ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

আল মাহমুদকে কি মুক্তিযোদ্ধা কবি বলা যায় ?


লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০১:৫৫)
ক্যাটেগরী: | |

প্রসঙ্গ উঠেছিল হাসান মোরশেদের একটি পোস্টে শামসুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ কেন ?এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে হাসান মোরশেদ এক জায়গায় লিখেছিলেন -রাহমানের সমালোচনা করে কেউ কেউ মনে করিয়ে দিতে ভুলেননা আল মাহমুদ কিন্তু অস্ত্রহাতে মুক্তিযোদ্ধা ।
তিনি আমার কথার প্রসঙ্গে আরো মন্তব্য করেন -এমন ও প্রচার করা হয়, এই হুজুরই নাকি 'একমাত্র' কবি যিনি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন, বাকী বদমাশগুলো কলকাতায় বসে মদ আর মাগীবাজী করেছে ।

আমি তখন বলি -এই বিষয়টি নিয়ে আমার কৌতুহল আছে ।আজ পর্যন্ত কোথাও পেলাম না যে উনি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন ।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌যাই হোক , একটু সময় পেলে বিষয়টি ঘেটে দেখব ।
হাসান মোরশেদ খুঁচিয়ে দেন -ঘাঁটানো দরকার ।

কারো চরিত্র চিত্রন আমার উদ্দেশ্য নয় । আল মাহমুদকে আমি খুবই শক্তিমান কবি হিসেবে মানি , তার রাজনৈতিক দূ:খজনক বিবর্তন সত্ত্বেও যে কয়জন কবি আমাদের সময়কে প্রতিনিধিত্ব করবেন , তাদের মাঝে আল মাহমুদের নাম প্রথম সারিতেই রাখতে হবে । যদিও তার ইদানিংকার মোনাজাত জাতীয় কবিতা পাঠক হিসেবে আমার পছন্দের তালিকায় নেই , তারা সাম্প্রতিক কবিতার বইটি আমি ফেলে দিয়েছি , তবু তার আগের লেখাগুলোর কারনেই তার অবস্থান আমার মনে অনেক উচ্চ আসনে রয়েছে ।

আল মাহমুদের কাব্য বিচারের সাধ বা সাধ্য কোনটাই আমার নেই । আমি শুধু তার মুগ্ধ পাঠক ।

কিন্তু জটিলতা সৃষ্ঠি হয় যখন তার রাজনৈতিক অবস্থানটি আলাদা ভাবে আমাদের বিচার্য হয়ে ওঠে । সেই জায়গায় আল মাহমুদ আমার প্রতিপক্ষ দলে অবস্থান করেন ।
তাই যখন আমার প্রতিপক্ষ দল গর্বের সাথে বলে - দেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কবি তাদের শিবিরে অবস্থান করেন , তখন আমি হতাশ হয়ে পড়ি । শামসুর রাহমান কেন নিজের গ্রামে বসে ''স্বাধীনতা তুমি '' কবিতাটি ছদ্মনামে লিখে সেটা স্বাধীন বাংলা বেতারে পাঠিয়ে দায় সারলেন , তিনি কেন আল মাহমুদের মতো সশস্ত্র হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেন না , সেটা নিয়ে আফসোস করতে থাকি ।
কিন্তু বহুদিন ধরেই আমি কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না আল মাহমুদ কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন । হাসান মোরশেদের '' ঘাটানো দরকার'' মন্তব্যটি আবার আমাকে খুঁচিয়ে তুলে ।
গত কয়দিন ধরে কিছু বই ঘাটাঘাটি করছিলাম ।কিন্তু কোথাও এই বিষয়ে কিছু পেলাম না ।

আজ এক কাজিনের বই আলমারিতে অন্য একটি বই খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গেলাম স্বয়ং আলমাহমুদের আত্মজীবনী । বইটির নাম ''বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ ।" প্রকাশক : একুশে বাংলা ।

আসুন , সেখান থেকে কিছু অংশ পড়া যাক :

৭১ সালে ভারত পাড়ি দেয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে কবি জানাচ্ছেন :

'' আমার ভগ্নিপতি পার্বত্য চট্টগ্রামের ডিসি হোসেন তৌফিক ইমাম সেখান থেকে সপরিবারে আরগতালায় পৌছেছেন । ....জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছিলাম । এ পরিস্থিতিতে নারায়ণপুরে আমি নিরাপদ ছিলাম না । মনে মনে দেশত্যাগ করে চলে যাওয়ার একটা আকাঙ্খাও জেগে উঠেছিল ।''

যাক , না না বিপর্যয় পেরিয়ে আল মাহমুদ অবশেষে কলকাতা পৌছান ।

তিনি সেখানে তৌফিক ইমামের বাসাতেই আশ্রয় নেন ।
তবে মুক্ত পরিবেশেও কবিকে বেশি সাহসী বলে মনে হচ্ছে না , কারন তিনি বলছেন :

"এখানে এসে উডস্ট্রিট থেকে আমি একদম বেরুতাম না । কারন অতি কৈশোরে আমার খানিকটা জানা থাকলেও ওই সময়ে তা আগের মতো থাকার কথা নয় । আমি ভয় পেতাম ঠিকমতো বাসায় এসে পৌছতে পারব না । "

অর্থাৎ কবি আসলে নিজের বাসায় ফেরার ব্যাপারেই বেশি কাতর ছিলেন দেখা যাচ্ছে ।

যদিও পরের প্যারায় উনি জানাচ্ছেন :
"আমি নয়মাস কলকাতায় অবস্থানকালে আমার প্রধান নেশাই ছিল কলকাতাকে জানা । এ ব্যাপারে যারা আমাকে সাহায করেছিলেন কলকাতার ওপর বই লিখেছেন সেই পুর্ণেন্দু পত্রী এবং কবিতা সিংঞের মেয়ে রাজেশ্বরী রায় চৌধুরী ।"

অর্থাৎ , কবি নয়মাস কলকাতাতেই ছিলেন এবং পূর্ণেন্দু পত্রী আর রাজেশ্বরী রায়ের সাথে কলকাতাকে জানতেই তার সময়টি ব্যয় হয়েছে । দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কলকাতাকে জানাটা যদি কবির কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় , তাহলে তাকে আর যাই হোক মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিলিয়ে ফেলাটা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয় ।

তারপর কবি বিভিন্ন বর্ণনায় জানাচ্ছেন , তাকে পেয়ে কলকাতার কবিকূল কেমন খুশী হয়েছিলেন । এই পর্যায়ে আমাদের গৌরবান্বিত হওয়ার অনেক তথ্যই আছে ।

কিন্তু যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো কথা ,সেখানে কবির ভুমিকা কী ?

"ততদিনে আমার ভগ্নীপতি প্রবাসে বাংলাদেশ সরকারের সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহন করেছেন । আমি তখনো তার সঙ্গেই আছি । এর মধ্যে আমার দায়িত্ব বেড়ে গেল । "

কী সেই দায়িত্ব , সেটা জানতে হলে পড়তে হবে পরের লাইনটি ।

" বিভিন্ন পত্রিকায় আমার সমর্থন একটু -আধটু সমর্থনসূচক প্রতিবেদন ছাপা হতে শুরু হয়েছে ।"

অর্থাৎ , কবি তখন আত্মপ্রেমে মগ্ন হয়ে সেই পত্রিকার কাটিং জোগাড় করে চলছেন ।
তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার সংযুক্তি কোথায় ?

আছে এর পরের লাইনে ।
উনি জানাচ্ছেন ,
" তা ছাড়া আট নম্বর থিয়েটার রোডে মুক্তিযুদ্ধের মূল অফিসের স্টাফ হিসেবে আমার নাম থাকায় আমি একটি পরিচয়পত্র পেয়ে গেলাম । এটা ছিল আমার জন্য একান্ত জরুরী । কারন তখন কলকাতায় চলাফেরা করার জন্য এই পরিচয়পত্রটি থাকা দরকার ছিল । "

এই পরিচয়পত্রটি নিয়ে উনি কী করেছেন ?
" আমাকে কেউ কোন নির্দিষ্ট দায়িত্ব না দিলেও আমি কলকাতার লেখক , শিল্পী , ও সাহিত্যিকদের মধ্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন যোগানোর কাজ করে চলছিলাম ।"

কলকাতার লেখক , শিল্পী , ও সাহিত্যিকগন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কেউ ছিলেন বলে জানা যায় নি কোনদিনই , তখনকার সময় বিবেচনা করলে ভারতবাসী কারো পক্ষেই এই বিরোধিতা করার কোন কারনই নেই । তাছাড়া কোথাও সেই ধরনের মটিভেশনে আল মাহমুদ কিছু করেছেন বলে নিজেও দাবী করেন নি , বরং বিভিন্ন জায়গায় কবি সাহিত্যিকদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর অনেক বর্ণনা আছে । বলা বাহুল্য সেগুলো নিছকই কবি সাহিত্যিকদের চিরন্তন আড্ডাবাজী , সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কোন বিষয়ই নেই ।

শামসুর রাহমান যখন অবরুদ্ধ দেশে থেকেও ছদ্মনামে স্বাধীনতার কবিতা লিখে স্বাধীন বাংলা বেতারে পাঠাচ্ছেন , অসংখ্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক কর্মী যখন স্বাধীন বাংলা বেতারকে মুখর করে রেখেছেন , কবি আলমাহমুদ তখন স্বাধীন বাংলা বেতারে কী করছেন , দেখা যাক :

"এ সময় আমি মাঝে মধ্যে বালুহাককাক লেনের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অফিসে হাজিরা দিতে যেতাম । কিন্তু রেডিওতে অংশগহন করিনি । কারন আমার পরিবার-পরিজন তখনো বাংলাদেশে অনিশ্চিত অবস্থঅয় কাল কাটাচ্ছিল এবং পরিবার পরিজনের কোন খবরই আমার জানা ছিল না । "

কবি আল মাহমুদের সাহস বোঝা যায় এখানে ।

কবি কি তখন কিছু লিখছেন না ? লিখছেন ।
তিনি জানাচ্ছেন , আনন্দবাজার রবিবাসরীয় বিভাগে তখন তিনি ''প্রকৃতি '' কবিতাটি লিখেছেন । প্রকৃতি কবিতাটি আমার পঠিত বলে স্মরণ আসছে না , তাই মন্তব্য করছি না , তবে কবিতার নাম দেখে সেটিকে যুদ্ধের সাথে সংশ্রব আছে , এমন কোন কবিতা বলে মনে হচ্ছে না ।

এসময় কবি কলকাতা থেকে তার কাব্যগ্রন্থ বের করার চেষ্টা করেন এবং সফল হোন । সেটি '' আল মাহমুদের কবিতা '' শিরোনামে অরুণা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় । সেখানে যুদ্ধের কোন কবিতা ছিল বলে কবি দাবী করেন নি ।

বরং তিনি এক বস্তিবাসী যুবতীর ঘরে নিরীহ রাত যাপন করেছেন বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন , তাছাড়া পূর্বে উল্লেখিত রাজেশ্বরী রায় চৌধুরীর সাথে তার ঘনিষ্ট ঘুরাফেরা কানাঘুষার জন্ম দেয় বলেও ইঙিত পাই আমরা ।

কবি তখন নিজেকে নিয়েই মগন ছিলেন ।

"এ সময় আমার মানসিকতায় একটু শৈথিল্য দেখা দিয়েছিল ,কেমন যেন গা ছাড়া ভাব । আমি মনে প্রানে আল্লাহর কাছে যৌন সংযম প্রার্থনা করতাম ।"

কারন , কবির সনেটন নিয়ে একটি মিনিবুক প্রকাশিত হয়েছিল , সোনালি কাবিনের সেই কবিতাগুলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রী তাদের ব্লাউজের ভেতর রাখত বলে কবি খুবই আনন্দিত হয়েছিলেন ।

কবির এই ঘুরাফেরা যে অনেকেরই পছন্দ হয় নি , সেটা বুঝা যায় যখন কবি আরো জানান :

" এর মধ্য একদিন হঠাৎ একটি পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে একটি প্রবন্ধ ছাপা হলো । তারা লিখেছেন , আমি নাকি ভিআইপিদের মতো পোশাক পরে কফি হাউসে ঘুরে বেড়াই ।"

কবি অবশ্য এগুলোকে নকশালপন্থী লেখকদের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছেন তার বইয়ে ।

শেষ কথা :

কবির আত্মজীবনী পড়ার পরে আর অন্যান্য বইয়ের রেফারেন্স টানার দরকার মনে করছি না ।
৭১ সালে কবি কী করেছেন , কী করেন নি , সেটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার ।

কিন্তু সার্বিক বিচার করে মনে হচ্ছে কবি আল মাহমুদ আসলে প্রভাবশালী ভগ্নীপতির ছত্রছায়ায় কলকাতার জীবনে খুবই আরামে ছিলেন । ভগ্নিপতি তাকে একটি আইডি কার্ড ধরিয়ে দিয়েছিলেন , মুক্তিযুদ্ধের সাথে এটাই কবির প্রত্যক্ষ যোগাযোগের বড় পরিচয় ।
দেখা যাচ্ছে , আত্মীয় স্বজন মামা চাচার জোরের বিষয়টা বাংলাদেশ সরকার গঠিত হওয়ার সাথে একই সময়েই জন্ম নিয়েছিল ।

কবি আল মাহমুদকে যদি মুক্তিযোদ্ধা কবি বলা হয় , তাহলে জামাতিদের " মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ"কেও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন হিসেবে মেনে নিতে হবে , এটাই আমার মনে হচ্ছে ।


গড় রেটিং
(১২ ভোট)
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০১:৫৫)
উদ্ধৃতি | আরিফ জেবতিক এর ব্লগ | ৪৭টি মন্তব্য | ৬৭২বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, আরিফ জেবতিক. Sachalayatan.com can not be held responsible.

মাসুদা ভাট্টি এর ছবি
১ | মাসুদা ভাট্টি | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০২:৫৫

আরিফ
আজই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে কবিতা উৎসবে আমন্ত্রিত কবি বেলাল চৌধুরী এবং রফিক আজাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো, রফিক আজাদ চুপচাপ হাসলেন, আর বেলাল চৌধুরী, স্পষ্ট এবং অতি স্পষ্ট করেই বললেন, আল-মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধের গোটা সময়টা কাটিয়েছেন কোলকাতার এগলি-ওগলিতে 'বাবুয়ানি' করে, কোলকাতা শহরে কোনও পরিব্রাজকও হয়তো ওভাবে শহর পরিভ্রমণ করেন না, যা কিনা উনি করেছেন, দেশ ও জাতির ওই ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে।
এখানে অবশ্য কবি আল-মাহমুদকে সৎই বলতে হবে কেননা তিনি আত্মজীবনীতে কোথাও বলেননি যে, তিনি সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা সাজার এবং মুক্তিযুদ্ধকে দখল করার কৌশল হিসেবে কবিকেও যেমন ওরা ক্রয় করেছে তেমনই তার হাতে অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা সাজানোর কৃতিত্বও তাদেরই।

আসুন না আপনাদের মধ্যে থেকে কেউ একজন গিয়ে কবিকেই একদিন সরাসরি এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন, দেখুন না উনি কি সত্যি কথা বলেন না, তাকে সাজঘরে যা সাজানো হয়েছে সেই ভূমিকার কথাই বলেন?

ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।


আরিফ জেবতিক এর ছবি
১.১ | আরিফ জেবতিক | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৩:০৫

কবির সততা নি:সন্দেহে প্রশংসা যোগ্য । তবে একটা কথা আছে । এখানে ইচ্ছে করলেই বোধহয় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি বলারও কোন উপায় নেই ,বিশেষ করে ৯ মাস কলকাতায় থাকা অবস্থায় । সেই সময়ের অনেকেই এখনও
জীবিত ।

কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয় বিভিন্ন স্থানে , তার প্রতিবাদেও উনি কিছু বলেছেন বলে নজরে পড়েনি কখনো ।

পুরো বইটি পড়েছি একটু আগে । বলতে হবে তার আত্মজীবনী আমাকে হতাশ করেছে ।
যতোই শোভন বাংলায় লিখেন না কেন , তার মাঝে একধরনের হিংসুটে ঈর্ষাকাতরতা পাওয়া যায় পুরো বই জুড়ে ।

একটা বয়েসের পরে বোধহয় সবারই লেখালেখি বাদ দেয়া ভাল , এই উপলব্ধিটা আজই প্রথম হলো আমার ।

তিনি ভালো থাকুন , এই প্রার্থনা করি ।

-----------------------------
কালের ইতিহাসের পাতা
সবাইকে কি দেন বিধাতা?
আমি লিখি সত্য যা তা,
রাজার ভয়ে গীত ভনি না।


রণদীপম বসু এর ছবি
১.১.১ | রণদীপম বসু | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৪:৪৪

হা হা হা ! ঠিক জায়গাটাতেই নক করলেন আপনি।

উদ্ধৃতি
কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয় বিভিন্ন স্থানে , তার প্রতিবাদেও উনি কিছু বলেছেন বলে নজরে পড়েনি কখনো ।

প্রতিবাদে কিছু না বললেও সপক্ষে বলেছেন তিনি অবশ্যই। বিভিন্ন আলোচনা সভায় যা বলেন তা যেহেতু মৌখিক বক্তব্য, এর কোন লিখিত প্রমাণ নেই, তাই এদিকে না গিয়ে বরং কিছু লিখিত প্রমাণ উপস্থাপন করি।
আপনার লেখাটা পড়েই আমি বুক সেলফ ঘেঁটে যে বইটা সামনে নিয়ে বসেছি, এর নাম,‌ 'সাক্ষাৎকার আল মাহমুদ, সাজ্জাদ বিপ্লব সম্পাদিত'। বইটির প্রকাশক বিখ্যাত প্রকাশনা 'ঐতিহ্য'। প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৩।
বইয়ের পাঁচ নম্বর সাক্ষাৎকারটিতে একটি প্রশ্ন রয়েছে ৫৬ পৃষ্ঠায়, মুক্তিযুদ্ধের মেতা ইতিহাসের একটা নির্ণায়ক ঘটনা, আমাদের কথাসাহিত্যে কতটা যথাযথভাবে রূপায়িত হয়েছে ? তাঁর দীর্ঘ উত্তরের এক জায়গায় বলছেন তিনি-
'...আমি আগেই বলেছি এদেশের প্রধান লেখকগণের প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের কোন অভিজ্ঞতা নেই। হাতে গোনা যে দু'একজন কবি মুক্তিযুদ্ধে সামিল হতে ঢাকা ছেড়ে শেষপর্যন্ত কলকাতায় গিয়ে পৌঁছেন এবং যুদ্ধের প্রোপাগান্ডায় সাধ্যমত অবদান রাখেন তাদের একজন আমি নিজে। স্বধর্ম এবং স্বদেশের সার্বভৌমত্বে আস্থা উঠে যায়নি বলে আমাকে আখ্যায়িত করা হয় মৌলবাদী বলে। এ পরিবেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর কালজয়ী রচনা কার হাত থেকে বেরুবে বলে আশা করেন।...'
আট নম্বর সাক্ষাৎকারের একটি প্রশ্ন এরকম, একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আপনার এ সংক্রান্ত কবিতা কম। অন্যদিকে অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও প্রচুর কবিতা লিখে অনেকেই বাজিমাত করেছেন বা করতে চেয়েছেন। আপনার এ ব্যাপারে কী কথা ?(পৃষ্ঠা ৮২)
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধের ভেতরটা আমি দেখেছি। যুদ্ধের সময় উদ্দীপিত হয়ে দু'য়েকটি কবিতাও লিখেছি। পরে এ নিয়ে কবিতা লিখতে না পারলেও উপন্যাস লিখেছি। আমার কবিতা হোক বা গদ্যই হোক যা কিছু মুক্তিযুদ্ধের ওপর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি। যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত একটা নিষ্ঠুর ব্যাপার। কবি হৃদয় সর্বক্ষণ এ নিয়েই পড়ে থাকতে পারে না। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আমার পরিবার পরিজনের অপরিসীম ক্ষতি হয়েছে। যে মামুদের খেয়েপরে আমি মানুষ হয়েছি সেই মামু বাড়ির বিশাল ইমারতটি পর্যন্ত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। সবই আমার কৈশোরের স্মৃতির সাথে জড়িত। স্মৃতির সমস্ত সঞ্চয় মুক্তিযুদ্ধে উলট-পালট হয়ে গেছে।......এসব আমার কাছে সুখকর বিষয় নয় যে বারবার কবিতা লিখে স্মরণ করবো। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় আমাদের সপক্ষের লোকদের একটি অংশের যে কাপুরুষের মত আচরণ দেখেছি এখন তা মনে হলেই মনমরা হয়ে যাই। আজকাল দেখি সেইসব কাপুরুষের হাতেই মুক্তিযুদ্ধের সবটুকু সুফল। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধী লেখকরাই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার সেজেছে দেখে নিজের কবি জীবনের ওপর ধিক্কার এসে গেছে। আমি কোনো ব্যাপারেই বাজিমাত করার লেখক নই।
নয় নম্বরের সাক্ষাৎকারের একটি প্রশ্ন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়টাতে সরকারি পক্ষের সাথে আপনি একটা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। '১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের যেসব লোক ঘরে কবরের কাপড় কিনে রেখেছিল আপনি তাদেরই একজন'। আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তবুও, কেন এমন হল ? (পৃষ্ঠা ৮৬)
উত্তর: ........মনে রাখতে হবে আমি রাজনীতিক নই, কবি। আমি মুক্তিযোদ্ধা বলে আগে থেকেই জনতাম একদিন নকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাপটে এদেশে টেকা যাবে না। ১৯৭৫ সালটা ছিল নকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিষ্ঠার বছর। ....

বইটি ভালো ভাবে খুঁজলে আরো তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপরেও কি তাঁর নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবীতে কোন সন্দেহ আছে ? মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে করেছেন তিনি এটা তো আপনিই তার আত্মজীবনী থেকে দেখালেন। তাহলে একাত্তরে যারা প্রাণভয়ে আশ্রয় নিতে ভারতে পালিয়েছে বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে, তাদের কষ্টতো মাহমুদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল, তারাও কি মুক্তিযোদ্ধা ?
আল মাহমুদ আমার প্রিয় কবি একজন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। এখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা, এবং জামাতিদেরটাই আসল 'মুত্তিযোদ্ধা পরিষদ' !


আরিফ জেবতিক এর ছবি
১.১.১.১ | আরিফ জেবতিক | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ১৬:৩৫

মূল্যবান সংযুক্তির জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ।

-----------------------------
কালের ইতিহাসের পাতা
সবাইকে কি দেন বিধাতা?
আমি লিখি সত্য যা তা,
রাজার ভয়ে গীত ভনি না।


অমিত আহমেদ এর ছবি
২ | অমিত আহমেদ | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৪:১৫

রানা মেহের এর ছবি
৩ | রানা মেহের | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৫:১১

Cant writein Bangla.
God knows why.
Just logged in to say
very very very much well done Arif Bhaiya
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস


আরিফ জেবতিক এর ছবি
৩.১ | আরিফ জেবতিক | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ১৬:৪১

হ, লন্ডন থাকলে বাংলা লেখা ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক ।
এজন্যই রানা মেহেরের কোন লেখা চোখে পড়ে না আজকাল ।:)

-----------------------------
কালের ইতিহাসের পাতা
সবাইকে কি দেন বিধাতা?
আমি লিখি সত্য যা তা,
রাজার ভয়ে গীত ভনি না।


হাসান মোরশেদ এর ছবি
৪ | হাসান মোরশেদ | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৫:১২

দুর্দান্ত একটা কাজ হয়েছে আরিফ ।
আল-মাহমুদ বাংলাদেশের একমাত্র অস্ত্রহাতে মুক্তিযোদ্ধা এই গর্জন তুলতে যারা আগ্রহ বোধ করেন, এই পোষ্টে তাদের মতামত জানতে পারলে ভালো হতো ।
এবার দেখা যাচ্ছে একমাত্র তো নয়ই, মিয়া সাহেব আদৌ অস্ত্র হাতে কোন মুক্তিযোদ্ধাই নয় ।

এই পোষ্ট সকলের সংরক্ষনে থাকা দরকার ।
যখন যেখানে দেখবেন রাজাকারের ছানাপোনা আল-মাহমুদ কে নিয়ে গলাবাজি করছে লিংকটা দেখিয়ে দেবেন ।

-------------------------------------
"শিয়রের কাছে কেনো এতো নীল জল? "


অনিকেত এর ছবি
৫ | অনিকেত | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৬:১৩

আরিফ ভাই,

লক্ষ কোটি পাঁচ তারা---এ লেখার জন্য।

আর আল মাহমুদ প্রসঙ্গে---

আল মাহমুদ-ও একটা মুক্তিযোদ্ধা, আর তেলাপোকাও একটা পাখি !!

মতান্তরে, আল মাহমুদের মুক্তিযোদ্ধা সাজা আর লুঙ্গির ব্যাক-পকেট থাকা একই ব্যাপার।


১০

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি
৬ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৬:২৮

‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍মুক্তিযোদ্ধা তাহলে নয় আল মাহমুদ? আলহামদুলিল্লাহ!

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও। - হুমায়ুন আজাদ


১১

হিমু এর ছবি
৬.১ | হিমু | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৭:০৪

১২

হিমু এর ছবি
৭ | হিমু | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৭:০৪

আল্লাহর কাছে যৌন সঙ্গম চাইলে কি পাওয়া যায়? আল্লাহ কি এইসব আজেবাজে কাজে কোন মুমীনকে সহায়তা করেন? ছি ছি ছি।


হাঁটুপানির জলদস্যু


১৩

স্পর্শ এর ছবি
৭.১ | স্পর্শ | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ২২:৩২

হায় হায়!! পাউয়া যায়না নাকি? !!
তাইলে আমার কি হবে! মন খারাপ(
....................................................................................
অতঃপর ফুটে যাবার ঠিক আগে হীরক খন্ডটা বুঝলো, সে আসলে ছিল একটা মামুলি বুদবুদ!


১৪

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি
৮ | মুহম্মদ জুবায়ের | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৭:৪০

অস্ত্রহাতে একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কবি আল মাহমুদ - এই প্রচারণা সম্ভবত আশির দশক থেকে বা তার পরে শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ বা আল মাহমুদের নিজের বয়ানই সেই দাবি নাকচ করছে। অস্ত্র হাতে নেওয়া যোদ্ধা কবিদের মধ্যে ছিলেন রফিক আজাদ, আবু কায়সার, মাহবুব সাদিক এবং আরো অনেকে। আল মাহমুদের নাম সেখানে আসার কথাই নয়।

লেখাটার জন্যে ধন্যবাদ।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!


১৫

খাখা এর ছবি
৮.১ | খাখা (যাচাই করা হয়নি) | শুক্র, ২০০৮-০৯-১২ ১৬:১০

`অস্ত্রহাতে একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কবি আল মাহমুদ - এই প্রচারণা সম্ভবত আশির দশক থেকে বা তার পরে শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ বা আল মাহমুদের নিজের বয়ানই সেই দাবি নাকচ করছে। অস্ত্র হাতে নেওয়া যোদ্ধা কবিদের মধ্যে ছিলেন রফিক আজাদ, আবু কায়সার, মাহবুব সাদিক এবং আরো অনেকে। আল মাহমুদের নাম সেখানে আসার কথাই নয়।'
অস্ত্রহােত আল মহমুদ যুদ্ধ করেছেন, এইটা আমরা শুনি নাই। আমরা শুনেছি তিনি মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভারতে ছিলেন আর ভারতে কোনো রাজাকার ছিল না। এই অর্থে তিনি মুক্তিযোদ্ধা। এটা মেনে নিতে কারো আপত্তি ছিল না। আর তিনি সশস্ত্র যোদ্ধা_ এই তথ্য ঠিক নয়। কবি রফিক আজাদ (রফিকুল ইসলাম খান), কবি আবু কায়সার, কবি মাহবুব সাদিক (নুরুল আমিন খান), কবি আবিদ আনোয়ার (আবিদুর রহীম), মাহবুব হাসান-এরা ছিলেন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধ। এদের সকলের বাড়ি টাঙ্গাইল অঞ্চলে। তবে এদের দেখাদেখি সাজ্জাদ কাদির নামে আরেক লেখকও কয়েকবছর ধরে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধ পরিচচয় দিচ্ছে। অথচ সে ছিলো রাজাকার। একাত্তরের গোটা ৯ মাস সে পিস কমিটির অফিস ঘরে টুপি মাথায় দিয়ে বইসা থাকত। যুদ্ধশেষে কাদের বাহিনীর লোকেরা তাকে পা দিয়ে মাড়াইয়া মারতে গেছিল। যাতে গুলির দাম বেঁচে যায়। রফিক আজাদ আর মাহবুব সাদিক তাকে রক্ষা করে। এখন সে ওই দুই কবিবন্ধুকেই সহ্য করতে পারে না। এই ধরনের রাজকার থেকেও আমাদে;র সাবধান থাকা দরকার। আল মাহমুদ আর সাজ্জাদ কাদিরে মতো স্বঘোষিত ‌মুক্তিযোদ্ধা' থেকে সাবধান।


১৬

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি
৯ | নুরুজ্জামান মানিক | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৯:৩০

১। আল মাহমুদ শুধু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবিই করেননি , অযাচিতভাবে যারা ভারতে যান নি তাদের হেয় করেনও বিশেষত হাসান হাফিজুর রহমান বা শামসুর রাহমান কে ।
দেখুন কাজি জহিরুল ইসলামের নেয়া আল মাহমুদের ইন্টারভিউ

কবি তপন বাগচির প্রতিক্রিয়া আছে ।এখানে
২। কবি রফিক আজাদ , মাহবুব সাদিক দেশের ভিতর থেকে যু্দ্ধ করেছেন কাদেরিয়া বাহিনীতে । কবি ফরহাদ মজহার , আবিদ আনোয়ার প্রমুখ ভারতে পাড়ি দেন এবং যুদ্ধে অংশ নেন ।

আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া প্রসগে কবি আবিদ আনোয়ার
বলেন -

উদ্ধৃতি
কবি আল মাহমুদ ভারতে গিয়েছিলেন সত্যি, কিন্তু আমার জানামতে সেখানে এমন কোনো কাজ করেন
নি, যাতে তাকে "মুক্তিযোদ্ধা" বলা যায়। আমাদের মতো সরাসরি যুদ্ধ না-করলেও যারা অন্তত শরণার্থী শিবিরে নানা দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, এমনকী এম আর আকতার মুকুলের মত যেসব
সাংবাদিক স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও প্রচার করেছেন, খবর পড়েছেন, কিংবা যারা শিল্পী হিসেবে উদ্দীপক গান গেয়েছেন তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা। আল মাহমুদের মতাদর্শে বিশ্বাসী অন্য একজন সৈয়দ আলী আহসান প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত ”মুক্তিযুদ্ধ উত্ সব-কলকাতা”য় গিয়ে অন্নদা শঙ্কর রায়-এর লিখিত বক্তব্য থেকে আমি এই তথ্য জানতে পারি। উত্সবের ব্রুশিয়রে প্রকাশিত সেই লিখিত বক্তব্যে অন্নদা শঙ্কর রায় বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে সৈয়দ আলী আহসান স্থানীয় সংগঠন ও কলকাতায় বসবাসরত বিদেশী কুটনীতিকদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন অনুষ্ঠান করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ববিবেক জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। আল মাহমুদ কেবল শক্তি,
সুনীল ও বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে তাঁর কবিতা নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন।
ভারতে যাওয়া না-যাওয়ার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই--এ-কথা কবি আল মাহমুদ নিজেও বোঝেন! তবুও অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার আবার একই সঙ্গে অযোগ্যকে সার্টিফিকেট প্রদানের একটা মানসিকতা তাঁর আছে এ-কথা তাঁর লেখা ”কবির আত্মবিশ্বাস” বইটি পড়ে আমি টের পেয়েছি।
এত বড় একজন কবির এসব মানায় কি?(বিস্তারিত পাবেন এখানে )

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)


১৭

আরিফ জেবতিক এর ছবি
৯.১ | আরিফ জেবতিক | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ১৬:৪৪

গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনের জন্য কৃতজ্ঞতা ।

-----------------------------
কালের ইতিহাসের পাতা
সবাইকে কি দেন বিধাতা?
আমি লিখি সত্য যা তা,
রাজার ভয়ে গীত ভনি না।


১৮

ফকির ইলিয়াস এর ছবি
১০ | ফকির ইলিয়াস | শনি, ২০০৮-০৮-২৩ ০৯:৪১

সোনালী কাবিন - এর কবি আল মাহমুদ সব সময়ই মধ্যসত্ত্বভোগী।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ও সে চরিত্র নিয়ে কাজ করেছেন।তার এমন কোনো , একটি কবিতাও নেই - যা এ দেশের মানুষের অধিকার
আন্দোলন কে ধারণ করেছে।
যা লিখেছ