হারানো সেই জ্বীনের কথা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: শনি, ২১/০৮/২০১০ - ১০:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বালাপুর গ্রামটা বিখ্যাত খুব। মানে আমরা যারা কঁচিকাঁচা ছিলাম, তাদের কাছে। বালাপুর নামটার মধ্যেই কী যেনো ছিলো! কেমন একটা শিরশিরে অনুভূতি হতো। শিরশিরে অনুভূতিটা যে বালাপুর নাম থেকে হতো, সেটা না। আসলে বালাপুর আমাদের কাছে পরিচিত ছিলো বহু পুরাতন বট গাছটার জন্য। আমরা তখনও দেখি নি। নিজেদের গ্রামের সীমানা পেরিয়ে বালাপুরের সীমানায় পা দেয়ার অনুমতি তখনও মিলে নি।

 আমরা কেবল শুনতাম। বালাপুরের বট গাছের গল্প, সেই বুড়ো আর বৃহৎ বট গাছের তলায় চৈত্র সংক্রান্তিতে আয়োজিত বিরাট মেলার গল্প। সন্ধ্যা নামার পরে কালবৈশেখী মাথায় নিয়ে বড়রা যখন ফিরে আসতো, তাদের কাছে শুনতাম মেলার গল্প। আলো-আঁধারির বট গাছের গল্প। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ থাকতো না। হারিকেনের টিমটিমে আলোয় জবুথবু হয়ে শুনতে থাকতাম সেইসব গল্প।

 বালাপুরের মেলা আশে পাশের অনেক গ্রামে পরিচিত হওয়াতে লোকসমাগম হয় প্রচুর। এই লোক সমাবেশের মধ্যেও 'তেনারা' নেমে আসেন। বিক্রেতার সাজে পসরা খুলে বসেন। তাঁদের মুখে থাকে এই লম্বা লম্বা দাড়ি, পরনে থাকে ধবধবে সাদা আলখাল্লা। সামনে গেলেই অদ্ভূত মন মাতানো সুগন্ধ এসে নাকে লাগে। তাঁরা কোনো কথা বলেন না। কেবল ইশারায় জিনিস বিক্রি করেন। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তাঁদের দোকানে কোনো আগুনের আলো থাকে না। অথচ তাঁদের দোকানে আলোর অভাব হয় না। মেলায় দর্শনার্থীদের কেউ হাতে আগুন নিয়ে তাঁদের দোকানের সামনে গেলে তাঁদের আর দেখা যায় না! তাঁরা উধাও হয়ে যান!

 আমরা কঁচিকাঁচারা কালবৈশাখী সন্ধ্যায়, হারিকেনের টিমটিমে আলোয় বালাপুরের মেলার তেনাদের গল্প শুনি। এই কথা সেই কথা থেকে জানতে পারি আরও অনেক কিছু, বালাপুরের বট গাছকে ঘিরে। কোনো এক নির্জন সন্ধ্যায় বট গাছের গোড়ায় জ্বলন্ত আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। আবার পর মুহূর্তেই মিলিয়ে যায় সেটা। কোনো এক একাকী দুপুরে বট গাছের পাশ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে শুনতে পায়, কে যেনো এক মনে জ্বিকির করে যাচ্ছে! অথচ আশেপাশে কাউকে দেখা যায় না! সব গল্পের পর, কালবৈশাখীর সেই সন্ধ্যায় বড়রা সম্মতি দেন এই বলে যে, "ঐখানে কিছু একটা আছে!"

 বালাপুরের মেলায় আমি কখনো যাই নি। কিন্তু বট গাছটার পাশ দিয়ে গিয়েছি ভাইয়ার সাথে। গোপালদী হাটে, ট্রলারে করে। সেই প্রথম বট গাছটাকে দেখি। অদ্ভূত এক গা ছমছমে শিহরণ জেগেছিলো সেদিন।

আরেকটু বড় হয়ে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছি  বালাপুর মাঠে। বট গাছটা তখনও ছিলো। এখনও বোধ'য় আছে, কিন্তু ছোটবেলায় শোনা বট গাছ আর তার আশেপাশের তেনাদের গল্পের সেই শিহরণটা বুঝি আর নেই।


 আমাদের গ্রামে এক ভদ্রলোক ছিলেন। সুরুয মিয়া। প্রচণ্ড সাহসী। সুঠাম ছিলো তাঁর দেহ। হাডুডু খেলায় তাঁর নাম-ডাক ছিলো কয়েক গ্রামে। লোকে বেশ সমাদর করতো তাঁকে। নিজের রিক্সা ছিলো দুইটা। একটা ভাড়া দিতেন, আরেকটা নিজেই চালাতেন। তো তাঁর সঙ্গে প্রায়ই 'তেনাদের' সাক্ষাত হতো নানা ভাবে। এইসব গল্প আমরা শুনতাম কারেন্ট চলে গেলে। উঠোনে বসে। আশে পাশের বাড়ি থেকে যাঁরা বেড়াতে আসতেন, তাঁদের কাছে।

 একদিন সুরুয মিয়া অনেক রাত অবধি কোনো ভাড়া না পেয়ে বাজার থেকে একাই খালি রিক্সা নিয়ে ফিরে আসছিলেন বাড়ি। তখনও এলাকায় বিদ্যুৎ আসে নি ঐভাবে। রাস্তাও মাটির। বৃষ্টি হলেই কাদা। তাছাড়া মাঝের বড় কালভার্টটা তখনও হয় নি। রিক্সা রাস্তা থেকে নামিয়ে ক্ষেতের ওপর দিয়ে টেনে এনে আবার এই পাশের রাস্তায় তুলতে হতো।

 তো সেই রাতে সুরুয মিয়া খালি রিক্সা নিয়ে আসার সময় কিছুদূর এগুতেই সাদা কপড় পরা, বেশ লম্বা একজন হাত তুলে ইশারা করে তাঁকে থামতে বললো। সুরুয মিয়াও খালি যাওয়ার চেয়ে একজন যাত্রী নিয়ে যাওয়াকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে রিক্সা থামালেন। কিন্তু যাত্রী কোনো কথা বলেই উঠে বসলো রিক্সায়। তারপর হাতের ইশারায় সামনের দিকে চালাতে বললো। সুরুয মিয়াও আগুপিছু না ভেবে বাতাসের গতিতে রিক্সা চালিয়ে দিলেন। বড় কালভার্টের কাছে আসতেই রিক্সা থামিয়ে যাত্রীকে নামতে বলবেন, রিক্সা পার করার জন্য। পেছন ফিরে দেখেন সিট খালি, যাত্রী নেই।

 ধোঁকাবাজ কেউ, নিজের গন্তব্য এসে পড়াতে চুপটি করে নেমে গিয়েছে কোন ফাঁকে। ভাড়া না দিয়েই। মনে মনে বেশ অসন্তুষ্ট হোন সুরুয মিয়া। রাগে গজগজ করতে করতে রিক্সা টেনে এই পাড়ে তোলেন রাস্তার। তারপর আবার চালাতে শুরু করেন। কী মনে করে হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখেন যাত্রী বসে আছে তার সিটে! সুরুয মিয়া সাথে সাথে রিক্সা থামিয়ে যাত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনে আছিলেন কই?"

 যাত্রী কোনো কথা বলে না। কেবল ইশারায় বলে সামনে চালিয়ে যেতে। সুরুয মিয়া মানেন না। রেগে যান। যাত্রীকে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। জবাবে এবার যাত্রী মুখ খোলে। গম্ভীর, ভারী গলায় বলে "লইয়া যা, নাইলে তোর বিপদ হইবো!"

 সুরুয মিয়া এবার বুঝতে পারেন তিনি কার পাল্লায় পড়েছেন। পেচ্ছাপ করার অজুহাতে তিনি ক্ষেতের আলের ঢালে যান। কোমরের ট্যাক থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে সেখান থেকে বিড়ি ধরান। তারপর রিক্সার কাছে এগিয়ে আসেন। না, এবার যাত্রী নেই। আগুনের কাছে তেনারা থাকতে পারেন না!

 এই ঘটনার কিছুদিন পরের ঘটনা। তখন বর্ষাকাল। তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিলো সেদিন। সস্তায় ইলিশ মাছ পেয়ে সুরুয মিয়া দুইটা ইলিশ কিনে ফেললেন। তারপর সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যাবেন বলে রিক্সায় বসতে যাবেন, তখনই একজন যাত্রী এসে বললেন তাকে নিয়ে যেতে। সুরুয মিয়া রাজী হলেন।

 বিপত্তি ঘটলো আবারো, সেই বড় কালভার্টের এখানে এসে। কালভার্টের এই পাড় এসে রিক্সা থামাতেই সুরুয মিয়া দেখেন যাত্রী হাওয়া হয়ে গেছে। তিনি সবকিছুই বুঝে গেলেন। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে বিড়িও ধরাতে পারছেন না। ঐ অবস্থায়, বৃষ্টির মধ্যেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। বাজার থেকে কেউ যদি বাড়ি ফিরে, এই আশায়। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও যখন কাউকে দেখলেন না, তখন বাধ্য হয়েই রিক্সা টেনে নামালেন কালভার্টের পাশে। ঐ পাড়ের রাস্তায় রিক্সা তুলতে গিয়ে টের পান কে যেনো রিক্সা টেনে ধরে আছে পেছন থেকে। তুলতে দিচ্ছে না। সুরুয মিয়া হুঙ্কার দেন, "ছাইড়া দে কইতাছি!" কাজ হলো না। রিক্সা আগের জায়গাতেই আছে। টেনে তুলতে পারছেন না সুরুয মিয়া। পেছন থেকে কে যেনো টেনে ধরে আছে। আবারও হুঙ্কার দিলেন সুরুয মিয়া। এবার জবাব এলো পেছন থেকে, "তোর মাছের পোটলাটা দিয়া যা!" সুরুয মিয়া দিতে অস্বীকার করলেন। অবস্থা এমন হলো যে সুরুয মিয়া মাছের পোটলা দিবেন না, আর যে পেছন থেকে রিক্সা টেনে ধরে আছে, সে মাছের পোটলা না পেলে রিক্সা ছাড়বে না।

 সাহসী সুরুয মিয়া গেলেন ভীষণ রেগে। রিক্সা ছেড়ে পেছনে গিয়ে 'তেনাকে' জাপটে ধরে টেনে রিক্সা থেকে দূরে নিয়ে গেলেন। তারপর শুরু হলো দুজনে ধ্বস্তাধ্বস্তি। তুমুল বৃষ্টিতে জমে থাকা কাদায় জমির এমাথা ওমাথা করতে লাগলেন সুরুয মিয়া 'তেনার' সাথে। কিন্তু নিজেকে ছাড়াতে পারছেন না। এভাবে অনেকক্ষণ চলার পরে কে কে যেনো বাজার থেকে বাড়ি ফেরোর পথে বড় কালভার্টের পাশেই একটু দূরে ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ শুনতে পায়। সেদিকে টর্চ লাইট মারতেই দেখা যায় সুরুয মিয়ার শরীরের অর্ধেক দেবে আছে কাদায়। বাকিরা তাড়াতাড়ি গিয়ে সুরুয মিয়াকে টেনে তোলে কাদা থেকে। তাঁর সারা গায়ে লালার মতো পিচ্ছিল, চকচকে তরল। সেভাবেই রিক্সা টেনে নিয়ে বাকিদের সাথে বাড়ি ফেরেন সুরুয মিয়া। বউকে কিছু বলেন না। শুধু বলেন ইলিশ মাছ ভাজি করতে। তিনি গোসল সেরে এসে খাবেন। বউ মাছ ভাজে, সুরুয মিয়া গোছল সেরে এসে সেই ভাজা মাছ দিয়ে ভাত খান। তার কয়েকদিন পরেই সুস্থ-সবল সুরুয মিয়া হঠাৎ করে মারা যান!

 সুরুয মিয়ার বউ, যাঁকে আমরা নানী বলে ডাকতাম। তিনি এরকমই এক সান্ধ্যকালীন গল্পের আসরে বলেছিলেন, "রাতের বেলা যখন 'বাইরে' যাওয়ার দরকার পড়তো, তিনিরে কইতাম, ডর লাগে একটু আহেন না। তিনি বেশ জোরে একটা গলা খাঁকারী দিয়া কইতেন, এইবার যা বউ, আর ডর নাই!"

 সুরুয মিয়ার চেহারা আমার অল্প অল্প মনে আছে। খুব ভয় পেতাম তাঁকে। অথচ দুষ্টামীর জন্য তিনি আমাদের কখনোই কিছু বলতেন না। বেশ আদরই করতেন আমাদের কঁচিকাঁচাদের।


 আমাদের নানী বাড়ির আশে পাশে বেশ ঘণ ঝোপঝাড় ছিলো এক সময়। আমরা ছোটবেলাতেই সেই ঝোপঝাড়ে চোর পুলিশ খেলেছি কতো! আগে নাকি দিনের বেলাতেই সেদিকে লোকে যেতে ভয় পেতো! তখন এতোসব বাড়িঘর হয় নি। বিশাল বড় আর ঘণ বাঁশঝাড় ছিলো রাস্তার পাশেই। সন্ধ্যাবেলা এই বাঁশঝাড়ের ভেতরেই দেখা যেতো 'অনেক কিছু'।

 কেউ দেখতে পেতো বিশাল লম্বা কেউ ধবধবে সাদা কাপড়মুড়ি দিযে উপুর হয়ে পড়ে আছে। কেউ দেখতো টিমটিমে আলোয় কেউ জ্বিকির করছে আর কেউবা শুনতো অদ্ভূত সব শব্দ!

 শনি মামা, আমার মায়ের পাড়াতো চাচাতো ভাই। তিনি বলেছিলেন তাঁর ঘটনা। তখন তিনি তাগড়া জোয়ান। সূতার ব্যবসা করেন। প্রায়ই দেরি করে বাড়ি ফিরেন। মাঝে মাঝে যাত্রাও দেখতে যান। সেদিন ফিরতে আরও রাত হয়। তো এমনি একদিন তিনি ফিরছিলেন। বাঁশঝাড়ের পাশের পথ দিয়ে। একদিকে ঘণ বাঁশঝাড়, ঝোপ। অন্যদিকে পতিত ডোবা। ডোবার দুই পাড় থেকে ঝোপ বেড়ে ডোবাকেও একটা জঙলা বানিয়ে ফেলেছে। মাজখানের সরু পথ দিয়ে আসছিলেন শনি মামা। চান্নিপসর রাত ছিলো সেদিন। রাস্তা দেখা যায়। তো হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ শনি মামার মনে হলো তিনি তাঁর পায়ের আওয়াজ ছাড়াও কার পায়ের আওয়াজ যেনো শুনছেন। একটু দাঁড়ালেন, ভাবলেন এতো রাত, আরেকজন সাথে থাকলে ভালোই হয়। বাঁশঝাড়ের জায়গাটা ভালো না! কিন্তু তিনি হাঁটা থামিয়ে দাঁড়ানোর সাথে সাথে অন্য পায়ের আওয়াজও থেমে যায়। আবার তিনি হাঁটতে শুরু করলে সেই আওয়াজও পাওয়া যায়!

 আশ্চর্য তো! মনে হয় কেউ আসছে সাথে, অথচ দেখা যাচ্ছে না। এই ভাবতে ভাবতে শনি মামা ডোবা আর বাঁশঝাড়ের ঠিক সামনের রাস্তায় চলে আসেন। পা বাড়াতে গিয়ে হঠাৎ তিনি দেখতে পান বিশাল মোটা একটা বাঁশ আড়াআড়ি পড়ে আছে রাস্তার মধ্যে। চাঁদের আলোয় রাস্তা দূর থেকেও ভালো দেখা যায়। তিনি কিছুই দেখতে পান নি। এমনকি এই কদম বাড়ানোর আগেও এখানে তিনি কোনো বাঁশ দেখতে পান নি। তাহলে এটা কোত্থেকে এলো! শনি মামা পা সামনে না বাড়িয়ে পিছিয়ে আসেন। প্রথমে এক কদম, তারপর আরও কয়েক কদম। তখনই তিনি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেন, বাঁশটা এখন আর পথে পড়ে নেই। তিনি আবার যেই এগুতে যাবেন, অমনি কোত্থেকে বাঁশটা আবার পথের মাঝে আড়াআড়ি এসে পড়লো! শনি মামা ভয় পেয়ে গেলেন।

 পেছনে গেলেন তারপর আয়াতুল করসী পড়ে বুকে ফুঁ দিলেন। দোয়ায়ে ক্কুনুত পড়লেন, দরূদ পড়লেন, সূরা ফীল পড়তে পড়তে আবার পা বাড়ালেন! নাহ, এবার আর কিছু দেখতে পেলেন না। তিনি অনবরত দোয়া, সূরা পড়তে পড়তে ঊর্ধ্বশ্বাসে বাড়ির দিকে ছুটলেন। পেছনে শুনতে পেলেন বাঁশঝাড়ে তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে। একটা বাঁশের সঙ্গে আরেকটা বাঁশ ভয়ঙ্কর বিকট শব্দে বাড়ি খাচ্ছে। মনে সব ভেঙে যাচ্ছে। গুঁড়িয়ে যাচ্ছে পুরো বাঁশঝাড়। শোঁ শোঁ শব্দে মনে হচ্ছে প্রবল বেগে কালবৈশাখী হচ্ছে বাঁশঝাড়ে। শনি মামা পেছন দিকে না তাকিয়ে সোজা বাড়ির উঠোনে গিয়ে ধপাস করে চিৎকার দিয়ে পড়লেন।

 পরদিন, সকালবেলো বেশ কয়েকজন মিলে বাঁশঝাড়ের পাশে গিয়েছিলো কী অবস্থা দেখতে! আগের রাতের ভয়ঙ্কর শব্দ অন্য অনেকেও শুনেছে। কিন্তু গিয়ে দেখে কীসের কী! সারা রাত ধরে যে বাঁশে বাঁশে ঘঁষাঘঁষি হলো, এতো শব্দ হলো, একটা বাঁশও ভাঙা নেই। সবগুলোই অক্ষত। এমনকি, কোনো বাঁশের গায়ে একটা আঁচড় পর্যন্ত নেই। আর শোঁ শোঁ শব্দের কালবৈশাখীর ফলে বাঁশ পাতা পড়ে পুরো জায়গাটা ভরে যাওয়ার কথা থাকলেও পুরো ঝাড়টা সেই তুলনায় পরিষ্কারই দেখা গেলো। কোথাও কোনো কাঁচা, নতুন পাতা পড়ে নেই।

 শনি মামা এইটুকু বলার পর বললেন, বাঁশঝাড়ে এখনও 'তেনারা' আছেন। এই সেদিনও অল্পতে বেঁচে গেছিলাম। আমরা কঁচিকাঁচারা আরেকটা নতুন গল্পের আভাস পেয়ে শনি মামার আরেকটু কাছ ঘেঁষে বসি জড়োসরো হয়ে। শনি মামাও শুরু করেন আরেকটা কাহিনি!



মন্তব্য

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

সন্ধ্যায় দেয়া উচিৎ ছিলো ভাই; ইফতারের পরে সর্ষেতেলে মুড়ি মাখায়ে খাইতেছিলাম, বৃষ্টিও হইতেছিলো... এইটা ঐসময় পড়তারলে ভালো লাগতো হাসি
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হে হে হে
অসুবিধা কী! আবার তো সন্ধ্যা আসবে, মুড়ি ও আপনে- আবারো দুজনে হবে, আবারো বৃষ্টি ঝরবে, আবারও মন হারাবে- বিরহে! তখন আবার পড়বেন। কী আছে জীবনে!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরের পাশে অনেক বড় একটা কড়ই গাছ ছিলো এবং সবার ধারনা ছিল সেখানে "তেনারা" থাকেন। প্রতি বছর কেউ না কেউ সেই পুকুরে মারা যেত। তার মধ্যে আমার এক চাচাও ছিলেন। একবার বেরাতে গিয়ে কাজিনদের সাথে সাতারের কম্পিটিশন দিয়েছিলাম, নতুন সাতার শিখেছিলাম তখন। কড়্ই গাছটার বরাবর এসেই হঠাত দেখি আমাদের বাড়ির সমবয়সী কাজের মেয়েটা আমার পা ধরে টানছে। আমার এক কাজিন এসে ছাড়িয়ে নিয়ে গেল আমাকে। ওর মার কাছে নালিশ করে এসেছিলাম। সেইদিন ফিরেনি মেয়েটা। সবাই ভাবলো আমাকে পুকুরে ডোবানোর চেষ্টা করেছে বলে ভ্য় পেয়ে আসছে না। পড়দিনও যখন ফিরেনি তখন পুকুরে জাল ফেলা হ্য় সকালবেলা আর মেয়েটার লাশ পাওয়া যায়। আমি দেখিনা, অনেকে বলেছে গালে অনেক বড় আন্গুলের ছাপ ছিল। সবাই এটাকে তেনাদের কাজ বলে মনে করেছিল। আমার কাছে এটা এখনো অনেক বড় রহস্য। সেই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল আপনার লেখাটি পড়ে।

আকাশনীলা

ফারুক হাসান এর ছবি

মেয়েটি আপনার পা ধরে টানছিল কেন, ফাজলামি করে, নাকি ঐ সময়ে সে ডুবে যাচ্ছিল তাই বাঁচার আশায় আপনার সাহায্য চাইছিল?

স্রেফ কৌতুহল থেকে প্রশ্নটা করলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

এখন যতটুকু বুঝি, মেয়েটি ফাজলামো করেনি, ডুবে যাচ্ছিল বলে হেল্প চায়ছিল। ঐ টিমে আমি চিলা সবছেয়ে আনাড়ী সাতারু, ও হয়তো বুঝতেই পারেনি এটা আমার পা। পরে বাবার মুখে শুনেছি, যে জায়গাটায় মানুষ ডুবতো সেখানে চোরাবালি টাইপের কিছু থাকতে পারে। তবে গ্রামের লোকেরা এখনও বিশ্বাস করে, এসব তেনাদেরই কাজ।

আকাশনীলা

দ্রোহী এর ছবি

মেয়েটা মোটেও ফাইজলামী করে নাই।

তাহলে আমাদের গ্রামের গল্পটা শোনেন।

আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বড় পুকুরটার নাম "ছাদিক্যা হুইর"। শুদ্ধ বাংলায় বললে, "ছাদেকের পুকুর"। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদেক মিয়া সরকারের গম দিয়া নিজের নামে এই দীঘি সাইজের পুকুর খনন করেছিলেন। পুকুর খননের শেষ পর্যায়ে ছাদেক চেয়ারম্যানের দাদী স্বপ্নে দেখলেন পুকুর তাকে বলছে বর্ষার আগেই পুকুর পানিতে ভরে যাবার আগে যেন একটা কুমারী মেয়ে বলী দেয়া হয়। না হলে গ্রামের মানুষের ঘোর বিপদ। দাদী ঘুম থেকে উঠে তার নাতিকে জানালেন ঘটনা। ছাদেক মিয়া গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসলেন ঘটনার সুরাহা করতে।

গ্রামের কেউ রাজী হল না তাদের কুমারী মেয়েদের বলী দিতে। ছাদেক মিয়া অনেক চেষ্টা করলেন, প্রলোভন দেখালেন। কাজ হল না। দেখতে দেখতে বর্ষাকাল চলে এল। ভরা বর্ষায় দেখতে দেখতে যুবতী মেয়ের শরীরের মত থৈ থৈ করে উঠল ছাদিক্যা হুইর। একদিন ছাদেক মিয়ার একমাত্র মেয়ে নুরী খেলতে খেলতে আর বাড়ি ফিরলো না।

গ্রামের পর গ্রাম চষে ফেলা হল নুরীর সন্ধানে। কোন লাভ হল না। তিনদিন পর নুরীর লাশ ভেসে উঠল ছাদিক্যা হুইরের মাঝখানে।

কাব্বর আলী ভর দুপুরে ছাদিক্যা হুইরের পশ্চিমপাড়ের কবরস্থানে মাটি ফেলে উঁচু করছিল। হঠাৎ সে দেখল পুকুরের ঠিক মাঝ বরাবর একটা কালো রঙয়ের সিন্দুক ভেসে উঠেছে। তারপর সেই সিন্দুকের ঢাকনা খুলে বেরিয়ে এল রুপার তৈরি শিকল। সেই শিকলগুলোর একটিতে বাঁধা ছিল নুরীর শরীর।

নুরীর কবর হয়েছিল ছাদিক্যা হুইরের পশ্চিম পাড়ের করবস্থানটিতে। এখনো ভরা বর্ষার দিনে নুরীকে শিকল বাঁধা অবস্থায় কবরস্থানে বসে বসে কোরান শরীফ পড়তে দেখা যায়।

___♣♣♣___
আমার এই গল্প কিন্তু বর্ণে বর্ণে সত্যি। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আমাদের গ্রামে গিয়ে যে কাউকে ছাদিক্যা হুইরের কথা জিজ্ঞেস করলেই আপনাকে দেখিয়ে দেবে। তখন আপনি নিজেই খুঁজে নিতে পারবেন পশ্চিম পাড়ের কবরস্থান, আর নুরীর কবর। সেদিন বুঝবেন দ্রোহী কখনো বানিয়ে গল্প বলেনা।


কি মাঝি, ডরাইলা?

অতিথি লেখক এর ছবি

বাহ, আমার নানারবাড়িতেও এরকম একটা পুকুর রয়েছে। কী সব আবজাব কাণ্ডকারখানা নাকি ভর দুপুরেই হয়। অবশ্য পুকুরটার লোকেশনও এই ভয় ধরাতে সহায়ক, কারণ সেটা লোকালয় থকে বেশ খানিকটা দূরে, একটা আবাদী জমির মাঝখানে। আর সেটার পাড়ে খুব কুখ্যাত একটা গাছ রয়েছে। শোনা যায় এক পীর সাহেব গাছটার মধ্যে তিনটা বদ জ্বীনকে বন্দী করে রেখেছেন, আর তারা ওইগাছের আশপাশেই বন্দী অবস্থাতেই ভেলকী দেখিয়ে যায়। পুকুরের নাম হল, "ছদ্দরের হইর"

ধৈবত

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বেশ ইন্টারেস্টিং কাহিনি। এরকম কাহিনি আমিও শুনেছি। আমাদের বাড়ির পুকুরেই নাকি 'কী একটা' আছে। কেউ কেউ নাকি দেখেছে। পুকুরের মাঝখান থেকে ভেসে ওঠে!

এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় দুইজন গিয়েছিলো পুকুরে গোসল করতে। তো অনেক সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও যখন দুইজন ফিরছিলো না, তখন একজনের বড় বোক হাতে হারিক্যান নিয়ে গিয়েছিলো পুকুর পাড়। গিয়ে দেখে দুইজনকেই অদৃশ্য একটা কিছু অনবরত পানিতে চুবাচ্ছে। সে যাত্রা কারোরই কোনো ক্ষতি হয় নি, তবে চুবা খাওয়া দুজনের চোখের কাছেই কালসিটে দাগ পড়েছিলো। কোনো কিছুর সাথে ভারী আঘাত চিহ্ন হিসেবে।

আমার দাদা বাড়ির কাছের গ্রামে একটা পুকুরে শুনেছিলাম একটা নারী হাত ভেসে উঠতো। সেই হাত ছিলো টকটকে সুন্দর। অনেক গহনা পরা। যারা দেখেছে, তারা বলেছে একেবারে সাক্ষাৎ দেবী দূর্গার হাত নাকি!

আমাদের এলাকায় খালের মধ্যে একবার গায়েবী রুটি ভেসে উঠলো। লোকজন ভীর জমালো সেই রুটি দেখার জন্য।

'তেনারা' আছেন সব জায়গাতেই।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

ধুগো দা, এসবই চিরন্তন গ্রামবাংলার কাহিনী। আমি যে মফস্বল শহরে বড় হয়েছি, সেখানে একটি পরিত্যাক্ত কালিবাড়ী আর তার পাশে একটি ডোবা মতন আছে। অনেকেই নাকি দেখেছে সেখানে অনেক মজার মজার খাবার ভেসে উঠতো। জনশ্রুতি আছে, এক দরিদ্র পিতা মেয়ের বিয়ের টাকা যোগাড় করতে না পেরে আত্মহত্যার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন, মা কালী স্বয়ং তাকে দেখা দিয়েছিলেন এবং অনেক সোনা রুপার বাসন গয়না উপহার দিয়েছিলেন। সেই লোকটা এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী আজ, অনেক ধুমধাম করে মা কালীর পুজো দেন প্রতিবছর। এছাড়া অনেক মানুষের প্রাণহানীর কাহিনীও আছে সেই পরিত্যাক্ত মন্দিরে। এরকম আরো অনেক গল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সবখানেই।

আকাশনীলা

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমাদের এদিকে আরেকটা পুকুর আছে। বাঘের পুষ্করিনি নাম। ঐটাতে বিরাট বড় ডেগচি ভেসে উঠতে দেখেছে অনেকে। বিয়ে বাড়িতে থাকে না, ঐ রকম ডেগচি। ডেগচির মুখ আটকানো ঢাকনা দিয়ে। সেই ঢাকনার ঠিক মাঝখানে খুব সুন্দর দেখতে একটা সাপ ফনা তুলে বসে থাকে।

এই ডেগচি যখন উঠে। তখন পুকুরের পানিতে প্রবল আন্দোলন হতে থাকে। টগবগ করে বলোগ উঠতে থাকে ঐ নির্দিষ্ট জায়গাটায়। তারপর আস্তে আস্তে ভেসে ওঠে ডেগচিটা। সবাই সহ্য করতে পারে না সেই দৃশ্য, ফিট হয়ে যায়। বাঘের পুষ্করিনির পাড়েই টিনের চালায় থাকতো কালা বুড়ি (এই নাম আমার আর ভাইয়ার দেয়া)। এই কালাবুড়ি ডেগচি দেখে ফিট খেয়ে পড়ে ছিলো পুকুরের পাড়।

খায়েবি রুটি ভেসে ওঠা খালের কথা বললাম না? ঐ খালের পাড়েই লতিফ হাজীদের বাড়ি। এলাকায় প্রচলিত আছে, এই লতিফ হাজী নাকি খাল থেকে ভেসে ওঠা ডেগচি পেয়ে এতো পয়সার মালিক হয়েছে। আগে তাদের কিছুই ছিলো না।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

তিথীডোর এর ছবি

'তেনা'দের এই গল্পগুলো প্রায় সব গ্রামেই চালু আছে...
ইলিশ মাছ তো খাই না, তবে ছাদের বাগানে একটা বাঁশের চারা লাগাবো ভাবছিলাম.. বাবাজিরা এসে আবার হাজির হবেন না তো? খাইছে

ছোটবেলায় 'কিশোরপত্রিকা'য় একটা সিরিজ ছিলো (নামটা ভুলে গেছি), দুর্দান্ত সব ভৌতিক গল্প পাওয়া যেতো তাতে!

অট: ভ্রাতা, মেইল চেক করুন প্লিজ..

_______________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ধুসর গোধূলি এর ছবি

একটা দুইটা বাঁশের চারায় কি আর তেনাদের পোষাবে? তেনাদের লাগে বাঁশঝাড়! তবে তেঁতুল গাছ হলে একটা দুইটাই যথেষ্ট! সুতরাং, ভুলেও ছাদে তেঁতুল গাছ লাগায়েন না যেনো! কদম গাছও না। ভেজাল ঐখানেও আছে। হাসি

আর তেনাদের ডরে ইলিশ মাছ খাওয়া ছেড়ে দিলেন? আরে, খান খান। কী আছে দুনিয়ায়। আইজকা মরলে কাইল বাদে পরশু তিনদিন। বেহেশতে গিয়া ইলিশ মাছ পাইবেন?



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

ওহ তেতুল গাছের কথা স্মরণ করাইয়া দিলেন। বাড়িতে আমাদের ঘর থেকে অনেক দূরের হাগুখানার পাশে একটা তেঁতুল গাছ আছে। দিব্যি বলছি, এই বড়বেলাতেও আমি সেটার পাশে দিনে দুপুরে যেতেই ভয় পাই, এখন, এই কারেন্ট বাত্তির যুগেও মন খারাপ

ধৈবত

সুমন চৌধুরী এর ছবি

তেনারা আছেন তেনারা আছেন ....



অজ্ঞাতবাস

নিবিড় এর ছবি
সাফি এর ছবি

আজিব ব্যপার হল এই বাঁশঝাড়ের গল্প দাদার মুখেও শুনছিলাম ওনার নিজের কাহিনী হিসেবে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমার মনেহয় আপনার দাদার সেই 'তেনা' আর আমার শনি মামার 'তেনা' একই টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ছে। তাই শিক্ষা প্রয়োগেও একই পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করছে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাফি এর ছবি

তাইলে আমাগো সম্পর্কটা কি দাঁড়াইলো?

দ্রোহী এর ছবি

এত তুতোয় জড়ানোর দরকার কী? সরাসরি জিগান সাফি ভাইয়ের শালি আছে কি না?


কি মাঝি, ডরাইলা?

সাফি এর ছবি

হ আছে তো। তয় মাত্রই বিয়া দিয়া দিলাম।

দ্রোহী এর ছবি

হ্যাঁ, জানে বেঁচে গেছে মেয়েটি। হো হো হো


কি মাঝি, ডরাইলা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সিরাত এর ছবি

আমার বাসার জ্বিনটার কাহিনী শুইনা না আপনি বেশ বিরক্ত হইসিলেন? হাসি

আমি ব্যাপক বিরক্ত হইলাম। দেঁতো হাসি

দ্রোহী এর ছবি

কেউ বিশ্বাস না করলেও আমি আপনার বাসার জ্বিনটার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই?


কি মাঝি, ডরাইলা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সিরাত এর ছবি

এটা শিরোনাম পড়েই দিয়ে দেয়া মন্তব্য। বিস্তারিত পড়ে চাক্কু খুলে নেবার চেষ্টা করবো। হাসি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

একটা "তেনাদের কিচ্ছা সংকলন" করলে কেমন হয়? এতে তেনাদের কমন টাইপ সব গল্প থাকবে। তেনাদের বাসস্থান, পছন্দের খাবার-দাবার, আক্রমনের স্টাইল, হুমকির স্টাইল, কিসে কিসে তেনারা ভয় পান ইত্যাদি সব থাকবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

খুবই ভালো হয়। হাসি

আকাশনীলা

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কেউ দায়িত্ব নিলেই হয়ে যায়। তবে সময়ের টানাটানি যাচ্ছে, ডিসেম্বরের আগে কিছুই লেখা সম্ভব নয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ডিয়ার পিপিদা, ডিসেম্বর তো কামিং এবং যথারীতি গোয়িং। আপনার ব্যস্ততা কি এখনো নট ফিনিশিং?

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

কেবলই অন্য এক গোধূলিকে বাংলাদেশের জিনওভূততত্ত্ব সম্পর্কে একটা ক্র্যাশ কোর্স দিতে গিয়ে এইটা আবার খুঁজে বের করা হলো। এই উদ্যোগটা মাঠে মারা যাওয়াটা ঠিক না। কারও কিন্তু হাতে নেয়া উচিত। জিনোভূততত্ব সংরক্ষণ কমিটির মুখপাত্র হিসেবে বলছি এইটা জনগণের দাবি এইটা সময়ের দাবি!

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

অতিথি লেখক এর ছবি

খেয়াল করলে দেখা যাবে, তেনাদের ফিরিস্তি কিন্তু বেশিরভাগ গ্রানীণ সমাজেই কাছাকাছি তরিকা অনুসরণ করে। ছোটবেলায় শীতের রাতে গ্রামে লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমোবার আগে ময়মুরুব্বীরা তেনাদের গল্প করতেন, সে এক অসামান্য অভিজ্ঞতা, তার কটাই আর লেখা যাবে?

অদ্রোহ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আশঙ্কার কথা হলো, এই ময়মুরুব্বীদের সাথে সাথে এরকম গল্পগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে চিরতরে। আমাদের উঠোনে এখন আর ঐ রকম করে সন্ধ্যাবেলায় কারেন্ট চলে গেলে জম্পেশ আসর বসে না। সেই আসর জমানো লোকগুলোও একে একে চলে গেছে/যাচ্ছে। কয়দিন পর হয়তো যে দু'একজন আছে, তারাও থাকবে না। আমাদের পরবর্তী জেনারেশন কী শুনে বড় হবে! কম্পিউটার গেমস ছাড়াও যে ভয়ানক থ্রিল জাগানিয়া গল্প ছড়িয়ে আছে নিজের বাড়িটিকে ঘিরেই, সেটা কী জানতে পারবে সেই জেনারেশন কখনো!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, দেশ-সংস্কৃতি-ধর্ম পরিবর্তনের সাথে সাথে এইসব গায়েবী জিনিসেরও সংস্কৃতি-সমাজ এমনকি ধর্মও বদলাইয়া যায়

ধৈবত

সচল জাহিদ এর ছবি

একটু আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে বাইরে। বাইরে থেকে ফিরলামও একটু আগে। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে জ্বীনের কেচ্ছা পড়তে বেশ লাগল। অনেক দিন পরে ছেলেবেলায় স্কুল ছুটির পরে দাদুবাড়ি বা নানুবাড়ির সেই হারিকেন জ্বালিয়ে উঠানে বসে নিবু নিবু আলোতে গল্প শোনার সময়গুলিতে চলে গিয়েছিলাম। ধন্যবাদ ধুগো।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

জাহিদ ভাই, নিজের নানু বাড়ি বা দাদু বাড়িতে আমাদের কাটানো স্বর্ণালী সময়গুলো কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও তাদের বেলায় উপলব্ধি করতে পারবে!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সচল জাহিদ এর ছবি

পারবেনা ধুগো। এর ব্যার্থতা আমাদের। আমরা ওদেরকে সেই পরিবেশ দিতে পারছিনা। মাঝে মাঝে খারাপ লাগে এর জন্য। বিদেশে থাকি, আমার ছেলের দাদা দাদী বা নানা নানী সবার সাথে বিচরণ ফোনে। আসলেই দুঃখজনক।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আরে পারবেনা কেনো জাহিদ ভাই। অবশ্যই পারবে।

ছেলেকে ধরে নিয়ে টানা একমাস দাদী-নানীর বাড়িতে রিমান্ডে দিয়ে রাখবেন। একেবারে লাগামহীন সময় কাটাতে দিবেন তাকে। তার আগে এরকম গল্পগুলোকে রিভাইভ করবেন, গল্প বলিয়েদের দিয়ে। আমি নিশ্চিত বিদেশে পুরো জীবন কাটানো আপনার ছেলে যখন তার ছেলের সাথে গল্প বলবে, অবধারিত ভাবেই 'ঐ এক মাস' সময়কেই তার জীবনের সেরা একটা মাস বলে অভিহিত করবে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

তাসনীম এর ছবি

বেঁচে থাকুক তেনারা...

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আজ, এই দিনে 'তেনাদের' বড়ই বিপদ তাসনীম ভাই। সরকারের উচিৎ তেনাদের জন্য এগিয়ে আসা। সেটা না করে সরকার কি-না যুদ্ধাপরাধী বিচার নিয়ে ব্যস্ত! মাইনাস, সরকারকে কইষ্যা মাইনাস।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

জ্বীন আর তেনারা তালগোল পাকায়ে গেল। তবে সবার মামারাই এক জায়গায় প্রাইভেট পড়তেন নাকি?! চিন্তিত
বাঁশঝাড় আমার বেশ প্রিয় জিনিস! আমার বাড়ির পাশেও একটা আছে... আগে আরো ঘন ছিল, আর ছোটবেলায় সন্ধ্যায় সেই রাস্তায় সাইকেল চালাতে গেলে বা হাঁটতে গেলে ছমছমে অনুভূতিও হত... আহা! এখন মানুষজন আর বাড়িঘরে এলাকাটা গমগমে হয়ে যাচ্ছে!

এই জমজমাট 'ঘন' গল্পটা আসলেই আজকে সন্ধ্যায় কারেন্ট চলে গেলে চায়ের কাপ নিয়ে পড়লে বেশ লাগত, তো ঠিক হ্যায় সন্ধ্যায় নাহয় অন্য ভাইবোনদেরকে রেফার করে দেয়া যাবে। হাসি
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বালাই ষাট! সবার মামারা এক জায়গায় প্রাইভেট পড়তে যাবেন কেনো! প্রাইভেট তো পড়েছেন মামাদের পরিচিত 'তেনারা'। অনেকের কর্মপদ্ধতিই এক কি-না, তাই!

হ। মানুষদের হাদুমপাদুমের কারণে 'তেনারা' আজকাল একেবারে কোনঠাসা! আগের মতো আর পারফর্ম্যান্স বজায় রাখতে পারছেন না। মন খারাপ



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

হুম, "... সব মামাদের 'তেনারাই'..." হবে।
'তেনারা' বাঁচাও আন্দোলন হাতে নেয়া দরকার আসলে!

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

জ্বীনের কাহিনীগুলো একই হলেও পড়তে একটা ভাব চলে আসে। আরো থাকলে সেগুলোও নামায়া ফেলান। আমার কতগুলো অভিজ্ঞতা আছে, কবে ভুলে টুলে যাই; ভাবছি আগামী বছরের মধ্যে সেগুলো নামায়া ফেলব দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এই পোস্টটা লেখার উদ্দেশ্য সেটাই পিপিদা। এইরকম কাহিনি গুলো আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পাবে না। না জানতে, না শুনতে। তাদের জন্যই কাহিনিগুলো এক করে রাখা দরকার। আমাদের লোকালয়েও 'ঠাকুরমার ঝুলি' ছিলো। আমাদের সময়ে, লাইভ। এটা তাদের কাছেও পৌঁছানো জরুরী।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

দ্রোহী এর ছবি

পাকা রাস্তা পেরিয়ে আমাদের বাড়ির পথ ধরলে প্রথমেই পড়তো বড় মিয়াদের বাড়ি। ঘন বাঁশঝাড়ে ঢাকা রাস্তা দিয়ে আসতে হতো মিয়া বাড়ির সামনের পথটুকু। মিয়া বাড়িতে কেউ থাকতো না। তারা সবাই ঢাকায় বাস করত। সেই বাঁশবনে থাকতেন তেনারা।

বড়রা বলতেন তেনাদের একজনের নাম মামুনুর রশীদ! আরেকজন ছিল চ্যাগ মিয়া। বাঁশঝাড়ের সমান লম্বা। রাস্তার দু'দিকে দুই পা চেগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। কোন মানুষ যখন তার চেগিয়ে রাখা পায়ের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হতে চেষ্টা করতো তখন তিনি মানুষটির উপর বসে পড়তেন। ফলশ্রুতিতে তেনার পাছাপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটতো মানুষটির। হো হো হো

তেনাদের সম্পর্কে আরো জানতে হলে এই লিংকটি দেখুন।


কি মাঝি, ডরাইলা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমাদের এলাকার রাস্তার বড় কালভার্টের কথা বললাম না! জায়গাটা আসলেই খারাপ রে ভাই। ঐখানে ইয়া লম্বা লম্বা দুই পা ফেলে, বিশাল আকারের এক সাদা কাপড় পরিহিত 'তেনাকে' দেখা যেতো প্রায়ই। পূব পাড়ার আব্দুল্লা ভাইয়ের বাপ একবার তো ফিট খেয়ে পড়েই গেলো রাস্তায় সেটা দেখে!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

আমেরিকায় আমার এক বান্ধবীর স্বামী গাড়ি এ্যাক্সিডেন্ট করেছিলো। তারপর দেশে বান্ধবীটার দেবর বলে বেড়াচ্ছিলো যে সে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় জ্বীন পাঠিয়ে তার ভাইয়ের এ্যাক্সিডেন্ট ঘটিয়েছে। ভাইয়ের কাছে ব্যবসার টাকা চেয়েছিলো কিন্তু ভাই তার ব্যবসার পরিকল্পনায় সন্তষ্ট হতে না পেরে টাকা দিয়েছিলো না। ভাই যদি এতেও সাবধান হয়ে টাকা না দেয় তবে জ্বীন তার আরও বড় ক্ষতি করে দেবে।

ঘটনাটা শোনার পর বান্ধবীর ওই দেবরের নাম দিলাম "জিন্স বেয়াই" (বেশি খারাপ কিছু বলতে পারিনি কারন ও আমার আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু)। হাজার হলেও আমেরিকায় জ্বিন পাঠায়, তাই জ্বিন নামটাকে পাল্টে জিন্স করে দিলাম।

জিন্স বেয়াই বড়ই শেয়ানা, আমাকে তারপর থেকে দেখলেই একটা চাপা হাসি দেয়, কাছে ভেড়েনা।

রাতঃস্মরণীয়

দ্রোহী এর ছবি

আপনার জিন্স বেয়াইরে নিয়ে বেশি হাসাহাসি কইরেন না। তিনি আসলেই কামেল লোক। একটা জ্বিন যে আপনার বান্ধবীর স্বামীর গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করাইছিলো সেই গল্প আমি শুনছি এক আমেরিকানের কাছ থেকে। তার মানে আপনার বেয়াইয়ের জ্বিন পাঠানোর ঘটনা আসলেই সত্য।

আপনার বেয়াইরে আমার বিস্ময় মাখা শ্রদ্ধা জানাইয়েন।


কি মাঝি, ডরাইলা?

অতিথি লেখক এর ছবি

সম্প্রতি শুনলাম আমার জিন্স বেয়াই স্বেচ্ছায় বোতলবন্দী হইছেন।

রাতঃস্মরণীয়

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনার জিন্স বেয়াই তো দেখি বড়ই কামেল আদমি। কিন্তু এতো কামেল হয়েও আপনারে ডরায় ক্যানো? আপনি কি কামেল ওঝা নাকি! হাসি



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

বইখাতা এর ছবি

লেখার নামকরণ খুবই জুতসই হয়েছে! হাসি আমিও এমন কিছু কিছু গল্প শুনেছি ছোটোবেলায়, দাদীর কাছে। দাদীর বয়সী পাড়াপ্রতিবেশীদের কাছে। উনারা নাকি দেখেছেন বেশ কয়েকবার। আমার তুতো ভাইবোনদের মধ্যেও কেউ কেউ নাকি দেখেছে! আমি অবশ্য দেখিনি! দেখতে চাইও না। ভয় করে!

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হুম, এরকমই একটা নাম চাচ্ছিলাম। প্রথম ধাক্কাতেই চলে এলো এটা।
তেনাদের সাথে দেখা না হওয়াই ভালো। অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়! নাহলে তেনারা নাখোশ হয়ে ক্ষতি করে বসেন। আমাদের পুরাতন ঈদগাহ্ এবং কবরস্থানের পাশে যে বাড়ি বানিয়ে থাকে কমু প্রধানের মেয়ে ও তাঁর পরিবার। তাঁর কাছে শুনেছি। রাত হলেই অদ্ভূত সুন্দর আতরের মৌ মৌ গন্ধে ভরে যায় তাঁদের আঙিনা। পায়ের শব্দও শোনা যায়। সাহস করে তেনাদের পা জড়িয়ে ধরতে পারলে দ্বীন-দুনিয়ার সবকিছুই পাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তেনারা নিজেদের পায়ে সাধারণ মানুষের পড়ে থাকা সহ্য করতে পারেন না। সজোরে লাথি মেরে সরিয়ে দেন। এই লাথিকে উপেক্ষা করে খাবলা দিয়ে জোঁকের মতো লেগে থাকতে পারলেই দো-জাহানের সব ফকফকা!

ডর তো আমারো করে। তারপরও এমন একটা চান্স নিবো নিবো করেছিলাম একটা সময়। কিন্তু সাহসে কুলোয় নি। তবে গভীর রাতে নাকে সুগন্ধ ঠিকই লেগেছে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ভাই পা ধরার আগে একটা জিনিস বিবেচনায় নিয়েন - 'তেনা'দের পায়ের পাতা কিন্তু উল্টা দিকে হয়! মন খারাপ

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

দারুণ লেখা বস... এইসব গল্প কখনো পুরোনো হয় না। এমন কী, সর্বজনীনও বটে।

মাছের গল্প, বাঁশঝাড়ের গল্প আর দ্রোহীদার পুকুরের গল্প- এইসব সব গ্রামেই মনে হয় আছে। খুব নিকটজনেরা নিজের চোখে এসব দেখেছেন।

আমাদের গ্রামের আরো দুটা এই জাতীয় মিথ শুনেছি। জীনের চড় খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আমার আপন মামা, গত বছর স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। আরেকটা শুনে বেশ ভয় পেয়েছিলাম ছোটবেলায়। গভীর রাতে আমাদের মোহাম্মদপুর গ্রামের রাস্তায় নাকি হাতে আলো নিয়ে ঘুরে বেড়াউ সম্পূর্ণ নগ্ন সাত-আট বছর বয়স্ক এক বালক... আমার ফুপুর নিজ চোখে দেখা, পরিচিত আরো অনেকেই দেখেছেন।

... এইসব গ্রামীন গল্পের একটা সংকলন আসলেই করা দরকার।

_________________________________________

সেরিওজা

দ্রোহী এর ছবি

হোই মিয়া। দ্রোহীর পুকুর মানে কী? আমি বললাম ছাদিক্যা হুইরের গল্প আর আপনে সেইটারে চীনা ফিসফাসের কায়দায় দ্রোহীর পুকুর বানায়া ফেললেন?

আমার গল্পটা কিন্তু মোটেও বানানো না। একেবারে বর্ণে বর্ণে সত্যি। হো হো হো


কি মাঝি, ডরাইলা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গভীর রাতে যে ছেলেটি আলো নিয়ে ঘুরতো, তাকে বোধকরি দিনের বেলাতে কোথায় দেখা যেতো না!

বর্ষার সময় আমাদের গ্রামে হ্যাজক লাইট নিয়ে অনেকেই মাছ ধরতে যেতো দোহাজারী নামক বিশাল চকে। এই দোহাজারী চক নিয়েও নানা কাহিনি প্রচলিত আছে আমাদের এদিকে। তো রাতের বেলায় যখন হাতে ট্যাঁটা নিয়ে চার-পাঁচ জনের দলের ক্ষেতের আল ধরে ঘুরতো মাছের আশায় তখন তাদের সাথে সাথে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে একটা বেড়ালও ঘুরতো। আশ্চর্য হলো বেড়ালটা কখনোই আলোর কাছে আসতো না। দূর থেকেই তাদেরকে ফলো করতো। এবং আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বেড়ালটা একটু পরপরই রূপ বদলাতো। কখনো হয়ে যেতো শেয়াল, কখনো ভোঁদর, কখনো কুকুর, কখনো বা বাগডাশ!

তবে মাছ ধরা দলটির কেউ ভয় পেতো না। কারণ তারা জানতো আগুনের কাছে তেনারা ভিড়বেন না। আর যদি হাতে ধাতু থাকে, তাহলে তো আরও না। সুতরাং তারা নির্বিঘ্নে মাছ মেরে ভোর বেলা বাড়ি ফিরে আসতেন। পরদিন সন্ধ্যা বা বিকেলে আমরা শুনতাম আগের রাতের রোমহর্ষক সব কাহিনি!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি মিয়া আসলে একটা "তেনা"!! চোখ টিপি

আমিও এরকম গপ্পো শুনতে বেশ ভালু রকমের ভালু পাই...পরে হঠাত মনে পড়লে ভয়ও পাই... ইয়ে, মানে...

শুনেছি, নিরিবিলি তিনটা রাস্তার সংযোগস্থলে নাকি "তেনারা" থাকেন... নানু-দাদু বাড়ির অনেকেই নাকি এধরণের অনেক কিছু দেখেছেন।

কিছুকিছু জিনিসের ব্যাখ্যা মনে হয় মানুষেরা কখনোই দিতে পারবে না...

যাইগা, ডরাইতেছি... মন খারাপ

"চৈত্রী"

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনি ঠিকই শুনেছেন চৈত মাস। তে-পোথা (তিন পথ)'র উপর দিয়ে কখনোই চৈত মাসে ভর দুপুর বেলা একা একা আসতে নাই। তেনারা আছর করে বসেন তখন। প্রচলিত আছে, ঐ সময়টায় ঐ জায়গাতে তেনারা বিশ্রাম করেন। কেউ সেখান দিয়ে হন হন করে হেঁটে আসলে তেনাদের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

শেখ নজরুল এর ছবি

নস্টালজিক হলাম।

শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

ওডিন এর ছবি

স্মৃতিচারণ দারুন লাগলো ধুগো'দা। পরের পর্বগুলোর আশায় আছি। হাসি
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সংসপ্তক এর ছবি

দারুন! 'তেনা' প্যাঁচানী জারি থাকুক!
আমার মনে পড়ে গেল ছোটবেলার এক ঘটনা....ডোমের ঘরে দরজা আটকে দিয়েছিলো এক ব্যাটা বজ্জাত। বছরখানেক দুঃস্বপ্ন দেখতাম।
.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

কী কমু [অতিথি] এর ছবি

জ্বীনের প্রসঙ্গে মনে পড়ল, কোথায় যেন পড়েছিলাম, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নাকি জ্বীন ব্যাটেলিয়ন তৈরি করেছিল যুদ্ধে দৈবিক সহায়তা লাভের আশায়। কারগিল যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্যাটেলিয়নের কম্যান্ডার হুজুরকে ডেকে যুদ্ধে জ্বীনের ভূমিকার ব্যাপারে কৈফিয়ৎ তলব করা হয়। হুজুর সদুত্তর দিতে না পারায় ব্যটেলিয়নটি ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য আমি নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করে তেমন কিছু পেলাম না। দু'একটা জায়গায় ধার্মিক পাকিস্তানি ব্লগারদের 'জ্বীনের সঙ্গে মানুষের বিয়ে' সংক্রান্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা পাওয়া গেল বটে, কিন্তু জ্বীন ব্যাটেলিয়ন সম্পর্কে কিছু নেই। কেউ পেলে দয়া করে জানাবেন। মধ্যযুগের উপকথাকে বিশ্বাস করে একটি আধুনিক দেশের (?) সেনাবাহিনী এমন কাণ্ড করতে পারে, বিশ্বাস করা যায় না।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার মনে হয় ভারতও পালটা আক্রমনের জন্য ওদের পেশাদার তান্ত্রিকদের দিয়ে, পিশাচ বা অশরীরি বাহিনী তৈরী করে রেখেছিল, তাই গায়েবী যুদ্ধতে ওরা পাকিস্তানের জ্বীন বাহিনীকে হারিয়ে দেয় দেঁতো হাসি

ধৈবত

সুমন সুপান্থ এর ছবি

একটু নোনতা হয়ে যাচ্ছে কথাটা, তবু তাই মনে হলো ___ এমন অসাধারণ লেখা তুমি কমই লিখেছো । পঞ্চতারায় কুলাবার নয় ।
আর মধুর কথা হচ্ছে এই___ আমি খুবই কম পড়েছি এমন সুস্বাদু লেখা ।
স্যালুট ধুগো ।

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

নীড় সন্ধানী এর ছবি

অনেকদিন পর তেনাদের গল্প পড়লাম। আপনার গল্পটা তেনাদের সাথে সাক্ষাতের কথা মনে পড়িয়ে দিল।

আমার নানাবাড়ীর পুকুর পাড়ে ছিল ঘন জঙ্গল। তার ওপাশে আরো জংলা কবরস্থান। বিশাল সব গাছপালা। দিনের বেলায়ই অন্ধকার থাকতো। প্রাইমারী বয়সে একবার ভর সন্ধ্যেবেলা সেই পুকুরে হাতমুখ ধুতে গেছি। একা ঘাটে বসে হাত মুখ ধোবার এক পর্যায়ে খেয়াল হলো আমার পিঠে কারো হাতের চাপ, আমাকে পানির দিকে ধাক্কা দিচ্ছে।

আমি না ফিরেই বলি, এই বেলাল, ফাজলামি করবা না, পড়ে যাবো তো। ভাবলাম মামাতো ভাই বেলাল।

কিন্তু কথার জবাব নাই হাতের চাপ বেড়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলেই দিল, আমি খাবি খেতে খেতে পাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখি ঘাটে আর কেউ নেই। তারপর আমার বিকট চিৎকার চেঁচামেচিতে লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করলো। তেনাদের সাথে সেই প্রথম প্রত্যক্ষ মোলাকাত।:)

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

অল্পতে বেঁচে গেছেন।
এইটা ছিলো দুষ্টু তেনা। সন্ধ্যা বেলায় এরা উপদ্রব চালায়। আপনার ডাকে লোকজন ছুটে আসতে দেরি করলেই আপনার বড় একটা ক্ষতি হয়ে যেতো।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

কৌস্তুভ এর ছবি

তেনাদের গল্প বড় ভালু পাইলাম। আরো কিছু ছাড়েন।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দেশে যাওয়া দরকার অবিলম্বে কৌস্তুভ। কয়েকজন এখনো জীবিত আছেন। তাদের থেকে আমাদের এলাকার কাহিনিগুলো সংগ্রহ করে রাখা দরকার। অন্তত বাবুদের স্বার্থে। তাঁদের সাথে সাথে এই কাহিনিগুলোও চিরতরে হারিয়ে যাবে, ভাবতেই কষ্ট লাগে।

ফ্রুলিক্স [অতিথি] এর ছবি

তেতুলগাছ, পুকুর, বাঁশঝাড়ের মতো 'তেনারা' তালগাছ আর শ্মশানঘাটে ও থাকেন। এই সবগুলো উপাধান আমাদের টিলাবাড়ির আশেপাশেই ছিলো। দু:খের বিষয় তেনাদের সাথে আমার সাক্ষাত হয়নি।তবে গল্প শুনেছি অনেক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনের দিলে ময়লা আছে জনাব। দিল সাপ্পা করেন, তারপর খালেস নিয়্যতে তেঁতুলতলা, পুকুরতলা, বেলতলা, বাঁশতলা, তালতলা, আগরতলা যান। এনশাল্লা তেনাদের দেখা মিলবে। না মিললে বুঝবেন তেনারা মাইগ্রেট করেছেন। দেশের শেয়ার বাজারে সুবিধা করতে না পেরে!

কনফুসিয়াস এর ছবি

প্রায় সব কটা গল্পই নানা রকম ভার্সানে ছোটবেলায় শোনা।
আর একটা নতুন তেনার গল্প তো আমি নিজেই লিখে ফেলেছি। হাসি
থ্যাংক্স ধুগো।
-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দেবোত্তম দাশ এর ছবি

দিলেন তো টাশকি খাইয়ে।
------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এইবার চিন্তা করেন দেবু'দা, কী রকম টাশকিতে টাশ্কিত হৈয়া তেনাদের কাহিনি আমি ল‌্যাখছি! মন খারাপ

আলমগীর এর ছবি

কী বলব, ধুগোর হাতের নতুন কারিশমা দেখছি।
আমার কয়টা ফার্স্টহ্যান্ড অভিজ্ঞতা আছে, সমস্যা হলো, আপনার মতো হাত নাই, ভুতপ্রেতে ভয়-বিশ্বাস চলে গেছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনি আলমগীর ভাই, বুঝলেন! দেশে গিয়ে পুরাই ফাঁকিবাজ হয়ে গেছেন!
বলি আপনের মতলবটা কী? গব্বর সিং এর মতো চিৎকার দিয়ে বলবেন নাকি, "ইয়ে হাত মুঝে দে দে ধুগোওওওওও..." চিন্তিত

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ভালৈছে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভৌতিক বিষয় ... কমেন্ট গায়েব হয়ে যায়
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

কন্কী!! চিন্তিত
আরেকটা ভৌতিক বিষয় হলো, এই লেখায় নিচের কমেন্টগুলো কিন্তু এতোদিন দেখি নাই। আজকেই প্রথম দেখলাম। তারিখ খেয়াল করে দেখলাম, আমার তো চোখ এড়ায়ে যাওয়ার কথা না কমেন্টগুলো! ডরাইছি...!

রণদীপম বসু এর ছবি

তেনাদের কাহিনী তো সবার মধ্যেই আছে। কারণ সবার ঘাড়ের উপরই একটা করে খুপড়ি আছে। আর তেনাদের মূল আবাস তো হইলো ওই খুপড়ির মধ্যেই !

তবে লেখাটা আকর্ষণীয় হয়েছে ধুগো। কারো উদ্যোগে আসলেই একটা 'তেনারা' সংকলন করা যায় !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ধন্যবাদ রণ'দা। পিপিদা তো একবার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা আর পরে আলোর মুখ দেখলো না। তেনাদের ভয়ে মনেহয় সবাই একটু ভীত!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি কিছুদিন আগে 'তেনা' জাতীয় এক কাহিনী ফেঁদেছিলাম, সেটা আমার নিজের এক দাদা সম্বন্ধীয় আর নিজের এক মামা সম্বন্ধীয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সংকলনে লেখা, এবং দুজনের নিবাস কিন্তু বাংলাদেশের সম্পূর্ন ভিন্ন দুটি অঞ্চলে। আসলে পুরো দেশ জুড়েই কাহিনীর ধাঁচগুলো যেন একই রকম। মৎসপ্রীতি, বাঁশঝাড়ের ঝড়, অভিশপ্ত পুকুর এসবকিছুই সব জায়গাতেই রয়েছে। তবে নিজে এখনো একটা সত্যিকারের জ্বীন দেখার আশায় আছি, খোদায় যদি মিলায়.... মন খারাপ

ধৈবত

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হুমম! রূপকথা আর তেনাদের কথা— এই দুই কথার মূলকথা আসলে দেশে দেশে একই। শুধু পার্শ্ব চরিত্র আর পারিপার্শ্বিকতার পরিবর্তন হয়।

শুধু আশা করলে হবে না, বিশ্বাসও করতে হবে। ঐযে আছে না, 'বিশ্বাসে দেখা দেয় তেনা, তর্কে থাকে লুকায়ে।'

অতিথি লেখক এর ছবি

বিদেশী জাহাজে চাকরি করা আমার এক খালু স্বীয় অভিজ্ঞতা থেকে একবার সুইডিশ এক জাহাজের ভৌতিক কাহিনী বলেছিলেন। জাহাজের সুইড- ক্যাপ্টেন, ক্রু সবাই ডেকের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় কখনই যেতেন না এবং তারা প্রতি রাতে সেখানে ডেগ ভর্তি মাছ রেখে আসতেন। বাইরের কোন মানুষের জন্য ওই জায়গার ধারেপাশে ঘেঁষাই ছিল পুরোপুরি হারাম। ওনার ভাষ্যমতে উনি কোনোনা কোনো ভাবে সেখানটায় সেই বিশেষ জিনিসটার মুখোমুখি হয়ে পড়েন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সেখানে সেই মৎসভূক ভূতিনী (কিম্বা পেত্নী) চরিত্র ছিলেন স্কার্ট, টপস আর স্টকিং পরিহিতা এক শ্বেতাঙ্গিণী স্বর্ণকেশী...

এইসব আলগা জিনিসের উপর বর্ণ এবং সংস্কৃতিরও একটা বিরাট প্রভাব আছে।

ধৈবত

কালো কাক এর ছবি

আমার দাদা বাড়ীর পুকুরে পরী নাচতো !! পুকুর পারে আর সেই সুরলহরীর সাথে মাঝ পুকুরে নাচতো সাপ !!!
এসব গল্প শুনে খুব আশায় থাকতাম পরী আর সাপের নাচ দেখার। কিন্তু গ্রামে বিদ্যুৎ চলে আসায় পরীরা নাকি মাইন্ড করসে মন খারাপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

'কৃষ্ণার পুকুর'- এই নামেই মামাদের পুষ্করীনিটা পুরো এলাকায় পরিচিত। পরিচিতির আরও একটা কারণ অবশ্য আছে। অনেক প্রাচীনকাল থেকেই এই পুকুরে একটা 'ডেগ' বাস করে। মাঝে মধ্যে পুকুরের মধ্যখানের পানিতে প্রবল আলোড়ন তুলে সেটা ভেসে উঠে, তারপর আবার তলিয়ে যায়। এখন প্র্যন্ত কারো হাতে সেটা ধরা দেয় নি। মাঝে মাঝে মাঝ পুকুরে ডুব সাঁতার খেলতে থাকা কিছু দুষ্টু পোলাপানের পায়ে শিকল মতো কিছু একটা ঠেকে। এটা ডেগের মুখে ঢাকনা আটকে রাখা শিকল।

তো যেবার কৃষ্ণার পুকুর কাটানো হলো, আমরা ছোটরা বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, ডেগ বাবাজী'র দর্শনের জন্য। কিন্তু আমাদেরকে আশাহত করে দিয়ে ডেগ'টা কোন সুড়ঙ্গ পথে যেনো পাশের খাল হয়ে মেঘনায় চলে গিয়েছিলো। পুকুরের মাঝখানটায় অবশ‌্য একটা বিশাল গর্ত চোখে পড়েছিলো।

স্কুলে থাকাকালীন প্রায়ই ভর সন্ধ্যায় পুকুরের ঘাটে বসতাম গিয়ে, ডেগ দেখার আশা নিয়ে। কিন্তু পুকুরের কয়েকজায়গায় মৃদু আলোড়ন তুললেও ডেগ ভেসে উঠে আমাকে দেখা দিতো না কেনো জানি! মন খারাপ

কালো কাক এর ছবি

বাংলাদেশের সব পুকুরেই (শহর গ্রাম নির্বিশেষে) ডেগ উঠতো একসময় ! একবার বাসার কাছে এক পুকুরে ডেগ উঠতেসে খবর দিল বুয়া, খুব ইচ্ছা ছিল ডেগ দেখতে যাওয়ার , মা দিলো না। একবার শুনেছিলাম কোন এক পুকুরে কাচের থালা-বাসন পাওয়া যায় কারো ঘরে মেহমান আসলে। ওই এলাকার মানুষ কেন থালাবাসন কিনে সেটা এক বিরাট প্রশ্ন ছিল আমার !! খাইছে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।