ব্লগ হচ্ছে শ্বাস নেয়ার মত। অক্ষর-শব্দের ধ্যানের মত! দূষণহীন জঙ্গলে গিয়ে গেরিলা মায়ের পিঠে ঠেস দিয়ে জিরিয়ে নেয়ার মত!
মণিকা'দিকে বলেছিলাম তাঁকে একটা চিঠি লিখব। (হতে পারে বলেছিলাম, প্রেমপত্র লিখব। কিন্তু সে কী আর জনসমক্ষে স্বীকার করা উচিত হবে!)
রঙিন খামে সাদা কালো চিঠি
আমার খুব কাছের বন্ধুদের মিস করছি কয়েকদিন ধরে। কারো সাথেই আমার এখনকার পার্থিব দূরুত্ব হাজার কিলোমিটারের কম না। লেখাটা তাদের জন্য। আজকাল চিঠি লেখার চল উঠেই গেছে। তবু আমার মাঝে মাঝে চিঠি লিখতে ইচ্ছা হয়। সেই ইচ্ছাটাও একটা অনুঘটক।
কল্যাণীয়াসু,
একসময় আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিলো বাবার সাথে ছেলেদের কোন আবেগপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে পারে না। ভাবতাম গৃহ যদি হ্য় একটা রাজ্য, বাবার ভুমিকা সেখানে কখনো শাসনকর্তার, আর কখনো বা কোতোয়ালের। আর সন্তানেরা সেখানে যখন তখন শুধুই অপরাধী। কেবল পান থেকে চুন খসার অপেক্ষা।
হারিয়ে গিয়ে চিরদিনের থাকার খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলা পূর্বসুরীরা আমার,
জানি না কেন হঠাৎ তোমাদের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করল! খবরের কাগজগুলো তোমাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে থেকে থেকে, খবরে তোমাদের পুরনো ছবি, তোমাদের নিয়ে লেখা কেবল টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অনেক অনেক কঠিন সেই দিনগুলোতে, আমাদের সাধ্য কি তোমাদের মত করে ভাবতে পারি, বুঝতে পারি, দেখতে পারি? কেবল জানতে চাইতে পারি- তোমাদের কথা, তোমাদের হারিয়ে ফেলার কথা, তোমাদের ফিরে পাওয়ার কথা।
শুনেছি আপনজনেরা হারিয়ে যান না কখনো, ওঁরা ফিরে ফিরে আসেন। চলে গিয়েও। ফেলে যাওয়া আপনজনদের আড়াল থেকে চুপটি করে দেখে যান- ওদের খুশিতে ওঁরাও শান্তি পান, দুঃখে ওঁদেরও মন ভার হয়।
একটা চিঠি লিখতে ভীষণ ইচ্ছে করে।
আট প্রহরের কান্না-হাসির শব্দে সুরে,
কাঠপাথুরে শহরতলীর বৃষ্টি,রোদে,ধোঁয়ায়,ধুলোয়,
সাদায়-কালোয়,
আলোয় কিংবা অন্ধকারে ...
একটা চিঠি লিখতে ভীষণ ইচ্ছে করে।
সেই চিঠিটা পৌছে যাবে তোর জানালায় -
যখন আমার ধূসর আকাশ লাটাই বিহীন একটা সাদা ঘুড়ির শোকে নীল হয়ে যায়,
যখন আমার পাতার মত সবুজ বুকে কয়েক বিন্দু আষাঢ়-শ্রাবণ,
যখন আমার একটা দু'টো বিষণ্ণতার আলতো কাঁপন -
[justify]জীবনের প্রথম চিঠিটা পেয়েছিলাম যখন ক্লাস ফোরে পড়ি। ঠিক পেয়েছিলাম বলা উচিত না। চিঠিটা আমার শ্রদ্ধেয় ছোট মামাজানের হাতে পড়েছিলো, তিনি সেই সময় বিশেষ ক্ষমতাবলে আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। তো যাই হোক, পাড়ার একটা ছেলের কোন কারণে আমার মত ডানপিটে বান্দর মেয়েটাকে খুব মনে ধরেছিলো কেন যেনো। বলার সাহস না পেয়ে, একদিন মেলা সাহস করে একখান একপাতার চিঠি লিখে বসে। তারপর দুরুদুরু বুকে ছুড়ে দিয়েছিলো আমাদের
নীলিমা,
অনেক দিন পর আজ আবার তোমায় চিঠি লখতে ইচ্ছে হলো।
আজ একটি বিশেষ দিন। গুছিয়ে তোমাকে চিঠি লেখা কেমন জানি কঠিন হয়ে ঠেকছে।
প্রথম প্রথম তোমায় কিছু লিখতে গেলে সব কিছু কেমন এলোমেলো হয়ে যেত।
খেই হারিয়ে ফেলতাম আমি। অনুভূতির ব্যাকরণগুলো কেমন বিব্রত দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থাকত।
সত্যি বলতে কি - আজো আমি অবিকল আগের মতই। তোমার ভাষায় - 'একদম ছেলেমানুষ তুমি' !
[justify]আসলে সব দোষ আয়নামতির। তিনি কি মনে করে জাগে সকাল, হাঁকেনা হরকরা, আসেনা চিঠি! লিখলেন আর পুরোনো অনেক কথাগুলো মনে করিয়ে দিলেন। অনেক খেঁটেখুটে তিনি লিখেছেন, পড়লেই বোঝা যায়। খাটুনি কি আমরাও কম খেটেছি সেই স্কুলজীবন থেকে!