Warning: Creating default object from empty value in theme_img_assist_inline() (line 1488 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/img_assist/img_assist.module).

শিবিরের কুকর্মনামা

সাইফ তাহসিন এর ছবি
লিখেছেন সাইফ তাহসিন (তারিখ: সোম, ১৭/০৮/২০০৯ - ১:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত কয়েকদিন ধরে সচল বেশ গরম, আর তার জন্যে আমি কাউকে দোষও দেই না। তাই অপেক্ষা করলাম দুইদিন এ লেখাটা দেওয়ার জন্যে। আমি এখন পর্যন্ত শিবিরের নামে কোন ভালো কথা শুনিনি, আর কেউ যদি বলতেও আসেন, তাকে হয়ত খুব খারাপ ভাষায় আক্রমন করব, কিন্তু এমন হল কিভাবে, আমার বয়স ৩০ বছর, কাজেই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ আমি নিজে দেখিনি, বাবা চাচার কাছে গল্প শুনেছি, আমাদের পরিবারের কেউ শহীদ হননি মুক্তিযুদ্ধে, কিন্তু তারপরেও কেন আমি শিবির নামে এই মগজ ধোলাইকৃত ফ্যানাটিক দলের নাম শুনলে ঘৃনায় নাক কুঁচকাই, কেন জান হাতে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ি এদের বিরুদ্ধে, আমাকে তো কেউ আঘাত করে নি বা তাদের দলে ভেড়ানোর ও চেষ্টা করেনি। আমাদের প্রায় সকল কথাই একপেশে ধরনের হয়, কিন্তু আমি আমার কথা বলব, ভুল কিছু বললে আপনারা তো আছেনই শুধরিয়ে দেবার জন্যে।
[আমার লেখা এবং ভাষার ব্যবহারে সংবেদনশীলতার অভাব থাকলে আপনারা নিজগুনে ক্ষমা করে দেবার চেষ্টা করবেন, আমি চেষ্টা করব আমার লাগাম টেনে রাখার, কতটুকু পারব, ঠিক জানি না]

১।উইলো ভাই
আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ি, প্রতি সন্ধায় পরতে বসা বাধ্যতামূলক, যদি না কারেন্ট চলে যায়। তখন রাজশাহীতে থাকতাম। সপ্তাহে ২-১ দিনতো যাবেই কারেন্ট আর নেমে আসবে ফাঁকিবাজীর সুযোগ, এভাবে চলে যাচ্ছিল সুখের দিন, হঠাৎ দেখি একদিন এক লম্বা চওড়া খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা যুবক এসে হাজির, তার সকল কথাই কেমন যেন অসাধারণ লাগে, কিছুক্ষনের মাঝেই জানতে পারলাম ইনার নাম উইলো ভাই, সদ্য পাস করে বের হয়েছেন, পেশায় প্রকৌশলী, তিনি নিজে কিছু করবেন, নিজেই নিজের বস হবেন, তার নানা রকমের প্রজেক্টের মাঝে চার্জার লাইট অন্যতম, ২০” টিউবলাইটের বাল্ব দিয়ে উনার নিজের বানানো চার্জ লাইট লাগিয়ে দিয়ে গেলেন বাসায়। আমার সে কী উত্তেজনা, সেই সাথে মনো কিছুটা খারাপ হল যে, কারেন্ট তো আর যাবে না। কিন্তু তার পরেও চার্জারবাতি জ্বলবে, এই উত্তেজনায় অস্থির, কখন কারেন্ট যাবে! তার পরের বছরের ঘটনা, শুনলাম, উইলো ভাই নাকি হাসপাতালে, ছোট বলে কেউ আমাকে আর কিছু বলতে চায় না। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করলাম, উনি নাকি ছাত্র মৈত্রী করতেন, একরাতে বাসায় ফেরার সময় শিবিরের কিছু লোক তাকে একা পেইয়ে তাকে আঘাত করে, এই অসভ্য ফ্যানাটিকের তাকে অনেক মারে, তারপরেও যখন আর পেট ভরে না, তখন তার ডান হাত ফেড়ে ফেলে কনুই পর্যন্ত, তারপর তাকে বলে, যা এখন দেশের উন্নতি কর গিয়া পারলে। উনি হাসপাতালে ছিলেন মাসখানেক, তার ডান হাত দুইভাগ করে ফেলায় তা অপারেশন করেও কিছু করা যায়নি। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, তার জন্যে একজনকে সারাজীবনের মত বিকল করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের কী উন্নতি সাধন হল, এটা আমার ছোট মাথার ছোট বুদ্ধিতে কোনভাবেই ঢুকল না। কাজেই আমার রাজনৈতিক চেতনা হবার আগেই আমি বুঝলাম, শিবির আর যাই হোক ভালো কিছু অবশ্যই না।

২। ডঃ রতন
আমার বয়স তখন ১০ বছর, আমি গভঃ ল্যাবে পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ি, আমাদের মিড টার্ম পরীক্ষা চলছে, আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হই, আপনারা যারা রাজশাহী গেছেন, তারা জানেন যে, লক্ষিপুর মোড়ে স্কুলটা, আর তখন থাকি মেডিকেল ক্যাম্পাসে। বাসায় যাবো, কিন্তু কোন রিকশাওয়ালাই যাবে না। ৩য় জন বল্ল, ঐখানে তো অনেক গন্ডগোল হয়েছে, ঐদিকে যাওয়া যাবে না। শুনেই আমার অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে উঠে দুরুদুরু। কেউ যখন যাবে না, তখন আর উপায় কী? হাঁটা শুরু করি আমরা দুই ভাই। আমার বাবার চেম্বার ও পথেই পড়ে, কাজেই চেম্বারের সামনে এসে চেম্বারের পিওনকে জিজ্ঞেস করি, কী ব্যাপার? এর মাঝে দেখি গেট আর গ্যারাজের সামনে টুকরা টুকরা কাঁচ পরে আছে। সে মুখ কাচুমাচু করে বলে, আজকে তো মহা বিপদে পরেছিল স্যার। আমি কিছু বলার আগেই আমার বড় ভাই জিজ্ঞেস করে, মানে? উত্তরে সে যা বলল তা হল এ রকম –

আমার বাবা, সাথে মেডিকেলের আরো কয়েকজন শিক্ষক হলে গিয়েছিলেন ছাত্রদের মাথা ঠান্ডা করে হল ত্যাগ করার ব্যাপারে আলোচনা করে নিস্পত্তি করতে, এক পর্যায়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে, কোন ফলাফল না পাওয়ায় তারা বের হয়ে আসেন, ফিরতি পথে শিবিরের লোকজন আমার বাবার গাড়ীতে আঘাত হানে, ২ টা জর্দার ডিব্বায় আগুন ধরিয়ে ছুড়ে মারে, কিন্তু আমার মত মামদোবাজের বাবা বলেই টান দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন তিনি, ডিব্বা দুটো মাটিতে পড়ে ফাঁটে বলে কেউ আহত হন নি, কিন্তু এই ফাঁকে তারা আবার আঘাত চালায়, হকিস্টিক দিয়ে, গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙ্গে বোমা গাড়ীর ভেতরে ঢুকাতে পারলে না সবাইকে এক ডিব্বায় মারা যাবে!!

আমার বাবা কোনমতে সবাইকে নিয়ে জান হাতে নিয়ে পালিয়ে আসেন। তারপরে বসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, সে সময়ে গন্ডগোলের সুত্রপাত ছিল ছাত্র মৈত্রী আর শিবিরের মাঝে হল ভাগাভাগি আর অস্ত্র জমা রাখা নিয়ে। যাক, আমরা ২ ভাই হাটতে থাকি বাসা অভিমুখে, পথে একটু পর পর পুলিশের ব্যারিকেড, বাচ্চা কাচ্চা বলে আর গায়ে স্কুলের পোশাক থাকায় কেউ আটকায় না আমাদের। বাসায় ফিরে আসি। আমি তখন ছোট মানুষ, কাজেই গাড়ীর দুঃখে চরম দুঃখিত, এদিকে আমার বাপের জানের উপর যে হামলা হল, তা আমি বুঝতেই যেন পারছিনা। দুপুরে বাবা মা বাসায় ফিরলেন, বাবার চেহারা দেখে আমি ভয়ে কাছে যাইনি দুইদিন। ভয়ে ভয়ে আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কী?
আম্মা বললেন, ফিরে এসে বাবা মিটিঙে যায় ঠিকই, কিন্তু সেখানে বেশিক্ষন থাকতে পারেন নি, কারন তার ডাক পড়ে ইমার্জেন্সিতে, তারপর শুরু হয় জমে মানুষে লড়াই একজন ডাক্তারকে নিয়ে। সেই হতভাগা ডাক্তারের নাম রতন। কী তার দোষ? সে মৈত্রী করত, আর এমন দিনে তাকে তারা একা পেয়েছে, আর বাগে পেয়ে আক্রমন করেছে। তাকে ক্যাম্পাসের বড় রাস্তার উপর আক্রমন করে শিবিরের কিছু নরঘাতক, তারপর তার সকল গিরা ধরে ধরে কাটতে থাকে তারা দা দিয়ে। তার হাত কাটা হয় কব্জিতে, কনুইয়ে, স্কন্ধে। দুই হাত কাটে তারা, তারপর শুরু করে পা, একজন জীবিত মানুষকে পশুর মত করে জবাই করে মারা এক জিনিষ, আর অত্যাচারের উদ্দেশ্য নিয়ে হাত পা কাটা আরেক জিনিষ। কাজেই পা কাটে এই নরপিশাচের প্রতিটি গিরা ধরে, অর্থাৎ গোড়ালী, হাটু, কোমর, সব আলাদা করে ফেলে। তারপরে তারা অপেক্ষা করতে থাকে, কতক্ষন তার দেহ নড়াচড়া করে, তা দেখার জন্যে। এক পর্যায়ে তার রক্তক্ষরনের কারনে মস্তিস্কে রক্তসরবরাহ কমে যায় বলে, তিনি জ্ঞান হারান। তারপর এই নরপিশাচেরা চলে যায় রাস্তার উপরে ডাঃ রতনকে ফেলে। এরপরে তাকে হাস্পাতালে নিয়ে আসা হয়, তার বাঁচার প্রশ্নই আসে না, তারপরেও যুদ্ধ চলতে থাকে, কিন্তু কিছুই করার ছিলনা কারো। ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত দেওয়া হতে থাকে, কিন্তু ততক্ষনে তার মস্তিস্কের কোষগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে যে কোন ভাবেই আর তাকে ফেরানো সম্ভব ছিলো না।

গ্যাদা কাল থেকে শুধু মানূষের মুখোশে শিবিরের দুর্নামই শুনে গেলাম, কারো কাছে ভালো কিছু শুনিনি এসব নরপিশাচদের নামে, এদের নামে কেউ ভালো কিছু বলতে পারলে জানিয়েন। কাজেই কেউ যদি এদের মানুষ বলে গন্য করতে চান, তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমার প্রশ্ন জাগাটা কী খুব অস্বাভাবিক হবে? আর একটি অনুরোধ করে বিদায় নেই, সবসময় সচলে নিজের গল্প ফেঁদে সবার কানের পোকা বের করে ফেলার ব্যবস্থা করে ফেলেছি, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে মনটা খুবই বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে যে না বলে পারছি না। কেউ যদি অজ্ঞানতার কারনে এমন ভ্রান্ত ধারনার বশবর্তী হন, তাদের এই সব ভ্রান্ত ধারনা দূর করার জন্যে আমাদের উচিত একটা তথ্য ভান্ডার বানানো এবং স্বাধীন বাংলায় করা শিবিরের সকল কুকর্মের ইতিহাস সেখানে জমা করে রাখা। কেউ যদি ভুল করেও শিবিরের পক্ষে কিছু বলে ফেলেন, তাকে আমরা সেই সব কুকীর্তির ইতিহাস দেখিয়ে দেব চোখে আঙ্গুল দিয়ে, যাতে ভুল পথে চলার কোন সুযোগ কেউ না পান। ছোট মুখে অনেক বড় বড় কথা বলে ফেললাম, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুস্থ চিন্তা করুন। আজ এখানেই শেষ করছি।


মন্তব্য

সিরাত এর ছবি

পড়লাম, ধন্যবাদ। হাসি

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে মনটা খুবই বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে যে না বলে পারছি না।

দুঃখিত।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাই, তোমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা না এটা, আসলে তুমি তোমার মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে ফেশে গেছ, যেমনটা নিচের সবাই বলেছেন, ঢাকায় থাকা অনেকেই শিবিরের কার্যকলাপ নিজে দেখেননি, আর খবরের কাগজ সবাইকে একভাবে প্রভাবিত করতে পারে না। তুমি নিজে পরিষ্কার মনে এদের সুযোগ দিতে চেয়েছ, হয়ত এই নরপিশাচদের ব্যাপারে খুব বেশী জানতে না বলেই, আর ফলাফল, খড়্গ নেমে এসেছে তোমার ঘাড়ে, কিন্তু এটা হয়ত তোমাকে এবার সঠিক পথে নিয়ে আসবে।

একটা মজার উদাহরণ দেই, এখনো আত্মহননকারীদের চিকিৎসা হল কারেন্টের শক, কারন তা মস্তিষ্ককে পুনরায় চালু করে (রিবুট করার মত), কিছু স্মৃতিও লোপ পায়, কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা কার্যকরী হয়। কাজেই আশা করব, আমার এ লেখা তোমাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে এই নরপিশাচদের সম্পর্কে।

কাজেই মন খারাপ কর না এভাবে সবাই তেড়ে আসছে দেখে, সকলের কাঁচা ঘাঁয়ে তুমি এমনভাবে মরিচ দিয়ে ফেলেছ নিজের অজান্তে, যার পরিণাম খুব ভয়ংকর হয়ে ফিরে এসছিল তোমার কাছে। কাজেই সামনে নতুন দিনে নতুন ভাবে ভাবতে শিখো এই নরপিশাচদের, আমাদের দেশের উন্নতির জন্যে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে, কাউকে বাদ দেয়া যাবে না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ভয়ংকর পিশাচ!

এ ধরনের কালেকশনের নাম "সহীহ শিবিরনামা" নাম দেয়া যেতে পারে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

পিপিদা, ধন্যবাদ। আমাদের সবার উচিত সহীহ শিবিরনামা এর একটা করে পর্ব লেখা, যাদের অভিজ্ঞতা আছে আরকি। কাজেই আর দেরী করেন না, সবাই শুরু করেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

আমরা প্রত্যেকেই এমন কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। দেখেছি শিবিরের তান্ডব। বড় হতে হতে ভুলে গেছি। আর তাই আমাদের অনেকেই (অনেকে বলতে একই চিন্তাধারার অনেকে নয়) আজ শিবিরের প্রতি সমব্যথী কিংবা শিবিরপন্থী (দু'টোকেই আমি ভয়ঙ্কর বলবো)।

শিবিরের এমন কুকীর্তিনামা নিয়ে একটা বe করা কী সম্ভব?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সেটাই সিমনদা, বe তো করাই যায়, সেজন্যে সবাইকে তাদের অভিজ্ঞতা এখানে না দিলে কিভাবে? আমি তো শুরু করে দিলাম, এখন সচলে অনেক সভ্য আছেন, তারাও দিক, বই তো কোন ব্যাপারই না। এই বইয়ের আকার দেখে ডিকশনারীও ভয় পাবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

শিবিররে চিরকাল ঘৃণা করে এসেছি। আপনার ব্লগ পড়ে ঘৃণার পরিমাণ আরো বাড়লো!
.......................................................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ঘৃনার দরকার আছে, সেই সাথে আমাদের সবাইকে এক ছাতার নিচে আসতে হবে এদের নির্মূল করতে হলে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। সহিহ শিবিরনামা খুব বেশি জরুরী। আরও জরুরী হলো এদের সুন্দর কথামালার উদাহরণ। শিবিরের সত্যিকার রূপ জানা দরকার সবার।

বানান, ভ্রাতঃ... হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, আসলেও এ লেখাটা খুব জরুরী। বানান নিয়ে আর কী বলব, দেখি, একখানা ই-মেইল দিতে হবে মডুদাদাদের, নিজেরই হাত কামড়াতে ইচ্ছা হয় মাঝে মাঝে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

http://www.apona-bd.com/

এটা দারুণ জিনিস বানিয়েছেন আলমগীর ভাই। সেদিন ব্যবহার করে দেখলাম। বিভক্তিতে একটু সমস্যা হয় (কে, র/এর, ...), কিন্তু ভুল বানান ধরে ফেলে প্রায় সবই। অবশ্য-ব্যবহার্য।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

অসাধারণ, ধন্যবাদ ইশতি বস, এটা আমার কাজ অনেক সহজ করে দেবে হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আমার একটা অবজার্ভেশন আছে, কেউ দ্বিমত থাকলে নির্দ্বিধায় জানাবেন।
জামাত শিবির ' গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও এর মতো 'কমিউনিষ্টদের কৌশলগুলো অনুসরন করে। তাদের বিস্তারের সময়ে- মধ্য আশি থেকে নব্বই দশকের পুরোটা- রাজধানী ঢাকাকে এড়িয়ে মুলতঃ তারা শুরু করেছে গ্রাম, মফস্বল, জেলা শহরগুলোকে দখল করতে। স্বভাবতঃই প্রতিরোধ গুলো ঐসব পর্যায়ে হয়েছে তীব্র।
আমার শৈশব কেটেছে মফস্বল শহর ছাতকে, স্কুল পাশ দেয়া পর্যন্ত। দু্টো শিল্প কারখানা, পাথরের ব্যবসাসব মিলিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মফস্বলের চেয়ে বর্ধিষ্ণু, জমজমাট এবং অগ্রসর। যে সময়ের কথা বলছি- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তীব্র। ৮৬-৯০। একমাত্র ডিগ্রী কলেজ, তিনটা হাইস্কুল থাকায়- ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদের নেতৃত্বে হাইস্কুলের উপরের ক্লাশে ছাত্ররাই ছিলো আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক।
ঐ সময়টাতে দেখেছি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি শিবির ঠেকাও আন্দোলন চলছে একতালে। আজকে পুলিশের সাথে মারামারি তো কালকে শিবিরের সাথে। শিবিরের সাথে সংঘর্ষ সবসময়ই ভয়ংকর এবং রক্তক্ষয়ী হতো। সেই সময়টাতে শিবিরের নৃশংসতা চোখে দেখা,নৃশংসতার খবর জানা ছিলো নিয়মিত।
'৯০ এর ঠিক পর পর যখন জেলা শহর সিলেটে চলে এলাম এম সি কলেজে তখন শিবিরের নৃশংসতা দেখলাম আরো তীব্র। '৮৮ তে শিবির বিরোধী আন্দোলনে তিন শহীদ মুনির, তপন, জুয়েল কে যে বর্বর ভাবে এরা হত্যা করেছিলো- সেই সময়ের সিলেট অঞ্চলের অনেকেরই তা মনে পড়ে।
আমাদের ঘনিষ্ঠ অনেক বন্ধু এইসব নৃশংসতার শিকার হয়েছে, নিজেরা ও ভাগ্য গুনে বেঁচে গেছি। ৯০ এর আগে পরের বছর গুলোতে প্রতিটি বিজয় দিবস এর অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকতো তীব্র উৎকন্ঠায় ভরা কারন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান গুলোতে যে কোন অজুহাতে তারা আক্রমন করতো। সিলেটে আমরা প্রথম যখন বর্ষবরন অনুষ্ঠান করি- সশস্ত্র পাহারা দিতে হয়েছে শিবিরের আক্রমনের হুমকীতে।
ঐ সময় পর্যন্ত শিবির বিরোধী প্রতিরোধে লীগ-জাসদ-ইউনিয়ন-ছাত্রদল সকলেই ছিলো, অন্ততঃ বিএনপির প্রথম দফা ক্ষমতা পর্যন্ত ছাত্রদলের ছেলেরা শিবির ঠেঙ্গানোতে সিদ্ধ ছিলো। কিন্তু জামাত-বিএনপির দ্বিতীয় দফা দাম্পত্য সবকিছুতে জল ঢেলে দিয়েছে।

তো যে কথা বলছিলাম- ঢাকায় যারা বড় হয়েছেন তাদের সৌভাগ্য শিবিরের এইসব নৃশংসতা তাদের দেখতে হয়নি হয়তো। আমাদের সমসাময়িক ঢাকাবাসী অনেককে ও দেখতাম- ঢাকার বাইরের আমরা শিবিরের নৃশংসতা বিষয়ে যতোটা ওয়াকিবহাল ছিলাম তারা ততোটা ছিলোনা।

এ প্রসংগে বলি- '৯৪( নাকি '৯৩) এ যখন শামসুর রাহমানকে সিলেটে ঢুকতে দিচ্ছেনা জামাতীরা, সিলেটের সংস্কৃতিসেবীরা জামাত শিবিরের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন শারীরিক ভাবে, অনেক সম্মানিতদের প্রকাশ্য রাস্তায় পেটাচ্ছে শিবির তখনো ঢাকাবাসী সংস্কৃতিকর্তারা একে সিলেটী সমস্যা বলেই ভাবছেন,রাহমানকে তারা কোনভাবেই সিলেটে আসতে দিলেন না।
অথচ বছর দু'চার বাদে রাহমান ঐ ঢাকাতেই আক্রান্ত হলেন এদের দ্বারা।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোষ্টের জন্য, অনেক কথা মনে করিয়ে দিলেন

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

হাসান ভাই, খোলামেলা ভাবে ঘটনা বর্ণনা করুন। খুঁটিনাটিগুলো না জানলে কেউ গভীরতা বুঝবে না।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

শিবিরের গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরে ফেলার কৌশলের ব্যাপারে তোর পর্যবেক্ষনের সাথে একমত। ছোট আকারে তারা এটা করে সফল হয় , রাবি, চবি কিংবা শাবিতেও কিন্তু তারা ক্যাম্পাসের আশেপাশের গ্রামগুলোতে প্রচুর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসে ছিল শুরু থেকেই , সেগুলোতে মেস বানিয়ে স্থানীয় জনসাধারনকে প্রোশিবির করে তারা ক্যাম্পাসের দখল নিয়েছে সবসময়ই।

২০০১‌ এর নির্বাচন পরবর্তীতে ছাত্রদল আর শিবিরের সংঘর্ষ খুবই কম হয়েছে বলে আমারও মনে হয়। কিন্তু তাই বলে সেটা শিবিরের জন্য খুব লাভের হয়েছে বলে আমার পর্যবেক্ষন বলে না।
শিবির আদতে লাভবান হয়েছে মফস্বলে বামপন্থীদের প্রভাব কমে যাওয়ার কারনে, জাসদ-মৈত্রী এই সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায়।
২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত শিবির আদৌ এগিয়েছে নাকি পিছিয়েছে সেটা দেখবার বিষয়। আমার ধারনা পিছিয়েছে। নৈতিক দিক থেকে শিবির আরো দুর্বল হয়েছে , সরকারী দুধ ছানা খেয়ে চর্বি জমলে ডেডিকেশন কমে আসে।
মাস্তানি করে ক্যাম্পাস দখল রাখলে আখেরে ফল ভালো হয় না, এটা আমাদের সকলেরই জানা।

বর্তমানে মিডিয়া খুবই শক্তিশালী, আর একারনেই শিবিরের ুতিয়ামিগুলো এই প্রজন্মের চোখের সামনে খুব পরিষ্কার হয়ে ধরা দিচ্ছে।
শিবিরের সাথে আলাপ করা যায় এরকম মর্কটময় চিন্তা খুব বেশি মানুষ করে না, যারা করে সমাজে তাদের কোন ভুমিকা নেই। মাস পিপল যারা তাদের মাঝে , সংখ্যাগরিষ্ট মধ্যবিত্তের মাঝে শিবির কামড় বসাতে অনেক দেরী হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা যদি ঠিক মতো করা যায় , তাহলে শিবির যে ধাক্কা খাবে সেটা কাটিয়ে উঠতে আরো একযুগ লাগবে। ততোদিনে পানি অনেক গড়াবে, আমরা আরো অনেক বেশি সভ্য হব, আর আমরা যতোই সভ্য হব, ইতরদের প্রভাব ততোই কমতে থাকবে।

মামুন হক এর ছবি

শিবিরের সাথে আলাপ করা যায় এরকম মর্কটময় চিন্তা খুব বেশি মানুষ করে না, যারা করে সমাজে তাদের কোন ভুমিকা নেই। মাস পিপল যারা তাদের মাঝে , সংখ্যাগরিষ্ট মধ্যবিত্তের মাঝে শিবির কামড় বসাতে অনেক দেরী হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা যদি ঠিক মতো করা যায় , তাহলে শিবির যে ধাক্কা খাবে সেটা কাটিয়ে উঠতে আরো একযুগ লাগবে। ততোদিনে পানি অনেক গড়াবে, আমরা আরো অনেক বেশি সভ্য হব, আর আমরা যতোই সভ্য হব, ইতরদের প্রভাব ততোই কমতে থাকবে।

--আমারও তাই ধারণা।
শিবিরকে আজীবনে ঘৃণা করে এসেছি, ঘৃণা করে যাব।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আরিফ ভাই, আপনারা বিশদ্ভাবে জানেন ব্যাপারগুলো, কাজেই আপনাদের কাছে অনুরোধ, এ বিষয়ে লেখা দিয়ে আমাদের চোখের সামনে থেকে পর্দা উম্মোচন করবেন। শিবির যদি সত্যি এখন কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে মনে হয়, এটাই শ্রেষ্ঠ সময় তাদের নির্মুল করার।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হাসান ভাই, আপনার অবজার্ভেশনে কোনই ভুল নাই, আর অসাধারণ একখানা মন্তব্য দিলেন, এত অল্প কথায় এত সুন্দর করে অনেক তথ্য পেশ করলেন। আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না, তবে অনুরোধ করব আপনার ৮৬-৯০ এর সময় নিয়ে যদি একখানা সিরিজ করেন, জানি অনেক ব্যস্ত আপনি, তারপরেও আমার মনে হয়, এটা আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যে একান্ত প্রয়োজনীয়।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাবিহ ওমর এর ছবি

শিবির মস্তিষ্ক ধোলাই শুরু করে একেবারে স্কুল পর্যায় থেকে। আমাদের এলাকায় ওদের একটা ব্যাপক জনপ্রিয় শিশু সংগঠন ছিল, ফুলকুঁড়ি। আমাদের স্কুলে ফুলকুঁড়ি থেকে একজন 'ভাইয়া' নিয়োগ দেয়া হত। তার কাজ ছিল আমাদের সাথে socialize করা, টুকটাক গিফট দেয়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার (কুইজ বা আব্রৃত্তি) আয়োজন করা। আপাতদ্রৃষ্টিতে পুরোপরি নির্দোষ (এবং প্রায় প্রগতিশীল) এই সংগঠনের মাধ্যমে বাচ্চাদের টেনে নেয়া হয় শিবিরে। আমি আমার চোখের সামনে আমার এক বন্ধুকে এভাবে ক্রমান্বয়ে রগকাটা ক্যাডারে পরিণত হতে দেখেছি। তাই যারা এগুলা বিশ্বাস করেন না তাদের বলতে চাই, এগুলা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। শিবির শুধু একটা দল না, এটা ভাইরাসের মত একটা জিনিস।

আর হ্যাঁ, শিবির আসলেই রগ কাটে, এটা কোন মীথ না। আমার জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে চবি ক্যাম্পাসে, আমি জানি।

ওমরের ব্লগ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ ওমার ভাই, এরা কিভাবে সুঁচ হয়ে ঢোকে আর ফাল হয়ে বের হয়, তার একটা উদাহরণ পেলাম আপনার মন্তব্যে আর প্রথম থেকেই তাদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে এমন করে ফেলে যে তারা আর মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে না আর। বিশদ ভাবে লেখা দেন না বস।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

পড়তে পড়তে গা শিউরে উঠল। দুর্বল মনের মানুষ আমি। খুন-খারাবি, রক্তারক্তির কথা শুনলে বা পড়লেও খারাপ লাগে অনেক।

শিবির সম্পর্কে কেউ আমাকে কখনোই সেভাবে কিছু বলেনি, তবে নিজের চিন্তাভাবনা থেকেই এদের সম্পর্কে ধারণা করে নিতে কষ্ট হয়নি। এদের ব্যাপারে ভালো চিন্তা কখনোই ছিল না, এখনও নাই, নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, ভবিষ্যতেও কখনও আসবে না।

লেখাটা দুর্দান্ত লাগল, সাইব্বাই। একদম জীবন্ত। চলুক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাইয়ে, সত্য সবসময়ই নির্মম, আর আপনে অতন্দ্র প্রহরী, আপনার ভয় পাইলে চলবে, দেশের শত্রুকে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করতে হবে না বস? আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই শিবির নামের পশুরা যা খুশি তাই করে যাচ্ছে, আমাদেরও বুঝিয়ে দিতে হবে, তাদের সকল কাহিনী আমরা জানি, গন সচেতনতার বিকল্প নাই।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

স্বাভাবিক প্রতিযোগিতায় আমাদের কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে আমরা সমাজে বিভিন্ন অবস্থান পাই। একটি সুস্থ সমাজে এভাবেই শীর্ষস্থান নির্ণীত হয়। অযোগ্যের সংখ্যা সব সময়ই বেশি থাকে।

উগ্রপন্থী ও জাতীয়তাবাদীদের রাজনীতিতে তত্ত্বের চেয়ে পেশি প্রয়োজন বেশি। এই বাড়তি পেশি তারা যোগাড় করে অযোগ্য লোকজনকে উচ্চস্থানের লোভ দেখিয়ে। এর বিনিময়ে প্রশ্নাতীত আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা পাওয়া যায় এদের কাছ থেকে। যোগ্যতার ফারাক ঢাকতে তারা প্রায়ই দমন-পীড়নের আশ্রয় নেন।

এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেকেই অচেতন, উন্নাসিক।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চলুক

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

এই লেখার নাম "শিবিরের কর্মনামা" হলেই চলতো। কুকর্মনামা বলাতে মনে হতে পারে ওদের সুকর্মনামা লেখারও একটা সুযোগ আছে।

একটা জিনিস জানা দরকার যে শিবিরের কাউকে আহত বা হত্যা করার যে মেথডিক্যাল আর স্টেপ-বাই-স্টেপ পদ্ধতি - সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওরা ঠাণ্ডা মাথায় এ কাজ করায় রীতিমত প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ।

সন্ত্রাসকে সব রাজনৈতিক দলই ব্যবহার করে। বিএনপি - আওয়ামী লীগ করেছে, করবে। ফ্রীডম পার্টি - জাতীয় পার্টি একসময় সন্ত্রাসকে অন্য এক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু জামাত-শিবিরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক। এই পার্থক্যটা সবার অনুধাবনের দরকার আছে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

যুধিষ্ঠিরদা, আপনে বলার পর মাথায় এল, আগে এভাবে চিন্তা করিনি, আসলেও তাদের কর্মই যথেষ্ট, আর সুকর্ম বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। খুব সুন্দর করে বললেন তাদের থীমটা। তবে আপনার কাছে থেকেও এব্যাপারে একখানা লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকব।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মণিকা রশিদ এর ছবি

Y) চলুক

........................................
......সবটুকু বুঝতে কে চায়!

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

তানবীরা এর ছবি

ছোটবেলা থেকেই পেপার পড়তে গেলে কতোগুলো নিউজের শুধু হেডিং পড়তাম। ডিটেলস কোনদিনও পড়িনি। এরমধ্যে আছে এখানে সেখানে দুর্ধষ ছিনতাই, বেশিরভাগ সময় রাবি কিংবা চবিতে শিবিরের কর্মীরা ধরে ছাত্রদের কারো হাত - পা, রগ কেটে দিয়েছে, মুর্মুষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এগুলো রোজ নিউজ হয় দেশে, রোজ। কতো আর পড়বো????

তবে সাইফের সাথে একমত, নব্য নাৎসীদের মতো নব্য শিবির মুখোশধারীদের আলাদা একটা ডেটা বেইজ থাকা দরকার, তাদের কার্যকলাপের। যারা এসব নিয়ে শান্তির বানী ছাড়তে আসে তাদের যুক্তির ধারের কথা আর নাই বা বল্লাম
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

সাইফ তাহসিন এর ছবি

তানবীরাপু, আপনাকে এরকম যন্ত্রনাদায়ক একটা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আবার নেওয়ার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু মুখোশ উম্মোচনের আর কোন পথ আমার জানা ছিলনা বলে নিরুপায় হয়েই এমন একটা লেখা দিতে হল। এমন লেখা দিতে আমারো ভালো লাগে নি, আর যারা পড়েছেন, তাদেরও ভালো লাগেনি বলেই আমার বিশ্বাস।

আমার সাথে একমত জেনে ভালো লাগল। আশাকরি আমার এই লেখা যত না পাঠকদের কষ্ট দিবে তার চেয়ে বেশী চোখের পর্দা উম্মোচনে সহায়তা করবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

সাইব্বাই... মন খারাপ

---------------------
নামে কি'বা আসে যায়...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ইয়ে, মানে...

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মৃত্তিকা এর ছবি

শিবিরকে ঘৃণা করি, আজীবন ঘৃণা করবো। আমারও মগজ ধোলাই হয়ে গেছে শুধুই ওদেরকে ঘৃণা করার জন্যে!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আমারও মগজ ধোলাই হয়ে গেছে শুধুই ওদেরকে ঘৃণা করার জন্যে

খুব ভালো লাগল তোমার কথাটা মৃত্তিকা।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি- প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনার প্রয়োজন যেন আমার কখনো না হয়... স্রষ্টার কাছে এই কামনা।

ভালো থাকুন সাইভাই ...।
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আমারো একই কামনা, আমাদের কারোই যেন আর এমন অভিজ্ঞতা হজম করতে না হয়, কিন্তু তা পূরণ হবার আশা মনে হয় খুবই কম। বিডিআর এর ঘটনাটাই তার প্রমান।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

s-s এর ছবি

সাইফ দাদা - আমি একটা ঘটনার কথা জানি, মানে এর ভুক্তভোগীকে দেখেছি, যেখানে শিবির তার কানের ভেতর সাইকেল রিকশার স্পোক ঢুকিয়ে ঘুঁটে দিয়েছিলো মগজ গুলিয়ে ঘিলু বের হয়ে আসার জন্য। অলৌকিকভাবে ছেলেটি বেঁচে গেলেও বাঁ কান, চোখ, বাঁদিকের পুরোটাই অচল হয়ে গিয়েছিলো। নারকীয়তার এই যজ্ঞের পরেও যারা কোনোধরণের বেনিফিট অথবা ডাউট অথবা যেকোনো কিছু অজুহাত বলে, তখন কেমন লাগে সেটা আপনিই বিবেচনা করুন। দুধের শিশুও জানে শিবির কি - আর এরা জানেনা?? আমি দুঃখী - আমার পোড়া দেশের মুক্তিযোদ্ধারাও দুঃখী আর সবচেয়ে দুঃখী সেইসব মানুষগুলো যারা এগুলো বছরের পর বছর সহ্য করে যায়। নারকীয়তাকে ঘৃণা করতে হয়, কুৎসিত কথা বলতে হয়- নইলে নিজেদের ওই নরকে যেতে হয় ---

মামুন হক এর ছবি

সেজুঁতি আবারও আপনার সাথে একমত না হয়ে পারলাম না।
শিবিরকে বেনিফিট অভ ডাউট দেয়ার প্রসঙ্গ তোলাটাই চরম অমানবিক।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

নারকীয়তাকে ঘৃণা করতে হয়, কুৎসিত কথা বলতে হয়- নইলে নিজেদের ওই নরকে যেতে হয় --

খুব ছুয়ে গেলো আপনার কথাটা

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

সাইফ - তোমার দেয়া সব পোস্টের মধ্যে এটাকে শ্রেষ্ঠ আখ্যা দিলাম হাসি

খুব ভালো কাজ করসো!

আর যুধিষ্ঠির একদম ঠিক কথাটা বলেছেন -

সন্ত্রাসকে সব রাজনৈতিক দলই ব্যবহার করে। বিএনপি - আওয়ামী লীগ করেছে, করবে। ফ্রীডম পার্টি - জাতীয় পার্টি একসময় সন্ত্রাসকে অন্য এক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু জামাত-শিবিরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক। এই পার্থক্যটা সবার অনুধাবনের দরকার আছে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ স্নিগ্ধাপু, আপনার এই মন্তব্য আমাকে আরো ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

চলুক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ, শিমুলদা।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দুর্দান্ত এর ছবি

শিবিরের কীর্তির ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রকে চিনি। সে নিজে কলেজ থেকে শিবির করত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম তিন বছর সাথী হিসাবে থাকার পর তাকে সদস্য মনোনীত করার কথা চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাহী সভায় ওঠেও। যা হয়ে থাকে, এসময় তার হিজাবী প্রেয়সীর পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসে। কিন্তু সে নেতৃত্বের ছাড়পত্র পায় না। আমার পরিচিতজনের বোধোদয় হয়। সে স্বাভাবিক জীবিনে ফিরে আসতে চায়। প্রবাসী ছোট বোনের কাছে চলে যেতে চায়।

যাত্রার আগের রাতে পারিবারিক দাওয়াত থেকে সদ্য কৈশোরোত্তীর্ন ভাগনে কে সাথে নিয়ে ফেরার পথে তারই হাত ধরে আসা দুই সমর্থক ও এক কর্মি তার পথ রোধ করে ও তওবা করে সিরাতুল মুস্তাকিমের প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত দেয়। বয়োঃকনিষ্ঠদের এমত কথা প্রতিক্রিয়ায় কিছু উত্তপ্ত বাককথাকাটাকাটি হয়। মামার সাথী পরিচয়ের গরমে ভাগনেও বেখাপ্পা কিছু একটা বলে থাকবে। এক পর্যায়ে ঐ তিনজন সাথে করে আনা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভাগনের ঘাড়ে কোপ বসায়। তারপর মামাকে সাপমারা মারে তারপর তার দু পায়ের গোড়ালীর রগ কেটে, সেখানে থেকে থেকে ইন্চিখানেক করে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এটা তারা এতটাই নিপুন হাতে করে, যে পা থাকতেও আজতক সে মানুষটী দাঁড়াতে পারে না। ভারত - থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়েও কাজ হয়নি। ভাগনের যখম মাংসের থাকায় সে সুস্থ হয়ে ওঠে।

এই মানুষটি যে বছরটি ভারতের একটি হাসপাতালে ধুঁকেছে, সে বছরটি ঘুরতে না ঘুরতেই তার হিজাবী প্রেয়সী ও সেদিন রাতের সেই কর্মীর বিয়ে হয়ে যায়। তারা এখন ঢাকায়। তাদের দুটো ছেলের একটি কানাডায়, আরেকটি এখন মানারাতের বড় ক্লাসের ছাত্র। সেই কর্মী অবশ্য এখন ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যঙকে উপপরিচালক বনে গেছে।

তাই বলে আমার পরিচিতজনের জন্য সহানুভুতিশীল হবার অবকাশ নেই। কালে তিনি নিজেও প্রচুর গিরা, আঙগুল ও এক ক্ষেত্রে হাটুর মালা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সে অন্য গল্প।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

একে বোধহয় বলে কর্মফল চোখ টিপি,

তাই বলে আমার পরিচিতজনের জন্য সহানুভুতিশীল হবার অবকাশ নেই। কালে তিনি নিজেও প্রচুর গিরা, আঙগুল ও এক ক্ষেত্রে হাটুর মালা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সে অন্য গল্প।

আমার কাছে পুরা ক্রাইম রিং বা মাফিয়াদের মত লাগছে, আর আসলেও তারা তাই, রাজনীতির নামে মানুষের মুখোশে বন্য পশু, আসলে পশুরাও লজ্জা পাবে এদের পাশে এসে দাড়ালে, পশু তো আঘাত হানে বাচার তাগিদে, এরা আঘাত হানে নিজেদের আত্মতৃপ্তির জন্যে আর হাত পাকানোর জন্যে

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

থুতু ! থুতু ! থুতু !
---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

খেকশিয়াল এর ছবি

চলুক
চলুক
চলুক
চলুক
চলুক

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ খেকুদা, আমার দুঃখ যে স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরেও আমার মত আবুল লোকের এমন লেখা লিখতে হচ্ছে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

দুর্দান্ত : ........... সেই কর্মী অবশ্য এখন ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যঙকে উপপরিচালক বনে গেছে।
--------------------------------------------------------------------

কোন ব্যংক? নাম কি ঐ লোকের?

দুর্দান্ত এর ছবি

কেনরে ভাই?

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

চিনে রাখতে চাই এদেরকে। জানতে চাই পাশের লোকটিই একদিন শিবিরের খুনীদের একজন কিনা। @দূর্দান্ত

এনকিদু এর ছবি

কেন আবার, টাকা পয়সা প্রভাব নাম যশ খ্যাতি এসব লাগবে না ?


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

অনিকেত এর ছবি

বলার কিছুই নেই,সাইফ।
এমন লেখার দরকার ছিল---
এমন আরো লেখার দরকার আছে---

তথাকথিত "ওরাও মানুষ, ওদের সাথে আলোচনা করে পথে আনা যাক"--জাতীয় অসুস্থ,বিকারগ্রস্ত চিন্তা-ভাবনা যারা করে---তাদের রোজ সকালে এই লেখাটা উচ্চকন্ঠে আবৃত্তি করে শোনানো হোক----এই আমার প্রস্তাব---

এই ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলে বসবাস করে শিবির সম্পর্কে যাদের মনে কোমল ভাব জাগ্রত হয়, তত্বীয় আলোচনা করার খায়েশ হয়--এদেরকে আমি সরাসরি গোমূর্খ বলি---এবং এদের শিবিরের চেয়েও ভয়াবহ ঘৃণ্য প্রজাতির 'পশু' বলে ভাবি---

আর, হ্যা, সেজন্য আমি কখনোই 'লজ্জিত' নই----!!!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আসলেও শিবিরকে গালি দিতে বা তাদের মুখোশ উম্মোচনের জন্যে কোন কাজ করতে আমিও লজ্জিত নই।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

জাহিদ হোসেন এর ছবি

শিবিরের নানাবিধ সন্ত্রাসী কুকর্মের কথা সবারই জানা। তবে আমার কাছে যেটি বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক মনে হয় সেটি হচ্ছে এরা এখন আস্তে আস্তে মেইনস্ট্রীমের সাথে মিশে যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরাই পালন করছে একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস। আর কিছুদিন পর হয়তো শোনা যাবে যে এরা অত খারাপ না। পাব্লিকলি এদের ধরা মুশকিল, কেননা সর্বদাই তারা ধর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকছে। এদের বিরোধিতা করা মানে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা। এদের মতো দুই-নাম্বারী জিনিস আর নেই।
আপনার লেখাটি নিঃসন্দেহে সে মুখোশ খুলে ফেলেছে। এইরকম আরো লেখা আসা উচিৎ। একদম নাম-ঠিকানা দিন-তারিখ সহ।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জাহিদ ভাই, আপনার কথাগুলো ভীতিকর এবং সত্যি, জানি না, কিভাবে এদের আলাদা করা যাবে। আপনে বলে ডুব দেবার প্ল্যান করছেন, আগে একটা লেখা দিয়ে যাবেন না?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাধু এর ছবি

শিবিরের কর্মকান্ড পিশাচ হিটলারের নাতসি পশুদের মত । এদেরকে সামাজিক ভাবে উত্খাত করার জন্য যদি কোন রাজনৈতিক সদিচ্ছা নাও থাকে তবুও সাধরন মানুষের ভেতরে এই ইচ্ছাটার শুরু হতে হবে । তার জন্যে সুশিখ্খিত মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে । বাস্তবমুখী লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

সাধু

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ সাধু, আপনার কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি, আমরা এগিয়ে না আসলে এই নরপিশাচদের সমাজ থেকে দুর করা সম্ভব না। এরা তো আর বসে থাকবে না, এগিয়ে যেতে থাকবে, নিজেরা দলে ভারী হবে, আর ভবিষ্যত অন্ধকার হতে থাকবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্তব্ধ এর ছবি

গভ: ল্যাব হাইস্কুল, ঢাকা। ২০০১/২০০২ সাল (বছরটা ঠিক মনে করতে পারছি না) । আমি তখন ক্লাস ৭/৮ এ পড়ি। ডে শিফটের (আমি তাতে পড়তাম) ক্লাস শুরু হত ১২ টা ২০ এ। আমাদের ক্লাস হত নিচতলায় ২য় গেইট দিয়ে ঢুকার পর বাঁ দিকের প্রথম ক্লাসরুমে।
একদিন ১২ টা ৫ এর দিকে ক্লাসে গিয়ে দেখি কয়েকজন তরুণ (ছাত্র শিবিরের) আমাদের হাতে একটি করে ছোট ফরম (লিফলেটের সাইজ) ধরিয়ে দিল। তাতে নাম, বাবার নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নং ইত্যাদি পূরণ করতে বলা হল। অনেক ছাত্র তা পূরণও করল। কিন্তু সেইসময় বেশ কয়েকজন স্যার এসে শিবিরকর্মীদের হাতে নাতে ধরে পুলিশে দিল। স্কুল কম্পাউন্ডে তাদের যখন জেরা করছিলেন স্যারেরা, তখন তারা স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেয়।
যা হোক, তারপর সব নিরাপদে চলছিলো, আমাদের সাময়িক/বার্ষিক(সময় মনে নেই) পরিক্ষার সময় স্কুল কম্পাউন্ডে দ্বিতীয় গেইট দিয়ে ঢুকতে যাচ্ছি, এমনসময় দেখি কয়েকজন স্যার অভিভাবকদের কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না, শুধু ছাত্ররা যেতে পারবে। সেখানেই শুনি আজ সকালে স্কুলে বোমা পাওয়া গেছে।
সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজ্যাল ইউনিট এসেছে। আমরা জানলাম দুটো বোমা রাখা ছিল পাম্পহাউসের কাছে। চাপা উত্তেজনা, শংকার ছাপ সব ছাত্রের চোখে মুখে। নীচতলায় পরিক্ষা দিচ্ছিলাম আর মাঝে মাঝে দেখছিলাম আর্মি ডিটেক্টর নিয়ে স্কুলের পেছনে সার্চ করছে।
বেশিরভাগ পত্রিকায় এসেছিলো সেই ঘটনা। জনকণ্ঠে, প্রথম আলো, ভোরের কাগজে।
চিন্তা করে দেখেন কত বড় সিক আর ব্রেইন ওয়াশড এরা। স্কুল ও মুক্তি পায় না এদের হিংস্রতা থেকে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

স্তব্ধ, আপনার মন্তব্য পড়ে পুরাই স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলাম, এ ধরনের ঘটনা সকলের জানা উচিত, কাজেই কারো মনে যেন একটুও মায়া দয়া স্থান না পায়, হাত বা গলা যেন না কাঁপে এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে। কত বড় ফ্যানাটিক হলে এরা স্কুলে হামলা চালায়, বোমা দিয়ে উড়িয়ে দিতে চায় দেশের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি। এদের বাঁচার কোন অধিকার আছে বলে আমার মানতে কষ্ট হয়।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

১.
সাইব্বাই... আপনে এখনো জানলেন্না... সংবেদনশীলতা কোথায়?
শিবিরকে গালি দেওয়াটাই তো সংবেদনশীলতা... এটাকে আমি গালি বলতেও নারাজ... শিবিরকে আসল নাম... মানে শুওয়েরর দল বলে ডাকা হউক... এখানে সংবেদনশীলতার কোনো অভাব হয় না...

২.
আমি শহরের পোলা... রাবি, শাবিতে যখন শিবির শক্তাবস্থানে, ঢাকায় তখনো রাজপথ আমাদের দখলে ছিলো। আমরা ৯০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাত খুলে প্রকাশ্য রাজপথে গজারির ডাইল দিয়া শিবির পিটাইছি।
জামাত ইসলামীর জনসভায় হামলা করছি, গোলাম আজমের মঞ্চে আগুন দিছি নিজ হাতে... মানিক ভাই কই? সাক্ষ্য দিতে আসেন...

৩.
আবার এই আমিই ৯৮ সালে সিলেটে শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়া শিবিরের হাতে ধরা খায়া কোনোরকমে জান নিয়া পলাইছি...

৪.
আমি কোনোভাবেই বুঝে পাই না, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কীভাবে এদের সমর্থন করতে পারে?

৫.
শিবিরের কর্ম নিয়া পুস্তক করেন... কিন্তু খিয়াল কইরা... শিবির কিন্তু এখন ভদ্রলোক সাজছে। তারা এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বৃত্তি দেয়। তারা পথ পাল্টাইছে। শিবির এখন নিজ নামে আর সন্ত্রাস কায়েম করে না... জঙ্গিনামে উপশাখা খুলে করে। খুব খিয়াল কইরা...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাইফ তাহসিন এর ছবি

নজুদা, আপনার মন্তব্য পড়ে অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো দেখতে পেলাম। আপনার মত সুস্থ চিন্তার মানুষ আছে বলেই এখনও এই শুওয়ের দল সবকিছু দখল করে নিতে পারে নি, আপনার মন্তব্যে উত্তম জাঝা!, আর সাক্ষী লাগবে কেন? আপনার উপর কী আমাদের বিশ্বাস নাই নাকি?

শুধু ৫ নম্বরের কথা বলি, আসলেও তারা তাদের কর্মপন্থা বদল করেছে, ভদ্রতার লেবাস পড়ে তারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নানা ভাবে বিভ্রান্ত করে দলে ভেরানোর চেষ্টা করছে, কাজেই আমাদের এই ভন্ড ভদ্দরনোকদের সনাক্ত করে তাদের নির্মুল করতে হবে। আর তা করতে গেলে প্রথমে আমাদের চিনতে হবে, জানতে হবে, আর শত্রুকে ছোট করে দেখা যাবে না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মণিকা রশিদ এর ছবি

চলুক
চলুক........................................
......সবটুকু বুঝতে কে চায়!

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

চলুক প্রিয় পোস্ট হিসেবে যুক্ত করলাম ।নজরুল যে অধমকে স্মরণ করেছেন তা' আগে খেয়ালই করিনি ।

১। জামাত -শিবিরকে শুওয়রের দল বলাই যথার্থ । শুওয়রের বাচ্চার দাঁত গঁজালে নিজের বাপকে আগে কামড়ায় আর এরা কামড়িয়েছিল নিজের দেশকে ।

২। নজরুলের মত আমিও ঢাকা শহরের পোলা এবং আমরা দুজনেই ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলাম, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটিতে যুক্ত ছিলাম, গজারির ডাইল তো ছিলই হাতে ( কলেজ জীবনে কাঁটা রাইফেলও থাকত) । একুশে বইমেলায় প্রচার করেছিলাম "তুই রাজাকার' ছড়া সংকলন যেখানে গো আজম নিয়ে বেশ কিছু প্যারডি ছড়া ছিল ।

৩। এদের সমর্থন করার কারণ আমিও বুঝি না ।

৪। জামাত -শিবিরের নানা শাখা উপশাখা গঁজিয়েছে । আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীলরাও জামাতি নয়া দিগন্তে কলাম লিখে , দিগন্ত টিভির টকশোতে যোগ দেয় ।

৫। ব্লগেও এরা খুবই তৎপর । একমাত্র সচলায়তন ব্যতিক্রম যেখানে কোনো ছাগু নেই ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

এনকিদু এর ছবি

ব্লগেও এরা খুবই তৎপর । একমাত্র সচলায়তন ব্যতিক্রম যেখানে কোনো ছাগু নেই ।

প্রমান করা যাবে ? এত নিশিত হচ্ছেন কিভাবে । এই মন্তব্যটা যে লিখেছে সে যে ছাগু না, আপনি কিভাবে জানেন ?


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

"এই মন্তব্যটা যে লিখেছে সে যে ছাগু না, আপনি কিভাবে জানেন ?"

এই মাত্র তোমার সাথে ফোনে আলাপে তুমি জানালে যে, তুমি এখানে নিজেকে মিন করেছো । কিন্তু তুমি তো ছাগু নও এবং হবেও না কখনও । আমি তোমার ব্যাপারে নিশ্চিত এনকিদু ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চলুক

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জামাত -শিবিরকে শুওয়রের দল বলাই যথার্থ । শুওয়রের বাচ্চার দাঁত গঁজালে নিজের বাপকে আগে কামড়ায় আর এরা কামড়িয়েছিল নিজের দেশকে

কামড়িয়েছিল এবং আজও কামড়াচ্ছে, কবে যে এরা নিপাত যাবে। মন্তব্যে উত্তম জাঝা!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এদের পূ্বসুরীরা তো খোলাফায়ে রাশেদার দুইজনকে (উসমান রা., আলি রা.) কতল করেছিল , শতাধিক সাহাবাকে হত্যা-নির্যাতন করেছে । এমনকি ইসলামের স্বর্নযুগেও এরা ইসলামের নামে জ্ঞানীঁদের হত্যা ও নিযার্তন করেছে । দেখুন আমার সচল ব্লগঃ ইসলামের চিন্তার ইতিহাসে যারা সত্যের শহিদ

আর উত্তরসুরীরা নজরুলকে কাফের আখ্যা দিয়ে পিটিয়েছে , একাত্তরে বুদ্ধিজীবিদের নিধন করেছে , স্বাধীন দেশে শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদের উপর হামলা করেছে, হাসান আজিজুল হকের লাশ বঙ্গপসাগরে ভাসানোর হুমকি দিয়েছে , আনু মুহম্মদকে কাফনের কাপড় পাঠিয়েছে ইত্যাদি ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ মানিক ভাই, অসাধারণ চারটে লিংক দিলেন আপনে। পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

শিবির নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জানাতে চাই -

১। এরশাদের আমল

এটা সেই সময়ের কথা যখন এরশাদ প্রবল প্রতাপে দেশ শাসন করে যাচ্ছে। আমি তখন পুরান ঢাকায় স্কুলে পড়ি। আমাদের টিফিনে ছুটি দিত ৪৫ মিনিট - টিফিন পিরিয়ড শুরু হয়েছে কি হয় নাই, পাশের কবি নজরুল কলেজের শিবিরের কয়েক বান্দা এসে হাজির - কি মিস্টি মিস্টি তাদের কথাবার্তা, কিন্তু আমরা ছটফট করতাম ক্লাশ থেকে বেরিয়ে খেলতে যাওয়ার জন্য। প্রথম প্রথম আমরা ক্লাসরুমের ২য় দরজা দিয়ে ভেগে যেতাম কিন্তু এরপর দুই দরজাতেই লোকজন দাড়িয়ে থাকত যাতে আমরা শুনতে বাধ্য হই তাদের কথাবার্তা, আর সব শেষে ফরম দিত পূরন করে দিতে বলত। স্কুলের টিচাররা কিছু বলতে পারত না কারন সিনিয়র মৌলভী স্যারের অনুমতি নিয়ে এরা এসব করছে - যার জন্য স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত পর্যন্ত গাওয়া যেত না। চরম বিরক্ত হয়ে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের কাছে বিচার দেয়া হল। তারা এসে পরে আমাদের রক্ষা করে। সেসময় লীগ আর দলের ছেলেপেলে শিবির পেটানোর জন্য একে অন্যকে সহায়তাই করত। আর আজ পুরানো ঢাকায় জগন্নাথ কলেজে (এখন ইউনি) শিবিরের ব্যাকবোন হল দলের ছেলেপেলে। মন খারাপ

২। আওয়ামী লীগের আমলে ('৯৬-'০১)

আমি তখন বুয়েটের আহসানউল্লাহ হলের ছাত্র। অন্য কোন ইউনিতে জানি শিবির-লীগ মারামারি লাগছে, ফলে লীগের পোলাপান সারা বুয়েটের সবগুলো হলে শিবির পেটানো শুরু করেছে। আহসানউল্লাহ হলের একটা রুম থেকে পাওয়া গেল শিবিরের তথ্যের খনি। তাদের সদস্যদের লিস্ট সহ নানারকম কাগজ পত্র। সেই কাগজ-পত্র ঘেটে দেখা গেল যে এদের নিয়মিত রিপোর্ট দিতে হয় তাদের হাইকমান্ডের কাছে। হলে এবং ক্লাসে কে কে প্রগতিশীল, কার কার ধর্মের প্রতি সফট কর্নার আছে, কার আর্থিক অবস্থা কি ইত্যাদি। আর হিন্দু ছাত্রদের জন্য একেবারে আলাদা কলাম। তাদের ব্যপারে বিস্তারিত। ছাত্র সংগঠন না তো যেন কোন যুদ্ধের প্ল্যানিং টিম।

তখন বুয়েটে শিবির বিরোধী ছিল বামপন্থীরা, লীগ, দলের লায়ন ভাই অংশের ছাত্ররা। ছাত্রদলের মুকি (বুয়েট ছাত্রী সনি হত্যার সাথে জড়িত) অংশ ছিল চট্টগ্রামের সাকা আর লালবাগের পিন্টু সমর্থিত। এই অংশ ছিল শিবিরের বি-টিম। মূলত এদের ব্যাকিং এর জন্যই শিবির ২০০১ জাতীয় ইলেকশনের পর বুয়েটে প্রকাশ্যে আসার সাহস পেয়েছিল। তারা আলাদা প্যনেলও দিয়েছিল ইউকসু নির্বাচনে। শিবির প্যনেলের ভিপি প্রার্থী ছিল আওরঙ্গজেব (ব্যাচ ১৯৯৫, কম্পু)। পরে সে সিংগাপুরে গিয়েছিল মাস্টার্স করতে, তারপর অস্ট্রেলিয়ার মোনাশে ছিল। সামহোয়ারইনের মোটামুটি নিয়মিত ব্লগার সে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় আস্তমেয়ে, ফারজানা সহ শিবিরের যে নিউক্লিয়াস টা আছে তার কেন্দ্রে সে ছিল। জানিনা এখন সে কই। বুয়েটের ১৯৯৫ ব্যচের আরেক মার্কামারা শিবির ছিল মোকাররম। খুব সম্ভবত সে এখন জার্মানীতে আছে। যা খবর পাই, সে এখনও জার্মানীর বাংলাদেশী ছাত্রদের ইয়াহূগ্রুপে ভালই একটিভ।

আর আমি শিবিরদের নিয়া কোন ঢাক ঢাক গুড়ে বিশ্বাসী না। এই ফ্যসিস্ট গুলার নাম, ঠিকানা পরিস্কার করে জানতে ও জানাতে আমি আগ্রহী। তাই উপরের কমেন্টে নাম সহই লিখলাম। এখন এই কমেন্ট ছাড় পাবে কিনা তা মডারেটর উপর বিবেচনা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এরশাদের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ের একটা ঘটনা আছে। সেটা সিনিয়র কারও আলোচনায় আসছে না এখনো।

হামিদ (পুরা নাম মনে নেই) এরশাদ সমর্থিত ছাত্র শাখার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলো। তার কারণে ক্যাম্পাসে শিবির মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারছিলো না কোনো ভাবেই। পরে খুব সম্ভবত এরশাদ যখন ছাত্রদের গুটিয়ে নিলো তখন সুযোগ বুঝে শিবিরের পোলাপাইন হামিদকে ক্যাম্পাসে সবার সামনে আক্রমন করে বসে। তারা হামিদের বাম হাতের কবজি কেটে নেয়। তারপর সেই কাটা কব্জি নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে মিছিল করে। শ্লোগান দেয়, যারা আল্লাহ্'র আইন প্রয়োগকারী শিবিরের বিপক্ষে যাবে তাদেরও একই হাল হবে।

আমাদের এলাকায় কুখ্যাত রাজাকার কালামুদ্দিন জাফরী। সে নরসিংদী শহরের গাবতলী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। তার তত্বাবধানে শিবিরের পোলাপান তাদের মতের বিরুদ্ধে কেউ গেলেই ধরে নিয়ে গিয়ে রগ কেটে দেয়। একবার স্থানীয় নরসিংদী সরকারী কলেজের আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন ছেলেকে ধরে নিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় শিবির। এই ঘটনা ঘটে গাবতলী মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে। ফ্লোরের রক্ত কামালুদ্দিন জাফরী নিজের হাতে মোছে। তখন বিএনপি নতুন ক্ষমতায় এসেছে। এই ঘটনার পর দল-লীগ এক হয়ে প্রতিবাদ করলে জাফরী গা ঢাকা দেয়। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য গাবতলী মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যায়।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধুগোদা, চিন্তা করেন, মানুষ SAW দেখে ভিমরি খায়, আর এদিকে এই সব শিবিরের শুয়োরগুলো আমাদের দেশের সাধারণ মানুষগুলোকে কিভাবে অত্যাচার করে বেড়াচ্ছে। কে যেন একদিন আমাকে বলেছিল, এদের নিয়া মাতামাতি কর কেন? এরা তো সংখ্যালঘু। আমার বরাবরের মতই জ্বলে উঠি, সংখ্যালঘু হয়েছে তো কি হয়েছে? আর এদের সংঘবদ্ধতা দেখেতো মনে হচ্ছে না এরা সংখ্যালঘু, আর এদের নেই কোন ভয়, অন্ধবিশ্বাস এদের জোটায় শক্তি, ফ্যানাটিকদের সাথে সাধারণ মানুষ পারবে কেন?

জাফরীর মত নরপিশাচের অভাব নেই দেশে। এডেরকে সনাক্ত করে বিচার করতে হবে, নাহলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

সোলসের পার্থ বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার কাছ থেকেই শুনেছিলাম হামিদের হাত কেটে নেওয়ার কাহিনী। পার্থদা তখন ক্যাম্পাসেই ছিলো। কী যে বিভত্স...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাই, আপনার মন্তব্য পড়ে এবং আপনার এপ্রোচ দেখে ভালো লাগল। বস, বিস্তারিত লেখা দেন, বছর ধরে বা ঘটনা ভিত্তিক লেখেন, যারা জানেন, তারা যদি না লিখেন, আমরা যারা জানি না, তাদের কাছে পর্দার অন্তরালে থাকা কোন কাহিনীই জনসাধারণ জানতে পারবেন না। আর নাম অবশ্যই দিবেন, এখানে কোন শিবির বা তার চামচাদের স্থান নেই, সচল একটা সুস্থ চিন্তার মাধ্যম হয়ে উঠবে, এটাই সবার কাম্য।

পাঠক ভাই, মডারেটরদের সম্পর্কে দেখা যাচ্ছে কিছু ভুল ধারনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে আমার অশালীন মন্তব্য ছাড়া পায় সেখানে আপনার দেওয়া তথ্যের ঝুড়ি ছাড়া না পাওয়ার কোন কারন দেখছি না। মন খুলে নির্ভয়ে নির্দ্বিধায় লিখুন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নুরুল আমীন সৌরভ এর ছবি

মোকাররম ৯৩ ব্যাচের জার্মানির কাইজার্সলয়টার্নে থাকে। জার্মানিতে শিবিরের একটি গ্রুপ সুযোগসন্ধানী তৎপরতায় লিপ্ত, মোকাররম এদের নিউক্লিয়াস এবং জার্মানির ইয়াহুগ্রুপে এরা একসাথে একে অন্যকে সমর্থন করে বিপক্ষকে আক্রমন করে। এই দলে আছে হালে মার্টিন লুথার ইউনিভার্সিটির মোহাম্মাদ নুর, ষ্টুটগার্ট ইউনিভার্সিটির জাহাংগির কবির, রেগেন্সবুর্গ ইউনিভার্সিটির মারুফ হাসান ও আরো কয়েকজন। তারা ধর্ম ও সুশিল মুখোশে শিবিরের পক্ষে যায় এসব নিউজ ও বক্তব্য প্রচারের চেষ্টা করে। যেমন মোকাররম জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আর্টিকেল লেখে, চাকরীর সন্ধান নিয়ে পোষ্ট দেয়, ইজরাইলের আগ্রাসন নিয়ে মেইল করে, সোনারবাংলা ডট কমের লিংক দেয়, মন্তব্য প্রতিবেদন: কাদের বিচারের কথা কারা বলছে যু্দ্ধাপরাধীর বিচারের বিপক্ষের এই প্রতিবেদন দেয়। ইয়াহু গ্রুপে বেশ কয়েকবার মডারেটরের ঝাড়ি খেয়েও এদের লজ্জা নেই। শিবিরের কাছ থেকে লজ্জা আশা করাও যায় না। লজ্জাহিন মানুষ ভয়ংকর হতে পারে, লজ্জাহিন অমানুষ কেমন হবে আপনারা চিন্তা করে দেখবেন।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

লজ্জাহিন মানুষ ভয়ংকর হতে পারে, লজ্জাহিন অমানুষ কেমন হবে আপনারা চিন্তা করে দেখবেন

চলুক , মন্তব্যে উত্তম জাঝা!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

হাসিব এর ছবি

বিএসএ জার্মানিতে সুবিধা করতারেনাই তারা এহনতরি । লৌড়ানির উপরে থাকে ।

এনকিদু এর ছবি

আর আমি শিবিরদের নিয়া কোন ঢাক ঢাক গুড়ে বিশ্বাসী না। এই ফ্যসিস্ট গুলার নাম, ঠিকানা পরিস্কার করে জানতে ও জানাতে আমি আগ্রহী।

আপনার ( এবং আমারো ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষকের নামের তালিকা জোগাড় করুন । তার পর কয়েকটি নাম কেটে দিন । একটা ভাল তালিকা হয়ে যাবে ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সাইফ তাহসিন এর ছবি

জটিল বলেছেন এনকিদু বস!! প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই অবস্থা

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

@এনকিদু :

আপনার ( এবং আমারো ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষকের নামের তালিকা জোগাড় করুন । তার পর কয়েকটি নাম কেটে দিন । একটা ভাল তালিকা হয়ে যাবে

নিচের রিপোর্টটিতে অনেক জামাতি শিক্ষকের নাম জানা যাবে।

--------------------------------------------------------------------------------
জোট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল দুর্নীতির আখড়া, শীর্ষে
জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা

আমাদের সময়, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৭

তরিকুল ইসলাম সুমন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিগত জোট সরকারের আমলে ছাত্রভর্তি বাণিজ্য, দলীয় ছাত্রদের পরীক্ষায় অধিক নম্বর ও সুযোগ সুবিধা দেয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিনড়ব বিভাগে নিয়োগসহ নানান দুর্নীতির মাধ্যমে মালিক হয়েছেন অবৈধ সম্পদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক-দুর্নীতি, নিয়োগ-দুর্নীতি, ভর্তি-দুর্নীতিতে জড়িত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এরশাদুল বারী (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারিত সাবেক উপাচার্য), অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান (মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারিত সাবেক উপাচার্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য), অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান (কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য), অধ্যাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রেজারার, তিনি বিশাল নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লাভ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে), অধ্যাপক আবুল খায়ের (নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য), অধ্যাপক এএফএম ইউসুফ
হায়দার (বর্তমান উপ-উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদের সিলেকশন বোর্ডের তিনি সভাপতি এছাড়াও বিভিনড়ব কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ডেরও তিনি সভাপতি), অধ্যাপক মো. মোর্শেদ (পিএসসিতে
নিয়োগ-বাণিজ্যে বিপুল অর্থের মালিক বলে শোনা যায়), অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম (পিএসসিতে নিয়োগ বাণিজ্যে বিপুল অর্থের মালিক বলে শোনা যায়), অধ্যাপক আতাউর রহমান (রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, ৫২ জনকে প্রথম শ্রেণী পাইয়ে
দেয়ার হোতা), অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন (বিভিনড়ব নিয়োগ-বাণিজ্যে হাওয়া ভবনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন), ড. সাইফুল ইসলাম (বিভিনড়ব নিয়োগ বাণিজ্যে হাওয়া ভবনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবৈধ অর্থের
মালিক হয়েছেন বলে শোনা যায়), অধ্যাপক হাবিবুর রহমান (ঔষধ নিয়ন্ত্রণ পরিদফতরের প্রাক্তন পরিচালক, দুর্নীতির দায়ে অপসারিত, বিভিনড়ব ঔষধ কোম্পানি থেকে বিএমএ নেতা ডা. জাহিদের সঙ্গে যৌথভাবে বিপুল অর্থ আয় করেছিলেন বলে জানা যায়), অধ্যাপক জাহিদ (সার্জেন্ট জহুরুল হকের প্রভোস্ট), ড. এটিএম ফখরুদ্দিন (আর্থিক দুর্নীতি একাধিকবার প্রমাণিত)।

অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় ব্যাপক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রশাসনিক পদে বিএনপি ও জামায়াতের ছাত্র নেতাদের সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়।
বহুল আলোচিত নামের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন সন্ত্রাসী ছাত্রনেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং ছাত্রনেতা আমজাদ হোসেন শিশির। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকশ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনেকগুলো সরাসরি অর্থের বিনিময়ে। ড. আনোয়ারের জীব বিজ্ঞান অনুষদে শিক্ষক নিয়েগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পূর্ববর্তী ডিন অধ্যাপক সালেহীন কাদরীর সময়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজের নিজ বিভাগ মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ এ লেকচারার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। ড. আনোয়ার ডিন থাকাকালে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সিলেকশন কমিটির সদস্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ ও অনুষদের ডিন হিসেবে শিবির ক্যাডার মো. শাহিনূর হোসেনকে নিয়োগ দান করেন। যার বিরুদ্ধে তার নিজ বিভাগে (অনুজীব বিজ্ঞান) ছাত্র থাকাকালীন পরীক্ষায় জামায়াত ঘরানার শিক্ষকদের যোগসাজসে বেশি নম্বর প্রদান, একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকায় তদন্তকাজ চলছিল। এই নিয়োগ বোর্ডেরও সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচ্ছ্বিদ্র ভর্তি পরীক্ষার সুনাম শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু বিগত জোট সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ছোয়া ছাত্রছাত্রী ভর্তি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছিল। ভর্তি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক
বিভাগের ভর্তি শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা ও বিভাগপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তবে দুর্নীতি গত ৫ বছরে যেভাবে পরিব্যপ্তি হয়েছিল, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ধারণা আছে যে, শিক্ষকরা (সরকার দলীয়) এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। অবৈধ ভর্তির দায়দায়িত্ব শীর্ষপ্রশাসন (উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার) এড়াতে পারেন না। ভর্তি-দুর্নীতির অন্যতম পথ পুনঃভর্তির সময় এবং মুক্তিযোদ্ধা ও ওয়ার্ড কোটায় ভর্তির সময় হয়ে থাকে। ভর্তি-দুর্নীতির সঙ্গে জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের গভীর যোগাযোগ এবং এর মাধ্যমে শিবির কর্মীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপকহারে ভর্তির ব্যবস্থা করার কথা বহুল আলোচিত। অনুষদের ডিন জামায়াতের সহযোগিতায় পরীক্ষার আগের দিন প্রেস থেকে প্রশড়বপত্র ছাপানের
সঙ্গে জামায়াত দলীয় শিক্ষকদের যুক্ত করে প্রশড়বপত্র সংগ্রহ, নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সমেবেত শিবির কর্মীদের মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতির প্রশ্নপত্রের উত্তর দ্রুত জানিয়ে দেয়া এবং দলীয় তত্ত্বাবধানে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় যেন
শিবিরের বাইরে কোনওভাবেই তা ছড়িয়ে না পড়ে। ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় এমন অভিযোগ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক শাহিনূর হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে। বর্তমানে ডিনদের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক
তাজমেরী এসএ ইসলাম ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিনের নাম এ প্রসঙ্গে এসেছে। অধ্যাপক তাজমেরী এ বছরে ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা সমন্বয়ক হিসেবে গোপনীয় কাজে ব্যাপকভাবে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নিয়োগ করেন
বলে জানা যায়। অধ্যাপক সদরুল আমিনের সময়ে বিশেষ একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা যাদের মধ্যে মাদ্রাসা থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের অধিক্য রয়েছে তারা কলা অনুষদে ভর্তি হতে পেরেছেন। অনৈতিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের বেশি নম্বর দেয়া, প্রশড়বপত্র ফাঁস ইত্যাদি মাধ্যমে একাডেমিক দুর্নীতি হয়ে থাকে। অতীতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের দুর্নীতির কথা সচরাচর শোনা যেত। বিগত পাঁচ বছরে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যায়। অত্যন্ত পরিকল্পিত ও দলীয়ভাবে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জামায়াতপন্থী
শিক্ষকরা প্রথম বর্ষ থেকেই তাদের রিক্রুট করা শিবির কর্মীদের বিভিন্ন ইনকোর্স পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিতে শুরু করেন।

খুবই অনৈতিক এই কাজটি তারা করেন অর্থপ্রাপ্তির চাইতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে। ফলে ৪ বছরে ধীর ধীরে শিবির কর্মীরা বেশি নম্বর পেয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উপরের দিকে স্থান করে নেয়। এ বিষয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ জেনেটিক ইঞ্চিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের বর্তমান প্রভাষক শাহানুর হোসাইন। অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্র ও শিবির ক্যাডার ওই বিভাগের জামায়তপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক (ফজলুল হক হলের বর্তমান প্রভোস্ট) অধ্যাপক
আনিসুর রহমান (অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান) ও অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সহযোগিতায় অনৈতিকভাবে ধাপে ধাপে বেশি নম্বর পেয়ে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান লাভ করে এবং মাস্টার্সে ওই
জামায়াতী শিক্ষকদের যোগসাজশে থিসিসে শতকরা ৯০ এর উপর নম্বর লাভ করে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে যান।

জামায়াতপন্থী এই ৩ শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন জমায়াতপন্থী শিক্ষকের অন্যতম যারা পত্রিকায় যৌথস্বাক্ষরে বিবৃতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সংগঠনকে অন্যান্য সংগঠনের মতো কাজ করার দাবি করেছিলেন। একাডেমিক
দুর্নীতির ক্ষেত্রে জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক আতাউর রহমান সম্পৃক্ত।
শীর্ষমহল মনে করেন সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত জোট সরকার নিয়োজিত শীর্ষপর্যায়ে (উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার) শিক্ষকদের অপসারণ করে সৎ, যোগ্য এবং যতদূর সম্ভব দল-নিরপেক্ষ শিক্ষকদের নিয়োগ দান করা প্রয়োজন। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ কাজটি শুরু করা উচিত। শীর্ষপর্যায়ে এই পরিবর্তনের পরপর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা। শীর্ষপর্যায়ে পরিবর্তন না করে তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনও ফল পাওয়া যাবে না। অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রকাশের ভয়ে অনেকেই এগিয়ে আসবে না। তদন্ত কাজে তথ্য লাভের জন্য দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সুবিধাজনক জায়গায় একটি বাক্সে ফেলার ব্যবস্থা বা সরাসরি তদন্ত কমিটির কাছে তথ্য প্রদানের আহ্বান, চিহ্নিত
দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অবৈধ ভর্তির সঙ্গে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে রিমান্ডে এনে তথ্য সংগ্রহ, এতে অবৈধ ভর্তির সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে জানা যাবে। বিগত জোট সরকার
কর্তৃক সকল শিক্ষক ও অফিসার নিয়োগ কমিটিতে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ করা সদস্যদের অবিলম্বে অপসারণ এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা প্রতিস্থাপন।
এছাড়া বিভাগওয়ারী নিয়োগ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে বিভাগের মতকে গুরুত্বদান। প্রতিটি হলে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ করা প্রভোস্টদের অবিলম্বে অপসারণ এবং যোগ্য, মর্যাদাবান শিক্ষক যারা ছাত্রছাত্রীদের আস্থাভাজন হবেন ও যারা ছাত্রছাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তাদের নিয়োগ প্রদান। জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের গোপন অপতৎপরতার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রাখা।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

@পাঠক [অতিথি]
আপনার মন্তব্যপাঠে আজ আরো অনেককিছু ক্লিয়ার হলো। উত্তম জাঝা!

রেজুয়ান মারুফ এর ছবি

এখন এদের অনেককে চেনা যায়না। আউটফিট চেঞ্জ হয়েছে এদের, বদলে ফেলেছে কথার ধরণও। মিশে গেছে সবার মধ্যে। একাত্তরের পরে যেমন অনেক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা সেজেছিল। এদেরকে চিনতে হবে। কে জানে এই সচলেই হয়তো কেউ কেউ আছে - ভোল আর বোল পাল্টে! আমি অন্তত দু'একজন তথাকথিত প্রগতিশীলকে জানি -যাদের ভেতরে মৌলবাদের বাস!

------------------------------------------------

আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কাব্য নিয়ে ঘুরি।

আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কব্য নিয়ে ঘুরি।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনার কথার সত্যতা অনুধাবন করে শিউরে উঠলাম ইয়ে, মানে...

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

আমি রাজশাহীর ছেলে। শিবির ওরফে রগ কাটা পার্টির কথা শুনবো না সেটা তো হতেই পারেনা। তাদের অত্যাচারে রাজশাহী শহর কিভাবে প্রতিনিয়ত জর্জরিত হচ্ছে সেটা ছোট থেকেই দেখে আসছি। কিন্তু হায়! এতো বড় হয়ে গেলাম এই রগ কাটা হারামিদের কেউ তেমন কিছুই করতে পারলো না। তারা যেমন দাপটে বিশ-ত্রিশ বছর আগেও ছিল আজো সেভাবেই ঘুরে বেড়ায় রাস্তায় রাস্তায়। ডাঃ রতনের ঘটনা আমার জানা। আমার এক মামা বামপন্থী ছিলেন। উনাকে রগ কাটা পার্টির হারামজাদারা একদিন বাজার করে বাসায় ফেরার সময় হাতের এবং পায়ের সবগুলো রগ কেটে রিক্সায় তুলে দিয়েছিল। অবস্থা যা হবার তাই। মামাকে আর কখনো দেখতে পাইনি আমি। লেখাটা পড়ে অনেকদিন পর মামার কথা খুব মনে পড়ছে। আর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে উঠছি নতুন করে এই রগ কাটা হারামিদের বিরুদ্ধে।
--------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনার মামা বা ডাঃ রতনের মতন আরো অনেকে শিবিরের হিংস্রতা আর নৃশংসতার শিকার হয়েছেন, এদের নির্মূল না করলে ভবিষ্যতে আরো অনেকেই হবেন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

আমি মাঝে মাঝে ভাবি যে এরা কোন ধরনের শ্বাপদ যারা কোনও কারণ ছাড়াই এভাবে মানুষ খুন করে বেড়ায় !! এদের বিরুদ্ধে আমাদের জোরদার আন্দোলন গড়তে হবে।
--------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

ভুতের বাপ এর ছবি

ভুতের বাচ্চা ওরফে "টক্স" ভাইয়া, আপনার কথার সাথে কাজের তো মিল দেখি না। ব্লগস্পটে সব মার্কামারা শিবিরের ব্লগেই তো আপনার গদোগদো কমেন্ট দেখা যায়।

নদী এর ছবি

"জামাতে ব্যবসায়ীর ছানা"দের নিয়ে আপনার লেখাটা সময়োপযোগী।
এই ছানাদের বিস্তার রোধ করা সহজ নয় বলেই মনে করি। দেশের উচ্চপ্রতিষ্ঠাগুলো তারা দখলে নিয়েছে বা নিচ্ছে। এটা বিশ্বেরই একটা চিত্র। উদাহরণ হিসাবে আমেরিকার কথা বলা যায়। নির্বাচনে ধরেই নেয়া হয়, আমেরিকার গ্র্যাজুয়েটরা রিপাবলিকানদেরই সমর্থন করবে; হয়ও তাই। পোকারা আলোর দিকে ধাবিত হলেও, মানুষের গতি অন্ধকারের দিকেই। গ্যালিলিও-অ্যারিষ্টটলরা এইখানে মানুষকে হারতে দিতে চান নি। তারা যে বাতিটি তুলে ধরেছিলেন, জ্বালিয়েছেন তা টিম টিম করে করে জ্বলছে যদিও এখনও। তবে আশার কথা, আমাদের মাঝে সেইসব মানুষ রয়েছে যারা গ্যালিলিও-অ্যারিষ্টটলদের হারতে দেবে না।

নদী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এই ছানাদের বিস্তার রোধ করা সহজ নয় বলেই মনে করি। দেশের উচ্চপ্রতিষ্ঠাগুলো তারা দখলে নিয়েছে বা নিচ্ছে।

একমত, আর এদের দূর করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই হাতে। জানি না কতদুর কী করতে পারব, হয়ত ব্লগেই লাফালাফি করে যাব, বড় বড় কথা বলব, বাস্তবে কিছুই করতে পারব না মন খারাপ

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অতিথি লেখক এর ছবি

শিবির নিয়ে পোস্ট দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য। শিবিরের অপকর্মগুলো কম্পাইল করে প্রকাশ করতে পারলে খুবই ভাল হয়। বিশেষ করে রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অপকর্মের বিস্তারিত জানতে খুবই ইচ্ছা করে।

কানা বাবা

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সেইটাই রে ভাই, রাবি আর চবি তে বিশেষ আখড়া ছিল ৯০এর দশকে। তখন যারা সেখানে ছিলেন, তাদের আবারো আহবান জানাই কিছু লেখা দেবার সে সময়ের ঘটনাবলী উম্মোচনের জন্যে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

শঙ্খচিল [অতিথি] এর ছবি

শিবির-জামাতের ভাবাদর্শটি এখন আর কেবল "কাল্ট কালচার" পর্যায়ে নাই। একসময় ছিল।অনেক "আমি শিবির করিনা" মানুষকে জানি,তারা নিজেদের অজান্তেই শিবিরের ভাষায় কথা বলেন,ভাবেন,চিন্তা করেন,এমনকি রাজনীতি করেন।ভিন্ন মোড়কে একই জিনিস পাচার করছে শিবির-জামাত। সুকৌশলে,ভিন্ন ফ্লেভারে। একজন আশিক্ষিত,দিন মজুর বা শ্রমজীবি শিবির করেন না বা জামাতি হন না।তথা কথিত "শিক্ষিত"রাই এই "শয়তানের" বাহন এবং এদের উপর শিবির জামাত আছর করে সহজেই। কাল্টিস্ট শিবির-জামাত বাড়ছে না যত,তাদের আছরে ভর করা মানুষ কিন্তু বাড়ছে গানিতিক হারে।এই রোগের চিকিতসা বড় কঠিন।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হুমম চিন্তিত , এদের চেনার উপায় বাতলাতে হবে খুব শীঘ্রই

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

একজন অশিক্ষিত মজুরকে কিন্তু ধর্মের কথা বলে সহজে ভোলানো যায়... ধর্মের নামে কুকর্মে তখন কিন্তু আর বাধা থাকেনা...

---------------------
নামে কি'বা আসে যায়...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

রানা [অতিথি] এর ছবি

ব্যক্তিগত ঘটনার সংকলন প্রস্তাব দারুন । এই সংকলনের নাম "শিবিরনামা" বা "শিবিরনামচা" দেবার প্রস্তাব দিলাম। নামকরণে অন্য কারও আইডিয়া থাকলে, ছাড়ুন।

শিবিরদের উচিত হবে এর প্রতিবাদে "শিবিরগাথা" বের করা । অফিসে কর্মব্যস্ততার মধ্যে প্রাক্তণ কর্মীরা মাঝে মাঝে তা পাঠ করবেন ।

তারা রগ কাটা কেন ছেড়ে দিল, বা কমিয়ে দিল তা একটি ধাঁ ধাঁ । রগক্লান্ত? ভিতরের খবর বা তাদের চলমান ইতিহাস নিয়ে কেউ লিখবেন কি?

জন্মদিনের শুভেচ্ছা সাইফ, দেরিতে হলেও।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

রানা ভাই, ভিতরের খবর পাবো কই? আর শুভেচ্ছার জন্যে ধন্যবাদ। শিবিরনামচা বা পিপিদার দেওয়া শিবির সহীহ বেশ চালু লেগেছে আমার কাছে। আর তারা তাদের পদ্ধতি পালটিয়ে ভদ্র সেজেছে বলেই ইদানিং রগ কাটার হার একটু কমেছে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

তানভীর এর ছবি

চট্টগ্রামে শিবির ঘাঁটির (চট্টগ্রাম কলেজ- মহসীন কলেজ) পাশে বড় হওয়া ও লেখাপড়া করার সুবাদে শিবির বিষয়ে মোটামুটি ভালোই অভিজ্ঞতা আছে। সময় পেলে দেখি আলাদা পোস্ট দেব। আপাতত পোস্টে চলুক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

তানভীর ভাই, অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার পোস্টের অপেক্ষায় থাকব।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

কীর্তিনাশা এর ছবি

নব্বই দশকের মাঝামাঝি। তখন সবে SSC পাশ করে কলেজে ঢুকেছি। থাকি ফার্মগেটের তেজতরী বাজারে। আমাদের বাসার কাছেই ছিল রহমতে আলম ইসলাম মিশন ও মাদ্রাসা। সেই সময় খুব ভালা পোলা আছিলাম (দেঁতোহাসি)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। তাও মসজিদে গিয়া জামাতে। তকবিরুল উলা সহকারে।

সেই সময় মাদ্রাসার সমবয়সী কিছু ছেলের সাথে আমার মোটামুটি ঘনিষ্ঠতা হল। আছরের নামাজের শেষে মাঝেমাঝে তাদের সাথে আড্ডা দিতাম। চা, ডালপুরি খেতাম। এরকম চলতে চলতে এক সময় তারা আমাকে একটা তারিখের কথা বলে সেই দিন তাদের মাদ্রাসায় আসতে বলল। ইসলামিক আলোচনা হবে। আর সাথে ভাল আপ্যায়নের ব্যাবস্থা। আমি খুশি মনেই রাজি হলাম।

কিন্তু সেই দিন অথবা তার পরদিন বিকেলে আমার বাসায় হামেদ আসলো। আমার স্কুল-বন্ধু। তার বাসাও একই এলাকায়। সে এসে ইতস্তত করে বলল - দোস্ত তুই কি শিবিরে নাম লেখাইছিস? আমি তো অবাক, বললাম - না তো! কিন্তু এই প্রশ্ন করছিস কেন?

জবাবে সে যা জানালো তা হচ্ছে - ঐ ছেলেগুলা শিবির করে। মিষ্টি কথায় আমাকে ভোলাতে চেষ্টা করছে। আর কিছুদিন ওদের সাথে মিশলে নাকি আমিও শিবির হয়ে যাবো।

হামেদ আরো জানালো সে আমাকে আরো আগেই সাবধান করতে চেয়েছিল। তবে তার সন্দেহ হচ্ছিল আমি বোধহয় ইতিমধ্যেই শিবিরে নাম লিখিয়েছি। তারপর আমাকে সে খুব করে অনুরোধ করলো যাতে ওদের সাথে আর না মিশি। অবশ্য তার আর দরকার ছিল না। কারণ শিবির কী জিনিস তা ততদিনে আমারো জানা হয়েছিল কিছুটা। হামেদ আমাকে আরো সাবধান করলো যাতে ওদেরকে আমি কৌশলে এড়িয়ে চলি, কোন প্রকার খারাপ ব্যাবহার যাতে না করি।

সেই দিন থেকে মসজিদে যাওয়া ছেড়ে দিলাম। কিন্তু দু'দিন না যেতেই সেই বন্ধুরা আমার বাসায় হাজির। মসজিদে যাচ্ছি না দেখে তারা আমার খোঁজ নিতে এসেছে আমি অসুস্থ কিনা। আমি জানালাম কলেজে পড়াশোনার চাপ বেড়েছে তাই মসজিদে যাওয়ার সময় পাই না। তারা আমাকে মসজিদে নামাজ পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক জ্ঞান বিতরণ করে চলে গেল।

তবে এত সহজে শয়তানগুলা ছাড়েনি আমাকে। এরপরও চার পাঁচ দিন আমার বাসায় এসেছিল। শেষ যে দিন এসেছিল সেদিন তাদের হাতে ছিল একটা মোটা খাম, আমার জন্য উপহার। তাদের সামনেই খামটা খুলে দেখলাম সেখানে অনেকগুলো চটি বই। প্রত্যেকটা বই-এর উপরে ছাত্র শিবিরের নাম লেখা। সাথে কিছু ইস্টিগারও ছিল, কোরআনের আয়াত আর তাদের নানা শ্লোগান সংবলিত।

আমি বিনয়ের সাথে সেই খাম তাদের ফিরিয়ে দিয়ে বললাম - দেখেন আমার আব্বা স্কুল শিক্ষক। এসব রাজনীতি একদম পছন্দ করেন না। এই সব বই আমার কাছে দেখলে বাসা থেকে বের করে দেবেন। আমার জীবনটাই বরবাদ হয়ে যাবে। আপনাদের পরিচয় জানলেও তিনি ক্ষেপে যাবেন। দয়াকরে আপনারা আর আমার কাছে আসবেন না।

তারপর থেকে ওরা আর আমাকে ঘাটায়নি। আমিও ঐ মসজিদে যাওয়া একেবারে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ওদেরকে মনে প্রানে ঘৃনা করলেও ওদের সাথে কেন খারাপ ব্যাবহার করতে পারিনি তা সহজেই অনুমেয়। কারণ আমি ছিলাম একা আর ওরা সংগঠিত। তার ওপর ওদের ঘাঁটির কাছাকাছিই থাকতাম। মওকা মতো একা পেয়ে আমার রগ কেটে দিতে ওদের কোনই সমস্যা হতো না।

শিবিররে পৈশাচিকতার প্রত্যক্ষদর্শী নই আমি। তবে ওদের বহু কুকর্মের কাহিনী জানা আছে। ওদের প্রতি তীব্র ঘৃনা ছাড়া আর কোন অনুভুতি নেই আমার। আর মনে প্রানে ওদের সমূলে ধ্বংস কামনা করি। আর ওদের প্রতি যারা সহানুভুতিশীল তাদের যদি বোধোদয় না হয় তবে তাদেরও ধ্বংস হোক।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কীর্তিনাশা, আপনাকে মিষ্টি ভাবে ভজিয়ে ভাজিয়ে দলে টানার চেষ্টা করেছিল, সচেতন ছিলেন বলে গিট্টু থেকে নিজেকে উদ্ধার করতে পেরেছিলেন, আমার ধারনা আপনার এই ঘটনাটা অনেক কেই এমন ভদ্রবেশী রিক্রুটারদের থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করবে

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

খুবই দরকারী পোস্ট। অনেক ধ্যনবাদ আপনাকে, বিরাট একটা কাজ করলেন। এই লেখা আর তার সব মন্তব্যগুলি একত্র করে এর প্রচার দরকার। নেটের আর নেটের বাইরেও।

মডুদের প্রতি - লেখাটা কি কয়েকদিন স্টিকি রাখা যায়? প্রথম বা দ্বিতীয় পোস্ট হিসাবে? যারা সচলে প্রতিদিন আসেন না, তাদের চোখে পড়তে সুবিধা হবে এবং তাদের নিজেদের দেখা বর্বরতাগুলাও তারা লিখে যেতে পারবেন।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সুবিনয়দা, ধন্যবাদ এমন প্রস্তাবের জন্যে। তবে অনেক বানান ভুল আছে, যার জন্যে আমি খুবই লজ্জিত, প্রথম পাতায় এমন ভুলভাল বানান ওয়ালা লেখা কেমন দেখাবে জানি না, তবে এমন সম্মানিত প্রস্তাব পেয়ে আমার গর্বে বুকটা ফুলে উঠল।

আমার প্রস্তাব হল, মোটামুটি অনেকেই জেনে গেছেন এই পোস্টটার কথা, এখন তারা যদি সিরিজ আকারে লিখতে থাকেন, এক একটি পর্ব একেকজন লিখে যাবেন, ৫০ জন ও যদি এগিয়ে আসেন লেখা দিয়ে, দিনের শেষে আমাদের হাতে বেশ সমৃদ্ধ একখানা ডাটাবেজ দাঁড়িয়ে যাবে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ফারুক হাসান এর ছবি

এই পোষ্টটিকে স্টিকি হিসেবে দেখতে চাই আমিও।

নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে যখন পাবনার বেড়া থানায় থাকতে হয়েছিল কয়েক বছর, তখন দেখেছিলাম শিবির এবং জামাত কি জিনিস। স্কুলে, খেলার মাঠে, মৌসুমি প্রতিযোগিতায়, এতিমখানায়, হাসপাতালে, কলেজে, কলোনীতে - এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে এরা ওত পেতে থাকত শিবিরের খাতায় কারো নাম তোলার জন্য। নির্বাচনী এলাকাটা নিজামীর, বুঝতেই পারছেন। আলহেরা নামের এক স্কুলের মাঠে আমরা খেলতাম, আর দরজা-জানালার কপাট লাগিয়ে এরা মিটিং করত, মাঝে মাঝে 'আল্লাহুআকবার' গর্জন আসত ভেতর থেকে। পাশেই ছিল স্কুলের এতিমখানা, সেখানে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের শিবির করা ছিল বাধ্যতামূলক। সেখানে লাঠি, বাঁশ, এমনকি আরো ভয়ংকর সব অস্ত্র এরা লুকিয়ে রাখত, এতিম ছেলেদের এসবে গোপনে প্রশিক্ষণও দিত।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কতটা অর্গানাইজড ভাবে সূদুরপ্রসারী প্ল্যানের মাঝে তারা কাজ করে আপনার মন্তব্য পড়ে বোঝা গেল।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ফারুক হাসান এর ছবি

বুয়েটে গত ইউকসু ইলেকশন শিবিরের জন্য একটা মাইলফলক, চৌদ্দপনেরোটা করে ভোট পেলেও প্রথমবারের মত তারা শিবির থেকে আলাদা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছিল, মূলত ছাত্রদলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। তারপরও বুয়েটের ছেলেরা শিবির পিটিয়েছে, তাদের বেড পুরিয়েছে, কিন্তু আগের মত বুয়েট ক্যাম্পাসকে শিবিরমুক্ত রাখতে পারেনি। ইলেকশনের আগে আগে শিবির খেদাও জাতীয় একটা আলোড়ন ছিল কিন্তু ইলেকশনের পর শিবির এতটাই ফিল্ড পেয়ে যায় যে এরা প্রকাশ্যে মিছিলও করেছে এক রাতে।

এখন কি অবস্থা জানি না, তবে মূলত সেইসময়কার ছাত্রদলের একদিকে শিবির তোষণ আর অন্যদিকে শিবিরবিরোধী ফোর্সকে দমিয়ে রাখার নীতি বুয়েটকে এই কলঙ্ক এনে দিয়েছে। ছাত্রদলের মাথামোটা এক ল্যাগার নেতাকে এর জবাব দিতে বলায় সে বলেছিল, জামাত তো এখন বিএনপির জোটে, সরকারের একটা অংশও, যেখানে বিএনপির হাইকমান্ডই জামাতের সাথে গলায় গলায় পিরিত করে সেখানে আমরা করলেই দোষ?

বোঝেন অবস্থা!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

রাজনীতির স্বার্থে আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা বিকিয়ে দিতে পারেন সবকিছু, কাজেই আমি খুব একটা অবাক হচ্ছি না। কিন্তু লজ্জার বিষয় হল, ছলে বলে কৌশলে বা গায়ের জোরে মানুষের কাছ থেকে এরা ভোট আদায় করে, এই ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী হতে পারে ইয়ে, মানে...

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ভুতুম এর ছবি

উত্তম জাঝা! পোস্ট ও মন্তব্য দুটোতেই।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ বস!!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নীড় সন্ধানী এর ছবি

জামাত শিবিরে জন্য বিন্দুমাত্র সহানুভুতি আছে তেমন শিক্ষিত মানুষকে আমি আজন্ম ঘৃনা আর থুথু দিয়ে যাবো!!!!!!!!!!!! অশিক্ষিতকে বড়জোর করুনা!!!

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, এদের থুতু দিবেন, আপনার থুতুর কী ইজ্জত নাই? নষ্ট কইরেন না থুতু।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অতিথি লেখক এর ছবি

সাইফ ভাই,
থুতু না, ওদের গু-মুত খাওয়ানো দরকার। তিন বেলা কইরা...

জি.এম.তানিম এর ছবি

চলুক
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

সাদামাটা [অতিথি] এর ছবি

জ়ামাত শিবির যে কিভাবে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোকে কবজ়া করছে তা আরো বিস্তারিত জ়ানতে চাই। আমি জ়ানি বিশ্বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকরা প্রতক্ষ বা পরক্ষভাবে জ়ামাত শিবিরের সাথে জ়ড়িত।শু্নেছি চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ে নাকি শিক্ষক নিয়োগের সময় কোরআন শরীফ ছুয়ে শপথ করানো হয় যে সে জ়ামাত করবে!!!

...এই পোস্ট যেন মুছে না যায়...।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কী ভয়ংকর!! আরো বিস্তারিত লেখুন বস। আমরা সব কিছু জানতে চাই। প্রতিটি ঘটনা এখানে আসুক, সবার চোখের সামনে থেকে পর্দা উম্মোচিত হোক

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

জ এর নিচে নোক্তা বসানোর কারণ কী? কেম্নে বসাইলেন?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

বর্ষা [অতিথি] এর ছবি

অত্যন্ত সময়োপযোগী লেখা... অসংখ্য ধন্যবাদ সাইফ তাহসিনকে। অতিথি লেখক ( মঙ্গল, ২০০৯-০৮-১৮ ০৮:২২ ) এর কথায় একমত,'শিবিরের অপকর্মগুলো কম্পাইল করে প্রকাশ করতে পারলে খুবই ভাল হয়।'
আমি সিরাত কে কিছু বলব না ঠিক করেছিলাম, কিন্তু ভাইয়া পারলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৮ম খন্ড টি পড়ে নিও।
উমম...আমি বুয়েটে থাকাকালীন সময়ে নিয়মিত টুইশ্যনি করেছি। আমি মেয়ে, আমার বাসা ঢাকা বোর্ড অফিসের কাছে এবং ইংলিশ মিডিয়াম পড়াতাম বলে বেশ অনেক রক্ষনশীল মুসলিম পরিবারের বাচ্চাদের পড়িয়েছি।মাদ্রাসার ইন্টার পরীক্ষার্থী, ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া রক্ষনশীল মুসলিম মেয়ে, জামাতের নেতার ছেলে মেয়ে ( আগ্রহ নিয়ে গিয়েছি, ওদের জীবনপ্রণালী দেখতে)এদের পড়িয়েছি। একজন প্রাক্তন জামাতের সদস্য মনে হয় আগের এক পোষ্টে তার মন্তব্য দিয়েছেন এবং এই পোষ্টে বার বার এসেছে-- জামাত গ্রামে, মফস্বলে বেশী সক্রিয়। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু মন্তব্য করব------
* রগ কাটা উগ্রপন্থী দের দমন করতেঃ
এটা আমাদের জনগনের ক্ষমতার বাইরে। শুধু মাত্র সরকার এর পক্ষে এটা দমন করা সম্ভব। আমাদের দেশে মিলিটারি শাসন করলে চুরি, চামারি বন্ধ হয়ে যায় আর গণতান্ত্রিক সরকার এলে যেই কে সেই অবস্থা হয়...। তার মানে একই রাষ্টের কাঠামো দুই ভিন্ন তন্ত্রে দুই রকম ফল দিচ্ছে। সরকার ইচ্ছা করলেই গোড়া হতে শিবিরের মূল উৎপাটিত করতে পারে, কিন্তু করবে না। বি,এন,পি বা আওয়ামী লীগ হোলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক মেনে চলে। তাদের নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই বলেই তারা তৃণমূল পর্যায়ে একদম দুর্বল। তাই শিবির হোলো তাদের ভাড়া করা গুন্ডা। এই দুই দল আসলে শিবির নির্মূল করতে চায়না। আমার প্রিয় মুজিবের দল যখন ইলেকসনের আগে পোস্টারে প্রথমে আল্লাহ সর্ব শক্তিমান লিখে কারন সংখ্যা গুরু মুসলিম দের ভোট আদায় করতে হবে, তখন আমার দুঃখের সীমা থাকে না। আওয়ামী লীগের প্রধান নীতির মাঝে যে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল তা তারা মনে রাখেনি। ‘সন্ত্রাসকে সব রাজনৈতিক দলই ব্যবহার করে। বিএনপি - আওয়ামী লীগ করেছে, করবে। ফ্রীডম পার্টি - জাতীয় পার্টি একসময় সন্ত্রাসকে অন্য এক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু জামাত-শিবিরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক। এই পার্থক্যটা সবার অনুধাবনের দরকার আছে।’ খুব সত্যি কথা।সরকারের সদিচ্ছাই পারে মাদ্রাসা গুলোর শিক্ষার মান উন্নত করে ওদেরকে মেইনস্ট্রীমের সাথে তাল মিলিয়ে চলার রাস্তা বানিয়ে দিতে। তাহলে জামাতের মূল শক্তির উৎস নষ্ট হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেনো জামাতকে জনগন আর নিজেদের রক্ষাকর্তা না ভাবে।মসজিদ রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

তাই আমাদের জনগনের হাতে যা অস্ত্র আছে, তাই নিয়ে দমনে ঝাপিয়ে পড়ই চলুন।
* সাধারণ জনগনকে শিবিরের আসল রূপ তুলে ধরাঃ
সিরাতরা আসলে একটি প্রজন্মের প্রতিধ্বনি। সিরাত চাইলেই ২য় মহাযুদ্ধ নিয়ে বই খুঁজে পড়ছে, শিবিরের অপকর্ম নিয়ে ওরা জানবে কিভাবে? শহরের ভালো অবস্থানে থেকে শিবিরের ভয়াবহতা বোঝা অনেক মুশকিল।ওর লেখার দুটি মূল সুর ছিলো হুমায়ুন আযাদ এর প্রকাশভংগি ওর পছন্দ হয়নি আর জামাতি পরিচিতের মিষ্টি ব্যবহার ওর পছন্দ হয়েছে। ‘এই পোষ্টের লেখা গুলো কি এক করে প্রকাশ করা যায়?’এই ধারনা বাস্তবে ফল নিতে নিতে লাখ লাখ শিবিরের পক্ষে বই বের হয়ে যাচ্ছে। তাই শিবিরের কুকর্মগুলো জনসাধারন জানছে যখন শুধু নিজের উপর আঘাত এসে পড়ছে তখন। সিরাত দের জানার ব্যবস্থা আমরা এখনো নেইনি।
আমি নিজে ধর্ম বিশ্বাস করি না। তবে ধর্ম বিশ্বাস যারা করেন তাদের প্রতি আমার প্রবল শ্রদ্ধাবোধ আছে। জীবনে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে। জীবনের দুর্যোগময় সময়ে ঈশ্বরকে ডেকে মনের শান্তি পেতে পারলে বেঁচে যেতাম। দেশে ছোট থাকতে খুব গর্ব অনুভব করতাম আমি এইসব বিশ্বাস করি না দেখে, হু!! দেখো আমি তোমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান!! এখন আর সেই মনোভাব নেই, শুধু জানি আমি এই আর্দশ বেছে নিয়েছি, অন্য একজন হয়ত আরেক আর্দশ বেছে নেবে। মানুষকে বিচার করা উচিত তার মনুষত্যবোধ দিয়ে, ধর্মবোধ দিয়ে নয়। আমাদের দেশের নাস্তিকেরা কোনো ভালো উদাহরন রেখে যেতে পারেননি। তাদের জিবনে অনুশাসনবোধের অভাব আছে।নাস্তিকতা মানে বল্গাহীন স্বেচ্ছাচার জীবন নয় এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। সাধারন মানুষ কেনো মুক্ত বুদ্ধির মানুষের দিকে আকৃষ্ট হবে যদি তারা দেখে তারা নিজেরাই নিজেদের জিবন নিয়ে টালমাতাল অবস্থা...। বেশীর ভাগ শিবির এবং জামতিদের পারিবারিক বন্ধন বেশ মজবুদ। যেটা সাধারন মুস্লিমদের বেশ টানে।
*মুক্তচিন্তাধারী মানুষদের সাংগাঠনিক দুর্বলতাঃ
জামাতের সাংগাঠনিক শক্তি ইর্ষনীয় পর্যায়ে ভালো। মহিলা ও পুরুষেরা প্রতি সপ্তাহে মিটিং করছে। বাচ্চাদের প্রতি সপ্তাহে একপাতা করে লিখতে হয় ইসলামের জন্য তারা ওই সপ্তাহে কি ভাল কাজ করেছে। শিশুদের ছোটো কাল হতেই ব্রেইন ওয়াশ করে দেয়া হচ্ছে। মেইনস্ট্রীমের জনগনের কাছে এদের গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেশী বাড়ছে কারন এরা মিষ্টিভাষী এবং খুব সাহায্যপরায়ণ।বুয়েটে ছাত্রীহলে দেখতাম সিনিয়র আপুরা জুনিয়রদের নোট দিচ্ছে। মেয়েদের ভালো বিয়ে, চাকরীর সুবিধা সব দেবার চেষ্টা করে। এতোসব রেখে কার ঠ্যাকা পড়েছে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে?চার্চ, মসজিদ, মন্দিরে সুবিধা হোলো এদের একটি প্রতিষ্ঠান আছে, কোনো আর্দশ ছড়িয়ে দিতে বেশী বেগ পেতে হয়না। অন্যদিকে মুক্তচিন্তাধারীদের একটি কমন প্লাটফর্মের অভাব আছে। আমরা ব্লগ বা ইন্টারনেট এই গুতাবো, এর বেশী কিছু করার আমাদের মুরোদ নেই। ঐদিকে জামাতের একজন কর্মী হয়তো আরেকজনকে বোমা বানানো শিখিয়ে দিচ্ছে।
*সাধারন মানুষদেরকে ইসলাম ও জামাতের মাঝে পার্থক্য বোঝানোঃ
আমার এক ছাত্রীর বাবা জামাতি হয়ে গিয়েছিলেন যেনো অফিসে তার পদোন্নতি হয় এবং এতে তার মেয়েদের বিয়ে দিতে সুবিধা হবে। সৎ যোগ্য পাত্র পাওয়া যাবে জামাতিদের মাঝ হতে। ভদ্রবেশী রিক্রুটাররা এমন ভাবে ব্রেইন ওয়াশ করেছিলো যে উনি ইহকাল, পরকাল নিয়ে পুরোই নিশ্চিত ছিলেন। জামাতি হলে যেই সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় তা অনেক লোভনীয়। ব্যাপারটা আসলেই বাঁদরকে কলা দেখিয়ে কাজ করানোর মতো।সৎ উপায়ে দেশে থাকার যো নেই। জামাত সাধারন মানুষকে ইহকাল পরকাল দুটোই পার করা সহজ করার রাস্তার লোভ দেখিয়ে রিক্রুট করছে। এই কারনেই ফ্রিডম ফাইটার এবং অনেক মুক্তিযোদ্ধার ছেলেমেয়েরা পরবর্তীতে জামাতি হয়ে গেছে।এইটা বন্ধ করতে হলে বিকল্প পথ মানুষ্কে দেখাতে হবে। নইলে আমাদের কোনো অধিকারই নেই জনগনকে বলা তোমরা জামাতে যোগ দিওনা। আমরা যদি জামাতের মতো সুযোগ সুবিধা দেবার বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারি তাহলে কেনো মানুষ আমাদের কথা শুনবে জামাতি রিক্রুটারদের লোভনীয় প্রস্তাব না শুনে?
*ইসলামের ফায়দা নেয়া বন্ধ করতে ইসলাম কে দূরে ঠেলে না দেয়াঃ
আমার এক ছাত্রের মা আমাকে গ্রামের হিন্দু মেয়েরা কতো নোংরা বোঝাতে গিয়ে তার ২য় শ্রেনী ইংলিশ মিডিয়াম ছেলের সাম্নেই বলছিলো, জানো না তো ওরা *** করে পানি নেয় না এবং ওইটার বিসদ বর্ণনা। আমরা মুসলিম্রা কতো ভাল জীবন যাপন করি...ইত্যাদি। এই ছেলে বড়ো হয়ে যদি কোনো হিন্দু মেয়েকে গণিমতের মাল মনে করে তাকে কি দোষ দেয়া যাবে? জামাতি মা বোনদের নিজেদের সম্পর্কে অনেক উচুঁ ধারনা আছে। আর বাকি মেয়েরা হলো ভোগের জন্য নিজেকে সাজিয়ে রাখা বস্তু। তাই এইসব মেয়েদের সাথে খারাপ কিছু হওয়া মানে হোলো এইতা তাদের প্রাপ্য।
আর কুরান শরীফ ও ওই এলাকার ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে প্রাথমিক ভাবে ধর্ম প্রচারের জন্য অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। ওইগুলো ঐতিহাসিক কাহিনী। ওই কাহিনী গুলোর উপর ভর করে জামাত শুকনো পটকা মাদ্রাসার ছাত্র গুলোকে রগকাটতে পটু মাস্তান বা খুনী বানাচ্ছে। তাই ইসলামের সাম্যের বানীগুলোকে ঠিক মতো প্রচার করতে হবে।জনসাধারন বোঝাতে হবে ইসলাম এবং জামাত দুটো আলাদা ব্যাপার।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আপনার মন্তব্যটা আলাদা পোস্ট হয়ে উঠতে পারে, আপু। একটু গুছিয়ে ও লম্বা করে লিখে দেন পোস্ট হিসেবে। প্রয়োজনীয় কিছু কথা বলেছেন।

ধর্মীয় প্রচারণার একটা বড় অংশ ঘটে যায় নারীমহলে। সেটা নিয়ে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে আপনার কথাগুলো থেকে। আরো বিস্তারিত চাই।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

অসাধারণ মন্তব্য/বক্তব্য। এইটা আলাদা পোস্ট হিসেবে দিলে আরও ভালো হতো।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বর্ষাপু, আপনার মন্তব্যটা অসাধারণ, খুব সুন্দর করে বিশ্লেষন করেছেন আপনে, যদি খুব বেশী ঝামেলা না হয়, যেমনটা ইশতি বা যুধিষ্টিরদা বলল, আরো বিস্তারিত ভাবে লিখুন, দরকার পড়লে ছোট ছোট করে সিরিজে লেখা দিন। ধন্য

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

বর্ষা [অতিথি] এর ছবি

ইশতি এবং যুধিষ্ঠির, আমি আলাদা পোষ্ট হিসেবে দেবার চেষ্টা করব। আমি লেখাটা পড়ে বেশ আবেগ তাড়িত হয়ে মন্তব্য লিখে ফেলেছি...অনেক বানান ভুল আছে। ক্ষমা করবেন। আসলে জামাত আক্রমন করে পরিবার ধরে। খুব কোমল, সরল কিছু বাচ্চা যারা হ্যারি পটার পড়ে মজা পায়, টিনটিন পড়ে বন্ধুত্বের দাম বোঝে তাদেরকে হিন্দুদের ঘৃণা করতে দেখেছি। ব্যাপারটি খুব অসহনীয়।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপু, আমার নিজের লেখাটাও কিন্তু আবেগের তাড়নায়ই লেখা, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোন দায়বদ্ধতা থেকে লেখা না। রাজনীতি বুঝিও না, করিও না, জীবনে এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। আপনার অবস্থানটা বুঝতে পারছি, আশা করি একই ভাবে আপনার মত আরো অনেকে এগিয়ে আসবে, অন্তত আবেগের টানেও যদি আসেন, তাতেও আমি আমার কাজে সার্থক বলেই মনে করব নিজেকে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

বর্ষা,

আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ রইল, অন্যদের মতই, এই নিয়ে একটা আলাদা পোষ্ট দেবার জন্যে-----

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবুর কথা বললেন না? চট্টগ্রাম মিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ বেচারার তো কয়েকটা আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল শিবির...
এই পোস্টটা সময়োপযুক্ত। আজকালকার পোলাপানের পড়ার দরকার আছে।
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, জানি আপনার মন মেজাজ ভালো নাই, আঙ্গুল কাটার ঘটনাটা বিস্তারিত বললে খুব ভালো হত। নাহোলে আজকালকার পোলাপাইন শিবিরকে মানুষ বলে গন্য করবে, ৫ বছর পর বলবে, পাকীরা আমাদের মায়ের পেটের ভাই।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনুরাধা বসু এর ছবি

শিবির বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই রক্ত গরম হয়ে ওঠে। ভার্সিটির কথা মনে পড়ে যায়।

খুবই সময়োপযোগী (ক্লিশে ব্যবহার করলেও কথা সত্য) পোস্ট। স্যাল্যুট, সাইফ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

রক্ত গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক, মনে পড়িয়ে দিয়েছি, এখন লিখবেন না? জবাবে পাল্টা স্যালুট দেবার সুযোগ পেতে চাই। ধন্যবাদ

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

বর্ষা [অতিথি] এর ছবি

সাইফ তাহসিন ভাইয়া, আমি আসলে নিজের লেখা পড়ে পরে নিজেই বুঝতে পারিনি কি বলতে চেয়েছি। ম্ন্তব্যের বানান ভুল এবং বাদ পরা শব্দগুলোর অজুহাত হিসেবে আবেগকে ঢাল বানিয়েছি। হি হি হি। তোমার লেখাটা যে আবেগের তাড়নায় লেখা-- স্পষ্ট বোঝা গেছে। আর আবারো ধন্যবাদ সবার আবেগকে উস্কে দেবার জন্য। সবাই মিলে যেভাবে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে ধরেছে, তাতে এই বিষয়ে সবার আবেগের গভীরতা পাওয়া যাচ্ছে। পুরো ব্যাপারটির সূচনা করানোর জন্য ধন্যবাদ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বানানের দোষে আমার চেয়ে বেশী দুষ্ট মনে হয় না আর কেউ আছেন, লেখা পোস্ট করার পরে চোখে পড়ল, বানানের ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু, তারপরেও লজ্জার মাথা খেয়ে কিভাবে যেন বারবার ভুল করি। আপনাকে আবারো ধনবাদ এগিয়ে আসবার জন্যে

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মর্তুজা আশীষ আহমেদ [অতিথি] এর ছবি

মগজ ধোলাই ব্যাপারটি যে কত ভয়ংকর তা শিবিরের কর্মকান্ডে বোঝা যায়। এবং ওদের কর্মকান্ডে বোঝা যায় ওরা কতটা সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনা করে শত্রুদের(ওদের ভাষায়) ধবংসে। যেমন ওদের ক্ষতির একটা ছোট উদাহরণ দেই, ওরা মাথায় কম্বল পেঁচিয়ে হকিস্টিক দিয়ে মাথায় আঘাত করে যাতে চিরস্থায়ী ক্ষতি হয় এবং কোনো প্রমাণও না থাকে। কিন্তু মানুষটা চিরদিনের মত শেষ হয়ে যায়। আমার এক পরিচিত জনের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে।
শিবির এমন পরিকল্পিতভাবে নিজেদের দল ভারী করে তা শুনলে অবাক হতে হয়। আমি তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে আসা সব নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের সাবধান করে দিতে চাই যাতে তারা অন্তত শিবির থেকে সাবধান থাকতে পারে।
ধন্যবাদ তাহসিন এবং বর্ষাকে
------------------মর্তুজা আশীষ আহমেদ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

শিবির এমন পরিকল্পিতভাবে নিজেদের দল ভারী করে তা শুনলে অবাক হতে হয়।

মুর্তজা ভাই, সেজন্যেই সচলে লেখুন, সবাইকে জানান কিভাবে তারা বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে ছেলেমেয়েদের দলে টেনে ফ্যানাটিকে রুপান্তরিত করে। আপনে লেখুন, আপনার হয়ে সচলায়তনে তখন এই সচল আপনার হয়ে আপনার এই ইচ্ছাটি পূরণ করতে সহায়তা করবে,
আমি তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে আসা সব নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের সাবধান করে দিতে চাই যাতে তারা অন্তত শিবির থেকে সাবধান থাকতে পারে।

ভালো থাকুন, লেখালেখি করুন।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নীড় সন্ধানী এর ছবি

লেখা এবং মন্তব্যগুলো পড়ে অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে গেল। শিবিরকে চিনি ১৯৮১ সাল থেকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষভাবে শিবিরের মুখোমুখি মিছিল করেছি, মারামারি করেছি, তাদের জঘন্য হত্যাকান্ড দেখেছি ৮৭ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত। কোথাও কোথাও লিখেছিও বোধহয়। আপনার লেখা আর পাঠকের মন্তব্যগুলো সব মিলিয়ে এই পোষ্টটা ফেবারিটে রাখতেই হলো। সিরাতের পোষ্টটাও পড়লাম এবং বিভ্রান্ত প্রজন্ম দেখে দুঃখিত হলাম। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হবে সচেতনভাবে বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে। জেগে ঘুমানো মানুষকে জাগানো অসম্ভব।

পুরো পোষ্ট থেকে কয়েকটা কমেন্ট আমার খুব মনে ধরেছে, সেগুলো এখানে কপি করে দিলাম। যে লাইনগুলো আমারও মন্তব্যে যোগ হতে পারতো।

শিবির শুধু একটা দল না, এটা ভাইরাসের মত একটা জিনিস।
-সাবিহ ওমর

শিবিরের কাউকে আহত বা হত্যা করার যে মেথডিক্যাল আর স্টেপ-বাই-স্টেপ পদ্ধতি - সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওরা ঠাণ্ডা মাথায় এ কাজ করায় রীতিমত প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ।
-যুধিষ্ঠির

শিবির তার কানের ভেতর সাইকেল রিকশার স্পোক ঢুকিয়ে ঘুঁটে দিয়েছিলো মগজ গুলিয়ে ঘিলু বের হয়ে আসার জন্য। অলৌকিকভাবে ছেলেটি বেঁচে গেলেও বাঁ কান, চোখ, বাঁদিকের পুরোটাই অচল হয়ে গিয়েছিলো। নারকীয়তার এই যজ্ঞের পরেও যারা কোনোধরণের বেনিফিট অথবা ডাউট অথবা যেকোনো কিছু অজুহাত বলে, তখন কেমন লাগে সেটা আপনিই বিবেচনা করুন। দুধের শিশুও জানে শিবির কি - আর এরা জানেনা?
-s-s

পারিবারিক দাওয়াত থেকে সদ্য কৈশোরোত্তীর্ন ভাগনে কে সাথে নিয়ে ফেরার পথে তারই হাত ধরে আসা দুই সমর্থক ও এক কর্মি তার পথ রোধ করে ও তওবা করে সিরাতুল মুস্তাকিমের প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত দেয়।
-দুর্দান্ত

শিবির কিন্তু এখন ভদ্রলোক সাজছে। তারা এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বৃত্তি দেয়। তারা পথ পাল্টাইছে। শিবির এখন নিজ নামে আর সন্ত্রাস কায়েম করে না... জঙ্গিনামে উপশাখা খুলে করে। খুব খিয়াল কইরা...
-নজরুল ইসলাম

শিবিরের কাছ থেকে লজ্জা আশা করাও যায় না। লজ্জাহিন মানুষ ভয়ংকর হতে পারে, লজ্জাহিন অমানুষ কেমন হবে আপনারা চিন্তা করে দেখবেন।
-নুরুল আমীন সৌরভ

সময় পেলে আলাদা পোষ্টে শিবির নিয়ে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাগুলো বর্তমান বিভ্রান্ত প্রজন্মের জন্য লিখবো।

সাইফকে অনেক ধন্যবাদ, আবেগটাকে লেখায় তুলে আনার জন্য।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকেও, আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকবো

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সময়োপযোগী লেখা। লীগ কাজের চেয়ে চিৎকার করে বেশি আর শিবির চুপেচাপে কাজ করে সরে পড়ে।
জামায়াতপন্থী শিককদেরকে নিয়া অন্যব্লগে একটা পোস্ট

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ধন্যবাদ বলাইদা, আপনার অনুমতি পেলে আপনার লেখাটা সবখানে শেয়ার করতে চাই

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সাইফ ভাই, লেখাটা আমার না, অন্য একজন ব্লগারের। তবে কপিপেস্ট না করে কারো পড়তে সম্ভবত মানা নেই। হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সচল জাহিদ এর ছবি

এই লেখাটিতে বুয়েটের তড়িৎকৌশলের ডঃ রেজওয়ান খান সারের কথা আছে। তথ্যটি আমার জানা ছিলনা। একজন উদারপন্থী ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন বুয়েটে। বুয়েটের যে কজন বস মানূষের কথা বলি তিনি তার মধ্যে একজন। উনি ভাল গানও গান এবং বুয়েটের অনুষ্ঠানে গান করেছেনও। হিমু এই বিষয়ে ভাল জানবে।এই বিষয়টির সত্যতা নিয়ে কেউ কি কিছু লিখবেন ?

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

"লীগ কাজের চেয়ে চিৎকার করে বেশি আর শিবির চুপেচাপে কাজ করে সরে পড়ে।"

অছ্যুৎ বলাইয়ের এই কমেন্টে উত্তম জাঝা!

আমাদের উদাসিনতায় জামাত-শিবির মজবুত অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে । বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতির এখন বার্ষিক নীট মুনাফা আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা। এ মুনাফার সর্বোস্ত ২৭% আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে আছে ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানি ইত্যাদি; দ্বিতীয় সর্বোস্ত ২০.৮% আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে; বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৮%; ঔষধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ১০.৪%; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসে ৯.২%; রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে আসে ৮.৩%, যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫%; আর সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য প্রযু্িক্ত থেকে আসে ৫.৮% ।বাংলাদেশে মৌলবাদের অর্থনীতি যদি বছরে ১২০০ কোটি টাকা নীট মুনাফা সৃষ্টি করে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ মাত্রা যা মৌলবাদের অর্থনীতির শক্তি-মাত্রা নির্দেশ করে- হবে নিম্নরূপ: (১)দেশের মোট বার্ষিক জাতীয় বিনিয়োগের (চলতি মূল্যে) ১.৫৩% এর সমপরিমাণ, (২) দেশের মোট বার্ষিক বেসরকারি বিনিয়োগের ২.১% এর সমপরিমাণ, (৩) সরকারের মোট বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ৩.৩%এর সমপরিমাণ, (৪) দেশের বার্ষিক রপ্তানী আয়ের ৩.৭% এর সমপরিমাণ, (৫) সরকারের মোট বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ৬% এর সমপরিমাণ, (৬) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অভ্যন্তরীণ সম্পদের ১২% এর সমপরিমাণ।

সেই সাথে বিকাশ-বিস্তৃতির সম্ভাবনা নির্দেশে আরো গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে যেহেতু মৌলবাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৭.৫% থেকে ৯%) মূল ধারার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার (বার্ষিক গড়ে ৪.৫% থেকে ৫%)-এর তুলনায় অধিক সেহেতু অর্থনীতির সাম্প্রদায়িকীকরণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে- অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের খুব একটা অবকাশ নেই। অর্থাৎ প্রবণতাটা এমন যে মূলধারার অর্থনীতির মধ্যে মৌলবাদের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে বেশি জায়গা দখল করতে পারে। ফলে রাষ্ট্রের মধ্যে তাদের অংশ আর সরকারের মধ্যে তাদের অংশ বৃদ্ধিতে মৌলবাদী অর্থনীতি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিস্তারিত জানতে পড়ু্ন-অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবুল বারাকতের প্রবন্ধ পড়ু্ন "মৌলবাদের রাজনৈতিক - অর্থনীতি"

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

শিক্ষানবিস এর ছবি
পুতুল এর ছবি

জামাত এবং ৭১ এর পাক বাহিনীর সহকারী দলগুলি কেন নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়া উচিত?

অনেক জরুরী লেখা পড়ে আছে। সময়ের অভাবে হচ্ছেনা। অনুবাদ, গল্প, উপন্যাসের চেয়ে এখন দেখছি এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশী।

আল্লাহ আমাদের প্রভূ
কোরান আমাদের সংবিধান
রসুল (সাঃ) আমাদের নেতা।
বিপ্লব বিপ্লব, ইসলামী বিপ্লব।

এগুলি জামাতের পরিচিত শ্লোগান, আর এখানেই সমস্যা।
প্রথমতঃ ইসলামী বিপ্লব আমরা আফগানিস্থানে, ইরানে দেখেছি, তথাকথিত ধর্মীয় বিপ্লব গুলো একটা জাতীকে অনেক শতাব্দী পিছিয়ে দেয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বারণ। বেনামাজীদের প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় কতল। তালেবান আফগানিস্থানে আমরা এর নমুনা দেখেছি। দুই হাজার বছরের পুরানো ভগবান বুদ্ধের মূর্তি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে তালেবান।

দ্বিতীয়তঃ রসুল (সাঃ) আমাদের নেতা। সেটা মসজিদে যত মধুর মনে হয়, বাস্তবে তার প্রয়োগ প্রায় অসম্ভব। কারণ: একটা রাষ্ট্র ধর্মের মত চলেনা। এখানে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে অনেক ডিপ্লমেটিক ব্যাপার থাকে। অনেক রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকে। যা কোরানের দাওয়াত হিসেবে কোন ভাবেই সব লোকের জন্য খুলে দেয়া যায়না।
কিন্তু মসজিদের দুয়ার অন্তত সব মুসলমানের জন্য উম্মুক্ত থাকা জরুরী।

তৃতীয়তঃ ধর্ম গ্রন্থ হিসাবে কোরান যতই পবিত্র হউক সংবিধান হিসাবে ততই অকেজো। মানুষের নতুন জীবন এবং তার চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখেই একটা সংবিধান রচিত হয়। এবং একটা রাষ্ট্রের সব মানে সব ধর্মের লোকের জন্য হতে হবে একটা সংবিধান। কোরান তো শুধু জামাতে ইসলামের জন্য হতে পারে (খুব উদার ভাবে সব মুসলমানের জন্য), কিন্তু সব মানুষের জন্য কি করে হবে?

আল্লাহ সব মানুষের প্রভূ (যারা বিস্বাস করে) জামাতের নিজস্ব সম্পত্তি নয়।
এটা আপনাদের সবারই জানা। এর পেছনে আছে একটা বিশ্বাস। একটা ফিলসফি। যা আরো ভয়ংকর (আল্লাহ সব মানুষের প্রভূ ?)।

এটা বাদ দিয়ে বলছি:
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আগে হিটলার সব জার্মানদের বোঝালেন। খৃষ্টান (ক্যাথলিক) ধর্মই পৃথিবীতে একমাত্র শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এবং জার্মান জাতিই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ। ইহুদিরা অনেক যন্ত্রনা দিয়ে যীশুকে হত্যা করে। তার প্রতিশোধ হিসাবে ইহুদি নিধন একটা পূন্যের ব্যাপার। শুরু হল ইহুদি নিধন এবং তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির লুন্ঠন। এর ইতিহাস আমি বলতে যাব না। কিন্তু এই ফিলসফিতেই জামাত, আল বদর আল শামস ৭১ এ কাজ করেছে। এবং এখন সুযোগের অপেক্ষায় আছে। যেহেতু অমাদের দেশে ইহুদি নেই, তাই তার যায়গায় বেছে নেয়া হয়েছে হিন্দু এবং সংখ্যালঘু পাহাড়ী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়। এবং এরা এতই অন্ধ যে ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের ভাগ্যের কথা ভাবেনা। ভারতের সব হিন্দু যদি জামাতীদের মত হয়, তবে সেই মানুষগুলির কি হবে।

আমারই দেশ সব মানুষের
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান
দেশ মাতা এক সকলের।

এই কথায় আগে বিশ্বাস আনতে হবে। মুখে প্রকাশ, এবং সেই অনুযায়ী কাজ করলে স্বাধীন বাংলায় যে কেউ রাজনীতি করতে পরবে। তার আগে নয়। (আমার জানামতে এই দলটি বাংলাদেশের সংবিধান মানে না) জামাতে ইসলামী তো কখনো নয় (অন্তত তাদের দলের স্বীয় উদ্যোগে ৭১ ঘাতক দালালদের বিচার করে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারের পরে ভেবে দেখা যেতে পারে, তার আগে নয়, এই অপশনটা খোলা থাকতে পারে শুধু যারা জামাতকে বা ধর্মীয় মৌলবাদকে রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে দাওয়াত দিতে চান তাদের জন্য)।

অনেকেই জামাত শিবিরের নৃশংসতা তুলে ধরেছেন। কিন্তু তারা যদি সন্ত্রাসবাদ আজ থেকে ছেড়ে দেয়, তাহলে তাদের রাজনৈতিক অধিকার দেয়া হবে?

এখানে দুটো ঘটনা বলতেই হয়;
এক:- জামাত যেভাবে ছেলে ধরে:
রশিদ আমার সাথেই এস.এস.সি পাশ করে শহরে গিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে।
এখন শহরে গিয়ে থাকার মত আর্থিক সংগতি রশিদ এবং আমার মত অনেকেরই থাকে না। সেখানে আমরা লজিং খুঁজি। আমার এস.এস.সির আগেই খেলাঘর এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক থাকায়, তাদের সহযোগীতায় লজিং পেলাম। রশিদ পেল তাদের গ্রামের এক বড় ভাইয়ের সহযোগীতায়। সেই বড় ভাই শিবির করতেন। এবং রশিদের মতই শহরে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে শিবিরের সাহায্য পেয়েছেন। কাজেই রশিদ শিবিরের কাছে কৃতজ্ঞ। নামাজ রোজার বাইরে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে সে আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু তখন রশিদকে ফেরানোর আর কোন পথ ছিলনা। ভর্তি থেকে শুরু করে লজিং, টিউশনি, ম্যাস, হোষ্টেল তার পর পড়া-লেখার সাহায্য এমনকি চাকরী পর্যন্ত পাওয়ার একটা নিশ্চয়তা শিবির দেয়।
এখন রশিদের মত ছেলেরা বেহেস্তের হুর আর এই দুনিয়ার এই সব নিশ্চিৎ মতব্বতে হাদিয়া ফেলে আমার সাথে শ্রেনী সংগ্রাম করতে আসবে? এবং শিবিরে প্রায় ৭০-৮০ ভাগ এই ভাবে রিক্রুট হতো।

দুই:-
ঠিক মনে নেই ৮৪ বা ৮৫ হবে চাবির ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী শিবিরের কর্মীর সাথে একই রুমে থাকতো। সোনায় সেহাগা আর কাকে বলে! শিবিরের ছেলেটির নাম মনে নেই। ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেটির নাম শাহাদাত।
তাদের মধ্যে হয়তো রাজনীতির চেয়ে ধর্ম নিয়ে বেশী দন্ধ হয়ে থাকবে বলে আমার ধারনা। কারণ ছাত্র ইউনিয়নের কোন আস্তিক ছেলের সাথে আমার পরিচয় ছিল না।
তো একদিন জরুরী মিটিং-এ গিয়ে শুনলাম শাহাদাত রুম মেটের হাতে নিহত হয়েছে। রাতে ঘুমের ভেতর শিবিরের ঐ রুম মেট শাহাদাতকে ধাড়ালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। আমরা তার বিচারের দাবীতে শহরে মিছিল বের করেছিলাম।

শাহাদাত তুমি ভাল থেকো ভাই।
আমরা এখনো শিবির মুক্ত হতে পারি নাই।

আলোচনাটা শুরু করার জন্য সাইফকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
পোষ্টটা প্রথম পাতায় রাখা হোক

**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

খুব সুন্দর করে অনেকগুলো গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিলেন বস, শিবিরের পরিচয় আর মনে হয় না নতুন করে দেওয়া প্রয়োজন আছে, আর রিক্রুটিং এর স্বার্থে সুযোগ সুবিধার দিয়ে এরা মানুষের প্রাথমিক মগজ ধোলাই দেয়, যতক্ষনে ভিক্টিমরা বুঝতে পারে, ততক্ষনে তাদের রন্ধ্রে বইতে থাইকে শিবিরের আদর্শ। বেশীর ভাগ স্বাভাবিক বোধ বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে পরিণত হয় নরপশুতে। কাজেই গনপ্রচারের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করতে হবে, মুখে বলা খুব সহজ কিন্তু বাস্তবে করা খুব কঠিন হবে, আর এই সুযোগে এর পশুগুলো আরো লোভনীয় প্রস্তাব নিয়ে আসতে থাকবে, কাজেই যতদিন না এদের সমূলে উৎপাটন করা যায়, এরা এদের কাজ চালিয়েই যেতে থাকবে।

মন্তব্যের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার কাছ থেকে আরো লেখা আশা করব ভবিষ্যতে, আপনার ছাত্রজীবনের শিবিরের বিরুদ্ধে সংগ্রামের গল্প।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবিরের উত্থানঃ

বিস্তারিত খতিয়ানের পিডিএফ ডাউনলোড করুন এখান থেকে

কৃতজ্ঞতা : পিয়াল ভাই ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

মামুন হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ মানিক ভাই। এ জাতীয় একটা লেখাই খুঁজছিলাম ।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এই ব্লগটি স্টিকি করার অনুরোধ করছি মডুদের কাছে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

এই ব্লগটি স্টিকি করার অনুরোধ করছি মডুদের কাছে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রায়হান আবীর এর ছবি

মন্তব্য ও লেখা সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা ব্লগ হয়েছে। প্রিয়তে এডাইলাম ...


পুচ্ছে বেঁধেছি গুচ্ছ রজনীগন্ধা

প্রীতম সাহা [অতিথি] এর ছবি

অসাধারন একটি পোস্ট।।।।। ধন্যবাদ লেখককে এবং মন্তব্যকারীদের।।।

প্রীতম সাহা

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ, কষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্যে।
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রাজন এর ছবি

প্রথম থেকে শেষ, মন্তব্যসহ পড়লাম। আমার নিজের কথা বলতে আর ইচ্ছা হলো না। মনে পড়লে শরীর রি রি করে রাগে। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে আগে।

ধন্যবাদ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।