আমার দেখা কিউবা

তারেক অণু এর ছবি
লিখেছেন তারেক অণু (তারিখ: বুধ, ২৮/১২/২০১১ - ৮:৩৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

311339_10150819110335497_608590496_21015704_752026759_n

সবাই জানতে চায় কিউবার কথা, কেমন আছে সেখানকার অধিবাসীরা, কেমন চলছে সেখানের জীবনযাত্রা। জীবন কি পিছিয়ে গেছে সেখান না এগোচ্ছে বাকী বিশ্বের সাথে সমান তালেই। প্রায় একই কৌতূহল সবারই, যেমন একজন মার্কিনীর, তেমন একজন বঙ্গবাসীরও। আর এর পিছনে মূল কারণ কিন্তু সঠিক তথ্যের বিরল উপস্থিতি এবং অপর্যাপ্ততা।

বিশ্বের দুই প্রভাবশালী মহলের প্রোপাগান্ডা মেশিনের কবলে পড়ে ১০০ ভাগ বিপরীত তথ্যের স্রোতে আমরা জানতে পারি না সত্যটা, আমেরিকান প্রেসের কথা শুনলে মনে হয় গত ৫০ বছর ধরে কিউবা পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্র, সেখানে মানুষের অভাব নিত্তনৈমিত্তিক, ক্ষুধায় মৃত্যু তো প্রতিদিনকার ঘটনা, আবার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রচার যন্ত্রের খবর পড়লে মনে হত কিউবা পৃথিবীর শেষ স্বর্গ, এখানকার প্রতিটি মানুষ হো চি মিনের মত একজন সাচ্চা বিপ্লবী, যাদের কাছে নিজের চেয়ে দেশ বড়, পরিবারের চেয়ে সমাজ বড়। এখন বিশ্বাস করি কোনটাতে?

বিশাল দ্বীপ দেশ কিউবা, মাত্র ১৫ দিনের এর একাংশই দেখা সম্ভব না, তারপরও চরকির মতে ঘুরে উল্লেখ যোগ্য কিছু জনপদসহ প্রায় অর্ধেকের বেশী দেখে ফেলেছিলাম আমরা, অবশ্যই সে দেখা গভীর কিছু নেই, আর এত অল্প দিনে এমন আশা করাও অন্যায়। তাই এই লেখাতে সেই তাড়াহুড়ো করে দেখা ও লেখার পক্ষপাতিত্ব অবশ্যই থেকে যেতে পারি, কিন্তু সেই অদেখা জীবন নিয়ে লিখতে দোষ কিসের!

তবে একটা কথা প্রথমেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল, মানুষ সবসময় সব কথাই বলে আপেক্ষিক হিসেবে বা তুলনা করে, যেমন আজ দারুণ রোদ ( মানে গতকালকের তুলনায়), বেশ ভাল আছি (আগের তুলনায়) তাই কিউবার সমাজ ব্যবস্থার সাথে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই কোন না কোন দেশের তুলনা আসবে কিন্তু কোন দেশের-

আমি গিয়েছি ফিনল্যান্ড থেকে, ফিনল্যান্ড ২০১০ সালে নিউজউইক পত্রিকার হিসাব মতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য দেশ নির্বাচিত হয়েছিল, কিন্তু সারা বিশ্বে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ৪ টি দেশের ব্যাপার খানিকটে আলাদা, এদের বিশাল দেশ, জনসংখ্যা অতি অল্প, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও খুব কম, এদেশগুলোতে বসবাসরতরা জানেন এইখানেই প্রকৃত গণতন্ত্র বা মুক্ত সমাজতন্ত্র ( সোশ্যালিজমের চর্চা হয়ে আসছে অনেক বছর ধরে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই), মানুষের মত প্রকাশের অধিকার অত্যন্ত বেশী, সেই সাথে দুর্নীতির হার সবচেয়ে কম।

তাই এই অঞ্চল না, কিউবার তুলনা আমি করব ৫ দশকের আগের কিউবার সাথে, তার প্রতিবেশী দেশসমূহ- হাইতি, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। এবং বারংবার বাংলাদেশের সাথে, কারণ প্রায় একটি দ্রাঘিমাংশে অবস্থানের পরেও কিউবা এবং বাংলাদেশ আমাদের গ্রহের দুই প্রান্তে উপস্থিত হলেও, বাংলা নামের দেশটাতে জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে আমার, এই দেশটাকেই চিনি সবচেয়ে ভাল ভাবে।

389419_10151046571945497_608590496_22252455_1865058999_n

জানিয়ে রাখি, কিউবায় দুই ধরনের টাকার প্রচলন বিদ্যমান। কিউবাবাসীদের জন্য কিউবান পেসো আর পর্যটকদের জন্য পরিবর্তনযোগ্য কিউবান পেসো, যাকে তারা বলে কনভারটিবল, বা কুপস। ট্যুরিস্টদের সব খরচ কুপসেই করতে হয় এবং তাদের জন্য যে কোন কিছুর খরচই স্থানীয়দের চেয়ে অনেক অনেক বেশী।

প্রথমেই আসি ভিসার কথায়, কিউবার ভিসা প্রদানের নিয়ম পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়ে সহজ, কেবল পাসপোর্ট থাকলেই হয় ! সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে দেশ বিদেশে ভ্রমণের জন্য কি যে হাঙ্গামা পোহাতে হয় তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন ( মাত্র এই মাসেই পেরু আর মেক্সিকোর ভিসার জন্য কেবল আঙ্গুলের ছাপই নয়, পুলিশের কাছ থেকে নিজের নামে যে কোন অপরাধ নেই, এই সার্টিফিকেট পর্যন্ত তুলে দিতে হয়েছে!)। সেই দিক দিয়ে কিউবার ভিসা ভারতের ভিসার চেয়েও বিলিয়ন গুণ বেশী ঝামেলা মুক্ত ও সহজ। অ্যাম্বাসীতে যাবার মিনিট পনেরর মধ্যেই ভিসা মিলল হাতে-নাতে। কিউবার ভিসা অবশ্য পাসপোর্টে লাগিয়ে দেয় না, বরং দুই ভাগে ভাগ করা একটা কাগজ দেয়, একটি দেশটিতে নামার পরপর ইমিগ্রেশন অফিস রেখে দেয়, অন্যটি ফেরার সময় ফেরৎ দিতে হয়।

সেই সাথে আগেই শুনেছিলাম বিশ্বের যে দেশটিতে লিঙ্গবৈষম্য, বর্ণবৈষম্যের স্থান সবচেয়ে কম তার নাম কিউবা। এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন অফিসারদের সবাইই ছিলেন নারী, এবং অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ নারী! আচ্ছা ধরে নিলাম, পর্যটকদের আই ওয়াশের জন্য এমনটি ইচ্ছে করে রাখা হয়েছে, কিন্তু দেশটির আনাচে কানাচে ঘুরে কিন্তু এমনটি মনে হল না, স্বল্পবসনাদের সাবলীল আচরণ প্রমাণ করে নারীদের রক্ষায় আইন যেমন সচেষ্ট, তেমনি সচেষ্ট তারা নিজেরাও।

316409_10150889802790497_608590496_21520353_1475459380_n

300909_10150843532925497_608590496_21187432_1928647298_n

সেই সাথে হাভানা কার্নিভ্যালের ছবি দেখে জনৈক পাঠক জানতে চেয়েছিলেন, সেখানে ইভ টিজিং কেমন হয় ? উত্তরে এখানে বলছি- আমার জানা মতে সেখানে ইভ টিজিং শব্দটি অপরিচিত।

কিউবার মত সবুজে ছাওয়া দেশ অতি বিরল, মাইলের পর মাইল অবারিত অপাপবিদ্ধ নিষ্কলঙ্ক নিসর্গ। সেই সাথে প্রায়ই দর্শন মেলে বিশাল সব মহীরুহের। অনেক জায়গাতেই যেন বনস্পতির মিলন মেলা। এই ব্যাপারে এই স্থানীয়কে প্রশ্ন করতেই জানালো- কিউবাতে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার নিয়ম নেই! কেউ লুকিয়ে চুরিয়ে গাছ কাটলেই পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে!

311809_10150810683215497_608590496_20939613_84330544_n

এক গোধূলির কথা তো সারা জীবন মনে থাকবে-

ভিনিয়ালেসে এক বিকেলের ক্রান্তীয় ঝড়ের পরে আকাশের মনের ভার কেটে ঝকঝকে রোদ্দুরময় আকাশের দর্শন পেয়ে বৈকালিক পদব্রজেই বাহির হলাম বুকে হাঁপর ভরে ঝুম বৃষ্টিপাতের পরে মাটি থেকে উঠে আসা সোঁদা গন্ধ নিতে, বাড়ীওয়ালা ডাক্তার রিডেলের ছোট্ট মেয়ে লাওরা আমাদের সঙ্গী নিয়ে গেল পাড়া বেড়াতে, নিসর্গ চারিদিকেই এখানে। গ্রামবাংলার মত ছোট পুকুরের চারপাশে নারকেল গাছের সারি, কচুক্ষেতের মতই এক সবুজ সব্জির ক্ষেত, পাশের বাঁশঝাড় থেকে ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসছে পদ্মনীল কালেম পাখির ডাক, সেই পাখি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে করতেই দেখা হল স্থানীয় এক কিষাণের সাথে, ইয়া তাগড়া এক জোড়া মহিষকে গোধূলি বেলায় জল খাওয়াতে নিয়ে এসেছে সেই পুকুরে বাড়ী ফেরার আগে। চোখাচোখি হতেই, সন্মান দেখিয়ে হ্যাটটা ঝুকিয়ে বলল বুয়েনোস তারদেস আমিগো ( শুভ সন্ধ্যা, বন্ধু)

তারপর বেশ অবাক করেই আমাকে ইংরেজি তাদের মহিষ দুটি দেখিয়ে বলল, মাই ট্র্যাক্টর। কারণ গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা সাধারণত এখানে ইংরেজি বলে না যদি না তারা পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে, এর পরে সে আমার সমগ্র জানা বিশ্বকে স্তম্ভিত, লজ্জিত, দুঃখিত করে আরও দুটি শব্দ বলল ইংরেজিতে, আমার নিজের কানকেই বিশ্বাস হল না যখন শুনলাম পায়ের বুটে লাল কাঁদা লেপটে থাকা কৃষক মুখে প্রভাত সূর্যের মত ঝলমলে হাসি নিয়ে বলল, ভেরি ইকোলজিক্যাল !

এখনো শুনি বাংলাদেশের শতকরা আশি ভাগ জমিই ধান ক্ষেত, আচ্ছা দেশের কথা ছাড়লাম- পাশের অন্যান্য কৃষিপ্রধান দেশগুলি- ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এমনকি খোদ চীনের কোটি কোটি কৃষকতো বাদই দিলাম, সেইসব দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা যারা, সেই মন্ত্রীদের ক,জনা ইকোলজিক্যাল বা পরিবেশবাদী শব্দটার আসল অর্থ জানে ??

380478_10151089510425497_608590496_22419158_655100272_n

জানে না, এবং মানে না। সেই অস্তগামী সূর্যের চুরি যাওয়া আলোয় কিউবার এক নাম না জানা কৃষক আমাকে জানিয়ে দিল সারা গ্রহ ধবংসের দিকে স্বেচ্ছায় এগোলেও তারা এগোবে না , তারা থাকবে এই পরিবেশবাদী প্রাচীন কিন্তু অজর, অমর, অক্ষয় প্রথা অবলম্বন করেই।

373818_10151056274445497_608590496_22284129_136729799_n

যে কারণে তারা যেমন পরিবেশদূষণকারী যন্ত্রের সাহায্যে জমি মাড়াই করে না, ঠিক তেমনি জমিতে ব্যবহার করে না কোন কীটনাশক না রাসায়নিক সার। আর একবার এই ক্ষতিকারক তথাকথিত উচ্চ ফলনে সাহায্যকারী এই রাসায়নিক দ্রব্যগুলো ব্যবহার করলে জমি যে অতি দ্রুত তার উর্বরতা হারিয়ে তাদের উপরই নির্ভর হয়ে পড়ে এর প্রমাণ বাংলাদেশ।

386620_10151055247165497_608590496_22280706_201291191_n

এর আগে তো বলেছিই তাদের জীব বৈচিত্র্য এবং সেটি রক্ষায় জনসাধারণের ভুমিকার পেছনে সরকারের শিক্ষানীতির অবদানের কথা। যে কারণে, কিউবা ছেলে বুড়োরা কেউই গিরগিটি হত্যা করে না, উপকারি প্রাণী বলে।

383775_10151056268415497_608590496_22284114_86329806_n

সেই সাথে সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনটি সরকার কিভাবে রক্ষা করেছে তা ছিল জাপাতার গল্পে

তথাকথিত তৃতীয় বিশ্ব বা উন্নয়নশীল বিশ্ব বললেই অবশ্যম্ভাবী ভাবেই আসে পথ শিশুদের কথা, দেশের সরকার আসে, যায়, কিছু ,মানুষের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়, কিছু মেধাবী দরিদ্র মানবসন্তান কিছুটা সাচ্ছল্যের মুখ দেখে মেধা বিক্রি করে, কিন্তু কচুরিপানার মত শেকড়হীন এই শিশুসমাজের ভাগ্যের কালো আকাশে পরিবর্তন আসে না কোন। টোকাইরা বড় হয়ে জড়িয়ে পড়ে অপরাধজগতে, না হয় বেছে নেয় শ্রম বাজারে আধুনিক দাসত্বের জীবন। যারা বলে ভারত দুর্দান্ত গতিতে অর্থনৈতিক উন্নতি করছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির মধে একাধিক ভারতীয়, মুম্বাই- দিল্লীর ঠাটবাটই আলাদা। কিন্তু চোখ খুলে তাদের দেখতে বলি, দিল্লী, কোলকাতা, মুম্বাইতে নতুন চকচকে গাড়ীর চেয়ে নিযুত গুণ বেশী অনাহারে শীর্ণ আজন্ম দুঃখ লেপটানো মুখে সারি সারি পথশিশুরা।

এত কথা বলার একটাই কারণ, কিউবাতে পথশিশুদের কোন অস্তিত্ব নেই ! এটি কোন রূপকথার স্বর্গরাজ্য নয়, কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের গৃহীত ব্যবস্থার ফলে সব শিশুর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে শতকরা একশ ভাগ। তাদের দেখবেন না কেউ কিউবার কোন অজগ্রামে বা অট্টালিকাময় মহানগরীতে।
আসি নিরাপত্তার কথায়- কিউবার রাজধানী হাভানা কেবলমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের নয়, উত্তর বা মধ্য আমেরিকার নয়, ল্যাতিন আমেরিকার নয়, বরং সমগ্র আমেরিকার নিরাপদতম মেট্রপলিটন শহর। এখানে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে পর্যটকদের একলা চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে! আমি নিজেই গলায় দামি ক্যামেরার সাথে তারচেয়েও দামি লেন্স এঁটে যত্রতত্র, যখন তখন ঘুরে বেরিয়েছি, রাতের আধারেও, এই সাহসটা ঢাকাতে কোনদিনই করব না।

396341_10151075698295497_608590496_22357744_59968255_n

একজন অবশ্য জানালো, কিউবা আর আগের মত নেয়, কমাস আগে সান্তিয়াগো দ্য ক্যুবাতে ( অন্যতম বৃহত্তম শহর, কবি হোসে মার্তির জন্মস্থান) সুইডিশ এক দর্শনার্থীর ক্যামেরা ছিনতাই হয়েছে ছুরির মুখে। আমি বললাম, আরে বাবা, তোমাদের এই দ্বীপ দেশে বছর ২০ লক্ষ পর্যটক আসে! ২০টা এমন ঘটনা ঘটতেই পারে! যাও না কিউবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে- হাইতি, সেন্ট ডমিনিক কিংবা জ্যামাইকায়! কিছু না হারিয়ে, নিজের কাপড় নিয়ে ফিরতে পারলেই যেখানে খুশি হয় মানুষজন।

403869_10151075697980497_608590496_22357740_21980047_n

378022_10151067379770497_608590496_22321814_34878777_n

কেমন ছিল ফিদেল ক্যাস্ট্রোর আগের কিউবা? স্পেনের কাছ থেকে সশস্ত্র সংগ্রামে স্বাধীনতা লাভের পরপরই আমেরিকার অপরাধজগতের শীর্ষ নেতা এবং রাজনীতিবিদদের এক ধরনের উপনিবেশেই পরিণত হয়েছিল কিউবা, তাদের অঙ্গুলি হেলনেই সরকারে বসত তাবেদার উর্দি পরা সামরিক শাসক ( গডফাদার চলচ্চিত্রের ২য় পর্ব দেখতে পারেন)। দেশে ছিল প্রচুর পানশালা, অভিজাত হোটেল, ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি আর বরাবরের মতই সক্রিয় অপরাধচক্র। সস্তা মদ, নারী মাংস আর মাদকের বাজারের সাথে সাথে চোরাচালানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে ছিল দ্বীপটি, সমস্ত ক্ষমতা আর সম্পদ কুক্ষিগত হয়েছিল গুটিকয় পরিবারের হাতে।

374641_10151072271470497_608590496_22340092_956272936_n

মাঝে মাঝেই গর্জে উঠেছে আমজনতা, কিন্তু বুলেট, বুট আর নির্বাসন দিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলেছে সর্বদাই, সেই গল্প বলেছিলাম কিউবার বিপ্লবের জাদুঘরে। শিক্ষার হার ছিল তথৈবচ। চিকিৎসার বালাই ছিল আর দশটি অনুন্নত দেশের মতই। সোজা কথায় দেশটা ছিল মার্কিনীদের শুঁড়িখানা আর বেশ্যাখানা।

ফিদেল আর তার আদর্শে উজ্জীবিত অনুসারীদের হাতে নিশ্চয়ই আলাদীনের চেরাগ নেই, কিন্তু কি জাদু বলে একরত্তি এই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সার্বক্ষণিক অসহযোগিতা ও বিরোধিতা স্বত্বেও আজ তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সমগ্র আমেরিকার শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছে জানতে ইচ্ছা করে, বুঝতে ইচ্ছে করে।

393327_10151044355645497_608590496_22246581_551338245_n

আগেই বলে নিচ্ছি, আমেরিকার বিরোধিতা করবার জন্য এই লেখাটি নয়, বিশ্বের আর দশটি দেশের সরকারের মত আমেরিকারও বহু ভাল কাজ রয়েছে, তেমন রয়েছে ছাপা অযোগ্য অনেক নিন্দনীয় অপরাধ। পাঠকরা কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন আজকের বিশ্বের আমেরিকা বা ইসরায়েলের মত মহা শক্তিধর রাষ্ট্র না থাকলেই কিন্তু রাষ্ট্র বিশেষের হানাহানি বা মোড়লপনা বন্ধ হত না, কোন না কোন দেশ এই জায়গা দখল করে তাদের দখলদারিত্ব ভিন্ন ভাবে ঠিকই চালিয়ে যেত। আপনারা কি মনে করেন চীন যদি ভবিষ্যৎ বিশ্বের কর্ণধার হয়, অবস্থা এর চেয়ে ভাল হবে?

ক্ষমতার ব্যপারটা দুঃখজনক ভাবেই আলাদা, অন্যদের কাছে যাব না, নিজেদের কথাই বলি- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অতি দুর্বল একটা দেশ, জাতিসংঘে সেনা পাঠানো বাদে আমাদের কোন অস্তিত্বই নেই বহির্বিশ্বের রাজনিতিতে ( আমাদের রাজনীতিবিদ আর তথাকথিত তৈলমর্দনকারী বুদ্ধিজীবীদের কথায় ভুলেন না কোন সময়), সেই আমরাই আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে প্রায় মানুষই মনে করি না পাহাড়ে সমতলে বসবাসকারী পঞ্চাশটির উপরে আদিবাসী গোত্রকে! কোন সময়ই শিক্ষিত মানুষেরাই চিন্তা করে না, একজন চাকমা, মারমা, বনযোগী শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের প্রয়োজন আছে! মোদ্দা কথা, ক্ষমতার কাঙ্গাল সব রাষ্ট্রযন্ত্রই, সবাইই চাই অন্যের মাথায় ছড়ি ঘোরাতে,
আজ আমরা বুশ-ওবামার দোষ দিয়েই যাচ্ছি, অবশ্যই তারা অপরাধী, কিন্তু সেই সাথে যেন একটু চিন্তা করে দেখি একজন সাদ্দাম, গাদ্দাফি, মোবারক, কিম জং ইল আমেরিকার রাষ্ট্রপতির তুলনায় ২ % ক্ষমতা না থাকলেও যে তান্ডবলীলা চালিয়েছে নিজের দেশবাসীর উপরে, ১০০% ক্ষমতা বিশেষত বিশ্বশাসনের ক্ষমতা থাকলে কি যে হত ভাবতেও ভয় হয়।

আসি চিকিৎসার কথায়, যারা বিশ্বখ্যাত চিত্রপরিচালক মাইকেল মুরের সিকো তথ্যচিত্রটি দেখেছেন তারা ভালই অবহিত আছেন কিউবার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে, যারা দেখেন নাই তাদের জন্য বলি কিউবায় আছে বিশ্বের সেরা চিকিৎসা ব্যবস্থা। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার হাসপাতালগুলোতে, এবং জনসংখ্যা প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বেশী ডাক্তার কে দুটি দেশে সবচেয়ে বেশী তার একটি কিউবা, অন্যটি ইসরায়েল ( এই প্রসঙ্গে বলতেই হয় ইসরায়েল কোন রাষ্ট্র নয়, এটি একটি ক্ষুদে পৃথিবী, সারা বিশ্ব থেকে ইহুদী ধর্মাবলম্বীরা চাইলেই ইসরায়েলে যেয়ে বসতি স্থাপন করতে পারেন, তাদের অনেকেরই ডাক্তার বা দক্ষ পেশাজীবী হয়ে ওঠার ইতিহাস অন্য দেশের পয়সায়, শ্রমে। কিউবার সাথে তাদের তুলনা কোনভাবেই হয় না।

এবং কিউবা সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশে যারা ডাক্তার রপ্তানি করে থাকে, আমাদের আশ্রয় প্রদানকারী একাধিক বাড়ীতে দেখাছিলাম সেই পরিবারের সদস্য ডাক্তার হিসেবে ভেনেজুয়েলা বা অন্য দেশে কর্মরত। এবং আরও আশার কথা, আগামী ৫ বছরের মাথায়ই এই মোট ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বলি, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের তথাকথিত ধনী রাষ্ট্রগুলো কিন্তু বিশ্বের যে কোন অঞ্চলে বিপর্যয়ের পরে ঔষধ, খাবার অন্যান্য ত্রান সামগ্রী পাঠালেও ডাক্তার পাঠাতে সক্ষম হয় না, কারণ তাদের নিজেদের নাগরিকদের জন্যই পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই।

সেই সাথে এদের গড় আয়ু দুই আমেরিকা মহাদেশ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশী, মহিলাদের ৮২, পুরুষদের ৭৬ ! এবং কেবল টিকে থাকা নয়, সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকা!

299885_10150809621085497_608590496_20932739_338798035_n

এমন উন্নতি কি করে সম্ভব হল মাত্র কয়েক দশকে !

২০০৬ সালে WWF ( World Wildlife Fund) এর জরিপে বিশ্বের সেরা sustainable দেশ ( এর যথার্থ বাংলাটি জানা নেই) হিসেবে নির্বাচিত হয়, সত্য কথা বলতে একমাত্র সাসটেইনেবল দেশ হিসেবে প্রশংসা কুড়ায় সকলের। এখানে বলা হয়েছিল, তথাকথিত ধনী দেশগুলোর জনসাধারণ প্রয়োজনের এত অতিরিক্ত সম্পদ অপব্যয় করে যে পরিবেশের ক্ষতি হয় মারাত্নক, আবার দরিদ্র দেশগুলোতে বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ায়, জনগণের নুন্যতম মৌলিক অধিকারও সংরক্ষিত হয় না । কিউবা এর একমাত্র ব্যতিক্রম! আশ্চর্যজনক ভাবে, এরা পরিবেশ রক্ষায় যেমন অগ্রগামী, ঠিক তেমনি সচেষ্ট জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায়, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত অপব্যয় রোধে।

309650_10150826566610497_608590496_21063040_1721573456_n

হাভানার বেশ নামী এক ক্রিকেট দলের কোচের সাথে আলাপচারিতার সৌভাগ্য হয়েছিল, জেনেছিলাম কিউবায় ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নিয়ে অর্থ উপার্জনের কোন সুযোগ নেই। যে যে ভাবেই নিন আমি এটা প্রচণ্ড ভাবে সমর্থন করি ( যদিও অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে, বহু দিনের সঞ্চয় উড়িয়ে দু-দুবার ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া আমার মুখ এই কথা হয়ত মানায় না, কিন্তু নিজে করলেই যে ঠিক এমন কথা কে বলেছে! ) একটু ভেবে দেখুন- সমাজের কি উপকারটা করে যে কোন ক্রীড়াবিদরা ! ক্রীড়াবিদ মানেই বিনোদনদানকারী, যার কসরত বা সামর্থ্য দেখে উল্লসিত হবে দর্শকরা।

নোবেল বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার সাহিত্যিক নাদিন গার্ডিমার যেমন বলেছিলেন স্বদেশে আয়োজিত বিশ্বকাপ নিয়ে- ফুটবল বিশ্বকাপ খুব ভাল সার্কাস, এর প্রয়োজন আছে কিন্তু সমাজের কি কাজে আসে এত ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান বা স্টেডিয়ামগুলো! বন্ধুরা, একটু চিন্তা করে দেখুন, ক্রীড়াবিদরা সমাজের অতি প্রয়োজনীয় না বলেই হয়ত ইতিহাস তাদের মনে রাখে না, যেমন প্রাচীন অলিম্পিকে নিশ্চয়ই অনেক নামকরা, চতুর্দিকে সন্মান ছড়ানো ক্রীড়াবিদ ছিলেন, তাদের কারো নাম কি আমরা জানি! জানি না, কিন্তু আমরা মনে রেখেছি হোমার নামের এক অন্ধ ভিখারিকে, ইশপ নামের এক ক্রীতদাসকে।

আজকের পৃথিবীতেই যারা ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, সাঁতার, টেনিস- অসংখ্য খেলা দিয়ে বিশ্ব মাতিয়ে রাখছেন, তারা কি মাত্র কয়েক বছরের মাঝে বিস্মৃতির দেয়ালে চাপা পড়ে যান না! তারা কি দিয়ে যান আমাদের সমাজকে, মানব সভ্যতাকে! একজনে লিওনেল মেসি বা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো না থাকলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেত আমজনতার নাকি ক্ষতি হত এই খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিলিয়ন ডলারের জুয়ার আয়োজন করা মাফিয়া চক্রের! বাংলাদেশের মত দেশে কোন হিসেবে একজন আশরাফুল বা সাকিব আল হাসান কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করে কেবল মানুষদের কয়েক মুহূর্তের বিনোদন দিয়ে, আমরা কি আসলেই বিনোদন পাচ্ছি, না এটি আমাদের উপরে একটি মহলের চাপিয়ে দেয়া ব্যবস্থা যারা ধোঁয়া তুলে Eat Criket, Drink Criket নামে!

কিউবান সরকারের এই ব্যাপারে দর্শন অত্যন্ত স্বচ্ছ, ক্রীড়াকে ক্রীড়া হিসেবেই নাও। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যাও দেশের প্রতিনিধি হিসেবে, সন্মান কুড়িয়ে নেও পারলে জয়ী হিসেবে, কিন্তু তুমি সমাজের একটি অংশমাত্র, বিজয়ী হলেই ধরা কে সরা জ্ঞান কর না! কিন্তু তাদের উৎসাহতো ঠিকই আছে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ার ক্ষেত্রে- বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা মুস্টিযোদ্ধা, তিন তিন বার অলিম্পিকে সোনা জয়ী ফেলিক্স সাভোন এই দ্বীপদেশেরই নাগরিক, তাদের ভলিবল দলের লড়াকু মনোভাবের জন্য সমর্থনের অভাব হয় না কখনোই, সবচেয়ে বড় কথা কোন বহুজাতিক কোম্পানির অর্থায়ন ছাড়াই এক লক্ষের উপরে নিয়মিত ক্রীড়াবিদ রয়েছে কিউবার, কেবলমাত্র বিনোদনের টানে, খেলার আকর্ষণের টানে।

কিছুই কি খারাপ চোখে পড়েনি কিউবায় স্বল্পকালীন অবস্থানের সময়! দেখুন, আপনি যদি ভাল খুজতে চাল তাহলে ভাল পাবেনই, আর খারাপ চাইলে সে তো আরও বেশী সহজ।
কিউবাতে সবচেয়ে বেশী বিরক্ত লেগেছে হাভানার অনেক জায়গাতে লোকজনের সিগার কেনার জন্য আহ্বান, শালীনতা বজায় রেখেই, কিন্তু বারংবার , ঐ বন্ধু, চুরুট কিনবে নাকি, শুনতে কার ভাল লাগে !

সেই সাথে একমাত্র হাভানাতেই বেশ কজনের সাথে পরিচয় হল, যারা যেচে এসে পথ দেখিয়ে শেষে একটাই গল্প ফেঁদে বসে- বাড়ীতে দুগ্ধপোষ্য শিশু আছে, দুধ কেনার পয়সা নেই, যৎসামান্য দান চায় দুধ কেনবার জন্য! অন্য কোন শহরে এমনটা হয় নি, কিন্তু হাভানায় এত বেশী বার ঘটতে লাগল, শেষের দিনগুলোতে কেউ নিজে থেকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করতাম।

আমাদের আশ্রয়দাতা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেছিলেন, দেখ আমাদের বেতন খুব কম। কত বেতন? ৩০ ডলার ! খুবই শঙ্কার কথা, অন্য দেশে যেখানে কয়েক হাজার ডলার কমপক্ষে তার বেতন হবে সেখানে স্বদেশে মাত্র ৩০ ! জিজ্ঞেস করলাম, কিউবার রাষ্ট্রপতির বেতন কত- জানা গেল সেই ৩০ ডলার!!

তারপর বললাম, তাহলে আফসোস করছ কেন! তোমার আর রাষ্ট্রপ্রধানের তো একই বেতন, আর তোমার বাচ্চাদের শিক্ষা, চিকিৎসা যাবতীয় সবকিছুর ভার তো রাষ্ট্রের! সে সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা দুলিয়ে বলল, আরে বাবা, বুঝতে চেষ্টা কর! আমাদের জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই সরকার দিয়েছে, কিন্তু আমারও তো ইচ্ছে করে একটা গাড়ীর মালিক হতে, তোমাদের মত ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বিদেশ ঘুরতে! এটা তো এইদেশে সম্ভব না! ( স্থানীয়দের জন্য ভ্রমণ প্রায়শই অকল্পনীয়, সেই পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে না কখনোই )

299125_10150810683455497_608590496_20939615_987212911_n

আমার মনে হয়েছে কিউবার তরুণ প্রজন্ম এই মতের অনুসারি, সরকারের আদর্শের বিরুদ্ধে তারা নয়, কিন্তু তারা দেখে চুপিসারে আমেরিকা পাড়ি দেওয়া প্রতিবেশী বা আত্মীয় বছর কয় পরপর এসে চোখের সামনে দামি গাড়ী হাকিয়ে, ঝলমলে পোশাক পরিধান করে, গলায় সোনার চেন ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সে বিপ্লবের বিরুদ্ধে নয় কিন্তু তারও ইচ্ছে করে দরকার হলে আমেরিকায় যেয়ে বাথরুম ঘষে হলেও নিজের একটি গাড়ীর মালিক হতে।
এক বাড়ীর মালিক জানালেন যেহেতু কিউবার সব অফিসে বেতন নির্দিষ্ট, যে পরিমাণই কাজ কর, তাই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কাজের প্রতি নজর কম, অনেকেই দায়সারা ভাবে অফিসে যায় অনেক দেরী করে, কোনমতে সময়টুকু পার করে চলে আসে। এখানেই ঘুরে ফিরে আসে সেই মানবজাতির মজ্জাগত স্বার্থপরতার কথা, ম্যাকিয়া ভেলির রাজকুমারের মত লাভের লোভ দেখিয়েই কাজ করিয়ে নেওয়া যায় অধিকাংশ মানুষকে, আদর্শের বাণী আটকে থাকে বইয়ের পাতায়।

ভিনিয়ালাসের এক তামাক চাষি জানিয়েছিলেন উৎপাদিত ফসলের ৯০ % সরকারকে দিতে হয় তার, যে কারণ উৎপাদন বাড়াবার তাগিদ পায় না সে ভিতর থেকে। আমি বলেছিলাম- জমির মালিক কে? রাষ্ট্র! আচ্ছা, বীজ, জৈব সার , সেচ ব্যবস্থার টাকা দেয় কে? সরকার! আচ্ছা , কোন কারণে যদি দুর্ঘটনায় ফসল ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে? উত্তর- তাহলে আর কি! সরকার আমাদের দেখভাল করবে !

আরে বাবা, এত বিপদে সরকার পাশে দাঁড়াবে, তো তাকে ফসলের ভাগ গিতে তোমার সমস্যা কি! কিউবাতে প্রচলিত ব্যবস্থার সমালোচনা অনেকে করলেও কেউ বলেনি ফিদেল বা তার মন্ত্রী পরিষদের কেউ দুর্নীতি করে অর্থ সম্পদ গড়েছেন, বা সেখানকার পুলিশ আর রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিবাজ!!

হ্যাঁ, দুর্নীতি আছে সেখানে, সর্বত্রই, কিন্তু অন্য ধরনের। যা চোখে পড়েছে প্রতিদিন। কোন দিন এক হাত লম্বা লবস্টার খেতে চেলাম, ব্যস রাতে পাতে হাজির। কোথা থেকে এল? স্থানীয় কোন জেলে ধরে ছিল সকালে, খবর পেয় দিয়ে গেল। কিন্তু সরকারকে বা তার প্রতিনিধিদের জানাবে না। জানালে রাষ্ট্রের অংশ দিতে হবে যে ! এমন ভাবে, সাধারণ জনগণের বিশাল অংশ- মাছ, মাংস, মুরগী, চাল, শিম এমনকি হোটেলের কক্ষ নিয়ে পর্যন্ত অন্য ধরনের চোরাকারবারি চালিয়েই যায়।

টিকবে কি কিউবার এই সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা, যেখানে সবাই সমান অধিকারের অধিকারী! মনে হয় না, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ একভাবে চিন্তা করে না, কারণ মানুষ জন্মগত ভাবেই অত্যন্ত স্বার্থপর প্রাণী। আমাদের সামনে আদর্শ হিসেবে দাড়িয়ে থাকেন একজন চে আর্নেস্তো গুয়েভারা, আর্জেন্টিনায় জন্ম গ্রহণকারী অসাধারণ প্রতিভাবান এই ডাক্তার দূর দেশ কিউবার জন্য জীবনপাত করে লড়াই করে দেশটিকে আসল স্বাধীনতা দান করলেন, দেশটির মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন। কিন্তু তার আদর্শচ্যুত হলেন না, নিজেকে আমজনতার একজন মনে করেই সপ্তাহে ৬ দিন দাপ্তরিক কাজের পরও ছুটির দিনে আঁখ ক্ষেতে বা চিনির কলে মজুরের কঠোর পরিশ্রম করতেন স্বেচ্ছাশ্রমের অংশ হিসেবে ( কিউবায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, রবিবারে কে কেউ নানা ধরনের স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিতে পারেন, যেমন শহরের রাস্তা পরিষ্কারের কাজে ) এবং অন্য মন্ত্রীদেরও এই ব্যপারে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন। কিন্তু ফল হল বিপরীত, কিউবান অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই রুখে দাঁড়ালেন এর বিরুদ্ধে! জানালা, বিপ্লব সফল করেছি, এই অনেক, এখন বিশ্রামের সময় ! এই শ্রমপাগল আর্জেন্টাইনের মন্ত্রে মেতে ওঠার সময় আমাদের নেই। যে চে অসুস্থ সন্তানকে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় গাড়ীতে করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার জন্য স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বলেছিলেন , আমাকে গাড়ীর তেল দেওয়া হয় কেবলমাত্র দাপ্তরিক কাজে জন্য, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে ব্যবহারের জন্য না। আর আমার সন্তান অসুস্থ হলে কিউবার আর দশ জন শিশু যেভাবে ডাক্তারের কাছে যায়, সেও সেই ভাবেই যাবে !

কিন্তু বিশ্বের কয় জন মানুষ এই ভাবে সত্যিকারের সাম্যবাদে বিশ্বাস করেন ও ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটান??? মুশকিল টা এইখানেই, অধিকাংশ মানুষই ঘটান না, যে কারণে এই মহান মানুষদের অর্জনগুলো সময়ের সাথে সাথে প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে যায়।

প্রিয় বন্ধু কানাডার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী Pierre Trudeauর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবার পর ২০১০ সালে এক সাক্ষাৎকারে আমন্ত্রণ জানানো হয় ফিদেল কাস্ত্রোকে টেলিভিশনে, অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভাবেই সেইখানের প্রথম চারটি প্রশ্নোত্তর এখানে দিলাম-

১ম প্রশ্ন- মিঃ প্রেসিডেন্ট, আপনার কি মনে হয় না কিউবার অর্থনীতি অত্যন্ত খারাপ অবস্থার সম্মুখীন?

ফিদেল- অবশ্যই। আমি জানি আমরা অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রটি আমাদের সাথে সকল ধরনের বাণিজ্যের উপরে নিজেধাজ্ঞা আরোপ করেছে গত কয়েক দশক ধরে এবং আমাদের উৎপাদিত সমস্ত পণ্য বিশেষ করে চিনির সবচেয়ে বড় ক্রেতা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আর টিকে নেই, কাজেই সঙ্গত কারণেই আমাদের অর্থনীতি সাময়িক ভাবে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

২য় প্রশ্ন- কিউবায় অনেক রাজনৈতিক বন্দী, কেন ?

ফিদেল- ঠিক বলেছেন। দেখুন, বিশ্বের যে কোন দেশে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে সবসময়ই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কোন দেশই এর ব্যতিক্রম নয়, যুক্তরাষ্ট্রতো নয়ই! কিউবাতেও এমন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য, কিন্তু শতকরা একশ ভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি আপনি কিউবায় একজনও রাজনৈতিক বন্দী দেখাতে পারবেন না যা কে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, একজনও না ।
( আজ পর্যন্ত ফিদেলকে অন্তত ৬৩০ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে সি আই এর অর্থায়নে, যে টা কিউবার প্রেসের কথা না, সি আই এর সাবেল কর্মকর্তার কথা , এর বিরুদ্ধে কি কিউবার সরকার একবারও একটি বোমা হামলা চলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, বা একটি সহিংস ব্যবস্থা !!)

৩য় প্রশ্ন- কিউবায় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য?

ফিদেল- কথা হয়ত সত্যি। দেখুন, আমাদের একটি ক্ষুদে দ্বীপে ছোট একটা জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষুদ্রতর সংবাদ মাধ্যম রয়েছে, আমরা সেখানে যাচাই বাছাই করে সংবাদ দেবার চেষ্টা করি। আপনার খেয়াল রাখতে হবে কিউবান বিপ্লবের পরে দেশ ছাড়া বুর্জোয়া কিউবানরা ঘাঁটি গেড়েছে ফ্লোরিডায়, সেখানে থেকে মার্কিন অর্থায়নে চলছে তাদের একাধিক রেডিও চ্যানেল। মানব মন এক মিথ্যা অনেক বার শুনলে শেষ পর্যন্ত মিথ্যাতেই বিশ্বাস স্থাপন করে। তাই আমরা চেষ্টা করি আমাদের ক্ষুদ্র সংবাদ মাধ্যমটিকে রক্ষার।

এই পর্যায়ে ফিদেলের বাগ্মিতায় এবং বস্তুনিষ্ঠ সৎ উত্তরে বিব্রত হয়ে খেই হারিয়ে ফেলে একই প্রশ্ন করে বসেন প্রশ্নকর্তা-

৪র্থ প্রশ্ন- কিন্তু এটা কি সত্যি না যে কিউবার অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে?

ফিদেল-- এই প্রশ্নটির উত্তর আগেই দিয়েছি, তারপরও বলছি- আপনি অর্থনীতি দুর্বল বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন? আমি অবশ্যই চাই, কিউবার প্রতিটি নাগরিক একটি গাড়ীর মালিক হোক, একটি প্রাসাদের মালিক হোক, অনেক বিত্ত বৈভব থাকুক। কিন্তু আমাদের সীমিত সম্পদে আমরা এটাও চেষ্টা করেছি যেন তারা জীবনের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনগুলো মিটলে যেন সুখী জীবনযাপন করে। আপনার বলা এই দুর্বল অর্থনীতি দিয়েই কিন্তু কিউবা আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসা ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দাবীদার এবং তা সকল নাগরিকের জন্য। আমাদের চেয়ে অনেক অনেক গুণ অর্থ সম্পদ থাকার পরও কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান বণ্টন ব্যবস্থা আমাদের মত উন্নত নয় এবং সকল নাগরিকের জন্য সুষম নয়। আর একটা কথা, আমার এত কাছের প্রতিবেশী, আমাদের সাথে ব্যবসা করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিসেধাজ্ঞা কেন? তারা বলবে আমরা কমিউনিজম চর্চা করি, কিন্তু কম্যুনিস্ট অনেক দেশ যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীনের সাথে তো তাদের রমরমা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল, এবং অত্যন্ত দুঃখের কথা তাদের সাথে অনেক একনায়কচালিত দেশ, এমনকি ফ্যাসিস্টদের সাথেও জোরদার ব্যবসা ছিল। তাহলে, এই অন্যায়টা তারা আমাদের সাথে কয়েক দশক ধরে কেন করে আসছে!

( কিউবার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ সকল দেশ সমর্থন দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসারেয়েলের বিরোধিতার কারণে আজও সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ। শুধু তাই নয়, কিউবানদের দেশ ত্যাগে উৎসাহিত করার জন্য ফ্লোরিডায় আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যে কোন কিউবান নাগরিক সৈকতে পৌঁছাতে পারলেই আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার দাবী রাখে। সেই সাথে সাধারণ এক মার্কিন নাগরিকের কিউবা ভ্রমণের অনুমতি নেই তাদেরই গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে, যে কোন মার্কিন নাগরিক সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কিউবা গেছে জানা গেলেই প্রায় পচিশ হাজার ডলারের জরিমানা তার জন্য অপেক্ষমাণ , কিন্তু কিউবা সবসময় স্বাগতম জানিয়ে এসেছে সকল দেশের নাগরিককেই !!)

আচ্ছা, এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফিদেল কাস্ত্রো কি একনায়ক? বিশ্বের যে কোন দেশে একনায়কের কিছু সাধারন বৈশিষ্ট্য আছে, নিজের ছবি দেশের সবখানে টাঙ্গানো, সেই দেশের মুদ্রায় তার ছবি ছাপা, মোড়ে মোড়ে নিজের মূর্তি বানানো, নিজের নামে রাস্তা, ঘাট, সেতু, বিমানবন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা।

মুস্কিল হচ্ছে, কিউবায় ফিদেল বা কিউবার বিপ্লবের জীবিত কোন নায়কের নামের কিউবাতে কিছু নেই, কোন সেতু, স্কুল, ভাস্কর্য, রাস্তা! কিউবার স্কুলের শিশুরা প্রতি সকালে চে গুয়েভারার ছবি হাতে বলে- আমরা সবাই চে,র মত হব। সেই সাথে নিহত বিপ্লবী ক্যামিলোর স্মৃতি বিজড়িত অনেক কিছু আছে, কিন্তু নেই জীবিত কারো নামে।

বাইরের পৃথিবীর মানুষকে প্রায়শই ভুল বোঝানো হয় এই বলে কিউবা তো শাসন করছে কাস্ত্রো পরিবার, ফিদেল গেল তো ছোট ভাই রাউল এল ! কথাটি যারা কিউবার ইতিহাস নিয়ে সামান্যও জানেন তাদের জানার কথা কি রকম মিথ্যা! রাউল কাস্ত্রো ফিদেলের ছোট ভাই নয়, সেই বিপ্লবের সময় থেকেই জাতির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে অন্যদের সাথে, এ পদ তার যোগ্যতারই পুরষ্কার। এখন যারা সর্ষের মাঝে ভুত খুজতে চান, তাদের প্রতি একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের আর সবার মত নিশ্চয় ফিদেলও চান তার সন্তানকে তার উত্তরসুরী করতে। বলুন দেখি, তার কয় সন্তান! এবং তারা কি করে!, তার কোন ছেলে রাষ্ট্রীয় পদে আদৌ আছে কি না তারা একজন সাধারণ কিউবানের চেয়ে বেশী সুযোগ সুবিধা ভোগ করে কি না?

ফিরে আসার পর আমার অনেক ফিনিশ বন্ধু প্রশ্ন করেছে- কিউবানরা কি সুখী? এখন মানুষের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রশ্ন হল সুখ কি ! এর মানে কি আজ পর্যন্ত আমরা জানি! পাল্টা প্রশ্ন করি, আচ্ছা, ফিনল্যান্ড যে বিশ্বের সেরা দেশ হল, এখানকার মানুষ কি সুখী? যদি এতই সুখী হয়, তাহলে এত বেশী মানুষ আত্নহত্যা করে কেন! অর্থই যদি এত সুখ দেবে তাহলে ধনশালী দেশগুলোতে যেমন- জাপান, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মাঝে আত্নহননের হার এত বেশী কেন?

কিউবানদের সুখ নিয়ে আমাকে সবচেয়ে গোছানো উত্তর দিয়েছে বহু বছরের পুরনো বন্ধু ফ্রান্সের মেয়ে হেলেন লেতুফ-ব্রিনিঊ। সে শুধু সারা বিশ্ব ঘুরেই নি বরং অনেক দেশে বেশ কিছু মাস বা বছর বসবাস পর্যন্ত করেছে ( ভারত, মেক্সিকো, সুইডেন) , সেই সাথে তার স্প্যানিশটা মাতৃভাষার মত সড়গড় হওয়ায় সাধারণ মানুষদের সাথে মিশতে হয়েছে ঢের সুবিধা। তার মতে- কিউবানরা তার দেখা সবচেয়ে সুখী জাতি, তার অন্যতম প্রধান কারণ কিউবা সমাজ ব্যবস্থায় সকলের সমান অধিকার এবং এখনো খানিকতে পুরনো ধারার জীবন অনুসরণ করে চলায় সকলের হাতের রয়েছে অফুরন্ত সময় ফলে মানুষে মানুষে যোগাযোগের ব্যাপারটা রয়েছে এখনো অটুট।

হেলেনের কাছেই জানলাম কিউবায় তার অবস্থানকালীন সময়ে বিশ্বখ্যাত কিউবান চিত্রকর, লেখক, নর্তক, ক্রীড়াবিদের সমাজের আর দশ জন মানুষের মতই আড্ডা দিতে দেখেছে সে কফির দোকানে, বা মাছ ধরতে সাগরের পাশে, কোন সময় স্বেচ্ছা সেবামুলক পরিষ্কারের কাজে। এগিয়ে যেয়ে কথা বললেই তারা সময় দিয়েছে, তার মতে বিশ্বের আর কোন দেশে এটা সম্ভব না, ব্যাপারটা অনেকটা এমন- রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, এমন সময় স্টিভেন স্পিলবার্গ বা মাইকেল জ্যাকসনের সাথে দেখা হয়ে গেল, তারা আমাদের সাথে কথাও বললেন আধা ঘণ্টা!
আর হ্যাঁ, কিউবানরা প্রবল বন্ধুত্বপরায়ণ। এই একটি ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। অচেনা লোক হয়ে রীতিমত ঘরের ভেতরে ঢুকে চা খাবার অভিজ্ঞতা হয়েছে এই অল্প সময়েই একাধিকবার।

আমি বিশ্বাস করি, যে কোন সমাজের বর্ণবাদীতা আছে কিনা তা বোঝার অন্যতম উপায় হচ্ছে শিশুদের সমাজের দিকে দৃকপাত করা। যদি সব শ্রেণীর, সব বর্ণের, সব ধর্মের শিশুদের একসাথে রাস্তায় দেখি বা পুকুরপাড়ে আড্ডা মারতে বোঝা যায় এই সমাজে বর্ণ বৈষম্য ও শ্রেণী বৈষম্যের রাক্ষুসে থাবা অনেক কম কার্যকরী

( বাঙ্গালী সমাজ যে অন্যতম বর্ণবাদী সমাজ তাও এখান থেকেই বোঝা যায়, বড়দের শিখিয়ে দেয়া পথ অনুসারেই আমরা বিকেলের মাঠে খেলতে যায় আমাদের মত পরিবারের বাচ্চাদের সাথেই, সহপাঠীদের সাথে, একজন শ্রমজীবী রিকশাওয়ালা বা মৎস্যজীবীর শিশু সেই জগতে ঢোকার অনুমতি পায় না, আর সমবয়সী কাজের মানুষের শিশুটি যে জন্মসূত্রেই দাস )।

কিউবায় অভিভূত হয়েছি এই দারুণ প্রায় অসম্ভব ব্যপারে, অনেক অনেক জায়গাতেই, ষ্টেশন থেকে শুরু করে নির্জন সৈকত, জনাকীর্ণ রাস্তা সবখানেই নানা বর্ণের, নানা জাতের বাচ্চারা উপস্থিত- সাদা, কালো, বাদামী, হলদে- কেউ বাদ নেই। কেমন করে সম্ভব হল এটা? উত্তর খুজতে যেয়ে পাওয়া গেল চমকপ্রদ কাহিনীর অস্তিত্ব!

303703_10150926367305497_608590496_21785149_1437076001_n

কিউবার সরকারই ঠিক করে দেয় কোন পরিবার কোন এলাকায় থাকবে। তাই, অনেক দশক আগেই, বর্তমান সরকার এমনভাবে এলাকা ভিত্তিক বাসস্থান গড়ে তুলেছিল যাতে সব বর্ণের মানুষেরাই সেখানে ছন্দবদ্ধ ভাবে থাকে মিলে মিশে। তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা যখন একসাথে খেলতে শিখল, তারা দেখল তাদের সমাজে এইটাই একমাত্র সত্য, সব স্তরের, সব বর্ণের বাচ্চারা একসাথে খেলে, বড় হয়, স্কুলে যায়। বর্ণবাদ ছুতে পারে না তাদের। ইস, নয়নসার্থক হয়েছিল এই অপূর্ব দৃশ্যগুলোতে।

302354_10150851410670497_608590496_21245912_484960320_n

বিজ্ঞানের কিছু ধ্রুব তত্ত্ব বাদে সম্ভবত বিশ্বের কোন কিছুই চিরস্থায়ী না, মানুষের তৈরি সমাজ ব্যবস্থায় অসংখ্যবার ভাঙ্গা-গড়ার মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা এসেছে এবং আসবে। কোন সমাজ ব্যবস্থাই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত এবং সার্থক নয়। রাউল কাস্ত্রো নিজেই কিছুদিন আগে বলেছেন, তাদের সরকার ভবিষ্যতে নেতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

নিঃসন্দেহে কিউবার সমাজ ব্যবস্থাতেও তলিয়ে দেখলে কিছু ফাঁকফোকর চোখে পড়বে, কিন্তু আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে পারি, কিউবার প্রচলিত সমাজব্যবস্থা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালের তথাকথিত ঘেয়ো, পচা, অচল, অথর্ব গণতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশী মানবতার অধিকার সংরক্ষণ করে। অনেক অনেক বেশী কার্যকরী জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে।

IMG_4592

( কিউবা নিয়ে আপাতত এটিই শেষ লেখা, আপনাদের অশেষ উৎসাহের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপাতত এই সবুজ দ্বীপের কাহিনী লেখা থেকে কলম বিরত থাকছে, যদি জীবনের কোন অচেনা বাঁকে, নির্জন রাস্তায়, চলমান ট্রেনে মনে পড়ে প্ল্যায়া হিরণের সেই অপূর্ব ক্যারিবিয় সূর্যাস্তের কথা ,ওল্ড হাভানার সহৃদয় প্রতিবেশীর কথা, সেই ডাকটিকেট সংগ্রাহক বালক রেমুর কথা, আলগোছে চেয়ে মিষ্টিতম হাসির অধিকারিণী দ্যানিয়েলার কথা, বৃষ্টি ভেজা ক্লান্ত হামিং বার্ডের কথা, ভিনিয়ালেস বাজারের ফেলে আসা নির্জন ক্যাথেড্রালটির কথা, যদি মনে হয় এখনো বলার আছে অনেক কিছু, আবার হয়ত জানাব, আবার হয়ত লিখব, ততদিন সো লং ক্যুবা।।

এই লেখাটি আমার কাকা বিকাশ বিশ্বাস এবং বড় ভাই সুকান্ত সাহা অপুর জন্য, যাদের অনেক বছর ধরে কাছে থাকে দেখার অভিজ্ঞতা না থাকলে মনে হত এমন আদর্শবাদী সাম্যবাদীরা কেবল ম্যাক্সিম গোর্কির গল্প –উপন্যাসেই থাকে। )


মন্তব্য

সোহেল এইচ রহমান এর ছবি

আমি কিউবাকে ভালবাসি। কিউবা সম্পর্কে এরকম তথ্যপূর্ণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।

তারেক অণু এর ছবি

খুশি হলাম শুনে। অনেক তথ্যই বাদ পড়ে গেছে একটানা লেখার জন্য। পরে জানানোর চেষ্টা করব।

তারাপ কোয়াস এর ছবি

অ!!!
(তর্জমা: ভাষা নাই আর কিছু বলার গুল্লি )


love the life you live. live the life you love.

তারেক অণু এর ছবি

আরে বলেন।

আসাদুজ্জামান  এর ছবি

প্রথম লাইনে 'জানতে চাই' নয়, 'জানতে চায়' হবে অনু ভাই। আপনি সুন্দর লেখেন। তবে মাঝে মধ্যেই এ ভুলটা চোখে পড়ে। হয়তো অনেক দ্রুত লেখেন বলেই। ক্ষমা করবেন।

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ। চেষ্টা করব টাইপো কমাতে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কিউবা এত সুন্দর কিঁউ?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি
নীড় সন্ধানী এর ছবি

আবারো মুগ্ধতা। ফিদেলের সাক্ষাতকারটা পড়তে পড়তে আরেকবার শ্রদ্ধায় নুয়ে এল মাথা।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তারেক অণু এর ছবি

এমন মানুষ থাকতে পারে বিশ্বাস হয় না।

শাব্দিক এর ছবি

ইভ টিজিং নেই,পথ শিশু নাই, চিকিৎসা অপ্রতুল,এত সত্যই স্বর্গরাজ্য।

বিভিন্ন তুলনা ভাল লাগল। আচ্ছা কিউবায় শিক্ষার হার কত?

তারেক অণু এর ছবি

১০০ %
আসল শিক্ষা, আমাদের মত সাক্ষর করতে পারলেই শিক্ষিত না। এই জন্যই তো সেই কৃষকের গল্প বললাম।

অন্যকেউ এর ছবি

আজকের লেখাটার স্বাদ একেবারেই আনকোরা। ভ্রমণবর্ণনার পাশাপাশি সমাজ, মানুষ আর জীবনবোধের কথাগুলো খুব ভালো লেগেছে। সহমত পোষণ করি খেলা বিষয়ে আপনার দৃষ্টির সাথে, স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ থেকে একদিন বর্ণবাদ দূর হবে, ভাবতে চেষ্টা করি কোন না কোন দিন হয়তো আমরা বুঝবো, পরিবেশবান্ধব কথাটা কী বোঝায়।

অনেক অনেক ভালো থাকেন, অণু ভাই। আজকে মনটা এতো ভালো যে আপনাকে হিংসা জানাতে ভুলে গেলাম। হাসি

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

তারেক অণু এর ছবি

মন যেন সবসময় ভালই থাকে।

লাবণ্যপ্রভা এর ছবি

অনুদা, লিখা অসম্ভব ভালো লেগেছে। হয়তো, আপনার সেরা পোষ্টগুলোর একটি এটি। আর কিউবার প্রেমে পরে গেলাম খাইছে । আচ্ছা, আপনি তো ওদের সমাজ ব্যাবস্থার ভালমন্দ দুটোই বললেন, কিন্তু কিভাবে এই সমাজ ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত হল সেটাও খুব জানতে ইচ্ছে করছে। ভাল থাকবেন। অনেক শুভকামনা।

তারেক অণু এর ছবি

ফিদেল নিয়ে আমার একটা পোস্ট আছে সচলে , পড়ে দেখতে পারেন। সেই অধ্যায়ের খানিকটা আভাস আছে।

সজল এর ছবি

ভালো লাগলো। কিউবা টিকে থাকুক আরো অনেক শতাব্দী। কোন শিশু পথে ঘুরে বেড়ায় না, এই একটা কারণে আমি কিউবান সরকারের হাজার দোষ মাপ করে দিতে রাজী আছি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

তারেক অণু এর ছবি

দারুণ বলেছেন।

আব্দুর রহমান এর ছবি

আমার কাছে এটাই আপনার সেরা লেখা, রানা আপুর বকুনিতে কাজ হয়েছে। খুব ভালো লাগলো।

------------------------------------------------------------------
এই জীবনে ভুল না করাই সবচেয়ে বড় ভুল

তারেক অণু এর ছবি

আরে ভাই, এবার তো আমার কাহিনী লিখিনি, বলেছি সেই ভূখণ্ডের গল্প !

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

শুনেছি, আশপাশের অনেক দেশের লোকেরাই চিকিৎসার জন্য কিউবা যায়।
ধন্যবাদ, ব্যতিক্রমী একটি পোস্টের জন্য। খুব ভাল লাগলো।

তারেক অণু এর ছবি

ম্যারাডোনাও গিয়েছিল।

জালিস এর ছবি

বরাবরের মতই গুল্লি গুল্লি

তারেক অণু এর ছবি
ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ভিভা লা রেভ্যুলুসিওন! ভিভা ক্যুবা!!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তারেক অণু এর ছবি

ভিভা ক্যুবা লিব্রে।

ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

হুম Dirt Bike

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

তারেক অণু এর ছবি
তাপস শর্মা এর ছবি

আমাদের আশ্রয়দাতা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেছিলেন, দেখ আমাদের বেতন খুব কম। কত বেতন? ৩০ ডলার ! খুবই শঙ্কার কথা, অন্য দেশে যেখানে কয়েক হাজার ডলার কমপক্ষে তার বেতন হবে সেখানে স্বদেশে মাত্র ৩০ ! জিজ্ঞেস করলাম, কিউবার রাষ্ট্রপতির বেতন কত- জানা গেল সেই ৩০ ডলার!!

তারপর বললাম, তাহলে আফসোস করছ কেন! তোমার আর রাষ্ট্রপ্রধানের তো একই বেতন, আর তোমার বাচ্চাদের শিক্ষা, চিকিৎসা যাবতীয় সবকিছুর ভার তো রাষ্ট্রের! সে সবজান্তার ভঙ্গিতে মাথা দুলিয়ে বলল, আরে বাবা, বুঝতে চেষ্টা কর! আমাদের জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই সরকার দিয়েছে, কিন্তু আমারও তো ইচ্ছে করে একটা গাড়ীর মালিক হতে, তোমাদের মত ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বিদেশ ঘুরতে! এটা তো এইদেশে সম্ভব না!

সমাজতন্ত্রের ধ্যান ধারণায় গড়ে উঠা রাষ্ট্রের অধিবাসীরা জানল না যে গণতন্ত্রে কতটা অসহায় আমআদমি। ওরা সত্যিই বুঝেনা। যদি ওদের দেখানো যেতো যে এশিয়ায় ভেঙে তিন খন্ড হয়ে যাওয়া সবচেয়ে বৃহৎ রাষ্ট্রটির ( তিনটি) কি অবস্থা এখন , তাহলে হয়তো ওরা সমাজতন্ত্রের গুরুত্বটা বুঝতে পারত। বুঝতে পারত না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুতে, শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত হয়ে, কোরাপশানের ডাস্টবিনে, ডিগ্রি নিয়ে চাকরি না পাওয়ার যন্ত্রণা কতটা ...

অনেক ভালো লেগেছে অণু তোমার এই পোস্টটা। ওয়ান অফ ইওর বেস্ট চলুক

তারেক অণু এর ছবি

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস- মানব জাতির মূল সঙ্কট- সে যে কি চাই নিজেই জানে না!

পরী  এর ছবি

পড়তে পড়তে মুগ্ধ থেকে মুগ্ধ হয়েই জাচ্ছি শুধু। আহা! ফিদেল, রাউল বা চে- এর মতো এমন কেউ যদি বাংলাদেশে তৈরি হত, তাহলে এই দেশটাও কিউবার চেয়ে কোন কিছুতে কম হত না। কিন্তু সে শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।
নাদিন গার্ডিমার ক্রীড়া নিয়ে যুক্তিসঙ্গত মন্তব্য আর ফিদেলের বক্তব্য ছিল অসাধারন। সবকিছু মিলিয়ে লেখা (গুড়) হয়েছে।
চলুক

তারেক অণু এর ছবি

উৎসাহ দেবার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশে আসবে, একদিন অবশ্যই আসবে।

দীপ্ত এর ছবি

আপনার ভ্রমণকাহিনীর তো তুলনা হয় না, কিন্তু আমার পড়া এটাই সেরা লেখা। মানুষের গল্প আমার বরাবরই প্রিয়, আর কিউবা নিয়ে আপনি যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিলেন তা অনবদ্য, অসাধারণ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

একটা প্রশ্ন ছিল। মানুষ যে স্বার্থপর সে কথা তো আপনি বলেছেন। কিউবার মত, যদি কোন দেশে রাষ্ট্র নিজে থেকেই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয় তারপরও কিছু মানুষের সীমাহীন লোভ হয়তো বাঁধ মানবে না। অর্থাৎ যেভাবেই হোক একটা গাড়িবাড়ি হবে এই বাসনা মানুষের থাকবে। তার মানে কি এই যে কম্যুনিজম শাসন যে সাম্যর স্বপ্ন দেখায় সেটাও খুবই ক্ষণস্থায়ী কিছু? মানুষের লোভ যেহেতু ধ্রুব, সাম্যের স্বপ্নও তার মানে বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমন কিছু? শেষাবধি পুঁজিবাদ, অধিক ভোগবাদ এবং অনিবার্‍য পরিণতিতে প্রকৃতি ওপর হস্তক্ষেপ এবং পরিবেশের বিনষ্ট সাধন, এই কি পরিণতি?

আরেকটা জিনিস ভাবাচ্ছে, কিউবার মত সরকার যদি সততার সাথে পরিচালিত হয়, মানবাধিকার রক্ষিত হয়, মানুষের জীবনযাত্রা সুন্দর হয় তাহলে কি দশের কল্যাণে কিছু জিনিস (যেমন কিউবার বেলায় রাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ) মেনে নেয়া যায় বা উচিৎ? হয়তো বেশির ভাগ দেশেই এই অবস্থায় কোন ভোগী অসৎ একনায়কের আবির্ভাব ঘটে, কিন্তু আমি ভাবছি আদর্শ অবস্থায়, কিউবায় যেমন শাসন চলছে তেমন ক্ষেত্রে। মানুষ যদি মজ্জাগতভাবে স্বার্থপরই হয়, তাহলে ব্যক্তিস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে? যদি রাষ্ট্রের কল্যাণে কিছু অধিকার সীমিত রাখাটা ঠিকও হয়, তাহলে তার পরিসীমা কদ্দূর?

তারেক অণু এর ছবি

আপনি রাসেলের মানব জাতির কি ভবিষ্যৎ আছে? এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন, কিছু কিছু উত্তর মিলতেও পারে।
মানুষ কিন্তু তত বুদ্ধিমান প্রাণী নয় যত টা আমরা মনে করি।

মঈনুল এর ছবি

দারুণ।কিউবা যাবো সামনের বছর।ধন্যবাদ।

তারেক অণু এর ছবি

ওয়াও, আমারও যেতে ইচ্ছে করছে।

বিলাস এর ছবি

অসাধারণ লেখা অণুদা ! খুব খুব খুউব ভাল লেগেছে । আপনার অন্যতম সেরা লেখা আমার মতে ।ভাল থাকুন সবসময় , আসন্ন ভ্রমন উপভোগ্য হোক ।

তারেক অণু এর ছবি
থার্ড আই এর ছবি

নিছক ভ্রমন কাহিনী বললে আপনার শ্রমকে অশ্রদ্ধা করা হবে। কিউবা দর্শনের পাশাপাশি আন্তাজার্তিক প্রেক্ষাপটে আপনার তুলনামূলক আলোচনা, দেশটির সরকার, সামাজ ব্যবস্থা , শিক্ষা, চিকিৎসা, বর্ণ বৈষম্য, ক্রীড়া, নারীর অধীকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের আরোপিত সাম্যবাদী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগনের মতামত গুলো আপনি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার কাছে একজন লেখকের সার্থকতা তাঁর লেখার দৃষ্টি ভঙ্গিতে, সেই অর্থে কিউবা নিয়ে লেখা আপনার দৃষ্টি ভঙ্গি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ।

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

তারেক অণু এর ছবি

আপনার বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিছু ব্যাপার বাদ পড়ে গেছে, পরবর্তীতে লিখবেন নিশ্চয়ই অন্যরা।

achena এর ছবি

অনেক কিছু জানা গেলো কিউবা সম্পরকে, যা আগে এতটা দিটেইল্স জানতাম না। ছবিগুলো দেখা তো হল পাশাপাশি। সুন্দর একটা লিখা হয়েছে।

তারেক অণু এর ছবি

ভাল লাগল শুনে।

সৈয়দ নূর কামাল এর ছবি

১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০০১ থেকে ১০ এপ্রিল ২০০১ পর্য্যন্ত প্রায় দুই মাস কিউবায় ছিলাম। বেশিরভাগ সময় সেন্ত্রো হাভানার মালেকনের পাশে মান্‌রিকে গলিতে গুস্তাভো আর আলেহান্দ্রো নামের দুই কিউবানের বাসায় কাটালেও ক’টি দিন কাটিয়েছি মিরামারের হোটেল নেপতুনুতে। দুটি হোটেল পাশাপাশি নেপতুনু আর ত্রাইতন।

এখনো ভুলতে পারিনি ভেদাদোর কিউবানা অফিসের বাইরের রাস্তা, প্লাজা দে লা রেভুলুসিয়ন, সিমেন্তারিও দে ক্রিস্তোবাল কোলোন এর আমেলিয়া গোয়রির কবর, প্লায়া মালেকন, জেলে পল্লী কোহিমার আর আলামারের কথা। অনেকদিন পর আপনার এই লেখা আর ছবি গুলো দেখে ফিরে গেলাম সেই প্রায় এক যুগ আগের অতীতের দিনগুলিতে।

আপনার বেশিরভাগ লেখার সাথে একমত তবে দারিদ্রের কষাঘাত যে নেই সেটা মানতে পারিনি। অর্থের জন্য সেন্ত্রো হাভানার গলিতে চিকাদের (চিকার মানে আপনি ভালোভাবে বুঝবেন)বারবার আহবান সেটাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে।

তারেক অণু এর ছবি

ভালো লাগল আপনার স্মৃতিচারণ। লিখুন না সেই সময়ের কিউবা নিয়ে !

দারিদ্র নেই, চিকা নেই এমন দেশ কি আছে! এক চিকার সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, রাষ্ট্র আমাকে শ্যাম্পু কেনার পয়সা দিতে পারে না, একজন ট্যুরিস্ট দিতে পারে! তবে ফিদেলের এক সাক্ষাৎকারে শুনেছিলাম আদি পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সেখান গ্রাজুয়েট।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দ্বিতীয় ছবিটা দেইখাই ঠিক কৈরা লাইছি, ক্যুবা যাইতেই হৈবো, যা আছে কপালে! ইয়ে, মানে, আরও কয়েকটা স্যাম্পল দেয়া যায় না ব্রো!

তারেক অণু এর ছবি

সত্য কইরা কন তো মুরব্বী ভাই, ২ নং, না ৩ নং !

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি

১ রে কি দেহেন জানতে মুঞ্চাই, ২ না ০ দেঁতো হাসি

চরম উদাস এর ছবি

দারুণ লাগলো এই লেখাটা। একটা হালকা প্ল্যান ছিলো আপনাকে একটা ডিজিটাল গণধোলাই দেয়ার, কিছুদিন স্থগিত রাখলাম এটা পড়ার পর চিন্তিত

তারেক অণু এর ছবি

দেরী করে ফেললেন বড় ভাই, দেঁতো হাসি । কাল লম্বা হচ্ছি, বেঁচে থাকলে হাসতা লা ভিস্তা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ভিস্তা না ব্যাটা, প্রক্সিমা। হাস্তা লা প্রক্সিমা...

তারেক অণু এর ছবি

না কি মানিয়ানা!

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

গুল্লি ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না এই মুহুর্তে।

কিউবাতে সবচেয়ে বেশী বিরক্ত লেগেছে হাভানার অনেক জায়গাতে লোকজনের সিগার কেনার জন্য আহ্বান, শালীনতা বজায় রেখেই, কিন্তু বারংবার , ঐ বন্ধু, চুরুট কিনবে নাকি, শুনতে কার ভাল লাগে !

এটা অবশ্য আমি শুনতে পছন্দ করতাম। খাইছে

সাইসটেইনেবল বলতে বেশি ব্যবহৃত হয় 'টেকসই' শব্দটা।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তারেক অণু এর ছবি
Ferdous Rana এর ছবি

দারুন লাগলো, অসাধারণ। ধন্যবাদ আপনাকে।

তারেক অণু এর ছবি
guest_writer ফেরারী পাখি এর ছবি

ফিদেল ক‌্যাস্ট্রো বা চে গুয়েভারা বা তাঁদের সাম্যবাদী ব্যবস্থা জানা ছাড়া কিউবা সম্পর্কে আর তেমন কিছুই ভালো করে জানতাম না। যা জানতাম তা হল কিউবা সম্পর্কে অনেক অপপ্রচার।
আপনার এই লেখাটা অনেক ভুলই ভাংগিয়ে দিল। অভিনন্দন আপনাকে দূর্দান্ত একটা লেখা উপহার দেবার জন‌্য।

তারেক অণু এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। আমারো অনেক ধারণা হয়ত সঠিক না, এত অল্প সময়ে এত গভীর ভাবে উপলব্ধি করা মুশকিল।

শামীমা রিমা এর ছবি

সবাইতো সব ভালো মন্তব্য করে ফেলেছে । আমি তো চিন্তায় পড়ে গেলাম কি বলা যায় ?
উত্তম জাঝা!

তারেক অণু এর ছবি

পড়েছেন, তাতেই হবে।

তানভীর এর ছবি

দারুণ! চলুক

কিউবা একসময় বিজ্ঞান, প্রযুক্তিতেও আমেরিকার চেয়ে উন্নত ছিলো। আমেরিকার আবহাওয়া অফিস আগে পূর্বাভাসের জন্য কিউবান আবহাওয়াবিদদের কাছে ধর্না দিত। ১৯০০ সালে গ্যালভেস্টনে যে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হয়েছিলো তার পূর্বাভাস কিউবার আবহাওয়া অফিস অনেক আগেই দিয়েছিলো। কিন্তু আমেরিকানরা সেটা পাত্তা দেয় নি। ফলশ্রুতিতে প্রায় ৮-১২ হাজার লোক সেবার নিহত হয়েছিলো, যা আমেরিকার ইতিহাসে এখনো সর্বোচ্চ। এরপর থেকে আমেরিকান আবহাওয়াবিদরা কিউবাকে অনেক সমীহ করতো (সে যুগে রাডার, স্যাটেলাইট ইত্যাদি কোনো ধরনের প্রযুক্তি ছিলো না, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিলো অনেক দুরূহ ব্যাপার)।

কিউবার অপপ্রচারের জন্য কিউবানরা বিশেষ করে দেশত্যাগী কিউবানরাও খানিকটা দায়ী। রাষ্ট্র আমেরিকা তো করবেই, কিন্তু ফ্লোরিডায় বাস করা প্রাক্তন কিউবানরা কিউবার সমালোচনায় আরো বেশি উচ্চকণ্ঠ। কিউবা তাই বেশি ভালো, সেটা এই কিউবানদের কথা শুনে মনে হয় না। আর ফিদেল যত ভালোই হোক, একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা এতদিন ধরে আঁকড়ে থাকাও এক ধরনের দুর্নীতি। কারণ, দিন শেষে এ পৃথিবীতে কেউই অপরিহার্য নয়।

তারেক অণু এর ছবি

তা তো বটেই। ফ্লোরিডায় তো শুনি এখন ২ মিলিয়ন কিউবান আছে।
ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে তো রাউলের কথাই বললাম, তারা তরুণ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে সক্ষম হয় নি, অনেক ক্ষেত্রেই হয় ক্ষমতা পাওয়ার চেয়ে ছাড়া কঠিন হয়ে যায়।

সুমাদ্রি এর ছবি

এই লেখাটার জন্যই ছিলাম। ধন্যবাদ।

তারেক অণু এর ছবি
আজহার এর ছবি

ফাট্টাফাট্টি হইছে, অণু ভাই... গুল্লি

তারেক অণু এর ছবি

গুল্লি হবে গুল্লি!

মন মাঝি এর ছবি

চমৎকার লেখা! এই লেখায় আপনার পার্সোনাল টাচটা খুব স্পষ্ট বলে আরো ভাল লাগল। আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে একমত না আমি, কিন্তু নিজের অনুভূতির কথা অকপটে সুন্দর করে বললেন বলে খুব ভাল লাগল।

তবে দু'টি খটকার কথা না বলে পারছি নাঃ

১। বাংলাদেশে বর্ণবাদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আপনি বলেছেন,

...আমাদের মত পরিবারের বাচ্চাদের সাথেই, সহপাঠীদের সাথে, একজন শ্রমজীবী রিকশাওয়ালা বা মৎস্যজীবীর শিশু সেই জগতে ঢোকার অনুমতি পায় না...

আমার জানামতে এটা কিন্তু 'বর্ণবাদ' না। শ্রেণীবৈষম্য বা শ্রেণীবিভেদ বলা যেতে পারে। দু'টো মোটেই এক জিনিষ না।

২। ক্যাস্ট্রোর বেতন যদি মাসে ৩০ ডলারই হয়, তাহলে উনি অমন করে চিমনির মত 'কোহিবা' সিগারের ধোঁয়া ওড়াতেন কিভাবে? আমার জানামতে এক পিস কোহিবা সিগারের দাম ২৫-৬০ ডলারের মত। দিনে যদি উনি এমনকি মাত্র ১টাও সিগার খেতেন, তাহলে স্রেফ ধোঁয়া ওড়ানোর পেছনে মাসে উনি কতগুলি ডলার নষ্ট করতেন? ১৮০০? তাহলে উনার মাসিক বেতন ৩০ ডলার খরচ করে ফেলার পর বাকি ১৭৭০ ডলার কোত্থেকে আসতো, সে ব্যাপারে আমার কৌতুহল রইল। তাছাড়া, মাসিক বেতন সবটাই ধোঁয়ার পেছনে উড়িয়ে দেয়ার পর উনি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পেট ভরানোর জন্য স্বাভাবিক খাদ্যের পয়সা পেতেন কোথায়, সে বিষয়েও আমার কৌতুহল রইল।

****************************************

তারেক অণু এর ছবি

ঠিকই বলেছেন, শ্রেণী বৈষম্য বোঝাতেই চেয়েছি, আর তখন মাথায় ছিল হিন্দু ধর্মের উচ্চ বর্ণ- নিম্ন বর্ণের ভেদাভেদের কথা। তাই, লেখা হয়ে গেছে।
বিদেশীদের জন্য চুরুট অনেকদ আমি হলেও স্থানীয়রা কিন্তু অনেক সস্তায় পেতে পারেন। আমি নিজেও ২৫০ ডলারের বাক্স ২৫ ডলারে পেয়েছি। আর রাষ্ট্রীয় কাজে থাকলে তাদের খরচ নিশ্চয়ই আলাদা বহন করা হয়, যেমন চে বিশ্বের অনেক দেশে কিউবার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ভ্রমণ করেছেন কিন্তু খরচ বহন করেছে রাষ্ট্র।

সাদরিল এর ছবি

কিউবার ক্রীড়া নিয়ে বলার সময় কিছু মন্তব্য করেছিলেন। যেমন "খেলোয়াড়দের খেলা ছাড়ার পর বেশী দিন লোকে মনে রাখে নাঃ একজন খেলোয়াড় মানুষকে বিনোদন দেয়া ছাড়া আর কী দিতে পারে"।আমার কথা হলো,কয়জন মানুষের-ই বা বিনোদন দেবার ক্ষমতা থাকে (তাই বলে খেলোয়াড়দের পুরস্কারে ভাসিয়ে দেয়ার পক্ষে আমি নই)।আমার দাদার আমলে খেলে যাওয়া ব্রডম্যানকে বুঝি লোকে মনে রাখে নি? আপনার লেখাই বা আমি কেন পড়ছি?বিনোদন পাচ্ছি বলেই তো পড়ছি।আরেক জায়গায় বলেছেন মানুষ স্বার্থপর প্রাণী।আমিও একমত।এই খেলাধূলাই কিন্তু আবার মানুষকে ব্যাক্তিগত স্বার্থ থেকে বিরত হয়ে নি:স্বার্থ হয়ে দলের প্রতি আনুগত্য শেখায়
যাই হোক,খেলাধূলো নিয়ে আর ধুলো না উড়িয়ে আপনার লেখার কথায় আসি।আমি আপনার নব্য নিয়মিত পাঠক।আপনার লেখা পড়লে মাগনা কয়েক জায়গায় ঘোরা হয়ে যায়।কিন্তু এত জায়গায় আপনি কীভাবে বিরতিহীনভাবে ঘুরে যাচ্ছেন জানতে ইচ্ছে হয়।
আরেক্টা প্রশ্ন,বেতন বা লাভ বেশি নেই তাই কিউবায় অনেকেই মন দিয়ে কাজ করে না জানলাম।যদি কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহই না থাকে তাহলে কিউবার অর্থনীতি এতটা স্বাবলম্বী হলো কীভাবে?

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ আপনের মন্তব্যের জন্য। কিন্তু ব্রাডম্যানের আমলের আর ১ জন ক্রিকেটারকে আমরা মনে রেখেছি ! রাখিনি। তাহলে কি আর ১০০ বছর পর বর্তমান বিশ্বের লাখ লাখ ক্রিকেটারের মধ্যে মানুষ কেবল শচীনকেই মনে রাখবে! আর আমি কিন্তু কয়েক হাজার বছরের কথা বলেছি। সাহিত্য, শিল্পের সাথে ক্রীড়ার পার্থক্য এখানেই।

কিউবার অর্থনীতি স্বাবলম্বী হবার পিছনের নিশ্চয়ই সমষ্টিগত অবদানই বেশী, কিন্তু বেশ কয়েক দশক এক ব্যবস্থা চলতে থাকলে হয়ত মানুষ উৎসাহ হারিয়ে চাকচিক্যময় জীবনের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়।

ঘোরা হয় আসলে নেশায় পড়ে, হাসান রাজার নেশা দুচোখে একবার লাগলে থামা মুশকিল দেঁতো হাসি

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

অসাধারণ, অসাধারণ একটা লেখা। সম্ভবত আমার এ যাবৎ বাংলা ব্লগে পড়া সেরা লেখা। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আমরা কেমন করে গড়ে তুলতে চাই তার একটি দিক-নির্দেশক হয়ে থাকুক লেখাটি!

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

তারেক অণু এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ।
আচ্ছা, যদিও বিশ্বের অন্য মাথায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি বলে যে কোন বাংলাদেশবাসী সেখানে কোন মতে পৌঁছালেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে, তাহলে কি ঘটে যেতে পারে অ্যাঁ

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

বাংলাদেশে তো আমরা অনেক ছোট জায়গায় অসম্ভব রকমের বেশি মানুষ থাকি। এরকম একটা সিস্টেম থাকলে খারাপ হতো না মনে হয় -- যারা চলে যেতে চা্য় চলে যাক না হাসি

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

তারেক অণু এর ছবি

হুমম--

মুস্তাফিজ এর ছবি

চমৎকার এবং গোছানো। অনেক মন্তব্যের সাথে একমত না হলেও এই লেখাটার জন্য পাঁচতারা।

...........................
Every Picture Tells a Story

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাই উৎসাহের জন্য। সুন্দরবনের আর কিচ্ছা কবে পড়ব !

দিগন্ত এর ছবি

পলিসি বিচারে সব মানুষের সমান সুযোগ কাম্য, কিন্তু সব মানুষের সমান ফল হওয়া সম্ভব না - কারণ সমান সুযোগ পেলে সব মানুষ সমান ফল দেয় না। রাষ্ট্র যদি ট্যাক্স নামক যন্ত্রের মাধ্যমে সবাইকে সমান ফল দেবার চেষ্টা করে তাহলে একটা সময়ের পরে সেই সিস্টেম অকেজো হয়ে যাবে। কিউবাতে প্রতিযোগিতা নেই, তাই কিউবার পক্ষে একটা সময়ের পরে অন্য দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে বেঁচে থাকা শক্ত হবে। কিউবার সবথেকে ভাল জনগণ পাড়ি দিয়ে বিদেশে চলে যাবে, আর যাদের গতি হবে না - তারা দেশে পড়ে থাকবে। এই অবস্থা থেকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব না। মানুষের প্রকৃতিই এরকম যে পেছনে তাড়া না থাকলে দৌড়য় না।

কাস্ত্রোর মিডিয়া-নিয়ন্ত্রণ আমি সমর্থন করি না। এই মিডিয়ার হাত ধরেই কিউবা কিন্তু ভেঙে পড়বে খুব তাড়াতাড়িই। কারণ আমেরিকার কাট-থ্রোট ক্যাপিটালিসম টিভি ছেড়ে ইন্টারনেটের যুগে মানুষকে নিয়ে গেছে - যেখানে কিউবা এখনও কৃষি উৎপাদনের যুগেই আছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তারেক অণু এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনার প্রতিক্রিয়ার জন্য।
কিন্তু আমি জানতে চাই, উন্নয়ন বলতে আসলেই কি বোঝায়! ইন্টারনেট বা মহাকাশ যুগে প্রবেশকেই যদি উন্নতি চিহ্ন ধরা হয় তাহলে সারা বিশ্বের হিমালয়ের কোলের ক্ষুদের রাষ্ট্র ভুটানকে কেন বিশ্বের সুখীতম রাষ্ট্র হিসেবে গণনা করা হয়! আমাদের অন্য সব কিছু ছাড়া চলে কিন্তু কৃষি ছাড়া চলে কি!

প্রতিযোগিতা নিয়ে ঠিকই বলেছেন, এই জিনিসটা মানুষের মজ্জাগত, এ না থাকলে এবং কোন না কোন রকমের লাভের আশা না থাকলে অধিকাংশ মানুষই কাজ করতে চায় না।
এই প্রসঙ্গে গান্ধীর কথা মনে পড়ল- মানুষের একটি গাছ এবং একটি গরু, এর বেশী কোন কিছুর প্রয়োজন নেই।

দিগন্ত এর ছবি

"মানুষের একটি গাছ এবং একটি গরু, এর বেশী কোন কিছুর প্রয়োজন নেই।"

মুশকিল হল, দশজন মানুষের মধ্যে একজনের চাওয়াটা একটু বেশী হবে আর তার জন্য সে খাটতেও রাজী থাকবে। দশবছর পরে সে বাকি নয়জনের মোড়ল হয়ে যাবে। শত হোক, মানুষ বিবর্তনের ফসল - যোগ্যতমের উদ্বর্তনের মাধ্যমেই মানুষ টিঁকে আছে। তাই প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, আর ফল আশা করাটাও মজ্জাগত। এই মজ্জাগত সত্য মজ্জা থেকে দূর করতে হলে ছোটো থেকে ব্রেনওয়াশ করতে হয়, আর মিডিয়া ব্যান করে রাখতে হয়।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দিগন্ত এর ছবি

তবে আগের কমেন্টে আপনার লেখার প্রশংসা করা হয়নি। আমি আপনার লেখায় কোনো কমেন্ট সচরাচর করি না - কারণ আমি আপনাকে হিংসা করি হাসি


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তারেক অণু এর ছবি

আবারো ধন্যবাদ। আরে মন্তব্য করবেন রে ভাই সময় করে।

আমি জানি না এর ছবি

চমৎকার বর্ণনা, মুগ্ধ হয়ে আবারো পড়লাম। ধন্যবাদ জনাব হাসি

তারেক অণু এর ছবি
পথের ক্লান্তি এর ছবি

এক টানে পড়ে ফেললাম। বুঁর্জেয়াবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমাজতন্ত্রে টিকে থাকা কিউবা সম্বন্ধে অসীম কৌতুহল মিটল অনেকটা।
খেলাধূলা বিষয়ক অংশটার সাথে একমত হতে পারলাম নাঃ(

তারেক অণু এর ছবি

সমাজতন্ত্র বলে আসলে কি বোঝায় তা কিন্তু এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ অধিকাংশ যে দেশগুলোতে সমাজতন্ত্র চালু ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ তার অধিকাংশ গুলোতেই ভরে গিয়েছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর একনায়কতন্ত্রে।। সামনে বছর এই নিয়ে একটা পোস্ট দেবার আশা রাখি।

দ্বিমত অবশ্যই থাকতে পারে, কারণ সহ বললে ভাল হয়। সেক্ষেত্রে লেখকের ভুল থাকলে, ভুলে শুধরে নেবার সুযোগ থাকে।

সাফি এর ছবি

এই লেখাটা আগের ভ্রমণকাহিনীগুলোর চেয়ে অনেক বেশী ভাল লাগলো

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ, কিন্তু কারণ কি চোখ টিপি
লেখা বড় বলে, বা নিজের কথা বাদ গেছে বলে দেঁতো হাসি

সাফি এর ছবি

আগের ভ্রমণ কাহিনীগুলোতে ধরেন একটা জায়গার বা উৎসবের বর্ণনা পেয়েছি। ছবির কাহিনী সাথে অনুষঙ্গ হিসেবে লেখা এসেছে, কিন্তু এই লেখায় বর্ণনাই মূল। দেঁতো হাসি

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ।

ন এর ছবি

কিউবা আমার স্বপ্নের দেশ, ভীষণ কৌতুহল আমার কিউবা নিয়ে। আপনের কিউবা ভ্রমণের কথা শুনেই এমন একটা লেখা পড়ার অপেক্ষায় ছিলাম। অনেক ধন্যবাদ অণু দা, কিছুটা কৌতুহল মিটল, বাকিটা মিটবে নিজে যবে সরজমিনে প্রত্যক্ষ করতে পারব, সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি। ভাল থেকেন, নতুন বছরের শুভেচছা

তারেক অণু এর ছবি

অবশ্যই যাবেন। তবে আগস্টে বেশী গরম।

সাকিন উল আলম ইভান এর ছবি

তারেক ভাই এর লেখা না পড়লে আজকের দিন খারাপ যাবে গুরু গুরু গুরু গুরু

তারেক অণু এর ছবি
মাসুম এর ছবি

অনেক গোছানো একটা লেখা, পড়ে মুগ্ধ হলাম

তারেক অণু এর ছবি
নাশতারান এর ছবি

একটা ইউটোপীয় সমাজের গল্প পড়লাম মনে হলো। এমন সমাজের অংশ হতে পারলে সুখী হতাম।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

তারেক অণু এর ছবি

হুমম, চাইলেই হয়তে পারেন।

স্বাধীন এর ছবি

ভিন্ন স্বাদের একটি লেখা। চমৎকার লাগলো। চলুক

তারেক অণু এর ছবি
নিশা এর ছবি

অণুদা, ( বানান এবার ঠিক? হাসি )
এবারকার লেখাটা আপ্নার শ্রেষ্ঠ লেখাগুলোর একটা। খুব খুব ভাল লাগল।

তারেক অণু এর ছবি

শুভেচ্ছা

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এই লেখাটা অন্যরকম, এই লেখার মত লেখা চাই আরও।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তারেক অণু এর ছবি

আসিতেছে

হিমু এর ছবি

কিউবাতে যান্ত্রিক চাষ বন্ধ হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার কারণে সস্তায় তেল সরবরাহ বন্ধ হবার কারণে। তার আগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতেই চাষ হতো।

তারেক অণু এর ছবি

এখনো তো আরো সস্তায় তেল পাচ্ছে ভেনিজুয়েলার কাছ থেকে, কিন্তু তারা কি আবার আগের জীবনে ফিরে যাবে? ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ায় তো জ্ঞানীর কাজ।
আর ক্রুসচেভের আমলের সোভিয়েত ঘুঁটি হবার উপক্রম কালে যে একখান সময় গেছে কিউবাতে, এই নিয়েই একটা বিশাল লেখা লিখা যায়।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

অনেক সময় নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লাম। আপনার অন্য লেখাগুলোর চাইতে এটা একদমই আলাদা। নিরপেক্ষ পর্যটকের চোখে বর্ণনার চাইতে এভাবে নিজের অনুভূতি নিয়ে বর্ণনাটা অনেক বেশি ভালো লাগে...

আপনার সেরা লেখা হাততালি

তারেক অণু এর ছবি

হুম, টক ঝাল মিষ্টি ।

Mousumii এর ছবি

আফসোস !!!!!!!!!!!!!! কোপাও মামা...

তারেক অণু এর ছবি
রু (অতিথি) এর ছবি

তারেক অণু, খুব সুন্দর লেখা। আপনার অন্যগুলো থেকে একদম ভিন্ন স্বাদের। ক্যাস্ট্রোর প্রতি শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু তারপরেও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখাটা মানতে পারিনা। সাম্যবাদ না থাকলে ক্যুবা আরও উন্নতি না করে অবনতি ঘটাতো, এমন কথা কি হলফ করে (কিংবা সম্ভাবনা বেশি) বলা যায়?

তারেক অণু এর ছবি

হলফ করার দরকার নাই, ৫০ বছর আগের কিউবা দেখলেই বুঝতে পারবেন উন্নতি হয়েছে না অবনতি !

কালো কাক এর ছবি

যোগ্যতা বা কাজের পরিধি যাই হোক সবার জন্য একই বেতন , এই ব্যাপারটা ভাল লাগলো না। কাজের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হওয়া উচিত যোগ্যতা অনুযায়ী এবং উপরে উঠার সিঁড়ি অবশ্যই থাকতে হবে। ইন্ডিভিজুয়াল মানুষ একজায়গায় বসে থাকলে সম্পূর্ণ জাতির উন্নতি সম্ভব না। আর মোটিভেশন না থাকলে ব্যক্তিগত উন্নতি হবে কী করে?
কিউবাতেও মানুষের মোটিভেশন ফ্যাক্টর কিন্তু টাকা (ডাক্তার তার ৩০ডলার বেতন নিয়ে আফসোস করছেন)। রাষ্ট্রের মানুষগুলোর ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য কোন মোটিভেশন না থাকলে রাষ্ট্র হিসেবে কতদিন সাস্টেইন করা বা কতটুকু উন্নতি করা সম্ভব ?
খেলাধূলার ক্ষেত্রে আমার মতের সাথে মিল পাওয়া গেল কয়েকজন মানুষের এই লেখার মাধ্যমে। দেঁতো হাসি

তারেক অণু এর ছবি

মানুষের মোটিভিশন নিয়েই তো যত সমস্যা, তার তো চাওয়ার শেষ নেই!
এই জন্যই হয়ত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের উৎসাহ কমে আসে সময়ের সাথে। মৌলিক অধিকার পূর্ণ হবার পরপরই তো মানুষ অন্য জিনিসের কথা চিন্তা করতে শুরু করে।

কালো কাক এর ছবি

চাওয়ার শেষ নেই বলেই তার সামনে সিঁড়ি রাখতে হয়। তুমি যতটুকু পার উঠে যাও। যে পারবেনা এক জায়গায় পড়ে থাকবে। হাসি

তারেক অণু এর ছবি

জানি না, এত প্রতিযোগিতার, ওঠাওঠির দরকার টা কি !
শেষ পর্যন্ত তো ফলাফল একই।

মন মাঝি এর ছবি

প্রশ্নটা এভাবে করতে পারেনঃ খাঁচার পাখি আর বনের পাখির মধ্যে পার্থক্য কি? রবীন্দ্রনাথের গানটা মনে আছে? তফাৎটা বুঝতে পারছেন?

আচ্ছা ধরুন, আপনি বনের পাখিকে প্রস্তাব দিলেন - আরে বাবা, এত ওড়াওড়ির দরকার টা কি ! জীবনভর এত কষ্ট করে পোকামাকড় শিকার করে করে পেট চালানোরই বা দরকার টা কি !! শেষ পর্যন্ত তো ফলাফল একই।

তার চেয়ে বরং ঐ খাঁচায় গিয়ে ঢোকো, বাকি জীবন ওড়াওড়ি-খাটাখাটনি না করে আরামসে খেয়ে পরে থাকতে পারবে। ঝড়বাদলে নিরাপদ উষ্ণ আশ্রয়, পছন্দমত খাবার-দাবার, কোর্টশিপ বা প্রতিযোগিতার ঝামেলা ছাড়াই সঙ্গী-সঙ্গীনির ব্যবস্থা - সব ফ্রীইইই। তোমার বনের জীবনের চেয়ে অনেক ভাল, নিরাপদ আর আরামের জীবন।

আপনার কি মনে হয় মুক্তবিহঙ্গ বনের পাখি আপনার প্রস্তাব মেনে নেবে ?

আরেকটা প্রশ্ন আমার মাথায় আসল। আচ্ছা ধরুন (তর্কের খাতিরে) বিবর্তনের ধারায় মানুষের পূর্বপুরুষ যখন শাখামৃগ জাতীয় প্রাণী ছিল, তখন যদি তাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রবেশ করানো হতো এবং তাদের মধ্যে "মোটিভেশন নিয়ে যত সমস্যা" আছে সব দূর করে ফেলা হতো, তাহলে কি হতো ? ধরা যাক, ঐ শাখামৃগদের নেতা 'ডিয়ার লীডার' বা 'ব্রাদার লীডার'-রা তাদেরকে বললো - হে কমরেডগণ, আমরা এখন এক স্বর্গরাজ্যের স্বর্ণযুগে বসবাস করছি, গাছে-গাছে ডালে-ডালে কত ফলমূল, কত খাবার-দাবার, এক ডাল থেকে আরেক ডালে ঝুলে ঝুলে যেতে কি মজা-কি আনন্দ, আমাদের সব মৌলিক অধিকার পরিপূর্ণ - এর কোন তুলনা নাই। খামাখা মাটিতে নামার দরকার টা কি ! এত লোভ, এত খাই-খাই, এত চাওয়াচাওয়ির তো কোন শেষ নাই ! এইসব মোটিভেশন মোটেই ভাল না। সেধে অজানা বিপদ ডেকে আনার কি দরকার বাপু ! চল, আমরা যেখানে আছি - সেখানেই থাকি।

বলুন তো, সেদিন ঐ শাখামৃগরা এই প্রস্তাব মেনে নিলে আমরা আজ কৈ থাকতাম ? এবং ক্যাস্ট্রো ও কিউবানরাই বা কৈ থাকতো আজ ?

কিম্বা ধরুন, বিপজ্জনক যাযাবর শিকারী-সংগ্রাহক সমাজ থেকে সেডেন্টারি কৃষিভিত্তিক সমাজে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মানব সভ্যতায় একটা কোয়ান্টাম লীপ বা বৈপ্লবিক উত্তরন ঘটে। এসময় জীবনাচরন অনেক ভাবে বদলে যায়। তাদের হাতে সারাক্ষণ গতানুগতিক খাদ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার বদলে খানিকটা মনে হয় অবসর সময়ও জুটে যায়। এই পর্যায়ে এই সময়কে কাজে লাগিয়ে কিছু অতিরিক্ত মোটিভেশনওলা মানুষ - নেই কাজ তো খৈ ভাজ - নানারকম নতুন নতুন সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানো আরম্ভ করে। তারা নানারকম আবিষ্কার-উদ্ভাবন-ঘরবাড়ি নির্মান-যন্ত্র বা হাতিয়ার নির্মান থেকে শুরু করে সঙ্ঘবদ্ধ বৃহত্তর সমাজ নির্মান শুরু করে। এদের হাত দিয়েই সেই আদি চাকা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন ধরণের বাহন, শহর-বন্দর, ব্যবসা-বানিজ্য, এমনকি লিখিত ভাষাটাও সৃষ্টি হয়।

এখন বলুন তো, কৃষিসভ্যতার অভ্যুদয়ের পরপরই যদি ঐসব সমাজের ব্রাদার বা ডীয়ার লীডাররা উপরে বলা শাখামৃগদের ডীয়ার লীডারদের মতই তাদের জনগনকে বলতেনঃ হে কমরেডগণ... আর কোন মোটিভেশনের দরকার নাই আমাদের! চালচুলোহীণ, নেঙটি-পরা, জংলি, যাযাবর শিকারি জীবনের তুলনায় আমাদের এই মহান কৃষিসভ্যতা কি বিশাল, মহান বৈপ্লবিক উত্তরণ! যা চেয়েছিলাম, তার থেকেও অনেক বেশি পেয়েছি। আর কি চাই আমাদের! এটাই তো সেই সব মৌলিক অধিকারের পরিপূর্ণতার প্রতিশ্রুত স্বর্গরাজ্য, আমাদের চূড়ান্ত ইউটোপিয়া। এখন আর কোনরকম প্রতিযোগিতা, ওঠাওঠি, বা নতুন মোটিভেশনের দরকার টা কি ! আসুন, সব নতুন মোটিভেশনওয়ালাকে আমরা দেশ ও জনগনের শত্রু এবং প্রতি-বিপ্লবী কাউন্টার-রেভ্যুলেশনারি হিসেবে চিহ্নিত করে কোন ক্ষতি করার আগেই কারারুদ্ধ করে রাখি।

আমি ভাবছি, তখনকার ডীয়ার লীডারদের এই আহবান সফল হলে - আমরা আজ কৈ থাকতাম বলতে পারেন ? কিম্বা ক্যাস্ট্রো, কিউবা, চীন, রাশিয়া, মার্ক্স, লেনিন, মাও, কমিউনিজম ? কৈ থাকত এই ইন্টার্নেট, এই ব্লগপোস্ট, এই সচলায়তন, এমনকি আমাদের লিখার ভাষা ? ভাষাজনিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা নাহয় বাদই দিলাম। ক্যামনে পড়তাম আমার প্রিয় বিশ্বপর্যটক তারেক অণুর একের পর এক ফাটাফাটি ভ্রমণ-কাহিনি ? আর তারেক অণুই বা ক্যামনে এমন বিশ্বভ্রমণ করতো ? দেঁতো হাসি

যাক, একটু মজা করার অপচেষ্টা করলাম উপ্রে। মাইন্ড খাইয়েন না আবার। আর মজাটা না জমলে এবং হাতি-মার্কা কমেন্টে বিরক্ত হলে দূঃখিত।

****************************************

কালো কাক এর ছবি

চলুক

তারেক অণু এর ছবি

আরে নিজের মনের কথা বলবেন না ! কমেন্ট চমৎকার হয়েছে, কিন্তু খাচার পাখি আর বনের পাখির ব্যাপারটায় একটু ভিন্নতা আছে, আমাদের দেশের যে লোকগুলো দারিদ্রসীমার অনেক নিচে বাস করে, শেষ এক সমীক্ষাতে দেখেছিলাম বাংলাদেশের ৩০ % মানুষ, মানে প্রায় ৬ কোটি লোক, আর কিছু না হোক অন্তত ৩ বেলা পেট ভরে খেতে পায় না এখনো। তারা মনে হয় অন্য আর সবকিছুর চেয়ে এমন ব্যবস্থায় মেনে নিবে। আসলে সোভিয়েত ব্যবস্থা এতটাই মানুষের মনে ভীতির উদ্রেক করে গেছে সমাজতন্ত্র মানেই মানুষ রাশিয়া বোঝে, আর স্টালিন বোঝে। এখানেও একটা বড় মুশকিল।

নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার লাগল।

তারেক অণু এর ছবি
মুহিত হাসান এর ছবি

চোখ টিপি

তারেক অণু এর ছবি
দিগন্ত বাহার* এর ছবি

আপনাকে হিংসা করতাম খুব, সারাদুনিয়া ঘুরে বেড়ান! কিন্তু এত সুন্দর তুলনামুলক বর্ণনা পরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম একটা...নাহ...এরকম বর্ণনা দেয়ার ক্ষমতা যার আছে ঘুরাঘুরি তাকেই মানায়। শুভেচ্ছা রইলো...

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ। আরে যারা ঘুরে তারা কিন্তু সাধারণত বর্ণনা করে না !

মিলু এর ছবি

উত্তম জাঝা! চলুক

তারেক অণু এর ছবি
উচ্ছলা এর ছবি

অসাধারণ!
অগাধ মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম এই পোস্টে চলুক উত্তম জাঝা!

মুহিত হাসান এর ছবি

খাইছে

তারেক অণু এর ছবি

মেক্সিকো থেকে শুভেচ্ছা, মিষ্টি পাঠানো সম্ভব না, চাইলে ট্যাঁকিলা বা মরিচ পাঠাতে পারি।

প্রদীপ্ত এর ছবি

খাসা লেখা।

তারেক অণু এর ছবি
রানা মেহের এর ছবি

আপনার এই লেখাটা কালই দুবার পড়েছি।
অনেক অনেক ভালো লাগলো। কিঊবা নিয়ে এরকম বিশ্লেষনধর্মী লেখা পড়িনি আগে।
শুভেচ্ছা জানবেন

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ আপু, তবে এক বসায় রাত জেগে লেখা তো, কিছু পয়েন্ট বাদ পড়ে গেছে।
মেক্সিকো থেকে শুভেচ্ছা।

দময়ন্তী এর ছবি

একেবারে অজানা সব গল্প| খুব ভাল লাগল|

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ।

রায়হান আবীর এর ছবি

সবকিছু মিলিয়ে কী চমৎকার একটা লেখা পড়লাম- অনেক ভালোলাগা ...

তারেক অণু এর ছবি
রোমেল চৌধুরী এর ছবি

অণু,
তোমার এই পোষ্টটির বাঁকে বাঁকে একটি বড় ফর্মার বইয়ের সম্ভাবনা ঝিলিক দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একটু ভাববে ভাই?

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ রোমেল ভাই, বই রেডি, প্রকাশক কই !

কাশফুল এর ছবি

চমৎকার একটি লেখা। খুব খুউব ভাল লাগল। উত্তম জাঝা!
ভাই, তিব্বত নিয়ে এরকম বড় একটা পোস্ট দেয়ার অনুরোধ থাকল।

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ। লিখব তিব্বত নিয়ে, ওখানকার অভিজ্ঞতা একটু অন্য ধরনের ছিল কিনা।

জামিল এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ

তারেক অণু এর ছবি

শুভেচ্ছা।

আহমাদ ইমতিয়াজ খান এর ছবি

এই মিয়া আপনে আপনার কাজ কাম নাই?
এইসব লেখা লিখসেন কেন?
পুরাই মাথা নষ্ট হয়ে গেলো। কেনো লিখলেন?? ধুরো ধুরো ধুরো।

অগাধ মুগ্ধতা সামাল দিতে না পেরে ধিক্কার জানাইলাম। মাইন্ড করিয়েন্না

তারেক অণু এর ছবি
শাহাদত এর ছবি

কিউবা সম্পর্কে অনেক মতই পড়া হল এই পোস্টের কমেন্টে। অধিকাংশই প্রশংসাসূচক। তবে একজন ফেসবুকে এই লেখা শেয়ার করে সঙ্গে যে নোট দিয়েছে, মনে হল সেই পয়েন্ট অফ ভিউও এখানে থাকা দরকার।

"কিউবার বর্ণনা । লেখক কোন দর্শনের দিকে ঝুঁকে আছেন , লেখাটা পড়ে বোঝা যায় ।
আমার কাছে এই লেখাটা পড়ে ক্যান জানি মনে হল, কোন ছাগু যদি পাকিস্তান ঘুরে এসে পাকিস্তানের বর্ণনা লিখে, কোন কাঠমোল্লা যদি সৌদি ঘুরে এসে সৌদির বর্ণনা লিখে, এরকমই কিছু একটা লিখতো । মানে লেখার ধাঁচটা অনেকটা অইরকম ।
( কেউ যদি কোন আক্রমণাত্মক পজিশনে আসতে চায়, আগেই সারেন্ডার )"

তারেক অণু এর ছবি

সমালোচনা করা বিশ্বের সবচেয়ে সহজ কাজ। এখন ভাই ইন্টারনেটের যুগ, কেউ চাইলেই এই লেখায় উল্লেখিত তথ্যগুলো ঠিক কিনা যাচাই করে দেখতে পারে। আমি বললেই আপনি মেনে নেবেন কেন, যাচাই করে তবেই না জানবেন সত্য কোনটা !
কিউবা যাবার আগেই আমি ফিদেল নিয়ে একটা লিখা দিয়েছিলাম সচলে, চে এবং ফিদেলের যা আমি মহাভক্ত এত বুঝতে মহাজ্ঞানী হবার দরকার নেই কিন্তু এখানে যতখানি সম্ভব নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টাই করেছি, সেই সাথে শেষে এও বলেছি এই সমাজ ব্যবস্থা টেকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

কালো কাক এর ছবি

লেখক ঐ দর্শনের দিকে ঝুঁকে থাকলে সমস্যা কী? কিউবান সমাজব্যবস্থা একজনের পছন্দ হতেই পারে, তাতে তো কোন সমস্যা দেখছি না।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

বাসায় হাতের কাছে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাক্ষাৎকারের একটা বই "MY LIFE with Ignacio Ramonet" অনেকদিন ধরেই আছে। কিউবা নিয়ে এই লেখাটা এবং বিশেষ করে ধ্রুব বর্ণনের মানুষের মুক্তিকামিতার (আধুনিক বিরোধিতার) একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

লেখাটা পড়ে বইটা আবার নেড়েচেড়ে দেখতে ইচ্ছে করল। হাতে কিছুটা সময় থাকায় সেই বই থেকে কিছু প্রাসংগিক অংশ তুলে দিচ্ছি --

Q. Looking back from half a century on, did you ever think everything was going to be so hard, that you were going to meet so many obstacles?

A. I knew, of course, that it was going to be very difficult. I thought the fundamental difficulties were going to lie in seizing the power to make the Revolution. First topple Batista, but not topple Batista so that everything would be the same--no, to change things. Because when I went to Moncada, my essential ideas were already formed, all of them, the question was developing the tactics and strategy to carry them out.

If w'd won on that 26 July 1953, we wouldn't be here today. The alignment of forces in the world in 1953 was such that we wouldn't have been able to withstand them. Stalin had just died -- he died in March of 1953-- and the troika that succeed him would never have given Cuba the support that Khrushchev did, let's say, seven years later, when Soviet Union didn't, perhaps, equal the United States but did at least have great economic and military power.

Q. Do you see the dreams you had when you set off for the Monacada barracks are now realized?

A. That was what I was just going to say, because you mentioned several issues. I told you, I had to solve certain problems; governing is harder, and I was aware of that because that's what I said on that 8 January when I entered Havana, the day of the doves. I felt a bit of nostalgia, even, the day the victory was won, a little like the nostalgia I felt that day, after our defeat of that great enemy offensive in summer of 1958, when we almost won the war. I felt that we'd learned to do something, but everything was different.

On 1 January 1959, I felt that sensation. I said, "Well, we've learned to do this way, and now we have a job that is going to be much bigger," and when I got to Havana and saw some of the problems, I realized that everything is going to be much harder after the triumph.

We were very ignorant; we had a lot of very good ideas, but very little experience. We'd had experience of men, some ideas without which we'd never have been able to conceive a strategy that led us to victory... I mean, I was able to survive. Surviving is a privilege, not something you can claim as your own, because you can't ignore experience, the weight of the accumulation of experience.

And I can say now, after forty-six year since the triumph and over fifty since Monacada, that what we've achieved is far greater than the dreams we could conceive back then, and we were pretty good dreamers from the start!

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর আবার পরে তুলে দেয়ার আশা তুলে দেয়ার আশা রাখি--

Q. Some prosecutors continue to make accusations against the Cuban revolution, and continually accuse it of all sorts of things. You, as a lawyer, what arguments in defence of the Revolution can you offer them ?

Q. That's an impressive record-- how do you think history will judge you?

Q. Did you know Mao Zedong?

আজকে সারাদিনে টুকটাক করে বেশ খানিকটা টাইপ করার পর ভুলে ব্রাউজার বন্ধ করে সব হারিয়ে ফেলার পর মাথায় বুদ্ধি আসলো ইমেজ হিসেবে আপলোড করলেই তো পারি -- অবশ্য ঠিকভাবে পড়া যাবে কিনা এ ব্যাপারে একটু সন্দিহান যদিও! তবে আগ্রহীরা বোধ করি ই-বুক খুঁজে নিতে পারবেন --

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

তারেক অণু এর ছবি

বইটা অনেক তথ্যসমৃদ্ধ। একবার মনে হচ্ছিল বাংলা করেই ফেলি।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

আমি এখন আবার পড়ার চেষ্টা করছি! সময় থাকলে বাংলা করতে পারেন কিন্তু। আপনি এত ছবি আপলোড করেন, আমার ছবি সমস্যার সমাধান কি? অবশ্য গুগল ক্রোম ব্রাউজার দিয়ে রাইট মা্উস ক্লিক করে ফ্লিকারে যেয়ে দেখা যায়।

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

img ট্যাগ দিয়ে পোস্ট করতে গেলে ছবির সরাসরি url লাগবে। আপনি যেভাবে পোস্ট করেছেন তাতে হবে না। সহজ উপায় হলো ফ্লিকার থেকে html সহকারে যে কোড থাকে সেটা পেস্ট করেন।

আপনার ফ্লিকারের প্রাইভেসি সেটিংস এমন ভাবে করা যে আমি html দিয়ে শেয়ার করতে পারলাম না। ছবি শেয়ারিং সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে মনে হয় html আসবে না।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। সেটিংস এখন Attribution, Noncommercial, Share Alike করলাম। আমার কাছে কাগজের বইটা আছে। কিন্তু আমি পিডিএফ থেকে ইমেজ বানিয়ে ফ্লিকারে একটা একাউন্ট খুলে আপলোড করেছিলাম। লিগ্যালি কি এটা ঠিক আছে -- আমি একটু সংশয়ে পড়লাম এখন।

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

অলিভার স্টোনের তৈরি করা একটা ডকুমেন্টারি ফিদেল ক্যাস্ট্রোর উপরে, ভাবলাম এখানে শেয়ার করি
Comandante

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ, দেখেছিলাম আগে। আবার নতুন করে দেখতে হবে।

তিথীডোর এর ছবি

'আমার না দেখা ....', এরকম কোন জায়গা নিয়ে পোস্ট দেওয়া যায় না? চোখ টিপি
ভ্রমণ চলুক, চলুক লেখালেখি। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

তারেক অণু এর ছবি

লিখব খুব শীঘ্রই !

কালো কাক এর ছবি

আপনি ফার্মগেট ওভারব্রীজে গেসেন ? অথবা লোহার পুল বা কাঠের পুল ? গুলশান; যেখানে রাস্তার এক পাশে অভিজাত দোকানবাড়িরেস্তোরা, অন্য পাশে কয়েকশ ঘর বস্তি ? উত্তর যদি "না" হয় তবে লিখে ফেলুন এই কাহিনী দেঁতো হাসি আর যদি "হ্যাঁ" হয় - তাইলে কী আর করা আবার এই পোস্টটা পড়ি আর কপালে দিলে কখনো এমন সবুজ দেশে বেড়াতে যাবো এই স্বপ্ন দেখি হাসি

তারেক অণু এর ছবি

হ্যাঁ

রাশেদুল ইসলাম রনি এর ছবি

অসাধারন...।। এমন পরিপূর্ণ একটা লিখার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু কিউবায় যেতে সাধ জাগছে।

তারেক অণু এর ছবি

অবশ্যই যাবেন।

সাজ্জাদ সাজিদ এর ছবি

কিউবাকে অনেকখানি জানা হল, নানান ক্রিয়াকর্মে নারী অংশগ্রহণের কথা শুনে বেশ ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ তারেক অনু-কে।

তারেক অণু এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি

শ্রদ্ধেয় বিকাশ কাকা লেখাটি নিয়ে অবশেষে মন্তব্য করেছেন, যদিও তা অতিমাত্রায় প্রশংসাসহ, সেটি এখানে দিলাম--
তারেক অণু, একজন ভ্রমণ পিপাসু। কিন্তু তার দেখা কমিউনিস্ট শাসিত ও কমিউনিস্ট সমাজ বিশিষ্ট সমাতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিউবা সম্পর্কে সে দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সর্বপরি রাষ্ট্রব্যাবস্থা সম্পর্কে সে দেশের জনগণের অপ্রিয় হলেও সত্যিকার অসন্তুষ্টির (লোভী) বর্ননায় একটি পরিপূর্ন প্রতিচ্ছবি খুজে পেলাম। রবীন্দ্রনাথের রাশিয়ার চিঠি ব্যতীত আর কোন লেখকের লেখায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সম্পর্কে এরূপ পরিপূর্ন প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায় না। আমার মত একজন ব্যর্থ জীবনের অধিকারী ব্যক্তিকে আদর্শ ভেবে কারও মধ্যে এরূপ বাস্তব অভিব্যক্তি জন্মাতে পারে - এটা ভেবে আর্শ্চয্য বোধ করছি। অণুকে ধন্যবাদ তার এ অভাবনীয় শিক্ষার সোপান অর্জনের জন্য। ঘরে ঘরে এরূপ অণুদের আধিক্যই হতে পারে সমাজ বদলের মূলস্তম্ভ।-- বিকাশ বিশ্বাস

সিহান এর ছবি

আপনার লেখার সমালোচনা বা প্রসংশা করার চেয়ে একটি প্রশ্ন করা জরুরী মনে হচ্ছে - কিউবা এর অভিবাসন আইনের কি অবস্থা? তারা কি শুধু কি ভ্রমনকেই স্বাগত জানায় নাকি, সাম্যবাদী মানুষের অভিবাসনের আকাঙ্খাকেও??

যতটা পারেন তথ্য বা রেফারেন্স প্রদান করবেন যেন, স্বার্থপর মানসিকতা নিয়েই সাম্যবাদে উত্তরনের একটি আপ্রান স্বারথপর চেষ্টা করতে পারি। পুজীবাদী গনতন্ত্রের এই ইদুর দোউড়ের উপর সত্যিই ঘেন্না ধরে গেছে মন খারাপ ইয়ে, মানে...

তারেক অণু এর ছবি

আমার খুব ভাল জানা নেই এই ব্যাপারে, কিন্তু তারা অন্যদের সাহায্য করতে যেহেতু আগ্রহী, ল্যাতিনের অনেকেই সেই দেশে কাজ করে, মনে হয় সহজই হবে। তবে কিউবাতে কিছু কিছু পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটছে এখন।

মংমংসো  এর ছবি

অনু ভাই, আসলেই অনেক ভাল লাগছে। ভাত খাবার সময় শেষ গেল, আপনার লেখা পড়তে পড়তে । যেটে ইচ্ছে হচ্ছে অনেক, দেখা যাক হাততালি

তারেক অণু এর ছবি

এখন আগে খেয়ে ফেলেন, তাপ্পর চিন্তা করা যাবে-

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরাই আমাদের দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে প্রায় মানুষই মনে করি না পাহাড়ে সমতলে বসবাসকারী পঞ্চাশটির উপরে আদিবাসী গোত্রকে! কোন সময়ই শিক্ষিত মানুষেরাই চিন্তা করে না, একজন চাকমা, মারমা, বনযোগী শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের প্রয়োজন আছে!

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে প্রতি বছর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিশ্বসাহিত্য পাঠচক্রের জন্য নতুন সদস্য নেয়া হয় বিশেষ বাছাই প্রক্রিয়ায়। ২০০৮ সাল থেকে এ প্রোগ্রামের সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ার সাথে আমার পরিচয়। ৭০-১০০ আসনের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৭০০-১০০০ ছেলে-মেয়ে আবেদন করে থাকে। যাদের মধ্যে ১০-১৫জন পাওয়া যায় আদিবাসী ছেলে-মেয়ে। এদের প্রত্যেকের সাথে কথা বলে একটা বিষয় নিশ্চিত এরা তাদের শিকরের প্রতিনিধিত্ব করে না; এদের নিজ নিজ মাতৃভাষার সাথে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে (মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের তাদের কোন সুযোগ নেই), তারা টিকে থাকার জন্য (অনন্যোপায় হয়ে) বাংলা ভাষা এবং বাংলাভাষাভাষীদের সাথে একিভূত হবার চেষ্টা চালাচ্ছে খুবই অবচেতনভাবে এমনকি তারা তা জানেও না। এবার কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া পাইছুনু চৌধুরী (পাইছুনু; বাঙলায় হচ্ছে ফুল) নামে একটা চমৎকার মেয়ের সাথে কথা হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভাইবা বোর্ডে, সে তার মাতৃভাষা বলতে পারে কিন্তু লেখতে পারে না। তাদের নিজস্ব বর্ণমালা থাকা সত্ত্বেও তারা তা পড়তে পাড়ছে না সে সুযোগ নেই বলে। শৈশবের সবচেয়ে স্মৃতিময় অংশের নাম নিজস্ব ভাষার রূপকথার গল্প, ছড়া কবিতা। এসব তাদের ভাষাতেও আছে কিন্তু তারা তা হারিয়ে ফেলছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এসব বহন করে নেবার জন্য, লিখিত রূপ দেবার জন্য যে লেখতে পারা লোক দরকার তাদের সংখ্যা ক্রমশ বিলীন।

অণু ভাই লেখা চমৎকার, গোছানো, কিউবান স্বপ্ন জাগানো। তবে বার্টান্ড রাসেল বলে গেছেন বোধ হয় মানুষের ভবিতব্য শেষ পর্যন্ত কি!

ফয়সাল ইজা

তারেক অণু এর ছবি

হাল ছাড়া যাবে না, যে যাই-ই বলুক

Sarwar Mostafa এর ছবি

অনেক কিসু জানলাম ।।।ডাক্তারদের কথা জানতাম যে কিউবাতে খুব ভাল মানের চিকিতসা সেবা পাওয়া যায় ।।কিন্তু ফটো দেখে বুঝলাম কিউবা দেশটা অনেক অনেক সুন্দর !!কিউবা তে যেতে হবে ।।।আশা করি কোনোদিন যাব হয়তো ।।।

তারেক অণু এর ছবি

অবশ্যই জাবেন

Mohammed এর ছবি

সব কিছুর উপর উন্নয়ন মানে হচ্ছে স্বাধীনতা , তাই উন্নয়নের মাত্রা বুঝতে নাগরিকরা কোন কোন বিষয়ে কতটা স্বাধীন এই ইনডেক্স এর প্রয়োজন আছে ???
উন্নয়ন মানে মানুষের পছন্দের তালিকাকে এক্সটেন্ড করা , যে জাতির যেকোন বিষয়ে কল্যাণমূলক সিদ্ধান্তে যত বেশি অপশন আছে , সে জাতি তত উন্নত ।
একথা গুলো আমার না , আর্থার লুইচের ।

আসলে এই সব বিষয় হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির , কিউবার মানুষ উন্নয়ন মানে কী বুঝবে এই সিদ্ধান্ত তাদের । তবে কেবল সমাজতন্ত্রের ফসল না , উঃ কোরিয়া কিন্তু সফল হতে পারি না , ভাল নেতার না পাওয়ার কারণে । কিউবার সৌভাগ্য যে তারা ফিদেল কাস্ট্র পেয়েছে , যদি কিম জং ইল পাইতো , তাইলে গেছিলো ।

আমি , কিউবা গিয়েছে , কিন্তু আমার কাছে একটায় প্রশ্ন ছিল মূখ্য , মানুষের স্বাধীনতা কতটুকু , জীবন যাত্রামান ও সামাজিক নিরাপত্তা এই গুলো মাথায়ই ছিল না , আসলে পশ্চিমা মিডিয়া- যেভাবে ম্যাকানিজম করে তাই আমাদের চোখে ধরা পড়ে । ধন্যবাদ পোস্টটি অনেক গভীর ভাবে লিখেছেন, সুন্দর ভ্রমণ কাহিনী + অর্থসমাজিক বিশ্লেষণ ।

তারেক অণু এর ছবি

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য

কুঙ্গ থাঙ এর ছবি

কিউবা নিয়ে এতো ডিটেল লেখা কোথাও পড়িনি। কিউবার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু টেমপ্লেট অপপ্রচারেরও জবাব মিললো। ছবিগুলোও অসাধারন।... আমাদের জন্য কিউবা হতে পারতো একটি মডেল। সেটা হয়নি। অথচ এক সময়কার রাশিয়া আর এখনকার উত্তর আমেরিকা একইভাবে আমাদের জন্যে শুধুই গল্প।

তারেক অণু এর ছবি

কিউবার অনেক কিছু মডেল হতে পারত। কোন দেশেরই সবকিছু আদর্শ না, কিন্তু ওদের কিছু কিছু জিনিস আমাদের দেশে বাস্তবায়িত হলে ভাল হত মনে হয়

জাদিদ এর ছবি

দারুন একটা ফিচার। একটা দেশ নিয়ে যে এত চমৎকার একটা লেখা হতে পারে তা ধারনা ছিল না।
শুভেচ্ছা রইল।

তারেক অণু এর ছবি
শুকদেব পাল এর ছবি

আপনি কি বাম রাজনীতি সাথে যুক্ত বা এর সংস্পর্শে ছিলেন?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।