যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে হওয়া উচিত?

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: রবি, ১৭/০১/২০১০ - ৪:৫৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যাদের ভূমিকার জন্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে তাদের বিরূদ্ধে অন্য দেশে বিচার চাওয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। তার পরবর্তীতে এই ব্যাপারটি নিয়ে কেউ কেউ ব্যক্তিগত মেইল দিয়ে আমাকে তাদের চিন্তা-ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের চিন্তা-ভাবনা ও জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে হওয়া উচিত তার নীতিমালা নিয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নীতিমালা ও আংশিক কার্যধারা নিয়ে যদি আমার ভাবনাগুলোকে সাজাই তাহলে মোটামুটি এমন হয়ঃ

১. যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়টি কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই বিচার জরুরী, কারো উপর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয় - এই কথাটি দেশে ও দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠা করা।

২. যুদ্ধাপরাধের বিচার করার যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য ফলাফল, এর নৈতিক ভিত্তি সাধারণ জনগণের উপযুক্ত ভাষায় সকল প্রকার মিডিয়াতে প্রচার করা এবং জনসংযোগের মাধ্যমে তা জনমানসে প্রতিষ্ঠা করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা করা।

এই দুই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইস্যুটি একটি জাতীয় ইস্যু ও গণদাবী সেটি প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। মানবতার স্বার্থে এবং অন্য দেশে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এটি প্রয়োজনীয়। অন্য দেশে বিচার বিরোধী শক্তি যেন পালটা কোন আন্দোলন বা জনমত গড়ে তুলতে না তার জন্যও এটি প্রয়োজন।

৩. বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির দলীয়, গোষ্ঠীগত, জাতিগত, ভাষাগত, জাতীয়তাগত, নাগরিকত্বগত প্রশ্ন বিবেচনা না করা।

এর মাধ্যমে বিচারকার্য যে নিরপেক্ষ ও ন্যায়ানুগ হচ্ছে তা নিশ্চিত করা যাবে। কোন বিশেষ দল করলেই অপরাধী আর অন্য কোন বিশেষ দল করলেই ইনডেমনিটি পাওয়া যাবে এমন ভ্রান্ত ধারণা নিরসন করা যাবে। বিশেষ জাতি-ভাষার মানুষ মাত্রই যুদ্ধাপরাধী এমন ভ্রান্ত ধারণাও নিরসন করা যাবে।

৪. বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়-কালের কার্যক্রমের উপরই কেবল বিচার কার্য হতে হবে। ঐসময়-কালের পূর্বে বা পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির কার্যক্রম এই বিচারে বিবেচনা না করা।

৫. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ ও তার নাগরিকদের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র, নাশকতা, হত্যা, হামলা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠির পরবর্তীকালে ভূমিকা বা অবস্থান যাই থাকুক না কেন তাদের ঐসময়কালের কার্যক্রমের জন্য বিচারের সন্মূখীন করা।

এই দুই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচারকার্যকে অহেতুক বিস্তৃত, দীর্ঘায়িত ও জটিল করা থেকে রক্ষা করা যাবে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কালে ভোল পালটানো দালালদের বিচার করাও সহজতর হবে।

৬. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে সমর্থনদানকারী ব্যক্তি-গোষ্ঠীর পূর্ববর্তী বা বর্তমান পরিচয় যাই হোকনা কেন তাদের বিরূদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনয়ণ করা।

৭. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ ও তার নাগরিকদের বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র, নাশকতা, হামলা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত দল বা গোষ্ঠির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং ঐসমস্ত দল বা গোষ্ঠীর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী এবং এই বিচার প্রক্রিয়া বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ করা যাবে।

৮. ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ সরকার ও তার বিধিকে কার্যকর ধরে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে, এমনকি ভিনদেশীদের ক্ষেত্রে ফৌজদারী দণ্ডবিধির আওতায় বিচার করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

এর মাধ্যমে বিশেষ ধরণের আইন প্রণয়ন ছাড়াই অপরাধীদের সাধারণ আদালত, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ইত্যাদি আদালতে বিচার করা সম্ভব হবে।

৯. নির্বিঘ্নে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা, সংযোজন করা বা বিয়োজন করার ব্যবস্থা করা।

১০. এই বিচারের জন্য সংবিধানে কোন সংশোধনী প্রয়োজন হলে তা সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা করা।

১১. দ্রুত বিচারকার্য সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় বিচারিক আদালত (ভৌত অবকাঠামো নয়) প্রতিষ্ঠা করা, বিচারক ও বিচারপতি নিয়োগ প্রদান।

এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে মসৃন ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।

১২. এক ব্যক্তির বিরূদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রতিটি অপরাধের জন্য স্বতন্ত্র মামলা করা। সে সমস্ত মামলায় কোন সাজা হলে তা একযোগে ভোগের পরিবর্তে একাদিক্রমে ভোগের আইন করা। সেক্ষেত্রে প্রথমে গুরুতর শাস্তি পরবর্তীতে অপেক্ষাকৃত লঘু শাস্তি ভোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এর মাধ্যমে কৃত অপরাধ যে লঘু এবং সাধারণ নয় তা প্রমান করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিরোধী কার্যক্রমে কেউ জড়ানোর পূর্বে এর পরিণতির ভয়াবহতা যেন বুঝতে পারে সে জন্য এটি প্রয়োজন।

১৩. তৃতীয় দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই দেশের আইনে মামলা করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

১৪. যে সব দেশ অন্য কোন দেশে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ বা মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধের বিচার করতে পারে সেসমস্ত দেশে অন্য দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরূদ্ধে মামলা করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে অপরাধীদের অন্য দেশে আশ্রয় বা অন্য দেশ থেকে সাহায্য পাবার সুযোগ সঙ্কুচিত হবে।

১৫. এই বিচার কার্যক্রমের বিরূদ্ধ প্রচারণাকারীদের বিরূদ্ধে ফৌজদারী দণ্ডবিধিতে অভিযোগ আনয়ণের ও বিচার করার ব্যবস্থা গ্রহন করা।

এর মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে অব্যাহত ও নির্বিঘ্ন করা যাবে।

১৬. দেশে ও দেশের বাইরে মামলা করা ও বিচার পরিচালনার উদ্যোগ মূলতঃ সরকারের হাতে রাখা। সরকার কোথাও কোন সাপোর্ট, লজিস্টিকস বা দলিল দিতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করা। সরকার কোন ক্ষেত্রে উৎসাহী না হলে সেক্ষেত্রে জনমত সৃষ্টি করে সরকারকে অবহিত করা। সরকার কোন ক্ষেত্রে উদ্যোগী না হলে উদ্যোগ গ্রহন করা।

বিচার প্রক্রিয়াটিকে একমূখী ও লক্ষাভিসারী করার জন্য এটি দরকার। নানা ধরণের মামলার গোলমালে কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে এটি তা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে সরকারের ইচ্ছায় ভিন্নতা ঘটলেও জনগণের উদ্যোগে বিদ্যমান মামলা বা তার আলোকে নতুন মামলা চালানো সম্ভব হবে।

১৭. বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা, তার বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসমূহ স্থগিত রাখা। তবে তার পরিবারের সদস্যদের ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন, নিরাপত্তা ও চলাচল নিশ্চিত করা।

এর মাধ্যমে বিচার কার্যকে নিশ্চিত করা, অপরাধীর পলায়ন ঠেকানো এবং অপরাধীর পরিবারের সদস্যদের প্রতি ন্যায়ানুগ আচরণ নিশ্চিত করা যাবে।

১৮. সব ধরণের মিডিয়ায় বিচারের গতিপ্রকৃতি ও রায় নিয়ে আগাম আলোচনা, মতামত প্রদান বন্ধ করতে হবে। বিচারকার্য প্রভাবিত হয় বা মাননীয় বিচারকগণ বিব্রত হন এমন আলোচনা, সভা, মিছিল, পোস্টারিং, লিখন বন্ধ করতে হবে।

এর মাধ্যমে বিচারকার্যের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনমনে কোন প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারবেনা, মাননীয় বিচারকদের উপর ও অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা রোধ করা যাবে।

খুব স্বাভাবিকভাবে আমার ভাবনাতে অসম্পূর্ণতা, অজ্ঞতা বা প্রমাদ থাকতে পারে। এই ব্যাপারে পাঠকের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছি।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক সুন্দর করে উপস্থাপনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মাননীয় মডারেটরকে পোস্টটিকে স্টীকি করার অনুরোধ করছি।

শেখ আমিনুল ইসলাম

শেখ নজরুল এর ছবি

দরকারী পোস্ট। অনেক কিছু জানলাম।

শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

.

১২
১৩
১৫
খুব ভালো প্রস্তাব। এবং যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকদেরও একই আইনে বিচার করা উচিত বলে মনে করি।
.
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

প্রস্তাবগুলো ভেবে দেখার মতো। ১, ৪, এবং ৫ খুবই দরকারী মনে করি। তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত হবে।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

সহমত ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

মাহবুব লীলেন এর ছবি

একাত্ম

পুতুল এর ছবি

এভাবেই বিচারটা হতে পারে।
কিন্তু কবে!
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

তাদের চিন্তা-ভাবনা ও জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে হওয়া উচিত তার নীতিমালা নিয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত

ধন্যবাদ পান্ডব্দা।

আপনার দেয়া নীতিপ্রস্তাবগুলি খুব ভাল লাগল। যুদ্ধাপরাধ ব্যপারটা যখন আদালতে গড়াবে তখন এই নীতিগত,কৌশলগত এবং সর্বোপরি দর্শনগত ব্যপারগুলো আমাদের সবার কাছে পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরূরী। অর্থাৎ কেন আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই? বিচারটি কে বা কারা করবে? বিচারের বিবেচ্য কি হবে? কেন হবে এসব প্রশ্নই এখানে মুখ্য। এর মৌলিক উত্তরগুলো এই পোস্টে উঠে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধের কল্যানে আমরা এখন একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মালিক। এই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতেই আমাদেরকে বুঝতে হবে যুদ্ধাপরাধ থেকে শুরু করে মানবতার বিরুদ্ধে অন্য যেকোন অপরাধের শাস্তি বিধানে সচেতন নাগরিকদের রাষ্ট্রকে ঠিক ভাবে রাস্তা দেখান দরকার। মুক্তিযুদ্ধের মত একটা ঘটনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যপারে নিরাবেগ থাকা কঠিন কিন্তু যেই রাষ্ট্রকে আমরা পেয়েছি সেই রাষ্ট্রের প্রতি আকাঙ্ক্ষার কথা মনে রেখেই আমাদেরকে যুদ্ধাপরাধের মত বিষয়কে কোন রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের দৃষ্টিতে না দেখে বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল হিসাবে ব্যবহার না করে যুক্তিপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কে বিপক্ষের, কে কোন দলের এগুলো একেবারেই বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে যুদ্ধাপরাদের বিচারের সময়। হতে পারে এতে কোন কোন রাজনৈতিক দল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু, ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজে নেমে যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার কোন একটা দলকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে মনে হয় তাতে মূল ধারনাটাই প্রশ্ন বিদ্ধ হবে যেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
আবারো ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্যে। যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সুবিধাবাদি রাজনীতি বন্ধ হোক।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কে বিপক্ষের, কে কোন দলের এগুলো একেবারেই বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে যুদ্ধাপরাদের বিচারের সময়।

জামায়াতসহ কয়েকটা দল সমষ্টিগতভাবে দলহিসেবেই যুদ্ধাপরাধী।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজে নেমে যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার কোন একটা দলকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে মনে হয় তাতে মূল ধারনাটাই প্রশ্ন বিদ্ধ হবে

আপনার এই কথার মানে কি?
জামাত সহ তৎকালীন ইসলামী দলগুলোতো দল হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল। এই বিরোধীতা, পাক আর্মি'র সহযোগী হিসেবে হত্যা ধর্ষন লুটতরাজে অংশ নেয়া ছিলো তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।
তাহলে শুধু ব্যক্তির বিচার হবে কেনো আর দল দায়মুক্ত হয়ে যাবে? তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গনহত্যার অপরাধে নাৎসী দলটি নিষিদ্ধ হতোনা।

স্বাধীনতার পর যে ইসলামী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো আপনি কি সেটাকে যথার্থ মনে করেন না?

গত ৩৮ বছরের সুবিধাবাদী রাজনীতির পংকিলতায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ দুই প্রধান দলেই যুদ্ধাপরাধীদের প্রবেশ ঘটেছে। বিএনপি'র ক্ষেত্রে এটি শুধু রাজনৈতিক পংকিলতা ছিলোনা, তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ছিল তা।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে কি কোন যুদ্ধাপরাধীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে? হলে আশংকার কথা। না হলে মধ্যম, নিম্নপর্যায়ের উচ্ছিষ্টদের জন্য দলটি আত্নঘাতি সিদ্ধান্ত নেবেনা বলে মনে হয়।

বিএনপি তার কোর সমর্থকদের বুড়ো আঙ্গুলকে দেখিয়ে সাকা'র মতো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে স্থায়ী কমিটিতে জ়ায়গা দিয়েছে। সামনের দিনে দেখা যাবে, সাকা'র বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে বিএনপির ভূমিকা কি? সাকা'কে বাঁচানোর জন্য দলটি নিজেকে ইতিহাসে'র আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করার মতো ঝুকি নেয় কিনা?

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

হিমু এর ছবি

দিলেন তো একটা হেজিমোনি লাগিয়ে!

এর উত্তরে রিয়াজ সাহেব কোন কোন শব্দ ব্যবহার করে আমাদের আলোকিত করবেন?

স্টেরিওটাইপিং

এলিয়েনেশন

ট্যাগিং



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপনার এই কথার মানে কি?

জল্লাদ যখন একজন মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত অপরাধীর মৃত্যদন্ড কার্যকর করেন তখন তাকে আমরা খুনি বলিনা। কারন এখানে কেবল হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে হত্যা করা হয় নি। হত্যা ঘটেছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। এখন একজন যুদ্ধাপরাধীকে যখন শাস্তি দেয়া হবে তখন তাকে শাস্তি দেয়া হবে তার যুদ্ধাপরাধের জন্য দলীয় পরিচয়ের জন্য নয়। এইটুকুই আমি পরিষ্কার বুঝি তাই পরিষ্কার বলতে পারি।

তাহলে শুধু ব্যক্তির বিচার হবে কেনো আর দল দায়মুক্ত হয়ে যাবে?

এই প্রশ্নটার স্পষ্ট উত্তর আমি দিতে পারছি না। আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান আর নিরস্ত্র লোকেদের উপর হত্যা, ধর্ষনের মত অপরাধকে একই মাত্রার অপরাধ মনে হয় না আমার কাছে। কিন্তু দ্বিতীয়টি আমার কাছে স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ। এটার বিচার বিচারালয়ে হবে এমনটাই আমি আশা করি। এখন কেউ যদি একজন শিবির সমর্থককে হত্যা করে নারকিয় আনন্দে মেতে ওঠেন তাকেও আমি আইনের মুখোমুখি দেখতে চাই। কিন্তু মানূষের মনে হিংস্রতা জাগিয়ে তোলার সব ধরনের প্রয়াসের প্রতি আমার অনাস্থা জানিয়ে রাখছি মোরশেদ ভাই।

একজন ক্যাডার সে শিবিরের হোক, ছাত্রলিগের হোক আর ছাত্রদলের হোক সবাই সমান অপরাধী। আমার চাওয়া হচ্ছে একজন সন্ত্রাসী রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচারের মুখোমুখী হোক। আজকে একজন শিবির সমর্থককে যদি বিনাবিচারে হত্যা করা হয় সেটার প্রতি সমর্থন জানানো আমি আমার নাগরিক দায়িত্বের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করি। এখন একজন অতি উৎসাহী ব্যক্তি যদি বল্লম দিয়ে খুচিয়ে একজন শিবির ক্যাডারকে মেরে এই রকম একটি দেশপ্রেমের নমুনা হাজির করেন বা এই ধরনের কাজকে উৎসাহিত করেন আমি আমার সাধ্যমত তার বিরোধিতা করব।

স্বাধীনতার পর যে ইসলামী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো আপনি কি সেটাকে যথার্থ মনে করেন না?

এই বিষয়ে পূর্বাপর অনেক কিছুই আমার অজানা। কিন্তু একটা কথা বলতে পারি আজকে যদি জামাতকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার অপরাধে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় এতে আমি খুশি অখুশি কোনটাই হব না। তবে আমার হাতে যদি সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দেয়া হয় আমি প্রথমে সবদল থেকেই আগে যুদ্ধাপরাধীদেরকে আদালতের সামনে হাজির করার পক্ষপাতি।তারপর জামাতের যা বাকি থাকে তা নিয়ে যদি তারা রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারে যাক না! এর পর যদি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন পরে হবে! কিন্তু আগে দরকার হচ্ছে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার। ফরজ আদায় না করে নফল নিয়ে মেতে উঠলে মূল এজেন্ডাতে অপ্রয়োজনীয় মেদ যোগ করা হয়। এভাবে তো অনেক দিনই গেল। আর কত!

হিমু এর ছবি

আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান আর নিরস্ত্র লোকেদের উপর হত্যা, ধর্ষনের মত অপরাধকে একই মাত্রার অপরাধ মনে হয় না আমার কাছে।

আপনি কি মনে করেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কেবল নৈতিক অবস্থান নিয়েছিলো?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

একজন যুদ্ধাপরাধীকে যখন শাস্তি দেয়া হবে তখন তাকে শাস্তি দেয়া হবে তার যুদ্ধাপরাধের জন্য দলীয় পরিচয়ের জন্য নয়।
আপনার পরিষ্কার বুঝকে আরেকটু পরিষ্কার করি তাহলে। কেউ কিন্তু বলছে না যে মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নেয়া কেউ জামাত করলেই তাকেও যুদ্ধাপরাধীর বিচারের সন্মুখীন করা হবে। তাইলে দলীয় পরিচয়ের জন্য একজনকে কীভাবে শাস্তি দেয়া হলো‌?

ও ভালো কথা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর জামাতকে নিষিদ্ধ করা, দুইটাই ফরয। এর মধ্যে কোনো নফল নাই। দুইটাই একই সঙ্গে করা জরুরী এবং সেটা করলে সমস্যাটা কোথায়?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই প্রশ্নটার স্পষ্ট উত্তর আমি দিতে পারছি না। আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান ....

উদ্ধৃতি
"স্বাধীনতার পর যে ইসলামী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো আপনি কি সেটাকে যথার্থ মনে করেন না? "

এই বিষয়ে পূর্বাপর অনেক কিছুই আমার অজানা।

এত অস্পষ্টতা, এত অজানা নিয়া মানুষ

এখন কেউ যদি একজন শিবির সমর্থককে হত্যা করে নারকিয় আনন্দে মেতে ওঠেন তাকেও আমি আইনের মুখোমুখি দেখতে চাই।

একজন ক্যাডার সে শিবিরের হোক, ছাত্রলিগের হোক আর ছাত্রদলের হোক সবাই সমান অপরাধী।

এখন একজন অতি উৎসাহী ব্যক্তি যদি বল্লম দিয়ে খুচিয়ে একজন শিবির ক্যাডারকে মেরে এই রকম একটি দেশপ্রেমের নমুনা হাজির করেন বা এই ধরনের কাজকে উৎসাহিত করেন আমি আমার সাধ্যমত তার বিরোধিতা করব।

এইসব কথা কয় কেমনে?

আপনি জানেন না কেন ৭২ এর সংবিধানে ধর্মভিত্তিক দলবাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, আপনার কাছে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা অস্পষ্ট, আবার তাদেরকে ডিফেন্ড করতে আপনি জানপ্রাণ দিয়া লড়বেন!

আপনার মন্তব্যের শেষ প্যারাটা পুরা বিনোদন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইলে করেন। রাজনীতির মজাটাই আসলে ঐখানে। আপনাকে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করার আমি কে?

কিন্তু আপনার প্রশ্ন

কিছু ব্যপারে অস্পষ্টতা নিয়েও কি করে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদেরও সন্ত্রাসী বলা যায়?

কেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মধ্যে সাদা-কালোর ভেদ টানব না?

কারন


আমি মনে করি একটা রাষ্ট্র আমাদের হাতে আছে সেখানে একটা বিচার ব্যবস্থা আছে। আমার অস্পষ্টতা যাই হোক বিচারের কষ্টি পাথরে পূর্বাপর বিশ্লেষন হয়ে একটা গ্রহনযোগ্য ফলাফল পাওয়া যাবে এবং সেখানেই অস্পষ্টতার নিরশন হবে। আর পান্ডবদার এই পোস্টে এই বিচার প্রক্রিয়া বিষয়ে নীতির প্রসংগ আসাতে আমি আমার অবস্থান জানালাম।


যুদ্ধে নিরপরাধ একজন লোককে হত্যা করা আর শান্তিকালীন অবস্থায় হত্যা করার মধ্যে আমি কোন মৌলিক পার্থক্য দেখি না।

আরেকটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তরঃ অস্পষ্টতা কেন?

যেসব বিষয়ে আমি আমার জানা বা বোঝার অস্পষ্টতার কথা বলেছি সেসব ক্ষেত্রে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহনের জটিলতাকে সামনে রেখেই বলেছি। রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ভালমন্দের রায় যত সহযে দেয়া যায় নিজেকে নিজের পরিচয়ের বাইরে নিয়ে গিয়ে রায়ে পৌছাতে গেলে তার চেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়। আমার আমিত্ব বা আমার গোষ্ঠী পরিচয় যদি আমার মতামতকে প্রভাবিত করে আমি তাতে করে আমার পরিচয়কে তুলে ধরছি কিন্তু সেক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ভার আমার ওপর ছেড়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কিন্তু ব্যক্তিপরিচয়ের ওপরে উঠে যখন রাষ্ট্রের দিক থেকে দেখি তখন ব্যক্তির চাওয়ার সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই দ্বন্দ্ব আমাকে পীড়া দেয় না। কারন চাইলেই সব অবস্থায় জটিলতা ঝেরে ফেলা যায় না বলাই দা। এজন্যই আপনার জন্য যেটা বিনোদন আমার কাছে সেটা দ্বন্দ্বের সাথে বোঝাপরা আর বটম লাইনে পৌছানর চেষ্টা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ভালমন্দের রায় যত সহযে দেয়া যায় নিজেকে নিজের পরিচয়ের বাইরে নিয়ে গিয়ে রায়ে পৌছাতে গেলে তার চেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়। আমার আমিত্ব বা আমার গোষ্ঠী পরিচয় যদি আমার মতামতকে প্রভাবিত করে আমি তাতে করে আমার পরিচয়কে তুলে ধরছি কিন্তু সেক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ভার আমার ওপর ছেড়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

হুম, আমারই ভুল, আমি বুঝতে পারি নাই, আপনি জাতিসংঘের কফি আনান, আপনি নিরপেক্ষভাবে আপনার বাঙালি বা বাংলাদেশী পরিচয় (যদি থাকে) -এর উর্ধে উঠে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে চান। তাইলে কফি আনান সাহেব, আগে অস্পষ্ট বিষয়গুলোয় স্পষ্ট হোন, তারপর জামায়াতরক্ষায় জানপ্রাণ সঁপে দিয়েন। তখন এই বিষয়ে আপনার মতামত পেলে ভালো লাগবে, তার আগে এই আলোচনায় বামহাত না ঢুকানো বা পানি ঘোলা না করাই উত্তম।

তবে বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার পরে কফি আনান হিসেবে বা পুরোপুরি আবেগহীন যুক্তির মাধ্যমেও আপনি জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকারের পক্ষে কথা বলতে চান, তাইলে কেন জামায়াতসহ বাংলাদেশের জন্মের বিরোধী, সশস্ত্রবাহিনী গঠন করে বাঙালিনিধনকারী দল বা সংগঠনগুলো স্বাধীন বাংলাদেশে থাকা উচিত না, সেই বিষয়ে কথা বলা যাবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হাসান মোরশেদ এর ছবি

রিয়াজ ভাই,
সময় থাকলে আসেন আমরা কিছু কথা বলি। তার আগে আলোচনা থেকে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, শিবিরের সন্ত্রাস এসব বাদ দিই। এগুলো তুচ্ছ বিষয়। '৭১ এর যুদ্ধাপরাধে এসব টেনে আনা অযৌক্তিক। আমরা '৭১ এই মনোযোগ দেইঃ
পক্ষ ছিলো দুটি। আক্রান্ত এবং আক্রমনকারী। আক্রান্তরা পরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
মুক্তিযুদ্ধ তো কেবল মারামারি ছিলোনা, এর পেছনে রাজনীতি ছিলো। তাই দু পক্ষেরই রাজনৈতিক অবস্থান ছিলো।
আপনি যেটাকে 'নৈতিক' অবস্থান বলছেন, আমি 'নৈতিক' বলছিনা বলছি রাজনৈতিক অবস্থান।

রাজনৈতিক অবস্থানের কারনে কিছু বামপন্থী দল মুক্তিযুদ্ধের তাত্বিক বিরোধীতা করেছিলো। সিরাজ শিকদার তার দল নিয়েপ্রথম দিকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন যদিও শেষের দিকে মুক্তিবাহিনী এবং পাক আর্মি দু পক্ষের সাথেই তার সংঘর্ষ হতো কিন্তু পাক আর্মিকে সহযোগীতার কোন অভিযোগ বামপন্থীদের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি।

এখন আসেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী আরেক পক্ষের কথায়। জামায়াত, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ সহ ইসলামী দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো। এই বিরোধীতা কি কেবল তাত্বিক বিরোধীতা ছিলো, বিরোধীতা করে তারা স্রেফ দূরে সরে থেকেছিলো কোন কোন বামপন্থী উপদলের মতো কিংবা সিরাজ শিকদারের মতো মুক্তিবাহিনীর বিরোধীতা ও করেছে, আক্রমনকারী পাক আর্মির বিরুদ্ধে?

ইতিহাস কি স্বাক্ষ্য দেয় রিয়াজ ভাই? এই ইসলামী দলগুলো সরাসরি সমর্থন এবং সহযোগীতা করেনি পাক আর্মিকে? কোন কাজে সমর্থন, কোন কাজে সহযোগীতা? যুদ্ধের নয়মাস পাক আর্মি এদেশে ফুলের চাষ নিয়ে ব্যস্ত ছিলোনা-ব্যস্ত ছিলো হত্যা,ধর্ষন, জাতিগত শোধন সহ মানবতার বিরুদ্ধে সমস্ত অপরাধে। পাক আর্মি যদি এইসব অপরাধে অপরাধী হয় তাহলে তাদের সহযোগী দল, গোষ্ঠী,মতাদর্শ নিয়ে কিসের অস্পষ্টতা,কিসের দ্বন্ধ?

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

স্বাধীন এর ছবি

রিয়াজ

মোরশেদ ভাই স্বল্প কথায় ইতিহাসটি তুলে দিয়েছেন। তোমার দর্শনিয় চিন্তা ভাল, কিন্তু ইতিহাসকে যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়েই দেখতে চাও তবে প্রকৃত ইতিহাসই জানতে হবে। আর ইতিহাস জানলে তুমি হয়তো দল না ব্যাক্তি কে যুদ্ধাপরাধী এ নিয়ে আলোচনায় যেতে না। এখানে আমি তিনটি বইয়ের নাম দিচ্ছি। কষ্ট করে বইগুলো পড়ে নিবে। সবগুলো বই এই ই-লাইব্রেরীতে আছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সকলকে জানানোর জন্যই WCSF এর পক্ষ থেকে এই লাইব্রেরীটি গড়ে তোলা হয়। বইগুলো ডাউনলোড করার জন্য শুধু একটি আকাউন্ট খুলতে হবে যা খোলা কয়েক মিনিটের ব্যাপার।

বইগুলো হলঃ
১।একাত্তরের ঘাতক জামাতে ইসলামীর অতীত ও বর্তমান
২।একাত্তরের ঘাতক দালাল: যা বলেছে যা করেছে
৩।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ – দলিলপত্র – অষ্টম খন্ড

লাইব্রেরীটিতে মুক্তিযুদ্ধের উপর এ রকম একশতটির উপর বই আছে, চাইলে পড়তে পারো। অনেক বিদেশী লেখকের লেখা আছে, সেগুলো দেখতে পারো যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টি দিয়ে দেখতে চাও। তুমি যেহেতু দর্শনের আরো অনেক বই পড়ো তাই আশা করি নিজের দেশের ইতিহাসের উপর বইগুলোও পড়ে দেখবে। ইতিহাসটুকু নিজে পড়লে নিজেই বুঝতে পারবে জামাত কেন দলীয়ভাবেই যুদ্ধাপরাধী। এবং বর্তমানেও জামাতের আদর্শ একটুকুও বদলায়নি।

তোমার যদি কিছু বলার থাকে তবে বইগুলো পড়ার পর বইগুলোর একটি রিভিও লিখতে পারো। বইগুলোর মাঝে যে তথ্য আছে সেগুলোকে খণ্ডন করে আলোচনা করতে পারো কেন তুমি মনে কর জামাতের অতীত কার্যকলাপ যুদ্ধাপরাধী বিচারে আসবে না। সেই পোষ্টে আলোচনা করবো, তার আগে নয়।

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

রেফারেন্সের জন্য ধন্যবাদ স্বাধীন ভাই। দেখব।

হিমু এর ছবি

রিয়াজ সাহেব ব্যক্তি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কিন্তু জামায়াতের পক্ষেই কেঁদে গড়াগড়ি খান। এই ব্যাপারটাই একটু ঘোলা মনে হয়।

রিয়াজ সাহেবের মতো অরাজনৈতিক প্রাণীদের নিয়ে খুবই সমস্যা। লীগ আর দলকে সমান সমান গালি দিয়ে একটা ভারসাম্য রক্ষা করে দিনশেষে অশ্রুপাত করেন জামায়াতের জন্য।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

বরবাদ মজহার , Pee মুন্সী আর রিয়াজ ভাইয়ের যুক্তি বচনের মিল দেখে আমি অ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁঅ্যাঁ

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপনি ইতিহাস নিয়ে যে সব তথ্য দিলেন সেগুলো নিয়ে দ্বিমতের কোন সুযোগ আছে তো মনে হয় না। দ্বিমত হচ্ছে এর শাস্তি বা বিচারকে কি ভাবে দেখা হবে সেটা নিয়ে। আমি সাদাকে সাদা কালোকে কালো আর ধুসরকে ধুসর বলার পক্ষে। আমার অবস্থান হচ্ছে সেসব অপরাধ যুদ্ধাপরাধ যেগুলো যুদ্ধে যে পক্ষই জয়ী হোক বিচার প্রক্রিয়াতে সেগুলো যুদ্ধাপরাধ হিসাবেই থাকে ; অবশ্য উভয় ক্ষেত্রেই আমি নিরপেক্ষ আদর্শ বিচার ব্যবস্থার কথা বলছি। আমার এরকম স্বপ্ন দেখা যদি আপনাদের চোখে অন্যায় হয়ে থাকে তাতেও এই স্বপ্নটাকে আমি টিকিয়ে রাখতে চাই। আমি যেই প্রসঙ্গতে দ্বিমত জানাচ্ছি বিচারিক প্রক্রিয়াতে এই সব কথা প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করি। এই বিষয়ে আলোচনার কারো জাতিগত পরিচয় নিয়ে সংশয়বাচক শব্দব্যবহার বৈধ হয়ে যায়, ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য কোথাও আটকায় না। বক্তব্যের চেয়ে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরও কথা থাকে। দলবদ্ধভাবে শাস্তি দেয়া আর ব্যক্তিপর্যায়ে শাস্তি দেবার মধ্যে কিছু নীতিগত পার্থক্য আছে।

ধরাযাক একজন ব্যক্তি ছাত্রদলের সমর্থক। মোটামুটি অলিখিত ভাবেই বেশির ভাগ দলের মতই এদের ক্যাডাররা সন্ত্রাস-হত্যা এসব করে থাকে। বলা বাহুল্য এটা অধিকাংশ দলের অলিখিত নিয়মের মধ্যে পড়ে। এখন দলের যেকোন ক্যাডারের সন্ত্রাসের জন্য দলের সবাইকে বিচারের সম্মুখিন করা হয়ত কোন কোন বিবেচনায় ঠিক কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়াকি এতে করে শ্লথ হয়ে পড়বে না? এখানে নানা ধরনের নীতিগত বিরোধ বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে পার্থক্যের বিষয়গুলো চলে আসবে না? কিন্তু এর চেয়েও মৌলিক সমস্যা রয়েছে।

তার আগে আলোচনা থেকে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, শিবিরের সন্ত্রাস এসব বাদ দিই। এগুলো তুচ্ছ বিষয়।

এগুলো আসতোনা মোরশেদ ভাই, যদিনা অপরাধ বিষয়টা নিয়ে দ্বিধা আছে মনে হত। উপরে বলাইদা যেভাবে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন তাতে করে একই সন্ত্রাস দুই ব্যক্তি করলে দুই রকম ভাবে দেখার মত একটা মানসিকতা দেখতে পাই। সমস্যাটা ওখানেই। এটা হয়ত বলাইদার একার মনে হয়না। অনেকেরই মনে হয়।
আমি মনে করি আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। কিন্তু উপরে যেমন বলাইদা বললেন বাম হাত না ঢোকাতে সেখানে আমার আপত্তি। যুদ্ধাপরাধের বিরোধীতা করা আর কোন দলের বিরোধীতা করা এক কথা নয় যদিও ঘটনা চক্রে তা একই প্রতিপক্ষকে নির্দেশ করে। ধরে নিলাম বিএনপি বা আওয়ামিলিগে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। কেবল জামাতে আছে। তার পরও প্রতিপক্ষ যুদ্ধাপরাধ, জামাত নয়। এখানে বিচার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে মানুষকে খেপিয়ে তোলার চেয়ে ন্যয়বিচারের সার্থে কথা বলে কি একই ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একই পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই আলোচনায় রাষ্ট্রের গুরুত্বকে যদি বাড়িয়ে দেয়া যায় তখন ঝান্ডা ওড়ে ন্যায়বিচারের প্রতিশোধের নয়। আমার কাছে এটা অনেক বড় পার্থক্য।

হিমু এর ছবি

নিরপেক্ষ আদর্শ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আপনার মনে কি কোনো সন্দেহ আছে? আপনার কি মনে হচ্ছে, এই বিচারব্যবস্থায় এমন কোনো ত্রুটি আছে, যে কারণে ন্যায়বিচার বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

যেই হাইপোথিটিকাল অবস্থার কথা বলেছি তাতে যুদ্ধে যদি পাকিস্তানিদের জয় হত তাহলে তাদের আদালতে তাদের অপরাধ 'যুদ্ধাপরাধ' হত যদি আদর্শ বিচার ব্যবস্থা থাকত (মূল সংশয় সেখানে)। আমাদের বিচার ব্যবস্থা আদর্শ হত যদি অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হত। নানা রকম ধারনা দলগত অবস্থান, পক্ষ-বিপক্ষ এসব সামনে চলে আসলে অবশ্য বিচার ব্যবস্থারই বা কি করার থাকে? "একটা দুইটা জামাত ধর সকাল বিকাল নাস্তা কর"- এমনটা রাজপথে মিছিলে বলা চলে কিন্তু আদলতের বিচারের প্রক্রিয়ায় বলা চলে না। আজকে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেলে কালকে থেকে আর এটা পুজি করে রাজনীতি করা যাবে না। এই হল সমস্যা/ত্রুটি। এই জন্যই দলিয় পার্থক্যভিত্তিক মেদগুলো ঝেড়ে ফেলার পক্ষে আমি। এতে করে এই রাজনীতির পুজি হিসাবে যুদ্ধাপরাধের ব্যবহারের রাস্তাটাও বন্ধ হয়।

হিমু এর ছবি

"একটা দুইটা জামাত ধর সকাল বিকাল নাস্তা কর"- এমনটা রাজপথে মিছিলে বলা চলে কিন্তু আদলতের বিচারের প্রক্রিয়ায় বলা চলে না।

আপনার কথাগুলিতে খুব সূক্ষ্ম চাল থাকে। একটা দুইটা জামাত ধরার কথা রাজপথে কি বিচারব্যবস্থায় যারা অংশগ্রহণ করে, তারা বলে? সংক্ষুব্ধরা তো রাস্তায় রাজপথে স্লোগান দিতেই পারে।

আমাদের বিচার ব্যবস্থা আদর্শ হত যদি অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হত।

কথা সত্য। তো অনেক আগেই হয়নি বলে এখন যদি বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়, আপনার কাছে কি সেটাকে আদর্শ বিচার ব্যবস্থার দিকে অ্যাপ্রোক্সিমেশন বলে মনে হয় না?

আজকে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেলে কালকে থেকে আর এটা পুজি করে রাজনীতি করা যাবে না। এই হল সমস্যা/ত্রুটি।

এটা কি বিচারব্যবস্থার ত্রুটি নাকি কোনো রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির ত্রুটি? আর আপনাকে কে বলেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে আর সেটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করা যাবে না? নাৎসী পার্টি এখনও নিষিদ্ধ কেন জার্মানিতে?

এই জন্যই দলিয় পার্থক্যভিত্তিক মেদগুলো ঝেড়ে ফেলার পক্ষে আমি। এতে করে এই রাজনীতির পুজি হিসাবে যুদ্ধাপরাধের ব্যবহারের রাস্তাটাও বন্ধ হয়।

যুদ্ধাপরাধকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হলে এক যুদ্ধাপরাধী আর তার ঔরসজাত বরাহশাবক ছাড়া আর কারো তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আপনার কি মনে হয় এ ব্যাপারে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

অজস্র ধন্যবাদ হিমু ভাই ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

স্বাধীন এর ছবি

আপনি ইতিহাস নিয়ে যে সব তথ্য দিলেন সেগুলো নিয়ে দ্বিমতের কোন সুযোগ আছে তো মনে হয় না।

তার পরও প্রতিপক্ষ যুদ্ধাপরাধ, জামাত নয়।

কথা দু'টো স্ববিরোধী। ইতিহাসে যদি দ্বিমত না থাকে তবে ইতিহাস বলে যে জামাত দল হিসেবেই যুদ্ধাপরাধী ছিল, ব্যক্তি হিসেবে নয়। তারপরেও তুমি দেখবে যে, যেটা নিয়ে কান্নাকাটি করছো, জামাতকে বিচারের মুখোমুখি করানো হচ্ছে না, জামাতের বা অন্য ইসলামী দলের বা যারাই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে যুক্ত ছিল স্বাধীনতার সময় তাঁদেরকেই বিচারে আনা হবে। কোন একক দলকে বিচারে আনা হচ্ছে না।

আরেকটি কথা- যেটা হচ্ছে ধর্ম ভিক্তিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, সেটা ভিন্ন বিষয়। সাংবিধানিক বিষয়। সেটা ঠিক না বেঠিক সেটা ভিন্ন প্রসংগ। সেটার সাথে যুদ্ধাপরাধী বিচারকে গুলিয়ে ফেলা মানে প্রকান্তরে জামাতী ফাঁদে পা দেওয়া। তাঁরা ধর্ম ভীরু মানুষদের ধোকা দিয়ে নিজেরা (যারা যুদ্ধাপরাধী) বাঁচতে চাইছে।

অবশ্য উভয় ক্ষেত্রেই আমি নিরপেক্ষ আদর্শ বিচার ব্যবস্থার কথা বলছি।

এ ধরণের ইউটোপিয় স্বপ্ন তুমি দেখতেই পারো। কিন্তু নিরপেক্ষ আদর্শ বিচার ব্যবস্থা কোথায় আছে ,এই দুনিয়ায় বা পরকালে?

দলবদ্ধভাবে শাস্তি দেয়া আর ব্যক্তিপর্যায়ে শাস্তি দেবার মধ্যে কিছু নীতিগত পার্থক্য আছে।

উপরের মন্তব্য দ্রষ্টব্য। দলবদ্ধ ভাবে কাউকে বা কোন একক দলকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না, হচ্ছে ব্যক্তি বিশেষকে যারা যুদ্ধাপরাধী। আরা ধর্ম ভিক্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না, সেটা হচ্ছে ৭২ র সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার জন্য। এখন সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়া উচিত কি না উচিত সেটা নিয়ে ভিন্ন পোষ্টে আলোচনা করতে রাজী, এখানে নয়।

এখন দলের যেকোন ক্যাডারের সন্ত্রাসের জন্য দলের সবাইকে বিচারের সম্মুখিন করা

তোমার যুক্তিতে ঘুরেফিরে একই বক্তব্য আসছে। তাই আমিও একই কথা বারাবার বলছি। ক্যাডারদের জন্য কোন দলকে বিচার করা হয়নি এখনো। ক্যাডারকেই পুলিশ খুঁজছে। ছাত্রদলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বা এ জন্য খালেদাকে বিচারে আনা হয়নি।

যদিও আমি মনে করি সহযোগী সংগঠনকে সামলাতে না পারার জন্য দলকে বা দলীয় প্রধানকে শাস্তি দেওয়া যায়। যেমন, খেলাধুলায় যদি কোন দলের সমর্থক গোলমাল করে তখন সেই সমর্থকদের ফৌজদারী আইনে যেমন বিচার হয় তেমনি দলকেও শাস্তি দেওয়া হয়। ইডেনের দর্শক গোলমাল করলে ইডেনে খেলা না হওয়ায় প্রকান্তরে সবাইকে সতর্ক করা হয়। তারপরেও দেখবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা আসে, কিন্তু কোন দলকে শাস্তি দেওয়া হয় না।

একভাবে দেখলে আসলে কিন্তু দলকেও শাস্তি দেওয়া উচিত। আজ যদি যুদ্ধাপরাধের জন্য নাৎসী বাহিনীকে দায়ী করা হয়, তবে জামাতকে কেন নয়। এভাবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, পোষাক শিল্পে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজী, দুর্নীতি সবকিছুতে যদি দলকেও বিশাল অঙ্কের জরিমানা বা সাময়িক নিষিদ্ধতার মত শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হত তাহলে আমাদের রাজনীতিও কিছুটা সমস্যা মুক্ত হত।

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

স্বাধীন ভাই
যেই স্ববিরোধীতার কথা বললেন সেটার উত্তর দিতে গেলে অনেক কথা রিপিট করতে হয়। আজকের মত ক্ষেমা দেই।

নিরপেক্ষতা আর ন্যায়বিচারের মত বিষয়ও এখন একটা প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখোমুখি। তবে একটা পয়েন্ট বলে শেষ করি। দশচক্রে ভগবান যেমন ভুত হয় আবার ভুতও ভগবান হয়।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে আমিও বলছি না। এটা একটা ফাঁদ কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু যুদ্ধাপরাধ=যুদ্ধাপরাধ এই সমীকরনে স্থির থাকতে পারলে কয়েকটা সুবিধা আছেঃ


কালের চক্রে ভুতের অভিযোজন জনিত আত্মরক্ষা কবজ খুলে ফেলা যায়


ধর্মের ধোঁয়া তোলার সুযোগ রহিত হয়


যুদ্ধাপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র হিসাবে ব্যখ্যা করার সুযোগ নষ্ট হয়


ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবার পথে বাঁধা কমে


রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়


ব্যক্তিপর্যায়ের সন্ত্রাসের সুযোগ কমে যায়। সন্ত্রাস = সন্ত্রাস ভাবার সুযোগও পোক্ত হয়।


ব্যক্তির স্বকিয়তা সুরক্ষিত হয়। একজন ব্যক্তি নিজেকে ভেতর থেকে আবিষ্কার করার সুযোগ পায়। নিজেকে এন্টি-জমাত বা এন্টি-এনিথিং হিসাবে গড়ে তোলার চেয়ে স্বকিয়তা নিয়ে বড় হবার দরকারটা বেশ জোরাল মনে করি আমি।


জামাত হটানর নামে বিচার বহির্ভুত সন্ত্রাস 'হালাল' ভাবার সুযোগ নষ্ট হয়।

এইটাই আমার বক্তব্যের সারকথা।

@ যারা যুক্তিপূর্ণ আলোচনা করেছেন
আপনাদেরকে ধন্যবাদ বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার সুযোগ খোলা রাখার জন্য। আমার অনেক কিছুই অজানা আছে কিন্তু কবে জানা হবে ততদিনে হয়ত অনেক দেরি হয়ে যাবে তাই অর্বাচীনতার ঝুঁকি নিয়েও বললাম।

@যারা মনে করেন যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে নতুন করে ভাববার কিছু নেই
যদি তাই হোত তবে বিচারের জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে হত না। কাজেই নিজেকে এবং অন্যদের ভাবার সুযোগ দিন।

@যারা ভিন্নমতের উপস্থিতি দেখে আহত
আপনাদেরকে আঘাত দেবার কোন উদ্দেশ্য আমার ছিল না। ভিন্নমতের ধরন এবং ক্ষেত্রগুলো বিচার করলেই হয়ত আমার অবস্থান পরিষ্কার হবে।

@যারা ব্যক্তিগত আক্রমন করেছেন
দরকার ছিল না। আমার ভুল থাকতেই পারে। তবে দেশপ্রেমের যেমন আদর্শ ব্র্যান্ডের দরকার নাই তেমনি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার ব্যপারে নীতি-কৌশলগত দিক দিয়ে সবাই একমত হবে এমনটা ভাবার কোন কারন দেখিনা। আপনি যেমন নিজের মত করে চিন্তা করতে চান আমিও চাই। আপনি যেমন আচরন প্রত্যাশা করেন সেটা ত অন্যের সাথে আচরনের সময়েও মনে রাখা যায়!

ধন্যবাদ সবাইকে।

হিমু এর ছবি

@যারা মনে করেন যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে নতুন করে ভাববার কিছু নেই
যদি তাই হোত তবে বিচারের জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে হত না। কাজেই নিজেকে এবং অন্যদের ভাবার সুযোগ দিন।

এই বিচারের জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কী কী কারণে, আপনি কি অনবগত? নাকি এ নিয়ে যথেষ্ঠ ভাবা হয়নি, এ জন্যেই বিচার পিছিয়েছে?

নিজেকে এন্টি-জমাত বা এন্টি-এনিথিং হিসাবে গড়ে তোলার চেয়ে স্বকিয়তা নিয়ে বড় হবার দরকারটা বেশ জোরাল মনে করি আমি।

আপনি একজন জামাতবান্ধব হিসেবে বড় হোন না। কিন্তু সেটা স্পষ্ট করে বলার সৎসাহস অর্জন করুন। এই যে লজ্জা আর দ্বিধা অনুভব করেন নিজেকে জামাতবান্ধব হিসেবে পরিচয় দিতে, সেখানেই কিন্তু বোঝা যায়, ব্যাপারটার মধ্যে কিন্তু আছে। তাই না?

@যারা ব্যক্তিগত আক্রমন করেছেন
দরকার ছিল না। আমার ভুল থাকতেই পারে। তবে দেশপ্রেমের যেমন আদর্শ ব্র্যান্ডের দরকার নাই তেমনি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার ব্যপারে নীতি-কৌশলগত দিক দিয়ে সবাই একমত হবে এমনটা ভাবার কোন কারন দেখিনা।

আপনার ভুল থাকলে সেই ভুলকে মাথায় তুলে নাচবে না কেউ। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে নীতি-কৌশলগত দিক দিয়ে সবাই একমত হবে না, এটা কিন্তু বোঝা যায়। কেউ স্পষ্টত এর পক্ষে থাকবে, কেউ স্পষ্টত এর বিপক্ষে থাকবে, কিছু মগবাজারকণ্ঠী লোক এর বিপক্ষে থেকে পক্ষে থাকার অভিনয় করে নানা ধোঁয়াটে কথাবার্তা বলে যাবে। এই ফ্যাক্ট কি আর অজানা কিছু?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

কিছু মগবাজারকণ্ঠী লোক এর বিপক্ষে থেকে পক্ষে থাকার অভিনয় করে নানা ধোঁয়াটে কথাবার্তা বলে যাবে। এই ফ্যাক্ট কি আর অজানা কিছু?

এই মন্তব্যে পাঁচ তারা ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

পাক আর্মি দু পক্ষের সাথেই তার সংঘর্ষ হতো কিন্তু পাক আর্মিকে সহযোগীতার কোন অভিযোগ বামপন্থীদের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি।

হাসান ভাই , চীনপন্থী ভাসানী ন্যাপের যদু মিয়া আর আনোয়ার জাহিদের ভূমিকা আপনি মনে হয় জানেন । বদ্দাও জানেন । জানোয়ার জাহিদের ব্যাপারে অভিযোগ আছে পাকিদের সহযোগিতার ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

অছ্যুৎ বলাই বলেছেনঃ "জামায়াতসহ কয়েকটা দল সমষ্টিগতভাবে দলহিসেবেই যুদ্ধাপরাধী।"

হাসান মোরশেদ বলেছেনঃ "জামাত সহ তৎকালীন ইসলামী দলগুলোতো দল হিসেবেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল। এই বিরোধীতা, পাক আর্মি'র সহযোগী হিসেবে হত্যা ধর্ষন লুটতরাজে অংশ নেয়া ছিলো তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।"

একমত ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

অতিথি লেখক এর ছবি

যথার্থ প্রস্তাবনা

---রঙপেন্সিল

পন্ডিত এর ছবি

৬ এবং ৭ আমাদের ভবিষ্যত এর জন্য খুবি গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর লেখার জন্য ধণ্যবাদ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

তারা দল হিসেবেই নেতৃত্ব দিয়েছে যুদ্ধাপরাধের। তাই জামাত ইসলামকে নিষিদ্ধ করা বা তাদের নেতাদের শাস্তি দেওয়া কোনো দলকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যের মধ্যে পড়ে না।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

ভাবছি পাণ্ডবদা। বিস্তারিত জানাবো পরে।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চলুক

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

নীড় সন্ধানী এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমি এখনো সন্দিহান। বাংলাভাইকে যেভাবে ফাঁসিতে লটকানো গেছে, গো-আজম নিজামীদের সেভাবে লটকানো যাবে বিশ্বাস হয়না। কারন দেশে 'নিরপেক্ষ' মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

উপরে রিয়াজ সাহেবের মন্তব্য দেখে মনে হলো উনিও নিরপেক্ষ মানুষ। ওনার মতো প্রচুর সহনশীল লোক আছেন যারা রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়েও ন্যায়বিচার খোঁজেন। এরকম নিরপেক্ষ লোক বিএনপিতে আছে কয়েক কোটি। সাকাচৌর বিচার করলে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকাল কারফিউ হরতালের ডাক দিতে পারে বিএনপি।

এই দেশে কিসের বিচার? তারচে বরাহশিকারই ভালো। এত 'নিরপেক্ষ' মানুষের দেশে মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে!! অসহ্য!!!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ওডিন এর ছবি

এত 'নিরপেক্ষ' মানুষের দেশে মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে

প্রবলভাবে একমত চলুক
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

দ্রোহী এর ছবি

১.
অতি দরকারী লেখা।

২.
রিয়াজ উদ্দীন সাহেবের আগমনে সচলায়তন বেশ বেগবান হয়েছে। ☺

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

রিয়াজ উদ্দীন সাহেবের আগমনে সচলায়তন বেশ বেগবান হয়েছে।

সহমত দেঁতো হাসি
---------------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

সহমত । আপনি কিন্তু আগের মত একটিভ নন , ফাকি দিচ্ছেন । ছাগু বিরোধীতায় হিমু ভাইকেই দেখছি সব সময় একটিভ ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রণদীপম বসু এর ছবি

ধন্যবাদ পাণ্ডব দা, লেখাটার জন্য।

জামাতে ইসলামী দলটাই তো যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত, এর দালিলিক প্রমাণের কি খুব অভাব ! যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। দল এ অপরাধে জড়িত থাকলে তার তো আর ফাঁসি দেয়া যাবে না, তাই তা নিষিদ্ধ হবে। আর যারা যারা অপরাধের সাথে জড়িত ছিলো, তাদের বিচার হবে, ব্যাস ! এখানে অস্পষ্টতার তো কিছু দেখি না !

আর যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার ব্যাপারে যারা ধুয়াসা তৈরি করতে চায়, তারা কি দেশ ও রাষ্ট্রদ্রোহীতায় অভিযুক্ত হয় না ? এ ব্যাপারে আমি একটু কম বুঝি। কেউ কি বলবেন কিছু ?

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তানবীরা এর ছবি

একমত।
*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

হিমু এর ছবি

কিন্তু একটা কথা বলতে পারি আজকে যদি জামাতকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার অপরাধে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় এতে আমি খুশি অখুশি কোনটাই হব না। তবে আমার হাতে যদি সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দেয়া হয় আমি প্রথমে সবদল থেকেই আগে যুদ্ধাপরাধীদেরকে আদালতের সামনে হাজির করার পক্ষপাতি।তারপর জামাতের যা বাকি থাকে তা নিয়ে যদি তারা রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারে যাক না!

রিয়াজ সাহেব হয়তো বিস্মৃত হয়েছেন, ১৯৭২ সালেই তাদের কুকীর্তির জন্যে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। তারা একটি অবৈধ অধ্যাদেশের বলে বাংলাদেশে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে। আপনার ন্যায়শাস্ত্র আর নীতিজ্ঞান কী বলে, এই সুযোগের কোনো বৈধতা কি আছে নাকি নেই?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

খুবই সুচিন্তিত মনোযোগী বিশ্লেষণ, পাণ্ডবদা'। এবং অবশ্যই অনেক দরকারিও।

তবে কয়েকটা বিষয়ে আমার খেয়াল-মতে এক-আধটু ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে।

যেমন- ৯, ১০, ১১ প্রসঙ্গে আমার জানামতে একটা বিষয়ে একটু খেয়াল করতে বলি- বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনে (যেমন- ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচারক নিয়োগ, বিশেষ বেঞ্চ নিয়োগ ইত্যাদি) কোনো বাধা না থাকলেও, অপরাধের সংজ্ঞায়ন কিংবা নির্ধারণ কিন্তু আইন পরিবর্তন ক'রে নিশ্চিত করা-টা এমনকি কোর থিওরি-তেও একটু মুশকিলের বিষয়। কারণ, কার্য সংঘটনের সময়ের বলবত্ বা বিদ্যমান আইনে অপরাধ ছিল না এমন কোনো কার্যকে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তিত আইন মোতাবেকও অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করে তার জন্য শাস্তি দেয়া যাবে না- এটা কিন্তু আইন ও ন্যায়বিচারের সার্বজনীন কয়েকটি মূল দর্শন বা নীতির একটি।

১৪ প্রসঙ্গেও বলতে চাই- এমনিতে বিবাদীর স্থায়ী বসতিরাষ্ট্র (ডোমিসাইল) আর অপরাধ সংঘটনের স্থান ছাড়া অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় মূল আইনে কিন্তু ফৌজদারি মামলা করা যায় না। অবশ্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার বিষয়টি আলাদা (আর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সেরকম অপরাধের মধ্যে পড়ে-ও বটে) [কিন্তু, এখনকার মেরুকৃত জাতিসংঘ বা বিশ্বের নেতাদের কথা একটু ভাবলে বাস্তবতায় একটু হতাশই হ'তে হয় বৈকি!]।

১৬ বিষয়ে মনে করি আর করাই- গণআদালত কিন্তু রায় দিয়েও সেটা বাস্তবায়ন করাতে ব্যর্থ হয়েছিল, এটাই বাস্তবতা; যদিও প্রতীকী দৃষ্টান্ত হিসেবে সেটার মূল্য এবং গুরুত্ব অবশ্যই অনেক ছিল।

হ্যাঁ, ওসব তত্ত্বের পরেও আরো আছে বর্তমান রাজনীতি-বাস্তবতা। কমবেশি সাকা সব দলেই আছেন কিছু কিছু ক'রে। আর আমাদের নেত্রীরা ভোটের আগে বলতে হয় ব'লে (বিশেষ ক'রে আওয়ামীলীগের আবার যেহেতু বিশেষ ক'রে এই বিষয়টা ব্র্যান্ড সেলিং পয়েন্ট থেকে উত্সারিত, সেজন্যও) বলা ছাড়া সত্যিকারে মনে খুব কমই ঠাঁই দেন এগুলোকে। জানেন তিনি এবং তারা, যে ওগুলো সত্যি সত্যি করতে গেলে বিড়ালের দিশাহারা মিউমিউ আর বাঘেদের হম্বিতম্বিতে সব থলেই প্রলয়ঙ্করী হয়ে উঠবে। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে পিতৃহত্যার বিচার আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের মধ্যেও কোনো উপযুক্ত সুনির্দিষ্ট রেখা টানা আছে নিশ্চয়। আর, জনগণ বলতে যাদেরকে এখনও নাম দেয়ার চেষ্টা করি আমরা, তাদের মধ্যেও আমার ভয় হয় একটা যথেষ্ট বড় অংশ হয়তো ওই যে ওইরকম "নিরপেক্ষ"! মন খারাপ

সাধ ক'রে দুঃখচাষের জন্য না পাণ্ডবদা', আপনার এবং আরো অনেকের (আমার নিজেরও) এই নিষ্ঠ ভাবনা, বিশ্বাস আর চাওয়া-গুলোকে ছোট করার জন্যও না; ভিন্নসুর যতোটুকু তুলি, সেটা শ্রেফ বাস্তববাদী এবং স্বাভাবিক হতাশা। আশার চে' ভয়ই হয় বেশি- হয়তো এগুলোর কিছুই হবে না। কারণ আমরা ভাবতে পারি চাইতে পারি চ্যাঁচাতেও পারি, কিন্তু কলকাঠি নাড়ায় অন্যান্য গোষ্ঠী; যাদের আরো অনেক বড় বড় নিজ-স্বার্থ নিয়ে চিন্তা ক'রে মরিয়া হ'তে হয় সারাদিন, নইলে তাদের রাজনীতি টিকবে না, তারাও টিকবে না। আমাদের উদ্দিষ্ট ওই হুলোবিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার তালে ওরা কেউ নেই। মন খারাপ

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

হিমু এর ছবি

১৯৭১ সালেও অনেকে বলাবলি করেছিলো, ট্যাঙ্কের সাথে গাদা বন্দুক দিয়ে যুদ্ধ হয় না। প্রবাসী আওয়ামী নেতাদের একটা বড় অংশ হতাশাবাদী কথাবার্তা বলে আর পদে পদে কাঠি দিয়ে প্রবাসী সরকারের কর্তাদের বিব্রত করেছে।

কিন্তু আমরা তো আজকে একটা স্বাধীন দেশ, নাকি? কেন? কারণ ঐ হতাশা মূল্য পায়নি।

এই হতাশাও কিন্তু আত্মঘাতী হতাশা। ঘাতকদের শক্তি আমাদের হতাশাতেই।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হুমমমমমমমমম মন খারাপ
জানি ভাই। কিন্তু সত্যিকারের উত্তরণ দেখি না। দেখলে তো আমিও খুশি কিছু কম হবো না, সেটা তো জানেন।
হ্যাঁ, এটারও জবাব কী আসবে জানি- "কেউ এসে ক'রে দেবে না, আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।"
করি চলেন। বলি বলেন। কিন্তু সত্যি পারি কই?! মন খারাপ

'দেশ' ঠিকই একই 'উটের পিঠে' চলে মাতাল। নিউজপেপারের একটা হেডিংও বদলায় না! হ্যাঁ, স্টুপিড মি!

স্যরি।

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

১৯৭১ সালেও অনেকে বলাবলি করেছিলো, ট্যাঙ্কের সাথে গাদা বন্দুক দিয়ে যুদ্ধ হয় না। প্রবাসী আওয়ামী নেতাদের একটা বড় অংশ হতাশাবাদী কথাবার্তা বলে আর পদে পদে কাঠি দিয়ে প্রবাসী সরকারের কর্তাদের বিব্রত করেছে।
কিন্তু আমরা তো আজকে একটা স্বাধীন দেশ, নাকি? কেন? কারণ ঐ হতাশা মূল্য পায়নি।

একমত ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

পুতুল এর ছবি

কিছু কিছু বিষয়ে নিরেপেক্ষতা একটা অপরাধ। আপনার সামনে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, আপনি নিরেপেক্ষ থাকা মানে ধর্ষণটা সমর্থন করা। একটা মানুষ মারা হচ্ছে, সেখানে নিরেপেক্ষ থাকা হত্যাটা সমর্থন করা।

যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে নিরেপেক্ষ অবস্থানের মানে হলো দু'টোই সমর্থন করা। আমি কোন মহৎ লোক নই। আমার পক্ষে নিরেপেক্ষ অবস্থান সম্ভভ নয়। যতদিন জামাত থাকবে (যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেলেও),
আমি বলবো

একটা দুইটা জামাত ধর
সকাল বিকাল নাস্তা কর।।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

যুধিষ্ঠির এর ছবি

এটাই হলো সারকথা। চলুক

রিয়াজ এর ছবি

আপনার সামনে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, আপনি নিরেপেক্ষ থাকা মানে ধর্ষণটা সমর্থন করা। একটা মানুষ মারা হচ্ছে, সেখানে নিরেপেক্ষ থাকা হত্যাটা সমর্থন করা।

না পুতুল ভাই। নিরপেক্ষতার মানে হল হত্যাকারি বা ধর্ষক বন্ধু হলেও তাকে বিচারের মুখোমুখি করা। আর পক্ষপাত মানে হল অপরাধী কোন দলের সেটা ভেবে অপরাধের বিচার করা। বিচারের মূলনীতি এটাই। এজন্যই নিরপেক্ষতার কথা বলছি।

হিমু এর ছবি

অর্থাৎ, আপনার যুক্তিতে ব্যাপারটা এমন দাঁড়াচ্ছে, "ক" দল করে এমন একজন ধর্ষণকারীকে বিচারের দাবি তুললে সেটাকে আপনি "ও 'ক' দল করে তাই ওকে বিচার করতে চাও" বলে নস্যাৎ করছেন?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

একদম সেরকমই দাঁড়ায় লজিক্যালি।

@ রিয়াজ উদ্দিন,
নস্যাতের উদ্দেশ্যেও যদি না-ও হয়, তবু ওরকম "নিরপেক্ষতা"র প্রশ্নও অবান্তর এবং ক্ষতিকর।

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

রিয়াজ এর ছবি

আমি বুঝতে পারছি আপনি ভাল অর্থেই পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অন্যায়কে বাছ-বিচারের ক্ষেত্রে অন্যায় আমার প্রিয় কেউ করল না অপ্রিয় কেউ সেটা বিবেচনা রেখে যদি বিচার করতে হয় সেটা আমার বিচারে নিরপেক্ষ নয়। এখন লজিক কি দাড়াচ্ছে আমি জানিনা। এটা খুবই মৌলিক একটা দাবি। রাজনৈতিক পছন্দ অপছন্দের বেলায়, বন্ধু নির্বাচনের বেলায় কে কি করবে সেখানে ব্যক্তিপর্যায়ের পছন্দই শেষ কথা। এই পোস্টে আমার কোন মন্তব্য সেই দিকে তাক করে করিনি। কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার কোন বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না। একজন যুদ্ধাপরাধী যেই দলেই থাকুক তাকে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। এখানে যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে রকমফের টানা যায় বলে মনে করি না।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হ্যাঁ, এটুকু মনে হয় বুঝতে পেরেছি আগেই। কিন্তু সে অর্থে আপনি যেই ঘটনার ভয় করছেন, সেটা কিন্তু কেউ করতেও যাচ্ছে না।
তবে, এই যোগসূত্রে এটাও আমি বলবো- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেমন আমাদের একটা আবশ্যিক দাবি, তেমন জামাত-সহ ধর্মভিত্তিক দলগুলো নিষিদ্ধ নির্মূল হওয়াটাও তেমনই আমাদের আরেকটা সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয়তা।
আর হ্যাঁ, জামাত যে দলগতভাবেই যুদ্ধাপরাধ করেছে, সেটাও তো ওই দু'টোর মধ্যে একটা প্রতিষ্ঠিত যোগসূত্র বটেই।

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে কি আমরা বলতে পারব যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন হয়েছে? না। সেদিক থেকে গুরুত্বের দিক দিয়ে আমি যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

এখন যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠিক ভাবে হলে জামাতের নেতৃত্ব দেবে কারা? এর উত্তর নির্ভর করছে এই বিচারে ব্যবহৃত দর্শন বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর।
এখানে ২ টি সিনারিও আছে।


-------------
যদি মনে হয়ঃ
- জামাতকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে ঘায়েল করার জন্য যুদ্ধাপরাধের ধোঁয়া তুলে এর নেতাদেরকে শুলে চড়ান হয়েছে তাহলে এর অনুসারিরা মনে করতে থাকবে তারা 'শহীদ' হয়েছেন
- আর যদি এর সাথে ধর্মের আবেগ যুক্ত হতে পারে তাহলেত কথাই নেই, প্রচুর সহানুভুতিশীল তৈর হয়ে যাবে।

তখন যুদ্ধাপরাধের নামে ধর্মকে বা কোন দলকে প্রতিহত করা হল এমনটাই প্রতীয়মান হবে এবং উত্তোরোত্তর এটাকে পুজি করে জামাত হয়ত আরো শক্তিশালি হয়ে পড়বে


-------------
যদি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দোহাই দিয়েই বিচার হয় তাহলে যুদ্ধাপরাধী সবদলেই কম বেশি পাওয়া যাবে (কিন্তু জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়ত ফাকা হয়ে যাবে)। তখন বিচারের নৈতিক/রাজনৈতিক গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। এখানে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী একসুরে সমর্থন দেবে এই বিচারের পেছনে। আর রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে জামাতের নবপ্রজন্ম আর হালে পানি পাবে না; নিজেরাই ডিমোরালাইসড হয়ে যাবে। আলাদা করে জামতকে নিষিদ্ধ করার দরকারই হয়ত পড়বে না। আর দরকার পড়লে করা হল। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সে রাস্তায় হাটা রাজনৈতিক ভাবে কঠিন হতে পারে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের আগে সেই চেষ্টা করলে রাজনৈতিক অস্থিরতার সমুহ সম্ভাবনা। কিন্তু যুদ্ধপরাধের বিচার যদি ন্যায়বিচারের দোহাই দিয়ে করা যায় তাহলে রাজনৈতিক ভাবেও জামাতকে নিষিদ্ধ করা সহজ হবে। কারন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সবাই আরো স্পষ্ট ভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পরিচয় উঠে আসবে।
----------------------

আমি মূলত দ্বিতীয় সিনারিওর কথা বলছি। এখানে কেবল কৌশল নয়, ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও বেটার জাস্টিফিকেশন পাওয়া যায়। হয়ত দুই প্রক্রিয়াতে বিচারে একই ব্যক্তি সমষ্টি একই মানের শাস্তি পাবে (অবশ্য প্রথম ক্ষেত্রে লীগ বা বিএনপির যুদ্ধাপরাধীরা বেঁচে যাবার একটা জোর সম্ভাবনা থেকে যায়)। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পরের সিনারিওটা অনেক বেশি গ্রহনযোগ্য আর দেশের ভেতরে বাইরে সমর্থন যাগানর জন্য এটাই তুলনামূলক ভাল সিনারিও। আর জনসমর্থনকে যদি বিচার কার্যক্রম শুরু আর পরিচালনার জন্য নিয়ামক মনে করেন তাতেই দ্বিতীয় সিনারিওটাই আমি প্রেফার করব।

এর আরো অনেকগুলো সুবিধার কথা আমি উপরে স্বাধীন ভাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে বলেছি। জামাতের কোন নেতা বা কর্মীর সাথে তাদের রাজনৈতিক দর্শন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলার সুযোগ আমার হয়নি। কিন্তু রাষ্ট্রের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক মেরুদন্ড শক্ত করার ব্যপারটা ভেবে দেখবেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ফলে যদি কোন দিন জামাতকে ইহুদিদের মত নির্যাতিত কোনঠাসা গোষ্ঠী হিসাবে প্রতিয়মান হয় সেটা জাতিগত ভাবে আমাদের বোকামির স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। সে পথে না গিয়েই যুদ্ধাপরাধের বিচার করা সম্ভব বলে আমার মনে হয়।

হিমু এর ছবি

যুদ্ধাপরাধের বিচারের ফলে যদি কোন দিন জামাতকে ইহুদিদের মত নির্যাতিত কোনঠাসা গোষ্ঠী হিসাবে প্রতিয়মান হয় সেটা জাতিগত ভাবে আমাদের বোকামির স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।

আপনি কি মনে করেন, জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ করার ফলে তারা কোনো নির্যাতিত কোণঠাসা গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত, কিংবা এ কাজ করে জার্মানরা জাতিগতভাবে নিজেদের বোকামির স্বাক্ষর রেখেছে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

স্বাধীন এর ছবি

রিয়াজ

যদি মনে হয়ঃ
- জামাতকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে ঘায়েল করার জন্য যুদ্ধাপরাধের ধোঁয়া তুলে এর নেতাদেরকে শুলে চড়ান হয়েছে তাহলে এর অনুসারিরা মনে করতে থাকবে তারা 'শহীদ' হয়েছেন

এখানেই তুমি জামাতের ফাঁদে পা দিচ্ছ অথবা নিজেই জামাতের সুরে কথা বলছো। জামাতকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘায়েল করার জন্য যুদ্ধাপরাধের কথা কে বলেছে? দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। এখানে সাকার মত যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার হবে। তাহলে জামাতকে ঘায়েলের কথা কে বলছে? এই কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে জামাত/শিবির এর লোকেরা, আর জামাতের ফাঁদে পা দেওয়া নির্বোধরা, আর জামাতী মতাদর্শের বুদ্ধিজীবিরা। নিরপেক্ষতার আড়ালে তোমার অবস্থান শেষ দু'দলের কাছাকাছি। আমি কামনা করি তুমি মাঝের দলেই পড়ো। কিন্তু যদি শেষ দলের মাঝে পড়ো তাহলে আসলে তোমার সাথে কথা বলে লাভ নেই, আর সে ক্ষেত্রে দেশ বা দর্শন নিয়ে তোমার এত বড় বড় লেখা লিখেও লাভ নেই। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

মূল চিন্তায় যদি গলদ থাকে তবে তার থেকে যে প্রোডাক্ট বের হবে সেখানেও মুষ্টিমেয় মানুষের চিন্তার প্রতিফলন থাকবে। দেশের শতকতা ৭০ ভাগ মানুষ যারা দারিদ্রসীমার মাঝে বাস করে তাঁদের কাছে তোমার ধর্মের আদর্শের চেয়ে বড় হল বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হতে পারে, সাম্প্রদায়িকতা হতে পারে, দাঙ্গা হতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন উন্নত হবে না। জীবন উন্নত হতে হলে ধর্মকে ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সেটাকে সমাজে বা রাষ্ট্রে প্রয়োগ করা হলে সভ্যতাকে সেই মধ্যযুগেই ফেরৎ যেতে হবে। যদি এই বিষয় নিয়ে তর্ক করতে চাও আছি, তবে সেটা ভিন্ন পোষ্টে। তুমি চিন্তা করে দেখ তোমার আসল সমস্যা কোথায়ঃ যুদ্ধাপরাধ, না জামাতের মতাদর্শ, না ধর্মীয় রাষ্ট্র। জামাতের আদর্শকে আমি ধর্মীয় আদর্শ বলবো না। জামাত ধর্মের নামে ক্ষমতা লোভী একটি দল। সেখানে ধর্মের আদর্শের প্রতিফলন নেই।

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপনি অনেক কিছুই বললেন কিন্তু আমার মন্তব্য পড়ে বলছেন মনে হয়নি। আপনি হয়ত পছন্দ মত বাক্স বানিয়ে মিলিয়ে দেখতে পারেন আমাকে কোথায় সেট করা যায়। সে ব্যপারে আমার কিছু করার নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই বাক্স ফিটিং ধারনাকে চিন্তার দৈন্য মনে করি। বরাবর এই চেষ্টাই দেখে আসছি পাইকারি দরে। আননার কাছ থেকে ব্যতিক্রম আশা করেছিলাম।

ধর্মের কথা আমি বলছি না। আমি ধর্মকে কৌশল হিসাবে ব্যবহারে জামাতের হাতে গুটি না ধরিয়ে দেবার কথা বলছি। আপনি আমাকে নির্বোধ বলেন, জামাত বলেন সে আপনার ইচ্ছা। আমি খুব ভাল করে জানি আমি কোন অবস্থান থেকে কথা বলছি। সেটা নিয়ে কোন দ্বিধা নেই আমার। এটা আমি পরিষ্কারও করেছি। এই ব্যপারে আমার প্যাট্রন দরকার পরেও নি আগামিতেই হয়ত পরবে না।

আপনিত অনেক বিশেষন দিলেন আমি আইন্সটাইন সাহেবের একটা উক্তি দিচ্ছি এই যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েঃ

যারা একই কাজ বারবার করে আর ভিন্ন ফল আশা করে তাদেরকে আইনস্টাইন নির্বোধ বলেননি। বলেছেন insane

জামাতকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘায়েল করার জন্য যুদ্ধাপরাধের কথা কে বলেছে?

কেউ না বললে তো আপনার সাথে আমার দ্বিমতের কিছুই থাকছে না। আরো লক্ষ্য করুন আমি এই পোস্টে জামাত শব্দটি প্রথম ব্যবহার করি নি স্বাধীন ভাই। আমি দলমতের উর্ধে থাকার কথা দিয়েই মন্তব্য শুরু করেছি। সেই ঘুরে ফিরে কয়েকটা বাক্স হাতে ছোটাছুটি। যদি কোন একটাতে ঢুকান যায় তাহলেই গলাটা বন্ধ করে দেয়া যায়। কেন স্বাধীন ভাই? আপনার কোন পাকা ধানে মই দিলাম।

ধর্মের রাজনীতির কথা আপনি কেন বারবার বলছেন আমি বুঝতে পারছি না। আপনিই ভাল বলতে পারবেন।

তারপরও একটা অনুরোধ বিবেচনা করবেন হয়ত। যারা বাক্স নিয়ে ধরে ধরে অপছন্দের লোকেদের সেখানে পুরে ফেলার ফ্যান্টাসিতে মেতে থাকতে চান তাদের রাস্তায় না গেলেই কি নয়? ভাল থাকুন।

স্বাধীন এর ছবি

আপাতত ক্ষেমা দিলাম। একটি পেপারের ডেডলাইন ধরতে হবে, এই মাসের মাঝে। তারপর তোমার সব মন্তব্য এবং সকলের মন্তব্য আবার পড়ে, মন্তব্য দিবো।

কোন প্রকার বাক্সে তোমাকে ফিট করাবার কোন ইচ্ছে আমার নেই। ব্যক্তিগত আক্রমন আমি সব সময় এড়িয়ে চলি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তুমি নিজেই বাক্সের ভেতরে বসে আছো। সবাই সেটা দেখছে, কিন্তু তোমার চোখে সেটা পড়ছে না। কারণ তুমি বাক্সের ভেতরে আর আমরা বাহিরে। প্রত্যশা করি একদিন বাক্সের বাহিরে চলে আসবে নিজেই।

আরেকটি কথা, নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস থাকা ভাল, কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসটুকু ভাল নয়। তোমার মাঝে সেটির প্রকাশ পাচ্ছে। আমি নিজে যে সব জানি সেটাতো নয়, বা নিজের চিন্তাই যে সত্য সেটাও কি জানি। কিন্তু কোথাও ভিন্ন মত পেলে সেটাকে জানার চেষ্টা করি, বূঝার চেষ্টা করি। নিজের বিশ্বাসকে আকঁড়ে ধরে রাখা বা নিজের জ্ঞানকে সর্বোচ্চ কল্পনা করে রাখা মানে নিজেকে আটকে রাখা একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট জগতে। আর তুমি যখন মনেই করো যে তুমি যা বুঝেছো বা জানো তার মাঝে কোন দ্বিধা নেই তবে আর কেন অহেতুক সময় নষ্ট করা। তুমি কেন অন্যের মন্তব্যে সময় নষ্ট করছো, কেন ব্লগে সময় নষ্ট করো। আমি আসি কারণ আমি এখনো জানতে চাই, শিখতে চাই। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শিখতে চাই।

ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জিত হয়, শুধু বই পড়ে না। বই শুধু আমাদের দেয় কিছু তথ্য। অতঃপর সেই তথ্যগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে যে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান পাওয়া যায় তাহাই প্রকৃত জ্ঞান। পরিশেষে তোমাকে ব্যক্তিগত আক্রমনের দ্বারা কষ্ট দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এটাই আমার শেষ মন্তব্য এই বিষয়ে। পরে অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, অন্য কোন ব্লগে।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

স্বাধীনের এই মন্তব্যটা এবং তার ঠিক আগেরটায় উত্তম জাঝা!

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপনার উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমি আসলে জনমত জরীপের দ্বারা ভালমন্দ বিচার করি না। আমি প্রথমেই হেজিমনিক ব্যপারগুলোকে লক্ষ্য করেই গোলা ছুড়েছি। এসব ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকের আশা কেউ করে না। আমিও করিনি।

আর ব্লগে এসে অনেক কিছু আমি শিখতে পাই বলেই আসি। তার মানে এটা নয় সব ব্যপারেই অন্যের ভাবনাকে অনুকরন করতে হবে। আমি অনেক পড়ি এটাও ভুল ধারনা। আমার জানার বেশির ভাগই মিথষ্ক্রিয়ার আর ভাবনার ফল। তাই আমি যতটা লিখি তার চেয়ে বেশি মন্তব্য আদান প্রদানে সময় দেই। আমি জানার চেষ্টা করি না এটাও আমার মনে হয় না। আমি সহজে সিদ্ধান্তে পৌছাই না এটা সত্যি। সিদ্ধান্ত নিতে বা ছাড়তে দুটোতেই অনেক সময় এবং শ্রম দেই। কারো চিন্তাকে অবজ্ঞা করতে আমাকে দেখেছেন? যেসব বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকে সেগুলো পরিষ্কার ভাবে স্বিকার করে নেই। আমি তো বলিনি আপনাকে বা কাউকে আমার মত করেই ভাবতে এবং আমার সাথে সহমত হতে হবে। তাহলে এমনটা আপনি আমার কাছে কেন আশা করবেন? can't we agree to disagree? কিন্তু আপনার মনে হল আমি অতি আত্মবিশ্বাসী কারন আমি আমার ভাবনায় অটল আছি। জনমত দেখে টলছি না। ইনভেশন মুভিটা না দেখলে সময় হলে দেখে নিয়েন। দেখবেন সবাই একই ধারায় চিন্তা করতে থাকলে সমাজের কি ভয়ংকর আকার ধারন করতে পারে। ভাবনা ক্লোনিংএর সাথে ধর্মপ্রচারের মিল আছে। আর ছাগু বা বরাহ শব্দগুলো হলো ধর্মনেতাদের কাফের, মুরতাদ শব্দের মতএকই রকম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই ব্যক্তি আক্রমন করে মন্তব্য দেন আমি পাত্তা দেই না। বরং মজাই পাই। কারন আমি জানি তাদের কোথায় লাগে। নিচে হিমুর শিল্পকর্ম দেখেন। কি পরিমান শ্রম দিতে হচ্ছে বেচারার, এইগুলি দেখলে আত্মবিশ্বাস বাড়বেই। বুঝতে পাই ঢেউ যায়গা মতই আঘাত করছে।

আমি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্লোনিং এর ফাঁদে পড়তে চাই না বা প্রতিষ্ঠিত হেজিমনির পেছনে তাল দেবার দায়ও বোধ করি না । কিন্তু এটাও স্বিকার করছি আপনার কাছ থেকে একই রকমের কথা শুনে একটু লেগেছিল। সেদিক থেকে আমার প্রতিক্রিয়া যদি আপনার কাছে কঠিন মনে হয় যেটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। যখন মন্তব্যগুলো আবার পড়ার সময় পাবেন একটু মনযোগ দিয়ে দেখেন আসলে দ্বিমতগুলো কোথায় হচ্ছে।
ভাল থাকবেন স্বাধীন ভাই। হার্ডফিলিংস নিয়েন না প্লিজ। পেপারটা ঠান্ডা মাথায় শেষ করেন। আমি অনেক দিন পরে একটু ফ্রি হইসি। নাইলে এত বকবক হয়ত করা হত না।

স্পর্শ এর ছবি

বুঝতে পাই ঢেউ যায়গা মতই আঘাত করছে।

ও...আপনি তাইলে ঢেউ দিচ্ছেন চিন্তিত

কেন ভাই? আপনার এত পুড়ে কেন? আপনার প্রিয়জনরা যে জামাত করে সেটা বুঝতে পারছি। আপনি ভয় পাচ্ছেন যে যুদ্ধ অপরাধ না করেও আপনার প্রিয়জন রা 'জামাত করার কারণে' আবার না কোনো সাজা প্রাপ্ত হয়।

এখানে এইসব খাজাইরা আলাপ না করে আপনার প্রিয়জনদের পিছনে সময় দেন। তারা কেন জামাত করে সেইটা বোঝার চেষ্টা করেন। আর কারো কথা তো শুনবেন না। প্রিয়জনদের কথা শুনুন মন দিয়ে।

আমাদের ক্ষ্যামা দেন। আর ঢেউ-সুনামি এইসব দিয়েন না।
ভাল্লাগতেছে না। আসলেই ভাল্লাগতেছে না।

আপনি ভাবছেন,
আমরা সবাই বলছি পৃথিবী সমতল আর আপনি মহান গ্যালিলিও বলছেন পৃথিবী গোল!

নাকি ঢেউ দিয়ে আপনার অনেক সুয়াব হলো?

আপনার মোটিভ আসলে কোনটা? চিন্তিত


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপনার প্রিয়জনরা যে জামাত করে সেটা বুঝতে পারছি। আপনি ভয় পাচ্ছেন যে যুদ্ধ অপরাধ না করেও আপনার প্রিয়জন রা 'জামাত করার কারণে' আবার না কোনো সাজা প্রাপ্ত হয়।

তার মানে দাড়াচ্ছে আপনার আত্মীয়দের মধ্যে জামাতি থাকলে আপনি আমার মত বক্তব্য দিতেন এখন নাই বলে দিচ্ছেন না। এটারই বিরোধীতা করছি আমি প্রথম থেকে। সমস্যা এই যে আমাকে আমার মন্তব্য দিয়ে বিচার না করে অন্যদের মন্তব্য দিয়ে বিচার করছেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে জামাত নির্মূল হবে এটা কি আপনার মনে হয় না? যদি তাই হয় তবে যদি ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আগানর চেষ্টা করলে যদি যুদ্ধাপরাধীর বিচার সহজ হয় তাতে অসুবিধা কোথায়? জামাতকে নিষিদ্ধ করা হলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সিকিভাগও কি অর্জিত হবে? যারা যুদ্ধাপরাধ করল তাদেরকে রাজনীতি করতে না দিলেই তাদের বিচার হয়ে গেল? নাকি সত্যিই যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া দরকার? সেক্ষেত্রে কি করলে কাজটা সহজ হবে সেটা আমি না বললাম আপনারাই ভাবুন।

একটা বিষয় হয়ত লক্ষ্য করবেন জামাত বলে 'তাদের দলে যুদ্ধাপরাধি নেই'। তাদের অনুসারিরা বলছে 'ইতিহাস বিকৃত করে তাদেরকে ফাসন হচ্ছে'। এত কথার কি দরকার? যুদ্ধাপরাধযে শাস্তি যোগ্য (অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ডযোগ্য) অপরাধ এটাত তাদের কথাতেই আছে। এই বিষয়ে তর্ক বিতর্কের তো কিছু নেই। সেখান থেকে শুরু করলে অনেক আলগা পেচাল পাশে ফেলে দেয়া যায়। কারন তাদের অপরাধতো ভাল মত ডকুমেন্টেড বলেই জানি।

ঢেউয়ের কথা বললাম সেটা হিমুর কার্যকলাপ দেখলেই বুঝতে পারার কথা।
আমাকে কেউ জামাতি বলল আর আমি তার কথা ভুল প্রমানে লেগে গেলাম এই ধারা মানসিকতা অত্যন্ত বিরক্তিকর। হিমু বা আরো অনেকে বলল আমি জামাতি আর জামাতের উদ্দেশ্যে একগাদা গালাগাল দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতে হবে এমন রাজনীতির পথে হাটতে পারলে তা অনেক আগেই করতে পারতাম।

আমাদের ক্ষ্যামা দেন

এই আপনারা কারা? আপনাদের উদ্দেশ্যকি কেবল এই যে আজকে জামাত নিষিদ্ধ হলে ভোট বানিজ্যে আওমিলিগের সুবিধা হবে সেজন্য জামাতের বিরোধিতা করবেন? নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার চান সত্যি সত্যিই। এই রাজনীতিতে ঘি ঢালার দরকার কি? কারো কাছে মাথা বেচে না দিয়েও আমি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইতে পারি। এর কৌশল নিয়ে ভাবতে পারি। এখানে আমি এইটুকু কেবল দেখতে চাই আমি কারোর ভোটের সুবিধা অসুবিধাকে সার্ভ করা জন্য এটা করছি না।

নিরপরাধ লোকেদের উপর সন্ত্রাসের বোঝা চাপানটা আজকে সব দলেরই অলিখিত নিয়ম। সাধারন লোকেরা আজকেও অসহায় এসবের সামনে। 'ন্যয়বিচার' আজকে রাজনীতির ভোকাবুলারির বাইরে। সাধারন লোকেরা এই যুদ্ধাপরাধির বিচারকে প্যাচল মনে করে কেন জানেন? কারন রাজনীতিবিদেরা বা তাদের গুন্ডাপান্ডারা কেবল ভোটের বানিজ্যটা বুঝে। কালকে যদি সমীকরনে অসুবিধা দেখা যায় আপনাদের আওমিলিগও গিয়া এই জামাতের সাথে হাত মিলাইব। আগেও মিলাইসে।
যাব্বাবা! আমি এগুলা কেন বলতেসি আমি তা আবার আপনাগো কথা মত জামাতি বা জামিতিদের আত্মীয়।

হিমু এর ছবি

অর্থাৎ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে আওয়ামীলীগ ভোটবাণিজ্যে "সুবিধা" করে ফেলবে, এই ভয়ে আপনি জামাতের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সবজান্তা এর ছবি

যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে জামাত নির্মূল হবে এটা কি আপনার মনে হয় না?

এইটা আপনি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেন ?

যদি সত্যিই করে থাকেন, তাহলে বলতে হবে আপনার মত সরল চিন্তার লোক আমি দুইটা দেখি নাই !

আপনি বেশ পড়াশোনা করা মানুষ, বিভিন্ন সময়ের আলোচনায় টের পেয়েছি। তবে আপনার চিন্তা যদি এমন হয়, তাহলে আমার মনে হয় আপনার কিছুদিন বাস্তবের দুনিয়ায় ঘোরাফেরা করাটা ফরজ হয়ে গেছে... অন্তত দুই চারটা জামাত শিবিরের সাথে একটু কথা বার্তা বইলেন অন্তত। এদের খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন কিছু না...

আর যদি 'আপনি জেগে জেগে ঘুমান' তাহলে অবশ্য আমার আর কিছু বলার দরকার নাই... দেঁতো হাসি


অলমিতি বিস্তারেণ

পুতুল এর ছবি

আর পক্ষপাত মানে হল অপরাধী কোন দলের সেটা ভেবে অপরাধের বিচার করা।

দয়া করে বলুনতো জামাত এবং বিএনপি ছাড়া আর কোন দলে যুদ্ধপরাধী আছে? থাকলে দু'একটা নাম বলুন।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

কিছু কিছু বিষয়ে নিরেপেক্ষতা একটা অপরাধ।

একমত ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

স্বপ্নহারা এর ছবি

লেখা খুব ভাল লাগছে! খুব সুচিন্তিত ভাবে অনেক চমৎকার বিষয় (যা আগে নিজে খেয়াল করি নাই) তুলে ধরেছেন।

আমি দুনিয়ার যে বিষয়েই নিরপেক্ষ হইনা কেন, এত বিচার-বুচার বুঝিনা...রাজাকারগরে মারতে চাই...লগে জামাতরে। যারা হেগোরে সাপোর্ট করতে চায়, হেগোরে মানুষ প্রমাণ করতে চায়, হেগোরেও আমি একই জাত মনে করি।

আর কিছু নিরপেক্ষ মানুষ মনে হয় জামাতের তেল খায়, তাই এমন পোস্ট দেখলেই আইসা নিরপেক্ষতার কথা কয় আর ত্যানা প্যাঁচায়।

-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ওয়াইল্ড-স্কোপ [অতিথি] এর ছবি

ফাটাফাটি পোস্ট - তবে মন্তব্যের ফাটাফাটি ততোধিক ফাটাফাটি চোখ টিপি

সোয়াদ [অতিথি] এর ছবি

জামাত ১৯৭১ এ যে চরম অদুরদর্শী অবস্থান নিয়েছিলো তার কোনো কারণ আজ পর্যন্ত দিতে পারে নি ("ভারতের হাত থেকে দেশ বাঁচানো" গ্রহনযোগ্য নয়; যে পশ্চিম পাকিস্তান পাক ভারত যুদ্ধ, বন্যা সহ নানান ক্রান্তিলগ্নে পূর্ব পাকিস্তানকে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখেছিলো সেই পশ্চিম পাকিস্তান ৭১ এ ভারতের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনী নামিয়ে দিলো, তাও ঢাকায়- এটা হাস্যকর)।

কারন না দেখাতে পারলে জামাতের উচিত
১) কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। (এখানে আমি নৈতিকভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করাকেও অপরাধ বিবেচনা করছি, কারণ ২৫ এ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যা করেছে তা নিজের চোখে দেখার পরেও সেই সরকার কে ক্রমাগত সমর্থন করে যাওয়া অপরাধ)
২) তাদের দলের যে সব সদ্স্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের বিচারের ব্যাপারে সবরকমের সাহায্য করা।

অন্ততঃ এই দুটা কাজ যদি না করতে পারে তাহলে জামাতকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, শত্রুপক্ষ বলেই বিবেচনা করা উচিত।

আর জামাতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রয়োজন আদৌ আছে কি? যারা দেশের নেতৃত্ব দিতে চায় দেয়ালের লিখন পড়তে না পারাটা তাদের অযোগ্যতা বলে ধরা হয়; এই অযোগ্যতার পরীক্ষায় জামাত পাশ করেছে একাত্তরেই। আর এরা যে ধর্মীয় রীতিতে দেশ চালাতে চায় তার সুফল তো আমরা বিশ্বজুড়েই দেখছি তাই এ ব্যাপারে কিছু বলার নাই।

থোড়-বড়ি-থাড়া মন্তব্য ম্যালা বড়ো হয়ে গেল, দুঃখিত লেখক।

ওডিন এর ছবি

খুব দরকারী একটা লেখা। এর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। তবে

৪. বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়-কালের কার্যক্রমের উপরই কেবল বিচার কার্য হতে হবে। ঐসময়-কালের পূর্বে বা পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির কার্যক্রম এই বিচারে বিবেচনা না করা।
আর
সব ধরণের মিডিয়ায় বিচারের গতিপ্রকৃতি ও রায় নিয়ে আগাম আলোচনা, মতামত প্রদান বন্ধ করতে হবে। বিচারকার্য প্রভাবিত হয় বা মাননীয় বিচারকগণ বিব্রত হন এমন আলোচনা, সভা, মিছিল, পোস্টারিং, লিখন বন্ধ করতে হবে।
এই দুটো পয়েন্ট নিয়ে একটু প্রশ্ন ছিলো।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কার্যক্রম বিবেচনা করা হবে না কেন? এটা ঠিক যে তারা একাত্তরের পরে আর 'যুদ্ধাপরাধ' করেননি কিন্তু তাদের কর্মকান্ডের জন্য তো আর কোনরকম ক্ষমাপ্রার্থনা বা সেইধরনের কিছু করেন নি। একরকম নিরব সমর্থনই দিয়ে গেছেন বলা যায়। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারে তাদের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কার্যক্রম বিবেচনায় আনা হবে না কেন?

আর সবরকম মিডিয়ায় নাহয় বিচারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথাবার্তা বা মতামত প্রদান বন্ধ করা গেলো- কিন্তু এসব নিয়ে মিছিল বা পোস্টারিং এ সমস্যা কোথায়? এই কথাটা কেন জানি মেনে নিতে পারলাম না। বিচারকদের 'বিব্রত' হবার ব্যপারটাও সবসময় আমার ফ্রিকোয়েন্সীর বাইরে দিয়ে যায়। অবশ্য আমার আইনী ব্যপারস্যাপারের ওপর ধারণা একেবারে নেই বললেই চলে। তাই এই দুটো পয়েন্ট একটু চোখে লাগলো।
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

হাসিব এর ছবি

ছাগু এক অর্থে বিনোদন । আবার আরেক অর্থে বোটকা গন্ধ, ম্যাৎকারের উৎস ।

- ডিরেক্টর, ছাগল প্রজেক্ট ।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

হাসিবের মন্তব্যে উত্তম জাঝা!

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

হিমু এর ছবি

রিয়াজ সাহেবের যুগান্তকারী বাক্স ফিটিং তত্ত্ব পড়ে এক গভীর ভাবনা উঁকি দিলো মনে?

কেন পাপিষ্ঠের দল ঘুরেফিরে রিয়াজ সাহেবকে জামাতী বাক্সে ঢুকায়?

নিচের চিত্রটি দেখুন। ইহা একটি জামাতী বাক্স। ভিতরে বিশেষ মাপের খাঁজকাটা।

riajamat1

এরপর সচলায়তনে বিভিন্ন সময়ে রিয়াজ সাহেবের নানা কথাবার্তায় ফুটে ওঠা তাঁর পবিত্র আকৃতিটি দেখুন [অ্যান্টিস্টেরিওটাইপিং অ্যান্টিট্যাগিং অ্যান্টিএলিয়েনেশন অ্যান্টিহেজিমোনি অ্যান্টিবক্স অ্যান্টিএনিথিং নয়, উনি কিন্তু উনার স্বকীয়তা নিয়েই ...]

riajamat2

এইবার আমরা একটু চেষ্টা করে দেখি দুষ্টুলুকে কেনু উনাকে শুধু জামাতী বাক্সে ঢুকায় কেনু কেনু কেনু?

riajamat3

একেবারে খাপে খাপ মিলে যায়!

রূপা আন্ডারওয়্যারের ব্রাক্ষণ্যবাদী হিন্দি বিজ্ঞাপন থেকে ধার করে বলতে হয়, জো অন্দর সে ফিট ও বাহার সে ভি হিট!



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

স্পর্শ এর ছবি

উত্তম জাঝা!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

উত্তম জাঝা!

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সবজান্তা এর ছবি

পচুর হেজেমনি মিস্কর্লাম মনে হইতেসে মন খারাপ


অলমিতি বিস্তারেণ

ওডিন এর ছবি

ভাইরে- এই হেজেমনি শব্দটা এখন আমার ভোকাবুলারিতে ঢুকে গেছে। সচল হতে প্রাপ্ত প্রথম মুদ্রাদোষ! আজকেও পাকিস্তানের খেলা চলাকালীন সময়ে আচ্ছামতো হেজেমনাইলাম! দেঁতো হাসি

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

হিমু এর ছবি

জামাতিদের অ্যাপোলজিস্টদের [যেমন ছাগুরাম ত্রিভুজ, ফরহাদ মগবাজার, রিয়াজ সাহেব প্রমুখ] বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটা লেখার খসড়ার মালমশলা পাওয়া যাবে এই পোস্ট থেকে।

কায়দাগুলি হচ্ছেঃ

১. সরাসরি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে না। একেবারেই না।

২. প্রতিপক্ষকে আধিপত্যবাদী হিসেবে চালিয়ে দিতে হবে। এতে করে জামাতীদের একটি কোণঠাসা, নির্যাতিত পক্ষ হিসেবে উপস্থাপনের সুবিধা মেলে।

(যদিও এই যুক্তিতে জেলখানায় ভরা সব কয়েদীই রাষ্ট্রের হেজিমোনির নিপীড়নের শিকার, কিন্তু এইসব তো আর বলা যায় না)

৩. স্টেরিওটাইপিং, এলিয়েনেশন, ট্যাগিং, হেজেমোনি, বাক্স ফিটিং প্রভৃতি শব্দ স্থানকাল বুঝে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এতে করে অসচেতন পাঠক বা শ্রোতার মনে হবে, বক্তা একজন প্রচুর পড়ুয়া গিয়ানী লুক। তবে হাতের কাছে গুগল ডট কম না থাকলে তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে যাওয়ার আগে ১ নং পয়েন্ট পুনরায় বিবেচ্য।

৪. "ছাগু" বা "বরাহ" টাইপ জেনেরিক শব্দের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে হবে। এগুলি কাফের বা মুরতাদ ধরনের শব্দ। যদিও কাফের বা মুরতাদ শব্দগুলি যারা ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা তোলা যাবে না। তুললে বলতে হবে এর বিরুদ্ধাচরণ একটি হেজেমোনিক স্টেরিওটিপিক্যাল এলিয়েনেটিং ট্যাগিং যা সমাজে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।

৫. কেউ ছাগু বা ছাগুবান্ধব ডেকে ফেলার সাথে সাথে বলতে হবে, আপনি আধিপত্যবাদী ব্যক্তি আক্রমণ করছেন। বাক্সে ঢোকাতে চাইছেন।

৬. বেশি চিপায় পড়লে চুপ করে থাকতে হবে। কারণ জনগণের মেমরি কম। তারা সব ভুলেটুলে গেলে কিছুদিন পর আবার ...।

৭. যে কোনো উপায়ে একটা দার্শনিক দার্শনিক আবহ তৈরি করতে হবে। দর্শনের ঘোলাপানিতে সবকিছু আড়াল করা সম্ভব।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ওডিন এর ছবি
নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

জামাতিদের অ্যাপোলজিস্টদের [যেমন ছাগুরাম ত্রিভুজ, ফরহাদ মগবাজার, রিয়াজ সাহেব প্রমুখ]

হিমু ভাই , Pee মুন্সীর নাম যুক্ত করেন তালিকায় ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

হিমু এর ছবি

এইটারে চিনি না। গুগল মেরে দেখি সামুর লিঙ্ক আসে। আপনি যদি সামুর রেফারেন্স টানেন তাহলে অনেক কিসুই বুঝতে পারবো না, সামু ফলো করি না। এইরকম কত মুনশি নর্দমা দিয়া গড়াইতেছে কয়টার খোঁজ রাক্তে কন?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এখানে রিয়াজের বচন আর সামুতে পি মুন্সী (Pee মুন্সী নামটি হাসিবের কাছ থেকে পাওয়া ) বচন অভিন্ন । মুন্সী সাহেব কিন্তু সচলে অতিথী হিসেবে এসেছিলেন অভিজিতের সাথে মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান কিনা সেই তর্কে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

হিমু এর ছবি

ও। প্রাচীন ছাগু। কী আর করা। ওরে আর গাছে তুইলেন না তাহলে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এই বরাহকে অনেক আগেই শিকার করা জরুরি ছিল ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

আলমগীর এর ছবি

আসল পয়েন্টই মিস করছেন:
"আসলে ইতিহাসের ওই অংশটা আমি তত ভাল জানি না"।

এটা শিওরফায়ার টেস্ট।

দ্রোহী এর ছবি

এই কে আছিস, হিমুকে চা চু দে.........এক্কেরে কোপাইয়ালাইতেছে!!!!!!!!!!!! দেঁতো হাসি

মণিকা রশিদ এর ছবি

পাণ্ডব দা, লেখাটা আশা জাগায়। তবে আমার কেন জানি মনে হয় কশ্মিনকালেও এই দেশে রাজাকারগুলোর বিচার হবে না। আমরা যারা সরাসরি ওদের শিকার তাদের এরকম সুন্দর সুন্দর লেখা পড়ে মনকে বোঝাতে হবে যে, কিছু মানুষ ভোলেনি!
আসল কর্মক্ষেত্রে গেলে প্রায়ই লোকজনকে বলতে দেখি.........ওগুলান হারামজাদা...কিন্তু একসাথে থাকতে গেলে.........ইত্যাদি! সত্যি সত্যি যদি শাবল দিয়ে শুকর মারতে শুরু করে দেয় কেউ, আমি বরং বলব...সেটাই কাজের কাজ।
____________________________
শান্তিও যদি সিংহের মত গর্জায়, তাকে ডরাই।
--নরেশ গুহ

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

হিমু এর ছবি

রিয়াজ সাহেবের একটা ব্যাপার খুব ইন্টারেস্টিং। আজকে জামাত নিষিদ্ধ হলে কেয়ামত নেমে আসবে এই শীৎকার তিনি করছেন কয়েকদিন যাবৎ, কিন্তু এটা বলেন না যে জামাতের রাজনীতি স্বাধীন বাংলাদেশের উন্মেষলগ্নেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, এবং কেবল একটি অবৈধ অধ্যাদেশের বলেই জামাত দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে।

উনার ন্যায়বিচার নিয়ে একগাদা কথাবার্তার মধ্যে এই কথাটা একবারও আসে না কেনু কেনু কেনু?

রিয়াজ সাহেব, আপনি নিজে বা বাপচাচাদের কেউ জামাতী হলে সিনা টান টান করে বলেন। লজ্জার কিছু যদি থেকে থাকে, সেই কারণটাও আমাদের বলেন, কেন দশটা লোকের সামনে স্বীকার করতে লজ্জা লাগে যে আপনি একজন জামাতী।

সুদূর অতীতে ব্লগোস্ফিয়ারে এক তরুণী ছিলো আপনার মতো। পেটে খিদা মুখে লাজ টাইপ। জামাতের জন্য পাকিস্তানের জন্য কেদে ভাসায় কিন্তু চিবি দিয়ে ধরলে বলে সে জামাতী না। আপনি কি ভাবছেন, আপনি এইরকম কেইস নতুন আসছেন?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

কিন্তু এটা বলেন না যে জামাতের রাজনীতি স্বাধীন বাংলাদেশের উন্মেষলগ্নেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো, এবং কেবল একটি অবৈধ অধ্যাদেশের বলেই জামাত দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে।

তার মানে আপনেই দেখাচ্ছেন দলিয় রাজনীতি যে যুদ্ধাপরাধের বিচারে প্রতিবন্ধক হতে পারে। রামায়ন পরা শেষ এখন কয় সীতা কার বাপ।

আপনি নিজে বা বাপচাচাদের কেউ জামাতী হলে সিনা টান টান করে বলেন

আমারত মনে হইতাসে সাকা আপনার কাকা। সে বাচলে আপনার কি সুবিধা কন? আমার বাপচাচার পরিচয় সাকার ভাতিজাদের জন্য সুখের হবে না এইটা কইতে পারি। কাজে এইহানেই ক্ষেমা দেন।
সিনাজুরি করতে থাকেন। আমি সিনাজুরি করতে আসিনাই।

সুদূর অতীতে ব্লগোস্ফিয়ারে এক তরুণী ছিলো আপনার মতো

আহারে কবে এক তরুনির সাথে আপনার কি সাক্সেস স্টোরি সেইটা বেইচা আর কতদিন খাইবেন। সেইস্মৃতি নিয়ে আপনার রোমান্স আপনারই থাকুক। যখন একা এখা থাকেন ভাবতে পারেন "আমার হালুম শুনে এক তরুনী কেদেছিল"। কিন্তু আমাকে যে বলছেন দেখেন "আমি কিন্তু একবার এক তরুনীকে শায়েস্তা করেছিলাম"- এইটা শুনে কি আমার ঘাবড়ায় যাওয়া উচিত? এইটাকে হুমকি দিবার লাইগা কইলেন না কৌতুক হিসাবে? পরের মন্তব্যে জানান দিয়েন। হুমকি হইলে কমু "ডরাইসি"। আর কৌতুক হইলে "হাসমু"। কিন্তু নিজে থেকা পাঠোদ্ধার করতে পারলাম না।

হিমু এর ছবি

আপনি আবারও পিছলাচ্ছেন প্রসঙ্গ থেকে। "জামাতে ইসলামী" একটা দল হিসেবেই যুদ্ধাপরাধী, এই ফ্যাক্টটা আপনি স্বীকার করছেন কি করছেন না?

আমি তো একবারও বলি নাই, যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইউনুসের পার্টিতে কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই। আমি কথা বলছি জামায়াতে ইসলামী নিয়ে, যেই দলটা অফিশিয়ালি যুদ্ধাপরাধী। সাকা আমার কাকা হইলেও আমি সাকার বিচার চাই, হেজেমোনি কপচাইয়া তার পাছা বাচাইতে চাই না। তবে আপনার বাপচাচার পরিচয় দিয়ে কাউকে সুখী করতে পারবেন না এইটা বুঝলাম।

না, কোনো তরুণীকে "শায়েস্তা" করার বিরাট বীরত্বের গল্প শুনিয়ে আপনার কোমল দিলে চোট দিতে চাই না, তুলনাটা দিলাম, কারণ তর্কের বাতাসে আপনার মতো তারও লুঙ্গি উড়ে গিয়ে লোমশ জামাতি পাছা বের হয়ে গেছিলো। এইরকম কেইস আপনিই প্রথম না, এইটাই ছিলো পাঠ। উদ্ধার করতে পারলেন? এখন ভয় পাইলে ভয় পান, হাসতে চাইলে হাসেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

সাকা আমার কাকা হইলেও আমি সাকার বিচার চাই

এইটা বলাই যথেষ্ট। অযথা কথা প্যাচাইয়া কোন লাভ নাই। আমার হাতে যদি আরো সময় থাকতো আমি আজীবন চালাইয়া যাইতে পারি এই প্যাচানির কাজ কারবার, কিন্তু এই জিনিসরে টাইনা লম্বা করার ইচ্ছা নাই। আপনি জেনেশুনে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন যাতে আমিও করি। দু;খিত, সেদিক দিয়ে আমার সাধ্য থাকলেও আপনার যে দশা তা দেখে ইচ্ছা করেনা। আপত্তিকর কথা বলার ব্যপারে আপনার সাথে প্রতিযোগীতায় নামার কোন ইচ্ছা আমার নাই। তা আপনে সামনে পিছে ডানে বায়ে যেভাবে চালান আপনার খুশি। আমার কোন আগ্রহ নেই।

আমি দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতে পারি এই দেশ আমার, তা আমার বাপচাচাদের গুনেই। একদিক দিয়ে ভাল হইছে আমার বাবা এখন বাইচা নাই, এই নোংরামি তাকে দেইখা যাইতে হয় নাই। তাকে আর তার ভাইদের নিয়ে এই কথাটা যে আপনি বলতে পারতেছেন সেটাও তাদের বদান্যতার কল্যানেই। কিন্তু এইসব নোংরা বাতচিত এই দলিয় রাজনীতির নোংরা দেশেই সম্ভব যেখানে কিছু কিট সব যায়গায় দেশপ্রেমের ব্র্যান্ড আর পেটেন্টিং এর ধান্দা করে।

নিজেদেরকে কিযে মনে করেন আপনারা! ভাবলে অবাক লাগে। রাজনীতির নামে দেশের মাটিতে সন্ত্রাসের যে বিস্তার সেটা আপনাদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক গুন্ডামিরই আরেকটা ইমেজ মাত্র। কোন গুনগত পার্থক্য নাই। খালি প্রকাশটা আলাদা।

যতক্ষন পর্যন্ত এই পোস্টে দলাদলি, রাজনীতি, মারামারি, ছাগু, বরাহশিকার ছিলনা এই পোস্টে কয়টা মন্তব্য ছিল? এই হল যুদ্ধাপরাধের বিচারে আগ্রহের নমুনা। আমি মন্তব্য করার পর যেই একটু ব্রান্ডের বাইরে গেল পেয়ে গেলেন আপনারা আলোচনার বিষয়। যেন একেক জনে মহা যোশে দেশ উদ্ধার করে ফেলতছে। আমার এই পোস্টে মন্তব্য করার কোন ইচ্ছাই ছিল না। কিন্তু বেশ কিছু দিন ঝুলে থাকার পরেও এই পোস্টে মন্তব্য আসার হার দেখে মনে হল যেন গ্রিক ভাষায় লেখা পোস্ট। কারন একটাই এই খানে উত্তেজনা ছিলনা। আজকালের ব্যস্ত ব্লগারদের কাছে এই উত্তেজনাটাই মুখ্য। যুদ্ধাপরাধ নয়। বড়াই করাটা একটু কমান। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করেন।

আমি বলছি না আপনাদের আগ্রহ নেই, আন্তরিকতা নেই। কিন্তু এলোপাথারি গুলি ছূড়ে কি হবে? আমরা যে একটা দেশ পেয়েছি সেটাকে একটা শক্তিশালি রাষ্ট্র হিসাবে তৈরি করার কোন দরকার নেই? দেশ কি করে রাষ্ট্রে পরিনত হয় একবার ভেবে দেখবেন দয়া করে। কোথাও কিছু দেখলেই গন্ধ শোকা শুরু হয়ে যায়। অমুক সাউন্ডস লাইক আবুল তমুক সাউন্ডস লাইক কাবুল ইত্যাদি।

হিমু এর ছবি

আপনার পিতা আজকে বেঁচে থাকলে নিজের পুত্রের এই নির্লজ্জ জামাততোষণ দেখে কী করতেন, সেটা ভেবে আমি শিহরিত। আপনার বাপচাচাদের বদান্যতায় আমরা দেশ পেয়েছি, সাথে একটা পাইলে আরেকটা ফ্রি হিসাবে একজন জামাততোষকও পেয়েছি। তবে আজকাল সব জামাতীই দাবি করে তার বাপ মুক্তিযোদ্ধা ছিলো, তাই আমি আর বেশি কিছু বললাম না।

আপনি এই পোস্টে মন্তব্যের সংখ্যা দেখে যখন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মানুষের আগ্রহের কথা মাপেন, তখন আপনাকে জ্ঞানপাপী ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না।

আমরা নিজেদের সাধারণ মানুষ মনে করি, যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী জোরেসোরে তোলার সুযোগ পেয়েছি, এবং যারা বুদ্ধিবৃত্তিক বেশ্যামো করে জামাতের পাছা বাঁচাতে চায়, তাদের খোঁড়া যুক্তি খণ্ডন করছি।

এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ছি না জনাব। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়ে যাবে। তারা থাকবে না। থাকবে তাদের অ্যাপোলজিস্টরা। এরা দেশের জন্য সমান ক্ষতিকর।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

হিমু এর ছবি

রিয়াজুদ্দিনরা কীভাবে পিছলায় তার একটা উদাহরণ এই পোস্ট থেকে দিচ্ছি।

নিচে চারটা প্রশ্ন আছে ন্যায়পুঙ্গব রিয়াজ সাহেবের কথা কোট করে। কোনো উত্তর নাই। এর স্পষ্ট উত্তর দিতে মনে হয় ভাইসাহেবের ন্যায়বিচারের ইনজিনে তেল শর্ট পড়ে।

প্রশ্ন ১

আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান আর নিরস্ত্র লোকেদের উপর হত্যা, ধর্ষনের মত অপরাধকে একই মাত্রার অপরাধ মনে হয় না আমার কাছে।

আপনি কি মনে করেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কেবল নৈতিক অবস্থান নিয়েছিলো?

প্রশ্ন ২

আমাদের বিচার ব্যবস্থা আদর্শ হত যদি অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হত।

কথা সত্য। তো অনেক আগেই হয়নি বলে এখন যদি বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়, আপনার কাছে কি সেটাকে আদর্শ বিচার ব্যবস্থার দিকে অ্যাপ্রোক্সিমেশন বলে মনে হয় না?

প্রশ্ন ৩

আজকে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেলে কালকে থেকে আর এটা পুজি করে রাজনীতি করা যাবে না। এই হল সমস্যা/ত্রুটি।

এটা কি বিচারব্যবস্থার ত্রুটি নাকি কোনো রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির ত্রুটি? আর আপনাকে কে বলেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে আর সেটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করা যাবে না? নাৎসী পার্টি এখনও নিষিদ্ধ কেন জার্মানিতে?

প্রশ্ন ৪

যুদ্ধাপরাধের বিচারের ফলে যদি কোন দিন জামাতকে ইহুদিদের মত নির্যাতিত কোনঠাসা গোষ্ঠী হিসাবে প্রতিয়মান হয় সেটা জাতিগত ভাবে আমাদের বোকামির স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।

আপনি কি মনে করেন, জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ করার ফলে তারা কোনো নির্যাতিত কোণঠাসা গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত, কিংবা এ কাজ করে জার্মানরা জাতিগতভাবে নিজেদের বোকামির স্বাক্ষর রেখেছে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

পুতুল এর ছবি

ক্ষ্যামা দেন হিমু ভাই,
ছাগলে সাত'শ নাও এক কামড়ে খায়।
এর পর রিয়াজুদ্দিনরা বলবে
মুক্তিবাহিনীও তো রাজাকার মারছে! সেটা ও যুদ্ধাপরাধের ভেতর। কাজেই যুদ্ধাপরাধের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করতে হবে। তবেই সে বিচার নিরপেক্ষ হবে। না হলে নয়!

ইহাকে বলতে হয় ছাগলের ন্যায় বিচার!

**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

তার মানে আপনে আসলেই উত্তর চান! এটা ভাল। একটা নতুন ব্যপার জানা গেল। কারন আপনার আলোচনার ধার ধারেন না এটা নানা ভাবে প্রমান করেছেন। তারপরও আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। কিন্তু আপনার আচরন থেকে মনে হয় নি আপনি আসলে আলোচনা বা মন্তব্য প্রতিমন্তব্যে আগ্রহী।

প্রশ্নগুলার বেশির ভাগই আমার মন্তব্য থেকে বোঝা যাওয়া উচিত। তারপরও আবার দিচ্ছি।

আপনি কি মনে করেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কেবল নৈতিক অবস্থান নিয়েছিলো?

ঊত্তরঃ না তারচেয়েও বেশি; এটা জানার জন্য আমাকে প্রশ্ন করার কি অর্থ সেটা আপনিই ভাল জানেন।

তো অনেক আগেই হয়নি বলে এখন যদি বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়, আপনার কাছে কি সেটাকে আদর্শ বিচার ব্যবস্থার দিকে অ্যাপ্রোক্সিমেশন বলে মনে হয় না?

কেন মনে হবে না। কিন্তু উদ্যোগটা নেয়া হচ্ছে কই হিমু সাহেব? সেই কথাই ত বলছি। দেশের বেশির ভাগ লোকই দলীয় রাজনীতির প্রতি সন্দিহান। যুদ্ধাপরাধের বিচারে দলভিত্তিক রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে তাদেরকে তো পাওয়া যাবে না। এতদিন তাই হয়ে আসছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের মত একটা বিষয়ে বিচার চাইতে হলে একজন ব্যক্তিকে দলিয় স্বার্থ আগে বিবেচনা করে নিতে হবে এটা দুঃখ জনক অবশ্যই।

যুদ্ধাপরাধকে রাজনীতির পূজি হিসাবে ব্যবহার প্রসঙ্গে

এটা কি বিচারব্যবস্থার ত্রুটি নাকি কোনো রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজির ত্রুটি? আর আপনাকে কে বলেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে আর সেটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করা যাবে না? নাৎসী পার্টি এখনও নিষিদ্ধ কেন জার্মানিতে?

দুধরনের ত্রুটিই তো এরজন্য দায়ি বলে মনে হয়। আপনার কি মনে হয়? আজকে যুদ্ধাপরাধীরা একদলের বন্ধু গতকালকে ছিল আরেকদলের। আবার নানা বিধ দলবদলে যুদ্ধাপরাধীরা অনেক যায়গাতেই মিশে আছি। আজকে বিএনপি হয়ত চাইবে না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক দুটি কারনে; ১) তাদের ভেতরেই আছে ২) জামাতের নেতৃত্ব দুর্বল হলে তারা ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে যাবে। আজকে আওয়ামিলিগ হয়ত বিচারের পথে আগালেও থেমে যেতে পারে, কারন নানাভাবে তাদের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধীরা মিশে আছে।
যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আরো অনেক রকমের রাজনীতি আছে। খুজলে দেখবেন অনেক যুদ্ধাপরাধীরাই আজকে মুক্তিযোদ্ধা সনদের মালিক। অন্ততঃ প্রধান দু'টি দল অনেককেই এই সব সনদ দিয়েছে নিজেদের শাসনামলে। এর সবই দলিয় রাজনীতির ফল। সাধরন মানুষের মনে তাই এসব নিয়ে আস্থাহীনতা আছে।
আজকে যদি যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়ে যায় যাকে তাকে পছন্দ নাহলেই 'তুই রাজাকার' 'তুই জামাত' এই সব কেমনে বলা যাবে। এই যে উপরে বাক্স আকলেন এরকমও তো করতে পারবেন না। যারা এসব পুজি করে টিকে আছে দুর্ভাগ্য ক্রমে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা তাদের মুখেই লোকে বেশি শুনে।

আর নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। করেন যদি রাজনৈতিক ভাবে সেটাকে আগে করতে চান। এখন যেই বাস্তবতা নিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শূরু করতে হবে সেখানে এটা তুলনা মূলক ভাবে হয়ত কঠিন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে সেটা অনেক সহজসাধ্য ব্যপার হয়ে যাবে। কারন ১) তাদের অনেকেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ২) বিচার প্রক্রিয়া ঠিক ভাবে আগালে অনেক জামাতি ঘৃণা বশতই আবার অনেকে হয়ত না পেরে সেখান থেকে সরে আসবে।

আপনি কি মনে করেন, জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ করার ফলে তারা কোনো নির্যাতিত কোণঠাসা গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত, কিংবা এ কাজ করে জার্মানরা জাতিগতভাবে নিজেদের বোকামির স্বাক্ষর রেখেছে?

৩৮ বছর টিকে গেল তারা এই দলিয় রাজনীতির প্যাচ ব্যবহার করেই। এটা ভুলে গেলে চলবে না। কাজেই তারা নাজি আর ইহুদিদের মাঝামাঝি একটা যায়গায় পৌছে গেছে। কিন্তু এই আবেগটাকে তারা ব্যবহার করতেই পারে এক পর্যায়ে। সেটাই মনে করিয়ে দিলাম। কারন এই সময়কালে তাদের দলিয় সংগঠন পরিবর্তন হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক বন্ধু নানা সময়ে ছিল নানা দল। এই সব ব্যপার সামনে আসবে না মনে করেন? তাইলে এই ফ্যান্টাসিতে আজীবন থাকতে হবে হয়ত।

আপনার আচরনে আপনি যুদ্ধাপরাধের বিচার চান বলে মনে হয়নি। আপনিও এই বিষয়টাকে পুজি করে নাম কামাতে চান। অন্ততঃ আমার তাই মনে হয়েছে। সাকা আপনার কাকা নাতো? অন্যদলে যুদ্ধাপরাধি থাকতে পারে এই রকম কোন কথাত কইলেননা। এইটার কারনকি? আপনার প্রিয় দলেরা সুবিধা দেখলেই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলায় এগুলানতো কইলেন না।

হিমু এর ছবি

আপনি না পাইরা উত্তর দিতে আসলেন, কিন্তু উত্তর দিলেন না। আমার আচরণ বিশ্লেষণ করেই সময় কাটায় দিলেন।

যাক, প্রশ্ন ১ এ আপনার লাজনম্র উত্তর পাওয়া গেলো, তারচেয়েও বেশি। বেশক প্রাপ্তি আমার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ। এখন তাহলে বলেন, এই যে গোড়া থেকে বলা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একটা দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধী, এই বক্তব্যে আপনার অবস্থান কী?

দেশের বেশির ভাগ লোকই দলীয় রাজনীতির প্রতি সন্দিহান।

এটা ইউনুসের কিছু ল্যাংটা চামচার বক্তব্য, দেশের বেশির ভাগ লোকের বক্তব্য দলীয় রাজনীতির প্রতি কী, সেটা দেশে গত নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার, কিংবা "না" ভোটে শতকরা কত জন ভোটার ছাপ্পড় দিয়েছেন, সেটার হার দিয়ে বের করা যেতে পারে। দলীয় রাজনীতির প্রতি অসন্তুষ্টি তো থাকবেই, দুনিয়ার সব দেশেই এক একটা ইস্যুতে মানুষের অবস্থান এক এক রকম হয়। আজকে আওয়ামী লীগ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে নমনীয় ভূমিকা পালন করলে লীগের ভোটারদেরই একটা বড় অংশ হয়তো এর বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক দল বিক্ষোভ করবে, তাকে মৌন ও সশব্দ সমর্থন দেবে। এখন আমাকে বলেন, আপনার এই উক্তির পেছনে যুক্তি কী? আপনি নিশ্চয়ই একটা পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এই কথা বললেন, তাই না?

যুদ্ধাপরাধের বিচারে দলভিত্তিক রাজনীতি থেকে বের হতে না পারলে তাদেরকে তো পাওয়া যাবে না। এতদিন তাই হয়ে আসছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে দলভিত্তিক রাজনীতি বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন পরিষ্কার করুন। সারা পোস্টে আপনার বক্তব্য ছিলো, "জামায়াতে ইসলামীকে দল হিসাবে অভিযুক্ত ও বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে যা করা উচিত নয়"। এক জায়গায় আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে আওয়ামী লীগের ভোটের রাজনীতির সুবিধা বেড়ে যাবে। এটাই কি আপনি দলভিত্তিক রাজনীতি বলতে চাইছেন? তাহলে আমার উত্তর হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী এমন বড় কোনো দল নয় যে তারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মতো প্রধান দু'টি ধারাকে এককভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তাদের নীতি হচ্ছে কারো ঘাড়ে চড়ে তার রক্ত শুষে বড় হওয়া।

আর মুক্তিযোদ্ধা সনদ থাকলে কাউকে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার করা যাবে না, এটা আপনাকে কে বললো? ধরুন আপনি একজন যুদ্ধাপরাধী। হয়তো গত লীগ সরকারের আমলেই আপনি একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদ হস্তগত করেছেন। তো আপনার অপকীর্তির কি কোনো সাক্ষী নাই? রেকর্ডস নাই? ঐ সনদ গলায় ঝুলিয়ে আপনি তো একটা জনপদকে ধোঁকা দিতে পারবেন না।

আপনার একটা আশঙ্কা কিন্তু সত্য থেকেই যাবে। আপনি যুদ্ধাপরাধীদের অ্যাপোলজিস্ট যতদিন থাকবেন, অনেক অপ্রিয় কথা শুনবেন জীবনে। আপনাকে নিয়ে আরো বহুদিন হয়তো এরকম বাক্স আঁকা যাবে। আজও যারা নাৎসিবাদের ধুয়া তোলে, তাদের নিওনাৎসিই বলা হয়। আপনাকে হয়তো তখন নিওজামাত বলা হবে। আগেই এত খুশি হবেন না।

নিষিদ্ধ করা নিয়ে আশঙ্কাটা সারপ্রাইজিংলি আপনার কাছ থেকেই এসেছে। এবং আপনিই জোর দিয়ে বলছেন, জামায়াত রাজনীতি করুক না। জামায়াতের রাজনীতির চেহারা তো দেখেছে মানুষ, দেখেনি? দেখেছে বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কয়েক মাসের মধ্যে এদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। আপনি একটা নিষিদ্ধ দল, যারা কি না একটি অবৈধ অধ্যাদেশের বলে আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে, তাদের রাজনীতি করার পক্ষে এত এত যুক্তি দিচ্ছেন, আপনার মুখে কি ন্যায়বিচার শব্দটা মানায়? আর হ্যাঁ, একটু বুঝিয়ে বলেন তো, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে কী ক্ষতি হবে বাংলাদেশের? ১৯৭১ সালের কথা তো আপনি মুখ ফুটে বলতে চান না, বলুন, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত জামায়াত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্যে ইতিবাচক কী করেছে?

বহু ব্যাপার সামনে আসবে। আসতে দিন না। এই ব্যাপারগুলি সামনে এসে ফয়সালা হয়ে যাক। জামাত যখন ইসলামকে ব্যবহার করে, আপনি তখন হয়তো ঘুমান কিংবা কোনো ঐসলামিক ফ্যান্টাসিতে ভোগেন। আর এটা তো আবেগ।

আমার প্রিয় দলেরা সুবিধা দেখলেই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলায়। আমি চাই তারা এইবার বিচারের কাজে সুবিধা দেখুক এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করুক। যদি সেই কাজ করে, আপনার কি মনে হয় না, তারা ঠিক কাজটাই করবে? আপনার কোনো প্রিয় দল তাতে চোট পেলে রাগ করবেন না তো? আর এতো টেনশন ন্যান ক্যান? আপনার ইউনুস সাহেব তো আছেই। উনি না দল খুলবেন? জামাত ব্যান হইলে আপনি ঐটাতে গিয়ে জয়েন করবেন। সমস্যা কোথায় হাসি ?

হ ভাই, আমি নাম কামাইতে চাই। নামের উপ্রে বড় বড় লোম গজাইয়া গেছে, কামাইয়া সাইজ করতে চাই। এইবার সিনাজুরি দেখাইয়া বলেন, জামাতে কে আছে আপনাদের গোত্রে? বলে ফেলেন, আর লজ্জা লাগলে বলেন যে বলতে লজ্জা লাগে। আমরা আমরাই তো!



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রেজওয়ান এর ছবি

আপনার আচরনে আপনি যুদ্ধাপরাধের বিচার চান বলে মনে হয়নি। আপনিও এই বিষয়টাকে পুজি করে নাম কামাতে চান। অন্ততঃ আমার তাই মনে হয়েছে। সাকা আপনার কাকা নাতো? অন্যদলে যুদ্ধাপরাধি থাকতে পারে এই রকম কোন কথাত কইলেননা। এইটার কারনকি? আপনার প্রিয় দলেরা সুবিধা দেখলেই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে হাত মিলায় এগুলানতো কইলেন না।

জামাতবান্ধবদের এই এক ট্রেডমার্ক, যুদ্ধাপরাধ ইত্যাদি ইস্যুতে কথা বলতে এলেই কোন এক রাজনৈতিক দলের লেজুড় জুড়ে দেওয়া। তারা হয়ত ভুলে যায় যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় লোকজন এই ১৬ কোটির দেশে হাতে গণা। বেশীরভাগ জনগণই ভোটের সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোট দেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না। তবে আদর্শগত কিছু বিষয়ে তারা কখনই কোন দলের ব্যানারে যায় না। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের প্রতিটি পরিবারেরই কেউ মারা গেছে বা নির্যাতিত হয়েছে বা শরণার্থী হয়েছে। তাদের এই ক্ষতিপূরণের জণ্যে বিচার চাওয়া তাদের নাগরিক অধিকার। এটি যদি কোন সরকার নাও করে জনগণের দাবী তাতে থেমে থাকবে না। ১৯৭১ সালে জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ আছে। স্বাধীনতার বিপক্ষে তাদের সবরকমের কর্মকান্ডের দলিল আছে। বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবেই তা যে সরকারের আমলেই হোক না কেন।

"অন্যদলে যুদ্ধাপরাধী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে না কেন?"
যে কেউ মামলা করলেই পারে - আমার জানামতে কাউকে থামানো তো হয় নি।

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

হিমু এর ছবি

রিয়াজ সাহেবের যুক্তিটা অনেকটা এরকম, অতীতে জামাতের সাথে লীগের রাজনৈতিক মিত্রতা হয়েছিলো, বর্তমানে জামাতের সাথে বিম্পির রাজনৈতিক মিত্রতা আছে, অতএব জামাতের সাত খুন মাফ। আর বিচারের উদ্যোগ নিলেই সেটা "দলীয় রাজনীতি"।

নিতান্ত মূর্খ না হলে একটা ব্যাপার সবার কাছেই পরিষ্কার যে এই বিচারের উদ্যোগটা সরকারকে নিতে হবে, কোনো বিচ্ছিন্ন ইনডিভিজুয়াল একা একা এই মামলা করে টিকতে পারবে না। আর সরকার গঠন করে কোনো না কোনো দল। অতএব বিচারের উদ্যোগ একটা দলীয় রাজনৈতিক উদ্যোগই। সেটা শুভ কি অশুভ, তা নিয়ে তর্ক করা যায়।

আজকে যদি দেশে সবাইকে পোলিওর টীকা দেয়ার জন্য কোনো সরকারী উদ্যোগ নেয়া হয়, সেটাও একটা দলীয় রাজনীতি। তো কী হইছে?

ইউনুস মিয়া দল খুলত পারে নাই, কিন্তু কিছু চামচা পয়দা কইরা থুইয়া গেছে। এত বড় রাজনৈতিক সাফল্য মনে হয় না দেশে আর কারো আছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

দ্রোহী এর ছবি

রিয়াজ উদ্দীন সাহেব, ব্যাপক আলুচনা কর্লেন, এবার ৫ জন রাজাকারের নাম বলেন দেখি?

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এই কেপিটেষ্ট শুরুতেই জরুরি ছিল ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

দ্রোহী এর ছবি

কী কর্বো!!! কেউ জিগায় না। অনন্যোপায় হয়ে আমি নিজেই ..... হে হে হে

রানা মেহের এর ছবি

রিয়াজ সাহেবের সচল একাউন্ট এখনো এক্টিভ আছে দেখে বিস্মিত হচ্ছি
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

স্পর্শ এর ছবি

এই মন্তব্যে বিস্মিত হলাম!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বাংলা ব্লগে নতুন একটা পরিভাষা যোগ হলো আরকি!

হেজিমোনি

অর্থঃ কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নাই, তাসের 'জ্যাক' এর মতোন । যেখানে লাগাবেন সেখানেই 'ফিট'।

উদাহরণঃ এই পোস্টে জনৈক আমলা'র কমেন্ট পড়িয়া আমজনতার পচুর পরিমানে হেজিমোনি আহরিত হইলো।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

আবু রেজা এর ছবি

::::::::::::::::::::::::::::
একমত।
:::::::::::::::::::::::::::
যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

ওয়াইল্ড-স্কোপ [অতিথি] এর ছবি

ওফফ! কারোই ফালাফালির সীমা নাই - সবার পয়েন্টই সবাই বুঝছে - আর কত ত্যানা প্যাচানি? ঘরে বসে রাজা উজির মারতে মারতে তো দেখি পক্ষে বিপক্ষে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গেছে। মতামত যথাযথ তথ্য / যুক্তি-তর্কেই সীমাবদ্ধ রাখি? আমার ধারণা ছিল ব্যক্তিগত আক্রমন সচলে কড়াভাবে নিরুত্সাহিত করা হয় - গায়েবী মডুদের ঘরে কি লোড-শেডিং-এ কারেন্ট চলে গেছে নাকি? আফসোস - এই ত্যানা প্যাচানি (ছেড়ে না দেয়া) স্পিরিটের ১% সদিচ্ছা সরকারের থাকলে এতদিনে জামাতসহ সকল যুদ্হাপরাধিদের বিচার হয়ে যেত! কৈ বাত নেহি - সামনে কি হয় দেখা যাক। ব্লগে ত্যানা প্যাচাইয়া বাই প্রডাক্ট হিসেবে অলরেডি বহুত নতুন নতুন অভিজাত শব্দ ব্লগস্ফিয়ারে যুক্ত হয়েছে চোখ টিপি

ইবরাহিম যুন [অতিথি] এর ছবি

রিয়াজ সাহেবের সচল একাউন্ট এখনো এক্টিভ আছে দেখে বিস্মিত হচ্ছি
রানা মেহের- এ ধরনের মন্তব্য করবেন না প্লিজ।
ষষঠ পান্ডব দা'র এই পোষ্টে রিয়াজ সাহেবের মন্তব্যে, হাসান ভাই যে উওর’টা দিলো সহজ কিনতু অসাধারন। আপনার কথা জানিনা তবে আমি এটা থেকে বঞ্ছিত হতাম। আরো আলোচনা ,সমালোচনা আসুক আমরা সচেতন হই। অন্যকে সচেতন করি।

ইবরাহিম যুন [অতিথি] এর ছবি

ষষ্ঠ পান্ডব দাদা'র এত ভাবনার দরকার নাই একটা ভাবনাই ভাবুন..
সরকারের ইচছা'টা কি ?

সুমন চৌধুরী এর ছবি

প্রচুর হেজিমনির মধ্যে আছি। গত এক সপ্তাহ ধইরা লগ ইন করতারি নাই। আজকেও করতাম না। কিন্তু এতক্ষণ ধইরা মন্তব্যগুলি পইড়া পচুর আনন্দ কাড়লাম।

রিয়াজ সাহেবের পচুর বাহাসের পরেও বুঝা গেলো না এই বিষয়গুলিতে তার বক্তব্য কী :

১. ১৯৭২ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হইছিল এবং সেইটা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার সামরিক ফরমান দিয়া বাতিল করছিল। পরে সেই সংশোধনীরে সেই সামরিক আমলারা ঊর্দি খুইলা সংসদে হালাল করছে এবং এই পুরা বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হইছে। এইটা কি তিনি জানেন?

২. জামাতের প্রতি সহানুভূতির উৎস কী? কোন রকম চ্যাও ম্যাও ছাড়া সরল গণিতের যুক্তিতে সরাসরি কি তিনি এর জবাব দিতে পারেন?

৩. জামাতের পরিণতি ইহুদীদের মতো হবে ক্যান? ইহুদীরাতো আর গণহত্যা করে নাই কাইজার রাইখে বা ভাইমার রিপাবলিকে। যখনই জামাতের সঙ্গে কোন ঐতিহাসিক তুলনার প্রসঙ্গ আসে তখন সেইটা শুধু মাত্র অ্যাডলফ হিটলারের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গেই করা হয়। আর সেই দলের সদস্য এবং সিম্প্যাথাইজারদের বিচার খুব মারাত্মক রকমের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়াই করা হইছে এবং হইতেছে। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী কারে কয় ঠিক কইরা জবাব দিতে কি তিনি পারবেন?

যদি পারেন দ্রুত দিয়া দিতে আজ্ঞা হয়।

প্রতিটা প্রশ্নের জন্য নম্বর ২। কোনটাই রচনামূলক প্রশ্ন না।



অজ্ঞাতবাস

ভন্ডবাতি এর ছবি

আজকে রিয়াজভাইকে দেখে আমার এক প্রিয় ব্লগারের কথা মনে পড়লো যিনি বলেছিলেন
"....দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে যেমন 'ওরা মানুষ না, ওরা ইহুদী' শ্লোগান শুরু করে দিয়েছিল নাজীরা, আপনারা সেভাবে 'ওরা মানুষ না, ওরা রাজাকার' কিংবা 'ওরা মানুষ না, ওরা জামাতী' খোদাই করে দেন মানুষের মনে..."।

সুমন চৌধুরী এর ছবি
দণ্ডিত পুরুষ [অতিথি] এর ছবি

এই পোস্টটির কিছু আলোচনা বেশ ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বেশি বিনোদন পেলাম রিয়াজ সাহেবের খুর দাবায়া আলোচনা।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হেজেমোনি রূপের খনি
লুলনগরে ঘানি টানি

দেখা হইল এক জাতের লগে
কইতে গেলে শরম লাগে

প্যাঁচে পড়লে হেরা সাধু সাজে
যুদ্ধাপরাধের হৈক্কর পুঁচে

সিস্টেমটা ভালই অগো
কথার পরে কথায় হাগো

মূলমন্তরো সুজা সিধা
ছাগুরাম অগো পিতা

বুইঝা যদি থাকবার না চাও
হেজেমোনি সুনারে লগে নাও

দেঁতো হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হেজেমোনি'র আঁতুড়ঘর কি এই পোস্টটি?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।