নজমুল আলবাব শুকনো মুখে বেরিয়ে আসে জঙ্গল ছেড়ে। তারপর হাঁটু পর্যন্ত কাদা ঠেলে এসে নৌকায় ওঠে হাঁচড়ে পাঁচড়ে।
বলি, "ছবি তুলতে পাল্লেন কিছু?"
নজমুল আলবাব বিড়বিড় করে কী যেন বলে। সম্ভবত গালি দেয় আমাকে।
বনরক্ষী ফজলু শেখ চুপচাপ বসে ছিলো নৌকার পাটাতনে, আলবাব তাকে বলে, "ভাই পা ধুইতে হবে।"
ফজলু শেখ সংক্ষেপে বলে, "ধুয়ে ফেলেন।"
গত প্রায় দুই বছর ধরে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হয়ে যাওয়াটা মোটামুটি সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই সুন্দরবন এখন প্রাকৃতিক আশ্চর্যের সেরা সাতের লিস্ট থেকে বের হয়ে চৌদ্দটার লিস্টে রয়ে গেল। এই সপ্তাশ্চর্য না হওয়াই আবার প্রমাণ করল যে বাঙ্গালী কত চৌদ্দ আশ্চর্যের।
আর মাত্র ১৪১ দিন বাকি, দেরি করবেন না।
সুন্দরবন গ্যাছো কখনো
না
আবদুল ওয়াহাবকে চেনো?
কিছুটা চিনি। ফটোগ্রাফার মুস্তাফিজ ভাইয়ের ছবিব্লগে আর লীলেন্দার সাকিন সুন্দরবনে তার কথা শুনেছি। অসম্ভব সাহসী সে। বাঘের সাথে লড়েছে। ডাকাতদলকে বন্দুক যুদ্ধে হারিয়ে দিয়েছে। পচাব্দি গাজীর পাশের গ্রামের বাড়ি।
সালাউদ্দিন বাপ্পীকে চেনো?
কাঠ মধু মাছের উৎস আর বাঘের আস্তানার বাইরে সুন্দরবনকে নিয়ে আমাদের ভাবনা কতদিনের? ৭২ সাল পর্যন্ত বাঘকে আমরা জানতাম উপদ্রব; শিকার করলে পুরস্কার মিলত। হরিণ ছিল মৃগয়ার উপকরণ। তার বাইরে সুন্দরবনের বাকিটা ছিল মৌয়াল বাউলি কিংবা বনবিভাগের কর্মীদের নৈমিত্তিক পানসে জীবন...
শরীরটা সামনে ঝুঁকিয়ে হাতলের শেষ মাথায় শক্ত করে বাম হাত আর একটু উপরের দিকে আলতো করে ডান হাত রেখে কুড়ালটা বাগিয়ে ধরে আব্দুল ওহাব। তার হাত আর শরীরের এই পজিশন সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কোপ মারার পজিশন। কোপ মারার আগে হাত আর মেরুদণ্ড একসাথে পেছনে গিয়ে একসাথে নেমে আসবে সামনে। অর্ধেক সেকেন্ড সময় লাগবে কুড়াল মাথার উপর তুলতে আর বাকি অর্ধেক সেকেন্ডে হ্যাপ করে নেমে আসবে সামনে। সোজা কুড়ালের ফালিটা গিয়ে ভ্যাৎ করে গে