একটা বিয়ের গল্প

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১২/০৭/২০০৯ - ১০:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের গল্পের নায়কের নাম ধরে নেই আসলাম। মেডিক্যাল কলেজ থেকে যখন পাশ করে বের হলো , তখন ১৯৭৭ সাল । দুচোখে তার স্বমানধন্য চিকিৎসক হবার স্বপ্ন ,একমাত্র ছেলে হওয়াতে পরিবারের সব দায়িত্ব কাধে , বয়স্কা মায়ের অনেক আশা তাকে ঘিরে । বাবাকে খুব ছোট থাকতে হারিয়েছে , তার পর নানা অভাব অনটনে ভীষন কষ্টে পড়াশুনা করে এতদুর এসেছে ।ব্যর্থ হবার ভয় তাকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায়, রাতে দু:স্বপ্ন দেখে, ঘেমে অস্থির হয়ে জেগে উঠে, তারপর আবার পাশ ফিরে শোয়, জানেনা এখনও কিভাবে কি করবে। খালি একটা জিনিষই জানে সে, তার পক্ষে এখন কোন ভাবেই লক্ষ্যচুত হওয়া চলবে না। শিশুকালে বাবা তাদের ছেড়ে যখন চলে গেছেন, তখন বিষয়-আশয় তেমন কিছুই ছিল না, জমি জমা যা ছিল, সব বন্যার ভাঙ্গনে চলে গেছে। গ্রামে পড়াশুনার পরিবেশ ছিল না দেখে একটু বড় হতেই মা তাকে পাঠিয়ে দেয় বড় বোনের কাছে। কিন্তু তার অবস্থাও খুব ভালো না, অনেক বড় পরিবার তারও। কিন্তু তার মাঝেই গ্রামের স্কুল, কলেজ শেষ করে সরকারী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি, সেখানেও ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ করা, এখনও তার কাছে অন্তহীন যাত্রার মতই মনে হয়।

পাশ করার পর ঢাকা মেডিকেলে এসে যোগ দেয় লেকচারার হিসেবে।এর মাঝে একদিন তার এক কলেজের অনেক প্রিয় এক বন্ধুর চিঠি এসে হাজির। তার বক্তব্য এরূপ যে, তার সাথে এক মেয়ের বিয়ের কথা হচ্ছে, যার নাম ধরে নেই লাবন্য, একই মেডিকেলের ছাত্রী । আর সে জন্যেই তাকে তলব করে জরুরী বার্তা । মোট কথা তাকে ঘাড়ে পবিত্র দায়িত্ব পড়েছে মেয়ের খোজ খবর নেয়ার ।সে দেখতে কেমন, তার অন্য কোন পছন্দ আছে কিনা,পড়াশুনায় কেমন এমন জানা অজানা তথ্য বের করা কথা এক প্রকাশ করলে দাঁড়ায় পুরাদস্তুর থিসিস পেশ করতে হবে । অনেক দিনের পুরোনো বন্ধু বলে নাও করতে পারে না ।বেশি কিছু না ভেবেই বলে বসে, ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই, মেয়ে যখন ঢাকা মেডিকেলে ৩য় বর্ষে পড়ে, তাকে তো রাউন্ড দিতে হাসপাতালে প্রতিদিনই আসে। তখন না হয় খোজ খবর নিবে।বন্ধু হয়ে এটুকু করতে না পারলে এত বন্ধুত্বের নামে কলংক। সে তার দায়িত্ব যথাযত ভাবে পালন করবে , তারপর তার বন্ধু পরবর্তীতে যা সিদ্ধান্ত নেবার নেবে ।

তারপরে একদিন গল্পচ্ছলে আসলাম সিনিয়ার এক ভাইয়ের কাছে কথা তোলে পাত্রী তথা লাবন্যের কথা, কারণ তার স্ত্রী আবার তাদেরই ব্যাচের । কিন্তু তার কাছ থেকে যে তথ্য উদ্ধার করে আসলাম, তাতে তার বুঝতে সময় লাগে না যে সে বড়ই বিপদজনক কেসে হাত দিয়েছে । পাত্রীর বাবা আর যে কেউ না খোদ দূর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান, খুব জাঁদরেল আর সৎ লোক, তার গাড়ীতে সিপাহীপরিবেষ্টিত হয়ে কন্যা রোজ কলেজে আসে । মেয়ে সুন্দরী, গুনবতী সেই সাথে পড়াশুনায় ভয়ংকর মেধাবী ,ভালবাসার জালে এখনো পর্যন্ত কারো সাথে জড়ায়নি। প্রনয়প্রার্থীর অভাব নেই, কিন্তু মেয়ের বাবার ভয়ে কেউ প্রেমের প্রস্তাব পাড়ার সাহস করে উঠতে পারে নি। এসব শুনে আমাদের গল্পের নায়কের আত্মারাম খাচাছাড়া হয় হয় আরকি। সে খালি ভাবে, যদি মেয়ের বাবা জানতে পারে ঘুনাক্ষরেও, কেউ তার মেয়ের উপর গোয়েন্দাগিরি করছে, তাকেতো সোজা লাল দালানের ভাত খেতে হবে । কিন্তু কৌতুহলের কাছে ভয় পরাজিত হল। একদিন সাহস করে এসে হাজির হয় পরিকল্পনা মোতাবেক ওয়ার্ডের দরজার মুখে । আগে থেকেই সিনিয়ার ভাইয়ের সাথে কথা বলে ঠিক করা ছিল, সেই ভাইয়ের বাগদত্তা সাথে করে নিয়ে আসবে সেই কাঙ্খিত কন্যাকে, পরিচয় করিয়ে দেবে সুযোগ পেলে ।

দাড়িয়ে প্রতিক্ষা করতে থাকে আসলাম,এক সময়ে আসে সেই ক্ষন।যাকে নিয়ে এত যল্পনা কল্পনা তার দেখা মেলে। বন্ধুর জন্য মেয়ে দেখতে নিজেই বাকরূদ্ধ হয়ে যায়। কন্যা উচ্চতায় পাঁচ ফুট ২-৩ ইন্চি লম্বা হবে, কিন্তু তার বেনীখানা পাকানো রশির ন্যায় হাটু পর্যন্ত নেমে এসেছে, গায়ের রং ফর্সা না, হালকা শ্যামলা, কিন্তু যেন জ্বলজ্বল করছে, বেশ ভাব গম্ভীর মুখ । কি একটা বান্ধবীর কথায় হঠাৎ হেসে উঠল আর সে হাসিতে চারদিক যেন আলোয় ঝলমল হয়ে গেল । সাদা ছিটের জামা পড়া অদ্ভুত সুন্দর মেয়েটাকে দেখে মনে হল এতকাল যেন এই মেয়েকেই মনে মনে খুজে বেড়াচ্ছিল ।কিন্তু কি কপাল ,এত থাকতে দেখা মিললো বন্ধুর জন্য ঘটকালী করতে এসে ।একেই মনে হয় সচলের পাবলিক বলে মাইনকা চিপা।যাই হোক মুল কথা হলো আমাদের ঘটনার নায়ক বন্ধুর জন্য পাত্রী দেখতে এসে নিজেই প্রেমে পড়ে গেলেন।কিন্তু সে কথাতো কাউকে না পারে কইতে না পারে সইতে । মনের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে গেল , সৌজন্যমুলক কথা বার্তাশেষে চিরপরিচিত হলের দিকে হাঁটা শুরু করলো ।

বুকের মাঝে একরাশ শুন্যতা নিয়ে আসলাম চিঠি লিখতে বসে তার বন্ধুকে, খুব সুন্দর করে মনের মাধুরী মিশেয়ে গুনগান করে ডাক পাঠিয়ে দেয় । চিঠি পেয়ে তো তার বন্ধু খুব আনন্দিত, সে খবর পাঠায় কন্যাকে দেখতে আসবে,কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা যাকে বলে আরকি । তারপর একদিন এসে হাজির হয় মেডিকেলে, আসলাম কেও বলে রাখে আগেভাগে, তারা দুজনে দাড়িয়ে থাকে কলেজের পিছনের গেটে, যেখানে লাবন্য এসে সাধারণত নামে। কিন্তু ঘটনাক্রমে, সেদিন লাবন্য আর আসে না , দুই বন্ধু অপেক্ষা করে এক সময় ফিরে আসে । আসলামের বন্ধুটি পরে নিজেই এক ফাকে পাত্রীকে দেখে নেয় , তারও এত ভাল লেগে যায় সেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, এই কন্যাকেই বিয়ে করেঙ্গা ইয়া মরেঙ্গা । সে তার বাবা মা কে গ্রীন সিগনাল পাঠিয়ে দেয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন প্রস্তাব পাবার পর ভাবার জন্য একটু সময় চায়।মেয়ের বাবা নিজের মত করে খোজ খবর নেন, তিনি জানতে পারেন যে, ছেলের পরিবার ভাল, বিত্তশালী, আর্মিতে যোগ দিবে । সব কিছু ভাল হলেও কেন জানি তারা শেষমেষ মত দেন না এ বিয়েতে ।হয়তো উপরওয়ালা মনে মনে অন্য প্লান আটছিলেন।

এদিকে আসলামের তো আর দিন কাটে না, কাজের প্রচন্ড চাপ অথচ তার মন না চাইলেও পড়ে রয়েছে সেই অচিনপুরের রাজকন্যার কাছে, সে ধরেই নিয়েছিল এতদিনে হয়ত তার বন্ধুর বিয়ের দিনক্ষনও ঠিক হয়ে গেছে । আর মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই ওয়ার্ডের গেটের দূর থেকে কাঁধে স্টেথস্কোপ ঝুলিয়ে বিষন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যদি পথভুলে লাবন্যের দেখা পায়। আর সে ভালো করেই জানে, এ জীবনে সে লাবন্যের মত সুন্দরী গুনবতী বিত্তবতীর ধারে কাছেও ঘেষতে পারবে না, কয়েকদিন পরেই অন্যের ঘরনী হবে, সে নিজেই সে পথ সুগম করে দিয়েছে। এভাবে মাস খানেক কেটে যায়, কিন্তু কিছুতেই সে সে মুখ খানা ভুলতে পারে না। বন্ধুদের সাথে হাসি,গান ,আড্ডা কোনকিছুই আর ভালো লাগে না, সারাক্ষন মনে এক চিন্তা, সারাক্ষন কি যেন একটা ভাবছে, উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর মাঝে মাঝেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

একদিন তার সেই বড় ভাই বলে বসে, সারাক্ষন মনমরা হয়ে থাকো কেন , দেবদাসে পরিনত হওয়ার মাজেজা কি ? এত স্নেহের বানী শুনেও আসলামের মাঝে কোন ভাবান্তর হয় না, সে কিভাবে বলবে যে, সে তার হবু বন্ধুপত্নীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে! এর মাঝে উনি বলে বসেন, কিহে শুনেছ নাকি, লাবন্য কে বিয়ে করার জন্য তোমার যে বন্ধু পাগল হয়ে গেছিল, তাকে তো লাবন্যের বাবা না করে দিয়েছে। শুনে আসলামের মেঘের আড়ালে সূর্যের দেখা পেল, ৬ মাস পরে দেখা দিনের আলোর মত তা মুখে ফুটে উঠে হাসির রেখা। আসলামকে হাসতে দেখে উনি কিছু একটা আঁচ করেন, তারপর বলেই ফেলেন, কিহে, এত আনন্দ কিসের? তুমিও কী ডুবে ডুবে জল খাচ্ছো নাকি হে? এপর্যায়ে আসলাম আর পারে না, খুলে বলে হৃদয়ের সব কথা।

তিনি বললেন, ঠিক আছে, প্রেমে যখন পড়েছ, কিছু তো করতেই হবে। তুমি চিন্তা করোনা, আমি দেখি, তোমার সাধের কন্যার বাবার সাথে কথা বলি। তারপর তিনি আর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে দেখা করেন লাবন্যের বাবার সাথে।প্রস্তাবও দিয়ে বসেন পাত্রপক্ষ হয়ে ।সব শুনে কন্যার পিতা বলেন , হুট হাট করে তো বিয়ে হয়না , তারা খোজখবর নিয়ে দেখবেন । এর মাঝে লাবন্যের কানেও খবর চলে আসে যে, তাহার লাগি কোন এক আসলাম বিবাগী হয়ে গেছে । তাকে দেখিয়ে তার বান্ধবীরা হাসাহাসি করে এতে করে লাবন্য এতই বিরক্ত যে, আসলামের সম্পর্কে আগ বাড়িয়ে আর আগ্রহ দেখায় না । লাবন্যের এক কথা তার বাবার পছন্দই তার সিদ্ধান্ত ।

এদিকে লাবন্যের বাবা নানাভাবে নানা দিক দিয়ে আসলামের খোজ নিতে থাকে, এক পর্যায়ে সে তার গ্রামেও চলে যায়, গিয়ে তার ভিটেবাড়ি দেখে আসে, তার স্কুলের শিক্ষকের সাথে দেখা করে,
গিয়ে বলে, সে সরকারী কাজে এসেছেন। গ্রামের স্কুল শিক্ষক ও যাদের সাথেই কথা বলে দেখলেন সবার কাছে প্রশংসা ছাড়া আর কিছু শুনলেন না ।তার মার সাথে কথা বলে ছেলেটা কিভাবে নিজের তাগিদে ভাগ্যের সাথে,দারিদ্রের সাথে লড়াই করে এত দূর এসেছে ,দেখে বিস্মিত হয়ে যান ।সবার চোখে অনেক আশার স্বপ্ন বুনেছে ছেলেটা ,যে একদিন বড় হয়ে গ্রামের অবস্থা ফিরাবে, সবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বানাবে । কেন জানি অবস্থা ভাল না হওয়া সত্বেও ছেলেটাকে মনে ধরে গেল তার ।নিজের জীবন আর চাকরীর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এখন আর যাই হোক আসল মানুষ চিনতে ভুল করেন না । গ্রাম থেকে ফিরে আসার পথে লাবন্যের বাবা বুঝতে পারে, আসলামের এখন কিছুই নেই, কিন্তু তার যে মেধা, উচ্চাশা ও সরলতা আছে সেটা খুবই বিরল । প্রতিষ্ঠিত সে একদিন হবেই, আজ না হোক আগামী পাঁচ সাত বছরের মাঝেই এই আসলাম আর এমন থাকবে না।

কিন্তু ওদিকে আসলামের তো দিন কাটে না। সময় যেন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। চাকুরীটা অস্থায়ী থেকে স্থায়ী হয়, কিন্তু কাজে সে মনই বসাতে পারে না। লাবন্যের বাবামা যে কোনভাবেই রাজী হবে না তার আর্থিক অবস্থার কথা জেনে ,এটা সে দিবালোকের মতো পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলো ।তার প্রস্তাব পাঠানোটা বামন হয়ে চাদ ধরার চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলোনা । কিন্তু মনতো আর যুক্তি মানে না ।অনেক সময় পার হয়ে যায় , আসলাম ধরেই নেয়, তার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা স্বপ্নেই রয়ে যাবে ।

কিন্তু একদিন তার জন্য ঘটকালী করা বড় ভাইয খবর পাঠান যে পাত্রীপক্ষ রাজী হয়েছে। নিজের ভাগ্যকে যেন বিশ্বাস করতে পারে না । নানা প্রস্তুতি শেষে বিয়ের শুভ দিনটাও চলে আসে ।বিয়ে পড়ানোর পর যখন পাত্রীর হাত তার হাতে দেয়া হলো তখন তার হৈমন্তী গল্পের একটা কথা ছাড়া আর কিছু মনে পড়ল না ,আমি পাইলাম ,ইহাকে পাইলাম । আগে থেকে একজন আরেকজনকে না চিনলেও দুজনের স্বপ্ন, ভাল লাগা,চাওয়া পাওয়া সব ছন্দের মত মিলে গেল ।জীবনটা যেন অনেক বেশি রঙ্গিন হয়ে গেল একজন আরেকজনের সান্নিধ্যে ।পড়াশুনার পাঠ চুকাবার পর একসাথে বিদেশে পাড়ি জমালেন । সময়ের সাথে তাদের ঘর আলো করে এলো তিনটি অমরাবতী। অনেকদিন বাইরে থাকার পর এখন দেশে ফিরে গেছেন । নিজ নিজ কাজ নিয়ে সবসময় দৌড়ের মধ্যে থাকেন যে অবসর বলে যে কিছু আছে তা ভুলে গেছেন ,কিন্তু একজন আরেকজনের জন্য সময়ের কখনো অভাব হয় না । দেখতে দেখতে তাদের বিয়ের ২৫ বছরও কিভাবে জানি পার হয়ে গেল । সেই বিবাহবার্ষিকীর সন্ধায় তার বিচ্ছু মেয়ের যন্ত্রনায় নিজেদের বিয়ের গল্প শোনাতে রাজী হয়ে গেলেন । অন্য রকম ভাবে ঠিক হওয়া বিয়ের গল্পটা সেদিন এত ভালো লাগলো তাই ভাবলাম আপনাদেরও শুনাই । আপনাদের বলেছি আম্মুকে বলবেন না যেন, তা আমার পিঠে যে কয় হাজার কিল পড়বে তা গুনে শেষ করতে পারবো না ।

প্রজাপতি


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চলুক

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ, মুর্শেদ ভাই।

মামুন হক এর ছবি

এখন তারা দিয়ে লেম্বু চা খাইতে গেলাম, পরে এসে কমেন্ট দিব দেঁতো হাসি

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

মামুন ভাই আমারও লেম্বু চা খাইতে মন্চায় , কিন্তু আপনার দেয়া স্টার কন্ডেন্স মিল্ক খেয়ে পেটটা ভরে গেল ।অনেক শুকরিয়া ।

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

পেয়ে আপনার পাঁচটি তারা ,
হয়ে গেলুম দিশেহারা ।।
গল্প পড়ে শালীহারা
ধুগো আমায় করছে তাড়া

কোথায় গেলেন খেতে চা
নিয়ে হাতে করমচা
এসেছে কি বালিকা
ছাড়াই কোন ভুমিকা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সাইফ তাহসিন এর ছবি

আরে ধুগোদা, আমার কি আর বেইল আসে? কেউ কি আমারে পোছে হো হো হো , করেন তাড়া, পাইলেও পাইতে পারেন ২ খানা শালী চোখ টিপি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

দুর্দান্তিস--
দৌড়ান্তিস-----

খুব খুউব চমৎকার হয়েছে---
প্রজাপতি---এতদিনে তোমার পাখার রঙে চোখ ধাঁধাল---
হাওয়ার ভরে চলুক তোমার সবাক সন্তরণ---

অহর্নিশ শুভকামনা---

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

বাহ ইতিমধ্যে পড়েও ফেলেছেন । অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর কমেন্টের জন্য ।

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

কিসেরও লাগি আপনার মনডা খারাপ ধুগোদা

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

কন , দেশে আর কিছু না হইলেও গনতন্ত্র আছে ।

noushin এর ছবি

চমৎকার গল্প....খুবই ভালো লাগলো। রঙিন থাকুক তাদের বাকি জীবনটুকু।

প্রজাপতি  [অতিথি] এর ছবি

পড়ার জন্য থ্যাংকোস নওসিন, আমরাও একি কামনা করি ।

অতিথি লেখক এর ছবি

ওহে প্রজাপতি, লেখায় উত্তম উত্তম জাঝা!

বড়ই মজাক পাইলাম আপনার বাবা মার বিবাহের কাহিনী শুনে, আশা করছি, আপনার আম্মা খুব একটা মাইন্ড খাবেন না খাইছে . আর খেলেই কী, উনি তো আর দৌড়ে আসবে না কিল ডেলিভারি দিতে। 'তিন অমরাবতী' একসাথে দেখতে মঞ্চায় চোখ টিপি

বিয়ে পড়ানোর পর যখন পাত্রীর হাত তার হাতে দেয়া হলো তখন তার হৈমন্তী গল্পের একটা কথা ছাড়া আর কিছু মনে পড়ল না ,আমি পাইলাম ,ইহাকে পাইলাম

বিয়াপক আনন্দ পাইলাম, বেচারা আসলামের জন্য খারাপই লাগছিল, ভাবছিলাম, এই মনে হয় তল্পিতল্পা গুটিয়ে বেচারা আসলামকে রাস্তা মাপতে হবে। ইদানিং সফল প্রেমের গল্প তো আর দেখি না, চারিদিকে খালি ছেকু কাহিনী। আপনাকে বিয়াপক ধন্যবাদ এমন সুন্দর করে সাবলীল ভাষায় মন ভালো করা লেখাটি দেবার জন্যে। আশা করে এভাবে সুন্দর সুন্দর গল্প বলে আপনি সচলকে আরো সমৃদ্ধ করবেন। আর গল্পের হিরো হিসাবে আসলামের উপরে আলো ফেলা হলেও আমার হিসাবে সকল কৃতিত্ব কিন্তু আপনার নানার ঘাড়েই বর্তায়। এই প্রেমের সফল যবনিকা কিন্তু তিনিই টেনেছেন, তিনি যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।

সাইফ

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ সাইফ, আপনার সাহায়্য ও অনুপ্রেরনা ছাড়া এই লেখাটা হয়তো হত না ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

জটিল লাগল!! খুবই ভাল লাগল!...শুভকামনা উনাদের জন্য!
------------------------------------
হতাশাবাদীর হতাশাব্যঞ্জক হতশ্বাস!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

আপনার শুভকামনা পৌছে দেব উনাদের কাছে।

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

ভালু মানুষদের অনেকের পিতামাতাই এ মাসে মনে হয় প্রণয়াবদ্ধ হয়েছেন দেঁতো হাসি

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

তাই নাকি সিমনদা , আর কার কার বাবা মা এ মাসে প্রণয়াবদ্ধ হয়েছিলেন । আপনার কথাটা আমার উপর উলটাভাবে খাটে , বদ মানুষের ভালো পিতামাতা চোখ টিপি

নীল [অতিথি] এর ছবি

চমৎকার...

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

দুর্দান্ত প্রজাপতি, দুর্দান্ত !!!!
অনেক মজা করে আপনি বলেছেন ঘটনাটি, সাধুবাদ !!

-------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ শব্দশিল্পী, আপনার ভাল লেগেছে শুনে প্রীত হলাম

দময়ন্তী এর ছবি

ভারী সুন্দর মিষ্টি একটা গল্প৷
অনেক শুভকামনা ও শ্রদ্ধা রইল ওঁদের জন্য৷
------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ দময়ন্তীদি , আপনার লেখা আমার অনেক ভাল লাগে ।

পান্থ রহমান রেজা  [অতিথি] এর ছবি

সুন্দর গল্প তো।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সুন্দর, খুব সুন্দর। জীবনটা এরকমই সুন্দর। সিরিজের পরের গল্পটা কি মামা'র ভাগ্নে-ভাগ্নী নিয়ে হবে, নাকি সেটার জন্য প্রজাপতির মেয়ে কবে বড় হয়ে সচলায়তনে লিখবে-- তার অপেক্ষা করতে হবে?

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ পিপিদা , মামা ভাগ্নের সিরিজ পড়ে অনুপ্রানিত হয়ে আপনিও মামাদের সাথে মোলাকাত শুরু করেছেন বলে । আপনার কাছ থেকে আরেকটি সিরিজ পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এড়িয়ে গেলেন হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সব গল্প যদি প্রজাপতির কাছে শুনতে চান তাহলে তো আমার আর লেখার কিছু বাকী থাকবে না, পিপিদা, আপনে আপনের সাফল্যের কাহিনী শুরু করেন, আমি আছি আপনার পিছে চোখ টিপি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

জীবনে বলার মতো সাফল্য এখনো আসেনি হে.. তাহলে তুমিই সেই কাহিনী নাহয় শুরু করো।

রাফি এর ছবি

অনেক যত্নের একটা লেখা।
চলুক

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ভারী সত্য, কতবার যে কাটলাম আর লেখলাম, তাও যেন মনে হল, ঠিকমত লিখতে পারিনি, আরো অনেক সুন্দর করে বলা যেত পুরো ঘটনাটা

মামুন হক এর ছবি

দুর্দান্ত গল্প হয়েছে প্রজাপতি। অভিনন্দন।
পড়ে এত আনন্দ পেলাম যে মনের সুখে ছড়া লিখে ফেলছি :D--

জাঁদরেল বাবা বলে- কী যন্ত্রণায় ফাসলাম
আমার মেয়ের পাণিপ্রার্থী কোথাকার কোন আসলাম!
প্রেমে মজনু আসলাম খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশন
বউ না পেলে ওখানেই ডাকবে আমরন অনশন!!

ঘটক বলে সমস্যাটা কী? ছেলে খাঁটি,-পাশ করা ডাক্তার
স্বভাব চরিত্রও ফুলের মতো, মাথাতেও নাই টাক তার
কোষ্ঠী-বংশ সব দেখে শুনে বাবা অবশেষে রাজী
সানাই বাজে, বিয়ে পড়িয়ে মিস্টিমুখ করে কাজী

বিয়ের আসরে লাবণ্য ভাবে কে জানি এই আসলাম
তখনই শোনে- পাইলাম , আমি ইহাকে পাইলাম
এখন বিবাহ করিয়া ঘরে নিয়া যাইতে আসলাম ।।

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

গুরু গুরু

সাইফ তাহসিন এর ছবি

মামুন ভাই, দুর্দান্ত ছড়া, লেখেন কেমনে মিয়া এমন জটিল ছড়া, বিয়াফক আনন্দ পাইলাম, এতদিন ভাবছিলাম, দুনিয়াটাঈ ভ্রান্ত ধারমার, আইজকা ফ্রমান ও ফাইলাম হো হো হো

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

দোস্ত তোমার কী হইছে? খালি ছড়া বের হচ্ছে যে?

হাসি

মামুন হক এর ছবি

প্রজাপতির সাথে আমার একটা গোপন চুক্তি আছে, সে যতগুলো লেখা দিবে আমি তার প্রতিটায় ছড়ায় মন্তব্য করব হাসি

রায়হান আবীর এর ছবি

চ্রম চ্রম। ভালু লাগছে।


পুচ্ছে বেঁধেছি গুচ্ছ রজনীগন্ধা

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

আপনার ভালু লেগেছে দেখে আমি খুবই খুশি হলুম ।

তানবীরা এর ছবি

খুব মিষ্টি লাভ ষ্টোরী। খুব ভালো লাগল প্রজাপতি
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ, তানবীরাপু, আপনার লেখার বিরাট ফ্যান আমি।

হিমু এর ছবি

পাত্রীর বাবা আর যে কেউ না খোদ দূর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান, খুব জাঁদরেল আর সৎ লোক, তার গাড়ীতে সিপাহীপরিবেষ্টিত হয়ে কন্যা রোজ কলেজে আসে ।

দুর্নীতিদমন তখনও কমিশন হয়নি, ব্যুরো ছিলো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ হিমুদা, ভুল ধরিয়ে দেবার জন্যে, আসলে আমার জন্মের আগের ঘটনাতো, সবই শোনা, নিজের চোখে দেখিনি, তাই ভুল হয়ে গেছে। ঠিক করবো কিভাবে?

জেবতিক রাজিব হক এর ছবি

প্রজাপতি, প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমনও দারুন লিখা... চলুক

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

ইয়ে মানে, আমার বাবা, মা, আর নানার কেরামতি, কসম, আমি কিছু করি নাই, খালি একটু গুছিয়ে লিখেছি। মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

স্বপ্নচারী [অতিথি] এর ছবি

খুবই দারুন লাগলো ......

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

লিখতেও কিন্তু আমার দারুন লেগেছে!!

তুলিরেখা এর ছবি

খুব সুন্দর কাহিনী। আহা আমি কল্পনা করছিলাম পারিবারিক গেট টুগেদার, আপনারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছেন, মা আর বাবা পুরানোদিনের মধুর কাহিনি বলছেন। তাদের তরুণবেলার দুনিয়া কত অন্যরকম ছিলো, অথচ চির-পরিবর্তনের মধ্যেও ভালোবাসা আজো সেই একই। আপনার মাতামহ ও কিন্তু একজন খুব আশ্চর্য মানুষ!

আমার ঠাকুমা ঠাকুরদার বিয়ের গল্প মনে পড়ে যাচ্ছিল, ঠাকুমার তখন এগারো বছর আর ঠাকুরদার বাইশ! হাসি
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।