ভোর পাঁচটায় ঘুম ভেঙে গেলে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম, বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি। শুনেছি জুনের এসময়টাতে ভূটানে বৃষ্টি হয় প্রচুর। ঠাণ্ডাও থাকে। ভূটান এমনিতেই ঠাণ্ডা, পারো আর থিম্পুতে যে হোটেলে ছিলাম কোনোটাতেই এসি তো দূরের কথা ফ্যানও ছিলো না। গরম ঠিক না লাগলেও ভেতরে কেমন যেন একটা গুমোট মতো ভাব। টিপ টিপ বৃষ্টি আর ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাতাস মন্দ লাগছিলো না আমার।
সূত্রধর!
ওহে নিরালা মানুষ, ঘরের আঁচলে খুদকুটো জমেছে যা,
তার সব নৈবদ্য জ্ঞানে পূজা করলেই দেখবে পূজারী মন
বেহালায় সংগত; সেইসাথে আলাপ জুড়ে দিতে একটা
মিঠেকাড়া মন্দিরা দূরাগত বাঁশীটাকে টেনে নেবে যখন -
তখন তুমি চাইলে একটা হারমোনিকা খঞ্জনির বোলে
যে গাইবেনা তার দিব্যি তোমাকে কে দিয়েছে কবে?
বাজো! গ্রহন লাগা ঘনঘোর নিশ্চিত জলের দেখা পাবে,
তারপর সাধিত গলায় জটাধর বিবাগী তুমি গেয়ে উঠলে -
সকালে উঠেই ফেসবুকে ঢু মারি। চারিদিকে সুখী আমেজ। জি.দাসের পেজে 'লাইক' দেয়া আছে। উৎকৃষ্ট কোটেশন গুলা তুলে নিয়ে আসে। চট করে পড়ে নিয়ে আরেকবার দায়সারা 'লাইক' দেই। বন্ধুবান্ধবদের কারও মন খারাপ, কেউ চমৎকার সব ছবি তুলে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছে, ভেতরে একটু হিংসা ভাব চাড়া দিয়ে উঠলেও তা দমিয়ে লাইক বোতাম খুঁজি দ্রুত।
সচল পরিবারের স্বনামে স্বীকৃত একজন হয়ে আজ আমার প্রথম লেখা।
দৃষ্টিহীন দৃষ্টি বাড়িয়ে প্রতিদিন, ছুঁয়ে থাকি এইসব স্বাভাবিক শহর।
উদ্বুদ্ধ হই প্রায়শই তোমার চোখে তরলতা, শব্দে পক্ষপাত অনুভব করে।
বাকিটা সময় কাটে নিমগ্নতায়, জলাবদ্ধ জানালায় বসে
আমাকে ঠেস দিয়ে রাখা পচনশীল কাঠে হাত বুলিয়ে;
নদীদের লিখে রাখা গোপন কথা স্বশব্দে অনুমান করে।
পথভুলে হঠাৎ হাজিরা দেয়া স্বপ্নজড়িত ভয়ংকর আশ্রয়
এখন নিয়মিত ধেয়ে আসে চেতনার মধ্যবিন্দু লক্ষ্য করে।
নোনতা বিস্কুট তিতিনের পছন্দ। একটু একটু পছন্দ নয়, অনেক পছন্দ। একটুখানি খেলেই অনেক্ষণ জিভে লেগে থাকে! বিস্কুটের প্যাকেটগুলো কেবল বাজে। সহজে ছেঁড়া যায় না। মা অবশ্য ঝট করে ছিঁড়ে ফেলতে পারেন। আর মা থাকলে তাকে খাবার ঘরে এসেও খেতে হয় না। মা-ই তার ঘরে খাবার নিয়ে যান। ঠিক ঠিক নিয়ম করে। মা যে কিভাবে টের পান তিতিনের কখন খিদে লাগবে তা কে জানে! অথবা হয়তো মা খাবার নিয়ে ঢুকলেই তিতিনের খিদে পেয়ে যায়!
কোথাও ভাত নেই। সাদা কালো লাল হলুদ কোন রকমের চাল বাজারে নেই। মানুষ রাস্তায় রাস্তায় হন্যে হয়ে ঘুরছে একমুঠো ভাতের জন্য। কেউ পকেটে টাকা নিয়ে, কেউ হাতে ভিক্ষার থালা নিয়ে। ধনী-দরিদ্র-ফকির-মিসকিন সব এক হয়ে গেছে, কেউ ভাত খেতে পারছে না। চালের আড়ত থেকে উধাও হয়ে গেছে চালের বস্তাগুলো। চাল বণিক আড়ত বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছে।
সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি তখন, নতুন নতুন বই পড়ার প্রবল নেশা সারাক্ষন আচ্ছন্ন করে রাখে, নতুন কিছুকে জানার, নতুন কিছুকে চেনার জন্য কচি মন সর্বদাই আঁকুপাঁকু করে। বাড়ীতে রাখা হত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক, তার শুক্রবারের সংখ্যাটি ছিল বড়ই আকর্ষণীয়, নানা রঙ্গিন ছবির সাথে দেশ-বিদেশের জ্ঞান-বিজ্ঞানের চিত্র-বিচিত্র নানা খবরের ভাণ্ড।
আদৌ কোন নামের প্রয়োজন নেই
---------------------------- প্রখর রোদ্দুর
এভাবে বসে থাকলে হবেনা বুঝলে? এ তোমাদের পৈত্রিক বাড়ি তা আমিও মানি; তারও চেয়ে বড় কথা এ বাড়ি আমার আর তোমার মায়ের হাতেই গড়া তাই তোমাদের থেকে আমার মায়া কোন অংশে কম নয়। কিন্তু...... বলেই থেমে গেলেন তিনি। ঘরের এক কোনে বড় ছেলে আর আরেক কোনে মেজ বউমা পাতলা আদ্দির পঞ্চটা ভাঁজ করতে করতে তার কথা শুনছিলো। শোবার ঘরের কোথাও কোথাও পলেস্তরা খসে গেছে। দেখলে অনেকটা দগদগে ক্ষত চিহ্নের মতোই লাগে কার্নিশে জমে ওঠা শেওলার ঘরবসতি গুলো।
বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংষ্কৃতি বর্তমানে গড়ে উঠেছে তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে লুটেরা শ্রেণীর চরিত্র পূর্নাঙ্গভাবে ধারন করেছে এ কথা আজ নির্মম সত্য। দূর্নীতি আজ সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শ্রেণী চরিত্র মূলতঃ একই হলেও এটা ঐতিহাসিক সত্য নয়। বিভিন্ন ধারার সবচেয়ে লুটেরা শ্রেনীর লোকগুলো সামরিক ও বেসামরিক আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী মধ্যবিত্ত সাম্রাজ্যবাদের দালাল বুদ্ধিজীবিদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের শুরু থেকেই সংগঠিত হয়েছে। এরাই অগনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার রূপকার, ধারক ও বাহক যা এদের শ্রেণী চরিত্র টিকিয়ে রাখার জন্য চরমভাবে অপরিহার্য। এরাই কৌশলগতভাবে সর্বহারা, শ্রমজীবি ও কৃষক ইত্যাদি নিন্মবর্গীয় শ্রেণী থেকে দালাল সৃাষ্টি করে এবং এইসব দালালদের অর্থনৈতিক শ্রেনী-উত্তোরণ ঘটায়। এসব দালালের মাধ্যমেই সাম্রাজ্যবাদী নেটওর্য়াক নিন্মবর্গীয় মানুষের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক শৃঙ্খল তৈরির মাধ্যমে শোষনমূলক এক অসম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বহমান রেখেছে।