“দিল্লী কা লাড্ডু” না খেয়ে পস্তাতে ষোলোর উপর বত্রিশ আনা রাজী ছিলাম আমি। এখনো ঐ সময়ের ঐ সঠিক উপলব্ধির জন্য নিজেকে “বিশিষ্ট জ্ঞানী” মনে করি। চঞ্চল যৌবনেও আমি দিব্য চোখে আমার বিবাহিত ভবিষ্যৎ কিভাবে যে দেখতে পেতাম তা মহান বিধাতাই জানেন। জ্ঞানী-ই ছিলাম বটে (এখন রেজিসটারড বেকুব)। পড়াশোনার ঘেরাটোপ শেষ করে করে একটা বড় নামকরা কোম্পানিতে মোটামুটি বেতনের চাকরী আমাকে আরও অনেক যুবার মত “এবার শুভ কাজ টা করার
অফিসের কাজে দিনাজপুর গিয়েছিলাম গত মাসের ১৩ তারিখ। প্রথমদিন গিয়েই খোঁজ নিলাম লিচুবাগানের। অফিসের পিয়ন বলল কাছেই দীঘণ নামক জায়গায় বাগান আছে। পরদিন সে ঐ বাগান থেকে প্রতিশত ২০০ টাকা দরে লিচুও কিনে নিয়ে আসল আমাদের খাওয়ানোর জন্য। এবারতো আর তর সয়না। যেতেই হবে বাগানে। অফিস শেষে বিকালে গেলাম। বাগানে ঢুকেই কিছু বলার আগেই গপাগপ লিচু মুখে পুরেই চোখ বন্ধ। সৈয়দ মুজতবা আলীর "রসগোল্লা" গল্পের কথা মনে পড়ে গেল-"ঠিক
যাচ্ছিলাম আম কিনতে। খবর পেয়েছি ফরমালিন মুক্ত আম এসেছে এক জায়গায়। যেতে যেতে ভয় পাচ্ছিলাম এতদিন বিষযুক্ত আম খেয়েছি, এখন বিষমুক্ত আম খেলে বদ হজম হবে কিনা। কিন্তু গিয়ে আমের দাম শুনে মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হলো। বিবেকের কাছ থেকে সমাধান এলো ওই দামের বিষমুক্ত আম খাওয়ার চেয়ে খানিকটা বিষ সয়ে নেয়া ভালো। শরীরের নাম মহাশয়, যতটুকু সওয়ানো যায়, ততটাই .....।
কুকুর আর বেড়ালের মাঝে যেভাবে শত্রুতা শুরু হল
এটা হচ্ছে ডেসপারেট ব্লগ। মাথার ভিতর অজস্র আইডিয়া গিজগিজ করছে, শুধু লিখতে গেলেই মগজে লোড শেডিং শুরু হয়, পাশাপাশি দুইটা নিউরনের মাঝেও কোন বৈদ্যুতিক সিগনাল আদান প্রদান হয় না। ধান গাছের সাথে মানুষ প্রজাতির হৃদয়স্পর্শী প্রতারণা, শেষ নিয়ান্ডারথাল মানুষের মনের অবস্থা, সাইফাইএর সাথে মোগল ইতিহাসের ঘুটা দিয়ে রম্য, নতুন টেলিস্কোপ কিনে তার সাহায্যে মহাকাশের ধারাভাষ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। ডিম্বাশয় পর্যন্ত পৌছাতে না পারা অজস্র শুক্রাণুর মতই আমার আইডিয়াগুলোর অকালমৃত্যু ঘটে চলেছে। তো কথা হচ্ছে, কোন রকমে ওয়ার্ডের দুইটা পৃষ্ঠা ভরাতে হবে। শুরু করা যাক।
এক ছিলো সাগরঘেরা দেশ, উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম যেদিকেই যে যাক না কেন পথ শেষ হয় নীল সমুদ্রের তীরে। দেশটা একটা বিরাট দ্বীপ।
সেই দেশে এক ছেলে ছিলো, লোকে তাকে ডাকতো বরণ বলে, তার বাবামা প্রয়াত, ভাইবোনেরাও সব নিজের নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। নিজের বাসায় একাই থাকতো বরণ, কাজকর্ম করতো সারাদিন, বিকাল থেকে সন্ধ্যে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতো, তারপরে পানভোজনশালা থেকে খেয়ে দেয়ে বাড়ী ফিরে ঘুমাতো।
[justify]
।।১।।
ইচ্ছে ছিল সচলায়তনের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটা লেখা দিব। বেশ কিছু লেখা শুরুও করেছিলাম। আশা ছিল কোনো একটা লেখা জুলাই মাসের এক তারিখের আগেই শেষ করতে পারব। কিন্তু লেখালেখি যেমন অভ্যাসের ব্যাপার ঠিক তেমনি লেখালিখি না করাও একই রকম অভ্যাসের ব্যাপার। কয়েক সপ্তাহ না লিখলে মনে হয় – কি দরকার আর এতো ঝামেলার? আর আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, লিখতে বসলেই ঘাড়ে ব্যথা শুরু হয়। অন্য সময়ে কম্পিউটারের সামনে বসলে কোনো সমস্যা হয় না, শুধু সচলের জন্য লিখতে গেলেই এই সমস্যা। এই বিষয়ে কৈরি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে মনে হয়।
গরু, নৌকা ভ্রমণ, আমার জীবনের লক্ষ্য, বনভোজন, সময়ের মূল্য, প্রিয় ঋতু এরকম আরও কত কি। এগুলো খায় নাকি মাথায় দেয় ? এমনটি মনে হবার কথা নয়, কারণ ছোটবেলায় এইসব রচনা কে পড়েন নাই একটু হাত তুলেন তো দেখি।
বাপ-দাদাদের মুখে শুনে আর পেপার পত্রিকা পড়ে জেনেছি আগের দিনে আবাহনী মোহামেডানের খেলা হলে নাকি সারা দেশে ফুটবলের অন্তত কিছুও যারা জানে তারা নাকি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেত। খেলার সপ্তাহখানেক আগে থেকে চায়ের টেবিলে, দোকানের বেঞ্চে, স্টেডিয়াম পাড়ায় চলত ম্যাচের গবেষনা আর ম্যাচের পর সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে চলত ম্যাচের পোস্টমর্টেম। এখনকার প্রজন্মের খুব কম ছেলেমেয়েই আছে যারা বাংলাদেশের ফুটবল তথা ঘরোয়া ফুটবলের কোন খোজখবর রাখে। জানি না সুদূর ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে কিনা যখন তরুন ছেলেমেয়েরা আদৌ বিশ্বাস করবে আমাদেরও একটা ফুটবল ঐতিহ্য ছিল এবং সালাহউদ্দিন, সালাম মুর্শেদী, আসলাম, কায়সার হামিদ, সাব্বিররা একেকজন এমন সেলিব্রেটি ফুটবলার ছিলেন যাদের খেলা দেখতে তো বটেই প্র্যাকটিস দেখার জন্য পর্যন্ত মাঠে ভীড় জমত।
আমি ফুটবলবোদ্ধা নই। আমি খুব সাধারন একজন ফুটবলপ্রেমী। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে দেশের ফুটবলের নিয়মিত খোজখবর রাখার চেষ্টা করি। আমার কাছে মনে হয় আমাদের ফুটবল একটা গন্ডি থেকে কেন যেন বের হতে পারছে না। দশ বছর আগে যে অবস্থায় ছিল এখন তার থেকে উন্নতি তো হয়নিই বরং আরো খারাপ হয়েছে। যদিও সেই ছোটবেলা থেকে হোমড়াচোমড়া কর্মকর্তাদের মুখে শুনে আসছি অচিরেই বাংলাদেশের ফুটবল এশীয় মানে পৌছাবে। আমি একজন খুব সাধারন দর্শক বা সমর্থক হিসেবে চিন্তা করি আমাদের ফুটবলের এই হাল কেন। খুব গভীর গবেষনায় না গিয়ে সাদামাটা কথায় আমি কিছু চিন্তাভাবনা তুলে ধরি। সচলায়তনে দেশের অনেক সমস্যা নিয়ে অনেক লেখা নিয়মিত আসে। সেই তুলনায় এই বিষয়টি সামান্য। তবে এটাও ঠিক যে খেলাধুলাই একমাত্র জিনিস যা আমাদের পুরো জাতিকে একসাথে হাসাতে পারে অথবা একসাথে কাঁদাতে পারে। আর আমাদের যে একটা ফুটবল ঐতিহ্য ছিল যা এখন মূমুর্ষ অবস্থায় আছে সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নাই।