দরজা খুলে অর্ণব অবাক হয়ে গেল। লম্বা, একহারা গড়নের একজন ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে। অর্ণব তাঁকে কখনো
দেখেছে কি না মনে করার চেষ্টা করল। নাহ্ মনে করতে পারছে না। তাছাড়া ওঁর চেহারাও অর্ণবকে দারুণ ধাঁধায় ফেলে দিল। ভদ্রমহিলা বিদেশী! পাশ্চাত্যের অঙ্গে তাঁর প্রাচ্যের শাড়ী! অর্ণব অভিভূত হয়ে দেখতে লাগল।
শেষ রাতের ট্রেনটিতেই ঠিক ফিরবো আমি।
কোন অপেক্ষায় থেকোনা। অপেক্ষার প্রহরের
রিক্ততা আমি ভালভাবেই জানি। আমন্ত্রনটি
ছিল বসন্তের কাঠবিড়ালিটার।তার সখ্যতায়
ঝাড় লেজ, অভ্যর্থনার বাধায় শুধু শীতটি।
কলেজে থাকতে যে বিষয়গুলো আমাদের বেশি কষ্ট দিত তার মধ্যে একটা ছিল ‘প্র্যাক্টিকাল ক্লাস’। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন আর জীববিদ্যার ভয়াবহ তিনটি ল্যাব আমাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসতো। সবচেয়ে অসহ্য ছিল জীববিদ্যা; বায়োলজি ল্যাব ক্লাস। গাছের শিকড়-বাকড় থেকে শুরু করে কেঁচো, ব্যাং, তেলাপোকার মত জঘন্য জিনিস কাটাকুটি করতে হত। আর এর জন্য প্রত্যেকের কাছে ‘ডিসেকশন কিট’ থাকা ছিল বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে থাকতো
পাশ করেছি। পাশ করেছি।
এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে ভয় ছিল না। ভয় ছিল ফিজিওলজি নিয়ে। শুধু ভয় না, খুবই ভয়। এক্সটার্নাল ছিলেন প্রফেসর মহিদুর রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এর এক্স ইন্টার্নাল। স্টুডেন্ট মহলে তিনি তুমুল জনপ্রিয়। কারন, প্রফেশনাল বা পেশাগত পরীক্ষায় উনি প্রায় কিছু জিজ্ঞেস না করেই পাশ করিয়ে দেন।
ঠিক কবে থেকে যে চশমা পরি তা নিজেও অনেক চেষ্ঠা করে মনে করতে পারলাম না। ট্যানলাইনের মতন, আমারও নাকের উপরে চশমা তার ছাপ রেখে গেছে। বললে তো হাসবেন, কিন্তু মাঝে মাঝে চশমাতেও চুলকাতো। ভালোই ছিলাম, কিন্তু বিপত্তি ঘটালেন আমার উনি, শুভ। ল্যাসিক করলে বলে আর চশমা পড়া লাগবেনা, এই নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করে মাথা খারাপ করে দেওয়ার জোগাড়। আরে ব্যাটা বিয়ের আগে
শাকের ভাইকে দেখে মনে হয়, ভাটার টানে তাঁর শরীর থেকে সব মেদমাংস নেমে চলে গেছে গভীর সাগরে, আর ভেতর থেকে জেগে উঠে আকাশ দেখছে তাঁর হাড়গোড়। তেমন স্বাস্থ্যবান তিনি কখনোই ছিলেন না, কিন্তু যতটুকু থাকলে একটা মানুষকে তার চেহারা ধরে চেনা যায়, তার নাম উঠে আসে মুখে, তার সবই যেন ভেসে গেছে ব্যাধির দুরন্ত টানে। অবশিষ্ট সে অস্থিবিব্রত শরীরটুকু নিয়ে তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন।
[justify]ডুম্বুরভ্যালীতে দ্বিতীয় দিনের শুরুটা খুবই সুখকর হয়নি। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই দেখি চরম বৃষ্টি। এমনিতেই হাতে মাত্র একদিন সময় আছে। খুব ভয় করছিল, আসলে তিন দিনের সময় নিয়ে এসেছি এখানে। এর মধ্যে আমার যে প্রধান কাজ তাই করা হয়নি। মানে ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে কাজ দেওয়া হয়েছে এখানকার জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপর একটা রিপোর্ট করার জন্য। আর আমি ব্যস্ত আছি আমার ডকুমেন্ট্রি এবং অন্যান্য কাজ নিয়ে। সকালে কোন
গুহার ভেতর দিয়ে পথ। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ওপাশে এক চিলতে মিটমিটে আলো। যতো আগাই, আলো যেন ততোই পিছায়। ধাক্কা খেয়ে কয়েকবার পড়েও গেছি। রক্ত-টক্ত কিছু দেখতে পাইনি। অনেকক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে গুহা শেষ। এবার আলোর ঝলকানি!
এপাশে পরিষ্কার চকচকে দিন। চারিদিকে গাছ আর গাছ। ফলের ভারে যেন ভেঙে পড়ছে। পাকা পাকা ফল দেখে খুব লোভ হল। ইচ্ছে হল ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাই। কে যেন ভেতর থেকে বলল, খবরদার! নিজের লোভ সংবরণ কর।
সালেক খোকন
যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কিংবা কোন অঙ্গ হারিয়েছেন, এমন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে যুদ্ধকালীন ঘটনার বর্ণনা রেকর্ডের কাজ করছি। ইতিমধ্যে দিনাজপুর ও ঢাকায় কাজ শুরু করেছি। কাজটি একেবারেই নিজ উদ্যোগে করার চেষ্টা করছি। ঢাকাতে বা ঢাকার বাহিরে কিংবা দেশের বাহিরে থাকেন আপনার জানামতে, এমন পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা থাকলে অনুগ্রহ করে তাঁর নাম, ঠিকানা ও ফোন নং পাঠিয়ে সহযোগিতা করলে কাজটি শেষ করা সহজ হবে।
গবেষণাধর্মী লেখা লিখতে পারা বেজায় ধৈর্যের কাজ। সে কাজটা করার সাহস আমার কখনো হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে থিসিস লেখার জন্য সেটা করতে হয়েছিল, এখন আবার নিজের নামে দেশি-বিদেশি জার্নালে কিছু প্রকাশ করার জন্যও করতে হচ্ছে। সেসব ক্যারিয়ারের তাগিদে, আর এখন লিখছি মনের তাগিদে। বাংলাদেশ দল উইন্ডিজের কাছে আরো একবার নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করে দিল বলে। এ তারা বারবার করে, অতীতে করেছে ভবিষ্যতেও করবে। আর মিডিয়ার