হুমায়ূন আহমেদ, আপনি মিথ্যে লিখছেন

হাসান মোরশেদ এর ছবি
লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: শুক্র, ১১/০৫/২০১২ - ৪:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম আলো কথিত আজকের সুসমাচার, হুমায়ূন আহমেদ নতুন উপন্যাস লিখছেন।
যা তা এলেবেলে নয় একেবারে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উপন্যাস। এর আগে ও হুমায়ূন লিখেছেন এমন, লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'। যদি ও মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গনহত্যার অন্যতম অংশীদারদের 'কোমল' রূপে দেখানোর সচেষ্ট প্রয়াস আছে সেই উপন্যাসে তবু এটাকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ যাবত কালের শ্রেষ্ঠ কাজ বলে চালিয়ে দেবার চালিয়াতি জারি আছে।

যা হোক সুসমাচার প্রচারক প্রথম আলোর বদান্যতায় 'আসিতেছে' উপন্যাস 'দেয়াল' এর দুটো অধ্যায় পড়ার ও সৌভাগ হলো। যারা ভাগ্য বঞ্চিত আছেন এখনো, ক্লিক করে পড়ে নিন সত্বর।
দেয়ালের দুই পাতা
হুমায়ূন লিখেন মার্চমাসের এক প্রচন্ড গরম দিনের কথা ( ধারনা করা যায় ১৯৭৫ সালের সেই দিন)। মেজর ফারুক তার দলবল নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষনে। প্রশিক্ষনের ফাঁকে প্রবল তৃষ্ণার্ত ফারুক তার সহকর্মীদের কাছে যুদ্ধদিনের গল্প বলে, মুক্তিযুদ্ধের। যুদ্ধের মাঠে টানা দুইদিন তাকে পানি না খেয়ে কাটাতে হয়েছে, প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করে শত্রুপক্ষের ক্যাপ্টেন (যার আবার আগুনের মতো গায়ের বর্ণ )কে আটক করেছে, পরে নিজ হাতে হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছে মা বোনের ধর্ষনের।
হুমায়ূন তার জাদুকরী ভাষায় গল্প লিখেন বিশ্বাসযোগ্য এবং আবেগীরসে। সেই রসে ভাসতে ভাসতে প্রথমালোর পাঠককুল উতলে উঠেন- আহা আহা অতোদিন পর এই প্রথম পনেরো আগস্ট নিয়ে 'সত্য ও নিরপেক্ষ' লেখা আসতে যাচ্ছে। এর আগে সব ঝুট!

যে ইতিহাসকে উপজীব্য করে হুমায়ূন উপন্যাসটি লিখছেন, সেই ইতিহাস স্বাক্ষ্য দিচ্ছে যা লিখেছেন হুমায়ুন তার মধ্যে প্রবল মিথ্যাচার আছে। তিনি সত্যের মতো করে মেজর ফারুকের মুক্তিযুদ্ধের যে বর্ননা দিয়েছেন সেটি ঝুট। ফারুক ডেপুটেশনে ছিলো আবুধাবীতে। সেখানে থেকে পালিয়ে (!) এসে যেদিন যুদ্ধে যাবার জন্য নাম লেখায় সেদিনটি ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১। ঢাকা ছাড়া প্রায় সারাদেশ মুক্ত হয়ে গেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও গেছে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। ফারুক মুলতঃ যুদ্ধ করার কোন সুযোগই পায়নি।
শেখ মুজিবের আরেক খুনী কর্ণেল রশিদ যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলো নভেম্বরে। আর ডালিম, ওসমানী সাহেবের কেরানীগিরি করে তারই বদান্যতায় পদকপ্রাপ্ত। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রতি ‘কোমল’ মনোভাব দেখানোর বিভিন্নমুখী প্রকল্প আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে এই ‘সূর্যসন্তানেরা’ মুক্তিযোদ্ধা। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে বলে ফেলা মুক্তিযোদ্ধারাই মুজিবকে হত্যা করেছে!

মিথ্যে দিয়ে শুরু হলো হুমায়ুন আহমেদের পনেরো আগস্ট প্রকল্প, দেখা যাক কতোদূর গড়ায়।
আমরা সাধারন পাঠকেরা বরং এই অবসরে তার সুস্থতা কামনা করি।

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।


মন্তব্য

সাফি এর ছবি

সমস্যা হলো হুমায়ুনের এক শ্রেণীর তরল পাঠক/পাঠিকা ভক্ত আছে। এরা হুমায়ুন যা লেখে পড়ে, বিশ্বাস করে, দুই বার চোখ মুছে তারপর বইটা রেখে দেয়। মিথ তৈরী করার জন্য এরা খুব ভাল একটা হাতিয়ার।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

#প্রিয় সাফি ভাই, ভালবাসা নিন, আপনার বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারছিনা, আপনি হলফ করে বলতে পারেন আপনি হুমায়ূন আহমেদের বই পড়েননা? দেয়ালের যে দুই খন্ড প্রকাশিত হয়েছে আমার ধারনা আপনি সেটাও পড়েছেন আর পড়েই শুরু করে দিলেন কথা বলা।।।

#কারো সমালোচনা করা খুব সহজ তবে আনন্দিত চিত্তে প্রশংসা করা খুব কঠিন গুনের একটি।।।

#ভাল থাকুন সবসময় (বাংলায়)

ঝুমন এর ছবি

সাহিত্য ব্যাপারটার সমালোচনা থাকবেই তাই না? হুমায়ুন আহমেদ সাহিত্য!!! লিখবেন সমালোচিত হবেন না এমনটা তো হবার নয়। কোন লেখক কবে সমালোচিত হয় নি? এখানে দুটি আঙ্গিকে সমালোচনা হতে পারে। সাহিত্য মান এর ব্যাপারে হুমায়ুন আহমেদ আমার মত অনেকের কাছেই পাস মার্ক পায় না আবার আপনার মত (ধরে নিলাম আপনি উনার খুব বড় ভক্ত, কমেন্ট থেকে ধারণা করছি) অনেকের কাছে দেবতুল্য।
এখানে কিন্তু সাহিত্য মানের কথা বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে ইতিহাসের সত্যটাকে লঘুচালে উপস্থাপন করার পাপে উনি দণ্ডিত এবং সাথে আছে তথ্যগত বিকৃতি।
উনি অগা মগা যেসব লিখেন সেসব কারো ভাল লাগতেই পারে কিন্তু সত্যের ব্যাপারে আপোষ করাটা নিশ্চয়ই ভাল কিছু না।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সহজ/কঠিন তো বিষয় নারে ভায়া। বিষয় হইল সঠিক/বেঠিক। আপানাকে ছাগল কিংবা ওরাংওটাং ডাকা আমার জন্য সহজও হইতে পারে কঠিনও হইতে পারে। কিন্তু সেইটা কি সঠিক হবে?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাফি এর ছবি

আমি হুমায়ুন আহমেদের অনেক বই পড়েছি ভাই, দেওয়ালের দুই অনুচ্ছেদ ও পড়েছি। আমি কী মন্তব্য করেছি সেটা কী বুঝেছেন আপনি আদৌ?

কল্যাণ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

trisha এর ছবি

পছন্দ হয়েছে হাসি

লিপি এর ছবি

কবীর ভাই, হুমায়ূন আহমেদের বই অনেকেই পড়ি; আমার মতামত হলো, মুক্তিযুদ্ধের বইগুলো বাদ দিলে হুমায়ূন আহমেদের বই বা লেখা অবশ্যই ভালো।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

সরি ট্যু সে, আমার ধারনা হুমায়ুন এটা ইচ্ছে করে করেছেন, যেনো ফুরিয়ে যাবার আগে একটা বিকৃত তৃপ্তি নিয়ে যেতে পারেন তার বই নিয়ে কেমন হৈচৈ পরে গেছে।
না জেনে লিখে ফেলছে, এমন হবার সম্ভাবনা কম। এই লোক বহুৎ সেয়ানা।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সাইদ এর ছবি

সম্পূর্ণ একমত আপনার মন্তব্যে। আমার মনে হয় এগুলোকে ভীম রতি না বলে ভন্ডামি বলা উচিত

Hasan এর ছবি

আমার ধারনা উনি জাদু বাস্তবতা 'র অজুহাত দিবেন দেঁতো হাসি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হ, টেকাটুকা এট্টা বিরাট জাদুবাস্তবতা


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

Suvasis Howlader এর ছবি

আপনাকে ‍সরি টু সে, ওনার বই নিয়ে হৈ চৈ তো কম পড়েনি। নতুন করে আবার কি পড়ার আছে।

অর্ক হাসনাত এর ছবি

হ তয় হৈ চৈ এ উনার এখনো ভরে নাই, আরো দরকার, তাই দেয়াল।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

উত্তম জাঝা!

সাম্য এর ছবি

একদম ঠিক বলেছেন।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

জায়গায় জায়গায় বাকোয়াস ... পুরাটার জন্য ওয়েট করতেছি। আলু যখন এইটার ঢোল পিটাইতে নামছে, কিছু না বুইঝা নামে নাই।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাফি এর ছবি

প্রথমা থেকে আসতেছে নাকি?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কোথাও কিছু লিখা নাই ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সা দা চো খ এর ছবি

সেরকম-ই তো মনে হচ্ছে। তা না হলে এত সাফাই গাওয়া হচ্ছে কেন?

--সা দা চো খ

মাহমুদ.জেনেভা এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

চলুক

দ্রোহী এর ছবি

"You either die a hero or live long enough to see yourself become an asshole চোখ টিপি ." - Batman

ধুসর জলছবি এর ছবি

হাততালি

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

চলুক হাততালি

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ঝুমন এর ছবি

"প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।"

আশরাফুল কবীর এর ছবি

উত্তম জাঝা! বাঘের বাচ্চা

ধুসর জলছবি এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদ জোছনা ও জননী গল্প লিখে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ফাজলামিটা করেছেন,এরপর এটা লিখে উনার ভক্তদের (অভাব নেই এদেশে) ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য উনার শাস্তি হওয়া উচিৎ। উনি শারীরিক ভাবে সুস্থ হতে পারেন কিন্তু অন্য সব অসুস্থতা থেকে মুক্ত হবেন বলে মনে হয় না। এসব ভণ্ডামি চিকিৎসার বাইরে। আর উনার ক্ষেত্রে সেটা দিন কে দিন বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে।

Nabil এর ছবি

According to A legacy of blood, Farook fled from dubai on 12 november 1971. You wrote that he joined the liberation war on 12 december 1971. I am not sure about the validity of this info because in the book (legacy of blood) it is not mentioned when he joined the war . Please share your source for this information.

হিমু এর ছবি

অনুগ্রহ করে বাংলায় লিখুন। কনট্রোল অল্ট পি চাপলে ফোনেটিক লেআউট পাবেন।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এই সাক্ষাৎকারটি পড়ুন। ফারুকের সহখুনী রশিদ স্বাক্ষ্য দিচ্ছে ডিসেম্বর ১২ বিষয়ে।

যুদ্ধ যখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন সুবিধা বুঝে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা সেজেছিলো, যাদেরকে তখন উপহাস করা ডাকা হতো 'সিক্সটিন্থ ডিভিশন'

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

নাদির জুনাইদ এর ছবি

মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম-এর লেখা "এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক" বইয়ের ৭৪ পৃষ্ঠায় তথ্যটি আছে যে ফারুক ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয়ের তিন দিন আগে যশোরে তৎকালীন মেজর মনজুরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। সামরিক নিয়ম অনুযায়ী কেউ ২১ দিন যুদ্ধে না থাকলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া হয় না। আর ফারুক পাকিস্তানে না থেকেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়নি, যেথানে পাকিস্তান থেকে অনেক বাঙালী সামরিক অফিসার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। তাই ফারুক সামরিক বাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। ইতিহাস-নির্ভর কাহিনী লেখার আগে হুমায়ুন আহমদ-এর ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য অবশ্যই সঠিকভাবে জেনে নেয়া উচিৎ ছিল।

sajjad এর ছবি

সামরিক নিয়ম অনুযায়ী কেউ ২১ দিন যুদ্ধে না থাকলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া হয় না। এই কথা কে বলে?

নাদির জুনাইদ এর ছবি

এই কথা সামরিক নিয়মে বিশেষজ্ঞ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে দেশের প্রথম সারির অথরিটিদের একজন মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) কামরুল হাসান ভূঁইয়া-র সাথে কথা বলে, তাঁর থেকে জেনে নিয়েই লেখা হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান "সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ' এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একাধিক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন; যদি আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিষযে আগ্রহ থাকে তাহলে তাঁকে অবশ্যই চেনার কথা। এই তথ্য সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে চাইলে আপনি তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন। সামরিক বাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক নিশ্চয়ই এই বিষয়ে আপনাকে আরো বিস্তারিত জানাবেন।

হিমু এর ছবি

হুমায়ূনের সাম্প্রতিক বিষ্ঠা নিয়ে শংসাবচন লিখেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

আলুর ইতিহাসবিকৃতির প্রকল্পে নামীদামী ব্যক্তি ইতিহাসের মাথায় হেগে যাবেন আর আলুর ডোমেস্টিকেটেড নামীদামীরা সেই হাগাকে ইয়ামি হিসেবে সনদ দেবেন। দুঃখ পেলাম সৈয়দ মনজুরুলকে এই ব্যান্ডওয়াগনে দেখে। অবশ্য ইনি যখন থেকে ঢ়ৈষূর মতো একটা আবালের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে সাহিত্য রচনায় নেমেছেন, তখনই ওনার ওপর থেকে শ্রদ্ধা কয়েক দাগ কমে গিয়েছিলো। হুমায়ূনের বিষ্ঠার জিঙ্গেল লেখার পর আরো কমে গেলো।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

#প্রিয় হিমু ভাই, বইটির কি কোন কিছুই ঠিক নেই? এভাবে বলা কতোটা যুক্তিসঙ্গত? সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার কি না বুঝেশুনে লিখেছেন? কোন একজন মানুষ কি ভুল করতে পারেনা? ভুল আদৌ হয়েছে কিনা সেটা আদৌ স্থির নয়, লেখক নির্ধারিত একটি রেফারেন্স দিতে ব্যর্থ, আরেকজন খুনির সাক্ষাতকার আদৌ সত্য কি মিথ্যে সেটা বুঝবো কিভাবে?

#ভাল থাকুন সবসময় বাঘের বাচ্চা

হিমু এর ছবি

আমি আপনাকে পাতে পোলাও-কোর্মা দিয়ে এক কোণায় এক খাবলা পুরীষ দিয়ে রাখলাম। আপনি খুব রাগ করলেন। আমি তারপর কাতর কণ্ঠে বললাম, প্রিয় আশরাফুল কবীর, খাবারের কোনো কিছুই কি ঠিক নেই? এমন রাগারাগি করা কতোটা যুক্তিসঙ্গত?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার বুঝেশুনে এইসব লিখেছেন বলেই আমি প্রতিক্রিয়া দেখালাম। উনি যখন ঢ়ৈষূর মতো আবালকে প্রোমোট করেন, বুঝেশুনেই করেন। ওনাদের মতো লোকেরা না বুঝে কোনো কিছু করেন না। হুমায়ূনের এই ইতিহাসবিষ্ঠার অ্যাকোলেডও তিনি বুঝেশুনেই লিখছেন।

একজন খুনীর সাক্ষাৎকার সত্য কি মিথ্যা, সেটা নিরূপণে আপনি যেমন ব্যর্থ (শুধু আলস্যের কারণেই নয়, এইখানে কাজ করছে আপনার পীরভক্তি। পীরসাহেব লিখেছেন, সেটাকে ভুল ভাবতেই আপনার বাধছে), তেমনি হুমায়ূনের পাঠকবলয়ের একটা বড় অংশও ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিছু বুঝলেন?

অতিথি লেখক এর ছবি

শুধু আলস্যের কারণেই নয়, এইখানে কাজ করছে আপনার পীরভক্তি। পীরসাহেব লিখেছেন, সেটাকে ভুল ভাবতেই আপনার বাধছে

>ধন্যবাদ হিমু ভাই আপনার কষ্ট করে উত্তর দেয়ার জন্য।।।কিছুটার অর্ধেক বুঝতে পেরেছি, কারন বইটি বেরুনোর পর নিশ্চয়ই ডাবল গতিতে এটার আলোকপাত হবে, আপনার আরো মনকাড়া মন্তব্য পড়বো আর আমার মতো যারা পীরভক্ত (আপনার মতানুসারে) তারা আরো কষ্ট পাবো, পেতেই থাকবো, ভাববো পীরকে নিয়েও তাহলে স্যাটায়ার হয়। আন্তরিক ভালবাসা সহযোগে ধন্যবাদ উত্তম জাঝা!

শাহীনুজ্জামান এর ছবি

হুমায়ুন সাহেব তো তার লিখার রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন । আপনি ফারুখ সাহেব সম্পররকে যা বললেন সেটার রেফারেন্স দেবেন কি ?

সাফি এর ছবি

উপরে নাবিলের মন্তব্য দ্রষ্টব্য

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

সবরকম অসুস্থতার চিকিৎসা নেই!

আরিফুর রহমান এর ছবি

হোমায়ুন ভায়া ইদানীং মৌলানা সাজার বহুমূখী প্রচেষ্টায় নিমজ্জিত ছিলেন।

আজকের এ প্রচেষ্টা তাকে আরো বেশি করে ধর্মব্যবসায়ী সহায়কে পরিনত হলেন।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

তাই যেন হয়। এই মানুষটার পাঠক সংখ্যা সুবিশাল। চাইলে তিনি সত্যকে অনেকের কাছে প্রচার করতে পারে, আবার মিথ্যাকেও। লেখটা পড়তে গিয়েও পড়তে পরলাম না (আপনার এই লেখা পড়ার আগেই)। বারবার বাঁধছিলাম এটা ভেবে এখানে 'নায়ক' কে আসলে? দেখা যাক কোথায় নিয়ে তিনি শেষ করেন। তখন পুরোটা পড়ার চেষ্টা করবো।

fahim এর ছবি

লিখাটির বিসসাস জোগওতা নেই।

আহসান  এর ছবি

গন্ধটা খুব সন্দেহজনক। হিলারি ও প্রণবের একত্রে আগমণ, ইলিয়াসকে কেন্দ্র করে আলুর ক্রমাগত লীগের দিকে আঙ্গুল তোলা, ইউনুসের পথ পরিষ্কার করার জন্য অথবা রাজনীতির মাঠ ঘোলা করার নামে লীগকে, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুভক্তদের চোখে বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করার একটা চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছি। এই বই দিয়ে কি মানুষের মনে সফট কর্ণার তৈরী করা হবে যে হাসিনা সরকার বঙ্গবন্ধুহত্যার বিচার করার নামে "পঁচাত্তরে দেশকে জালিমের হাত থেকে মুক্ত করা" কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে(!) প্রহসন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে ?

guest_writer Atiq Rarri এর ছবি

ওসমানির কেরানি যেমন যুদ্ধ করেনি, একই সূত্রে ওসমানিও যুদ্ধ করেনি। আবার ডালিম না হয়ে অন্য কোন সামরিক অফিসারকে ওসমানির কেরানির কাজটা করতে হত। যুদ্ধ ময়দানে অস্ত্র হাতে উপস্থিতী হওয়াই যদি মুক্তিযোদ্ধা হবার একমাত্র শর্ত হয় তবে এই শর্তে অনেকেই বাদ পড়ে যায়।

ফারকের যুদ্ধে যোগ দানের যে তারিখটি এখানে বলেছেন তার রেফারেন্স দিলে হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগটি টেকসই হয়। আশাকরি আপনি সেটা করবেন।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ফারুকের যুদ্ধে যোগদানের তারিখ বিষয়ে রশীদের স্বাক্ষ্য উপরে দিলাম। আশা করি অভিযোগ এবার টেকসই হয়েছে।
ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন, তার বিষয় আলাদা। কিন্তু তার অফিসে দাপ্তরিক কাজ করে শুধু মুক্তিযোদ্ধাই না , একেবারে রাষ্ট্রীয় খেতাব পেয়ে যাওয়া- আপনার কাছে বাড়াবাড়ী মনে হয়না? যেখানে আসল যুদ্ধে প্রকৃত বীরের মতো শহীদ হওয়া অনেক যোদ্ধার ভাগ্যেই কোন খেতাব জুটেনি।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

হিমু এর ছবি

ওসমানী যেসব অফিসারকে পছন্দ করতেন না, তাদের কোনো খেতাব দেননি। সেক্টর কমাণ্ডার হয়েও মেজর আবু ওসমান কোনো খেতাব পাননি বলে পড়েছিলাম পত্রিকায়।

মিয়াভাই এর ছবি

হাসান, ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন না, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন ।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

একটা সংশোধনীঃ ওসমানীর এডিসি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর বীরবিক্রম । ডালিম মুক্তিযুদ্ধে বিরোত্বপুর্ণ অবদানের জন্য বীর উওম খেতাবপ্রাপ্ত । তার বীরত্বগাথা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, রফিকের লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ইত্যাদিতে আছে ।

আমার প্রাসঙ্গিক ব্লগের লিঙ্কঃ খুনি মেজররা মুক্তিযোদ্ধা ছিল -সো হোয়াট ?

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধান সেনাপতি ওসমানী।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

আবির এর ছবি

মজা পাইলাম............ হুমায়ুন নিজেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সে কেন মিথ্যা লিখতে যাবে,আর তার তথ্যগুলোর আন্তর্জাতিক refference তিনি দিয়ে দিয়েছেন যা এই ব্লগার দেন নি।

হিমু এর ছবি

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তো বহুদূরের জিনিস। কত মুক্তিযোদ্ধাই তো পল্টি খাইলো।

রাগিব ভাইয়ের সৌজন্যে রেফারেন্স পেলাম।

লিগেসি অফ ব্লাড এর পৃ ৪০-৪১ অনুসারে ফারুকের পোস্টিং হয় আবুধাবীতে, ডেপুটেশনে। সেখানে থাকা অবস্থায় জুন ১৯৭১ এ ব্রিটিশ অফিসার্স মেসে ফারুক জানতে পারে ব্রিটিশ পত্রিকা পড়ে যে, পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চলছে। এর পরে ১৯৭১ এর ১২ই নভেম্বর দুবাই এয়ারপোর্ট হতে ফারুক লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে যায়।

রশীদের ঘটনা অন্যরকম (পৃঃ ৪২)। তার পোস্টিং ছিলো আজাদ কাশ্মিরে। সেখান থেকে পারিবারিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে অক্টোবরের ২ তারিখে রশীদ পুর্ব পাকিস্তানে আসে। সেখান থেকে সীমানা পেরুবার চেষ্টা করতে থাকে। ৩য় প্রচেষ্টায় সফল হয়ে ২৯ অক্টোবর রশীদ আগরতলায় পৌছায়। পরে যেড ফোর্সের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।"

guesr_writer rajkonya এর ছবি

হুমায়ুন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নয়। তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে শুনি নি। যতদূর জানি তিনি শহীদ হয়েছিলেন। আর যুদ্ধের সময় হুমায়ুন আহমেদের বয়স মুক্তিযুদ্ধে যাবার মত ছিল তবুও তিনি যুদ্ধে যোগ দেন নি। জান বাঁচানোর জন্য শর্শিনার পীরের আস্তানায় চলে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তাঁর একটি আত্নজীবনিক গ্রন্থে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এই রাজাকার পীরকে স্বাধীনতা পদক দেবার জন্য!

সৌরভ কবীর  এর ছবি

আমি একবার শুনেছিলাম মুজিব হত্যাকারীদের কেউই মুক্তিযুদ্ধ করেননি এবং কর্নেল ফারুক বাংলাদেশে এসেছেন ১৯৭৪ সালে। ১৯৭৪ সালের আগে তিনি পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত এখন বেশ চেষ্টা করেও কোন তথ্যসূত্র উল্লেখ করতে পারছিনা। আশা করি অন্য কেউ শীঘ্রই সেটি খুঁজে পেয়ে বিষয়টি সুস্পষ্ট করবেন। ধূসর জলছবির মতোই বলতে হচ্ছে যে প্রমাণিত হলে শাস্তি হওয়া উচিত।

তানিম এহসান এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

হয়তো!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। আর এই বই কোনোভাবেই বের করতে দেয়া যাবে না। ইতিহাসের চেয়ে হূমায়ুন হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠক সংখ্যা বেশি আর এই পাঠকের একটা বিরাট অংশ অপরিণত। এরকম একটা বই দিয়ে সে ১০০০ মেহেরজানের চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

বন্দনা কবীর এর ছবি

গুল্লি

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

একমত।
মোরশেদ ভাইয়ের পোস্টে ৫তারা।

ধুসর জলছবি এর ছবি

আসলেই করা উচিৎ। অন্য কোন দেশ হলে জোছনা ও জননীর গল্প বের হওয়ার পরই কেউ না কেউ করত। মুক্তিযুদ্ধ কে হালকা রসিকতা দিয়ে ভরিয়ে দেয়ার জন্য। আর এবার তো আরও বেশী ভয়ানক মনে হচ্ছে। আমি ওই টুকু অংশ পড়ে বুঝলামই না এই গল্পের নায়ক আসলে কারা? পুরোটা কেমন কে জানে।

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ, গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।

চরম উদাস এর ছবি

চলুক
সমস্যা হইতেছে ভুদাই পাবলিক খালি গল্প শুনতে চায়। হুমায়ূন আহমেদ এর চেয়ে সুন্দর করে গল্প বলতে এই মুহূর্তে তেমন কেউই পারেনা। দুঃখের বিষয় "With great power comes great responsibility" এই কথাটা Spiderman বুঝলেও অনেকেই বুঝেনা। এই জন্য খ্যাতিমান লেখকদের ধরে ধরে ব্লগে নিয়া আসা উচিৎ। লেখা প্রকাশ এর আগে একবার অন্তত ক্রস চেক করে নিতো তাইলে ব্লগামারা খাওয়ার ভয়ে।

ইতিহাস এমনিতেই বড় ভেজাইল্যা বিষয়, রাজনৈতিক ইতিহাস তো আরও বেশী। আমি এইজন্য আজকাল সত্যপীর ছাড়া আর কারো লেখা ইতিহাস বিশ্বাস করিনা।

তারেক অণু এর ছবি

"With great power comes great responsibility

তানিম এহসান এর ছবি

খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। শেয়ার দিলাম।

Chandan এর ছবি

ক্যান্সার শুধু শরীরে না, মনেও বাসা বেঁধেছে।

কীর্তিনাশা এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

guest_writer এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদ এর "জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প" কিছুদূর পড়ে আর ধৈর্যে কুলায় নি। বইটা যখন বের হয় তার আগে আগে এম আর আখতার মুকুল এর "আমি বিজয় দেখেছি" পড়েছিলাম যে কারনে হয়ত "জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প" আরো ভাল লাগে নি। উনি সব কিছুই খুব হালকা চালে লেখেন, তার লেখায় অনেক ফান থাকে। কেন যে শুধু শুধু মুক্তিযুদ্ধ বা ইতিহাসের কিছু সিরিয়াস বিষয় নিয়ে সেই একই চালে তার লেখার স্বাধ জাগে বুঝি না।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

আমার যে জায়গাটায় একটু খটকা লাগছে সেটা হচ্ছে-- যেটুকু পড়লাম সেটাতে ফারুক নিজের মুখে জুনিয়র অফিসারকে তার মুক্তিযুদ্ধ করার গল্প বলেছে। উপন্যাসের যে অংশটুকু এখনও পড়া হয়নি সেখানে ফারুক যে মিথ্যে বলেছে সেটার কোনো উল্লেখ আছে কিনা দেখতে হবে। নাহলে এটা অনেক বড় একটা বিকৃতি!

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

একজাকটলি, ভিলেন মিথ্যা বলে- এইটাও এই উপন্যাসের একটা ট্রিক হতে পারে। পড়ে দেখি আগে।

SGS এর ছবি

The greatest problem with Bangladeshi people- they feel so happy when they find flaw in others. Specially in great people. Cause it makes them forget the difference between them and him. Does bangladesh have one other writer who is anywhere near as good as Humayun Ahmed? What does it matter who was where and when. Stories are not facts. they r about emotions and lots of other things. Couldnt we just wait to see what it turns out to be before insulting?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হুমায়ুন আপনার চোখে "গ্রেইট রাইটার" বলে তার তথ্য বিকৃতির সমালোচনা করা যাবে না?

হিমু এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদ, রসময় গুপ্ত, এদের কোটি কোটি পাঠক দেশেবিদেশে। আমাদের উচিত নয় এদের লেখার খুঁত ধরা।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদ, রসময় গুপ্ত, এদের কোটি কোটি পাঠক দেশেবিদেশে। আমাদের উচিত নয় এদের লেখার খুঁত ধরা।

#প্রিয় হিমু ভাই, আপনি ভাল বিশ্লেষক, তবে এটাও মেনে নিতে পারলামনা।।।লেখায় খুঁত অবশ্যই ধরবেন তবে আপনার মতো নামিদামি মানুষের নিকট থেকে আরো রূচিশীল মন্তব্য আশা করতেই পারি।।।

#শত হলেও আমরা আপনার লেখার ফলোয়ার্স লইজ্জা লাগে

হিমু এর ছবি

রসময় গুপ্ত আর হুমায়ূন আহমেদ, দুইজনেরই অগণিত পাঠক রে ভাই। আপনি আমি মেনে না নিলেও কিছু আসে যায় না।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

আপনি আমি মেনে না নিলেও কিছু আসে যায় না।

১০০০% সত্য। আমি নাদান পাঠক, আমার মানায় কি আর না মানায় কি আসে যায় তবে আপনারতো এখন বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট পরিচিতি সেক্ষেত্রে আপনার না মানায় কিছু একটা আসে যায়। আপনার লেখা পড়ে এখানে যখন উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে তখন আপনার পক্ষে সাফাই করতে যেয়ে মোটামুটি একঘরে হয়ে যাই, তখন ভাবি ধূর কি লাভ অযথা তর্ক করে, তবে আশার কথা ব্লগে আর সাহস করে কিছু লেখেনা, আমিই যা একটু গুতোগুতি করার চেষ্টা করি।

#আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা আপনার বইগুলো অটোগ্রাফসহ আপনার নিকট থেকে নিতে পারব, ভাল থাকুন সবসময় বাঘের বাচ্চা

হিমু এর ছবি

আমি তো পীরের গদি খুলতে অপারগ ভাইয়া। আমার সাফাই গাওয়া লস প্রোজেক্ট।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার সাফাই গাওয়া লস প্রোজেক্ট।

>এগুলো বলে ভুলাইতে পারবেননা, ভাল থাকুন বাঘের বাচ্চা

হাসান মোরশেদ এর ছবি

The greatest problem with Bangladeshi people- they feel so happy when they find flaw in others

হক কথা। আপনি কোন দেশী?

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

Cherag Ali এর ছবি

Lol

কল্যাণ এর ছবি

ইতিহাস নিয়ে গল্প ফেদে বসলে তাতে কিছু যায় আসে না আর পাঠক ফ্যাক্ট খুঁজলে দোষ? এই সব বালের কথা বলার আগে ২য় বার চিন্তা করা দরকার ছিল আপনার। আর অপেক্ষার কথা বললেন না? সবাই অপেক্ষা করতেছে আর এক খান চামড়ার বন্দুক টাইপের ধাঁধা শোনার জন্যে।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

মন মাঝি এর ছবি

অনেক। আমার মতে এই সচলায়তনেই আছে - স্রেফ anywhere near as good as না, বরং better। হূমায়ুনের অনেক বই আছে যেগুলি পড়লে আমার বমি পায়, অসুস্থ বোধ করি এর মস্তিষ্কশুন্যতা আর বালখিল্যতায়।

Stories are not facts... তাহলে আপনার পীরবাবা হুজুরে কেবলা হুমায়ুন আহমেদকে বলেন বাস্তব জীবন আর বাস্তব মানুষ নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে এখন থেকে শুধু ঠাকুরমার ঝুলি লিখতে। তাইলে আর কোন সমস্যা হবে না।

****************************************

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক

হিমাগ্নি এর ছবি

আমি কর্নেল ওসমানির ভূমিকা সম্বন্ধে জানতে বেশি আগ্রহী। কেউ কি জানাবেন??? বা জানাতে পারবেন কোথা থেকে জানতে পারব???
এছাড়াও উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন রশীদ, ফারুক বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করার পরিকল্পনা করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান এর বাসায়। এই তথ্যটি কি সঠিক???

ঐ সময়ে আপসহীন নেতা ভাসানী কেন সামরিক সরকারকে সমর্থন করলেন??? নাকি এই তথ্য ও ভুল???

বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ হত্যার পর তখন দেশে কেন মিছিল বের হয়নি, যখন এই প্রিয় নেতার ডাকে সবাই জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল???

আমি সাধারণ আবালমার্কা লাথি খাওয়া একটা মানুষ। আমি হুমায়ূন, মুজিব, জিয়া, আমিনী কারোরই না। আমি সঠিক ইতিহাস জানতে চাই। সাহায্য করলে খুশি হব।

হিমু এর ছবি

মূলধারা '৭১, মঈদুল হাসান। এই বইটা যোগাড় করে সবার আগে সময় নিয়ে পড়ুন। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক উইং নিয়ে লেখা, যথেষ্ট প্রামাণ্য।

হিমাগ্নি এর ছবি

সোর্স দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। যত দ্রুত সম্ভব যোগাড় করার চেষ্টা করব।
কিন্তু এই প্রশ্নগুলো মনের ভিতরে খচ্‌খচ্‌ করছে। উত্তরগুলো জানতে পারলে শান্তি লাগত।

হিমু এর ছবি

আপনি যদি পটভূমিটা ঠিকমতো না জানেন, এই প্রশ্নগুলোর অনেক রকম সম্ভাব্য ও পরস্পরবিরোধী উত্তরকে আপনার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য মনে হবে। সে কারণেই পটভূমি ভালোমতো জানা জরুরি।

স্যাম এর ছবি

চলুক

কল্যাণ এর ছবি

এখানে রাজিব মোস্তাফিজ এর মন্তব্যে বইটা পিডিএফে পেলাম।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তানজিম এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ। বইটা পড়ে দেখবো।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

চলুক

হাসান মোরশেদ এর ছবি

খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ব্লগ লেখা, তাই শুধু ফারুকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মিথ্যাচার নিয়ে লিখেছি। পরে মনে হলো আরো লেখা যেতো।
যারা প্রথম আলো প্রচারিত দুই অধ্যায় পড়েছেন তারা আশা করি সহমত হবেন- এখানে এমন একটা ইম্প্রেশন দেয়া হয়েছে যেনো বঙ্গবন্ধু হত্যার সিদ্ধান্ত ফারুকের একার। তার মতো একজন একনায়ককে সরিয়ে দেয়ার জন্য সে আর কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিলোনা তাই তার ভায়রা রশিদের সাথে শলা করেছে আর পীর বাবাজির দোয়া নিতে গেছে।
বিষয়টা এতোই সরল।

এর সাথে কোন আন্তর্জাতিক রাজনীতি নাই, নাই পাকিস্তানের হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নেবার ষড়যন্ত্র, নেই দলীয় চক্রান্ত, নেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চরিত্র পালটে ফেলার ধান্দা- আছে কেবলই ফারুকদের মতো মধ্যমমানের দু চারজন মেজরের এমেচার অভিলাষমাত্র।

এইভাবে '৭৫ এর আগস্ট পনেরোর হত্যাকান্ডকে ওজনে হাল্কা করে দিয়ে কাদের উদ্দেশ্য হাসিল করা হয় সেটা বুঝতে কান্ডজ্ঞান থাকাই যথেষ্ট।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

হিমাগ্নি এর ছবি

হুমায়ূনের এই দুই অধ্যায়ের যাবতীয় ভুলগুলো যদি এই ভুলের মত ধরিয়ে দেন, তাহলে অনেকেই উপকৃত হবে। কারণ অনেকেই সেসময়ের সঠিক ইতিহাস জানে না। আমি যখন নিজে পড়ছিলাম, জিনিসগুলো প্রায় বিশ্বাস করেই নিয়েছিলাম। কিন্তু অনেক জায়গাতেই খট্‌কা লাগে। উনি অনেক জায়গাতেই এড়িয়ে গেছেন, যেখানে তিনি সত্যগুলো বলে দিতে পারতেন। আসলে এসব ঐতিহাসিক ঘটনার ৫০ বছরের মধ্যেই এত বিকৃতি, লুকোচুরি এত এত ধামাচাপা দেয়ার প্রাণান্তকর প্রয়াস দেখে ভীষণ খারাপ লাগে। সত্য জানাতে আমাদের এত অনীহা কেন? যা হয়েছে, তা ঠিক সেভাবেই কি পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো যায় না?

Hasan এর ছবি

আমার যদ্দুর মনে পরে A Legacy of Blood এ এই রকম ই বলা - হুমায়ুন আহমেদ নিজের মাধুরি মিসিয়ে অনুবাদ করে চলেচেন

প্রীতম এর ছবি

আসলেই তাই।A Legacy of Blood প্রায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্বপক্ষে যুক্তি দেয়। আর উনি কিন্তু ইতিহাস লিখছেন না, লিখছেন রাজনৈতিক উপন্যাস মাত্র,যেখানে ইতিহাসের সোর্স হিসেবে ব্যাবহার করেছেন A Legacy of Blood কে (প্রঃআঃ তে তার লেখার শেষে Reference দ্রষ্টব্য)।
আর ফারুক-রশীদ মুক্তিযোদ্ধা কি না সেটা নিয়ে যুক্তি তর্কের আগে এই বইয়ের ইতিহাসের সোর্স হিসেবে যে বইটাকে নেয়া হয়েছে তা একবার পারলে পড়ে দেখেন। অ্যান্থনী মারকিনহোস সেখানে বারবার তাদের কে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন আর প্ল্যানও পুরোটাই ফারুক-রশীদের করা বলে অ্যান্থণীর লিখা ঐতিহাসিক প্রামান্যে বলা হয়েছে (লক্ষ্য করুন, এটা ঐতিহাসিক প্রামান্য আর "দেয়াল" ঐতিহাসিক পটভূমিতে লেখা উপন্যাস যেখানে পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন লেখক A Legacy of Blood কে। নিদেনপক্ষে এই দুই অধ্যায়ে,এবং তা তিনি উল্লেখ করেও দিয়েছেন।)

হিমু এর ছবি

মারকিনহোস না রে ভাই, মাসকারেনহাস। পর্তুগীজ উচ্চারণে মাসকারেনিয়াস।

মাসকারেনহাস যতটুকু পটভূমি বর্ণনা করেছেন, তাতে করে পাঠকের কাছে আরো কিছু তথ্য যায়, যার ওপর ভিত্তি করে তিনি শূন্যস্থানগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। হুমায়ূনের উপন্যাসে কি সেসবের বালাই আছে? আর ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস কি আপনি এক বইয়ের চোথা দেখেই লিখে ফেলবেন? মুজিব হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক অ্যাসপেক্টগুলো বাদ দিয়ে যদি কিছু লেখেন, সেটা ভুল মেসেজই বহন করবে।

মাহফুজ খান এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদ (হু-আ) নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে অন্যতম সেরা লেখক। কোনও সন্দেহ নেই লোকটার মেধা আছে, যেমন মেধাবী ডঃ ইউনুস, কিংবা সাঃ এফ রহমান কিংবা মাহফুজুর রহমান কিংবা আমাদের অনেক রাজনীতিবিদ। এই মানুষগুলোর পেশা আলাদা, চিন্তা চেতনার ধারা ভিন্ন, কিন্তু ইনাদের মৌলিক উদ্দেশ্য অভিন্ন। এরা সকলেই চান ব্যাক্তিগত প্রতিপত্তি, জশ, ক্ষমতা আর এর বিনিময়ে অনেক কিছুর সাথেই আপোস করতে ইনাদের বাঁধেনা।

সু-সাহিত্য একটা জাতির আত্মিক/সাংস্কৃতিক উন্মেষ ঘটায়, বৃহত্তর সামাজিক সমস্যাগুলোকে সাধারণ পাঠকের বোধগম্য করে, মানুষের জীবন বোধের গভীরে নাড়া দেয়, এবং সর্বোপরি মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে। কৈশোরে অন্য অনেকের মত আমিও, আমাদের হু-আ সাহেবের অনেক লেখা পড়েছি। ভাল যে লাগেনি তা বলবনা- কিন্তু সেই লেখাগুলো কখনই হৃদয়কে নাড়া দেয়নি, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়নি বিরাজমান সামাজিক অসংগতি, শেখায়নি দেশের প্রতি/মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। তার বেশিরভাগ লেখা প্রায় একই রকম, চরিত্রগুলো অদ্ভুত, উদাসীন, এদের কেউই দেশ নিয়ে ভাবে না, মানুষ নিয়ে ভাবে না- একেকটা উপন্যাস যেন একেকটা পাগলা গারদের দিনপঞ্জিকা। উনি কতটা ভাল লিখেন আর উনার লেখা কতটা সুসাহিত্য এটা নিয়ে তর্ক হতে পারে কিন্তু উনি যে দেশের প্রতি বা সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কিছু লিখেননা সেই ব্যপারে অনেকেই হয়ত আমার সাথে একমত প্রকাশ করতে পারেন। উনি লিখেন পয়সার জন্য, উনার মেধাকে উনি কাজে লাগান তার বইয়ের কাটতি বাড়াতে, তার লেখায় কখনো ফেলানীরা উঠে আসেনা, জীবন্ত হয়না বাঁশখালীতে পুড়ে যাওয়া হিন্দু পরিবারগুলো, নুর হুসেনের বুক ফুটো করা বুলেটের মত চোখে বিঁধেনা আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, মৌলবাদ ইত্যাদি। উনার অসাধারন লেখনি শক্তির কুদরতে একজন ধর্ষক হয়ে উঠে সাধু, ঘুষখোর হয়ে উঠে গরিবের বন্ধু রবিনহুড, রাজাকার হয়ে যায় দেশ প্রেমিক আরো কত কি!

উনি উনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে পয়সা কামাবেন এতে আমার/দের চোখ জ্বলা উচিতনা, আর সেইটা নিয়ে কিছু বলাটা অবাঞ্ছনীয়। উনি নিয়মিত বিষ্টা উদ্গীরন করুন আর তার অগনিত ভক্তরা সেটা গিলে খাক তাতে আমাদের আপত্তি করাটা বোধহয় অনধিকার চর্চার পর্যায়েই পড়ে যায়। কিন্তু বর্তমান সমস্যাটা গুরুতর, উনি এখন কাঠাল পাতার সাথে সাথে দেশের ইতিহাস গিলে খাওয়া শুরু করেছেন, আর যে বিষ্টা উদ্গিরন করেছেন তার নমুনা হাসান মোরশেদ ভাইয়ের লেখা ও উপরের বিভিন্ন মন্তব্যে পরিস্কার। উনার এই বিষ্টা খেয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম, কচিকাচা পুলাপাইন (যারা মুলত উনার লেখার ভক্ত, যাদের অনেকেই বয়সে যুবা কিন্তু।।।।) এদের যে মস্তিস্ক প্রক্ষালন ঘটবে সেটার প্রভাব সুদুরপ্রসারি ও ভয়াবহ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। আর এই বই কোনোভাবেই বের করতে দেয়া যাবে না। ইতিহাসের চেয়ে হূমায়ুন হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠক সংখ্যা বেশি আর এই পাঠকের একটা বিরাট অংশ অপরিণত। এরকম একটা বই দিয়ে সে ১০০০ মেহেরজানের চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে।

সিরাজুল লিটন এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

নতুন পাঠক এর ছবি

পঁচাত্তর এর ১৫ই আগষ্ট ও ৩রা নভেম্বর নিয়ে আমি অনেক কিছু জানতামনা। কারন ইতিহাসের এই পাতাটা এখনো সাদা! নিজে থেকে জানার কিছুটা চেষ্টা করেছিলাম। আমি বিস্তারিত আলোচনায় যাবনা, এখানে (মন্তব্যে) তা সম্ভব নয়!

হুমায়ূন এর উপন্যাস এর প্রচারণামূলক লেখাটা পড়ে আমার ভাল লাগেনি! হুমায়ূন কর্ণেল তাহেরকে সম্ভবত নায়ক বানানোর ধান্ধায় আছেন! এখানেই আমার সমস্যা!

কর্ণেল তাহের বিপ্লবী সেনাকমান্ড কাউন্সিল গঠন করেছিলেন, সেখানে তিনি নিয়মিত (গোপনে) বিপ্লবী বক্তৃতা দিয়ে সাধারণ সেনাদের বিপ্লবে উদ্ভুদ্ধ করতেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তৎকালিন আওয়ামী সরকার উৎখাত এবং বিপ্লবী সরকার গঠন। এই বিপ্লবী সেনাকমান্ড কাউন্সিল এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ফারুক-ডালিমদের। ডালিম যখন বেতারে হত্যার ঘোষনা দেয় তার কিছুক্ষন পর সেখানে যান কর্ণেল তাহের। গণভবনে মুশতাক এর শপথ পরবর্তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাহের।

আর হুমায়ূন তাহেরকে বানিয়েছেন সাদামনের মানুষ, উপনাসের নায়ক! উনি উপন্যাসটি লেখার সময় মনে হয় উনার প্রিয় পানীয় মার্গারেটা খাচ্ছিলেন!

রুমঝুম ১ এর ছবি

"ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার। আর এই বই কোনোভাবেই বের করতে দেয়া যাবে না। ইতিহাসের চেয়ে হূমায়ুন হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের পাঠক সংখ্যা বেশি আর এই পাঠকের একটা বিরাট অংশ অপরিণত। এরকম একটা বই দিয়ে সে ১০০০ মেহেরজানের চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে।"

চলুক

কল্যাণ এর ছবি

ভদ্র লোকের টাকার অনেক প্রয়োজন সম্ভবত। আশা করি তার সব সমস্যার সমাধান হোক, দূর হোক সব অসুস্থতা। অন্তত একটা ক্ষমা প্রার্থনা তার এখোনো বাকী।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

এবিএম এর ছবি

প্রিয় হুমায়ূন, মুক্ত হোন সব রকমের অসুস্থতা থেকে

চলুক

জ.ই মানিক (অচল) এর ছবি

টেকায় কীনা হয়!!
ক্যানসার উনার মস্তিস্কেও বাসা বেঁধেছে। আর উনি সেটাকে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন আমাদের মাঝে।

কুলদা রায় এর ছবি

ইতিহাস নির্মম। কখনো গরলকে ইতিহাস ক্ষমা করে না। উগরে দেয়। আর পাঠকচিত্তকে দুর্বল মনে করার কোনো কারণ নেই। ফলে যাঁরা মনে করছেন হুমায়ূন আহমেদের এই লেখা ক্ষতি করবে--সেটা মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রথমালো হুমায়ূনের দেওয়াল লেখাটার দুই পার্ট প্রকাশ করার মধ্যে দিয়ে যে প্রমোট করার সুযোগটি নিয়েছে--হাসানের এই লেখাটা তাকে ফুটো করে দিয়েছে। এরকম অনেকেই লিখবেন। নো ভয়।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

প্রত্যেকটা লাইনে চলুক

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

হিমু এর ছবি

সমস্যা হচ্ছে, বইটা এমন অনেক পাঠকের কাছেই পৌঁছাবে, যে হয়তো অনলাইনে প্রকাশিত রিবাটালগুলো পড়ার সুযোগ পাবে না। হুমায়ূন আহমেদের পাঠকগোষ্ঠী ঠিক রেফারেন্স ঘাঁটা পাঠকগোষ্ঠী নয়। তাদের অনেকের চোখেই জ্যোছনা ও জননীর গল্পই জ্বলন্ত ইতিহাস। এমন একটা চিন্তাশক্তিরহিত পাঠকগোষ্ঠীর হাতে টুইকড ইতিহাস তুলে দেয়ার প্রকল্পের কোনো ক্ষতিকারক শক্তি নেই, এমন প্রস্তাবের সাথে একমত হতে পারলাম না।

ইয়াসির এর ছবি

চলুক

Reza_Rifat এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদের পাঠকগুষ্ঠিকে যেভাবে ধুচ্ছেন, তাতে মনেহচ্ছে আপনি গভীর খেদ নিয়ে বেচে আছেন এই
পাঠকদের নির্বুদ্ধিতা দেখে। মজা লাগছে আপনার অসহায়ত্ব দেখে। আপনার জন্য আফসোস।

হিমু এর ছবি

আমিও আপনার আপসোসের সঙ্গী। আগে এক গ্রন্থের পাঠকদের নিয়ে অস্বস্তিতে থাকতাম, এখন এক লেখকের পাঠকদের নিয়ে অস্বস্তিতে থাকি। কারণ এদের সঙ্গে চলতে ফিরতে দেখা হয়ে যায়।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পিয়াল ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে:

কর্ণেল এম এ হামিদ তার সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে বইয়ে ফারুকের নয়াদিল্লীতে আগমনের তারিখ লিখেছেন ২১ নভেম্বর। এরপর তাকে জেরা করা হয় রয়ের তরফে। এসব পার হয়ে ১২ ডিসেম্বরে তার কলকাতায় রিপোর্ট করাটা যথার্থ মনে হয়।

hamid

এ বিষয়ে শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্ণেল বইয়েও সম্ভবত উল্লেখ আছে।
তবে আমি একটি রেফারেন্স দিচ্ছি, চ্যানেল আইতে খন্দকার আবদুর রশীদের প্রচারিত একটা সাক্ষাতকারের। সেটার ইংরেজী অনুবাদটুকু একজন নকশাল ওয়াচ ব্লগে তুলে দিয়েছিলেন।

সেখানে প্রশ্নোত্তরে এই কথাগুলো ছিলো:

You joined the Liberation War in November 1971 and Col Faruk Rahman on December 12. Why did you delay?

"My posting was in Pakistan at that time and it was not an easy job to join the Liberation War from there. So, you see, most of those posted in Pakistan did not go back after coming to Bangladesh, and a few--five or six--went back but were not in a good condition. So, I think I am lucky that I could join the Liberation War although late."

How did you come from Pakistan and join the Liberation War?
"I went on leave in October and went to India not to go back. Then I joined the Liberation War. I was in Z Sector; Ziaur Rahman was the sector commander. Khaled Mosharraf was also in the camp. He was injured and was in hospital."

Do you know anything about Col Faruk's delay? How did he join?

"He was in Abu Dhabi on deputation. I do not know why he delayed coming to India from Abu Dhabi. He found a way because he had the will to do it. I cannot recall clearly. Major Jalil raised the armour unit and I do not know when exactly Faruk joined."

পোস্টে একটা সংশোধনী, মেজর ডালিম ওসমানীর সঙ্গে ছিলেন না, ছিলেন নূর।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

তানজিম এর ছবি

তবে কি খালেদ মোশাররফ দুধ কলা দিয়ে কালসাপ ফারুক-রশিদকে পুষেছিলেন?

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

বানান: হুমায়ূন আহমেদ।

মনিকা এর ছবি

দেয়াল ইদািনং কালের লেখা নয়। গত বছর জুন মাসের দিেক অন্যদিেন এটি প্রকাশিত হয় (ই-অন্যদিনে অনেকদিন আগে েদখেছি)। খুব সম্ভবত আমেরিকা আসার পর আর লেখাটি আর চালু রাখেননি বা আমি মিস করেছি। দেয়ালের কয়েক কিস্তি এখনো ই-অন্যদিনে পাওয়া যায়।

fahim এর ছবি

দুঃখিত এক মত হতে পারলাম না বলে। আমাদের দেশে স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখা বেড়ে যাচ্ছে। সেখানে একজন ফারুখ নিজেকে নিয়ে বানিয়ে অনেক কথাই বলতে পারেন। আমার বাবা ও আমাকে বলেন তিনি সব সময় অংকে ১০০ পেয়েছেন। সেটাও কি মেনে নেয়া যায়? আমাদের বাংলাদেশিদের সমস্যা হল আমরা বড় মানুষদের পঁচিয়ে নিজেকে বড় বানাতে চাই। এটা ঠিক না।

হিমু এর ছবি

বাংলাদেশিদের আসল সমস্যা হচ্ছে পীরভক্তি। পীরের মুরিদ পীরের পা ধোয়া পানি খায়, এবং মনে করে সবারই সেটা করা উচিত। না করলে সেটা বাংলাদেশিদের সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়।

সমস্যাটা আপনার মতো পীরের মুরিদদের নিয়েই। দুইদিন পর আপনার মতোই আরেকজন এসে বলবে হুমায়ূন আহমেদ লিখে গেছে ফারুক মুক্তিযোদ্ধা, অতএব ফারুক মুক্তিযোদ্ধা। ঐ কাঠবলদকে কিছুতেই বোঝানো যাবে না যে কোনো এক ফাহিমের বাপের অঙ্কে ১০০ পাওয়া নিয়ে চাপা মারা আর ফারুকের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে "ইতিহাসাশ্রয়ী" উপন্যাসে মিথ্যাচার পরস্পর তুলনীয় নয়। সমস্যাটা বুঝতে পারছেন?

নাবিদ এর ছবি

আপনার লেখাটা পড়ার পর পত্রিকায় দেয়াল লেখাটা পড়ে দেখলাম। আমার মনে হয় পুরো উপন্যাসটা বের হবার আগ পর্যন্ত হুমায়ুন সত্য না মিথ্যে বলেছেন তা যাচাই করার কাজ মূলতবি রাখা উচিত। হয়ত ফারুকের চরিত্রটি শেষপর্যন্ত মিথ্যুক বাগাড়ম্বরকারী হিসেবে, কে জানে?

ব্যক্তিগতভাবে আমি পশ্চিমে সুনীল আর পূর্বে বোধহয় সুনীলের দেখানো পথ ধরেই হুমায়ুনের ঐতিহাসিক বনে যাওয়া নিয়ে বিরক্ত। দুঃখের ব্যাপার হল তাদের মুরীদদের কাছে এগুলো ধ্রুব সত্য এবং বোধহয় ভবিষ্যতে এ লেখাগুলো ইতিহাসের দলিল হিসেবে বিবেচ্য হবে।

হিমু এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদ, মতিউর রহমান, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, এরা কেউই কিন্তু ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাসের চরিত্র হিসেবে খারাপ না। ওনারা শুধু এই ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারছেন না। আর হিস্ট্রি রাইমস ইটসেলফ, মার্ক টোয়েন বলে গেছেন।

প্রলয় হাসান এর ছবি

হুমম, দারুন বলেছেন হিমু ভাই। আসলেই সব বাংলাদেশীদেরই পীর ভক্তি একটা বদ খাসলত। পূর্ব বাংলার দুই হুমায়ূন পীরের মুরিদও কিন্তু কম নয়। পার্থক্য হচ্ছে, কেউ আযাদ পীরের পা ধোওয়া পানি খায়, কেউ আহমেদ পীরের।

হিমু এর ছবি

পাহাড়চোরের পাছাধোয়া পানি খাওয়া মুরিদের সংখ্যাই কি কম, বলেন?

কালা পাহাড় এর ছবি

ভাল বলছেন। আফসোস, সংশপ্তক-এর মত ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখার মত কেউ নাই। আছে খালি ইতিহাস বিকৃতি।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

বাংলাদেশিদের আসল সমস্যা হচ্ছে পীরভক্তি। পীরের মুরিদ পীরের পা ধোয়া পানি খায়, এবং মনে করে সবারই সেটা করা উচিত। না করলে সেটা বাংলাদেশিদের সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়।

চমৎকার ও যথার্থ পর্যবেক্ষণ

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নীড় সন্ধানী এর ছবি

১) আরো দুই দশক আগে শুনেছিলাম হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পূর্নাঙ্গ একটা বই লিখবেন বলে সকল কাজ থেকে ছুটি নিয়ে সেন্টমার্টিন চলে যাবেন। সেখানে নিরিবিলিতে চিন্তা করতে বইটি লিখবেন। হুমায়ুন আহমদের প্রতি আমার বেশ ভালো একটা মুগ্ধতা ছিল তখন। ফলে আমি সেই বইটার জন্য প্রতীক্ষা করছিলাম। তারপর অনেকদিন কেটে গেল, বই আর বের হয় না। তারপর দেখা গেল বইটা আর বের হবার লক্ষণ নেই, বরং তিনি আরেকটি বিয়ে করে বসে আছেন। ততদিনে আমি তার প্রতি মুগ্ধতা হারিয়ে ফেলেছি। তারো কবছর পর একটি বই অবশ্য বের হলো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, কিন্তু সেটি পর্বতের মুষিকপ্রসব।

২) শেখ হাসিনা আমেরিকা গিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাথে দেখা করার পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটা বই লিখবেন বলে শুনছিলাম। এই সেই কৃতজ্ঞতাসূচক বই! যার সূচনাতেই ইতিহাস বিকৃতির লক্ষণ দেখেছেন অনেকেই। কিন্তু আমার কাছে বিকৃতির চাইতেও মারাত্মক- বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা নির্মম অধ্যায়কে রসময় করে তোলার প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।

৩) শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড বা তদসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু লেখার জন্য যেসব প্রামাণ্য বই লিখিত আছে কর্নেল হামিদ লিখিত "তিনটি সেনা অভ্যূত্থান ও কয়েকটি না বলা কথা" বইটা অন্যতম। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম দুটি পর্ব পড়ে মনে হয়নি তিনি কর্নেল হামিদের বইটি পড়েননি।

৪) ইতিহাস ভিত্তিক চলচ্চিত্র কিংবা উপন্যাস লেখা সহজ কাজ নয়। তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক না থাকলে একটি সুখ পঠিত উপন্যাসও হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর বিকৃতি। জনপ্রিয়তার কারণে হুমায়ুন আহমেদের ছোট্ট ভুল বা অবহেলা বিশাল সংখ্যার পাঠককে বিভ্রান্ত করবে। ভুল তথ্যগুলো বই প্রকাশের আগে যদি শুদ্ধ করা না হয়, তাহলে বইটা প্রকাশ হওয়া উচিত নয়।

৫) হুমায়ূন আহমেদ এই বইটা লিখছেন দায়িত্ববোধ থেকে নয়, কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে কিংবা নগদ অর্থের প্রয়োজনে। এরকম উদ্দেশ্যে লেখা বইতে বস্তুনিষ্ঠতার দিকে মনযোগ কম থাকে। এবং সেটাই সবচেয়ে বড় আশংকার কারণ। রসিকতার মধ্যেই বিষ থাকার সম্ভাবনা। যে অধ্যায় নিয়ে লিখছেন সেটি স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অধ্যায়।

৬) আশা করছি হুমায়ূন আহমেদ সুস্থ হয়ে উঠবেন। সুস্থ হুমায়ূন আহমেদের কাছে আমার একটা প্রত্যাশার কথা বলি। প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ, বাংলাদেশে আপনার পাঠক অগনিত, সহজ গদ্যে আপনার দক্ষতা প্রমাণিত। বাংলাদেশে বই লিখে সর্বাধিক অর্থ উপার্জনকারী লেখকও আপনি। আপনি চাইলে একটা মহান কাজ করতে পারেন। এখনো সময় আছে। আপনি সত্যি সত্যি একটা উপন্যাস নামিয়ে ফেলেন যাতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ইতিহাসের বর্ননা থাকবে। বইটা লিখতে সহায়ক যেসব পুস্তকের প্রয়োজন তার সব নিশ্চয়ই আপনি যোগাড় করতে পারবেন। না পারলে আমরা যোগান দেবো। আপনার মতো লেখার হাত থাকলে আমি একটা বই লিখে ফেলতাম, একটা চিত্রনাট্যও, যেটা দিয়ে তৈরী হতে পারে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন চলচ্চিত্রটি। যা এখনো তৈরী হয়নি। আপনি জীবনের শেষ ভাগটা এই একটা কাজ করেই ইতিহাসে ঠাঁই করে নিতে পারেন।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

চলুক

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

স্বনাম এর ছবি

আশা করছি হুমায়ূন আহমেদ সুস্থ হয়ে উঠবেন। সুস্থ হুমায়ূন আহমেদের কাছে আমার একটা প্রত্যাশার কথা বলি। প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ, বাংলাদেশে আপনার পাঠক অগনিত, সহজ গদ্যে আপনার দক্ষতা প্রমাণিত। বাংলাদেশে বই লিখে সর্বাধিক অর্থ উপার্জনকারী লেখকও আপনি। আপনি চাইলে একটা মহান কাজ করতে পারেন। এখনো সময় আছে। আপনি সত্যি সত্যি একটা উপন্যাস নামিয়ে ফেলেন যাতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ইতিহাসের বর্ননা থাকবে। বইটা লিখতে সহায়ক যেসব পুস্তকের প্রয়োজন তার সব নিশ্চয়ই আপনি যোগাড় করতে পারবেন। না পারলে আমরা যোগান দেবো। আপনার মতো লেখার হাত থাকলে আমি একটা বই লিখে ফেলতাম, একটা চিত্রনাট্যও, যেটা দিয়ে তৈরী হতে পারে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন চলচ্চিত্রটি। যা এখনো তৈরী হয়নি। আপনি জীবনের শেষ ভাগটা এই একটা কাজ করেই ইতিহাসে ঠাঁই করে নিতে পারেন। চলুক চলুক

hasan  এর ছবি

সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তাপস শর্মা এর ছবি
Faisal এর ছবি

হুমায়ূন -মুক্ত হোন, সবরকমের অসুস্থতা থেকে।

Shazzad এর ছবি

মধ্যাহ্ন(১৯০৫-১৯৪৭ নিয়ে),মাতাল হাওয়া(১৯৬৯ নিয়ে), জোছনা ও জননীর গল্প(মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে),দেয়াল(১৯৭৫ নিয়ে)-আমার জানামতে এগুলো হল হুমায়ূন আহমেদের 'ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস'। বাকি আছে শুধু ৫২-৭১; ঐ সময়টা অবশ্য আনিসুল হক কভার করেছেন।

ImRaN  এর ছবি

মুলধারা ৭১ বইটার link টা কেউ দিবেন plz ?

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

এই লিঙ্কে গেলে ডাউনলোড করতে পারবেন।

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

অনিক আহাসান  এর ছবি

এম আর আখতার মুকুল "আমি বিজয় দেখেছি" বই এর দেয়া তথ্য মত এদের বেশ কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এমনকি নুর চৌধুরি ,ডালিম এরা খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা।এরা মুক্তিযুদ্ধ করে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যার দায়ভার থেকে কোন ভাবেই মুক্তি পাচ্ছে কি? পুরো বই না পরেই এভাবে ঢালাও মন্তব্য অনুচিত।

হিমু এর ছবি

আর পুরো ইতিহাস না জেনে (বা জেনেও পাত্তা না দিয়ে) ঢালাও উপন্যাস লিখে ফেলা? সেটা কি উচিত না অনুচিত?

নতুন পাঠক এর ছবি

ডালিম বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত। উনি একটি সাব-সেক্ট র কমান্ডার ছিলেন। এক যুদ্ধে তিনি আহত হয়েছিলেনঃ শেলের প্লিন্টারের আঘাতে উনার হাতের এক আঙ্গুল প্রায় উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু হালার পুতে এই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় কলকাতায় এক মেয়েকে (সম্ভবত কাজিন) পরিবারের অমতে পালেয়ে বিয়ে করে ফেলে! ডালিমের এই ঘটনা সামলাতে গিয়ে তাজউদ্দিন আহমেদ ও ওসমানীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল!

নূর চোধুরী বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত। ক্যাপ্টেন নূর, মেজর তাহের, মেজর মঞ্জুর জুলাই মাসের শেষে পাকিস্থান (ফাকিস্থান) থেকে একসাথে পালিয়ে যুদ্ধে যোগদেয়। এরা পরস্পরের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। নূর সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি করে। এখানে আমার আগের মন্তব্যটি দেখুন। কাজেই বঙ্গবন্ধু হত্যায় আমি কর্ণেল তাহেরের সংশ্লিষ্টতাও দেখতে পাই!

হুমায়ূন তাহেরকে নায়ক বানায় কোন ধান্দায়?

নাদির জুনাইদ এর ছবি

জনাব নতুন পাঠক,

আপনার দেয়া তথ্যে একটি ভুল আছে, তাই সঠিক তথ্যটি জানানোর প্রয়োজন বোধ করছি। নূর তাহের আর মঞ্জুর-এর সাথে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেনি। নূর এসেছিল ডালিম আর মতি'র সাথে। এই তিন জন বাঙালী অফিসার পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এপ্রিল মাসে। নূর আর ডালিম সম্পর্কে তো জানেনই, আর মতি লেঃ কর্ণেল থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে জিয়া হত্যার পর মারা যায়। যেমন ধারণা করা হয় নূরই বঙ্গবন্ধুকে গুলি করেছিল, তেমনি প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা অনুযায়ী মতিই জিয়াকে গুলি করেছিল ১৯৮১ সালে।

আর মঞ্জুর, তাহের-এর সঙ্গে একসাথে পাকিস্তান থেকে পালানো বাকী দু'জন বাঙালী অফিসার হলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউদ্দিন আর ক্যাপ্টেন পাটোয়ারী। তারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৭১-এর জুলাই মাসে।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় তাহেরের সংশ্লিষ্টতা আছে কী না তা নিয়ে যথেষ্ট বিশ্লেষণের প্রয়োজন। চট্ করে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা যায় না। তবে বিপ্লবী গণবাহিনী ফারুক, রশিদ, ডালিম, নূরদের শক্ত বিরোধিতা করেনি তাও তো দেখা যায়।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এই তিন জন বাঙালী অফিসার পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এপ্রিল মাসে।

জুন মাস হবে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নাদির জুনাইদ এর ছবি

নুরুজ্জামান মানিক,

না জুন মাস হবে না, এপ্রিল মাসই ঠিক আছে।

ডালিম নিজেই একটি বই লিখেছেন। সেই বইয়ে নূর আর মতি'র সাথে তার পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার বিস্তারিত বর্ণনা তিনি দিয়েছেন 'মহা পলায়ন' নামে একটি অধ্যায়ে। সেখানেই লেখা আছে যে ১৬ এপ্রিল ১৯৭১ তারা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতের দিকে যাত্রা করেন। আর ২০ এপ্রিল ১৯৭১ ভারতীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের উপস্থাপন করেন। এই বইটি, নাম খুব সম্ভবত 'যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি' অনলাইনে আছে। আমি লিঙ্ক খুঁজলাম, পেলাম না এই মুহুর্তে, তবে গতকালও বইটি অনলাইনে দেখে নিয়েছিলাম যখন আমি আমার ওপরের মন্তব্যটি করি। আপনি অনলাইনে পরে কখনো খুঁজে দেখলে হয়তো পেয়ে যাবেন।

এছাড়াও মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর লেখা "রক্তেভেজা একাত্তর" বইয়ের ৬৮ পৃষ্ঠায় লেখা আছে যে মেজর হাফিজের সাথে ডালিমের প্রথম দেখা হয় ১৯৭১ এর মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পেট্রাপোল নামক জায়গায় মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে। তার আগেই ডালিম পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে ডালিমদের জুন মাসে আসার তথ্যটি সঠিক নয়।

হাসিব এর ছবি

মজিদের "কলমা জানো মিয়া!" ডায়লগের কথা মনে পড়ে গেল হাসি পুরো বইতে আপনি কি ভাবছেন অন্যকোথাও হুমায়ূন বলবেন পোস্টে বেরিয়ে আসা ভুলগুলো ভুল?

jaatishshor এর ছবি

তিনি জ়ীবন-সায়াহ্নে এসে এমন বিতর্কিত লেখা না লিখলেও পারতেন বলে মনে করছি।

তানজিম এর ছবি

আমরা আইন করে খুনিদের সুরক্ষা দিতে পারলে, আইন করে আমাদের জাতীয় ইতিহাসকেও সুরক্ষা দিতে অসুবিধা কোথায়? আমাদের জাতীয় ইতিহাসকে নিয়ে যে যার মত কাটাছেঁড়া করবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

হিমাগ্নি এর ছবি

আমি ধরে নিলাম হুমায়ূন আহমেদের এই দুই অধ্যায়ের প্রত্যেকটি তথ্য ভুল।
তাহলে দয়া করে কি সঠিক তথ্যগুলো জেনে থাকলে কেউ জানাবেন? যারা জানেন, তারা কেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন???
জানালে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যায়???

আর হুমায়ূন যেমন এক রেফারেন্স দেখাচ্ছেন তেমনি অনেকেই অন্যান্য রেফারেন্স দেখাচ্ছেন। কোন রেফারেন্সকে ঠিক ধরব? কোন কোন রেফারেন্স পক্ষপাতদুষ্টও তো হতে পারে।

(দয়া করে কেউ পীরভক্ত লিখবেন না। আপনার হুমায়ূনের উপর অ্যালার্জি থাকতে পারে। কিন্তু তার থেকে সবার সঠিক ইতিহাসটা জানা জরুরী। )

হিমু এর ছবি

আপনি যদি একটু মনোযোগ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল উপন্যাসের প্রথম আলোয় প্রকাশিত অংশটুকু পড়েন [সূত্র], তাহলে দেখতে পাবেন, সেখানে ব্যবহৃত দু'টি রেফারেন্স যথাক্রমে মেজর রশীদের কাছে খন্দকার মুশতাক আহমদের গল্প বলা আর শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ছদ্মবেশে আর. এন. কাওয়ের আগমনের ঘটনার। এই পোস্টে কিন্তু এই দু'টি ঘটনা নিয়ে কিছু লেখা হয়নি বা এই দুটি বিবৃত ঘটনাকে কনটেস্ট করা হয়নি। লেখা হয়েছে একজন মেজর ফারুককে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিত্রিত করার অসৎ প্রয়াস নিয়ে।

আপনি যদি পোস্টের নিচে মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়েন, দেখবেন একাধিকবার রেফারেন্সসহ উল্লেখ করা হয়েছে, কখন এবং কী পরিস্থিতিতে মেজর ফারুক আর মেজর রশীদ (তখন ক্যাপ্টেন) মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্যে হাই কমান্ডের কাছে উপস্থিত হন।

রেফারেন্স অবশ্যই পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। এ কারণেই রেফারেন্স সংগ্রহ করে পড়তে হয়। আপনি সময় নিয়ে সেটাও করতে পারেন। আপনার মনে কৌতুহল জাগিয়ে তোলাই তো রেফারেন্সের উদ্দেশ্য।

আর হুমায়ূন আহমেদের সব তথ্য ভুল হওয়ার কিন্তু দরকার নেই। নিরানব্বইটা সঠিক তথ্যের সাথে একটা বেঠিক তথ্য মিশিয়ে দিয়েই সাধারণত কাজ হাসিল করা হয়।

হিমাগ্নি এর ছবি

যদি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নায়ক বানানোর অপ-প্রয়াস চলে, সেটা অবশ্যই ঘৃণিত।

"আপনাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মেজর রশীদ, ফারুক, লে. কর্নেল ওসমানী এ বিষয়ে আলোচনায় বসেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায়।"

কিন্তু আমার কাছে তার থেকেও বেশি জানতে ইচ্ছে করে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল ওসমানি এবং পরবর্তী সময়ের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান ও কি এর সাথে জড়িত ছিলেন??? যদি তারা থাকেন তাহলে তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর খুনের চক্রান্তকারী বলা হয় না??? আর যদি না জড়িত না থাকেন তাহলে কি এটা নিয়ে আরো বেশি সমালোচনা করা উচিত ছিল না এখানে, যেহেতু তারা দুইজনই এদেশে অত্যধিক সম্মানিত???

হিমু এর ছবি

আপনি একটা থট এক্সপেরিমেন্ট করুন। তারপর কতগুলো প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ভাবুন।

মনে করুন আপনি সেনাবাহিনীর একজন মেজর। একজন মেজর একটা কোম্পানি (আশি থেকে দুইশো পঁচিশ জন পর্যন্ত সৈন্য ও অধস্তন অফিসার) পর্যায়ের সেনাদলের নেতৃত্ব দেয়। একটা কোম্পানি নিয়ে আপনি কোন ভরসায় দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করতে যাবেন? ধরা যাক আপনি বিনা বাধায় বা ছোটোখাটো বাধায় রাষ্ট্রপতিকে খুন করে আসতে পারলেন, কিন্তু তারপর আপনি প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

আপনি এই কাজটা তখনই করতে পারবেন যখন আপনার একটা এক্সিট প্ল্যান থাকবে, এবং সেই এক্সিট প্ল্যানে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত থাকবে। তাই না?

কিছুদিন আগে এক মেজর জিয়া সশস্ত্র বিদ্রোহের উদ্যোগ নিয়েছিলো। সেই উদ্যোগে কিন্তু একজন ডিভিশন কমাণ্ডার পর্যায়ের কর্মকর্তারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, জেনারেল শফিউল্লাহ কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করেননি। জেনারেল জিয়া এরপর মাস তিনেক সেনাপ্রধান হিসেবে সক্রিয় থেকেও দেশের রাষ্ট্রপতির হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নেননি। খুনীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশটি খোন্দকার মুশতাকের কাছ থেকে এলেও এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেন জেনারেল জিয়া, এবং পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটিকে সংবিধানের অংশ করেন জেনারেল এরশাদ। এটা তারা কেন করবে, যদি তারা এতে জড়িত না থাকে?

আপনি হয়তো এ কথাও জানেন যে খুনী মেজররা এরশাদকে পদোন্নতি দেয়ার জন্যে খোন্দকার মুশতাক সরকারকে চাপ দিয়েছিলো, যার প্রেক্ষিতে সেসময় ভারতে প্রশিক্ষণে নিয়োজিত থাকা ব্রিগেডিয়ার এরশাদকে পদোন্নতি দিয়ে সেনা উপপ্রধান করার পথ সুগম করা হয়।

শেখ মুজিবকে হত্যার চক্রান্তকারীদের সাফল্য হচ্ছে কয়েকটা ক্যাপ্টেন মেজরের ঘাড়ে সবকিছুর দায় চাপিয়ে দেয়ার। পনেরোই অগাস্ট সকালে যখন সারা ঢাকায় জিপে করে মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছিলো যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে, সে্ই জিপের পেছনেই ছিলো মার্কিন দূতাবাসের গাড়ি। আর খোন্দকার মুশতাকের কাছে বিমানে করে বাসমতী চাল উপহার পাঠিয়েছিলো আনন্দিত ভূট্টো।

শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৭৩ সালে আয়েন্দে নিহত হওয়ার পর শেখ মুজিব অনেক জনসভায় বলতেন, আমাকে যদি আয়েন্দের মতো হত্যাও করা হয় ... ইত‌্যাদি ইত্যাদি। সারা পৃথিবীতেই তখন ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে মার্কিন স্বার্থের সাথে সমাক্ষ শক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডে দুয়েকটা ক্যাপ্টেন-মেজরের ভূমিকা নিতান্ত কামলা পর্যায়ে। যারা আরো উঁচুতে ছিলো, তারা আরামসে ফসকে গেছে।

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

হিমাগ্নি এর ছবি

প্ল্যান সম্পর্কে যদি সামরিক বাহিনীর মাথা পর্যন্ত অবগত থাকে, তাহলে তো আমি বলতেই পারি যে ওসমানি ও জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন।

এই সত্য তাহলে কেন মুখ ফুটে সবাই বলে না??? নাকি তারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন দেখে তাদের নিয়ে এসব বলা হয় না???
আর এসব কথা খোলাখুলি ভাবে নতুন প্রজন্মকেই বা জানানো হয় না কেন???

হিমু এর ছবি

এই কথা মুখ ফুটে বহু লোকেই বলে, আমরা খেয়াল করে শুনি না হয়তো। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় সমস্যা এখানেই। খালেদা জিয়া ১৫ অগাস্ট ফেইক জন্মদিন সেলিব্রেট করে কেক কেটে। বাংলাদেশে বড় একটা রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে আরেকটা বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পৃথিবীতে এরকম সহাবস্থান খুব বেশি নাই কিন্তু। এমনকি পাকিস্তানেও না।

নতুন প্রজন্মকে খোলাখুলিভাবে কোনো পক্ষই কিছু জানাবে না কারণ সবারই কাবার্ডের ভেতরে কঙ্কাল আছে। আর নতুন প্রজন্ম তো রিটার্ড না। তারা নিজেদের দেশ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে খোঁজখবর নিয়ে সব জানবে। কে কাকে কবে মুখে তুলে সব খাওয়ায় দিয়েছে?

আমার এক চিলেনিজ বান্ধবীকে আয়েন্দে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। সে প্রায় কিছুই বলতে পারলো না, কারণ তাদের টেক্সট বইতে ঐ সময়টা নিয়ে নাকি কিছুই নাই। বাংলাদেশেও ঐরকম একটা জেনারেশন তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে বহু বছর ধরে, এবং সেই চেষ্টা, মাঝেমধ্যে কিছু নমুনা দেখে মনে হয়, ভালোই সফল।

ইতিহাস জানা দরকার বর্তমান আর ভবিষ্যতের স্বার্থেই। শুনেছি হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম খোন্দকার মুশতাকের পিএস ছিলো আর মখা আলমগীর ছিলো জিয়াউর রহমানের খালকাটার বুদ্ধির যোগানদার, এই তথ্যগুলি জানা থাকলে এদের ইভ্যালুয়েট করতে সুবিধা হয়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

১/

খালেদা জিয়া ১৫ অগাস্ট ফেইক জন্মদিন সেলিব্রেট করে কেক কেটে। বাংলাদেশে বড় একটা রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে আরেকটা বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পৃথিবীতে এরকম সহাবস্থান খুব বেশি নাই কিন্তু। এমনকি পাকিস্তানেও না।

শুধু তাই না, সরকারে থাকা অবস্থায় বিরোধিদলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বন্দোবস্ত করে ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীদের আরামে পালিয়ে যেতে দিয়ে বৈধভাবে রাজনীতি করে যাওয়া নেতার নজিরও খুব কম দেশেই মিলবে। বেনজিরের হত্যাকারীরা টিকে আছে অবশ্য।

২/
ভাসানীকেও ৭৫ এর ঐতিহাসিক বাস্তবতায় চেনা যায় চমৎকার।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হিমাগ্নি এর ছবি

আপনি বললেন , "আর নতুন প্রজন্ম তো রিটার্ড না। তারা নিজেদের দেশ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে খোঁজখবর নিয়ে সব জানবে। "

স্কুলের নিম্ন মাধ্যমিক থেকে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত কোথাও এ সমপর্কে কিচ্ছু নেই। তাহলে তারা এ সম্পর্কে জানবে কীভাবে? এগুলো জানার সোর্স এদের কে দিবে? যখন একেক ক্লাসে এরা স্বাধীনতার ঘোষকের টানাপোড়েনে ঘুরপাক খায়, তখন এদেরকে এসব নিয়ে বা চার নেতার ঘটনা নিয়ে কিছুই জানানো হয় না। ফলাফল, এরা তৎকালীন সময় সম্পর্কে হয় অজ্ঞ বা ধোঁয়াশায় থেকে যায় তাদের জ্ঞান। যদি এসমস্ত ঘটনা জানান হত, তাহলে হয়ত আপনাকে এত কষ্ট করে এসব লিখতেও হোত না।

আপনি এখন বলতেই পারেন, আমি রিটার্ড, আমি দেশের ইতিহাসের খোঁজ নেই না। কিন্তু আমি বাজি রেখে বলতে পারি, এখনকার তরুণ প্রজন্মের ৮০ ভাগের ও বেশি এসবের কিছুই জানেনা। আর যারা এসব ছাত্ররাজনীতি করে, তাদের ৯৫ ভাগের এসব নিয়ে কোন মাথা ব্যাথাও নেই। তারা আছে মারামারি, লুটপাট আর ক্ষমতার অন্ধ মোহে ঠিক তাদের অগ্রজদের মত।

এদেশের মানুষ মনে হয় তাড়াতাড়ি সব কিছু ভুলে যায়। আমরা এখন রাজাকারদের সম্মান দেখাই, চোরদের রাজা বানাই।আর সেইসব চোররা তাদের অতীত নিয়ে অশ্রুসজলে ভরা কথাবার্তা বলে ঠিকই, কিন্তু তাদের আবেগ থেকে নয়, ক্ষমতার লোভে সব নাটক। আর এদের জন্য জান দিতে হয় আমাদের মত পাছা মারা খাওয়া সাধারণ নাগরিকদের।

হিমু এর ছবি

বাঁচতে হলে জানতে হবে। আর জানতে হবে নিজের উদ্যোগেই।

হিমাগ্নি এর ছবি

অবশ্যই। কিন্তু আমাদের সামনে ইতিহাসের এই অধ্যায় এমন ভাবে তুলে ধরা যে, ভালমত কিছুই জানা যায় না,জানা যায় না কোন কারণও। কষ্টটা সেখানেই। যদি জানানোর জন্য কেউ কোন ইচ্ছা প্রকাশ করত তাহলে জানার আগ্রহ আরো বেড়ে যেত নতুনদের মাঝে। ইতিহাস ব্যাপারটাই এমন, আগ্রহ জন্মাতে হয় এর জন্য। আর আগ্রহ জন্মানোর জন্য অন্তত কিছু লাগে।
জিনিসটা দেখে ভাল্লাগছে যে, আমরা অন্তত এখানে তৎকালীন সময় নিয়ে আলোচনা করছি। আরো ভাল হত যদি, হুআ'র বিতর্কিত লেখা বের হওয়ার আগেই এটা নিয়ে এভাবে যদি আলোচনা হত (হয়ত হুআ'র মিথ্যাচার নিয়ে কথা হত না, কিন্তু ঐ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আলোকপাত হত)।

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

নতুন পাঠক এর ছবি

হিমাগ্নি, ওসমানি যে বঙ্গবন্ধু হতায় জড়িত এটা বুঝতে বানরের বুদ্ধির চেয়ে বেশী বুদ্ধি লাগেনা! চোখ-কান খোলা রাখুন তখন নিজে নিজেই সব বুজতে পারবেন।

তানজিম এর ছবি

ঠিক কথা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মন্ত্রীসভার বৈঠকে ঢুকে খালেদ মোশাররফ যখন চড় দিয়ে মুস্তাককে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছিলেন ওসমানী না থাকলে ওইদিনই মুস্তাক নাই হয়ে যেত।
আমার দুইখান প্রশ্ন-
১। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড হয়েছিল অগাস্টে, ৪ নেতা হত্যাকান্ড হয় সেই নভেম্বরে গিয়ে। এই সুদীর্ঘ আড়াইমাস দেশের প্রথম সারির ৪ নেতাকে ফাটকে পুরে রেখেছিল কোন শক্তি?
২। মুস্তাক কে কি বঙ্গবন্ধু হত্যার চার্জশিটে আসামি করা হয়েছিল কিনা?

হিমু এর ছবি

খোন্দকার মুশতাককে চড় দিয়ে চেয়ার থেকে মেঝেতে ফেলে দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল গাফফার বীর উত্তম, খালেদ মোশাররফ না।

নাদির জুনাইদ এর ছবি

জনাব তানজিম,

খালেদ মোশাররফ খন্দকার মুশতাককে চড় মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেননি। বরং খালেদ মোশাররফ যদি সেসময় খুব শক্ত হতে পারতেন তাহলে মুশতাকও আস্ফোলন করার সুযোগ পেতো না, হয়তো দেশের পরবর্তী ইতিহাস অন্যরকম হতো। আপনি যেদিনের কথা বলেছেন সেদিন বঙ্গভবনে মুশতাকের আস্ফোলন সরাসরি শক্তিপ্রয়োগ করে থামিয়েছিলেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল আর মেজর ইকবাল; আর তখনই ওসমানী বাধা দেয়।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যে শক্তি ক্ষমতায় আসে তারাই দেশের চার নেতাকে জেলে পুরে রেখেছিলো। এটা বুঝতে কী কোন সমস্যা হওয়ার কথা? আর কারা সেই শক্তি, কাদের আশীর্বাদধন্য তাও তো না বুঝতে পারার কোন কারণ নেই।

হিমাগ্নি এর ছবি

তাই ভাইয়া? তাহলে আমি আবাল। আমার মাথায় গোবর । আমার মাথায় বুদ্ধি ১ ছটাক ও নাই। আর এখানে বুদ্ধির কথা কেন আসছে? আমিতো ফ্যুরিয়ার ট্রান্সফর্মেশন করছি না, আমিতো খালি জানতে চাচ্ছি আসল ঘটনা কী হয়েছিল। চোখ কান তো দেশের সব মানুষেরই খোলা আছে, কয়জন জানে?
আমি জানি না দেখে ভাবছি না যে কেউ জানে না। আমি নিদেন পক্ষে ৩০ জনকে জিজ্ঞেস করেছি বিভিন্ন জায়গার তরুণদের। তারা বালটাও জানে না।

নতুন পাঠক এর ছবি

কারো কাছে জিগ্যেস করে আপনি কিছু পাবেন বলে আমি মনে করিনা। কেউ কিছু বললেও আপনার বিশবাস হবেনা -- ঘটনা অত্যন্ত নাটকীয়! সম্পূর্ণ ঘটনা আপনি কোথাও পাবেনও না। চোখ-কান খোলা রাখুন মানেঃ পড়াশুনা করুন, ঘটনা বিশ্লষণ করুন, অংকটা মেলানুর চেষ্টা করুন -- অংকটা সরল!

কর্ণেল হামিদের লেখা বইটি দিয়ে শুরু করুন, এ লিগাসি অব ব্লাড, মেজর শাফায়াত জামিলের একটা বই আছে, কর্ণেল তাহেরের একটা স্ট্যাটম্যান্ট (অন লাইনে আছে), মেজর ডালিমের "যা দেখেছি, যা বুঝেছি, যা করেছি" (অন লাইনে আছে), মেজর হাফিজের বইটি পড়ুন। আরো কছু তথ্য অনলাইনে ঘেটে পাবেন -- আপনার প্রয়োজন মতো। কোন-কোন তথ্য আপনি গ্রহণ করবেন কোনটা বর্জন করবেন, সেটা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন! এবার মেলান অংক -- প্রবাবিলিটি ক্যালকুলেট করে দেখুন ওসমানী, জিয়া, তাহের কত স্কোর পায়!

অন্য কারো উপরে কেন আপনি নির্ভর করবেন? আপনার বুদ্ধি অবশ্যই বানরের চেয়ে বেশী বলেই আমি বিশবাস করি!

হিমাগ্নি এর ছবি

চেষ্টা করব বইগুলো যোগাড় করে পড়ার। যদি লিঙ্ক দিতে পারেন, তাহলে কৃতার্থ হব। কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের সবার সামনে এসব তথ্য তুলে ধরে সঠিক ইতিহাস সবার সামনে উন্মুক্ত করা। নিজে জেনে চুপ করে বসে থাকার চেয়ে আরো দশজনকে জানানো ভাল। তাহলে এসব নিয়ে ভবিষ্যতে মায়াকান্নার রাজনীতিও হবে না, সবাই আসল ইতিহাসটা নিরূপণ করে নিতে পারবে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

হিমাগ্নি ভাইয়া, আমিও আপনার প্রজন্মেরই একজন। আমিও খুব বেশি জানি না, তবে জানবার চেষ্টা করি অবশ্যই। আপনার কথা সত্যি, বর্তমান প্রজন্ম জানে না। কেন ? কারণ আমার মনে হয় জানার চেষ্টা খুব কম মানুষই করছেন।

উপরে নতুন পাঠক বেশ কিছু বইয়ের নাম লিখেছেন। সেগুলো দেখতে পারেন। নাক গলানো না মনে করলে আমি একটা কথা বলি। শ্রদ্ধেয় শাহাদুজ্জামানের 'ক্রাচের কর্ণেল' উপন্যাসের পেছনে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ গ্রন্থতালিকা আছে। এই তালিকার বইগুলো যোগাড় করে পড়তে পারেন। ঘটনাগুলোর ক্রম বুঝতে পারার কথা এতে। তালিকার বাইরেও এ সম্পর্কে আরো অনেক অনেক বই আছে, সেগুলোর কথা পড়তে পড়তেই জেনে যাবেন হাসি

হিমাগ্নি এর ছবি

চেষ্টা করব সব পড়ার। হাসি

তোফায়েল এর ছবি

"যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি "-মেজর ডালিম

রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। দুস্কৃতিকারী দমন অভিযানে সেনাবাহিনী তখনও সারাদেশে নিয়োজিত। আমার খালাতো বোন তাহ্‌মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই। বিয়ের দু’দিন আগে ঢাকায় এলাম কুমিল্লা থেকে। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই বিয়েতে অনেক গন্যমান্য সামরিক এবং বেসামরিক লোকজন বিশেষ করে হোমরা-চোমরারা এসেছিলেন অতিথি হিসেবে। পুরো অনুষ্ঠানটাই তদারক করতে হচ্ছিল নিম্মী এবং আমাকেই। আমার শ্যালক বাপ্পি ছুটিতে এসেছে ক্যানাডা থেকে। বিয়েতে সেও উপস্থিত। বিয়ের কাজ সুষ্ঠভাবেই এগিয়ে চলেছে। রেডক্রস চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারও উপস্থিত রয়েছেন অভ্যাগতদের মধ্যে। বাইরের হলে পুরুষদের বসার জায়গায় বাপ্পি বসেছিল। তার ঠিক পেছনের সারিতে বসেছিল গাজীর ছেলেরা। বয়সে ওরা সবাই কমবয়সী ছেলে-ছোকরা। বাপ্পি প্রায় আমার সমবয়সী। হঠাৎ করে গাজীর ছেলেরা পেছন থেকে কৌতুকচ্ছলে বাপ্পির মাথার চুল টানে, বাপ্পি পেছনে তাকালে ওরা নির্বাক বসে থাকে। এভাবে দু’/তিনবার চুলে টান পড়ার পর বাপ্পি রাগান্বিত হয়ে ওদের জিজ্ঞেস করে,

-চুল টানছে কে?

-আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল না পরচুলা। জবাব দিল একজন। পুচঁকে ছেলেদের রসিকতায় বাপ্পি যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভীষণ ক্ষেপে যায়; কিন্তু কিছুই বলে না। মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পি যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,

-বেয়াদপ ছেলে মশকারী করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর ঐ জায়গায় বসতে পারবে না। এ কথার পর বাপ্পি আবার তার জায়গায় ফিরে আসে। এ ঘটনার কিছুই আমি জানতাম না। কারণ তখন আমি বিয়ের তদারকি এবং অতিথিদের নিয়ে ভীষণভাবে ব্যস্ত। বিয়ের আনুষ্ঠিকতার প্রায় সবকিছুই সুষ্ঠভাবেই হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ। অতিথিরা সব ফিরে যাচ্ছেন। সেদিন আবার টেলিভিশনে সত্যজিৎ রায়ের পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মহানগর’ ছবিটি দেখানোর কথা; তাই অনেকেই তাড়াতাড়ি ফিরে যাচ্ছেন ছবিটি দেখার জন্য। অল্প সময়ের মধ্যেই লেডিস ক্লাব প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। মাহবুবের আসার কথা। মানে এসপি মাহবুব। আমাদের বিশেষ ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন। আমরা সব একইসাথে যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। কি এক কাজে মানিকগঞ্জ যেতে হয়েছিল তাকে। ওখান থেকে খবর পাঠিয়েছে তার ফিরতে একটু দেরী হবে। ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা সবেমাত্র তখন খেতে বসেছি। হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা কার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী বেসামরিক ব্যক্তি। গাড়ি থেকেই প্রায় চিৎকার করতে করতে বেরুলেন গাজী গোলাম মোস্তফা।

-কোথায় মেজর ডালিম? বেশি বার বেড়েছে। তাকে আজ আমি শায়েস্তা করব। কোথায় সে? আমি তখন ভেতরে সবার সাথে খাচ্ছিলাম। কে যেন এসে বলল গাজী এসেছে। আমাকে তিনি খুঁজছেন। হঠাৎ করে গাজী এসেছেন কি ব্যাপার? ভাবলাম বোধ হয় তার পরিবারকে নিয়ে যেতে এসেছেন তিনি। আমি তাকে অর্ভ্যথনা করার জন্য বাইরে এলাম। বারান্দায় আসতেই ৬-৭জন স্টেনগানধারী আমার বুকে-পিঠে-মাথায় তাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘিরে দাড়াল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমিতো হতবাক! কিছুটা অপ্রস্তুতও বটে। সামনে এসে দাড়ালেন স্বয়ং গাজী। আমি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-ব্যাপার কি? এ সমস্ত কিছুর মানেই বা কি?

তিনি তখন ভীষণভাবে ক্ষীপ্ত। একনাগাড়ে শুধু বলে চলেছেন,
-গাজীরে চেন না। আমি বঙ্গবন্ধু না। চল্‌ শালারে লইয়া চল্‌। আইজ আমি তোরে মজা দেখামু। তুই নিজেরে কি মনে করছস?
অশালীনভাবে কথা বলছিলেন তিনি। আমি প্রশ্ন করলাম,
-কোথায় কেন নিয়ে যাবেন আমাকে?

আমার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিনি নির্দেশ দিলেন তার অস্ত্রধারী অনুচরদের। তার ইশারায় অস্ত্রধারীরা সবাই তখন আমাকে টানা-হেচড়া করে মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বিয়ের উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করা হয়েছে; গাড়িতে আমার এস্কট সিপাইরাও রয়েছে। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। একটা বিয়ের অনুষ্ঠান। কন্যা দান তখনও করা হয়নি। কি কারণে যে এমন অদ্ভুত একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখলাম বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আলম এবং চুল্লুকে মারতে মারতে একটা মাইক্রোবাসে উঠালো ৩-৪ জন অস্ত্রধারী। ইতিমধ্যে বাইরে হৈ চৈ শুনে নিম্মী এবং খালাম্মা মানে তাহমিনার আম্মা বেরিয়ে এসেছেন অন্দরমহল থেকে।

খালাম্মা ছুটে এসে গাজীকে বললেন,
-ভাই সাহেব একি করছেন আপনি? ওকে কেন অপদস্ত করছেন?
কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে? কি দোষ করেছে ও?

গাজী তার কোন কথারই জবাব দিলেন না। তার হুকুমের তামিল হল। আমাকে জোর করে ঠেলে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বাসে উঠে দেখি আলম ও চুল্লু দু’জনেই গুরুতরভাবে আহত। ওদের মাথা এবং মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।

-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।

গাজীর ইশারায় ওদেরকেও ধাক্কা দিয়ে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বেচারী খালাম্মা! বয়স্কা মহিলা, আচমকা ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মাইক্রোবাসের ভিতরে। আমার দিকে অস্ত্রতাক করে দাড়িয়ে থাকলো পাঁচজন অস্ত্রধারী; গাজীর সন্ত্রাস বাহিনীর মাস্তান। গাজী গিয়ে উঠল তার কারে। বাকি মাস্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটা কোথায় যেন চলে গেল। মাইক্রোবাস দুইটি ছিল সাদা রং এর এবং তাদের গায়ে ছিল রেডক্রসের চিহ্ন আঁকা। গাজীর গাড়ি চললো আগে আগে আর আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চললো তার পেছনে। এসমস্ত ঘটনা যখন ঘটছিল তখন আমার ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন বীর বিক্রম ও বাপ্পি লেডিস ক্লাবে উপস্থিত ছিল না। তারা গিয়েছিল কোন এক অতিথিকে ড্রপ করতে। আমাদের কাফেলা লেডিস কা্লব থেকে বেরিয়ে যাবার পর ওরা ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা জানতে পারে লিটুর মুখে। সবকিছু জানার পরমুহুর্তেই ওরা যোগাযোগ করল রেসকোর্সে আর্মি কন্ট্রোল রুমে তারপর ক্যান্টনমেন্টের এমপি ইউনিটে। ঢাকা ব্রিগেড মেসেও খবরটা পৌঁছে দিল স্বপন। তারপর সে বেরিয়ে গেল ঢাকা শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য। আবুল খায়ের লিটু আমার ছোট বোন মহুয়ার স্বামী এবং আমার বন্ধু। ও ছুটে গেল এসপি মাহবুবের বাসায় বেইলী রোডে। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা।

এদিকে আমাদের কাফেলা গিয়ে থামল রমনা থানায়। গাজী তার গাড়ি থেকে নেমে চলে গেল থানার ভিতরে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসলেন গাজী। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। কাফেলা এবার চলছে সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে। ইতিমধ্যে নিম্মী তার শাড়ী ছিড়ে চুল্লু ও আলমের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ বেধে দিয়েছে। সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। গাজীর মনে কোন দুরভিসন্ধি নেইতো? রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে নাতো? ওর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। কিছু একটা করা উচিত। হঠাৎ আমি বলে উঠলাম,
-গাড়ি থামাও!
আমার বলার ধরণে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। আমাদের গাড়িটা থেমে পড়ায় সামনের গাজীর গাড়িটাও থেমে পড়ল। আমি তখন অস্ত্রধারী একজনকে লক্ষ্য করে বললাম গাজী সাহেবকে ডেকে আনতে। সে আমার কথার পর গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে গাজীকে গিয়ে কিছু বলল। দেখলাম গাজী নেমে আসছে। কাছে এলে আমি তাকে বললাম,
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।

আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম। কলাবাগান দিয়ে ৩২নং রোডে ঢুকে আমাদের মাইক্রোবাসটা শেখ সাহেবের বাসার গেট থেকে একটু দূরে এলকটা গাছের ছায়ায় থামতে ইশারা করে জনাব গাজী তার গাড়ি নিয়ে সোজা গেট দিয়ে ঢুকে গেলেন ৩২নং এর ভিতরে। সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট তখন শেখ সাহেবের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। একবার ভাবলাম ওদের ডাকি, আবার ভাবলাম এর ফলে যদি গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় তবে ক্রস-ফায়ারে বিপদের ঝুঁকি বেশি। এ সমস্তই চিন্তা করছিলাম হঠাৎ দেখি লিটুর ঢাকা ক-৩১৫ সাদা টয়োটা কারটা পাশ দিয়ে হুস্‌ করে এগিয়ে গিয়ে শেখ সাহেবের বাসার গেটে গিয়ে থামল। লিটুই চালাচ্ছিল গাড়ি। গাড়ি থেকে নামল এসপি মাহবুব। নেমেই প্রায় দৌড়ে ভিতরে চলে গেল সে। লিটু একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষায় রইলো সম্ভবত মাহ্বুবের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। লিটু এবং মাহ্বুবকে দেখে আমরা সবাই আস্বস্ত হলাম। র্নিঘাত বিপদের হাত থেকে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌’তায়ালা আমাদের বাচিঁয়ে দিলেন।
লিটু যখন মাহ্‌বুবের বাসায় গিয়ে পৌঁছে মাহবুব তখন মানিকগঞ্জ থেকে সবেমাত্র ফিরে বিয়েতে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হঠাৎ লিটুকে হন্তদন্ত হয়ে উপরে আসতে দেখে তার দিকে চাইতেই লিটু বলে উঠল,
-মাহ্বুব ভাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিয়ে বাড়ি থেকে গাজী বিনা কারণে ডালিম-নিম্মীকে জবরদস্তি গান পয়েন্টে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
একথা শুনে মাহবুব স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকেই খবরটা সবচেয়ে আগে দেওয়া দরকার কোন অঘটন ঘটে যাবার আগে। গাজীর কোন বিশ্বাস নাই; ওর দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। মাহবুব টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ টেলিফোনটাই বেজে উঠে। রেড টেলিফোন। মাহবুব ত্রস্তে উঠিয়ে নেয় রিসিভার। প্রধানমন্ত্রী অপর প্রান্তে,
-মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ-এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।
সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,
-স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?
-ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
-স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ। জানাল মাহবুব।
-কছ কি তুই! প্রধানমন্ত্রী অবাক হলেন।
-আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।
এই কথোপকথনের পরই মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসে ৩২নং ধানমন্ডিতে। মাহ্‌বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেহানা, কামাল ছুটে বাইরে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে শেখ সাহেব ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে উঠেন।
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। অদূরে গাজী ভেজা বেড়ালের মত কুকড়ে দাড়িয়ে কাঁপছিল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। রেড ফোন। শেখ সাহেব নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে। বাসা থেকে খবর দিল আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সমস্ত শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই ইয়ং-অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছে এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। সমস্ত শহরে হৈচৈ পড়ে গেছে। গাজীরও কোন খবর নেই। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর শেখ সাহেবের মুখটা কালো হয়ে গেল। ফোন পেয়েই তিনি আমাদের সামনেই আর্মি চীফ শফিউল্লাহকে হটলাইনে বললেন,
-ডালিম, নিম্মী, গাজী সবাই আমার এখানে আছে, তুমি জলদি চলে আসো আমার এখানে।
ফোন রেখে শেখ সাহেব গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে? এর উপযুক্ত জবাব আমি আজ চাই আপনার কাছ থেকে। আজ পর্যন্ত আপনি বলতে পারবেন না ব্যক্তিগতভাবে কোন কিছু চেয়েছি আপনার কাছে কিন্তু আজ দাবি করছি ন্যায্য বিচার। আপনি যদি এর বিচার না করেন তবে আমি আল্লাহ্‌র কাছে এই অন্যায়ের বিচার দিয়ে রাখলাম। তিনি নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন।

আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।

রেহানা এসে নিম্মীকে উপরে নিয়ে গেল। ইতিমধ্যে জেনারেল শফিউল্লাহ এবং ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার সাফায়াত জামিল এসে পৌঁছেছে। শেখ সাহেব তাদের সবকিছু খুলে বলে জেনারেল শফিউল্লাকে অনুরোধ করলেন গাজীর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে। জেনারেল শফিউল্লাহ রেসকোর্স কন্ট্রোল রুমে অপারেশন কমান্ডার মেজর মোমেনের সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোন তুলে নিলেন,
-হ্যালো মোমেন, আমি শফিউল্লাহ বলছি প্রাইম মিনিষ্টারের বাসা থেকে। ডালিম, নিম্মী, গাজী ওরা সবাই এখানেই আছে। প্রাইম মিনিষ্টারও এখানেই উপস্থিত আছেন। Everything is going to be all right. Order your troops to stand down এবং গাজী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দাও। অপরপ্রান্ত থেকে মেজর মোমেন জেনারেল শফিউল্লাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া অফিসার এবং তার স্ত্রীকে না দেখা পর্যন্ত এবং গাজী ও তার ১৭জন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তার হাতে সমর্পন না করা পর্যন্ত তার পক্ষে
গাজীর পরিবারের কাউকেই ছাড়া সম্ভব নয়। শফিউল্লাহ তাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু মেজর মোমেন তার অবস্থানে অটল থাকলেন শফিউল্লাহর সব যুক্তিকে অসাড় প্রমাণিত করে। অবশেষে শফিউল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অপারেশন কমান্ডার এর শর্তগুলো জানালেন। শেখ সাহেবের মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন মেজর মোমেনের সাথে কথা বলতে। আমি অগত্যা টেলিফোন হাতে তুলে নিলাম,
-হ্যালো স্যার। মেজর ডালিম বলছি। Things are under control প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন তিনি ন্যায় বিচার করবেন।
- Well Dalim it’s nice to hear from you. But as the Operation Commander I must have my demands met. I got to be loyal to my duty as long as the army is deployed for anti-miscreant’s drive. The identified armed miscreants cannot be allowed to go escort free. As far as I am concerned the law is equal for everyone so there can’t be any exception. Chief has got to understand this.বললেন মেজর মোমেন।
- Please Sir, why don’t you comeover and judge the situation yourself. অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি।
- There is no need for me to come. However, I am sending Capt. Feroz. বলে ফোন ছেড়ে দিলেন মেজর মোমেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ক্যাপ্টেন ফিরোজ এসে পড়ল। ফিরোজ আমার বাল্যবন্ধু। এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
-তুই গাজীরে মাফ কইরা দে। আর গাজী তুই নিজে খোদ উপস্থিত থাকবি কন্যা সম্প্রদানের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত। অনেকটা মোড়লী কায়দায় একটা আপোষরফা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
-আমার বোনের সম্প্রদানের জন্য গাজীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। ওকে মাফ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা হবে আমার জন্য নীতি বিরোধিতা। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি রক্তের বিনিময়ে। আমাদের গা থেকে রক্ত ঝরাটা কোন বড় ব্যাপার নয়। ইউনিফর্মের চাকুরি করি টাকা-পয়সার লোভেও নয়। একজন সৈনিক হিসাবে আমার আত্মমর্যাদা এবং গৌরবকে অপমান করেছেন গাজী নেহায়েত অন্যায়ভাবে। আপনিই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁজে বের করে আইনানুযায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে। সেখানে আজ আমাদেরই ইজ্জত হারাতে হল অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে! আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকব।

ক্যাপ্টেন ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে সবার সামনেই বলেছিলাম, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিচারের ওয়াদা করেছেন সেক্ষেত্রে গাজীর পরিবারের সদস্যদের আর আটকে রাখার প্রয়োজন কি? কর্নেল মোমেনকে বুঝিয়ে তাদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করিস।
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম ঠিক সেই সময় শেখ সাহেব বললেন,
-আমার গাড়ি তোদের পৌঁছে দেবে।
-তার প্রয়োজন হবে না চাচা। বাইরে লিটু-স্বপনরা রয়েছে তাদের সাথেই চলে যেতে পারব।
বাইরে বেরিয়ে দেখি ৩২নং এর সামনের রাস্তায় গাড়ির ভীড়ে তিল ধারণের ঠাই নেই। পুলিশ অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবরা যারাই জানতে পেরেছে আমাদের কিডন্যাপিং এর ব্যাপারটা; তাদের অনেকেই এসে জমা হয়েছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। আমাদের দেখে সবাই ঘিরে ধরল। সবাই জানতে চায় কি প্রতিকার করবেন প্রধানমন্ত্রী এই জঘণ্য অপরাধের। সংক্ষেপে যতটুকু বলার ততটুকু বলে ফিরে এলাম লেডিস ক্লাবে। মাহবুবও এল সাথে। মাহবুবের উছিলায় সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম চরম এক বিপদের হাত থেকে আল্লাহ্‌পাকের অসীম করুণায়। বিয়ের আসরে আমরা ফিরে আসায় পরিবেশ আবার আনন্দ-উচ্ছাসে ভরে উঠল। সবাই আবার হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করে কন্যা সম্প্রদান করা হল। তাহমিনার বিয়ের রাতটা আওয়ামী দুঃশাসনের একটা ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে থাকলো। জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকলো আওয়ামী নেতাদের এবং তাদের ব্যক্তিগত বাহিনীর ন্যাক্কারজনক স্বেচ্ছাচার ও নিপীড়নের। কী করে এমন একটা জঘণ্য ঘটনার সাথে গাজী সরাসরি নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পেরেছিল তার কোন যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলাম আমাদের কুমিল্লা অপারেশনের পর পার্টির তরফ থেকে শেখ মুজিবের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদের বিশেষ করে আমার ঔদ্ধত্বের উপযুক্ত শিক্ষা দেবার জন্য। কিন্তু শেখ মুজিব ঐ চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “আর্মি কোন কাঁচা কাজ করে নাই। তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করছে, প্রত্যেককে ধরেছে হাতেনাতে প্রমাণসহ সে ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?” তার ঐ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী নেতাদের একাংশ। আইনের মাধ্যমে যদি কোন কিছু করা না যায় তবে অন্য কোনভাবে হলেও শিক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং সেই দায়িত্বটাই গ্রহণ করেছিলেন সেই সময়ের Top terror and most powerful leader বলে পরিচিত গাজী গোলাম মোস্তফা। তখন থেকেই নাকি সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি জিঘাংসা মিটাতে। বিয়ে বাড়িতে বাপ্পি এবং তার ছেলেদের মাঝে যে সামান্য ঘটনা ঘটে সেটাকেই সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে গাজী চেয়েছিল আমাকে উচিত শিক্ষা দিতে। এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি তার বই ‘বাংলাদেশ! সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্রের সংকট’ এ লিখেছেন, “গাজী সমর্থক লোকদের সম্ভবতঃ মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”

হিমু এর ছবি

মেজর ডালিম গাজী গোলাম মোস্তফার বালটাও নিশ্চয়ই পরে ছেঁড়ে নাই? খুন করে আসছে শেখ মুজিবকে। ইডিয়েট।

বালক এর ছবি

চলুক

____________________________________________________________________
"জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক;
আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো
এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।"

নতুন পাঠক এর ছবি

ডালিমের লেখা বই আসমানী কিতাব মনে করে আপলোড করে দেয়ার উদ্দেশ্য ভাল বলে মনে হচ্ছেনা! নিজে লিখার চেষ্টা করুন।

ডালিম এবং গাজী মোস্তফা দুইটাই পাজির হদ্দ ছিল! যাইহোক, বইয়ের তথ্যগুলি আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি -- অনেকটাই ডালিমের চারিত্রিক অস্থিরতা/ভন্ডামির কারনে। তবে, বইটা পড়লে মাদারচোদের দল হত্যাকান্ডের আগে-পরে কাদের সাথে যোগাযোগ রাখত তা বুঝা যায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

কার কাছে যেন শুনেছিলাম বা লেখায় পড়েছিলাম যে "লিগ্যাসি অব ব্লাড" একটা ফরমায়েসি বই এবং এর অনেক ব্যাপারই নাকি ভুল। কেউ কি ক্লিয়ার করবেন ব্যাপারটা? হিম্ভাই এর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সুবোধ অবোধ

হিমু এর ছবি
arif এর ছবি

আমেরিকা আমেরিকা ।।।।।।।।।।।।। We're all living in America
America is wonderful
We're all living in America
America, America
----------------------- Rammstein

নিটোল এর ছবি

চলুক চলুক

_________________
[খোমাখাতা]

স্যাম এর ছবি

গুরু গুরু

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

মন্তব্যগুলোতেই বেশ কয়েকটা সূত্র এসেছে-- যা উপরে হিমুর মন্তব্যেও আছে।

শারেক শহিদ এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটি প্রকাশ শুরু হয়েছিল অন্যদিন এর বর্ষ ১৬, সংখ্যা ০৮ (১৬-৩১ মে, ২০১১) তে । সর্বমোট ৫টি পর্ব প্রকাশিত হবার পর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়, সম্ভবতঃ তাঁর অসুস্থতার জন্য । ওপরে ১০১ নম্বর মন্তব্যে মনিকা'র মন্তব্যের সুত্র ধরে খুঁজে বের করলাম অন্যদিন এর অনলাইন প্রকাশনা থেকে ।
অন্যদিন এর প্রকাশিত অংশ আর প্রথম আলোতে প্রকাশিত অংশ পড়ে কিছু কথা মনে হল ।

১। অন্যদিন এ প্রকাশকালে এটা কোন আলোচনাতেই আসেনি, অনন্তঃ আমি পড়িনি । কিন্তু যেরকম সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এ উপন্যাস লেখা, আরো আগেই চোখে পড়া উচিত ছিল । প্রথম আলোর বিপুল পাঠকসংখ্যার জন্যই মনে হচ্ছে এখন এনিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হচ্ছে ।

২। তবে প্রথম আলোতে প্রকাশিত অংশ দেখে মনে হচ্ছে এর মধ্যেই উপন্যাসের বিন্যাসের মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে । মজার বিষয় হল অন্যদিন এর অংশটুকু এতটা বিস্ফোরক নয়, অনেকটা হুমায়ুনীয় ভঙ্গীতে লেখা ঘরোয়া উপন্যাস । প্রথম আলোর অংশটুকুকি ইচ্ছে করেই এমন করা ? উপন্যাসের এক ধরনের বিজ্ঞাপন ? নাকি মানুষের সহনশীলতার মাত্রা নির্ণয় ?

৩। এই বইটা কি প্রকাশ হওয়া উচিত নয় ? হুমায়ুন আহমেদের লেখা বলে বহুল পঠিত হবে, এবং সেই সুত্রে জাতির এই অন্ধকার যুগ নিয়ে আরো বিস্তর আলোচনা হবে । তাতে আরো অনেক সত্যই কি উঠে আসবে না ? নিশ্চিতভাবেই এটা অনেক অপরিপক্ক পাঠকের মধ্যে ইতিহাসের ভুল বিস্তারের বীজ বপন করবে । (যে শংসা হিমু ওপরে বারবার বলছেন, যে কারনে এই বই নিয়ে এত আলোচনা ) । আর এর জন্যই হুমায়ুন আহমেদ এর কাছ থেকেও অনেক বেশি দায়িত্বশীলতা আশা করা হচ্ছে, যদিও প্রকাশিত অংশতেই তিনি এর মাঝে দৃশ্যত হতাশ করেছেন এ ব্যাপারে ।

কুমার এর ছবি

এইখানে দেয়ালের ৫টি পর্বের ডাউনলোড লিঙ্ক পেলাম। এই শফিক-কাদের ডুও নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস আছে, নাম সম্ভবত "সৌরভ", পটভূমি ১৯৭১ এর জুন-জুলাই মাস। সেটিও বিরাট রম্য বিশেষ।

স্টুয়িক রাসেল এর ছবি

দুই অধ্যায় পড়ে যে বায়ুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে , সামনে যে একটা বিষ্ঠা আসন্ন সেটা মোটামুটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় । হু আ সাহেব চিকিতসার টাকা যোগাড় করার জন্য এরকম একটা বিষ্ঠা উপন্যাস লিখা শুরু করেছেন। অথচ অবাক করা ব্যাপার হল , হুমা অন্ধ ভক্তরা সেটাকে মধু মনে করে অলরেডি গোগ্রাসে খাওয়া শুরু করেছেন।

kanij fatema এর ছবি

হাততালি

নিলয় নন্দী এর ছবি

এমনইতেই হু আ হিট লেখক।
বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব নিচ্ছে আলু পেপার।
সর্বোপরি, বইটা হতে যাচ্ছে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

হাসি আমরা তাহলে একাত্তরের চিঠির মতো মারমার কাটকাট একটা বই পেতে যাচ্ছি।
সাবাস প্রথমা। সাবাস প্রথমালো।
বিষয় যাই হোক। ব্যবসা আসন্ন।

সম্পাদনায় সংযুক্ত- যা হোক, এবার জানা গেল বইটা প্রকাশ করছে অন্যপ্রকাশ।

Amit এর ছবি

কেউ কি দয়া করে " a legascy of blood" বইটির বাংলা অনুবাদের ডাউনলিংক দিতে পারবেন? আমার কাছে অনেক আগে ছিলো , হারিয়ে ফেলেছি।

সাব্বির এর ছবি

@হিমু>>>>>১) ঠিক কথা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মন্ত্রীসভার বৈঠকে ঢুকে খালেদ মোশাররফ যখন চড় দিয়ে মুস্তাককে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছিলেন ওসমানী না থাকলে ওইদিনই মুস্তাক নাই হয়ে যেত।
২)খোন্দকার মুশতাককে চড় দিয়ে চেয়ার থেকে মেঝেতে ফেলে দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল গাফফার বীর উত্তম, খালেদ মোশাররফ না।
৩)খালেদ মোশাররফ খন্দকার মুশতাককে চড় মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেননি। বরং খালেদ মোশাররফ যদি সেসময় খুব শক্ত হতে পারতেন তাহলে মুশতাকও আস্ফোলন করার সুযোগ পেতো না, হয়তো দেশের পরবর্তী ইতিহাস অন্যরকম হতো। আপনি যেদিনের কথা বলেছেন সেদিন বঙ্গভবনে মুশতাকের আস্ফোলন সরাসরি শক্তিপ্রয়োগ করে থামিয়েছিলেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল আর মেজর ইকবাল; আর তখনই ওসমানী বাধা দেয়।

একই ঘটনা নিয়ে ৩ ধরনের ইতিহাস পাওয়া গেল। এখন আমরা কোণটা বিশ্বাস করব?

আর আপনি হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে যা বললেন সেগুলা অন্ধ রাগ থেকে লিখেছেন।হুমায়ুন আহমেদ কখনই মানুশের খারাপ দিক বা অন্ধকার দিক দেখেন না।তিনি মানুশকে মানুশের খারাপ দিকটা দেখাতেও চান না।
আপনি কি বলতে পারবেন যে দেশের সেই পরিস্থিতিতে শেখ কে হত্যা করা দরকার ছিল না? আপনি আশা করি এইটাও জানেন যে দেশের মানুষ সেইদিন আনন্দ মিছিল করেছিল। কেন করেছিল বলে আপনার মনে হয়??তারা কি মুক্তিজুদ্ধের বিপক্ষে ছিল? মোটেই না। তাদের অনেকেই মুক্তিজুদ্ধ করেছেন। কিন্তু শেখের স্বৈরাচারী মনভাব জনগনের পছন্দ ছিল না । একটা দেশ আমাদের উপর যুদ্ধ চাপায় দিসে সেই কারনে আমরা কি তাদের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করব? আমাদের উচিত সেই সময়ে যারা নেতাকরমি ছিল তাদের ঘৃণা করা।আমরা টা না করে জাফর স্যার এর মত কিছু লেখকের বই পড়ে মারাত্তক ভাবে ঘৃণার চাষ করতেসি। যেইটা সেইসব লোকের পাওনা না। আমাদের দেশের বর্তমান জেনারেশনের ছেলেরা মুক্তি জুদ্ধ নিয়ে খুব সেন্সিতিভ।সেই আবেগকে পুজি করে কিছু লেখক খুব মরমান্তিক ভাবে মুক্তিজুদ্ধের গল্প তুলে ধরেন। হুমায়ুন আহমেদ সেইটা করেন না। তিনি নিরপেক্ষ ভাবে লিখেন । যেইটা একজন ভাল লেখকের জন্য জরুরি। আসলে মানুসের আবেগ কে নিয়ে ব্যাবসা করেন জাফর ইকবাল,আনিসুল হকের মত কিছু লেখক।তারা মুক্তিজুদ্ধ নিয়ে এমন ভাবে কথা বলেন মনে হয় উনারাই মুক্তিজুদ্ধ করেছেন আর কেউ করেন নাই।জাই হোক আমি জাফর ইকবালের গল্পের ো ভক্ত ।কিন্তু উনার একটা জিনিস খারাপ লাগে উনি সব গল্পেই কননা কোন ভাবে মুক্তিজুদ্ধ আনবেন সাথে রাজাকার আসবে ।এবং রাজাকারের দারি থাকবে টুপি থাকবে। যেইটা মোটেও সত্য না।উনাদের কে কিন্তু একজন রাজাকার ই বাচিয়েছিলেন । সেই কারনেই রাজাকারদের সম্পরকে এই রকম ঢালাও ঘৃণা প্রকাশ আর যার কাছ থেকে আসুক না কেন উনার কাছ থেকে আশা করা যায় না।আসলে হুমায়ুন আহমেদ মানুশের এই সব আবেগ কে পুজি করে ব্যাবসা করেন না। তিনি যা সত্য বলে জানেন এবং যা মানুশের মনে ঘৃণা ক্রধ টাইপের অনুভুতি আনবেনা সেই সব লেখা লিখেন। আর হ্যা উনি সুনিল কে ফলো করেন । উনি সুনিল কে আদর্শ হিসেবে নিয়েছেন তাঁতে দোষের কি হল? প্রতিটা লেখকের ই একজন প্রিয় লেখক থাকেন যার রচনার প্রভাব অই লেখকের লেখায় পাওয়া যায়।
আর আপনি জে ইতিহাস পরেছেন তাঁর বিশ্বাস জগ্যতা কি?? নিরমলেন্দু গুন পর্যন্ত উনার লেখায় বলেছেন বাংলাদেশের স্বাধিনতার ঘোষণা করেছেন । কিন্তু আমরা কয় জন সেইটা মানতে প্রস্তুত?

মোদ্দা কথা হইল যে আমরা ভাবি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবের ২ টা কথা বলতে পারলেই দেশপ্রেমিক হওয়া জায়।হুমায়ুন আহমেদ কে সকাল বিকাল তাঁর লেখার ভুল ধরে গালাগালি করতে পারলেই সাহিত্য বোদ্ধা হওয়া যায়। আসলে আমরা মানীর মান দিতে জানিনা । নিজেরা সফল না বলে অন্যের ভাল দেখতে পারি না। পৃথিবীর আর কোন দেশে নোবেল প্রাপ্ত ব্যাক্তির এমন হেনস্থা হয় নাই।এই দেশে এই গুলা ঘটে আপনার মত কিছু বুদ্ধিজিবির(!!!!) জন্য । তারা ভাবে যে বিখ্যাত মানুষ কে গালাগালি করার মদ্ধ্যেই নিজের জ্ঞান প্রকাশ পায়। আমার মতে জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প বাংলাদেশের একমাত্র নিরপেক্ষ বই যেইটা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা হইসে। হাত তালির জন্য যদি কেউ লিখে থাকেন সেইটা আপনাদের জাফর ইকবাল , আনিসুল হকরাই লিখেন । হুমায়ুন আহমেদ জুদ্ধ টা আপনার আমার থেকে ভাল দেখেছেন । উনি জানেন যুদ্ধের ভয়াবহতা । আর যুদ্ধ শুরু হয় ঘৃণা থেকে। তাই হুমায়ুন আহমেদ অই রকম লেখা লিখেন না । একজন লেখকের কাজ পাঠক কে বিনদন দেয়া। আর একজন লেখক যখন ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব নেন তখন উনাকে নিরপেক্ষ ভাবে ইতিহাসের ঘটনা তুলে ধরা লাগে । হুমায়ুন আহমেদ যদি খুব কান্না কান্না ভিজা ভিজা লেখায় গল্প শুরু করতেন তাইলে আপনি ই লাফালাফি করতেন অস্থির একটা লেখা হইসে বইলা। কিন্তু ইতিহাস তো আপনার আমার ইচ্ছায় নতুন করে তৈরি হইতে পারে না। এইটা আপ্নাকে বুঝতে হবে । বাংলাদেশের মুক্তিজুদ্ধের ইতিহাস যারা লিখেছেন তারা বই বিক্রি বারানর জন্য জেখানে খুশি শেখানে ইতিহাস বিকৃতি করেছেন । আর আমজনতা সেই বিকৃত ইতিহাস গোগ্রাসে গিলেছে । হুমায়ুন আহমেদ ওইটা করেন নাই বলে আপনাদের মত বুদ্ধিজিবিদের(!!!) গালি হজম করতেসেন । মন খারাপ ভাই চোখ খুলে দেখেন তারপর কথা লিখেন । কে জানি একটা কমেন্ট দিসিল "মানুশকে অপমান করা সহজ,কিন্তু খুশি মনে কার প্রশংসা করা কঠিন" //

মানুশের প্রশংসা করা শিখেন । শান্তি আসবে মনে । কার নিন্দা করে কখনই শান্তি পাওয়া যায় না। ভাল থাকবেন । আপনার সুস্থতা কামনা করছি ।

সত্যপীর এর ছবি

উনি সব গল্পেই কননা কোন ভাবে মুক্তিজুদ্ধ আনবেন সাথে রাজাকার আসবে ।এবং রাজাকারের দারি থাকবে টুপি থাকবে। যেইটা মোটেও সত্য না

কোনটা সত্য না? মুক্তিযুদ্ধের সাথে রাজাকার আসাটা সত্য না নাকি রাজাকারদের দাড়িটুপি ছিল সেটা সত্য না? কেনইবা সত্য না?

একটা দেশ আমাদের উপর যুদ্ধ চাপায় দিসে সেই কারনে আমরা কি তাদের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করব?

এই লাইনটা কয়েকবার পড়লাম। বুঝিনাই। পাকিস্তান আমাদের উপর যুদ্ধ "চাপায়" দিসে অতএব তাদের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক না এইটা বুঝাইলেন?

..................................................................
#Banshibir.

হিমু এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত পাঠক এইরকমই হয়। এদের জন্যেই হুমায়ূন আহমেদ লেখে।

বালক এর ছবি

"হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত পাঠক এইরকমই হয়। এদের জন্যেই হুমায়ূন আহমেদ লেখে।" চলুক

____________________________________________________________________
"জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক;
আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো
এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।"

ধুসর জলছবি এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত পাঠক এইরকমই হয়। এদের জন্যেই হুমায়ূন আহমেদ লেখে।" চলুক

চলুক চলুক চলুক গড়াগড়ি দিয়া হাসি আসলেই তাই।। সাব্বির ভাইয়া একেবারে টিপিকাল হুমায়ুনিও ডিজঅর্ডার এর রোগী । এক্কেবারে সব সাইন অ্যান্ড সিম্পটম মিলে গেল।

হিমু এর ছবি

আপনি তানজিম, হিমু আর নাদির জুনাইদের অনলাইনে করা মন্তব্যকে ইতিহাস ধরে নিচ্ছেন কেন? আজকে আরেকজন এসে যদি বলে খোন্দকার মুশতাককে চড় মেরে ফেলে দিয়েছিলো অমিতাভ বচ্চন, সেইটাও কি আপনি ইতিহাস হিসেবে মেনে নেবেন? কোনো স্টেটমেন্ট ইতিহাস হওয়ার শর্ত হচ্ছে সেটা পিয়ার রিভিউড ডকুমেন্ট হিসেবে কোথাও প্রকাশিত হতে হবে। আমার বক্তব্যের সপক্ষে একটা সূত্র দিয়ে যাই, মেজর জেনারেল আমীন আহম্মদ চৌধুরী বীর উত্তমের একটা লেখার [সূত্র], সেখানে পড়ে দেখুন।

এইবার আপনার কাঠবলদপনা নিয়ে কিছু কথা বলি।

হুমায়ূন আহমেদ মানুষের খারাপ দিক দেখে কি দেখে না সেইটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নাই। আমি শুধু বুঝি, ইতিহাসাশ্রয়ী কোনো কিছু লিখতে গেলে সতর্ক থাকতে হয়, যাতে বানরকে শিব আর শিবকে বানর বলে মনে না হয়। ঐ কাজ আপনার পীর পারে না। সে যা পারে, সেটা সম্বল করে ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস হয় না, হয় ইতিহাসের ট্র্যাভেস্টি। সেটা নিয়ে আপনার মতো মূর্খ কাঠবলদেরা খুশি থাকতে পারে, আমি পারি না, কারণ আমার শিক্ষা আমাকে আরো কিছু জিনিস নিয়ে চিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে।

আমি নিশ্চিত আপনার বাপচাচা সেদিন "শেখের" মৃত্যুতে আনন্দে লুঙ্গি মাথায় বেঁধে রাস্তায় নাচানাচি করেছিলো। করতেই পারে। কিছু লোক রাস্তায় নাচার মানে এই না যে তাদের নৃত্যের কারণটা জাস্টিফায়েড। আজকে আপনারে কুত্তাপিটান পিটায় মারলেও আপনার আশেপাশের দুই চারটা লোক রাস্তায় আনন্দে নাচতে পারে। কথা সেটা না। কথা হচ্ছে, আপনার মতো মূর্খ কাঠবলদেরা "শেখের" হত্যাকাণ্ডকে অবশেষে হুমায়ূন আহমেদের মতো একটা প্রেজেন্টেবল লেখকের লেখায় নিজেদের পছন্দমতো ফরম্যাটে দেখতে পেয়েছে। তারা যেটা একজন কেষ্টুবিষ্টুর কলমে লিখিত দেখতে চায়, সেটা তারা পেয়েছে। আর হুমায়ূন লিখেছেও তাদের কথা মাথায় রেখেই, কারণ বইটার কাটতি সব পক্ষেই থাকতে হবে তো। ইতিহাস গোল্লায় যাক, পয়সা পাইলেই হইছে।

তৃতীয়ত, রাজাকারদের দাড়ি টুপি থাকে। কয়েকটা দাড়ি টুপি ছাড়া রাজাকারের নাম বলে যান পারলে। আপনার ভালো না লাগলে গিয়ে রাজাকারদের দাড়ি কামায় দিয়ে আসেন। হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে রাজাকারদের প্রতি ক্রোধ বা ঘৃণা না জন্মানো কি কোনো ইতিবাচক দিক নাকি? ইতিবাচক হলে একমাত্র রাজাকারদের জন্য ইতিবাচক। আপনার গুষ্টিতে রাজাকার কে ছিলো, বাপ না চাচা?

আমি ইতিহাস পড়েছি কি পড়ি নাই, তার বিশ্বাসযোগ্যতা পাবেন রেফারেন্সে। রেফারেন্স বুঝেন?

বাংলাদেশের বেশির ভাগ আকামই মানী লোকেরা করে। সেগুলি নিয়ে কথা বলতে গেলে কিছু চামচা সবসময় এসে এই কথাই বলে, দেশে মানী লোকের মান নাই। মানী লোক এসে আপনার পুটকি মেরে থুয়ে গেলে আপনি মনে হয় হাসতে হাসতে গোয়ায় ঠাণ্ডা পানি ঢালবেন আর দশজনরে গর্ব করে সেই কথা বলে বেড়াবেন। সবাই তো আপনার মতো মানী লোকের হাতে পুটকিমারা খাওয়ার জন্য বসে নাই। তারা টুকটাক সমালোচনা করে।

সাহিত্য জিনিসটা এতো বড় যে হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে সারাদিন চিন্তাভাবনার অবকাশ পাওয়া যায় না। কিন্তু যারা মূর্খ কাঠবলদ, যাদের পড়ার দৌড় রসময় গুপ্ত আর হুমায়ূন আহমেদে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে, তাদের কাছে সাহিত্যের দুনিয়া ঐটুকুই। তাই হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনা দেখলে তারা ভাবে তাদের সাহিত্যের জগত চুরমার হয়ে পড়ে যাচ্ছে। দুশ্চিন্তা কইরেন না, রসময় গুপ্ত তো আছেই, পড়েন গিয়ে।

সাহিত্য পাঠককে বিনোদন দেয়ার জন্যে লেখা হতে পারে [উদাহরণঃ হুমায়ূন আহমেদ, রসময় গুপ্ত], কিন্তু সেই বিনোদনের খাতিরে ইতিহাসের বারোটা বাজানো নিয়ে নির্লিপ্ত থাকতে পারে একমাত্র মূর্খ কাঠবলদেরা, আর এই ক্ষেত্রে রাজাকারের ছাওপোনারা। আপনার বাপচাচা রাজাকার হয়ে থাকলে আপনি এই উপন্যাস পড়ে প্রভূত আনন্দ পাবেন, আমার কোনো আপত্তি নাই তাতে, কিন্তু আপনার আনন্দের মাপে তো আমি জুতা বানাবো না।

আর মানুষের প্রশংসা করা শিখতে বলছেন যখন, আপনি তিন লাইনে "শেখ", জাফর ইকবাল আর আনিসুল হকের প্রশংসা করে যান দেখি, কত্তোবড়ো প্রশংসামারানির ছাও আপনি?

অতিথি লেখক এর ছবি

#প্রিয় হিমু ভাই, আপনার ধৈর্য্য বটে।।।।

আমার এটি প্রশ্ন আছে (ভয়ে ভয়ে)

#আপনার দৃষ্টিতে ভাল কে? আপনার বাংলাদেশের একজন প্রিয় লেখকের নাম জানতে চাই।।।

#ভাল থাকুন, ভালবাসা সবসময় বাঘের বাচ্চা

হিমু এর ছবি

আমার প্রিয় লেখক আনিসুল হক ভাইয়া। উনি খুব ভালো।

ভাই, আপনি অনুগ্রহ করে ভালোবাসা জানানো থেকে বিরত থাকুন। আশরাফুল কবীর নামের এক ভদ্রলোক এসে আমাকে ভালোবাসা জানাচ্ছে, ব্যাপারটা বিকট অস্বস্তিকর। এইসব প্লেজ্যান্ট্রি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক কথোপকথন চালাই বরং।

রংতুলি এর ছবি

আপনার নাম হিমু দেখে তো প্রথমে ভাবছিলাম, আপনিই বুঝি হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় ফ্যান, যাইহোক বলতে চাচ্ছিলাম বাজে কথা একটু কম ব্যবহার করলে কথোপকথন দেখতে আরও স্বাভাবিক লাগতো বরং!

হিমু এর ছবি

আমি কাঠবলদদের সাথে ভালো করে কথা বলতে পারি না ভাই।

তোফায়েল এর ছবি

হা হা হা চলুক

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

হাততালি
@ হিমু ভাই, আপনার এই কথাটার জন্য আপনারে একটা পুস্প উপহার দিলাম। হাসি

স্যাম এর ছবি

ফাটাফাটি জবাব গুরু গুরু

সুবোধ অবোধ এর ছবি

বাংলাদেশের বেশির ভাগ আকামই মানী লোকেরা করে। সেগুলি নিয়ে কথা বলতে গেলে কিছু চামচা সবসময় এসে এই কথাই বলে, দেশে মানী লোকের মান নাই। মানী লোক এসে আপনার পুটকি মেরে থুয়ে গেলে আপনি মনে হয় হাসতে হাসতে গোয়ায় ঠাণ্ডা পানি ঢালবেন আর দশজনরে গর্ব করে সেই কথা বলে বেড়াবেন। সবাই তো আপনার মতো মানী লোকের হাতে পুটকিমারা খাওয়ার জন্য বসে নাই। তারা টুকটাক সমালোচনা করে।

গুল্লি
আপনে যে কেমনে এমনে সত্যি কথা টা কইয়া ফালান!!!
যাই হোক উপরের একটা কমেন্টে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করেছিলাম-"লিগ্যাসি অব ব্লাড" বইটা কতটা গ্রহণযোগ্য? খুব সম্ভবত প্রীতম দাস এর একটা ব্লগ পোস্ট/ফেবু স্ট্যাটাসে পড়েছিলাম যে ওইটা একটা ফরমায়েশি বই এবং বেশ কয়েকজায়গায় ঝামেলা আছে!

সাইদ এর ছবি

দেশটার অবস্থা খারাপ হবার কারণ এরকম কাঠ বলদের সংখ্যা আশংকাজনক রকম বেশি

সাইদ এর ছবি

আমার কমেন্ট উপরের @সাব্বিরের কমেন্টের প্রতি উত্তরে করা

ইয়াসির এর ছবি

ভাই, আপনার বানানভুলসর্বস্ব, অপরিণত যুক্তিতে পরিপূর্ণ আর রেফারেন্সবিহীন মন্তব্যে আপনার জ্ঞান এবং শিক্ষার মাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দয়া করে মন্তব্য করার আগে পড়ালেখা করে আসুন, নইলে আপনাকে জবাব দেয়ার মানসিকতা পর্যন্ত দেখানো সম্ভব হবে না।

আনোয়ার এর ছবি

>>>>"মানুশের প্রশংসা করা শিখেন । শান্তি আসবে মনে ।"<<<<

আপনাকে তো শেখ মুজিব, আনিসুল হক বা জাফর ইকবালের প্রশংসা করতে দেখলাম না। উনাদের মানুষ মনে হয় না??

কালো কাক এর ছবি

জাফর ইকবালের বইএ ঘৃণা দেখলে জ্বলে? বইশেষে দাড়িটুপিওয়ালা রাজাকারের হেনস্তা দেখলে জ্বলে? আনিসুল হকের লেখায় মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখলে জ্বলে? হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে রাজাকারের ভালমানুষি দেখলে শান্তি লাগে? শুদ্ধ বাংলা লিখতে কষ্ট লাগে?

উপরের সবগুলোর উত্তর যদি "হ্যাঁ" হয় তাইলে আপনি নিরাময়অযোগ্য রোগে আক্রান্ত। সোনাব্লগে যান, এইখানে আপনার জায়গা না।

নাদির জুনাইদ এর ছবি

সাব্বির,

"আপনি কি বলতে পারবেন যে দেশের সেই পরিস্থিতিতে শেখ কে হত্যা করা দরকার ছিল না?" -- এই কথা বলার মধ্য দিয়ে আপনি প্রমাণ করলেন যে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বাড়িতে যারা নারকীয় এবং নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল, এবং ছোট শিশু, নিরপরাধ নারী সহ এতোজন মানুষকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করার পর যারা উল্লাস করতে পেরেছিল সেইসব অনুভূতিহীন, অসুস্থ, পৈশাচিক মানুষদের সাথে আপনার কোন পার্থক্য নেই। এরপর আবার আপনার মুখে শান্তি, সুস্থতা এই ধরনের শব্দ! স্টেনগানের গুলিতে শিশু, অন্তঃসত্বা নারী, নিরস্ত্র অসহায় পুরুষকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার পর তা নিয়ে ব্যথিত হওয়া তো দূরের কথা, বরং সমর্থন করবেন সেইদিন এমন হত্যাকান্ডের পর যারা আনন্দমিছিল করেছিল সেই অমানুষদের! কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন আপনি? আপনি অন্যকে বলছেন মানুষের প্রসংসা করার জন্য। নিজে আদৌ মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছেন কী না আগে নিজেকে সেই প্রশ্ন করুন।

দেশের ইতিহাস নিয়েও অনেক কথা বলেছেন। এতোই যদি দেশের ইতিহাস জানেন তাহলে শুরুতেই কোন্ তথ্যটি বিশ্বাস করবেন তা নিয়ে আপনার প্রশ্ন কেন? ইতিহাসের সঠিক তথ্যটি তো আপনার জানা থাকারই কথা। তানজিমের দেয়া তথ্যটির ভুল পরবর্তীতে দু'জন নির্দেশ করেছেন। যারা সেই সময়ের ঘটনা জানেন তারা বুঝবেন হিমু আর নাদির জুনাইদ-এর বক্তব্য একই। আপনি জানেন না তাই উল্লেখ করছি সেই সময় শাফায়াত জামিল, গাফফার হালদার, ইকবাল এই সামরিক অফিসাররা সবাই খালেদ মোশাররফ-এর পক্ষেই ছিলেন; কিন্তু যখন খালেদ মোশাররফ মুশতাকের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্ত হচ্ছিলেন না, তখন খালেদের অনুসারী এই অফিসাররা এক পর্যায়ে মুশতাকের প্রতি কঠোর হন। এবং বঙ্গভবনে শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে গাফফার, ইকবাল এবং আরো অনেকে সভা চলাকালীন মুশতাকের কক্ষে ঢুকে তার বিরুদ্ধে সরাসরি শক্তিপ্রয়োগ করেন। ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে কী না তা বলার আগে নিজে ইতিহাস সম্পর্কে ভাল করে জানুন; তা না করে কোনটা বিশ্বাস করবো এমন প্রশ্ন কেবল আপনার অজ্ঞতাকেই সবার কাছে স্পষ্ট করে তোলে।

সেই সময়ের ঘটনা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে; অনেক বই আছে। এতো বইয়ের নাম লেখার সময় আমার নেই। কয়েকটি বইয়ের নাম উল্লেখ করছি; যদি আগ্রহ থাকে তাহলে পড়ে দেখুন

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর - কর্নেল শাফায়াত জামিল
গণতন্ত্রের বিপন্নধারায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী - মেজর নাসির উদ্দিন
বাংলাদেশ: রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১ - ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন
বঙ্গভবনে পাঁচ বছর - মাহবুব তালুকদার
তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা - লেঃ কর্ণেল এম এ হামিদ

স্যাম এর ছবি

চলুক

বালক এর ছবি

চলুক

____________________________________________________________________
"জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক;
আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো
এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।"

রংতুলি এর ছবি

চলুক

arif এর ছবি

একটা দেশ আমাদের উপর যুদ্ধ চাপায় দিসে সেই কারনে আমরা কি তাদের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করব?।।।।।।।

---এর মানে কি!? লেলিয়ে দেয়া সেনারা আপনার মাকে ধর্ষণ করলো আর আপনি সেই পাকিদের বুকে জড়িয়ে নিলেন , আপনি কি জীবিত না জড় বস্তু

তোফায়েল এর ছবি

ভাইগো আপানার কাছে আমার অনুরোধ আগে মুক্তিযুদ্ধ বানানটা শিখে নেন তারপর লেখেন, তখন না হয় আপানার এই পাকিভাষণ মনোযোগ দিয়ে শুনবো!

রিসালাত বারী এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সাব্বির, আপনি নিয়মিত কমেন্ট করবেন কিন্তু, পিলিজ লাগে

রাগিব এর ছবি

এই কমেন্টের জবাব লিখার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু অর্ধেক কমেন্ট পড়েই আল রাজ্জাক্স (নাকি স্টার?) এর খাসির বিরিয়ানির গন্ধ নাকে এলো। এখন এই বিদেশে ছাগুর বিরিয়ানি পাই কই? মন খারাপ

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

রুমঝুম ১ এর ছবি

১০০% সহমত। আমি শুরু থেকেই পাচ্ছি গন্ধটা। সাথে গরু/খাসির চাপের গন্ধও পাচ্ছি।

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

সাব্বির
আপনার মন্তব্য পড়ে আমি বাকরুদ্ধ। আপনার মন্তব্যের জবাব আপনি পেয়ে গেছে ইতোমধ্যে, দেখলাম। আমি শুধু বলব, আপনি নিরাময় অযোগ্য। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, এই শুভ কামনাও করব না, কারন স্বাধীন বিচার-বুদ্ধি রহিত একজন মানুষের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
আশা করব আপনার রোগে যেন আর কেউ আক্রান্ত না হয়।

কল্যাণ এর ছবি

চিন্তিত অফ যা কাষ্ঠুভুদাই

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নুসায়ের এর ছবি

ছাগুরাম সুলভ

অরফিয়াস এর ছবি

@#@#@#***#@## সাব্বির (নামের আগের জায়গায় পছন্দসই গালি বসিয়ে নেবেন), আপনার মতো লোকেদের জন্য পুরনো একটা কথা - "a war always leave some bastard behind"

আর লেখা দেখে তো মনে হয় বাংলার থেকে উর্দু ভালো জানেন, পরের বার না হয় উর্দুতেই লিখবেন !!

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

নিরমলেন্দু গুন পর্যন্ত উনার লেখায় বলেছেন বাংলাদেশের স্বাধিনতার ঘোষণা করেছেন ।

কস্কি! নিরম-লেন্দু গুন আমাগো স্বাধীনতার ঘোষক। এইভাবেই আসলে স্বাধীনতা শব্দটা আমাদের হইছিল চিন্তিত ?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শাফায়েত এর ছবি

@অ্যাডমিন: স্টিকি পোস্ট প্রথম পেজে হাইলাইট করে দিলে ভালো হয়,না হলে হঠাৎ ঢুকলে মনে হয় নতুন কোনো লেখা আসেনি।

সাব্বির সারোয়ার আহমদ এর ছবি

@হিমু ''কোনো স্টেটমেন্ট ইতিহাস হওয়ার শর্ত হচ্ছে সেটা পিয়ার রিভিউড ডকুমেন্ট হিসেবে কোথাও প্রকাশিত হতে হবে।''

কোর্টের স্টেটমেন্টও কি পিয়ার রিভিওড ডকুমেন্ট?

হিমু এর ছবি

নির্ভর করে সেই স্টেটমেন্ট আপনি কী আকারে উপস্থাপন করছেন। যদি গেজেটে প্রকাশিত স্টেটমেন্ট হয়, তাহলে সেটা পিয়ার রিভিউড ডকুমেন্টের সমতুল্য। যদি সেটা সম্পর্কে পত্রিকায় রিপোর্ট হয়, এবং সেই রিপোর্ট পরবর্তীতে কোর্টে কনটেস্টেড না হয়, তাহলেও সেটা পিয়ার রিভিউড ডকুমেন্টের সমতুল্য হবে।

সাব্বির সারোয়ার আহমদ এর ছবি

তাহলে তো সরকার পাল্টালেই নতুন কোর্ট, নতুন গেজেট, নতুন ইতিহাস!

হিমু এর ছবি

আরে কী ত্তামশা!

কল্যাণ এর ছবি

আপনে যে একটা কাষ্ঠুভুদাই এইটা কিন্তু পাল্টায় না। এইবার অফ যা , পুইতা পুইতা

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সাব্বির সারোয়ার আহমদ এর ছবি

ভুদাই বইলাই তো জিজ্ঞাসা! নতুন নতুন ঘোষক আসবে, কে তাইলে অরিজিন্যাল? অ্যাঁ

সাব্বির সারোয়ার আহমদ এর ছবি

ও আপনি আগের সাব্বিরের সাথে আমারে গুলাইয়া ফেলছেন নাকি? না ভাই, আমি আলাদা লোক। অ্যাঁ

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

এত্ত তেলেছমাতি তো চিন্তা করি নাই!

এত্ত বুদ্ধি মাথায় নিয়া বাত্তি নিভানোর পরেও আপনার ঘুম আহে ভাই?

ছাগলের লাদির বোঁটকা গন্ধে মরি গেলাম!

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

সাব্বির সারোয়ার আহমদ এর ছবি

না ভাই। ইতিহাস অণ্বেষায় ঘুম আসে না। কী পড়বো, কী জানবো, কী বুঝবো? লাদির গন্ধ পাইলে দোষ নিয়েন না, ভাই। চারদিকে ম্যাতকার, স্বাধীনতা-ব্যবসা! উত্তর না দিয়া কাঁঠাল-পাতার দাওয়াত! কোন পানে তাকাই?

স্পর্শ এর ছবি

মূল পোস্টেই
আপডেট/সংযুক্তি আকারে রেফারেন্সগুলো যোগ করে দেওয়া হোক।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

মুস্তাফিজ এর ছবি

এই পোস্টের কিছু কিছু মন্তব্য অযাতিত, অপ্রাসংগিক এবং সেই সাথে পোস্টের মুল বক্তব্যের বাইরে। যার ফলে আলোচনার সুর বারবারই কেটে যাচ্ছে। জেগে ঘুমিয়ে থাকা সেই সব আবালদের মন্তব্য যা এই পোস্টের সাথে যায়না সেসব মন্তব্য না প্রকাশ করাই ভালো।
মুল বক্তব্য হূমায়ুন মিথ্যাচার করেছেন এবং আলু পত্রিকা জেনেশুনে এই মিথ্যাচারকে গোয়েবলিয়স কায়দায় সত্য বানানোর চক্রান্তে নেমেছে। ওরা কেউই ইতিহাস সম্পর্কে অশিক্ষিত না, তাই এই ঘটনা আরেকটা কুচক্রান্তের অংশ ধরে নেয়াটা অযৌক্তিক কিছুনা।
আশ্চর্য লাগে এখনও অন্য কোন মাধ্যমে (সচলায়তন ছাড়া) এর কোন প্রতিবাদ না আসা নিয়ে।
এখানে কেউ কেউ বলেছেন পুরোটা না পড়ে এখনই সমালোচনা না করতে। তাদের উদ্দ্যেশে বলি ইতিহাস বিকৃতি ঘটাতে যতটুকু প্রকাশিত হয়েছে ততটুকুই যথেষ্ঠ, পরবর্তি পর্বে এ ঘটনা মিথ্যাচার হিসাবে দেখা গেলেও এটা একটা বিকৃতি, একজন বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন মানুষই কেবল এভাবে খেলতে পারে।

...........................
Every Picture Tells a Story

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হাততালি চলুক

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক

প্রখর-রোদ্দুর এর ছবি

পাপী যখন জ্ঞানী হওয়ার ট্রাই মারে তখন ধরা খেয়ে তার ট্রাই থাইকা সইরা দাঁড়ায়।
আর জ্ঞানী যখন পাপী হওয়ার ট্রাই মারে সব ছাড়লেও সে পাপেরের ছাড়েনা তার সব জ্ঞ্যান দিয়া বাপ বাপ বলে কেবল পাপরেই আকড়ায় ধরে।
আফসোস
আফসোস
আফসোস। কাউরে ভালা পাইলে তার মন্দ দিকেরেও যে খুইজা বাইর করতে পারে তারেই বলে প্রকৃত সাথী। আমরা ভালা পাইলেই তার পীরের মতোন দোষ গুনের উর্ধ্বে ভালোবাইসা মাথায় তুইলা ফেলাই।

পোষ্ট-টি উত্তম দিক তুলে ধরেছে।
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

guesr_writer rajkonya এর ছবি

তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন[৫] তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের_মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও[৬] হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন।

http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%82%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6
অর্থাৎ তাঁর পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েও পাকিস্তান সরকারের অধীনে কর্মরত ছিলেন, যুদ্ধে যোগ দেন নি। সুতরাং হুমায়ুন আহমেদকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে চালিয়ে দেবারও কোন দেখতে পাচ্ছি না। হুমায়ুন আহমেদ নিজেও যুদ্ধে যোগ দেন ্নি। বরং তখন তিনি কোথায় ছিলেন, সেটা তাঁর আত্নজীবনীতে নিজেই বলে গেছেন।

নুসায়ের এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদের বাংলা উইকি ভুক্তিটি বেশ আগ্রহোদ্দীপক। তার কর্ম-জীবনের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনের খুটি-নাটি তথ্য দিয়ে ভরা। কবে কা'কে বিয়ে করেছেন, কই থাকেন, কোথায় বাড়ি কিনেছেন, কোথায় ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন ইত্যাদি। কোন ভক্তের লিখা হবে হয়তো। খেয়াল করে দেখেছি, উনার ভক্তরা উনার লিখার চেয়ে উনাকে নিয়ে আগ্রহী থাকে বেশি। বইমেলায় "জোছনা ও জননীর গল্প" প্রকাশিত হলে যতটা সাড়া পড়ে যায়, তার চেয়ে বেশি পড়ে উনি হলুদ পাঞ্জাবী পরা এক দঙ্গল জোকারের মাঝে বসে থাকলে। ব্যক্তিপুজার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। আর উনি নিজেও তার রচনা গুলিতে এইসব ব্যক্তিগত ঘটনা সবার সাথে শেয়ার করতে আনন্দ পান বোধহয়। বেশ একটা হিন্দি সিরিয়াল টাইপ ব্যাপার হয়।

নজমুল আলবাব এর ছবি

তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্যইতো তাকে মরতে হয়েছে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

একটা দেশ আমাদের উপর যুদ্ধ চাপায় দিসে সেই কারনে আমরা কি তাদের সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করব? আমাদের উচিত সেই সময়ে যারা নেতাকরমি ছিল তাদের ঘৃণা করা।আমরা টা না করে জাফর স্যার এর মত কিছু লেখকের বই পড়ে মারাত্তক ভাবে ঘৃণার চাষ করতেসি। যেইটা সেইসব লোকের পাওনা না।

সাব্বির, আপনার উল্লিখিত অংশটুকু পড়ে আমি অবাক হচ্ছি যে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও এরকম ধারণা পোষণকারী কেউ থাকতে পারে। আপনি হয় জানেন না পাকিস্তানী আর্মি ঐ সময় কী করেছে অথবা জেনেও সেগুলো বিশ্বাস করেন না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতের ছিটেফোঁটাও আপনাদের গায়ে লাগেনি। এরকম কথা তাদের মুখ থেকেই আসে যারা এ দেশ স্বাধীন হোক তা চায়নি, এবং সরাসরি তার বিরোধীতা করেছে।

হিমু এর ছবি

হুমায়ূন আর তার সাগরেদরা সংশোধনের অযোগ্য। সুস্থ মানুষদের জন্যে বাংলাদেশের রাজনীতির এই অধ্যায় সম্পর্কে জানতে কিছু বইয়ের নাম দিয়ে যাচ্ছি (গীতিআরা ম্যাডামকে অশেষ ধন্যবাদ রেফারেন্সগুলো যোগানোর জন্যে)।

1. Lt. Col. M. A. Hamid, 'Three Military Coups and some untold stories'
2. K.G. Mustafa, 'Mujjib: The Rebel per se'
3. Lawrence Lifschultz, Bangladesh: Unfinished Revolution.
4. Anthony Mascarenhas, A Legacy of Blood.
5. A.L. Khatib, Who Killed Mujib?
6. Sukharanjan Dasgupta, Midnight Massacre In Dacca.
7. Syed Mahmud Ali, Understanding Bangladesh
8. William B.Milam, Pakistan and Bangladesh: Flirting with Failure.
9. Dr. Ali Riaz "Unfolding State: The Transformation of Bangladesh".
10. Moudud Ahmad, “The Era of Shikh Mujib”
11. Zillur Rahman Khan, Politics and Bureaucracy in a New Nation: Bangladesh.
12. Lawrence Ziring, "Bangladesh from Mujib to Ershad: an interpretive study"

আরো রেফারেন্স যদি কেউ যোগ করতে চান, হেল্প ইয়োরসেল্ফ।

হিমাগ্নি এর ছবি

রেফারেন্স দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, অনেকেই উপকৃত হবে বই গুলো পড়তে পারলে।

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

সুবোধ অবোধ

স্যাম এর ছবি

ঢাকা, মে ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিতব্য রাজনৈতিক উপন্যাস ‘দেয়াল’ সংশোধন না করে প্রকাশে বারণ করেছে হাই কোর্ট।

নজমুল আলবাব এর ছবি

রাষ্ট্রের প্রধাণ উকিল বল্লেন, পুস্তকে রাসেল এর মৃত্যুদৃশ্যকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। কিন্তু তিনি ফারুক সংক্রান্ত ইতরামি নিয়ে কোন কথা বল্লেন না বা আদালতকে তা অবহিত করলেন না। সতঃপ্রণোদিত হয়ে দেয়া আদেশে আদালতও সে বিষয়টির উল্লেখ করেননি। এখন আমরা কি বুঝবো?

এ সংক্রান্ত খবরটা আছে বিডি নিউজে।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

“এছাড়া খন্দকার মোশতাককে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আগে থেকে জানতেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন,” বলেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এখন আমরা কি বুঝবো?

নিজের বুঝ নিজেই বুঝতে হবে। আদালত সঠিক বিষয়ে ফোকাস যদি নাও করে তবু আমাদেরকে আমাদের কথা বলতেই হবে।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

শারেক শহিদ এর ছবি

কোন সে মহান বই, যেটা এমন অকান্ডের গোড়া ??? আদৌ কি সে বইটা খুঁজে পাওয়া যাবে ???

banglanews24 এর খবর অনুযায়ী, ‘দেয়াল’ প্রসঙ্গ: একটি রেফারেন্স বুকই নষ্টের গোড়া!

ইমরান এর ছবি

হুমায়ূন ভক্ত হিসাবে আমার নাম আমি প্রথম কাতারে রাখতে চাই, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন তিনি লেখেন আমার কাছে একটা খটকা লাগে, সেই সময় তিনি টগবগে যুবক, আর কিছু না হোক পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ তাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্যে বাধ্য করা উচিৎ অথচ তিনি পালিয়ে বেড়ালেন, আবার সব দায় স্বীকার করে নিলেন, নিজেই বললেন তিনি ভীরু, কাপুরুষ, আমার কথা হলো কাপুরুষের কাছ থেকে কেনো আমরা আমাদের জাতীর সবচেয়ে বীরত্বসূচক ইতিহাসের কথা শুনব, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমদের কি বীরদের কোন অভাব পড়েছে ?

 সাম্পানওয়ালা এর ছবি

প্রকাশিত হবার পর পড়েছিলাম তবে তখন এত মন্তব্য ছিলা না। সত্যিই অনেক কিছু জানলাম। তবে একজন লেখকের প্রতি এতটা মারমুখী না হলেও চলে। ভুল ত্রুটির বাইরে কেউ নেই, সমালচনা চলাটাই স্বাভাবিক তাই বলে সমালচনার আগুন যেন কারো অবদান কে দগ্ধ না করে। প্রকৃত সমালচক তো তিনি যিনি দোষ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি গুনের প্রসংসা করতেও দ্বিধা করেন না। এখানকার সমালচকদের আলোচনায় প্রকৃত সমালচকের দ্বিতীয় গুনটি একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে বারবার খুজেছি।

ফরহাদ হোসেন মাসুম এর ছবি

হুমায়ুন আহমেদের বাটপারির বিরুদ্ধে কলম (কী-বোর্ড) ধরার জন্য ধন্যবাদ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।