মার্কিন মুল্লুকে-৮: প্রক্ষালনকক্ষ

তাসনীম এর ছবি
লিখেছেন তাসনীম (তারিখ: শুক্র, ৩০/০৩/২০১২ - ১০:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাথরুমকে যে বাংলায় প্রক্ষালনকক্ষ বলে সেটা আমি আমেরিকায় না আসলে জানতে পারতাম না। একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন কি? দাঁড়ান খুলে বলি। সারাজীবন ধরে মানুষকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানাতে এসেছি - লোকজন চোখ-টোখ মুছে ভেতরে ঢুকে যাওয়ার পরে আমিও বাসে করে ফার্মগেটে ফিরে গেছি। এয়ারপোর্টের ভেতরে জীবনেও ঢুকতে হয় নি। প্লেন ছাড়াও ওতে আর কি কি আছে সেটা জানা ছিল না। প্রথমবার ঢোকা হলো আমেরিকাতে আসার উছিলায়। এতোদিন পর্যন্ত আমেরিকা গমন নাটকের অবসান হতো এয়ারপোর্টের সামনে থেকে - এই প্রথম নিজে নায়কের চরিত্র পাওয়াতে ভেতরের ব্যাপারগুলোর খুঁটিনাটি সব চোখে পড়ল।

ইমিগ্রেশন-টেশন পার হয়ে একদম প্লেনে চড়ার আগে আমার বাথরুম পেয়ে গেলো। ছোট প্রয়োজনও জীবনে অনেক বড় আকার ধারন করতে পারে। ইমিগ্রেশন এরিয়ার ভেতরে সব্বাই মুখ চোখ খুব শক্ত করে রাখে। যাত্রী, কাস্টমস অফিসার, অথবা ঘর পরিস্কারের লোকজন – কারও মুখে কোনো হাসি নেই। দেখে মনে হয় একটু পরেই সবাই পুলসিরাত পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ভাই বাথরুমটা কোন দিকে? এই প্রশ্নটা মনে হয় বিরাট বড় একটা বেয়াদপি।

সে যাই হোক, অনেক খুঁজেপেতে একটা বাথরুম আমি আবিষ্কার করলাম। বাংলাদেশের যে কোন জায়গার বাথরুমের তুলনায় এই বাথরুম অনেক অনেক মানসম্মত নিশ্চিত, সম্ভবত এর সাথে দেশের মান-ইজ্জতের একটা প্রশ্ন জড়িত আছে এই জন্যই। এর আগে পর্যন্ত নিউমার্কেট পাবলিক টয়লেট পর্যন্ত আমার দৌড় ছিল, দেশ ছাড়া আগের মূহুর্তে এমন চমৎকার একটা বাথরুম দেখে বুকটা গর্বে ভরে গেল। তখনো পর্যন্ত ইউনুস সাহেব নোবেল প্রাইজ পাননি, আমরা ঠিকঠাক জানতামও না কি নিয়ে গর্ব করতে হয়, অনেক আজে-বাজে জিনিস নিয়ে গর্ব করে ফেলতাম।

বিস্ময়করভাবে আমি দেশ ছাড়ার মিনিট বিশেক আগে জানতে পারলাম বাথরুমের ভালো নাম প্রক্ষালনকক্ষ। এয়ারপোর্টের বাথরুমের দরজায় বাংলাতে লেখা এই নাম। রীতিমত ভক্তি উদ্রেককারী একটি নাম। আমি বাংলা ভাষার দেখভালের দায়িত্বে থাকলে বাথরুমের মতো কোন জায়গার এইরকম “জ্যাডাপহ” নাম দিতে সাহস করতাম না।

মার্কিন দেশের এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে বাল্যবন্ধু আমাকে তুলে নিয়ে গেলো তার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে। এর আগে প্লেনে বাথরুম সেরে এসেছি, যতবড় প্লেনই হোক না কেন, প্লেনের বাথরুমের ক্ষুদ্রতার বিষয়ে কারও কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়। কোন একটা মুভিতে প্লেনের বাথরুমে নায়ক-নায়িকাকে ভালোবাসা করতে দেখেছিলাম (এইসব ছবি যুবসমাজের অধঃপতনের কারণ)। চলচ্চিত্র আমাদের কতো ভুল শেখায় সেটা প্লেনের বাথরুমে গিয়ে বুঝলাম।

যাই হোক বন্ধুর বাসা থেকে তার ডিপার্টমেন্টের অফিসে গেলাম। আমেরিকায় আসার উত্তেজনায় বেগটা টের পাইনি। ডিপার্টমেন্টে গিয়ে প্রবল নিম্নচাপ অনুভব করলাম। একটু আসছি বলে দ্রুতই ঢুকে গেলাম হাতের সামনের প্রক্ষালনকক্ষে।

ঢুকেই আমার চোখটা জুড়িয়ে গেল। চমৎকার ছিমছাম একটা কামরা। একটা চেয়ার আছে বসার জন্য। দাঁড়িয়ে কর্ম সম্পাদন করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কি আশ্চর্য!!! আমি জানতাম না যে এই দেশের লোকেরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বর্বরের মতো কাজ সারে না। এতোদিনেও কেউ বলে নি। এই কারণেই এই দেশ এতো উন্নত হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে হাটে-মাঠে-ঘাটে মানুষকে এই কাজ করতে দেখা যায়। মানুষের দোষ দিয়ে লাভ নেই, আমি নিজেও উপায়ন্তর না দেখে গ্রীন রোডের পাশের এক গলিতে দাঁড়িয়ে গেছি, কাজের মধ্যপথে পাশ দিয়ে বন্ধুর ভাই আর ভাবি না দেখার ভান করে হেঁটে গেছে। মার্কিন দেশের প্রথম বিস্ময় আমার কাছে ছিল সেই বাথরুম। খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে বাথরুমের এককোনে রাখা আছে...যেটাকে বলে মেয়েদের স্যানিটারি দ্রব্যাদি।

কোথাও কিছু একটা ভুল হয়েছে এই টের পাওয়ার সাথে সাথেই আমি একলাফে বাইরে। প্রক্ষালন কক্ষের দরজার একটা মেয়ের ছবি দেওয়া, কাছেই কঠিন মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে বন্ধুবর।

"এই গাড়ল, ইডিয়েট – এইটা মেয়েদের বাথরুম দেখলি না?"

গ্রীষ্মকালের রাতের বেলা প্রায় ফাঁকা ক্যাম্পাসে ওই ঘরের প্রকৃত মালিকেরা কেউই উপস্থিত ছিলেন না। আমিও অপাত্রে বর্ষণ করে আসলাম কোন ঝামেলা ছাড়াই।

তবে আমার একটি সংগ্রামী স্মৃতি মনে পড়ে গেল। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা তড়িৎকৌশলের ছাত্র ছিলাম। প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষ নিজের ডিপার্টমেন্টে ক্লাস করার সুযোগ পাই নি, আমাদের আগের দুটো ব্যাচ একযোগে ক্লাস শুরু করেছিল, সেই কারনে সবগুলো ক্লাসরুম ব্যস্ত থাকতো। প্রথম দুই বছর ক্লাস করেছিলাম পুরানো একাডেমিক ভবন নামে এক মিউজিয়ামে। তৃতীয় বর্ষে এসে নিজের বিভাগে স্থায়ী হয়েছি।

দালানটার নাম ছিল ইএমই ভবন, নাম যতটুকুই গম্ভীর ভেতরের অবস্থাই ততই করুণ। ছয়তলা ভবনে কোনো লিফট নেই। হাঁফাতে হাঁফাতে পাঁচতলায় ওঠার পরে দেখা যায় কালো রঙের একটা বাক্স। ওতে লেখা “লিফটের জন্য দানবাক্স”। কয়েকদিনের মধ্যেই সহপাঠিনী মেয়েদের কাছে শুনলাম ইএমই ভবনে কোনো মেয়েদের বাথরুম নেই। আবেগের মতো বেগের বহিঃপ্রকাশও মেয়েদের জন্য বারণ। বাথরুম করতে হলে প্রথমে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হবে, তারপর উলটো দিকে পুরকৌশলভবনের পাঁচতলায় উঠতে হবে। ওদের লিফট আছে, কিন্তু মাঝে মাঝে হেঁচকি তোলে সেটা।

আমাদের ব্যাচের মেয়েদের নেতৃত্বে শুরু হলো আন্দোলন। সেই আন্দোলনে তড়িৎ ও যন্ত্রকৌশলের মহিলা শিক্ষকরা একাত্বতা প্রকাশ করলেন। উপাচার্যের কার্যলয়ের সামনে মেয়েদের মিছিল গেল। আমি এক আন্দোলনরত একসহপাঠীনিকে মজা করার জন্য সেই মিছিলে বদনা নিয়ে যেতে বলেছিলাম – সমস্যা একটু বাস্তবতা ছোঁয়া পেত আরকি। সেই রসিকতা বেশি ভাত পেলো না।

আন্দোলনের একপর্যায়ে তিনতলার দক্ষিণদিকের বাথরুমটা মেয়েরা ছিনিয়ে নিল। দুইদিন আগেও যেটা আমাদের দখলে ছিল সেটা অতিদ্রুতই দখল করে নিলেন ছাত্রীরা। ঢাকা কলেজের দেওয়ালে লেখা ছিল “শিক্ষা সুযোগ নয় অধিকার”, এবং “অধিকার আদায় করতে নিতে হয়”। জন্মাবধি দেখছি আমাদের জনগন প্রতিটি অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে - ভাত, বিদুৎ, পানি, গণতন্ত্র থেকে শুরু করে প্রক্ষালন কক্ষের জন্যও। আজকে ইএমই ভবনে মেয়েদের কমনরুমের ভিত্তি সেই সময়ে রচিত হয়েছিল।

মার্কিন দেশের প্রথম রজনীতে মেয়েদের বাথরুম থেকে বের হয়ে আমার রীতিমত দুঃখই পেল। আমি এই দেশের ঝকঝকে তকতকে রাস্তা, সুরম্য অট্টালিকা, বিশাল গাড়ি, ঝলমলে দোকানপাট দেখে মুগ্ধ হই নি বরং এদের বাথরুমের সহজলভ্যতা দেখে ঈর্ষা হয়েছে। মনে পড়ে গেল সংসদ ভবন এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে বিকালে আড্ডারত অবস্থায় এক যুগল এসে বিব্রত মুখে জিজ্ঞেস করেছিল, ভাই আপনাদের বাথরুমটা একটু ব্যবহার করা যাবে? ব্যবহার করার মতো পরিস্কার টয়লেট দেশে বিরল, পুরুষ যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু মেয়েরা?

এরপর কিছু দিন কেটে গেছে। আমি নতুন চাকুরি শুরু করেছি। রবিবার সকালে একবন্ধু ফোন করে অনুরোধ করল তাকে তিন ঘন্টা দূরের একটা শহরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাকে পরদিন অফিস করতে হবে, সুতরাং আমার জন্য ছয় ঘন্টার পথ। আরো দুই তিনজন পথের সাথীও জুটে গেল। গাড়িতে উঠেই আমি সতর্কবাণী দিয়ে দিলাম – নো বাথরুম ব্রেক – তিন ঘন্টা যাওয়া, এক ঘন্টা লাঞ্চ, তিন ঘন্টা ফেরা। বাথরুম খোঁজার সময় নেই। সব্বাই কেমন যেন পাংশু মুখে তাকালো আমার দিকে, একটা অনুচ্চারিত উসখুস টের পেলাম।

চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট চলার পর আমার নিজেরই কেমন যেন লাগতে শুরু করল। মনে হলো একটু হালকা হয়ে নিলেই ভালো। গাড়ির ড্রাইভার আর প্লেনের পাইলটের একই ভূমিকা। চলন্ত বাহনে তিনিই রাজা - যেটা বলবেন সেটাই আইন। মুহুর্তেই আমি সিএমএলএ (চিফ মার্শাল ল' অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নয়, ক্যানসেল মাই লাস্ট অ্যানাউন্সমেন্ট) হয়ে গেলাম – আগের আইন বাতিল করে বাথরুম বিরতির জন্য প্রস্তুত হতে বললাম সবাইকে। দেখা গেল হাইওয়ে থেকে নেমেই বাথরুম সমেত একটা গ্যাস স্টেশন। অতি দ্রুত কাজ সেরে নিলাম। কিন্তু আইনভঙ্গের ব্যাপারটা খুবই ছোঁয়াচে। দেখা গেল বিভিন্ন সময়ে লোকজনের বিভিন্ন বেগ হচ্ছে এবং তারাও প্রত্যেকেই বিরতি দাবী করছে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় প্রতিবারই দুই-তিন মিনিটের মধ্যে প্রক্ষালণ কক্ষের সন্ধান মিলছে। সেই সফরের পর থেকে আমি এই দেশকে প্রক্ষালনবান্ধব (toilet friendly) দেশ বলে ঘোষণা করেছি।

মার্কিন দেশে কোনো কিছুই দৃশত্য মাগনা নয়। বিশেষত চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, কয়েক ঘন্টা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে থাকলে হাজার খানেক ডলার বিল আসবে, সেই হিসাবে বাথরুম ব্যবহার করলে কিছু ফি লাগা উচিত – কিন্তু কোন এক অজানা কারণে এই সার্ভিস একবারে ফ্রি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গ্যাস স্টেশনে বেশ চলনসই বাথরুম আছে এবং সেগুলো ব্যবহার করতে কোন খরচ নেই। হাইওয়েতে রেস্ট এরিয়া এবং একটু পর পর গ্যাস স্টেশন মিলবে যদি না একেবারে জনবিরল জায়গা না হয়। হার্টের অপরেশন তো প্রতিদিন করছেন না, কিন্তু যেটা প্রতিদিন করছেন সেটা এরা বিনে পয়সাতেই করতে দেয়।

সেই থেকে আমার ধারণা জন্মেছে যে এই মুল্লুকের মানুষের কাছে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসার চেয়ে টয়লেটের অধিকার অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রাক্তন বস কিমের একটা গল্প শুনে সেই ধারণা বিশ্বাসে রূপ নিল।

কিম তখন নতুন চাকরি শুরু করেছে। আশির দশকের শুরু। কিমের দলে ১৫/১৬ জন কাজ করে। এর মধ্যে একটি লোক একটু অদ্ভুত প্রকৃতির। পুরুষ মানুষ হলেও তার পোষাক-আষাক মেয়েদের মতো। একদিন হঠাৎ লোকটা জানালো যে সে অচিরেই মেয়ে হয়ে যাচ্ছে - এইজন্য সে একটা অপরেশনও করাবে (সেটা কি অপরেশন আন্দাজ করতে পারি) এবং সেই লোক দাবী করে বসল যে সে আর পুরুষদের টয়লেট ব্যবহার করবে না। মেয়েদের বাথরুম ব্যবহার করার অনুমতি চাইল সে। মনের ভেতরে সে নাকি নারী...অপরেশন করে ঝামেলাগুলো বাদ দিয়ে দিলে সে বাইরেও নারী হয়ে যাবে। ওটা মাত্র সময়ের ব্যাপার। মার্কিন দেশে অনেক অদ্ভুত ব্যাপার ঘটলেও এতে বেশ তোলপাড় হলো। অফিসের মেয়েরা বেঁকে বসল, ওই লোককে তারা তাদের বাথরুমে দেখতে চায় না। এদিকে সেই অদ্ভুত লোকটাও পুরুষ মানুষদের বাথরুমে আর যেতে চায় না। শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই লোকটার জন্য আলাদা একটা বাথরুম বানিয়ে দিতে হলো।

এই গল্পটা থেকে আমি যেই মোরালটা পেলাম, সেটা হলো -এই জাতি বাথরুমের জন্য অনেক দূর যেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এদের অতো মাথাব্যথা নেই, থাকলে আজকে বিনে পয়সায় দাঁত তোলা যেত।

প্রক্ষালনের গল্প দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যাচ্ছে। পুরানো একটি গল্প দিয়ে শেষ করি। এরশাদের আমলে সব কিছুর নাম দেওয়া হচ্ছিল এরশাদের নামে। এরশাদ আর্মি স্টেডিয়াম, এরশাদ নগর...প্রতিটি নামকরণের সাথে সাথেই এরশাদকে প্রচুর গালাগাল দিতো মানুষজন। এরশাদ একই সময়ে “পল্লীবন্ধু” নিকটা নেন, ওই নামটাও ছড়িয়ে পড়ছিল। এরশাদের সুকঠিন শাসন সর্বত্রই বিরাজমান – শুধু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বাদে। দেশের একমাত্র মুক্তাঞ্চল ছিল ওটা। এমনি এক গোলমেলে সময়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের বাথরুমের নাম ছাত্ররা করে দিল “রওশন এরশাদ শৌচাগার"...সীমিত সম্পদের এই নিদারুণ ব্যবহার কি আর কেউ পারবে করতে? এতো লক্ষ লক্ষ টয়েলেটের দেশ আমেরিকা, একটার নামও কি হেনরি কিসিঞ্জারের নামে হয়েছে? অথবা জর্জ বুশ? অথবা রিচার্ড নিক্সন?

বেঁচে থাকুক আমাদের ভাঙাচোরা টাট্টিঘর আর সুনিপুন রসবোধ।

###


মন্তব্য

কুমার এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কুমার এর ছবি

আমার এক বন্ধু বাথরুম পেলেও মুখে বলে না, বলে গাড়ী থামা, তোরা একটু বিড়ি সিগ্রেট খা।

তাসনীম এর ছবি

এতো লজ্জা পেলে হয়?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

হা হা হা। মজা লাগলো খুবই। "প্রক্ষালণকক্ষ" শব্দটার সাথে আজকেই পরিচিত হলাম! ধন্যবাদ।

এই সিরিজের বাংলা আর ইংরেজি দুই ভার্শনের ইবুক দরকার। আমরাই মজা পাবো, আপনার মার্কিন বন্ধুরা পাবে না, তা কেমন হয়? কবি বলেছেন, কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না!

তাসনীম এর ছবি

প্রক্ষালণ বানানটা নিয়ে চিন্তায় আছি? ণ-ই তো হওয়া উচিত রাইট?

আর ই-বুক বানানোর দাবি তোমার জন্য বিপজ্জনক...সব কাজ তোমাকেই করতে হবে...হা হা হা।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

শব্দটার সাথে তো আজকেই পরিচিত হলাম! বানান জানতাম না। তবে মাত্র দেখলাম, "ন" হবে। শব্দটার অর্থ হলো ধোয়া বা পরিষ্কার করা। "ওয়াশরুম"-এর বাংলা আর কি।

হা হা হা। ব্যাপার নাহ। আপনি আগে লিখে তো ফেলেন বাকি পর্বগুলা। তারপর হয়ে যাবে। আমরা তো আছিই।

তাসনীম এর ছবি

হুম - ঠিক করতে হবে। প্রথমে "ন" লিখেছিলাম। পরে মনে হলো ণত্ত্ব বিধান না কি যেন আছে।

বানান ঠিক করলাম।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

'প্রক্ষালন' এটাই সঠিক বানান। লেখাটা সম্ভবত তাহাহুড়ো করে লেখা। নইলে আপনার লেখায় তো এত টাইপো থাকেনা।
যাহোক, লেখাটা বরাবরের মতই সুখপাঠ্য।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। বানান ভুল ধরিয়ে দিলে খুশি হতাম। প্রক্ষালন বানানটা ঠিক করেছি।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

রণদীপম বসু এর ছবি

কয়েক বছর আগের কথা। কমলাপুর রেলস্টেশনে গেছি। ফেরার পথে অস্বস্তি দূর করতে পাবলিক শৌচাগারে গেলাম। ভেতরে ঢোকার আগেই বুঝে গেলাম আমাদের শাস্ত্রছোঁয়া গ্রন্থগুলোতে নরকের বর্ণনায় কেন মল-মূত্র বিষয়ে সয়লাব হয়। যাক্, প্রয়োজনের তীব্রতার কারণে নরকদর্শনে আগ্রহী হলে আমাকে জানানো হলো- বড় কাজ চার টাকা, ছোট কাজ দু'টাকা। এখন তার সেবামূল্য কতো হয়েছে জানি না। তবে এখনো এক গ্লাস পানি কিনতে হয় এক টাকায়।
তাই সেদিনই বুঝে গেলাম ঢাকার নাগরিকদেরকে পানি গিলতে যে খরচ করতে হয়, তা ছাড়তে দ্বিগুন মূল্য গুনতে হয়। আর নরকদর্শন তো ফ্রি !!

হুমায়ূন আজাদ কি সাধে বলেছিলেন- আমাদের পাবলিক টয়লেটগুলো ঢুকলে বাঙালির আত্মাটাকে দেখা যায়। (উদ্ধুতিটা হয়তো অবিকল হয় নি, তবে এরকমই)।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তাসনীম এর ছবি

মন্তব্যে চলুক

পাব্লিক টয়লেট ভয়ংকর জিনিস। হুমায়ূন আজাদের উদ্ধৃতিটা জানতাম না। সত্যতাটা জানি।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

হায় ইএমই'র লিফট। ৪ বর্গফুটের এই লিফটে ২৩ জন দামড়া তরুণ উঠে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছিলাম ২-২এ। সেটা আশা করি লারার রেকর্ডের মতনই দীর্ঘস্থায়ী হবে।

লেখা ইউজুয়াল সাকিবীয় হাসি

তাসনীম এর ছবি

বল কি? স্বপ্নের লিফটের এই দশা?

কয়েকদিন আগে দেখলাম নতুন একটা ভবন উদ্বোধন হয়েছে, পলাশীর বাজারের পাশে। তোমরা মনে হয় পুরানো ইএমইতেই ক্লাস করেছ।

ধনব্যাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আমার মনে হয় পুরুষ থেকে নারী লোকটার জন্য বাথরুম বানিয়েছে ফেয়ার চাকুরীর আইনে কেইস খাবার ভয়ে। যদি লোকটাকে সুবিধা না দেয়, কিংবা চাকরী থেকে বের করে দেয় তাহলে বিশাল আইনী সমস্যায় পড়ে যেতো সেই কোম্পানী।

লেখা বরাবরের মতোই সুস্বাদু। হাসি

তাসনীম এর ছবি

সেটা হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সত্যপীর এর ছবি

আমেরিকায় প্রক্ষালনকক্ষকে সবাই বলে রেস্টরুম। ক্যানাডায় বলে ওয়াশরুম। দেশে শুনছি বাথরুম। ব্যাপক কনফিউজিং ব্যাপার।

লিখা তাসনীম কোয়ালিটি রসালো।

..................................................................
#Banshibir.

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ সত্যপীর। ক্যানাডাতে প্রতি বাসায় একটা করে বাথরুম। দলবেঁধে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে খুব অসুবিধা হয়েছিল।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সত্যপীর এর ছবি

আমাদের বাসায় দুইটা বাথরুম, পরেরবার আমাদের বাসায় আইসেন হাসি

..................................................................
#Banshibir.

নিলয় নন্দী এর ছবি

ঢাকায় আমার এক পরিচিত চার বাথ্রুমের বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। বন্ধুরা তাঁর বাসায় এসে বলে, তোর কি এটা বাসা না কলেরা হাসপাতাল? হাসি

কালো কাক এর ছবি

আমার বাসায়ও চার বাথ্রুম। তিনটা তিন বেডরুমের সাথে, একটা কমন। দরকারের সময় যেন অপেক্ষা করা না লাগে তাই দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
alumia এর ছবি

ভাই আপনার দেখা ক্যানাডার স‌্যাম্পল সাইজ কত?
আমার মনে হয় - এক, তাইনা।
ক্যানাডার বাড়ি বিক্রির ওয়েবসাইট খুললে এসম্পর্কে ভাল আইডিয়া পাবেন।

লেখাটা অনেক সুন্দর হয়েছে।

তাসনীম এর ছবি

না ভাই একের চেয়ে বেশি। ক্যানাডার পূর্ব উপকূলেও আমি ঘুরেছি। ক্যানাডাকে বাথরুম অবান্ধব মনে হয় নি।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মন মাঝি এর ছবি

অনেক দিন পর!

১। আচ্ছা, ঐ দেশে এটেন্ডেন্টওলা বাথরুম আছে কোথাও - যে তোয়ালে, সাবান, প্রসাধনী ইত্যাদি এগিয়ে দেয় ?

২। সংসদ ভবন এলাকায় বিকালে আড্ডারত অবস্থায় যে ঘটনার কথা বললেন, এটা কত সালে?

মজার লেখা চলুক

****************************************

তাসনীম এর ছবি

লেখার জন্য সময় পাই নি ইদানিং। এটা অর্ধেক লেখা ছিল, আজকে তাড়াহুড়া করে শেষ করে দিয়ে দিলাম।

১/ এটেন্ডেটওয়ালা বাথরুম এখনো দেখিনি।

২/ ১৯৮৭ - ৮৮ সালের দিকে হবে।

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

নাবিদ এর ছবি

গুরু গুরু

ঢাকার মোড়ে মোড়ে শপিং 'মল' গড়ে উঠায় একটা লাভ হয়েছে, এখন আর রাস্তাঘাটে প্রকৃতি ডাক দিলে নরক দর্শন করতে হয়না; হাতের কাছের কোন একটায় ঢুকে 'মল' ত্যাগ করে আসা যায়। দেঁতো হাসি

চলুক

তাসনীম এর ছবি

শপিং মলগুলো এটাই সুবিধা।

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তারেক অণু এর ছবি

“জ্যাডাপহ” দেঁতো হাসি পুরাই টেনিদা!

খুব রসময় হয়েছে, তবে যাই বলেন পরিষ্কার টয়লেট খুব প্রয়োজনীয়, অনেক দেশে যে অল্প বিপদে পড়েছি তা এই টয়লেট নিয়েই, আর উত্তর মেরুর টয়লেট! ইউ টিউবে দেখে নিন !

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। এইটার কথা বলছেন?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

শিশিরকণা এর ছবি

আপনি বেডাছেলে হয়ে এই গেঞ্জামে পড়সেন, আর মেয়েদের কথা ভেবে দেখেন? তবে ক্যাম্পিং করতে কোথাও গেলে সাথে পলিব্যাগ আর ওয়েট টিস্যু নিয়ে যাইতে উপদেশ দেয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি অতীত  এর ছবি

'প্রক্ষালনকক্ষ' শব্দটা আমি প্রথম দেখি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে এর একটা হোটেলে যেখানে বাস থামে। এবং সেদিনই প্রথম জানতে পারি এই নামে একটি শব্দ আছে। আর যাইহোক, শব্দটার মধ্যে একটা ভাব আছে বলেই আমার মনে হয়। দেঁতো হাসি

অতীত

তাসনীম এর ছবি

শব্দের মধ্যে নিশ্চিতভাবে ভাব আছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

চরম উদাস এর ছবি

হো হো হো

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সচল জাহিদ এর ছবি

১) 'প্রক্ষালন কক্ষ' নামটা প্রথম দেখি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে। বন্ধু বান্ধব মিলে ঘুরতে গিয়েছি। কোন ডিপার্টমেন্টের ( সম্ভবত ভুগোল, নাও হতে পারে) ভিতরে এই উদ্ভট নাম দেখেছিলাম। এর পরে প্রক্ষালন কক্ষ নামটা বন্ধুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল।

২) সাম্প্রতিক ঘটনা। পুরো এক্সট্রা লার্জ কফি নিয়ে টিএ ক্লাসে গিয়েছি। ক্লাসের মাঝখানেই বুঝলাম প্রক্ষালন কক্ষে যেতে হবে। ক্লাসরুম যেই ফ্লোরে সেই ফ্লোরে আমাদের গ্র্যাড অফিস না। দরজা দিয়ে যাবার ঠিক আগেই এক ছাত্র ম্যাটল্যাবের কোডের এক সমস্যা দেখানো শুরু করল, আমার অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি মানে ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাঁচি। যাক সমস্যা সমাধান শেষে কোনমতে দৌড় দিয়ে ঐ ফ্লোরের প্রক্ষালন কক্ষে যেয়ে দেখিঃ

চমৎকার ছিমছাম একটা কামরা। একটা চেয়ার আছে বসার জন্য। দাঁড়িয়ে কর্ম সম্পাদন করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কি আশ্চর্য!!! আমি জানতাম না যে এই দেশের লোকেরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বর্বরের মতো কাজ সারে না। এতোদিনেও কেউ বলে নি। এই কারণেই এই দেশ এতো উন্নত হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে হাটে-মাঠে-ঘাটে মানুষকে এই কাজ করতে দেখা যায়।

যাক এতদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝলাম ঘটনা খারাপ, এক দৌড়ে বের হয়ে পাশের রুমে যেয়ে কাজ সারলাম। ভাগ্যিস ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ দেখেনি, দেখলে নির্ঘাৎ টিএ এসেস্মেন্টে ঝেড়ে দিত !!


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তাসনীম এর ছবি

চলুক

মেয়েদের রেস্টরুমে এর পরেও দুই একবার ঢুকেছি...ওই যে বললে অভিজ্ঞতা...এখন এক সেকেন্ডেই টের পেয়ে যাই।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

Guest_writer নীলকমলিনী এর ছবি

সুন্দর লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। আমার একটা মজার অভিজ্ঞতার কথা বলি। বঙ্গ সম্মেলনে গেছি অ্যাটলান্টিক সিটিতে । একটি অনুষ্ঠান দেখে অন্য ঘরে অন্য অনুষ্ঠান দেখার আগে ভাবলাম বাথরুম হয়ে যাই। আমি আনমনে বাথরুমের দিকে যাচ্ছি, যখন কাছাকাছি এসেছি( মেয়েদের টা এক দিকে, আর অন্য দিকে ছেলেদের টা) শুনতে পেলাম কে যেন চীৎকার করে বারবার বলছে " দিদি ওটা দাদাদের, দিদি ওটা দাদাদের"। আমি তাড়াতাড়ি ইউ টার্ন করলাম।
আমি বন্ধুদের যখন জোক শুনাই , এই গল্পটি শুনে সবাই খুব মজা পায়।

তাসনীম লেখা যথারীতি ভাল। মেয়েদের গল্প আবার কবে লিখবেন?

তাসনীম এর ছবি

হাসি

আমার এক সহকর্মীর বউ তাকে বলেছিল...ইউ নিড টু টেক মি টু সাম প্লেইস আই হ্যাভ নেভার বিন...সহকর্মী ভদ্রলোকের জবাব...হাউ অ্যাবাউট দ্য মেনস রুম?

শিশুপালন অর্ধেক তৈরি আছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

আমিতো সবার চেয়ে জ্ঞানী দেখি! খাইছে প্রক্ষালনকক্ষ নামটা আগে থেকেই জানি! দেঁতো হাসি

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

তাসনীম এর ছবি

আসলেই...কিভাবে জানলে?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তাপস শর্মা এর ছবি

প্রথমে তো মার্কিন মুল্লুক এসেছে সেই খুশিতে হাজার বোল্ট এর একটা দেঁতো হাসি

এই টয়লেট আমাদের মতো মানুষকে কোনদিনই নিজের বশে আনতে পারেনি। বাংলাদেশের পাবলিক টয়লেটের যে সকরুণ বর্ণনা দিলেন, আমাদের এখানকার প্রায় একই অবস্থা। আমি আবার এক সময় সাংঘাতিক খুঁতখুঁতে ছিলাম, না পারতাম এইসব টয়লেটে ঢুকতে না পারতাম যেখানে সেখানে ইয়ে করতে। কতবার যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেপে গেছি, আর এরফলে……………… তবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করতে গিয়ে আমি বদলেছই। ইল্বিশ পুলাপান এর সংস্পর্শে এসে আমার ইল্বিশগিরি শুরু হল। আর ইয়ে মানে মেয়েদের বাথরুমে আমিও গেছি, তবে একা নয়, বন্ধুরা দল বেঁধে, কোন বদ উদ্দেশ্য নিয়ে অবশ্য নয়, দেখতে যে ওদের বাথরুমটা কেমন হয়। ধরা খাইনি।

এরপর কত সময় কেটে গেছে, আর আমিও পারফেক্ট ম্যাঙ্গো পিপল হয়ে - বনে জঙ্গলে, রাস্তায়, অত্র, তত্র, সর্বত্র, সেরেছি। ইনফেক্ট স্টার ক্যাটাগরির হোটেল এর চিপায়, শপিং মল এর পেছনের দেয়ালে, খোলা রাস্তার পাশে উন্মুক্ত ড্রেন এ, বাজারের দোকানের দেয়ালে… ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বন্ধুর একটা টোটকা ছিল এই- ব্যাপারে - তোর ধরছে, তুই ছাড়বি, যেই মানুষ তোর ইয়ে দেখতে কু নজর দিব হের লজ্জা, তোর না…… সেই বন্ধুরে এখনো গুরু মেনে চলি। হাসি

তাসনীম এর ছবি

পড়াশুনা মানুষকে কতো বদলে দেয় হাসি

ধন্যবাদ তাপস।

[এই মন্তব্যটা দুইবার এসেছে]

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তাপস শর্মা এর ছবি

হ। দুইবার আইছে। ইয়ে, মানে... । থাকুক। দেঁতো হাসি

সুখপাখী  এর ছবি

২০০৪এ আমরা যখন বুয়েটে ক্লাস শুরু করি, ততদিনে মেয়ের সংখ্যা ভালই বেড়েছে। তাই প্রয়োজনের সময় ইএমই এর মেয়েদের কমন রুমে লাইন দেয়ার মত অবস্থা দাঁড়িয়েছিল। ঘটনা বেগতিক হতে থাকলে, হয় ওএবি'র কমন রুম, নয়ত ছাত্রীহলে দৌড়াতে হতো। পরে আমরাও ধীরে ধীরে ৬তলার মেকানিকাল উইঙের টয়লেট দখল করে নেই। আমেরিকায় টয়লেটের সহজলভ্যতা দেশ থেকে বয়ে আনা বদ অভ্যাস টিকে দূর করে দিয়েছে। দেশে থাকতে সকালে বুয়েট বাস ধরার আগে বাসা থেকে টয়লেট হয়ে আসতাম, আর সাড়ে ৫টার বাস ধরে বাড়ি পৌঁছে আবার টয়লেট এর মুখ দেখতাম। দেশে ফিরে আবার ঐ অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

সুখপাখী

তাসনীম এর ছবি

আমাদের ব্যাচে ১০০ মেয়ে ছিল, শতকরা হিসেবে ২০% ছাত্রী। সেই কারণেই আন্দোলন হয়ত প্রাণ পেয়েছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

চুপচাপ এর ছবি

ভাইয়ার লেখার স্টাইল অতি অসাধারন। অনেকটা আমার স্টাইল এর কাছাকাছি হাততালি

তাসনীম এর ছবি

হাসি

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তাপস শর্মা এর ছবি

এই টয়লেট আমাদের মতো মানুষকে কোনদিনই নিজের বশে আনতে পারেনি। বাংলাদেশের পাবলিক টয়লেটের যে সকরুণ বর্ণনা দিলেন, আমাদের এখানকার প্রায় একই অবস্থা। আমি আবার এক সময় সাংঘাতিক খুঁতখুঁতে ছিলাম, না পারতাম এইসব টয়লেটে ঢুকতে না পারতাম যেখানে সেখানে ইয়ে করতে। কতবার যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেপে গেছি, আর এরফলে……………… তবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করতে গিয়ে আমি বদলেছই। ইল্বিশ পুলাপান এর সংস্পর্শে এসে আমার ইল্বিশগিরি শুরু হল।

এরপর কত সময় কেটে গেছে, আর আমিও পারফেক্ট ম্যাঙ্গো পিপল হয়ে - বনে জঙ্গলে, রাস্তায়, অত্র, তত্র, সর্বত্র, সেরেছি। ইনফেক্ট স্টার ক্যাটাগরির হোটেল এর চিপায়, শপিং মল এর পেছনের দেয়ালে, খোলা রাস্তার পাশে উন্মুক্ত ড্রেন এ, বাজারের দোকানের দেয়ালে… ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বন্ধুর একটা টোটকা ছিল এই- ব্যাপারে - তোর ধরছে, তুই ছাড়বি, যারা কু নজর দিব হের লজ্জা, তোর না…… সেই বন্ধুরে এখনো গুরু মেনে চলি। হাসি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ তাপস।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

স্যাম এর ছবি

আমার দেখা এয়ারপোর্ট বাথ্রুমগুলোর মধ্যে কলকাতা এক আর ঢাকার অবস্থান দুই এ (অপরিচ্ছনতার বিচারে) - আগে অন্য দেশগুলো ঘুরে এসে কিছুটা লজ্জিত থাকতাম আমাদের দেশ এ আসা পর্যটকদের জন্য - এক-এয়ারপোর্ট বাথ্রুম, দুই- এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পর ট্যাক্সিওয়ালাদের টানাটানি - আগে ঢাকাই এক নম্বরে ছিল - এখন মনে হই কলকাতা - লেখা সরেস তাসনীম ভাই হো হো হো

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ স্যাম

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মাহমুদ.জেনেভা এর ছবি

প্রতিবারের মতো এই পর্বটাও জটিল
আমি ইউনিভার্সিটিতে আপনার লেখাটা দেখে পড়ি নাই বাসার এসে পড়ার জন্য রেখে দিয়েছি। আপনার লেখা পড়ার আগে আমি বিয়ার আর চিপস নিয়ে বসে আরাম করে পড়ি
ভাল থাকবেন তাসনিম ভাই টুকরো টুকরো স্মৃতি সহ গল্প পড়তে খুব ভাল লাগে

তাসনীম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ মাহমুদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

শমশের এর ছবি

লেখা যথারীতি চমৎকার হয়েছে। হাততালি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

এবিএম এর ছবি

রওশন এরশাদ শৌচাগার

তাসনীম ভাই, হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ।
ইএমই তে লিফট বসানোর জন্য দানবাক্স ছিল নাকি ? অদ্ভুত ব্যাপার !

তাসনীম এর ছবি

বাক্সের গায়ে ফাজলামি করে লিখে রেখেছিল কেউ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তানভীর এর ছবি

এরা দারুণ রসিকও বটে। সাম্প্রতিক খবর হলো অল্প কিছু টাকা-পয়সা দিলে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আপনার নাম প্রক্ষালনকক্ষের বাইরে লটকে অমর করে রাখার সুযোগ দিচ্ছে! ফলিক সাহেব তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভাড ল স্কুলে এক লক্ষ ডলার দান করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে সেখানকার বাথরুম এখন 'ফলিক মেন'স রুম' নামে শোভা পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারে লাগবে আরো কম- মাত্র পঁচিশ হাজার ডলার। আমার ধারণা টেক্সাস টেকে চাইলে আরো কমে প্রক্ষালনকক্ষে নিজের নাম বাঁধাই করে রাখা যাবে দেঁতো হাসি
http://moneyland.time.com/2012/02/08/colleges-are-selling-naming-rights-to-restroom-stalls/

তাসনীম এর ছবি

হুম...এরশাদের নামে বাথরুম করার এই সুযোগ যাচ্ছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ক্যান, মিরপুরের খালেক এমপি তার তৎকালীন নেতা এরশাদের নামে গণশৌচাগার করার কথা ঘোষণা দিছিলো না সংসদে?

কম্ফোর্টেবলি নাম্ব এর ছবি

সুহান একটা জবাব দেয় নাই, আমি এবেলা দিয়ে দিচ্ছি,
পলাশীর বিল্ডিংটাতে এখন বজ্র আর গণক প্রকৌশলীরা ক্লাস করে।
ইএমই বিল্ডিং এখন যন্ত্রীদের দখলে। চাল্লু চাল্লু

তাসনীমদা এখন কি দেশে নাকি?

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

নারে ভাই, আই উইশ। মার্কিন দেশেও দেশি চ্যানেল পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটি...কোনো খবরই অজানা নয়।

বাই দ্য ওয়ে...পিংক ফ্লয়েড উদ্দীপ্ত আপনার নিকটা আমার পছন্দ হয়েছে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সুমাদ্রী এর ছবি

প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আফ্রিকানদের দেখলাম তেমন কোন জড়তা নেই। আইভরি কোস্টে পুরুষরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কোনরকম রাখঢাক ছাড়াই কম্মো সারে, মহিলারাও কিন্তু দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই। দেশে ট্রেনগুলোতে নামকা ওয়াস্তে টয়লেট থাকলেও বাসে কিছু নেই, দূর-পাল্লার বাসে যাত্রীদের বিশেষ করে মহিলাদের কী যে ভোগান্তি হয়। ইউরোপে দূর-পাল্লার বাসগুলোতে টয়লেট দেখেছি।

তাসনীম এর ছবি

হাসি ধন্যবাদ সুমাদ্রী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

পড়াচোর এর ছবি

বাধ্য হয়ে মেয়েদের বাথরুম ব্যবহার করতে হয়েছে। একবার ছেলেদেরটা অনেক সময় ধরে বন্ধ ছিল, মেয়েদের বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়ে ঢুকব কিনা চিন্তা করছি- এমন সময় একটা আমেরিকান ছেলে সেই বাথরুম থেকে বের হয়ে এল। আমি আর চিন্তা করার অবকাশ দেইনি। ভাগ্য ভাল ফ্লোরে কম লোক থাকত।বাই দ্য ওয়ে, মেয়েদের টয়লেটে একটা ছিটকিনি বেশি থাকে দেখলাম।

লেখা বরাবরের মত সুখপাঠ্য হয়েছে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ পড়াচোর।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এই মরার দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় মাফ পাইলেও প্রক্ষালন ব্যবস্থায় মাফ নাই। হাইওয়েতে ডাউনলোডের চার্জ আট আনা। তবে, মেশিনের ভেতরে এই আট আনা ঢুকানোর বিনিময়ে আপনি একটা কূপন পাবেন। সেইটা দিয়ে সংলগ্ন পেট্রোল পাম্প থেকে কফিটা, চাটা, ব্রাউনিটা কিনতে পারবেন।

একেবারে শুরুর দিকে। এক বড় ভাইয়ের সাথে ট্রিয়ার হয়ে লুক্সেমবুর্গ গেছিলাম। আমার তো আবার স্বভাব খারাপ। সুন্দর কিছু দেখলেই এক নম্বর, দুই নম্বর পেয়ে বসে সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে। তো, হাইওয়ে 'আ-দ্রাই' এর আশে পাশে নৈসর্গিক দৃশ্য থেকে আমার প্রবল প্রক্ষালনের বেগ পেয়ে বসলো। তখন পেট্রোল পাম্পে কুপনের সিস্টেম চালু হয় নাই। তারপরেও বড় ভাই কয়, একটু চাইপা রাখো, সামনের পেট্রোল পাম্পে থামুমনে। আমি কৈলাম, ফারাক্কা ভাইঙ্গা আপনের চলন বিলের জমিজমা ভাইসা গেলে আমারে দোষ দিয়েন না পরে! বেচারা বড় ভাই, বাধ্য হয়ে হাইওয়ের সেইরকম এক নৈসর্গিক জায়গায় গাড়ি থামালে আমি অনেক উঁচু থেকে দিগন্তের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কাজ সারছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো বর্ণমালা কোনো ভাষাতেই এখনতরি আবিষ্কৃত হয় নাই।

তাসনীম এর ছবি

এই মন্তব্যের জবাবটা পরে বড় করে দিতে হবে। ইটা রাখলাম।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

শাব্দিক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

দিগন্ত এর ছবি

মার্কিন আইন অনুসারে ১৯৮০ র গোড়া থেকে তৈরী সব দোকানেই পাবলিক রেস্টরুম থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক দোকানদারই এটা নিয়ে অনেক আপত্তি ছিল, তবে মেনে নিয়েছে সবাই। ২০০৯ সালে আমাদের স্টেটেও একই আইন পাস হয়েছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ দিগন্ত, এই তথ্য আমি জানতাম না।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তারেক এর ছবি

"প্রক্ষালন" শব্দটার সাথে প্রথম পরিচয় হয় বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী হলের বাথরুমে। প্রতিটা দরজার ভিতরের দিকে লিখা ছিলঃ

"ওহে জ্ঞানীগণ-
অনুগ্রহ করে ঢালুন পানি
করিয়া প্রক্ষালন"

লিখায় পাঁচ তারা।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

বাউলিয়ানা এর ছবি

শেষবার আসবার আগে দেখেছি, সাইনপোষ্ট দিয়ে লেখা আছে "প্রসাধন"।

শব্দটা ভাল লেগেছে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

দারুন লেখা। হাততালি

আমি ঢাকা-খুলনা যাতায়াতের সম্য পানি মেপে খাই যেন পথে ঝামেলায় না পড়ি। একই কাজ করি, মিরপুর-মতিঝিল যাতায়াতে। মেয়েদের এই বিষয়ে বেশি ভুগতে হয়।
প্রক্ষালন শব্দটা আগে থেকেই জানতাম, তবে পরিস্কার করা অর্থে, "নিজ হাতে যবে চরন আপনি করেন প্রক্ষালন, পুত্র আমার পানি ধালি শুধু ভিজাইছে ও চরন" ক্লাস ফাইভে পাঠ্য ছিল।

সচলে কিছু নাম দেখলে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ি লেখা পড়তে হাসি সেই নামের একজন আপনি। হাসি

তাসনীম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

"নিজ হাতে যবে চরন আপনি করেন প্রক্ষালন, পুত্র আমার পানি ধালি শুধু ভিজাইছে ও চরন" ক্লাস ফাইভে পাঠ্য ছিল

এটা কি বাদশা আলমগীর, কুমারে তাহার পড়াইতেন এক মৌলভী দিল্লির...এই কবিতাটা?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তাসনীম এর ছবি

হাসি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

নিলয় নন্দী এর ছবি

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক অভিধান বলছে প্রক্ষালন: ধৌতকরন/ধৌতকার্য।
খুব একটা অপরিচিত শব্দ নয় কিন্তু ! ক্লাস ফাইভেই পড়েছি। হাসি

তাসনীম এর ছবি

ক্লাস ফাইভের অনেক বিদ্যাই ভুলে বসেছি।

ধন্যবাদ নিলয় নন্দী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ইঁদুর এর ছবি

প্রক্ষালনকক্ষ কথাটা প্রথম শিখি আমাদের কলেজের বাথরুমে যেয়ে। আমার বন্ধু বান্ধব অনেকেই দেখেছি শব্দটা জানে না-ভারিক্কী একটা শব্দের মানে যে এমন শুনে মজা পায় সবাই! লেখা দারুন লেগেছে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ ইঁদুর।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সবজান্তা এর ছবি

মার্কিন মুল্লুকে সিরিজের লেখা হলেও বিষয়টা এমন জীবনঘনিষ্ঠ যে মার্কিনী-অমার্কিনী নির্বিশেষে দু ফোঁটা শিশির দান করে যাচ্ছেন মন্তব্যের ঘরে !

লেখা আগের মতোই দুর্দান্ত তাসনীম ভাই। এই চরম গরমের মধ্যে হাসানোর জন্য থ্যাংকু।

তাসনীম এর ছবি

মন্তব্যের জন্য তোমাকেও ধন্যবাদ। নিচে একটা মন্তব্যে বলেছি, টয়লেট খুব জনপ্রিয় একটা টপিক।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সবজান্তা এর ছবি

ডুপ্লি ঘ্যাচাং

সবজান্তা এর ছবি

ডুপ্লি ঘ্যাচাং

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হো হো হো

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১। টয়লেট থাকা, পরিষ্কার টয়লেট থাকা, মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকা এর কোনটা নিয়েই বাংলাদেশের কোন পর্যায়ের মানুষ বিশেষ চিন্তিত নয়। এই জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলুন, অফিস বলুন আর স্টেশন (বাস/ট্রেন/লঞ্চ) বলুন - কোথাও এর সুব্যবস্থা নেই। বড় অংশ জনগণের আরো নেই টয়লেট ব্যবহারের শিক্ষা/ট্রেনিং। এজন্য দেখবেন অত্যাধুনিক টয়লেট হোক আর শুধুমাত্র দুইটা লম্বালম্বি বাঁশ বিছানো টয়লেটই হোক, দুই জন যাবার পরই সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বড় অথবা সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লিনার/মেথর নামের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালনে বিশেষ অনাগ্রহী দেখা যায়। এর কারণ সম্ভবত খুব স্বল্প বেতন।

২। গণচীনে অনেক বার যাবার ফলে দেখেছি দেশটার পূর্ব থেকে যতই পশ্চিমে যাওয়া যায় পাবলিক টয়লেটে অপরিচ্ছন্নতা ততো বাড়ে।

৩। সব সময় স্বল্প নাগালের মধ্যে টয়লেট থাকা, পরিষ্কার টয়লেট থাকা এবং সঠিকভাবে টয়লেট ব্যবহার করার মাত্রা দিয়ে একটা জনগোষ্ঠীর অনেক কিছুই পরিমাপ করে ফেলা সম্ভব। এমন আরো কয়েকটা নিয়ামক হচ্ছে চোখের যত্ন, দাঁতের/নিঃশ্বাসের যত্ন, ত্বকের যত্ন, body odor।

৪। বছর ছয়েক আগে দিশা একটা পরীক্ষা দিচ্ছিল, সীট পড়েছে ঢাকা'র একটা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরীক্ষা শুরুর আগে সে একবার টয়লেট ঘুরে আসাটা সুবিধাজনক হবে ভাবলো। আমি সারা ক্যাম্পাস খুঁজে শিক্ষার্থীদের জন্য একটা মাত্র টয়লেট খুঁজে পেলাম যেটা যথারীতি নোংরা - প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। তবুও আমি তাকে সেখানে যাবার জন্য বললাম। দিশা বললো, "না, না! এমন খোলামেলা টয়লেটে যাবো না। আর সেখানে যদি কোন ক্যামেরা লুকনো থাকে"! দিশা'র আশঙ্কাটিকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেবার মতো জোর আমার ছিলনা, এখনো নেই। বিশ্বাস করুন, ঐ মুহূর্তে সব কিছু ভেবে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করেছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তাসনীম এর ছবি

টয়লেট নিয়ে জাতিগতভাবে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

সব সময় স্বল্প নাগালের মধ্যে টয়লেট থাকা, পরিষ্কার টয়লেট থাকা এবং সঠিকভাবে টয়লেট ব্যবহার করার মাত্রা দিয়ে একটা জনগোষ্ঠীর অনেক কিছুই পরিমাপ করে ফেলা সম্ভব। এমন আরো কয়েকটা নিয়ামক হচ্ছে চোখের যত্ন, দাঁতের/নিঃশ্বাসের যত্ন, ত্বকের যত্ন, body odor

এই বিচারে মার্কিন দেশ বেশ উঁচুস্থানে থাকবে।

তবে টয়লেটে লুকানো ক্যামেরার মতো জঘন্য কাজ আমি এখানেও হতে দেখেছি। অস্টিন শহরেই বেশ চালু একটা ক্লাবে ধরা পড়েছিল, বেশ কয়েকবছর আগে। এটার জন্য দরকার যেই কুৎসিত মনোবৃত্তির, সেটা দুনিয়াতে খুব বিরল নয়।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

ব্লগে বড়ো লেখা পড়তে সাধারণত ভালো লাগে না আমার।
কিন্তু আপনার লেখা পড়তে শুরু করলে কোনদিক দিয়ে কখন শেষ লাইনে পৌঁছে যাই, একদম টের পাই না। দেঁতো হাসি

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

তাসনীম এর ছবি

আমি বড় ব্লগ লিখিতেও পারি না তেমন। তবে এই ব্লগটাকে কেটে ছোট করতে হয়েছে। টয়লেটের কাহিনী সীমাহীন।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

রিক্তা এর ছবি

ছেলেদের টয়লেট প্রথম দেখি এসএসসি পরীক্ষার সময়, মতিঝিল সরকারী বালক বিদ্যালয়ে। খুবি অবাক হইছিলাম দরজা ছাড়া ইউরিনাল দেখে। এমনকি দরজাওয়ালা টয়লেটেও ছিটকিনি ছিল না!
বুয়েটে ইএমই এর সেই তিনতলার টয়লেট না থাকলে যে কি হইতো! সেইটা আবার ক্লাসডে তেই শুধু খোলা থাকতো সকাল এগারোটা থেকে বিকাল চারটা।দুই টার্ম এক্সাম বিল্ডিং (কর্মচারী ক্যান্টিন এর পাশে আরএক্স) এ ক্লাস করছি। তখন ছেলেমেয়ে একি টয়লেট ব্যবহার করতাম। ভাগ্যিস দরজাওয়ালা টয়লেট টা বাইরের দিকে ছিল।
আমার মাস্টার্স এর ইউনিভার্সিটিতে স্কুল অফ কম্পিটিং এর বিল্ডিঙ্গে জোড় বিজোড় তলায় যথাক্রমে মেয়েদের আর ছেলেদের টয়লেট। একদিন আমি খুব অন্যমনস্কভাবে একটা টয়লেটে ঢুকতেছি, দেখি আমার আন্ডারগ্রেড টিএ ক্লাসের একছেলে ছিটকায়ে দূরে সরে গেল।ভিতরে ঢুকেই মনে হল, কি জানি একটা সমস্যা। আসলে এর আগের দিন আমি ছয়তলার ল্যাব থেকে পাঁচতলার ল্যাবে সিফট করছি।কাজেই ঢুকেছি ছেলেদের টয়লেটে। তাড়াতাড়ি বের হয়ে দেখি অইছেলে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায়ে আছে।

ও হ্যাঁ, আপনার লেখা খুবি ভাল লাগে। সচলের পাতায় শিশুপালন/মার্কিন মুল্লুকে দেখলেই মনে একটা ঈদভাব আসে দেঁতো হাসি

রিক্তা
--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

তাসনীম এর ছবি

আমি দেখেছি টয়লেট নিয়ে সবারই গল্প থাকে। ছেলেবেলা যদি #১ কমন টপিক হয়, তবে #২ হবে টয়লেট।

আপনার ভালো লাগা জেনে ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাবেকা এর ছবি

এক টানে লিখাটি পড়ে ফেললাম । আপনার অন্য লেখাগুলোর মতই অসাধারণ, সুখপাঠ্য । প্রক্ষালনকক্ষ নামটি অবশ্য অনেক আগেই জানতাম । তবে প্রথম কিভাবে জানলাম যদি জিজ্ঞেস করেন, মনে করতে পারবনা ।

আমি জীবনে একবারই অন্যমনস্ক ভাবে ছেলেদের বাথরুমে ঢুকে পড়েছিলাম,বের হবার সময় সামনে একটা লোককে দেখে আমার খেয়াল হয় এটা পুরূষদের বাথরুম । ভাগ্য ভালো ছিল যে আর কেউ দেখেনি ওই লোকটা ছাড়া হাসি

তাসনীম এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ সাবেকা।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

দময়ন্তী এর ছবি

হো হো হো
এঃ শিরোনাম দেখেই মনে হল হীরক রাজার দেশের মস্তিষ্ক প্রক্ষালন কক্ষের কথা|

ওফ্ কলেজে পড়ার সময় সহপাঠী ছেলেদের সাথে কি ঝগড়াটাই না করতাম যে আমরা যদি পারি, তাহলে তোরাই বা কেন ঘন্টার পর ঘন্টা চেপে থাকতে পার্বি না অ্যাঁ! আমারও এই প্রক্ষালন কক্ষ নিয়ে বেশ সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা| আমি আপনার দেওয়া আমেরিকার এই প্রক্ষালন বান্ধব আখ্যার সাথে পুরো সহমত|

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

তাসনীম এর ছবি

আবেগ বা বেগ আমি কোনোটাই চেপে রাখতে পারি না। বাচ্চা স্কুলে নেওয়ার পথেও গাড়ি থামিয়ে কাজ সারতে হয়েছে। এই দেশ থেকে কোনোদিন চলে গেলে বাথরুমের বহুলতা মিস করব খুব।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

শাব্দিক এর ছবি

প্রক্ষালনকক্ষ শব্দটা প্রথম শুনলাম, বেশ শ্রুতিমধুর লাগছে। খাইছে
লেখা বরাবরের মতই দারুন!

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ শাব্দিক।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তিথীডোর এর ছবি

হো হো হো
যদিও দেরিতে পড়া হলো। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

তাসনীম এর ছবি

বেটার লেইট দেন নেভার, ধন্যবাদ তিথীডোর।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তাসনীম ভাইয়ের সিরিজ মানেই মজায় ভরপুর রসের হাঁড়ি। আহ, বহুদিন পর মনখুলে হাসলাম।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ রোমেল ভাই, ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

প্রদীপ্তময় সাহা এর ছবি

জব্বর লেখা।

প্রক্ষালন শব্দটার মধ্যে একটা বেশ ব্যাপার আছে।
কিছু একটা প্রক্ষিপ্ত হয়ে যাবে এমন ধরনের। চোখ টিপি

তবে আমাদের এখানে শৌচালয় কথাটাই ব্যবহার হতে দেখেছি।

লেখায় পাঁচতারা।

তাসনীম এর ছবি

প্রক্ষালনকক্ষ ওই এয়ারপোর্ট ছাড়া আর কোথাও ব্যবহার হতে দেখি নি।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

দ্রোহী এর ছবি

আপনি মশাই খুব দরদ দিয়ে লেখেন।

তাসনীম এর ছবি

দরদ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ দ্রোহী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

Sikdar এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

আআআহ! আপনাকে দেখে আমি সত্যিই ইন্সপায়ারড হলাম তাসনীম ভাই, ট্রেইন, পথমধ্যের রেস্টুরেন্ট, ও রাস্তার পাবলিক টয়লেট এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের টয়লেট নিয়ে আমিও একটা কিছু লিখে ফেলবো আশা করছি! এত রূপ-বৈচিত্র্য খুব কম জিনিসেরই থাকে!

দারুণ লাগলো পড়তে বরাবরের মতই। দেঁতো হাসি

ওহ! ২০০৯-এ অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল এই অ্যানিমেটেড শর্ট-টা -

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

তাসনীম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ যাযাবর ব্যাকপ্যাকার।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

আশালতা এর ছবি

বঙ্কিম ভক্ত ছিলাম বলে শব্দটা পরিচিত ছিল। কিন্তু সেই খটমটে শব্দ নিয়ে এত সুন্দর করে লেখা বোধ হয় আপনার পক্ষেই শুধু সম্ভব।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। তবে মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হচ্ছে প্রক্ষালন শব্দটা আমিও শুনেছি।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

বেকায়দায় পড়লে বেশিরভাগ সময় বাথরুম করতে যাই মসজিদে, আর বাংলাদেশে এই স্থানের কোন অভাব নাই; অর্থাৎ খুব একটা সমস্যায় পড়ি নাই।

লেখা বরাবরের মতোই ভালো লেগেছে তাসনীম ভাই। হাসি


_____________________
Give Her Freedom!

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। মসজিদে বাথরুমে আইডিয়া জীবনেও মাথায় আসে নি হাসি দেশে মসজিদের আসলেই অভাব নেই।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

নাতিস এর ছবি

এই ব্যাপারে আমার একটা মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমি একবার আমেরিকার 'হবিলবি' দোকানে মনে হয় কারো জন্য গিফট কিনতে গেছি। এই অবস্থায় আমারও হঠাৎ প্রক্ষালন কক্ষের যাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রয়োজনের মাত্রা বেশি হওয়াতে আমি হুঠ করে রেস্টরূমটা কোথায় জেনে দৌড় দেয়। ভিতরে ঢুকে কোনদিকে না তাকায়ে রেস্টরুমের ছোট্ট কামরার আধাখোলার দরজা বন্ধ করে ছোট কাজটি সেরে নিয়ে বের হয়ে আসি। তারপরে হাত ধুয়ে গিয়ে দেখি বাথরূমটি খুবই ছিমছাম, একটা চেয়ারও আছে। আগে আমি কোনদিনও রেস্টরূমে চেয়ার দেখিনি। ভাল দোকান তাই রেখেছে মনে করলাম। আরো যেটি দেখে অবাক হলাম সেটি হল, কোন ইউরিন্যাল নাই বাথরূমে। আমি খুবই অবাক, ভাবছি 'হবিলবি' তে মনে হয় ইউরিন্যাল থাকেনা ! বাইরে বের হতেই দেখি আমার বন্ধু আমাকে বলে রেস্টরূম কোথায়? আমি দেখিয়ে দেই, তারপরে সে ফেরত আসলে বলি যে সে বাথরুমে, একটা সুন্দর চেয়ার দেখেছে কিনা আর ইউরিন্যাল যে নাই সেটা দেখে অবাক হয়েছে কিনা? সে বলে, বাথরুমে কোন চেয়ার নায়, আর দুইটা ইউরিন্যাল আছে। আমি তো অবাক, ব্যাপার বুঝার জন্য দৌড় দেয়। আর যথারীতি আবিষ্কার করি যে আমি মহিলাদের রেস্টরুমে ঢূকে মূত্র বিসর্জন দিয়ে এসেছি। আমার তখন কেমন জানি গায়ে ঘাম দিয়ে উঠে। চিন্তা করতে পারি না যে ঐ বিকালে কোন মহিলা ঢুকলে কি হত আমার! তাই আজকাল একটু বেশিই সাবধান থাকি। বারবার তো আর ঘুঘু ধান খেয়ে পালাতে পারবে না!!

তাসনীম এর ছবি

বাথরুমে চেয়ার দেখলেই সাবধান!!!

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কল্যাণ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

দারুন রসবোধ আপনার। চমৎকার লেখা।

তাসনীম এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক মজার লেখা।এ বিষয়ে একটা ব্যাপার শেয়ার করতে চাই।।।।আমাদের কলাভবনে একটা মাত্র কমন রুম ছিল, আর সেটা ছিল ৫ তালায়। সেখানে আমাদের মাত্র ২টা প্রক্ষালন কক্ষ ছিল। আর সেটা ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী। পুরো ৬ বছরে ক'বার ব্যবহার করেছি গোণা যাবে। আমার ২ বান্ধ্ববী কখনও যায়নি।

পরে অবশ্য নীচতালায় একটা কমন রুম হয়েছিল অনেক পর।

দেশের বাইরে এসে তাই একি সাথে ভাল লেগেছিল এবং মন খারাপ ও হয়েছিল দেশের অবস্থা মনে করে।অবশ্য এখানে একটা প্রব্লেম আছেই। হি হি হি । পানি ব্যবহারের ব্যাপারটি। এ বিইয়ে একটা লিখা লিখবো ভাবছি।

গুল্লি

মরুদ্যান এর ছবি

এই লেখা দেখিনাই ক্যামনে??? অ্যাঁ

গড়াগড়ি দিয়া হাসি দেশে থাকতে ফেরী, অজপাড়াগাঁ এর ডিজেল স্টেশনের টয়লেটে যাবার অভিজ্ঞতা আছে। কোন কোনটা ভয়াবহ!

কিন্তু দোহা এসে আজ পর্যন্ত কোন নোংরা পাবলিক টয়লেট দেখলাম না। টয়লেট পরিস্কার রাখার ব্যাপারে এরা ব্যাপকের উপরে ব্যাপক যত্নশীল!!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক
-অয়ন

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ!আটটি পর্বই পড়েছি,ভালো লেগেছে।

তারেক ইমতিয়াজ সিফাত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।