(ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ হয়ে উঠুক ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর ঈদের অবসরে সময় কাটাতে আপনাদের জন্য রইলো গ্রীক মিথলজির ২১তম পর্ব। এপোলো এবং আর্টেমিসের জন্মকাহিনী নিয়ে এই পর্ব।)
স্মৃতিকাতর হলেও খুব যে অসুখী আমি এমন নয়,
যে শহরের গন্ধ বিশ বছর গায়ে মেখেছি,
যে বড় নদীটাকে ক্রমশঃ সরু হয়ে যেতে দেখেছি
যে ভোরগুলো হাজার শব্দ নিয়ে জেগে উঠে
অলিগলিগলিসন্ধির ভেতর হারিয়ে গিয়ে দুপুর বিকেল রাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ত
যে বন্ধুদের ডাক হৃদয়ের গোপন দরজার চাবির মত কাজ করত
আজকাল তাদের আর আশেপাশে দেখিনা বলে খুব যে অসুখ করে আমার এমন নয়,
যে শহরের আকাশে শুধু কাক আর চিল ওড়ে সেখানে থাকি না বলে

অক্টোবরের কিছু আগে থেকেই, ইউএসএর লোকজনের মাঝে হ্যালোইনের আছড় পড়া শুরু করে। এর জন্য অবশ্য দোকানওয়ালাদেরই কৃতিত্ব(!) বেশি। এরা সব উৎসবের একটু বেশি অনেক আগে থেকেই এমনভাবে সবকিছু বাড়াবাড়ি রকম প্রোমোট করা শুরু করে যেন, মনে হয় আর দিন কয়েক বাকি আছে, এক্ষুণি কেনা-কাটা শুরু করা দরকার।
বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চার গুরুত্ব বলে বোঝানো সম্ভব নয়। শুধু মাতৃভাষার কারনে বিজ্ঞান বুঝতে আমাদের সুবিধা হওয়ার জন্যই নয়; বরং দেশের শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানমুখী করে তোলার জন্য, বিজ্ঞানকে মাতৃভাষায় চিন্তা করার জন্য বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা প্রয়োজন। হ্যাঁ, আমরা যখন চিন্তা করি সেটা যেকোন একটা ভাষায় করি। মনে করেন, আমি মাধ্যাকর্ষণ বল নিয়ে চিন্তা করছি, এখন নিউটনের পরীক্ষাকে বাংলাভাষায় পড়লে আমি সেটা নিয়
দেব-দেবীদের কাছ থেকে মানবেরা যেমন অনেক সাহায্য পেয়েছেন, আবার ঠিক তেমনি কোনো কোনো কারণে তাদের ক্রোধেরও শিকার হয়েছেন। দেবী আফ্রোদিতি প্রেমের আর ভালোবাসার দেবী হলেও, সবসময় মানুষকে ভালোবাসা বিলোতে পারেন নি। কখনো কখনো কেউ কেউ তার প্রতিহিংসা বা ক্রোধের শিকার হয়েছেন। যেমন হয়েছিলেন সাইপ্রাস দ্বীপের প্রোপেওটাসের সুন্দরী কন্যারা। তারা দেবী আফ্রোদিতির পুজা – অর্চনা বন্ধ করে দিলে দেবী তাদেরকে চকমকি পাথরে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত লেমনস দ্বীপের নারীদের দিয়েছিলেন অন্যরকম এক অদ্ভুত শাস্তি।
ফাঁকিবাজি জিনিসটা যে একটা আর্ট সেটা প্রথম দেখি মোস্তাফিজের কাছে। মোস্তাফিজ ক্লাস নাইনে আমাদের ফার্স্টবয় ছিল। ফার্স্টবয়দের কাছ থেকে আমি সবসময় দূরত্ব বজায় রাখলেও মোস্তাফিজ ছিল ব্যতিক্রম। কারণ মোস্তাফিজই প্রথম দেখা ফার্স্ট বয় যে ফার্স্ট বেঞ্চে বসে পাটিগনিতের নীচে 'মাসুদ রানা' রেখে নির্বিকার চেহারায় ফজলু স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতো। আমাদের ফাঁকিবাজির প্রতিভা থাকলেও মুস্তাফিজের মতো দুর্লভ সাহস ছিল না বলে বসার জন্য পছন্দ ছিল দ্বিতীয় বা তৃতীয় বেঞ্চ। বুঝতেই পারছেন কর্মজীবনেও মোস্তাফিজ আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এখনো কি সে প্রথম শ্রেণীর ফাঁকিবাজি চালাচ্ছে? জানি না।
গান ছাড়া এই জীবন অচল সব প্রহরে। সেই ছেলেবেলা কোথায় কবে শব্দের আবাহনে সুর-তাল-লয়-ছন্দ সমস্বরে এসে জীবনটাকে এইভাবে বেধে ফেলেছে জানা নেই, জানা নেই গান বিচ্যুত সময়গুলো’তে আসলে কতটা ভাল থাকি, কিন্তু এতোটুকু বুঝি গান ছাড়া এই জীবন অচল যখন-তখন!

গ্রীক মিথলজি ১৮ (ভালোবাসার গল্প- কিউপিড এবং সাইকী- প্রথম পর্ব) অনুযায়ী সাইকীকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভয়ংকর দানবের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য (শিল্পী- এডওয়ার্ড বার্নে জোন্স, ১৮৯৫ সাল)
পূর্বের পর্বের পর--
সকালে অফিসে আসার আগে চা খেতে খেতে দশ মিনিট টিভির নিউজলাইনে চোখ বুলাই। ২৪ ঘন্টার মধ্যে টিভি জিনিসটার সাথে এটাই আমার একমাত্র যোগাযোগ।
আজ সকালে চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে এটিএন বাংলায় আটকে গেলাম অচিন এক ভদ্রলোকের গর্জিত ভাষণে। নিউইয়র্কের হিলটন হোটেল থেকে লাইভ সম্প্রচার চলছে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাযুক্ত টাই পরে সেই ভদ্রলোকের বক্তৃতা গর্জন। সামনে মাইক থাকলেও রাজনৈতিক ভাষণগুলো কেন যেন গলা, কান ও গগন বিদারী হয়। এই ভদ্রলোকের চেহারা দেখে আমাদের পাড়ার খুইল্লা মিয়ার কথা মনে পড়লো। ইলেকশানের আগে তার গলায়ও অসুরের শক্তি ভর করতো।