মানুষ জন্মের ভার মানুষের বহনের অধিক হয়ে উঠে। প্রায়শঃ। শোকের রং কি ভীষন প্রগাঢ়।বহমান রক্তের সাথে মিশে গিয়ে নিয়ত জানান দেয় এতো হাসি, এতো উচ্ছ্বাস, এতো আয়োজন-কতো তুচ্ছ, তুচ্ছ সব!
যখন এই লেখাটা লিখছি তখন ঘন্টা দশেক পেরিয়ে গেছে। নিথর শরীর নিয়ে রাজীব শুয়ে আছে তার বছর পঁয়ত্রিশ এর জীবন নিয়ে।
রাজীব দে মান্না- মারা গেছে আজ ভোরে, লন্ডনে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে । চ্যানেল 'এস' এর হেড অফ প...
যবনিকা
ধুপ করে ছোট্ট একটা আওয়াজ করেই গুলিটা আশ্রয় নিল আবু রেজার বাম বুকে। রক্তের একটা কালচে ধারা নামছে শার্টের পকেট বেয়ে। বৃষ্টির জলে সয়লাব পুরো শরীর। চাদরে ঢাকা মাথাটা একপাশে এলিয়ে পড়লেও রেজার চোখে মুখে যন্ত্রনার কোন ছাপ বোঝা গেল না পার্কের অন্ধকারে। গুলিটা কতখানি উপভোগ্য ছিল তাও জানার উপায় নেই। ঘড়িতে দশটা বাজার সংকেত দিল কোথাও। ঘাতক আদু শেখ জীবনে কয়েক ডজন খুন করলেও এই প্রথ...
১
বড় দাগে দেখলে, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ দুটি ভাগে বিভক্ত: তাসাউফপন্থী, এবং তাইমিয়াপন্থী।
ইসলামের মত বিশা-আ-আ-ল একটা ধর্মকে এত অতিরিক্ত সরলীকরণ করাটা কোনভাবেই এক্যুরেট করার কোন উপায় নেই, কিন্তু আলোচনার স্বার্থে বড়মাপের ভুলের মার্জিন মেনেই তা করে নিচ্ছি।
যে শব্দদুটো আমি ব্যবহার করছি, সেই শব্দদুটোও অনেকার্থেই ননরিপ্রেজেন্টেটিভ। শিয়া/জাঈদিদের তাসাউফে ফেলা, বা হানবালি/দেওবান...
বাসন্তি শাড়ির ঢল, আর আমার এখন বড় জেমস পাচ্ছে, আর ওইদিকে স্কুলগুলি হতে ত্রস্ত সাইকেলে বান্টিরা আলতা ভেজানো গন্ধ উড়িয়ে দিয়ে তাজমহলের দিকে চলে যাচ্ছে। আর আমার মাথায় এখন সেন্ট পলসের সেই চালচিত্র সম বিশাল গাছ, নীচে ঠিক হংসধ্বনী, মেঘে ঢাকার মত। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মেহেরপুর জোড়া রাজহাঁসের দল মেঘ ভেঙ্গে নেমে আসার অলীক সাইকেলে, ছোট ছোট করে ক্রিং ক্রিং মন্ত্রে একটা গান বেঁধে ফেলছে।
আমি ...
…
০১.
‘মঙ্গলে ঊষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা’ কিংবা ‘কলা রুয়ে না কাটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’ অথবা ‘বেঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান’ বা ‘বামুন বাদল বান, দক্ষিণা পেলেই যান’, এগুলো জনপ্রিয় খনার বচন। কৃষিভিত্তিক জন-মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এরকম বহু লোক-বচনের সাথেই আমরা পরিচিত। খনার বচনও আছে প্রচুর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের লোক-সাহিত্যে খনা নামে কেউ কি আদৌ ছিলেন ? আসলে এ প্রশ্ন...
বিকেলে অফিসে রুমির ফোন..."রান্না করেছি আজ, বাইরে খাইস না"। রুমি আমার রুমমেট, এর আগে আমার বুয়েটের ক্লাসমেট ছিল। তারও আগে কলেজে একসাথে পড়েছি, তারও আগে স্কুলে...তারও আগে...থাক আর পিছনে গেলাম না। রুমি খুব ভালো ছেলে তবে কথা একটু কম বলে।
আমি তখন সিঙ্গেল, অর্থাৎ মুক্ত স্বাধীন বিহঙ্গ। তবে স্বাধীন বিহঙ্গকে যেমন প্রতিনিয়ত খাবারের পিছে ছুটতে হয়, তেমনি আমাকেও ভাতের আশায় প্রায়ই বিবাহিত বন্ধুদে...
সচলায়তন পড়ি অনেকদিন, সারবস্তু যা বুঝেছি, এখানে বিদ্বান জ্ঞানীগুণী অনেক, পড়ুয়া (যেমন, সিরাত, কি পড়িব সেই তালিকা প্রণয়নে প্রভূত সাহায্যকারী), চিন্তাউস্কানিদাতা (যেমন, শুভাশীষ, ছফাগিরি পড়িয়া না ভাবিয়া পারিবেন না), চোস্ত ভাষা (যেমন, বর্ষা), তেমনি ছিটগ্রস্তও প্রচুর। উদাহরণ দিলাম না, কারণ, মানসচক্ষে দেখছি তাঁরা শাসাচ্ছেন, নাম বললে খবর আছে।
তুলনা করলে আমার বাতিক সামান্যই, যে কোন শহরের পুর...
দেশ ছাড়ার আগে জমানো সব চিঠি পড়েছিলাম একবার দুবার বারবার। নাহিদের বাবা একটা চিঠি লিখেছিলেন। কী অসাধারণ একটা চিঠি। শুরুটাই ভীষন মজার।
"উড়ো চিঠি উড়ো লিখছে এক বুড়ো
চেনাজানা কম হলেও দেশাচারে খুড়ো"
একটা ছোট্ট নোটবুক।লিমি কিংবা রোজীর লেখা
"ছাদ তারা সূর্য নও তুমি
তুমি এক গাধা রানা"
তখন মোবাইলে একমিনিট কথা বলতে সাতটাকা লা...
সন্ধ্যামালতী আমার বড় প্রিয়।
গেল বর্ষার বাড়াবাড়ি বৃষ্টি আঙিনার সব মাটি টেনে নিয়ে গেল। কোথায় গেল তা না হলো জানা, না সম্ভব হলো ফিরিয়ে আনা। প্রায় মরে যাওয়া পুকুরটাকে একেবারে উপুড় করে ঝেড়ে, কেড়ে আনি কিছু মাটি; ক্ষয়ে যাওয়া আঙিনার জন্য। কোদাল দিয়ে ছাটি, দুর্মুজ দিয়ে পিটি। পায়ের ঠেলায় ছোট ছোট ঢেলা ভাঙি ম্যালা। চ্যাপ্টা হয়ে এলে গোবর গুলে ল্যাপ্টা দিই। যত খুশী তার আ...