নফলার দর্শন

যুধিষ্ঠির এর ছবি
লিখেছেন যুধিষ্ঠির (তারিখ: শুক্র, ৩০/০৪/২০১০ - ৮:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের আধো আলো-আঁধারিতে কিছুক্ষণ দৌড়াদৌড়ি চলে টেকনিশিয়ানদের। শেষ মুহূর্তে যন্ত্রপাতি আরও একবার পরীক্ষা করে নেয়া। টু-ওয়ে রেডিও আর হাতে সাউন্ড সিস্টেমের রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে শব্দ প্রকৌশলী এদিক সেদিক ছোটাছুটি করেন শংকিত মুখে। ভক্ত দর্শকেরা অজানা প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে যান সবাই। তুমুল হাততালি আর তীক্ষ্ণ শিসের শব্দ। কেনো শিস বাজাতে পারি না এটা ভেবে আফসোস হয়। অন্ধকারের মধ্যেই নীল বা হালকা বেগুনি শার্ট পরা একজনের ছায়ামূর্তি দেখতে পাই, লাল বা বাদামি ধরনের একটা গিটার হাতে এসে দাঁড়ান। স্টেজের একদম সামনে, ঠিক মাঝখানটায়। এই সময়টায় মানি ফর নাথিং অ্যালবামের কভারটা মনে পড়ে যায়। চোখ-মুখ-শরীর কালো অন্ধকারে মিশে যাওয়া এক গিটারিস্টের তীব্র উজ্জ্বল হেডব্যান্ড, লাল গিটার আর বেগুনি জ্যাকেট। ভিডিওতে কৈশোরে দেখা ডায়ার স্ট্রেইটস-এর টিঙটিঙে স্বাস্থ্যের সেই নফলার গিটার হাতে একটা পা হাস্যকরভাবে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে অপরিপক্ক নাচের ভঙ্গি নিয়ে যে আসছেন না, সেটি জানি। তাও কেন যেন সেই নফলারকেই মনে পড়ে যায়।

উপর থেকে চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল নীল আলো পড়তেই নিশ্চিত হই ইনি সেই মার্ক নফলার নন। এঁর মাথায় টাক পড়েছে। শরীরটা একটু কুঁজো মনে হলো কি? শরীরের মধ্যাঞ্চল একটু স্ফীত? একটু ধীরগতির, একটু গম্ভীর, একটু বুড়ো। সঙ্গে হয়তো মাসাধিককাল ধরে চলা কনসার্ট ট্যুর নিয়ে যাত্রাক্লান্তি। বয়স ষাট পেরিয়েছে, বোধহয় তিনি বৃদ্ধ হলেন।

গান শুরু হতে লাল রঙের ফেন্ডার স্ট্র্যাটোকাস্টারের মাথায় বসানো ছোটো ক্যামেরাটা থেকে ফ্রেটগুলোর ওপরে ওঁর আঙ্গুলের অপূর্ব সব কাজ যখন মঞ্চের পেছনের বড় পর্দায় ক্লোজ-আপ শটে দেখানো হয়, তখন সব বিভ্রান্তি কেটে যায়।

তীক্ষ্ণ। দ্রুত। মসৃণ। মায়াবী। জাদুকরী। না, বয়সের ছোঁয়া একটুও লাগে নি সেখানে এখনও।

প্রতিটা নোট বুকের ঠিক মাঝখানে এসে লাগে। এ বয়সেও যে গভীর ভালোবাসায় সালটেইনস অফ সুইং-এর শেষের লীডটা বাজান, বা রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের শুরুরটা, শুনে গায়ে কাঁটা দেয়।

***

বয়সের কারণে হোক বা না হোক, মার্কের গানে একটা মৌলিক পরিবর্তন আসে, বলতে গেলে ১৯৯৬ থেকে শুরু করে। ৯১-এ ডায়ার স্ট্রেইটস-এর শেষ স্টুডিও অ্যালবাম অন এভরি স্ট্রীট বের হয়। মার্ক প্রকাশ্যেই এ সময় ডায়ার স্ট্রেইটসকে ব্যান্ড হিসেবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বাকি সদস্যদের বেশ উৎসাহ থাকা সত্ত্বেও ব্যান্ডটা বেশ নীরবেই ভেঙে যায় এর কিছুদিন পর। ভক্তরা বিস্মিত হলেও এর কারণটা বোঝা যায় অনেক পরে। ৯৬-এ মার্কের প্রথম একক অ্যালবাম গোল্ডেন হার্ট আসে। ৯১ আর ৯৬-এর এ দুটো অ্যালবামের গানগুলো পাশাপাশি শুনলেই মার্কের গানের ধরনের মৌলিক পরিবর্তনটা ধরা যায়। মাই পার্টিজ -এর They're running out of rhinos - so what do I care?-এর মতো চটুলতা থেকে বের হয়ে এসে গোল্ডেন হার্ট -এর মতো ব্যালাড ধরনের গানের প্রতি তাঁর আগ্রহটা প্রকাশ পায় এ সময়ে। হয়তো এই আগ্রহটাই তাঁকে একটা স্বতন্ত্র ক্যারিয়ারের দিকে নিয়ে যায়।

টেলিগ্রাফ রোড জাতীয় দুয়েকটা ব্যতিক্রম বাদ দিলে ডায়ার স্ট্রেইটস কখনোই লিরিকস-এর গভীরতায় বিশ্বাসী ব্যান্ড ছিলো বলে আমার মনে হয় নি। গানের সহজ কথা, জনপ্রিয় সুর আর মার্কের জাদুকরী গিটার, এগুলোই ডায়ার স্ট্রেইটসকে ভালোবাসার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিলো আমার কাছে। কিন্তু ১৯৯৬-এর পরে মার্কের একক ক্যারিয়ারে মূলত তিনটি দিকে তার স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। এক, জনপ্রিয় চটুল আর ছন্দময় সুর থেকে বের হয়ে একটু একটু করে ব্যালাড ধরনের গানের দিকে যাওয়া; দুই, গানের লিরিকস-এ গভীরতা আনার চেষ্টা, বলতে গেলে অনেক সময় কাব্যিক হতে চাওয়া, এবং সফল হওয়া; আর তিন, স্কটল্যান্ড আর আমেরিকার ফোক গানের প্রতি আগ্রহ আর সেগুলো দিয়ে তাঁর গানের কথা আর সুরের অনেকটা প্রভাবিত হওয়া। এর মাঝেও কিন্তু সেই ডায়ার স্ট্রেইটস-এর ছায়া মাঝে মাঝেই দুয়েকটা গানে উঁকি দিয়েছে, তার প্রায় প্রতিটা একক অ্যালবামেই। ভক্তরা মূলত ত্রিধাবিভক্ত হয়ে গেছেন মার্কের এই পরিবর্তনে। একটা দল ডায়ার স্ট্রেইটস-এর ধরনটাই পছন্দ করেন, তারা কেউ আর মার্কের একক ক্যারিয়ার অনুসরণ করেন না। দ্বিতীয় দলটা ব্যালাড ভক্ত, মার্কের এই পরিবর্তিত রূপটাই তারা ভালোবাসেন বেশি, ডায়ার স্ট্রেইটসকে তাদের কাছে খেলো মনে হয়। আর তৃতীয় দলটা আমার দল, আমরা দুটোকেই গভীরভাবে ভালোবাসি। এগুলো নিয়ে আরেক সময় লেখা যাবে, আজকের বিষয় ঠিক এটা নয়। আজকের বিষয় মার্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ, আর তার সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি গান আপনাদের শোনানো।

***

মার্কের পরিবর্তনে প্রথম চমকে উঠি ইন দ্য স্কাই গানটা শুনে। সুর আর কথা, দুটোই। শুনুন।

Are you home from the sea, my soul balladeer
You've been away roaming far away from here
weathered a storm, your heart unafraid
crossed every ocean in the boat that you made
...
And the vagabond wind, whispers over the bay
and the songs and the laughter, are carried away in the sky

মার্কের গানের কথায় এমন গভীরতা এর আগে খেয়াল করি নি। আর সঙ্গে খুব ধীরগতির একটা মনকাড়া সুর, গভীর গলায় গাওয়া। জীবনের অন্য এক প্রান্তে এসে উত্তাল উদ্দাম পেছনের দিকে ফিরে চাওয়া। এই লোকটাই Money for nothing and your chicks for free লিখেছিলো আর গেয়েছিলো? বিশ্বাসই হয় না। ১৯৯৭ এ মার্ক তৃতীয়বারের মত বিয়ে করেন, লেখিকা-অভিনেত্রী কিটি অলড্রিজকে। তার সাথেই দুই সন্তান নিয়ে সুখের জীবন কাটাচ্ছেন এখন। অনেকের ধারণা গানটা কিটিকে উদ্দেশ্য করে লেখা। স্বল্পভাষী আর নিভৃতচারী মার্ক নিজে কখনো কিছু বলেন নি, কিন্তু তাঁর গানের গভীরতার পরিবর্তনগুলো কিটির সাথে পরিচয়ের পরের সময়গুলোতেই বেশি প্রকাশ পায়। হতেও পারে। এখন তাঁর থিতু হয়ে বসার সময়। পেছনে ফিরে তাকানোর সময়। হয়তো তিনি বৃদ্ধই হলেন।

***

এর পরের ধাক্কাটা আরও বড়। এটা অনুভব করি গত বছর তাঁর গেট লাকি অ্যালবাম বের হবার পর। অপূর্ব কাব্যময় এ গানটা শুনুন আগে। সো ফার ফ্রম দ্য ক্লাইড:

গ্লাসগো-তে ক্লাইড নদীর কাছে জন্ম আর বেড়ে ওঠা মার্কের। ক্লাইডের আশেপাশের বিরাট আর রাজসিক জাহাজগুলোর চলাচল, নির্মাণ আর জীবনাবসান - সবকিছুই খুব কাছে থেকে দেখা তাঁর। সেরকম একটা একদা-বিশাল জাহাজের করুণ সমাপ্তি নিয়ে গানটা, কিন্তু একটু কি তাঁর নিজের বর্ণাঢ্য জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ও দেখা যায় না কথাগুলো শুনলে?

Later the captain shakes hands with the hangman
Climbs slowly down to the oily wet ground
Goes back to the car that has come here to take him
From the graveyard and back to the town

***

২৩শে এপ্রিলে শিকাগোতে কনসার্টের শুরুতে নফলারকে দেখে একটু দমে গেলেও গান শুরু হয়ে যাবার পরে আর সেটা মনে থাকে নি। বিশেষ করে যখন তাঁর বিখ্যাত স্টিল রেজোনেটরটা বের করে রোমিও অ্যাণ্ড জুলিয়েট আর ব্রাদার্স ইন আর্মস গাইলেন। কিন্তু চমকে গেলাম আবারও, সেদিনের শেষ গান পাইপার টু দ্য এন্ড শুনে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হারানো ব্যাগপাইপ বাদক যে চাচাকে কখনো তিনি দেখেন নি, তাঁর স্মরণে এই গান হলেও শুরুটা শুনেই ধাক্কাটা খাই।

When I leave this world behind me
to another I will go...

গানের শুরুতেই বুঝে যাই আজকে সন্ধ্যার শেষ গান এটা। বিশেষ করে গানের if friends in time be severed, someday we will meet again, I'll return to leave you never, be a piper to the end-এই জায়গাটায় এসে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে থাকেন বিদায়ের ভঙ্গিতে। মুখে কেমন একটা অবসাদের ছাপ। পরিতৃপ্তিরও। তবুও। কেমন যেন ভড়কে যাই। প্রিয় শিল্পীকে বিদায়ের কথা ভাবতে দেখে ভালো লাগে না।

***

ভালো থাকুন প্রিয় মার্ক নফলার। আপনার গান নতুন করে ভালো লাগতে শুরু করে প্রতিদিনই। আপনার ডায়ার স্ট্রেইটসের গানগুলো প্রতিদিনই ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৈশোরের উদ্দামতায় – আমি ফের বর্ণমালা থেকে শুরু করি - আবার মুখস্থ করি ডাক-নামতা, আবার সাঁতার শিখি একহাঁটু জলে। আপনার এখনকার গানগুলো সামনের দিনগুলো নিয়ে ভাবতে শেখায় প্রতিনিয়ত। বিদায়ের কথা ভাবুন, সমস্যা নেই - সেটা যেনো গভীর কাব্যময় গানের জন্ম দেয়ার জন্যই শুধু হয়। আমাদের সাথে থাকুন আরও অনেক অনেক দিন।

১,২,৩ গানগুলো এখানে শোনা যাবে।
৪ বাক্যাংশটি মহাদেব সাহার কবিতা থেকে
৫ পুরো লেখায় বানান শুধরে দেয়ার জন্য বুনোহাঁস আর অপ্র'র প্রতি কৃতজ্ঞতা


মন্তব্য

তাসনীম এর ছবি

আপনার সাথে সুর মিলিয়ে বলি...

ভালো থাকুন প্রিয় মার্ক নফলার।

ডায়ার স্ট্রেইটস ডেকে আনে বালকবেলা। ভালো লেগেছে আপনার লেখা।

++++++++++++++
ভাষা হোক উন্মুক্ত

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ধন্যবাদ তাসনীম ভাই।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

লেখাটা একেবারেই 'ডার্লিং প্রিটি'
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ধন্যবাদ। যে অনুষ্ঠানের লিঙ্ক দিলে, ওই A Night In London বোধহয় নফলারের সেরা কনসার্টগুলোর একটা। সুযোগ হলে পুরো ডিভিডিটা দেখে নিও, সংগ্রহে রাখার মত জিনিস।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কোন সন্দেহ নাই গুরুদেব, তবে পুরা কনসার্ট একবারে দেখার সৌভাগ্য হয় নাই, ইউটিউবে ছাড়া ছাড়া দেখেছি, আর পারা গেল না, এই ডিভিডিটা আমাজন নদী থিকা কুড়াইতে হবে হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নাশতারান এর ছবি

লেখা খুব ভালো লাগলো। গানগুলো শুনতে চেষ্টা করলাম অনেক। নেটের গতিতে কুলোচ্ছে না। এখন বেরুচ্ছি। পরের বেলায় এসে শুনে যাবো।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

হুমম, পোস্টানোর সময়ই বুঝেছিলাম বাংলাদেশের পাঠকদের মেজাজ খারাপ হবে। কী আর করা। অনেক ধন্যবাদ, বানানহাঁস হাসি

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

লেখাটা পড়ার চেষ্টাও করলাম না। মার্ক নফলারের নাম ট্যাগে দেখে একটা ধিক্কার দিতে ঢুকলাম। বড় শখ ছিলো একটা কনসার্ট দেখার, হয়ে উঠলো না আজও। :'(

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ধিক্কার গৃহীত হৈলো।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

নাহ, পড়েই ফেললাম লেখাটা। মার্ক নফলার / ডায়ার স্ট্রেইটস শুনানোর জন্য আমার এক বন্ধু কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

আপনি শিকাগো-তে কনসার্ট দেখেছেন? আমার ঐ কনসার্টেই যাওয়ার দাওয়াত ছিলো। ইশ, দেখা হয়ে যেতো!

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ছাত্রানাম অধ্যয়নং তপঃ, এখন তোমার কনসার্ট-ফনসার্ট নিয়ে সময় নষ্ট না করাই ভালো। মন্দিয়ে পড়াশুনা করো। বড় হলে কনসার্ট দেখবা। হাসি

ভদ্রলোক বছর দুয়েক পরপরই শিকাগো আসেন। হয়তো এর পরেরবার দেখা হয়ে যাবে, কী বলো? নাকি তখনো ছাত্রত্ব ঘুচবে না?

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

প্রবাসজীবনে প্রথম যেই কনসার্ট-টা দেখেছিলাম - সেটা মার্ক নফলার ছিল। সেইলিং টু ফিলাডেলফিয়া এলবাম বের হবার পরে কনসার্ট ট্যুর, সেই উপলক্ষ্যে নফলারের ডালাসে আসা। মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলাম। প্রিয় শিল্পীদের এত কাছে থেকে দেখতে পারার মধ্যে একটা অন্যরকম ব্যাপার আছে! এই বছর লন্ডনের রয়াল আলবার্ট হলে পুরো এক সপ্তাহ সলো শো করছে। যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

আরো যাদের দেখতে চাই কনসার্টে, তাদের মধ্যে আছে ভ্যান মরিসন, ক্রাউডেড হাউস, সেজারিয়া এভোরা, এল্টন জন। শুন লাম ডোর্স-এর মানজারেক ও ক্রিগার এই বছর কি একটা শো করবে এখানে। কিন্তু জিম মরিসন ছাড়া কি জমবে???

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ইংল্যাণ্ডে থেকে নফলারকে দেখতে চাইলে সবচেয়ে ভালো বোধহয় গ্লাসগোতে ওঁর নিজের শহরের কনসার্ট দেখা। আমি শুনেছি ওই শহরে ফিরে গেলেই উনি একদন দর্শকদের পুরো স্বাধীনতা দিয়ে দেন, যার যে গান শুনতে ইচ্ছা হয় সেটাই শোনান।

সবজান্তা এর ছবি

আহ !! এইটা কী লিখলেন !!!

আমার জীবনে শোনা সেরা কয়েকটা গানের গলার মধ্যে নফলার প্রথম দিকে থাকবে নিশ্চিত। কী অদ্ভুত ভারি গলা আর কী অসাধারণ গিটার !

নফলার প্রথম শোনা হয় আমার এক বড় ভাইয়ের কম্পিউটারে, অন দ্য নাইট কনসার্টের গানগুলি। এখনো মনে হয় চোখ বন্ধ করলে প্রথম শোনার সেই অনুভূতি স্পষ্ট মনে করতে পারি... "অন এভরি স্ট্রিট", "ইউ অ্যান্ড ইয়োর ফ্রেন্ড" কিংবা "ইয়োর লেটেস্ট ট্রিক"... কী দুর্ধষ গিটার আর স্যাক্সোফোন।

এর পরে একে একে শুনে ফেলি অনেক গান, প্রায় সবই... ডায়ার স্ট্রেইটস, মার্ক নফলারের সলো। সেইলিং টু ফিলাডেলফিয়া, শাংগ্রিলা, রোমিও এন্ড জুলিয়েট... কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি।

কিছুদিন আগে ওডিনের কল্যাণে শুনলাম "গেট লাকি" অ্যালবাম। "সো ফার ফ্রম দ্য ক্লাইড" যে রিপিট লিস্টে রেখে কত্তোবার শুনলাম।

আরেকটা ঘটনা মনে পড়লো, আমি তখন বুয়েটে সেকেন্ড কী থার্ড সেমিস্টারে পড়ি হয়তো। নফলার ইন্ডিয়াতে আসলো শো করতে। আমি চিন্তা করে দেখলাম,গরিব দেশে জন্ম, এখানে নফলার তো আর কোনদিন আসবে না- নফলারের কনসার্ট দেখার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আসবে না। ঠিক করলাম জমানো টাকা সব এক করে, ধার কর্জ করে, এমন কী কিডনি বন্ধক রেখে হলেও যাবো। বাদ সাধলো টার্ম ফাইনাল মন খারাপ

যাই হোক, নফলারকে নিয়ে লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ! আবেগী হয়ে বহুদিন পর এত বড় মন্তব্য করলাম দেঁতো হাসি


অলমিতি বিস্তারেণ

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ধন্যবাদ। আসলেই, তোমাকে অনেকদিন বড় মন্তব্য করতে দেখিনি!

কিডনী বন্ধক রাখার সিস্টেমটা আগে জানা ছিলো না হাসি । থাকলে ১৯৯৫ বা ৯৬-এ মাইকেল জ্যাকসন যখন ইণ্ডিয়াতে আসেন, তখন আমাদেরও পয়সার অভাবে আফসোস করতে হতো না।

মূলধারার বাইরে নফলারের কয়েকটা অফ-ট্র্যাক প্রোজেক্ট আছে। না শুনে থাকলে শুনতে পারো। একটা হলো Notting Hill Billies এর Missing...Presumed Having a Good Time অ্যালবাম - এটাতে সবচেয়ে প্রিয় গানটা হলো Will You Miss Me; আর আরেকটা হলো, আমেরিকার কাণ্ট্রি কিংবদন্তী Chet Atkins-এর সাথে, Neck And Neck অ্যালবামটা - এটাতে অবশ্য আমার সবচেয়ে প্রিয় গানটা নফলারের গাওয়া না, চেট অ্যাটকিনস-এর গাওয়া Just One Time.

তানিম এহসান এর ছবি

"Will You Miss Me" --- বহুদিন পর মনে করিয়ে দিলেন!

তানিম এহসান এর ছবি

ভাল লাগলো।

এই গানটা এইভাবে শুনলে আর কাজ করতে ইচ্ছে করে?

হাসিব এর ছবি

খারাপ বিষয় হৈলো এই পদের গায়ক এখন আর আসতেছে না । লেডি গাগা দিয়া মার্ক নফলারের স্বাদ মিটবে না । উল্টা ট্রাই করতে গেলে বমি হবার সম্ভাবনা ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, একমত। লেডি গাগা তো তাও মেয়ে, এখনকার পুলাপাইন গুলাও কেমন মাঝখানে আটকায় যাইতেছে, আউলসিটি নামে এক ব্যান্ডের চিক ফ্লিক গাতক আছে, মেয়েগুলান দেখি পুরাই পাগল, পোলাটা ঘাড় সোজা করতাম পারে না, গান শুনলে মনে হয় ২টা থাপ্পর দেই মন খারাপ
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আরও বেশি খারাপ ব্যাপার হলো এই রকম কনসার্টে গিয়ে "শুধুই" বিশুদ্ধ গান শোনার ব্যাপারটাও চলে যাচ্ছে এই নফলারদের প্রজন্মের সাথে সাথেই। এখন লাইভ কনসার্ট মানেই হলো গানের সাথে নানারকম নাচ, কোরিওগ্রাফি, লেজার লাইটিং এইসব। শুধু গান শুনে আজকাল আর লোকের পেট ভরছে না, টিকেটের টাকাও উশুল হচ্ছে না। এ ধরনের শো-গুলোর সাংস্কৃতিক অবস্থান বা মূল্য নিয়ে সমালোচনা করছি না, কিন্তু নতুন জেনারেশনের কাছ থেকে বিশুদ্ধ সঙ্গীতের আবেদন চলে যাচ্ছে - হয়তো এইটাই ভবিতব্য।

ফাহিম এর ছবি

নফলার আগাগোড়া একটা বস লোক। রোমিও জুলিয়েট যে কতবার শুনেছি আর বাজিয়েছি, ইয়ত্তা নেই।

নফলার আসছেন জার্মানিতে। ফ্রাংকফুর্টের টিকেট পাইনি, বহু কষ্টে মানহাইমে টিকেট কেটেছি। ২৩ জুন। আশা করি একটা ছবি ব্লগ দিতে পারবো...

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আপনি রোমিও অ্যাণ্ড জুলিয়েটের লীড বাজান! আপনেও তো বস লোক! জুন পর্যন্ত অপেক্ষার দরকার কী? আপনি নিজেই বাজিয়ে ভিডিওটা আপ্লোডিয়ে দিন না তাড়াতাড়ি!

ছবি ব্লগ কি আসলেই দিতে পারবেন? এখানে তো ভেতরে ক্যামেরা নিয়ে ঢুকতেই দেয় না।

স্নিগ্ধা এর ছবি

কী যে শুরু কর্ল্লেন! ফেসবুকে টিকেটের ছবি দিয়ে মন ভরে নাই এখন আবার পোস্ট দিয়ে সবিস্তারে জানাইতে হবে! মন খারাপ

(হেহ, আমিও ফেব্রুয়ারিতে ব্ল্যাক আইড পিস এর কনসার্টে গেসিলাম, হেহ ...
ইয়ে, আমাকে নফলার চিনাইসে সবজান্তা, ছোঁড়াটা খ্রাপ না ... )

যুধিষ্ঠির এর ছবি

শুরু কর্ল্লাম মানে? এখনো তো গারফাঙ্কেল আর জেথরো টালের কনসার্টের কথা বলতে শুরুও করিনি দেঁতো হাসি

আপনি কনসার্টে গেসিলেন, ওইটা তো জানিই। আপনার ১৯-নাম্বার পোস্টে সেইটা নিয়ে লেখসিলেন্না? চোখ টিপি

সবজান্তা ছোঁড়াটা খ্রাপ্না, তবে মুরব্বিদের বয়স-টয়স নিয়ে প্রায়ই খোঁটা দেয়। দাঁড়ান, সচলে একটা বয়স্ক কল্যাণ সমিতি না খুললেই না।

রাহিন হায়দার এর ছবি

আপনি জেথ্রোটালও দেখসেন?! মন খারাপ
ভুলেও কোনদিন ডেভিড গিলমোরের কন্সার্ট দেইখেন না। আর দেখলেও ওটা নিয়া ব্লগায়েন না। এটা একটা অনুরোধ!
________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আহ্‌ নফলার .........

----------------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

যুধিষ্ঠির এর ছবি

হাসি

খেকশিয়াল এর ছবি

নফলারের কনসার্ট দেখছেন! কবে যে দেখুম! এই কয়দিন খালি গেট লাকি এলবামটা শুনতাছি।

আমার দেখা একটা সেরা কনসার্ট (অবশ্যই পিসিতে মন খারাপ ), পুরাটা না দেখলে বিরাট মিস

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

যুধিষ্ঠির এর ছবি

কনসার্টটা দেখসি আগে, ভিডিওতে। দারুণ।

তবে মানি ফর নাথিং গানটা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে, জানেন তো।

খেকশিয়াল এর ছবি

হাহা.. হ, আবার কয় ...ব্যাপক মানে মহাব্যাপক!
------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধর্ম্মপুত্র, সারা জীবনভর আপনার সাফল্য আর সৌভাগ্যে আনন্দিত হয়েছি, আজ প্রথমবারের মত ঈর্ষান্বিত হলাম। এর আগে যখন আর্ট গারফাঙ্কেলের কনসার্ট দেখার কথা বলেছিলেন তখন মনটা খারাপ হয়েছিল। সেবার পল সায়মন সাথে থাকলে সেবারই ঈর্ষান্বিত হতাম। কী আর বলব, সবই অদ্দেষ্ট! যে লিঙ্কগুলো দিয়েছেন সেগুলো থেকে গান শোনার উপায় নেই। বরং গানের দোকানে গিয়ে নতুন করে একটা অডিও সিডি বানিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

নফলারের শিল্পী হিসেবে বিবর্তন আর তাঁর মধ্যে 'মারফতি' চিন্তাভাবনা আসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কনসার্টের কথাটা আনতে হলো তাঁর বয়সী হয়ে যাওয়াটা সামনাসামনি দেখলাম সেটা বুঝাতে। ঈর্ষান্বিত করাটা উদ্দেশ্য ছিলো না। যা হোক। সাইমন আর গারফাঙ্কেল আবার একসাথে কনসার্ট করা শুরু করেছেন। এবার ওঁরা শিকাগোতে আসছেন না, তবে হয়তো আগামী বছর। আশা করি সেটা আমার ত্রয়োদশ পোস্ট হবে না।

ওডিন এর ছবি

আমি এই পোস্টে মন্তব্য করতাম না। কিন্তু এইটা জানান দিতে আওয়াজ দিলাম যে আমি সব খেয়াল রাখতেছি। তারপরে দেখলাম কে বা কাহারা বলে জেথরো টালের কনসার্টেও গেছে। সব্বাইকে একেবারে অন্তর থেকে নিখাদভাবে অভিশাপ দিলাম! ওঁয়া ওঁয়া

আমি এখন গেট লাকি, কিল টু গেট ক্রিমসন, শানগ্রিলা আর সেইলিং টু ফিলাডেলফিয়া শুনমু।

আর চেট অ্যাটকিনস এর সিডি আমারো আছে - হুহুহহু!
ফাকতালে জানায় দিলাম আরকি

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

যুধিষ্ঠির এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আর অভিশাপ দিয়েন না। এত তীর্থে তীর্থে ঘুরেও অহিংসা পরম ধর্ম-টা আপনার ভেতরে গেঁথে গেলো না!

চেট অ্যাটকিনস একটা গুরু শ্রেনীর লোক। আমার বেশ প্রিয়।

পউট্টাখালি [অতিথি] এর ছবি

সকলের মত ঈর্ষান্বিত হলাম! গাড়ী তে হাল্কা দাগ পরব কইলাম...।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

তোমারে তো বলসিলাম। গেলা না ক্যান? গাড়িতে দাগ দেয়ার জিনিস আমার কাছেও আছে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধর্ম্মপুত্র, এই "পউট্টাখালি" কি আমাদের কেউ?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ইনি শিকাগোতে আমার এক অনুজ বন্ধু। সচলে সারাদিন কাটান, কিন্তু চার-পাঁচটার বেশি বাংলা শব্দ টাইপ করতে ঘাম ছুটে যায়। তাই একে খুব বেশি মন্তব্য করতে দেখা যায় না।

অমিত এর ছবি

নফলার দেখেছিলাম ২০০৮-এ, বার্কলেতে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখাটা আমার জন্য একটু কঠিনই হবে। তবে আপনি বুঝবেন হাসি
একইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিলি জোল আর রজার ওয়াটার্স দেখার সময়। এলটনেরটা সেরম হয় নাই।
দেখি জুনে ইউটু কেমন লাগে চোখ টিপি

শরতশিশির এর ছবি

আমি মাত্র ইউটু'র টিকেট কিনলাম জুলাই, নিউ জার্সিরটার। গত বছর গাধার মতো গেলাম না, এইবার কোনমতেই মিস করা যাবে না! ইয়েস! হাসি

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

বাকিদের ক্ষেত্রে আমি কনসার্টে গিয়ে দেখার মতো ফ্যান না, কিন্তু রজার ওয়াটার্সকে সামনাসামনি না দেখার দুঃখ আছে। এই বুড়ো আবার দ্য ওয়াল নিয়ে কনসার্ট শুরু করবেন। দেখা যাক এ যাত্রা দেখতে পারি কি না। জুনে ইউটু দেখে লিখে ফেলুন আপনার অভিজ্ঞতার কথা।

সাবিহ ওমর এর ছবি

লেখাটা যা যত্ন করে লিখেছেন, তা থেকেই মার্ক নফলারের প্রতি আপনার ভালবাসার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। আমি আগে কখনো নফলার শুনিনি বা শুনলেও খেয়াল করিনি। শুনতে ভাল লাগছে, পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ধন্যবাদ। ভালো লাগলে শুনতে শুরু করে দিন। ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি।

রাহিন হায়দার এর ছবি

ভালো লাগলো। সবার মতো ঈর্ষাও হচ্ছে খুব। নফলারকে ফ্রেটবোর্ডের উপর ফুল ফোটাতে দেখা দারুণ সৌভাগ্যের ব্যাপার!
________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আরে, আমাদের প্রবাসী শিল্পী নিজেই চলে এসেছেন দেখছি! ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ!

সংসপ্তক এর ছবি

আহা....নফলার। জীবনের দুইটা বড় অতৃপ্তি হল নফলার আর ব্ল্যাকমোরের কন্সার্ট না দেখতে পাওয়া।
.........
আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

যুধিষ্ঠির এর ছবি

নফলার তো এখন নিয়মিত ট্যুর করছেন। অতৃপ্তি হয়তো কোন একদিন চলে যাওয়ার সুযোগ হয়ে যাবে। ব্ল্যাকমোরের কথা জানি না অবশ্য।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আপনারে ঈর্ষাও করতে পারতেছি না। মাঝে মাঝে পিডাইতেও মঞ্চাইতেছে।

নাফলার যা করে তাই ভাল্লাগে। ডায়ার স্ট্রেইটস আমার জীবনের অনেকখানি জায়গা দখল কইরা রাখছে। বাকি জীবনে ঐ জাগা খালি হওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা দেখতেছি না।



অজ্ঞাতবাস

যুধিষ্ঠির এর ছবি

খাইসে! আপনারে তো শান্তশিষ্ট লোক ভাবসিলাম!

আসলেই, সবজান্তাও সেদিন বলতেসিলো, নফলার যা করে তাই ভাল্লাগে। ও গিটার নিয়া সুর কইরা আমাদের ব্যাপক গালাগালি করলেও মনে হয় খুশী হয়েই শুনবো হাসি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনারে ঈর্ষাও করতে পারতেছি না। মাঝে মাঝে পিডাইতেও মঞ্চাইতেছে।

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আপ্নেও!

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ফেসবুকে ছবি দেখসিলাম কনসার্ট টিকেটের। তখনই আফসোস হইসিলো। আমার জন্মদিনে আপনি নফলারের কনসার্ট দেখে আসলেন। ঘোরতর অন্যায় মন খারাপ

লেখাটা পড়ে আসলে নানানরকম অনুভূতি হইসে। ভালো লাগসে। মন খারাপ লাগসে। আফসোস লাগসে। মিশ্র অনুভূতি আর কি। "রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট" গানটার সাথে আমার অনেক স্মৃতি মিশে আছে। বলতে গেলে অনেক কথা চলে আসবে। শুধু এটুকু জানাই, আপনার লেখাটা পড়ে স্মৃতিকাতর হয়ে গেসিলাম বেশ অনেকটা সময়ের জন্য।

আপনি খুব যত্ন করে লেখেন। এই লেখায় সেটা যেমন টের পাওয়া যায়, সব ছাপিয়ে টের পাওয়া যায় নফলারের প্রতি আপনার ভালোবাসা। এতোটা আগ্রহ, টান, ভালোবাসা না থাকলে, এভাবে "দেখতে" পারতেন না তাঁকে। নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, জীবনেও যে নফলারের নাম শোনে নি, সে-ও পর্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠবে, এই লেখাটা পড়ার পর।

আমি এপ্রিল ৩০ সন্ধ্যায় বেরোইসিলাম। ভাবলাম ডায়ার স্ট্রেইটস-এর কালেকশন কিনে ফেলব। এমপিথ্রি। কিন্তু কপাল মন্দ। পেলাম না। শেষ পর্যন্ত এয়ার সাপ্লাই, মহীনের ঘোড়াগুলি, রেড হট চিলি পেপার্স-এর সিডি কিনে ফিরলাম। ডাউনলোডই মনে হয় ভরসা।

ইদানীং নফলারের যে গানটা খুব বেশি শুনি, সেটা হলো "সো ফার ফ্রম দ্য ক্লাইড"। এতো অসাধারণ একটা গান। বহুবার শোনার পরও বহুবার শোনার ইচ্ছা জাগে।

ভালো থাকেন। নিয়মিত লিখেন। হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

"রোমিও অ্যাণ্ড জুলিয়েট" সংক্রান্ত স্মৃতির কথা জাতি জান্তে চায়। লিখে ফেলো তো দেখি তাড়াতাড়ি হাসি

"সো ফার ফ্রম দ্য ক্লাইড" গানটা অসাধারণ। কবিতার মতো। তুমি কি জানো যে ওই গানটা গত বছর বের হবার পর তার ফ্যানদের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশের নাম এসেছিলো? কারণটা হলো, সিবিএস-এর একটা অনুষ্ঠানে দেখিয়েছিলো জাহাজগুলো ভাঙার জন্য বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় আর ওখানে আমাদের দেশের লোকজন কী অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় কাজ করে। যদিও গানের মূল সুরটার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক, তারপরও সেটা নিয়ে সেসময় অনেক হৈ চৈ হয়েছিলো।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ!

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ওইসব লিখলে, হয়তো আপনাকে ছাড়া আর একটাও পাঠক পাবো না! হা হা হা।

সো ফার ফ্রম দ্য ক্লাইড শুনতে শুনতেই মন্তব্যটা লিখতেসি এখন। তথ্যটা জানতাম না একদমই। ধন্যবাদ আপনাকেও হাসি

মামুন হক এর ছবি

অনেক কথা লিখব ভেবে শুরু করেছিলাম, কিন্তু গানগুলো শুনতে শুরু করে চুপ হয়ে যেতে হলো ...তাই সুমন চৌ এর থেকে ধার করেই বলি--

আপনারে ঈর্ষাও করতে পারতেছি না। মাঝে মাঝে পিডাইতেও মঞ্চাইতেছে হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

অনেক কথা যা বলতে চেয়েছিলেন সেগুলো দিয়ে একটা পোস্ট নামায়ে দ্যান।

আমাকে ডিজিটাল গণপিটুনির হুমকি দেয়ার জন্য সুমঞ্চৌ, নজ্রুলিস্লাম আর আপ্নেরে দিক্কার।

বাউলিয়ানা এর ছবি

আজকে সারাদিন শুনছি মার্ক নফলার। হঠাৎ মনে পড়ল সচলে অনেক আগে মার্কের সঙ্গীত নিয়ে একটা পোষ্ট পড়েছিলাম। খুঁজে বের করলাম আবার। অনেক ধন্যবাদ যুধিষ্ঠির আপনাকে।

পোষ্টের গানের লিঙ্কগুলো কাজ করছেনা কেন জানিনা। "সো ফার এওয়ে" এর অনেক গুলো লাইভ ভার্শন থাকলেও ভাল কোয়ালিটির পাচ্ছিনা। তারপরও একটা শুনছি।

কড়িকাঠুরে এর ছবি

চরমতম হিংসা জাগানিয়া পোস্ট আর মন্তব্য মন খারাপ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।