কুলদা রায়
এমএমআর জালাল
প্রজানীপিড়ন খণ্ড : ছয়
১৮৯১ সালে শিলাইদহে কুঠিবাড়িতে পূণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। পূণ্যাহ অনুষ্ঠানে জমিদার বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে প্রজারা খাজনা দেয়। সেদিন তারা সাধ্যমত ধোপদুরস্ত পোষাকে জমিদারের সামনে আসে। তাদেরকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। কখনো কখনো ভোজেরও আয়েজন করা হয়।
সচলের ফাঁকিবাজদের লিস্ট দেখে মনে হল লেখালেখি নিয়ে কিছু লিখি। এখানে অনেক বাঘাবাঘা লেখক আছেন যারা চরম অলস হবার কারণে লেখালেখি করতে পারছেন না। আবার অনেক নবীনরা আছেন একেবারে তরবারি উঁচিয়ে প্রস্তুত বাঘা হবার জন্য। কিন্তু তাদের হয়তো লেখা পেটে আসলেও, খাতায় আসছে না। আবার অনেকেই হয়তো মাথা চুলকাতে চুলকাতে ঘা করে ফেলছেন কি লিখবেন কিভাবে লিখবেন এইভেবে। ছেলে বুড়ো সবার জন্য শিক্ষামূলক এই প্রবন্ধ লিখছি।
তুমি শালা একটা ফেইলিউর। পরীক্ষায় ফেইল না করলে কি হবে, পুরা জীবনটাই তোমার ফেইলে ভর্তি।
নিস্কর্মা শেইদুল্লাকে মনে আছে তো? সেই যে কোন কিছু না করেই স্রেফ বসে বসে ধনী হয়ে যেতে চেয়েছিল, আর অবলীলায় হাতের কাছে আসা ধন-রত্ন পায়ে ঠেলে চলে যাচ্ছিল শুধু সামান্য পরিশ্রমের ভয়ে! শেইদুল্লাকে আইডল বানাতে চেয়েও কখনো পারিনি। আলদার কোশে আর শিগাই বাইয়ের গুনগুলি রপ্ত করতেই যেন ছুটে চলেছি দিন-রাত। বোকা ইভানের মত চুল্লির উপর বসে ব্যাঙের ছাতা খাওয়ার সাধ আমার বহুদিনের। আর সবাই যখন ঘুমিয়ে যাবে তখন তেপান্তরের মাঠে গিয়ে চিৎকার করে ডাকবো সিভকা-বুর্কাকে। তার এককান দিয়ে ঢুকতে না পারলেও ক্ষতি নেই বিশেষ। জাদুকরী ভাসিলিসাকে পাওয়ার লোভে ব্যাঙের ঠোঁটে চুমু খাইনি কোনদিন। কি জানি, স্বপ্ন ভঙ্গের ভয়েই হয়তো।
এই বছর আমার বাচ্চাকাচ্চা চল্লিশটা। বছর ভালো যাবে না মন্দ যাবে, এটা অনেকাংশেই নির্ভর করে এদের কর্মকাণ্ডের ওপর। যদি এরা হয় লক্ষীসোনা টাইপ, তাহলে তো স্বস্তির নিশ্বাস, আর যদি হয় বাচ্চা ভয়ংকর, কাচ্চা ভয়ংকর, তো সারা বছর ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে জান শেষ। আমার ক্লাসে অবশ্য সব টাইপই আছে। বাচ্চারা তুলনামূলকভাবে ফরম টিচারের কাছে সুবোধ হয়ে থাকে। অন্য ক্লাসগুলোতে গেলে বোঝা যায় এদের আসল রঙ। তবে ভাল
রূপনের দেয়া বিরাট হীরের আংটিটা চোখ ঝলসে দিল জিনার। একবাক্যে - ও বোল্ড আউট।
রূপনের সাথে ডেট করার কারনে জিনার বান্ধবীরা ওকে নিয়ে কম হাসাহাসি করেনি। ওর বাবার চেয়েও বয়সে বড় রূপন সাহেব। মাথা অনেক আগেই প্রায় চন্দ্রপৃষ্ঠ। কিন্তু জিনা জানত সুইচ কোথায় ও কিভাবে টিপতে হয়। যাক, সব ভাল যার শেষ ভাল। চুনোপুটি নয়, বড়শিতে ও তিমিই গেঁথেছে একটা।
শীতের সকালে মফস্বলে যা যা থাকার কথা মোটামুটি সব-ই আছে, নেই শুধু ঠান্ডা আর কুয়াশা। আমারই ভাগ্য খারাপ। উত্তরবংগ আসার আগে কতো জল্পনা কল্পনা করলাম- কাপড় চোপড় এর বস্তা নিয়ে। কতো সংশয়! ভাগ্যিস, শেষ পর্যন্ত আলসেমির জয় হয়েছিল, না হলে এখন শুধু শুধু গরম কাপড় গুলো টানতে হতো।
যা হয় না তা যে হয় না, তা বুঝতে আবুল মজিদের বার বছর লাগে। এই বুঝাবুঝি শেষ করতে করতে যখন হুঁশ হয়, ততদিনে এলাকার জলা-মাঠ-কচুরিপানা সাফা হয়ে খালি দালান আর কোঠা। ইয়ার-দোস্তরা সেইসব দালান-কোঠার কন্ট্রাকটারি করে বিয়ে-শাদি করে পোলাপানের হ্যাপি বার্থডে করে। আবুল মজিদ সেইসব হ্যাপি বার্থডে তে যায়, মোমবাত্তিতে ফুঁ দেয়, হাসি হাসি মুখে গ্রুপ ফটো তোলে। ভাবিরা বলে, বিয়া করেন না ক্যান?