লিখনের ভাষা চুপ করে গেছে, সমস্ত বর্ণমালা মিলিয়ে গেছে তৃণে তৃণে। মিলিয়ে গেছে নিভে আসা দিনের আলোয়, মেঘাবৃত আকাশে। বৃষ্টির প্রতিটি বিন্দু এখন বাঙ্ময়, ঝড়ের মেঘে সমুদ্রের উড়ন্ত নাভি।এখানে মুক্তির খোঁজে কোন্দিকে যাবো? দিকদিশাহারা দিগন্তবিসারী মৃত্যুর দিকেই? নাকি তমিশ্রা পার হয়ে পুনর্জন্মের দিকে?
বাংলা ইবুক নিয়ে নানারকম পরীক্ষা নিরিক্ষা চালিয়েই যাচ্ছি। হাতে অবশ্য গিনিপিগ আছে একটাই, আমার সবেধন নীলমণি কাঠের সেনাপতি।
ইবুকের বাজারে বাংলা বই একসময় সদর্পে ঘুরে বেড়াবে, এরকমটাই প্রত্যাশা করি। এখনকার ইন্টারনেট আর টেকি যুগে ব্যাপারটা খুবই সহজ। আমি ঠিক করেছি পরবর্তীতে কখনও বই বের করলে প্রিন্টেড এডিশানের সাথে সাথে ইবুক এডিশানেও বই প্রকাশ করবো।
আমি যেটা করেছি, সেটা একটু লিখে রাখি, উৎসাহী কারো কাজে লাগবে আশা করি।
আজাদের মা
১৯৮৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আজাদের মা। তার ঠিক ১৪ বছর আগে ৭১ এর আগস্টে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পরে আজাদ। এই পুরা ১৪ বছর আজাদের মা ভাত না খেয়ে কাটিয়েছেন। কারণ শেষ দেখার সময় আজাদ তার কাছে ভাত চেয়ে পায়নি। ১৪ বছর কোন বিছানায় ঘুমাননি, তার ছেলে মিলিটারি টর্চার সেলে বিছানা পায় নি বলে।
ইয়াসিন এর মা
১।
আজ কলেজে যেতে একদম ইচ্ছা করছেনা রশিদ সাহেবের। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে ঘুম ভাঙার পর থেকেই। শ্যামনগর বিদ্যাময়ী গার্লস কলেজের ইংরেজির শিক্ষক তিনি, সতের বছর যাবত এই কলেজেই শিক্ষকতা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার দুই বছর পর এখানে জয়েন করেন। বয়স তখন তাঁর আটাশ। তাগড়া যুবক। বছর তিন শিক্ষকতা করার পর, বিয়ে করেন। ছাত্রীর বাবা-মা চেপে ধরেছিল। স্যার কে তাঁদের খুব ভাল
কাজী সাহেব উসখুস করেন শুধু। আড়ে আড়ে স্ত্রীর দিকে তাকান, কিন্তু কিছু বলেন না।
মিসেস কাজী খনখনে গলায় বলেন, একুশ বছর বয়স কম নাকি? আইনেও তো বলা আছে, মেয়েদের আঠারো বছর আর ছেলেদের একুশ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া যায়। তুমি খালি ত্যানা প্যাচাও ক্যান?
কাজী সাহেব কাশেন দুয়েকবার। একবার ঘড়ি দেখেন। অস্ফূটে কী যেন বলেন।
বারের খোলা দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি সাদা কালো। বার কীপার থেকে শুরু করে সব স্ত্রীলিংগের মানুষ সাদা আর বিপারীত লিংগের সব কালো। আর আছে পিটারের মতো দুই তিনজন ক্সিন হেড। বারকীপার মহিলার মাথার জটা আমাদের দেশের সাধূ-সন্যাসীদের মতো। বেশ মিষ্টি হাসিতে হ্যালো বললো পিটারকে।
পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে - এরকম প্রেডিকশন বোধহয় একমাত্র মায়া-সভ্যতার অবদান নয়। আদি-অনন্তকাল ধরেই ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বিভিন্ন সভ্যতায় এই ভবিষ্যতবাণী ব্যবহার হয়ে আসছে। মানব-সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবার কথা আসে ঐ হাত ধরেই। তবে আজকাল বিজ্ঞানীরাও মাঝে মাঝে বলেন অমুক সালে অমুক জায়গায় দু’চারটে উল্কা পড়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যখন একজন অর্থনীতিবিদ বা সমাজ-বিজ্ঞানী বলেন সভ্যতার শেষের কথা তখন তিনি ঠিক কি বোঝাতে চান?