One day in the life of Ivan Denisovich (আইভান ডেনিসোভিচের জীবনের একদিন) - পর্ব - ৪ : A novel by Alexander Solzhensitsyn

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৩/০২/২০১৭ - ২:৫৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পর্ব = ৪

(পূর্ববর্তী পর্বের লিঙ্ক গল্পের শেষে)

ভিড়টা হালকা হয়ে আসছে। গার্ড-হাউজের পেছনে প্রহরীদের জ্বালানো আগুনটা জ্বলছে। এরা সবসময়ই বন্দীদের বাইরে কাজে পাঠানোর সময় আগুন জ্বালায়। একদিকে গাটাও গরম রাখা যায়, অন্যদিকে আগুনের আলোর কারনে গুনাগুনির কাজের সময় দেখতেও সুবিধা হয়।

গেটের প্রহরীদের একজন দ্রুত গুনতে লাগলো, “প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয়...”

আর বন্দীরা, পাঁচজন পাঁচজন করে দল থেকে আলাদা হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো, যাতে তাদের উপর সামনে-পেছনে দুদিক থেকেই নজর রাখা যায়। পাঁচটা মাথা, পাঁচটা পিঠ, দশটা পা।

আরেকজন গেটের প্রহরী, আরেকটা রেলিং এর পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে হিসেবটা আরেকবার মিলিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও আরেকজন লেফটেন্যান্ট ক্যাম্পের দিক থেকে দাঁড়িয়ে নজর রাখছে।

প্রতিটা মানুষের মুল্য সোনার চেয়েও বেশী। কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করার পর একজন লোকও কম পড়লে নিজেদের লোক দিয়ে খামতিটা পুষিয়ে দিতে হবে।

পুরো দলটা আবার একত্রিত হলো।

এবার প্রহরীদের সার্জেন্টের দায়িত্ব গণনা করার। “প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয়...”। এবং পাঁচজনের একেকটা দল আলাদা আলাদাভাবে সামনে এগিয়ে যেতা লাগলো।

ওদিকে কাঁটাতারের অপর প্রান্তে গার্ডদের ডেপুটি-হেড আবার হিসেবটা মিলিয়ে দেখতে লাগলো, এবং আরেকজন লেফটেন্যান্ট পাশে দাঁড়িয়ে নজর রাখতে লাগলো।

কারো বুকে এতটা সাহস নেই যে পান থেকে চুনটি খসায়। একটা মাথা ভুলে একবারের বেশী দুবার গুনে ফেললেই কমতিটা নিজেদের লোক দিয়ে পুষিয়ে দিতে হবে।

পুরো জায়গাটাই একেবারে প্রহরীতে গিজগিক করছে। পাওয়ার প্ল্যান্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বন্দীদের সারিটাকে আধখানা চাঁদের মত দেয়ালের আকারে ঘিরে নজর রাখছে ওরা, বন্দীদের মুখ বরাবর তাক করা সতর্ক টমিগান। আবার কিছু প্রহরীর সাথে আছে ধূসর রঙের কুকুর। একটা কুকুর এমনভাবে তীক্ষ্ণ দাঁত বের করে আছে, যেন বন্দীদের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে। আধডজন ছাড়া বাকী প্রহরীদের পরনের ভেড়ার চামরার পোষাকগুলো ছোট ছোট। ওই আধডজনের কোটের কানা মাটির উপর লেজের মত ঝুলছে। এই লম্বা ভেড়ার চামরার কোটগুলো বদলাবদলি হয়। যে গার্ডেরই টাওয়ারের উপর থেকে নজর রাখার ডিউটি পড়ে, সেই এই কোট পরে নেয়।

পাওয়ার হাউজের দিকে এগুতে থাকা সারীর সবাইকে গার্ডেরা পূনরায় একত্র করে পাঁচজন পাঁচজন করে আবার গুনে নিলো।

“ঠিক সূর্য ওঠার সময়ই সবচেয়ে বেশী তুষারপাত হয়”, বললো বুইনভোস্কি, “রাতের সবচেয়ে তীব্র ঠান্ডার সময় হচ্ছে এটা, বুঝলে?”

সবকিছু বিশদ ব্যাখ্যা সহ বোঝানোটা ক্যাপ্টেন বুইনভোস্কির প্রিয় অভ্যাস। চাঁদের কি অবস্থা, এটা কি নতুন, নাকি পুরোন চাঁদ, এসব সে বছরের যে কোন দিনই একেবারে অংক কষে বলে দিতে পারে।

ক্যাপ্টেন লোকটা চোখের সামনে দিনদিন কেমন যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে। গালদুটোর চামড়ায় ঝুল ধরেছে। কিন্তু লোকটার বেশ সাহস আছে।

ক্যাম্পের সীমানার বাইরে তীব্র শীত আর বিপরীত দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা হাওয়া মিলে সূখোভের মুখের পোড়খাওয়া চামড়াতেও যেন হুল ফুটিয়ে দিচ্ছে। পাওয়ার স্টেশনে যাওয়ার পুরোটা পথ জুড়েই এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি নেই বুঝতে পেরে সে এক টুকরো কাপড় বের করলো। বিপরীত দিক থেকে এই তীব্র ঠান্ডা হাওয়া বয়ে আসার সম্ভাবনা মাথায় রেখে অন্যান্য কয়েদীদের মত সেও দুই দিকে লম্বা ফিতেওয়ালা এক টুকরো কাপড় জোগাড় করে নিয়েছে। সূখোভ সেই কাপড়ে মুখ ঢেকে কানের তলা দিয়ে ফিতে দুটো নিয়ে ঘাড়ের পেছনে করে গিঁট দিয়ে নিল। তারপর সে তার টুপির ঢাকনা দিয়ে ঘাড়টা ঢেকে দিয়ে কোটের কলারটা উঁচু করে দিল। পরবর্তী কাজ হচ্ছে টুপির সামনের ঢাকনাটা টেনে ভ্রু পর্যন্ত নামিয়ে দেয়া। তাহলে খোলা থাকলো শুধু তার চোখ দুটো। সে তার কোমরের দড়িটা আঁটোসাটো করে বেঁধে নিল। এখন সবকিছু ঠিকঠাক, শুধু ইতিমধ্যে ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাত দুটো ছাড়া (ওর মিটেন্স জোড়া ছিঁড়ে গেছে)। সে তার হাত দুটোকে বার কয় ঘষাঘষি করে নিল আর কয়েকটা তালি দিয়ে নিল, কারন সে জানে, কিছুক্ষনের মধ্যেই হাত দুটো ঘাড়ের পেছনে এক করে পুরোটা পথ মার্চ করে যেতে হবে।

প্রহরীদের প্রধান তার “প্রভাত প্রার্থনা” শোনাতে শুরু করলো যেটা সবার কাছেই সমান বিরক্তিকর।

“বন্দীরা, মনোযোগ দিয়ে শোন। মার্চ করে এগিয়ে যাওয়ার নিয়ম কানুন খুব কঠোরভাবে মানতে হবে। সারি মেনে চলবে। কোন হুড়োহুড়ি চলবে না, সবাই সমান তালে এগুবে। কোন কথা বলা চলবে না। দৃষ্টি থাকবে সামনে আর হাত দুটো ঘারের পেছনে জড়ো করা। এক পা ডানেবামে হলে পালানোর চেষ্টা বলে গন্য হবে এবং কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই গুলি করার জন্য প্রহরীদের নির্দেশ দেয়া আছে। সামনের গার্ডেরা, কুইক মার্চ।”

সামনের গার্ডেরা মনে হয় এগুনো শুরু করেছে। পুরো সারিটার সামনের দিকটা একটা প্রবল ঢেউ খেলে যাওয়ার আলোড়ন তুলে কাঁধ দুলিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো। সেই সাথে সারি থেকে বিশ কদম দূরত্ব রেখে, একজন আরেকজনের চেয়ে দশ কদম করে পেছনে পেছনে গার্ডেরা এগুতে লাগলো, হাতে গর্জে ওঠার জন্য প্রস্তুত টমি-গান।

গত এক সপ্তাহ ধরে তুষারপাত হয় নি এবং চলার পথটাও শক্ত আর মসৃন হয়ে গেছে। তারা ক্যাম্পের ধার ঘেঁষে এগিয়ে যেতে লাগলো। হাওয়ার ঝাপটাটা এখন মুখের পাশে লাগছে। হাত দুটো ঘাড়ের পেছনে জড়ো করা, মাথাটা নিচু, বন্দীর সারিটা একটা শবযাত্রার মত এগিয়ে যেতে লাগলো। দৃষ্টির সীমানায় কেবল সামনের দু’তিনজনের পা আর পদদলিত জমিন, যেখানে নিজের পাটা ফেলছে। মাঝে মাঝে কোন একজন প্রহরী চেঁচিয়ে উঠছে, “ইউ-৪৮, হাত ঘাড়ের পেছনে,” অথবা, বি-৫০২, তাল ঠিক রাখ”। কিন্তু চিৎকারের মাত্রা ক্রমেই কমে আসতে থাকে। শপাং শপাং করে ছুটে আসা চাবুকের আঘাতের মত তীব্র ঠান্ডার প্রকোপে দৃষ্টি পর্যন্ত পর্যদুস্ত হয়ে যায়। গার্ডদের মুখ ঢাকার নিয়ম নেই। অবশ্য তাদের কাজটাও এক হিসেবে তেমন কঠিন কিছু না।

আবহাওয়া ভালো থাকলে বন্দীদের সারিতে নিজেরা কথাবার্তা চালিয়ে যেতে থাকে, প্রহরীরা যতই চেঁচামেচি করুক না কেন। কিন্তু আজ প্রত্যেক বন্দী কাঁধ আঁটোসাঁটো করে সামনের বন্দীর পিঠের সাথে জুবুথুবু হয়ে নিজের চিন্তার মধ্যে ডুবে আছে।

বন্দীদের চিন্তাভাবনাও তাদের মতই পরাধীন। তারা ঘুরেফিরে একই চিন্তা করে। একই ভাবনাই মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। ওরা কি তোশকের নিচে লুকিয়ে রাখা রুটিটা খুঁজে পাবে? হাসপাতালে সন্ধ্যাবেলায় গিয়ে কি একটু সুযোগ পাওয়া যাবে? ওরা কি বুইনভোস্কিকে গারদে পুরে দেবে? এবং সেজারই বা গরম ওয়েস্ট কোটটা কোত্থেকে পেল?ও নিশ্চয়ই স্টোরের দু-একজনকে তেল মেরে জোগাড় করেছে। নাতো আর কিভাবে সম্ভব?

সকালে রুটি ছাড়াই ঠান্ডা খাবার দিয়ে নাস্তা করার কারনে সূখোভের পেটটা খালি খালি লাগছে। পেটের ক্ষুধার চিন্তাটা চাপা দেয়ার জন্য সে তার মাথা থেকে ক্যাম্পের চিন্তা সরিয়ে দিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ীতে পাঠানোর জন্য আগামী চিঠিতে কি লিখবে সেটা ভাবায় মনোযোগ দিল।

সারিটা পেরিয়ে গেল বন্দীদের তৈরী কাঠের কাঠ-প্রসেসিং এর ফ্যাক্টরি, কর্মীদের থাকার ঝুপড়ি (এটাও বন্দীদের তৈরী, কিন্তু এর বাসিন্দারা হচ্ছে বেসামরিক লোকজন), নতুন ক্লাবঘর (এটারও ভিত্তি থেকে শুরু করে দেয়ালের নকশা পর্যন্ত সবই বন্দীদের তৈরী, কিন্তু এটাতে সিনেমা দেখার অধিকার তাদের নেই), তারপর তারা খোলা প্রান্তরে চলে এল, ক্রমশঃ লালচে হয়ে আসা ভোরের দিকে ছুটে যাওয়া হাওয়ার মধ্যে। দৃষ্টির সামনে দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত শুধু তুষারে ঢাকা নিষ্ফলা প্রান্তর, ডানে, বামে, আদিগন্ত ধূধূ প্রান্তরের কোথাও একটা গাছেরও চিহ্ন মাত্র নেই।

শুরু হয়েছে একটা নতুন বছের, ১৯৫১, এবং সূখোভের বছরে দুটো চিঠি লেখার অধিকার আছে। শেষ চিঠিটা পাঠিয়েছিল গত জুলাই মাসে, আর তার উত্তর পেয়েছিল অক্টোবরে। উস্ত-ইজমায় নিয়ম ছিল ভিন্ন, মাসে একটা চিঠি পাঠানো যেত। কিন্তু চিঠি লিখার কিইবা মানে আছে? সে তখনো তেমন লিখতো না, এখনও লিখে না।

আইভান সূখোভ ঘর ছেড়েচিলো ২৩শে জুন, ১৯৪১ সালে । তার আগের রোববারে যারা পলম্নয়ার জমায়েতে শামিল হয়েছিল, তারাই বলেছিল, “যুদ্ধ!”(দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলার, তথা জার্মানী ২২শে জুন, ১৯৪১ সনে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমন করে)। পলম্নয়ার লোকেরা এ ব্যাপারে জানতে পেরেছেল পোস্ট-অফিস থেকে। কিন্তু সেকালে তেম্নেনোভোতে রেডিও ছিল না। চিঠিতে জানতে পারলো এখন নাকি ঘরে ঘরে রেডিও বাজে, বেশ জোরেশোরেই। চিঠি লিখাটা এখন অর্থহীন, যেন একটা অতল গহীন কূয়ার ভেতরে এক টুকরো পাথর ছুঁড়ে দেয়ার মত। পড়ে, হারিয়ে যায়। কোন জবাব আসে না।

তুমি লিখতে বা বর্ণনা করতে পারবে না কোন দলের সাথে তুমি কাজ করছো এবং দলনেতা আন্দ্রেই প্রকফিয়েভিচ মানুষটা কেমন। এখন বরং ঘরের মানুষের চেয়ে কিলগাস কিংবা ল্যাটের সাথে বলার মত কথা তার বেশী।

বছরে যে দুটো ফিরতি চিঠি আসে তাতেও ওদের সম্পর্কে তেমন কিছু লেখা থাকে না। যৌথ খামারে নতুন চেয়ারম্যান এসেছে, যেন এটা একটা কালেভদ্রে ঘটা ঘটনা। খামারটাকে পাশেরটার সাথে একত্র করে দেয়া হয়েছে। এধরনের ঘটনাতো আগেও ঘটেছে। তার কিছুদিন পর আবার যেই কি সেই, আগের অবস্থায় ফেরত গেছে। আর যেসব চাষীরা নিয়মিত দৈনিক কাজের কোটা পূরণ করতে ব্যার্থ হয়েছে তাদের নিজস্ব জমির বরাদ্দ ১৫০০ স্কয়ার ফিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। অনেকেরতো ঘরের দেয়ালের সীমানার জায়গাটাও নিয়ে নেয়া হয়েছে।

তার স্ত্রীর লেখা চিঠির যে অংশটা তার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে সেটা হচ্ছে যৌথ খামারের কর্মীর সংখ্যা নাকি যুদ্ধ শুরুর পর একজনও বাড়ে নি। সব মহিলা-পুরুষ একত্রে মিলে যেন যুক্তি করে হয় কারখানায় কাজ নিয়েছে অথবা ঘুঁটে তৈরীর কাজে যোগ দিয়েছে। যুদ্ধে যারা গেছে তাদের অর্ধেকই ফেরত আসে নি, আর যারা এসেছে তাদেরও যৌথ খামারের কাজের প্রতি অনীহা। ওরা গ্রামেই থাকে আর আশেপাশে কাজ খুঁজে নেয়। খামারে পুরুষ বলতে শুধু ম্যানেজার জাখার ভ্যাসিলিচ আর কাঠমিস্ত্রী তিখন, যার বয়স এখন চুরাশি। কিছুদিন আগে সে বিয়েও করেছে এবং এর মধ্যে বাচ্চার বাপও হয়ে গেছে। যৌথ খামারটা এখনো সেই ১৯৩০ সালে যোগ দেয়া মহিলাদের নিয়েই চলছে।

“বাস করছে গ্রামে, আর কাজ করছে অন্য কোথাও” এই ব্যাপারটাই সূখোভের মাথায় ঢোকে না। নিজের খামারে কাজ করে খাওয়া আর যৌথ খামারে খাটা, দুরকম দিনই সূখোভ দেখেছে। কিন্তু লোকেরা নিজেদের গ্রামে কাজকর্ম করে খাচ্ছে না, এ ব্যাপারটা হজম করতে সূখোভের কষ্ট হয়। এরা কি কোন ধরনের মৌসুমি কামলা হিসেবে খাটতে বাইরে যায়, না কি বেড়াতে যায়? তাহলে গ্রামের খরের গাদাগুলো তৈরী করে কারা? তারা বহু আগেই মৌসুমী কামলা খাটার কাজ ছেড়ে দিয়েছে, তার স্ত্রী তাকে উত্তরে জানায়। যে কাঠমিস্ত্রীর কাজের জন্য তাদের অঞ্চল বিখ্যাত, সেই কাজও তারা করে না। চাহিদা নেই বলে বেতের ঝুড়িও আর কেও বানায় না। কিন্তু তারা শিখেছে একটা নতুন শিল্প, দারুন এক শিল্প, কার্পেট রঙ করা। যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় কে যেন একটা স্টেন্সিল (নকশাকাটা পাত) নিয়ে এসেছিল, সেই থেকেই এটার কদর এত বেড়ে গেল যে দিনে দিনে কার্পেট রঙ করার লোকের সংখ্যা কেবল বাড়তেই থাকলো। তাদের কোন বাঁধা চাকরি নেই, তারা নির্দিষ্ট কাজ করে না। যৌথ খামারে এক মাসের মত কাজ করার পর যৌথ খামার থেকে তাদের হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়, “জনাব অমুক, যৌথখামারের সদস্য, তাকে নিজস্ব কাজ করার জন্য যৌথ-খামার হতে অব্যহতি দেয়া হলো এবং তার প্রতি যৌথ-খামারের কোন দাবীদাওয়া নেই”। এবং তারা সারা দেশজুড়ে ঘুরে বেড়ায়, এমন কি সময় বাঁচানোর জন্য প্লেনেও ভ্রমন করে। এভাবে সব জায়গায় কার্পেট রঙ করার কাজ করে করে এরা হাজার হাজার রুবল জমাতে থাকে। একটা পুরোন বাড়তি কাপরের টুকরো থেকে তৈরী করা কার্পেটের দাম পঞ্চাশ রুবল, এবং তৈরী করতে মনে হয় এক ঘন্টাও লাগে না। আইভানের বউ গভীর আশায় বুক বাঁধে, একদিন ফিরে আসলে সেও অন্যদের মত একজন কার্পেটওয়ালা হবে। তখন তার এই গরিবী হালের অবসান হবে, বাচ্চাকাচ্চাদের কোন একটা কারিগরি স্কুলে ভর্তি করাবে আর এই পুরোন নড়বড়ে কুটিরের বদলে একটা নতুন ঘর তৈরী করবে। সব কার্পেট পেইন্টারেরা নতুন ঘরবাড়ী তৈরী করছে, এবং রেলওয়ে স্টেশনের কাছে বাড়ীর দাম পাঁচ হাজার রুবল থেকে বেড়ে পঁচিশ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। তখন সূখভ তার স্ত্রীর কাছে বুঝতে চেয়েছিল, সারা জীবন আঁকাআঁকির অভ্যাস না থাকা সত্বেও তার পক্ষে কিভাবে কার্পেট পেইন্টার হওয়া সম্ভব। আর সেই সুন্দর কার্পেটগুলো দেখতেই বা কিরকম? ওগুলোর উপর কিসের নকশা আঁকা? তখন তার বউ তাকে জবাবে বলেছিল যে নিতান্ত বোকা না হলে কার্পেট পেইন্টার না হতে পারার কোন কারন নেই। কাজটা শুধু নকশা-কাটা পাত বসিয়ে নকশার ফাঁকা জায়গাগুলোর মধ্যে কেবল ব্রাশ বুলিয়ে যাওয়া। তার বউ লিখে জানিয়েছিল, কার্পেট হয় তিন ধরনের, ট্রইকা (Troika), যেটাতে থাকে একটা ট্রইকা (তিন ঘোড়ায় টানা শ্লেজ বা ঘোড়ার গাড়ী বিশেষ) হাঁকিয়ে ছুটে চলা এক গোলন্দাজ সৈনিকের ছবি, আরেকটা হচ্ছে “বল্গাহরিণ”, আর তিন নম্বরটা হচ্ছে পার্সিয়ান ধাঁচের নকশা। থাকার মধ্যে আছে এই তিনটা নকশাই, কিন্তু পুরো দেশের সবাই এতেই খুশি এবং এই নিয়েই একেবারে কাড়াকাড়ি অবস্থা। কারন একটা আসল কার্পেটের দাম পঞ্চাশ রুবল না, হাজারেরও বেশী। ইশ্‌, এরকম একটা কার্পেট যদি সূখোভ নিজের চোখে দেখতে পারতো!

নিজের পরিবারের জন্য আগামী দিন, আগামী বছরের জন্য আগাম পরিকল্পনা করার অভ্যাসটা বন্দীশালা আর ক্যাম্পে থাকতে থাকতে হারিয়েই গেছে। তার যা ভাবনাচিন্তা করার সেটা সব বিষয়ে কতৃপক্ষই করে নেয়। সেটা অবশ্য একদিক দিয়ে বরং সহজ। আরো দুটি শীত আর দুটি গ্রীষ্ম পার করে তবেই তার মুক্তি। কিন্তু তার মনে সেই কার্পেট হানা দিয়ে বেড়ায়, সহজে পয়সা কামাইয়ের উপায়, এবং দ্রুত। গ্রামের অন্যান্যদের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে কেমন যেন লাগে, কিন্তু সত্যি বলতে কি, তার মন কেন যেন কার্পেট পেইন্টার হতে সায় দেয় না। এই কাজ করতে হলে দিলখোলা, চটপটে হতে হয়, তেলবাজি কিভাবে করতে হয়, জানতে হয়। যদিও এই পৃথিবীর বুকে তার চল্লিশ বছরের পদচারনা, যদিও এর মধ্যে তার অর্ধেক দাঁত নেই হয়ে গেছে আর মাথার টাকটাও দিনে দিনে বড়ই হচ্ছে, সে জীবনে কোনদিন ঘুষ দেয়ও নি, নেয়ও নি, ক্যাম্পের জীবনেও শিখে নি কিভাবে এসব করতে হয়।

সস্তায় চলে আসা পয়সায় অর্জনের আনন্দ নেই। প্রবাদ আছে, “সস্তার তিন অবস্থা”। তার এখনো এক জোড়া হাত আছে, শক্তসমর্থ হাত। যখন সে ছাড়া পাবে তখন নিশ্চয়ই সে প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রী কিংবা জিনিস পত্র সারাইয়ের কাজ করবে। শুধু তারা যদি তাকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সে অন্য কোথাও যেতে নাপারে বা তাকে বাড়ীতে ফিরতে না দেয়, তবেই সে সামান্য কিছুদিনের জন্য কার্পেট পেইন্টারের কাজ করবে।

সারিটা এরমধ্যে সেই সুবিশাল এলাকার গেট-হাউজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পরলো, পাওয়ার হাউজটা যেটার উপর দাঁড়িয়ে আছে। সারিটার নড়াচড়া শেষ হওয়ার আগেই গোড়ালি পর্যন্ত ভেড়ার চামড়ার পোশাকে ঢাকা দু’জন প্রহরী তাদের জায়গা থেকে খোলা প্রান্তরের মাঝ বরাবর দিয়ে হেঁটে দূরের ওয়াচ টাওয়ারের দিকে এগিয়ে গেল। যতক্ষন না সকল ওয়াচ টাওয়ারে প্রহরীরা অবস্থান নিচ্ছে, নির্মান-এলাকাটা সকলের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা। কাঁধে মেশিনগান ঝোলানো প্রধান প্রহরী গেট-হাউজের দিকে এগিয়ে গেল। ওটার চিমন গলগল করে মেঘের মত ধোঁয়া উগড়ে দিচ্ছে। একজন বেসামরিক পাহারাদার সেখানে সারা রাত ধরে বসে আছে যাতে কেউ চেরাই করা কাঠ অথবা সিমেন্ট চুরি করতে না পারে। দূরে, বহু দূরে, নির্মান এলাকার অপর প্রান্তে বিশাল, লাল সূর্যটা কুয়াশার মাঝে জেগে উঠছে আর এর রশ্মিগুলো গেট, বিশাল বিল্ডিং আর বেড়ার ফাঁক গলে তেরছাভাবে ছড়িয়ে পরছে। সূখোভের পাশে দাঁড়ানো আলোয়শাকে বেশ খুশি দেখাচ্ছে, ঠোঁটের কোনে এক টুকরো হাসি। এত খুশি হওয়ার কি আছে? সে তার জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের উপরই বেঁচে থাকে, কোন আয়ও করে না। সে তার রবিবারগুলো অন্য ব্যাপ্টিস্টদের সাথে গল্পগুজব করেই কাটিয়ে দেয়। হাঁস যেভাবে পীঠ থেকে পানি ঝরায়, তেমনি ভাবে ওরাও ওদের ব্যাথা-কষ্টগুলো ঝরিয়ে ফেলে। পুরোটা মার্চ জুড়ে সূখোভের মুখ ঢাকার কাপরটা নিশ্বাসের সাথে ভিজে যায়। জায়গায় জায়গায় বরফের কলা জমে যায়। সে ওটাকে মুখ থেকে সরিয়ে ঘাড়ের দিকে ঘুরিয়ে দিল এবং হাওয়ার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়ালো। সে নিজেকে মোটামুটি ঠান্ডা থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে, শুধু তার জরাজীর্ণ মিটেন্সের ভেতরে হাতদুটো ছাড়া। একেবারে ছেঁড়াখোড়া বুটের কারনে বাম পায়ের আঙ্গুলগ গুলোও অসাড় হয়ে আছে। পীঠের একেবারে নীচের অংশটা ব্যাথা করছে, পীঠের বাকী অংশেও ব্যাথা, একেবারে কাঁধ পর্যন্ত। ব্যাথা করছে আর কাঁপছে। সে কাজ করবে কিভাবে? সে চারদিকে চোখ বোলালো, এবং তার নজর পড়লো দলের সর্দারের উপর। সে শেষ পাঁচজনের দলের সাথে ছিল। তিউরিন চওড়া কাঁধের লোক, মুখটাও বড়সড়। ওখানে দাঁড়ানো অবস্থায় তাকে বিষন্ন দেখাচ্ছে। সে দলের লোকদের সাথে হাসি-তামাশা করে না ঠিকই, কিন্তু সবাই যাতে রেশনে একটু বেশী পায় তার জন্য বেশ কষ্ট করে। সে এখানে দ্বিতীয় দফায় খাটছে। সে হচ্ছে গুলাগের সত্যিকারের সন্তান (গুলাগ = কেন্দ্রীয় ক্যাম্প প্রশাষন। এখানে গুলাগ বলতে শুধু ক্যাম্পকে বোঝানো হয়েছে), এবং ক্যাম্পের প্রতিটা খুঁটিনাটি কায়দা-কানুন তার মুখস্থ। ক্যাম্পের জীবনে সর্দারই সবকিছু। একজন ভালো সর্দার দ্বিতীয় জীবন দিতে পারে, আর খারাপ সর্দার সোজা কফিনে পুরে দেবে। আন্দ্রেই তিউরিনের সাথে তার পরিচয় উস্ত ইজমা থেকেই, যদিও সে তখন তার দলে ছিল না। যখন আর্টিকেল ৪৮ (রাজনৈতিক অপরাধ) এর অধীনে বন্দীদের সাধারন ক্যাম্প থেকে “বিশেষ” ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হল, তিউরিন দ্রুত তাকে তার দলে টেনে নিল। ক্যাম্পের কমান্ডার কিংবা পি.পি.ডি, ফোরম্যান অথবা ইঞ্জিনিয়ার এদের সাথে সম্পর্ক রাখাটা সূখোভের কাজ না, দলের সর্দারের। সে তাকে তার ইস্পাতের মত বুক চিতিয়ে রক্ষা করবে। বিনিময়ে তিউরিনের ভ্রুর ইশারা বা আঙ্গুলির হেলনের সাথে সাথে সে যা চাইবে তাই জান বাজি রেখে করতে হবে। ক্যাম্পে যার সাথেই বাটপারি করতে চাও কর, কিন্তু দলনেতার সাথে না। শুধু তাহলেই বেঁচে থাকতে পারবে। সূখোভের খুব ইচ্ছে হচ্ছে যে তিউরিনকে জিজ্ঞেস্ত করে যে তারা কি আগের জায়গাতেই কাজ করতে যাবে, না কি নতুন কোথাও, কিন্তু তার গভীর চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটাতে তার ভয়ই লাগছে।

সে কেবলমাত্র “সমাজতান্ত্রিক জীবনধারা” সেটেলমেন্টের আপদটা তার ঘাড় থেকে কোন্মতে নামিয়েছে এবং সম্ভবতঃ “পার্সেন্টেজ” (একটা কাগজ যাতে কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে আর সেটা কত শতাংশ এসব হিসেব থাকে) এর কাগজটা খুঁটিয়ে দেখছে। টুরিনের মুখটা বসন্তের দাগে ভরা। সে চেহারা না ঢেকেই বাতাসের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, একটা পেশীও কাঁপছে না। তার গায়ের চামরা ওক কাঠের ছালের মতই পুরু। সারিতে দাঁড়ানো বন্দীরা দু’হাতে তালি দিচ্ছে আর দু’পায়ে মাটির উপর ধুপধাপ করে আঘাত করছে (শরীর উষ্ণ রাখার জন্য)। বাতাসটাও বইছে খাতারনাক। প্রহরী, যাদেরকে সবাই “টিয়াপাখি” বলে ডাকে, তাদের সবাই মনে হয় ছয়টা ওয়াচ-টাওয়ারে অবস্থান নিয়ে নিয়েছে, কিন্তু কাউকেই কাজের জায়গায় ঢুকতে দিচ্ছে না। একের নজরদারীর জ্বালায় জীবন অতিষ্ট হওয়ার দশা হয়। ওই যে আসছেন, হেড-গার্ড সাহেব, তার কাজের হিসেব রাখার সঙ্গপাঙ্গ সহ। ওরা গেটের দু’পাশে দাঁড়িয়ে গেল। গেটটাও হা করে খুলে গেল। “পাঁচজন, পাঁচজন করে দল কর, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়...”। বন্দীরা কুচকাওয়াজের মত করে এগুতে শ্রু করে, প্রায় পায়ে পা মিলিয়ে। তাদের একমাত্র ইচ্ছা এখন ভেতরে যাওয়া। ওখানে ওদের শিখিয়ে দেয়ার দরকার নেই কি করতে হবে। ঠিক গেটহাউজটা পার হলেই অফিস, তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে সুপারিন্টেন্ডেন্ট, হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে দলের সর্দারদের ওই পথে ঘুরে যাওয়ার ইশারা করছে, যদিও পথটা যে তারা চেনে না, তা না। ঐ ব্যাটা দ্যরও ওখানে আছে। নিজেও একজন কয়েদী হলেও পদবীতে সে ফোরম্যান। আসলে আপাদমস্তক একটা শুয়োরের বাচ্চা, সহবন্দীদের সাথে সে কুকুরের চেয়েও খারাপভাবে আচরন করে।

সময় আটটা বেজে পাঁচ মিনিট (হুইসেলটা এইমাত্র বেজে ঘন্টার হিসেব জানিয়ে দিল)। কয়েদীরা একটু উষ্ণতার খোঁজে এদিকসেদিক ছড়িয়ে যায় কিনা, কতৃপক্ষের মনে এই ভয়। কয়েদীদের সামনে একটা লম্বা দিন পরে আছে। সবকিছুর জন্য যথেষ্ট সময়ও আছে। যেই বিল্ডিং সাইটে ঢুকছে সেই উবু হয়ে স্টোভের জ্বালানীর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঠের টুকরোগুলো থেকে একটা টুকরো কুড়িয়ে নিচ্ছে এবং এগুলো তারা কোন গর্ত কিংবা ফাঁকফোকরে সযত্নে জমিয়ে রাখে। তিউরিন পাভলোকে তার সাথে অফিসের দিকে এগুতে আদেশ দিলো। যেজারও অদের সাথে যোগ দিলো। যেজার অবস্থাপন্ন লোক। মাসে তার নামে দু’টো পার্সেল আসে। যেখানে যাকে দরকার তেল মেরে অফিসেই সে একটা আরামের কাজ জুটিয়ে নিয়েছে রেট ইন্সপেক্টরের এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে।দলের বাকীরা তক্ষুনি একপাশে ঘুরে দৃষ্টিসীমার আড়ালে চলে গেল। বিরান প্রান্তরের উপর তখন কুয়াশাচ্ছন্ন লাল সূর্যটা উঠে গেছে। এক জায়গায় আগে থেকে তৈরী করা ধাতব পাতগুলো তুষার-চাপা পড়ে আছে, আরেক দিকে অসম্পূর্ণ ইটের গাথনির কাজ, ভিত পর্যন্ত তৈরী করে করে যেটা ফেলে রাখা হয়েছে। এপাশে একটা ভাঙ্গা শাবল পরে আছে তো ওপাশে ফেলনা লোহালক্করের গাদার উপর একটা ছাঁকনি ফেলে রাখা আছে। এদিকে সেদিকে দু’একটা গর্তওয়ালা পরিখা আর খাদ একটা জালের মত পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে। মোটরগাড়ী সারাইয়ের কারখানাটার শুধু ছাদ দেয়ার কাজটা বাকী। পাওয়ার স্টেশনটা তৈরীর কাজ চলছে, তিনতলা পর্যন্ত কাজ এগিয়েছে। ওয়াচটাওয়ারের ছ’জন সেন্ট্রি আর অফিসের আশেপাশে শশব্যস্তভাবে ছুটোছুটি করতে থাকা ক’জন ছাড়া আর কাউকে এই মুহুর্তে আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। এই মুহুর্তটা কয়েদীদের একেবারে নিজস্ব। শোনা যায় সময় অপচয় রোধ করার জন্য সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট নাকি বহুদিন ধরেই আগের সন্ধ্যাতেই সকলের কাজ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য হম্বিতম্বি করে আসছেন, কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হয় নি। কারন সন্ধ্যা আর পরের দিনের সকালের মাঝে সব পরিকল্পনাই উলটপালট হয়ে যায়। সুতরাং এই সময়টা এখনও কয়েদীদের হাতেই। কে কি করবে না করবে সেটা কতৃপক্ষ হিসেব নিকেশ করে শেষ করার অবসরে একটা ঊষ্ণ জায়গা খুঁজে বসে পর, খানিক জিরিয়ে নাও। ঘামের সাথে রক্ত ঝরানো পরিশ্রম করার সময় অনেক পাওয়া যাবে। স্টোভের পাশে বসতে পারলে আরো ভালো। প্যাঁচানো ত্যানাগোলো খুলে পাটা একটু গরম করে নেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাহলে পাগুলো সারাদিন উষ্ণ থাকে। স্টোভ না থাকলেও একটু বসার সুযোগ পেলেও চলে।

(চলবে...)

-ইকরাম ফরিদ চৌধুরী

পর্ব ৩ = http://www.sachalayatan.com/guest_writer/56431

পর্ব ২ = http://www.sachalayatan.com/guest_writer/56426

পর্ব ১ = http://www.sachalayatan.com/guest_writer/56419


মন্তব্য

নৈ ছৈ এর ছবি

শেষ কি হয়ে গেল? পরের পর্ব কবে লিখবেন?

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই নৈ ছৈ,

৫ম পর্ব পোস্ট করেছিলাম গত ২০শে মার্চ। কিন্তু সচলায়তন কতৃপক্ষ প্রকাশ করে নি। কেন করে নি জানার সুযোগ নেই। হয়তো মানসম্মত হচ্ছে না। কি আর করা? আশাহত করার জন্য দুঃখিত। ইয়ে, মানে...

কষ্ট করে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। শুভ কামনা রইলো।

-ইকরাম ফরিদ চৌধুরী।

সন্দেশ এর ছবি

আপনার পোস্ট করা ৫ম পর্বে একটি মাত্র প্যারাগ্রাফ ছিলো। পোস্ট করার আগে পূর্ণাঙ্গ লেখা সঠিকভাবে পরিবেশন করলেন কি না, তা নিশ্চিত করুন। ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

তাই কি? প্রিভিউতে তো মনে হয় ঠিকই দেখাচ্ছিল। ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আবার চেষ্টা করে দেখি। ছবি আপলোড করতে গিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। পোস্টের শুরুতেই কিভাবে ছবি দেয়া যায় বুঝতে পারছি না। আবার চেষ্টা করে দেখি তবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই সন্দেশ,

আবার পোস্ট দিলাম পর্ব-৫। এবার মনে হয় ঠিকঠাক আছে। কিন্তু ছবি কিছুতেই লেখার শুরুতে আনতে পারছি না। কিভাবে আনা যাবে সে ধরনের কোন নির্দেশনাও পেলাম না। জানতে পারলে উপকার হয়। "কার্সার পর্যন্ত সারসংক্ষেপ দেখাও" এবং "সারসংক্ষেপ জোড়া দাও" বিষয়টাও বেশ বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।

ধন্যবাদান্তে,

-ইকরাম ফরিদ চৌধুরী।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA