
কুলদা রায়
এমএমআর জালাল
মুসলমান খণ্ড—৩
- বাবা, কে বেশী পাওয়ারফুল ছিল, রামচন্দ্র না ফেলুদা?
- তোর কি মনে হয়?
- আমার তো মনে হ্য় ফেলুদা। পিস্তল নিয়ে মগনলালের সঙ্গে লড়াই করছে। ঠাঁঠাঁ ক'রে গুলি ছুড়ছে। কিন্তু বাবা, হুতুম্বার সঙ্গে কিন্তু কেউ পারবে না। তাইনা?
- তুইও না?
আমার বাবা প্রচন্ড ইমোশোনাল মানুষ ছিলেন। কোন কারণে তিনি দুঃখ পেলে মুখ দেখলেই বোঝা যেতো। এমনিতে তিনি ছিলেন খুব হাসিখুশি আর উচ্ছ্বল। কিন্তু কোন কারণে উদ্বিগ্ন আর মন খারাপ হলেই মুহূর্তের মধ্যে তাঁর পুরো চেহারা কালসিটে পড়ে যেতো। চোখের কোণ ভেজা হয়ে থাকতো। আর হয়তো আপনি একটু খেয়াল করলেই দেখতেন উনি পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমালটা বের করে চোখ মুছছেন।
খেতে বসে বাবার বিষম লেগে যায়। মুখে ভাত নিয়ে কী যেন বলতে চাইছিলেন, হঠাৎ কথাটা না বলতে গিয়েই গেল গলায় ভাত ঠেকে।
‘আহা, কী যে কর না! একটু রয়েসয়ে খেলেই তো পারো। দোকান কি তোমার পালিয়ে যাচ্ছে নাকি?’ মা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এসে বাবার মাথায় চাপড় দেন,‘একটু জল খাও। ঠিক হয়ে যাবে।’
আমার পুরনো ছাত্র পরিষ্কার বিদ্রোহ করেছে, আমার কাছ থেকে আজকে কিছুই শিখবে না। হ্যাঁ, আজ – এশিয়া কাপের ফাইনালের দিন। অথচ, আজকে কতো কিছুই না শেখানোর আছে। সকালে কিছুক্ষণ তর্ক করলাম, তারপর বিরক্ত হয়ে আমার একমাত্র জার্সিটা গায়ে চাপিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। দিকে দিকে শুধু বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, সবাই নানা ডিজাইনের জার্সি পরে কাজ করতে যাচ্ছে। বুঝলাম, ১১ জনের দলে পোষাচ্ছে না, আরও কয়েক কোটি মানুষ ওদের সাথে খেলতে চায়।
সহজ প্রেরণা নিয়ে পথে হেঁটে যাই, বসে থাকি।
সবারই প্রেরণা আছে, প্রেরণা বুঝেছে যারা তারা জানে;
প্রেরণার অপর নাম ভালোবাসা, অথবা প্রেম? যেভাবে যে নামেই ডাকোনা
কেন, প্রেরণারা তাড়া করে ফেরে, মহৎ স্বপ্নের জন্ম হয়, স্বপ্নেরা আশৈশব বেঁচে থাকে।
প্রতিটি স্বপ্ন মানে বিবিধ জীবন, জীবন কেবলইমাত্র একটি জীবন, ভালোবাসার তবুও মৃত্যু নেই;
আমি এভাবেই গড়েছি আমার জীবনের সংজ্ঞা।
ব্যাটে বলে স্বপ্ন সাজাই
আমরা ক'জন -
স্বপ্ন দেখ অযুত কোটি
লক্ষ ডজন !
গেলারীতে আলোর মিছিল
জয় ছিনিয়ে,
যাবতীয় দুঃখ ভুলে-
এমন করে হাসতে পারো আর কি নিয়ে ?
রাত পোহালে নতুন দিনে
নতুন করে -
বাংলাদেশের লাল সবুজে
এই পতাকার গর্ব বুকে রাখবো ধরে |
-- ঈষিকা