তৃণসম...

মূলত পাঠক এর ছবি
লিখেছেন মূলত পাঠক (তারিখ: রবি, ০৪/১০/২০০৯ - ৯:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শান্তি বজায় রাখতে যাঁরা আগ্রহী তাঁদের মতামতকে হেয় করতে এই লেখা নয়। আমি তাঁদের সদুদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান নই। কিন্তু তার পরেও লিখছি, তার দুটি কারণ আছে।

এক, শান্তি রক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অমানবিকতার প্রকাশ রোধ। বিশদে বলবো সে কথা।

দুই, সচলায়তনের পরিবেশকে নিষ্কলুষ রাখা। একজন সচল হিসেবেই সেটা আমার কর্তব্য বলে মনে করি। এই কাজ মডারেটরদের ঘাড়ে ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকবো না।

অন্যের রেসিজম নিয়ে কথা বলার আগে খোলসা করে বলা ভালো, আমিও এর থেকে পুরোপুরি ঊর্দ্ধে উঠে গিযে়ছি এমন ভ্রান্তিতে ভুগি না। সে উত্তরণ বোধ হয় সম্ভবও না কারোরই পক্ষে। কিন্তু সাম্প্রদাযি়ক মন্তব্য করে অপরকে আহত করার মতো কাজ যাতে না করি সে প্রচেষ্টা থাকে। এই প্রচেষ্টাটুকু করা খুব কঠিন কাজ নয়, সামান্য সংবেদনশীলতা থাকলেই এটার প্রযো়জন ভেতর থেকে অনুভূত হয়। নিজেকে সভ্য বা শিক্ষিত দাবি করার আগে এইটা করা জরুরী।

সচলে আমি সব লেখা পডি় না। আগে একবার লিখেছিলাম সে কথা, নিজের লেখাই উদ্ধৃত করছি নিজের অবস্থান বোঝাতে। "যে সব লেখককে কখনও রেসিযা়ল মন্তব্য করতে দেখেছি, তাদের লেখা পডি় না। দু-একবার ব্যতিক্রম হয়, কোনো ভাবে পডে় ফেললে এবং খুব ভালো লাগলে প্রশংসাও করেছি, তবে পারতপক্ষে পডি় না। এদের লেখার সমালোচনা একেবারেই করি না। শাসন-বারণ তো নিজের লোকের জন্যেই, তাই না?"। সে বাবদই কালকের নীরবতা। কিন্তু এ লেখার শিরোনামে বলতে চেয়েছি সরব হলাম কেন।

রেসিজম অনেক ভাবে হতে পারে, এমন নয় যে তার স্বরূপ আমাদের একেবারে অজানা। যে উপমহাদেশে আমাদের বাস (বা উৎপত্তি) সেখানে রাজ্যে-রাজ্যে ও রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে সংস্কৃতি, সংস্কার, লোকাচার, খাদ্য, ধর্ম, ভাষা, এমনকি মানুষের চেহারাতেও এতো বৈচিত্র্য রযে়ছে যে বিভেদমূলক মন্তব্য না করাটাই একটা সাধনার কাজ। তুলনা হিসেবে বলি, আমেরিকানদের মধ্যে রাজ্যে রাজ্যে কিছু পার্থক্য আছে, এ ছাডা় সাদা কালোর বিভেদ তো রযে়ইছে। কিন্তু স্থানভিত্তিক পার্থক্যটা ততো বেশি নয়। আমাদের জন্য তাই কাজটা কঠিন, এবং প্রযো়জনীয়ও বটে। আমি যে পূর্ববঙ্গের মানুষের পাডা়য় বডো় হযে়ছি সেখানে সবাই হিন্দু, আজকাল খুব কম সংখ্যক শিখ দেখতে পাওযা় যায়। কাজেই সেখানে বয়স্করা এ জাতীয় আলটপকা মন্তব্য করলেও সেটা সরাসরি কাউকে গিযে় আঘাত করে না। কাজটা তার পরেও খারাপ, এবং প্রতিবাদের দরকার সেখানেও আছে (এবং করা হয়)। কিন্তু সচলায়তনে সতর্কতার প্রযো়জনটা অনেক বেশি। রেসিজম মানে অনেক কিছু হয়, এবং এই অভিযোগ উঠলে চরম উদাহরণগুলোর কথাই প্রথমে মনে আসে। কিন্তু এই বস্তুটি আরো সুদূর (ও গভীর) প্রসারী। যারা দাঙ্গার নামে মানুষ খুন করে তারা রেসিস্ট ঠিকই, এবং যারা আলগা মন্তব্যে অপরকে আহত করে তারা সে গোত্রের নয় এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না এ-ও সত্যি। কিন্তু তাতেই আলগা মন্তব্যকে হালকা করে না দেখার দরকার ফুরোয় না।

এই জাতীয় মন্তব্য যারা করে, তাদের স্বপক্ষে দেওযা় যুক্তিগুলো আপাত দৃষ্টিতে খুব ফেলনা মনে হয় না। উদাহরণ দিই সচলের বাইরের জগত থেকে। অ্যাফ্রো-অ্যামেরিকানদের কথা বলতে গিযে় দেশিরা (আমার দেখা-মতে ভারতীয়রাই, তবে বাকিরা বাদ দেয় এমন রিপোর্ট পাই নি) কেউ কেউ খুব হালকা চালেই কিছু বাছাই-করা বাংলা শব্দ (বা ভারতীয় অন্য ভাষাতেও) ব্যবহার করে। বলার টোন-টা অনেক সময়ই ঠাট্টামুখর হয়, ফলে ভুল ধরানোর সুযোগ কমে যায়, আড্ডার মাঝে পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের কথা বলে বেরসিক সাব্যস্ত হতে কে-ই বা চায়। রেসিজমের এই ঢালটা আপাত দৃষ্টিতে খুব নিরীহ, কিন্তু খুব ফলপ্রদ। সিরিযা়স কথার প্রতিবাদ সঙ্গত দেখায়, কিন্তু ইযা়র্কির ছলে কিছু বললে তার প্রতিবাদ করাটা শুধু বেরসিক হওযা়ই নয়, অনেকে উল্টে এ-ও বোঝাবে আপনাকে, তুই বড্ডো বাডা়বাডি় করিস, ও কি আর মীন করেছিলো সেটা?

মীন না করলে বলবেন না। বৈঠকীরস নিজের পয়সায় কিনুন, অপরকে হেয় করে নয়। আঘাতপূর্ণ রসিকতা না করে থাকতে একান্তই যদি না পারেন, নিজেকে নিয়ে করুন।

ধর্ম নানা কারণেই অতি সংবেদনশীল এলাকা। মানুষ নিজে ধর্মপালন করে কি করে না সেটাতেই শেষ হয় না ব্যাপারটা। পাঠক তাঁর ধর্ম কতো দূর প্র্যাকটিস করেন তা দিযে় তাঁর সত্ত্বা সংজ্ঞাযি়ত হয় না, হলে ভালো হতো হয়তো। যে মুহূর্তে কেউ তাঁর ধর্ম নিযে় কিছু বলে, গাযে় লাগার সম্ভাবনা তৈরি হযে় যায় যেহেতু তাঁর পরিবার-পরিজন সেই ধর্মভুক্ত। কাজেই এমন কাজ করাটা কি খুব জরুরি? এমন দাযি়ত্বহীন মন্তব্যে কেউ আহত হলে সেই আহতকেই কেন পরিবেশের শান্তি রাখার কাজটা করতে হবে, এমন তো নয় যে সে উল্টে গাল পেডে়ছে। এই পথেই আসে আরো তিন খানা কুযুক্তি।

এক, আমি তো নাস্তিক কাজেই সব ধর্মকে সমালোচনা করা (পডু়ন আলগা মন্তব্য করা) আমায় সাজে।

দুই, আমি তো নিজের ধর্মকেও ছেডে় কথা বলি না। তোমার ধর্ম নিযে় বললেই দোষ?

তিন, আমি তো তোমাকে অন্য ধর্মের ভাবিই না, মানুষ হিসেবেই জানি, তাই তুমি আক্রান্ত বোধ করবে এ কথা মনে আসে না কখনো।

আস্তিক নাস্তিক অজ্ঞেয়বাদীদের জটিলতায় যাবার প্রযো়জন নেই, আসল যুক্তিটা অনেক সহজ। আত্মসমালোচনা করার জন্য অনুমতি লাগে না, করতে হয় করুন। অন্যের ধর্ম নিযে় কথা বলার হকটা ঠিক সেই রকম সহজলভ্য জিনিস নয়। কাজেই সেখানে সতর্ক হতে হবে। বিশেষত যদি মনে করেন আপনি মানুষকে ভালোবাসেন, তাহলে আরো বেশি সতর্ক হওযা় দরকার। আর না মনে করলেও মুক্তি নেই, নিজেকে সভ্য মানুষ দাবি করলেই এটা জরুরী। আর মানুষকে স্রেফ মানুষ হিসেবে ভাবলেই গল্প ফুরিযে় যায় না। আমার বৌদি বাংলাদেশের মেযে়, ভাবছি তার সামনে গিযে় বাংলাদেশের চাট্টি নিন্দে করে বলি, তুমি তো ফ্যামিলি!

তার মানে কি এই দাঁডা়লো যে ধর্ম এমন একটা জিনিস যা নিযে় আদৌ কথাই বলা যাবে না? অথবা অন্য জাতের (যে কোনো অর্থেই) মানুষের সঙ্গে মেপেজুপে কথা বলতে হবে? এর উত্তরও সহজ। ধর্মে প্রচুর কুপ্রথা ঢুকে যায়, তার সমালোচনা করা যাবে না এমন নয়। কিন্তু ধর্ম মানুন আর নাই মানুন, যাঁরা মানেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওযা়টা জরুরী। কাজেই তার সমালোচনা করতে গেলে তার প্রকাশ ও পদ্ধতি সেই রকম হতে হবে। প্রাণের বন্ধুকে আলগোছে অনেক কিছু বলা যায়, তার সাথে ঠাট্টার সম্পর্ক। বাবা কিম্বা ঠাকুর্দাকে তাঁদের ত্রুটি নিযে় বলতে গেলে তার প্রকাশভঙ্গি আলাদা হযে়ই যায়। এও সেই রকম। যদি মনে হয় নিজের স্বভাবচাপল্যের কারণে ঐ সব গাম্ভীর্য্য বজায় রেখে কথা বলা যায় না, তাহলে না হয় নাই বললেন। প্রকাশভঙ্গি অনায়ত্ব হলে কিছু বিষয় না হয় অধরাই থাক, ঐ দু চারটি কথা আলগোছ না বললেও মহাবিশ্ব নিজের ছন্দেই চলবে। তাছাডা় অফিসে বসের সাথে কথা বলার সময় যে সমীহ ও নিয়ন্ত্রণ আপনা থেকেই আসে সেটা এতো চেষ্টা করেও আসছে না অন্যের ক্ষেত্রে, এই কথা বললে তার যে ব্যাখ্যাটা দাঁডা়য় তার কথা বলে আর লজ্জায় ফেলতে চাই না।

তবে এহ বাহ্য। এতো সব কথার পরেও বাস্তব জগত এর বিপরীতে অবস্থান করে। সেখানে সংখ্যালঘুর নিপীড়ন চলতে থাকে, প্রতিনিয়ত অপমান ও চোখে আঙুল দিযে় তফাত দেখিযে় দেওযা় হয়। সেই পৃথিবীতে দাঁডি়যে় এমন সূক্ষ্ণ সংবেদনশীলতার কথা হাস্যকর শোনাতে পারে। তাও যে কথা ওঠে, তার কারণ আছে। বলি।

এক, যার লাগে, তার লাগে। কিন্তু তাই বলে আমার গাযে় লাগে নি বলে আমি বলবো না, যাক ভাই, ছেডে় দে। এমন তো নয় যে আগে ছেডে় দেওযা় হয় নি। পুরোনো এক লেখায় বীভৎস একটি মন্তব্য এখনো ঝুলে আছে আপত্তিকর অভিযোগ ছাডা়ই। সেখানে হাসান মোরশেদ-সহ আরো অনেকে প্রতিবাদ করেছেন (ওঁর নাম করলাম এই জন্য কারণ ঐ রকম প্রতিবাদ পডে় ভরসা আসে যে সবাই নিজেরটুকু নিযে়ই শুধু ভাবে না)। এটা কাদা ছোঁডা়ছুঁডি় নয়। বরং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবার যাতে না ঘটে তার প্রতিষেধক। শান্তিরক্ষার গুরুত্ব বুঝি, কিন্তু এ জিনিস অনেক বেশি জরুরী যে! এ কথাও বলি, এ জাতীয় মন্তব্য যে কোনো সম্প্রদায়কে নিযে়ই করা হোক, চোখে পড়লে প্রতিবাদ জানিযে় যাবো।

দুই, সচলের পরিবেশ। এখানে অনেক কারণে পাঠক আসে, ভালো লেখা পড়তে, ভালো পরিবেশে সময় কাটাতে। এখানকার পরিবেশ ঠিক রাখার জন্যই এই প্রতিবাদ জরুরী। সামযি়কভাবে চাপা দিলেও যে তাতে ফল হয় না তার আর প্রমাণ চাই কি?

সচলে (বা সমাজে) আচরণের গাইডলাইন ঠিক করে দেবার আমি কেউ নই। তবু যে করি তার কারণ আমি ভালো পরিবেশ চাই। একই কারণে সমাজ জীবনে চেনা মানুষেরা মুসলমানদের নিযে় আপত্তিকর মন্তব্য করলে প্রতিবাদ করি, বেরসিক তকমার সম্ভাবনা নিযে়ও। কারণ তাদের চোখে সুরসিক হবার চেযে় একটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ আমার কাছে বেশি কাঙ্খিত, যেখানে মানুষ মানুষকে আঘাত করে পরমানন্দ পাবে না, বরং লজ্জিত হযে় ভুল শোধরাবে। আর অধিকারের প্রশ্নও আছে। তবে সচল হিসেবে সচলের পরিবেশ যাতে ভালো থাকে সে দাযি়ত্ব থেকেই অধিকারবোধ আসে। সেই অধিকারেই উচ্চারণ করি এই সব কথা। এবং আশা ছাডি় না, এক দিন সবাই সৌহার্দের কথা বলবে, সারা পৃথিবীতে না হলেও সচলায়তনের ছোট্টো জগতটুকুতে বলবে। এ চেষ্টা কেন করবো না সে যুক্তি যদি কেউ জানেন তো জানাবেন, আমি কর্ণময়।


মন্তব্য

মামুন হক এর ছবি

ভালো লাগলো তোমার সুচিন্তিত লেখাটি পাঠকদা , এবং আমি তোমার সাথে একমত।

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ দিলাম না, পাঠ ও মন্তব্যের জন্য। বোঝাতে যদি পেরে থাকি কেন এতো হৈচৈ-এর পরেও এ প্রসঙ্গের অবতারণা করতে হলো, তাহলেই খুশি। সবাই মিলেই সচলকে সচল রাখতে হবে।

s-s এর ছবি

আপনার লেখার অনেকাংশের সাথেই একমত মূলোদা, কিন্তু আপনি যা বলছেন তা "আইডিয়াল" বা "আদর্শ" সমাজের বাস্তবতা। পৃথিবীর মতই সচলের সমাজটাও ওই "আইডিয়াল" ইউটোপিয়া নয় যে, তাই জন্যে এরকমটা হয়ই। মনে হয়,(চাইনা কিন্তু !) হতেই থাকবে। চাইনা, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। দেখুন এই লেখার জন্যই আপনাকে কতজন "হিন্দু" তকমা "ভারতীয়" তকমা ইত্যকার নানা তকমায় ইতমধ্যে ভূষিত করে ফেলেছেন হয়তো। আমাকেও অন্য প্রেক্ষাপটে অন্য কিছু বলা হয়েছে বা আড়ালে "অভিষিক্ত" করা হয়েছে। কথা হচ্ছে, সিরাতের পোস্টেও বলেছিলাম, আবারও বলি, লেখক "যেভাবে" ইচ্ছা লিখতে পারেন, পাঠকও তাহলে "যেভাবে" ইচ্ছা উত্তর দেবেন। সেটাই সত্যিকারের পৃথিবীতে হয়। তাতে কী হচ্ছে? যাচ্ছেতাই বলছে, সবাই নয়, কেউ কেউ। এই মিথস্ক্রিয়াতে হয়তো সত্য বা "ভালো" কিছু গ্রহণযোগ্য হিসেবে টিকে থাকবে, এই কামনা করি। না হয়ে সচল হয়তো খেয়োখেয়ির জায়গাতেও পরিণত হতে পারে। সবই সম্ভব। কিন্তু চাই ভালো কিছু হোক। ভালো থাকবেন।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। কয়েকটা কথা যোগ করি, যে জায়গায় সহমত হতে পারি নি পুরোটা তা নিয়ে।

আদর্শ আর বাস্তবের ফারাক আছেই। কিন্তু ঘটনা হলো এই যে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব পৃথিবী আদর্শের কল্পনাকে ছাপিয়ে যায়। একটা ছোটো উদাহরণ দিই, এইমাত্র জানলাম তাই ওটাই মনে আসছে। আমি যে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে সদ্য থাকতে শুরু করেছি তাদের কিছু বিশেষ অফার ছিলো, দু বছর থাকার চুক্তিতে ভাড়ায় কিছু ছাড়। কিন্তু মাসে মাসে ভাড়া দিতে একবারও যদি দেরি করি তাহলে জরিমানা তো আছেই, তার সাথে সেই ছাড়টুকুও আর থাকবে না। এই সব ব্যাপার কিন্তু সব বাড়িতে নেই, এখানে আছে কারণ এরা বাসিন্দাদের সুযোগ সুবিধার আয়োজন যত্ন ক'রে করে। এ তারই মূল্য। এ তো বাস্তব পৃথিবীরই গল্প। একবার মদ্যপান করে গাড়ি চালিয়ে ধরা পড়লে তার দুর্ভোগ বইতে হবে বহু দিন, তারপর যেহেতু পূর্বেতিহাস রয়ে গেছে, বীমা খরচ যাবে বেড়ে। এ-ও বাস্তব। অপরাধ তো ঘটেই, ভুলক্রমে হলেও, কিন্তু বাস্তব পৃথিবীকে আইডিয়াল বানানোর চেষ্টা তো থামাই না। কাজেই একবার রেসিজম দেখিয়ে শোরগোল ফেলে তারপর আবার পুনরাবৃত্তি হলে বাস্তব পৃথিবীতেই তার কিছু ফলাফল ঘটবে, না ঘটলেই বরং চিন্তার কথা।

সচলে যদি ভালো পরিবেশ রাখতে হয় তাহলে এ জাতীয় আচরণ যাতে না ঘটে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকেই। আর যে তকমাদুটোর কথা বললেন, সেগুলো তো সত্যি কথাই। আমার ভারতীয় ও হিন্দু হওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বানান ঠিক করার কারণে প্রুফ রিডার, বা সচল সাফ করার চেষ্টার্থে ঝাড়ুদার হলেই বা ক্ষতি কী? হাসি

সাফসুতরো বাড়িতে আমিই তো থাকবো, কাজেই দায়িত্ব এড়াই কী করে।

s-s এর ছবি

উঁহু, কথাটা আপনার সমস্যা হওয়া না হওয়া না নিয়ে নয় কিন্তু, তকমাটা যে বা যারা আঁটাচ্ছেন, তাদের প্রকাশভঙ্গী ও মাত্রাজ্ঞান নিয়েই যেটা আপনার এ পোস্টের মূল সুর। আপনি আহত না হলেও আপনাকে "হিন্দু" বা "ভারতীয়" লেবেলিংয়ে আমি নিশ্চয়ই আহত হবো, সেটার কারণ কিন্তু আপনার পোস্টেই সুন্দর করে বলা আছে ,সংবেদনশীলতা একটা চর্চার জিনিস, চাপিয়ে দেবার নয়। যাদের নেই, তাদের চাপিয়ে দিলেও হয়না জন্যেই আমি কিন্তু বলেছি এরকম আর হবেনা সেটার কোনো আলামত আমি দেখতে পাইনা। ভালোর জন্য চেষ্টা তো করেই যাচ্ছি, সেটা বাহ্য। কিন্তু বাস্তবতাটা মাথায় থাকাটাও জরুরী। আমি বলিনি করতে হবেনা, বলেছি, বাস্তবে এই আদর্শীকরণ সুফল না বয়ে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে। সংখ্যাধিক্যের হেজিমোনি বনাম সংখ্যালঘুর অনুভূতি এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মাত্রাজ্ঞান হারানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে শুধু সংবেদনশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে (সবাইকেই জানালাম তাতে আপত্তি নেই) বৈষম্যমূলক লেখা থামানো যাবেনা বলেই আমার বিশ্বাস। এখন আমার লেবেলিং হতে পারে, এক্ষেত্রে আমি নিজে সংখ্যালঘু, তাই হয়তো এই সংবেদনশীলতা কাজ করে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো আমরা সবাই কোনো না কোনো সময়ে সংখ্যালঘু - একপাল ছেলেদের মধ্যে একটা মেয়ে, একপাল সাদাদের দেশে একটা কালো অথবা একগাদা মুসলমানের দেশে এক হিন্দু, অথবা ধরুন একদল শিখদের মধ্যে একমাত্র ক্রিশ্চিয়ান। সংখ্যালঘু হবার বেদনা অনুভব করার জন্য আপনি বা আমি যেই সংবেদনশীলতা চাই সেটি আমরা পালন করলাম, কিন্তু আরো কোনো সংখ্যাগুরু লেখক তার নিজ তরবারি হিসেবে ব্যবহার করতেই পারেন। এটা একটা দুঃখজনক বাস্তবতা। থামানোর জন্য কথা তো বলতেই হবে। আমার কথাটা ছিলো তার কার্যকারিতা নিয়ে, সে ব্যাপারে আমি কিন্তু আগের মতই বহাল রাখছি। আশা করছি বোঝাতে পারলাম।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার কথা বুঝেছি আশা করছি। সংবেদনশীল হওয়া চর্চার বিষয়, এবং দুঃখের বিষয় অনেক সময়ই সে চর্চা পরিবার পরিজনের মাধ্যমে হয় না, বা শীলিত পরিবেশে বড়ো হয়েও আমরা অনেক সময় অন্য উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা অর্জন করে নিই। এর নিরাময় কী? বৃথা আশার কথা শুনিয়ে সূর্যোদয়ের ছবি দিয়ে লেখার সুখসমাপ্তি করার আমারও অভিপ্রায় নয়। তবু আশা ছাড়তে যে পারি না তার কারণ সামগ্রিক পাঠকগোষ্ঠির মুক্ত মানসিকতা (আমি শুধু সচলের কথাই বলছি)।

একজন মানুষকে যেমন শিখতে হয় সহিষ্ণুতা, তেমনি সমাজও ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা শেখে, সে বস্তুও একদিনে হবার নয়। রেসিজমের উদাহরণের পাশাপাশি আমাদের তাই অন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে যেতে হবে, প্রতিনিয়ত, নিজে আক্রান্ত না হলেও, নিজে সংখ্যালঘু না হলেও। এই কারণেই এই লেখা লিখলাম, নইলে এর আর কী প্রয়োজন ছিলো, প্রতিবাদ তো হয়েই ছিলো। তবে আরেকটি কথা বলে যাই, এ নিয়ে স্নিগ্ধা আজ অনেক আলাপ করলেন। সংবেদনশীলতার দোহাই দিয়ে আমরা যেন আলোচনার পথ রুদ্ধ না করি। মডারেশনের মাধ্যমে সে কাজ করা যায়, কিন্তু সে ক্ষেত্রে আশঙ্কা থাকে কতোদূর যাওয়া যেতে পারে সে নিয়ে। ধর্মবিশ্বাসীরা যদি ধর্মে মানা আছে এমন কথা নিয়ে আলোচনা হলেই আহত বোধ করেন তাহলে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হবে না, এবং সেটাও বিচক্ষণতার কাজ হবে না। কাজেই আলোচনা হওয়া জরুরী, শান্তির ও সহিষ্ণুতার পরিমণ্ডল সৃষ্টির প্রয়োজনেই।

হিমু এর ছবি
মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, হিমু।

অতিথি লেখক এর ছবি

মূলত পাঠক দা আপনার চিন্তাধারা যৌক্তিক এবং আমাদেরও একি ভাবে ভাবা উচিত।
মন্ত্যবে সহনশীলতা শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে না সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকা জরুরী। মতের অমিল থাকতে পারে, লেখা ভালো নাও লাগতে পারে, তাই বলে কটু মন্তব্য কারোই করা বাঞ্ছনীয় না। সচলকে ভালবেসে অন্য সব ব্লগে এখন কম ঢু মারি। এখানে অনেক ভালো লেখা পাই। মন্তব্যও অনেক গঠনমূলক। লেখকে অনেক সাহায্য করে পাঠকের পরামর্শমূল ও গঠনমূলক সমালোচনা, তাই এখানে দুকলম লেখার মনোবাসনা নিয়েই ঢুকি।

দাদা, যে মননে সাম্প্রদায়িক, তার কথাও সেটা বহিঃপ্রকাশ ঘটবে,এটাই স্বাভাবিক। আপনার মতো ভাবতে পারলে, ধর্ম নিয়ে অধর্মের যুদ্ধ আর হবে না। সমাজের ধর্ম গেলো বলে কেউ গলার স্বর উঁচু করবে না। আমি মুসলমান বলে হিন্দুকে আঘাত করবো, বা হিন্দু বলে মসুলমান ধর্মকে হেয় করবো, এই শিক্ষা মনে হয় কোনো ধর্মই দেয় না। সুতরাং নিজ ধর্মকে কেউ শ্রদ্ধা বা সঠিক ভাবে পালন করলে অন্য ধর্ম নিয়ে খারাপ কথা বলার কোনো মানসিকতাই থাকার কথা না। আসুন নিজ ধর্মকে পালন করি, মননে ধারন করি, আর অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করি নিজের ধর্মের মত।
ধন্যবাদ।
দলছুট।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার ধর্ম ও সহিষ্ণুতার কথাগুলো অবশ্যই সঠিক, সম্পূর্ণ সহমত। তবে আপনি যে অন্য কথাটি টেনে এনেছেন তা এখানে প্রাসঙ্গিক মনে হলো না। কেন, বলি। সুমধুর মতামতে যখন কাজ হয় না তখন মন্তব্যের সুর কড়া হয়, বিশেষতঃ লেখক যখন বার বার 'শ্রদ্ধার সঙ্গে' জানান যে ফিডব্যাক ভবিষ্যতে প্রতিফলিত হবে, অথচ সামান্য বানান নিয়েও যত্ন দেখা যায় না। অনেক তর্কবিতর্কের পর জানা গেলো আপনি তার আগে লেখার প্রিভিউ দেখার ব্যাপারটাই করে উঠতে পারেন নি একটিবারের জন্যও! যাক, আমার সেই 'কটু' মন্তব্য এমন জেনেরালাইজড মন্তব্যের সাথে তুলনীয় কেন তা বলার প্রয়োজন বোধ করেছেন কি? আমার ফিডব্যাক কি সাম্প্রদায়িক ছিলো? আপনার লেখার পয়েন্ট ধরে ভুল বলা (এবং সেও আপনি পাঠকের মতামত শুনতে চেয়েছেন বলেই), আর অপ্রাসঙ্গিকভাবে একটা গোটা গোষ্ঠিকে রেসিস্ট বলা, এ দুটো কি আপনার এক রকম লেগেছে?

এ নিয়ে এখানে আর আলোচনা না করতে অনুরোধ করছি। এই লেখা অন্য বিষয়ে, তা নিয়ে আলোচনা কিছু করার থাকলে স্বাগত।

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

হো হো হো

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

স্নিগ্ধা এর ছবি

মুশকিলটা কী জানেন? আপেক্ষিকতা বা সীমানা। আমি নিজের কথা বলতে পারি - সচলের পরিবেশ ভালো থাকুক এটা যতই চাই না কেন, সেইসাথে এটাও চাই যেন সেই পরিবেশ একটা আঁটসাঁট, দমবন্ধ করা পরিবেশে পরিণত না হয়। এবং সেখানেই আমি নিজেই একটা ঝামেলায় পড়ে যাই। কতটুকু হলে আমি নির্ভার আনন্দময় প্রগতিশীল পরিবেশ বলবো, আর কোন সীমাটা অতিক্রম করলে সেটাকে আপত্তিজনক বা অফেন্সিভ বলবো? ব্যক্তিগতভাবে আমার সীমানা কোথায় সেটা আমি নাহয় জানি, কিন্তু আমিই তো আর মানবসমাজের আদর্শ বা আইডল স্বরূপ নই? আমার মতামতই তো আর শেষ কথা নয়? যেমন, আমি নিজেও অনেকক্ষেত্রেই মেনে নেই না অন্য কারো আপেক্ষিকতার সীমা। তাহলে?

এই 'তাহলে'র উত্তরটা খুব সম্ভবত এই প্রশ্ন দিয়ে হতে পারে - 'তাহলে কি এইই চলতে থাকবে?' না, সেটাও নয়। তাহলে বোধহয় ওই s-s যেটা বলেছে সেটাই দাঁড়াচ্ছে - লেখক যা লিখবে তার দায় তাকেই নিতে হবে, প্রতিক্রিয়া, সমালোচনা এবং আনুষঙ্গিক সবকিছু সহই, পাঠক এবং মডারেটর/মডারেশন সব পক্ষ থেকেই।

এবং সেসব থেকে হয়তো সহনশীল এবং সংবেদনশীল আচরণ একসময় আমরা আশা করতে পারবো ......

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার মন্তব্য পড়ে কিছুটা অন্যরকম ভেবেছিলাম, কিন্তু অফলাইন আলাপ করে বক্তব্যটা ধরতে পারলাম। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই উত্তর দিই।

এমন কি যদি রসিকতার খাতিরেও হয়, তবু কারোকে জাতধর্মবর্ণ ইত্যাদি নিয়ে আঘাত করে লেখা কোনো ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আড্ডায় হাসিঠাট্টায় আলটপকা মন্তব্য এক জিনিস, আর লেখায় বা পাবলিক ফোরামে কিছু বলা অন্য। কাজেই তার একটা গাইডলাইন থাকা দরকার। সচলে সেটা আছে, তবে তার নানা ব্যাখ্যা হয়, এবং সে ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক কথা গলে যায় হয়তো। কিন্তু তার পরেও পাঠকেরা আছেন, তাঁরা জানিয়ে দেন কোনটা ঠিক কোনটা ভুল। এই দুইয়ের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে নীতিমালা, ফর্মাল ও ইনফর্মাল। আশার কথা এই প্রক্রিয়া থামে নি, প্রতিবাদী স্বর তাই শুনতে পাই। কতোটা ঠিক আর কোথায় গেলে ভুল হয়, সেটা পাঠকেরাই বুঝিয়ে দেবেন, সচলের উপর সে আশা আমার যায় নি।

মুস্তাফিজ এর ছবি

অন্যের রেসিজম নিয়ে কথা বলার আগে খোলসা করে বলা ভালো, আমিও এর থেকে পুরোপুরি ঊর্দ্ধে উঠে গিযেছি এমন ভ্রান্তিতে ভুগি না। সে উত্তরণ বোধ হয় সম্ভবও না কারোরই পক্ষে। কিন্তু সাম্প্রদাযি়ক মন্তব্য করে অপরকে আহত করার মতো কাজ যাতে না করি সে প্রচেষ্টা থাকে। এই প্রচেষ্টাটুকু করা খুব কঠিন কাজ নয়, সামান্য সংবেদনশীলতা থাকলেই এটার প্রযো়জন ভেতর থেকে অনুভূত হয়। নিজেকে সভ্য বা শিক্ষিত দাবি করার আগে এইটা করা জরুরী।

জরুরী মানে প্রয়োজনীয় বিষয় এটাই

...........................
Every Picture Tells a Story

মূলত পাঠক এর ছবি

ফোটোগ্রাফারের চোখ, আসল পয়েন্টটা খুঁজে বের করেছেন ঠিকই।

স্বপ্নহারা এর ছবি

অসাধারণ!! খুব খুব চমৎকার লাগলো! মনে মনে এমন একটা লেখা লেখার স্বপ্ন দেখছিলাম...খাইছে! সকালে উঠেই মন ভাল হয়ে গেল...আপনি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কথাগুলো...বেসিক মানবিক ধারণাগুলো আবার মনে করিয়ে দিলেন। এই লেখাটা আমার নিজের ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখলাম...আমরা অন্যকে ছোট দেখাতে গিয়ে আসলে নিজেকেই ছোট করি! অনেক ধন্যবাদ...

-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার নামে স্বপ্ন, স্বাক্ষরে স্বপ্ন, এখন দেখি আপনি মনে মনে লেখা লেখারও স্বপ্ন দেখতে থাকেন। হাসি

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

চলুক

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু হাসি

জুয়েইরিযাহ মউ এর ছবি

ভালো লাগলো লেখাটি। অনেক প্রয়োজনীয় কথা সহজ ভাষায় চমৎকারভাবে তুলে ধরলেন।

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, জুয়েইরিযাহ মউ।

বইখাতা এর ছবি

আপনার লেখা ভালো লাগলো। প্রাসঙ্গিক আরো একটি পোস্ট পড়লাম।

আপনার লেখার মূল সুরের সাথে একমত।
আমি যদি কোনো পাব্লিক প্ল্যাটফর্মে, সমাবেশে কোনো কথা বলতে যাই, বিশেষ করে সেটা যদি হয় কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা, তাহলে সতর্কতার সাথে, চিন্তাভাবনা করে, সংবেদনশীল হয়ে বলতে হবে, যাতে সে কথা কাউকে আহত না করে। একটা পাব্লিক প্ল্যাটফর্মে বা বড় সমাবেশে সবাই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনবে বা আমার মন মানসিকতার সঠিক পরিচয় তাদের সবার কাছে থাকবে এটা নাও হতে পরে, ফলে ভুল বোঝার াবকাশ থেকে যায়।
তারপরও কথা থেকে যায়। আমি আমার চিন্তা-ভাবনার সীমা কে তো আর ছাড়িয়ে যেতে পারিনা। আমার মানসিকতার প্রতিফলন আমার কথাতে পড়বেই। আর সবার মন মানসিকতা, চিন্তভাবনার ধরণ যে একরকম হবেনা, সেটাও ঠিক। তাই বিতর্কিত, অন্যের বোধকে আহত করা বক্তব্য আসতে পারে। আর এর জন্যই যত বিতর্ক আর ভুল বোঝবুঝি, আহত হওয়া আর তিক্ততার সৃষ্টি। তবে যদি আমার এরকম কোনো কথায় কেউ আহত বোধ করে, তার দায়ও সম্পূর্ণ আমার। তবে কি কথা ভয় পেয়ে বন্ধ করে দিতে হবে ? নিশ্চয়ই না ! কিন্তু ওই যে সংবেদনশীলতা - এটার ওপর ভরসা করা ছাড়া আর কী করা যায় !

(অফটপিক : আরো একটা কথা না বললেই না, না বললে আমি নিজের কাছে নিজের অপরাধবোধ কমাতে পারবো না। এই পোস্টে দেয়া লিঙ্কে যে মন্তব্য (যেহেতু লিঙ্কটা দেয়ো হয়েছে, তাই অনেকেই এই লিঙ্ক অনুসরণ করে মন্তব্য পড়বেন ধরে নিচ্ছি) পেলাম সেখানে যে কথা বলা হয়েছে, তাতে যারা আহত হয়েছেন, আক্রান্ত বোধ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে ক্ষমাপ্রার্থী।)

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনি আমার মনের কথা বললেন, সহমত।

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

যার লাগে, তার লাগে। কিন্তু তাই বলে আমার গাযে লাগে নি বলে আমি বলবো না, যাক ভাই, ছেডে দে। এমন তো নয় যে আগে ছেডে দেওযা হয় নি।

চলুক চলুক চলুক চলুক চলুক
স্লাইটলি অফটপিক: আপনার লেখা পড়ে আমার আগে দেখা এক ইউটিউব ভিডিওর কথা মনে পড়ে গেলো (সবাই রেসিজম দেখেও না দেখার ভান সংক্রান্ত একটি এক্সপেরিমেন্ট) মন খারাপ

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার দেওয়া ভিডিওটি দেখলাম, খুবই প্রাসঙ্গিক এবং দুঃখজনক!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার স্বপ্ন।

গরীব
সাউথ কোরিয়া

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ।

অনিকেত এর ছবি

মূলোদা,

লেখাটা খুব ভাল লাগল। আমাদের অনেকের মনের কথা বলে দিয়েছেন।

কিন্তু সেই সাথে S-S এর মন্তব্যটাও মাথায় রাখি। শুভাশুভের লড়াই, সত্য-মিথ্যার দ্বৈরথ আমাদের মানবিক জীবনের অনুষঙ্গ। একটা অকৃত্রিম অনাবিল স্বর্গ আমরা এই ধরার ধুলিতে গড়তে না পারলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা তো আমরা পেতেই পারি। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মানুষের উপর থেকে বিশ্বাস হারাই না। জাত-পাত, বর্ণ-বিদ্বেষ এই আমাদের তৈরী হলেও এই আমরাই কিন্তু তাদের হারিয়ে দিই অনবরত,অবিরত।

এখানে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। কিন্তু আমি এতে হতাশ নই। আমরা সকলেই নিজস্ব একটি দানব লালন করি নিজেদের মাঝে। সময়ের সাথে সাথে একদিন এই শুম্ভনিশুম্ভ একদিন সম্পূর্ণ পরাস্ত হবে আমাদের হাতে---এই স্বপ্ন আমার, আপনার, সবার।

মূলত পাঠক এর ছবি

সত্যি কথা, ভুল শুধরাতে হবে আমাদের, এবং এ এক দিনে হবে না। আমার সাথে কেউ রেসিজম করেছে বলে যদি আমিও আরেক জনের উপর তাই করি, অথবা আমার ধর্মকে কিছু লোকে খারাপ বলে অতএব আমি তাদের ধর্মকে গাল পাড়ি তাহলে খেলা শেষ।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এই লেখাটার আজ প্রয়োজন ছিলো...। সাহস করে গুছিয়ে বলে উঠতে পারিনি- পাঠুদা বলে দিলেন। ...
অনিকেতদা বলেছেনঃ

আমরা সকলেই নিজস্ব একটি দানব লালন করি নিজেদের মাঝে। সময়ের সাথে সাথে একদিন এই শুম্ভনিশুম্ভ একদিন সম্পূর্ণ পরাস্ত হবে আমাদের হাতে---এই স্বপ্ন আমার, আপনার, সবার।

সেইটাই কামনা।

---------------------------------------------------------------------------

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ সুহান। কাল রাতে বাড়ি ফিরে পড়ে খারাপ লাগছিলো, সকালে উঠেই লিখতে বসে গিয়েছিলাম তাই।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

চমৎকার একটা বিশ্লেষণ

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, মাহবুব লীলেন।

সৌরভ এর ছবি

কাল থেকে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে।
আপনার লেখার পর সে প্রয়োজনীয়তা আর বোধ হচ্ছে না।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

মূলত পাঠক এর ছবি

কাল রাতে আমার খারাপ লাগছিলো মন্তব্য করি নি বলে, তবে ভালো লেগেছিলো আপনাদের প্রতিবাদ দেখে। আমার ধন্যবাদ জানবেন যাঁরা প্রতিবাদী স্বর শুনিয়েছেন সকলেই।

অনীক আন্দালিব এর ছবি

আপনার লেখা আর কথাগুলো পড়তে পড়তে মনে হলো কতো গুছিয়ে বলেছেন।

আমি ঠিক জানি না কোন ঘটনায় এমন হলো, মাঝে বেশ অনেকদিন সচলে লেখা ফলো করা হয় নাই। তবে নিশ্চয়ই গুরুতর কিছু।

কবে যে রেসিজম আর জাজমেন্টাল মন-মানসিকতা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাবো! এটাই ভাবছি এখন।

মূলত পাঠক এর ছবি

ঘটনা হলো এটাই যে কথা আপনি শেষে লিখেছেন। পুরোপুরি তো দূর অস্ত, ঐ ব্যাধি চেপেচুপে রাখি, কিন্তু মাঝে মাঝেই বের হয়ে পড়ে। সেটাই সমস্যা।

স্বাধীন এর ছবি

পাঠক'দা আপনার বক্তব্যে সহমত জানিয়ে গেলাম।

তানবীরা, উনার লেখাটি আজাইরা ছিল বলে পড়া হয়নি। কিন্তু আজ পড়ে এবং লিঙ্ক দেওয়া লেখায় উনার মন্তব্যে আমি মর্মাহত হয়েছি। আরো দুঃখ পেয়েছি দু'ক্ষেত্রেই উনি নিজের পক্ষে পরবর্তীতে যে যুক্তি দিয়েছেন সেগুলো দেখে, যা আমার মতে দুর্বল যুক্তি।

আগের লেখায় সাদা-মডুর একটি বক্তব্য আমার কাছে পরিষ্কার নয়। ঠিক কতবার নীতিমালা ভঙ্গণ করলে সেই সদস্য মডারেশনের আওয়তায় আসবে তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। সচল পরিবার বড় হচ্ছে। আমার মতে সময় এসেছে নীতিমালা পর্যালোচনার এবং নীতিমালাগুলো আরো বিস্তারিত করে লেখার।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার কথাটি ভেবে দেখার মতো। তবে মডারেশন কতদূর করাই বা সম্ভব? কাজেই দয়িত্ব শেষ অবধি আপনার আমার।

রেনেট এর ছবি

যে কথাগুলো বলতে গিয়েও বলতে পারিনি, বা বললেও এমন চমৎকারভাবে বলতে পারতাম না, সেকথাগুলো বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ রেনেট। কাল আপনার একটি মন্তব্য খুব ভালো লেগেছিলো, আক্রান্তের উপর শান্তিরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে।

অবাঞ্ছিত এর ছবি

লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। সহমত।
__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ অবাঞ্ছিত।

সাফি [অতিথি] এর ছবি

লেখা ভাল লাগল। আড্ডার ছলে বলা আলগা কথা শুনে আহত হ্ওয়া , এ অভিজ্ঞতা আছে। নিজে তাই সতর্ক থাকি অন্যের চিন্তাকে আহত না করার ব্যপারে। সবাই যদি নিজের ব্যপারে সচেতন হয়, তাহলেই পরিবেশ বজায় থাকবে। একটা পরিষ্কার স্হান ময়লা করার আগে সবাই দুবার ভাবে।

মূলত পাঠক এর ছবি

এটাই সহিষ্ণুতার প্রথম ধাপ। যে আঘাত আমার লাগে সেটা অন্যকে দিই কেন?

আহির ভৈরব এর ছবি

লেখাটা খুব ভালো লাগলো। মার্জিত অথচ অতি স্পষ্ট, শক্ত ভাষায় বল্লেন খুব জরুরী কিছু কথা, অনেক ধন্যবাদ।
-----------------------------------------------------
আর কিছু না চাই
যেন আকাশখানা পাই
আর পালিয়ে যাবার মাঠ।

-----------------------------------------------------
আর কিছু না চাই
যেন আকাশখানা পাই
আর পালিয়ে যাবার মাঠ।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ, আহির ভৈরব। ভবিষ্যতে সচলে পরিবেশ সুন্দর রাখার অঙ্গীকার করি চলুন।

সিরাত এর ছবি

আমি কি সাধে পাঁচ লেখার তিন লেখায় 'রাজর্ষি' শব্দটা আনি?

আশা করি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন সবাই বুঝবে, নিবে। তবে তার আগেই কানে হাত দিয়ে বলি, আমি নিজেই মাঝে মাঝে এ নিয়ম ভাঙ্গি। সে জন্য আমি অনুতপ্তও।

সামনে এ নিয়ে আমারও লেখার ইচ্ছা ছিল। যাহোক, আপনাকে আর কি বলবো?

আমার আগে ৯টা ৫ ছিল, দিলাম ১০ নাম্বার পাঁচ। ভুতুমের মনে হয় অ্যানালিটিকাল লেখার শখ মিটেই গেল! চোখ টিপি

সিরাত এর ছবি

আমি আপনার লিংক করা লেখাটা পড়লাম। ওই মন্তব্যটাও। যাহোক, এ নিয়ে ছোট করে বলা সম্ভব না। আপনেও তো ব্যাপক পুরান লেখা পড়েন।

আমি নিজে সচলে আসতাম শেখার জন্য, এখন আসি মনের ভাব প্রকাশের জন্যও। মাঝে মাঝেই বুঝি কিছু জিনিস লাইনের বাইরে যায়গা। স্যাংশনের পেইনে লিখিই না পরে। তাছাড়া আমি কেবল আনন্দের জন্য লেখায়, যেমন আপনি বললেন, প্রিভিউই করি না ঠিকমতো, ঝপ করে নামায় দেই। ওই মন্তব্যকারী কি অমন করে ফেলছেন নাকি?

হুঁম।

মূলত পাঠক এর ছবি

আনো নাকি পাঁচের মধ্যে তিন বার? তা'লে তো ভালো কথা না। বাকি দু বার বাদ যাই কেন?

পুরোনো লেখা পড়তে হয় নি আলাদা করে, ঐ লিঙ্কটা আগের যে লেখার সূত্রে এতো কথা তাতে এক পাঠক মন্তব্যে দিয়েছিলেন। তবে এ কথা ঠিক, এই পুরোনো লেখা আগে পড়েছিলাম, এক জন জানিয়েছিলেন এ লেখাটির কথা, নইলে খুব পুরোনো লেখা পড়া ততোটা হয় না।

অভিপ্রায় একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তুমি বেফাঁস কিছু বললে আমি হয়তো প্রাচীন ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কিছু ধরলাম না। কিন্তু পাবলিক ফোরামে সবাই তো সে সব কথা জানবে এমনটা নয়, এবং তাদের আঘাত দেওয়ার অধিকার আমাদের কেউ দেয় নি। এ ছাড়াও কথা থাকে। অতীতে আমি যতোই দেশোদ্ধার করে থাকি তাতে সারা জীবনের এতো পুণ্য সঞ্চয় হয় কি যাতে ভবিষ্যতে যা খুশি বলা যায়? অনেক বিখ্যাত মানবদরদী মানুষ যাঁদের পরে এসে পদস্খলন হয়েছে, মানুষ কি তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয় নি? তার উপর কারোর যদি রেসিজমের প্রিসিডেন্স থাকে তাকে আরো বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।

শেষ পর্যন্ত এমন আশা করা যায় না যে সবাই ভীষণ নির্ভুল রকমের ঠিক কথা বলবে। কেউ কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ অবহেলাবশতঃ করবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমরা যদি সচেতন থাকি তাহলে প্রি-ক্রাইমের মতো না হলেও (মাইনরিটি রিপোর্ট দেখেছো আশা করি) ঘটার পর শোধরানো যাবে। এই দুর্দিনে সে-ও কম কথা নয়।

সিরাত এর ছবি

আপনার লেখাটা আমাকে ভাবিয়েছে। এখনো ভাবছি। 'কি করবো' বা ফলো আপ এ্যাকশনে ফলহীনতা আমার ব্যর্থতা, কিন্তু ভাবানো আপনার সাফল্য।

মন্তব্যটাও দু'বার পড়েছি, লেখাটাও। এটা আমার সচল জীবনে খুবই খুবই দুর্লভ। এবার বুঝলেন? চোখ টিপি

কোন লেখা নিয়ে হই-চই হয়েছে? সেই লিংকটা কি দিবেন? তাহলে মনে হয় আরেকটু পরিষ্কার হতো। সচলায়তনের ভলিউম বেড়েই যাচ্ছে, আর আমিও ইদানিং লেখেই দৌড়াই। আজকে যদিও মন্তব্যের মুডে আছি।

সিরাত এর ছবি

উফফফ! অনেক পড়ার পর এই লেখার কনটেক্সট বুঝলাম।

হাসি

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

সকালে আমারও একই অবস্থা - কাইলকার ডাইল-খিচুরী আজকে খাইতে হইলো খাইছে

চশমাওয়ালি এর ছবি

পাঠুদা, আপনার এই লেখাটার প্রয়োজন ছিল। সহমত প্রকাশ করছি।

বলার টোন-টা অনেক সময়ই ঠাট্টামুখর হয়, ফলে ভুল ধরানোর সুযোগ কমে যায়, আড্ডার মাঝে পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের কথা বলে বেরসিক সাব্যস্ত হতে কে-ই বা চায়। রেসিজমের এই ঢালটা আপাত দৃষ্টিতে খুব নিরীহ, কিন্তু খুব ফলপ্রদ।

খুব সত্যি বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই জিনিসটার মুখোমুখি প্রায়ই হই। কিছু বলা ঠিক হবে কিনা ভাবতে ভাবতে পুরো ব্যাপারটা এড়িয়ে যাই সযতনে। জানিনা স্বভাবগত এই ক্রুটিগুলো কোনদিনও কাটিয়ে উঠতে পারব কিনা।

---------------------------------------------
ল্যাসিক করাতে ভয় পাই আর লেন্স ভাল লাগে না।

---------------------------------------------
ল্যাসিক করাতে ভয় পাই আর লেন্স ভাল লাগে না।

মূলত পাঠক এর ছবি

প্রতিবাদ কেউই কি সবসময় করতে পারে? নানা বাধা বিঘ্ন থাকে, স্বার্থ পথরোধ করে, সম্পর্ক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নিজে অন্ততঃ যদি অপরকে আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে পারি, সেটুকুই বা কম কী?

ভালো থাকুন।

জুয়েইরিযাহ মউ এর ছবি

"নিজের ঢাক নিজেই" - আমি যখন পড়ি তখন ঐ আপত্তিকর লাইনটি লেখায় চোখে পড়েনি, ততক্ষণে বোধহয় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে লাইনটি। তাড়া ছিল বিধায় কমেন্টগুলো পড়া হয়নি। যখন সব কমেন্ট পড়া হল তখন কমেন্ট দেয়ার সুযোগ হতে বঞ্চিত। ব্যক্তিগত আবেগ ওভাবে প্রকাশ করা হয়না কখনও।
কিন্তু মনটা এখনও ভার হয়ে আছে। তাই বলে গেলাম কথাগুলো।
এই লেখায় দেয়া লিংকটির জন্যও ধন্যবাদ আপনাকে।
"চিত্ত যেথা ভয়শূণ্য, উচ্চ যেথা শির" - এমনই এক স্থান হোক সচলায়তন, প্রত্যাশা রইলো।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ।

আলমগীর এর ছবি

পড়লাম। আপনার আগের অনেক লেখার মতোই উপভোগ্য। তবে সবটা যে বুঝেছি তা বলব না। আপনিও যে সব ঝেড়ে কেশেছেন তাও মনে হয় না চোখ টিপি

কিঞ্চিত মতভেদ থাকতে পারে, সে নিয়ে পরে কথা বলা যাবে। সচলায়তনে সবাই একটু ভাল সময় কাটাতে আসে, সেটাই আমার মনে হয় জরুরী। ভাল থাকুন।

মূলত পাঠক এর ছবি

ঝেড়ে কাশি নি একেবারে তা নয়, তবে আরো খোলাখুলি না বলার কারণ তো আছেই। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চাইতে সমস্যাটা নিয়ে কথা বলাই ভালো মনে হয়েছিলো। আমরা কেউই এই সমস্যার ঊর্দ্ধে উঠে যাই নি, তাই ও ভাবে বললেই সবার কাছে প্রাসঙ্গিক হবে, এই আশাতেই এ ভাবে লেখা।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা সবসময়ই স্বাগত। লিখুন, যখন সময়সুযোগ হবে।

তুলিরেখা এর ছবি

মূলত পাঠক,
খুবই ভালো লেখা আর খুবই প্রয়োজনীয়। গতকাল সচলে আসতে পারিনি বলে লেখাটা দেখা হয় নি। এখন বুঝলাম না আসায় কী হারাচ্ছিলাম।
গত পরশুদিন মনখারাপ নিয়ে বাড়ী গেলাম সেই বিতর্কিত লেখাটি পড়ে। সেখানে কোনো কমেন্ট করিনি, শুধু শুধু গিয়ানজাম বাড়তো আর কোনো কাজের কাজ হতো না। আজকে আপনার লেখাটি দেখে মনে হলো মনখারাপের বা হতাশার তেমন কিছু নেই, সূর্যকরোজ্জ্বল ই আছে সব।
ভালো থাকবেন, অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার ভালো লাগার কথা শুনে আমারও আনন্দ হলো। মন খারাপ করার অবকাশই নেই, যথাসাধ্যটুকু করতে পারলেই অনেক কাজ হয়। হাসি

ভালো থাকুন।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

তুলিরেখার সঙ্গে প্রবলভাবে একমত।
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

স্মৃতিহারানি এর ছবি

লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো।

এমন সময়োপযোগী দারুণ লেখার জন্য রীতিমতো কৃতজ্ঞ বোধ করছি হাসি

তবে আরেকটু কথা এখানে না বলে থাকতে পারছিনা।

মূলত পাঠক লিখেছেন:

তার মানে কি এই দাঁড়ালো যে ধর্ম এমন একটা জিনিস যা নিয়ে আদৌ কথাই বলা যাবে না? অথবা অন্য জাতের (যে কোনো অর্থেই) মানুষের সঙ্গে মেপেজুপে কথা বলতে হবে? এর উত্তরও সহজ। ধর্মে প্রচুর কুপ্রথা ঢুকে যায়, তার সমালোচনা করা যাবে না এমন নয়। কিন্তু ধর্ম মানুন আর নাই মানুন, যাঁরা মানেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা জরুরী। কাজেই তার সমালোচনা করতে গেলে তার প্রকাশ ও পদ্ধতি সেই রকম হতে হবে।


নিজের ধর্মের সমালোচনা স্পোর্টিংলি নেওয়ার ম্যাচিউরিটি মনে হয় সচলায়তনে সবারই আছে। আমার মনে হয়না, সেই লেখাটিতে যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা কেউ ধর্ম নিয়ে সমালোচনার প্রতিবাদ করেছেন। ওই পোস্টে কেউ বলেনি, হিন্দু ধর্মে বর্ণবাদ নেই, আপনি মিথ্যা বলছেন। হিন্দু ধর্মে বর্ণবাদ ভালোমতোই আছে। আবার বর্ণভেদ না-মানা শ্রীরামকৃষ্ণ, নিরীশ্বরবাদী গৌতম বুদ্ধকেও হিন্দু ধর্ম অবতার বলে স্বীকার করে নিয়েছে। তাই বর্ণবাদ মেনে নেওয়া হিন্দুধর্মের "যতো মত ততো পথ", কিংবা "বিভিন্ন জাতি বিভিন্নভাবে একই ঈশ্বরের পূজা করে"-- জাতীয় মতবাদ অন্য সব ধর্মের মতোই শান্তি ও ভাতৃত্বের চেতনা বহন করে।

হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ নিয়ে সমালোচনা করে কেউ একটা পোস্ট দিলে আমি নিজে হয়তো সেই ডিসকাশনে আগ্রহের সাথে অংশ নিতাম। সংখ্যালঘু মানুষের ধর্মের কুপ্রথা নিয়ে কিছু বলা যাবেনা, এমন সুশীলতার তো মানে নাই। যারা ধর্মের সমালোচনা মানতে পারেনা, তারা মা'র কাছে যেয়ে দুধভাত খাক।

কিন্তু "হিন্দুরা বর্ণবাদী"-- এইটা তো একটা মারাত্মক কথা। আমার যেই হিন্দু বাবামা আমাকে অনেক চিন্তার স্বাধীনতা দিয়েছেন দেখে আজকে আমি বলি, আমি অজ্ঞেয়বাদী, তারা তো আমাকে কোনোদিন বর্ণবাদ শিক্ষা দেয়নাই। তাই আমি হিন্দু না বলে যতোই আমি গলা ফাটাই, হিন্দুদেরকে নিয়ে কেউ অকারণ আজেবাজে কথা বললে আমার গায়ে লাগে। কাদা ঘাঁটতে আমার মোটেই ভালো লাগেনা, কিন্তু কাদায় দাঁড়িয়ে একজন বার বার বেছে বেছে আমার গায়েই ইঁট পাথর ছুঁড়ে মারলে আমার বেদম রাগ হয়। ইচ্ছা করে নিজেও কাদায় নেমে সেই নোংরা ব্যক্তির গালে কষে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে আসি।

সারা পৃথিবীর কতো পার্সেন্ট হিন্দুকে চিনলে একজন মানুষ বলতে পারে হিন্দুরা বর্ণবাদী? একাত্তরে বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ মানুষকে যারা হত্যা করেছে, তারা প্রত্যেকে ছিলো মুসলিম। অনন্য এই ম্যাসাকারের স্ট্যাটিসটিক্স মাথায় রেখে আমি কি এখন বলতে পারি, মুসলিমরা যে কী পরিমাণ ক্রিমিনাল, তা দেশে দেশে এদের ইতিহাসই সাক্ষী দেয়?

আমি বলতে পারিনা। কারণ আমার হিন্দু মাবাবা আমাকে সেই শিক্ষা দেননাই।

আর মানুষের পুরো জাত ধরে যারা এরকম বিদ্বেষ ছড়ানো কথা বলে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা দরকার।

শেষ কথাঃ পাঠকদা' আপনি সচলায়তনে একটা অনলাইন রাইটিং এন্ড কম্যুনিকেশন কোর্স চালু করেন প্লিজ। অনেকেই আপনার ছাত্র হবে দেঁতো হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

সচলে অনেক প্রকৃত অর্থে মুক্তমনা মানুষ আছেন, ধর্ম নিয়ে লিখলে গায়ে ফোস্কা পড়বে না ঠিকই। আমি এই লেখাটা যদিও একটি বিশেষ লেখা পড়েই লিখতে বসেছিলাম, পরিপ্রেক্ষিতটা শুধু তাতেই সীমাবদ্ধ থাকুক এইটা চাইনি। আমার ঐ কথাটা (যা ঊদ্ধৃত করেছেন) সেই বৃহত্তর প্রেক্ষিতের উদ্দেশেই লেখা।

আপনার ক্ষোভটা বুঝতে পারলাম, যদিও কারোর ব্যথাই কি আরেক জন বুঝতে পারে আদৌ? ভালো থাকুন এই প্রার্থনা করি।

শেষের অংশটা পড়ে খুবই লজ্জা পেলাম, আমি এমনকি সাহিত্য/কলার ছাত্রও নই, নেহাতই প্রযুক্তি-বিজ্ঞান পড়া মানুষ, এমন করে লজ্জা দিতে আছে? হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

লেখার মূলসুরের সাথে তো অবশ্যই সহমত, এবং লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। চলুক

কিন্তু s-s, স্নিগ্ধা আর আলমগীরের মত আমারও ওই ভাবনাগুলোর ছোট্ট কিছু জায়গায় একটু 'কিন্তু' আছে। আপনার লেখাটা কালই পড়েছি, আর এতক্ষণ ধরে ভেবেছি যে আমার 'কিন্তু'গুলো এখন আলোচনায় আনবো কি না। ওনারা তিনজন এর মধ্যেই বলেছেন, তাই এখনকার পরিস্থিতিতে ওই আলোচনা আরও বিস্তৃত না করাই সঙ্গত মনে হলো। পরে একটা ভালো সময়ে সেগুলো নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে থাকলো।

এ মুহূর্তে লেখায় সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের যে ডাকটা দিলেন, সেটার সাথেই জোরে গলা মিলাই। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

মূলত পাঠক এর ছবি

ঐ 'কিন্তু'টুকু নিয়ে আমিও একেবারে স্পষ্ট হতে পারি নি এখনো, শুধু লেখায় নয়, চিন্তাতেও। তবু আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়েই পথ বেরিয়ে আসবে এই আশা রাখি। আপনার মনের কথাগুলো নিয়ে লিখুন না। ভালো লেখার জন্য ভালো সময়ের দরকার কী, বরং ক্রান্তিকালেই তো তার সবচাইতে বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে। পৃথিবী যে পথে চলেছে, তাতে ভালো সময় আবার কবে আসবে কে জানে। ভালো লেখাই আসুক না হয়।

ভালো থাকুন।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

সাধের ল্যাপটপটার ভিজিএ কার্ড নষ্ট, যে বাড়িতে থাকি ইন্টারনেট নেই, নেটে বসতে হয় আরেকজনের অফিসে এসে কম্পিউটার ধার করে। দেশের বাইরে এসে এই হয়েছে আমার অবস্থা।
যে তিনদিন পুরোদস্তুর টানা কাজের মধ্যে (পড়ুন, কামলা খাটতে) ছিলাম, তারই মধ্যে ঐ বিশেষ পোস্টের অবতারণা আর সবার মতামত জ্ঞাপন শেষ।
রাজর্ষিদা, বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, আজ সকালে সবগুলো কমেন্ট পড়ে শেষ করার পর থম মেরে ছিলাম অনেকক্ষণ, মনের আকাশে কালো মেঘের দল এসে ভিড় করেছিল... ভাবছিলাম, সচল হিসেবে একটা দায়িত্ব আমার আছে। একটা আলাদা পোস্ট দেব এই নিয়ে।
তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কী লিখব। কথাগুলো গুছিয়েও এনেছিলাম, এসে কম্পিউটারের সামনে বসার সাথে সাথেই হিমুর সাথে কথা হল। হিমু বললেন, আপনার একটা পোস্ট দেখতে। পড়ে দেখলাম, যে কথাগুলো গুছিয়ে এনেছিলাম, আপনার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে দারুণ গোছানো ভাষায় সেই কথাগুলো বলে দিয়েছেন চমত্কারভাবে। সাধুবাদ এইজন্যে।
আমাদের অনেকেরই একটা ভুল ধারণা নিজের সম্বন্ধে, আমরা সবাই একটা আস্ত অহিংস, মানবতাবাদি, মুক্তমনের অধিকারী মানুষ। আসলে আমরা কেউই পুরোপুরি তা নই। হতে পারি না। সম্ভব নয়।
বেড়ে ওঠার সময় আমাদের ক্ষুধার্ত মন অনেক আলোকিত জিনিসের পাশাপাশি অনেক অন্ধকারও গিলে ফেলে। যা আমরা নিজেরাই টের পাই না।
সুতরাং আমরা মুক্তমনের অধিকারী না বলে বলা যেতে পারে আমরা মুক্তচেতনার চর্চা করার চেষ্টা করি। তাই নিজেকে ব্যক্ত করার সময় সচেতনে একটু বিচার করে নেয়া উচিত, আমি যা বলছি, তা কি আসলে আমার মুক্তচিন্তা থেকে বলছি, নাকি আমার কোনো এক অচেতন আঁধার থেকে উঠে আসছে সেই কথা?
নিজেকে বিচার করা উচিত প্রতি পদক্ষেপেই, যদি তেমন কোনো বাসনা থেকে থাকে নিজেকে মুক্তমনা মানুষ হিসেবে নিজের মনের আয়নাতে দেখার।
আপনার এই পরিষ্কার ঝরঝরে জলের মতো স্বচ্ছচিন্তার লেখাটা পড়ে আসলেই মন জুড়িয়ে গেল। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

উদ্ধৃতি : আমার বৌদি বাংলাদেশের মেযে়, ভাবছি তার সামনে গিযে় বাংলাদেশের চাট্টি নিন্দে করে বলি, তুমি তো ফ্যামিলি!

হো হো হো না হেসে পারলাম না!

আর একটা বানান ঠিক করে দিতে হবে। "কাঙ্খিত" হবে "কাঙ্ক্ষিত"।
চামে একটু মাস্টারগিরি করে নিলাম আর কি!
ভালো থাকুন। হাসি
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

মূলত পাঠক এর ছবি

আমার সুদীর্ঘ ও সুচিন্তিত মন্তব্য পেয়ে আনন্দিত হলাম। আশা করি এই জাতীয় সদভাবনা নিয়েই সচলে লেখালেখি করতে পারবো সবাই মিলে।

আপনার লেখা আজকাল পাই না, কারণটা সম্ভবতঃ যা গোড়াতে বলেছেন সেটাই। যাক, সুযোগ পেলে লিখবেন।

'কাঙ্ক্ষিত'ই লিখতাম আগে, তারপর দেখলাম (কোথায়, এতো দিন পরে আর মনে নেই) ওর বানানটা সরলীকৃত হচ্ছে। নইলে আকাঙ্ক্ষা থেকে এসেছে যখন, বানানে ক্ষ থাকাই যুক্তিযুক্ত। তবে এই সরলীকরণটি যে সার্বজনীন হয় নি বুঝলাম আপনার লেখায়। ঠিকাছে, আগামীতে ঐ বানানই লিখবো, ক্ষি ক্ষুশি তো? হাসি

ভালো থাকুন।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ক্ষুশি! ক্ষুশি!
তবে সুদীর্ঘ এবং সুচিন্তিত মন্তব্যটি আমার, "আমার" নয়! চোখ টিপি
হা হা হা! ভালো থাকুন।
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

মূলত পাঠক এর ছবি

দুঃখিত, এমন ডাহা ভুলের জন্য।

তবে আপনার মন্তব্য আর আমার মন্তব্য, বক্তব্য যখন একই, তখন না হয় নিলামই একটু আপন করে। হাসি

সচল জাহিদ এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

----------------------------------------------------------------------------
zahidripon এট gmail ডট কম


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

এমন গাঢ় কিছু সত্য কথা এতো স্পষ্ট ও জোরালো ভাবে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নিজেদের যতটা সহনশীল ও প্রগতিশীল ভেবে থাকিনা কেনো, আমরা সত্যিকার অর্থে কিন্তু ততোটা নই। আমাদের আরো অনেক কিছু শেখার বাকী আছে এখনো। নিজের মধ্যে যে দানবটা আছে তাকে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রন করাটাই আমার কাছে প্রকৃত সহনশীলতা।

মৃদুল ভায়ার এই কথাগুলোর সাথে আমিও সম্পুর্ন একমত -

বেড়ে ওঠার সময় আমাদের ক্ষুধার্ত মন অনেক আলোকিত জিনিসের পাশাপাশি অনেক অন্ধকারও গিলে ফেলে। যা আমরা নিজেরাই টের পাই না।
সুতরাং আমরা মুক্তমনের অধিকারী না বলে বলা যেতে পারে আমরা মুক্তচেতনার চর্চা করার চেষ্টা করি। তাই নিজেকে ব্যক্ত করার সময় সচেতনে একটু বিচার করে নেয়া উচিত, আমি যা বলছি, তা কি আসলে আমার মুক্তচিন্তা থেকে বলছি, নাকি আমার কোনো এক অচেতন আঁধার থেকে উঠে আসছে সেই কথা?

অনেক ধন্যবাদ পাঠক দা - এই 'ভেবে দেখার মতো' একটা পোষ্ট এর জন্য।

------------------------------------------------------------
সকলই চলিয়া যায়,
সকলের যেতে হয় বলে।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

মূলত পাঠক এর ছবি

সত্যি কথা। আপনাকেও ধন্যবাদ।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এক দিন সবাই সৌহার্দের কথা বলবে, সারা পৃথিবীতে না হলেও সচলায়তনের ছোট্টো জগতটুকুতে বলবে

অসম্ভব ভালো লাগলো আপনার স্পৃহা ও উৎসর্জন দেখে। সবার মাঝে তা অনুরণিত হোক।

--------------------------------
~পর্যবেক্ষণ অসাধ্য তত্ত্ব অর্থহীন~

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার সহৃদয় মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ভাল লাগলো পড়ে। অনেক।

শুভাশীষ দাশ

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। অনেক। হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।