বলবার আগে )। সুতরাং,এতে দেখা যাচ্ছে আমি মূল প্রসংগ থেকে প্রথমে সরে আসিনি । তখনি ধর্মের পক্ষে কথা বলেছি,যখনই দেখলাম বিপ্লব'দা ধার্মিক তথা ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করছেন । ধন্যবাদ ।

বাস্তবতা হলো আপনি যদি বলেন জাকির নায়েক হারামজাদা , কিছু পাব্লিক পাছার পাছড়া চুল্কাতে চুল্কাতে বলবে, "ইসলামরে আক্কুমন কইচ্চে "। তাই টেকনিক্যালি ভুল গুলো সবার সামনে ধরিয়ে দেয়া উচিত । তাতে করে যুক্তির কাছে হৈ হৈ রৈ রৈ ধোপে টিকবে না । আর ইন্টেনশন প্রমান করার কি আছে, যারা নায়েকের অনুসারী তারা তো বলবেই , উনি ইসলামকে বাঁচাচ্ছেন । কিন্তু যদি ধরিয়ে দেয়া হয় তার বলা কন্টেন্ট গুলো ভুল ও মিথ্যা তাহলেই সেই অন্ধ অনুসারীরা ভাবনার প্রয়াস পাবেন ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

মুহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম ভূঁইযা এর ছবি

ভাই শিক্ষানবীস,
পাগলামীরও একটা সীমা রেখা থাকে। বেহুদা এখানে ছিললা পাললা করে কোন লাভ নেই। আপনার জন্য দু:খ হচ্ছে।

ডা: জায়েক নায়েক বলেন লোক সম্মুখে, হাজার হাজার মানুষের সামনে। অনেক স্বীকৃত বড় মাপের জ্ঞানী-গুণী, পন্ডিত ব্যক্তিদের সামনে রেখেই ওনি ওনার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং চ্যালেঞ্জ চুড়েন। আর আপনিতো সবে মাত্র শিক্ষানবীস।

আমাদের দোষটা কোথায় জানেন? জানি কম, বলি বেশী। আগে জানুন। তারপর ডা: জাকির নায়েকের মতো জনসভায় সাহসী পদক্ষেপ রাখুন। এখানে আমরা ব-কলমদের সামনে বেহুদা ফালা-ফালি করে কোন লাভ নেই। আর হ্যাঁ, কথাগুলি যেহেতু ডা: জাকির নায়েক বলেছেন, তাই প্রসংগতই উনাকে প্রশ্ন করেই/ উনার সাথে তর্ক করেই এর সঠিক সমাধান পাওয়া সম্ভব।

আমাদের মতো আবাল-মূর্খ, ব-কলমদের থেকে মতামত নিয়ে নিজেকে কেন হাস্যকর আর অজ্ঞ বানাচ্ছেন???

ধন্যবাদ আপনার দৃষ্টিভংগীর জন্য।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

মুহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম ভূঁইযা,

আপনি কি শিক্ষানবিসের পোস্টটি পড়েছেন?

আমাদের দোষটা কোথায় জানেন? জানি কম, বলি বেশী। আগে জানুন। তারপর ডা: জাকির নায়েকের মতো জনসভায় সাহসী পদক্ষেপ রাখুন। এখানে আমরা ব-কলমদের সামনে বেহুদা ফালা-ফালি করে কোন লাভ নেই।

আপনি কি করে জানলেন শিক্ষানবিস এই সুনির্দিষ্ট বিষয়টি কম জানেন বা জানেন না? আপনি নিজে যদি না জেনে বা না বুঝে থাকেন তবে এই জেনে নেবার পরামর্শটি আপনাকেই ফেরত দেওয়া যেতে পারে।



অজ্ঞাতবাস

শিক্ষানবিস এর ছবি

আমাদের দোষটা কোথায় জানেন? জানি কম, বলি বেশী।

একমত হতে পারলাম না। আমাদের দোষটা কোথায় জানেন? আমরা কিছুই জানি না, কিন্তু সবই বলি। এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ আপনি নিজে। আপনার মন্তব্য পড়েই বোঝা গেছে, আপনি কিছুই জানেন না, কিছুই জানতে চান না, কিন্তু সবই বলেন।

হিমু এর ছবি
এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ক্লাসিক!!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

পথে হারানো মেয়ে এর ছবি

** আমার যখন ১২-১৩ বছর বয়স, তখন আমার বাবা আমাকে ' অরিজিন অফ স্পিসেস' বইটা কিনে দিয়েছিলেন। আবার তিনিই আমাকে কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ কিনে দিয়েছেন।
আমার দিব্যি মনে আছে, যখন বিজ্ঞান, ধর্ম - দু'টোই একটু একটু বুঝতে চেষ্টা করা শুরু করেছি, তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আচ্ছা, তাইলে কি অ্যাডাম বনমানুষ ছিল? "
বাবা বলেছিলেন, "মা, কুরআন শরীফে বারবার বলা আছে, "এতে নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য" - একদিন নিশ্চয় জানা যাবে।"

** এরপর, পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। মিসিসিপি-ট্রিনিটি নদী দিয়েও, কারণ বঙ্গদেশ ছেড়ে এ বান্দা এখন আমেরিকায়। তো এখানেই, মাঝেমাঝে অনেকের মুখে জাকির নায়েকের নাম শুনি। একদিন এক বন্ধু, আই ইউ টি-রই, একটা লিংক দিয়ে বলল, এই জিনিস না দেখলে 'কঠিন মিস'। ৫ মিনিট দেখে বললেই ফেললাম, "দোস্ত, তুমি এইচ এস সি-র ফিজিক্স বইটার শেষ অংশটা কোনদিন উল্টায় দেখছিলা?" ভিডিওটা ছিলো, মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে এক চরম গাঁজাখুরি।

** আমি কিন্তু প্রবল ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। যদি জিজ্ঞেস করেন কেন, একমাত্র উত্তর হতে পারে, আমার নিজের জন্য। এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে যখন কোন ঝামেলাতে পরি, আমার ভাবতে স্বস্তি হয়, উপরে একজন আছেন যিনি আমাকে সাহায্য করবেন!
একটা নির্দোষ মিথ্যা। বললে হয়তো কারো কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু আমার একটা স্বার্থপূরণ হবে। আমি বলতে পারিনা। মনে হয়, পরকালে এরজন্য জবাবদিহি করতে হবে। আরেকজন হয়তো এই ব্যাপারটাই অন্যকোন বোধ- সামাজিক শিক্ষা থেকে করবেন না। কিন্তু, আমার ক্ষেত্রে বিবেকের থেকে কিন্তু ধর্মীয় ভয়টাই বেশি কাজ করে!!! ইয়ে, মানে...

** যে ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন বা আদৌ না হোন, জন-সাধারণের মাঝে বিজ্ঞান এবং মুক্ত চিন্তার প্রসারের জন্য যেমন জাকির নায়েকের মত ভন্ডদের প্রতিহত করা দরকার, তেমনি ভাবে ইসলামের credibility-র জন্যও।( এই কথাটাই আসলে বলতে চাচ্ছিলাম, হুদা কামেই উপরের প্যাঁচালাটুকু পারলাম!)

** একেতো গুছিয়ে কিছু লিখতে পারি না, তার উপর বুঝতে পারছি না, মন্তব্যটা কতটা প্রাসঙ্গিক হল! শুধু মনে হচ্ছিলো, আমার একথাগুলো এখানে বলা দরকার!
যদি অপ্রাসঙ্গিক বা অসন্তুষ্টির কারণ হয়, তাহলে মন্তব্যটি প্রকাশ না করলে/মুছে দিলে খুশি হব।

শিক্ষানবিস এর ছবি

সেটাই... জাকির নায়েক ধার্মিক-অধার্মিক, আস্তিক-নাস্তিক সবার জন্যই ক্ষতিকর।
বেশ গুছিয়েই তো লিখেছেন। ঈশ্বর সম্পর্কে আপনার চিন্তাধারা অবশ্য আমার একেবারে উল্টো। তারপরও প্রত্যেকের বিশ্বাসের কারণটুকুকে শ্রদ্ধা করি, যদি না সে কারণে কোন গোঁড়ামি থাকে। আপনার কারণে কোন গোঁড়ামি পাইনি।

Concerned এর ছবি

SIR FRED HOYLE’S WORK - HE WROTE SEVERAL WORKS AGAINST DARWIN’S THEORY

"In 1978, Hoyle described Charles Darwin's theory of evolution as wrong and claimed that the belief that the first living cell was created in the "sea of life" was just as erroneous." - Wikipedia
-
I got this from the same Wikipedia link you have included on this page. What do you have to say about this? Just curious.
The fact remains that, Hoyle may not have been qualified for making such a statement, but he did, and Naik was not wrong in bringing that out.

I see a lot of people went through what you wrote... and gave it time, studied it (I am one of them) and you made me realise, I never gave that much time to research on my religious book. (This is intended for my friend who gave me this link.)

Just for the records, I am shocked at how Naik tries to justify himself but i have also learned a great deal about my religion from him, and if i can criticise him for his wrongs, i should also acknowledge what he has given me.

Against whom is this arguement? Naik or Islam... ? We are apparently great at spoiling our own image so I dont think we can blame the others around the world...

Finally, am happy to find some people who think straight, I am impressed by your ability to research and would greatly appreciate if you would share researches in favor of Islam because there are ppl who go pray twice a year, call themselves muslims, and GRAB EVERY OPPORTUNITY to criticise people who preach Islam(and get time to pass around your article) and never get time to read the Holy Quran..

and also worth mentioning... i'm goin on in english cuz i dont have a bangla key board.

সুমন চৌধুরী এর ছবি

সচলায়তনে বাংলা লিখতে alt+crtl+p চাপুন।



অজ্ঞাতবাস

শিক্ষানবিস এর ছবি

আমি কিন্তু জাকির নায়েককে শুধু মিথ্যাবাদী বলিনি। বলেছি তিনি মিথ্যাবাদী এবং প্রতারক (ভণ্ড)। ফ্রেড হয়েল, পি পি গ্রাশে এবং Gyorgyi- এই তিনজনের ব্যাপারেই তো জাকির নায়েক সত্য কথা বলেছেন। এখানে তাকে মিথ্যাবাদী বলা যাবে না। এখানে তিনি হচ্ছেন প্রতারক। ব্যাপারটা এমন:

ধরুন, আমি একেবারে মূর্খ কিছিমের মানুষ, জীবনে এরিস্টটলের নামও শুনিনি। শুধু শুনেছি নারী-পুরুষ সমান। এমন সময় কেউ একজন আমাকে বলল, নারীরা পুরুষের চেয়ে নিচু। আমি তাকে বললাম, কিন্তু আমি তো শুনেছি নারী-পুরুষ সমান, আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে। সে বলল, সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এরিস্টটল অমুক জায়গায় বলেছেন, নারীরা পুরুষের চেয়ে নিচু। আমি মেনে নিলাম।
এখন যিনি আমাকে এরিস্টটলের এই তথ্যটি দিয়েছেন তাকে কি প্রতারক বলবেন না? অবশ্যই সে প্রতারক। এজন্যই আমি নায়েককে মিথ্যাবাদী ও প্রতারক বলেছি।

এটা অবশ্যই স্থূল উদাহরণ। তবে বোঝানোর জন্য এ-ই যথেষ্ট।

সুমন চৌধুরী এর ছবি
বিপ্লব পাল এর ছবি

অনেক স্বীকৃত বড় মাপের জ্ঞানী-গুণী, পন্ডিত ব্যক্তিদের সামনে রেখেই ওনি ওনার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং চ্যালেঞ্জ চুড়েন।

-এটাও একটা রটনা। নিরক্ষর মুর্খ কিছু মুসলমান ছাড়া ওর ফলোয়ার নেই। এমন কি যারা ইসলামিক স্কলার তারা ব্যাঙ্গালোর ও হায়দ্রাবাদের সাংবাদিল সম্মেলন ডেকে জানিয়েছে জাকির নায়েক ভন্ড। আর উনাকে পাত্তা দেওয়ার মতন কোন বুদ্ধিজীবি ভারতে আছে বলে জানা নেই। খুশবন্ত সিং একবার ঠাট্টা করে বলেছেন-বোধ হয় জাকির ভাই স্কুলের বইগুলি এখনো ঠিক ঠাক পড়ে উঠতে পারে নাই। আর জাকির হিন্দু ধর্মের যে মালটিকে এনেছিল-রবিশঙ্কর-সেও জাকিরের মতন ধর্ম ব্যাবসায়ী। তারও অনেক ফলোয়ার। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই আর কি।

যার বিজ্ঞান এবং ধর্ম নিয়ে প্রাথমিক জ্ঞান আছে-সেও জানবে লোকটা মহামূর্খ বিরিঞ্জি বাবা ছাড়া কিছুই নয়। জাকির নায়েকের জনপ্রিয়তা প্রমান করে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা দিক্ষার হাল কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যদিও ভারততের ইসলামিক স্ক্লাররা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেই জাকিরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাতেও সাধারন লোকের এত নিম্ন মানের জ্ঞানবোধ খন্ডন হয় না।

নিঝুম এর ছবি

আপনার জাকির নায়েকের সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে সেইটা বলেন । সমানে আপনি মুসল্মানরা মূর্খ,শিক্ষা নাই,দীক্ষা নাই বইলা অনেক্ষণ ধইরা প্যাঁচাল পারতেসেন । কিছু কই নাই । আপ্নারে আমি একজন মর্ডান মৌলবাদী ছাড়া আর কিছুই ভাবি না । মাথায় রাইখেন, আপ্নে যেমন আল্লা-ভগবানে বিশ্বাস করেন না , তেমনি আমরা অনেকেই আছি প্রবল্ভাবে করি । এটলিস্ট তাদের অনুভুতির প্রতি শ্রদ্ধাটা রাইখেন । নায়েকের বিরুদ্ধে কী কিছু কইলে সে বিরাট স্কলার আর পক্ষে কইলে মূর্খ , এই ভ্রান্ত ধারনা আপনার মন,মনন এবং মজ্জায় গাঁথা । এইসব আঁকড়ে ধরে থাকা মূল , নিজের ভেতর থেকে উতপাটন করে, ওই যে মানব ধর্মের কথা বলছিলেন, সেইটাই ঢের ভালো । তা-ই বলেন । আখেরে ভালো হবে ।

জাকির নায়েকের মত ক্যাঁচক্যাচানিতে আপ্নিও কম জান না ।

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

মন্তব্যটা খুব আপত্তিকর লাগল। নিঝুমকে রিকনসিডার করার অনুরোধ জানাই।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নিঝুম এর ছবি

বিপ্লব্দাও আপত্তিকর কথা বলেছেন । উনি এটাক করসেন । ঢালাও ভাবে জাকির নায়েকের সামনে বসে থাকা সব মুসল্মান্দের মূর্খ বলেছেন । আমি জবাব দিলাম । উনি উনার কমেন্ট চেঞ্জ করলে আমি আমার কমেন্ট মুইছা দেওয়ার অনুরোধ জানাব ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

উনি এটাক করলেই আপনাকে করতে হবে?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নিঝুম এর ছবি

নাইলে তো এই আনন্দ নিয়া তিনি আরো পাঁচটা ভিডিও আপলোড কইরা ফেলবে । আর জানতেও পারবে না মানুষ্কে কষ্ট দিলে কষ্ট পেতে হয় ।
--------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

শিক্ষানবিস এর ছবি

মুসলমানদের শিক্ষা-দীক্ষা অনেক অনেক কম- এটা তো সত্যি কথা ভাই। এত খাঁটি একটা কথায় এত চেত্তাছেন ক্যান?

নায়েকের বিরুদ্ধে কিছু কইলে সে বিরাট স্কলার আর পক্ষে কইলে মূর্খ

ইশ, আমি ঠিক এই কথাটাই বলতে চাচ্ছিলাম। আপনি বলে দিলেন। জাকির নায়েককে বলা যায় এ যুগের অজ্ঞতা মাপার স্কেল। যে যত জাকির নায়েকপন্থী সে তত অজ্ঞ- সোজা হিসাব।

নিঝুম এর ছবি

এইটা তোমার কথা । সার্বজনীন না ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

বন্যা এর ছবি

নায়েকের বিরুদ্ধে কী কিছু কইলে সে বিরাট স্কলার আর পক্ষে কইলে মূর্খ , এই ভ্রান্ত ধারনা আপনার মন,মনন এবং মজ্জায় গাঁথা ।

নিঝুম, নায়েকের বিরুদ্ধে বললেই সে স্কলার হবে কি না জানি না, কিন্তু পক্ষে কইলে যে সে মূর্খ অথবা প্রতারক সেটা নিয়ে কিন্তু এই ব্লগে দুই একজন ছাড়া কারও সন্দেহ নাই।

নিঝুম এর ছবি

দুই একজন্টা কে ? আমি তো কাউরেই দেখলাম না । ব্লগের বাইরেও মানুষ আছে । তাদেরও যুক্তি থাকতে পারে,যা আমরা জানিনা বা শুনি নাই । কোন একটা জিনিসই ঠিক ,সেইটা পুরাপুরি এস্টাব্লিশ হয় কিনা বা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই ।
---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

---------------------------------------------------------------------------
কারও শেষ হয় নির্বাসনের জীবন । কারও হয় না । আমি কিন্তু পুষে রাখি দুঃসহ দেশহীনতা । মাঝে মাঝে শুধু কষ্টের কথা গুলো জড়ো করে কাউকে শোনাই, ভূমিকা ছাড়াই -- তসলিমা নাসরিন

বন্যা এর ছবি

কোন একটা জিনিসই ঠিক ,সেইটা পুরাপুরি এস্টাব্লিশ হয় কিনা বা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই

আপনার এই ইমোশানাল কথাটার উত্তর না দেওয়াই বোধ হয় ভাল। পৃথিবীতে অনেক কিছুই এস্টাব্লিশড ফ্যাক্ট, সেটা নিয়ে তর্কে না হয় নাই গেলাম, অযথা সময় নষ্ট...। আমরা জাকির নায়েক কে খন্ডন করে ভিডিওটা যদি আসলেই করতে পারি, তাহলেই বোধ হয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখানো যাবে এই লোকটা কত বড় মিথ্যুক, অশিক্ষিত, ভন্ড এবং প্রতারক এবং এই ধরনের লোকের অনুসারী হওয়াটা কত বড় অজ্ঞতার পরিচায়ক।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সবাইকে নীতিমালা থেকে এটা দেখার অনুরোধ জানাই।

৩. সচলায়তনের সদস্য হিসেবে একে অপরের প্রতি দলবদ্ধ আক্রমণ, অশিষ্ট মন্তব্য প্রভৃতি থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন সদস্য আক্রান্ত বোধ করলে তাঁর করা অভিযোগের ভিত্তিতে মডারেটর সেই আক্রমণাত্মক পোস্ট, মন্তব্য বা উপাদান সরিয়ে দিতে পারেন।

উত্তপ্ত আলোচনা হোক কিন্তু শিষ্ঠতা যেন আমরা পরিত্যাগ না করি।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হিমু এর ছবি

বিপ্লব পালের বক্তব্য আপত্তিকর আসলেই। কারণ আমার ধারণা বহু সুশিক্ষিত মুসলমান এই জোকারনায়েকের ভাঁড়ামি উপভোগ করার জন্য তার অনুষ্ঠান দ্যাখে। তবে জোকারনায়েকের অনুসারীরা মূর্খ। ছোটখাটো মূর্খ নয়, বিশাল মূর্খ।


হাঁটুপানির জলদস্যু

আরিফ জেবতিক এর ছবি

জোকার নায়েকরে দেখার পরে বিবর্তনবাদ একটু একটু বিশ্বাস করা শুরু করেছি । বান্দর থেকে সবাই তো আর পুরা মানুষ হয় নাই , কিছু কিছু পিছ মাঝখানে আটকে আছে । চোখ টিপি

ফাহিম এর ছবি

জোকার নায়েক, নামটা পসন্দ হইসে... দেঁতো হাসি

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

সবজান্তা এর ছবি

ব্লগের এ ধরণের আলোচনায় নিজেকে জড়াতে আজকাল আর ভালো লাগে না।

তবু জাকির নায়েকের সামনে যারা বসে থাকেন মন্ত্রমুগ্ধের মত, তাঁদের ব্যাপারে পজিটিভ চিন্তা করাটা যে কষ্টের, এ'টা সুস্থবুদ্ধিমুক্তচিন্তার সকলেই বিশ্বাস করেন বলে, অন্তত আমার ধারণা ছিলো।


অলমিতি বিস্তারেণ

ঝরাপাতা এর ছবি

শিক্ষানবিস,
লেখাটার জন্য আপনাকে স্যালুট দিলাম। অনেক অনেক শুভকামণা রইলো।


নিজের ফুলদানীতে যারা পৃথিবীর সব ফুলকে আঁটাতে চায় তারা মুদি; কবি নয়। কবির কাজ ফুল ফুটিয়ে যাওয়া তার চলার পথে পথে। সে ফুল কাকে গন্ধ দিলো, কার খোঁপায় বা ফুলদানীতে উঠলো তা দেখা তার কাজ নয়।
___________________________ [বুদ্ধদেব গুহ]


বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।

সচলায়তন এর ছবি

এই পোস্টে মন্তব্যের সুযোগ রহিত করা হলো।

এর আগে একাধিকবার এ ধরনের প্রসঙ্গান্তরিত তর্ক কলহের দিকে মোড় নিয়েছে। সচলদের প্রতি অনুরোধ রইলো পোস্টে প্রাসঙ্গিক তর্কের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য।

এই প্রবণতা কারো মধ্যে বৃদ্ধি পেলে কর্তৃপক্ষকে তিক্ত ও কঠোর কোন ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হয়। আশা করি আপনারা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন। ধন্যবাদ।

_________________________________
সচলায়তন.COM কর্তৃপক্ষ

_________________________________
সচলায়তন.COM কর্তৃপক্ষ

রায়হান আবীর এর ছবি

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সচলায়তনে প্রকাশিত এই লেখাটি বাংলা ব্লগের ইতিহাসের অন্যতম আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখা। প্রকাশের দুইমাস পর ২০০৯ সালের এপ্রিলে যৌবন যাত্রা ফোরামে এই লেখাটির সামনে ও পেছনে নিজের কথা জোড়া লাগিয়ে হুবুহ প্রকাশ করেন আসিফ মহিউদ্দিন। পিডিএফ লিংক

বলাই বাহুল্য একবারের জন্য কোথাও তিনি কৃতজ্ঞতা স্বীকার/সূত্র উল্লেখ/লেখকের নাম উল্লেখ করেন নি। এছাড়াও একই লেখা তিনি "আমার বাংলা" নামক একটা পত্রিকায় ২০১১ সালের জুন মাসের ৩ তারিখের ২২তম সংখ্যায় প্রকাশ করেন নিজ নামে। অসংখ্য মানুষের লেখাচুরি করে সেটিকে সামান্য এদিক সেদিক করা এই ব্যক্তির কার্যকলাপ নিয়ে একটি ব্লগ আসার পর, তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে এই পোস্টট চুরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে জানান-

"সেটা ঐখানে পোস্ট করে সবাইকে পড়তে বললাম। পরে দেখলাম ঐটা সচলায়তনের শিক্ষানবিসের পোস্ট। এবং পরবর্তীতে ঐ লেখাটির নিচে মন্তব্যে এটা বলেও দিলাম। লেখা এডিট করা যেত না, পোস্ট ডিলিটও করা যেত না।"

অথচ জেজে ফোরামের পোস্টটির দিকে তাকালে দেখা যায় এই কথাটিও ডাহা মিথ্যা। যৌবন যাত্রা ফোরামে প্রথমে এক মন্তব্যে তিনি জানিয়েছেন-'ইসলাম নিয়া লিখিনাই মামা, জাকির নায়েক নিয়া লিখছি।' লক্ষ্যনীয়, কপি করছি না বলে, 'লিখছি' বলা। এরপর একজন পাঠক সচলায়তনের লিংক দেখিয়ে ফোরামে মন্তব্যে করেছেন- আসিফ মহিউদ্দিন ভিন্ন নিকে লেখাটি সচলে দিয়েছেন কিনা (বলাই বাহুল্য সে শিক্ষানবিস কে আসিফ মহিউদ্দিন মনে করেছে)। প্রতিমন্তব্যে আসিফ মহিউদ্দিন জানান, লেখাটি তিনি একটি বিদেশি ভাষা থেকে প্রায় অনুবাদ করেছেন এবং 'এ' লেখাটি বাংলা ব্লগে অনেকেই প্রকাশ করেছেন। একবারের জন্য কোথাও তিনি শিক্ষানবিসের নাম উল্লেখ করেন নি।

সঙ্গত কারণে এই পোস্টের সাথে বিষয়টি যুক্ত করে রাখা হলো।

মৃত্যুময় ঈষৎ(অফলাইন) এর ছবি

চলুক

রাগিব এর ছবি

এই লোক দেখি প্রথম শ্রেণীর লেখা চোর। অথচ ডয়চেভেলের পপুলারিটি কন্টেস্টে গতবার জিতেছিলো এসব লেখা দেখিয়ে। "পুলিশের হাতে মুই গ্রেপ্তার হয়েছিনু" ছাড়া তার আর কোনো মৌলিক লেখা আদৌ আছে কি?

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

অরফিয়াস এর ছবি

চলুক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

এই জন্যই আমি বলি, এই দুনিয়াতে পায়েসও আছে ক্ষীরও আছে কিন্তু কোন বীর ও নাই, পীর ও নাই। দেঁতো হাসি

ওয়ালিদ-জাহান এর ছবি

আপনের লেখাটা পরে খুব মজা পেলাম। আপনি যাকির নায়েকের বিবর্তনবাদের ভুল ধরেছেন কিন্তু নিজে কতো ভুল করছেন সেটা দেখেন নাই। নাস্তিকরা সবসময় দাবী করে তারা জেনে বুঝে তারপর মন্তব্য করে। আসলে তা কতটা ঠিক তা আপনার লেখায় আর আপনার লেখা পরে করা মন্তব্যে পরিস্কার। আপনি যাকির নায়েকের এমন ভুল ধরছেন যা সে করে নাই আর তা পরেই সবাই খুব মজা পেলাম, খুব ভাল লেখা এইসব মন্তব্য করছে কিন্তু নিজেরা যাচাই করেও দেখে নাই যে আপ্নে যা বলেছেন তা কতটুকু ঠিক। কেউ কেউ লিখছে যাকিরের কাছে এই বিষয়ে চিঠি লেখা উচিত। ভাই যাকির লাগবে না আমিই আপনের ধরা ভুলের উত্তর দিচ্ছি।

ওয়ালিদ-জাহান এর ছবি

>>CHARLES DARWIN WROTE A LETTER TO HIS FRIEND THOMAS THOMTAN, IN 1861 SAYING ‘I DO NOT BELIEVE IN ‘NATURAL SELECTION’- THE WORD THAT YOU USE - I DON’T BELIEVE IN ‘THEORY OF EVOLUTION’ BECAUSE I HAVEN’T GOT ANY PROOF. I ONLY BELIEVE IN IT BECAUSE IT HELPS ME IN CLASSIFICATION OF EMBRYOLOGY, IN MORPHOLOGY, IN RUDIMENTARY ORGANS’.

THOMAS THOMTAN? এই নামে গুগল সার্চ করে কাউকে পাওয়া গেল না।>>

আপনার প্রথম ভণ্ডামি হল আপনি ইন্টারনেট এ তার বক্তৃতার ভুল অনুবাদকারীদের দেয়া নাম বলেছেন THOMAS THOMTAN। আপনি বা যারা আপনার মন্তব্য বাহবাহ দিয়েছে তারা যাচাই করলে শুনতেন যাকির বলেছেন Thomas Thornton । এই চিঠির বিষয়ে আপনি বেশ কয়েকটি ভুল বের করছেন যে THOMAS THOMTAN যেমন নামে কেউ নেই, ডারউইন এই কথা বলতে পারে না ইত্যাদি। পাব। যাই হোক অনুগ্রহ করিয়া নিম্নক্ত লিঙ্কে আপনি বা যারা এই কথা বলে ও যাকির কার নাম বলছে যে নাই, এমন চিঠির কথা বলছে যা লেখা হই নাই তার উত্তরঃ
http://www.jstor.org/discover/10.2307/224920?uid=3737584&uid=372774501&uid=2134&uid=2&uid=70&uid=3&uid=372774491&uid=60&sid=21102439626111

Ali sagar  এর ছবি

জাকির নায়েক ভুল বলে না ঠিক বলে এসব আলাপের কোনো মানে নাই। নিয়ত পরিবর্তনশীল মহাবিশ্ব, এর বিবর্তন, পৃথিবীতে প্রাণের বিবর্তন, হিউম্যান জেনেটিক্স, মিউটেশন, সমাজের, ধর্মবিশ্বাসের, রিচ্যুয়ালের আর এমন সবকিছুর বিকাশ আর বিবের্তনের স্বাভাবিক সিস্টেমেটিক যুক্তির বদলে, যারা স্বর্গ থেকে দুজন মানুষ আর্ভিভূত হয়েছে এবং তাদের দ্বারাই মানব জাতি ছড়িয়ে পড়েছে, এমন যুক্তি বিশ্বাস করে তাদের সাথে তর্কে কোনো ফল নেই। জাকির নায়েকের কাছে কোনো জীব্রাইল আসেনি, সে ঈশ্বরকে চোখে দেখেনি, সে সিম্পলি বিশ্বাস করেছে প্রফেটদের কথার উপর। প্রফেটদের গল্পের উপর। যাদের সব কথার ভিত্তি প্রমাণ অসম্ভব বিশ্বাস, যার মূলেই কোনো যুক্তি তর্ক কাজ করেনা, যার প্রথম কথা “তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে” ।
এই লাইনের লোকেরা আবার যুক্তি, বিজ্ঞান, জ্ঞান এসব নিয়ে আলাপ করে কেন? তারা তো সব জানে। আর জাকির নায়েক এবং ধর্মগ্রন্থ যেভাবে বিজ্ঞানসম্মত কথা বলে তা খুবই হাস্যকর। গায়ের জোরে একটা জিনিস প্রমাণ করতে চায়। ঈশ্বর দিনকে আলাদা করেছেন রাতের থেকে” তোমরা কি দেখ না কিভাবে আকাশ থেকে বৃষ্টি দিয়ে আমরা মরা মাটিতে ফসল ফলা্ই, পৃথিবী ও সূর্য যে যার পথে চলছে ‘‘‘‘‘ এসবই হচ্ছে ধর্মের বিজ্ঞান। কোনো কিতাবে কেন একটা এ প্লাস বি হোলস্কয়ারের সূত্র আসেনি? যা মানুষের সত্যি কাজে লাগে! ধর্ম আর বিজ্ঞান এক করার চেষ্টা্ও হাস্যকর। একটার উদ্দেশ্য একটা সমাজে মানুষ কিভাবে চলবে, কিভাবে প্রকৃতির সাথে সম্পর্কস্থাপন করবে তার ইন্সট্রাকশন দেয়া, আরেকটার উদ্দেশ্য প্রকৃতির রহস্য বের করা। রিসার্চ করা, ড্যাটা কালেকশন করা, তারপর ব্যাখ্যা চিন্তা করা। তারপর কোনো রিপোর্ট বেরকরা।
আসলে হয়ত বিবর্তনবাদ ঠিক থাকলেও ঈশ্বরের অস্তিত্বের কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু আব্রাহামিক রিলিজিওন গুলোর সমস্যা হতো। এদের তবে মানতেই হবে ৬ দিনে দুনিয়া সৃষ্টি, আদম হাওয়ার স্টোরি এসব আসলে রূপক অর্থে ব্যাবহার করা হয়েছে।জাকির নায়েক সবসময় প্রমাণ করতে চেষ্টা করে যে ইসলাম ধর্মই ঠিক, আর আদি ধর্ম। এবং বাকি ধর্মগুলো বিকৃত করা হয়েছে। আসলে ধর্ম শুধু ইসলামই ছিল। এমনকি হিন্দু পুরাণেও নাকি নবী আসার কথা আছে !! কিন্তু দুনিয়ার আরো নানা অঞ্চলে যে নানা বিশ্বাসসিস্টেম চালু ছিল, এবং তারাও যে ভালোই ছিল তা বোধহয় তার জানা নাই। মুসলমানরা মাত্র কিছু সময় দুনিয়াতে শান্তিতে ছিল। এরাই সবচেয়ে দুর্দশা গ্রস্থ। আর লেখার টাইম নাই।।

Hassan এর ছবি

ভিডিও টা কি হইলো ??

৭*৬০=৪২০/২৭=১৬ সেকেন্ড একটা মিথ্যা !!!!!!!!!!!!!!!!!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।