নেভারেস্ট: পর্ব ১

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: মঙ্গল, ০৬/০৭/২০১০ - ১১:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের সংবাদটি আমি শোনার পর বিশ্বাস করেছিলাম। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। যদিও জানতাম না, তিনি আদৌ এ বছর এভারেস্ট বরাবর রওনা হয়েছেন কি না। জানতাম না তার গাইড কে ছিলো, জানতাম না তিনি কোন অভিযাত্রীদলের সাথে গিয়েছেন, এভারেস্টের কোন দিক থেকেই বা তিনি চড়লেন, এই বিপুল ব্যয় কে নির্বাহ করলো, কীভাবে সংবাদটি পেয়ে এভারেস্ট থেকে বহু নিচে বসে কেউ একজন ব্লগে ব্লগে ছড়িয়ে দিলেন। কোনো কিছু না জেনেই আমি তথ্যটি চেয়ারে বসে গ্রহণ করে নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে যখন এ নিয়ে সন্দেহের প্রথম ঢেউটি অডিয়েন্সের ওপর আছড়ে পড়লো, তখন জমে থাকা অনেকগুলো প্রশ্ন পাওনাদারের মতো এসে কড়া নাড়লো আমার চৈতন্যের দরজায়।

আমার বিশ্লেষণ তাই নিজেকে দিয়েই শুরু। কেন আমি বিশ্বাস করলাম তথ্যটা? অন্যভাবে বলতে গেলে, কেন আমরা কোনো কিছু বিশ্বাস করি?

"বিশ্বাস" নিয়ে একটু চিন্তা করে, এর তিনটি মৌল উপাদানকে ছক কেটে আলাদা করলাম, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে "বিশ্বাস" গড়ে ওঠে। নিচের ডায়াগ্রামে দেখুন।

faith

এই তিনটি যদি একটা ভারসাম্যে এসে পৌঁছায়, বিশ্বাস গড়ে উঠবে এবং টিকে থাকবে। কোনো কারণে যদি বক্তা আর বক্তব্যের মাঝে ভারসাম্যে একটু বিঘ্ন ঘটে, কিংবা বক্তা আর অডিয়েন্সের মাঝে সংযোগে সমস্যা দেখা দেয়, অথবা অডিয়েন্স আর বক্তব্যের মাঝের যোগসূত্রে ফাটল ধরে, বিশ্বাস টলে যেতে পারে, এমনকি ধ্বসেও যেতে পারে।

প্রতিদিনের ঘটনাগুলোর কথা খবরের কাগজে, বা ব্লগে পড়ি, টিভিতে দেখি, এবং নিজেরা একটি সিদ্ধান্তে আসি। এখানে "বিশ্বাস" এর প্রসঙ্গ আসে। আমরা একজন বক্তাকে পাই, তার একটি বক্তব্যকে পাই, আর নিজেরা অডিয়েন্সের চেয়ারে বসে সেই বক্তব্যকে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন করি?

আমি নিজেকে প্রশ্ন করে যে উত্তর পেলাম, সেটি হচ্ছে, মুসার বক্তব্যটি [অর্থাৎ তিনি এভারেস্ট শীর্ষ জয় করেছেন] একটি আদর্শ অডিয়েন্স খুঁজে পেয়েছে। স্থানকালপাত্রের একটি চমৎকার মেলবন্ধনের কারণেই এই বক্তব্য বহু লোকে বিশ্বাস করেছেন, কোনো প্রশ্ন না করে, কোনো প্রমাণ দেখতে না চেয়ে। কেন এমন চাওয়া, এ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে কথা হবে। এ পর্বে আমি বক্তা আর বক্তব্যের মধ্যে যোগসূত্রটি নিয়ে কথা বলবো।

মুসা ইব্রাহীমের জায়গায় আজ যদি আমি এসে বলতাম, আমি এভারেস্ট জয় করে এসেছি, আপনারা আমাকে পাত্তা দিতেন না। কারণ, মুসা ইব্রাহীম এই এভারেস্ট জয়ের পথে হাঁটছেন বেশ কিছুদিন ধরে, আমি হাঁটছি না। খবরের কাগজের কল্যাণে মুসা ইব্রাহীম নামটি পরিচিত, এবং সুদীর্ঘ সময় ধরে তিনি এভারেস্ট শব্দটি উচ্চারণ করে করে মিডিয়াতে "মুসা ইব্রাহীম" আর "এভারেস্ট"কে এক পঙক্তিতে বসিয়ে ক্রমশ তাঁর বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্মাণ করেছেন। ঈস্টার দ্বীপে বেশ কিছু দানবাকৃতির মূর্তি রয়েছে, যা মানুষের বিস্ময় জাগিয়ে আসছে অনেক বছর ধরে, কিন্তু যা মানুষের মনোযোগ এড়িয়ে গেছে, তা হচ্ছে, ঐ মূর্তিগুলো [মোয়াই] বিপুল পরিমাণ নুড়ি দিয়ে তৈরি প্ল্যাটফর্মের [আহু] ওপর বসানো। ওরকম এক একটি আহু নির্মাণও বিপুল শ্রমসাধ্য কাজ, যদিও তা মানুষের বিস্ময় অর্জন করতে সমর্থ হয়নি। মুসার এভারেস্ট জয়কে যদি মোয়াই হিসেবে ধরে নিই আমরা, তাহলে এই জয়ের সংবাদটির গ্রহণযোগ্যতা নির্মাণের জন্যে পাঁচ ছয় বছর ধরে তাঁর অধ্যবসায়কে আহুনির্মাণের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

মুসা ইব্রাহীমের এই অতীত মিডিয়াভুক্তি নিয়ে একটু খোঁজ করতে গিয়ে যা জানলাম, সেটিও আমার মনে সন্দেহের সরু ফাটলটাকে প্রশস্ত করা শুরু করলো।

অতীতে মুসা যতগুলো পর্বতশীর্ষ জয় করার দাবি জানিয়েছেন, তার কোনটির সাথেই উপযুক্ত কোনো প্রমাণের উল্লেখ মিডিয়াতে আসেনি।

একটিরও নয়।

এ ব্যাপারে কথা শুরুর আগে চলুন মীর শামছুল আলম বাবুর বয়ানে আমরা বাংলাদেশে পর্বতারোহণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু শুনি [১]।

বাবুর ভাষ্যের সাথে আরো কিছু সূত্র যোগ করে আমরা একটি কালপঞ্জি পাই, অনেকটা এমনঃ

  • ১৯৬৯ সালে জামালপুরের ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ, ১৯৭৯ সালে প্রবাসী ইন্তেসার হায়দার ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের সুমন সম্পদ বণিক বিচ্ছিন্নভাবে এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন।

  • মুনতাসীর মামুন ও রিফাত হাসানের এভারেস্ট বেইসক্যাম্প ট্রেক [১৭ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে] নিয়ে জনকণ্ঠে ২৫ জুলাই, ২০০৩ সালে একটি ফিচার ছাপা হয়, এবং এ খবর দেখে ইনাম আল হক এভারেস্ট অভিযাত্রী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।

  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ এ ইনাম-আল-হকের বাসায় বাংলাদেশ এভারেস্ট টিম গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় এবং ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ এ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুসা ইব্রাহীম, রিফাত হাসান, মুনতাসির মামুন ইমরান, সজল খালেদ, সিরাজুল হক সাগর, এনাম তালুকদার, মশহুরুল আমিন মিলন ও সাদিয়া সুলতানা সম্পাকে নিয়ে 'বাংলাদেশ এভারেস্ট টিম-১'-এর ঘোষণা দেন ইনাম-আল-হক।

  • এই অভিযাত্রী দলের পক্ষ থেকে ৯ অক্টোবর, ২০০৩ এ পর্বতারোহণে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের উত্তর কাশির নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে যান ইমরান।

  • মাউন্টেন ডিউয়ের আর্থিক সহায়তা ২০০৪ সালের ২ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুসা ইব্রাহীম, সিরাজুল হক সাগর, সাদিয়া সুলতানা সম্পা ও মীর শামছুল আলম বাবু দার্জিলিঙের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে 'বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং' কোর্সটি সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

  • ২০০৪ এর মে মাসে এভারেস্ট বেইস ক্যাম্প ট্রেকিঙে ইনাম আল হকের নেতৃত্বে অংশ নেন মুসা ইব্রাহীম, এম এ মুহিত, কাজী শামসুজ্জামান, গোলাম কুদ্দুস চৌধুরী ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা।

  • ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উঁচু] জয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

  • ২০০৬ সালের ২২ মে দুপুর ৩:৩০ এ সিকিমের ফ্রে শীর্ষ [১৯,১২৫ ফুট উঁচু] জয় করার দাবি করেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

  • ২০০৭ সালের মে মাসে বিএমটিসির সদস্য মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, এম এ মুহিত ও নূর মোহাম্মদ চুলু ওয়েস্ট (২১,০৫৯ ফুট) পর্বত অভিযান করে ব্যর্থ হয়, কিন্তু সফলতার দাবি নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলায় [৩] অনেক সদস্য ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ দল গঠন করেন। মুনতাসির মামুন ইমরান গড়েন 'কেওক্রাডং বাংলাদেশ', মীর শামছুল আলম বাবু গড়েন 'টিম এক্সট্রিম' আর মুসা ইব্রাহীম গড়েন 'নর্থ আলপাইন ক্লাব, বাংলাদেশ'।

  • নর্থ আলপাইন ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে, এরপর লাউয়াছড়ার বনজঙ্গলে সারভাইভাল প্রশিক্ষণ, সাইকেল ড়্যালি, সীতাকুণ্ড পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিং ও ট্রেকিংয়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ এর ডিসেম্বর ১ এ নেপালের লাংসিসা রি (২১,০৮১ ফুট) শীর্ষ জয় করার দাবি করে [৪]। অভিযাত্রীরা ছিলেন মুসা ইব্রাহীম, মীর শামছুল আলম বাবু, তৌহিদ হোসেন, আফরিন খান ও রিমন খান।

  • নর্থ আলপাইন ক্লাবের মুসা ইব্রাহীম, তৌহিদ হোসেন ও নেপালী নাগরিক সারিন প্রকাশ প্রধান ২০০৯-এর মে মাসে অন্নপূর্ণা-৪ (২৪,৬৮২ ফুট) শীর্ষ জয় করার দাবি করেন [৫]।

একটি মিল খুব লক্ষণীয়, পর্বতারোহণ অভিযানে যাওয়ার আগে এবং অভিযানের পর দেশে ফিরে এসে ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রত্যেকবারই প্রেস কনফারেন্স করা হয়। সেখানে পর্বত শীর্ষজয়ের "দাবি" করা হয়। পত্রিকাতে যেসব ছবি এই দাবির সপক্ষে ছাপা হয়, সেগুলো প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই একরকম, ওভারএক্সপোজড ব্যাকড্রপের সামনে পর্বতারোহী দাঁড়িয়ে বা বসে, তাঁর হাতে দেশের পতাকা, পরনে পর্বতারোহণের উপযোগী পোশাক, চোখে স্নো গগলস, মুখে হাসি। পর্বতশীর্ষে পর্বতারোহী দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর পেছনে সেই পর্বতমালার কোনো অংশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এমন কোনো ছবি এসব সংবাদে আসেনি। ঐ ছবিগুলো শীর্ষে তোলা, নাকি পাহাড়ের ঢালে যে কোনো এক জায়গায়, দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই।

আবহাওয়া, শারীরিক ক্লান্তি, ব্যাটারিক্ষয়, ইত্যাদি নানা কারণ দেখানো সম্ভব, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, মূল কারণটি অন্য জায়গায়। পর্বতারোহীরা জানেন, বাংলাদেশে পর্বতারোহণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে এমন লোকজন কম, অতএব তাঁরা যা বলে চালিয়ে দেবেন, সেটিই চলবে।

বক্তা আর অডিয়েন্সের যোগসূত্রটি নিয়ে পরের কোনো এক পর্বে আলোচনা করবো, তাই আপাতত এ প্রসঙ্গে এখানেই থামি।

মেরা পীক ছাড়া আর কখনও ব্যর্থতা স্বীকার করেননি মুসা ইব্রাহীম। যখন যে অভিযানে গিয়েছেন, সেই শীর্ষটিই জয়ের পর বগলে করে নিয়ে এসেছেন। উপর্যুপরি। যদিও অডিয়েন্সের কাছে কোনো প্রমাণ আসেনি, এসেছে শুধু পত্রিকার সংবাদ, সেটিও প্রেস কনফারেন্সের। উপলব্ধি করলাম, আমরা অডিয়েন্স হিসেবে প্রমাণ চেয়েও অভ্যস্ত নই। আমরা পত্রিকায় একের পর এক পড়ে গিয়েছি। কর্নেল জন হান্টের নেতৃত্বে যে অভিযানে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেছিলেন, সেটির পৃষ্ঠপোষক ছিলো রয়্যাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি, কর্নেল হান্ট কয়েক ফর্মার বিশাল এক রিপোর্ট তাদের কাছে জমা দিয়েছিলেন [৬]। বিভিন্ন স্পনসর আমাদের দেশে পর্বতারোহণের এসব অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, তাদের কাছে আমাদের পর্বতারোহীরা কোনো লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কি না, আমার জানা নেই [আদৌ এ চর্চা আছে কি না কে জানে], দিলেও সেটি আমার আওতার বাইরেই রয়ে গিয়েছে। তাই পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ ছাড়া এসব কথিত শীর্ষজয় অভিযানে কখন কী ঘটেছিলো, তা আমাদের জানার উপায় নেই।

মেরা শীর্ষ অভিযানের কোনো বর্ণনা নেটে নেই, ফ্রে পীকে যা আছে তা অপ্রতুল। মুসা ইব্রাহীম নিজে সজল খালেদ ও এম এ মুহিতের চুলু ওয়েস্ট জয়ের দাবিটি খণ্ডন করায় আমরা এ সম্পর্কে বিশদ জানতে পেরেছি, নইলে সেটিও হয়তো প্রেস কনফারেন্সে বিবৃতি আর কয়েকটি অস্পষ্ট ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। লাংসিসা রি নিয়েও কিছু বলা হয়নি পত্রিকায়। তবে অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষজয় নিয়ে মুসা খানিকটা বিশদে লিখেছেন। তাঁর নিজের কলম থেকে পাওয়া তথ্যের অসঙ্গতি ধরিয়ে দিয়েই আজ এ পর্ব শেষ করবো।

পর্বতারোহণ সম্পর্কে আমার ধারণা খুব বিশদ নয়। এ কারণে আমি অন্য পর্বতারোহীদের শরণাপন্ন হয়েছি। ডেইলি স্টারে ১৮ জুন, ২০০৯ তারিখে প্রকাশিত মুসার নিবন্ধটিতেই যেমন বাংলাদেশের পর্বতারোহীদের মধ্যে পুরনোদের একজন, মুনতাসির মামুন, মন্তব্য করে মুসার নিবন্ধের কিছু তথ্যগত অসঙ্গতি ধরিয়ে দিয়েছেন, যা একজন সামিটিয়ারের লেখায় আসার কথা নয়। আর নিজে যা জানি না, তা জানার জন্যে গুগলের শরণাপন্ন হয়ে বোকা বনে গিয়েছি এই অসঙ্গতিগুলোর কথা উপলব্ধি করে। আসুন দেখি এক এক করে।

মুসার ভাষ্যের [৫] সাথে আরো কিছু সূত্র যোগ করে আমরা যা পাই,

  • অভিযাত্রী দলে ছিলেন মুসা ইব্রাহীম, তৌহিদ হোসেন ও সারিন প্রকাশ প্রধান [ইনি নেপালী হলেও নর্থ আলপাইন ক্লাবের সদস্য]। তাঁদের শেরপা সর্দার ছিলেন সোম বাহাদুর তামাং, কৈলাস তামাং [এরা দু'জন এভারেস্ট অভিযানেও মুসার সাথে ছিলেন] ও গণেশ মাগার। হাই অলটিচ্যুড কুক ছিলেন তাসি তামাং আর কুলি সর্দার ছিলেন দাওয়া তামাং।

    উল্লেখ্য, মুসা এখানে কৈলাস তামাংকে দুইবার এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। কৈলাস তামাং নামে একজন নেপালের এভারেস্ট শীর্ষজয়ীদের সংগঠনে তালিকাভুক্ত আছেন বটে, তবে একবার, মে ১৫, ২০০৭ এ তিনি নর্থকোল-নর্থইস্টার্ন রিজ দিয়ে এভারেস্টে উঠেছিলেন। সূত্রটি আমি পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করবো।

  • ২০০৯ এর মে ২৯ এই অভিযাত্রী দলের সাপোর্ট টিমের ২২জন ভারবাহী ও তিন শেরপা অন্নপূর্ণা-৪ এর উদ্দেশ্যে কাঠমাণ্ডু থেকে যাত্রা শুরু করে। অন্নপূর্ণা ম্যাসিফের বেশ কয়েকটি শীর্ষ রয়েছে, অন্নপূর্ণা-৪ এর উচ্চতা ৭.৫২৫ মিটার বা ২৪, ৬৮৮ ফিট। অন্নপূর্ণা-৪ বেইসক্যাম্পটি ১৫,০৯১ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত, তাঁরা জুনের ৩ তারিখেই সেখানে গিয়ে পৌঁছেন।

    সাধারণত এই এক্সপিডিশনের বাণিজ্যিক অফারগুলোয় কাঠমাণ্ডু থেকে বেইস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে ১০ দিন সময় রাখা হয়, যার মাঝে কাঠমাণ্ডু থেকে বেশিশহর বলে একটি জায়গায় গাড়ি দিয়ে যাওয়া হয়। মুসার বক্তব্য অনুযায়ী ৬ দিনের মাথায়ই কুলি ও শেরপা গাইড বেইস ক্যাম্পে পৌঁছে যান।

    বেশ, মেনে নিলাম।

  • আলপাইন ক্লাবের তিন সদস্য বেইস ক্যাম্পে পৌঁছান জুনের ৮ তারিখে, কোনো শেরপা গাইড ছাড়াই। তাঁরা এই ট্রেইলে যাত্রা শুরু করেন জুনের ৪ তারিখে [৭], সিয়াংজে, জগত [১৩২৯ মিটার], তাল [১৭০২ মিটার], ধারাপানি [১৯৬৯ মিটার] ও দানেকিউ [২২০৮ মিটার] হয়ে তাঁরা চামে [২৬৯০ মিটার]-তে এসে পৌঁছান। তাঁরা বৃষ্টি এবং হিম বাতাসের ভেতর ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ভেতর দিয়ে এই ট্রেইলে হাঁটেন।

    যেহেতু রিপোর্টটি জুনের ৯ তারিখে প্রকাশিত, কাজেই ধরে নেয়া যায়, মুসা চামে থেকে কমপক্ষে ৮ তারিখে ফোনে বা ইমেইলে পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। সিয়াংজে-জগত-তাল-ধারাপানি-দানেকিউ-চামে ট্রেইলটিতে জুন ৪ এ শুরু করলে জুন ৮ এর আগে হেঁটে পৌঁছানো সম্ভবও নয় [বাণিজ্যিক অফারে এই পথটুকু আট দিনে পার করা হয়]। কেন সম্ভব নয়, তা ম্যাপে দেখুন।

    ম্যাপ ১.

    trail22

    ম্যাপ ২.
    trail2

    ম্যাপে বামে নিচে সিয়াংজে, তাঁবুগুলো যথাক্রমে জগত-তাল-ধারাপানি-দানেকিউ-চামে, পর্বতারোহীর প্রতীকটি অন্নপূর্ণা-৪ এর চূড়া নির্দেশ করছে। স্থানগুলোর মধ্যে একমাত্র সিয়াংজে গুগল ম্যাপে খুঁজলে পাওয়া যায়, বাকি জায়গাগুলো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ ধরে খুঁজে বের করতে হয়। সবক'টির জিপিএস ডেটা গুগল করে খুঁজে বের করে ম্যাপে যোগ করা হয়েছে [৮]। বামে নিচে স্কেল দেয়া আছে।

  • মুসা ইব্রাহীম লিখেছেন, নর্থ আলপাইন ক্লাবের তিন পর্বতারোহী জুনের ৮ তারিখে বেইস ক্যাম্পে পৌঁছান।

    মুনতাসির মামুন ডেইলি স্টারের সংশ্লিষ্ট খবরটিতে অনলাইনে মন্তব্য করেছিলেন, কীভাবে এটি সম্ভব? চামে থেকে অন্নপূর্ণা-৪ বেইস ক্যাম্পে পৌঁছুতে হলে সাধারণত আরো তিনটি দিন লাগে। প্রশ্নটি আমারও। আমি খোঁজ করে দেখেছি, প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক অফারে চামে থেকে পিসাং, পিসাং থেকে হংদে, হংদে থেকে অন্নপূর্ণা-৪ এর বেইসক্যাম্প যেতে হয়। সময় লাগে তিনদিন। নর্থ আলপাইন ক্লাবের পর্বতারোহীরা সিয়াংজে থেকে জুনের ৪ তারিখে শুরু করে অ্যা-কে-বা-রে অন্নপূর্ণা বেইস ক্যাম্প চলে গেলেন ৮ তারিখেই? কাজটা সম্ভব যদি হেলিকপ্টারে চড়ে তারা গিয়ে থাকেন, কিন্তু সেটি যে তারা করেননি, বরং সিয়াংজে-জগত-তাল-ধারাপানি-দানেকিউ-চামে হয়েই গিয়েছেন, সেটি তো মুসা নিজেই লিখেছেন। বেইস ক্যাম্পের উচ্চতা সাগরসমতল থেকে ১৫,০৯১ ফিট = ৪,৫৯৯ মিটার। ২,৬৯০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চামে থেকে ঝাড়া দুই হাজার মিটার উঠে গেলেন তাঁরা এক বেলার মধ্যে? অ্যাক্লিমাটাইজেশনের দরকার পড়লো না?

    ভূতাত্ত্বিক সচল দ্রোহীকে অনুরোধ করেছিলাম অন্নপূর্ণা উপত্যকার একটি দ্বিমাত্রিক ও একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে দিতে, নিজের বহু ব্যস্ততার মাঝে সময় করে তিনি মানচিত্র দু'টি রেণ্ডার করে দিয়েছেন।

    ম্যাপ ৩.

    Annapurna

    ম্যাপ ৪.

    Annapurna_Google Earth

    মুসার বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য কি?

  • এরই মধ্যে শেরপারা জুনের ৬ তারিখে ১৭,৭১৬ ফিট উচ্চতায় ক্যাম্প ১ এবং জুনের ৮ তারিখে ২১,৮১৭ ফিট উচ্চতায় ক্যাম্প ২ স্থাপন করে ফেলেন।

    অন্নপূর্ণা-৪ এ আবহাওয়া মোটামুটি ভালো থাকলে দিনে এক হাজার ফুট উচ্চতা পাড়ি দেন পর্বতারোহীরা [৯]। আর পোর্টার-শেরপারা দুইদিনের ভেতরে চার হাজার একশো এক ফিট উঠে গেলেন?

    আচ্ছা, মেনে নিলাম।

  • জুনের ৯ তারিখ অভিযাত্রীরা বিশ্রাম নেন।

    অর্থাৎ, জুনের ১০ তারিখ তাঁরা আবার শুরু করেন।

  • জুনের ১১ তারিখ অভিযাত্রীরা ক্যাম্প ১ এ পৌঁছান।

    আমার ছোট্ট প্রশ্ন, জুনের ১০ তারিখ রাতটা তাঁরা কোথায় কাটিয়েছিলেন? নাকি জুনের ১১ তারিখেই তাঁরা বেইসক্যাম্প থেকে ২,৬২৫ ফুট খাড়াই পাড়ি দিয়ে ক্যাম্প ১ এ পৌঁছান?

  • অভিযাত্রীরা তার পরদিনই ক্যাম্প ২-এ পৌঁছান

    অর্থাৎ, যে শেরপারা এই ৪,১০১ ফিট খাড়াই পাড়ি দিয়েছিলেন দুইদিনে, আমাদের অভিযাত্রীদলের মুসা ইব্রাহীম, সারিন প্রকাশ প্রধান আর তৌহিদ হোসেন তা অতিক্রম করেন এক দিনেই। অ্যাক্লিমাটাইজেশনের ধারও ধারেন না তাঁরা। কীসের ভয় সাহসী মন লাল ফৌজের, লাফিয়ে হই পার।

  • জুনের ১৪ তারিখ রাত ২:৩০ মিনিটে শুরু হয় তাঁদের অন্নপূর্ণা-৬ সামিট পুশ। পথে ৬ ফুট প্রশস্ত একটি গিরিফাটল পড়ে, শেরপারা একটি নতুন রুট খুঁজে বের করেন, অভিযাত্রীরা ঘন্টা দুই সেই ৬০ ডিগ্রি কোণে খাড়া পাহাড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। বেলা ১১:৫৪ তে তাঁরা অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষে পা রাখেন ও বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।

    এখানে স্পষ্ট নয়, ২১,৮১৭ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত ক্যাম্প-২ থেকেই তাঁরা সামিট পুশ শুরু করেন কি না। আর কোনো ক্যাম্পের বর্ণনা যেহেতু মুসারা দেননি, তাই আমরা ধরে নিতে পারি তাঁরা ১৩ জুন বিশ্রাম নিয়েছেন, ১৪ জুন ৭ ঘন্টা ২৪ মিনিটের মাথায় ২,৮৭১ ফিট উচ্চতা অতিক্রম করেছেন, মুসার ভাষায়, braving snowfall with strong wind ।

    মনে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য, অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষজয় এতো সহজ কি না। যে ভিডিওটির লিঙ্ক দিয়েছি [৯], সেখান থেকে স্পষ্ট যে ভিডিওর অভিজ্ঞ মার্কিন পর্বতারোহীরা দিনে সাত-আটশো ফুটের বেশি পার হননি, থেমে থেমে শক্তি সঞ্চয় করে, বিশ্রাম নিয়ে এগিয়েছেন। বাণিজ্যিক অফারগুলোতে অন্নপূর্ণা-৪ চড়ে নেমে আসার জন্যে সময় রাখা হয় আঠারো দিন। আরো খোঁজ করে জানতে পেরেছি এক সুইস-অস্ট্রিয়ান অভিযাত্রী দলের কথা, যারা বেইস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরুর পনেরো দিন পর অন্নপূর্ণা-৪ এর ৪০০ মিটার নিচ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন [১০]। এখানে অনেক ছবি আছে, আপনারা তাদের অভিযানকালীন আবহাওয়া সম্পর্কেও ধারণা পাবেন।

    জুন মাসে হিমালয়ে প্রগাঢ় মনসুন ঝাপটা মারে। বৃষ্টি আর তুষারপাত এ সময় প্রবল। মুসাদের অভিযান হয়েছে এই তুষারপাত ঠেলে। মুসা যে গতির কথা দাবি করছেন, তুষারপাতের সময় কি পর্বতারোহণে সে গতি অর্জন করা আদৌ সম্ভব? অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষে একটি অভিযানের ভিডিওচিত্র দেখুন। এখানে অভিযাত্রীদের আরোহণের গতিটি দেখুন।

    ২১,০৮১ ফিট উচ্চতায় অক্সিজেনের পরিমাণ সাগরসমতলে অক্সিজেনের পরিমাণের ৪৫% [উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাতাসের চাপ হ্রাস পায়, ফলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সেই সাথে কমে যায় অক্সিজেনের ঘনত্বও ]। অক্সিজেনের পরিমাণ কিছুটা আপেক্ষিক, এটি নির্ণয় করার জন্যে যে উচ্চতায় মানুষ অভ্যস্ত, সেটি প্রয়োজন হয়। অক্সিজেনের পরিমাণ হিসাব করার জন্যে একটি ক্যালকুলেটর [১১] এবং আবহাওয়ার তথ্য [১২] দিলাম, আপনারা নিজেরাও হিসাব করে দেখতে পারেন। মুসারা জানিয়েছেন, তাঁরা অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করেননি[৫]। ভিডিওতে দেখবেন, অভিযাত্রীরা কুড়ি হাজার ফিট পর্যন্ত অক্সিজেন ছাড়া উঠেই হাঁপিয়ে গিয়েছেন।

    এর আগে লাংসিসা রি অভিযানে, মাত্র ৭ মাস আগে, ২১,০৮১ ফিট উঁচু লাংসিসা রি শীর্ষে পৌঁছতে মুসা ও তাঁর দলের লেগেছিলো ২৪ দিন[৪]। লাংসিসা রি আরোহণ খুব দুঃসাধ্যও নয়। আর মাত্র ৭ মাস পর তাঁরা এমন দুর্দান্ত গতিবেগ অর্জন করলেন যে ট্রেইলে পা রাখার ১১ দিনের মাথায় ২৪,৬৮৮ ফিট উচ্চতার অন্নপূর্ণা-৪ এ পৌঁছে গেলেন? বেইসক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরুর পঞ্চম দিনের মাথায়? অক্সিজেন ছাড়াই? আবার অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষ থেকে নেমে তিনদিনের মাথায় চামে পৌঁছে জুনের সতেরো তারিখের মধ্যে রিপোর্ট পাঠালেন ডেইলি স্টারে, যে কারণে এটি আঠারো তারিখে ছাপা হওয়া সম্ভব হলো [৫]?

    যুক্তি আসতে পারেনোট ১., এ কি একেবারেই অসম্ভব? এটি PROBABLE না হোক, POSSIBLE তো হতে পারে? মুসা ইব্রাহীম কিন্তু নিজেই বর্ণনা করেছেন [১৪], কোন অলটিচ্যুড তার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে।

    মুসা বলেছেন [১৪],

    “The climb was along the Rongbuk glaciers,” remembers Ibrahim. At 6,450 meters, Ibrahim's headache got worse. Out of the six nights that the team was there at the advanced base camp, the first few nights were the most excruciating. “I could not sleep,” he says. “My headache was getting worse, I did not have the urge to eat and my body was getting weaker. I was getting anxious since I would not be able to climb with so little strength. I had to stay strong and focused.” A shift of focus or the slightest slip could easily result in death, while climbing the Everest, says Ibrahim.

    স্মর্তব্য, ৬,৪৫০ মিটার = ২১,১৬১ ফিট।

    আমরা আরো জানতে পারি [১৪],

    While he was moving towards the North Col, his Sherpas were busy setting up camp 1 at North Col, situated at 7,100 metres. ... Ibrahim was not very happy with his performance so far. “I felt that I was getting slower and everyone else was moving faster than I was. I was also losing a lot of energy, which was not safe for climbing further.” The Sherpas shared his feelings and asked him to move back to the base camp. “I was disappointed, but the Sherpas were right,” says Ibrahim. “I made my way towards the base camp for some more rest, nutrition and of course, oxygen.”

    আবারও স্মর্তব্য, ৭,১০০ মিটার = ২৩,২৯৪ ফিট। এভারেস্টে ওঠার সময় যিনি ২১,১৬১ ফুট গিয়ে শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন, ২৩,২৯৪ ফিটে না পৌঁছেই যিনি উপলব্ধি করেন, তিনি প্রচুর শক্তিক্ষয় করছেন এবং আর এগোনো নিরাপদ হচ্ছে না, এবং বিশ্রাম, পুষ্টি আর অক্সিজেনের জন্যে যিনি ফিরে আসছেন বেইস ক্যাম্পে, তিনিই অন্নপূর্ণায় গিয়ে উচ্চতার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর পরোয়া না করে দিনে তিন হাজার ফিট করে উচ্চতা পাড়ি দিলেন এক একবারে?

.
.
.
দুঃখিত, বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এবার আসি ছবির প্রশ্নে। পত্রিকায় কী ধরনের ছবি পর্বতশীর্ষে তোলা হয়েছে উল্লেখ করে ছাপা হয়, তার দু'টি উদাহরণ দিচ্ছি।

ছবি ১ [৫].

2009-06-18__back02

এই ছবিতে যে জিনিসটি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে, সেটি একটি লাল তীরচিহ্ন দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি।

2009-06-18__back02_2

এ কথা পরিষ্কার যে ছবিটি তোলা হয়েছে একটি পাহাড়ের ঢালে, বরফের ওপরে। এই ঢালটি ২৪,৬৮৮ ফিটের ধারেকাছে না হয়ে ষোল হাজার বা সতেরো হাজার ফিটের ওপরেও হতে পারে। পর্বতশীর্ষজয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যাকগ্রাউণ্ডে অন্যান্য ভৌগোলিক ফিচারগুলোকে রাখা জরুরি।

ছবি ২ [১৩].

2010-05-28-17-59-53-050311900-annopurna

একই কথা খাটে এই ছবিটির ক্ষেত্রেও। বরফের ওপর ঘোলা ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে মুসা ইব্রাহীম [বামে] আর তৌহিদ হোসেন। আমরা ঠিক কী দেখে বুঝবো যে এটি একটি পর্বতশীর্ষের ওপর তোলা ছবি? অন্নপূর্ণায় আঠারো হাজার ফিটের পর থেকে সমস্তটাই বরফ, তার কোথায় দাঁড়িয়ে এ ছবি তোলা, তা কী করে বোঝা যাবে? এই ছবিটি কি প্রমাণ হিসেবেই দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে না? এই "প্রমাণ" কি যথেষ্ট?

যথেষ্ট নয়।

যারা প্রবল সন্দেহবাতিকগ্রস্ত, তাঁরা হয়তো আমার দেয়া লিঙ্কের ক্লার্ক-বাটসনদের ভিডিওর মতো ভিডিও আশা করবেন নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের অন্নপূর্ণা-৪ অভিযাত্রী দল, ২০০৯ এর কাছ থেকে। আনিসুল হক ও মুসা ইব্রাহীম এক কথোপকথনে জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা অভিযানের সময় নাকি স্টিল ক্যামেরা আর ভিডিও ক্যামেরা, দু'টোরই ব্যাটারি ফুরিয়ে যায়। য়্যাকদম জায়গামতো আর সময়মতো। সখেদে তখন স্মরণ করতে হয় ২২জন পোর্টারের কথা। ওনারা কি আরো কয়েকটা লিথিয়াম ব্যাটারির ভারবহনে অরাজি হতেন?


নোট ১. মন্তব্যে উঠে আসা যুক্তি-প্রতিযুক্তি থেকে পরবর্তীতে সংযোজিত।


তথ্যসূত্রঃ

[১] বাংলাদেশের এভারেস্ট যাত্রা : যেভাবে শুরু, মীর শামছুল আলম বাবু, কালের কণ্ঠ, ৩০ মে, ২০১০

[২] First Bangladeshi mountaineers on Frey peak, They do us proud: City Correspondent, ডেইলি স্টার, জুন ২৮, ২০০৬।

[৩] নর্থ আলপাইন ক্লাবের পত্রিকা অভিযাত্রীতে মুসা ইব্রাহীম চুল্লু ওয়েস্ট নিয়ে "বিএমটিসি চুলু ওয়েস্ট জয় করেনি" শীর্ষক একটি নিবন্ধ লেখেন, যা মুনতাসীর মামুন তার ব্লগে তুলে রাখেন।

[৪] Langsisa Ri conquerors now eye Annapurna IV peak: Staff Correspondent, ডেইলি স্টার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০০৯

[৫] Bangladeshis conquer Mt Annapurna IV: Musa Ibrahim, from Chame, Nepal, ডেইলি স্টার, জুন ১৮, ২০০৯

[৬] কর্নেল হান্টের রিপোর্ট [কেউ অনুবাদ করতে চাইলে স্বাগতম]

[৭] Trekking through Annapurna Himalayan range, Bangladeshi mountaineers on way to Annapurna IV peak: Musa Ibrahim, from Chame (2670m), Nepal, ডেইলি স্টার, জুন ৯, ২০০৯

[৮] জিপিএস ডেটা, নেপাল

[৯] অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষে অভিযাত্রী একটি দলের ভিডিওলগ। এঁরা শেষ পর্যন্ত খারাপ আবহাওয়া দেখে ফিরে আসেন। মুসার মত এঁরাও পথে একটি গিরিফাটল দেখেছিলেন, সেখান থেকেই পরদিন ফিরে আসেন তাঁরা

[১০] পাঁচ সুইস ও এক অস্ট্রিয়ানের অন্নপূর্ণা অভিযানের কাহিনী

[১১] বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ [সাগরসমতলের তুলনায়] নির্ণায়ক

[১২] বিভিন্ন উচ্চতার বিপরীতে বাতাসের চাপের তথ্য

[১৩] অন্নপূর্ণার স্মৃতি - তৌহিদ হোসেন, প্রথম আলো, মে ২৮, ২০১০

[১৪] The Everest Chronicles: Elita Karim, ডেইলি স্টার, জুন ১৮, ২০১০
.
.
.
নেভারেস্ট: পর্ব ০
.
.
.

পরবর্তী পর্বে থাকছে, মুসার এভারেস্ট জয়ের পক্ষে সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ, প্রথম ভাগ।


মন্তব্য

দ্রোহী এর ছবি

আশা করছি মুসা ইব্রাহিম উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগগুলো খণ্ডন করতে এগিয়ে আসবেন।


কি মাঝি, ডরাইলা?

সিরাত এর ছবি

না করলে সেক্ষেত্রে কি কোন প্রসিডিওর আছে? এটা কিন্তু, যদি প্রমানিত হয়ই, একেবারে সেরকম ***বিশাল*** একটা বঞ্চনা হবে। আবেগ থেকে বললে আমি বলবো হি শুড বি সেন্ট টু আ জেইল। বাট দেন উনি কি আইন ভেঙ্গেছেন?

মুস্তাফিজ এর ছবি

বিরতি সংক্ষিপ্ত হউক

...........................
Every Picture Tells a Story

আলাভোলা এর ছবি

চলুক

সংসপ্তক এর ছবি

ঠিক তাই। বিরতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হউক।
.........
আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

নিয়মিত সচল পাঠক এর ছবি

চারিদিকে অনেকের অনেকরকম কথা শুনে আর উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে একটু অবাক হয়েছিলাম। একপক্ষ আরেকপক্ষকে দোষারোপও করছিলো কোন যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ ছাড়া। আপনি খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। আশা করছি এইবার তথ্যভিত্তিক যুক্তিতর্ক হবে। জানিনা আপনার এই সিরিজের উপসংহারে গিয়ে আমরা কি ফলাফলে পৌছাব। কেন জানি এখনও বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে মুসা সত্যই এভারেস্ট জয় করেছেন, তবে ঘটনাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেই বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা আসলেই কঠিন হবে। দেখা যাক কি হয়? সামনে অণুবীক্ষণ আর গলায় দূরবীন ঝুলিয়ে বসলাম দেঁতো হাসি

সুজন চৌধুরী এর ছবি
রাব্বানী [অতিথি] এর ছবি

আপনার এই নেভারেস্ট সিরিজের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসুক এই প্রত্যাশা। বাকি পর্বগুলোও তাড়াতাড়ি ছাড়ুন!
ফেসবুকে এই লেখার লিঙ্ক শেয়ার করা যাবে?

হিমু এর ছবি

ফেসবুকে লিঙ্ক শেয়ার করার জন্যে অনুমতি চাওয়ার দরকার নেই। আগামী পর্ব খানিকটা বিরতির পর আসবে। মোট সাত বা আট পর্ব লিখবো হয়তো, দুই পর্ব হয়ে গেলো, আরো ছ'টা বাকি।

ধন্যবাদ।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রায়হান আবীর এর ছবি

এই লেখাটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সাবাস!

মুসা ইব্রাহীমের নেভারেস্ট বিজয় প্রথম থেকেই সন্দেহের চোখে দেখছি আমি। আশাকরি মুসাইব্রাহীম বা তার পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সন্দেহের জবাব দেবার মহানুভবতা দেখাবেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

এই লেখাটা আক্ষরিক অর্থেই পারফেক্ট। লজিক ছাড়া এখানে আর কিছুই নাই, যেটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রশ্নের উত্তরগুলো পেলে সবচেয়ে ভালো হত। মানুষ জানে না দেখে আব্জাব যা ইচ্ছা বুঝাবে এটাতো ঠিক না।
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

পলাশ রঞ্জন সান্যাল

নীল তারা [অতিথি] এর ছবি

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

অত ক্ষেপেন ক্যান ভাই?
এক মুসার সাথে কুহেতুরের এক পর্বতের কাহিনী আছে (নবী মুসা করল আল্লা দর্শন। পুড়ে ছাই হলো কুহেতুর)
আরেক মুসার সাথে তার থেকে উঁচু হিমালয় না থাকলে চলে?

০২

এই কাহিনী নাকি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠেছে....

আলমগীর এর ছবি

বিরতি সংক্ষিপ্ত হোক।
একেকটা পর্বের পিছনে গড়ে কতটুকু সময় গেল (গবেষণা সহ) জানতে চাই।

হিমু এর ছবি

সিরিজ শেষ হতে হতে গবেষণার দুই মাস পেরিয়ে যাবে। গড়ে এক সপ্তাহ ধরে রাখতে পারেন। অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানের ভিডিও লগের উদাহরণ যোগাড় করতেই এক রাত চলে গেছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অগ্নিবীণা এর ছবি

বাকীটুকুর জন্য অধীর আগ্রহে রইলাম!

অতিথি লেখক এর ছবি

@হিমু ভাই- আপনি তো বিশাল গবেষণা করে ফেলছেন!! দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।

কাজী মামুন

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

একজন আম বাংলাদেশী, যে মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট বিজয়ের কথা শোনার সাথে সাথেই বিশ্বাস করেছে- সেই নগণ্য আমি;

পর্বতারোহীদের পক্ষ থেকে যুক্তি-খন্ডণ আশা করে গেলাম...

_________________________________________

সেরিওজা

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

পর্বতারোহন সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই, তবে আপনার দেয়া তথ্য-উপাত্ত পড়ে যতটুকু বোঝা গেলো তাতে আপনার বক্তব্যে কোন অসঙ্গতি পেলামনা

কিছুটা হতাশ বোধ করছি, আবার সত্য বেরিয়ে আসুক সেটাও চাই
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

বিপ্লব কুমার কর্মকার   এর ছবি

ভাইতো দেখি মুসার পর্বত অভিযানের একেবারে শুরু থেকে শুরু করেছেন ।আস্তে আস্তে লজিক-প্রমান নিয়ে এগুতে থাকেন –যাতে ফাঁক দিয়ে কেউ ডুকে না পড়ে ।তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই ।

শেষ খবর মুসা কিন্তু এখনো সংবর্ধনা নিচ্ছে ।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

কোনোকিছু আবিষ্কারের দাবি যে করে, দাবির সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করা তারই দায়িত্ব। আমি একটা দাবি করে বসলাম, এখন পারলে আমাকে ভুল প্রমাণ করো - এই ফর্মূলা খাটে না।

আমাদেরকে বোকা বানানো সহজ; কারণ, চিন্তা-ভাবনা অনেক ঝামেলার কাজ, তার চেয়ে কেউ একটা কিছু বললো, সেটা বিচার-বিবেচনার ধার না ধেরে বিশ্বাস করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো অনেক শান্তির।

আমরা আকাইমা অলস জাতি। ঘুমাই আর দিবাস্বপ্ন দেখি দৈবক্রমে আমাদের কোনো সুযোগ্য সন্তান বিশাল কোনো সুনাম উড়োজাহাজে করে বয়ে নিয়ে আসবে। এই আশা-উন্মুখতা এরকম পাহাড়ে চড়া কিংবা জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ আবিষ্কারের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করে বসে আছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হাসিব এর ছবি

ভালো একাডেমিক প্রবন্ধ । সবগুলো পর্ব শেষে এটাকে একটা ই-বুক হিসেবে সচলায়তনে তুলে রাখা যায় কিনা সেটা নিয়ে মডারেটররা ভাবতে পারেন ।

হিমুর জন্য একটা পরামর্শ । দীর্ঘমেয়াদে আমি দেখেছি অনলাইন রিসোর্স অনেক সময় হারিয়ে যায় । লেখায় যেসকল অনলাইন সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো পিডিএফ করে সংগ্রহ করে রাখা উচিত । পরে যাতে সোর্স হারিয়ে গেলে প্রমান হিসেবে ঐ পিডিএফগুলো উপস্থাপন করা যায় । ই-বুক হলে সেখানে এ্যাটাচ করেও দেয়া যাবে ।

হিমু এর ছবি

চলুক । লেখাগুলো সব আর্কাইভ করা আছে। ভিডিও দুইটা নিয়ে মুশকিল। তবে ওরা যেহেতু কমার্শিয়ালি ডিভিডি মার্কেট করেছে, যোগাড় করা যাবে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

তারেক [অতিথি] এর ছবি

ভিডিও ও কনভার্ট করা যায়। www.idesktop.tv দিয়ে ডাউনলোড করতে পারেন

অতিথি লেখক এর ছবি

পরিশ্রমী লেখা । আগ্রহ নিয়ে পরের পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

একটা প্রশ্নঃ ওনার কোন সামিটের GPS রিডিং কি নেটে আছে ? আজকাল তো mobile এও GPS রিডিং নেওয়া যায় ।

ফাহিম হাসান

হিমু এর ছবি

মুসা ইব্রাহীমের কোনো অভিযানের জিপিএস রেকর্ড নেটে পাইনি। ছবিই পাই না, আবার জিপিএস লগ!



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

গুড স্টার্ট। বিরতি দীর্ঘ হলেও এরকম জমজমাট পর্বই চাই। হাসিবের মন্তব্যের সাথে একমত-- বাইরের লিংকের কন্টেন্ট সেভ করে রাখা দরকার। অনলাইনে কয়দিন পরেই সব হারিয়ে যেতে পারে। আমি ধারণা করছি সবগুলোই সেভ করে রাখা হচ্ছে।

ভালো একটা কাজ হচ্ছে, হিমু। আমার পক্ষে তার দাবীতে সমর্থন দেয়া কঠিন, কারণ আপনি ভালোই জানেন। যাই হোক, পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সঙ্গত কারনেই আমার জন্য খুব আকর্ষনীয় একটা সিরিজ। কারণটা এখানে বলছি না। তবে সত্য বেরিয়ে আসুক এটাই চাই।

একদিন চুল্লু ওয়েষ্ট বিজয় নিয়ে যে পাহাড় চুরির অভিযোগ মুসা করেছিল, এভারেষ্ট জয় নিয়ে সেই অভিযোগ মুসাকেই বিদ্ধ করছে দেখে দুঃখ লাগছে। আন্ধা বাঙালী হয়ে আমিও বিশ্বাস করতে চাই মুসা বিজয় করেছে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হুমম... সাধারণ পাঠকদের জন্য আরেকটু সহজ করে বললে সুবিধা হতো। পুরো পোস্ট শেষে একটা সামারী পোস্ট কোরো পারলে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

তাসনীম এর ছবি

খুব ভালো যুক্তিপূর্ণ লেখা।

আমি এই লেখার দ্বিতীয় পর্ব আসার আগেই মুসা ইব্রাহিমের বক্তব্য আশা করব।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হে হে হে
আমি খালি চিন্তা করি, তুই দ্যাশে গেলে কী হৈবো! তোর কান্ধের উপরেই না আবার মুসাউল আর আনিসউল, দুই স্বর্গদূত সামিট করে বসে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আরেকটা ব্যাপার। ছবিগুলোর প্রিন্ট আউট নাও। তারপর ইনক্লাইন অ্যাঙ্গেল গুলোর একটা হিসেব বের কর। এখন এই অ্যাঙ্গেল গুলোর পরস্পর সমান হবে (একই জায়গা যেহেতু)।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এভারেস্টের চুড়ায় এই অ্যাঙ্গেলের স্লোপ আছে কিনা? নাকি চুড়াটা সমতল? এটা বের করা গেলে আরেকটা প্রমান হতে পারে যে ছবি তোলার জায়গাটা চুড়া নয়।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

প্রিন্ট লাগবে না। আমি করে দিচ্ছি দাঁড়াও।
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অ্যাঙ্গেল ক্যালকুলেশনঅ্যাঙ্গেল ক্যালকুলেশন

জিম্প থেকে
A=114 pixel
B=392 pixel
তাহলে
THETA = atan(A/B) = 16.22 degree

ভুতাত্ত্বিকেরা বলতে পারবেন পাহাড় চূড়ায় ১৬ ডিগ্রীর স্লোপ কতখানি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমার সাধারণ দৃষ্টিতে এটাক বেশ অগ্রহণযোগ্যই মনে হচ্ছে। মন খারাপ

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মুস্তাফিজ এর ছবি

মোর্শেদ ভাই, অত জটিল অংকের হিসাবের দরকার নাই।
আমার দুই পয়সা নেন।
১। ওরা যে সময় সামিট করেছে (মানে দুপুরে) তখন সূর্যের আলো এই এঙ্গেলে থাকেনা।
২। মুসার লিখিত বক্তব্য অনূযায়ী পীকে উঠছে ৩ জন, অথচ ছবিতে ৪ জন। হাসি কিছুই বলার নাই, ছবিটা বড় করে দেখলে চশমার মধ্যে আরো কয়টা ইয়াতির চেহারা দেখা যায়।
আরেকটা কথা পাহাড়ে মাইল মিটার নাই, এভারেস্ট ছাড়া বাকি পীক গুলাতে ট্যুর কোম্পানি গুলা ভাওতা বাজি ট্রিপ দেয়, কাছাকাছি বরফের মধ্যে ঘুরাইয়া আইনা বলে তুমি ঐ পীকে উঠছো। হো হো হো

...........................
Every Picture Tells a Story

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অমিত এর ছবি

এই ছবিটা কি অন্নপূর্ণা ৪ এর পিক এর কাছে তোলা ?

মুস্তাফিজ এর ছবি

আমি সেটা বলিনাই। ওদের কথানুযায়ী ছবিটা অন্নপূর্ণার, আমি তা জানি। ওদের তথ্যনুযায়ী পীকে উঠেছে দুপুর বারোটায়, তখন আলো এরকম থাকে না।

...........................
Every Picture Tells a Story

হিমু এর ছবি

ঐদিন [১৪ জুন, ২০০৯] অন্নপূর্ণা পিকে বেলা বারোটায় সূর্যের অ্যাজিমুথ ছিলো ১৫৮.৬৯ ডিগ্রি, আর অলটিচ্যুড ছিলো ৮৪.৩৭ ডিগ্রি। দ্রোহীদা সময় করতে পারলে অন্নপূর্ণায় সূর্যের আলো কীভাবে পড়েছিলো, সেটার একটা থ্রিডি মডেল হয়তো গুগল আর্থ ইমেজের ওপর সমাপতন করে দেখা যেতে পারে।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আবহাওয়ার কারণে আলো হয়তো অনেকখানিই ডিফিউজড থাকবে। আর সামিটে যে পরিমাণ বরফ, প্রতিফলিত আলোর কারণেও ফোটোমেট্রিক পরিবেশ অন্যরকম থাকবে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

দ্রোহী এর ছবি

ওক্কে। বানামু একটা "মঠেল"।

কয়টা তথ্য শুওর হই তাইলে।

চূড়া: অন্নপূর্ণা ৪ (84.0838888° E, 28.5372222° N)
তারিখ: জুন ১৪, ২০০৯
সূর্যের অবস্থান: (অ্যাজিমাথ - ১৫৮.৬৯°, ও অলটিট্যুড - ৮৪.৩৭°)
সময়: বেলা ১২:০০ টা
চূড়ার উচ্চতা: ৭৫২৫ মিটার।

সব ঠিকাছে না?


কি মাঝি, ডরাইলা?

দ্রোহী এর ছবি

জিজ্ঞাস্য: এটা কি অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অ্যাজিমাথ নাকি নটিক্যাল? কারণ নটিক্যাল অ্যাজিমাথ মাপা হয় উত্তর থেকে আর অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অ্যাজিমাথ মাপা হয় দক্ষিন দিক থেকে।


কি মাঝি, ডরাইলা?

হিমু এর ছবি
হিমু এর ছবি

মুর্শেদ, এই গোটা পোস্টই কিন্তু অন্নপূর্ণা-৪ নিয়ে। এভারেস্ট নিয়ে আমাদের আলাপ শুরুই হয়নি। আগামী পর্ব থেকে হবে। আমি এই পর্বে দেখাতে চেয়েছি, এভারেস্টজয়ের যে উপক্রমণিকা, সেখানেই গলদ আছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আচ্ছা! আমার বোঝার ভুল। কিন্তু স্লোপের প্রশ্নটা এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

চলুক

দুর্দান্ত! অনেক শ্রমসাধ্য কাজ। অপেক্ষায় থাকলাম বাকি পর্বগুলোর। শেষ পর্যন্ত যদি প্রমাণিত হয় যে মুসা এভারেস্ট জয় করেন নি (অথবা মুসা যদি তাঁর দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন), তাহলে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার!

স্পর্শ এর ছবি

প্রচণ্ড gullible মনে হচ্ছে নিজেকে।

একজন বাংলাদেশী এভারেস্ট চুড়া জয় করেছেন শুনে কী যে খুশি হয়েছিলাম! সে কারণেই বিশ্বাস করেছি।
এখন মনে হচ্ছে কোথাও বড় একটা শুভঙ্করের ফাকি রয়ে গেছে। পরের পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম। সত্যের জয় হোক।

আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানবেন।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আমি আগস্ট ২০০৭ এ ১৪হাজার ফুট উচ্চতার পাইকস পিক, কলারাডো তে গিয়েছিলাম। অবশ্যই হাইক করে নয়, গাড়ীতে চেপে আরাম করে। তারপরও সেখানকার প্রচুর ছবি, ভিডিও করতে ভুলিনি। একটা ভিডিও এখানে শেয়ার করি।

২০১০ এ এসে এভারেস্ট জয়ী একজনের কাছ থেকে এরকম কিছু কী আমরা আশা করতে পারি?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

তাসনীম এর ছবি

গাড়ি করে পাইক'স পিক বিজয় নিয়ে আমি একটা লেখা লিখেছিলাম (যদিও দ্বিতীয় পর্ব এখন লেখা হয় নি)। অনেক অনেক ছবি আছে ওঠার সময়ে এবং চূড়াতে। যেকোন "অভিযানে" ছবি তোলা মাস্ট।

তবে এভারেস্টের চূড়ায় ক্যামেরার ব্যাটারি ডাউন হয়ে যাওয়ার ঘটনাটা একটু বিস্ময়কর। আমি যে টুকটাক বেড়াতে যাই তখনই একাধিক সেট ব্যাটারি সাথে রাখি। ওখানে অন্যান্য যারা অভিযাত্রী ছিলেন ক্যামেরাসহ, তাঁদের অনুরোধ করলে একটা ছবি নিশ্চয় তুলে দিতেন কেউ।

যাহোক অনেক প্রশ্নে উত্থাপন হয়েছে, আশাকরি জবাব আসবে খুব তাড়াতাড়ি।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি
মুনতাসির [অতিথি] এর ছবি

লেখাটা বেশ। তবে যেহেতু আমার নামটা এসেছে তাই কিছু না বললেই নয়।

১. কেওক্রাডং বাংলাদেশ-এর শুরু ২০০০ সালে সেটা বাবু সাহেব নিজে ভাল করে
জানে। কারণ গেল মাসে আমরা ১০ বছর উদযাপন করলাম। তাই ২০০৭ এ সবাই দল
ভাগাভাগির যে গল্পটা এখানে এসেছে তা আদতে সত্য নয়।

২. ২০০৩ এ আমি পর্বতারোহণ শিখার জন্য ভারতে যাই কোন দলের সদস্য হিসেবে
নয়। কারণ তখন পর্যন্ত পাহাড়ে ওঠা যে শিখতে হয় সেটা কেউ খেয়ালই করেনি।
সে যাত্রায় আমি মোট ৮০০ ডলারের খরচার ১৫০০০ টাকা পেয়েছিলাম দান হিসেবে।
যা কোন দল থেকে আসেনি।

৩. এভারেস্ট এর ৫০ বছর পর্তীতে কেউ এভারেস্টমুখি কেন হননি সেটা
বেশ মজার ব্যপার। সেই আমি আর রিফাত-ই গেলাম। মাত্র ৩২০ ডলার দিয়ে। এসে
সেপ্টেম্বর এর শুরুতে ড্রিম এন্ড দ্য এভারেস্ট আলোকচিত্র প্রদর্শনী হলো যা
কেউ বললনা।

৪. অন্নপূর্ণা-৪-এর একটা ব্যাখ্যা ডেইলি স্টার-এর ওয়েব এ আছে। দেখতে পারেন।

৫. এখানে এমন একটা মানুষ নাই যার চুরির রেকর্ড নাই। তাই খুড়তে থাকুন।
সবাইকে জিগেগ্স করুন। কারন বিএমটিসি থেকে বের হয়ে এসেছিলাম ২০০৪ সালে।
তার পর অনেক চেস্টা করেও তাদের চরিত্র বদলাতে পারা যায়নি। সে দলে সবাই
আছেন, ইনাম আল হক, এনাম তালুকদার, সামসুল আলম বাবু, সজল, মুসা, মুহিত।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ভাইয়া, অন্নপূর্ণা- ৪ এর ব্যাখ্যাটার লিঙ্ক কি একটু দেয়া যায় ??

_________________________________________

সেরিওজা

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হিমুর লেখার [৫] নম্বর লিঙ্ক টা?

ছবির নীচে ডেইলি স্টার কী লিখেছে পড়েন:
Musa Ibrahim, a sub-editor of The Daily Star, and Tawhid Hossain hold the Bangladesh flag along with other climbers at the peak of Annapurna IV, which they conquered without supplementary oxygen. Photo: STAR

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কিন্তু এতে তো জুনের ৬ থেকে ১১ তারিখের ব্যাখ্যা আসে না... বরং এই পোস্টে সেই লেখাটার মাঝের অসংলগ্নতাগুলোই প্রশ্ন করা হয়েছে...

_________________________________________

সেরিওজা

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমি যেটা বুঝেছি, মুনতাসির সেই অসংলগ্নতাগুলোই স্টারের লেখায় মন্তব আকারে উত্থাপন করেছেন। মুনতাসিরের কাছ থেকে তো ব্যাখ্যা আমরা দাবী করতে পারিনা।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ঠিকাসে...

_________________________________________

সেরিওজা

দিগন্ত এর ছবি

ছবির ব্যাপারটা আমার অনেকদিন ধরেই খটকা ছিল। মিলিয়ে নেবার জন্য দুটো বিষয় দেখেন এডমণ্ড হিলারীর ছবিতে -
auto

১ - স্লোপ
২ - অক্সিজেন মাস্ক


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হিমু এর ছবি

দিগুভাই, এভারেস্ট নিয়ে আমাদের আলাপ এখনো শুরুই হয়নি। এই পোস্ট অন্নপূর্ণা-৪ নিয়ে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

দিগন্ত এর ছবি

আমার প্রশ্নগুলো এভারেস্ট স্পেসিফিক তো নয়। ছবিদুটোর তুলনা মাত্র ...


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দ্রোহী এর ছবি

নেট খুঁজে এই ছবিটা পেলাম। এডমুন্ড হিলারির ক্যামেরায় তেনজিং নরগে। মনে হয় "উট মার্কা খেজুর" কোম্পানির আর্থিক সহায়তায় এভারেস্টে চড়েছিলেন তাঁরা। হো হো হো

auto


কি মাঝি, ডরাইলা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

আমি বাকরুদ্ধ। বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করতেসে যে মুসা ইব্রাহিম এভারেস্ট জয় করেছেন। মন খারাপ

নীল ভুত।

কৌস্তুভ এর ছবি

অসাধারণ বিশ্লেষণ। বাকি পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ লিখেছেন:
অ্যাঙ্গেল ক্যালকুলেশনঅ্যাঙ্গেল ক্যালকুলেশন

জিম্প থেকে
A=114 pixel
B=392 pixel
তাহলে
THETA = atan(A/B) = 16.22 degree

ভুতাত্ত্বিকেরা বলতে পারবেন পাহাড় চূড়ায় ১৬ ডিগ্রীর স্লোপ কতখানি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমার সাধারণ দৃষ্টিতে এটাক বেশ অগ্রহণযোগ্যই মনে হচ্ছে। মন খারাপ

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

এটা ভাল প্রশ্ন!!!

--- থাবা বাবা!

দ্রোহী এর ছবি

পাহাড় চূড়ার ঢাল অনেক বেশিও হতে পারে। চূড়াটা কত বড় এবং কোথায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ছবিতে চূড়ার ঢাল কেমন দেখা যাবে।

সমস্যা হচ্ছে ১৯৫৩ সালে এডমুন্ড হিলারির তোলার ছবির সাথে ২০১০ সালের প্রযুক্তির তুলনা কোনভাবেই চলে না। যে কোন স্থিরচিত্র ম্যানিপুলেট করা সম্ভব। তাই দুয়েকটা স্থির চিত্রের তূলনায় ভিডিও এবং জিপিএস লগ অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। যদিও জিপিএস লগও ম্যানিপুলেট করা সম্ভব [স্বল্প খরচে আমি নিজেই করে দেবো]। কিন্তু ভিডিও চিত্র ম্যানিপুলেট করতে অনেক খরচ হয়ে যাবে। তাই ভিডিও অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।


কি মাঝি, ডরাইলা?

Nindrika এর ছবি

hello there,
i had a little question. The video you shared here to show the speed of hiking doesn't looks real actually. It is a nicely taken video and edited as well. So, i actually don't think you should judge the speed of hiking/walking from this video.
The picture you shown here is actually unrealistic. The slope is too straight. I doubt if there should be any amazingly straight slope in any natural mountain.
You showed that the trained sheropa's needs more time then they did. This logic is quite convincing. As i dont have any mountain hiking or geographical knowledge, i wont comment in it.
Anyways, i really want to trust Musa and be proud for him. And it is also creepy that there is no picture with proper background. We all want him to give logic against him. And go on with your series. I'll try to understand these with my little knowledge.
P.S. - sorry for writing in english. My avro software is not working মন খারাপ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সচলায়তনে অভ্র লেআউটটি বিল্ট ইন আছে। একটু কষ্ট করে মাউস দিয়ে বাছাই করে নিতে পারেন।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হিমু এর ছবি

১. ভিডিওটিতে সম্পাদনার মাধ্যমে সেটিতে অভিযাত্রীদের গতি বিলম্বিত/ত্বরিত করা হয়েছে, এমন কোনো উদাহরণ যদি দিতে পারেন, মিনিট-সেকেণ্ড ধরে দৃশ্য আলোচনা করতে পারেন।

২. ছবিটি "আনরিয়্যালিস্টিক" নয়. এটি অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষে তোলা হয়েছে এমন দাবিটি "আনরিয়্যালিস্টিক" হতে পারে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কনফুসিয়াস এর ছবি

লেখাটা পড়ে আমার মনেও নানা প্রশ্ন ঢুকে গেল, যদিও মনে প্রাণে চাইছি মুসা ইব্রাহীমের দাবিই সত্যি হোক।
আজকের প্র-আ তে এভারেস্টের ছবিটা দিয়েছে-
auto
-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

মুস্তাফিজ এর ছবি

এই ছবিটা নিয়েও কথা আছে। ছবিতে এমবেডেট ডাটানুযায়ী ছবিটা তোলা হয়েছে ফুজিফ্লিম ফাইন পিক্স ক্যামেরা দিয়ে। সময় ৫/২৩/২০১০ ৫,২২,১৭ এএম, যা দাবী কৃত চূড়ায় উঠার সময়ের অনেক আগেই তোলা। ডান দিকে প্রেয়ার ফ্ল্যাগের পেছনে একটা পীক দেখা যায় যারা মাউন্টেনারিং এর সাথে যুক্ত তারা বলতে পারবেন কোন পীক সেটা।
Untitled-1
নীচের দুইটা ছবি দেখুন, সামিটের ছবি, বাম দিকে কোনায় বুদ্ধ মুর্তি দেখা যায় যা আলোচ্য ছবিতে নেই।
spiderwave_1277672842_2-1
34264_452533018032_630903032_5910958_4976502_n

...........................
Every Picture Tells a Story

হিমু এর ছবি

মুস্তাফিজ ভাই, এভারেস্টের ছবি নিয়ে তর্ক আমরা সংশ্লিষ্ট পর্বের জন্যে আপাতত গুছিয়ে রাখি। আমাদের এই পর্বে অন্নপূর্ণা-৪ আলোচ্য থাকুক।

আরো কিছু ব্যাপার আছে ছবিটায় হাসি



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

সময় ৫/২৩/২০১০ ৫,২২,১৭ এএম, যা দাবী কৃত চূড়ায় উঠার সময়ের অনেক আগেই তোলা
আজ প্রথম আলোয় মুসা যে লেখাটি লিখছেন (মানে এই ছবিটা যেখান থেকে নেওয়া হয়েছে) সেখানে তো দেখলাম চূড়ায় উঠার টাইম ৪ টা ৫০ এ এম। তাহলে "দাবী কৃত চূড়ায় উঠার সময়ের অনেক আগেই তোলা" হলো কিভাবে?

রেশনুভা এর ছবি

নীচের দুইটা ছবি দেখুন, সামিটের ছবি, বাম দিকে কোনায় বুদ্ধ মুর্তি দেখা যায় যা আলোচ্য ছবিতে নেই।

মুসা ইব্রাহীমের আজকের লেখায় এই প্রসঙ্গটা এসেছে। কোট করে দিলাম।

এভারেস্টে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে সেখানে প্রায় বছর তিনেক আগে এক শেরপার রেখে আসা বুদ্ধমূর্তির সঙ্গে ছবি তুলতে হয়। কিন্তু মূর্তিটিকে বৌদ্ধদের প্রার্থনা-পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় তা আর দেখা যাচ্ছে না। এটাকে পেছনে রেখে সেভাবেই সবাই ছবি তুলছি।

সময়ের ব্যাপারটা এক পাঠক এই মন্তব্যের জবাবে বলেছেন।

ঐ দিন প্রায় একই সময়ে আরো যারা সামিট করেছেন তাদের কারো ছবি নিয়ে মিলিয়ে দেখা যায় না? অন্তত প্রেয়ার ফ্লাগের ব্যাপারটা।

কোনটা সত্য বুঝতে না পেরে অসহায় বোধ করছি।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এটা ইন্টারেস্টিং একটা মোড়, সন্দেহ নাই। ধারণা করছি ক্যামেরায় বাংলাদেশের সময়ই সেট করা ছিল। সে হিসেবে ছবির সময় অসঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই মনে হচ্ছে।


‘জিরেল দাই, কয়টা বাজে?’
‘মুসা, এখন নেপাল সময় প্রায় চারটা ৫০। আর চায়নিজ সময় প্রায় আটটা।’
হিসাব করে বুঝতে পারছি, এখন বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা পাঁচ।

ছবি প্রকাশের ক্রমধারা বেশ রহস্যময়, তবে এই ছবির সাথে নিশ্চয়ই আরো ছবি আছে, যেগুলো হয়তো আরো কনভিন্সিং হবে। একটা বিষয় বুঝতে পারছিনা-- ওরা যে বলল ক্যামেরার ব্যাটারী শেষ হয়ে গিয়েছিল? কিন্তু এখন দেখছি ছবি আছে। হয়তো সব কিছুই পরিকল্পিতভাবেই প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে মুসা ডয়েচে ভেলে'র সাথে সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, বুদ্ধ মুর্তির সাথে ছবি আছে। হয়তো কাপড়ে ঢাকা মূর্তির কথাই বলেছিলেন, কে জানে।

এই ছবিটা আমার কাছে কনভিন্সিং মনে হচ্ছে, যদিও বুদ্ধ মূর্তি কিংবা আশেপাশের মানুষ ছবিতে আসলে আরো ভালো হতো।

তবে এই ঘটনা এবং আলোচনা পর্বতারোহীদের কাছে শক্ত একটা বার্তা দেবে এতে সন্দেহ নাই।

মুস্তাফিজ এর ছবি

‘জিরেল দাই, কয়টা বাজে?’
‘মুসা, এখন নেপাল সময় প্রায় চারটা ৫০। আর চায়নিজ সময় প্রায় আটটা।’
হিসাব করে বুঝতে পারছি, এখন বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা পাঁচ।

পিপি দা, কথা বাড়ালেই বাড়ে। উপরের উদ্বৃতি নিশ্চয়ই মুসার। ধরলাম কথাটা সঠিক। কিন্তু আনিসুলের বক্তব্য অনুসারে মুসা যে সার্টিফিকেট পেয়েছে তার বঙ্গানুবাদ দাঁড়ায় এরকম "এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে মাউন্ট এভারেস্টের চোমোলংমা চূড়া অভিমুখে এক অভিযানে বাংলাদেশের মোহাম্মদ মুসা ইব্রাহীম ২০১০ সালের ২৩ মে চীনের স্থানীয় সময় সকাল ছয়টা ৫০ মিনিটে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আট হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৩ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছেন।"

এখন কিছু বলেন...

...........................
Every Picture Tells a Story

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হুমম। এরকম অসঙ্গতিগুলোই আসলে সন্দেহকে ঘনীভূত করে। তবে ছবি দেখে মনে হচ্ছে চূড়া। বিশেষ করে ছবির পেছনে মাকালুর পাশের যে পাহাড়টা সেটা তো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এবং আমার ধারণা, আরো ছবি আছে যেগুলো দেখে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। হয়তো ব্যবসায়িক কোন কারণে তারা একটা একটা করে ছবি ছাড়ছে।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

চীনের সময় বাংলাদেশ থেকে দুই ঘন্টা আগানো। নেপাল থেকে দুই ঘন্টা পনের মিনিট। অর্থাৎ মুসা সাহেব আর আনিসুল হকের বলা সময়ের পার্থক্য পনের মিনিট।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এবং উভয়ক্ষেত্রেই ছবির সময় সঙ্গতিপূর্ণ।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আমি পাহাড় চড়ার বিশেষজ্ঞ নই। আমার চোখে ছবির পিছনের পিকটার সাথে এই ওয়েবসাইটের মাকালু পিকের ঠিক বামের পিকটার সাদৃশ্য আছে।

আরেকটা ওয়েব সাইট থেকে মাকালু পিক আর তার বামের পিক।

auto

নিচের ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে এর নাম Chomo Lonzo.

auto

পিকের সাথে দিগন্তের অবস্থানটা ঠিক আছে কিনা কেউ হিসাব করে নিতে পারবেন। আর এভারেস্ট থেকে কোমো লোনজো যে দিকে পড়ে (পূর্বে, কিছুটা দক্ষিণে), ভোর পাঁচটা হিসেবে সূর্যের অবস্থানটাও ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নেয়া যায়।

অমিত এর ছবি

মাকালু না কি লোটসি ?

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটা মাকালু বলি নি, বলেছি মাকালু ছবিতে নেই, কিন্তু তার পাশের পর্বত কোমো লোনজোয়ের মত লাগছে মুসা সাহেবের ছবির পিছনের পাহাড়ের চূড়াটা। আমার কাছে লোটসির মত লাগছে না।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

একমত। চোমো লোনজো।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

এক্সিফ ডেটায় জিপিএস তথ্য নাই?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

রাগিব এর ছবি

ছবির ডেটায় যাই থাক না কেনো, সেটা তো পালটানোটা ডালভাত। টাইমস্ট্যাম্প থেকে শুরু করে অন্য সব মেটাডেটা খুব সহজেই পালটে দেয়া চলে।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

তাও ঠিক। মন খারাপ

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

easyrcom এর ছবি

আজকের প্রথম আলোয় স্বপ্ন নিয়ে পাতায় মুসা ইব্রাহীমের লেখাটি পড়ে প্রমাণ করুন যে উনি ঐদিন সকালে এভারেস্টে উঠেন নাই। ভাবতে খুব অভাব লাগে যে, আমরা বাঙালীরা কী পরিমান অপরিনামদর্শী!

এভারেস্ট হার মানল বাংলাদেশের কাছে; চূড়ায় লেখক। ছবি: কৈলাস তামাং

আজকের লেখাটি পড়ুন এখান থেকে

হিমু এর ছবি

বাঙালি অপরিণামদর্শী তো বটেই! পরের পর্ব মনে করে এসে পড়ে যাবেন। ধন্যবাদ।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সবজান্তা এর ছবি

লেখার জন্য পাঁচ তারা।

ভূতাত্ত্বিক জ্ঞান শূন্যের কাছাকাছি হওয়াতে মাঝে মাঝে কিছু জিনিস বুঝতে সমস্যা হলেও, সবমিলিয়ে পড়তে দারুণ !

তবে দুঃখ একটাই, আপনি একটা চমৎকার আলোচনার অবতারণা করলেন- সম্পূর্ণ যুক্তিভিত্তিক, কোন প্রকার খোঁচাখুঁচি ছাড়া, অ্যাকাডেমিক স্টাইলে- কিন্তু এর উত্তর মনে হয় না এতো প্রিসাইসলি পাওয়া যাবে। খুব ব্যতিক্রম না হলে যেটা হবে এর উত্তর তো পাবেনই না, বড়জোর কিছু বেনামী নিক এসে আশেপাশের ঝোপে ঝাড়ে পিটিয়ে যাবে কিংবা আলু পত্রিকায় সচলায়তনের লোকজন কতোটা খারাপ সে নিয়ে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিবেন। মনে হয় না, আপনি যেভাবে যুক্তি দিচ্ছেন, মুসার তরফ থেকেও একই রকম গোছালো এবং আবেগহীন, সংযত ভাষায় টু দ্য পয়েন্ট উত্তর আসবে।

তবে মনে প্রাণে চাই, মুসার তরফ থেকে এরকম উত্তর আসুক। সব তর্ক, সন্দেহ দূর হয়ে সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হোক।


অলমিতি বিস্তারেণ

হিমু এর ছবি

পর্বতারোহণ তো আর এখানেই শেষ নয়। এই আলোচনার ভেতর দিয়ে আমরা বাংলাদেশের পর্বতারোহীদের মধ্যে যদি তাঁদের দাবিগুলো সাবস্ট্যানশিয়েট করার প্রবণতা তৈরিতে সামান্যতম ভূমিকা রাখতে পারি, মন্দ কী?

পর্বতারোহীরা যেহেতু [এখন পর্যন্ত] জনগণের করের টাকায় অভিযানে যান না, আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁরা বাধ্য নন। অন্যদিকে তাঁরা কিন্তু পরোক্ষভাবে তাঁদের দাবি গলাধকরণ করতে আমাদের ঠিকই বলছেন। তাঁদের গল্পগুলো গেলার আগে আমরা যাচাই করে দেখার শতভাগ অধিকার সংরক্ষণ করি, কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশ থাকলে প্রকাশের অধিকারও সংরক্ষণ করি। বিনা প্রশ্নে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কানাবাবা এর ছবি

"কোনো কিছু না জেনেই আমি তথ্যটি চেয়ারে বসে গ্রহণ করে নিয়েছিলাম।"
ভাই এইরকম চেয়ারে বাইসা অনেক উজির নাজির নিধন করা যায়, অনেক সত্যকে মিথ্যা বানানো যায় আবার উল্টাটাও সম্ভব। আপনার দাবি মুসা ইব্রাহিম 'সবাইকে বিভান্ত করেছে', আর আপনি কি করছেন- নিজেও একগাদা্ কথামালা দিয়া সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন- কে কার চেয়ে ভালো বলতে পারেন?
খালি ব্লগে না প্রিচ কইরা আরো অন্য জায়গা আছে- চিল্লাইয়া বলেন- মানুষ শুনবে। বুকের পাটা আছে?

হিমু এর ছবি

না ভাই, বুকের পাটা নাই। ব্লগেই প্রিচ করবো। দিনের পর দিন। যুক্তি খণ্ডন করতে পারলে এসে করে যাবেন। না পারলে ফুটবেন। ঠিকাছে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কনফুসিয়াস এর ছবি

ইন্টারেস্টিং।
জনাব অসম সাহসী বুকের পাটাওলা "কানাবাবা", অন্য জায়গা মানে কী বোঝাতে চেয়েছেন? চিল্লাইয়া বলা মানে কী, রিকশা করে মাইক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় বলে বেড়াতে হবে, এরকম কিছু?
-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

আলাভোলা এর ছবি

খালি ব্লগে না প্রিচ কইরা আরো অন্য জায়গা আছে

অন্য জায়গাটা কোথায় ?
ব্লগে সমস্যা কী ?

আশ্চর্য!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কানাবাবা তো অনেকগুলো আছে, এটা কোনটা? সচলেও এক কানা বাবা মন্তব্য করতো।

রোহান এর ছবি

চমৎকার লেখা... তবে মুসার থেকে ঠিক এরকমই একটা গোছানো উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না... কদিন আগে সামুতে দুরন্ত স্বপ্নচারীর একটা পোষ্টে তার এই সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক আলতু ফালতু কথাবার্তা দেখে ভালো লাগে নাই... ঐখানে মুসার এক বন্ধু বলছিলো শীঘ্রই নাকি সামিটের ছবি নিয়ে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করবে... আলু পেপার এইটা নিয়া যেই যে লাফালাফি শুরু করছে শেষ যে কবে হবে কে জানে...
কাল পেপারে দেখলম মুসা নামবার আগে এভারেষ্টের ছায়ার কি একটা জটিল ছবি নাকি তুলেছে বলে দাবী করেছে... ছবি গুলা গেলো কই কে জানে... আবার এদিকে মুসার এলাকাবাসী নাকি দাবী করছে মুসার এভারেষ্ট বিজয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে... ধান্দাবাজীর চুড়ান্ত এই আলুপেপারের বিশ্বাস নাই, এইটা করায়া ফেললে ফেলতেও পারে...

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-07-07/news/76645

রবিন [অতিথি] এর ছবি

হিমু ভাই আপনে তো ফাটাইয়া দিছেন।দারুন লাগলো লেখাটা।খুবই গোছানো এবং যুক্তি গুলো অকাট্য। আমি কি অন্য ব্লগে লেখাটার লিংক দিতে পারি?

প্রাকৃত জন [অতিথি] এর ছবি

অপেক্ষায় আছি..................বাকী পর্বগুলোর জন্য।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পাহাড়ে উঠা, না উঠা ব্যাপারটা আমার কাছে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এভারেস্ট জয়ের কয়েক দশক পরে আমরা সেখানে উঠে কোন সম্মানের খাতায় নাম লেখাবো, সে সম্মানে কি যায় আসে, এই জিনিসটা পুরোপুরি বোধগম্য না।

কিন্তু অনেক বাঙালিই যেহেতু এটাকে গুরুত্বের চোখে দেখে, সেহেতু এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়া উপস্থাপনই সবচেয়ে বিরক্তিকর। ছবি বানানো তেমন কোনো কঠিন কাজ না, বাঙালির চাঁদে যাওয়ার ছবিও ঘরে বসে কম্পিউটারে বানানো সম্ভব। উনারা আর কোনো বিকল্প পেলেন না, যাতে পাবলিকের মনে সন্দেহের অবকাশ না থাকে - এটাই আশ্চর্যের। আর ছবিও ধাপে ধাপে এক একখান করে আসছে, যেন তা কোনো পর্দানশীন পীরের বিবি, একবারে দেখায়া দিলে পর্দা নষ্ট হয়ে যাবে।

ব্যাটারি ফুরায়া যাওয়ার কাহিনী গ্রহণযোগ্য না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নীড় সন্ধানী এর ছবি

‍‌আর ছবিও ধাপে ধাপে এক একখান করে আসছে, যেন তা কোনো পর্দানশীন পীরের বিবি, একবারে দেখায়া দিলে পর্দা নষ্ট হয়ে যাবে।

এই ধাপে ধাপে আসার পেছনে আসল কারণ টা কি? ছবি কেউ কি কিনে নিয়েছে সবগুলো? প্রথম আলোয় সপ্তাহে একটা করে ছাপা হচ্ছে। এমুন মূল্যবান ছবি এই গ্রহে আর এসেছে কিনা সন্দেহ। এটাই মেজাজ খারাপ করেছে বেশী।

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

বাউলিয়ানা এর ছবি

উরিবাপ্স!!

রীতিমত গবেষনা পত্র। সিরিজ নিয়মিত পড়ছি।

এত পরিশ্রম করে লেখার উদ্দেশ্য সফল হউক এই প্রত্যাশা।

অতিথি লেখক এর ছবি

হিমু তো কঠিন পরিশ্রম করেছেন! যুক্তিও কঠিন!

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

নিচের এই ভিডিওগুলো দেখলে কিন্তু মুসার ছবিটির সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যায়

http://www.youtube.com/watch?v=YM6FuAHjYao&feature=related
(এটা ২০১০, মে ২৩ এরই, এখানে ২৩‍‍ -- ২৫ সেকেন্ডের অংশ)

http://www.youtube.com/watch?v=WxuCfDRpUXA&feature=fvw
(এটা ২০০৯ এর মের, এর একমিনিট ৩৭ সেকেন্ডের জায়গায়)

যদিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা, তাও ভিডিও দেখে যতটুকু বোঝা যায় তাতে বলা যায় যে বুদ্ধমুর্তি প্রেয়ার ফ্ল্যাগে ঢাকা আছে

প্রথম ভিডিওর এভারেস্ট কাপল পল আর ডেনিস ফেজটেকের সাথে যোগাযোগ করলে হয়তো ছবিও পাওয়া যাবে .... হয়তো মুসার সম‌পর্কে তথ্যও তারা দিতে পারবেন

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রাব্বানী [অতিথি] এর ছবি

২নম্বর ভিডিওটার লিঙ্ক কি ঠিক আছে? ভিডিওর নিচে "Everest summit day on the South Col route, 21st May 2008." লেখা।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

এবার আসি এই লেখাটির ব্যাপারে:

পর্বতারোহনের টাইমলাইনের জন্য আপনি এখানে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে নিয়েছেন বানিজ্যিক অফারের স্কেজ্যুল।

আমি জানিনা পর্বতারোহনের বেলা নেপালে কি নিয়ম অনুসরন করে, তবে এখানে দেখেছি বাণিজ্যিক ট্রিপের স্কেজ্যুল সাধারণ ওর্স্ট কেস অনুমান করে সাজানো হয়, তাই অনেক ফ্লেক্সিবিলিটি রাখা হয়। ফলে, নিজ উদ্যোগে গেলে একটা জায়গার যতটুকু আমি একদিনে দেখে ফেলতে পারি, প্যাকেজ প্রোগ্রামে তার অর্ধেকও কাভার করেনা।
কারণও আছে, যাতে কাস্টমার যথেষ্ট রেস্ট পায়, সবকিছু স্মুথলি চলে সেটা ট্যুর কোম্পানীকে নিশ্চিত করতে হয়। সে হিসেবে বাণিজ্যিক অফারের চেয়ে দ্রুত যাওয়াটাকে কিন্তু সন্দেহ করা যায়না।

প্লাস, আমার মতো যারা একদম পর্বতারোহন সম্পর্কে জানেনা তাদের কাছে আপনার পয়েন্টগুলোকে দাঁড় করানোর জন্য যে তথ্যগত প্রমাণগুলো দরকার সেগুলো হলো:
১)একদিনে তিন/চার হাজার ফুট উপরে ওঠা অসম্ভব -- এটা কি নিশ্চিত করে বলা যায়?
মানে আপনার দেয়া ভিডিও লিংক (৯) আর (১০, জার্মান ভাষা? পড়তে পারিনি) -- এই দুটি লিংকের উদাহরণ থেকেই কি নিশ্চিত করে বলা যায় একদিনে দুনিয়ায় কেউ তিন/চার হাজার ফুট উঠতে পারবেনা?
(মুসা দাবী করেছেন যে তারা রক ক্লাইম্বিংয়ে ভালোভাবে প্রশিক্ষিত বলে একদিনেই ক্যাম্প ১ থেকে ক্যাম্প ২ তে চলে গেছেন -- এটার ব্যাপারে কি "যতই প্রশিক্ষিত হোকনা কেন অসম্ভব" বলে ফেলা যায়?)

আমার খটকা লাগছে কেন বলি, যদি জালিয়াতিই হয়ে থাকে তাহলে তো তার দেয়া টাইমলাইনগুলোও সব মিথ্যে... তো, বানিয়ে বানিয়ে বলতে গেলে তো তার এই টাইমলাইন এমনভাবে বাড়িয়ে বাড়িয়ে উল্লেখ করার কথা যাতে কেউ সন্দেহ না করে (যেমন বানিজ্যিক অফারের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করতে পারতেন তিনি) ... কেন শুধু শুধু তারা এমন টাইমলাইন উল্লেখ করবেন যা সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে? ... আমি অন্ততঃ এটা মনে করিনা যে টাইমলাইন সম্পর্কে আইডিয়া না নিয়ে কেউ জালিয়াতি করবে

২। অন্নপূর্ণা সম্পর্কে মুসা লিখেছেন প্রতি বছর একলাখ লোক নাকি এই সার্কিট ট্রেক করে। আমি জানিনা পর্বতারোহনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা কি অনেক কম নাকি অনেক বেশী (লেখার টোনে মনে হলো অনেক বেশী)। এটা সত্য হলে কি অন্নপূর্ণাকে অতটা ঝুঁকিপূর্ণ বলা যায়?

এই প্রশ্নদুটা ক্লিয়ার হওয়া দরকার।
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অন্নপূর্ণা সম্পর্কে মুসা লিখেছেন প্রতি বছর একলাখ লোক নাকি এই সার্কিট ট্রেক করে।
অন্নপূর্ণা-৪ এর কথা বলছেন কি? অন্নপূর্ণা কিন্তু সবচেয়ে বিপদজনক এবং ফ্যাটালিটির দিক থেকে এটি সর্বাগ্রে। এর পরে কে-টু।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

৭ নং রেফারেন্সে লেখা .... অবশ্য অন্নপূর্ণার কথা লিখেছে ... অন্নপূর্ণা-৪ কি আবার আলাদা? ... দেখেন বকলমের (আমার) অবস্থা চোখ টিপি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমার অবস্থাও আপনার কাছাকাছিই হাসি

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

পিপিদা, একটু অন্নপূর্ণা নিয়ে তথ্যাবলী ঘেঁটে দেখলাম
অন্নপূর্ণার যে পিকটিকে সবচেয়ে বেশী বিপজ্জনক মনে করা হয় সেটা অন্নপূর্ণা-১। এই পিকে কয়েকবছর আগ পর্যন্ত (সাম্প্রতিক ডেটা পাইনি) পর্যন্ত ১৩০ এর মতো লোক মাত্র সামিট করেছেন, যাদের ৪০% ই মানে ৫০ জনের বেশীই বেঁচে ফিরতে পারেননি। অন্নপূর্ণা সাউথও কাছাকাছি লেভেলের চ্যালেঞ্জিং।
তবে অন্নপূর্ণা-৪ সম্পর্কে সেরকম পরিসংখ্যান পাইনি, নেপালী একটা বানিজ্যিক ওয়েবসাইট বলছে অন্নপূর্ণার ছয়টা পিকের মধ্যে এই পিকটিই নাকি সবচেয়ে কম বিপজ্জনক, যেজন্য অন্যান্য পিকগুলো জয় করা আগে লোকে এখানে প্র্যাকটিস করে নেয়
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ধন্যবাদ জ্বীন ভাই। অন্নপূর্ণার ছবি দেখে কিন্তু এতটা ভয়ঙ্কর কখনোই মনে হয়নি। ইদানিং এভারেস্টের উপরের ছবি দেখে পাহাড়ের প্রতি একটা টান অনুভব করছি। পাহাড়ের মনে হয় একটা দুর্বার টান আছে। আমি দূর্বল মানুষ হয়েও সেই টান অনুভব করছি।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আপনার সাথে তো আমার অনেক মিল
কালকে অন্নপূর্ণা নিয়ে ঘাঁটতে গিয়ে মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছি যে অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাবো ... মোটাসোটা নাদুস-নুদুস শরীরে যত উঁচু পর্যন্ত কুলায় (তিন হাজার মিটার হলেই খুশী) ঘুরে আসবো
খরচটা একটু বেশী মনে হচ্ছে যদিও চোখ টিপি
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

হিমু এর ছবি

১. অন্নপূর্ণা-৪ এ চ্যালেঞ্জটা অলটিচ্যুড আর ঘন তুষারের। আর কুড়ি হাজার ফিটের ওপর দিনে তিন হাজার ফিট খাড়াই পার হওয়া যদি সম্ভব হতো [বাতাসে স্বাভাবিক ঘনত্বের ৪৫% অক্সিজেন নিয়ে], তাহলে সেটাই কি স্বাভাবিক প্র্যাকটিস হতো না?

ভিডিওতে দেখুন, তুষারের পুরুত্ব। ওরকম তুষার ভেঙে ঐ অলটিচ্যুডে আরোহণের গতি কেমন, ধারণা পাবেন। আর ঐ অলটিচ্যুডে দু'টি মাত্র ক্যাম্প করে কেউ চড়ে না, চার পাঁচটা ক্যাম্প করতে হয়। অ্যাক্লিমাটাইজেশন দরকার হয়, উঁচুতে চড়ে আবার নিচুতে এসে ঘুমাতে হয়। ওসবের কোনো কিছুই করা হয়নি অন্নপূর্ণা-৪ এ।

২. অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক ভিন্ন জিনিস। সেটা অন্নপূর্ণা রেঞ্জকে চক্কর মেরে আসার একটা ট্রেকিং, সর্বোচ্চ হাজার তিনেক মিটার অলটিচ্যুডে উঠতে হয়, পাহাড়ের গা বেয়ে পথ চলে গেছে, হেঁটে পার হবেন, ক্লাইম্বিঙের বালাই নেই। আর অন্নপূর্ণা-৪ শীর্ষে চড়া ভিন্ন জিনিস, সাড়ে সাত হাজার মিটারে চড়তে হবে আপনাকে, ঘন তুষারের মধ্যে দিয়ে। সেটি অলটিচ্যুডের কারণেই বিপজ্জনক, অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেসের ভয় থাকে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

২ নং প্রশ্নের ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়েছে

১ নং প্রসঙ্গে:
কুড়ি হাজার ফিটের ওপরে একটানে তিন হাজার ফিট উঠে যাওয়া হয়তো স্বাভাবিক প্র্যাকটিস না, দুইটা ক্যাম্প করে সামিট পুশ করাও হয়তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া না; কিন্তু এখানে প্রশ্নটা স্বাভাবিক প্র্যাকটিস নিয়ে না।
এখানে প্রশ্নটা পরিস্কার, "অসম্ভব কিনা" এটাই মূল প্রশ্ন।

যেমন একটা সম্ভাবনার কথা আমি ভাবছি, যেটা হলো, নেপালে নানান লেভেলের দক্ষতার/মূল্যের গাইড করার দল আছে। এখন ধরুন কম খরচে অন্নপূর্ণা জয়ের জন্য যদি কোন গাইড কর্তৃপক্ষ স্বল্পসংখ্যক দিনে একটু রিস্ক নিয়ে হলেও অভিযান করায়, তবে খরচের কারনে বাংলাদেশী টিম সেই চ্যালেঞ্জটা নিতেই পারে। হয়তো অ্যাক্লিমাটাইজেশন স্কিপ করলেও ওঠা যাবে এমন ধারনা পেয়ে একবারেই উঠে গেছে -- মুসা ইব্রাহিম এই পোস্টে এসে এটা দাবী করলে কিসের ভিত্তিতে সেটাকে ডিনাই করবেন?
আপনি যদি বলেন, "ভাই এটা স্বাভাবিক প্রসিডিওর না, বিশ্বাস করলাম না", মুসা বলবেন, "স্বাভাবিক প্রক্রিয়া না মানি, কিন্তু আমার বাজেটে কুলায়নি বলে আমি রিস্কি অভিযান প্যাকেজই নিয়েছি।" তখন কি তর্কের আর উপায় থাকবে।

সত্যি বলতে কি, ভেবে দেখলাম, আপনার এই বক্তব্যের বিপরীতে মুসার তো আসলে এই কথা বলা ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই। তখন তিনি যে মিথ্যে বলছেন এটা প্রমাণের জন্য আপনাকে অন্ততঃ বেশ কয়েকজন অন্নপূর্ণা-৪ বিজয়ীর অভিজ্ঞ পর্বতারোহীর স্টেটমেন্ট জোগাড় করতে হবে যারা নিশ্চিতভাবে বলবেন, "না ৮ ঘন্টায় অন্নপূর্ণা-৪ এর শেষ ২৮০০ মিটার উঠা সম্ভবনা।"

এছাড়া আসলে তর্কটা দাঁড়াবেনা।

মুসার সিয়াংজে থেকে চামে পর্যন্ত আসার টাইমলাইন, বা চামে থেকে ক্যাম্প-২ পর্যন্ত যাবার টাইমলাইনের বেলায়ও একই সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

ঘুরে ফিরে সেই একই কথা, শুধু শুধু অসম্ভব একটা টাইমলাইন মুসা কেন ব্যবহার করতে যাবে?

তবে ছবির ব্যাপারটা পীড়াদায়ক, এত উঁচু পর্বতে ওঠার পর "যে কোনখানে তোলা যায়" এমন একটা ছবি দিলে লোকে নানান কথা চিন্তা করবেই।

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

হিমু এর ছবি

আপনার যুক্তিটা আমি বুঝতে পেরেছি। আপনি প্রোবাবল বনাম পসিবলের সংঘাতটা তুলে ধরেছেন।

আসুন তবে, মুসা ইব্রাহীমের নিজের বয়ানেই শুনি, কোন অলটিচ্যুড মুসা ইব্রাহীমের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে।

মুসা বলেছেন [১৪],


“The climb was along the Rongbuk glaciers,” remembers Ibrahim. At 6,450 meters, Ibrahim's headache got worse. Out of the six nights that the team was there at the advanced base camp, the first few nights were the most excruciating. “I could not sleep,” he says. “My headache was getting worse, I did not have the urge to eat and my body was getting weaker. I was getting anxious since I would not be able to climb with so little strength. I had to stay strong and focused.” A shift of focus or the slightest slip could easily result in death, while climbing the Everest, says Ibrahim.

আপনার জ্ঞাতার্থে জানাই, ৬,৪৫০ মিটার = ২১,১৬১ ফিট।

আমরা আরো জানতে পারি [১৪],


While he was moving towards the North Col, his Sherpas were busy setting up camp 1 at North Col, situated at 7,100 metres.

...

Ibrahim was not very happy with his performance so far. “I felt that I was getting slower and everyone else was moving faster than I was. I was also losing a lot of energy, which was not safe for climbing further.” The Sherpas shared his feelings and asked him to move back to the base camp. “I was disappointed, but the Sherpas were right,” says Ibrahim. “I made my way towards the base camp for some more rest, nutrition and of course, oxygen.”

আবার জানাই, ৭,১০০ মিটার = ২৩,২৯৪ ফিট।

এবার আমাকে বলুন, এভারেস্টে ওঠার সময় যিনি ২১,১৬১ ফুট গিয়ে শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন, ২৩,২৯৪ ফিটে না পৌঁছেই যিনি উপলব্ধি করেন, তিনি প্রচুর শক্তিক্ষয় করছেন এবং আর এগোনো নিরাপদ হচ্ছে না, এবং বিশ্রাম, পুষ্টি আর অক্সিজেনের জন্যে যিনি ফিরে আসছেন বেইস ক্যাম্পে, তাঁর জন্যে আমার যুক্তিগুলো খাটে কি না?


[১৪] The Everest Chronicles: Elita Karim, ডেইলি স্টার, জুন ১৮, ২০১০



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

হুমমম, এই সাক্ষাৎকার থেকে মুসাকে অনেক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করানো যায়

তবে আরেকটু প্যাঁচাই (ধরুন এই মামলায় আমি মুসার এ্যাডভোকেট) হাসি
মুসার বর্ণনায় এখানে দেখতে পাচ্ছি যে তিব্বতের নায়লাম অঞ্চলে ভেজিটেশন স্বল্পতার কারণে অনেক নিচু এলাকা (১০ হাজার ফিট) থেকেই নাকি অক্সিজেন স্বল্পতা ছিলো ... সেখানেই নাকি তাঁর শরীর খারাপ করে (মাথা ধরে) ... হয়তো তিনি বলবেন অন্নপূর্ণা-৪ অভিযানে এত আগে থেকেই অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগতে না হবার কারণে বা শরীর খারাপ না করার কারণে সেবার পেরেছিলেন

তবে তখন তাঁকে প্রশ্ন করা যায় যে এত নিচু এলাকা থেকে এত লম্বা সময় ধরে স্বল্প-অক্সিজেনে চলতে চলতে তো তাঁর আরো অভ্যস্ত হয়ে পড়ার কথা
যাই হোক, এই তর্ক স্পেকুলেশন লেভেলেই থেকে যাবে

(এখন আর এ্যাডভোকেট না)
তবে আপনার সন্দেহের যৌক্তিকতাটা বুঝতে পারছি

ইন ফ্যাক্ট [১৪]নং রেফারেন্স পড়ে আমার নিজের মধ্যেই অনেক প্রশ্ন (অন্নপূর্ণা/এভারেস্ট দুই অভিযান নিয়েই) তৈরী হয়ে গেছে

সেটা ক্লিয়ার করার জন্য আমাকে জানতে হবে অন্নপূর্ণা এভারেস্ট নিয়ে মুসা আর কি কি লেখা লিখেছেন

যেহেতু পুরো বিষয়টা নিয়ে আপনি ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন, সম্ভবত আপনার পরের লেখাগুলোতে মুসার যাবতীয় লেখার রেফারেন্স পাওয়া যাবে

এখন তাড়াতাড়ি পরের পর্ব নামান
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

হিমু এর ছবি

ইয়োর অনার, আমার বিজ্ঞ প্রতিপক্ষ ব্যারিস্টার জে. বাদশা কিউসির যুক্তির উত্তর আমার কাছে আছে বৈকি! নাইলে কই কী?

কিন্তু, রয়েসয়ে। পরের পর্ব লেখার পর এর জবাবটা দিয়ে যাচ্ছি আবার। কয়েক্টা দিন ধৈজ্জ ধরেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ওডিন এর ছবি

ইয়ে বস, অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক কিন্তু আলাদা জিনিস, এইটা পুরা অন্নপূর্ণা সিস্টেমটাকে ঘুরে আসা ট্রেকিং এর পথ, ক্লাইম্বিং এর না। তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগে। এইটার হাইয়েস্ট পয়েন্ট হইলো সাড়ে পাঁচ হাজার মিটারের কাছাকাছি (কি জানি একটা পাস আছে) -আর বেশিরভাগ জায়গাতেই ট্রেইলটা স্নোলাইনের ওপরেই ওঠে না। আর আরেকটা আছে অন্নপূর্ণা স্যঙ্কচুয়ারি ট্রেক যেইটা বেস ক্যাম্প পর্যন্ত যায়।

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার!!
এই ট্রেকিং সার্কিট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? নাদুস-নুদুস, দিনে ৪০ মিনিটা হাঁটা ছাড়া আর কোন স্পোর্টস করেনা এমন একজনের পক্ষে কি এই ট্রেকিং সম্ভব? চোখ টিপি

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

চমৎকার !!! ভাল লাগল। মুসা কোন কথা বলবে বলে মনে হয়না। মনে রাখা উচিত,আমাদের আর কিছু নাথাক,আবেগটা আছে একশভাগের উপর আরো দশভাগ।যেখানে পুরা দেশ আনন্দে খাবি খাচ্ছে সেখানে এত কঠিন যুক্তি দিয়ে মাঠে নেমে গেলেন? হিমু,আপনি এভারেস্টে উঠেননি, কিন্তু সেটা ঠেলার চেষ্টা করতেছেন। আপনার সাহসকে বিরাট একটা সালাম দিলাম।

হিমু এর ছবি

আমি একটা ডায়াগ্রাম দিয়েছি পোস্টে। ওখানে দেখবেন অডিয়েন্স আর বক্তব্যের মাঝে একটা যোগসূত্র আছে। এ নিয়ে পরে লিখবো।

এভারেস্ট ঠেলার মতো কঠিন কাজ নয় এটা। অনেক প্রশ্ন এমনিতেই উঠে আছে, আমি সিস্টেম্যাটেক্যালি সেগুলো সাজানোর চেষ্টা করছি মাত্র। এই তর্ক-বিতর্কে যদি শেষ পর্যন্ত অকাট্য প্রমাণ বেরিয়ে আসে যে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্টে চড়েছিলেন [কিংবা অন্নপূর্ণা-৪ এও], মন্দ কী? সেটাও তো অর্জনই।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

আগন্তুক [অতিথি] এর ছবি

অসাধারন লেখা হিমু ভাই.....
মুসা ভাই যদি এই প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা যুক্তিযুক্ত ভাবে দিতে পারতেন তাহলে আনন্দ পেতাম....না হলে যে লজ্জা পাব ।

এভারেস্ট এর চূড়া'র থেকে নেয়া একটা সুন্দর ছবি পেলাম......
http://www.panoramas.dk/fullscreen2/full22.html

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অনেক খুঁজে পেতে পুরানা কিছু ছবি পেলাম। দশ বছর আগে থ্রেডবো ভিলেজ নামের এক জায়গায় বরফ দেখতে গিয়েছিলাম। শুধু গলতা হুয়া বরফ দেখেই ক্ষান্ত হই নাই। চামরার জুতা, বাগি প্যান্ট আর মোটামুটি একটা জুব্বা সাইজের জ্যাকেট গায়ে চড়িয়ে ট্রেইল ধরে পর্বতে উঠতে শুরু করেছিলাম। পর্বতের হাইয়েস্ট পিক কতো দেখেছিলাম মনে নাই। তবে খুব সম্ভবত আড়াই-তিন হাজার মিটারের আশে পাশে কিছু হবে। কতোটুকু উঠেছিলাম সেইটাও জানি না। তবে অনেকক্ষণ হ্যাচর ম্যাচর পেড়ে ওঠার পর মনে আছে, কথা বলতে পারছিলাম না। মানে কথা বলছিলাম ঠিকই কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো অর্থবোধক শব্দ বের হচ্ছিলো না। খালি "ওঁ, ওঁ" মতো কিছু একটা বের হয়েছিলো।

তো ভাবলাম, আজকের জমানায় পর্বত বাওয়ার একটা মাজেজা আছে। আর আমিও তো মনেহয় শ'খানেক মিটার সামিট করছি, তাও পূর্বাপর কোনো পর্বত বাওয়ার অভিজ্ঞতা ছাড়াই। সুতরাং, আমি যট্টুক উঠছি, সেই সামিটের একটা প্রমাণ রেখে দেওয়া জরুরী!

ফটুক-১: পর্বত বেয়ে ওঠার মুহূর্তে মনে হলো, একটা ফটুক খিচা দরকার। তার জমে থাকা বরফের ঢালে পিঠ ঠেকিয়ে পোজ!
summit0

ফটুক-২: তারপর আরেকটু ওঠার পর মনে হলো এইবার চোখে মার্কারি গগলস লাগিয়ে একটা ফটুক খিচা যায় এখানে।
summit1

ফটুক-৩: এইখানে উঠেই মনে হইছিলো আমার মুখ দিয়া গোঙানি ছাড়া আর কিছু বাইর হইতেছে না। সামিট শ্যাষ, এইবার ফেরা দরকার। তাছাড়া উপর থেকে দেখলাম বেশ ভারী একটা কুয়াশার প্রলেপ নিচের দিকে নেমে আসতেছে। একটু ভয়ও পাইছিলাম!
summit2

ফটুক-৪: এইটা পর্বতারোহনের আগে। আমার বেসক্যাম্পএ। ভাবলাম একটা 'সেইরকম পোজ' মেরেই পর্বতারোহন শুরু করি। দূরে 'পর্বত-ই-ধুগো' দেখা যাচ্ছে।
summit3

আগে যদি জানতাম, 'পর্বতে উঠছি' দাবী করলেই দ্যাশে বিদেশে মহা
সমারোহে সম্বর্ধনা পাওন যায়, তাইলে আরেকটু কষ্টমষ্ট কইরা ঠিকই ঠেলায়া ধাক্কায়া আরেকটু উপরে উঠতাম। তারপর দাঁত কেলায়া, গুলিস্তান থাইকা কেনা সাদা মাস্ক মুখে সাঁটাইয়া, হাতে সচলায়তনের ব্যানার নিয়া একটা ফটুক খিচাইতাম।

এই পোস্টে এ্যাম্বেড করা ভিডিওতে পর্বতে ওঠার রাস্তা দেইখা মনে হইছে, এই রাস্তা দিয়া বেয়ে বেয়ে ওঠা তেমন কঠিন কিছু হওয়ার কথা না। কেবল সাথে উপযোগী পোশাক থাকলেই হবে। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই যদি খালি জোশের ঠেলায় শ'খানেক মিটার উইঠা যাইতে পারি, তাইলে আর এইটা জটিল কী কাম! দশ বছর ধইরা এইখানে সেইখানে পাহার বাইয়া, বুকডন ফুকডন মাইরা, এরে তারে পচাইয়া, অমুক তমুক ক্লাব বানাইয়া, এতো ডামাডোল কইরাও চূড়ায় না উইঠাও উইঠা, এতো হাদুমপাদুম করার কী আছে? চিন্তিত

মুসা ইব্রাহিম ছবি না দিয়াও যদি দাবী করতে পারেন তিনি সামিট করেছেন, আমি ছবি দিয়াই কইলাম "আমি সামিট করছি", তাও মুসার দশ বছর আগে। এখন আমারেও সম্বর্ধনা দিতে হবি।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এগুলো যে আপনার ছবি তার প্রমাণ কী? মুখই তো ঘোলা ঘোলা দেখাচ্ছে। শুধু ছবিই নয়, পাহাড়ের ঢাল-তলোয়ার, সূর্যের উন্নতি সবই দিতে হবে চোখ টিপি তার পরে না কথা।

অতিথি লেখক এর ছবি

''একজন আম বাংলাদেশী, যে মুসা ইব্রাহিমের এভারেস্ট বিজয়ের কথা শোনার সাথে সাথেই বিশ্বাস করেছে- সেই নগণ্য আমি;

পর্বতারোহীদের পক্ষ থেকে যুক্তি-খন্ডণ আশা করে গেলাম....''

আমিও ঠিক এটাই বলতে চাইছিলাম...

''চৈত্রী''

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

মি হিমুর গবেষণা কাজটি একটি বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান। আমি সাহিত্যের ছাত্র তাই মুসা এভারেস্ট বিজয় নিয়ে পুলকিত, এটা যদি ব্লাফও হয়, মজা পাবো, আইফেল টাওয়ার বিক্রির মত কৌতুককর মনে হবে আমার কাছে। মি হিমু বিজ্ঞানের ছাত্র তাই তার ভাবনা প্রমাণ ছাড়া সন্তুষ্ট হয়না। মি মুসা টেক্সট বইএ থেকে ভবিষ্যতের শিশুদের উচ্চতা বিজয় না আইফেল টাওয়ার বিজয়এর বাতিঘর হতে চান, সে সিদ্ধান্ত একান্ত তার। হিমুকে পাহাড় বিজয়ের খলনায়ক প্রমাণ করা কঠিন, গ্যালিলীয় প্রমাণিত হবার সম্ভাবনা প্রবল।দেখা যাক এভারেস্ট পর্বে হিমু তার পর্যবেক্ষণ কিভাবে উপস্থিত করেন, এভারেস্ট না আইফেল টাওয়ার সেটা জানতে আমরা অপেক্ষা করছি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

রণদীপম বসু এর ছবি

ভয়ঙ্কর...!!!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরা অপেক্ষা করছি...................আরো জানতে চাই।
-----অ্যামেচার----

অতিথি লেখক এর ছবি

হিমু সাহেবের লেখায় বেশ কিছু তথ্যগত ভুল আছে। আছে সামান্য কিছু তথ্যাভাব।

# ১৯৬৯ সালে জামালপুরের ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ, ১৯৭৯ সালে প্রবাসী ইন্তেসার হায়দার ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের সুমন সম্পদ বণিক বিচ্ছিন্নভাবে এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন।

**২০০০ সালে এই অধম এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন এবং অধমের জানামতে তখন শুধুমাত্র আমিই এভারেস্ট অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিতে থাকি।

# মুনতাসীর মামুন ও রিফাত হাসানের এভারেস্ট বেইসক্যাম্প ট্রেক [১৭ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে] নিয়ে জনকণ্ঠে ২৫ জুলাই, ২০০৩ সালে একটি ফিচার ছাপা হয়, এবং এ খবর দেখে ইনাম আল হক এভারেস্ট অভিযাত্রী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।

# ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ এ ইনাম-আল-হকের বাসায় বাংলাদেশ এভারেস্ট টিম গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় এবং ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৩ এ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুসা ইব্রাহীম, রিফাত হাসান, মুনতাসির মামুন ইমরান, সজল খালেদ, সিরাজুল হক সাগর, এনাম তালুকদার, মশহুরুল আমিন মিলন ও সাদিয়া সুলতানা সম্পাকে নিয়ে 'বাংলাদেশ এভারেস্ট টিম-১'-এর ঘোষণা দেন ইনাম-আল-হক।

# এই অভিযাত্রী দলের পক্ষ থেকে ৯ অক্টোবর, ২০০৩ এ পর্বতারোহণে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের উত্তর কাশির নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে যান ইমরান।

# মাউন্টেন ডিউয়ের আর্থিক সহায়তা ২০০৪ সালের ২ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুসা ইব্রাহীম, সিরাজুল হক সাগর, সাদিয়া সুলতানা সম্পা ও মীর শামছুল আলম বাবু দার্জিলিঙের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে 'বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং' কোর্সটি সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

# ২০০৪ এর মে মাসে এভারেস্ট বেইস ক্যাম্প ট্রেকিঙে ইনাম আল হকের নেতৃত্বে অংশ নেন মুসা ইব্রাহীম, এম এ মুহিত, কাজী শামসুজ্জামান, গোলাম কুদ্দুস চৌধুরী ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা।

# ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উঁচু] জয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

** ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উচু] জয়ে এনাম আল হকের নেতৃত্বে গিয়েছিলেন রিফাত বিন সাত্তার, সিরাজুল হক সাগর, মুসা ইব্রাহীম, মীর শামসুল আলম, এনাম তালুকদার ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা। আবহাওয়া ঠিক থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সফল হতে পারেন নি।

২০০৭ সালে নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে বিএমটিসির আরো তিন সদস্য এম এ মুহিত, নূর মোহাম্মদ ও সজল খালেদ মেরা শীর্ষ জয় করেন। (সামিটে অধমের সামান্য ভূমিকা আছে, ভীষন খারাপ আবহাওয়ায় সামিটের কিছু আগে শেরপা গাইড ক্রেভার্সের ভয়ে অভিযান বাদ দিতে চেয়েছিলেন তখন অধম গাইডকে পেছনে রেখে দলকে সামিট করিয়েছিলেন)

# ২০০৬ সালের ২২ মে দুপুর ৩:৩০ এ সিকিমের ফ্রে শীর্ষ [১৯,১২৫ ফুট উঁচু] জয় করার দাবি করেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

** দাবি সত্য, কারন সামিট হয়েছিল হিমালায়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশ'এর নেতৃত্বে, সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আট কমান্ডোও ছিলেন। কোর্স ডিরেক্টর নুডুপ ভুটিয়ার সাথে ছিলেন প্রশিক্ষক সঞ্জয় ও জুনা ঠাকুর (২০০৯ সালে ইন্দো বাংলাদেশ মাকালু অভিযানে মৃত্যুবরন করেন যেখানে নিশাত মজুমদার ও অধম সরকারী আয়োজনে অংশগ্রহন করেন)

# ২০০৭ সালের মে মাসে বিএমটিসির সদস্য মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, এম এ মুহিত ও নূর মোহাম্মদ চুলু ওয়েস্ট (২১,০৫৯ ফুট) পর্বত অভিযান করে ব্যর্থ হয়, কিন্তু সফলতার দাবি নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলায় [৩] অনেক সদস্য ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ দল গঠন করেন। মুনতাসির মামুন ইমরান গড়েন 'কেওক্রাডং বাংলাদেশ', মীর শামছুল আলম বাবু গড়েন 'টিম এক্সট্রিম' আর মুসা ইব্রাহীম গড়েন 'নর্থ আলপাইন ক্লাব, বাংলাদেশ'।

** ২০০৭ সালে অধমের নেতৃত্বে চুলু ওয়েস্ট অভিযানে শীর্ষের কাছে দেখা যায় সাম্প্রতিক বিশাল ধসে পথ বন্ধ। গাইড সোম বাহাদুর এবং আয়োজক সারিন প্রধান জানান এর পরে আর যাওয়া সম্ভব না এবং এখন এখানেই সামিট ধরে নেয়া হয়, সামিট পতাকার জন্য খাদের আগের চূড়ায় পোতা পতাকা দন্ড'ও দেখান তারা। বিএমটিসি চুলু বিজয়কে তাই অফিশিয়াল বিজয় বলে চিহ্নিত করে। উল্লেখ্য যে মুসা ইব্রাহীম অসুস্থতার কথা জানিয়ে সামিট পুশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

*** বিএমটিসি গঠনের আগে'ই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জটিলতা এড়ানোর জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা একই কাজ করা অন্য সংগঠনে থাকবেন না। মুনতাসির মামুন ইমরানের নিজের সংগঠন কেওক্রাডং থাকায় তিনি বিএমটিসিতে অংশগ্রহন করবেন না। চুলু অভিযানের আগে দলের সবাই অধমের কাছে প্রশিক্ষন নিতেন। মীর শামশুল আলম প্রশিক্ষনে ভালো না করায় তাকে কয়েকবার সতর্ক করার পর বাধ্য হয়ে অভিযানের আগে তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইনাম আল হকের অনুরোধে মীর শামসুল আলম সদস্যপদ ত্যাগ করেন। মীর শামসুল আলমের শুন্যস্থানে নূর মোহাম্মদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

**** মুসা ইব্রাহীম অধমের মৌলিক লেখা অনুমতি ছাড়া নিজের নামে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ছাপানোর ব্যাবস্থা করে। দ্বিতীয় লেখাটি পাঠানোর আগে ভদ্রতা করে এবার করে নিজের নামে ছাপানোর অনুমতি চান, অধম অনুমতি দেন নাই। পরে তিক্ততা বাড়ায় ইনাম আল হক তাকে অনুরোধ করেন সদস্যপদ ত্যাগ করে অন্য ক্লাবে চর্চা চালিয়ে যাওয়ার।

***** উপরের দুইজনের পর আর কাউকে সদস্যপদ ত্যাগের অনুরোধ করা হয় নাই বরং সদস্য সংখ্যা তিনগুন হয়েছে গত পাচ বছরে।

****** সফল অভিযানের পাশাপাশি বিএমটিসির ব্যার্থ অভিযানের সংখ্যাও কম না। এ পর্যন্ত এই ক্লাব ছয়টি অভিযানে ব্যার্থ হয়েছে, মূলত আবহাওয়ার কারণে।

- সজল খালেদ

হাসিব এর ছবি

সজল খালেদ, পর্বতআরোহীদের নানান রকমের ঝগড়াঝাটির কথা জানলাম আপনার মন্তব্য পড়ে । আপনি মূল পোস্টের কনটেন্ট, অর্থাৎ মুসার অন্নপূর্না-৪ জয়ের বিষয়ে হিমু যেসব সন্দেহের কথা জানিয়েছে সেগুলো নিয়ে কিছু যোগ করতে পারলে ভালো হয় ।

আরো একটা কথা ।

হিমু সাহেবের লেখায় বেশ কিছু তথ্যগত ভুল আছে। আছে সামান্য কিছু তথ্যাভাব।

এখানে আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হতে পারে হিমুই ভুল তথ্য দিয়েছে । আদতে যদি আপনার কথামতো সেগুলো ভুলই হয় তাহলে আপনি হিমুর রেফারেন্সকে দোষারোপ করতে পারেন, হিমুকে নয় ।

আর তথ্যাভাবের বিষয়টা পরিস্কার না । এই মন্তব্যে আপনি নতুন কোন তথ্য দিয়ে আমাদের উপকৃত করতে পেরেছেন বলে মনে করছি না । পোস্টের মূল বিষয়টা মুসার অন্নপূর্না - ৪ জয় নিয়ে । পর্বতারোহিরা কখন কী নিয়ে দলাদলি ঝগড়াঝাটি করেছেন সেসব নিয়ে নয় ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হাসিব ভাই, তবুও এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সজল খালেদকে ধন্যবাদ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

সজল খালেদের কাছে প্রশ্ন:

আপনি লিখেছেন,

** ২০০৭ সালে অধমের নেতৃত্বে চুলু ওয়েস্ট অভিযানে শীর্ষের কাছে দেখা যায় সাম্প্রতিক বিশাল ধসে পথ বন্ধ। গাইড সোম বাহাদুর এবং আয়োজক সারিন প্রধান জানান এর পরে আর যাওয়া সম্ভব না এবং এখন এখানেই সামিট ধরে নেয়া হয়, সামিট পতাকার জন্য খাদের আগের চূড়ায় পোতা পতাকা দন্ড'ও দেখান তারা। বিএমটিসি চুলু বিজয়কে তাই অফিশিয়াল বিজয় বলে চিহ্নিত করে।

একটা প্রশ্ন হলো, চুলু ওয়েস্ট অভিযানকে জালিয়াতি বলে মুসার আর্টিকেলটি লিখিত হবার আগ পর্যন্ত চুলু ওয়েস্ট বিজয় নিয়ে আপনারা নিশ্চয়ই অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন, অনুষ্ঠান করেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বা খবর পরিবেশনের জন্য পত্রিকা অফিসকে তথ্য পরিবেশন করেছেন, তাইনা? সেগুলোর কোনটিতে কি উপরের উদ্ধৃত অংশটুকু, মানে কেন চুলু ওয়েস্টের সত্যিকারের চুড়ায় যাওয়া যায়নি সেটা উল্লেখ করেছেন?

চুলু ওয়েস্টের সত্যিকারের চুড়ায় কি এখন আবার যাওয়া যায় নাকি এখনও পথ বন্ধ? যাওয়া গেলে কি আবার কখনও সত্যিকারের চুড়ায় ওঠার কোন পরিকল্পনা করবেন? নাকি মনে করছেন যে চুলু ওয়েস্ট বিজয় হয়ে গেছে?

===========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

আগন্তুক [অতিথি] এর ছবি

এই মহিলাও কি সুন্দর মুর্তিটার সাথে ভিডিও কইরা নিয়া আসছে.....
আমাদের মুসা ভাই পারল না ????

দ্রোহী এর ছবি

আমাদের মুসা ইব্রাহিম যদি প্রমাণ হিসাবে এই ধাঁচের কোন ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে তিনি নেপালে না গেলেও আমি তাকে এভারেস্টে চড়ার ক্রেডিট দিতে রাজি। হাসি


কি মাঝি, ডরাইলা?

আগন্তুক [অতিথি] এর ছবি

দ্রোহি'দা ভাল আইডিয়া দিছেন......
এবার তাইলে খালি একটা নেপালের ভিসা আর একজন অভিজ্ঞ ভিডিও এডিটর দরকার আমার.....

অভিযাত্রী এর ছবি

আপনি লিখেছেন

২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উঁচু] জয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

এর একটু সংশোধনী আছে

২০০৫ সালে মেরা শীর্ষ অভিযানে সজল খালেদ ছিলেন না।
২০০৫ সালের মে মাসে মেরা শীর্ষ অভিযান ছিল বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোন পর্বতাভিযান। সেই অভিযানে ছিলেন সিরাজুল হক সাগর, মীর সামসুল আলম বাবু, মুসা ইব্রাহিম, এনাম তালুকদার , রিফাত হাসান এবং প্রথম বাংলাদেশী নারী পর্বতারোহী সাদিয়া সুলতানা সম্পা।

এই অভিযানে ১৯,৫০০ ফিট উচু মেরা গ্লেসিয়ার থেকে অভিযাত্রীগন অভিযান বাতিল করে নেমে আসেন এনাম তালুকদার ও মুসা ইব্রাহিমের অসুস্থতা এবং অপারগতার কারনে।

মুনতাসির [অতিথি] এর ছবি

২০০৪ সালে আমি আর রিফাত গেলাম কাশ্মিরের স্তোক কাঙরিতে সেটাকি কোন পর্বত নয়। তা হলো মেরা প্রথম পর্বত হলো কিভাবে? http://www.monterosa-nepal.com/expedition/stok_kangri_expediton.html

মীর শামছুল আলম বাবু এর ছবি

এই গবেষণা মূলক লেখার জন্য লেখক হিমু কে ধন্যবাদ। যদিও এই লেখার অনেক মতের সঙ্গে আমি একমত নই-তবুও ধন্যবাদ ।

আমি ব্লগে লিখি না। কারণ ব্লগে লিখতে পারিনা। তবুও লেখায় আমার নাম এবং উদ্ধৃতি আসায় এবং সজল খালেদ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করায় কম্পিউটর অপারেটরের সহায়তায় আমি এ সম্পর্কে কিছু লিখছি।
......................................
# ১৯৬৯ সালে জামালপুরের ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ, ১৯৭৯ সালে প্রবাসী ইন্তেসার হায়দার ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের সুমন সম্পদ বণিক বিচ্ছিন্নভাবে এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন।
২০০০ সালে এই অধম এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন এবং অধমের জানামতে তখন শুধুমাত্র আমিই এভারেস্ট অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিতে থাকি।

### ২০০০ সালে সজল খালেদ কোনভাবেই এভারেস্ট বিষয়ক কাজে জড়িত ছিলেন না। আমি আমার বই “হিমালয় এভারেস্ট ও বাংলাদেশ” (প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারী ২০০৭) লেখার আগে এ বিষয়ে যথেষ্ঠ কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এ কথা লিখছি।
ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল, ইন্তেসার হায়দার ও সুমন সম্পদ বনিক এই তিন জনকে সবাই পবর্তারোহী হিসেবে জানে আমার বইয়ে দেয়া তথ্যের মাধ্যমে। এমনকি সজল খলেদ যে ২০০৬ থেকে পবর্তারোহনে জড়িত তাও আমার লেখার মাধ্যমেই জানে।
.......................................
# ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উচু] জয়ে এনাম আল হকের নেতৃত্বে গিয়েছিলেন রিফাত বিন সাত্তার, সিরাজুল হক সাগর, মুসা ইব্রাহীম, মীর শামসুল আলম, এনাম তালুকদার ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা। আবহাওয়া ঠিক থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সফল হতে পারেন নি।

### রিফাতের পুরো নাম রিফাত হাসান- রিফাত বিন সাত্তার নয়। রিফাত বিন সাত্তার বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত দাবারু।
অভিযান সফল হয়নি কারন-
অভিযানের শেষ দিন ১৯৬০০ ফুট উঁচু মেরা-লা গ্লেসিয়ারে অবস্থিত হাইক্যাম্প থেকে রিফাত ও আমি সামিট পুশে না গিয়ে ফেরত এসেছিলাম এনাম তালুকদারকে সুস্থ অবস্থায় নিচে নিয়ে আসার জন্য। এনাম তালুকদারের কথা তখন আমরা না ভাবলে মেরা পবর্ত জয় হতো, কিন্তু এনাম তালুকদার সুস্থ অবস্থায় ফেরত আসত না।
মেরা অভিযানের নেতা ছিলেন সিরাজুল হক সাগর। কোনভাবেই ইনাম-আল-হক নয়। ইনাম ভাই পবর্তারোহী নয়- নেতৃত্ব দেয়া তো পরের কথা। উনি ছিলেন আমাদের সংগঠক। উনার ছায়াতলেই আমরা সবাই সংগঠিত হয়েছিলাম।
.............................

# ২০০৭ সালে নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে বিএমটিসির আরো তিন সদস্য এম এ মুহিত, নূর মোহাম্মদ ও সজল খালেদ মেরা শীর্ষ জয় করেন। (সামিটে অধমের সামান্য ভূমিকা আছে, ভীষন খারাপ আবহাওয়ায় সামিটের কিছু আগে শেরপা গাইড ক্রেভার্সের ভয়ে অভিযান বাদ দিতে চেয়েছিলেন তখন অধম গাইডকে পেছনে রেখে দলকে সামিট করিয়েছিলেন)

### এ দলের মেরা পবর্ত জয় নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। সামিটের ছবি অস্পস্ট- যা যে কোনখানেই তোলা সম্ভব।
মুসা যে বিতরকিত গাইড কে নিয়ে এভারেষ্ট অভিযানে গিয়েছিলেন, চুলু ওয়েস্ট অভিযানের মিথ্যা জয়ের সময় যে গাইড সজলদের সঙ্গে ছিলো সেই সোম বাহাদুর তামাং এবং এজেন্সিই ছিলো সজল নিশুদের মেরা অভিযানে।
.............................

# ২০০৬ সালের ২২ মে দুপুর ৩:৩০ এ সিকিমের ফ্রে শীর্ষ [১৯,১২৫ ফুট উঁচু] জয় করার দাবি করেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

## দাবি সত্য, কারন সামিট হয়েছিল হিমালায়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশ'এর নেতৃত্বে, সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আট কমান্ডোও ছিলেন। কোর্স ডিরেক্টর নুডুপ ভুটিয়ার সাথে ছিলেন প্রশিক্ষক সঞ্জয় ও জুনা ঠাকুর (২০০৯ সালে ইন্দো বাংলাদেশ মাকালু অভিযানে মৃত্যুবরন করেন যেখানে নিশাত মজুমদার ও অধম সরকারী আয়োজনে অংশগ্রহন করেন)

### ফ্রে পিক অভিযান নিয়েও বিতরক আছে। এই অভিযান সজলের কথা অনুযায়ী হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন নয়- বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)-এর তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
অভিযানের চুড়া জয়ের যে আলোকচিত্র আমার ‍কাছে আছে- যাতে মুসা এবং সজল “ভি” চিহ্ন দেখাচ্ছে- তা চুড়ার অনেক নীচে তোলা।
আমার কাছে সজল ও মুসার যে ভিডিও আছে, তাতে নানা বিভ্রান্তিকর কথা আছে। এবং HMI-এর প্রশিক্ষকদের সাথে আলাপ করে যা যা জেনেছি তা নিয় আর বিস্তারিত বলতে চাই না।

.............................

# ২০০৭ সালের মে মাসে বিএমটিসির সদস্য মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, এম এ মুহিত ও নূর মোহাম্মদ চুলু ওয়েস্ট (২১,০৫৯ ফুট) পর্বত অভিযান করে ব্যর্থ হয়, কিন্তু সফলতার দাবি নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলায় [৩] অনেক সদস্য ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ দল গঠন করেন। মুনতাসির মামুন ইমরান গড়েন 'কেওক্রাডং বাংলাদেশ', মীর শামছুল আলম বাবু গড়েন 'টিম এক্সট্রিম' আর মুসা ইব্রাহীম গড়েন 'নর্থ আলপাইন ক্লাব, বাংলাদেশ'।

** ২০০৭ সালে অধমের নেতৃত্বে চুলু ওয়েস্ট অভিযানে শীর্ষের কাছে দেখা যায় সাম্প্রতিক বিশাল ধসে পথ বন্ধ। গাইড সোম বাহাদুর এবং আয়োজক সারিন প্রধান জানান এর পরে আর যাওয়া সম্ভব না এবং এখন এখানেই সামিট ধরে নেয়া হয়, সামিট পতাকার জন্য খাদের আগের চূড়ায় পোতা পতাকা দন্ড'ও দেখান তারা। বিএমটিসি চুলু বিজয়কে তাই অফিশিয়াল বিজয় বলে চিহ্নিত করে। উল্লেখ্য যে মুসা ইব্রাহীম অসুস্থতার কথা জানিয়ে সামিট পুশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

#### এখানে সজল খালেদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তারা “চুলু ওয়েস্ট” জয় করেন নি- এজন্য সজল দোষ দিয়েছেন গাইড সোম বাহাদুর তামাং এবং আয়োজক সারিন প্রকাশ প্রধান (মুসার বন্ধু)-এর। অথচ চুলু ওয়েস্ট থেকে ফেরত আসার পর এই সজলই চুলু ওয়েস্ট জয়ের দাবি নিয়ে নানা সংবধর্না নিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন করেছেন, পত্রিকায় লিখেছেন।
একমাত্র আমিই সে সময় এই মিথ্যাচারের বিরোধিতা করেছিলাম। ঘটনার ১বছর পর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর মুসা স্বীকার করেছিলেন যে চুলু ওয়েষ্ট জয় হয়নি। আর ৩বছর পর মুসার বিরোধীতা করার জন্য সজলও এখন স্বীকার করলেন। জয় হলো সত্যের।
...........................

*** বিএমটিসি গঠনের আগে'ই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জটিলতা এড়ানোর জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা একই কাজ করা অন্য সংগঠনে থাকবেন না। মুনতাসির মামুন ইমরানের নিজের সংগঠন কেওক্রাডং থাকায় তিনি বিএমটিসিতে অংশগ্রহন করবেন না। চুলু অভিযানের আগে দলের সবাই অধমের কাছে প্রশিক্ষন নিতেন। মীর শামশুল আলম প্রশিক্ষনে ভালো না করায় তাকে কয়েকবার সতর্ক করার পর বাধ্য হয়ে অভিযানের আগে তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইনাম আল হকের অনুরোধে মীর শামসুল আলম সদস্যপদ ত্যাগ করেন। মীর শামসুল আলমের শুন্যস্থানে নূর মোহাম্মদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

#### বাংলাদেশের পবর্তারোহীদের সবাই কখনোই সজল খালেদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন না। কেউ কেউ নিতেন। আমি এক মুহুরতের জন্যও নেইনি। আমি প্রথম থেকেই সজল খালেদের প্রশিক্ষণের বিরোধীতা করেছি- কারন সজল নিজেই পবর্তারোহন বিষয়ে যথাযতভাবে প্রশিক্ষিত নয়- সজলের কোনরূপ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই। যার যথাযথ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই, সে পবর্তারোহন প্রশিক্ষণ দিতে পারার কেউ নয়।
সজল দেশে আসার ১ বছর আগে ২০০৫ সালে আমি বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- থেকে “পবর্তারোহন প্রশিক্ষক” প্রশিক্ষণ কোরস “ম্যাথোড অব ইন্সট্রাকশন (MOI)” কোরসটি আমি A+ গ্রেড পেয়ে সমাপ্ত করি। এর পর গত ৫ বছর যতবারই বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- তে গিয়েছি ততবারই একজন প্রশিক্ষকের সম্মান পেয়েছি। ২০০৭ সালে ১মাস প্রশিক্ষক হিসেবে বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- এ কাজও করেছি। বাংলাদেশে পবর্তারোহণ প্রশিক্ষক হিসেবে একমাত্র আমারই সনদপত্র আছে- যেমন আছে পবর্তারোহন এর অভিজাত প্রশিক্ষণ “সার্চ এন্ড রেসকিউ” সমাপ্তের সনদ- যা দিয়েছেন নেহেরু ইন্সিটিটিউট অব মাউন্টেরিয়ারিং (NIM)। সুতরাং আমি যথাযথ ভাবে জেনেই সবসময়েই সজলের ভুল প্রশিক্ষণের বিরোধিতা করেছি, এখনও করছি।

আর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্বেও একসময় এসে সদস্য পদ ত্যাগ করেছি যেসব কারনে তার মধ্যে অভিযানের সাফল্যের মিথ্যাচার ছাড়াও অন্যতম হলো, কোন প্রশিক্ষণ না নিয়েই শুধু সদস্য নয় যে দলের প্রশিক্ষকও হওয়া যায় সে দলের সদস্য থাকা নিছক অরথহীন।

মীর শামছুল আলম বাবু

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনার এই মন্তব্যটা লাইকাইলাম। দেখা যাচ্ছে পর্বতারোহনের চেয়ে পর্বতারোহন নিয়ে ভুয়া ক্রেডিট দাবির ট্রাডিশন আমাদের অস্থিমজ্জায় আগের থেকেই আছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

মুস্তাফিজ এর ছবি

আমি কিন্তু এদের অনেকের জন্মেরও আগে (সেপ্টেম্বর '৮৫) বেস কেম্প থেকে ঘুরে এসেছি। আরেকটু ঠেলা দিলে এভারেস্টের চূড়ায় উঠে যেতাম হো হো হো
সেই সময়কার ঐ পথের কোথায় কোন হোটেল (টী হাউস) আছে, কয়টা সীট, ভাড়া কত এমনকি মালিকের নাম পর্যন্ত আমার কাছে আছে।

...........................
Every Picture Tells a Story

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আলসেমি করে উঠলেন না হয়ত এভারেস্টের কিছু ভালো ছবি চুরি করা যেত, জাতি বেঁচে যেত এভারেস্ট রহস্যের থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা আর টকশো থেকে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

বেসক্যাম্প কি সারে পাঁচ হাজার মিটার উপরে না?
তার মানে অনেকদিন পর্যন্ত বাংলাদেশী কারো ওঠা সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড নিশ্চয়ই আপনার ছিলো!
পার্টি দেন তাড়াতাড়ি চোখ টিপি

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কষ্ট করে অনেক তথ্য শেয়ার করার জন্য মীর শামছুল আলম বাবু-কে ধন্যবাদ। হিমু এই সিরিজ-এ হাত না দিলে আমরা এসবের অনেক কিছুই জানতে পারতাম না।

অতিথি লেখক এর ছবি

auto
ইন্টারনেট ঘেঁটে ছবিটা পেলাম। এই ছবিটা ব্রান্ডেন নামের এক পর্বত আরোহীর, যিনি মুসার প্রাণ বাঁচিয়েছেন বলে পত্রিকায় এসেছে। এই ছবির কোণায় বুদ্ধমূর্তির বাক্সটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু মুসা ইব্রাহীমের ছবিতে এখনো দেখতে পাইনি। বুদ্ধমূর্তিসহ মুসা ইব্রাহীমের ছবি কি এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে পেয়েছেন? পেলে আপ্লোড করে দেন প্লিজ।
পথিক রহমান

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

এই ছবিটার লিংক দেয়া যাবে? এই লোকের পুরো নাম কি?
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

পুতুল এর ছবি

বাংলাদেশে সব কিছু সৎ আছে। সৎমা, সৎভাই, সৎবোন এমনকি সৎ বাবাও। শুধু সৎ মানুষ নাই। প্রাণটা হাতে নিয়ে মানুষ এতো উঁচুতে উঠতেও মিথ্যাচার নামের অঙ্গটা সাথে নেয়! নীচের এই আমাদেরকে ধোকা দেয়ার জন্য। আমাদেরকে বোকা বানানো খুব সহজ কী না! হিমু এই লেখাটা শুরু না করলে এখানে দুই পার্বতারোহীর বক্তব্যটাও আমাদের অগোচরেই থেকে যেতো। সেটাই ভাল ছিল। নিজেদের বোকা বানানোটা দেখার চেয়ে মিথ্যা শুভ সংবাদ বিশ্বাস করা ভাল। কারো প্রতি ঘৃণা জন্মানোর আশংকা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

হিমু এর ছবি

আমি অনেক চেষ্টা করেও আলোচনাগুলো প্রাসঙ্গিক রাখতে পারছি না। আমি একবার বলেছি, এই পোস্টটি অন্নপূর্ণা-৪ বিজয় নিয়ে, এভারেস্ট এখানে আলোচ্য নয়। এভারেস্ট নিয়েও লেখার অনেক কিছু আছে, আমরা সেখানে আলোচনা করলে অনেক বেশি ফোকাসড থাকা যাবে। পাঠকরা যদি এই অনুরোধে সাড়া না দেন, অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য আমি মুছে দেবো।

মুনতাসির মামুন, সজল খালেদ ও মীর শামছুল আলম বাবুকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্যে ধন্যবাদ। সেইসাথে অনুরোধ, আগামী যে কোনো অভিযান থেকে ফিরে তাঁরা যেন একটু কষ্ট করে অডিয়েন্সের উদ্দেশ্যে কিছু স্পষ্ট ছবির সাথে একটা ভিডিও লগও উপস্থাপন করেন। সম্ভব হলে যেন ইউটিউবে আপলোড করে দেন।

বাংলাদেশে পর্বতারোহণের সাংগঠনিক সক্রিয়তা সম্পর্কে আমার লেখায় সূত্র হিসেবে মীর শামছুল আলম বাবুর একটি নিবন্ধ সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তার সাথে মুনতাসির মামুন ও সজল খালেদ একমত নন, এবং ভিন্নমতটুকুও আমরা জেনে নিলাম। আমার অনুরোধ থাকবে, তাঁরা যেন নিজেদের কথা নিজেরা লেখেন। যিনি লিখবেন, তাঁর কথাই লোকে জানবে। পত্রিকায় না লিখলে ব্লগেও লিখতে পারেন, আগ্রহী পাঠক পাবেন।

পর্বতারোহীদের নিজেদের গোষ্ঠীগত ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে আমরা তিনজনের বক্তব্য জেনেছি। ভালো হয় যদি আমরা আবার অন্নপূর্ণা-৪ এর আলোচনায় ফিরে যেতে পারি। এ প্রসঙ্গে আমার উপস্থাপন করা তথ্যের বিরোধিতা করে তিনজন প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পর্বতারোহী কোনো যুক্তি বা উদাহরণ যখন দেননি, আমরা ধরে নিতে পারি এসব তথ্য ও যুক্তি সঠিক।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মুনতাসির [অতিথি] এর ছবি

প্রিয় হীমু আপনি লিখেছেন,
মুনতাসির মামুন, সজল খালেদ ও মীর শামছুল আলম বাবুকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্যে ধন্যবাদ। সেইসাথে অনুরোধ, আগামী যে কোনো অভিযান থেকে ফিরে তাঁরা যেন একটু কষ্ট করে অডিয়েন্সের উদ্দেশ্যে কিছু স্পষ্ট ছবির সাথে একটা ভিডিও লগও উপস্থাপন করেন। সম্ভব হলে যেন ইউটিউবে আপলোড করে দেন।

উত্তর: আমার মনে হয় আপনি এটা বলতে চেয়েছেন যাতে সামিট বোঝা যায়, তাই তো? আর সেটা যে সবাই প্রকাশ করেনা সেটাই বা কি ভাবে হলো? যেহেতু সজল ভাই, বাবু ভাইযৈর সাথে আমার নামটা এসেছে তাই সঙ্গত কারনে আপনার মন্তব্যের উত্তর দিচ্ছি। ছবি তো ভাই সাথে সাথেই প্রকাশ করা হয়।

আমার ছবিতো সেই কবে থেকেই
http://www.flickr.com/photos/muntasir/sets/72157601197055457/
এখানে একটা বল্গ আছে তা অনেক আগে লিখা
http://www.somewhereinblog.net/blog/muntasirblog/28883125

আর আরেকটা মজার বিষয় লখ্য করেছেন, সবাই সবার অভিযান নিয়ে কথা বলে, আমার টা নিয়ে কেউ বলে না!!

প্রিয় হীমু আপনি বলেছেন,

পর্বতারোহীদের নিজেদের গোষ্ঠীগত ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে আমরা তিনজনের বক্তব্য জেনেছি। ভালো হয় যদি আমরা আবার অন্নপূর্ণা-৪ এর আলোচনায় ফিরে যেতে পারি।

উত্তর: আমি শুধু আমার ব্যপারটা জানি। কেউ শুদ্ধ তথ্য না দিতে পারলে তা শুদ্ধ করার কথাই আমি বলেছে মাত্র। এখানে মনে হয় না এটা বলাটা ঠিক হবে যেমন টি আপনি বলেছেন। আপনি অবশ্যই বলতে পারেন তবে সে কাতারে আমি আমাকে দেখতে পাইনা। দুজনের সাথেই আমার আজ অবদি ভাল সম্পর্ক আছে এবং থাকবে বলে মনে হয়। সেটা ব্যক্তিগত। তবে এটা ঠিক তাদের সাথে আমার কোন দিন পাহাড়ে যাোয়া হয়নি।

প্রিয় সজল ভাই বলেছেন,

কিছু কিছু পাহাড়ের চুড়ায় কাছাকাছি গেলেো নাকি তাকে সামিট ধরা হয়। এমন এটা কথা এসেছে উনি এবং বাবু ভাইয়ের কথোপকথনে।

উত্তর: কথাটায় আমি নিজে প্রশ্ন তুলেছিলাম সে সময়ে। কেননা ২০০৪ বাংলাদেশ থেকে দলগত পর্বত আরোহনে আমি আর রিফাত যখন স্তোক কাঙরিতে গেলাম। সামিটের মাত্র ৩০ফুট থেকে আমি ফিরে এসেছিলাম। কই, আমি তো বলতে পারলাম না তেমন টা। রিফাতই একটু পর ফিরে এসে বলেছিল, সামিট খুবই কাছে। তুমি পারতা ইমরান।

আমার সেবার সামিট হয়নি। কিন্তু আমার পর্বত জয় হয়েছিল। তাই এটা দাবী করতে পারিনি আমি সামিট করেছি।

পর্বতারোহনে আরোহী নিজেই নিজের বিচারক। তাই সত্য মিথ্যার ব্যাখ্যাটার আসল থেকে যায় নিজের কাছে।

প্রিয় হীমু,
আমার মনে হয়, যদি আপনি সত্যিই সঠিক তথ্যটি পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চান তো তথ্যের চরিত্রগুলোর সবাইকে একসাথে মেইল করে তার বের করতে পারেন। এটা একটা কেৌশল মাত্র। যেমন আমার কোন বিষয় নিয়ে যদি লিখথে চায় এবং সন্দেহ মুক্ত থাকতে চান তার শুদ্ধতার ব্যপারে আমাকে একটা মেইল যদি দেন এবং তাতে আপনার মতে যারা সেটা বিশ্লেষনের ক্ষমতা রাখে যেমন বাবু ভাই বা সজল ভাই - তো ভাল হয়। কেননা পত্রিকায় কিই না লেখা হয়, তা যদি হয় প্রথম আলো, তাইলে তো কথাই নাই। আর লেখককে যখন আপনি নিজে চিনে থাকেন তো একটু বাড়তি কষ্ট করে কাজটা করলে সবারই উপকার হয়।

এটা একটা পন্থা মাত্র। উপদেশ নয়।

ভালবাসা রইল।
মুনতাসির

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হিমু বানান হ্রস্য-ই কার দিয়ে। মন্তব্যে আরেকটু যত্নবান হলে ভাল হয়। অনেক শব্দ পড়া গেলোনা। হয়তো খুবই ব্যস্ত সেকারণে এমনটা হচ্ছে ধরে নিচ্ছি হাসি

এসব নিয়ে নিয়মিত লিখতে পারো। তোমার সময় নাই, সেটা আমি জানি। তবুও সময় করে যদি লিখতে পারো তো ভালো হয়। দেখছই তো একই যাত্রায় কত মত, কত বিভ্রান্তি।

পর্বত অভিযানে সাফল্য-ব্যর্থতার বিচার তো নিজের কাছে। তুমিই তো বললে। তোমার কথা কেউ না বললেই কি, তোমার কাজ তুমি করো।

মুনতাসির [অতিথি] এর ছবি

আমি হিমু সাহেবকে ইমেইল এ আমার লজ্জা প্রকাশ করেছি আমার বানান জনিত কারনে। আর কাজ না থাকার কারনে বল্গে বসা। আমি ব্যস্ত না। তবে অনেক পড়ে থাকা কাজ আছে।

এক সময় সক্রেটিস এর মতই ছিলাম, লাইসিয়াম ছিল। তবে সে অসাধ্য সাধনের জন্য যে ত্যগের দরকার সে রকম মহান আমি না। তাই মাইকেল মধুসুদনের জীবন রীতিই আমার বাইবেল।

লজ্জিত। সব কিছু আমার পক্ষ থেকে করা সম্ভব না। আর এত চোরামি দেখে পাহাড় যাইনা বহুদিন। কেননা প্রতি বার প্রেস ক্লাবে তাদের মিথ্যা বুলি শুনে আমার লজ্জা হতো।

হায় পর্বতারোহন, এতই খেল হলো আমাদের কাছে!!

mir shamsul alam baboo এর ছবি

I post this writing again because same of us did not understand rightly which writing is belong to Sajal & which is mine. So I edited it & post.

লেখক হিমু কে ধন্যবাদ-
সজল খালেদ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করায় এ সম্পর্কে কিছু লিখছি।
.................
সজল খালেদ:- ২০০০ সালে এই অধম এভারেস্ট অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন এবং অধমের জানামতে তখন শুধুমাত্র আমিই এভারেস্ট অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নিতে থাকি।

মীর শামছুল আলম বাবু:- ২০০০ সালে সজল খালেদ কোনভাবেই এভারেস্ট বিষয়ক কাজে জড়িত ছিলেন না। আমি আমার বই “হিমালয় এভারেস্ট ও বাংলাদেশ” (ফেব্রুয়ারী ২০০৭) লেখার আগে এ বিষয়ে যথেষ্ঠ কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এ কথা লিখছি।
ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল, ইন্তেসার হায়দার ও সুমন সম্পদ বনিক এই তিন জনকে সবাই পবর্তারোহী হিসেবে জানে আমার বইয়ে দেয়া তথ্যের মাধ্যমে। এমনকি সজল খলেদ যে ২০০৬ থেকে পবর্তারোহনে জড়িত তাও আমার লেখার মাধ্যমেই জানে।
.......................................
সজল খালেদ:- # ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উচু] জয়ে এনাম আল হকের নেতৃত্বে গিয়েছিলেন রিফাত বিন সাত্তার, সিরাজুল হক সাগর, মুসা ইব্রাহীম, মীর শামসুল আলম, এনাম তালুকদার ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা। আবহাওয়া ঠিক থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সফল হতে পারেন নি।

মীর শামছুল আলম বাবু:- রিফাতের পুরো নাম রিফাত হাসান- রিফাত বিন সাত্তার নয়। রিফাত বিন সাত্তার বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত দাবারু।
অভিযান সফল হয়নি কারন-
অভিযানের শেষ দিন ১৯৬০০ ফুট উঁচু মেরা-লা গ্লেসিয়ারে অবস্থিত হাইক্যাম্প থেকে রিফাত ও আমি সামিট পুশে না গিয়ে ফেরত এসেছিলাম এনাম তালুকদারকে সুস্থ অবস্থায় নিচে নিয়ে আসার জন্য। এনাম তালুকদারের কথা তখন আমরা না ভাবলে মেরা পবর্ত জয় হতো, কিন্তু এনাম তালুকদার সুস্থ অবস্থায় ফেরত আসত না।
মেরা অভিযানের নেতা ছিলেন সিরাজুল হক সাগর। কোনভাবেই ইনাম-আল-হক নয়। ইনাম ভাই পবর্তারোহী নয়- নেতৃত্ব দেয়া তো পরের কথা। উনি ছিলেন আমাদের সংগঠক। উনার ছায়াতলেই আমরা সবাই সংগঠিত হয়েছিলাম।
.............................
সজল খালেদ:- ২০০৭ সালে নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে বিএমটিসির আরো তিন সদস্য এম এ মুহিত, নূর মোহাম্মদ ও সজল খালেদ মেরা শীর্ষ জয় করেন। (সামিটে অধমের সামান্য ভূমিকা আছে, ভীষন খারাপ আবহাওয়ায় সামিটের কিছু আগে শেরপা গাইড ক্রেভার্সের ভয়ে অভিযান বাদ দিতে চেয়েছিলেন তখন অধম গাইডকে পেছনে রেখে দলকে সামিট করিয়েছিলেন)

মীর শামছুল আলম বাবু:- এ দলের মেরা পবর্ত জয় নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। সামিটের ছবি অস্পস্ট- যা যে কোনখানেই তোলা সম্ভব।
মুসা যে বিতরকিত গাইড কে নিয়ে এভারেষ্ট অভিযানে গিয়েছিলেন, চুলু ওয়েস্ট অভিযানের মিথ্যা জয়ের সময় যে গাইড সজলদের সঙ্গে ছিলো সেই সোম বাহাদুর তামাং এবং এজেন্সিই ছিলো সজল নিশুদের মেরা অভিযানে।
.............................
সজল খালেদ:- দাবি সত্য, কারন সামিট হয়েছিল হিমালায়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশ'এর নেতৃত্বে, সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আট কমান্ডোও ছিলেন। কোর্স ডিরেক্টর নুডুপ ভুটিয়ার সাথে ছিলেন প্রশিক্ষক সঞ্জয় ও জুনা ঠাকুর (২০০৯ সালে ইন্দো বাংলাদেশ মাকালু অভিযানে মৃত্যুবরন করেন যেখানে নিশাত মজুমদার ও অধম সরকারী আয়োজনে অংশগ্রহন করেন)

মীর শামছুল আলম বাবু:- ফ্রে পিক অভিযান নিয়েও বিতরক আছে। এই অভিযান সজলের কথা অনুযায়ী হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন নয়- বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)-এর তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
অভিযানের চুড়া জয়ের যে আলোকচিত্র আমার কাছে আছে- যাতে মুসা এবং সজল “ভি” চিহ্ন দেখাচ্ছে- তা চুড়ার অনেক নীচে তোলা।
আমার কাছে সজল ও মুসার যে ভিডিও আছে, তাতে নানা বিভ্রান্তিকর কথা আছে। এবং HMI-এর প্রশিক্ষকদের সাথে আলাপ করে যা যা জেনেছি তা নিয় আর বিস্তারিত বলতে চাই না।
.............................
সজল খালেদ:- ২০০৭ সালে অধমের নেতৃত্বে চুলু ওয়েস্ট অভিযানে শীর্ষের কাছে দেখা যায় সাম্প্রতিক বিশাল ধসে পথ বন্ধ। গাইড সোম বাহাদুর এবং আয়োজক সারিন প্রধান জানান এর পরে আর যাওয়া সম্ভব না এবং এখন এখানেই সামিট ধরে নেয়া হয়, সামিট পতাকার জন্য খাদের আগের চূড়ায় পোতা পতাকা দন্ড'ও দেখান তারা। বিএমটিসি চুলু বিজয়কে তাই অফিশিয়াল বিজয় বলে চিহ্নিত করে। উল্লেখ্য যে মুসা ইব্রাহীম অসুস্থতার কথা জানিয়ে সামিট পুশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মীর শামছুল আলম বাবু:- এখানে সজল খালেদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তারা “চুলু ওয়েস্ট” জয় করেন নি- এজন্য সজল দোষ দিয়েছেন গাইড সোম বাহাদুর তামাং এবং আয়োজক সারিন প্রকাশ প্রধান (মুসার বন্ধু)-এর। অথচ চুলু ওয়েস্ট থেকে ফেরত আসার পর এই সজলই চুলু ওয়েস্ট জয়ের দাবি নিয়ে নানা সংবধর্না নিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন করেছেন, পত্রিকায় লিখেছেন।
একমাত্র আমিই সে সময় এই মিথ্যাচারের বিরোধিতা করেছিলাম। ঘটনার ১বছর পর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর মুসা স্বীকার করেছিলেন যে চুলু ওয়েষ্ট জয় হয়নি। আর ৩বছর পর মুসার বিরোধীতা করার জন্য সজলও এখন স্বীকার করলেন। জয় হলো সত্যের।
...........................
সজল খালেদ:- বিএমটিসি গঠনের আগে'ই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জটিলতা এড়ানোর জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা একই কাজ করা অন্য সংগঠনে থাকবেন না। মুনতাসির মামুন ইমরানের নিজের সংগঠন কেওক্রাডং থাকায় তিনি বিএমটিসিতে অংশগ্রহন করবেন না। চুলু অভিযানের আগে দলের সবাই অধমের কাছে প্রশিক্ষন নিতেন। মীর শামশুল আলম প্রশিক্ষনে ভালো না করায় তাকে কয়েকবার সতর্ক করার পর বাধ্য হয়ে অভিযানের আগে তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইনাম আল হকের অনুরোধে মীর শামসুল আলম সদস্যপদ ত্যাগ করেন। মীর শামসুল আলমের শুন্যস্থানে নূর মোহাম্মদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মীর শামছুল আলম বাবু:- বাংলাদেশের পবর্তারোহীদের সবাই কখনোই সজল খালেদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন না। কেউ কেউ নিতেন। আমি এক মুহুরতের জন্যও নেইনি। আমি প্রথম থেকেই সজল খালেদের প্রশিক্ষণের বিরোধীতা করেছি- কারন সজল নিজেই পবর্তারোহন বিষয়ে যথাযতভাবে প্রশিক্ষিত নয়- সজলের কোনরূপ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই। যার যথাযথ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই, সে পবর্তারোহন প্রশিক্ষণ দিতে পারার কেউ নয়।
সজল দেশে আসার ১ বছর আগে ২০০৫ সালে আমি “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- থেকে “পবর্তারোহন প্রশিক্ষক” -প্রশিক্ষণ কোরস “ম্যাথোড অব ইন্সট্রাকশন (MOI)” কোরসটি A+ গ্রেড পেয়ে সমাপ্ত করি। ২০০৭ সালে ১মাস প্রশিক্ষক হিসেবে বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- এ কাজও করেছি। বাংলাদেশে পবর্তারোহণ প্রশিক্ষক হিসেবে একমাত্র আমারই সনদপত্র আছে- যেমন আছে পবর্তারোহন এর অভিজাত প্রশিক্ষণ “সার্চ এন্ড রেসকিউ” সমাপ্তের সনদ- যা দিয়েছেন নেহেরু ইন্সিটিটিউট অব মাউন্টেরিয়ারিং (NIM)। সুতরাং আমি যথাযথ ভাবে জেনেই সবসময়েই সজলের ভুল প্রশিক্ষণের বিরোধিতা করেছি, এখনও করছি।
আর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্বেও একসময় এসে সদস্য পদ ত্যাগ করেছি যেসব কারনে তার মধ্যে অভিযানের সাফল্যের মিথ্যাচার ছাড়াও অন্যতম হলো, কোন প্রশিক্ষণ না নিয়েই শুধু সদস্য নয় যে দলের প্রশিক্ষকও হওয়া যায় সে দলের সদস্য থাকা নিছক অরথহীন।

মীর শামছুল আলম বাবু

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

মজার ব্যাপার হলো, অন্নপূর্ণা-৪ জয়ের সময়ও ক্যামেরার ব্যাটারি ফুরালো, এভারেস্ট জয়ের সময়ও ফুরালো। ভাবছি দুনিয়াতে কি ব্যাটারি জিনিসটার এতই আকাল/
আরেকটা কথা, ধরি যদি দেখা গেল মুসা সাহেব চূড়ায় ওঠেননি--যদিও আশা করি তেমনটা না হোক-- তবে কি ঘটবে/ পুরো জাতির সাথে মিথ্যা বলে এই হতভাগা জাতিকে খামোকাই নাচানোর ফলাফল কি/

হিমু এর ছবি

এভারেস্ট জয়ের সময় ব্যাটারি ফুরিয়েছে, এমন তথ্যটি কোথায় পেলেন? একটি কথোপকথনের লিঙ্ক দেয়া আছে, সেখানে মুসা জানিয়েছেন বেইসক্যাম্পে সোলার চার্জার ছিলো এবার।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অভিযাত্রী এর ছবি

এটিএন নিউজে মুসা নিজে বলেছেন তিনি ব্যাটারী ফুল চার্জ দিয়ে নিয়ে গেছিলেন কিন্তু ৭/৮ ছবি তোলার পর ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। চোখ টিপি হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ঠান্ডার কারনে এটা ঘটতেই পারে। ব্যাটারী দ্রুত ডিসচার্জ হয়ে যেতে পারে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হাসিব এর ছবি

এভারেস্ট সামিটে জুন জুলাইতে মাইনাস ৩০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা থাকে । এই তাপমাত্রায় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি স্বাভাবিকে চেয়ে একটু দ্রুত ডিসচার্জ হয় ঠিক । কিন্তু সেটা এতো তাড়াতাড়ি হবার কথা না । এই তাপমাত্রায় এক ব্যাটারি দিয়ে ১৫০ পর্যন্ত ছবি তোলার অভিজ্ঞতা আছে ।

হিমু এর ছবি
সুবনি এর ছবি

বাংলাদেশে সবিই সম্ভব। অপেক্ষায় থাকলাম আর জানার জন্য.........।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাবু'র ব্লগ দেখে অনেকদিন পর মজা পেলাম। আমাদের সৌভাগ্য এই একটা জ্ঞানী লোক আছে বাংলাদেশে।

বাবুর লেখার জবাব লিখতে অনিচ্ছা কাজ করে বিভিন্ন কারনে। তারপরেও অন্যান্য ব্লগারদের জন্য সময় স্বল্পতার মধ্যেও একটা জবাব দিতে চেষ্টা করছি। তবে এর পরে আর দেবনা, জ্ঞানী বাবুর সাথে আমাদের কারো তুলনা হয় না।

### ২০০০ সালে সজল খালেদ কোনভাবেই এভারেস্ট বিষয়ক কাজে জড়িত ছিলেন না। আমি আমার বই “হিমালয় এভারেস্ট ও বাংলাদেশ” (প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারী ২০০৭) লেখার আগে এ বিষয়ে যথেষ্ঠ কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এ কথা লিখছি।
ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল, ইন্তেসার হায়দার ও সুমন সম্পদ বনিক এই তিন জনকে সবাই পবর্তারোহী হিসেবে জানে আমার বইয়ে দেয়া তথ্যের মাধ্যমে। এমনকি সজল খলেদ যে ২০০৬ থেকে পবর্তারোহনে জড়িত তাও আমার লেখার মাধ্যমেই জানে।

# ইনাম আল হক, এনাম তালুকদার এমনকি ম আলম মিলনকে জিজ্ঞাসা করলেও যে কেউ জানতে পারবেন ২০০০ সাল থেকে আমি এভারেস্ট বিষয়ক অকাজ ও প্রস্তুতি শুরু করি। বাবুর অসাধারন ৯৬ পৃষ্ঠার বইতে ১৩৬ বার নিজের নাম আর ৭৬ বার আরেকজনের নাম আছে (সংখ্যা সামান্য এদিক ওদিক হতে পারে)। তবে কে জানে বাবু যখন বলেছে হয়ত আমার তুচ্ছ সামিট, বারবার পাহাড়ে যাওয়া আসলেই সত্যি না।

.......................................
# ২০০৫ সালে নেপালের মেরা শীর্ষ [২১,৮৩০ ফুট উচু] জয়ে এনাম আল হকের নেতৃত্বে গিয়েছিলেন রিফাত বিন সাত্তার, সিরাজুল হক সাগর, মুসা ইব্রাহীম, মীর শামসুল আলম, এনাম তালুকদার ও সাদিয়া সুলতানা সম্পা। আবহাওয়া ঠিক থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সফল হতে পারেন নি।

### রিফাতের পুরো নাম রিফাত হাসান- রিফাত বিন সাত্তার নয়। রিফাত বিন সাত্তার বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত দাবারু।
অভিযান সফল হয়নি কারন-
অভিযানের শেষ দিন ১৯৬০০ ফুট উঁচু মেরা-লা গ্লেসিয়ারে অবস্থিত হাইক্যাম্প থেকে রিফাত ও আমি সামিট পুশে না গিয়ে ফেরত এসেছিলাম এনাম তালুকদারকে সুস্থ অবস্থায় নিচে নিয়ে আসার জন্য। এনাম তালুকদারের কথা তখন আমরা না ভাবলে মেরা পবর্ত জয় হতো, কিন্তু এনাম তালুকদার সুস্থ অবস্থায় ফেরত আসত না।
মেরা অভিযানের নেতা ছিলেন সিরাজুল হক সাগর। কোনভাবেই ইনাম-আল-হক নয়। ইনাম ভাই পবর্তারোহী নয়- নেতৃত্ব দেয়া তো পরের কথা। উনি ছিলেন আমাদের সংগঠক। উনার ছায়াতলেই আমরা সবাই সংগঠিত হয়েছিলাম।

** রিফাতের পুরা নাম ভুল করেছি। বাবু ইস্যু বানালেও আশা করি রিফাত মাইন্ড করবেনা জানলে। মেরা অভিযানে সবাই ইনাম আল হকের নেতৃত্বেই গিয়েছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় পরে সাগরকে নেতৃত্ব দেন।

.............................

# ২০০৭ সালে নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে বিএমটিসির আরো তিন সদস্য এম এ মুহিত, নূর মোহাম্মদ ও সজল খালেদ মেরা শীর্ষ জয় করেন। (সামিটে অধমের সামান্য ভূমিকা আছে, ভীষন খারাপ আবহাওয়ায় সামিটের কিছু আগে শেরপা গাইড ক্রেভার্সের ভয়ে অভিযান বাদ দিতে চেয়েছিলেন তখন অধম গাইডকে পেছনে রেখে দলকে সামিট করিয়েছিলেন)

### এ দলের মেরা পবর্ত জয় নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। সামিটের ছবি অস্পস্ট- যা যে কোনখানেই তোলা সম্ভব।
মুসা যে বিতরকিত গাইড কে নিয়ে এভারেষ্ট অভিযানে গিয়েছিলেন, চুলু ওয়েস্ট অভিযানের মিথ্যা জয়ের সময় যে গাইড সজলদের সঙ্গে ছিলো সেই সোম বাহাদুর তামাং এবং এজেন্সিই ছিলো সজল নিশুদের মেরা অভিযানে।

** মেরার হাই ক্যাম্পে আমরা ৩ দিন ঝড়ে আটকে ছিলাম, সামিট পুশের সময়ও হোয়াইট আউট হয়েছিল একাধিকবার। ওই অভিযানে বাবু থাকলে নিশ্চই স্পষ্ট আবহে ছবি তুলতে পারতেন।
.............................

# ২০০৬ সালের ২২ মে দুপুর ৩:৩০ এ সিকিমের ফ্রে শীর্ষ [১৯,১২৫ ফুট উঁচু] জয় করার দাবি করেন মুসা ইব্রাহীম ও সজল খালেদ [২]।

## দাবি সত্য, কারন সামিট হয়েছিল হিমালায়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশ'এর নেতৃত্বে, সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আট কমান্ডোও ছিলেন। কোর্স ডিরেক্টর নুডুপ ভুটিয়ার সাথে ছিলেন প্রশিক্ষক সঞ্জয় ও জুনা ঠাকুর (২০০৯ সালে ইন্দো বাংলাদেশ মাকালু অভিযানে মৃত্যুবরন করেন যেখানে নিশাত মজুমদার ও অধম সরকারী আয়োজনে অংশগ্রহন করেন)

### ফ্রে পিক অভিযান নিয়েও বিতরক আছে। এই অভিযান সজলের কথা অনুযায়ী হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং এসোসিয়েশন নয়- বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)-এর তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
অভিযানের চুড়া জয়ের যে আলোকচিত্র আমার ‍কাছে আছে- যাতে মুসা এবং সজল “ভি” চিহ্ন দেখাচ্ছে- তা চুড়ার অনেক নীচে তোলা।
আমার কাছে সজল ও মুসার যে ভিডিও আছে, তাতে নানা বিভ্রান্তিকর কথা আছে। এবং HMI-এর প্রশিক্ষকদের সাথে আলাপ করে যা যা জেনেছি তা নিয় আর বিস্তারিত বলতে চাই না।

** তাড়াহুরায় আবারো স্লিপ মিস্টেক হলো বলেই বাবু খুশি হলো। কমান্ডোদের তুলনায় আমাদের স্ট্যামিনা অনেক কম, তবে একই রোপের শেষে মুসা আর আমি ছিলাম, সবশেষে ছিলেন জুনা ঠাকুর। ফ্রে অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে HMI ভুয়া আর বাবুর HMI থেকে পাওয়া সনদগুলো খাটি।
.............................

# ২০০৭ সালের মে মাসে বিএমটিসির সদস্য মুসা ইব্রাহীম, সজল খালেদ, এম এ মুহিত ও নূর মোহাম্মদ চুলু ওয়েস্ট (২১,০৫৯ ফুট) পর্বত অভিযান করে ব্যর্থ হয়, কিন্তু সফলতার দাবি নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলায় [৩] অনেক সদস্য ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ দল গঠন করেন। মুনতাসির মামুন ইমরান গড়েন 'কেওক্রাডং বাংলাদেশ', মীর শামছুল আলম বাবু গড়েন 'টিম এক্সট্রিম' আর মুসা ইব্রাহীম গড়েন 'নর্থ আলপাইন ক্লাব, বাংলাদেশ'।

** ২০০৭ সালে অধমের নেতৃত্বে চুলু ওয়েস্ট অভিযানে শীর্ষের কাছে দেখা যায় সাম্প্রতিক বিশাল ধসে পথ বন্ধ। গাইড সোম বাহাদুর এবং আয়োজক সারিন প্রধান জানান এর পরে আর যাওয়া সম্ভব না এবং এখন এখানেই সামিট ধরে নেয়া হয়, সামিট পতাকার জন্য খাদের আগের চূড়ায় পোতা পতাকা দন্ড'ও দেখান তারা। বিএমটিসি চুলু বিজয়কে তাই অফিশিয়াল বিজয় বলে চিহ্নিত করে। উল্লেখ্য যে মুসা ইব্রাহীম অসুস্থতার কথা জানিয়ে সামিট পুশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

#### এখানে সজল খালেদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তারা “চুলু ওয়েস্ট” জয় করেন নি- এজন্য সজল দোষ দিয়েছেন গাইড সোম বাহাদুর তামাং এবং আয়োজক সারিন প্রকাশ প্রধান (মুসার বন্ধু)-এর। অথচ চুলু ওয়েস্ট থেকে ফেরত আসার পর এই সজলই চুলু ওয়েস্ট জয়ের দাবি নিয়ে নানা সংবধর্না নিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন করেছেন, পত্রিকায় লিখেছেন।
একমাত্র আমিই সে সময় এই মিথ্যাচারের বিরোধিতা করেছিলাম। ঘটনার ১বছর পর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর মুসা স্বীকার করেছিলেন যে চুলু ওয়েষ্ট জয় হয়নি। আর ৩বছর পর মুসার বিরোধীতা করার জন্য সজলও এখন স্বীকার করলেন। জয় হলো সত্যের।

৩ বছর আগেই সম্ভবত আমি একাধিক ইমেল করেছিলাম চুলু ওয়েস্ট বিষয়ে। ৭/৬/২০০৭ তারিখে সব পর্বোতারোহীদের লেখা একটি ইমেইল খুজে পেলাম, তবে কে জানে বাবু যেহেতু বলেছে, হয়ত এই সব কথা আসলে লেখা হয়নি। ইমেইল থেকে দুটি প্যারা কোট করলাম।

I would like to make it very clear that we have summit Chullu West
officially which has been declared by NMI. In many peak official
summit can be little less than the original height. In such reason
official summit is also recognized as the original height. The reason
for summit little less than the original height can be religion,
natural disaster or environment. In Mount Kanchandjongha the official
summit is 50 meter less than the real height. In Fray peak also we
were about 60 meter below for unavoidable reason. We didn't get less
height marked in or certificate for that.

In Chullu West there was a deep crevasse this year just beside the
peak. According to our climbing guide the official summit was decided
on the last reachable place which was maximum about 100 meter less
than the real peak. We've also seen the summit stick fixed on that
place. If we had a altimeter like Baboo had, we would be happier to
know the real height. BMTC members know about this summit as soon as we came back.

...........................

*** বিএমটিসি গঠনের আগে'ই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, জটিলতা এড়ানোর জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা একই কাজ করা অন্য সংগঠনে থাকবেন না। মুনতাসির মামুন ইমরানের নিজের সংগঠন কেওক্রাডং থাকায় তিনি বিএমটিসিতে অংশগ্রহন করবেন না। চুলু অভিযানের আগে দলের সবাই অধমের কাছে প্রশিক্ষন নিতেন। মীর শামশুল আলম প্রশিক্ষনে ভালো না করায় তাকে কয়েকবার সতর্ক করার পর বাধ্য হয়ে অভিযানের আগে তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইনাম আল হকের অনুরোধে মীর শামসুল আলম সদস্যপদ ত্যাগ করেন। মীর শামসুল আলমের শুন্যস্থানে নূর মোহাম্মদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

#### বাংলাদেশের পবর্তারোহীদের সবাই কখনোই সজল খালেদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন না। কেউ কেউ নিতেন। আমি এক মুহুরতের জন্যও নেইনি। আমি প্রথম থেকেই সজল খালেদের প্রশিক্ষণের বিরোধীতা করেছি- কারন সজল নিজেই পবর্তারোহন বিষয়ে যথাযতভাবে প্রশিক্ষিত নয়- সজলের কোনরূপ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই। যার যথাযথ পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ নেই, সে পবর্তারোহন প্রশিক্ষণ দিতে পারার কেউ নয়।
সজল দেশে আসার ১ বছর আগে ২০০৫ সালে আমি বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- থেকে “পবর্তারোহন প্রশিক্ষক” প্রশিক্ষণ কোরস “ম্যাথোড অব ইন্সট্রাকশন (MOI)” কোরসটি আমি A+ গ্রেড পেয়ে সমাপ্ত করি। এর পর গত ৫ বছর যতবারই বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- তে গিয়েছি ততবারই একজন প্রশিক্ষকের সম্মান পেয়েছি। ২০০৭ সালে ১মাস প্রশিক্ষক হিসেবে বিখ্যাত “হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট” (HMI)- এ কাজও করেছি। বাংলাদেশে পবর্তারোহণ প্রশিক্ষক হিসেবে একমাত্র আমারই সনদপত্র আছে- যেমন আছে পবর্তারোহন এর অভিজাত প্রশিক্ষণ “সার্চ এন্ড রেসকিউ” সমাপ্তের সনদ- যা দিয়েছেন নেহেরু ইন্সিটিটিউট অব মাউন্টেরিয়ারিং (NIM)। সুতরাং আমি যথাযথ ভাবে জেনেই সবসময়েই সজলের ভুল প্রশিক্ষণের বিরোধিতা করেছি, এখনও করছি।

আর বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্বেও একসময় এসে সদস্য পদ ত্যাগ করেছি যেসব কারনে তার মধ্যে অভিযানের সাফল্যের মিথ্যাচার ছাড়াও অন্যতম হলো, কোন প্রশিক্ষণ না নিয়েই শুধু সদস্য নয় যে দলের প্রশিক্ষকও হওয়া যায় সে দলের সদস্য থাকা নিছক অরথহীন।

** বাবু একদিন মিটিং'এ ইনাম আল হক, মুসা, মুহিত ও আমার উপস্থিতিতে বললেন তিনি প্রশিক্ষক কোর্স করলেও তার শেখানোয় ঘাটতি আছে তাই তিনি আমার কাছে নিয়মিত প্রশিক্ষন করতে চান, পরদিন থেকে আসা শুরূও করেন। তবে বাবু যখন বলেছেন তিনি এক মুহুর্তের জন্যও প্রশিক্ষন নেন নি, তাহলে মিটিং'এ আমরা চারজন এবং আমার নিয়মিত ক্লাসের সবাই যারা বাবুকে নিয়মিত দেখেছেন তারা ভুল দেখেছেন।

আর বাবু সদস্যপদ ত্যাগের যে কারন দেখিয়েছেন তাও হয়ত ঠিক, আসলেই হয়ত আমরা তাকে অনুরোধ করিনাই সদস্যপদ ত্যাগের, তাকে মাথায় তুলে রাখতে চেয়েছিলাম।

- সজল খালেদ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সজল খালেদ আর মীর শামছুল আলম বাবুর মুখোমুখি (ফোনেফোনে) একটা সাক্ষাৎকার শুনতে চাই। ব্যবস্থা করা কি সম্ভব হিমু?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হিমু এর ছবি

প্রীতিভাজনেষু সজল খালেদ ও মীর শামছুল আলম বাবু,

আপনারা দুইজন পারস্পরিক সংলাপে যে আগ্রহী, সেটা মন্তব্য প্রতিমন্তব্যে পরিষ্কার। আপনাদের এই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে আমি আরো ঘনীভূত করতে আগ্রহী। আপনারা বাড়িতে স্কাইপ ইনস্টল করে নিন, একটি মাইক্রোফোন সংগ্রহ করুন, একটি ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী সাক্ষাৎকারে এই তথ্যগত মতভেদ আরো স্পষ্ট করে জানা যাবে। আপনারা সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী হলে জানাবেন।

এই পোস্টে আপনাদের বার্তা পাঠকের কাছে পরিষ্কার। এখন আসুন আলোচনার উপজীব্যে ফিরে যাই। অন্নপূর্ণা-৪। এ নিয়ে আপনারা কিছু শেয়ার করতে চাইলে করুন। আপনাদের দু'জনের মধ্যে কে কাকে কী শিখিয়েছেন, এ নিয়ে বিতর্ক বড়জোর কৌতুকপ্রদ হতে পারে, কিন্তু তা এই পোস্টের আলোচনাকে সাহায্য করবে না। যদি তারপরও আলাপ করতে চান, কষ্ট করে একটা করে পোস্ট লিখুন দু'জনে. সচলায়তনে পোস্ট করুন। সেখানে কে আগে এভারেস্টে যাবার জন্যে ব্যাগ গুছিয়েছেন, কার কাছে কে কী শিখেছেন, সেগুলো নিয়ে আলাপ হতে পারে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

রাসেল [অতিথি] এর ছবি

পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গেলাম। সহজ কথায় -

১) অন্নপূর্ণা-৪ মুসা ইব্রাহীম জয় করেনি। ছবিটা ঢালে তোলা, সেটা ২০,০০০, ১৫,০০০ কোনো এক জায়গায়, হয়তো যে পর্যন্ত যেতে পেরেছে সেখানে। মুসা চুড়ায় থাকলে ঢালটা ছবিতে তার নিচে থাকত, উপরে নয়, বা দুদিকে। মুসা কি এই মিথ্যাচার স্বীকার করেছে?

২) এই মিথ্যাবাদী রাখালকে আমরা কেন এখন বিশ্বাস করব?

৩) আর ভাল্লাগছে না এই নিয়ে দোটানায় থাকতে। মুসা তোমার অতীত মিথ্যাচার আমরা জেনে গেছি। তুমি প্রমান দাও এভারেস্টে উঠেছ?

৪) মুসার নিজেকে হিরো বানানোর এই ধান্ধা ভাল্লাগছে না। অন্ধ, লুলা, বাচ্চা (১৩ বছরের) সব এভারেস্টে উঠেছে। ১৯৫৩ এর ৫৭ বছর পর এই নিয়ে এখন মিডিয়া কারবার একদম ভাল্লাগছে না।
wiki answers থেকে
"2,700 individuals have successfully climbed to the top of Mt. Everest.
As of 2009 about 4100 ascents have been made."

প্রতি বছর এখন কয়েক শত লোক উঠছে। মুসার উঠার দিনই নাকি ৬০ জন উঠেছে।

৪) মুসা তুমি চুড়ায় উঠে থাকলে অভিনন্দন। কিন্তু এই নিয়ে ব্যবসা করা আর হিরো হওয়ার চেষ্টা বাদ দাও। হাজার হাজার মানুষ ওখানে উঠবে, উঠছে, বাংলাদেশেরও অনেকে সেখানে যাবে। টেকনোলোজির জন্য ২০১০ এ চ্যালেন্জটা ঠিক ১৯৫৩ এর নয়। ক্রেডিট আছে। কিন্তু মিডিয়া যেভাবে বলেছে তার শতভাগের একভাগ।

৫) তার সাথে অন্য দেশের কারা ছিল যারা ঐ দিন চুড়ায় উঠেছে? কারো নাম জানলে ইমেইল জোগার করা সহজ ওয়েব ঘেটে। সত্যটা জেনে 'মিথ্যাবাদী রাখাল' (অতীত মিথ্যাচারের জন্য) মুসাকে অভিনন্দন না হয় ঘৃনা।

৬) কিন্তু এক লোকের ভুয়ামি ঘেটে আর সময় দেব না। তাড়াতাড়ি প্লিজ কেউ ভেরিফাই করুন।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

হিমু ভাই, আপনার লেখা সবসময় যুক্তি এবং তথ্যে পরিপূর্ণ থাকে। তাই পড়ে আপনারই ব্যাখ্যা করা বিশ্বাসের কাঠামোতে নিজেকে খুঁজে পাই। এবারও পাচ্ছি। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

অন্য ব্লগে শেয়ার করা যাবে লিঙ্ক?????

হিমু এর ছবি

আমি এই পোস্টে যেসব মন্তব্য খেজুরে আলাপ বলে মনে হয়েছে, সেগুলো মুছে দিলাম। সেগুলোর প্রত্যুত্তরগুলোও মুছে যাবে। আমার ক্ষীণকণ্ঠের অনুরোধ সচল ও অতিথিদের কানে পৌঁছেনি বলে এটিই একমাত্র করণীয় বলে মনে হচ্ছে। আপনাদের সুবিবেচনার জন্যে ধন্যবাদ।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাইরে, অনেক মজা পেয়েছেন আপনারা বুঝতে পারছি, আপুনাদের যায়গায় থাকলে আমিও এরকম মজা পেতাম। যারা মুখোমুখি সাক্ষাৎকার শুনতে চান তাদের সবিনয়ে বলে আমার উপর এটা অত্তাচার হয়ে যাবে, আর সত্যি কথা এই যে আমার আসলে সময়ের'ও অনেক টানাটানি। তাই বাবু যা যা বলে সবকিছু মেনে নেয়াই আপাতবুদ্ধির কাজ। বাবু আমাদের প্রায় সব স্পন্সর'দের এবং অন্যদের পয়সা খরচ করে এসএমএস পাঠায়, বেনামে ইমেইল লেখে, স্বশরীরে গিয়ে স্পন্সরদের বলে বলে আসে আমরা খারাপ দল, সে ভালো, তাই তাকে স্পন্সর করা উচিৎ, এমনকি অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিষয়ভিত্তিক কথা না বলে আমাদের কথাই বলে। আপনারা চাইলে আপনাদের বাসায় বা রেস্টুরেন্টে গিয়েও বলবে (তবে হ্যা, আপ্যায়নের সব খরচ কিন্তু আপনাদের, আপনি ফ্রি চা নাস্তা খাওয়ালে না বলা পর্যন্ত তিনি বারবার আসবেনই)। এইসবের জন্য কিন্তু আমরা কখনো তাকে কিছু বলিনাই (একবার শুধু কয়েকবার বলার পরেও আজেবাজে এসএমএস পাঠানোয় আর না পাঠাতে কঠিনভাবে অনুরোধ করেছিলাম)। উলটা আমাদের সাথে দেখা হলে চা বিস্কুট খাইয়েছি। বাবুর মত মানুষ আছে বলেই পৃথিবীকে কম ম্যাড়মেড়ে লাগে।

* মুস্তাফিজ ভাই ৮৫ সালে বেস ক্যাম্প গিয়েছিলেন আমি জানতাম না। অভিনন্দন। আগামী মিটিং'এ আমাদের অতিথি হয়ে আসেন ইনাম আল হকের বাসায়।

বাবুবাংলা এর ছবি

স্কটিশ সান পত্রিকার রিপোর্ট বলছে স্কটিশ পর্বতারোহী স্টিফেন গ্রীন অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় নিজে এভারেস্ট জয় করতে না পারলেও জ্ঞানহীন অবস্থায় বাংলাদেশী সাংবাদিক মুসা ইব্রাহীমকে উদ্ধার করেছিল। তদন্তে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য স্টিফেন গ্রীন একজন ভালো উৎস হতে পারে।

http://www.thesun.co.uk/scotsol/homepage/news/3023595/Scottish-climber-rescues-two-on-Mount-Everest.html#comment-rig

মানুষের চাঁদে পদার্পন নিয়েও যেখানে কন্সপিরেসী থেওরি আছে, সেখানে সামান্য মুসা ইব্রাহীমের আর গত্যান্তর কি?

জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

হিমু এর ছবি
রাসেল [অতিথি] এর ছবি

third party ভেরিফিকেশন দরকার ছিল। স্টিফেন গ্রীনের কোনো ঠেকা পড়েনি বানিয়ে বলার যেখানে সে নিজেই উঠতে পারেনি। তার মানে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট জয় করেছে। অভিনন্দন মুসা।
কিন্তু এত পার্ট নেয়ার কোন দরকার নেই।

হিমু এর ছবি

উঁহু স্যার, এত অধৈর্য হলে চলবে না। রয়েসয়ে।

আগামী পর্বের দিকে চোখ রাখুন। একটু আগেই বকাবকি করলেন মুসাকে, এখন আবার অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এত ফিকল-মাইন্ডেড হলে চলবে না। ধজ্জি ধরেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- স্টিফেন গ্রিন কখন, কোথায় বলেছে যে সে মুসাকে এভারেস্টের চূড়া থেকে কোলে করে নামিয়েছে!

এভারেস্টের চূড়া---> স্টিফেন গ্রিন---> অজ্ঞান অবস্থায় মুসা।
এটা হলো লাইন আপ। এই লাইন-আপে কি প্রমাণিত হয় যে মুসা চূড়ায় উঠেছিলেন?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অমিত এর ছবি

"But he and colleagues then rescued Bangladeshi journalist Musa Ibrahim and Edinburgh doctor Nigel Williams after finding them unconscious in the snow on their way back to camp."

ক্যাম্পে ফেরার পথে ? তারা তো একই রাউট ব্যবহার করেছিলেন।আর মুসার সংগের শেরপারা কই ছিল ?

রাগিব এর ছবি

হুমমমম ............

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

মীর শামছুল আলম বাবু এর ছবি

আমি আপনার সাথে একমত যে, ব্লগে লেখার মধ্যে প্রাসাঙ্গিকতা থাকা উচিৎ। আসলে মুসার আজকের এই এভারেস্ট বিজয় নিয়ে নানা মতামতের আলোচনার মধ্যে সঙ্গতভাবেই আমাদের পারস্পরিক আলোচনা আসবেই।

তবে যেহেতু আমি একজন ব্লগার না এবং বাংলা টাইপ করতে পারি না, এমনকি ইন্টারনেট ঘাটতে হলেও আমাকে সাইবার ক্যাফেতে বসতে হয়, সেহেতু আমি হয়ত তেমন ব্যক্তিগত কিছু না হলে ব্লগে আর লিখবো না।

২০০৪ এর মার্চে শুরু হওয়া বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহন দলের একজন সদস্য হিসাবে এবং মোট ৩৯ জন প্রশিক্ষিত পবর্তারোহীর সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ থাকায় তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে বিসদ জানি। বাংলাদেশের পর্বতারোহন বিষয়ে সেই ২০০৩ সাল থেকে পত্রিকার কাটিং, তথ্যাদি, দলিলপত্র, TV প্রতিবেদন, প্রকাশিত পুস্তক ছাড়াও আমার কাছে মূল্যবান আর একটি জিনিস আছে, যা হল আমার নিজের করা প্রায় ৭০/৮০ ঘন্টার ভিডিও ফুটেজ।

আমি বাংলাদেশের পর্বতারোহন এর সত্যিকার প্রচলন ও সাফল্য দেখতে চাই। কোন পর্বতারোহন নিয়ে মিথ্যাচার চাই না। এজন্য যে কোন চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি আছি। এসব বিতর্ক নিয়ে সরাসরি কথা বলতেও রাজী আছি।

এবার সজল খালেদের কথায় আসি

* সজল BMTC-এর সদস্য এবং ২০০০ সাল থেকে যদি এভারেস্ট নিয়ে কাজ করে থাকেন তাহলে তাকে না পঠিয়ে তার ছাত্র (সজলের দাবিকৃত) এবং ২০০৪ এর সেপ্টেম্বর থেকে কাজ করা মুহিতকে কেন পাঠানো হল?

* বাংলাদেশের হাতে গোনা পর্বতারোহীদের কয়েকজনের মধ্যে একজনের নাম (রিফাত) ভুল বলাটা কিসের পরিচায়ক?

* বিখ্যাত প্রাচীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নামের বদলে অন্য ভুল নাম বলাটা কিসের পরিচয়?

* মেরা পিক অভিযানের যত অফিসিয়াল কাগজপত্রে কেন নেতা হিসাবে সিরাজুল হক সাগরের নাম আছে, ইনাম-আল-হকের নাম নেই?

* এই পর্যন্ত সজল খালেদের করা সবগুলো অভিযানের আলোকচিত্রও কেন মুসার আলোকচিত্র গুলোর মত? পিছনের কি আছে? কোথায় তোলা? কিছুই বোঝা যায়না কেন?

* সজলের লেখা ইংরেজী মেইলে আছে- যে ফ্রে পিক অভিযানে (২০০৬) সজলরা ৬০ মিটার বা ১৯৭ ফুট নীচে ছিল। তাহলে সামিট হয় কিভাবে?
যে প্রশিক্ষক ঝুনা ঠাকুরকে সজল সাক্ষী মেনেছেন দুর্ভগ্যজনক ভাবে তিনি গত বছর মারা গেছেন। তিনি কিভাবে সাক্ষ্য দিবেন? (বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের প্রিয় প্রশিক্ষক ঝুনা ঠাকুরের মৃত্য দৃশ্যের ভিডিও আমার কাছে আছে)।

* ঐ ইংরেজী লেখা অনুযায়ী সজলরা চুলু ওয়েস্ট (২১০৫৯ ফুট, ২০০৭) পর্বতের ১০০ মিটার বা ৩২৮ ফুট নীচে পৌছে ছিলেন। তাহলে সামিট হয় কিভাবে? এখনো কেন BMTC ঐ চুলু ওয়েস্ট অভিযান নিয়ে গর্ব করে?

* এ পর্যন্ত সজল যতগুলো সফল পর্বতারোহনের দাবী করেছেন তার সবগুলোই কেন মুসার বিতর্কীত গাইড সোম বাহাদুর তামাং কে নিয়ে করেছেন?

* কেন সেই ২০০৬ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের পর্বতারোহনের সাফল্যের মিথ্যাচারের সাথে একই ব্যক্তিগণ জড়িত? সেই প্রথম থেকে মিথ্যাচারগুলোর সূদুর প্রসারী ফলাফল এই যে, মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ও এখন বিতর্কীত এবং প্রশ্নবিদ্ধ।

* মুসা সংক্রান্ত একটি পোষ্ট (২৩ মে) এই ব্লগে দিয়ে, বিভিন্ন স্থানে মেইল করে পাঠিয়ে- পরবর্তীতে ভুল স্বীকার করে মুসার কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখা পোষ্টের লেখক সজল খালেদের কাছে কি সত্য কিছু আশা করা যায়?

আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট বিজয় নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলি নাই। পূর্বে পর্বতারোহন নিয়ে মিথ্যাচার করলেই এবং সেইসব বিতর্কীত গাইড নিয়ে এভারেস্ট অভিযান করলেই যে মুসার এভারেস্ট অভিযান সফল হবেনা তার কোন কারন নেই। তবে নানা কারনেই মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট অভিযান এখনও রহস্য ঘেরা রয়ে গেছে, যা নিরসনের দায় মুসারই।

বাংলাদেশের শুরু থেকে হওয়া পর্বতারোহনের মিথ্যাচার নিয়ে বিভিন্ন লেখা সরাসরি না হলেও আমি প্রতীকীভাবে লিখেছি- পত্রপত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে। চাইলে আমি তা দেখাতে পারি। এসব নিয়ে একটি বিশদভাবে লেখার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। সময় ও সুযোগ মতো সবার জ্ঞাতার্থে প্রকাশিত হবে।

মীর শামছুল আলম বাবু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ভাই, এখানে আপনার/আপনাদের মন্তব্য পরে, পত্রিকায় লেখা পড়ে কেবলই "কাঁকড়ার বাস্কেট"এর গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে। ধারণা হচ্ছে আপনারা, বাংলাদেশের স্বনামধন্য পর্বতারোহীরা ভয়ানক রকমের "আমি" কেন্দ্রিক এবং "আমি প্রবল সিনড্রোম"এ ভুগেন। কয়েকটা মোটে নাম, আর এই কটা নামের জন্য ঠিক ততোগুলাই সংস্থা লাগে আপনাদের পর্বতারোহন করার জন্য। আপনারা ভাই পৃথিবীর শীর্ষ জয় করতে চান, কিন্তু এখনও পর্যন্ত পারেন নি নিজেদের ভেতরের এই "আমি" সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে।

আপনারা যথেষ্ট বিদগ্ধ হয়েও চোখে লাগার মতো নেতিবাচক কথাবার্তা বলে যান একেকজনের নামে, অবলীলায়। আবার আপনারাই একেকজন বাংলাদেশের পবিত্র পতাকা বুকের সাথে বেঁধে নিয়ে উঠতে যান পর্বতে! এটা কি দেশের জন্য করেন আপনারা নাকি সেই পুরনো "আমি"কে জাহির করার জন্য? যদি তাই হয়, তাহলে সনির্বন্ধ অনুরোধ করবো, দেশের নামটাকে আপনাদের ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে মুক্তি দিন। প্রয়োজনে একেকজনে আরও দশটা করে 'ক্লাব' খুলে অন্নপূর্ণা, চুল্লু, ফ্রে, এভারেস্ট— সব ধূলায় মিশিয়ে দিন। কিন্তু দয়া করে, "আমি-ই প্রথম বাংলাদেশী" এমন দাবীটা করবেন না। কারণ বাংলাদেশ নামটার সঙ্গে আরও ষোলকোটি নাম জড়িয়ে আছে। তাঁদের কাছে আপনাদের এই "আমি" কালচার যথেষ্ট প্রত্যাশিত না-ও হতে পারে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মুস্তাফিজ এর ছবি

এই মন্তব্যে তারা দাগাইলাম। কাচ্চি বিরিয়ানী আরেক প্লেট পাওনা থাকলো।

...........................
Every Picture Tells a Story

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

খুব পছন্দ হয়েছে আপনার মন্তব্য। আমিই প্রথম বাংলাদেশী ... এর মধ্যে আমিটাই প্রধান।

এগুলোতো অনলাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকলো। আগামীতে কেউ পর্বতারোহন করে দেশের মানুষের সম্মান আশা করতে গেলে সবার আগে আর কি কি জয় করা প্রয়োজন সেটা জেনে নিতে পারবেন।

রাজ রাজিব রাজ [অতিথি] এর ছবি

যা মনে হচ্ছে নিজেকেই যেতে হবে অন্নপূর্ণা অভিযানে

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

হিমু ভাই, পরের পর্বটা একটু তাড়াতাড়ি দিয়েন। অনেকদিন পর কোনো সিরিজের জন্য এতোটা আগ্রহ বোধ করতেসি, রহস্য-রোমাঞ্চ-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ মনে হচ্ছে আর কি হাসি

সন্দেশ এর ছবি

পেজলোড ইস্যুতে একটি সমস্যা দেখা দেয়ায় অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পোস্টটিতে কমেন্টের সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। আমরা ইস্যুটি রিজলভ করে দ্রুততম সময়ে কমেন্ট অপশন ওপেন করে দেবো।