কুখ্যাত জারজ

চরম উদাস এর ছবি
লিখেছেন চরম উদাস (তারিখ: বুধ, ১১/১২/২০১৩ - ৫:৩১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মোমেনা বেগম একঘেয়ে স্বরে বলে যায়,
- আমার নাম মোমেনা বেগম, স্বামী হাবিবুর রহমান, আব্বা হযরত আলী লস্কর।
- সেইসময় আপনার বয়স কত ছিল?
- একাত্তরে আমার বয়স ছিল বার বা তের বছর। আমরা চার বোন, তিন ভাই। আমি সবার বড়। আমার মা ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে গর্ভবতী ছিলেন।
- কি হয়েছিল সেইদিন?
- ২৬ মার্চ ১৯৭১ সন্ধ্যায় বেলা ডোবার আগেই ঘটনা। আব্বা দৌড়ায়ে ঘরে আসে এবং বলতে থাকে কাদের মোল্লা মেরে ফেলবে।
- কেন?
- তিনি আওয়ামী লীগ করতেন, বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ছিলেন। মিছিলে যেতেন, নৌকা মার্কার পোস্টার লাগাতেন।
- তারপর?
-তখন আমার আব্বা ঘরে এসে দরজার খিল লাগায়ে দেয়। ঘরের মধ্যে আমার মা-বাবা, ভাই-বোনেরা সবাই ছিলেন। আব্বা বলেন, তোমরা খাটের নিচে লুকাও। তখন আমরা দুই বোন আমেনা ও আমি খাটের নিচে লুকাই।
-তারপর?
-কাদের মোল্লা ও বিহারীরা দরজার সামনে এসে বলে যে, “এই হারামিকা বাচ্চা দরজা খোল, বোমা মারদেঙ্গা”। দরজা না খোলায় তারা একটি বোমা মারে। আমার আম্মা হাতে একটা দা নিয়ে দরজাটা খোলে।
- তারপর?
- দরজা খোলার সাথে সাথে আম্মাকে তারা গুলি করে।
- মেরে ফেলে?
- মেরে ফেলত যদি না ...
- যদি না কি?
- যদি না এক সৈনিক চিঠি না নিয়ে আসতো।
- কিসের চিঠি?
- এক পাকিস্তানী সৈনিক দৌড়াতে দৌড়াতে এই সময় চিঠি নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচের পরিচালক ব্র্যাড এডামস এর চিঠি। তিনি গুলি করা স্থগিত করতে বলেছেন।
- এ ও কি সম্ভব?
- সম্ভব। চিঠিতে তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে গুলি করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। গুলি পর্যালোচনা করতে বলেন। চিঠি পড়ে কাদের আর তার সহযোগীরা তখন গুলি করা থামায়।
- তারপর?
- তারপর আমার আব্বা আমার আম্মাকে ধরতে গেলে কাদের মোল্লা পিছন থেকে শার্টের কলার টেনে ধরে বলে, এই শুয়ারের বাচ্চা, এখন আর আওয়ামী লীগ করবি না? বঙ্গবন্ধুর সাথে যাবি না? মিছিল করবি না? জয় বাংলা বলবি না।
- তখন?
- তখন আবার আরেকটা চিঠি আসে।
- কার?
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আব্বাস ফয়েজ। তিনি লিখে পাঠান, গালাগালি দেয়া মানবাধিকার পরিপন্থী। তখন কাদের মোল্লা গালি দেয়া থামিয়ে আব্বাকে জবাই করতে শুরু করে। অনেকটুকু জবাই করে ফেলে এমন সময় আবার আরেক সৈনিক চিঠি নিয়ে আসে।
- এবারে কার?
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের চিঠি। চিঠিতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাই কাদের মোল্লা আব্বাকে ছেড়ে দেয়।
-এরপর?
- তখন তারা আব্বাকে ছেড়ে চাপাতি দিয়ে আমার বোন খোদেজাকে জবাই করতে থাকে, তাসলিমাকেও জবাই করতে থাকে।
- চিঠি, চিঠি আসে নাই?
- হ্যাঁ, জবাই এর মাঝপথে আবার চিঠি আসে। তারা জবাই থামায়।
- থাক কার চিঠি বলার দরকার নাই, এরপর কি হল বলেন বরং।
- বিলেতি মন্ত্রী সাঈদার চিঠি।
-আচ্ছা, এরপর?
- বাবু তখন মা মা করে চিৎকার করছিল। বাবুর বয়স ছিল ২ বছর। তাকে তুলে কয়েকবার সজোরে আছাড় দেয়।
- মারা গেল?
- নাহ, তখন আবার হঠাৎ এক পাকিস্তানী সৈনিক দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির হয়।
- চিঠি নিয়ে?
- হ্যাঁ। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের দুই বিশেষজ্ঞ গাব্রিয়েলা নাউল ও ক্রিস্তফ হেইন্সের চিঠি। তারা তাড়াহুড়া করে বাবুকে আছাড় দিতে মানা করেছেন।
- হুম, তারপর?
- তারপর তারা বাবুকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বাবুর চিৎকার শুনে খাটের নিচ থেকে আমেনাও চিৎকার দেয়। চিৎকার দেয়ার সাথে সাথে আমেনাকে তারা টেনে বের করে। টেনে বের করে তারা আমেনার সব কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলে।
- আমেনার বয়স কত ছিল তখন?
- এগারো
- তারপর কি হল
- কাদের মোল্লা আর তার সহযোগীরা আমেনার উপর চড়ে বসে। আমেনা অনেক জোরে চিৎকার করতে থাকে। তখন হঠাৎ ...
- কি?
- তখন হঠাৎ হাঁপাতে হাঁপাতে আরও এক পাকিস্তানী সৈনিক হাজির হয়।
- আবারও চিঠি নিয়ে?
- হ্যাঁ
- জাতিসংঘ?
- হ্যাঁ
- তবে যে শুনেছিলাম বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছিল জাতিসংঘ তখন বসে বসে বাল ফালাচ্ছিল।
- ভুল শুনেছেন। যাই হোক সেই সৈনিক উর্দুতে চিৎকার করে বলল, আমি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান নাভি পিল্লাই এর চিঠি নিয়ে এসেছি। আপনারা রেপ করা থামান। জাতিসংঘ যে কোনো ধর্ষণের বিরুদ্ধে, সেটা যে পরিস্থিতিতে হোক না কেন।
- সত্যি?
- হ্যাঁ।
- তারপর?
- তারপর কাদের মোল্লা আর তার সব সহযোগীরা তাদের নিজ নিজ লুঙ্গী তুলে নিয়ে পরে ফেলল। তারপর তারা আমেনাকে উঠিয়ে তার জামাকাপড় পরিয়ে দিল। বাবুর সেবা শুশ্রূষা করলো। তারা আব্বা, খোদেজা আর তাসলিমার গলা কেটে ফেলেছিল তাড়াহুড়ায়। সেটা সবাই মিলে সেলাই করে জোড়া দিয়ে দিল। আম্মার পেট থেকে গুলি বের করে দিল। আম্মার পেটের ভেতর যেই সন্তান ছিল, তার গায়েও একটা গুলি লেগেছিল। সব বের করে ঠিকমতো ব্যান্ডেজ দিয়ে দিল। তারপর তারা জয় মানবাধিকার বলে শ্লোগান দিতে দিতে চলে গেল।

[* কথোপকথনের বাস্তব অংশটুকু বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত মোমেনার সাক্ষ্য থেকে নেয়া।
* শিরোনাম Quentin Tarantino এর Inglorious Bastards থেকে অনুপ্রাণিত।]


মন্তব্য

টিউলিপ এর ছবি

এই লেখাটা ট্রান্সলেট করে যদি পাকি সাঈদা ওয়ার্সি, ব্র্যাড অ্যাডামস, নাভি পিল্লাই এদের সবার কাছে পাঠানো যেত!

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

চরম উদাস এর ছবি

আমার অনুবাদের হাত ভালো নয়। কেউ করতে পারলে খুশী মনে অনুমতি দিব।

রিক্তা এর ছবি

ভাই আপনি যেমন তেমন একটা অনুবাদ করে দিলে আমরা কয়েকজন মিলে এডিটর হিসেবে কাজ করতে পারি।

--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

চরম উদাস এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ এডিটিং করে দেবার জন্য।

রিক্তা এর ছবি

লইজ্জা লাগে

--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

ঈয়াসীন এর ছবি

চলুক

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

চরম উদাস এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ঈয়াসীন এর ছবি

আর সহ্য হয় না। মানবাধিকার! ক্ষমা! হায়!

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছো, তুমি কি বেসেছো ভাল?

যত দূতের যত মানবাধিকার বাণী আসুক,

তবুও বাহির-দ্বারে
আজি দুর্দিনে ফিরানু তাদের ব্যর্থ নমস্কারে।

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

মন খারাপ

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সানজিদা এর ছবি

অসাধারণ বললে কম বলা হয়ে যাবে। অনুবাদের দাবী থাকল।

হিমু এর ছবি
সুজন চৌধুরী এর ছবি
কড়িকাঠুরে এর ছবি

আপনার প্রতিটা লেখা পড়ার পরে মনে হয়- এটাই আপনার সেরা। আজকের পর থেকে দ্বিতীয় সেরা খুঁজবো।

স্যালুট...

সবজান্তা এর ছবি

একদম হোতায় ফেলছেন। প্লিজ কেউ এইটা একটু অনুবাদ করেন ইংরেজিতে। এইটা মুখের উপর ছুড়ে মারা দরকার।

অনিকেত এর ছবি

আনত কুর্ণিশ বস---আপনারে সত্যিকারের 'বস' মানলাম!!

কেউ কষ্ট করে এইটার অনুবাদ করেন---এই জিনিস 'ওদের' জানিয়ে দেয়া উচিত---

অতিথি লেখক এর ছবি

তারপর তারা জয় মানবাধিকার বলে শ্লোগান দিতে দিতে চলে গেল।

মানবাধিকারজীবিদের যুক্তিতে পিষে ফেলা দরকার। মিজান, পিষে ফ্যালো

শব্দ পথিক

চরম উদাস এর ছবি

যুক্তি দিয়ে লাভ নাই, এমনে এমনেই পিষে ফেলা দরকার

অতিথি লেখক এর ছবি

মন খারাপ

মাসুদ সজীব

তিথীডোর এর ছবি

এই মাস্টারপিস অনুবাদ, যথাযথ সংরক্ষণ এবং যথাস্থানে পৌঁছানোর দাবি রাখে।
গুরু গুরু

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ফাহমিম এর ছবি

I tried to translate the blog as many people asked for; don't know if it is as good as you expected. If you think it is, feel free to share/use it however you see fit. You don't even have to use my name or anything. I hope it helps. Joy Bangla।

Inglorious Bastards

Momena Begum continued in a monotonous voice --
- name Momena Begum, husband Habibur Rahman, father Hazrat Ali Lashkar.
- How old were you?
- I was 12 or 13 in 1971. I was the eldest of the four brothers and three sisters. My mother was pregnant on March 26, 1971.
- What happened on that day?
- It was before sundown. My father ran into the house and kept saying Kader Molla will kill us.
- Why?
- He was a follower of Bangabandhu. He supported Awami League, went to rallies, campaign for heir electoral symbol "Nouka" (boat).
- Then?
- Father came into the house and put up the latches. We were all inside the house. My father asked us to hide. Me and my sister Amena, we hid under the bed.
- Then?
- Kader Molla and some Bihari people came to our door and said "Ay Harami Ka Bachha, Darwaza Khol, Boma Mar Denga!" (You sons of b****es, open the door or will bomb it down!) When we didn't open, they hurled a bomb. So my mother opened the door, with a 'Daw' (large household knife).
- Then?
- They shot mother just as she opened the door.
- They killed her?
- They would have, if not for ...
- If not for what?
- If not for the soldier who brought a letter.
- What letter?
- A Pakistani soldier ran in with a letter from international humanitarian organization Human Rights Watch Director Brad Adams. He had asked to postpone the firing.
- Is that even possible?
- Yes. In the letter, he said firing on pregnant women is a violation of human rights, and asked to review the firing. After going through it, Kader and his cohorts stopped firing.
- Then?
- When my father went to hold my mother, Kader Molla pulled him by the collar and said "You swine! You still want to support Awami League? Still want to go with Bangabandhu? Go to rallies? Shout 'Joy Bangla'?"
- Then?
- Another letter arrived.
- From who?
- From Abbas Faiz of Amnesty International. He wrote swearing and calling names is a violation of human rights. After reading it, Kader Molla stopped swearing and began to slit my father's throat. He was some way through when a soldier brought yet another letter.
- Who was it from this time?
- The UK and EU. They expressed concerns in the letter. So Kader Molla let go of my father.
- What happened next?
- hen they began to slit the throats of my sisters Khodeza and Taslima.
- Weren't there any more letters?
- Yes, another letter came and they stopped midway.
- Okay, you don't have to say who it was from. Tell us what happened next.
- The letter was from the foreigner minister Sayeeda.
- Oh. Then?
- Our little brother was crying. He was two years old at the time. They took him and slammed him to the ground a few times.
- Did he die?
- No; another Pakistani soldier came running in.
- With a letter?
- Yes, from human rights experts of the UN Human Rights Council, Gabriela Knoul and Christof Heyns. They had asked not to hurry in slamming the baby.
- Mhmm. Then?
- They let him go. But his screaming had prompted Amena to scream out from under the bed. They immediately pulled her out, and ripped all her clothes off.
- How old was Amena?
- Eleven.
- And then?
- Kader Molla and his associates were all over Amena. She was screaming her lungs out. Then suddenly ...
- What happened?
- Another Pakistani soldier came in, panting.
- With a letter?
- Yes.
- UN?
- Yes.
- But we heard when the war of liberation was happening in Bangladesh, the UN had turned a blind eye to it?
- You heard wrong. Anyway, the soldier shouted: "I have come with a letter from UN Human Right Council chief Navi Pillay. Stop the rape. The UN is against rape, under any condition.
- Really?
- Yes.
- Then?
- Kader Molla and his gang put their clothes back on. hen they dressed Amena, nursed the baby, and then treated the partly-slit throats of father, Khodeza and Taslima. They took out the bullet from mother's body. The unborn baby was also shot, they took out her bullet as well, and bandaged it. Then they walked off, chanting "Hail Human Rights!"
[* The real parts of the conversation are taken from the accounts of Momena's witness deposition, published in newspapers.
* The title is inspired from Quentin Tarantino's film "Inglorious Bastards". ]

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ। আমি মাত্রই এই কাজে হাত দিতে যাচ্ছিলাম। হাসি

সত্যপীর এর ছবি

ভাই সচলের ইংরেজি সেকশনে এইটা পোস্ট দিবেন? তাহলে শেয়ার দিতে বড় সুবিধা হইত. অসংখ্য ধন্যবাদ.

..................................................................
#Banshibir.

চরম উদাস এর ছবি

ভাই কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দিব। এইটার খুব দরকার ছিল। আরও দুই একজন বলেছে এডিট করে দিবে। আমিও দেখে দিবনে। তাহলে ফাইনাল একটা ভার্শন দাড়িয়ে যাবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।

ঈয়াসীন এর ছবি

ফাইনাল ভার্শনটা পারলে জলদি ছাড়েন। প্রতীক্ষায় রইলাম।

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

চরম উদাস এর ছবি

অনুবাদ আবারও পড়লাম। আমার এডিট করার কিছু নেই। চমৎকার লেগেছে। আপনি অনুমতি দিলে ইংরেজি ভার্সনটা সচলের ইংলিশ সেকশন এ দিতে পারি। অথবা আপনার অথিথি একাউন্ট থাকলে আপনিও সেখান থেকে সচলের ইংরেজি সেকশন এ পোস্ট দিতে পারেন।

শিশিরকণা এর ছবি

তাড়াতাড়ি ইংলিশটা পোস্টান। লিঙ্ক শেয়ার করার জন্য বসে আছি, একটু পর পর চেক করতেছি পোস্টাইলেন কি না।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

চরম উদাস এর ছবি
Simion এর ছবি

"the UN was busy counting hair around his balls" should be "the UN was busy counting hair around it's balls"

চরম উদাস এর ছবি

ঠিক করে দিলাম, অনেক ধন্যবাদ

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

it's না, its হবে। it's হলো "it is"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। আর its মানে হলো "of it".

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

অসাধারণ লেখা, ভাই। লেখাটার কথা মনে থাকবে সবসময়।

মৃষৎ এর ছবি

চলুক চলুক

Quader Mullah লেখে মনে হয়।

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

মৃষৎ এর ছবি

মানবাধিকার সংস্থা নাম শুনলেই আমার এখন গালি আসে। শুয়োরের বাচ্চারা!

চরম উদাস এর ছবি

আপনার অনুবাদটা অতি সামান্য এডিট করে সচল ইংলিশ সেকশনে জুড়ে দিলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ আবারও।
Infamous Bastards

তারেক অণু এর ছবি
অনুবাদক এর ছবি

আপনার লেখা পড়ার পর আর শান্তিতে থাকতে পারলাম না। শেষের দিকে আমি কিঞ্চিত একটা লাইন যোগ করেছি। অনুবাদ এর মান পাঠকদের বিবেচনাধীন।

Momena Begum spoke monotonously,
-My name is Momena Begum, Husband Habibur Rahman, Father Hazrat Ali Lashkar.
-How old were you then?
-In 1971 I was 12 or 13. I am the eldest among my four sisters and three brothers. My mother was pregnant on 26th March, 1971.
-What happened that day?
-The incident took place in the evening of 26th March. My father ran home and said to us that Kader Mollah would kill him.
-Why?
-Because he supported Awami League, was a big fan of Sheikh Mujib. He used to go to the protests, distribute party posters.
-Then?
-Then my father closed the door and asked us to hide under the bed. My sister Amena and I hid under the bed.
-What happened then?
-Kader Mollah and the Biharis came in front of the door and shouted "Open the door bastards or we will bomb you." We did not open the door and they threw a bomb in front of our door. My mother held on to a sickle and opened the door.
-Then?
-The fired at my mother right when she opened the door.
-And they killed her?
-They would have killed her but...
-But what?
-A soldier brought a letter.
-What letter?
-A Pakistani soldier came running with the letter. It was a letter from the then Director of Human Right Watch, the international organization for human rights. He asked the soldiers to stop firing.
-Is that even possible?
-Of course it is possible. He wrote in the letter that to open fire on a pregnant woman is violation of human rights. He asked them to reconsider their decision to fire on my mother. Kader asked others to stop firing bullets after reading the letter.
-Then?
-Then my father tried to take care of my mother but Kader Mollah held my father by his collar and said "You son of a bitch, won't you support Awami League now? Won't you go to the protests now and support Sheikh Mujib? Won’t you shout Joy Bangla (Victory to Bengal)?"
-What happened after that?
-Another letter came.
-From whom?
-From Abbas Foyez of Amnesty International. He said that to curse at someone is violation of human rights. Then they stopped cursing at my father and started to cut his throat. They were half way done when another soldier came with a letter.
-Who now?
-European Union and the UK. They expressed grave concern in that letter so Kader Mollah stopped slaughtering my father.
-Then?
-Then they started to slaughter my sisters Khodeja and Taslima.
-Didn't you get any letter then?
-They were half way done when the letter came so they stopped.
-It's fine I don't want to know who wrote that letter. What happened next?
-It was from the British Minister Sayeeda.
-I see, what happened next?
-My two year old little brother was crying and looking for our mother. They picked him up and smashed him against the floor a few times.
-And he died?
-No, then another Pakistani soldier came running.
-With a letter?
-Yes. UN Human Rights Council specialists Gabriella Naul and Christof Heinz wrote the letter. They asked the soldiers to stop slamming my brother against the floor so mercilessly.
-Hmm, then?
-Then they let my brother go off. But hearing my brother cry, my sister Amena who was hiding under the bed started crying too. They dragged her out the moment they heard her voice. They stripped her in front of us.
-How old was Amena then?
-11
-What happened next?
-Kader Mollah and the soldiers pinned my sister down and Amena started shouting loudly. Then all of a sudden...
-What happened all of a sudden?
-A history came running panting again.
-With another letter?
-Yes
-United Nations?
-Yes
-But I heard that when the Liberation War was going on in Bangladesh, the United Nations were jerking off at the Assembly?
-You heard wrong. The soldier who brought the letter started saying in Urdu that the United Nations is against rape under any circumstances so they must stop.
-Really?
-Yes. The Turkish people started tweeting #stopexecutionPakistan which trended worldwide.
-Then?
-Then Kader Mollah and the soldiers dressed up. They gave Amena her clothes back. They provided First Aid to my brother. They cut my father's, Khodeja's and Taslima's throats half way through so they sewed their throats. They removed the bullet from my mother's body. The fetus was also hit by a bullet. They removed that bullet too and put bandage on my mother. Then they left our house chanting "God bless Human Rights."

চরম উদাস এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ ব্রাদার। আপনার অনুবাদ ও যোগ করা অংশ দারুণ লাগলো।

বনি এর ছবি

গুল্লি উত্তম জাঝা!

বনি এর ছবি

মিজান, পিষে ফ্যালো গুল্লি গুল্লি

সচল জাহিদ এর ছবি

গুল্লি গুল্লি গুল্লি


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

অমি_বন্যা এর ছবি

কি হিংস্র আর অমানবিকই না ছিল এই সব মোল্লার বাচ্চারা! কাল মর্মাহত হয়েছি মোল্লার বউ এর ভি যুক্ত অঙ্গুলি দেখে!

বাপ্পীহায়াত এর ছবি

গুল্লি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনি তো সাত সকালে আমার মানবাধিকারানুভূতিতে আঘাত করছেন!

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাম্য এর ছবি

আমি প্রশংসা করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি! গুল্লি পর্যন্ত কম মনে হচ্ছে। সচলে নতুন আরেকটা ইমো লাগবে এ ধরণের লেখার জন্য।

--------------------------------
বানান ভুল থাকলে ধরিয়ে দিন!

সুকমল মোদক এর ছবি

চরম হয়েছে।

এটার অনুবাদের সাথে মূল সাক্ষ্যের অনুবাদটাও মানবাধিকারজীবিদের দেওয়া উচিত।

ক্লোন৯৯ এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

এক লহমা এর ছবি

গুরু গুরু
মিজান, পিষে ফ্যালো
অধিকারের ন‌‌্যায্যতার নামে যারা নারকীয় অপরাধীদের মুক্তি হাসিল করার চেষ্টা চালায় তাদের সকলকে চরম ধিক্কার।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

এত বেশি রাগ হচ্ছে যে কিছু বলার ভাষা পাচ্ছি না, মানবাধিকার কর্মীগুলা সব শয়তানের বাচ্চা। লেখা গুল্লি
ইসরাত

mofiz এর ছবি

ইংরেজী ভার্সনটা জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে ঝুলায়া দেওয়া যান না? খা**টার চিঠির নিচে?

মৃষৎ এর ছবি

মানবাধিকার সংস্থা নাম শুনলেই আমার এখন গালি আসে। শুয়োরের বাচ্চারা!

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

অফিসে ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ বলে শেয়ার দিতে পারছি না - রাতে বাসা থেকে দেব।

____________________________

নীড় সন্ধানী এর ছবি

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশে ঢুকে দানবাধিকার সংস্থায় পরিবর্তনের কারণ কি বায়ুদুষণ নাকি ছাগুসঙ্গম?

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আয়নামতি এর ছবি

গুল্লি
গুল্লি
গুল্লি

অমি_বন্যা এর ছবি

কাল কসাই কাদেরের বউ এর ভি দেখে মর্মাহত হয়েছি। এই সব মোল্লারা কি অমানুষই না ছিল। রুপকের আড়ালে এই উপস্থাপনা মোমেনাদের জন্য কাদিয়ে গেল আমাকে।

থু থু ওই মোল্লাদের মুখে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

গুল্লি
মানবাধিকারবারীদের মিজান, পিষে ফ্যালো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাষাহীন হয়ে গেছি!!!!!
এইটার অনুবাদ টা পিল্লাই এর মুখে ছুড়ে মারতে পারলে....

সুবোধ অবোধ

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

গুল্লি

এমসএইচ  এর ছবি

ভালো লিখেছেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

গুরু গুরু
কিচ্ছু বলার নেই।

ভালো থাকবেন চরম উদাস।
যদিও আমরা কেউ ভালো নেই, কেউ না।

---------------------------------
কামরুজ্জামান পলাশ

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

গুল্লি

ধুসর জলছবি এর ছবি

গুরু গুরু

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ হয়েছে। গুরু গুরু

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

গুল্লি

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

গুল্লি

অতিথি লেখক এর ছবি

তবে যে শুনেছিলাম বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছিল জাতিসংঘ তখন বসে বসে বাল ফালাচ্ছিল।

ঠিকই শুনেছেন। বাংলাদেশে জেনোসাইড বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ কিছু করেনি। আর যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামের কিছু গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল টাইপের সংঘটন সিরিয়ার মত দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ রিফিউজীর মত দিন যাপন করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেগুলো দেখে না। এক খুনী, ধর্ষক, ধর্ম ব্যবসায়ীর ফাঁসি নিয়ে তাদের মাতামাতি; তাকে ফাঁসি দিলে নাকি মানবাধিকার ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠবে। এইসব নাম সর্বস্ব সংঘটনকে ব্যান করে দেয়া উচিত।
--
কচু পাতা

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

অসম্ভব শক্তিশালী একটা লেখা

পথের দাবি

তানিম এহসান এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

হ্যাটস অফ!

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি

মোক্ষম গুল্লি

------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

স্বপ্নচূড়া এর ছবি

লেখাটা পড়ে মানবাধিকার বিষয়ক ব্যাপক জানলাম। ধন্যবাদ লেখককে ।

স্যাম এর ছবি

মন্তব্য করার শক্তি নাই ............

গুরু গুরু গুরু গুরু
জারজেরা পড়ুক
অনুবাদ করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ

অতিথি লেখক এর ছবি

মাস্টারপিস গুরু গুরু

- শ্রাবস্তী

দীনহিন এর ছবি

তবে যে শুনেছিলাম বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছিল জাতিসংঘ তখন বসে বসে বাল ফালাচ্ছিল।

আসলে বাল ফালানো ছাড়া জাতিসংঘের আর কোন কাজ আছে বলে মনে হয় না। কোন কালেই ছিল না। জাতিসংঘ আপন মনে বাল ফালায়, আর মানবাধিকার ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে জাল ফালায়!

কিচ্ছু বলার নেই, চরম উদাস ভাই, আপনার কাছ থেকে এমনটাই তো প্রত্যাশা আমাদের। সবচেয়ে বড় কথা, এই সময়ে এই লেখাটার ভীষন দরকার ছিল, ধন্যবাদের বড় অংশটুকু সেজন্যই প্রাপ্য আপনার!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

চরম উদাস এর ছবি

কিছু কিছু লেখা আমার জারজ সন্তানের মতো। মাঝে মাঝে ধর্ষিত হই। তখন লেখার জন্ম হয়। জন্ম আমার পেট থেকেই। কিন্তু জন্মের কারণটা ভুলতে পারিনা কখনোই। কুখ্যাত জারজ লেখাটা তেমনি।যাকে জন্ম দিতে না হলেই বেশী ভালো লাগতো।
এই লেখাটা লিখতে আমার কষ্ট হয়নি। লেখাটার বড় অংশ মোমেনার জবানবন্দী। আমার কাজ ছিল তার কিছু কপি পেস্ট করা। কষ্ট হয়েছে বারবার মোমেনা বেগম ও অন্যান্যদের সাক্ষাৎকার, জবানবন্দী, কাদের কসাই এর কুকীর্তির ইতিহাস বারবার এগুলো পড়তে গিয়ে। ঘৃণা হয়েছে এক নরকের কীটের জন্য শতশত নরকের কীটের আহাজারি দেখে।
অন্ধকে হাতি দেখানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। ধূর্তকে যুক্তি দেয়ার মানে নেই। তবুও একজন পাঠকের অনুরোধে কিছু লিঙ্ক দিয়ে গেলাম। ধন্যবাদ Sanjoy K. Chowdhury কে লিঙ্কগুলো যোগার করে দেবার জন্য।

1. Momena Begum & Other On Quader Mollah : Eyewitness to Genocide

2. Quader Mollah - The crime that gets him death

3. Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman

4. HRW / Brad Adams - Bangladesh: Halt Execution of War Crimes Accused

5.Amnesty

6. Syeeda Warsi - UK concerned over plans to execute Molla

7. UN HRC - UN experts urge Bangladesh to halt impending execution

8. Navi Pillay - UN rights chief makes last-minute appeal to halt execution of Bangladeshi politician

9. UN is against rape unde any condition !!

10. In 1971 UN was busy counting hair around its balls

পরিশেষে কথা একটাই। HRW, Amnesty, UK,EU, UN এই সকল জারজের কেউ একজনও এগিয়ে আসেনি একটা মাত্র জবাই অথবা রেপ করা ঠেকাতে। কাদের মোল্লার মতো একজন কসাই এর জন্য চিঠির পর চিঠি লিখে তারা ভাসিয়ে দিচ্ছে। ৭১ সালের নয় মাসে এমন একটাও চিঠি আসেনি যাতে তিরিশ লাখ থেকে লাশের সংখ্যা একটা কমে যায়, লক্ষ ধর্ষণের একটা থেমে যায়।

হাসিব এর ছবি

ভালো কালেকশন হইছে।

গৃহবাসী বাউল এর ছবি

গুরু গুরু গুল্লি

পোস্টটি স্টিকি করার দাবি জানিয়ে গেলাম। বাংলা ইংরেজি দুইটাই

মিজান, পিষে ফ্যালো

-----------------------------------------------------------
আঁখি মেলে তোমার আলো, প্রথম আমার চোখ জুড়ালো
ঐ আলোতে নয়ন রেখে মুদবো নয়ন শেষে
-----------------------------------------------------------

তুলিরেখা এর ছবি

লেখাটা পড়ে তাব্ধা হয়ে গেলাম, একটা ছোটোখাটো লেখার মধ্যে যে এতখানি জোর থাকতে পারে, এতখানি আগুন থাকতে পারে--তা আগে কোনোদিন কোনোদিন কোনোদিন বুঝিনি। কুর্নিশ আপনাকে।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

কমেন্ট করলে আসলে কিছু বলা হবে না।
চুপচাপ থাকাই শ্রেয়।
উপযুক্ত সময়ে একটা অসামান্য কাজ করছেন।

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

নাশতারান এর ছবি

কীভাবে পারেন? গুরু গুরু

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

স্পর্শ এর ছবি

খুব শক্তিশালী একটা লেখা!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ওয়াইফাই ক্যানসার এর ছবি

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘ কিছু করেছি জেনে খুব খারাপ লাগল। আমি বুঝি না, কাদের মোল্লার বিচার তো আদালত করেছে, এর মধ্যে তো সরকারের হাত থাকার কথা না, তাহলে কেন বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলি সরকারকে ইন্টারভিন করতে বলছে? তাদের যদি ওভারঅল মৃত্যুদন্ড দেওয়া নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে তো পৃথিবীর কত দেশেই তো মৃত্যুদন্ড আছে, আমেরিকাতেও আছে, তাদেরকে তো কিছু বলতে যায় না। ব্যাপারটা তাদের জন্য নির্লজ্জতা এবং আমাদের জন্য অপমানজনক।

লেখাটা পড়ে চুপচাপ বসে থাকলাম। কোন নরমাল মানুষের পক্ষে এই লেভেলের বর্বরতা করা বা দেখা সম্ভব না। কাদের মোল্লার মত লোকের জন্য ফাঁসি খুবই কম শাস্তি।

আরেকটা জিনিশ অনেক খারাপ লাগল সেটা হচ্ছে টিভিতে কাদের মোল্লার ছেলের কথা বার্তা শুনে। আমরা সবসময় শুনি কারো বাবা মা-কে দিয়ে তার বিচার করা উচিত না, বাবা রাজাকার হলে ছেলে মেয়ের দোষ কি? কিন্তু আমি কখনওই দেখলাম না কোন রাজাকারের ছেলে মেয়ে স্বীকার করেছে যে তার বাবা খারাপ করেছে, বা নিজের পরিবারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে রাজাকারের ছেলে মেয়েরাও রাজাকার। এদেরকে পরিবারশুদ্ধ বয়কট করা গেলে ভাল হত।

বাংলাদেশে জামাতের তান্ডব দেখে সবসময় অবাক হয়ে ভেবেছি এরা কিভাবে পারে মানুষভরা বাসে আগুন দিতে, রগ কাটতে, জবাই করতে। এখন মনেহয়, যেই দলের নেতৃত্ব এই ধরনের নৃশংসতায় হাত পাকিয়েছে, সেই দলের পক্ষে যে কোন ধরনের আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করা সম্ভব। এতো অত্যাচার সহ্য করে মরাল ধরে রেখে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় একটি বিস্ময়। কিন্তু যে জাতি এইসব বর্বরতা ভুলে গিয়ে আবারো জামাতের এতোটা উত্থান ঘটতে দেয়, তাদের ভবিষ্যতে কি আছে কে জানে।

রানা মেহের এর ছবি

অসাধারণ একটা লেখা

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গুরু গুরু

প্রসঙ্গক্রমে মন্তব্যটা আরেকটু বড় করি-

আমাদের পর-রাস্ট্রনীতি আর নতজানু নেই, আজকেই প্রথমবারের মতো আমি এটা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীনের পরে আমাদের কোনো নেতা স্বয়ং আম্রিকা, ইউএন- এর কর্তাদের প্রত্যক্ষ চাপ উপেক্ষা করতে পারবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য ছিলো না কদিন আগেও। জন কেরি কিংবা বান-কি-মুনের ফোন পেয়ে রায় কার্যকর তো দূরে থাক, পায়জামার উষ্ণতা মাপতেই থার্মোমিটার ভেঙে যেতো!

আমাদের এরকম একজন নেতার দরকার ছিলো। যিনি বঙ্গবন্ধুর মতো নিজের দেশের মানুষের স্বার্থে 'ঘাউড়া' হতে পারবেন। যিনি তাজউদ্দীনের মতো দৃঢ়তায় আম্রিকা, ইউএন-এর চাপ সামলাতে পারবেন।

'এগুলা সব রাজনীতির খেলা, রাজাকারদের কিছুই হবে না, মামলা হলেও এরেস্ট হবে না, এরেস্ট হলেও বিচার হবে না, বিচার হলেও রায় হবে না, রায় হলেও কার্যকর হবে না'- এতোকিছু 'হবে না'র ভীড়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করতে পেরেছেন বঙ্গবন্ধু আর তাজউদ্দীনের পরে কেউ যদি এই 'হবে না' সমূহকে 'হতেই হবে'- তে পরিণত করতে পারেন, তিনি শেখ হাসিনা।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকারবারীদের চাপ সত্ত্বেও অভীষ্ট লক্ষ্যে অটল থাকার জন্য আপনাকে নতশিরে কুর্ণিশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। গুরু গুরু

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

খেকশিয়াল এর ছবি

একখানি কুর্ণিশ দেয়া বাকি আছিলো, সুদ সহ দশটা দিলাম

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

চরম উদাস এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

গুল্লি
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রিয় চরম উদাস, আপনার লেখা পড়ে এত অভিভূত হয়েছি যে এইমাত্র নিবন্ধন করে নিজের প্রথম স্যাটায়ারটা এখানে পোষ্ট করলাম! কলম জারি থাক। গুরু গুরু
- ষণ্ডাকুমার

চরম উদাস এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। নাম কি আপনার লেখাটার? পড়ে দেখি

হিমু এর ছবি

এর ইংরেজি অনুবাদ পড়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ছাগুবান্ধব মানবাধিকারবারি আব্বাস ফয়েজ নড়েচড়ে বসছে। টুইটারে বিচ্ছুরা তারে ধরে পড়িয়েছে এটা:

চরম উদাস এর ছবি

টুইটার বিচ্ছু জিন্দাবাদ। সেইসাথে আব্বাস কাগুর নরম মানব দিলে ব্যাথা দেওয়ার তীব্র পেত্তিবাদও জানাই।

নির্ঝর অলয় এর ছবি

অসামান্য। মিজান, পিষে ফ্যালো

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার পড়া সেরা গল্পগুলোর একটা। অনন্য, অসাধারণ!

(ক্লান্ত কালবৈশাখি)

Shanto Rahman এর ছবি

শেয়ার করছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA