দুঃখ ধরার ভরাস্রোতে ।। প্রয়াত কবি সুনীল সাইফুল্লাহ'র কবিতার বই

হাসান মোরশেদ এর ছবি
লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: বুধ, ০৩/১০/২০০৭ - ৮:৪০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের মায়াবী পায়রা ও তার পালকসমুহ
-----------------------------------------------


অথচ নির্দিষ্ট কোন দুঃখ নেই
উল্লেখযোগ্য কোন স্মৃতি নেই
শুধু মনে পড়ে
চিলেকোঠায় একটা পায়রা রোজ দুপুরে
উড়ে এসে বসতো হাতে মাথায়
চুলে গুজে দিতো ঠোঁট
বুক-পকেটে আমার তার একটি পালক


পালিয়ে যাওয়া পায়রার পালক বুক পকেটে গুঁজে,উল্লেখ্যযোগ্য কোন দুঃখ ও স্মৃতি ছাড়াই যে কবি লিখতো কবিতা-কবিতাতেই নিজের মৃত্যু ঘোষনার দুর্দান্ত স্পর্ধা ছিলো যার-তাকে মনে রাখার কিংবা মনে করার কোন দায় ছিলোনা আমাদের ।

'সবুজ পায়রার হৃদপিন্ড চিবিয়ে খেয়ে/ঠিক বছর পর আমি আত্নহত্যা করে যাবো'-

ঠিক এরকই লিখে তার নিজের কবিতায়,তারপর বই প্রকাশের জন্য পান্ডুলিপি তৈরী করে ,সবকিছু গুছিয়ে চলে যান কবি সুনীল সাইফুল্লাহ! যেনো নিজেই এক অনির্দিষ্ট দুঃখ,গুরুত্বহীন স্মৃতি,চিলেকোঠা থেকে উড়ে যাওয়া সেই মায়াবী পায়রা ।

আমরা যারা বাংলা কবিতার পাঠক তারা বেশ আধুনিক ও আন্তর্জাতিক হয়েছি-সে ও পুরনো খবর । মায়াকোভস্কির আত্নহণনের বেদনায় নীল হয়েছি বহু আগেই, রিলকের গোলাপের কাঁটায় রক্তাক্ত ও হয়েছি । এইসব নিয়ে আমাদের নামী সম্পাদকরা রচনা করেছেন দামী সব সাহিত্যপত্র । ঋদ্ধতার ঢেঁকুর ও উঠেছে প্রচুর ।
তবু হায় কেনো, কোন প্রণালী ও প্রক্রিয়ায় অনুচচারিত,অনাদৃত রয়ে যায় আমাদের নিজস্ব চাষবাস,মায়াবী পায়রা সকল?

আর এই আমরা,আমরা ক'জন-আমরাও গতানুগতিক । ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পৃথিবীর নানাপ্রান্তে, যুথবদ্ধ হয়েছি শেষে নিজেদের তৈরী করা এক আংগিনা-'সচলায়তন' এ । অনলাইন রাইটার্স ব্লগ 'সচলায়তন' এ প্রয়াত কবি সুনীল সাইফুল্লাহকে নিয়ে প্রথম লিখেন সুলেখক সুমন রহমান ।(সেই লেখার লিংক,প্রিয় পাঠক পড়ে নিন)
সেই আমাদের প্রথম চেনা । সুমন রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি নিজের এবং সচলায়তনের পক্ষ থেকে ।

সুমন রহমানের ঐ লেখার সুত্র ধরেই,অন্য সকলের আগ্রহে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সুনীল সাইফুল্লাহ 'র একমাত্র কবিতার বইয়ের অনলাইন সংস্করন প্রকাশের । সুমন রহমান নিজে দেশের বাইরে,আমরা যারা বাকী কাজটুকু করবো তারাও সব দেশছাড়া। তার চেয়ে বড়ো কথা সেই বই সহজলভ্য নয় । আমাদের সাহিত্যপাড়ায় অনেক ব্যস্ততা,অনেক নামী দামী লেখকের বইপত্তরের পাহাড়-কিন্তু আমাদের সুনীল নেই,আমাদের সুনীল সাইফুল্লাহ নেই ওখানে ।
জানা যায়, সুনীল সাইফুল্লাহর আত্নহত্যার পর জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ কর্তৃক প্রকাশিত সে বইয়ের কপিগুলো খুব সযতনে সংরক্ষন করছেন-বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন কর্মচারী,যিনি সুনীলের কবিতার মুগ্ধ পাঠক ।

এ পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন দায়িত্বপালনে এগিয়ে আসেন আছহাবুল ইয়ামিন । ইয়ামিন জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান,মুল বইয়ের কপি সংগ্রহ করেন,স্ক্যান করে আমাদের পাঠান । আছহাবুল ইয়ামিনের কাছে কৃতজ্ঞ সচলায়তন এবং সুনীল সাইফুল্লাহর কবিতার সকল অনলাইন পাঠক । কেনোনা,ইয়ামিন দায়িত্ব না নিলে আজকের এই প্রকাশনা সম্ভব হয়ে উঠতোনা ।

তারপরের সবটুকু কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন শিল্পী বন্ধু জিয়াউল পলাশ । প্রচ্ছদ ও অলংকরন,এবং ই-বুক তৈরীর যাবতীয় টেকনিক্যাল কাজের একক কৃতিত্ব তারই । সচলায়তনের সবিনয় কৃতজ্ঞতা তার প্রতি ।

জেগে আছি শ্রবণে ক্রন্দনে স্বনির্মিত মাটির সংগীতে
রাত্রিদিন সাজাই ধুপবাতি মঙ্গলঘট-
জন্ম বসবাস পার্থিব সমস্ত কিছুতে হাহাকার করে ওঠে
ব্যর্থ অভিমান।

আমাদের অভিমানী পায়রা উড়ে গেছে তার নিজস্ব আকাশে । আমরা কেবল কুড়িয়েছি তার ফেলে যাওয়া কবিতা-পালক, বাংলা কবিতার পাঠকের জন্য ।
সম্মানিত পাঠক,আমাদের অভিনন্দন গ্রহন করুন ।।


অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটি 'সচলায়তন' এর পক্ষ থেকে

হাসান মোরশেদ
০৩/১০/২০০৭

***প্রচ্ছদ ও অলংকরন সহ পুরো বই এর পিডিএফ ভার্সন দেখার জন্য ক্লিক করুন নীচের লিংকেঃ
দুঃখ ধরার ভরাস্রোতে।। ই-ভার্সন


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ওয়াও!! বের হল শেষ পর্যন্ত!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অমিত এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।
______ ____________________
suspended animation...

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

হাসান ভাই ই-বুকটার ইলাস্ট্রেশন তো অসাধারন হয়েছে!! জিয়াউল পলাশ ভাইকে আমার সালাম দেবেন।

তবে ছোট্ট একটা কথা ছিল। বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড ছবিটা সরিয়ে আরেকটা ভার্সন বের করা যায়? তাহলে সাদাকালো প্রিন্টারে প্রিন্ট নিতে সুবিধা হত।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হাসান মোরশেদ এর ছবি

পলাশের সাথে আলাপ করবো । করা যাবে আশা করি ।
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সৌরভ এর ছবি

অসাধারণ!
জয় হোক এ উদ্যোগের।
এ চেষ্টার মাধ্যমেই জন্ম জন্মান্তরে সজীব থাকুন আমাদের মাঝে কবি সুনীল সাইফুল্লাহ।



আমি ও আমার স্বপ্নেরা লুকোচুরি খেলি


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

অভিজিৎ এর ছবি

আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি মৃত্যু
অজস্র পদ্মগোখরা উদ্ধত ফনায় ফনায়
নিয়ে এসেছে একটি জোতির্ময় দেব শিশু ...

সত্যি!
=================

পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

অরূপ এর ছবি

চলুক
-------------------------------------
রামছাগলের সামনে, খচ্চরের পেছনে আর নির্বোধের ধারেকাছে না থাকাই শ্রেয়!

??? এর ছবি

অভিনন্দন হাসান মোরশেদ! অ-সা-ধা-র-ণ প্রকাশনা হয়েছে এটা!! জানি না এখনো সম্ভব কিনা, তবু কিছু পর্যবেক্ষণ রাখলাম বিবেচনার জন্য।
১. সামান্য কিছু বানান ভুল আছে (আপনার ভূমিকাতে) সেগুলো শুধরানো, সম্ভব হলে।
২. ৬ নম্বর কবিতায় নম্বরটি ইংরেজিতে চলে এসেছে
৩. সাইফুল্লাহ-র ছবিটা শুরুর দিকে কোথাও থাকলে ভালো

আরেকটা বিষয়, এই ই-বুকের কোন কোনা-কানচিতে আমার লেখাটার কোনো হদিস থাকলে ব্যক্তিগতভাবে আমি দায়শোধ অনুভব করতাম সুনীলের কাছে। অবশ্য লেখাটা হয়ত বিশেষ ভালো হয় নি। ভালো না হোক, ভালোবাসা নিয়ে লেখা তো!
..............................................................................
শুশুকের ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সাঁতরে এসেছি কুমীরে-ভরা নদী!

হাসান মোরশেদ এর ছবি

কিছু বানান ভুল আছে । শোধরাতে হবে ।
আপনার সেই লেখাটার লিংক জুড়ে দিলাম ।
৬ নং কবিতা? বাংলাই তো দেখছি । এক বসাতে পুরোটা আপলোড করেছি । মাথা মনে হয় কাজ করছেনা হাসি
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সংখ্যাটা যদি জব্বারীয় বাংলায় হয় তাহলে যাদের ফন্ট আছে তারা দেখবে বাংলায়, যাদের নাই তারা ইংরেজীতে। এইটা চেক করে দেখতে পারেন।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

আরিফ জেবতিক এর ছবি

একটি অসাধারন ভালো কাজ হয়েছে।পুরানা দিনের হাসান মোরশেদীয় কারবার।

ব্যক্তিগত :আচ্ছা,আমাদের বন্ধু ডাক্তার ( ডাক্তার হইছিল নাকি?) রায়হান কোথায়,জানা আছে নাকি?
সহবাস এর ইলাস্ট্রেশন মনে পড়ে গেল,সেই সাথে রায়হানের কথা।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ব্যাক্তিগতঃ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সে ডাক্তার হয়েছে,সিলেটেই আছে ।বিয়ে করে বাচচার বাপ । বিয়েটাও যথারীতি 'চৌরাপা' স্পেশাল!
'সহবাস' এর ইলাস্ট্রেশন আসলেই দুর্দান্ত ছিলো। গৌতম অক্ষপাদ। হাহাহাহা । অনেকেই পরে ঐ ফরমেট ফলো করেছে ।
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

কয়েকমাস আগে সিলেটের একটা ছোটপত্রিকা পেয়েছিলাম।
হায়,গৌতম বাবু এখনও স্ট্যান্ডার্ড সিলেটে।

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রকাশনার সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ। পিডিএফ ভার্সনটি দেওয়াতে অনেক সুবিধা হলো পড়তে। কৃতজ্ঞতা।

মৃন্ময় আহমেদ এর ছবি

ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ।

______________________
চিৎকার করি জ্বলেপুড়ে ছারখার
তবুও আমি নাকি অশুচি

'

=========================================
নিজেকেই নিজে চিনি না, পরকে চেনার মিছে বাহানা

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ধন্যবাদ সর্বজনাব ইমরুল হাসান,অমিত,সৌরভ,সম্মানিত অতিথি,মৃন্ময় ।
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

দূর্দান্ত প্রকাশনা। অনেক অনেক শ্রদ্ধা কবির প্রতি।

আর এ চমৎকার প্রকাশনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধ্রুব হাসান এর ছবি

দূর্দান্ত প্রকাশনা। জ্ঞান যে উন্মুক্ত এবং সবার জন্য তার প্রকাশ পেল সচলের এই প্রকাশনা থেকে; আমরা যারা সুনীলের লেখাগুলো আগে পড়তে পারিনি তাদের জন্য আসলেই অনন্য ব্যাপারটা। ধন্যবাদ আপনাদের এই অসাধারন দূর্দান্ত প্রকাশনার জন্য; সবুরে মেওয়া ফলেছে এই যথেষ্ট......এখন পড়ে শেষ করি জলদি।

আশিক আহমেদ এর ছবি

প্রকাশনার সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ। এবং ধন্যবাদ সুমন রহমানকে, সুনীলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

দুর্বাশা তাপস এর ছবি

অসাধারণ একটা কাজ হয়েছে। অনেককে যথেষ্ট শ্রম দিতে হয়েছে, বুঝতে পারছি। আমার তরফ থেকে প্রত্যেককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

==============================
আমিও যদি মরে যেতে পারতাম
তাহলে আমাকে প্রতি মুহূর্তে মরে যেতে হত না।

হাসিব এর ছবি

অসাধারন । সচলায়তনের প্রথম ইবুকের কারিগরদের অভিনন্দন ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সাধু, সাধু!

দ্রোহী এর ছবি

একটা কাজের কাজই হয়েছে বটে।

প্রয়াত কবি সুনীল সাইফুল্লাহ'র বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী।


কি মাঝি? ডরাইলা?

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

চমৎকার!
মোরশেদ ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

সচলায়তনের প্রকল্পগুলি শুরু হলো সুনীল সাইফুল্লাহর কবিতার অনলাইন সংকলন দিয়ে। এর সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।


হাঁটুপানির জলদস্যু

অনিকেত এর ছবি

অসাধারন কাজ...।
আপনাদের যে কি বলে ধন্যবাদ জানাব, তার ভাষা খুজে পাচ্ছি না।

সুনীল সাইফুল্লা'র কবিতার সাথে আমার পরিচয় এক প্রায়ান্ধকার বিষন্ন বিকেলে, অবারিত এক সবুজ মাঠের পারে। বিকেলের ঐ মন খারাপ করা আলো বুকে নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম আমি এবং আমরা। হঠাৎ জুলফিকার ভাই মন্দ্রিত কন্ঠে উচ্চারন করলেনঃ

'চলে যাবার সীমারেখায় আজ বৃত্তায়িত সবকিছু
আর একটু ভালো করে দেখে নেই আকাশ,সুর্যাস্ত-সুর
নিথর পানা পুকুর.........।
এবার তো প্রস্তুত রথ,ওঠো জয়দ্রথ।"

আমি এখনও ঠিক মনে করতে পারি আমার সেই চমকে ওঠার অনুভুতি। আমাকে দিয়ে কস্মিঙ্কালেও কবিতা লেখা হবে না। অনেকে আরো নির্ভুল ভাবে জানিয়েছেন, যে ঐ লাইনে আমার চেষ্টা না করাই ভালো। কিন্তু আপনাদের কি কখনো কোনো ভালো গান শোনার পর, গুনগুনাতে মন চায় নি? দুর্দান্ত একটা উপন্যাস পড়ে খাতা কলম নিয়ে বসতে মন চায় নি? (প্লীজ, হ্যাঁ বলুন)।

আমি বুকে অসীম সাহস নিয়ে কবিতা লিখতে বসে গেলাম। আমার আরো সকল ছোট ছোট স্বপ্নভঙ্গের মত এটাও পুর্ন হয় নি। কিন্তু শুধু ঐ একদিনের, এক বিষন্ন বিকেলের আলো আর সুনীলের কবিতা আমাকে আপাদমস্তক বদলে দিয়েছিলো। আমার সেই না-হয়ে-ওঠা কবিতা গুলোর (?) দিকে আমি মায়া ভরা চোখে মাঝে মাঝে তাকাই আর নিজেকে বলি," এবার তো প্রস্তুত রথ,ওঠো জয়দ্রথ'।

এই অসাধারন সংকলনটি করার জন্য আপনারা আমার হ্রদয়ে অমর হয়ে রইলেন।

অমিত আহমেদ এর ছবি

অনেক বড় একটা কাজ হয়েছে! সচলের সদস্য হয়ে আমার আজ আসলেই গর্ব হচ্ছে। সুনীল সাইফুল্লাহর সাথে আমি পরিচিত নই, পিডিএফ এর প্রিন্ট নিয়ে নিচ্ছি এক্ষুনি।

আমার তরফ থেকে হাসান ভাই, সুমন ভাই সহ সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আর শুভেচ্ছা!


ব্লগস্পট | অর্কুট | ফেসবুক | ইমেইল

??? এর ছবি

কাজটি অত্যন্ত অভিনিবেশ আর ভালোবাসা নিয়ে করেছেন তাই হাসান মোরশেদ সত্যি সত্যি ধন্যবাদার্হ। আসহাবুল ইয়ামিনকেও ধন্যবাদ, বইটি জোগাড় করা এবং স্ক্যান করার মত কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো নিজে থেকে করার জন্য। আমি দুঃখিত যে, আমার বর্ণনা মোতাবেক তিনি "তপু"কে খুঁজতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন বলে। (আমার সেই পরিচিত পিয়ন "তপু" এতদিনে যে সর্টার তোফাজ্জল হয়ে গেছে সেটা জানতাম না) জিয়াউল পলাশের সাথে আমার পরিচয় নেই, তাকেও ধন্যবাদ ইলাস্ট্রেশন করে দেয়ার জন্য।

বাংলা সাহিত্যে এরকম সারপ্রাইজ আরো কিছু আছে। আমার মনে সচলায়তনের ই-বুক প্রকল্প দিয়ে সেসবের সুরাহা আমরা করতে পারবো।

..............................................................
[i}শুশুকের ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সাঁতরে এসেছি কুমীরে-ভরা নদী![/i}

আছহাবুল ইয়ামিন এর ছবি

সমস্যা তেমন হয়নি, সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যবশত অফিসে গিয়ে তপু ভাইকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম 'পিয়ন তপু' সম্পর্কে। প্রথমে একটু রেগে গিয়েছিলেন, পরে অবশ্য বাইরে এসে আন্তরিকভাবেই কথা বলেছেন।

আপনার কথা বলায় প্রথমে তাকে কিছুক্ষণ স্মৃতি হাতড়াতে হয়েছে। এটা অবশ্য কিছুটা আমার দোষ। আমি ভেবেছিলাম আপনি ইংরেজী বিভাগের। পরে দেখলাম সুমন বলতে তিনি ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের একজনকেই মনে করতে পারলেন। আর সেই সুমনকে তিনি ভালভাবেই মনে রেখেছেন।

বাংলা সাহিত্যের সেই সারপ্রাইজগুলোকেও নিয়ে আসুন আমাদের সামনে। অপেক্ষায় থাকলাম

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

শুভেচ্ছা আর অভিননদন যারা নিরলস পরিশ্রমে সুন্দর এজিনিসটা তৈরী করেছেন ,,, আর অভিনন্দন কবি সুনীল সাইফুল্লাহকে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

রেজওয়ান এর ছবি

অসাধারন উদ্যোগ। অনলাইন প্রকাশনায় এটি একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
শুভেচ্ছা হাসান মোরসেদ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সত্যিকারের অনলাইন রাইটার্স কমিউনিটির কাজ হয়েছে এটি। এভাবে দেশের অনেক লেখক/কবি যাদের বই প্রকাশের সামর্থ নেই তাদের লেখা বা সমসাময়িক লেখকদের সংকলন বের করা সম্ভব। একটু যদি সংবাদটি ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে আগ্রহী পাঠকদের কাছে পৌছুবে নিশ্চয়ই।

আচ্ছা আরিফ জেবতিক বা অন্য কেউ এর একটি রিভিউ দেশের অগ্রসর পত্রিকাগুলোতে দিতে পারবেন কি তাদের পরিচিতি সদ্ব্যবহার করে? তাহলে কষ্টটি সার্থক হবে এবং সচলায়তন ও পরিচিতি পাবে।
××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××××
পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

বিপ্রতীপ এর ছবি

এই অসাধারন উদ্যোগের পেছনে যারা কাজ করেছেন তাদের অভিনন্দন।

শেখ জলিল এর ছবি

এক কথায় সচলায়তনের অসারধারণ সংযুক্তি এটি। এরকম উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। অনেক অনেক ধন্যবাদ হাসান মোরশেদ এবং অন্যান্যদেরকে- যাঁর এর সাথে জড়িত।

যতবার তাকে পাই মৃত্যুর শীতল ঢেউ এসে থামে বুকে
আমার জীবন নিয়ে সে থাকে আনন্দ ও স্পর্শের সুখে!

আছহাবুল ইয়ামিন এর ছবি

অবশেষে অমরত্ব পেল বইটি। গতকালই সুসংবাদটি পেয়েছিলাম ভাস্করদার কাছ থেকে। আজকে সকালে পেলাম হাসান মোর্শেদ ভাইয়ের ইমেইল। কিন্তু প্রচন্ড ব্যস্ততার কারনে সময় নিয়ে বসা হয়নি পিসি'র সামনে।

ধন্যবাদ হাসান মোর্শেদ ভাইকে - আমি জানি অনেক উত্‌সাহ নিয়ে এর পেছনে অনেক সময় ব্যয় করেছেন।
ধন্যবাদ সুমন রহমান কে সুনীল সাইফুল্লাহকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। আপনার সেই লেখাটি অসাধারন ছিল। আমি অবশ্য এমনিতেও আপনার লেখার ভক্ত।
ধন্যবাদ জিয়াউল হক পলাশকে - বইটির বিষয়বস্তুকে প্রচ্ছদ ও ইলাস্ট্রেসনে অসাধারনভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য।

সচল থাকুক আপনাদের এ উদ্দ্যোগ। আশা করি ভবিষ্যতে এইরকম আরও খ্যাত অখ্যাতদের তুলে ধরবে এই কমিউনিটি

আরশাদ রহমান এর ছবি

অনকে অনেক ধন্যবাদ হাসনা মোরশেদ সহ অন্য যাদের পরিশ্রমের ফসল এই প্রকাশনা। শ্রদ্ধ্যাভরে স্মরন করছি কবি সুনীল সাইফুল্লাহ কে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ছয় নম্বর কবিতার ক্রম আমি ইংরেজি 6 দেখছি।
অসাধারণ হয়েছে!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।