সাকিব - হিরো ইজ বিকামিং ভিলেইন

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি
লিখেছেন শাহেনশাহ সিমন (তারিখ: সোম, ০৭/০৭/২০১৪ - ৮:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নেইমারের ও ডি মারিয়ার সেমিফাইনাল খেলার অনিশ্চয়তা বা বিভিন্ন ফুটবলদদের ভীড় ঠেলে পত্রিকায় জায়গা করে নিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এবং স্বাভাবিক ভাবেই সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়ে গেছে তার পক্ষ ও বিপক্ষ নিয়ে কথার তুবড়ি। আমিও ব্যাতিক্রম নই। আর সচল-ই বা বাদ থাকবে কেন এই আলোচনা থেকে?

গত আট মাসে সাকিব বেশ কয়েকবার সমালোচনার শিকার হয়েছেন। একটু চোখ বুলিয়ে নেই সেখানেঃ

১. গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস টি টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে এক দর্শক সাকিবের কাছে অটোগ্রাফ চান। কিন্তু অটোগ্রাফ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে কটূক্তি করলে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যালারিতে গিয়ে ওই দর্শকের কলার চেপে ধরেন সাকিব। পরে পুলিশ এসে বিষয়টি সমাধান করেন।

২. বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে ঘটে গেল আরেকটি অপ্রীতিকর ঘটনা। টিভি ক্যামেরার সামনে অশোভন আচরণ করে শাস্তি পেলেন দেশের সেরা ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান। তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। ২১ ফেব্রুয়ারি - রেডিও তেহরান

৩. গ্যালারিতে টিজিংয়ের শিকার শিশির, বখাটেদের পেটালেন সাকিব – বাংলানিউজ২৪.কম। এরপরে বিসিবি তদন্ত করেছে, আর্থিক জরিমানা করেছে। পরবর্তীতে সাকিব বলেছেন যে তিনি জানতেন না যে খেলা চলাকালীন গ্যালারিতে যাওয়া যায় না।

৪. “একের পর এক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় সাকিব আল হাসানকে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।“ বিডিনিউজ২৪.কম

উপরের তিনটি ঘটনা পরস্পর সাজালে বোঝা যায় যা সাকিব গত সাত মাসে ৩টি শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করেছেন। যার ফলে বিসিবি অনেকটা বাধ্য হয়ে ই এবারের কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন যে “বুধবার ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ দেখে, বোর্ড থেকে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) নেয়া হয়নি। আমাদের প্রশ্ন, তাকে থাকতে বলার পরও সে কেন চলে গেল? আমি যদি আজকে রাতে আবেদন করে, কোনো কিছু কেয়ার না করে চলে যাই, সেটা তো মেনে নেওয়া হবে না। আর তার তো ২ তারিখ না গেলেও হতো।”(৫)

বোর্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত অনেকেই। অনেকে প্রশ্ন তুলেছে যে বোর্ড তার খেলোয়াড়ের পাশে নেই, বরং বোর্ডের সাথে সাকিবের ইগোর লড়াই চলছে। নয়তো অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে এসে কৈফিয়াত দেয়ার পরও ছয় মাসের জন্য ব্যান হয় জাতীয় দল থেকে, দেড় বছরের জন্য যে কোনো ক্রিকেট থেকে; সেখানে তামিম কিভাবে দিনের পর দিন নন-পারফর্মার হয়েও দলে টিকে আছে। দেড় বছরের জন্য প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে ব্যান করার ক্ষেত্রে “রুল” এর সন্ধানেও আছেন। আচরণবিধির জন্য সাধারনত ম্যাচ ফির একাংশ কেটে রাখা হয় বা প্রাইজ মানির একটা বড় অংশ জরিমানা করা হয়; কিংবা আর্থিক জরিমানা হয় বা বড়জোর কয়েক ম্যাচ সাসপেনশন। কিন্তু সাকিব গত সাত মাসে আইসিসি আচরণবিধির ২.২.৪ অনুচ্ছেদ ভঙ্গের দায়ে জরিমানা প্রদান করেছেন ১ বার (টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপ, আফগানিস্থান ম্যাচে), তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজে। পরে আরো ১০ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছিলো ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে যাবার জন্যে। অনুমতি না নিয়ে খেলতে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাপারে কথা উঠলেও মূলতঃ শাস্তি হয়েছে জাতীয় দলে আর না খেলতে চাওয়ার হুমকি দিয়ে। দলের সাবেক ক্যাপ্টেন ও আইকন খেলোয়াড় যখন এভাবে বার বার নিয়ম ভাঙে, তখন দলের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে না। এরকম ক্যাওটিক অবস্থানের জন্যেই ১০৫ রান চেজ করতে গিয়ে দল ৫৮ রানে অলআউট হয়।

সাকিবের ৬ মাসের সাসপেনশনের জন্যে সমালোচনামুখর, তাদের ঊদ্বেগের কারন হচ্ছে সাকিব একজন জিনিয়াস ও স্টার প্লেয়ার; যাকে বাংলাদেশের দরকার আছে। ৭ মাস পর বিশ্বকাপ। এই সময় দলের অন্যতম স্টার পারফর্মারকে এভাবে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার এই দেশের প্রেক্ষাপটে পুরাই খ্যাপাটে সিদ্ধান্ত। সাকিব ছাড়া বাংলাদেশের সামনের সিরিজগুলোতে ফল খারাপ হতে পারে। এ ব্যাপারে লক্ষ করা যায় বাংলাদেশের গত কয়েকটি সিরিজের ফলাফল:

ভারতের সাথে হার: ২-০, সাকিব খেলেছে
শ্রীলংকার সাথে হার: ৩-০, সাকিব খেলেছে
নিউজিল্যান্ডের সাথে জয়: ৩-০, সাকিব খেলে নাই
জিম্বাবুয়ের সাথে হার: ২-১, সাকিব খেলেছে
শ্রীলংকার সাথে ড্র: ১-১, সাকিব খেলে নাই
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে জয়: ২-১, সাকিব খেলে নাই

অর্থাৎ, স্টার প্লেয়ার ছাড়া ও বাংলাদেশ সিরিজ জিততে বা ড্র করতে পারে। (৬)

বর্তমানে খেলার কন্সেপ্ট বদলে গেছে। দলীয় সংহতি, ঐক্য ও সাথে নিজস্ব স্কিলের সংযোজনের ফলে তৈরী হয় একটি স্টার টিম। স্টার টিমে স্টার প্লেয়ার থাকলেও তাকে হতে হয় দলীয় সিদ্ধান্ত ও মতের একজন। সাকিবের গত আট মাসের কার্যক্রম দেখলে দল ও দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব প্রকট ভাবে চোখে লাগে।

ব্যাক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, সাকিবের এই শাস্তি কমানো উচিত। অন্তত ৬ মাস খেলার নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ বা আংশিক উঠিয়ে ফেলা উচিত। আর সাকিব কে দলের সাথে রাখা উচিত। দলীয় মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেয়া উচিত। এবং নিজের ইমেজ কে পালটানো উচিত। যাতে পরে যেই ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সাকিব নামবে, সে ই ম্যাচে গ্যালারিতে আমরা সবাই সুপারম্যান রিটার্ন্স বলে চেচিয়ে উঠতে পারি।

সূত্রঃ

১. http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/305183.html
২. http://bangla.irib.ir/2010-04-21-08-29-09/2010-04-21-08-33-30/item/59067-%E0%A6%85%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A6%A3-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0,%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7
৩. http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/299283.html#sthash.BozLy2y0.dpuf
http://www.jugantor.com/current-news/2014/06/16/111887
http://bangla.bdnews24.com/cricket/article807618
৪. http://bangla.bdnews24.com/cricket/article817188.bdnews
৫. http://bangla.bdnews24.com/cricket/article816254
৬. http://www.espncricinfo.com/bangladesh/content/team/25.html?template=results


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বক্তব্য:

বিসিবি বলছে, সাকিবের এই শাস্তি কেবল সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে নয়, বরং বেশ কিছু অনিষ্পন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে। সেক্ষেত্রে বিসিবির সমালোচনা করা উচিত এই অভিযোগগুলো অনিষ্পন্ন রাখার জন্যেই। তারা "তারকা খেলোয়াড়ের" জন্যে আগে কিছু ছাড় দিয়ে ব্যাপারগুলোকে গুরুত্বের সাথে নেননি বলেই পানি এতোদূর গড়িয়েছে।

এবার সাকিবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা হচ্ছে তিনি কোচকে নাকি বলেছেন, কোচ যেমন টাকা কামাতে বাংলাদেশে এসেছেন, তিনিও তেমন টাকা কামাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবেন। তর্কের এক পর্যায়ে তিনি নাকি রাগের মাথায় জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট আর ওয়ানডে না খেলার কথাও বলেছেন।

সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা এগারোজনের একজন। একজনকে লাই দিয়ে মাথায় তুললে যদি এগারোজনের দলের পারফরম্যান্স বিপন্ন হয়, তাহলে কঠোর হওয়াই প্রয়োজন।

সাকিবের পাশাপাশি জাতীয় দলে তামিম আর রিয়াদের বিকল্প নিয়েও নির্বাচকমণ্ডলীকে সামনে এগোতে হবে। ব্যক্তি ক্রিকেটারকে আশকারা দিতে গিয়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দশটা দলের মধ্যে দশ নাম্বারে থেকে ঐ দলে তারকা খেলোয়াড় থাকলেই কী আর না থাকলেই কী?

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বিসিবির সমালোচনা করা উচিত এই অভিযোগগুলো অনিষ্পন্ন রাখার জন্যেই। তারা "তারকা খেলোয়াড়ের" জন্যে আগে কিছু ছাড় দিয়ে ব্যাপারগুলোকে গুরুত্বের সাথে নেননি বলেই পানি এতোদূর গড়িয়েছে।

গত ৬/৭ বছর ধরেই এগুলা কমবেশি বলে আসছি। সাকিব মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ইনটেলিজেন্ট। জেমি সিডন্সের আমল থিকাই তার আচরণ এরকম হতে থাকে। মাশরাফি, আশরাফুল, এমনকি সহকারী কোচ সুজনের সাথেও ক্যাচাল করে পার পেয়ে গেছে জেমি সিডন্সের সাপোর্ট থাকায়।

বিসিবি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো কারণ সম্ভবত মিডিয়া ও ফ্যানপ্রেসার। সিলেটে গিয়া সাকিব দর্শক পেটায়, ঢাকায় দর্শক পেটায়, ক্যামেরায় শিশ্ন দেখায়, আর আজ এই কোচকে হুমকির পরেও এখনতক সাকিবের সমর্থনে বিরাট সংখ্যক ফ্যান জানপ্রাণ দিয়ে যাচ্ছে। বিসিবি এই প্রেসারের সামনে রিস্কে যেতে চায় নাই। আমি এখনতক পাপনের যতগুলো স্টেপ ফলো করেছি, প্রত্যেকটাই প্রচণ্ডরকম আন্তরিক ও ক্রিকেটের স্বার্থে মনে হয়েছে। কিন্তু সাকিব ফ্যানরা যে কোনো ইস্যুতেই আগে পাপনের পদত্যাগ চায়!

যাহোক, অবশেষে জেমি সিডন্সের কুশিক্ষা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে মনে হয়। পাপনের বলা কথাগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারে, তাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট অদূর ভবিষ্যতে যে কোনো টপ টীমের সাথেই সমানে পাল্লা দিতে পারবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক সহমত

সাকিব-তামিম ছাড়াও বাংলাদেশ নি উজিল্যান্ডকে ওয়াইওয়াশ করেছে। আবার তারা থাকার পরও বাংলাদেশ নেপালের কাছে হেরেছে, হেরেছে ভারতের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে। তাই সাকিব ছয় ম্যাচ না থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যাবে না বরং সাকিবকে তার বেয়াদবির জন্যে শাস্তি না দিলে সেটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে। তার দেখানো পথে আরো অনেক সাকিব জন্ম নিবে যারা জাতীয় দলে খেলে স্টার হয়ে দুদিন পর হুমকি দিবে আমি জাতীয় দলের পক্ষে আর খেলবো না।

মাসুদ সজীব

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা এগারোজনের একজন। একজনকে লাই দিয়ে মাথায় তুললে যদি এগারোজনের দলের পারফরম্যান্স বিপন্ন হয়, তাহলে কঠোর হওয়াই প্রয়োজন।

চলুক চলুক চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

দীনহিন এর ছবি

সাকিব-বধের কারণে বিসিবির চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছে সাকিবভক্তবৃন্দ! এমনি এক ক্রিকেট-ভক্ত আবেগঘন কন্ঠে বলছিলেনঃ বিসিবি ঠিক করে নাই কাজটা। আমাদের সাকিব আইপিএলে কি ভাল খেলল!!!

আর সমস্যাটা এখানেই। আমরা আইপিএল মাতালেই খুশী হয়ে যাই, কিন্তু ভুলে যাই, আইপিএল বা এরূপ অন্যান্য পিএল খেলার চেয়েও দেশের হয়ে খেলাটা বেশী জরুরি, এবং সেখানে থাকা দরকার নিঃশর্ত আনুগত্য!

আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটপাগল জনতা সাকিব-অবমাননায় ক্ষুদ্ধ হবেন এবং সত্যি বলতে, জনতার এই আবেগ একেবারে বিশুদ্ধ, একটুও খাদ নেই তাতে!

অথচ সাকিব কি এই ভালবাসার, এই আবেগের মূল্য দেয়? অথবা, যেই জনতা আজ প্রতিবাদমুখর, তারা কি জানে, সাকিব প্রকারন্তরে তাদেরকেই অপমান করেছেন, কি বিপুল অহমিকায় ভুগে কতটা তুচ্ছজ্ঞান করেছেন নিজের দেশ, দেশের মানুষ, এবং আমাদের প্রায় অন্ধ ক্রিকেটপ্রেমকে!!!

সময়োচিত পোস্টের জন্য ধন্যবাদ, সিমন ভাই!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

স্পর্শ এর ছবি

আগের উল্লেখ্য ঘটনাগুলোর তো শাস্তি পেয়েছেই। তাহলে সো কলড অনুল্লেখ্য ঘটনাও কিছু উল্লেখ করা উচিৎ ছিলো। কারণ এত বড় শাস্তি ভুলটুল স্বীকার করার পরেও দেওয়া অদ্ভুত।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

সাকিবের আচরণ আমার কাছে বৈপরীত্বমূলক মনে হয়।

খেলার মাঠে সাকিবের যে মনোবল, ম্যাচিওরিটি দেখি, তা নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। অত্যন্ত স্থিতধী, এবং মনোযোগী। যে যাই বলুক না কেন, সাকিবকে দায়িত্বজ্ঞানহীন খেলোয়াড় কখনোই মনে হয়নি। আপাতদৃষ্টিতে খেলার মাঠে যে এধরনের স্থৈর্য প্রদর্শন করতে পারে, ব্যক্তিজীবনেও তার সতর্ক এবং ধীর-স্থির হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সাকিব মোটামুটি তার উল্টোটাই 'কনসিসটেন্টলি' প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। তার মনে রাখা উচিত ষোল কোটি মানুষের দৃষ্টি তার দিকে। তার যে অবস্থান, তাতে গ্যালারিতে যেয়ে তার স্ত্রী উত্যক্তকারীদের মারধোর না করেও, তাদের শাস্তি সে নিশ্চিত করতে পারতো। এমনকি ঘটনাটা যদি গ্যালারিতে না ঘটে, বাইরে কোথাও-ও ঘটতো, তবুও সাকিব আল হাসানকে অন্তত আমজনতার মতো মারামারি না করে, শুধু অভিযোগ জানালেই হতো। ঔদ্ধত্যের অভিযোগটা তাই অসত্য না।

তবে এই ঘটনার একটা অংশ আমার কাছে পরিষ্কার না। সাকিবকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন আকরাম খান- তার ভরসাতেই সাকিব দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তাহলে সাকিবকে আসতে বলা কেন? এই অংশটা পরিষ্কার হওয়ার দরকার আছে। আমাদের এটা জানারও অধিকার আছে যে, সাকিবের সাথে এই সংক্রান্ত কোনো অন্যায় হয়েছে কিনা।

সবচে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, স্টুপিডের মতো পারফর্ম করেও দলে তামিম কিংবা রিয়াদের জায়গা পেতে অসুবিধা হয় না, সেখানে সাকিব ক্রমাগত বাদ পড়ে যাচ্ছেন শৃংখলার ইস্যুতে। আশা করি বোর্ড সাকিবের শৃংখলাভঙ্গ নিয়ে যতোটা উদ্বিগ্ন, তার সিকিভাগ অন্তত এইসব ননপারফর্মিং খেলোয়ারদের নিয়ে হবেন।

আরেকটা বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে, এতো টাকা খরচ করে যে হাই প্রোফাইল কোচ আনা হলো, তার সঙ্গে কাজ শুরু করার আগেই দলের সবচে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বিরোধ তৈরি হয়ে গেলো। সব মিলিয়ে সামনের বিশ্বকাপের অবস্থা সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

স্পর্শ এর ছবি

আমার তো মনে হয় ইভটিজারকে মাইর দিতে যেসব আইন ভঙ্গ হয় সেইসব আইনেরই প্রবলেম আছে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

কথাটা রাগের মাথায় ঠিক হতে পারে, কিন্তু আদতে ঠিক নাই। দেশে আইন আদালত আছে। সেই আইন আদালতে আমার মতো সাধারণ মানুষ বিচার না পাইতে পারে, কিন্তু সাকিবের মতো স্টারের কোনো সমস্যা হবে না। দেশের অন্যতম প্রধান আইকন হিসাবে, সাকিবের উচিত ছিলো আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধার ব্যাপারটা তুলে ধরা। শুধু স্টারের বেনেফিট নিলেই হবে না, দায়িত্বও নিতে হবে।

স্পর্শ এর ছবি

ঠিক। বিচার তো পাইলো-ই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

আপনার সার্কাস্টিক টোনটা টের পাইতেছি। তো আপনার তাইলে কি মনে হয়... খেলা চলাকালীন সময়ে গ্যালারিতে যেয়ে দর্শক পিটায়া সাকিব ঠিক কাজটাই করছে?

স্পর্শ এর ছবি

খেলা চলাকালীন সময়ে গ্যালারিতে যেয়ে দর্শক পিটায়া সাকিব ঠিক কাজটাই করছে?

'দর্শক' আর 'ইভটিজার' গুলিয়ে ফেলা ঠিক না। ইভটিজারকে যেকোনো পরিস্থিতিতেই মাইর দেওয়া উচিত। এতে নিয়মকানুন দুয়েকটা ভঙ্গ হলেও উচিৎ। কাজটা করে সাকিব একটা ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে দেশের তরুণদের সামনে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

সেই মাইরটা তো বিসিবির লোকরাই দিচ্ছিলো বলে জানতাম। সাকিবের ঢোকার দরকার ছিলো বলে মনে করি না। যাই হোক, এইটা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়, এইটা নিয়ে আলাপ করাটা আমার কাছে অর্থহীন। যদি আপনার মনে হয় একজন পাবলিক ফিগারের নিজের হাতে আইন তুইলা নিয়া রাস্তাঘাটে মারামারি করাটা 'ভালো দৃষ্টান্ত' (বিশেষত যেইখানে তার প্রভাবকে ওভাররাইড করা ক্রিমিনালের পক্ষে সম্ভব না), তাহলে আমার কিছু বলার নাই। আপনার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়া আমি সাইডে চলে গেলাম।

স্পর্শ এর ছবি

ঠিক।

অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে টিভিতে সুজনের বক্তব্য, "দেখেন, সাকিব যে ছেলেটাকে মেরেছে সেই ছেলেটা লন্ডনে পড়াশোনা করে। শিক্ষিত একটা ছেলে। তার বাবা-মা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। এমন একটা ছেলেকে সাকিব কিভাবে মারতে পারে?"


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

সেইটা তো সুজনের বক্তব্য, আমার তো না। কাজেই আমার মাথা ব্যথাও নাই।

আগেও বলছি, আবারো বলি- দেশের অন্যতম আইকন হয়ে রাস্তাঘাটে মারামারি করাটা সাকিবের জন্য শোভনীয় কিছু না। যদি এমন হইতো যে, সাকিব একা ছিলো, কিংবা ছেলেগুলি বিনা প্রতিবাদে পার পেয়ে যাচ্ছিলো, তবুও একটা কথা ছিলো। যদি ধরে নেই, ইভটিজিং এর জন্য এভাবে মারধোর করা জায়েজ, তবুও সাকিবের হাত লাগানোর দরকার ছিলো না- কারণ কাজটা বিসিবির লোকজনই ভালোমতো করছিলো বলে খবরে প্রকাশ। যাই হোক, আবারো বলি- আপনার চিন্তা আপনার কাছেই থাক। আমি এই প্রসঙ্গে এইখানেই ইতি টানতে চাই।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাইট্টা সুজন কিন্তু এইটাও বলতে পারতো, "দেখেন, সাকিব যে ছেলেটাকে মেরেছে সেই ছেলেটা লন্ডনে পড়াশোনা করে। শিক্ষিত একটা ছেলে। তার বাবা-মা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। এরকম একটা ছেলে কীভাবে সাকিবের বউ বা অন্য কোন মেয়েকে টিজ করতে পারে?"

আসলে হইছে কী জানেন? আমরা বাঙালি জাতি বড়ই হিংসাত্মক ও প্রতিশোধপরায়ণ। সাকিবের প্রতি সবার হিংসা, কারণ ও ভালো খেলে আর সুজইন্না ২-১ টা ম্যাচ বাদে বাকি ম্যাচগুলায় বাল ছিঁড়ত, সাকিবরে নিয়ে মানুষ মাতে, সুজনরে নিয়ে মাতে না। মানুষ বলে, সাকিব বাংলাদেশের ইতিহাসের বেস্ট প্লেয়ার, সুজনরে মানুষ মনেও রাখে নাই। সাকিবের বউ সুন্দরী, সাকিব বহুত টেকাটুকা কামাইছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কারণেই সুজন আকরামের এতো হিংসা সাকিবের প্রতি।

আর মনে হয় যেটারে পিটাইছিলো, সেই জারজের বাপ কোন বড় হোমরা-চোমরা। সাকিবের এই শাস্তির পিছনে ঐ হারামি পরিবারের একটা ভূমিকা থাকতে পারে। মনে হয় ঐ ঘটনার শোধ নিছে।

হিমু এর ছবি

সবাই নিজের মাপে আকাশ দেখে। আপনি সুজনের জায়গায় থাকলে ঠিক এই আচরণগুলি করতেন দেখে আপনার মনে হচ্ছে সুজন এরকম। ঈর্ষাজনিত সমস্যা আপনার, সুজনের না।

ইভ টিজার নিয়ে সুজনের কথাটা খুবই বিরক্তিকর, রীতিমতো আপত্তিকর, কিন্তু তার সাথে সুজনদের পারফরম্যান্স বা কমিটমেন্টকে গুলানোর সুযোগ কম। সুজন যখন খেলছে, দলের জন্য জান দিয়ে খেলছে। নিজের উপরে দলকে প্রাধান্য দিতে পারার গুণটা তার কাছ থেকে সাকিবদের জেনারেশনে বাহিত হলে বাংলাদেশেরই ভালো হতো।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কুল ডাউন হিমু ভাই,

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানরে ৬২ রানে হারানোর ম্যাচটিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ খালেদ মাহমুদ সুজন... এই একটা পারফরম্যান্স আমি অন্তত সারাজীবন মনে রাখব হাসি

পাকি পাস্পোর্টধারী বাঙ্গালিদের এক বিশাল অংশের অবশ্য তার এই পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ থাকতেই পারে চোখ টিপি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

হিমু এর ছবি

সুজনের "দেখেন, সাকিব যে ছেলেটাকে মেরেছে সেই ছেলেটা লন্ডনে পড়াশোনা করে। শিক্ষিত একটা ছেলে। তার বাবা-মা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। এমন একটা ছেলেকে সাকিব কিভাবে মারতে পারে?" কথার সঙ্গে সাকিবভক্তদের "দেখেন, সাকিব ছেলেটা দুনিয়ার এক নাম্বার অলরাউন্ডার। সারা দেশ তাকে ভালোবাসে। এমন একটা ছেলেকে বিসিবি কীভাবে শাস্তি দিতে পারে?" যুক্তির কোনো পার্থক্য খুঁজে পেলাম না।

স্পর্শ এর ছবি

"দেখেন, সাকিব ছেলেটা দুনিয়ার এক নাম্বার অলরাউন্ডার। সারা দেশ তাকে ভালোবাসে। এমন একটা ছেলেকে বিসিবি কীভাবে শাস্তি দিতে পারে?"

এইসব কথা কেউ বলতেসে কি না জানি না। বললেও সেইটা নিয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছে না। কথা হইতেসে ইভটিজারকে মাইর দেওয়া নিয়ে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

এইসব কথা গতকাল সারাদিন ধরে লোকজনকে বলতে দেখলাম। সবারই এক সুর, সাকিব ভালো খেলে অতএব তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। আর এখানে কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটা আপনি এসে ঠিক করে দিয়ে যাবেন না।

হাসিব এর ছবি

বাইট্টা সুজন

খু্বই আপত্তিকর সম্বোধন।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

সুজন ভাইয়ের ওই কথাটা চরম ফালতু মেনে নিয়েই বলছি- বোর্ডে যদি একজনও ডিরেক্টর থেকে থাকেন যিনি সবসময়ই প্লেয়ারদের স্বার্থে কাজ করেন/ প্লেয়ারদের সবসময় সাপোর্ট দেন তিনি হচ্ছেন সুজন ভাই।
আর আপনার ভাষা চরম আপত্তিকর। 'বাইট্টা সুজন', 'সুজইন্না' এইসব বলছেন একজন সম্পর্কে কিছুই না জেনে???!!!!!

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

ব্যাক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, সাকিবের এই শাস্তি কমানো উচিত। অন্তত ৬ মাস খেলার নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ বা আংশিক উঠিয়ে ফেলা উচিত। আর সাকিব কে দলের সাথে রাখা উচিত। দলীয় মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নেয়া উচিত। এবং নিজের ইমেজ কে পালটানো উচিত। যাতে পরে যেই ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সাকিব নামবে, সে ই ম্যাচে গ্যালারিতে আমরা সবাই সুপারম্যান রিটার্ন্স বলে চেচিয়ে উঠতে পারি।

সহমত

---------------------
আমার ফ্লিকার

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

বিসিবি বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে আছে; প্রায় ২ বছর মেকশিফট কোচ দিয়ে চালিয়ে অবশেষে একটা কমপ্লিট সাপোর্ট স্টাফ দিয়েছে দলকে। লীগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনে রয়েছে অনেক ফোঁকড়। আর জাতীয় লীগ বা লিস্ট এ হয়ে আছে পিকনিক। প্লেয়ার সাপ্লাই লাইন স্বাভাবিক ভাবেই আছে দুর্বল হয়ে। নন-পারফর্মারকে বাদ দিলে "মন খারাপ করবে" এর মত যুক্তি ও শুনেছি। আর "নির্বাচিত" বিসিবি সভাপতি তার নির্বাচনকে "যা-তা" বানিয়েছিলেন এবং তার পদের ক্ষেত্রে দেশ বা সংগঠনের চেয়ে তিনি বড় ছিলেন হাসি

সব মিলিয়ে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়া উচিত

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

স্পর্শ এর ছবি

বিসিবির দুর্বল অবস্থান কিভাবে? টাকাপয়সার ঘাটতি আছে বলে তো মনে হয় না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সাকিব ইনটেলিজেন্ট লোক। সে যে খাদে পড়েছে, সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি আছে বলে মনে হয়। তবে গত ৬/৭ বছর ধরে সে যে পরিমাণ স্পয়েলড হয়েছে, তাতে আচরণ নাও পালটাতে পারে। আচরণ না পালটালে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার ২/৩ বছরের বেশি টিকবে না।

বাংলাদেশ দলের অবশ্য তাতে লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটে উন্নয়নশীল দেশ। সাকিবরা যেমন আকরামদের চেয়ে ভালো খেলোয়াড়, আজকের তরুণরা সাকিবদের চেয়ে ভালো খেলোয়াড় হবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

যেকোনো জটিল সমস্যাকে ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত করে সমাধান করা খুবই কার্যকর ও প্রচলিত একটি পদ্ধতি। সমস্যা হয়ে যায় যখন মানুষ ক্ষুদ্র, সরল সমস্যাগুলো দিয়ে জটিল সমস্যাকে বিচার করতে যায়। ছোটো সমস্যার ব্যাপারে খুব সহজেই পক্ষ/বিপক্ষ অবস্থান নেওয়া যায়, জটিল সমস্যার বেলায় তা করা যায় না।

সাকিব আল-হাসানকে দেওয়া শাস্তির প্রতিক্রিয়ায় সেই একই সমস্যা দেখছি। এই বিষয়ে কি আদৌ শতভাগ পক্ষে বা শতভাগ বিপক্ষে থাকা সম্ভব? এক্ষেত্রে কতটা লঘু পাপে কতটা গুরু দণ্ড দেওয়া হয়েছে সেই আলোচনা করা যায়, কিন্তু তাই বলে একেবারেই পাপ হয় নাই কিংবা দণ্ডে কোনো প্রকারই গোলমাল নাই -- এই দুই অবস্থান কীভাবে আসে?

১.

মৌসুমটা ফুটবলের, তাই ফুটবলের ভাষাতেই বলি।

ফুটবলের তুলনায় ক্রিকেট অনেক বেশি 'individual' খেলা। একজন ম্যারাডোনা তার দলকে জেতাতে পারেন না, কিন্তু একজন টেইল-এন্ডার চাইলে ৫ দিনের টেস্টের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তারপরও এটা একটা দলগত খেলা, এবং ক্রিকেট-ফুটবল সহ সব খেলাতেই বর্তমান যুগে দলীয় ঐক্য এবং শৃঙ্খলার বিকল্প নাই। যদি কোনো খেলোয়াড়ের কারণে তার ব্যাত্যয় হয়, তাহলে সেই খেলোয়াড় যতো ভালোই হোন না কেন, তাকে বাকি দল থেকে দূরে রাখা শ্রেয়। ক্রিকেটে কেভিন পিটারসেন থেকে ফুটবলে সামির নাসরি পর্যন্ত সবার ক্ষেত্রেই এটা সত্য।

সাকিব বিভিন্ন রকম অসদাচরণের জন্য তাঁর শাস্তি প্রাপ্য ছিলো, তবে সেটা এত কঠোর কিছু হতে হতো না। এটুকু পর্যন্ত অনেকেই একমত হবেন। তবে বোর্ডের দাবি অনুযায়ী, সমস্যা আরও গভীরে, এই উন্নাসিকতা এবং ঔদ্ধত্য দলের বাকি সবার ভিতরেও সংক্রমিত হচ্ছে। সত্য হলে এটা ভয়ংকর সমস্যা, এবং এর চূড়ান্ত রূপ উইন্ডিজ ক্রিকেট দল, গত বিশ্বকাপে ফ্রান্স ফুটবল দল, ইত্যাদি দেখেছে। ব্যাক্তির পক্ষে যতো আবেগই থাকুক না কেন, সময় থাকতেই এই বিষয়গুলো আমলে নেওয়া উচিত।

২.

ব্যাক্তিপূজার সমস্যা বাংলাদেশে নতুন না। ডঃ ইউনূস নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন, আমরা তাই তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু এই পুরষ্কার তাকে কর ফাঁকি দেওয়ার অধিকার দেয় না। পৃথকভাবে 'নোবেল' এবং 'কর ফাঁকি' খুবই সরল দুইটি ব্যাপার। কেউ যদি দুই দুইয়ের যেকোনো একটি দিয়ে পুরো বিষয়কে বিচার করতে যান, তাহলে কেম্নে কী?

একই ব্যাপার সাকিবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয় কি? তিনি এ-যাবৎ বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সেরা ক্রিকেটার, এবং সেই কারণে সকলের পছন্দের মানুষ। তাই বলে কি তিনি সকল আইনের ঊর্ধ্বে? অভিযুক্ত ব্যাক্তির সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে আদালত চাইলেই কিছুটা নমনীয় হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে এই নমনীয়তা 'অধিকার'-এর পর্যায়ে পড়ে না। এগুলো জমিদারি চিন্তা, এবং আমরা সেই যুগ পার হয়ে এসেছি বহু আগেই। এর সাথে গুণীর কদর করতে না পারার কোনো সম্পর্ক নাই। গুণী মানুষ মানেই তিনি আইনের ঊর্ধ্বে, এটা কীভাবে সম্ভব?

৩.

কোচ এবং বোর্ডের প্রতি 'insubordination'-এর অভিযোগটাও তো তেমনই। চুক্তিবদ্ধ কোনো ক্রিকেটার বোর্ডের কথা মেনে না চললে তাকে কতটা শাস্তি দেওয়ার অধিকার তাদের আছে, সেই পেশি দেখাতেই তো এই শাস্তি। কাউকে শাস্তি দিতে হলে যেখানে আঘাত করলে ব্যাথা লাগে সেখানেই আঘাত দিতে হয়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক আমলে ক্যু-প্রবণ ছিলো। হাজারও বুঝিয়ে বা তোয়াজ করে তাদের লাইনে আনা যায়নি। আজকে জাতিসংঘের প্রতিরক্ষা মিশনের কাজ ছুটে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই দুই বার চিন্তা করবে বন্দুক হাতে ক্ষমতা দখলের আগে। টি-টুয়েন্টির যুগে খেলোয়াড়দেরও ঔদ্ধত্বের মূলে আছে দেশ-বিদেশে টাকা কামানোর হাতছানি। সেখানে আঘাত করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক না, কারণ দুই-চার লক্ষ টাকা জরিমানায় মেগা-স্টারদের কিছু আসে-যায় না। ঐ শাস্তি চুনোপুঁটি ক্রিকেটারদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার।

এই শাস্তির মাত্রা এবং ব্যাখ্যা থেকে খুবই স্পষ্ট যে সাকিব আল-হাসান নিজে থেকে যদি কোচ এবং বোর্ডের স্থান মেনে না নেন, তাহলে তাঁকে মানতে বাধ্য করা হবে। যতো কষ্টই হোক না কেন, এই অবস্থানও মেনে নেওয়ার বিকল্প নেই। একজন হাথুরাসিংহে কোনো বিচারেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ধারে-কাছে নন, কিন্তু দ্বিতীয় জনের একটা উক্তি স্মরণীয় -- তিনি বলতেন যে একটি সফল দলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি হলেন তার ম্যানেজার/কোচ। কোনো খেলোয়াড়ই স্যার অ্যালেক্সের চেয়ে বড় ছিলেন না। সেই কারণেই তাঁর দল এত সফল হয়েছে। ফন নিস্টেলরয়, ডেভিড বেকহাম, বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কেও তিনি নির্দ্বিধায় দূরে ঠেলে দিয়েছেন পুরো দলের দীর্ঘমেয়াদী ভালোর কথা ভেবে।

৪.

এই সমস্যার আরেকটা দিক হলো আমাদের প্রচলিত আলাপের সাথে বাকি দুনিয়ার বাচনভঙ্গির ফারাক। আমরা কথায় কথায় "পা ভাইঙ্গা হাতে ধরায়া দিমু" বলি, এবং দাবি করি যে এর মধ্যে কোনো 'রিয়েল থ্রেট' নাই। বাকি দুনিয়া এই পথে চলে না। তারা এই ধরণের আলাপ শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচনা করে। এক্ষেত্রে রাগ করে বললেন, না ফাঁকা বুলি হিসাবে আওড়ালেন, তাতে কোনো তফাৎ হয় না। দেশের হয়ে না খেলার হুমকিও তেমনই ব্যাপার।

আমরা এতটাই বঞ্চিত জাতি যে কেউ দেশের হয়ে না খেলার কথা বললেও সেটাকে সহজ ভাবে দেখি। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কোনো পেশাদার খেলোয়াড় এই কথা বললে তাকে দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ করা হতো। কোনো রাগ-ক্ষোভ-জেদ-মেধাই এই ধরণের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার দেয় না কাউকে।

৫.

পরিশেষে আমার নিজের মতামত বলি। এই শাস্তি মনে যতো কষ্টই দেক না কেন, এর প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সিরিজের আগে "বি টিম" বলে কটাক্ষ করে অতিথি দেশকে, কিন্তু মাঠে ৫৮ রানে অল-আউট হয়ে যায়। তাতে কারও কোনো বিকার নেই, মনোকষ্ট নেই। এই একই ক্রিকেটাররা দেশ-বিদেশে খেলতে গিয়ে জান বাজি রাখছে, অথচ দেশের হয়ে না আছে মোটিভেশন না আছে পারফর্মেন্স। বোর্ডের অজস্র সমস্যা আছে, এবং এটাই সেগুলো নিয়ে আলোচনার সময়। সারা দেশের মানুষ বোর্ডের প্রতিটি পদক্ষেপ নিরীক্ষণ করবে এখন, এবং আশা করি এর কারণে তারাও বাধ্য হবে শুধরাতে।

কিন্তু এর মাঝের সময়টুকুতে আমি চাইবো আমাদের সবার 'হিরো' সাকিব আল-হাসান একটু রয়েসয়ে ভাববেন, বুঝতে পারবেন যে তিনি ভুল পথে আছেন। ওনার ঔদ্ধত্য আমরা শুধু খেলার মাঠেই দেখতে চাই। বোধোদয়ের জন্য ওনাকে ৬ মাস ও ১৮ মাসের দুটি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই শাস্তি উনি নিজেই নিজের উপর টেনে এনেছেন। কিছুদিন আগের ৩-ম্যাচ সাসপেনশনের এত অল্পদিন পর এরকম কিছু ওনার কাছে প্রত্যাশিত ছিলো না। আশা করি বোধোদয়ের জন্য তিনি পুরো ৬/১৮ মাস সময় নেবেন না। ভুল বুঝবেন, ভুল স্বীকার করবেন, এবং হঠাৎ-গজানো পাখা সযত্নে গুটিয়ে রেখে জাতীয় দলকে প্রায়োরিটি দেবেন।

নিজে না চাইলেও সাকিব আল-হাসান একজন রোল-মডেল।

হিমু এর ছবি

চলুক

অনেকেই দেখলাম বলছেন, সাকিবের উচিত হবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে নিজের আখের গোছানো। "জাতীয় ক্রিকেট দল" একটা পৃথক সত্ত্বা হিসাবে লোকজনের আলাপে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। জাতীয় ক্রিকেট দলের উন্নতি না হলে ব্যক্তি হিসেবে সাকিবের রেটিং কতো, তাতে কী এসে যায়? দশটা মাত্র দল টেস্ট ক্রিকেট খেলে, আমাদের র‍্যাঙ্কিং সেখানে দশম, কারো সেটা নিয়ে কোনো ক্ষোভ নাই। ক্রিকেটাররা খেলায় হারার পর মিনমিন করে মাফ চান, তারপর বিদেশের লীগে খেলার জন্য কোচের সঙ্গে ঝগড়া করেন। বিন্দুমাত্র লজ্জাও নাই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অনেকেই দেখলাম বলছেন, সাকিবের উচিত হবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে নিজের আখের গোছানো।

সেটা সম্ভব না। বিসিবির আপত্তি থাকলে আইপিএল কন্টাক্ট সম্ভবত করতে পারবে না। সাকিব ক্রিস গেইলটাইপ স্টার না। বাংলাদেশের বাইরে তার ফ্যানবেইজ নাই। বাংলাদেশ দলে না খেলতে পারলে সাকিব ক্রিকেট খেলে খুব একটা টাকাটুকা পাবে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা থাকলে কোন খেলোয়াড়ই অন্য কোন দেশের কোন টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে না। গেইল পেরেছিল, কারন সে নিজেই দেশের ক্রিকেট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, বোর্ড তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নি। সাকিবও যাতে সেরকমটা করতে না পারে, সে জন্যই নিষেধাজ্ঞা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

৫ পয়েন্টেই ৫ তারা। চলুক

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক চলুক চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক

মেঘলা মানুষ এর ছবি

সিমন ভাই,

দলের সাবেক ক্যাপ্টেন ও আইকন খেলোয়াড় যখন এভাবে বার বার নিয়ম ভাঙে, তখন দলের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে না। এরকম ক্যাওটিক অবস্থানের জন্যেই ১০৫ রান চেজ করতে গিয়ে দল ৫৮ রানে অলআউট হয়।

-এর সাথে একমত হতে পারলাম না। দলের ক্যাপ্টেন শৃঙ্খলা ভাঙার কারণে দল ৫৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছে -এটা অত্যধিক সরলীকরণ হয়ে গেল না?

সাকিব দুধে ধোয়া তুলসীপাতা না, আবার আমাদের বোর্ডও কম 'তুঘলকি' না। সাকিবের দোষগুলো আপনি পয়েন্টআউট করেছেন, আমাদর মিডিয়াতেও এগুলো এসেছে।

আমদের বোর্ডের আচরণের কোন খেরোখাতা কি রাখছে?
অনেক কাল আগে, সাকিবের উপরে কোন কারণে (আমার জানা নেই) আমাদের কামাল সা'ব রাগ করেছিলেন, তারপর সাকিবকে কামালের পা ধরে মাফ চাইতে হয়েছিল এবং জানি না কোন কারণে সেই ঘটনার জন্য ফটো তোলারও ব্যবস্থা ছিল, যেটা পরে পত্রিকায় এসেছে। এরকমটা হলে আমি হলে হয়ত অভিমান করে কি করতাম জানি না।

কোচের সাথে বাদানুবাদ হতে পারে যে কোন খেলোয়াড়ের, না হওয়াটাই কাম্য। সেটার জন্য শাস্তিও হওয়া উচিত পরিমিত পরিমাণে। আর যাবার আগে সে আকরাম খানের থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছিল, যদিও সেটা স্ট্যান্ডার্ড প্রাকটিস না। কাগজ ছাড়া একজনের মুখের কথার উপর ভরসা করে চলে যাওয়া ঠিক না। তবে, শাস্তি দেবার আগে এটা মাথায় রাখতে হত যে একজনের সাথে যোগাযোগ করেই সে দেশ ছেড়েছিল।

হিমু এর ছবি

"সাকিবকে লোটাসের পা ধরে মাফ চাইতে হয়েছিলো", এটা সাংবাদিকদের বানানো গল্প। একটা ছবি ছাপা হয়েছিলো যেখানে লোটাস কামাল একটা নিচু চেয়ারে বসে ছিলো। সাকিবের বসার কোনো চেয়ার ছিলো না বলে সে লোটাসের পাশে মাটিতেই হাঁটু গেড়ে বসে কথা বলছিলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

সাকিবের কাজ ঠিক হয়নাই। কিন্তু সেজন্য লোটা/বদনা কামালের জঘন্য এ্যাটিটিউড ভুলভাল তথ্য দিয়ে জায়েজ করারও কোনো মানে নাই।

- আবির

হিমু এর ছবি

লোটাস কামালের অ্যাটিচ্যুডকে তো হালাল করছি না। ভুলভাল তথ্যও দিচ্ছি না। একটা ছবি দেখতে পাচ্ছি, যেখানে সাকিব চেয়ারে না বসে মাটিতে পা গেড়ে বসে কথা বলছে। সাংবাদিক একটা শিরোনাম লাগায় দিলো, আর আমরা বলা শুরু করলাম সাকিবকে লোটাসের পা ধরে মাফ চাইতে হইছে। কইলেই হইলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

১। পাশেই কাউচ/সোফা/চেয়ার খালি আছে।
২। সাকিব লোটার ঠ্যাং স্পর্শ করে হাত জোড় করে আছে।

এর্গো, সাকিব ঠ্যাং ধরে মাফ চাইতেছে। সিম্পল এমপিরি। অবশ্য এই ভঙ্গিতে কেউ স্বাভাবিক আলাপ-সালাপ সারে কিনা সেইটা আমার জানা নাই।

যাই হোক এইটা অফটপিক, কাজেই আলাপ বাদ দেওয়াই বেটার এইটা নিয়ে।

-আবির

হিমু এর ছবি

সিম্পল এমপিরিতে এই জিনিসটাও ঢুকায়েন যে বাংলাদেশে যারা কোনো কিছুর সভাপতি হন, তাদের পাশের চেয়ারে ডাইকা বসতে না বললে বসা যায় না। স্কুলের হেডমাস্টারের সামনে যেমন বসতে না বললে দাঁড়ায় থাকতে হয়। সাকিবরে বসতে না দেওয়া লোটাসের গদিরগরমজনিত অভদ্রতা হইতে পারে বড়জোর।

সিম্পল এমপিরিতে আরো ঢুকায়েন যে হাত জোড় করে রাখা নাই, কথার মাঝখানে ছবিটা তোলা হইছে।

সাংবাদিক যদি শিরোনাম দিতো সাকিব লোটাসের কোটের বোতাম খুলতেছে, ঐটা নিয়াও অপ্রাসঙ্গিক আলাপ করা যাইতো।

স্পর্শ এর ছবি

ঠ্যাং স্পর্শ করেনাই তো! ঠ্যাং ও হাতের মধ্যে কয়েক মিলিমিটার ব্যবধান দেখতে পাচ্ছি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

স্যাম এর ছবি

যতদুর মনে পড়ে 'মাফ চাওয়ার' ঘটনা ঘটেনি, এ বিষয়ে কিছু কঙ্ক্রিট লেখা/মন্তব্যও পড়েছিলামে সে সময়, খুঁজে পেলাম না।
বিষয়টা যখন ডিস্পিউটেড, এটা নিয়ে কিছু কি কেউ লিখতে পারেন? আমাদের এখানে এরকম অনেক ঘটনাই একবার মুখে মুখে চালু হয়ে এস্টাব্লিশড হয়ে যায় আস্তে আস্তে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

স্যাম ভাই,
যতদুর মনে পড়ে, সেগুলো মন্তব্যের ঘরে ছিল।
ডকুমেন্টেশনের স্বার্থে এই নিয়ে একটা লেখা থাকা দরকার।

আমাদের এখানে এরকম অনেক ঘটনাই একবার মুখে মুখে চালু হয়ে এস্টাব্লিশড হয়ে যায় আস্তে আস্তে।

এই ঘটনার ছাগলটা অলরেডি কুকুর হিসেবে এস্টাবলিশড হয়ে গেছে মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

স্পর্শ এর ছবি

স্পষ্টভাবে মনে পড়ছে না। তবে সেই থ্রেডে সম্ভবত হিমু ভাই যেমন বললেন তেমন কনক্লুশনই এসেছিলো,

একটা ছবি ছাপা হয়েছিলো যেখানে লোটাস কামাল একটা নিচু চেয়ারে বসে ছিলো। সাকিবের বসার কোনো চেয়ার ছিলো না বলে সে লোটাসের পাশে মাটিতেই হাঁটু গেড়ে বসে কথা বলছিলো।

কিন্তু উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে কথাটা স্পষ্টতই ভুল। তবুও "পা ধরেছে কি ধরে নাই" সেই ইটিমলজিক্যাল প্রশ্নটা ওপেন রেখেই বলা যায়, এই ছবির ভঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, বিসিবির মধ্যে কী ধরনের কর্তৃত্বপরায়নতার চর্চা হয়। পাশের ছবির মাইক্রোফোণ এর সংখ্যা থেকে বোঝা যায় ব্যাপারটা ঘটেছে অনেক মানুষের উপস্থিতিতেই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

এই কর্তৃত্বপরায়ণতার চর্চা বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়েও চর্চিত হয়। বহু শিক্ষক দেখেছি, যারা ছাত্রদের বসতে বলার ভদ্রতা রপ্ত করতে পারেননি। নিজের টেবিলের সামনে চেয়ার খালি রেখেও বসতে না বলে ছাত্রদের দাঁড় করিয়ে রেখে তাঁরা আনন্দ পান। এটা নিন্দনীয় এবং ছাত্র/অধস্তনের জন্যে গ্লানিকর। এই ছবি দেখে বোঝা যায়, লোটাস কামালের ন্যূনতম ভদ্রতা জ্ঞান নাই।

কিন্তু তার মানে এই না, যে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন যে কাজটা করেনি, সেই কাজটা আমরা নিজেদের তর্কের সুবিধার জন্যে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবো। লোটাস কামাল একটা বদমাশ লোক, সে এমনিতেই ভিলেন। কিন্তু তাকে ভিলেন হিসাবে উপস্থাপন করার জন্য আমরা সাকিবকে নিজস্ব কল্পনায় তার পায়ে ধরালে এখানে অপমানটা সাকিবকেই করা হয়। এবং এই কাজ যারা করে, তাদের উদ্দেশ্যটা সাকিবকে সমর্থন যোগানো বা সহমর্মিতা জানানো নয়, বরং প্রয়োজনে সাকিবকে মিথ্যা গল্পে গ্লানিকর কাজে জড়িয়ে বিসিবিকে দুইটা গালি দেওয়া। বিসিবির প্রচুর দোষ আছে, সেগুলো ফ্যাক্ট হিসাবেই উপস্থাপন করা যায়, তার জন্যে বাড়তি গল্প বানাতে হয় না।

অতিথি লেখক এর ছবি

তবে, শাস্তি দেবার আগে এটা মাথায় রাখতে হত যে একজনের সাথে যোগাযোগ করেই সে দেশ ছেড়েছিল।

যেখানে লিখিত অনুমতি নেওয়ার নিয়ম সেখানে ফোন করে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? আমার মনে হয় মূল ফোকাস থেকে সবাই দূরে সরে যাচ্ছে। এটা মূল বিষয় না, মূল বিষয় হলো এইসব অনুমতির আগেই সে কোচের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, দেশের পক্ষে না খেলার হুমকি দিয়েছে। যাওয়ার আগের রাতে যদি আপনি ফোন করেন আমি কাল আসতে পারবো না তাহলে অনুমতি দেওয়াটা কি বাধ্যতামূলক হয়ে যাচ্ছে না?

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

লিখিত অনুমতি দিতে পারেন খালেদ মাহমুদ সুজন, বিসিবির সিইও। আকরামের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতির কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্য নাই। সুজন নাকি সে সময় ছিলেন না, তাই সাকিব তার সঙ্গে যোগাযোগ না করে বিমানে চড়ে বসেন।

এর অর্থ একটাই, সাকিবের বিমানের টিকেট এই অনাপত্তিপত্র হাতে পাওয়ার আগেই কাটা ছিলো। অনাপত্তিপত্র হাতে না নিয়েই তিনি তাঁর যাত্রার পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। এটাও অপেশাদারিত্বের লক্ষণ।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

খালেদ মাহমুদ সুজন বিসিবি'র সিইও নন, তিনি বিসিবি'র নির্বাচিত পরিচালক। বিসিবি'র সিইও হলেন নিজামুদ্দিন আহমেদ, ঘটনাক্রমে তাঁর নিক নেমও সুজন।

হিমু এর ছবি

মাই ব্যাড। সংশোধন করে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

১। বিসিবি বলছে, সাকিবের এই শাস্তি কেবল সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে নয়, বরং বেশ কিছু অনিষ্পন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে।কিন্তু প্রত্যেকটা নিয়ম ভাংগার জন্যইত সাকিবকে শাস্তি পেতে দেখছি। আর্থিক দন্ড, ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা। অনিষ্পন্ন কোনগুলা!
২। সাকিব অধিনায়ক, কোচ এবং ম্যানেজমেন্টকে না বলেই যদি কোন পিএল খেলতে গিয়ে থাকে- সেক্ষেত্রে সেই স্পেসিফিক শৃংক্ষলা ভঙ্গের দায়ে তাকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আগে শাস্তি পাওয়া অন্য অভিযোগকে অনিষ্পন্ন বলে শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
৩। ইভটিজারদেরকে মাইর দেয়াটা অতিঅবশ্যই একটা স্বাভাবিক মানুষের কাজ। এইটা নিয়মের মধ্যে না থাকলে নিয়মের মধ্যে ঢুকানো হোক। কেউ আমার বৌরে ইভটিজিং করবে- আমি শৃংক্ষলাভংগের ভয়ে শৃংক্ষলিত হয়ে কিচ্ছুটি না করে শুধু একটা অভিযোগ জানিয়ে দেব, পরে ইভটিজার মামা-চাচা-খালু-দাদুর জোরে পার পেয়ে যাবে- এইটা হইলেই বরং খারাপ হইত।
৪। সাকিব না থাকলে বাংলাদেশ সিরিজ জিততে বা ড্র করতে পারে- এই লেখায় এই যুক্তিটা আসায় আমি কিছুটা হতাশ। এটা অনেকটা- টেন্ডুলকার সেঞ্চুরি করলে ভারত ম্যাচ হারে- তাই টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি না হওয়াই ভাল- টাইপের যুক্তি।

৫। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিজ্ঞাপন আর ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট এ বিসিবি ব্যপক কঠোর হবার পায়তারা করছেন বলে দেখলাম। তাদের যুক্তি- এগুলা করে করে নাকি খেলোয়াড়রা ক্রিকেটে সময় দিতে পারেননা। এমন হলেতো এতদিনে ভারতের আইসিসি'র সহযোগী দেশ হিসেবে সুযোগ পেতেও সমস্যা হয়ে যেত।- এই প্রসংগটা এইজন্য টানলাম কারণ আমার মনে হয় আমাদের ক্রিকেট বোর্ড মাঝে মাঝে চিন্তা করার বেলায় মস্তিষ্কের ব্যবহার বন্ধ রাখেন।

পরিশেষ- সাকিব যা করেছে তাতে তাকে শাস্তি দেয়াটা যথার্থ হয়েছে। কিন্তু সাকিবের মত একজন খেলোয়াড়কে (এফেক্টিভ এবং পার্ফরমিং) বিশ্বকাপের সাত মাস আগে আগে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করাটাকে লোটাকামালিয় বেকুবিয় সিদ্ধান্ত বলেই মনে হচ্ছে আমার কাছে। শাস্তিটা দুই মাস বা তিন মাসে নামিয়ে আনাটাই বাংলাদেশের জন্য মংগলজনক। আর বোর্ড যদি এমন 'আঠার মাসে বছর যায়' টাইপের না হয়ে একটু করিৎকর্মা হত তা হলেতো অসময়ে এত সমস্যার সৃষ্টিও হত না। আশা করি বোর্ড পরবর্তীতে তাদের স্নেহধন্য স্টার ননপারফর্মারদেরকে অনুসরণ না করে নিজেরাই নিয়মিত পারফর্ম করবেন।

---- মনজুর এলাহী -----

স্পর্শ এর ছবি

চলুক একদম মনের কথাগুলো লিখেছেন।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

দীনহিন এর ছবি

অনিষ্পন্ন কোনগুলা!

তো, আপনি কি চাইছেন? সাকিব এক একটা অপকর্ম করবে, আর তাকে একটু একটু করে মৃদু শাস্তির ডোজ দেয়া হবে, আর এভাবে সাকিব পর্বটি শান্তি ও শাস্তির এক চলতেই থাকবে টাইপের পৌনঃপুনিকতা দিয়ে অঙ্কিত হবে? শাস্তির আধুনিক ধ্যান-ধারণাগুলো নিয়ে খানিক অধ্যায়ন করা প্রয়োজন মনে হয়, ছোট শাস্তিগুলি যখন মৌটেই সংশোধন করে না, তখন গুরুশাস্তিই হয়ে দাঁড়ায় অবধারিত, যেকোন বিচারেই বা আন্তর্জাতিক মানেই! অথচ দেখুন, সাকিব কি এইবারেও গুরুশাস্তি পেয়েছে?

ইভটিজারদেরকে মাইর দেয়াটা অতিঅবশ্যই একটা স্বাভাবিক মানুষের কাজ।

আপনি আবেগপ্রবণ হতেই পারেন, পথে-ঘাটে এরকম ঘটনা ঘটতে দেখে নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মাইরও দিতে পারেন, সেইটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা এবং অনেকেই করে; কিন্তু অবাক করার বিষয় হল, আপনি বিষয়টিকে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন!!! আইনপ্রণেতা হলে আপনি বুঝি এমন মাইর যায়েজ, এ মর্মে আইনও করে ফেলবেন?

সাকিব না থাকলে বাংলাদেশ সিরিজ জিততে বা ড্র করতে পারে- এই লেখায় এই যুক্তিটা আসায় আমি কিছুটা হতাশ।

আপনি যুক্তিটি ধরতেই পারেননি! কেউ বলছে না, সাকিব বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় নয় বা ওর দরকার নেই! আসলে যা বলা হচ্ছে, তা হল, সাকিব একজন প্লেয়ার মাত্র, ক্রিকেট একটা দলীয় খেলা, সাকিব ঈশ্বর নয়, বা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সাকিবের কাছে জিম্মি হতে পারে না!

এমন হলেতো এতদিনে ভারতের আইসিসি'র সহযোগী দেশ হিসেবে সুযোগ পেতেও সমস্যা হয়ে যেত।- এই প্রসংগটা এইজন্য টানলাম কারণ আমার মনে হয় আমাদের ক্রিকেট বোর্ড মাঝে মাঝে চিন্তা করার বেলায় মস্তিষ্কের ব্যবহার বন্ধ রাখেন।

ভারতকে কোট করে আপনার যুক্তিগুলি নিতান্তই হাস্যকর! আপনি শচীনের উদাহরণ দেন, অথচ আনুগত্য ও নিয়মানুবর্তিতায় সাকিব ও শচীন যে দুমেরুতে অবস্থান করছেন, তা আপনার মাথার উপ্রে দিয়ে যায়! ভারতীয় খেলোয়াড়রা বেশী এ্যাডে অংশ নিলেন না কি করলেন, তাতে আমাদের কি? আমরা আমাদের দেশের জন্য স্বাধীনভাবে ভাবতে পারব না? ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে? আর তাছাড়া, সাকিবের শাস্তির বেলায় তার মিডিয়া উপস্থিতি যে সামনে এসেছে, তাও নয়।

আশা করি বোর্ড পরবর্তীতে তাদের স্নেহধন্য স্টার ননপারফর্মারদেরকে অনুসরণ না করে নিজেরাই নিয়মিত পারফর্ম করবেন।

বাংলাদেশের প্রশাসনে অদক্ষতা রয়েছে, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া নয়, বিসিবিও বাংলাদেশেরই একটি প্রতিষ্ঠান, তাদেরও অদক্ষতা রয়েছে; কিন্তু তাই বলে বিসিবি একজন চরম বিশৃংখল প্লেয়ারকে শাস্তি দিতে পারবে না? আপনি ব্যাক্তি সাকিবের প্রতি এতই অন্ধ হয়েছেন যে, বাংলাদেশটাই গৌন হয়ে যাচ্ছে আপনার কাছে!! পুরো বাংলাদেশকে ভেংচি কাটুক, তাতে কি! সাকিব বলে কথা!

শাস্তিটা দুই মাস বা তিন মাসে নামিয়ে আনাটাই বাংলাদেশের জন্য মংগলজনক।

আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন, সাকিব এমনকি বিদেশী লিগে খেলার জন্য তাকে দলে না রাখার কথাও বলেছিলেন!!!! অথচ আপনি বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন! যে দেশকে এতখানি অপমান করতে পারেন একজন খেলোয়াড়, সে দেশের দরকার নেই সেই প্লেয়ারের দয়া-দাক্ষিন্য নিয়ে বিশ্বকাপে ভাল করার! সাকিব এর চেয়ে বরং অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করে তার ভক্তদের মনোরঞ্জন করুক গে!
খেয়াল কইরাঃ সাকিব ভাল খেলে বাংলাদেশ দলের প্রতি কোন দয়া করেন না, বরং তার কর্তব্যটুকু করেন! সাকিব বাংলাদেশকে যতখানি দিয়েছেন, তার চেয়ে বাংলাদেশ তাকে অনেক অনেক অনেকগুণ বেশী দিয়েছে!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মেঘলা মানুষ এর ছবি

৪ তারিখের প্রথম আলোর ২৩নং পাতার খবর অনুযায়ী যদি সেটা সত্য হয়ে থাকে),
কোচ চাইছিলেন, সাকিব পুরো টুর্নামেন্ট না খেলে ৩১ শে জুলাই পর্যন্ত খেখে দেশে ফিরে আসুক।

সাকিব তাতে রাজিও ছিল।

তারপরও, সাকিবকে এখনই দেশে এসে অনুশীলন করতে হবে -এই সিদ্ধান্ত কার? কোচের তো না।
কার ইচ্ছায় হচ্ছে এটা?

ফিক্সচার দেখে আসলাম, বাংলাদেশের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১ম খেলা অগাস্টের ২০ তারিখে। এই ট‌্যুরের প্রায় দেড়মাস আগে থেকে কাউকে বিদেশে খেলতে দেয়া হবে না -এটা গ্রহণযোগ্য মনে হয় নি।

আর আগামী দের বছরের জন্য অন্য সব টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে রাখার যে সিদ্ধান্ত সেটার আইনগত ভিত্তি কি?
এটা কি কিছু লোকের ইচ্ছেতেই হয়েছে না কি কোন নীতিমালা অণুসরণে করা হয়েছে সেটাও প্রকাশ হওয়া দরকার।

শুভেচ্ছা হাসি

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই ট‌্যুরের প্রায় দেড়মাস আগে থেকে কাউকে বিদেশে খেলতে দেয়া হবে না -এটা গ্রহণযোগ্য মনে হয় নি।

নোতুন কোচ সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাইবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

সিপিএল শুরু হবে ১১ তারিখে। এদিকে ১ তারিখেই নোতুন কোচের আন্ডারে ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে। ১১ তারিখের খেলা ধরতে ক্যাম্প বাদ দিয়ে সাকিবকে কেন ২ তারিখেই যেতে হবে?

বিসিবি থেকে সাকিবকে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে এনওসি ছাড়া যেন সে লীভ না করে। তারপরও পাত্তা দেয় নাই।

কয়েকদিন ক্যাম্পে থেকে ৮/৯ তারিখের দিকে গিয়ে আবার জুলাইয়ের শেষে দলের সাথে যোগ দিলে কেউই ঝামেলা করতো বলে মনে হয় না।

আর আগামী দের বছরের জন্য অন্য সব টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে রাখার যে সিদ্ধান্ত সেটার আইনগত ভিত্তি কি?
এটা কি কিছু লোকের ইচ্ছেতেই হয়েছে না কি কোন নীতিমালা অণুসরণে করা হয়েছে সেটাও প্রকাশ হওয়া দরকার।

এটা বিসিবির সাথে খেলোয়াড়দের চুক্তিতে থাকার কথা। সাকিব চাইলে বাংলাদেশ দল থেকে অবসর নিয়ে বিসিবির সাথে চুক্তি শেষ করতে পারে। তখন আশাকরি আইপিএল, সিপিএল খেলতে সমস্যা হবে না। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড বা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তখন তাকে খেলতে দিতে বেঁকে বসতে পারে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

বিসিবি'র পক্ষ থেকে মৌখিক অনুমতি বিষয়ে আকরাম খানের কোনো ব্যাখ্যা পেয়েছেন কী ? জানতে চাচ্ছি হাসি

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আকরাম খানের নিজস্ব কোনো সমস্যা নাই; কিন্তু এনওসি দেয়ার দায়িত্ব তার না। তাই সে সাকিবকে এনওসি নিয়ে তারপর যেতে বলেছে। আকরাম তার এনওসির দায়িত্ব নেয় নি। সাকিব আকরামের সাথে আলাপের এই এনওসির সত্যটা চেপে গিয়েছে।

আকরাম যাইতে কইছে, তাই গেছি, যুক্তি কোনোভাবেই খাটে না। সাকিব তার নিজের কথায়ও ধরা। তাকে ২ তারিখ সকালেই বিসিবি থেকেও জানানো হয়েছে, যেন এনওসি না নিয়ে লীভ না করে। সে পাত্তা দেয় নাই। সুতরাং আকরাম ভাই কইছে, আর কিছু জানি না, জানতেও চাই না, জানাইতে চাইলেও জানুম না, এই টাইপ চালাকি খাটে না।

“On the morning of my journey I received a call from operations asking me not to go without an NOC. After that I called the CEO and the president, both of whom I could not get through to. I figured that since I had an approval from Akram Bhai, things would be okay once I reached London,” said Shakib."

"Akram however, had a different statement. “I did tell him that I have no problem with him leaving. However, I asked him to go through the CEO since it is he who has to sign the NOC,” Akram told The Daily Star. "

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আমি অফ ফিল্ড সাকিব আল হাসানকে ভালো পাই না। তার সমস্যা আছে আচরণে, হ দা ইয়েস। কিন্তু আচরণে সমস্যা আছে বইলা ছয় মাস ব্যান দেয়া- এই শাস্তি কোনো ভাবেই মানতে পারলাম না। আর্থিক দণ্ড বড় রকমের দিতে পারতো।

পূর্বের ক্যামেরা বিষয়ক ঘটনা বা ড্রেসিংরুম ত্যাগ করা জাতীয় ঘটনা নিয়ে সাকিবের শাস্তি প্রাপ্য ছিলো- তাই হয়েছে। কিন্তু এইবার দাবি করা হচ্ছে কোচের সাথে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ- যে কোচকেই পূর্বে ডিসিপ্লিন ভঙ্গের শাস্তি দেয়া হয়েছে।

সত্য যে সাকিব চাপছে, আকরাম খান নন- এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারছেন কী করে ?

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

সবজান্তা এর ছবি

মোটামুটিভাবে আমার বক্তব্যও এইটাই। সাকিবের আচরণগত সমস্যা আছে, এইটা মিথ্যা না। তার জন্যে তার শাস্তি প্রাপ্য, এবং সেইটা সে কয়েক দফাতে পাইছেও। এই দফায় ছয়মাসটা তাই বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো। তার উপরে পুরা ২০১৫ সে লীগে খেলতে পারবে না- এইটা যতোটা না শৃংখলারক্ষার পদক্ষেপ মনে হচ্ছে, তারচে বেশি মনে হচ্ছে একধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ।

বোর্ড সভাপতির কথায় মনে হচ্ছে, সাকিবের আরো কিছু লুকানো পাপ আছে, যা সম্পর্কে সাধারণ জনতা অবগত না। তো শাস্তি দেওয়ার সময় যদি সেইটা কনসিডার করা হয়, তবে অপরাধটাও সবাইকে জানানো উচিত। আমরাও জানার অধিকার রাখি, কী অপরাধে কী শাস্তি হইলো। তাছাড়া, সাকিবের ঔদ্ধত্যের ছোঁয়া অন্যদের মধ্যে লেগেছে বলে আরেকটা অভিযোগ দেখলাম- বুঝলাম না, সেই সবার শাস্তি কেন সাকিবকেই দিতে হইলো।

আকরাম খানের হিসাবটাও এতো সরল অংক মনে হয় না। আকরাম খানের যদি এখতিয়ার না থাকে, তাহলে সে কেন মৌখিক সম্মতি দিলো? আর সাকিব কি এতোটাই মূর্খ যে, কার এখতিয়ার আছে, আর কার নাই সেইটা সে বুঝে না?

ঘটনা হচ্ছে, সাকিব অপরাধ করছে। দেশের হয়ে আর খেলবো না, রাগের মাথায়ও এমন কথা বলা অপরাধ। তার শাস্তিও তাকে দেওয়া যেতে পারে- কিন্তু তার তীব্রতা নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। আমরা মুখে মুখে যতোই রাজা উজির মারি, দিন শেষে যেই সত্য কথাটা আমরা সবাই জানি- আমাদের বলার মতো খেলোয়াড় এই একজনই আছে। যে হয় ব্যাটিং, নয় বোলিং-এ পুষিয়ে দিবে। তামিম, নাসিরের মতো সিজনাল পারফরমার দিয়ে দল চলে না। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সবচে শক্তিশালী অস্ত্রকে প্রস্তুতি এবং মানসিক দিক থেকে পিছিয়ে রেখে আখেরে কোন লাভটা হবে, সেইটাই বুঝতে পারছি না।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

ঘটনা হচ্ছে, সাকিব অপরাধ করছে। দেশের হয়ে আর খেলবো না, রাগের মাথায়ও এমন কথা বলা অপরাধ। তার শাস্তিও তাকে দেওয়া যেতে পারে- কিন্তু তার তীব্রতা নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। আমরা মুখে মুখে যতোই রাজা উজির মারি, দিন শেষে যেই সত্য কথাটা আমরা সবাই জানি- আমাদের বলার মতো খেলোয়াড় এই একজনই আছে। যে হয় ব্যাটিং, নয় বোলিং-এ পুষিয়ে দিবে। তামিম, নাসিরের মতো সিজনাল পারফরমার দিয়ে দল চলে না। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সবচে শক্তিশালী অস্ত্রকে প্রস্তুতি এবং মানসিক দিক থেকে পিছিয়ে রেখে আখেরে কোন লাভটা হবে, সেইটাই বুঝতে পারছি না।

চলুক

মেঘলা মানুষ এর ছবি

@বলাই দা,

এটা বিসিবির সাথে খেলোয়াড়দের চুক্তিতে থাকার কথা।

আমি বলতে চাইছিলাম, সব অপরাধেরই একটা সাজার লিখিত বিধান থাকে। সাকিবের এই অপরাধের কারণে কেন তাকে ৫ বছর নিষিদ্ধ করা হল না? কিংবা, ৫ সপ্তাহ নিষিদ্ধ করা হল না? এটার 'রুল'টা কি সেই কৌতুহলটাই প্রকাশ করেছি।

শুভেচ্ছা হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আরেকটা জিনিস বলাই দা, নতুন কোচের সাথে একরকম বনিবনার পর কথা ছিল ৩১ জুলাই পর্যন্ত ইন্ডিজ থেকে তারপর সে ফেরত আসবে। কাজেই,

নোতুন কোচ সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাইবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

এটা মনে হয় না কারণ।

শুভেচ্ছা হাসি

হিমু এর ছবি

সাকিব আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়, তারপর দুনিয়ার অন্যান্য লীগের খেলোয়াড়। জাতীয় দলের কোচ তারে ডাকামাত্র তাকে হাজির হতে হবে। জাতীয় দলের ক্যাম্প তো মামাবাড়ি না। যদি তার এই ব্যবস্থা ভালো না লাগে, হি ক্যান গেট লস্ট এনিটাইম। বিসিবির সঙ্গে চুক্তি শেষ করে দিয়ে সে গোটা দুনিয়ায় লীগ খেলে বেড়াক।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

জাতীয় দলের কোচ তারে ডাকামাত্র তাকে হাজির হতে হবে। জাতীয় দলের ক্যাম্প তো মামাবাড়ি না। যদি তার এই ব্যবস্থা ভালো না লাগে, হি ক্যান গেট লস্ট এনিটাইম।

চলুক

মেঘলা মানুষ এর ছবি

@হিমু ভাই,

জাতীয় দলের কোচ তারে ডাকামাত্র তাকে হাজির হতে হবে।

-একমত।
এখন প্রথমা আলোর লাইনটা আবার রিপিট করি
৪ তারিখের প্রথম আলোর ২৩নং পাতার খবর অনুযায়ী যদি সেটা সত্য হয়ে থাকে),
কোচ চাইছিলেন, সাকিব পুরো টুর্নামেন্ট না খেলে ৩১ শে জুলাই পর্যন্ত খেখে দেশে ফিরে আসুক।

কোচের সাথে যদি এই দফারফা হয়, তাহলে ৩১ জুলাই এর পর সে যদি দেশে না ফিরত তবে একটা কথা ছিল।
তার আগে বোর্ডের এই তলবের মাজেজা কি?

হিমু এর ছবি

কোচের সাথে তর্ক। তারপর বোর্ডের কাছে কোচের নালিশ। এদিকে বোর্ডের নিষেধ অমান্য করে দেশ ছাড়া।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

"

In 2009, he was named senior assistant to Sri Lanka's national coach, Trevor Bayliss, but he was fired in June 2010 due to disciplinary reasons"

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Chandika_Hathurusingha

বিসিবি অদ্ভুদ!!!

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

পুরো বিষয়টায় আমার অবজার্ভেশন এরকম:

১) 'বিচার'টা হুট করে করা হয়েছে। একদমই প্রফেশনাল লাগলো না পুরো ব্যাপারটা। বিশেষ করে বিসিবি সভাপতির আগের দিন সাকিবের ব্যপারে রাগ প্রকাশ করা এবং পরের দিনই দেড় বছরের জন্য প্রফেশনাল ক্রিকেট এবং ছয় মাস (বা ম্যাচ) এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার। বরং আশরাফুলের ক্ষেত্রে বিসিবি সভাপতি যথেষ্ট ম্যাচিউর ব্যবহার দেখিয়েছিলেন। আশরাফুল তাঁর সাথে কথা বলতে চাইলেও তিনি 'খুচরা' আলাপ করেন নি। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি মিডিয়ার সাথে বেশ কিছু খুচরা আলাপ সাকিবের কৈফিয়ত দেয়ার আগেই করেছেন। এছাড়া কোন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় নি বা ঠিক কোন কোন দোষের জন্য এই শাস্তি সেটাও পরিষ্কার করা হয় নি। অনেকটা বেশ কিছু জমা হয়ে যাওয়া অপরাধের জন্য ধরে ছয়মাস/দেড় বছর ব্যান করে দেয়া হয়েছে। বিচারটা যদি হুট করে না করা হতো আর ট্রান্সপারেন্সি রাখা হতো, তাহলে এত কথা উঠতো না।

২) ছয় ম্যাচ/মাস এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করার পরও কেন দেড় বছরের জন্য প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করা হলো ঠিক বুঝলাম না। আর্জেন্টিনার ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন কি কখনও এক মাসের জন্যও মেসির বার্সায় খেলা বন্ধ করতে পারবে? আইনি ব্যাপারগুলো জানি না কিন্তু ফুটবল ফলো করি অনেক দিন। তেমনটা নজরে পড়ে নি। বিষয়টা বিসিবি একদমই এ্যামেচার কাজ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। অনেকটা যেন, 'বিদেশে খেলতে গিয়েছিস অনুমুতি না নিয়ে? যা, তোকে আর বিদেশে খেলতেই দেব না।

৩) বিচার দরকার ছিল। সাকিবের সম্প্রতি বেশ কিছু ব্যবহারে আমি মর্মাহত হয়েছি। সাকিব-তামিমরা অনেক তরুণের আইডল। তাদের থেকে আরো ম্যাচিউর ব্যবহার আশা করি। কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডে এ বিষয়ে রুনির সমালোচনা করে খুব ঝড় উঠেছিল। তখন বলা হচ্ছিল, ফুটবলারদের ছোটরা ফলো করে। আর তারাই যদি মারামরি বা মাঠের বাহিরে খারাপ কাজে জড়ায় তাহলে ছোটরা তো তাদের থেকে ঐসবই শিখবে। সাকিব-তামিম বাংলাদেশে রুনি বা রোনাল্দোর থেকে কোন অংশে কম নয়। তাই তাদের দায় আছে এবং দায়িত্বে অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সেই দায় স্বীকার করে শাস্তিও গ্রহণ করতে হবে।

৪) দলের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কোচের ভূমিকা অনেক বড়। এটা বিসিবির কাজ না। ডেভিড ময়েজ ম্যান ইউনাইটেডের প্লেয়ারদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি। এটা তার ব্যর্থতার একটা অনেক বড় দিক ছিল। সেজন্য ম্যান ইউনাইটেড ম্যানেজমেন্ট ভ্যান গালের কাছে গিয়েছে। বছরের পর বছর দেখে এসেছি এই ভ্যান গাল চরম রাগি। ময়েজকে বাদ নিয়ে মূলত সেজন্যই ভ্যান গালকে নেয়া। একই কথা মরিনিওর ক্ষেত্রেও প্রজোয্য এবং অতি অবশ্যই ফার্গুসনর ক্ষেত্রেও। ব্রাজিল দলের স্কলারিও ওমন। বিসিবির উচিত তেমন একজন কোচ বাংলাদেশ দলের জন্যও খুঁজে বের করা। যেই কোচ বিসিবি সভাপতির কাছে ইমেইল নিয়ে কান্নাকাটি করে, তাকে দিয়ে আর যাইহোক দলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব না। ক্রিকেটেও অবশ্যই ওমন শক্ত কোচ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

৫) সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য যে শাস্তি দেয়া হলো এটা কি বিসিবির বাইলজে আছে? যদি থেকে থাকে তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যদি তেমন কিছু বলা না থাকে, তাহলে এটা অবশ্যই ব্যাখ্যা করা বিসিবির দায়িত্ব শাস্তিটা কেন দেয়া হলো এবং যে অপরাধে এই শাস্তি দেয়া হলো সেটার শাস্তি আদৌ এতদিন (দেড় বছর পর্যন্ত) হতে পারে কিনা। তা না হলে সাকিব হাই কোর্টও টেনে নিয়ে যেতে পারে এই ইস্যু এবং তখন বিষয়টা আরো খারাপ হয়ে যাবে।

সাকিব, বিসিবি এবং আমরা সমর্থক - সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। সেই প্রত্যাশা করি।

হিমু এর ছবি

৪) ব্যাপারটা নির্ভর করে ফুটবল কোচের ক্ষমতার পরিধি আর ক্রিকেট কোচের ক্ষমতার পরিধির ওপর। ফুটবল কোচ খেলোয়াড় বাছাই করতে পারেন, যতটুকু জানি। আর ক্রিকেট কোচ কাজ করেন বোর্ডের নির্বাচিত খেলোয়াড়দের নিয়ে। যদি হাতুড়াসিংহের হাতে খেলোয়াড় নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকতো, ব্যাপারটা কি বোর্ডের সভাপতি পর্যন্ত যেতো, নাকি সাকিব তার সঙ্গে এমন আচরণ করতো?

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

হিমু ভাই, আপনি ঠিকই বলেছেন। ফুটবলে কোচই এক সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি। সেজন্য কোচের প্রচুর ক্ষমতা থাকে। ক্রিকেটে মূলত কোচের ক্ষমতা নির্বাচকরা যে দল দিচ্ছেন তার মধ্য থেকে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। সেক্ষেত্রে কোচ চাইলে কিন্তু যে কোন খেলোয়াড়কে পানি টানাতে পারবেন দ্বাদশ খেলোয়াড় বানিয়ে দিয়ে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, ক্ষমতা সীমিত হলেও কিছু ক্ষমতা তবুও আছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন একজন কোচ দরকার যে এই সাহস রাখবেন যে চাইলে স্টার প্লেয়ারকে দিয়েও পানি টানাবেন যাতে তারা বোঝে দলটা ১১ জনের এবং সবাই এখানে সমান। এই ম্যাসেজটা দেয়ার কাজটা যদি বারবার বোর্ডকে করতে হয় সেটা সমস্যা তৈরি করবেই। কেননা বোর্ডের সাথে খেলোয়াড়দের সম্পর্ক খুব বেশি 'ফরমাল'। বোর্ড পারে কৈফিয়াত তলব করতে বা অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে। কিন্তু কোচ চাইলে ড্রেসিং রুমেই বিষয়টা নিয়ে ইনফরমালি কথা বলে খেলোয়াড়দের তাদের অবস্থানটা বুঝিয়ে দিতে পারেন।

হিমু এর ছবি

এই গোটা অধ্যায়টা নিজেদের মধ্যে চেপে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে নতুন কোচ যদি সাকিবকে দিয়ে পানি টানান, আপনার কি মনে হয়, মানুষের কিল একটাও মাটিতে পড়বে?

এই ঘটনাটা কি বিচ্ছিন্ন কিছু, নাকি হিমশৈলের চূড়া, সেটাও চিন্তা করতে হবে আমাদের। অতীতে নিশ্চয়ই অনেক কোচ এই খেলোয়াড়দের নিজেই সামলাতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছেন। দলের সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা খেলোয়াড় যখন কোচকে মুখের ওপর বলে যে সে দরকার হলে জাতীয় দলে খেলাই ছেড়ে দেবে, পরিস্থিতিটা তখন বোর্ডকে জানানোর মতোই গুরুতর।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

হিমু ভাই, আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে দলের মধ্যে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। 'জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবো না' এই কথা বলার সাহস যদি একজন প্লেয়ার পায় তাহলে বলতে বাধ্য হবো চেইন অব কমান্ড বলে দলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। আমি কিন্তু সাকিবের পক্ষে কথা বলছি না। আমি বাংলাদেশ দলের লং টার্মের ভালো জন্য বলছি এই ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজ হয়তো সাকিব বলেছে, কাল তামিম বলবে, পরশু আরেকজন। এটা এইবার যদি বোর্ড হস্তক্ষেপ করে ঠিকঠাক করেও, ভবিষ্যতে যেন এটা কোচই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বারবার যদি এরকম ঘটতে থাকে আর বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয় তাহলে সেটাকে তো আর 'দল' বলার অবস্থা থাকবে না।

হিমু এর ছবি

কথা সত্য।

এতোদিন আমাদের ক্রিকেটারদের সামনে কাজ করেছে ব্যক্তিগত লাভের মূলা। বিজ্ঞাপন, লীগে খেলা, চড়া বেতন, ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন মনে হয় বোর্ড ব্যক্তিগত লোকসানের লাঠি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাচ্ছে। এই ব্যবস্থা হয়তো কোচকে ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিতে সাহস যোগাবে।

আমাদের ক্রিকেট দল আর দল নাই। এগারোজন খেলোয়াড়ের একসঙ্গে মাঠে ঢোকার একটা উছিলা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আসলেই দলটা আর দল নাই। সর্বশেষ সিরিজ দেখে মনে হয়েছিল এরা কী নিজেদের মধ্যেও কথা বলে? মনে হচ্ছিল যেন যে যে যার যার মত ব্যাটিং করতে নেমেছে আর যার যার মত আউট হচ্ছে। মন খারাপ

অতিথি লেখক এর ছবি

১।

আর্জেন্টিনার ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন কি কখনও এক মাসের জন্যও মেসির বার্সায় খেলা বন্ধ করতে পারবে? আইনি ব্যাপারগুলো জানি না কিন্তু ফুটবল ফলো করি অনেক দিন। তেমনটা নজরে পড়ে নি।

মেসি কি জাতীয় দলের পক্ষে খেলবো না এমন হুমকি দিয়েছে? মেসির কথা বাদ দিলাম কোচের সাথে দুর্ব্যবহারের জন্যে সামির নাসিরিকে কিন্তু বিশ্বকাপে নেওয়া হয়নি জানেন বোধহয়। দলের মাঝে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যে পিটারসনকে ইংল্যান্ড বাদ দিতে দুইবার ভাবেনি।

২।

বিসিবির উচিত তেমন একজন কোচ বাংলাদেশ দলের জন্যও খুঁজে বের করা। যেই কোচ বিসিবি সভাপতির কাছে ইমেইল নিয়ে কান্নাকাটি করে, তাকে দিয়ে আর যাইহোক দলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব না

আপনার কথা মতো রাগি কোচ রাখলেই তার শীর্ষরা সব আদর্শবান হয়ে উঠবে। গার্দিওলা কি রাগি কোচ ছিলো? আর ফুটবল আর ক্রিকেট এক নয়, ফুটবলে কোচকে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়, ক্রিকেটে কোচের এত ক্ষমতা নেই? ফুটবলে কোচ যাকে ইচ্ছে তাকে বাদ দিতে পারে, ক্রিকেটে সেটা পারে না। আর কান্নাকাটির কি দেখলেন ঠিক বুঝলাম না? তার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে সে কি তার উপরের ম্যানেজম্যান্টকে জানাবে না? সাদা চামড়ার কোচ হলেই সে ভালো হয়ে যায় বাঙালির কাছে এটাই বোধহয় মূল বিষয়।

মাসুদ সজীব

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

মেসি কি জাতীয় দলের পক্ষে খেলবো না এমন হুমকি দিয়েছে? মেসির কথা বাদ দিলাম কোচের সাথে দুর্ব্যবহারের জন্যে সামির নাসিরিকে কিন্তু বিশ্বকাপে নেওয়া হয়নি জানেন বোধহয়। দলের মাঝে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যে পিটারসনকে ইংল্যান্ড বাদ দিতে দুইবার ভাবেনি।

আমি তো ক্লাব ফুটবলের কথা বললাম। আপনি তো সব জাতীয় দলের উদাহরণ দিলেন। একটা উদাহরণ দেন তো যে ক্লাবে খেলার জন্য ব্যান করেছে কোন খেলোয়াড়কে? পাবেন না। জাতীয় দলে ব্যান করেছে ঠিক আছে। সাথে দেড় বছর ক্লাব লেভেলে কেন খেলতে পারবে না? এটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে।

আপনার পরের প্রশ্নের উত্তর আমি হিমু ভাইকেই দিয়েছি। উত্তরটা লেখার সময় একটা কথা অন্তত তিনবার লিখতে গিয়েও লিখি নি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য এখন দেশি কোচ দরকার। বিদেশী না। আপনার শেষ লাইনটা পড়ে মনে হলো কথাটা লেখা উচিত ছিল। ভাই, বাঙালিকে দোষ দিয়েন না। 'সাদা চামড়া' কোথাও উল্লেখ না করার পরও আপনি সেটা খুজে পেয়ে গেলেন চোখ টিপি

সংযোজন: মাসুদ সজীব ভাই, আমি আসলে তর্ক করতে চাচ্ছি না। আপনার রাগের কারণটা বুঝি। আমার মাঝেও রাগ আছে। আমি শুধু কিছু দিক তুলে ধরলাম যা আমার ব্যক্তিগত অবজার্ভেশন। তবে দিন শেষে আমি এটা চাই যে দলে যেন শৃঙ্খলা ফিরে আসে। দেশের জয়ে চিৎকার করার মত অনুভূতি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের জন্য চিৎকার করে কোন দিন আমি পাবো না (আপনিও পাবেন না আমি জানি)।

অতিথি লেখক এর ছবি

১। আপনি ফুটবল আর ক্রিকেট এক করে ফেলেছেন মোর্শেদ ভাই।প্রথম কথা উদহারন দিয়ে অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। আপনি যদি মনে করেন সাকিব দেশের পক্ষে না খেলার হুমকি দিয়ে অন্যায় করেছে তাহলে আপনাকে উদাহারণ খুঁজেতে হবে না।

২। আপনি কোচের কি দোষ খুঁজে পেলেন সেটা বুঝলাম না? কি কারণে বললে কোচ কান্নাকাটি করে নালিশ করেছে? ফুটবলের মতো যদি ক্ষমতা থাকতো ক্রিকেট কোচের তাহলে কাউকে কিছু বলা লাগতো না সামির নাসিরির মতো তাকেও ছুঁড়ে ফেলতো কোচ। যেহেতু ক্ষমতা নেই তাই অনিয়মকারীর বিপক্ষে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। অভিযোগ যদ্যি মিথ্যে হতো তাহলে আপনার কথার ভিত্তি ছিলো।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

সাকিবকে দুই ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এর আগে। ৩ ম্যাচ বহিষ্কৃত ছিলো অশালীন অঙ্গভঙ্গির জন্যে। আর অশালীন অঙ্গভঙ্গির জন্যে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, আর ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে গিয়ে মারপিট করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা। ১৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সাকিবের গায়ে লাগেনি। লাগলে সে কোচের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করার আগে, বা বোর্ড বলার পরও অনাপত্তিপত্র না নিয়েই দেশ ছাড়ার আগে চিন্তা করতো। ১৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি কারো গায়ে না লাগলে অঙ্কটা এরপর তো সেটা বাড়বেই।

বোর্ড তাই সম্ভবত শাস্তির অঙ্কটা বহুগুণিত করেছে। ১৮ মাস মানে কয়েকটা লীগের কয়েক সিজনে খেলা থেকে সাকিব বঞ্চিত হলো। আবার বিজ্ঞাপনে অংশ নিতে গেলেও বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। সব মিলিয়ে ক্ষতির অঙ্কটা টাকায় ভাবুন। বোর্ড বোধহয় ভাবছে, এই অঙ্কটা সাকিবের গায়ে লাগতে বাধ্য। জাতীয় দলে না খেললে টাকার অঙ্কে তো খুব বেশি ক্ষতি নেই, তাই না?

সুবোধ অবোধ এর ছবি

হিম্ভাই, জাতীয় দলে না খেললে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বড় ক্ষতি। ক্যারিয়ারই তো থাকবে না!!

হিমু এর ছবি

৬ মাসের আরামদণ্ড দিছে রে ভাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ছাড়া এই ৬ মাসে আর কোনো খেলা নাই আমাগো।

অতিথি লেখক এর ছবি

অক্টোবরে জিম্বাবুয়ে সিরিজ-ও আছে।

যাই হোক, সময়ই বলবে সাকিবের এই শাস্তির ফলাফল কি হবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ের সিরিজেই বোঝা যাবে সাকিবের এই শাস্তি আসলেই দৃশ্টান্তমূলক হইল কিনা, অন্যান্য খেলোয়ারের উপর এইটার প্রভাব কেমন পড়ল, আর বিসিবির এই পদক্ষেপ শুধুই সাকিব প্রতিহিংসা নাকি আসলেই পুটিং দেয়ার ফুট ডাউন, আগামী কয়েক মাসেই আশা করি সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। দেখা যাক।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

আচ্ছা , এত কোচ থাকতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আগে একবার বহিষ্কৃত হওয়া কোচকেই কেন বিসিবির ডেকে নিয়ে আসতে হবে বুঝলাম না!!!! (অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন)
সাদা নাকি কালো চামড়া সেই হিসাব পরে করা যাবে।

হাসিব এর ছবি

প্রফেশনাল কীভাবে হৈতো বলে মনে করেন। এই প্রফেশনাল কথাটার অর্থই না কী?

মুস্তাফিজ এর ছবি

বিসিবির সিদ্ধান্ত সমর্থন করি।
স্টার খেলোয়াড় বলে শাস্তি দেয়া যাবেনা বা কমানো উচিত এসব কথাবার্তা একটা অজুহাত।

...........................
Every Picture Tells a Story

হাসিব এর ছবি

সবাই যে আইনের চোখে সমান এই ধারণায় আমরা এখনো ধাতস্থ হতে পারি নাই।

স্পর্শ এর ছবি

সেই সঙ্গে, আইন প্রয়োগকারীর চোখেও সে সবাই সব সময় সমান না সেইটাও মনে রাখা চাই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

পোষ্ট আরে বেশির ভাগ আলোচনা ভাল লেগেছে, মুল পোষ্টের শেষের পরিসংখ্যানটা ছাড়া।

১।
মাঠের বাইরে যাই করুক, সেটা পছন্দ না হলেও মাঠের খেলায় সাকিবের সমালোচনা করার সুযোগ কম। এতদিন পর্যন্ত সাকিবের জন্য এই ছিল আমার মূল্যায়ন, কিন্তু তার সাম্প্রতিক আচরণে জাতীয় দলের প্রতি তার কমিটমেন্টের অভাব স্পষ্ট।

২।
নিয়মিত অনুশীলনে না আসা, হোটেলের রুম বদলানো, কোচিং স্টাফদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, সর্বোপরি “সবার জন্য যেটা নিয়ম আমার জন্য তা নয়” এই মনোভাব আমাদের দেশের “ভিআইপি আচরণ বান্ধব” সংস্কৃতি। মহাতারকা সাকিব(ও তানিম) এই প্যাটার্নের মধ্যেই ছিল। ভুল সময়ে “দেশের হয়ে খেলা ছেড়ে দেব” এবং আরও কিছু উদ্ধত কথাবার্তা তার বিপদ ডেকে আনল।

৩।
কোচ ঠিক কাজটাই করেছেন। কাজের শুরুতেই শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলে দলের মোটিভেশন ধরে রাখা কঠিন। জেমী সিডন্স কোচ থাকাকালীন সময়ে থেকেই সাকিব তামিমের এই ধরনের আচরনের সূচনা, শেন জারগেসন আসার পর সেটা আর বড়ে যায় ।

৪।
বিসিবির পদে পদে অপেশাদারিত্বর ছাপ প্রকট। টেস্ট প্লেয়িং দেশ আর বিশ্বকাপ আয়োজনের সুবাদে ননী মাখনের ব্যাপক সরবরাহ বোর্ডে; একটা ভজঘট নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালকরা ক্ষমতায়। এদের নিয়ে বলতে গেলে কথা শেষ হবে না। কিন্তু বিসিবি খারাপ তাই সাকিবও খারাপ হবে এটা মানতে পারি না।

কয়েকদিন আগেই কিন্তু সাকিব তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানাও হয়েছিলো, তাই এতদিন লাই পেয়ে এসেছে, এখন হুট করে বেশি শাস্তি হয়ে গেছে এই কথা ঠিক না।

৬।
কিছুটা ভিন্ন প্রসঙ্গ

কয়ক বছর আগে সম্ভবত রেডিও ফুর্তিতে ঈদের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন সাকিব আর তানিম। অনুষ্ঠানে হোস্ট ইভ টিজিং প্রসঙ্গে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম ছিল যদি মেয়েটা নিজে “ঠিক থাকে” আর ইভ টীজারদের উৎসাহ না দেয় তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না। এই মন্তব্য শুনে খুব দুঃখ পেলেও অবাক হইনি; কারণ দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষই এই মনোভাব পোষণ করে বলে ধারণা হয়।

সাকিবের স্ত্রী যখন ইভ টিজিং শিকার হলেন তখন নিশ্চয়ই সাকিবের মনে হয়নি যে এই জন্য “মেয়েটিই দায়ী”। আপনজন দুর্ভগের শিকার না হলে আমরা অন্ধ হয়ে থাকি মন খারাপ

-পিয়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি সম্পুর্ন একমত ইশতিয়াক রউফ এর সাথে তাই নতুন করে কিছু বলার নাই, কিন্তু বোর্ড দিনের পর দিন পারফর্ম না করা ভাতিজাদের ব্যাপারেও এরকম জোরালো কোন পদক্ষেপ নেয় নাই তা কি শুধুই চাচার জন্যে?!!!!

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

বাংলাদেশে কাউকে ভালো সার্টিফাই করাটাই বিপদের। আপনি যতটা জেনে তাকে সার্টিফাই করবেন, বাকীটা জানলে করবেন না। সেটা সাকিব সম্পর্কে যতটা সত্যি, পাপন ভাই সম্পর্কেও। দুজন সম্পর্কেই আমি কিছু কিছু মন্দ জানি বলেই বোধহয় এই ব্যাপারটায় খুশী অখুশী কিছু হতে পারছি না। সাকিবের শাস্তির ব্যাপারে দ্বিমত না থাকলেও শাস্তির মেয়াদটার মধ্যে প্রতিহিংসার ছাপ আছে মনে হচ্ছে। কিছুদিন বাদে বিশেষ বিবেচনায় মাফ করে দিলে অবশ্য অবাক হবো না। সাকিব খেলে ভালো, কিন্তু তার আবাল আচরণগুলো তার এবং বাংলাদেশের ইমেজের বারোটা বাজিয়ে যাচ্ছে এটা না বুঝলে তার জন্য করুণা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্জনগুলো যতটা আনন্দদায়ক ছিল এসব আনপ্রফেশনাল উল্লুকদের কারণে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সাকিবের ব্যাপারটা অনেকদিন ধরেই "যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খাওয়া ভাল" টাইপের হয়ে আছে। দুঃখজনক হল এই লাথি মারার অভ্যাসটা সে কোনক্রমেই ত্যাগ করতে পারছে না। তাই কোন কোন সময় লাথির তীব্রতা একটু বেশী হয়ে গেলে বিসিবি তার দাপট দেখানোর প্রয়াস পায়। সেই অধিনায়কত্ব হারানো থেকে শুরু করে হালের এই নিষেধাজ্ঞা যেন একই নাটকের পৌনঃপুনিক প্রদর্শনী। এমনিতে সাকিব যথেষ্ট ভদ্র বলেই মনে হয়, অন্তত পেশাগত কারনে বারকয়েক মুখোমুখি সাক্ষাতে তাকে সেরকমই মনে হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাপারে সে হঠাত করে ইগো সচেতন হয়ে ওঠে এবং বিবেচনাবোধ হারিয়ে ফেলে। এর ফলশ্রুতিতে কখনো সে সতীর্থ খেলোয়ারকে অপমান করে, কখনো বয়োজ্যেষ্ঠ প্রাক্তন খেলয়ারদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, কখনো মিডিয়াকে অবজ্ঞা করে, কখনো ব সাপোর্ট স্টাফদের গালমন্দ করে এবং কখনো কখনো ক্রিকেট বোর্ডকেও গোনার মধ্যে ধরতে চায় না। সে যদি সত্যিকারের বিশ্বমানের ক্রিকেটার না হয়ে একজন গড়পড়তা ভাল খেলোয়ার হতো, তাহলে এহেন আচরণের কারনে বহু আগেই তার বিদায় ঘণ্টা বেজে যেত।
এবারেও যদি সাকিব একটু বিবেচনাবোধের পরিচয় দিতে পারতো, তাহলে বোধ হয় ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না। সে যে সিপিএল এ খেলতে যাচ্ছে এ কথা সংশ্লিষ্ট সবাই জানত এবং দৃশ্যত বিষয়টা সবাই ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছিল, সিপিএল খেলার জন্য তার এনওসি না পাওয়ার কোন কারনই ছিল না। কিন্তু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত এনওসি না নিয়েই সে যখন চলে যেতে উদ্যত হল এবং শেষ মুহূর্তে তাকে যখন জানানো হল এনওসি না নিয়ে যেন সে ঢাকা ত্যাগ না করে, তখন তার বিখ্যাত ইগো আবার চাঙ্গা হয়ে ঊঠল এবং সে আরো একবার তার বিবেচনাবোধ হারিয়ে ফেললো। এবার সে কথায় এবং আচরণে কোচ, বোর্ড এমনকি দেশকেও আর তোয়াক্কা করলো না, যার অবধারিত ফল এই শাস্তি। সাকিবের এই শাস্তি বেদনাদায়ক কিন্তু পরিহারযোগ্য নয়।
অনেকে ভাবছেন এবং বলছেন, শাস্তির মাত্রাটা খুব বেশী হয়ে গেছে, যেটা আসলে ঠিক নয়। সাকিবকে যে ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার ফলে সে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটাই মিস করবে। এর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট যদি হয় এবং সাকিব তা না খেলে, তাতে বোধ হয় খুব একটা কিছু আসে যায় না। আর দেড় বছরের জন্য বাইরের যে কোন টুর্নামেন্টে যে নিষেধাজ্ঞা, সেটা আসলে এইজন্য যে, সে যেন বাংলাদেশ দল থেকে অবসর গ্রহন করে(যে হুমকি সে দিয়েছে এবং বহু সাকিব অনুরাগী তা সমর্থন করছে) বাইরের কোন টুর্নামেন্টে খেলতে না পারে, যেমনটা ক্রিস গেইল করেছিল(যদিও পরে মিটমাট হয়ে গিয়েছিল)। এখন সবার যে কামনা, যেন শাস্তির মাত্রাটা কমানো হয়, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদটা যেন কমে যায়, সেটা প্রধানত নির্ভর করছে সাকিবেরই উপর।

হিমু এর ছবি

দুধ তো দিচ্ছে আইপিএল সিপিএলে গিয়ে, আর লাথিটা মারছে জাতীয় দলের কোচকে। জায়গামতো দুধ দিলে লাথি সহ্য করা যেতো।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হো হো হো চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

না, মানে বিসিবি'র অধিনস্ত একজন ক্রিকেটার টপ র‍্যাঙ্কিং অলরাউন্ডার, মাঝে মধ্যে ফিফটি মারে, উইকেট টুইকেট পায়, দুধ বলতে এটুকুই।

দীনহিন এর ছবি

দুধ তো দিচ্ছে আইপিএল সিপিএলে গিয়ে, আর লাথিটা মারছে জাতীয় দলের কোচকে। জায়গামতো দুধ দিলে লাথি সহ্য করা যেতো।

চলুক
এইসব সাঙ্ঘাতিক সুন্দর বাউন্সার শুধু হিমু ভাইয়ের হাত দিয়েই বেরোয়!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মারলাওন এর ছবি

আইপিএল এ দুধ দিয়ে বিশ্বের ১নম্বর অলরাউন্ডার হয়েছে তাইনা

হিমু এর ছবি

১ নম্বর অলরাউণ্ডার সাহেব জায়গামতো দুধ দিলে দশটা দেশের মধ্যে দশ নম্বর র‍্যাঙ্কিঙে থাকতে হইতো না।

robot  এর ছবি

আইপিএলে খেলে তো ওয়ান্ডে/টেস্টের র‌্যাংকিং পায়নাই। আর ক্রিকেট তো একজনের খেলা না যে একজনে জিতায় দেবে।

হিমু এর ছবি

ক্রিকেট তো একজনের খেলা না যে একজনে জিতায় দেবে।

তাহলে একজন শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তি পেলে টেনশন নিয়েন না।

আনোয়ার  এর ছবি

হিমু ভাই, শাস্তি সাকিবের পাওয়া উচিত ছিলো এবং পেয়েছে। কিন্তু সাকিব দেশের জন্য ভালো খেলে না, খালি আইপিএল এ ভালো খেলে এই কথাটা মনে হয় ঠিক না।
আই.সি.সি টেস্ট রাঙ্কিং এ সাকিব ৩ এবং ওয়ান ডে রাঙ্কিং এ সাকিব ২। সেটা তো আর আইপিএল খেলে হয় না।

হিমু এর ছবি

আপনার যুক্তি সঠিক। সাকিব দেশের জন্য ভালো খেলেই র‍্যাঙ্কিঙে উঁচু স্থান পেয়েছে। আমার যুক্তি ভুল। মেনে নিচ্ছি।

আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিঙে ৩ আর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিঙে ২ এর ঘরে থাকা খেলোয়াড় যখন ভিনদেশের লীগে খেলার জন্য জাতীয় দলের প্র্যাকটিস ক্যাম্পে যোগদান নিয়ে কোচের ঝগড়া করে, তখন তার শাস্তির র‍্যাঙ্কিংও ওপরের দিকে থাকে দেখতে পাচ্ছি।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

১।
অদ্ভুত, ফেসবুকে পাপনের বিরুদ্ধে বিষেদাগার দেখে মনে হচ্ছে ভদ্রলোক বরাবর যেমন লাইনে ছিলেন, এবারও লাইনেই আছেন। এই ভদ্রলোকের দৃঢ়তার কারনেই ঝঞ্ঝাসঙ্কুল পাকদেশে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যায়নি। প্রথম আলোর অতি উৎসাহী ও অর্ধসত্য রিপোর্ট দেখে কেবলি মনে হচ্ছে আলুদের আজ সেই পাকিস্তান কান্ডের শোধ নেবার সময় বুঝি সমাগত।

২।
গনজোয়ারের নামে সাকিব স্টার তাই কোনও শাস্তি মানি না (তুলনীয়ঃ ইউনুস বিশ্বনন্দিত, অতএব তাঁর ট্যাক্সফাকি নিয়ে হৈচৈ করা যাবে না) টাইপ যেই সব ইভেন্ট আহ্বান করা হচ্ছে তাতে সাকিবের ভুল শোধরানোর কোন কারন দেখছি না। বরং, তার আরও অতি আত্মবিশ্বাসী + অহংকারী হয়ে ওঠার ভয় পাচ্ছি (ভুল হলে খুশি হব)।

৩।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়ার এই তারকাখ্যাতি ভাঙ্গিয়েই সাকিবের যাবতীয় এ/বি/সি/ডি...পিএল এ ডাক পাওয়া। উল্টোটা নয়। এই কথাটা চটকানা দিয়েই জানান দেয়া উচিত ছিল, এতে তো দোষের কিছু দেখছি না।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

হিমু এর ছবি

সাকিবভক্তদের নতুন বয়ান হচ্ছে, শাস্তি ঠিকাছে, কিন্তু...

১. শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া/ধরন ঠিক নাই।
২. শাস্তির মাত্রা ঠিক নাই।

সাকিবকে একটা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডেকে আনা হয়েছে, তার বক্তব্য শোনা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারপর শাস্তি ঘোষিত হয়েছে। তারপরও যদি শাস্তিদানের প্রক্রিয়া বা ধরনে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে সাকিবভক্তদের এটাও বলা উচিত, কোন প্রক্রিয়ায় কী শাস্তি দিলে সেটা তাদের চোখে ঠিক হতো।

কিছু লোক আবার এই শাস্তিকে সৌদিতে চুরির দায়ে হাত কাটার সঙ্গে তুলনা দিতে ব্যস্ত। সাকিবের শাস্তিটা বরং গুটি বসন্তের রোগীকে সংঘনিরোধে পাঠানোর মতো হয়েছে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হিমু ভাই, সাকিবের খেলার ভক্ত আমি নিজেও, সাকিবভক্ত না বলে বরং সাকিবমুরীদ বলি, মানানসই হবে। এই সব আশেকানে-মুরীদানের কথার অপ-বিবর্তন দেইখা সুজনদা'র সেই ক্লাসিক কার্টুনটা মনে পড়ছে। হো হো হো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

হিমু ভাই ফেসবুকে অনেককেই দেখি পাপনের কল্লা নামিয়ে ফেলছে, আমরা গুনীদের সম্মান করতে জানিনা আরো কত অভিযোগের বাক্স খুলে বসেছে। কেন আমরা অন্যায় আর অনিয়মকে না বলার ক্ষমতার রাখছি না? অন্যায় আর অনিয়ম যে করছে সে যতবড় তারকাই হোক তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। নুবুল বিজয়ী কিংবা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলে সে পার পেয়ে যেতে পারে না।

সাকিব সেরা খেলোয়াড় সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সাকিব যথেষ্ট মিথ্যে বলে। অনেকেই সাকিবের বউকে টিজিং করার জন্যে ড্রেসিং রুমের বাইরে গিয়ে মারাকে সমর্থন করছে। আমি সেই তর্কে যাচ্ছি না, তারা শুধু বলুক তো সাকিব অাট-দশ বছর ক্রিকেট খেলে খেলা চলাকালীন সময়ে ড্রেসিংরুমের বাইরে যাওয়ার নিয়ম নেই জানে না বললো এটা কত বড় মিথ্যাচার? এমন মিথ্যাচারগুলো সে নিয়মিত করে যাচ্ছে।

মাসুদ সজীব

হিমু এর ছবি

গুণীদের সম্মান করা = গুণীদের দুষ্টুমি করতে দেওয়া।
গুণীদের দুষ্টুমি করতে বাধা দেওয়া = গুণীদের অসম্মান করা।

গুণীভক্তদের কথাবার্তা শুনলে এটাকেই টেইক হোম লেসন মনে হয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাসি

এবং,
সকল গুণীকে এখনও প্রাপ্য শাস্তির আওতায় আনতে না পারা= পছন্দের গুণীকে দায়মুক্তি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

সবকিছুর ভিতরে মুক্তিযুদ্ধ ঢুকিয়ে সেটাকে হালাল করতে দেখলে মজিদের "ওই মিয়া তোমার দাঁড়ি কই?" ডায়লয়গটা খালি মনে পড়ে। আচ্ছা, তাহলে আপনার স্টাইলে আমিও ত্যানা প্যাঁচাই(তৈলমর্দনটুকু বাদে)

৫ জানুয়ারি ২০১৩ তে তামিম ইকবাল মাদা**চো** বলে গালি দিয়েছিলেন অটোগ্রাফ চাওয়া এক নারী দর্শক কে। ভিডিও পর্যন্ত ইউটিউবে আছে, নিষেধাজ্ঞা হয়নি।

০২ জানুয়ারি ২০১২ তে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে মাঠের মধ্যেই ওল্ড ডিওএইচএস এর আশরাফুলের উপর চড়াও হন তামিম, নিষেধাজ্ঞা ১ ম্যাচ।

২২ অক্টোবর ২০০৭ এ তামিম ইকবাল বোলার তালহা জুবায়ের কে গালি দিয়ে ক্ষান্ত হননি, হেলমেট দিয়ে আঘাত করেন, নিষেধাজ্ঞা ২ ম্যাচ।

২২ আগস্ট ২০১০ এ চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিয়ে বিজনেস ক্লাসের টিকিটের জন্য বিসিবি স্টাফদের সামনে ভিসা ফর্ম ছিঁড়ে তামিম তুলকালাম করেন। কোন শাস্তি হয়নি।

২০১০ নিউজিল্যান্ডের বিরম্নদ্ধে সিরিজে ইনজুরির কারনে তামিম না খেলেও দাবি করেন ড্রেসিংরম্নমে প্রবেশাধিকারের জন্য এ্যাক্রিডিটেশন কার্ড, সেটি পেতে দেরি হওয়ায় বিসিবি স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণ। কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফর ও এশিয়া কাপে জাতীয় দলের বোলিং কোচ বাবুল মিরপুরের ইনডোরে তামিমকে কিছু বোঝাতে যান, তাকে অপমান করে, শাসিয়ে দিয়ে তামিম বলেন যেন ভবিষ্যতে তাকে যেন বোঝাতে না আসে। এরপর কোনকিছুই হয়নি।

০৫ মার্চ ২০১২, আকরাম খান পদত্যাগ করলেন তামিম ইকবালের জন্য, বোর্ড সভাপতি মুস্তফা কামাল অনুমোদন দেননি তামিমের দলে থাকা। এর আগে দল নির্বাচন নিয়ে হস্তক্ষেপ হলেও তখনই প্রথম তিনি পদত্যাগ করেন। আকরাম খানের আচরন বিসিবির নিয়ম বহির্ভূত বরং তাঁকে স্বপদে ফিরিয়ে আনা হয় খেলার স্বার্থে।

এই লেখাটি তামিম ইকবাল কে উদ্দেশ্য করে নয় কিন্তু বিসিবির আচরন বিধি মালা এখানে ভঙ্গ হয় না, এতসব কিছুর পরও তামিম দলে ঠিকে থাকে। ফর্ম নেই সেই কবে থেকেই, তবুও একমাত্র চাচা (পড়ুন মামা) আকরাম খানের সুবাদে সাতখুন মাফ।

আর হুট করে সাকিবের এত্তোউউউউউউউউউউউউউউউউউউউঅ দোষ!!!
এর মাঝে কোনো বোর্ড কেন্দ্রিক পলিটিকস 'না দেখতে না পাওয়াটা সমস্যা' নাকি 'পাওয়াটা সমস্যা' বুঝা কঠিন।

-আবির

হিমু এর ছবি

তামিম ইকবালকে সাকিব আল হাসানের চেয়েও কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাই। তামিম এগুলি করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাই সাকিবকেও এইসব করে পার পেয়ে যেতে দিতে হবে, এইরকম দাবি জানানো থেকে বিরত থাকি।

স্পর্শ এর ছবি

তামিম ইকবালকে সাকিব আল হাসানের চেয়েও কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাই।

অবশ্যই!

সেই সংগে যে পাইভটের উপর দাঁড়িয়ে আঙুলটা সাকিব থেকে তামিমে ঘুরবে সেটার মুদেথাকা একটা চক্ষু নিয়েও আলোচনা হোক। আর একটা করাপ্ট যায়গা থেকে আসা যে কোনো রায়ের মধ্যেই কতখানি করাপশন মিশে গেছে সেটা নিয়েও কিছুটা মাথা ঘামাই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

এই রায়ের পেছনে করাপশনের এভিডেন্স থাকলে দিন। স্পেকুলেশন পড়তে পড়তে গতকাল হয়রান হয়ে গেলাম।

স্পর্শ এর ছবি

আর রায়টা গায়েবী মনে হচ্ছে না, তাই তো?

উপরে আবিরের মন্তব্যেই স্পঠট দেখা যাচ্ছে, রায় দাতারা কতটা বায়াসড। এরা হঠাৎ করে ন্যায়ের অবতার হয়ে বসেছে বলছেন?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

দবির চুরি করে। কবিরও চুরি করে। শাস্তির মালিক সগীর একটা খারাপ লোক। দবির শাস্তি পায় নাই। কবির শাস্তি পেয়েছে। সগীরের হাতে দবিরের শাস্তি না পাওয়াতে কবিরের চুরির অপরাধ লঘু হয়ে যায় না। আপনার পছন্দমতো রায়দাতা সামনের চার-পাঁচ বছরে পাওয়া না গেলে কি জাতীয় দলের প্র্যাকটিস ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা নিজের ইচ্ছামতো আসবে যাবে নাকি?

যীশু বলেছিলো, তোমাদের মধ্যে সে আগে চোরকে পাথর মারো, যে আগে কোনোদিন চুরি করোনি। চোরটা তারপর আর পাথর খায়নি। কিন্তু সে পরে চুরিদারি থামিয়েছিলো কি না, জানি না। যীশু আরো বলেছিলো, এক গালে চটকনা খেলে অন্য গাল ফিরিয়ে দাও। যীশুর লাইনে হাঁটলে পুরাটা হাঁটেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরা যদি আদিম বর্বর যুগে থাকতাম বা তালিবান বা নাতসী পার্টির আন্ডারে থাকতাম তাহলে হয়তো 'কে বিচার করে' তা নিয়ে মাথা ঘামানোই বাদ দিতাম এবং স্রেফ 'কার বিচার হলো' তা নিয়ে চৌদ্দ গুষ্টী উদ্ধার করে ফেলতাম।

যেহেতু আমরা সভ্য-ভব্য একটা দেশে বাস করি এবং যেহেতু বিচার-ব্যবস্থা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের ন্যায় অখণ্ডনীয়-পুত-পবিত্র ও অস্পর্শ্য নয় এবং বিচারকগণ প্রফেটসুলভ মর্যাদার অধিকারী নন কাজেই তাদের কাজ ও মোটিভ নিয়েও আসুন আমরা দুদণ্ড কমেন্ট খরচ করি।

এজন্য মনে হয় না যীশু খ্রিস্ট হতে হবে কাউকে বা কাউকে তার মুরীদও হতে হবে। সভ্য ভব্য দেশে এরকম প্রসংগে মানুষ শুধু যে আলোচনা করে তাইই না এদের বিচারও হয়-
Judge Accused of Nepotism and Abusing Power From the Bench

আর ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে এরকম বিগলিত মাতম তালিবান বা নাতসিরা করলেও করতে পারে; আমরা বরং নাইই করি।

-দুচোখো সমালোচক

হিমু এর ছবি

বিচারকদের কাজ আর মোটিভ নিয়ে দুদণ্ড আলোচনার আগেই দেখি ক্যাঙারু কোর্টের তালগাছ বগলে নিয়ে নিলেন। ক্যাঙারু কোর্ট কেমন হয় হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।

তবে আলোচনা হোক। সাক্ষ্য, প্রমাণ, যুক্তি সবই উঠে আসুক। তারপর না হয় আপনার সাথে গলা মিলিয়ে ক্যাঙারু বলে বকা দেবো। আফটার অল, কয়েক মাস আগে কোটি কোটি মানুষের সামনে বত্রিশ দাঁত বের করে নিজের নুনু হাতড়ে দেখানো সাকিব আজ ঈভটিজারদের বিরুদ্ধে দৃপ্ত মুজাহিদ হিসাবে খ্যাতি পেয়েছেন। ধারণা পাল্টাতে কতক্ষণ?

স্পর্শ এর ছবি

আপনার পছন্দমতো রায়দাতা সামনের চার-পাঁচ বছরে পাওয়া না গেলে কি জাতীয় দলের প্র্যাকটিস ক্যাম্পে খেলোয়াড়রা নিজের ইচ্ছামতো আসবে যাবে নাকি?

নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা পাওয়া অথবা কোনো ব্যাক্তির লঘু পাপে গুরুদণ্ড হবার সম্ভাবনা থাকলে, সেই বিচারের রায়ের মাত্রা আর তার পিছনে মোটিভ আছে কি না তা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুবই জরুরী।

যীশু যাই বলুক, যে ব্যক্তি দবিরের সুস্পষ্ট গুরুপাপে সাজা দেয় না। সে কবিরের লঘুপাপে গুরু দণ্ড দিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার আছে। তার উপর যেখানে ইভটিজারদের জন্য বিচারকক মন্ডলীর দরদ উথলে উথলে উঠছে সেখানে কথা তো উঠবেই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

রিপিট অফেন্ডারদের শাস্তি উত্তরোত্তর বাড়ে। আর পাপের "লঘুত্ব" বা দণ্ডের "গুরুত্ব" তো সাবজেকটিভ। জাতীয় দলের কোচের ডাকে প্র্যাকটিস ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ঝগড়া করলে সেটা লঘু হয় না। এটা গোটা দলের প্র্যাকটিসকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়ার মতো একটা কাজ, কারণ সাকিব করতে পারলে বাকি দশজনও পারবে। এটাকে লঘু হিসাবে দেখানোর চেষ্টাও অস্বাভাবিক।

দীনহিন এর ছবি

রিপিট অফেন্ডারদের শাস্তি উত্তরোত্তর বাড়ে।

এই যুক্তিটি বা এক অপরাধীর শাস্তি না দিলে অন্য অপরাধীর শাস্তি মওকুফ হয়ে যেতে পারে না, এই কথা বারবার বলছেন গত কয়দিন ধরে, কিন্তু তবু তাদের মধ্যে প্রবেশ করছে না। আসল বায়াস্‌ড কারা, তা এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার! সবচেয়ে দুঃখ হল, যার জন্য এই যুক্তিহীন পক্ষপাত করছেন, সেই সাকিব কি এমন অন্ধ ভালবাসার যোগ্য? বা তার কাছে জনতার এই ভালবাসার কুনো দাম আছে? আত্মঅহমিকায় ভোগা সাকিব তো এমনকি বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলাটাও প্রয়োজন মনে করে না!

আপনি একবার বলেছিলেন, বাংলাদেশী হয়ে বেঁচে থাকা একটা টয়েলসাম ব্যাপার রে ভাই। এর মানে, এই দেশে মানুষকে সহজ যুক্তিটি বোঝানো একটি ক্লান্তিকর কাজ! তখন না হলেও এখন বুঝতে পারছি কথাটার মর্মার্থ!!!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

দীনহিন এর ছবি

যদিও তুলনাটা শোভন হচ্ছে কিনা, সন্দেহ আছে, তবু কেন জানি অদ্ভুতরকমের মিল খুঁজে পাচ্ছি যুক্তিপ্রয়োগে!

রাজাকারভক্তগণেরা যুক্তি ফরমান যে, রাজাকারেরা অপরাধ করেছে এইটা সত্য, কিন্তু বিচার এত বছর পর কেন? তাছাড়া, ফাঁসি না দিলে চলত না বুইড়া লোকগুলিরে? তাছাড়া, বিচারকার্য সুষ্ঠ হয় নাই, ট্রাইব্যুনাল নিজেই তো অদক্ষ! তাছাড়া, এই বিচার কইরা দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি নষ্ট কইরা লাভ কি?

অন্যদিকে, সাকিবভক্তরা বলছেন, সাকিব অপরাধ করেছে সত্য, কিন্তু বিসিবি শুরু থেকেই শুদ্ধ করেনি কেন সাকিবকে? বিসিবির ঢিলেমি সাকিবের আজকের বেপরোয়া আচরণের জন্য দায়ী! তাছাড়া, লঘুপাপে গুরুদন্ড হয়ে গেছে! বিসিবি নিজেই তো অদক্ষ, বিশৃঙ্খল; সেই বিসিবি কি করে এমন শাস্তি দেয়? তাছাড়া, সাকিবের শাস্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি করল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা অঙ্কুরে নষ্ট করল!

বিঃ দ্রঃ সাকিবভক্তরা রাজাকারভক্ত, এমন কথা ঘুনাক্ষরেও ইঙ্গিত করা হয়নি এখানে! বরং যৌক্তিক দৌর্বল্যে যে আপাত মিলটি পরিলক্ষিত হয়েছে, তাই তুলে ধরা হয়েছে।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

প্রিয় দীনহীন,
আপনার সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ সত্ত্বেও, ঠিক ওপরেই একজন সাকিবমুরীদ ইতোমধ্যে অত্যন্ত বিরক্তি সহকারে "সবকিছুর ভিতরে মুক্তিযুদ্ধ ঢুকিয়ে সেটাকে হালাল করতে দেখা" আবিষ্কার করে ফেলেছেন ... চোখ টিপি ...এই ছলে সাকিবের দায়মুক্তিও কামনা করেছেন... দেঁতো হাসি ... যদিও ততপূর্বের মন্তব্য ঘেঁটে আমি "মুক্তিযুদ্ধ" খুজে পাইনি ... হ্যাঁ, দুয়েক জায়গায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভাবে পাকিদের একটু আলতো বকাবকি করা হয়েছে বটে, এতে কারও গা জ্বললে কিছু করার নেই খাইছে

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

চলুক
অঃ টঃ - আলোচনা চলছে জোরকদমে। এই না হলে শাহেনশাহ সিমন-এর ব্লগিং! হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইয়াপ, লহমা দা,
শেষ অনুচ্ছেদের সারসংক্ষেপঃ
রিটার্ন্ড সুপারম্যান ড্রিমিং ফর অ্যানাদার সুপারম্যান টু রিটার্ন হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

পুরাই চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

মন্তব্যের স্রোতে তলিয়ে গেলাম।যাই হোক,যে বিষয়ে জানার পরিধি সীমিত সে বিষয়ে কথা বোধহয় না বলাই ভালো।তবুও একটা কথা,সবার ই মর্যাদার মূল্যায়ন করা উচিত --আনান ইবনাত

অতিথি লেখক এর ছবি

আহা! আমার দেখা প্রথম পোস্ট যেটার মন্তব্যের ঘরে সেঞ্চুরি হল। কিছুদিন আগে নীলকান্ত দার ''মনে কিছু নিয়েন না'' নামক পোস্টে তিথীডোর লিখেছিলেন 'তেমন টানটান মিথস্ক্রিয়ার লেখাই বা কই যেখানে শততম মন্তব্য পেরিয়ে তর্ক বা খুনসুটি চলবে?' এই পোস্টে ওনার আফসোস হয়ত পূরণ হল।

ফাহিমা দিলশাদ

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সুজন পাকুদের যে দলটাকে হারিয়ে দিয়েছিলো সেই দলে সাঈদ আনোয়ার, আফ্রিদি, ইনজামাম, সাকলাইন, ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব আকতার, মইন-ইজাজ-সেলিম মালিকের মতো পাকিপ্রেমীদের অলটাইম হিরুরা ছিলো। সেই ব্যথা এত সহজে ভোলার নয়!

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

মারলাওন এর ছবি

ইয়ের যুক্তি দিয়েন না, কাদের সিদ্দিকিওতো মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক পাকিস্তানী আর রাজাকার মারসিলো।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পার্থক্য হলো, কাদের সিদ্দিকী এখন দিগন্তে যায়, জামায়াতের পক্ষে কথা বলে। এজন্য দেখবেন, জামায়াতিরা কাদের সিদ্দিকী নিয়া এখন আর বাজে কথা বলে না, বরং তাকে মুক্তিযোদ্ধার রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে।

সুজন আগেও যে পক্ষে ছিলো, এখনো সেই পক্ষেই আছে। ১৯৯৯ তে যারা পঁচা শামুকের পা কাটা নিয়া উদ্বিগ্ন হয়েছিলো, আজও তারাই প্রমাণ ছাড়া সুজনকে গালি দেয়। যেমন, আশরাফুল ফিক্সিং কইরা ধরা খাইলো, আলু নিউজ ছাপায়া দিলো সুজন-রফিক-পাইলটও ফিক্সার।

আপনার কাছে যদি তার বিরুদ্ধে রিউমার ছাড়া কোনো সলিড প্রুফ থাকে, সেগুলা পেশ করুন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

সাকিব খেলোয়াড়, তারে বিচার করবেন তার খেলোয়াড়ি অপরাধ বিবেচনায়। তার ভাব বেশি না কম এইটা দিয়া না। আর সে খেলতেছে ৭ বছরের মত...ভাব কি ২০১৪ সালে আইসা বাড়ছে? আর ভাব বাড়ার জন্যে কারো বিচার আচার করা লাগবো এইটা কই পাইলেন...?

অতিথি লেখক এর ছবি

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ক্যাপ্টেন , বাংলাদেশ দলের প্রথম পেশাদার ম্যানেজার । সম্প্রতি সাকিব বিষয়ে তার একটি ইন্টার্ভিউ দেখলাম যেখানে তিনি কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছেন যা আমাদের অনেকেরই আগে জানা ছিল না ।

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু 'র তথ্য সমূহ পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই ধরা পড়বে - বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কতোটা সস্তা আর কর্মঅদক্ষ একটি সংস্থায় পরিচিত হয়েছে যাদের কাছে সাকিব বারবার পরাজিত । আমি জনাব লিপুর পয়েন্ট গুলোর সাথে আমার মতামত গুছিয়ে লিখার চেষ্টা করছি ।

পয়েন্ট ১ - অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও একটি কমিটি আছে যার নাম - " ক্রিকেট অপারেশন কমিটি " এই কমিটির কাজ প্লেয়ারদের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ লুক আফটার করে । তাদের বোর্ড আছে , সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় কিভাবে একজন প্লেয়ার বাইরে খেলতে যাবে তার নিয়ম নীতি , তাদের ছুটি ছাটা সহ , সুবিধা অসুবিধা এভ্রিথিং । আকরাম খান এর দায়িত্বে । সাকিব চেয়ারম্যান আকরাম খানের সাথে কথা বলেছে । যা সবাই স্বীকার করেছে । আকরাম খান তার সর্বোচ্চ দায়িত্ব থেকেই সাকিবকে অনুমতি দিয়েছে । একটি কমিটির প্রধান সম্মতি বিনা কারনেই দেয় না , সে তার বোর্ডের সাথে আগেই কথা বলে রেখেছে , এবং মৌখিক সম্মতি দিয়েছে । তারপর কি হল ? আজ সাকিব অনুমতি না নিয়ে চলে যাওয়ায় অপরাধী । বিষয়টা অদ্ভুত নয় কি ?

পয়েন্ট ২ - গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সিপিএলে সাকিব গত সপ্তাহে হঠাৎ করে ডাক পায়নি । সিপিএলে সাকিব ডাক পেয়েছে আরও কয়েক মাস আগে । এবং একমাত্র সাকিব ই ডাক পেয়েছে । যা বোর্ডের সবাই জানে । মাঝে কয়েক মাস কেটে গেল , কেউ কোন শব্দ করলো না কিন্তু যখন ই সাকিব " ক্রিকেট অপারেশন কমিটি'র " চেয়ারমানের সম্মতি নিয়ে রওনা দিল সঙ্গে সঙ্গে তুলকালাম । জনাব লিপুর মতে ছাড়পত্র নিয়েই যে ফ্লাই করতে হবে এমন কোন কথা নাই , ছাড়পত্র পরেও পাওয়া যায় । কিন্তু এইবার সমস্যা তৈরি করা হল । কেন ?

পয়েন্ট ৩ - বাংলাদেশ দলের প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে । দলের প্র্যাকটিসে সাকিব নেই , সাকিবকে লন্ডন থেকে ডেকে আনা হল । সব ঠিক আছে । এইবার প্রশ্ন - দলের প্র্যাকটিসে হেড কোচ কই ?
আপনি কি জানেন বাংলাদেশ দল কোচ ছাড়াই প্র্যাকটিস করছে ? একজন ট্রেইনার দলকে প্র্যাকটিস করাচ্ছে । বোলিং কোচও আমাদের প্র্যাকটিসে নেই । যেই কোচের জন্য এতো কিছু সেই কোচ বাংলাদেশেই নেই !! ওয়াট দ্যা ফাক

পয়েন্ট ৪ - বিপিএল এর সব আসর মিলিয়ে সব চেয়ে বেশী বিদেশি প্লেয়ার এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের । সিপিএল ওয়েস্ট ইন্ডিজের লীগ । তারা সাকিবকে আমন্ত্রন জানিয়েছিল । কমার্শিয়াল ট্রেড বলে একটি ইস্যু আছে । সাকিব কথা দিয়েও তাদের লিগে খেলতে পারে নাই । সাকিব ফিরে আসলো । লক্ষ্য করে দেখুন দুই টেস্ট প্লেয়িং দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নষ্টের সুচনা কিন্তু শুরু হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে । অন্যান্য দেশে আমাদের ভাবমূর্তি হল ক্ষুন্ন । এইভাবে ক্রমাগত অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে কেবল সাকিব না , চড়া মূল্য দিতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে । দিতে হবেই ।

পয়েন্ট ৫ - বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোন স্পেসিফিক ইশতেয়ার নেই যার ভিত্তিতে তারা কাজ করবে । বোর্ডে নেই বাঁধাধরা ম্যানেজার । একেক সিরিজে একেক জন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে । অথচ ম্যানেজারের সাথেই খেলোয়াড়দের সকল যোগাযোগ হয় , তাদের সুবিধা অসুবিধা তিনি লক্ষ্য করেন । বোর্ডের সাথে প্লেয়ারদের সম্পর্ক ভালো হয় এইভাবেই । কিন্তু আমাদের স্পেসিফিক ম্যানেজার রাখা হয় না । কিন্তু এই পোস্টের জন্য টাকা ঠিক ই বরাদ্দ রয়েছে ।

পয়েন্ট ৬ - দেশের বেশ কিছু প্রভাবশালি পত্রিকা , ইচ্ছাকৃত ভাবে সাকিব বিদ্বেষী সংবাদ শিরোনাম করেছে । কালেরকণ্ঠের " দেশ নয়, টাকা চাই সাকিবের " এমন ভয়ঙ্কর শিরোনাম উত্তেজিত করেছে মানুষকে । যা সাকিবের সাক্ষাৎকার থেকেই দেখা যায় তিনি সেটি বলেননি । তাহলে কিসের স্বার্থে ছোট একটি ইস্যুকে এতো বড় করে দেশের সামনে উপস্থাপন করলো আমাদের মিডিয়া । পিছনে কি কারো হাত আছে ?

পয়েন্ট ৭ -- মাঝে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলছিল । একেরপর এক জয় পাচ্ছিলাম । কিন্তু এখন ? এখন আমরা ক্রমাগত হেরে যাচ্ছি । টিম ক্রমাগত বাজে পারফর্মেন্স করছে । ভেঙ্গে পড়ছে আমাদের ক্রিকেট ।
যখন ই আমরা মাথা উচু করে দাড়াতে চাই , আমাদের ভেঙ্গে দেয়া হয় । একেবারে নয় । আমাদের ভাঙ্গা হয় কৌশলে , ধীরে ধীরে ।
রাজন সালেহ , আফতাব , অলক কাপালিদের যত্ন করবার বদলে দূরে সরিয়ে দেয়া হল । এইভাবে কালের ব্যবধানে আমরা হারিয়ে ফেললাম আশরাফুলের মতো ট্যালেন্ট । এইবার ধাক্কা আসলো সাকিবের উপর । সামনে হয়তো আরও আসবে ।

জানি না পিছনে কি চলছে । তবে এতো গুলো বিষয়ের উপর চোখ বুলালে সন্দেহ জাগে মনে । ক্রিকেটের জন্য বড্ড মায়া হয় ।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনার প্রত্যেকটা পয়েন্টের তথ্যই অসম্পূর্ণ, এবং সে অনুযায়ী নেয়া সিদ্ধান্তও ভুল।

পয়েন্ট -১: আকরাম সাকিবকে মৌখিক বা লিখিত কোনো ধরনের ছাড়পত্রই দেয় নি। তার তরফ থেকে সমস্যা নাই, কিন্তু এনওসি নিয়ে যেতে বলেছে। সাকিবের ফ্লাই করার আগে সরাসরি সাকিবকেও বিসিবি থেকে বলা হয়েছে এনওসি ছাড়া ফ্লাই না করতে।

পয়েন্ট-২: এটার উত্তরও ১ -এ আছে। ১লা জুলাই এনওসির জন্য অ্যাপলাই করেছে, ২রা জুলাই দেশ ত্যাগ করেছে। বিসিবি থেকে দেশ ত্যাগের আগেই সাকিবকে জানানো হয়েছে এনওসি ছাড়া যেন লীভ না করে।

পয়েন্ট-৩: প্র্যাকটিসে কোচ থাকবে, নাকি ট্রেনার থাকবে, সেটা প্র্যাকটিসের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাকিব কোচ কোটার লোক না, সে খেলোয়াড়। অন্য খেলোয়াড়ের থাকা, না থাকার সাথে তার সমীকরণ নির্ভর করে। কোচের সাথে না। কোচ ভার্সেস সাকিব, বা পাপন ভার্সেস সাকিব জাতীয় ভুল সমীকরণ গত কয়েকদিনে মিডিয়া ব্যাপকভাবে পুশ করেছে। এসব ভুল সমীকরণ চিন্তা থেকে ফিলটার করুন।

পয়েন্ট ৪: এটা আপনার অভিমত। কিন্তু ফ্যাক্ট হলো, সিপিএলের বিরুদ্ধে বিসিবির কোনো রাগ-মানাভিমান নেই। সুতরাং একজন খেলোয়াড়ের অপরাধের শাস্তি দেয়ায় পুরো ক্রিকেট বোর্ড বিলা হওয়ার কোনো চান্স নাই। সাকিব টপ লেভেলের আন্তর্জাতিক স্টার না। গেইল-পোলার্ডদের মতো তার ফ্যানবেইজ নাই। সুতরাং তার খেলা, না খেলার ওপর সিপিএলের সাফল্য নির্ভর করে না বললেই চলে। এ পয়েন্টে মূল কথা হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড যদি এটা নিয়ে বিসিবির সমালোচনা করে, তখন লাফ দিয়ে পইড়েন। আপাতত ঘোড়ার লাগাম একটু টেনেটুনে রাখেন।

পয়েন্ট ৫: ম্যানেজার পারমানেন্টলি থাকবে, নাকি সিরিজের ভিত্তিতে এটা বোর্ডের আভ্যন্তরীণ বিষয়। ফুলটাইম ম্যানেজরী করা লোক পাওয়াও কঠিন হতে পারে। সিরিজ ভিত্তিতে ম্যানেজার নিয়োগের ফলে কি সমস্যা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো "সুনির্দিষ্ট" তথ্য থাকলে দেন। পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়া এক্ষেত্রে থিওরি দাঁড় করানো যাবে না।

পয়েন্ট ৬: দেশের আরো বেশি প্রভাবশালী পত্রিকা সাকিব ইস্যুতে ছাগুমস্তিষ্কের সেবাও করেছে। কিসের স্বার্থে একটা ছোটো ইস্যুকে এতো বড়ো করে প্রচার করলো, এ প্রশ্ন আমারো! একজন খেলোয়াড় দলের নিয়ম ভঙ্গ করেছে, সে অনুযায়ী বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেল খতম!

অথচ এর বিপরীতে এই পত্রিকাগুলোই গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যাপারে ব্ল্যাকআউটে গেছে। আপনার জন্য একটা কুইজ: এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা কি? হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

জানি না পিছনে কি চলছে । তবে এতো গুলো বিষয়ের উপর চোখ বুলালে সন্দেহ জাগে মনে । ক্রিকেটের জন্য বড্ড মায়া হয় ।

ইন জেনারেল, যখনই কোনো বিষয়ে এরকম অনুভূতি হবে, তখনই বুঝবেন আপনি সেই টপিকে কারো না কারো প্রোপাগান্ডার কাস্টোমারে পরিণত হয়েছেন। হাসি

প্রোপাগান্ডার সিম্পটম হলো, আপনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাবেন না, সবসময় একটা ধোঁয়াশার ভিতরে থাকবেন। নিজের অজান্তেই হিপনোটাইজড হয়ে যাবেন। চোখকান খুলে মাথা খাটানো শুরু করলে প্রোপাগান্ডা মার খাবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

প্রোপাগান্ডার সিম্পটম হলো, আপনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাবেন না, সবসময় একটা ধোঁয়াশার ভিতরে থাকবেন। নিজের অজান্তেই হিপনোটাইজড হয়ে যাবেন। চোখকান খুলে মাথা খাটানো শুরু করলে প্রোপাগান্ডা মার খাবে।

চলুক চলুক চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কল্যাণ এর ছবি

খাঁটি কথা বলেছেন বলাইদা হাততালি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

রাজন সালেহ, আফতাব, অলক কাপালিদের যত্ন করবার বদলে দূরে সরিয়ে দেয়া হল। এইভাবে কালের ব্যবধানে আমরা হারিয়ে ফেললাম আশরাফুলের মতো ট্যালেন্ট।

রাজন সালেহ, আফতাব, অলক কাপালিদের কি প্রকারে যত্ন করা দরকার ছিল বলে মনে করেন, যার ব্যত্যয় ঘটেছে? কালের ব্যবধানে আশরাফুলের মতো ট্যালেন্টকে হারিয়ে ফেলার জন্যও কি আমরাই দায়ী নাকি? মর জ্বালা, কেউ গোপনে কারসাজি করলে, কেউ ঘুষ খাইলে, সেই দোষও কি আমাদের? তাহলে তো দেখা যায় বাংলাদেশে যেখানে যত অপরাধ সংঘটিত হয়, তার জন্য আমরাই দায়ী! অ্যাঁ

দেবাশীষ সাহা এর ছবি

"এইভাবে কালের ব্যবধানে আমরা হারিয়ে ফেললাম আশরাফুলের মতো ট্যালেন্ট "
মহাকালকে দোষ দেবার আগে আশরাফুলের ম্যাচ ফিক্সিং অপরাধকে আমলে নিলে হাহাকারটা কমত না?

অতিথি লেখক এর ছবি

মহাকালের ব্যবধানে স্পট ফিক্সিং এ আশরাফুলের পাশাপাশি সুজনের নামও যে হারিয়ে গেল সেটাও আমলে নিচ্ছি

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মহাকালের ব্যবধানে হারিয়ে যায় নাই, আকসুর তদন্তে যারা দোষী, তাদের শাস্তি হয়েছে। সুজন-পাইলট-রফিকরা দোষী না, তাই তারা শাস্তিতে পড়ে নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার কাছেও কি সলিড প্রুফ আছে যে সুজন ফিক্সিং এর সাথে জড়িত ছিল না??

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

প্রুফ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলার সিস্টেমকে "প্রোপাগান্ডা" বলে। কাউকে অপরাধী বলতে হলে অপরাধের প্রমাণ অভিযোগকারীকেই দাখিল করতে হয়। বেসিক।

আকসুর তদন্তে যারা দোষী, তাদের শাস্তি হয়েছে। সুজন-পাইলট-রফিকরা দোষী না, তাই তারা শাস্তিতে পড়ে নাই। সুতরাং ছাগু প্রোপাগান্ডা খাবেন না ও ছড়াবেন না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সত্যপীর এর ছবি

প্রিয় আবাল অতিথি, মনে করেন আমি অভিযোগ করলাম আপনি গত বছর গু খাইছিলেন। আপনি কি এইক্ষেত্রে সলিড প্রমাণ দেখাইতে পারবেন যে আপনি গু খাননাই? না, সেইভাবে ল কাজ করে না। এইক্ষেত্রে বার্ডেন অফ প্রুফ আমার, আমাকে প্রমাণ করতে হবে আপনি গত বছর গু খাইছিলেন। আমাকে লোক নিয়ে আসতে হবে যে আপনাকে গু খেতে দেখেছিল, সেই লোকের চরিত্র বাছাই করে দেখা হবে, সিসিটিভি ক্যামেরাতে আপনার গু খাওয়ার ছবি আছে কিনা দেখতে হবে, সেই ছবির লোক আপনি কিনা তাও যাচাই করতে হবে। এই সব প্রমাণ করার দায়িত্ব আমার অর্থাৎ অভিযোগকারীর।

এইখানেও তাই। বার্ডেন অফ প্রুফ আপনার, সুজনের নয়। সলিড প্রুফ আছে?

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অতিথি লেখক এর ছবি

পুরোপূরি সহমত।
এ এস এম আশিকুর রহমান অমিত

কল্যাণ এর ছবি

সিমন ভাই, আপনার লেখার উপসংহারে একমত হওয়া যাচ্ছে না। দোষ করলে শাস্তি পাওয়া উচিত। এখানে একজন খেলোয়াড়ের র‍্যাঙ্কিং এবং দলে তার প্রয়োজনীয়তার থেকে অপরাধের মাত্রা আর ফ্রিকোয়েন্সি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

এখন আসি সামনে বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপে সাকিবকে দরকার এই পয়েন্টে। আপনি নিজেই একটা পরিসংখ্যান দিয়েছেন সাকিবের খেলা না খেলার সাথে দলের জয় বা পরাজয়ের। এইটা ছাড়াও এই লিংকে দেখেন আইসিসি কি কয়। এই সূত্রানুযায়ী বাংলাদেশ দলের অবস্থাঃ
১। টেস্টে ১০ এর মধ্যে ১০ম,
২। ওয়ানডেতে ১২ এর মধ্যে নবম (দশম জিম্বাবুয়ে, একাদশ আফগানিস্থান, দ্বাদশ আয়ারল্যান্ড),
৩। টি-টোয়েন্টিতে ১৪ এর মধ্যে ১০ম (একাদশ নেদারল্যান্ড, দ্বাদশ আফগানিস্থান, ত্রয়দশ জিম্বাবুয়ে, চতুর্দশ স্কটল্যান্ড)

এই লিস্টের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আমরা বাংলাদেশী বলে আবেগের বশে দল মাথায় তুলে রাখছি। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ দল নিয়ে খুব বেশি আশা করার কোন স্কোপ দেখা যাচ্ছে না। আমাদের দলের যে ক্যালিবার সে অনুযায়ী দল তার আউটপুট দিচ্ছে এবং যেখানে থাকার কথা সেখানেই আছে। সাকিব থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের অবস্থার এমন কোন হেরফের হচ্ছে না। আসছে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ দল আহামরি কিছু করে ফেলবে না। অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের আয়-ইনকাম বনাম ব্যায় বনাম আউটপুট বেশ ইন্টারেস্টিং হওয়ার কথা।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।