স্মৃতির ব্যাড সেক্টর থেকে (দুই)

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০১/২০১০ - ৩:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্মৃতিগুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু ঘটনা আংশিক ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে গেছে। কিছুতেই সেই অংশগুলো আর মনে করতে পারি না এখন। ভাবলাম স্থায়ীভাবে মস্তিষ্কের ব্যাড সেক্টরে পড়ে যাওয়ার আগেই কয়েকটা ঘটনাকে ডিজিটাল ডায়েরীতে টুকে রাখি ডিজিটাল বাংলাদেশের অ্যানালগ নাগরিক এই আমি! এটা তারই উদ্যোগ...

আমার অফিসিয়াল শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জে। প্রাইমারী স্কুলে আব্বা আমাকে যে সকাল বেলায় দিয়ে আসলেন, সন তারিখ মনে না থাকলেও সকালটার কথা মনে আছে বেশ। হেড স্যারের কক্ষে আমাকে বেশ কিছু প্রশ্নের সন্মুখীন হতে হয়েছিলো। প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার পর আমাকে দপ্তরী (কিংবা অন্য একজন শিক্ষক, মনে নেই) সাথে করে টানা বারান্দা ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে 'এল' আকৃতির ঠিক কোণার কক্ষটায় ঢুকিয়ে দিলো। আমি দরোজায় দাঁড়াতেই একটা মেয়ে ছুটে এসে আমাকে হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো। বসালো তার পাশেই। আমি তখন লজ্জাবতী লাজুকলতা। হেড স্যারের কক্ষ থেকে বের হয়ে মেঝের অপরূপ কারুকার্য থেকে চোখ ওপরেই ওঠেনি আর।

সকালটা সেভাবেই কেটে গেলো। মাথা নিচু করে, লাজুকলতা হয়ে। একটা মেয়ে আমাকে হাত ধরে টেনে এনে তার পাশে বসিয়েছে, এতেও বোধ'য় খানিকটা লজ্জা পাচ্ছিলাম। মেয়েটা নাম জিজ্ঞেস করেছে, আমি বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর ফিসফিসিয়ে নামটা বলেছিলাম তাকে, আর কাউকে না। পেছন থেকে 'দুষ্টু' ছেলেদের কেউ কেউ মাথায় টোকা দিচ্ছিলো, নাম জিজ্ঞেস করছিলো। আমি মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই মাথায় 'ঠুয়া' খাচ্ছিলাম। আমাকে রক্ষা করছিলো সেই মেয়েটি। আমার দিকে বাড়িয়ে আসা যেকোনো হাতকে সে আমার মাথা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই সরিয়ে দিচ্ছিলো। আমার হয়ে আমার নামটা নিজেই সবাইকে বলে দিচ্ছিলো। আমি লজ্জায় আরও সিঁটিয়ে যাচ্ছিলাম...।

'স্কুলে প্রথমদিন' নিয়ে এটা ছাড়া আমার আর কোনো স্মৃতিই অবশিষ্ট নেই। মাথা অনেক হাতড়ালাম, অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম, সেই মেয়েটার কিছুই আর আমার স্মৃতিতে অবশিষ্ট নেই। তার নাম মনে করতে পারলাম না! কেমন দেখতে ছিলো সে? পুরোপুরি না বলতে পারলেও কেনো যেনো মনে হচ্ছে তার মুখটা ছিলো গোল। তার গলার স্বর কি মনে আছে আমার! উঁহু, এখানে ভুল হতে পারে। আমার মস্তিষ্কে, আমার কানের কাছে মুখ এনে কারো নাম জিজ্ঞেস করার মতো গলার স্বর একটা আছে, কিন্তু সেটাই তার কিনা আমি অব্যর্থ হয়ে বলতে পারছি না। ও হারিয়ে গেছে আমার স্মৃতি থেকে...! কিছুদিন পর হয়তো ঐ অল্প অংশটুকুও হজম করে ফেলবে মস্তিষ্কের হাজার হাজার ক্ষুধার্ত নিউরন।

টু-তে ওঠার পর আমার একটা বন্ধু হলো, জনি। ও থাকতো দি বাওয়া জুট মিলস'এর ভেতর। তার বাবার চাকরীর সুবাদে। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর স্কুলের গেট দিয়ে বাইরে বেরিয়ে জনি চলে যেতো বা দিকে আমি চলে আসতাম ডান দিকে, উপজেলা কমপ্লেক্সের দিকে। এই দুই দিকে আরও অনেকেই যেতো, তাদের সাথে আমরাও যেতাম অথবা আমাদের সাথে তারা।

জনির ছিলো পোকায় খাওয়া দাঁত। সবগুলো। উপরের, নিচের দুই পাটির সবকটা দাঁতই পোকায় খাওয়া। একটা দাঁতও রেহাই পায়নি পোকার এটমিক আক্রমন থেকে। ও যখন হাসতো, আমি হা করে তাকিয়ে থাকতাম, ওর দাঁতের দিকে! ঠিক এখন, ওর হাসি দেয়া খোলা মুখটা কল্পনা করে আমার বড্ড হাসি পাচ্ছে। ইনফ্যাক্ট, আমি হাসছি, খিক খিক, একা ঘরে। সেইদিনগুলো থেকে বহুবছর পর। বহুদূরের শীতার্ত এক দেশের বদ্ধ কাঁচের জানালার উষ্ণ পাশে বসে, অঞ্জনের 'কাঞ্চন' শুনতে শুনতে...।

সজিব-মিতু, দু'ভাইবোন। তারা পড়তো থ্রি-তে, আমাদের এক ক্লাশ উপরে। তারাও থাকতো বাওয়া জুট মিলসে। জনি, সজিব, মিতু একই সঙ্গে স্কুলে আসতো, বাসায় ফিরতো। একদিন জনি এসে বললো, "তার মা আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছে।" বাওয়া জুট মিলসে কখনোই আমাদের, মানে বাইরের জনগণের ঢোকার অনুমতি মিলতো না। বাইরে থেকেই দেখতাম কেবল। ভেতরে 'কী জানি, কী' আছে! জনি'র আহ্বানে না দেখাকে দেখার আনন্দে লাফিয়ে উঠলো মন। কিন্তু পরক্ষণেই আব্বার প্যাচানো বেতের ভয়ে ইচ্ছেটা দুম করে মিইয়ে গেলো! সজিব-মিতু এসে আমাকে বোঝালো, "বেশি সময় তো লাগবে না। যাবা আর আসবা, আমরা এগিয়ে দিয়ে যাবো। আংকেল কিছু বলবেন না।"

মিতু মেয়েটা ভয়ানক মিষ্টি ছিলো। পটল চেরা চোখ যাকে বলে, তার ঐ চোখ ছিলো, এখন বুঝতে পারি। নাক সরু, লম্বাটে। ছিমছাম গড়ন। কথা বলতো খুব মিষ্টি করে। বলার সময় ওর চোখ নাচতো। একে তো সে এসে কাঁধে ধরে বুঝাচ্ছে তার উপর ভেতরে, জিনের গড়নে কোথাও নিয়ম ভাঙার অদম্য 'বাগ', আমি সজিব, মিতু আর জনি'র সাথে স্কুলের গেট পেরিয়ে, বের হয়ে বাম দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

বাওয়া জুট মিলস'এর গেট দিয়ে যখন ওদের সঙ্গে ঢুকলাম, মনে হচ্ছিলো বেশ বড় একটা অসাধ্য সাধন করে ফেলেছি আজ। খুশিতে লাফাতে ইচ্ছে করছিলো তখন। জনিদের বাসায় আন্টি অনেক আদর করলেন। বেশ হাসিখুশি মহিলা। অনেক কথা জিজ্ঞেস করলেন, অনেক গল্প করলেন। কিন্তু মোটামুটি একা একাই। কারণ এখানেও আমার একই অবস্থা হলো, আমি লজ্জায় মুখ তুলতে পারলাম না। মাথা নিচু করে চানাচুরের প্লেট থেকে বাদাম তুলে খাচ্ছিলাম কেবল। পুরোটা সময় কেটেছে আমার চানাচুর খেয়েই, একটা একটা করে।

দুপুরে জনির আব্বা এলেন অফিস থেকে, আমাকে দেখে খুশি হলেন নাকি বেজার হলেন বুঝলাম না। টুকটাক কথা বললেন। তারপর খেয়েদেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে চলে গেলেন। ভদ্রলোক একটু গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন বোধ'য়। জনির একটা ছোট বোন ছিলো। খুব দুষ্টুমী করছিলো, এটা মনে আছে। কিন্তু নামটা একেবারেই মনে নেই।

একটু পরেই সজিব-মিতু চলে এসেছে জনিদের বাসায়। আমরা এক সঙ্গে বের হয়ে গেলাম খেলতে, তাদের মাঠে। বাওয়া জুট মিলস-এর পেছন দিকে। শীতলক্ষ্যার পাড় ঘেঁষে, একটু ভেতরের দিকে। জুট মিলস'এর ইট-কাঠের জঞ্জাল যেখানে শেষ ঠিক সেখান থেকেই মাঠের শুরু। অদ্ভূত সবুজ, নিয়ম করে কাটা, কার্পেটের মতো ঘাস। দূরের এক পাশে, মাঠের যেখানে শেষ, কয়েকগুচ্ছ কাশফুলের ঝাড়। মাঠটা আস্তে আস্তে ঢালু হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মিশে গেছে। ওখানে ঢালাই দেয়া পাথরের চাঁই ফেলা। বিশাল বিশাল বজরা নামের প্রতি সুবিচার করে পাল তুলে এদিক-ওদিক যাচ্ছিলো হেলে-দুলে। যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো একটু পরপর শব্দ করে চলে যাচ্ছিলো। আমি, আমরা সেই অবারিত সবুজ ধরে দৌঁড়িয়েছি, কাশফুলের ডগা হাতে নিয়েছি, ফুল দিয়ে গায়ে সুড়সুড়ি দিয়েছি, পাথরের চাঁইয়ে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে শীতলক্ষ্যায় পা ভিজিয়েছি। পকেটে হাত দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আমরা লঞ্চের শব্দ শুনেছি। সজিব, মিতু, জনি আর আমি, আমরা চারজন।

আমার স্মৃতিপটে এই ছবিটা বেশ যত্ন করে আঁকা। "এই অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে, নির্ভয় নীলাকাশ রয়েছে নুয়ে"— গানটার এ জায়গাটায় এসে, আমি ঐ মাঠটাকেই দেখতে পাই। গানটা যখনই, যেভাবেই, যেখানেই আমি শুনেছি, কোনো ব্যাত্যয় ঘটেনি এর। অতো সুন্দর, শান্ত, মন ভালো করে দেয়া জায়গা আমি আর কখনো দেখিনি যে!

দি বাওয়া জুট মিলস বন্ধ হয়ে গেছে, সেই কবে! তারও আগে আমরা ছেড়ে এসেছি সে জায়গা। খুব সম্ভবতঃ তারও আগে জনিরা ছেড়েছিলো। তার বাবা বদলি হয়ে গিয়েছিলেন বলে (নাকি আমরাই আগে চলে গিয়েছিলাম, এখন আর মনে পড়ছে না)। কিন্তু বাওয়া জুট মিলস'এর সেই মাঠটা এখনও আমার মনের ভেতরে রয়ে গেছে, খুব যত্নে। আমার খুব ইচ্ছে, আমি আবারও যাবো জায়গাটায়। আবারও সেই অদ্ভূত সবুজ গালিচা ধরে দৌঁড়ে যাবো, কাশফুল ছিঁড়ে তা দিয়ে শরীরে সুড়সুড়ি দেবো, প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটু অবধি তুলে পাথরের চাঁইয়ে দাঁড়াবো শীতলক্ষ্যায় পা ভেজাবো বলে। পকেটে হাত দিয়ে আবারও আমি চুপচাপ লঞ্চের শব্দ শুনবো। পাল তোলা নৌকা গুনবো। মাঠের ঢালুতে মাথার নিচে হাত রেখে উপরে আকাশের সাদা মেঘ দেখবো। সেদিন হয়তো পোকায় খাওয়া দাঁতের জনি থাকবে না আমার পাশে, থাকবে না মিষ্টি মেয়ে মিতু কিংবা তার ভাই সজিব। কিন্তু একজন হয়তো অবশ্যই থাকবে। হাতভর্তি রেশমী চুড়ি, কলাপাতা কি ফিরোজা রঙের জামা পরা কেউ, যাকে আমি দেখবো আমার জীবনে দেখা সেরা সুন্দর জায়গাটার সাথে মিলিয়ে। যার সঙ্গে আমার সময়টা কাটবে শরতের আকাশে চোখ রেখে বস্তাপঁচা সব গল্প করে করে...।


মন্তব্য

অনিকেত এর ছবি

ধু গো এট হিজ বেস্ট---!!

চমৎকার স্মৃতিচারণ, ধু গো।
চমৎকার একটা স্মৃতিচারণের একটা লক্ষণ হলো, পাঠক নিজেকে ঐ স্মৃতির অংশ ভেবে নিতে পছন্দ করে।
তোমার লেখাটা পড়তে পড়তে বার বার হারিয়ে যাচ্ছিলাম সেই জুট মিলসের মাঠে, পা ভেজাচ্ছিলাম শীতলক্ষার জলে----

খুউব ভাল লাগল রে পাগলা, এমন একটা লেখার জন্যে জুট মিলসের ঐ খোলা মাঠের উদোম হাওয়া উপহার দিলাম---!!

নিরন্তর শুভেচ্ছা---!!

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা অনিকেত'দা।
এই স্মৃতিটা কেবলই স্মৃতি না আমার কাছে, একটা স্বপ্নও!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রাহিন হায়দার এর ছবি

আহ! শৈশব!! চলুক চলুক
বাকি স্মৃতিগুলো নিউরন হজম করে ফেলার আগেই ঝটপট লিখে ফেলেন।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লাগলো স্মৃতিচারণ।

বন্দর উপজেলা কি নারায়ণগন্জের বন্দর ? নদীর ওপারে এত রোমান্টিক জায়গা আছে জানতাম নাতো ।:)

--
ইমতিয়াজ মির্জা ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নদীর ওপাড়ের মেরিন (ফিশারিজ) একাডেমীতে গিয়েছেন কখনো? গেলে আর ফিরতে চাইতেন না, এতো ভালো লাগার মতো একটা জায়গা। কিন্তু বড্ড বেশি নিয়ম কানুন! মন খারাপ

আপনি কি নারায়নজঞ্জের বাসিন্দা?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

মেরিন একাডেমি তো ফিশারিজ না । আপনি যেমন ছোট বেলায় জুট মিলে ঘুরতেন -- আমরা নদী পার হয়ে মেরিনে যেতাম ।

আহ কি দারুন স্মৃতি সব । মেরিনের ঠিক উল্টা পারে আমার বাসা ছিলো । নিতাইগন্জ -খালঘাট হাসি

ভালো লাগলো আপনিও নারায়ণগন্জের বাসিন্দা জেনে ।

ভালো থাকুন ।

--
ইমতিয়াজ মির্জা

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নারায়নঞ্জের মেরিন একাডেমির পুরো নামটা কি? আমার মনে পড়ছে না। আমি নারায়নঞ্জের বাসিন্দা ছিলাম খুব অল্প সময়ের জন্যই। কিন্তু শহরটার সাথে আমার বড় হওয়ার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

নবীগঞ্জ মেলায় যেতেন? কিংবা আপনাদের এলাকার উল্টা পাড়ে একটু সরে এসে সেই বিখ্যাত সোনাইকান্দির হাট!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

মেরিন একাডেমিই তো নাম মনে পড়ছে । আমরা ডাকতাম মেরিনডিজেল।
আমি অবশ্য খাস নারায়ণগন্জ বাসিন্দা । বন্দর , মদনগন্জ ভালোই চষে বেড়ানো অভিজ্ঞতা আছে আমার ।

নবীগন্জের মেলায় ছোট বেলায় অনেক গেছি -- বড় হবার পর শেষ গিয়েছি বছর চারেক আগে। সব চেন্জ হয়ে গেছে -- এখন অনেক ঘিন্জি মেলা হয় -- আগে মনে আছে নদীর পাড়ে মেলা হতো ।
কদমরসূল দরগা। মেলায় ভবিষৎবাণী করা টিয়াগুলো কথা ইশ্পেশালী মনে আছে !

সোনাকান্দায় তো গরুর হাট হয় শুধু --এমনিতে হাট জমে কিনা মনে পড়ছে না ।

নৌকায় করে কয়লাঘাট, কাশীপুর যাওয়া দারুন অভিজ্ঞতা ছিলো ।
এখোনো নৌকা ভ্রমনগুলো মিস করি ।

আপনি কি নবীনগর কালীবাড়ি গিয়েছেন কখনো -- ওখানের নদীর পানি গুলো আশ্চর্য স্বচ্ছ ছিলো -- আর যাওয়ার পথে নদীর পানির দুই রং দেখা যেতো ।

অনেক কিছুই মনে পড়ে গেলো একবারে -- আসলেই ব্যাডসেক্টর পরে যাচ্ছে সব ।

রেশনুভা এর ছবি

কিন্তু একজন অবশ্যই থাকবে, কলাপাতা কি ফিরোজা রঙের জামা পরা কেউ, যাকে আমি দেখবো আমার জীবনে দেখা সেরা সুন্দর জায়গাটায় বসিয়ে। যার সঙ্গে আমার সময়টা কাটবে শরতের আকাশে চোখ রেখে বস্তাপঁচা সব গল্প করে করে...।

পভা নাকি? চোখ টিপি
অনেক সুন্দর লিখছেন বস।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- পভা'র কথা উঠলেই তো মিসেস 'নিধির মা' নজু গুতুম মাছের মতো পিছলাইয়া কৈ জানি চলে যায়! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

অসাধারণ!! মাঝে মাঝে তোমার লেখা পড়ে আমি তোমাকে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করি।
কি জানি হয় তাই না?! স্মৃতি জিনিসটাই বড় সাংঘাতিক!!

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সুজন ভাই দেঁতো হাসি

স্মৃতি জিনিষটা আসলেই সাংঘাতিক, বিশাল বড় বড় অক্সিজেন সিলিণ্ডার নিয়ে আমার পাশে পাশে হাঁটে। দম বন্ধ হয়ে গেলে যাতে কয়েক টান বিশুদ্ধ অক্সিজেনের সাপ্লাই দিতে পারি ফুসফুসকে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রাজিব মোস্তাফিজ [অতিথি] এর ছবি

কলাপাতা কি ফিরোজা রঙের জামা পরা
-- মানুষটার ব্যাপারে অনি:শেষ শুভ কামনা। লেখাটারে ভালু পাইলাম।

তিথীডোর এর ছবি

খুউব খুউব সুন্দর করে লিখেছেন ধুগোদা!!
ছেলেবেলার সবগুলো রঙিন পাতা চোখের সামনে ভেসে উঠুক এভাবেই...
পরের কিস্তি চাই, জলদি!

--------------------------------------------------
"সুন্দরের হাত থেকে ভিক্ষা নিতে বসেছে হৃদয়/
নদীতীরে, বৃক্ষমূলে, হেমন্তের পাতাঝরা ঘাসে..."

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ধুসর গোধূলি এর ছবি
মণিকা রশিদ এর ছবি

ভালো লাগলো খুব। নিজের বাল্যকালের কথা খুব মনে এসে যাচ্ছে। আমিও বড় হয়েছি এক ছিমছাম ছোট্ট শহরে, কোথায় যেন তাই স্মৃতির খুব মিল। খুব মায়া ভরা লেখা। ____________________________
শান্তিও যদি সিংহের মত গর্জায়, তাকে ডরাই।
--নরেশ গুহ

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- লিখে ফেলুন, ফটাফট। উত্তর প্রজন্মের কাছে একটা 'টোকেন' রেখে যান কেমন কাটিয়েছেন সময়টা!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ভেড়া এর ছবি

মনোযোগ ধরে রাখতে পারি নাই । মন খারাপ পড়া হই নাই তাই ।

তুলিরেখা এর ছবি

লেখা বড় মধুর হইছে গো মহাশয়।
ইস্কুলের প্রথম দিনের সেই মায়াবতী মেয়েটার নাম মনে নাই মুখ মনে নাই তো কি, হয়তো সে আজ কারুর শ্যালিকা। হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- খালি নিজেই শালিকা? আমার তো মনেহয় সে নিজেই এখন শালিকা তৈরীর কারখানা!
শুধু আফসুস রয়ে গেলো, সেই মেয়েটার নাম আমি জানলাম না!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

শৈশবে কুড়িগ্রামের এক পাড়াগায়ে বেড়াতে গেছিলাম একবার, সেসবের এখন কিছুই মনে নাই, শুধু মনে আছে সে বাড়ির এক মিষ্টি বালিকার কথা! এমনই হয় বুঝি!
..................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বাংলাদেশের ঐ কোণাটা নিয়ে আমি ভয়াবহ রকমের রোমাঞ্চিত! আপনার সেই মিষ্টি বালিকাকে না দেখি, আমাকে যেতেই হবে ঐ শহরগুলোতে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার স্মৃতিচারণ, ধুসর গোধূলি। খুবই ভাল লাগল। আমি বলব শৈশবের অনেক স্মৃতিই কিন্তু চমৎকারভাবে আপনার মনে আছে।

স্মৃতিচারণ কিন্তু মানুষটা সম্পর্কে একটা ধরনাও দেয়।

শৈশবের স্মৃতি নিউরন হজম করার ব্যাপারটাও আমার কাছে বেশ রহস্যময়ই মনে হয়। একটা উদাহরণ দেই। কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক, বর্তমানে ৭৮ বছর বয়স, একটা ইমেইল পাঠিয়েছেন তাঁর শৈশবের কিছু স্মৃতিচারণ করে। তিনি বাংলাদেশে শৈশব কাটিয়ে এগারো বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর শৈশব কাটিয়েছেন আমি যেখানে বড় হয়েছি সেখানে। কিছু ভুলে যাওয়া নাম, কিছু জায়গার বর্ণনা তাঁর শৈশবের স্মৃতি থেকে এমন অবিকল ভাবে তুলে এনেছেন যে আমি ভীষণ অবাক হয়ে গেছলাম... যেন সেই সেদিনের ঘটনা। সারা জ়ীবন অধ্যাপনায় থাকা সেই ভদ্রলোক চমৎকার একটা ভূমিকাও দিয়েছিলেন ... উত্তর পুরুষের কাছে পূর্বপুরুষের দায় সম্পর্কে...।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- লিখতে গিয়ে খেয়াল করলাম মনে আছে অনেক কিছু, টুকুটাকি। উপজেলা কমপ্লেক্সের চারদিকের দেয়ালের বাইরের যে গ্রাম, বালিয়াকান্দি। মশাররফ, যে দুধের মধ্যে পানি মিশিয়ে বেচতো বলে আমাদের ধারণা ছিলো। আমরা দেয়াল টপকে ঐ পাড় গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম তাদের ঘরে তাকিয়ে। তাদের বাড়ির পাশেই ছিলো নুরুলদের বাড়ি। স্থানীয়দের মধ্যে সেই ছিলো সমবয়সী। এখন কতো হবে তার বয়স? ত্রিশ! কে জানে কোথায় আছে ও। ইচ্ছে আছে, মদনগঞ্জ গিয়ে তাদের বাড়িতে যাবো। তার মাকে বলবো, "দেখেন তো খালাম্মা চিনতে পারেন কিনা!" তিনি চিনতে পারবেন না। আমি তখন একে একে আমার স্মৃতির ঝুলি খুলবো!

উজ্জল ভাই, এমিলি আপা'রা মনেহয় এতোদিনে বার্ধক্যের কোঠায় চলে গেছেন। বিশাল শর্ষেক্ষেত পেরিয়ে ছিলো তাদের দোতলা বাড়ি। সেখানেও যাওয়া যায়। কিন্তু ঐ দিকটা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু নিউরনে জমা নেই! ঈশ, তারা কেউ সচল পড়ে না কেনো??

স্মৃতিচারণ করতে করতে যেমন খুঁটিনাটি অনেক কিছুই মনে ভেসে ওঠে তেমনি আবার অনেক কিছুই শত চেষ্টাতেও আর মনে করা যায় না।

উত্তর পুরুষের কাছে পূর্ব পুরুষের দায়, কথাটা ভালো লেগেছে। তাঁকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বন্দর, মদনগঞ্জ, শীতলক্ষ্যা নিয়ে যা স্মৃতি আছে তা শুধু নিউরণেই জমা রাখুন; ভুলেও ওদিকে আর পা বাড়াবেন না। বাওয়া জুট মিল আর নেই, নেই রেললাইন, উইলসন রোড এখন রিকশামুখর-ধুলায় ধুসর, শীতলক্ষ্যার পানি এখন কালো তেলের মত, কাশবন এখন ভূমিদস্যুদের কবলে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সময়ের সাথে, পারিপার্শ্বিকতার নিষ্ঠুর কষাঘাতে সবকিছুই বদলায় পাণ্ডব'দা, এটা আমি জানি, মানিও। কিন্তু কেনো যেন মনে হয় আমার সেই জায়গাটা এখনও আছে। আমি গেলেই দেখতে পাবো।

লাইটহাউজ সিনেমা হল ছাড়িয়ে তার পাশ দিয়ে একটা ইট বিছানো রাস্তা শীতলক্ষ্যার দিকে চলে গিয়ে একটা মাঠে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেই মাঠটাও অনেক সুন্দর তবে, বাওয়া জুট মিলের সেই মাঠের মতো এতো অদ্ভূত সুন্দর না।

শীতলক্ষ্যার জল কালো হয়ে গেলেও মাঠগুলো নিশ্চই আছে। আমি সেই মাঠগুলোতেই যাবো। আমার শৈশবকে আলিঙ্গন করবো। বুকভরে সেসময়ের নিঃশ্বাস নেবো। ফিরে যাবো সেই দিনগুলিতে...

যাবেন আপনি আমার সাথে, পাণ্ডব'দা?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ঢাকায় এসে একবার শুধু হাঁক দেন রে ভাই! যদি মরে না যাই, অসুস্থ্য-অথর্ব হয়ে না পড়ি, অপ্রত্যাশিত ভেজালে পড়ে জীবনটা যদি তছনছ হয়ে না যায় তবে অবশ্যই আপনাকে নিয়ে যাব।

গুলিস্তান থেকে বাসে বা কমলাপুর থেকে লোকাল ট্রেনে করে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছে আমরা ষ্টেশনের কাছে মাউড়া হোটেলে গরুর লাল ঝোলে ডুবিয়ে তন্দুর খাব। তারপর গুদারা পার হয়ে বন্দর পৌঁছে যাব। রিক্‌শা নিয়ে আমরা চলে যাব আপনার হারানো পৃথিবীর খোঁজে।

এখনকার বাসিন্দারা আপনাকে দেখলে একটু অবাক, একটু কৌতুহলী, একটু বিরক্ত হবে। বয়সের কারণে কেউ কেউ হয়তো আপনাকে সন্দেহের চোখেও দেখবে। তবে চিন্তার কিছু নেই, সাথে এই টাকমাথার মুরুব্বী থাকলে লোকে বিশেষ সন্দেহ প্রকাশ করতে পারবে না।

বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানীগুলো আর নানা রকমের ধান্দায় ব্যস্ত মানুষগুলোর নানা ব্যবসার ভীড়ে আপনার হারানো পৃথিবীকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও আশা হারাবেন না। আপনার আকাশকে কে চুরি করতে পারবে বলুন? নদী নোংরা হয়েছে সত্য কিন্তু সে তো আগের মতই বয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড় ভূমিদস্যুরা দখল করেছে সত্য তবু হঠাৎ হঠাৎ কোথাও কোথাও কাশবন মাথাচাড়া দেয়। থেকে থেকে এক একটা জায়গা পাওয়া যায় যেখানে সময় স্তব্ধ হয়ে গেছে।

যখন সত্যি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন তখন আবার এপাড়ে ফিরে আসবো। এবার পথ ধরবো কাইক্যারটেক হাট-কদম রসুলের দরগার। নদী পাড় হয়ে আমরা এম সার্কাস, বরফকলের মাঠ, বিবি মরিয়ম, কুমুদিনী, ব্যাপ্টিস্ট চার্চ, অক্সিজেন গেট পার হয়ে যাব বোস কেবিনে। সেখানে ভরপেট খেয়ে মিষ্টিমুখের জমাট দই আর আদর্শ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরোটা-ভাজি কিনে ঢাকায় ফিরবো।

কি, পছন্দ হয় আমার প্ল্যান?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আপনার প্ল্যান শুনে পাণ্ডব'দা, ভেতরের গুটিশুটি মেরে থাকা অস্তিত্ব লাফিয়ে উঠলো। চলুন, স্বপ্নের বাস্তবায়ন করি। ভূমিদস্যুরা কাশফুলের ঝোঁপ কেড়ে নিতে হয়তো পেরেছে, কিন্তু আমার/আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে নি।
স্বপ্ন কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই, কারোই না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রাফি এর ছবি

দারুণ লেখা; স্মৃতিকাতরতা এবং এ সম্পর্কিত লেখা নিয়ে অনিকেত'দার মন্তব্যে সহমত।
চলুক

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

অতিথি লেখক এর ছবি

পাগল হয়া যাবো! ধুর মিয়া এইভাবে লিখেন ক্যান?!?
আমার স্মৃতিরা কেন জানি বেশি দিন থাকতে রাজি হয়না। তবুও অনেক অনেক কিছু রয়ে গেছে।

নিকষ কালো ঐ আঁধারে, স্মৃতিরা সব খেলা করে।
থাকে শুধু নির্জনতা। নির্জনতায় আমি একা...............................

(কার গান মনে নেই)

ও আরেকটা কথা, আপনি যারে নিয়া হাটবেন, ঘুরবেন, যার চেহারার দিকে তাকায়া থাকবেন..........তার একখান বইন থাকিলে খুবই ভালু হয়!!..... ....... (মানে আপনের বিয়া হইলে তো...........খালি জায়গাটা ভরাইতে হবে না!!!)

আমিই তানভী |

ধুসর গোধূলি এর ছবি
:D এর ছবি

paper rhyme

নাশতারান এর ছবি

সোনালী শৈশব ! মন খারাপ হাসি :|

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

ধু গো, আপনার স্মৃতির জায়গায় আপনার সাথেই ঘুরে এলাম।লেখাটা ভীষণ ছুঁয়ে গেল।
কেমন মন খারাপ হয়ে গেল মনে হচ্ছে।
তবে স্মৃতির জায়গায় বোধ হয় না যাওযাই ভাল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সব স্মৃতির জায়গায় যাবো না, কিন্তু কয়েকটা জায়গায় তো যেতেই হবে। যাওয়া উচিৎ আসলে।

আপনার করা মন্তব্যগুলোও আমাকে ছুঁয়ে যায় অনিন্দিতা চৌধুরী। ধন্যবাদ আপনাকে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

আলমগীর এর ছবি

পুরা তুলারাশি কারবার দেখি!
'হাসিনা তুই যাগা' ধরনের কোন ডিলিটেড সিন পাইলাম না মন খারাপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ডিলিটেড সিন তখনো তৈরী হয় নাই আলমগীর ভাই। হাসিনারা তখনো আসে নাই। হাসি

দেখি, খুঁজতেছি একটা 'ডিলিটেড সিন', পাইলে জানামুনে। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাইসাব কি তুলারাশি নাকি??

আমিও কিন্তু........তাইতো কই এত্ত মিল ক্যান!! হাসি

আর গানটা কোন এক অখ্যাত ব্যন্ডের। একলা একলা বসে শুনলে মনটাই কেমন জানি খারাপ হয়ে যায়............বেশ কয়েক বার শুনেছি, কিন্তু ব্যান্ডের নাম খেয়াল করিনি।

আমিই তানভী |

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কী জানি গো ভাইসাব, বাটি চালান দেয়া, আয়না পড়া দেয়ার বড়ই শখ আছিলো জীবনে। কিন্তু হয় নাই। আমারে কোনো পড়া দেনেঅলা, চালান দেনেঅলা নিতে চায় না! মন খারাপ

তুলা রাশি নাকি বালু রাশি, কৈতে পারি না। তয় নিন্দুকেরা মাঝে মাঝে লায়ন কিং-এর গান শোনায়। "ইন দ্য জাঙ্গল, মাইটি জাঙ্গল, সিংখ ঘুমায় আজি!"

"একলা হলো একলা থাকা,
একই আকাশে ঘর-
একলা আমি, একলা ঘরে
সারা জীবন ভর।
একলা হলো শান্ত জীবন,
ভব তরণীর ঢেউ
হাত বাড়ালে হাত জড়াতে-
আসে নাতো কেউ..."

এই গানটা শুনছেন কখনো?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ফাহিম এর ছবি

হাতভর্তি রেশমী চুড়ি, কলাপাতা কি ফিরোজা রঙের জামা পরা কেউ, যাকে আমি দেখবো আমার জীবনে দেখা সেরা সুন্দর জায়গাটার সাথে মিলিয়ে। যার সঙ্গে আমার সময়টা কাটবে শরতের আকাশে চোখ রেখে বস্তাপঁচা সব গল্প করে করে...।

এমন কেউ কি আর আছে? দেখি না তো। চারপাশে শুধু লোভী চোখ দেখি, যারা রেশমী চুড়িতে খুশি হয় না, সোনার কাঁকন ছাড়া মন ভরে না যাদের।

=======================
যদি আমি চলে যাই নক্ষত্রের পারে —
জানি আমি, তুমি আর আসিবে না খুঁজিতে আমারে!

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

কী আছে জীবনে!

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধুসর গোধূলি এর ছবি
শুভ [অতিথি] এর ছবি

ধূগোদা,তুমি নারায়ণগন্জ এর !এখানে বসে শুধু দিন গুনি,কবে দেখবো আমার প্রিয় শহর টা কে; তোমার লেখা পড়ে এক নিমিষেই চলে গিয়েছিলাম সেখানে ।খুব চম‍ৎকার হয়েছে লেখাটা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নারে ভাই, আমি নারায়নগঞ্জের না। প্রাইমারী স্কুলিংটা হয়েছে (বন্দর উপজেলায়) মদনগঞ্জে।

বাই দ্য ওয়ে, আমি কি আপনার নিকট পরিচিত কোনোভাবে?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

পুতুল এর ছবি

জামাইর ট্যাগ ছাড়া বউগো কি কুনো দাম নাই; মাইনষে মাইনষেরে এম্নেই
ভুইল্যা যায়!
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- গরীবের দুঃসময়ে চামে চিকনে নিজের শার্টের কলারটা ঝাঁকাইয়া গেলেন? মন খারাপ

আমার কী দোষ, ভাবী ধুগো'র শেষে আবার 'দা' লাগাইছে দেখেই তো কনফিউজড হয়ে গেছি। আমি ভীতু মানুষ, দাও বটি দেখলে ডরামু না?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বৌদি কি নারায়ণগঞ্জের? নারায়ণগঞ্জের কোন জায়গার? কোন সময় সেখানে থাকতেন?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

মুগ্ধ হলাম!

দুর্দান্ত এর ছবি

হাওয়াই মিঠাই এর মত লাগলো। মিষ্টি রেশ থেকে যায়।
---
"হাতভর্তি রেশমী চুড়ি, কলাপাতা কি ফিরোজা রঙের জামা পরা কেউ" অনেক ভাগ্যবতি (হবে)।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অনেকদিন হাওয়াই মিঠাই খাই না। এবার ক্রিসমাস মার্কেটে খাবো খাবো করেও খাওয়া হলো না! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হাসিব এর ছবি

পোচুর জিনিস বায়রায় আস্চে ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এরশাদের মার্শল ল এর সময়ে আমি জেলা স্কুলে পড়ি। হেঁটে হেঁটে যেতাম ১ মাইলের মতো পথ। জেলা স্কুলের কাছেই গার্লস স্কুল। তার সামনে বুলু ভাই তার সাপের ঝাঁপি নিয়ে খেলা দেখাতো আর তাবিজ বিক্রি করতো। বুলু ভাই এমন তাবিজও বেচত যেটা রাতের বেলা কারো বুকের উপর রাখলে সে নাকি হর হর করে গোপন সব কথা বলে দিতো।

পোস্ট পড়ে ভাবছি ধূগো'র বুকের উপর কে ঐ তাবিজটা রাখলো চিন্তিত

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নাহ্ পিপিদা, আপনিও 'দুষ্টু' হয়ে যাচ্ছেন! গার্লস ইস্কুলের সামনে আপনিও ঘোরাফেরা করতেন! আর আপনি কিনা আমাকেই গার্লস স্কুলের সামনে বুলু ভাইয়ের বেচা তাবিজের ভিক্টিম বানাতে চান! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হো হো হো

ওটা যাওয়া আসার পথে পড়তো।

শেখ নজরুল এর ছবি

আত্মকথন, স্মৃতিকথন যাই বলি না কেন?- খুব ভালো লেগেছে।

শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

অভ্রনীল এর ছবি

গুরু বরাবরের মতই উদ্বাস্তু সৌন্দর্য হইসে। আপনেতো মিয়া ছোটলোকবেলা* থেকেই নারীবেষ্টিত** হয়া সেরম আছিলেন!

(*লোকজনের ছোটবেলাকে ছোটলোকবেলা বলে)
(**জনি-সজীব দুধভাত)
_______________

এক ছাগলের দুই কান,
তুই আমার জানের জান।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অভ্রনীল এর ছবি

উদ্বাস্তু সৌন্দর্য হইলো গিয়া সেই সৌন্দর্য যেটা এতই সৌন্দর্যমন্ডিত যে তাকে রাখার মত জায়গা পাওয়া যায়না... দেঁতো হাসি
_______________

এক ছাগলের দুই কান,
তুই আমার জানের জান।

মৃত্তিকা এর ছবি

ভীষণ সুন্দর কয়েকটি খন্ড চিত্র দেখা হয়ে গেলো লেখাটা পড়তে পড়তে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ছেলেবেলার কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট আছে। সবারই এই এক জায়গায় ভয়ঙ্কর রকমের মিল। আমি নিশ্চিত জানি কয়েকটি খণ্ডচিত্র দেখার পাশাপাশি আপনার ছেলেবেলার সেই মৌলিক জায়গা গুলোতেও আপনি পা রাখতে পেরেছেন মাটির মানুষ।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মামুন হক এর ছবি

লেখা দুর্দান্ত হয়েছে। হাতে ধরে একটানে শৈশবে নিয়ে গেলা ভাই। মনটাই খারাব হয়ে গেলরে পাগলা ধুগো। এমন লেখা বেশি ঘন ঘন ছাড়িস না, পড়লে সব ছেড়ে ছুড়ে দেশে ফিরে যেতে মন চায়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- দেশে ফেরা আর শৈশবে ফেরা এক কথা হৈলো? শৈশবে ফিরতে হলে আপনাকে দেশে ফিরতে হবে না, এটা অবশ্য আমার মত! আমি এখানেও আমার শৈশবে দৌঁড়ে বেড়াই, নাচি-গাই, লাফাই। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

১.
আপ্নে মিয়া "চুডুকাল" থেকেই লুল্পুরুষ!

২.
লেখাটা খুব চমৎকার হয়েছে। বুকের ভেতর কোথায় যেন ছুরি দিয়ে পোঁচ মারে!

ধুসর গোধূলি এর ছবি
হাসিব এর ছবি

সেইজন্যই বললাম বহুত কিছু জানা গেছে এই পুস্ট থিকা ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্যান, পুস্টের আগে জানতেন না?
আমি কি আপনের মতো "চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে" গানের ভক্ত নাকি? চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হাসিব এর ছবি

আরে পোস্টের আগে আমি জানতাম না আমি এতো ভালো একটা লুক । এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আরে পোস্টের আগে আমি জানতাম না আমি এতো ভালো একটা লুক
হাসিব্বাই, 'ল' এর জায়গায় 'ক' আইসা দুম কইরা বইসা পড়ছে। বানান ঠিক্করেন। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এই চমৎকার লেখাটার জন্যে ক্রুসেড মুলতবি রাক্লাম। নচেৎ ভইর‌্যা দিতাম...

আমার এখন আবার শৈশব নিয়া কিসুমিসু লেক্তে মঞ্চাইতেসে...

_________________________________________

সেরিওজা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
ওডিন এর ছবি

ধুর মিয়া, এখন এইটা পড়াই ঠিক হয় নাই। মাত্র কিছু টাকাপয়সা আসলো পকেটে- খুব ভালোভালো একটা ভাব আস্তেছিলো, আর এমন সময় আপনার এমুন 'পেতিভার সাক্ষর'- ধেত্তেরি।

সপ্তাখানিক আগে ভূতের গলির ভেতর দিয়ে হেঁটে ফিরছিলাম- প্রায় বছর চারেক পরে গেলাম সেইদিকে। ভয়াবহরকমের বদলে গেছে রাস্তাটা। দানবীয় সব অ্যাপার্টমেন্ট উঠেছে, পুরনো গাছগুলোর কিছুই আর নেই। অথচ আমার দেখা ঢাকা শহরের সবচে' সবচে' সবচে' সুন্দর রাস্তাগুলো ছিলো সেন্ট্রাল রোড-নর্থ রোড- ভূতের গলি এলাকাটায়- অন্তত নিরানব্বই-দুইহাজার পর্যন্ত।

স্মৃতির জায়গাগুলোয় মনে হয় আসলেই ফেরত না যাওয়া ভালো। হতচ্ছাড়া ছেলেবেলা এখন আর মন খারাপ করে দেয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে, পকেটে টাকা পয়সা আসলে তো ভাবসাব এমনিতেই হাই থাকার কথা। তখন অন্যকোনো পেতিভা ঐদিকে হাদুমপাদুম করার চান্স পায় না। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

কিছু মনে করবেন না, আপনি যে আমলের কথা বললেন সেই আমলে আমিও নর্থ রোডে ছিলাম। আমার কাছে তো জায়গাটা জঘন্য লাগতো। সরু রাস্তা, অন্ধকার-অন্ধকার, ময়লায় ভরা, এক আমাদের গলিটাতেই ত্রিশটা ম্যানহোল ছিল। গাছ কোথায় ছিল দেখতে পাইনি। আমাদের বাসাটাতে কেবল কয়েকটা নারকেল গাছ ছিল।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

হারিয়ে যাওয়ার আগেই আরও সব স্মৃতি, যতোগুলো এবং যতোটুকু পারেন, ডিজিটাইজ করে ফেলেন হাসি

দারুণ লাগলো লেখা।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, অসাধারন একটা লেখা পড়লাম, আপনে গুরু গুরু গুরু গুরু আর ব্যাড সেক্টর ছড়ায় পড়ার আগে ব্লগ এ বার্ণ কইরা ফালান সব
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ধুসর গোধূলি এর ছবি
আকতার আহমেদ এর ছবি

ভেতরটা একদম নাড়ায়া দিলেন,বস!

আশফাক এর ছবি

ধুগোদা'র নারীভাগ্য দেখে হিংসায় মারা যাচ্ছি হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আর নারী ভাগ্য! ছোটবেলায় কতোজনের কাছে শুনলাম, বউ নাকি আমারে অনেক আদর মাদর করবো। তো সেইটা যে করবো, তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তার তো কার্যত কোনো ফল দেখতেছি না! শেষমেশ এই নারীভাগ্য আমার নরকে গিয়া হলিউডি আর বলিউডি নাইকাদের সাথেই দেখাইতে হবে মনে হচ্ছে! মন খারাপ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

"এই অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে, নির্ভয় নীলাকাশ রয়েছে নুয়ে" - গানটার এই জায়গায় এসে আমি ঐ মাঠটাকেই দেখতে পাই। গানটা যখনই যেখানেই যেভাবেই আমি শুনেছি, কোন ব্যত্যয় ঘটেনি এর। অত সুন্দর, শান্ত, মন ভালো করে দেয়া জায়গা আমি আর কখনো দেখিনি যে।

অনেকদিন পরে আবার একবার পড়া হলো... মাঝে মাঝে দেখে আমার বেশ আক্ষেপ হয় আপনার মতন এই রকম গুছায়ে স্মৃতির ব্যাডসেক্টর থেকে জিনিসপত্র হাতড়ে বের করে ফেলতে পারি না বলে। আসলে স্মৃতি রোমন্থন এক জিনিস আর সেটা অন্যকে পড়িয়ে তাদেরকেও নিজের স্মৃতির প্রতি নস্টালজিক করে ফেলতে পারার অ্যাবিলিটি অন্য জিনিস...

তবে মনে হলো অন্যান্য অনেক লেখার থেকে এইটা অনেক অনেক যত্ন নিয়ে লেখা, যেন অনেকক্ষণ ধরে কথাগুলো মাথার মধ্যে নাড়াচারা করে করে লেখা... আমার ভুলও হতে পারে অবশ্য...

যাই হোক, এর আগে মন্তব্য করা হয় নাই, এখন আবার পরে আবারও একই রকম ভালো লাগলো সেইটা বলতেই লগালাম।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

যত্ন ফত্ন না। আমার সব লেখাই একই সিস্টেমে লেখা। বসে টাইপ করতে থাকি, ডিকটেশন আসতে থাকে হেড অপিশ থেকে।

তবে, একটা মজার ব্যাপার হইছে। এই সিরিজটার জন্য একটা থিম মিউজিক খুঁজতেছিলাম মনে মনে। কালকে পেয়ে গেলাম একজনের কল্যানে। এই মিউজিকটাই হলো 'স্মৃতির ব্যাড সেক্টর' এর থিম মিউজিক...

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

হয়তো যে স্মৃতিগুলো বেশি যত্ন করে লালিত সেগুলোর ডিকটেশন বেশি চমৎকার হয়।

যাই হোক, এইটা সিক্রেট গার্ডেনের বেশ নামকরা ট্র্যাক। আমার অবশ্য সামান্য প্যানপেনে মনে হয় (নো সারপ্রাইজ দেয়ার)। এইটা শুনেছেন, এটা কেমন? -

বাই দ্য ওয়ে, এই সিনেমাটা না দেখে থাকলে অবশ্যই দেখতে বলবো, আর কোন মন্তব্য করার যোগ্যতা মনে হয় না আমার আছে, তবে সাউন্ডট্র্যাক পুরোটাই দারুণ এইটা বলতে পারি।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এই ক'দিনে অনেক সিনেমাই জমে গেছে না দেখার তালিকায়। কয়েকদিন আগেও 'প্রতিদিন একটি সিনেমা' প্রজেক্ট হাতে নেওয়া ছিলো। মাঝখানে ব্যস্ততা আমারে এমনই লোহিত সূত্র বের করে দিলো পেছন দিয়ে যে মাটিতে থাবড়ায়ে কান্দার একটা সুযোগও হাতছাড়া হয়ে গেলো! আর এখন চাবি দেওয়া গাড়ির মতো চলতেই আছি তো চলতেই আছি। ব্যস্ততা থাকুক বা না থাকুক, একটা ভাব ধরে থাকি। তাই এখন সিনেমা দেখার হাদুমপাদুম কম। চান্স পাইলেই সাউথ পার্ক দেখি। দেখতে দেখতে ঘুমাই, জাগতে জাগতে দেখি।

তবে, আপনে যখন কৈতাছেন। দেখবানে। সিক্রেট গার্ডেনের কথা আর কৈয়েন না। অমানুষিক সব।

ফারহানা_জিসা এর ছবি

এখন আমার ফী'টা পাঠায়ে দেন চোখ টিপি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।