আমার বাবা একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতেন। তো সে প্রতিষ্ঠান আবার নিয়মিত বেতন দিতে পারতনা। দেখা যেত তিন চার মাস পর পর বেতন হতো তাও পুরোটা না, এক বা দুই মাসের। আমার আম্মা সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। আর বাবাকে তার পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা ধার করতে হতো। এমনও হয়েছে বাড়িওয়ালার তিন মাসের বাড়িভাড়া বাকি, আবার আব্বা গিয়েছেন টাকা ধার করতে। সেই বাড়িওয়ালা হয়তো কিছু দিতেন অথ ...
এই এদিকে আরো কিছু কলাপাতা নিয়ে আসো। জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন। কলাপাতা বিছাতে হবে এমন ভাবে যাতে ছিঁড়ে না যায়। কাটা কলাপাতার মাঝখানের ডাঁটা বরাবর চিরে দুটো কলাপাতা এপাশ ওপাশ করে সমান ভাবে বিছাতে হবে। দৌড়ে আরেকপ্রস্থ কলাপাতা আসে, পরম মমতায় বিপ্লবী সন্তু লারমা আমার সামনে বাঁশ দিয়ে বানানো পিঁড়ির উপর নিজ হাতে বেছে কলাপাতা বিছিয়ে দেন। আমার ছেলের সামনের পাতায় একটু কালো ...

১৯০১ সালের ডিসেম্বর মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে স্থাপন করেছেন ব্রহ্মবিদ্যালয়। সেখানে বাসাও করেছেন। রথীন্দ্রনাথ ছিলেন ছাত্র। শমীর তখন মাত্র চার বছর বয়স। দিদি মীরার সঙ্গে ছবি আঁকতে যেতেন।
এরমধ্যে তার মা মৃণালিনী দেবী ও মেঝদিদি রেণুকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৭ সেপ্টেম্ব ১৯০২ তাঁদেরকে কোলকাতায় আনা হল। রোগতাপে বিভ্রান্ত রবীন্দ্রনাথ শমী ...
চেনা জঙ্গলের আঁচলে এসে রাত গভীর হয়েছে। তার হাতে একটি শাদা রঙের আকৃতিতে লম্বা মোমবাতি। নির্জন জঙ্গলে নির্জন আলো জ্বালাবার সাথে সাথে ছায়াদের শরীর পুড়ে যেতে থাকে। একটি একটি করে তারা দৌড়ে পালায় ঘন গাছের আড়ালে।
মাথার ওপরে শূন্যে ঝুলে আছে নির্লিপ্ত নক্ষত্রখচিত আকাশ, দিনের বেলায় তার যতই রোমাঞ্চ জাগানো রঙ হোকনা কেন এখন সে প্রান্তিকের রঙ কালোর ঘরকন্না করছে। সে আকাশে দিকে তাকায়। আকাশ ...
শেষবার ঢাকা গেলাম ২০০৬ এর ডিসেম্বর মাসে, প্রায় দৌড়ের উপর। কোনভাবে পরীক্ষা দিয়ে পরদিন নিউ ইয়র্কের পথ ধরি, তারপর কোনমতে পড়িমরি করে প্লেনে। শেষমেষ ভালমতোই ঢাকা পৌঁছাই, পরদিনই ছিল ঈদ, তাই বিমানবন্দর থেকেই বাসায় গিয়ে একটু বিরতি নিয়ে আবার রওয়ানা দেই গ্রামের বাড়ির পথে। ঈদ শেষে ৩ দিনের মাথায় আবার ফিরে আসি ঢাকা, ফিরে আসার পর একদিন আমার একমাত্র ভাবীর দুলাভাই ফোন করে জানান, উন ...
কয়েকদিন ধরে ধস্তাধস্তির পর একটা গল্প লিখলাম। একদম বানিয়ে বানিয়ে।
১
জুলেখার মা ছিল পাগল। বাপের খোঁজ জানি না। জুলেখার মাকে একটা খালি ঘরে রাখার নিয়ম ছিল। খালি ঘর, কারণ সে সব আসবাব কুপিয়ে ভাঙত। তাকে আমরা ভাঙনবুড়ি ডাকতাম। আমাদের আম্মারা এইসব বলতে মানা করত। কে শোনে। জুলেখা কোনো স্কুলে পড়ত না। তবে তখনকার দিনে তাকে মাঝে মাঝে জানলায় দেখা যায়। রঙবেরঙের জামা গায়। জানা যায় এগুলো সেই বানা ...
আমাদের ঘর, তার অন্তঃস্থ ঝগড়া
একে অপরের কাছে একে অপরকে কেবল মানুষ করেছে।
আর আমাদের প্রেম দুজনকে মানুষ করেছে জগতের কাছে
আমরা ভুলেছি একটি পুঁই, কলাপাতা কিশোরির চুল, কিংবা কৃষ্ণচূড়া।
মুঠোয় বোনা বন্য গোলাপ আমাদের সমস্ত দেহ শুষে ধারালো হয়েছে
না মেটা কোলাহলগুলি ফুল হয়ে ফুটেছে শোধবোধের চাদরে।
ভাবনা মোর চমকিত, কখনো গভীর চোখে দেখেছে দুরন্তপনা
আমাদের গাওয়া গানের পংক্তিমালা
তা ...
( ভূমিকার আগেঃ এই পোষ্টকে যদি কেউ মাতব্বরী পোষ্ট বলে দোষারোপ করতে চান, করতে পারেন। পাকনামী বলে গালমন্দ করতে চান, তাও করতে পারেন। আবুল মকসুদের মতো জাবরকাটা পোষ্ট বলবেন? ঠিক আছে। তবে এসকল অর্ধসত্য মাত্র। আসল সত্য হলো এটি দেখিয়া শুনিয়া ক্ষ্যাপিয়া গিয়া পোষ্ট। কার পোষ্ট? একজন সাধারন, অতিসাধারন সচলের। যে মডারেটর না, যে নীতিনির্ধারক না-কেবলই সচলায়তনের একজন সচল। হ্যাঁ-সচলায়তন শুরুর ...
অ.
ধানমন্ডি ৩২ নং এ, বঙ্গবন্ধুর বাড়ির উল্টোপাশে চা বিক্রি করতো একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, এখন করে কিনা জানি না। বাড়ির ঠিক সামনেই না, ওখানে তো বসতে দেয় না, তাই একটু পশ্চিমে সরে গিয়ে বসতেন। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই কি বসতেন? সম্ভবত না, কারণ বঙ্গবন্ধুকে তিনি ভালোবাসতো, এটা সত্যি, তবে বসতেন মনে হয় পেটেরই টানে।
মাঝে মাঝেই গল্প হতো। তিনি যে পঙ্গু এটা জেনেছি অনেক পরে। জানার পর থেকে “চাচা একগ্ ...
"'Tis nothing good or bad / But thinking makes it so."
- উইলিয়াম শেক্সপিয়ার।
১
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গিলবার্টের মতে, সুখ সিনথেসাইজ, বা উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এটা সব রকমের পরিবেশে হবে, তা না।
গিলবার্টের মতে, এটা সাধারণত এমন কোন পরিস্থিতিতে ঘটে, যেখানে পূর্ণ স্বাধীনতা নেই। এখানে উনি একটা মজার, বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন: ধরুন এক ব্যক্তি লটারিতে ৩৪ কোটি ডলার জিতলো। আরেকজন প্যারাপ্লেজি ...