সপ্তমপর্ব
কোহেতুর পাহাড়ের গান
..............................................
ফুলের ঝুমকো
আমার মায়ের কানে দুলতে দেখেছি
এ রকম ঝুমকো :
কয়েকটি যুক্তফুলের গোলাকার গুচ্ছকে
অনুভূতির সূক্ষ্মবৃত্তে বসিয়ে
তোমার কানের দুল
এখন সত্যি সত্যিই আমি
ফুল দিয়ে বানিয়ে দিতে পারি :
তাতে- গুড়ি গুড়ি-
বুটি বুটি
ঝুলে থাকবে-
হলুদ-
সবুজঝুরি...।
বনের ঠিক যেখানে ওরা ফুটে আছে -
ভরদুপুরে নিরিবিলি
তাদের সমুখে দাঁড়িয়ে বলেছি :
হে আমার মায়ের কানের ঝুমকো,
১. লেখক
তার-ও আছে শরৎচিঠি ফড়িংরঙ খুব
রাতের অনুষদে
নক্ষত্রের ভবঘুরে আলো হয়ে ওঠে অতি-বেগুনি
নিরর্থক জীবনকে অর্থময় করে তোলার প্রচেষ্টা নিরন্তর।
জাগতিক জীবনে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ...
আন্ধকার থেকে আলোয় আসতে ,
ছিন্ন ভিন্ন করেছি অসংখ্য অদৃশ্য জাল।
আকন্ঠ পান করেছি জীবনসুধা,
নিমগ্ন থেকেছি নৈসর্গিক চেতনায়।
পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে ,
শুয়ে পড়েছি সবুজ ঘাসের বুকে।
শান্ত দিঘির জলে নিজেকে ডুবিয়েছি,
ভূলে সব ক্লান্তি।
আদিগন্ত অবারিত সবুজ মাঠে,
ছুটেছি লাটাই ছেড়া ঘুড়ির খোঁজে।
[center]০১
উন্মাতাল ঢেউ তার উত্তাল গর্জনে
বেসুরো প্রকৃতির কোন কোণে
পাহাড়ের সারি-আকাশকে ছাপিয়ে
অসীম থেকে শুরু আর
পায়ে আছড়ে পড়ে শেষ আমার!
০২
পাশে বালুচর সমুদ্র; শেষে অচলের
গোমরা থমকে যাওয়া চাউনি;
বুক ফেড়ে শ্বেতস্রোতের বিন্দু বিন্দু জলে
বৃষ্টির মত ঝরনা মনে বিষণ্ন সাধ আনে!
কোন একদিন..
রাতভর স্বপ্ন দেখব অনেক,
সত্যি স্বপন..
ঘুম ভেঙে যাবে,
খুব ভোরবেলাতেই..
উঠতেই দেখব
ঝিরিঝিরি রোদ্দুর..
ছোট্ট এক টুকরো
সবুজ মাঠ..
বেড়াল ছানার মত;
তুলতুলে নরম ঘাসে,
হেটে যাব বহুদুর..
দিনভর তুমুল বৃষ্টি হবে,
অঝোর ধারায়..
আমার ছোট্ট ঘরটা;
ভেসে যাবে প্রিয় যত গানে,
আর মাঝে মাঝে চা কফি তো থাকবেই..
বিকেল হতেই ছুটবো পাহাড়ে,
কিছু মেঘ ছুঁয়ে দেখব বলে..
শহুরে বিকেল-ছাদের
টেবিলের উপর বোতল। সাদা বোতল, বোতলের ছিপি আটকানো, জল আছে অর্ধেক। সে হিসেবে চিন্তা করলে অর্ধেকটা খালি। বোতলটা এখন যদি উল্টে যায় তাহলে কি হবে? ধরা যাক বোতলটা টেবিলের উপরেই উল্টে যাবে। ছিপির উপর বোতলটা দাঁড়িয়ে থাকবে। জল নেমে আসবে ছিপির দিকে। তলার দিকটা হয়ে যাবে ফাঁকা। আর কি ভাবে উলটানো যায়? গোটা বোতলটা যদি ভেতরের দিকে উলটে যাওয়া শুরু করে, তাহলে কি হবে? জল চলে আসবে বাইরের দিকে। ছিপির রঙ্গীন দিকটা চলে যাবে ভেতরে আর ভেতরের অ্যালুমিনিয়ামের দিকটা চলে আসবে বাইরে। জলটাকে যদি তখন ধরে রাখার ব্যাবস্থা করা যেতো তাহলে সে তখন থাকতো বোতলের চারিদিকে এবং অবশ্যই অর্ধেকটা জুড়ে। অদ্ভুত একটা দৃশ্য হবার কথা। মনের চোখে জমির সাহেব পুরো দৃশ্যটা দেখা শুরু করলেন।
[justify]
বইটা পড়া অনেক আগেই। বড্ড কাঁদিয়েছিলো বেয়াড়া অক্ষরগুলো। যুদ্ধ, প্রেম, কৈশোর, বন্ধুত্ব, উত্তেজনা, বুদ্ধিমত্তা-সব মিলিয়ে নিটোল বেদনার্ত দাগকাটা পাঠোপকরণ। আমারও হাল্কা স্বপ্নালু ইচ্ছে হয়েছিলো আমার সন্তানের নাম রাশেদ থাকুক না হয়।
যে বাড়িটিতে আমি বড় হয়েছি, সেই চারতলা বাড়ীটির তলায় একটি আর ছাদে আরেকটি পানির ট্যাঙ্ক ছিল। নিচতলার সিঁড়ির তলায় লোহার খাঁচায় বসে থাকতো এক ময়ূরকণ্ঠী নীল রং এর পেড্রলো পাম্প। সকাল বিকেল সিঁড়িঘরে মৃদু ঝাঁই ঝাঁই শব্দ তুলে সেই পাম্প নিচের ট্যাঙ্ক থেকে পানি ছাদের ট্যাঙ্কে তুলত। ভোরে ঘুম ভেঙে শুনতে পেতাম। আবার আসরের আজান পড়তে পড়তেই। বিকেলেও সিঁড়ি বেয়ে নিচে খেলতে নামার সময় বেখেয়ালে শুনতাম আমি সেই পাম্পটার আও