বাংলা নিয়ে বিদেশে হতাশা

সাইফ তাহসিন এর ছবি
লিখেছেন সাইফ তাহসিন (তারিখ: মঙ্গল, ২৮/০৭/২০০৯ - ৬:৫৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ডেলাওয়ারে আসার পর পর যে এখানে কোন বাঙালীকে চিনতাম না, তা মনে কয় কয়েক লাখবার সচলায়তনে বলে ফেলেছি। প্রায় এক বছরের মাথায় আমার শ্বশুর আসেন আমার শালীর সমাবর্তনে (ধুগোদার আবার দাঁতের ঝিলিক দেখলাম)। তিনি এসে তার এক বন্ধুর বন্ধু এর খোঁজ বের করেন ডেলাওয়ারে। তাঁর মাধ্যমে পরিচয় হয় আরো প্রায় ৩০টা বাঙালী পরিবারের সাথে। এত বাঙালী পরিবারের সাথে পরিচিত হয়ে আমি আর আমার স্ত্রীতো আনন্দে আটখানা। তারপরে দাওয়াতও পেলাম কয়েকটা। প্রথম দাওয়াত ছিল এক ডাক্তার সাহেবের বাসায়। সেখানে গিয়ে মহা খুশিতে সবার সাথে গল্প করছি, এমন সময় এক ‘ভাইজান’ (সব কয়টাই আমার বাপের বয়সি,কিন্তু কড়া নির্দেশ ভাই বলতে হবে, আংকেল ডাকলে তারা আবার অপমানিত বোধ করেন) দেখি তার পুত্রের পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছেন, আর সিড়ির দোড় গোড়ায় এসে যখন ধরলেন, তখন বললেন, "বাবা, একটা বাইট দাও"

কথাটা শুনেই রাগে ঘৃনায় আমার সারা শরীর জ্বলে উঠল। মনে হল গিয়ে নলি চেপে ধরে বলি, কুত্তার বাচ্চা, কি বললি তুই? একটা 'বাইট' দাও? শুওয়ের বাচ্চা, কোন সাহসে তুই বাংলাকে এভাবে ধর্ষন করছিস? কে তোকে এই অধিকার দিয়েছে? একটা কামড় দাও বললে কি হ্য় বান্দীর পোলা, তোর পোলায় খাইব না? আমি কোন ভাবে রাগ সামলাতে না পেরে বাসায় বাইরে চলে যাই, মুক্ত হাওয়ায় যদি মাথা একটু ঠান্ডা হয় আরকি? এ কী ধারা শুরু হয়েছে? যে শিশুকে শুরুতেই শেখানো হচ্ছে, বাংরেজী, সে বড় হয়ে বাংলা শিখবে কেন?

এ পর্যায়ে এসে সবাই বলবেন, তারা তো শিশু, আস্তে আস্তে তারা বুঝতে শিখবে। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত একজন প্রবাসী শিশু দেখি নাই, যে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে বাংলায় কথা বলে। তাদের মাঝে কয়েকজন শুনলে হয়ত বুঝতে পারে, বেশীর তাও পারে না। তাদের বাবা-মারও কোন বিকার নেই। কয়েকজন তো গর্বের সাথে বলে ফেললেন, আমার মেয়ে তো বাংলা পারে না, তবে দেশে গিয়েছিল, ১ মাস ছিল, তখন খুব সুন্দর বাংলা শিখে ফেলেছে। আপনারা কী লক্ষ করেছেন, গত লাইনটায় সেই বেটা কত বড় সত্য স্বীকার করে ফেলেছে? ১ মাসে তার মেয়ে বাংলা শিখে গেছে, তার কারন কী? তা আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারছেন। কারন দেশে গেছে সেখানে তার সাথে সবাই বাংলায় কথা বলেছে, ফলে বাংলা শিখতে তাকে কোন বেগ পেতে হয়নি। শিশুদের মন হল কাদার মত, যেভাবে আকার দিবেন, সে আকার ধারণ করবে।

যাই হোক,ঐ ‘ভাইজানকে’ আমার যে মাইর দিতে ইচ্ছা করেছিল কী বলব, খালি নতুন বলে কিছু বলি নাই। পরের বার যখন সুযোগ পেয়ে বলেছি, তারপর থেকে আমাকে আর দাওয়াতে ডাকা হয় না।

তার মানে কী দাড়ালো? তারা বাংলা শেখাতেই চান না, নাহলে তারা ঠিকই শিখে যেত। অনেকেই বলবেন, আমার মেয়ে সামারাও তো পরিষ্কার বাংলা বলে না। আমি মুক্ত কন্ঠে স্বীকার করব, হ্যাঁ, সে পরিষ্কার করে না বললেও বাংলায় ই কথা বলে। বাংলা ছড়াও পারে, ইংরেজী উচ্চারণ ভঙ্গী হবার কারন টেলিভিশন। যথেস্ট পরিমান এবং আকর্ষনীয় বাংলা কার্টুন না থাকাকেও আমি এখানে দায়ী করব এর জন্যে। তবে আমরাও তার জন্যে কিছুটা দোষী। আমরা যদি তাকে ইংরেজী কার্টুন দেখা থেকে বিরত রাখতাম তাহলে হয়ত সে শুদ্ধ বাংলাই শিখত।

আমার এক আত্মীয় আছেন নিউ ইয়র্কে, তাঁরা তাদের একমাত্র ছেলে মাহিনকে সবসময় বাংলাতে কথা বলতে শিখিয়েছেন। জ্ঞান হবার পর থেকে সে শুধু মা-বাবার কাছ থেকে বাংলাই শুনেছে, সে জন্যে সে ঝরঝরে বাংলা বলে। ইংরেজী কার্টুন দেখার কারনে আমার মেয়ে বাংলা, ইংরেজী দুটোই শিখেছে এবং সে প্রতিটা জিনিষেরই বাংলা এবং ইংরেজী জানে, একসাথে দুটোই বলতে থাকে। কিন্তু চকলেট নিয়ে এসে অন্তত বলে না, বাবা চকলেট "ওপেন" করে দাও। খুলে দিতে বলে। এ পর্যায়ে এসে অনেকে হয়ত বলবেন, আমরা বাঙালী, কিন্তু বিদেশে এসে যারা যে দেশে জন্ম নিয়েছে তারা তো সে দেশী রীতিনীতিতে বড় হবে, সেখানের ভাষা শিখবে, আমরা জোর করব কেন? আর ইস্কুলে গেলে ইংরেজী দরকার আছে, নাহলে তারা পেরে উঠবে না। সেটা যদি সত্যি হত তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞরা বারবার আমাকে বাংলা শিখাতে বলত না, যতবার সামারাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছি, প্রতিবারই ডাক্তার আমাকে বলেছে, তোমার ভাষায় জোর দাও, নাহলে কিন্তু সে তোমার ভাষা শিখবে না।

কেউ কেউ আবার হয়ত বলবেন, আহা! সেদিন কী সুন্দর অনুষ্ঠানই না হল, সবাই দল বেঁধে বাংলা গানের তালে তালে নাচল, মাথা দুলিয়ে কোরাস গাইল। আমি এইসব অনুষ্ঠানের বিপক্ষে না। কিন্তু গিয়ে ঐ বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন তো, তারা কি কিছু বুঝেছে? নাকি যা বলা হয়েছে শুধু অন্ধের মত তা করে গেছে? এত ত্যাগ তিতিক্ষার পরে অর্জিত বাংলা ভাষার প্রতি দায় সারা ভাবে বছরে একদিন অনুষ্ঠান করলে দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল? আপনারা বলবেন, অনুষ্ঠান তো অন্তত করেছি, নাহলে তো তাও হত না। এ ধরনের কথা বলা মাত্র চরম ভাবে অপদস্থ হতে হবে সবার সামনে। আমরা শক্তের ভক্ত, নরমের যম, কাজেই এই সকল পিতামাতাকে এমন ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে যে, বাংলা শেখাও নাহয় অপমানের বোঝা নেমে আসবে ঘাড়ে।

আমার আরেক আত্মীয় আছেন নিউ ইয়র্কে, তিনি বুক চেতিয়ে বললেন, আমার মেয়ে আমেরিকা এসে বাংলা ভুলে গেছে। আমি সেখানে ছিলাম না। থাকলে ঠাস করে থাপ্পড় লাগিয়ে দিতাম। মাহিনের বাবা ছিল, তিনি তাকে গ্যাঁক করে চেপে ধরলেন। বললেন, আপনে যে কথাটা বললেন সেটা কী বুঝে বললেন? আপনে কি বুঝলেন, যে ব্যাপারটা কতটা লজ্জার। যেভাবে বুক ফুলিয়ে বলছেন, তাতে তো মনে হয় না যে, আপনে মানসিক ভাবে সুস্থ! বাংলা ভুলে যাওয়াটা গর্বের হয় কিভাবে? বাংলা ভুলে যাবার জন্যে আপনাকে জুতা পেটা করা দরকার। একটা সাত বছরের মেয়ে বাংলাদেশ থেকে এসে বাংলা ভুলে কিভাবে? এ যেন পুরা “ঢাকা শহর আইসা বাত্তি দেইখা মাথা ঘুরাইসে” মার্কা অবস্থা। বেশীর ভাগ প্রবাসী বাঙালীর পরিবারে এ অবস্থা। যত উচ্চ বিত্তের দিকে যাবেন, তত যেন বাংলা জানাটা খ্যাত হবার লক্ষন।

আমি এ ব্যাপার নিয়ে যতই ভাবি, আমার মাথা ততই গরম হতে থাকে। ভেবে পাই না, এই গ্যাড়াকল থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে কিভাবে উদ্ধার করা যায়। এতক্ষনে হয়ত আপনারা বলবেন, পুরানো প্যাচাল পাড়ছেন কেন? এ নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে এখানে। খামোখা পানি ঘোলা করে কি লাভ? আমি বলব, আলোচনা হয়েছে মানছি, কিন্তু কোন কার্যকরী সমাধান তো পাই নি। প্রবাসী বাঙালীরা আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় লঘু কিন্তু তারা সকলেই আমার সোনার বাংলার প্রতিনিধি। কাজেই তাদের একজনও যদি ঠিক না থাকে, তাহলে সে সমাজে আমাদের মুখ ছোট হয়, তার আশে পাশে যারা আছেন, তারা ভাববেন, এ ব্যাটা কত বড় রাম ছাগল, যেন বেশ্যার বেটা, নিজের পরিচয় জানে না। আপনারা আমাকে এর একখানা সমাধান বাতলে দেন---কোন পথে এগুলে আমি আমার আশেপাশের লোকজনকে পথে আনতে পারব।

এখন একটু অন্যদের দিকে চেয়ে দেখুন, চাঙ্কুদের আমরা এত গালি দেই, অথচ যারা এদেশে জন্মেছে, তারা সমান ভাবে চাইনিজ এবং ইংরেজীতে পারদর্শী। মেক্সিকানরা, তাদের কী অবস্থা, ইংরেজী এবং স্প্যানিশ, দুটোই কিন্তু তারা ভালো পারে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? অবশ্যই সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। এ ব্যাপারে কোথাও কথা বললেই সবাই ভ্রুঁ কুচকে তাকান। খুব কম মানুষ পাচ্ছি যারা আমার সাথে সহমত। তারা বাংলাকে বিসর্জন দেবার জন্যে প্রস্তুত। বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় তারা দেশে। এটাই কি তাদের অহংকার? আর তার জোরেই বাংলাকে ত্যাজ্য করছেন? আমি জানি না এ সমস্যার সমাধান কী! তবে আমি দৃঢ় সংকল্প নিয়েছি, যেখানেই এমন দেখব, সেখানেই চেপে ধরব সেই বাচ্চার বাবা মা কে, তাদের কি এতটুকু লজ্জা নেই! এমন বেহায়ার মত ইংরেজদের পশ্চাতদেশ লেহন করছেন তারা! এক পর্যায়ে প্রবাসী বাঙালীরা বাংলা ভুলে যাবে এবং আমাদেরই দোষারোপ করবে, কারন আমরাই শিখাইনি এদেরকে আমাদের ঐতিহ্য। ২০০ বছর ব্রিটিশদের গোলামী করেও শিক্ষা হয়নি আমাদের? এখন আবার আমাদের পরবর্তী বংশধরদেরকে দিয়ে আমাদের মাতৃভাষাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে হবে?


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কিছু কিছু বাচ্চা আছে খুব দ্রুত বাংলা ভুলে যায়। কিছু কিছু বাচ্চা তার পরিবার থেকেই বাংলা ভুলে যাওয়া শেখে। আবার অনেকেই আছে যারা ঘরে কখনোই বাংলা ছাড়া কথা বলেনা। সেটাও পরিবার থেকেই পাওয়া।

আমার বাচ্চাকে ছোট্টকাল থেকেই বাংলা টিভি দেখিয়েছি। হিন্দী চ্যানেল বা গান একেবারেই বন্ধ। ফলে হয়েছে কি, বাংলাটা ভালোমতো ইনস্টল হয়েছে। এখন ইংরেজীর জায়গায় সে ইংরেজী বলে, বাসায় বাংলা। আমি মনে করি, এ পর্যন্ত আমি সফল। ভবিষ্যতে কী হবে বলা মুশকিল।

পরিবার সবচেয়ে বড় শিক্ষালয়। তাই পরিবারের ভূমিকা অন্যতম। যারা বাংলার সাথে ইংরেজী বলে তাদের পরিবারের হয়তো কিছুটা ভূমিকা রয়েছে, তবে সেটা শিশুর উপরও নির্ভর করে। সব শিশু একরকম ভাবে সবকিছু গ্রহণ করেনা। তোমরা তো ডাক্তার, তোমরাই ভালো বলতে পারবে। হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

পরিবার সবচেয়ে বড় শিক্ষালয়।

পিপিদা, আপনার সাথে একমত, আমার পয়েন্টও সেটাই, বাবা-মা যদি মনে করেন বাঙলা সেখালে তারা সমাজে খ্যাত হয়ে যাবেন, তাহলে কিভাবে চলবে? আর শিশুরা একভাবে সবকিছু গ্রহন করে না, কথা সত্য কিন্তু তাদের বোঝার বয়সের আগেই কিন্তু ভাষা শিখে, কাজেই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হলেও আমার হিসাবে তা করা উচিত। সবাই যে আমার সাথে সহমত হবেন, তা আমি আশা করি না, আর আপনাদের মতামত জানতে চাই বলেই এই লেখার জন্ম

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

shazia এর ছবি

ঢাকা শহর আইসা বাত্তি দেইখা মাথা ঘুরাইসে======>কি হনু রে, ঢাকা শহরে আনু রে.

সাইফ তাহসিন এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

তবে আমি দৃঢ় সংকল্প নিয়েছি, যেখানেই এমন দেখব, সেখানেই চেপে ধরব সেই বাচ্চার বাবা মা কে, তাদের কি এতটুকু লজ্জা নেই! এমন বেহায়ার মত ইংরেজদের পশ্চাতদেশ লেহন করছেন তারা!

কথাটা শুনেই রাগে ঘৃনায় আমার সারা শরীর জ্বলে উঠল। মনে হল গিয়ে নলি চেপে ধরে বলি, কুত্তার বাচ্চা, কি বললি তুই? একটা 'বাইট' দাও? শুওয়ের বাচ্চা, কোন সাহসে তুই বাঙলাকে এভাবে ধর্ষন করছিস? কে তোকে এই অধিকার দিয়েছে? একটা কামড় দাও বললে কি হ্য় বান্দীর পোলা, তোর পোলায় খাইব না? আমি কোন ভাবে রাগ সামলাতে না পেরে বাসায় বাইরে চলে যাই, মুক্ত হাওয়ায় যদি মাথা একটু ঠান্ডা হয় আরকি?

সাইফ, খুব শিগগিরই আপনাদের সাথে দেখা হবার কথা - কিন্তু, আমার মতো বাংলা ধর্ষকের বাড়িতে কি আপনার পদধূলি পড়বে! হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনে যদি সত্যি বাঙলা বর্জন করে থাকেন, তাহলে দৌড়ে আসব আপনার বাসায়, আর আপনার মতামতটাও আমার মতের মতই সমান মূল্যবান, যদি বর্জন করে থাকেন আরকি। তবে আমার মাথা আসলেও খুব গরম হয় যখন দেখি ঘটা করে কেউ বাঙলা বর্জন করে এবং সে ব্যাপারে সে খুব গর্বিত। আপনাকে আমি চিনি না, শুধু আপনার লেখা পড়েছি, তারপরও আমার মনে হয় না আপনে এ ব্যাপারে কখনও গর্ব বোধ করবেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

বাংলা 'বর্জন' করার প্রশ্ন আসলো কোথা থেকে? আপনি তো লিখেছেন যেসব বাবা মা ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো বাংলা শেখাচ্ছেন না, অথবা কথার মধ্যে (অনাবশ্যক) ইংরেজী শব্দ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন তাদের ইংরেজ/ইংরেজীর পশ্চাদ্দেশ লেহন করা নিয়ে।

আমি কেন, আমার বাংরেজ মেয়েও তো বাংলা বর্জন করে নি! প্রথমে তো বর্জন, তারপর তো গর্ববোধ - দিল্লী বহুৎ দূর!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আসলে আপু আমার লেখাটা তাদের কে ফোকাস করেই, যারা বাঙলাকে বর্জন করেছে, যারা শেখাতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের কে নিয়ে না। আমি আপনাকে মনে হয় ভুল বুঝিয়েছি আর ভুল বলে থাকলে ক্ষমা প্রার্থী। সাফল্য আসবে এমন তো কোন কথা নেই, কিন্তু চেষ্টা না করে হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কিন্তু, আমার মতো বাংলা ধর্ষকের বাড়িতে

আসলে আপনার এই কথাটা আমাকে বিভ্রান্ত করেছে, মাথাটা আসলে আমার খুব গরম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

একটা ব্যাপারে আপনাকে ক্রেডিট দিতে বাধ্য হচ্ছি - আপনার মাথা গরম হয় যেমন মুহূর্তের মধ্যে, ভালোভাবে বললে মনে হয় সেটা ঠান্ডাও হয় তাড়াতাড়িই হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এ জিনিষ বুঝতে প্রজাপতির লেগেছিল ৩ মাস, আপনে দেখি ১ ঘন্টায় বুঝে গেছেন, আপনে আসলেও নমস্য: গুরু গুরু

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রজাপতি [অতিথি] এর ছবি

আপনার লেখার বিষয়বস্তুটা খুবই গুরুত্বপূর্ন ও সময় উপযোগী। প্রবাসী অনেকেরই সন্তানদের দেখি বাংলার চাইতে ইংলিশে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। এতে পরিবারিক পরিবেশ যতটূকু প্রভাব ফেলতে পারে সেই সাথে যাকে শিখানো হচ্ছে তারও ভুমিকা আছে। বাসায় বাংলা বলার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষার অনুষ্ঠানগুলো দেখে যেভাবে নিজে থেকে শিখছে, তেমনি করে বাংলাটাও যেন নিজে থেকে আনন্দময় ভাবে শিখতে পারে সেরকম কার্যকর পথ খুজে বের করা উচিত বলে মনে করি।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ইমিগ্রেশন জিনিসটা মোটামুটি ওয়ান-ওয়ে। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অবশ্যই শেখানো উচিৎ। কিন্তু আমেরিকাতে বেড়ে ওঠা একটা শিশু প্রথমত আমেরিকান, তারপরে বাকি সব। এটা শুধু এখনকার বাংলাদেশী বা ভারতীয় বাচ্চাদের জন্য সত্য না। একশো বছর আগে নিউইয়র্কে সদ্য আগত ইটালিয়ান অভিবাসী, বা শিকাগোর পোলিশ সম্প্রদায়, বা উত্তরের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ইমিগ্র্যান্ট - সবাইকেই একই রাস্তায় যেতে হয়েছে। আমেরিকা-কে এই জন্য বলে graveyard of languages

আর প্রথম জেনারেশন যখন জোরপূর্বক পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টিগ্রেশন ঠেকিয়ে রাখে, তার পরিণাম কি রকম হতে পারে, তার উদাহরণ ইউরোপের প্রতিটি দেশেই পাবেন। আপনি হিস্পানিকদের কথা বলেছেন। ওদের তরুণ সমাজের পড়াশোনার হার অনেকটা বৃটেনের সিলেটি বা পাকিস্তানী তরুণদের সাথে তুলনীয়। সংস্কৃতি ধরে রেখেছে ষোল আনা। কিন্তু পড়াশোনা আর আয়-উন্নতির বেলায় মূলধারার থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে গেছে।

দেশ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তটা আসে শুরুতেই, প্লেনে প্রথম পা রাখা থেকে। এরপরে বাকি সবই জোড়া-তালি বা ঠেক দিয়ে রাখা। এই যুদ্ধে কোন জেতা নেই। তবে মনকষ্ট আছে প্রচুর। অন্তত যতদিন না পিতা-মাতা মনস্থির করছে যে, না, দেশের সন্তান দেশেই মানুষ করবো।

সেটা আর কয়জন করতে পারে?
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

স্নিগ্ধা এর ছবি

সুবিনয়, আপনার মন্তব্যটা এতোই ভালো লাগলো যে এই প্রসঙ্গে আর কোন কথা বলবো না ভেবেও - হাসি

বাংলা শেখানো বা জানাটা জরুরী হতে পারে, কিন্তু তার চাইতেও জরুরী কি নয় উন্নাসিকতা বাদ দেয়া, একটু কম স্বার্থপর হওয়া, সাধারণভাবে 'মানুষের' জন্য মায়ামমতা থাকা? কই, সেটা নিয়ে তো খুব বেশী প্রবাসীকে মাথা ঘামাতে দেখি না? বাংলা জানবে, কিছুটা ধর্ম পালন করবে, মুরুব্বীদের দেখলে সালাম দেবে, বাংলা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে - কিন্তু ওই রিচুয়াল পালন পর্যন্তই, একটা অখন্ড মানুষ হিসেবে তাদের কী শেখানো হচ্ছে সেটা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা দেখি না। বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের 'শিকড়'টা জানলো, তাকে তথাকথিত সম্মান দেখালো - তারপর?

আর বাংলার প্রতি যদি এতোই ভালোবাসা - কয়জনের ছেলেমেয়ের (ডাকনাম নয়, ভালোনাম) নাম বাংলা?

যুধিষ্ঠির এর ছবি

কিছু একটা বিস্তারিত লিখতে যাচ্ছিলাম, তার আগে সুবিনয় আর স্নিগ্ধার এই অসাধারণ মন্তব্যদুটো। সর্বাংশে সহমত।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কিন্তু তার চাইতেও জরুরী কি নয় উন্নাসিকতা বাদ দেয়া, একটু কম স্বার্থপর হওয়া, সাধারণভাবে 'মানুষের' জন্য মায়ামমতা থাকা?
আপু আপনার এ কথাটাও কিন্তু সমান ভাবে মূল্যবান। এ ব্যাপারে আমি আলাদা লেখা দিতে চেয়েছিলাম, আপনে ফোকাস করে ফেলেছেন।

আর নামকরনের ক্ষেত্রে আপু আামরা কিন্তু অর্থযুক্ত আরবি ঘেষা। সে কারনে বাঙলা নাম রাখা হয় না, আর অবশ্যই সেটা দোষের, আর এই দোষে আমি নিজেই দুষ্ট মন খারাপ, এখানে ধর্ম চলে আসে, আর ধর্ম তো পুরাই বিশ্বাস নির্ভর, যুক্তি দিয়ে তা বিচার করা যায় না। কথাটা খুবই হাস্যকর হলেও সত্যি।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ইমিগ্রেশন জিনিসটা মোটামুটি ওয়ান-ওয়ে। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অবশ্যই শেখানো উচিৎ। কিন্তু আমেরিকাতে বেড়ে ওঠা একটা শিশু প্রথমত আমেরিকান, তারপরে বাকি সব।

সুবিনয়দা, আপনার সাথে একমত, শুধু বাংলাদেশী না, যে দেশে সে আছে, তার ঐতিহ্যও সেখানো উচিত। আমার সমস্যা শুধু বাঙলা বর্জনে। আর তা নিয়ে বুক ফুলিয়ে মানুষের করা গর্ব। যখন অশিক্ষিত কেউ এ কাজ করে, তখন নাহয় কিছু প্রবোধ মিলে যে, গ্রামের থেকে এসেছে, ছাগলামি করতেই পারে, কিন্তু যারা উচ্চ শিক্ষিত তাদের কেন এ হাল হবে!

আর আপনার এ কথাও ঠিক যে, হিস্পানিকরা এখনও তাদের অশিক্ষার গন্ডি থেকে বের হতে পারে নি। আর আয়রনির শেষ নেই তাদের, তারা ধার্মিক, মেয়েরা ১৫ পেরোতেই কোলে বাচ্চা, যার কোন বাবা নেই, এবোর্শন করা যাবে না, ধর্মে নিষেধ আছে, কিন্তু বিয়ে ছাড়া গর্ভবতী হতে কোন বাধা নেই :S। কিন্তু চান্কুদের ক্ষেত্রে কিন্তু বলতে পারবেন না, তারা অশিক্ষিত।

তাছাড়া, উদাহরণ দেবার সময় আমরা কেন যেন খালি ব্যর্থতার দিকটা টানি সবার আগে, আমরা ব্যর্থতার পেছনে না দৌড়ে নিজেরা একটি উদাহরণ হিসাবে কী দাড়াতে পারি না?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

আমার ব্যক্তিগত অভিগ্গতায় কেবল হিস্পানিকদের দেখেছি যে দ্বিতীয় প্রজন্ম পূর্বপুরুষের ভাষা ভালোমত বলতে পারছে। কারনটা স্নিগ্ধা বলেছেন - স্প্যানিশ মোটামুটি সে দেশের দ্বিতীয় ভাষা হয়ে গেছে। সে তুলনায় চাইনিজ বংশোদ্ভূত ছেলেপেলেদের দেখিনি অতটা ফ্লুয়েন্ট চাইনিজ জানে। আমার দেখায় হয়তো পরেনি।

তবে মূল কথা সেটা না। মূল কথা অন্যত্র। আমরা কেন বিদেশে এসেছি? আমরা বিদেশ থেকে কি চাই? আমাদের সন্তানদের জন্য কি চাই? ওদের আইডেন্টিটি কি হবে? আমার আইডেন্টিটি বা কি হবে? আমি ধারণা করছি (ভূল হলে থামিয়ে দিয়েন) - আপনি আমেরিকাতে মোটামুটি স্থায়ী অভিবাসী হিসেবে এসেছেন। একদিন হয়তো পাসপোর্ট হবে। তখন নিজেকে কি বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন? শুধু বাংলাদেশী? নাকি বাংলাদেশী আমেরিকান? যদি কেউ নিজেকে সিটিজেন হয়ে যাবার পরেও (জেনারেল উদাহরণ দিচ্ছি) আমেরিকান বলতে সংকোচ বোধ করেন, সেটা কতখানি যুক্তিযুক্ত হবে? তার পেছনে কি কারন? আমরা কি শুধু সাদা লোকের ডলার, পাউন্ড আর ইউরোর লোভেই বিদেশে পড়ে থাকবো? আর দিন-রাত চেষ্টা করবো যেন এই ফিরিংগির ভাষা, কালচার যেন আমাকে, আমার পরিবারকে কোনভাবে 'কলুষিত' না করে? যদিও তার লাল-নীল পাসপোর্ট আর কারেন্সির পদলেহন করতে আমার কোনই আপত্তি নেই।

আর সন্তানের কি আইডেন্টিটি হলে আমি খুশী হবো? পূর্বপুরুষের যে একটা দেশ, জাতি, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ছিল, সেটা কতখানি আছে তার ভেতর, কতখানি থাকবে? আরো একটু এগোলে - সেটা নিয়ে কতদূর পর্যন্ত যেতে চাই? সেই সন্তান যদি ভিনদেশী, ভিন্নধর্মী বিয়ে করে, সেটা নিয়ে কি কান্নাকাটি করবো? যদি নাতি নাতনী এক বিন্দু বাংলাও না জানে বা বোঝে, সূরা কলেমা না জানে সেটা নিয়ে কি কষ্ট পাবো? কষ্ট কি পাওয়া উচিত? আমিই তো এখানে এসেছিলাম, ওদের বয়ে এনেছিলাম। এত কষ্ট আর ত্যা্গ কিসের জন্য তাহলে?

অনেক উদাহরণ আসবে, দুদিক থেকেই। কে কি শিখাতে পেরেছে, কে পারেনি। কেউ সেই কষ্টটা দেন, তাতে ফল হয়। কেউ কষ্ট করেও কোন ফল পান না। কেউ কোন কষ্টই করেন না। সন্তানকে স্ট্রেইট বিদেশী হিসেবে বড় হতে দিতে কোন অসুবিধা বোধ করেন না। আমি এককালে হয়তো মানুষকে জাজ করতাম। আজকাল আর করি না। বিদেশ জিনিসটাই খুব উদ্ভট। প্রবাসীদের মনের ভেতর যত রকমের সুখ দুঃখ যন্ত্রণা একাকীত্ব হাহাকার অপরাধবোধ দিনরাত কিলবিল করছে, সে সবের ভেতর দিয়েও যে তারা মাথা ঠান্ডা রেখে চাকরি বাকরি করে নিজেদের একটা ঠাই করে ফেলতে পারেন, নানা প্রতিকূলতার ভেতরে পরিবার পরিজন সুস্থ সবল ভাবে মানুষ করতে পারেন, সেটাই বেশ বিরাট অর্জন মনে হয়।

অনেক বাজে প্যাঁচাল পারলাম। কেউ কিছু মনে নিয়েন না।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সকল যুক্তি হাতে পাবার জন্যই তো ব্লগ লেখা। আর আপনার মতামত বা বিশ্লেষন আমি সবসময়ই খুব সম্মানের চোখে দেখি। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস তো হবেই, আর সময়ের সাথে সাথে একটু একটু করে আমাদের বাঙালীপনা ঝরে পড়বে, এ কোন না কোন এক সময় হবেই। আমার সন্তান তো আর বাঙলাদেশী না, আমার পয়েন্ট টা বরাবরই বাব-মার জন্যে, আমরা কি করেছি, কি ফলাফল পেয়েছি তা তো পরের ব্যাপার। আমি চাই, সবাই একটু হলেও চেষ্টা করুক, না পারলে স্বীকার করুক যে, ভাই আমি পারি নাই। চেষ্টা না করা নিয়ে গর্বটা আমার গা জ্বালার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

দুর্দান্ত! সুবিনয়দা, দুর্দান্ত!
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বাচ্চারা ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড় সমস্যা হল বাপ যদি দাবী করে সেও বাংলা ভুলে গ্যাছে। একজন সিনিয়র আংকেল আছেন। তিনি পিএইচডি করা দুর্দান্ত সফল একজন মানুষ। আমি তাকে খুব শ্রদ্ধা করতাম। একদিন একটা অনুষ্ঠানে আরেক সিনিয়র লোক একটা বাংলা আর্টিকেল নিয়ে এসেছেন সবাইকে পড়তে দেবেন বলে। এই লোকের হাতে লেখাটা দেবার পর, বলে কিনা সে বাংলা ভুলে গ্যাছে!!!! আমি মেজাজটা এতো খারাপ হয়েছিল যে কি বলব। বাঙ্গালী বলে বাংলা ভুলে গ্যাছে!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, লজ্জার কথা হলেও সত্যি, এ দলে লোকজন পাওয়া যাচ্ছে ইদানিং যারা নির্লজ্জের মত বলেন যে তারা বাঙলা ভুলে গেছেন। বাঙলা ভুলে কিভাবে? আসলেও জুতা দিয়ে পিটানো উচিৎ

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

ভাইজান, পুরোটাই মানসিকতা ব্যাপার। আমার মামা অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন ১৫ বছরেরও বেশি। মামী বাংলাদেশী হলেও বড় হয়েছেন ঐ দেশেই। উনাদের দুই বাচ্চার জন্ম ওখানেই, বেড়ে উঠাও ওখানে। মামা-মামী বাসাতে বাংলা বলেন। মামীর বাংলায় একটা টান আছে তারপরেও বলেন। বাচ্চাদুইটা বাংলা ইংলিশ দুইটাই বলে। খুব সুন্দর করে। বড়টা আবার লিখতেও শিখেছে। মামী আফসোস করে যে তিনি গান জানেন না, নাহলে বাংলা গানও শিখাতেন। মেয়েকে নিয়ে প্রথমবারের মত যখন দেশে এসেছিলেন খুব খুব খুব ভাল লেগেছিল। একটু টেনে টেনে বাচ্চাটা এত্ত সুন্দর বাংলা বলে যে কি বলব!

ভাল লিখেছেন ভাইয়া। ধন্যবাদ।

--------------------------------
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

এক - আপনার হতাশাটা কিছুটা বুঝতে পারি। তবে কয়েক জায়গায় মনে হয় আপনার পর্যবেক্ষণ কিছুটা একপেশে। আমি ক'টা প্রচারবিমুখ বাংলাদেশী পরিবার চিনি যাদের ছেলেমেয়েরা এদেশে বড় হয়েছে। বাংলা ভাঙ্গা ভাঙ্গা বলে বা বলতে পারেই না। কিন্তু দারুণ চমৎকার মানুষ হয়েছে সবাই। আমেরিকার প্রতি, বাংলাদেশের প্রতি, পৃথিবীর প্রতি, মানবতার প্রতি অসীম মমতা নিয়ে বড় হয়েছে। আমার নয়-দশ বছর বয়স সময়কালের কথা চিন্তা করলে দেখি এদের দশ ভাগের এক ভাগ সচেতনতাও আমার ছিলো না সে সময়। অন্যদিকে বাংলা মোটামুটি ভালো করে বলতে পারে এমন অনেক শিশুকে দেখেছি অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে বড় হতে। বাংলা ভাষা শেখাই কি সব?

দুই - সুবিনয় যেটা বলেছেন, কিন্তু আমেরিকাতে বেড়ে ওঠা একটা শিশু প্রথমত আমেরিকান, তারপরে বাকি সব - ভয়াবহ কষ্টকর কথা। কিন্তু ভীষণ সত্যি কথা। স্কুলে ইংরেজী শুনবে, ডে-কেয়ারে ইংরেজী শুনবে। এরকম অবস্থায় কতটা জোড় করে বাংলা শেখানো যায়? ওই যে বললেন, শিশুর মন কাদার মত। ওটা নানা ভাষা আর সংস্কৃতির মিশেল দিয়ে এলোমেলো করে দেয়াও কিন্তু বেশ সহজ। আমার মেয়ে যখন স্কুলে যাবে, যখন ওকে আমেরিকার পতাকাকে স্যাল্যুট করতে শেখাবে, তখন কি আমি ওকে বলবো যে মা, এটা তোমার পতাকা নয়। তুমি আসলে স্যালুট করবে বাংলাদেশের লাল-সবুজকে? মেয়েকে এই দ্বিধা আর সংশয়ে ফেলবো আমি?

তিন - আমার মেয়ের বয়স ৬ মাস। এখনো ভাষা শেখার সময় সেভাবে আসেনি। আমরা বাবা মা দুজনেই কর্মজীবি। মেয়ে ডে কেয়ারে যায়। বিকেলে যখন নিয়ে আসি বাসায়, তখন তার ঘুমের সময়। প্রায় প্রতিটা উইকডেতে মেয়ে জেগে থাকা অবস্থায় আমাদের সাথে "বাংলা" সময় কাটে বড়জোর একঘণ্টা করে, অন্যদিকে মেয়ে ডে কেয়ারে কাটায় সাত-আট ঘণ্টা। মেয়ে জেগে থাকলে বাসায় আমরা টিভিই চালাই না, যাতে তাকে প্রয়োজনের চাইতে বেশি ইংরেজী না শুনতে হয়। তারপরও এই অসম লড়াইয়ে বাংলা জিতবে কি করে? আবার এটাও ভাবি, বাংলাকে কি জোর-জবরদস্তি করে জিততেই হবে? এরকম বাবা-মা'র মেয়ে যদি খাবারে বাইট দিতে চায়, প্রথমেই তাকে চড় মারার কথাটা কি করে ভাবি? এটাকে ঢালাওভাবে বেহায়ার মত ইংরেজদের পদলেহন বলতে নারাজ আমি।

চার - স্প্যানিশ আর চাইনিজের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। স্প্যানিশ শেখা এই দেশে খুব সহজ। দোকানের প্রতিটা পুতুল, ইংরেজীর পাশাপাশি স্প্যানিশ বলে। প্রায় প্রতিটা খেলনাতে দুটো ভাষারই অপশন থাকে। টিভিতে প্রায় প্রতিটা চ্যানেলের স্প্যানিশ অডিও পাওয়া যায়। আর চাইনিজরা কিন্তু সবচেয়ে আগে নিজেদের নামটাই বদলে ফেলে। তারপরও আমাদের সদিচ্ছার অভাবের ব্যাপারটা আমি স্বীকার করি। আমরা এখানে বাংলা শেখার জন্য একটা সানডে স্কুল খুলেছি। ওটাতে বেশিরভাগই পশ্চিম বাংলার লোকজন বেশ উৎসাহ নিয়ে আসেন। বাংলাদেশী বাবা-মা'রা তাদের ছেলেমেয়েদের রবিবারগুলোতে ইসলামিক স্কুলে পাঠাতে বেশি আগ্রহী।

পাঁচ - মেয়েকে বাংলা শেখানোর জন্য দেশ থেকে গোটা পঞ্চাশেক সিডি, ডিভিডি আর বই আনিয়েছি। সেগুলোর বেশিরভাগের মান এত বাজে, বিষয়বস্তু এত বিরক্তিকর, অপরিপক্ক আর অকার্যকর, সেগুলোর সমালোচনা করেই পনেরো পর্বের ব্লগ সিরিজ নামিয়ে দেয়া যায়। বাচ্চাদের বাংলা শেখার জন্য আনন্দময় কোন কিছু আমরা তৈরী করতে এতটাই অক্ষম?

ছয় - বাংলাভাষা কিন্তু শুধু প্রবাসীরাই ভুলে যাচ্ছেন না। বাংলার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে দেশেই। কিছু রেডিও চ্যানেলের ডিজে/আরজে স্টাইলে আধুনিক তরুণসমাজকে কথা বলতে শোনেননি? ক'জনকে চড় মারবেন?

হিমু এর ছবি
সাইফ তাহসিন এর ছবি

হিমুদা, শুধু সহমত প্রকাশ করে চলে যাবেন? আমি কিন্তু অনেক আশা করে আছি যে, আপনি কোন উপায় বাতলে দিবেন। দেশ চিন্তায় কিন্তু আপনার মাথা খুলে সবচেয়ে ভালো!!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

হিমু এর ছবি

শুনতে খারাপ লাগবে, কিন্তু আপনার সন্তান একজন অভিবাসীর সন্তান হিসেবে আমেরিকার নাগরিক হিসেবেই বেড়ে উঠবে। আপনি যেভাবে বাংলাদেশকে অনুভব করছেন, সেভাবে সে অনুভব না-ও করতে পারে। আপনি তাকে শুধু ভাষা শেখালেই সে বাংলাদেশকে ভালোবাসবে, এমনটা আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন না। যদি বাংলাদেশকে ভালোবাসতে শেখান, তাহলে ভাষাটা খুব একটা বড় সমস্যা তৈরি করবে না (গণিত অলিম্পিয়াডের মাহবুব মজুমদারের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে)। দুই নৌকায় পা দিয়ে অভিবাসীরা চলেন, তাদের সন্তানদের একটি নৌকা বেছে নিতে হয়। পিতামাতার ফেলে আসা স্বদেশ তার কাছে শেষ পর্যন্ত আরেকটা দেশ, যেখানে ছুটিতে যাওয়া হয়।

দেশে আরজেদের বাংরেজি নিয়ে আমরা বিরক্ত, কারণ দেশে বাংরেজের প্রয়োজন নেই। কেউ যদি ঘরে বসে নিজেদের সন্তানকে বাংরেজ হিসেবে বড় করে, সেটা তার হিসাব, কিন্তু গণমাধ্যম যখন বাংরেজ নির্মাণে সহায়ক হয়, এবং সেটাও তৃতীয় শ্রেণীর টুটাফাটা ইংরেজি শিখিয়ে, তখন বিরক্তি দমন করা যায় না। অভিবাসীদের সন্তানদের বাস্তবতা, আর ফুটানগি দেখানো বাংরেজের বাস্তবতা এক নয়, তাই তুলনা চলে না।

নিজের কথা বলতে পারি, আমি যদি বিয়ে করি, কোন বাঙালি মেয়েকে বিয়ে করি, এবং প্রবাসে সন্তানকে বড় করার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে আমার সন্তানকে বাংলা এবং সেই দেশের ভাষা, দুটাই শেখাবো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সত্যি সব সময় তেতোই লাগে বস। আপনার মতামত জানতে পেরে ভালো লাগল। আমার মেয়ে কতদুর শিখতে পারবে জানি না, আমি চেষ্টা করব এবং আশা করব অন্যরাও যেন কিছুটা হলেও সে চেষ্টা করে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

যুধিষ্ঠির - অসংখ্য ধন্যবাদ!! ঠিক এই কথাগুলোই বলতে চেয়েছিলাম, বিশদ করে লিখি নি। আপনার মতো এতো গুছিয়ে পারতামও না, আর তাছাড়া হতাশও লাগছিলো খুব। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে সাধারণতঃ ব্লগে কিছু লিখি না - নাহলে আপনার কথার কিছু প্রমাণ আমার আট বছরের বাংরেজ মেয়ের কাহিনী থেকেই দিতাম হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপু, বাংরেজী হোক আর বাঙলা হোক, আপনি চেষ্টা তো করেছেন। আর আপনাদের মত মানুষজন চেষ্টা করছে বলেই তো বাঙলা এখনো হারিয়ে যায়নি।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

Shazia এর ছবি

One thing we keep forgetting is that non-static nature of any language. Language evolves over time as it accepts new words and new styles. So may be Banglish or Bangreji is the more evolved Bangla vasha. Think about it, Robindra's Bangla is so different from Humayun's Bangla now. So I do not think we should point fingers at the RJs since using foreign words in Bangla is a common practice. Think about the words chair or hospital. Where are their roots? More recently, we are using words like computer or blogging etc.

হলুদ-মডু এর ছবি

সচলায়তনে মন্তব্য করার আগে দয়া করে এই লিঙ্কটাতে একবার ক্লিক করবেন। বাংরেজী প্রসঙ্গ যতই ক্রিটিক্যাল হোক সচলায়তন এই প্রসঙ্গে বর্ণবাদী। আমরা ইতোমধ্যেই বাংরেজী মন্তব্য প্রকাশ করা বাদ দিয়েছি। ইংরেজী মন্তব্যও অত্যন্ত অনিচ্ছার সাথে ছাড়া হয় এবং কিছুকালের মধ্যে সেটাও আমরা বন্ধ করে দিবো।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আট বছরের বাংরেজ মেয়ের কিছু কাহিনী শুনতে মঞ্চায়।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, মতামত, সব কিছুর সাথেই সহমত হলাম। উপরে সুবিনয় ও স্নিগ্ধাও এই প্রসঙ্গে মূল্যবান কথা বলেছেন। ভাষার বিষয়ে আমি আরও বেশি খোলাখুলি ভাবি, কেউ যদি বাংলার চেয়ে ইংরেজি সাহিত্য বেশি ভালোবেসে পড়ে তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখতে পাই না। শিকড়ের কথাটা আমার মতের সাথে মেলে না, মানুষ গাছ নয়। তবে মাতৃভাষাকে অশ্রদ্ধা করার যে কথাটা সাইফ তুলেছেন তা খুবই খাঁটি। মানুষ সংবেদনশীল হলে কোনো ভাষা বা সংস্কৃতিকেই অশ্রদ্ধা করবে না, আর বদমায়েশ হলে সবাইকে গালি দেবে, বাংলাতেও দেবে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

তবে মাতৃভাষাকে অশ্রদ্ধা করার যে কথাটা সাইফ তুলেছেন তা খুবই খাঁটি।

মূলোদা, আমিও এঈ স্থানেই জোর দিতে চাইছি, বিদ্বান হবার তো প্রয়োজন নেই, আর শিশু কিশোরদের কেও আমি ধরছি না, আমার লক্ষ তাদের বাবা মা। তারা চেষ্টা করবেন, তাদের সন্তানেরা কি শিখবে না শিখবে সেটা তাদের ব্যাপার।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, আপনার সাথে অনেকাংশে সহমত। এত সুন্দর করে বিশ্লেষন করার জন্যে আপনার কাছে আমি ঋনি হয়ে থাকলাম আর অনেক ধন্যবাদ। আমার দিকটাও আমি বলি, আপনার মত সুন্দর করে বলতে পারব না হয়ত। দেখেন, আপনারা এত কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিন্তু চেষ্টা করছেন ঠিকই। এই চেষ্টাটাই অনেকের মাঝে নেই, সেখানেই আমার ক্ষোভ।

এক - আপনার কথা ঠিক, ঠিক ভাবে মানুষ হওয়া বাঙলা জানার চেয়ে জরুরী, এর কোন অল্টারনেট নেই। কিন্তু বাঙলা শিখলেই সে সংকীর্নমনা হবে, তা তো না। সংকীর্নতা আসবে তার সমাজ আর পরিবেশ থেকে।

দুই - তাকে তো আমি বাংলাদেশের পতাকা চাপিয়ে দিচ্ছি না, বলছি না, বাঙলা শিখে একদম মহাপন্ডিত হতে হবে, আমি চাই, এক জেনারেশনে যেন বাঙলা হারিয়ে না যায়। যা জাতিগত ভাবে আমেরিকান তাকে বাংলাদেশের পতাকা চাপাবো কেন?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

পতাকার ব্যাপারটা আপনি বলেননি। আপনার লেখা পড়ে অনেকগুলো হতাশা নিজের মাথাতেই চলে এসেছিলো - তাই সবকিছু মিলিয়েই মন্তব্য করেছিলাম।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

তিন - চড় তো আমি শিশুকে মারিনি বস! চড় মারতে চাই আমি তার বাবাকে! বাইট তো শিশু বলেনি, তার কি দোষ? যে বাঙলা শেখাতে চাইছে না। আপনারা যেটুকু সময় পাচ্ছেন, সেটা তো সৎব্যবহার করছেন, আমার অন্যদের কাছেও একই চাওয়া, আপনার মত একটু চেষ্টা করুক? সেটা কি আমি খুব বেশী চেয়েছি?

চার - চাইনিজরা নাম বদলালেও নিজেদের মধ্যে কিন্তু ইংরেজীতে কথা বলে না। আর সেখানে আমাদের দেশী ভাই-বোনেরা দিব্যি ঘরে তা করছেন। সেখানে আমার বিরক্তি আর ক্ষোভ।

পাঁচ - আমারও এই একই প্রশ্ন, যদি বাঙলা আমরা শেখাতে চাই, তার জন্যে উপযুক্ত মিডিয়া থাকতে হবে আমাদের হাতে। প্রথমেই তো আর একজন শিশুকে শরৎ রচনাবলী ধরিয়ে দেয়া যাবে না।

ছয় - বাংলাদেশের এই ডিজে-আরজে নামে যে ক্যান্সারের আবির্ভাব হয়েছে, এ বিষয়ে মনে হয়, একজন সচল বিশদ লেখা দিয়েছিলেন, সেখানে সেটা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কিন্তু সবাই স্বীকার করেছেন যে, এই সব আর-জে দের চড়িয়ে দাঁত নড়িয়ে দেয়া দরকার। এখন আবার দ্বিমত কেন?

আর আমার প্রশ্ন সেখানেই, আমি হতাশ, কিভাবে এই সমস্যা দুর করব কিভাবে?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আমিও বাবাকে চড় মারাতেই আপত্তি জানিয়েছি। শিশুকে মীন করিনি। নিজেকে রক্ষা করতে হবে না! খাইছে

ডিজে-আরজেদের নিয়ে ওই পোস্টটার লিংকটা পারলে দিয়েন তো। আমি পড়িনি।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, আপনে তো চেষ্টা করতেছেন, আপনি তো আমর লিস্টে চরম শ্রদ্ধার স্থান পেয়ে গেছেন, আর কাউকে অপমান বা বিদ্রুপ করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। লিংকটা খুজে বের করে দিচ্ছি বস। চরম হতাশায় আবোল তাবোল বকছি হয়ত আর নিজের জ্ঞান সীমিত, তাই এই ব্লগ লেখা, আপনাদের কাছে আমার সমস্যা পেশ করে ২-১ টা আশার কথা শুনব, কেউ হয়ত আমাকে আলোর পথও বাতলে দিতে পারেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মামুন হক এর ছবি

দরকারী লেখা সাইফ, স্পর্শ কাতর বিষয়। শিকড়ের টান অনুভব বা খোঁজা জোর করিয়ে সবাইকে গেলানো সম্ভব না। বিশ্ব নাগরিক হওয়ার যোগ্যতা বা খায়েশ কোনটাই আমার নাই, আমার কাছে গড়পড়তা ভালো মানুষ হওয়ার চেয়ে নিজ ভাষা, সংস্কৃতি এবং দেশের সাথে পরিচয়, সম্মানবোধ, সুসম্পর্ক ইত্যাদি থাকাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ, মামুন ভাই। তবে ভালো মানুষ হওয়াটা আমার কাছে প্রাথমিক চাওয়া, যেমনটি যুধিষ্ঠিরদা আর স্নিগ্ধাপু বলেছেন। তারপর আমি চাইব কিছুটা হলেও নিজের শিকড় চিনুক।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্বপ্নহারা এর ছবি

আসলে এটা পুরোটাই নির্ভর করে শিশুকে কিভাবে কি কি শেখাবেন তার উপর। আমাদের এখানে এক দাদা আছেন...চরম ভালমানুষ কিন্তু ভীষণ ঘাড়তেড়া লোক! উনি তার ছেলের জন্মের পর প্রথম আড়াই বছর তাকে কোন ডে-কেয়ারে দেন নাই। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছাত্র-ছাত্রী...কি কষ্টটাইনা করেছেন...দুজনে স্কুলে যাওয়ার সময় ঠিক করে নিতেন, বউদি আবার পার্টটাইম কাজ ও করতেন! এখন সেই ছেলে বাংলায় গান গায়, বাংলা কবিতা শোনায়...আমার চেয়েও নিঁখুত উচ্চারণে! বাসায় গেলে দেখি রবীন্দ্রসংগীত বাজছে...ছেলেটি সিডি বাজিয়ে ঠাকুরমার ঝুলি শুনছে। এবং...স্কুলে সে খুবই ভাল করছে!

তাকে প্রথম ডে কেয়ারে দেয়া হয় ৩ বছর বয়সে। দেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় প্রিন্সিপাল দাদাকে ফোন করেন দুপুরে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। উনি গিয়ে দেখেন, সব ছেলেমেয়ে একসাথে চিৎকার করছে 'কমলার জুসি খাব, কমলার জুসি খাব'!!! সেখানে দাদার ছেলে ছিল একমাত্র বাংলাদেশী, এবং প্রিন্সিপাল মহিলা বেচারি এখানকার শ্বেতাঙ্গ, তাই তিনি সব কেচকিগুলা কি বলছে বুঝে উঠতে পারেননি...দেঁতো হাসি এরপর থেকে দাদাকে আর ভীষণ শ্রদ্ধা করি!

আমার পরিচিত আরেক শিশু আছে যার মা ফিলিপিনো, বাবা বাংলাদেশি। ছেলেটির বয়স আড়াই...আমাদের সবার কচলাকচলির কারণেই হোক (পিচ্চি ভীষন সুন্দর...মায়াকাড়া) বা তার বাসায় দাদা-দাদী-চাচাদের কারণেই হোক, সে বাংলা-ফিলিপিনো-ইংরেজি তিন ভাষায়ই বেশ কথা বলে... চমৎকার ব্লেন্ড করে...দেঁতো হাসি

হতাশাবাদীর হতাশাব্যঞ্জক হতশ্বাস!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাইরে, এমন কিছু মানুষ আছে বলে ভরসা পাই, আমার এই বাঙলা প্রীতির কারনে আমাদের এখানের বাঙালীরা কোথাও দেখা হলে না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলেন। গড়াগড়ি দিয়া হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

জাহিদ হোসেন এর ছবি

আপনার বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত আমি, তার পরেও তর্কের খাতিরে উল্টোযুক্তি দেই।
আমেরিকাতে জন্মানো একটি বাচ্চা বাংলা শিখবে কেন? তার পরিণত জীবনে ওই বিদ্যাটি তার কি কোন কাজে আসবে? সম্ভবতঃ না। এ ক্ষেত্রে চাইনিজ শেখা বরং ভালো। আচ্ছা-এখন বলা যেতে পারে যে তার বাংলাদেশী হেরিটেজ এর কথা। এই হেরিটেজটি বাচ্চার কাছে কতখানি জরুরী? বাবা-মা যদি বাংলা বাংলা করে এতই লাফালাফি করেন, তাহলে বাংলাদেশে ফিরে গেলেই হয়। বাচ্চাটির জন্ম বিদেশে হয়েছে কিন্তু বাবা-মায়ের কারণে, সে পাপের(?) প্রায়শ্চিৎ এখন বাচ্চাটিকে করতে হবে বাংলার মতো একটা ভাষা শিখে। কেন?
উপরের কথাগুলো আমার এক প্রতিবেশীর। সাধারণতঃ আমি লোকজনের সাথে তর্কবিতর্কে যাইনে। আর কে কার বাচ্চাকে কিভাবে মানুষ করবে, সেটা নিয়েতো আরওই না।
তবে একটা জিনিস আমার নজরে পড়েছে। মিডল-ইস্টে মানুষ হওয়া বাচ্চারা কিন্তু খুব ভালো বাংলা জানে। কেন? ওখানে বাংগালী বেশী তাই, নাকি বাংগালী স্কুল আছে তাই?

পিটসবার্গের একটি বাংগালী পরিবারকে চিনি যাদের দুটি ছেলেই অসম্ভব মেধাবী (১৩ বয়সে হাইস্কুল পাশ করেছে), দুর্দান্ত বাংলা জানে, হার্মোনিয়াম বাজিয়ে শু্দ্ধ উচ্চারণে রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারে। তারা কোন দোকানের চাল খায় সেটা জানলে ভালো হোত।

আসলে সব কিছুই নির্ভর করে বাবা-মায়ের উপর এবং শহরটির পরিবেশের উপর। আমি আশাবাদী। কেননা বাংগালীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে বাংলামনস্কতা। হবে, হবে! আমরা সবাই আছিনা?

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জাহিদ ভাই, ভালো লাগল, পুরা ব্যাপারটা আমার মত করে কেউ অনুভব করেন জানতে পেরে। আর পিটসবার্গের সেই বাঙালী পিতামাতা এবং তার দুই সন্তানদের জন্যে রইল আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সুস্মিতা ঘোষ এর ছবি

জাহিদ ভাই,

কথপোকথনে আমাদের ছেলেদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে বলে যার পর নাই খুশী হলাম. আমি পিটস্বার্গের সেই মা. আমরা আপনার দুই ছেলেমেয়ের বাঙলা নামের প্রশংসা করছিলাম দু সপ্তাহ আগে. শুভেচ্ছা নেবেন.

সাইফ সাহেবকে বলছি, বাচ্চাদের বাংলা শেখানোটা আমরা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ধরে নিয়েছি আর গত পনোরো বছর ধরে অন্য বাচ্চাদের বাঙলা স্কুলের মাধ্যমে বাংলা শেখাচ্ছি. আমরা যদি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাঙলা ভাষা - আমাদের বাচ্চারাও সেভাবেই ভাবতে শিখবে.

সবাইকে অভিনন্দন.

সুস্মিতা
মনরোভিল, পেনসিলভেনিয়া

walid এর ছবি

আপু আপনার নামের অর্থ কি?

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

'মিডল-ইস্টে মানুষ হওয়া বাচ্চারা কিন্তু খুব ভালো বাংলা জানে।'

একমত। আমার ধারণা এর কারণ হলো সংখ্যাগুরু আরব কালচারে তাদের মিশে যাওয়ার কোন উপায় নেই, কোন অ্যাক্সেস নেই। তাই নিজেরটা ভূলে যাওয়া অত সহজ হয় না। নিজেদেরটা নিয়েই থাকতে হয়, আংকেল-আন্টি বলয়টা অনেক মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

আমেরিকা বৃটেন বা ইউরোপে সেটা হয় না। ম্যা্জরিটি কালচারে চাইলেই মিশে যাওয়া যায়, বাপ-মার বলয়টা পিছে ফেলে আসা যায়। শুধু সন্তানের মতিগতির উপর নির্ভর করবে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

জাহিদ হোসেন এর ছবি

খুবই খাঁটি কথা। তবে কি রকম সংখ্যক বাঙালী আছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
একটা ব্যক্তিগত দুঃখের কথা বলি। আমার কাছে এক আলমারী ভর্তি বাংলা বই আছে। সেটি এখানকার সব বাঙালীই দেখেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একজনও এসে আমার কাছে একটি বইও পড়তে চাইলো না। বাংলা ভাষা জেনে কি লাভ হোল তাহলে যদি বাংলাচর্চা না হয়? আমি আমার চারপাশের লোকদের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বড্ড একঘরে মনে হয়। সবাই প্রচন্ড শিক্ষিত, কিন্তু বাংলা বই পড়ার মতো লোকের সংখ্যা দুই-তিন জনের বেশী হবে না। বাংলায় লেখালেখির কথা আর নাই বা বলি। এইসব লোকদের কাছ থেকে বা তাদের বাচ্চাদের কাছ থেকে বাংলার প্রতি ভালোবাসা কি আশা করা যায়?
তবে তাই বলে কি চুপ করে থাকবো? না-অবশ্যই না। বাংলা চর্চা করতে হবে। ছেলেমেয়েদেরকে বাংলার কথা বলতে হবে, রবিঠাকুর-নজরুলের লেখা পড়ে শোনাতে হবে। তার জন্যে বাবা-মায়েদের এগিয়ে আসাটাই সবচেয়ে বেশী দরকারী।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

স্নিগ্ধা এর ছবি

কিছু মনে না করলে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি - আপনার লেখা থেকে জেনেছি যে আপনার কলেজগামী একটি মেয়ে আছে। সে কি ওই আলমারীর বই পড়তে পারে? যদি পারে, তাহলেই কিন্তু আর আপনার নিজেকে একঘরে মনে করার কারণ নেই হাসি

জাহিদ হোসেন এর ছবি

কন্যাটি বাংলা ফ্লুয়েন্ট বলতে পারে আর ঠুকে ঠুকে বাংলা পড়তে পারে। ওই বইগুলো সে পড়েনি, তবে পড়ার মতো বাংলা সে জানে। যদি তার কোনদিন ইচ্ছে হয়, তাহলে সে পড়তে পারবে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ঠিক এই অভিজ্ঞতাটা আমারও। একজনও বইগুলোর নামটা পর্যন্ত পড়ে দেখার উৎসাহ দেখায় না। একজন অবশ্য হুমায়ুন আহমেদের বই নেই দেখে আমাকে উচ্চ শ্রেনীর আঁতেল বলে ডেকেছে। একদিকে কিন্তু ভালোই, বই পড়তে নিয়ে আর ফেরত না দিলে আরও বেশি দু:খ পেতাম।

এনকিদু এর ছবি

জাহিদ ভাই, আমরা কিন্তু জাতি হিসেবে বই-প্রিয় না । প্রবাসে যাদের দেখেছেন তারা আমাদের জাতির বৈশিষ্ট্য সূচক আচরনটাই দেখিয়েছেন ।

আপনার মাথায় সমস্যা ( বই পাগল আপনি ) তাই আপনি আলমারী ভর্তি বই জমিয়েছেন । অন্যেরা আপনার মত পাগল হবে এই আশা করা ভুল ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

মৃত্তিকা এর ছবি

উদ্ধৃতিঃ
"প্রবাসী বাঙালীরা আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় লঘু কিন্তু তারা সকলেই আমার সোনার বাঙলার প্রতিনিধি। কাজেই তাদের একজনও যদি ঠিক না থাকে, তাহলে সে সমাজে আমাদের মুখ ছোট হয়"

আমিও আপনার সাথে এখানে একমত।

উদ্ধৃতিঃ
"তারা সমান ভাবে চাইনিজ এবং ইংরেজীতে পারদর্শী। মেক্সিকানরা, তাদের কী অবস্থা, ইংরেজী এবং স্প্যানিশ, দুটোই কিন্তু তারা ভালো পারে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? অবশ্যই সমস্যা আমাদের মানসিকতায়।"

শক্ত যুক্তি।

এরকম করে সকলেই যদি ভাবতেন তাহলেই আর কোন সমস্যা থাকেনা। এটাই সমাধান। এখন সকলকে ভাবানোর কাজটা কে করবে? সে নিজে না অন্যেরা?

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এ বিষয়টি নির্ভর করছে সম্পুর্ণ পিতামাতার উপরেই। তারা যদি চেষ্টা করেন- তবে শিশুর মাতৃভাষা শিখতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদিও পরবর্তীতে উপযোগিতার কথা চিন্তা করে শিশু সেটা কতটা সময় ধরে রাখবে- সেটি বলা দুষ্কর।

সাইফ ভাইয়ের কাছে বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে মনে হচ্ছে দেখে পালটা কথা বল্লুম না- বড়রা বলে দিয়েছেন সব পালটা যুক্তিই...
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সেটাইরে ভাই, যুদ্ধ শুরুর আগেই হেরে বসে আছি, এজন্যেই এত হতাশা

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি

আমি সচলায়তনে সচরাচর কোনো বিতর্কে নিজেকে জড়াই না। সাইফের এই লেখাটা এবং কয়েকজনের যৌক্তিক/আবেগে ঠাঁসা মন্তব্য পাঠ করে কয়েকটি কথা বলতে ইচ্ছে করলো---
১। সাইফ আপনি নবীন অনাবাসী বা প্রবাসী কিংবা ইমিগ্র্যান্ট বলেই উত্তেজনার তুঙ্গে আছেন। কয়েক বছর পর আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। বাস্তবতা আপনার উত্তেজনাকে প্রশমিত করবে। তখন--কাউকে চড় মারার তীব্র ইচ্ছেটা এমনিতেই হ্রাস পাবে।

২। প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের ওপর আমরা কি পরিমান নির্যাতন করি সেটাও একটু ভাবা দরকার। প্রবাসে বাঙালি বাবা মা (সবাইকে মিন করছি না।) তাদের শিশুসন্তানকে যে পরিমান টর্চার করেন তাতে শিশুদের পাগল হয়ে যাবার কথা। কিন্তু শিশুরা অসীম ক্ষমতাধর, তাই পাগল হয় না। বাবা মায়ের দায় কেনো সন্তানের ওপর চাপানো হবে? বাবা এবং মা তাদের "শিকড়'' এবং "বাঙালিত্ব" এবং "বাংলা সংস্কৃতি" নিয়ে যতো খুশি মাতামাতি করুন,কান্নাকাটি করুন, বুক চাপড়ান অসুবিধে নেই কিন্তু শিশুদের প্রতি তারা নির্মম হবেন কেনো?
মূল ইশকুলে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি একজন শিশুকে জবরদস্তিমূলক শিখতে হয় আরবী। তারপর বাংলা গান। আবৃত্তি। এবং বাংলা নাচ। এইসব বাবা মা নিজেরা আরবী জানেন না। গান গাইতে পারেন না। নৃত্য পরিবেশনেও তারা অপারগ। নিজেদের যাবতীয় ব্যর্থতার দায়ভার তারা চাপিয়ে দিতে চান তাদের অসহায় শিশুসন্তানের ওপর। এর ফলাফল খুব একটা শুভ হবার কথা নয়। কারণ এতোসব সংস্কৃতি এবং প্রতিভার নিষ্পেশনে শিশুরা একটা পাগলামির ভেতর বেড়ে ওঠে। এরা না হয় বাঙালি, না হয় আমেরিকান না হয় ইউরোপিয়ান না হয় ক্যানাডিয়ান। একটা আধাখেঁচড়া জিনিসে রূপান্তরিত হয়ে এরা হয়ে ওঠে ভাসমান একটা প্রজন্ম। না ঘরকা না ঘাটকা।

৩। প্রবাসে ফোবানা-টোবানা জাতীয় জিনিস আমি পরিহার করে চলি। বাস্তব অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে বেশ ক'বছর আগে একটায় গিয়েছিলাম। আয়োজকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, সেই কারণে একটি বাড়িতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো প্রায় জোর করে। সেই বাড়িতে যাবার পর বাড়ির খুদে প্রতিভা মিষ্টি একটা মেয়েকে জোর করে আমার সামনে নৃত্য পরিবেশন করানো হলো--মম চিত্তে...তাতা থই থই। মেয়েটা নাচতে চাইছিলো না। ওকে বাধ্য করা হলো। কারণ আমি আয়োজকদের বলে দিলে মেয়েটি মূল অনুষ্ঠানে নাচার সুযোগ পাবে। বাবা মায়ের অগোচরে আমি ফুটফুটে সেই মেয়েটির ইন্টারভিউ নিয়ে ফেললাম। মেয়েটি আমাকে বললো--আংকেল আই হেইট দিস কাইণ্ড অব তাতা থই থই....!

হাবু বেশ বড়সড়,গাবুটা তো পিচ্চি
হেরে গিয়ে হাবু বলে--উৎসাহ দিচ্ছি!

স্নিগ্ধা এর ছবি

অনেক, অনেক, অনেক ধন্যবাদ রিটন ভাই হাসি

যত্ত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন বাংলায় কিছু না পড়লে আমার অসুবিধা হয়, প্রত্যেকবার দেশে গেলে নতুন নতুন বই কিনে সাথে নিয়ে আসি যদ্দুর সম্ভব, প্রত্যেকবছর দেশ, আনন্দবাজার ইত্যাদির পূজাসংখ্যা আর প্রথম আলো এবং ইত্যাদির ঈদসংখ্যাগুলো আনাই বাংলায় নতুন কী কী লেখা হচ্ছে বা কারা লিখছেন সেটা পড়ার/জানার জন্য -

এই আমিই কিন্তু মেয়েকে বকা দেই ইংরেজীতে। যে ব্যাপারটা আমি চাই তার মাথায় তাড়াতাড়ি এবং সিরিয়াসলি ঢুকাতে - ইংরেজীতে বলি। কারণ, সেটাই ওর প্রথম ভাষা। ঠিক যেমন আমার প্রথম ভাষা বাংলা।

গৌরীশ রায় [অতিথি] এর ছবি

মন্তব্যে ৫ তারা ।

মূলত পাঠক এর ছবি

আমার মনের কথাটা বললেন। ঐ বাচ্চার কিসের ঠ্যাকা পড়েছে বাংলা জানার? বাবা-মা চাইছেন বলে? সে যদি কাল জার্মান পড়ে খুব আনন্দ পায় আর বাপমাকে তার ভাগ দিতে চায় তো তাঁরা শিখবেন কদ্দূর জানতে ইচ্ছে হয়। দেশমাতাকে ফেলে বিদেশে এসে বাবামা যদি বিবেকদংশনে ভোগেন তো তার প্রায়শ্চিত্তের দায়ও তাঁদেরই। বেচারা শিশুগুলোকে আমরা রেহাই দিলেই মঙ্গল হয়।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

সুপ্পার মন্তব্য, রিটন ভাই।

সাইফ-কে শেষমেষ একটা গল্প হয়তো বলতে পারি, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা। এখানে এক বাংলাদেশী পরিবারকে চিনি যারা ছোটবেলা থেকেই তাদের দুই মেয়েকে প্রতি সামারে নিয়ম করে দেশে পাঠিয়ে দিতেন। প্রায় বিশ-বাইশ বছর ধরে, কোন মিস না দিয়ে। পুরো তিন মাসের স্কুল ব্রেকের জন্যে বাচ্চারা ঢাকায় থাকতো। বাবা মা দুজনেরই নিজস্ব চাকরি আছে, তাই তারা বাচ্চাদের সাথে ঢাকা যেতেন না তেমন। জাস্ট পাঠিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত। তো সেই মেয়ে দুটো থেকেছে নানা নানীর বাসায় বা খালা চাচার বাসায় - কাজিনদের সাথে, আত্মীয় স্বজনদের সাথে প্রতি বছরই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছে। আর অনেক বাবা মা যেটা করেন, দেশে বাচ্চা পাঠিয়ে দিয়ে পুরোদস্তুর প্যারানয়েড হয়ে যান - দেশে কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, রিকশায় চড়া নিষেধ, আরেকজন ছাড়া বাইরে বেরুনো নিষেধ, একা ঘোরা নিষেধ, সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে থাকা নিষেধ, হেনতেন স্টুপিড কাজ - এই বাপ মা সেটার একটাও করেননি। ছেড়ে দিয়ে ক্ষান্ত, মোটামুটি স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন।

মোটের উপর ফলাফল ভালো হয়েছে। দুজনই বেশ ভালো রকম বাঙ্গালী হতে পেরেছে - ফ্লুয়েন্ট বাংলা জানে এবং বোঝে, দেশের প্রতি ব্যাপক টান, রেগুলার ঢাকা না গেলে তাদের মন আনচান করে। দেশের আত্মীয়স্বজনের সাথে ব্যাপক সখ্যতা, আর ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটও মোটামুটি চেনে। এইখানে দুজনেই কলেজ ইউনিভার্সিটি শেষ করেছে, একজন আর্কিটেক্ট আরেকজন লইয়ার, কিন্তু তাদের বাঙালিত্বের সাথে কোন কিছুতে কোন কনফ্লিক্ট নেই। দুই নৌকায় পা দিয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ।

এই রকম বাপ-মা আমি গত নয় বছরে আর এক জোড়া দেখিনি, কিন্তু তাদের চিন্তা ভাবনা বেশ সলিড ছিল বলতে হবে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ সুবিনয়দা, এমন ঘটনা যে বিরল তা জানি, আর জানতে পেরে খুব ভালো লাগল।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

রিটনদা, আপনার মন্তব্য পেয়ে আমার ব্লগার জীবন সার্থক হল। আর আপনি যেমন বলেছেন, দিনের শেষে হয়ত আমিও ক্লান্ত হয়ে পড়ব, আর সেই ক্লান্তিকেই আমার ভয়। কিন্তু হাল ছেড়ে দেবার আগে আমি মুদ্রার দুই পিঠই দেখতে চাই।

আর রিটনদা, জোর করে গান বা নাচ শেখানোর ব্যাপারে কিন্তু আমি আপনার সাথে সহমত, আমার চাওয়াটা কিন্তু খুব বেশী না, যেন নিজের মনের কথাটা নিজের ভাষায় নিজের সন্তানের সাথে বলতে পারি।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রাগিব এর ছবি

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিছু বলছি না, কিন্তু দেশে বড় হয়ে আসা বাঙালিদের ইংরেজি মারা অসহ্য লাগে।

আমেরিকাতে আসার পরে প্রথম দিকে কালচারাল শক এটাই ছিলো। বাঙালিদের আড্ডা/দাওয়াতে দুই বাঙালি ইংরেজিতে কথা বলছে নিজেদের মধ্যে!! এমন না যে তারা দেশে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে এসেছে ... চৌদ্দ গুষ্টি তাদের পাঁড় বাঙালি। তার পরেও "ভাব" ধরতে ইংরেজিতে বাতচিত করতে তাদের আগ্রহ বেশি।

এমনকি, শিকাগোতে থাকা এক বন্ধুর কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছিলাম, এখানকার ৫/৬ জন বাঙালিকে এক রেস্টুরেন্টে বসে চায়ের কাপে তুমুল ইংরেজির ঝড় বওয়াতে দেখেছে। সেই টেবিলে নাকি বাংলা প্রায় নিষিদ্ধই ছিলো!!

এদেরকে কী বলবেন? বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের দিকটাও দেখা চলে, যেমনটা রিটন ভাই বলেছেন, তাই সেই খানে কিছু বলছি না, কিন্তু বুড়ো ধাড়ি বাঙালিদের ভেক ধরা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

----------------
গণক মিস্তিরি
ভুট্টা ক্ষেত, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | কুহুকুহু

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

সাইফ তাহসিন এর ছবি

দেশে বড় হয়ে আসা বাঙালিদের ইংরেজি মারা অসহ্য লাগে।

তারা ইংরেজের বাপ দাদা কিনা, তাই এই ভেক ধরে থাকে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

আরিফ সনেট এর ছবি

আপনার ভাবনার সাথে একমত প্রকাশ করছি।

অনেক বাবা-মা'র আগ্রহ থাকলেও, এখানে অনেকে সঠিক ভাবে বাংলা শেখাতে পারেন না। এটা উনাদের একটা পরাজয় বলতে পারেন। কিন্ত আপনি মনে হয় শুধু বাংলা শেখা টাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখছেন। আচার, আচরন, ভদ্রতা, আদব, একে অপরের প্রতি সম্মান---এই ব্যপার গুলকে খাট করে দেখার কি কারন থাকতে পারে?

আপনার আজে বাজে গালা গালির কারন ধরতে পারলাম না। এই গালা গালি দিয়ে আপনি ঠিক কি প্রমান করছেন? এটাকে কি আপনার বাবা-মার পরাজয় ধরে নেব? অপরকে সম্মান প্রদর্শন করেও তো কথা বলা যায়। যায় না? দয়া করে এর পর থেকে সতর্ক থাকবেন--এই আশাতে রইলাম।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাই সনেট, আগে তো চেষ্টা, তারপরে না পরাজয়। আর আমি তো বলি নাই সব বাদ দিয়ে বাঙলা শেখাতে, লিখে থাকলে একটু কষ্ট করে কোট করবেন কী?

আর যখন কেউ ভাব ধরে যে বাঙলা ভুলে গেছেন, তখন আপনার গালি আসে না কেন সেটা ভেবেই আমি অবাক হচ্ছি। আর আপনি কি দুধে ধোয়া, এমন ভাবে বলছেন যেন গালি জানেন না? আর গালি কী আপনার বাবা মা আপনাকে শিখিয়েছে? নাহলে এমন কথা তো আগে শুনিনি, আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।

গালি পড়ে আহত হয়ে থাকলে আমি দু:খিত কিন্তু রাগিব ভাই যেমন বললেন, যখন বাঙালী কেউ বিদেশে এসে ভাব ধরেন যে তারা বাঙলা ভুলে গেছে, তাদের জন্যে আমার কাছে এর চেয়ে ভালো ভাষায় কিছু বলার নেই।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

আরিফ সনেট এর ছবি

সাইফ ভাই--আপনার সাথে বিতর্কে যেতে চা‍‌ছ্ছি না। আপনি খেয়াল করে থাকতে পারবেন, আমাদের দেশে বাবা-মা রা এখন এক, দুই, তিন এর বদলে one, two, three.. শেখান। ত আপনি তাদের কি বলবেন? একটা লাইন শুনেই এত রেগে গেছেন! প্রবাসে মনে হয় আমাদের আর একটু বেশি ধৈ্র্য ধরতে হবে। গালি সাবাই জানে। তারপরো গালি না দেওয়া টাই বেশি শোভন।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সনেট ভাই, আপনাকে ব্যক্তিগত আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়, ঢাকায় থাকতেও আমি একই ভাবেই ফুটানি দেখানো ইংরেজী চর্চার বিরোধিতা করে এসেছি। আর আমি তো বলি নাই যে, গালি দিয়ে মহৎ কাজ করেছি, কিন্তু আপনেই আগ বাড়িয়ে আমার বা-মাকে টানছেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

আরিফ সনেট এর ছবি

ভাই সাইফ---আপনাকে আঘাত করাটা আমারও উদ্দেশ্য নয়। আমার তিন বছরের প্রবাস জীবনে বেশ কয়েকজন কে এই ব্যাপারে ভুগতে দেখেছি। তাদের অনেকের অনেক চেষ্টার পরও উনারা পুরপুরি ভাবে সফল হয়েছেন---তাও বলতে পারেন না। কেউ কেউ চেষ্টা করেই যান। কিন্ত কোথায় যেন কি একটা ব্যাপারে শুন্নতা থাকে। তাই ঢালাও মন্তবব করলে অনেকেরই উপর অবিচার করা হয়। আপনাকে কোন কারনে ব্যাথা দিয়ে থাকলে অনেক অনেক দুঃখিত। আশা করি মনে কিছু নেবেন না।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ভাষা আমাদের জন্য একাধারে ভাব প্রকাশের মাধ্যম এবং পরিচয়ের সূত্র। যে-শিশু প্রবাসে বড় হচ্ছে, তার জন্য এই দুই দিকেই বিকল্প আছে। আমরা বাংলায় গোটা পঞ্চাশেক লোকের সাথে আলাপচারিতা করি, অথচ ইংরেজিতে কথা বলি শত শত লোকের সাথে। ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে কার্যকরিতা বিচারে বাংলা পিছিয়ে পড়ছে এখানেই। রইলো বাকি পরিচয়সূত্র হিসেবে ভাষার ব্যবহার।

পরিচয় গড়ে ওঠার প্রাথমিক কারণটা দৈব। মাত্র শ'পাঁচেক মাইল দূরে জন্ম হলেই আমি বাংলার বদলে বার্মিজ ভাষায় কথা বলতাম। তবুও বাংলা ভাষাকে ধরে রাখতে চাওয়ার কারণ কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে অহংকার; কিন্তু এ-অহংকার তো সব ভাষাতেই আছে! বাংলার ইতিহাস নিশ্চয়ই জার্মান বা ইংরেজির চেয়ে ঋদ্ধ নয়!

এ-কারণেই আমি মনে করি না এই বিতর্ক/আলোচনার সমাধান শুধু ভাষাতে আছে। গড়ে ওঠা পরিচয় ছেড়ে দেওয়ার প্রথম সুযোগেই আমরা তা থেকে মাইগ্রেট করছি কেনো? এর জবাবটা আনন্দ, অর্থনীতি, ভূগোল, এবং ধর্মে আছে।

আমার খালাতো বোনের বয়স মাত্র ৩ বছর হলো। এক-দেড় বছর বয়স থেকেই হরবোলার মতো অনেক গান শিখে ফেলেছিলো। বাসায়, গাড়িতে শুনে অনেক কঠিন গান শুনাতো। এখন দিনে ঘন্টা দুয়েক মত টিভি দেখে। এটুকুই ইংরেজিটা একেবারে মগজে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যে-শিশুকে ভালো কিছু বাংলা গান/বই/কার্টুন দেওয়ার মুরোদ আমাদের নেই, তাকে কোন মুখে বলবো নিজে থেকে বাংলা শিখে যাবার কথা?

এর বাইরে আছে বিশেষত বাংলাদেশিদের ধর্মীয় চেতনা। "সাচ্চা মুসলমান" হওয়ার অবসেশন থেকে আমরা যেকোনো কিছু করতে রাজি। যতগুলো আরবি স্কুল আছে প্রবাসে, তার ১০%-ও তো বাংলা স্কুল দেখি না। এর দায় সম্পূর্ণই বাবা-মার।

আমাদের দেশটা গরীব। আমাদের অনেকেই সম্ভব হলে প্রথম সুযোগে জিভ-চামড়া বদলে বিদেশী হয়ে যেতাম। অর্থনীতির এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা ভুলে থাকা যায় না। চাইনিজ বা কোরিয়ানরা নিজদেশে ফেরত যাওয়ার প্রধান কারণ হলো সেখানে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির উপস্থিতি। আমাদের তা নেই। নেই বলেই আমরা প্রবাসে নিজ ভাষা ও সন্তান নিয়ে এই ডিনাইয়ালে দিন কাটাই।

মেক্সিকানদের সাথে আমাদের অনেক মিল আছে। উচ্চাভিলাষ বলতে কিছু নেই, বুদ্ধিহীন শ্রম করতে পেরেই খুশি, সীমিত কিন্তু নিয়মিত একটা বেতন পেলে আমরা আর কিছু চাই না, মুখে বড় বড় কথা বললেও খুব অসামাজিক। মেক্সিকানরা বাড়ির পাশের দেশে থাকে। এই ভৌগোলিক নৈকট্য তাদের নিজভাষা ধরে রাখার বড় কারণ।

আমরা বুড়া ধাড়ির দল প্রথম সুযোগেই উন্নততর দেশ, ভাষা, ও অর্থনীতির কাছে আমাদের আত্মা বিক্রি করে দিয়েছি। শিশুদের কাছ থেকে তাই বাড়াবাড়ি রকম মহানুভবতা আশা করা অন্যায়। বাংলার বাইরে কেউ বাঙালি হয়ে গড়ে উঠতে পারে না।

মধ্যপ্রাচ্যের ছেলেপুলেরা কিছুটা বাংলা বোঝে, সত্যি। এর পেছনে আপনা থেকেই আরবি/ধর্ম জেনে যাওয়া একটা কারণ, তা-ও সত্যি। তবে, আমার অভিজ্ঞতা বলে যে এরা 'বাঙালি'র চেয়ে 'দেসি' হয়ে ওঠে বেশি। বাংলা/বাংলাদেশ বলে কোনো স্থান/সমাজের প্রতি তাদের আলাদা করে তেমন নৈকট্যবোধ নেই। মোটা দাগে নিজেকে 'দেসি' পরিচয় দিতে পেরেই খুশি। এটারই একটি বড় রূপ যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে এসে 'সিটিজেন-অফ-দ্য-ওয়ার্ল্ড' জাতীয় কিছু হয়ে যাওয়া। আমার চোখে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাই বেশি দুঃখের। ওটা বাংলাকে হিন্দি-উর্দুর নিচে নিয়ে যায়। ইংরেজির সাথে দ্বন্দ্বে তবু বাংলার একটা সমান্তরাল অবস্থান থাকে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এখানে আমি আরেকটু যোগ করি।

নিজের ভাষা শেখানোর প্রথম ও প্রধান কারণ (যা পরিকল্পনা করে নয়, নিজের অজান্তেই চলে আসে) সন্তানদের মাঝে আমাদের দেশীয় সামাজিক মূল্যবোধের বীজ বপন করা। পদ্ধতিটা ভুল হতে পারে, তবে আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে সহজ পথ। আমি চাইবনা আমার মেয়ে বা ছেলে বড় হয়ে লিভটুগেদার আর ফ্রি সেক্স করে বেড়াক (যারা এতে বাধা দেবেন না তাদের সাথে আমার কোন বিতর্কে যাওয়ার ইচ্ছে নেই)। আর সে শিক্ষা দিতে গেলে বিদেশের সামাজিক বাস্তবতায় আমাকে দেশীয় সামাজিক এবং ধর্মীয় বলয়ের আশ্রয় নিতে হবে। এটাই আমার বিশ্বাস। বিদেশী সংস্কৃতি বা ভাষা শিখাতে যতটুকু আমার আগ্রহ, দেশী ভাষা ও সংস্কৃতি শিখাতেও আমার ততটাই আগ্রহ। বরং আগ্রহ খানিকটা বেশী যার কারণ আগেই বলেছি।

আমি মনে করি এই উদ্দেশ্য সফল করার প্রাথমিক পদক্ষেপই হলো পারিবারিক উদ্যোগ এবং সেটার শুরু হবে ভাষার মাধ্যেমে। আমি সেই চেষ্টাই করে যাই।

ফকির লালন এর ছবি

বিদেশে বাচ্চাদের দেখি তিনটা ভাষার চাপ নিতে - ইংরেজী, আরবী এবং বাংলা। শেখার গুরুত্বে আরবীকে বাংলার চেয়ে কোথাও কোথাও এগিয়ে যেতে দেখি। তখন দুঃখ লাগে।

বাংলা ভাষা শেখার চেয়ে বাংলাদেশের প্রতি মমতাবোধ বাড়ানো জরুরী। সেজন্য ইংরেজীতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সাহিত্যের উপর বই, অডিও, ভিডিও নিয়ে অনিবাসী বাংলাদেশীদের পাঠাগার গড়ে তোলা জরুরী। আমরা সেটা সেভাবে করতে পারিনি - বাচ্চাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাকে গঠনমূলক কাজে পরিনত করা দরকার।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

খুব সত্যি কথা বলেছেন, গঠনমূলক ভাবে আগানো উচিত, খুব ভালো লাগল আপনার কথাগুলো।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

হিমু এর ছবি

যারা বাচ্চাকে মুসলমান বানানোর জন্য আরবি শেখান, তারা ঠিক কী কারণে শেখান? আমি তো নিশ্চিত, তাঁরা নিজেরা আরবি জানেন না। তো, আরবি না জেনেও তাঁদের বাপদাদা চৌদ্দগোষ্ঠীর মুসলমানত্ব নিয়ে তো কোন টানাটানি পড়েনি। কোরান তো ইংরেজি বাংলাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতেই পাওয়া যায়। আর কোরানের আরবি তো প্রচলিত আরবির মতো নয়, একটু আরকাইক (আরবি ভাষার অনেকগুলি ফর্ম প্রচলিত, যেমন মরক্কোর আরবরা গালফের মানুষের আরবি বুঝতে পারে না), এমন না যে আরবি ভাষা না বুঝলে কোরানের বক্তব্য বুঝতে কোন সমস্যা আছে। আরবি শিখে বাচ্চা তো মা-বাবার সাথেও কমিউনিকেট করতে পারবে না। তো চর্চাটা হবে কোথায়?

বাচ্চাকে যদি নিতান্ত ইসলাম সম্পর্কে পণ্ডিত বানাতে চান, তাহলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করতে পাঠান। আরবি শিখলেই যদি দুই কাঠি বেশি মুসলমান হওয়া যেতো, দুনিয়ার সব আরবই বেহেস্তে যেতো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

সাইফ ভাই - লেখাটা তুখোড় - সন্দেহ নাই. সকালেই পড়েছি - তখন কমেন্ট দেই নাই কারণ মনে হয়েছিল আমার রসকষহীন মন্তব্যে আপনার আবেগ আরো বেড়ে যেতে পারে. কিছু কমেন্ট পড়ে মনে হলো এই মোক্ষম সময়. আবারও বলছি - লেখাটা খুব সাবলীল আর মজার - টপিকটা একটু মৌলবাদী টাইপের. ব্যাখা করছি. তার আগে আমি আপনার কিছু পয়েন্টে একমত তা বলে নেই. বিদেশে এসে মুই কি হনুরে টাইপ আলগা ভাব নেয়া লোকদের আমি দুই চোখে দেখতে পারিনা. তবে বাংলা ভুলে যাওয়া অসম্ভব কিছু না. সময়ে সবই সম্ভব. আমি আরবি পড়া রীতিমতন কোচিং নিয়ে স্পেশাল কেয়ারে শিখেছি আবার ভুলেও গেছি. অনেক দিন পড়া হয় না - অভ্যাস নাই. এতে কি দোষ ধরবেন? মনে হয় না. তবে সেটা নিয়ে গর্বে করা অবশ্যই দোষনীয়. তাহলে সে সুতরো ধরে - বাংলা নিয়ে এতো ফাটাফাটি কেন? যারা বিদেশে থাকেন, এইখানে চাকরি বাকরি / পড়াশুনা করেন - তারা এইখানকার ভাষায় বেশি অভ্যস্ত হলে কি তা খারাপ? এমনকি দেশে থাকতেও আমরা বহু ইংরেজি ব্যবহার করি. বিদেশে এসে ইংরেজিতে কথা বললে জাত চলে গেলো? এই ইন্ফেরিওরিটি কমপ্লেক্স কি থেকে? নিজের আইডেনটিটি নিয়ে সংশয়? কেন - বাংলাদেশী পাসপোর্ট ছুড়ে ফেলে দিয়ে উন্নত দেশের পাসপোর্টের পিছনে ছুটতে সমস্যা হয় না, বাচ্চার জন্ম বিদেশে হওয়ানোর জন্য বহুত কসরতের আশ্রয় নিলে সমস্যা হয় না, আবার বাংলা ভুলে গেলে সমস্যা? নিজের সংস্কৃতির সাথে লাস্ট যোগাযোগ কবে? বিদেশী বাঙালি সোসাইটির পার্টিতে ভর্তা, ইলিশ দিয়ে কাঁটা চামচে ভাত খেতে খেতে আর "এসো হে বৈশাখ এসো এসো" গান শুনতে শুনতে? এই জাতীয় সেন্টিমেন্টের কারণেই না ঘরকা না ঘাটকা.

আমার পরিচিত এক ভদ্রলোকের এই ঝোল অনেক ছিলো. ছেলেকে শুদ্ধ বাংলা শেখাবো. দোষের কিছু নয়. সমস্যা হলো এই যে - বাচাকে যখন স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলো - তখন তার পেটে বোমা মারলেও আর ইংরেজি বলতে পারে না. ক্লাসের অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা তাকে বিভিন্ন ভাবে ভেঙগাতো (বুলিয়িং করতো). এই করে ছেলেবেলা থেকেই বাচ্চাকে আইসোলেট করে দেয়া হলো. তার সাথে কেউ মিশতে চায় না. আমার আরেক বন্ধু এক মজার কথা বললো. তার মেযে স্কুল থেকে জেনে এসেছে সান্তা ক্লজ ক্রিসমাসে নানান উপহার নিয়ে আসবে. বউ বললো মালাউনের চালচলন শিখছে মেয়ে. কিন্তু আমার বন্ধু তার বৌকে বুঝিয়ে বললো - বাচ্চাকে এখন যদি বলা হয় সান্তা ক্লজ বলে কিছু নেই - তাহলে বাচ্চা কনফিউজড হবে - অন্য বাচ্চাদের সাথেও মিশতে পারবে না. বাচ্চার কচি মনে এতো কঠিন কঠিন চিন্তা ভাবনার দরকার কি? তার যুক্তি আমার পছন্দ হলো. এতো যদি বাংলা বাংলা মাতম করি তাহলে বিদেশী জায়গায় বাচ্চাকে কষ্ট দেয়ার অর্থ কি? দেশের কি ফিরে যাওয়া নিষেধ? অথবা উল্টো ভাবে চিন্তা করুন - বিদেশে যার জন্ম - সেটা তো তারই দেশ - বাংলা দিয়ে সে কি করবে? জানা থাকলে ভালো - জোরাজুরির কিছু নেই. পাশের দেশ ইন্ডিয়া দেখুন. নিজের ভাষায় ইচাচ্কৃত ভাবে টেক্সট বইয়ে ইংরেজি ঢুকিয়ে দেয়ার নীতি ওদের অনেক দিন ধরে. তাতে কি তাদের আইডেনটিটি হারিয়ে গিয়েছে? চাইনিজদের কথা বলছেন? তাদের পক্ষে ইংরেজিতে কথা চালানো রীতিমতন টর্চার. স্কুল-কলেজে এরা আমাদের মতন ইংরেজি শেখেনি - কোচিং করে ৪ / ৫ মাসে শিখেছে. আমাদের তো তা না. আমাদের চর্চা বহুদিনের. আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সুবিধাটা আমাদের থাকলে আমরা নেব না কেন? আমি অনেক চাইনিজ চিনি যারা বাই বার্থ কানাডিয়ান এবং তারা মান্দারিন বা কেন্টনিজের কোনটাতেই ফ্লুয়েন্ট কথা বলতে পারে না - শুনলে মোটামুটি বুঝতে পারে. এদের সাথে আমাদের পার্থক্য তাহলে কোথায় বের করলেন?

বিদেশে আসলে প্রায় সবাই দেশের কথা মনে করেন - টেবিল চাপড়িয়ে পলিটিসিয়ান্দের গালি দেন, অথচ নিজেরাতো কখনো দেশে কখনো ফিরে যাবেন না - ভোটও দেবেন না - বিদেশ থেকে দেশ দেশ হাউ কাউ. দেশপ্রেম ভালো জিনিস - কিন্তু সেটা যদি শুধু মুখে মুখে থাকে তাহলেতো ভন্ডামি. এই সব আজগুবি দিক-নির্দেশনার কারণে ভুগবে পরের জেনারেসন - আপনার আর কি? আপনার আবেগী চিন্তা-ভাবনাটা তো আর বিফলে গেলো না. এই করেই ব্রিটিশ আমল থেকেই মুসলমানরা শিক্ষায় কত পিছিয়ে পড়েছে. আরেকটু পিছিয়ে দিলে কি বা ক্ষতি, তাই না? তার পরেও শেষ কথা হলো আপনার বাচ্চা আপনি কিভাবে মানুষ করবেন তা পুরাপুরি আপনার উপরে - ঠিক সেরকমই পরের বাচ্চা সে কিভাবে মানুষ করবে তা তার উপরে - তাই নয় কি? পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত মতামত. পার্টিকুলার কাওকে আঘাত করার জন্য লিখিনি.

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমার মতামত অনেকটা এই রকমই, যেমনটা উপরে বলেছি। আমি নিষ্ঠার সাথে ১৭ বছর বাংলা পড়েও বাংলা বানান ভুল করি। এই আমি কোন মুখে আমার সন্তানের কাছ থেকে বাঙালিয়ানা আশা করি?

বুলিইং-এর কথা বলতে গিয়েও ভুলে গেছিলাম। এই প্রসঙ্গটাও তুলে আনার জন্য ধন্যবাদ। এদেশের স্কুল সিস্টেম খুব নিষ্ঠুর। এখানে মূলধারা থেকে কিছুমাত্র ভিন্ন হলেই ছেলে-মেয়েদের উপর অনেক রকম মানসিক/শারীরিক অত্যাচার নেমে আসে।

বড়রা কেউ বাংলা ভুলে গেলে যেতে পারেন। মনের সুখ মিটিয়ে তাদের গালি দিতেই পারি। আমার চিন্তা পরের প্রজন্মের শিশুদের নিয়ে। আমাদের ব্যর্থতার ভার খুব কচি বয়স থেকেই তাদের দিয়ে বহন করাচ্ছি আমরা।

অনেকেই জন্মের পর থেকে বাংলা শেখান, কিন্তু বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে বাংলা ভুলে গেলেই হাল ছেড়ে দেন। বাস্তবতা বিচারে আমার মনে হয়, বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য ৫/৬ বছর বয়সটাই উপযুক্ত বেশি। ইংরেজির স্রোতে ভেসে যাওয়ার স্বাভাবিকতা মেনে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে বাংলা শেখানো শুরু করা উচিত ঐ বয়সে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ইশতি, তোমার বুদ্ধিটা কিন্তু দারুন লাগল, ৫/৬ বছর বয়সে আবার বাংলা শেখানো শুরু করাটা আমার হিসাবে বেশ কার্যকরী হয়ে দেখা দিবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

নারে ভাই, আবেগের বোঝা খালাস করে দিয়েছি লেখাতেই, আর শেষমেষ কী হবে তা আমি আগে ভাগেই জানি, লেখাটা দেবার কারন একটাই, আসলে কী আমার এই আবেগ বা হতাশার পক্ষে কোন যুক্তি আছে আর বিপক্ষেই বা কী আছে। আমার জন্যে এ লেখাটা একটা মাইল ফলক, নিজের সীমিত জ্ঞানের ভান্ডারকে বিস্তৃত করার জন্যেই তো এই লেখা। লেখার নাম পড়েই আপনাদের বোঝা উচিৎ লাফালাফি চিল্লাচিল্লি করে যদি এ সমস্যার সমাধান হত তাহলে তো লেখা না দিয়ে হতাশার কাছে মাথা নত করতাম না। যেমনটা রিটনদা বলেছে, সম্ভবত আমার মত সবাই শুরুতে লাফায়, তারপর এক পর্যায়ে নিজের রাস্তা মাপে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সবাই সবার মতামত দিয়েছেন, সবাই হয়তো যার যার অবস্থান থেকে সঠিক-- তার বিচার করার কোন উদ্দেশ্য আমার নেই। আমি শুধু একটা লাইন কোট করছি, বেশ মজা পেয়েছি সেটা পড়ে:

মেয়েটি আমাকে বললো--আংকেল আই হেইট দিস কাইণ্ড অব তাতা থই থই....!

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব উপকার হলো পুরো লেখা ,মন্তব্য , যুক্তির পক্ষে ,বিপক্ষে পড়ে। নিজের ভিতরের অনেক ভাবনাকে বিচার করার প্রয়াশ পেলাম। অনেক ধন্যবাদ সবাইকে এবং কৃতজ্ঞতা।

নশী।

সাজেদ এর ছবি

আসলেই খুব কাজের লেখা। ছয় বছর ধরে বিদেশে। আমার ৭ বছরের মেয়ে বাংলা বলে, বুঝে, সব সময় চেষ্টা করে ঘরের মানুষের সাথে বাংলা বলার। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না।
আচ্ছা পোস্ট কিভাবে ফেসবুকের প্রোফাইলে এড করা যায়?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

http://www.sachalayatan.com/801146835/ লিংকটা কপি করেন, তারপর ফেসবুকে গিয়ে লিংক হিসেবে যোগ করেন। আপনার প্রোফাইল ট্যাবে একদম উপরের দিকে যে ফাঁকা স্থান আছে আর যেখানে What's on your mind? লেখা আছে তার নিচেই দেখবেন কয়েকটা ছোটছোট আইকন আছে। তৃতীয়টাতে ক্লিক করেন। তারপরে সেখানে এই পোস্টের লিংকটা বসান। ব্যাস।

সাজেদ এর ছবি

ধন্যবাদ প্রকৃতিপ্রেমিক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

পিপিদা, বেচারা সাজেদকে তো আমার প্রোফাইল লিংক দিয়ে দিসেন হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

দেঁতো হাসি

এই যে আসল লিংক http://www.sachalayatan.com/801146835/25995

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

টাকাপয়সা, পড়ালেখা, বিদেশ ভ্রমণ, সুযোগসুবিধা... বিভিন্ন কারণে বিদেশে এসেছি। তেমন তেমন ভদ্র সুযোগ পেলে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।
সুতরাং এখন বাংলার ফুটানি মারা আমাকে আর মানায় না।
দেশে থাকতে যখন বাংলা ভাষার এক ইঞ্চি মাপের একজন লেখক ছিলাম, তখন মারলেও সেই ফুটানি আমাকে মানাত। এখন আর না।
দেশকে নিয়ে, নিজের ভাষাকে নিয়ে, বাংলা অক্ষরে লেখা নিয়ে নিজের ভেতরে যদি সত্যিকার অর্থে কোনো মাদকতা কাজ করে, তাহলে সেটা আপনা থেকেই আমার সন্তানেও সংক্রামিত হবে। জোরের কিছু নেই। ব্যাপারটা ভালোবাসার। জোরের না।
সে সত্যিকার মানুষ হবে, এটা বিশ্বাস করি।
কতটা বাঙালি হবে, জানি না।
কারণ আমি নিজে খুব একটা দায়বদ্ধ বাঙালি ছিলাম না। দেশের জন্য কিছু করি নি। বরং দম ফেলতে নিজের দেশ ফেলে ছুটে এসেছি অন্য দেশে। আমি তত উপযুক্ত বাঙালি ছিলাম না, আর আমার বাচ্চাকে সত্যিকার বাঙালি বানাবার জন্য তার পেছনে হাজার অশ্বশক্তি ইঞ্জিন বেঁধে দেব, এ আমাকে মানায় না।
বাংলা ভাষায় কিছু আঁকিবুকি কেটেছি। রবীন্দ্রনাথের গান শুনে চোখের পানি ফেলেছি। দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করে ফেলার আকাশকুসুম স্বপ্নের আবেগে কেঁপেছি।
আমার সেই প্রেম যদি সত্যিকারের হয়, তাহলে সেই আবেগ আমার সন্তানকেও স্পর্শ করবে নিশ্চিত। দেখার অপেক্ষায় আছি।

লেখাটা পছন্দের পোস্টে ঝুলিয়ে রেখে দিলাম। প্রবাসে বাঙালি শিশুর বেড়ে ওঠা আর তার সাংস্কৃতিক বিকাশের একটা "মতামতসঙগ্রহ" হয়ে গেছে এটা। বাচ্চার মাকে নিয়ে বেশ অনেকবার পড়ব। বাচ্চা বড় হলে তাকে নিয়েও পড়ব।
বছর পাঁচ-সাত পর আবার কমেন্ট করব। বাচ্চারটা সহ। হাসি
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

মৃদুলদা, খুব ভালো লাগল আপনার কথা শুনে, বিশেষ করে এই অংশটা,

প্রবাসে বাঙালি শিশুর বেড়ে ওঠা আর তার সাংস্কৃতিক বিকাশের একটা "মতামতসঙগ্রহ" হয়ে গেছে এটা। বাচ্চার মাকে নিয়ে বেশ অনেকবার পড়ব। বাচ্চা বড় হলে তাকে নিয়েও পড়ব।
বছর পাঁচ-সাত পর আবার কমেন্ট করব। বাচ্চারটা সহ।

বস, মারিকা আসবেন না? নাকি আইসা পড়সেন?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

দেখি। ভিসার জন্য দাঁড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। হবে না সম্ভবত। হইলে তো জানবাই।
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

াপোনারে ঠেকাবে কেন? ভিসা পেলে দেখা হবে ভেবে ভালো লাগল বস

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রানা [অতিথি] এর ছবি

হিমু লিখেছেন:
যারা বাচ্চাকে মুসলমান বানানোর জন্য আরবি শেখান, তারা ঠিক কী কারণে শেখান? আমি তো নিশ্চিত, তাঁরা নিজেরা আরবি জানেন না। তো, আরবি না জেনেও তাঁদের বাপদাদা চৌদ্দগোষ্ঠীর মুসলমানত্ব নিয়ে তো কোন টানাটানি পড়েনি। কোরান তো ইংরেজি বাংলাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতেই পাওয়া যায়। আর কোরানের আরবি তো প্রচলিত আরবির মতো নয়, একটু আরকাইক (আরবি ভাষার অনেকগুলি ফর্ম প্রচলিত, যেমন মরক্কোর আরবরা গালফের মানুষের আরবি বুঝতে পারে না), এমন না যে আরবি ভাষা না বুঝলে কোরানের বক্তব্য বুঝতে কোন সমস্যা আছে। আরবি শিখে বাচ্চা তো মা-বাবার সাথেও কমিউনিকেট করতে পারবে না। তো চর্চাটা হবে কোথায়?

বাচ্চাকে যদি নিতান্ত ইসলাম সম্পর্কে পণ্ডিত বানাতে চান, তাহলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করতে পাঠান। আরবি শিখলেই যদি দুই কাঠি বেশি মুসলমান হওয়া যেতো, দুনিয়ার সব আরবই বেহেস্তে যেতো।



হিমু, এই আরবী কোরআনিক আরবী, কথপোকথন করতে পারার জন্য নয়। কোরান শরীফ ঠিকমত তেলওয়াত করতে পারার জন্য, বিশেষতঃ নামাজে সঠিক উচ্চারণে পড়তে পারার জন্য প্রবাসী মা-বাবারা বাচ্চাদের প্রবাসে কোরআনিক আরবী শেখানোর চেষ্টা করেন, যেমনটি কিনা আমরা ছোট বেলায় বাংলাদেশে শিখেছি । স্বাভাবিকভাবেই শুদ্ধভাবে পড়ার সাথে আসে কিছু শব্দের অর্থ বোঝা ও সামান্য ব্যাকরণ শেখা । এটা মোটামুটি বেসিক লেভেলের, আমাদের "বাপদাদা চৌদ্দগোষ্ঠীর" লেভেলেরই, এডভান্সড কিছু নয় । শুধু বাংলাদেশীরা না, সব প্রবাসী কম্যুনিটিতে এটা পাবে, জার্মানির টার্কিশদের মাঝেও লক্ষ্য করলে দেখবে ।

ঐতিহাসিকভাবে কোরান সেই সময়কার দ্রুতপরীবর্তনশীল আরবী ভাষাকে প্রামাণ্যরূপ দান করে। তুমি ঠিক বলেছো, চলতি আরবী স্থানভেদে ভিন্ন । তবে কোরান আরবী ভাষার বেসিক টেকস্ট হওয়াতে আন্চলিক আরবী যাই হোক তাতে কোরানিক আরবীর প্রভাব স্পষ্ট । লেখ্যরূপেতো আরও।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

রানা ভাই ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্যে, কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্যখানে, কোরান আরবি পড়া আর ইংরেজীতে পড়ার মধ্যে আসলে কি কোন পার্থক্য আছে? আমার মতে মানে বোঝা আর তা অনুসরন করাটাই মুখ্য, আসলে এসব বিষয়ে আমরা অনেক কম জানি আর আমাদের দেশে সত্যের সাথে ফতোয়া এত জড়িয়ে গেছে যে কোনটা ঠিক তাই অনেকে জানি না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রানা [অতিথি] এর ছবি

সাইফ, মানে বুঝে অনুসরণ করাটাই মুখ্য, তুমি ঠিক বলেছো, কারন কোরানের ভাষাতেই এটি "পথনির্দেশনা"।

তবে কিছু অনুসরণে তোমার কিছু আরবী দরকার । যেমনটি নামাজে । সেটাও একদম তোতাপাখির মত করা যায়, কিন্তু সামান্য আরবী জানলে, যেমনটি আমরা দেশে শিখি (যদিও অনেকে পরবর্তীতে চর্চা রাখিনা), ব্যাপারটা সহজ ও অর্থবহ হয়। আর একটি হল কোরান রিসাইটেশন বা তিলাওয়াত। একে ইসলামে আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়েছে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র শাখা (অর্থবোঝা বা ব্যাখ্যাশাস্ত্র থেকে ভিন্ন)। শাব্দিক উচ্চারণ বা সুর মনের উপর যা প্রভাব ফেলবে তা অনুবাদে আসবে না । শাব্দিক উচ্চারণ বা সুরের প্রভাব যে কোন ক্ষেত্রেই সত্য, আল্লাহর বাণী হিসেবে কোরানের ক্ষেত্রে একে আরো ব্যাপক ধরা হয়।

(খুব সংক্ষেপে আরও একটু যোগ করি।) কোরান যেহেতু আল্লাহর বাণী, তত্ত্বীয় দৃষ্টিতে অনুবাদ বা যে কোন মানুষের ব্যাখ্যাকে তাই কোরান বলা হয় না, এমনকি পার্থক্য বোঝানোর জন্য অনুবাদকে "কোরানের অনুবাদ" না বলে "কোরানের অর্থের অনুবাদ" বলা হয়। এই কারণেই কোরানকে নিজের স্মৃতিতে ধারণ করা বা নিজের কন্ঠে ধারণ করার চেষ্টা করা হয় মূল ভাষায়।

মজার ব্যাপার, তুমি ইংরেজীতে কোরান পড়ার কথা বলছ, বাংলায় নয় হাসি হা হা। ভাল থেকো ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনার কথাগুলো পড়ে বেশ কিচু জিনিষ পরিষ্কার হল। ধন্যবাদ, রানা ভাই।

ইংরেজী অনুবাদের কথাটা হিপোক্রিটিক শোনায় কিন্তু এই মুহুর্তে বাঙলা অনুবাদ নেই সাথে, ভনিতা করে বাঙলা বলতে পারতাম, তা করি নাই, আর সামারার জন্যে তো ইংরেজী সহজবোধ্য হবে, মানে বোঝাটা যখন মুখ্য।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

সিডনীতেও একই অবস্থা দেখি। খুবই দুঃখজনক।
--------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সবখানেই এক অবস্থা, তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ঢাকায়!! মন খারাপ, সেখানে হয় বাংরেজী চাষ, আর ঢং করে কথা বলাটা ঈশটাঈল চোখ টিপি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রেনেট এর ছবি

এধরণের কথা শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়.....এখানে come কর।

মন্তব্যগুলো পড়ার সময় পেলাম না এখন। পরে পড়ব।

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আমি দেরী করে আসায় সুবিনয় আমার কথাগুলো বলে ফেলেছেন। চ্রম খারাপ।

বটম লাইন ঐটাই।
আমি বিদেশে যাব, অন্যদেশের পাসপোর্ট নেব আর আমার বাচ্চা আমার গ্রামের ঐতিহ্য বহন করবে এমনটা আশা করা অবান্তর।

আমি না হয় আমার বাচ্চাকে শেখালাম, কিন্তু সে কি তার বাচ্চাকে শেখাবে। কী হবে দুই জেনারেশন পরে ?

সুবিনয়ের কথাটি খুব কষ্টদায়ক সত্য ।
মাইগ্রেটরা প্লেনে প্রথম পা দেয়ার সাথে সাথেই স্বদেশ থেকে দূরে যেতে থাকে । কেউ যায় দ্রুততায় , কেউ যায় ধীরে...কিন্তু যাওয়া সে তো যাওয়াই।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

এই ক্লিপটা গডফাদার ২-এর শুরু থেকে নেয়া। অনেকে দেখে থাকবেন। ১০০ বছর আগে নিউ ইয়র্কের লিট্ল ইটালি-তে সদ্য আগত সিসিলিয়ান মাইগ্র্যান্টদের জীবনের একটা দৃশ্য।

ইমিগ্রেশন নিয়ে আলাপ উঠলেই কোন এক কারনে আমার এই ছবিটার কথা মনে হয়। ১ আর ২ দুইটাই আমার খুব প্রিয় ছবি, তবে ২-এর ভেতর একটা আলাদা ডাইমেনশন খুঁজে পাই। ছবিটা দেখে খেয়াল হয় যে আমরাই প্রথম না, ইতিহাসের একদম শুরু থেকেই এই কষ্টগুলো আর এই প্রশ্নগুলো ইমিগ্র্যান্টদের তাড়া করে ফিরেছে। ফেলে আসা দেশ নিয়ে প্রবাসীদের যেই আকুতি, সেটা এই দৃশ্যে কিছুটা আছে। হলঘর ভর্তি প্রবাসীরা বসে আছে দেশীয় নাটক দেখার জন্য। যেমন একশো বছর পরে আমাদের পহেলা বৈশাখের ছোট প্রোগ্রামে বা অর্ণবের কনসার্টে হল জুড়ে দেশীয় লোক হয়ে যায়।

আর ভিতো আন্দোলিনি (পরে ডন কর্লিয়োনি) আর তার ছেলেদের উদাহরণটাও দেখার মতন। ছোট ছেলে ভিতো মোড়লের তাড়া খেয়ে স্বদেশ থেকে পালিয়ে আমেরিকা এসে ঠেকে। বড় বয়সেও একটু-আধটু ইতালিয়ান/সিসিলিয়ান সে বলে যায়। কিন্তু তার তিন ছেলে ফ্রেডো, মাইকেল, সনি, সবাই মূলত ইংরেজীতেই কথা বলে, যদিও তাদের উঠাবসা মোটামুটি অন্যান্য ইতালিয়ান বংশোদ্ভূতদের মাঝেই সীমিত থাকে। মাইকেল (আল পাচিনো) সিসিলিতেও যায় এক পর্যায়ে, বাপের আদিভূমি চষে বেড়ায়। 'দেশীয়' মেয়ে বিয়ে করে একটা সুন্দরী দেখে। কিন্তু তার সেই যাত্রা স্থায়ী হয় না।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আমার এক ভাগ্নে এক আমেরিকান ( সহজ বাংলায় সাদা আমেরিকান ) বিয়ে করতে যাচ্ছে। বৃহত্তর পরিবারে ঢি ঢি পড়ে গেছে।
অথচ মেয়েটাকে আমার ভালোই লেগেছে।

এখন জোর করে সংস্কৃতি রক্ষা করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। যে ছেলে আমেরিকায় পড়াশোনা করেছে, চাকুরি করে , সে তার কলিগকে বিয়ে করবে এটাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখি না ।
অথচ সে কেন "ছিলটি" মেয়ে বিয়ে করল না , আমেরিকায় সিলেটী মেয়েদের কী কোন অভাব এসব নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নাই।

আমাদের বাঙাল মুলুকে অধিকাংশ মুসলমানদেরকে পাই যারা দাবী করে তাদের পূর্বপুরুষ আসলে আরব দেশ থেকে এসেছিলেন।
এটা সত্যি যে আরবের ভবঘুরেদের এক বিরাট অংশ এই অঞ্চলে এসেছিলেন।
এখন যদি সেই কথার দোহাই দিয়ে আরবী ভাষায় কথাবার্তা বলা শুরু হয় তাহলে তাদের নিয়ে হাসাহাসিই হবে এখন।

আমি বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখি, অনিবার্য মনে করি।
মাইগ্রেট বাবা মা'র দায়িত্ব হয়তো তাদের নিজেদের ভূমির কথা পরের জেনারেশনের কাছে জানানো ,
কিন্তু আমেরিকায় জন্ম নেয়া আমার সন্তান শেষ বিচারে আমেরিকানই ,
সে আমার মতো বাংলাদেশী নয়। আমার দেশ নিয়ে আমার যে মমতা সেটা যদি সে অর্জন করতে না পারে তাহলে তাকে অথবা আমাকে কাউকেই দোষী করা যাবে না ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, আমি তো কোন সন্তানকে দোষ দেই নি, আর আপনে নিজেই স্বীকার করেছেন যে

মাইগ্রেট বাবা মা'র দায়িত্ব হয়তো তাদের নিজেদের ভূমির কথা পরের জেনারেশনের কাছে জানানো

আমিও এই একই কথা বলছি, কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকেই তা করছেন না এবং তা নিয়ে কেউ কেউ গর্বও করছেন।

আর আমেরিকান কেউ আমেরিকান বিয়ে করবে, এটাইতো স্বাভাবিক। সে বাংলাদেশী আমেরিকান হলেও একই নিয়মে হবে।

আর বিশেষ করে সিলেটি পরিবারের কথা যখন বললেন, আমার ৬ জন সিলেটি বন্ধুর কথা জানি, যারা ঢাকায় বসেই সিলেটের বাইরের মেয়ে করতে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়েছিল, তাদের মধ্যে ২ জন সিলেটি মেয়ে বিয়ে করতে চেয়ে ছিল, তাদের বাড়ি সিলেট নয়, তারা সফল হতে পারে নি। শেষকালে অন্য মেয়ের সাতেহ বিয়ে হয়েছে। একই ঘটনা পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এতে প্রমাণ হয় যে, আমাদের মানসিকতায় নানবিধ সমস্যা আছে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সুবিনয়দা, বেশ অনেকদিন আপনার লেখা পাচ্ছি না, শুনলাম খুব ব্যস্ত, অনুরোধ থাকল ব্যস্ততা একটু কমলে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস নিয়ে বিশদ লেখা দিন না। অন্যদের কথা জানি না, আমি অপেক্ষায় থাকব।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বিদেশের মাটিতে যেই বুইড়া ধাঁড়ি বাবা মায়েরা আংরেজি বুলায়, লুলায় এবং ঝুলায়- তাদের সব্বাইরে ফিডি ফিডি তক্তা বানাইয়া দেওয়া দরকার।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এইডা কি জাকাজা কমিটির মত নাকি আপনার? বিয়াপক শান্তি পাইলাম, পুস্টটা এতই গরম হইসিল যে আমার নিজেরই অস্থির লাগতেছিল, আপনার মতামত পাইয়া দিলে শান্তি পাইলাম দেঁতো হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দময়ন্তী এর ছবি

আমার মত মোটামুটি স্নিগ্ধা, সুবিনয় এঁরা বলেই দিয়েছেন৷

আমি শুধু আমার প্রাণের বন্ধুর একটা লেখা দিয়ে গেলাম এখানে৷ এটা কোন একটা ওয়েবজিনেও বেরিয়েছিল, এখন আর খুঁজতে পারছি না৷ এটা কিন্তু একেবারে সত্যি৷ আমার বন্ধু থাকে সিডনীতে৷ ওর বর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব নিয়েছে৷ ও নেয় নি, মেয়েকেও দেয় নি৷ ওর বক্তব্য মেয়ে সাবালক হয়ে যদি নিতে চায়, নেবে৷ ওর বাড়ীতেই স্কুল খুলেছিল৷ এখন ওর মেয়ে আর দুটি মেয়ে গড়গড়িয়ে বলতে, পড়তে পারে৷ লিখতেও পারে মোটামুটি৷ ওর কথা হল ও বাংলার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, এরপরে মেয়ে যদি বাংলাকে ছাড়ে, ও দু:খ পাবে হয়ত, কিন্তু জোর করবে না৷

--------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনার বন্ধুটিকে সহস্র প্রণাম রইল আমার। আর আমার কথাও সেটাই, পরবর্তী প্রজন্ম ধরে রাখবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার, তাই বলে হাল ছেড়ে দেয়া কি ঠিক হবে?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সচল জাহিদ এর ছবি

সাইফ ভাই, প্রাসঙ্গিক বলেই যে লেখাটি দিয়ে সচলে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই লিঙ্কটি দিলাম। সময় পেলে লেখাটি পড়ে দেখবেন। অনেক কষ্ট থেকে লেখা।

তবুও আশা

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, সচল হবার অভিনন্দন হাসি. আপনার লিংকটি কেন যেন কাজ করছে না, দেখেন তো একই নামে এটা কি ভিন্ন লেখা, নিচে লেখকের নাম নেই।

তবুও আশা

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সচল জাহিদ এর ছবি

সাইফ ভাই, শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।
আসলে অতিথি সচল হবার পরে এটি আমার আকাউন্টে আনা হয়েছিল। সঠিক লিঙ্কটি নিচে আবার দিলামঃ

তবুও আশা

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, খুব ভালো লাগল, আপনে যখন দিলেন, খুজে বের করে পড়লাম। অতিথি একাউন্টেও ছিল লেখাটা। একদম মনের কথাগুলো বলেছেন আপনে,

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

একটা খুব পরিচিত এবং খুব করে এড়িয়ে যাওয়া বিষয় সামনে নিয়ে আসার জন্যে সাইফ কে অশেষ ধন্যবাদ। এই পোষ্টটি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা বিতর্কে সরব হয়ে রয়েছে। কেউ হয়ত সাইফের হতাশার সুরে সুর মিলিয়েছেন, আবার কেউ হয়ত বলেছেন বিপরীত কথা। পক্ষে-বিপক্ষে যাই হোক না কেন,এত দীর্ঘ আলোচনা আমাদের একটা কথাই বলে----প্রবাসে আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টির প্রচার প্রসার বা জায়মানতা নিয়ে আমরা যত না চিন্তিত---তার চেয়ে বেশি শঙ্কিত প্রজন্মান্তরে সেই সংস্কৃতির সার্থক অভিস্রবনের সম্ভাব্য ব্যর্থতায়।

সুবিনয়-স্নিগ্ধা'পু-রাজর্ষি'দা-পিপি'দা মোটামুটি সকল দিক স্পর্শ করে ফেলেছেন। আমি খুব ছোট্ট করে আমার কথা গুলো বলে নিই?

এক) প্রবাসে এসে নানান সঙ্কটে পড়তে হয়----আর্থিক সঙ্কট,আত্মিক সঙ্কট সহ আরো কত কি। সঙ্কট উত্তরণের প্রক্রিয়াগুলোও মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়। কেউ মনে করেন ঝাঁকের কই হয়ে ঝাঁকে মিশে গেলেই বেঁচে গেলেন। কেউ মনে করেন মিশে যাওয়া মানে হারিয়ে যাওয়া।এই চিন্তা-ভাবনা থেকেই কেউ বিদেশে এসে প্রাণপনে বিদেশী সাজতে চান---বিদেশীদের যাই-ই দেখেন সবই অসামান্য লাগে তাদের কাছে।যে দেশ থেকে এসেছেন সেদেশের সব কিছুই তখন বড্ড দীন-হীন মনে হয়। এরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে কেউ আবার বিদেশের সকল কিছুর উপরই ভীষন বিরক্ত---আমি নিজে সে গোত্রে পড়ি। এর ফলে যা হয়, সেটা হল প্রথম গোত্রের কাউকে দেখলে আমার চরম গাত্রদাহ হয়। জীবনের প্রয়োজনে আমাদেরকে পাড়ি জমাতে হয়েছে বিদেশ-বিভুঁইয়ে। তার মানে কী এই যে, আমাকে ভুলে যেতে হবে আমার ঘরের উঠোনে ফোটা চালতা ফুলটাকে? বা ভাবতে হবে কী নরকেই না দিন কাটিয়েছি এই 'স্বর্গে' আসার আগে? আমার মনে হয় সাইফের আপত্তিটা এইখানেই----বিদেশে এসে ময়ুর পুচ্ছ-ধারী বায়স হবার মত হাস্যকর চেষ্টা কেবল আপন অন্তঃসারশূন্যতাকেই প্রকট করে তোলে।

দুই) কাহলীল জিবরানের 'The Prophet' আমার খুব পছন্দের একটা বই।
সেখান থেকে একটা অংশ তুলে দিচ্ছিঃ
Your children are not your children.
They are the sons and daughters of
Life's longing for itself.

They come through you but not from
you, And though they are with you yet they
belong not to you.

You may give them your love but not your
thoughts,
For they have their own thoughts.

You may house their bodies but not
their souls,
For their souls dwell in the house of
tomorrow...

আমার মনে হয় না এর চেয়ে ভাল করে আর কিছু বলা সম্ভব। আমাদের যদি কোন দায় থেকে থাকে আমাদের সন্তানদের কাছে---সেটা তাদেরকে একটা নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিতকরণের দায়, জীবনের রুঢ়তাকে যথাসম্ভব মসৃনতায় ধরে দেবার দায়। আমা হতে উৎসারিত আমার আত্মজা'র আমার প্রতি কোন দায় নেই। তার কোন দায় নেই তাই আমার নিজের ভাললাগার প্রতি,আমার নিজের সংস্কৃতির প্রতি। তাকে কোন বাঁধনে জড়িয়ে বাধ্য করার কোন মানে হয় না। আমার দায় শুধু তাকে নিরাপদ করা। আমার দায়---আমার নিজের কৃষ্টিকে সম্মান দেওয়া। আমার সন্তান যদি আমার সে দায়বদ্ধতাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে---তাতেই আমি তুষ্ট। সে যদি আমাকে ভালবেসে আমার ভালবাসার দেশটাকে ভালবাসতে চায়---আমি তাকে দু'হাতে ধরে নিয়ে যাব ধানসিঁড়ি নদীর তীরে। আর যদি এসবের কিছুই না চায়----তাকে চলে যেতে দেব তার নিজের পথে---এইটুকুই আমার করার আছে---

সকলকে শুভেচ্ছা----

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এর চেয়ে ভালো ভাবে বলা সম্ভব ছিল কিনা জানি না। দুর্দান্ত মন্তব্য। মন্তব্যে "লাইক" দেওয়ার ফিচার চাই। দিনের সেরা পোস্টের মত সেরা মন্তব্যও দেখতে চাই।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

একমত, বস!!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

কীর্তিনাশা এর ছবি

তারেক ভাই, আপনার এই মন্তব্যটা আমি কপি করে নিলাম। আমি নিশ্চিত নিজের সন্তানকে যথাযথ ভাবে মানুষ করতে এই মন্তব্যটা আমার মাঝে মাঝেই পড়তে হবে।

গুরু গুরু

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

একে মনে হয় বলে, ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে চোখ টিপি

যাক, অনিকেতদা, এত সুন্দর করে বিশ্লেষন করার জন্যে ধন্যবাদ, সেই সাথে একই ধন্যবাদ স্নিগ্ধাপু, রিটনদা, সুবিনয়দা, পিপিদা, যুধিষ্ঠিরদা, হিমুদা, মৃদুলদা, জাহিদ ভাই, আরিফ ভাই, রানা ভাইকে, ইশতি, ওয়াইল্ড স্কোপ এবং অন্যান্য যারা, পক্ষে বিপক্ষে মোটামুটি সব পয়েন্ট তুলে ধরার জন্যে। যদিও আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঙলা শেখানো জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়, তারপরেও কিন্তু বেশ কয়েকজন তা করছেন এবং জেনে শুনে তা করছেন।

কে বাঙলা শেখাবেন, তা আপনাদের ব্যক্তগত ব্যাপার, তা মানতেই হবে, আর অনিকেতদার এ হৃদয় ছোয়া কথাগুলো মনে রেখেই মনে হয় আমাদের সামনে এগুনো সবচেয়ে ভালো, "আমার দায়---আমার নিজের কৃষ্টিকে সম্মান দেওয়া। আমার সন্তান যদি আমার সে দায়বদ্ধতাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে---তাতেই আমি তুষ্ট। সে যদি আমাকে ভালবেসে আমার ভালবাসার দেশটাকে ভালবাসতে চায়---আমি তাকে দু'হাতে ধরে নিয়ে যাব ধানসিঁড়ি নদীর তীরে। আর যদি এসবের কিছুই না চায়----তাকে চলে যেতে দেব তার নিজের পথে---এইটুকুই আমার করার আছে---"

তবে, আপনার দেশকে চেনানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। সেটা ভুলবেন না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

তানবীরা এর ছবি

সাইফ ভাই আসো আমার কুলে আসো। তুমি আমার নিজের ভাই। আমারো মাতা গরম, তুমারো। আমিও আবেগপ্রবন তুমিও। আমারো ঠিক তোমার মতো বাংলাদেশ বাঙলা ভাষা রুগ আছে।

আমার মেয়ে শুধু পরিস্কার বাংলায় কথাই বলে না, হাত দিয়ে মেখে ডাল, ভাত, ভর্তা, ভাজি, শুটকি সব খায়। এখন শুধু শাক আর করলা খাওয়া শিখাচ্ছি। ট্রেনিং এ সব হয়।

বাংলাদেশে ট্রেন দিয়ে যদি বিলাতি বান্দর বানানো যায় তাহলে এখানে ট্রেইন করে দেশি বান্দর বানানো খুবই সম্ভব। কি বলু?
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

সাইফ তাহসিন এর ছবি

তানবীরাপু, তোমার কথায় মনে অনেক শান্তি পাইলাম। মেঘলা মামনি রে দুনিয়ার সকল ভালোবাসা উজার কইরা দিলাম, সে হাতে মাখায় ভাত কায় জানতে পেরে গর্বে বুকটা ফুলে উঠল, সেজন্যে সকল কৃতিত্বধারী তনু আপাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম। আর এটা খুবই হক কথা, "বাংলাদেশে ট্রেন দিয়ে যদি বিলাতি বান্দর বানানো যায় তাহলে এখানে ট্রেইন করে দেশি বান্দর বানানো খুবই সম্ভব।"

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চলুক

সুমন চৌধুরী এর ছবি
অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

সাইফ ভাই, ভীষণ দরকারি একটা বিষয় তুলে ধরসেন এখানে। পড়সি প্রথমদিনই, সবার মন্তব্যও মোটামুটি দেখসি। বলার আসলে কিছুই নাই, সবাই উপরে সবকিছু বলে দিসেন। আমি শুধু এইটুকু প্রার্থনা করি, আপনি আপনার মেয়েকে যেন নিজের মতো করে বড়ো করতে পারেন। হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সেটা নিয়েও খুব ভয়ে আছি, নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি, তাও ইংরেজী তাকে টানে বেশী। আমি চেষ্টা করে হালে পানি পাইতে কষ্ট হয়, যারা চেষ্টা করে না, তাদের কি হবে? মন খারাপ

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

এনকিদু এর ছবি

আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তার সবই বড়ো ভাই বোনেরা আমার আগে বলে দিয়েছেন । তাই আমি আর ঐ প্রসঙ্গে গেলাম না । সবাই যেই প্রসঙ্গ কিছু বলেনাই সেই প্রসঙ্গে বলি ।

কার্টুনের উপর দোষ দিলেন কেন ?

বাচ্চাদের কার্টুন, কমিক, আলতু ফালতু ছেলে খেলা - এসব জিনিসকে কখনো খারাপ দৃষ্টিতে দেখলে বিরাট ভুল করবেন । আপনি শিশুকে একটা পাঠ্য বই থেকে যা শেখাতে পারবেননা তার থেকেও অনেক গুন বেশি জিনিস শিশু নিজেই এসব থেকে শিখে নিতে পারে ।

আর ভাষা শেখার প্রসঙ্গে বলি, আটলান্টিকের ঐপাড়ে আপনি বিনা পয়সায় তিন ( বা তারও বেশি ) ভাষা শেখানর সুযোগ পেয়েছেন । আপনার সন্তান কে সমস্ত ভাষা শিখিয়ে নিন এই সুযোগে । ইংলিশ, স্প্যানিশ, বাংলা তো অবশ্য কর্তব্য, পারলে সেই সাথে ফ্রেঞ্চ, পর্তুগীজ ইত্যাদি । বেশি বেশি ভাষা শিখলে বুদ্ধির ধার বাড়ে, মনস্তাত্বীক গবেষণার ফলাফল তাই বলে । একটু গুগলান, আমার এই কথার স্বপক্ষে অনেক বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্যপ্রমান পাবেন ।

এক ভাষায় কথা বলার সময় তার মধ্যে অন্য ভাষা খুবই দরকার না হলে ঢুকান উচিত না - এই সামান্য কথাটা সন্তানকে উপযুক্ত সময়ে বুঝিয়ে বলে দিয়েন, তাহলেই ল্যাঠা চুকে গেল ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এক ভাষায় কথা বলার সময় তার মধ্যে অন্য ভাষা খুবই দরকার না হলে ঢুকান উচিত না - এই সামান্য কথাটা সন্তানকে উপযুক্ত সময়ে বুঝিয়ে বলে দিয়েন, তাহলেই ল্যাঠা চুকে গেল

কী কারনে আপনার মনে হল আমি বাংলা শেখাবো অন্য ভাষা শেখাবো না? একটু বুঝিয়ে বলবেন কী? আমার লেখাটার উদ্দেশ্যই ছিল, অন্য যে ভাষা সেখানোর তা তো শিখবেই, তার পাশে বাংলাটাও যেন শিখে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।