[justify]তোমরা কেউ হয়তো জানো না, ক্লান্তির ভারে ন্যুজ্ব ঘোলাটে এই শহরের এককোণে এক বৃদ্ধ গল্পকুহকিনীর বাস ছিলো। কেউ জানতো না, কেউ তাকে কোনোদিন দেখেনি। দেখবে আর জানবে কী করে? দেখা দিলে তো। সে কখনও কাউকে দেখা দিতো না। সে যে কোথায় থাকতো তাও ছিলো অজ্ঞাত। শহরের ছাপোষা মানুষগুলোর কাছে সে ছিলো রূপকথা মাত্র।
১।
হাতের কাছে কোনো বাংলা ব্যাকরণ বই নেই। তবে ছোটবেলায় বাংলা ব্যাকরণের যে সংজ্ঞা মুখস্থ করতে হয়েছিলো তা হয়তো সবার এখনো মনে আছে-
যে পুস্তক পাঠ করিলে বাংলা ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, পড়িতে ও বলিতে পারা যায় তাহাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
খেয়াল করে দেখুন- শুধু বাংলায় লেখা-পড়া নয়; যে বই পড়ার ফলে আমরা শুদ্ধরূপে আমাদের ভাষায় কথাও বলতে পারি তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
সেদিন সকালে নাশতার টেবিলে বসে দেখি পেপার নাই। হকার দিতে ভুলে গিয়েছে। প্রিয় দুই বড় ভাইয়ের কালের কণ্ঠের ক্রীড়া পাতায় সাংবাদিক হিসেবে থাকার সুবাদে প্রথম থেকেই আমাদের বাসায় কালু পত্রিকা চলে আলুকে বাদ দিয়ে। যাই হোক, সকালে উঠে আমি কালের কণ্ঠ পত্রিকা না পেয়ে মন খ্রাপ করলাম, আমার মনে হলো সকালে পেপার না পড়লে দিন শুরু করলে সেটাকে দিন না বলে অন্যকিছু বলা উচিত।
শুরুতেই বলি আমার কৌ্তুহল বা জানার ইচ্ছা কোনটাই জার্মান দুষ্টু ব্যাটা ফস্টাস এর মত না। যারা ফস্টাস এর নাম শোনেননি তাদের জন্য অল্প একটু বলি। এই ব্যাটা জ্ঞানের বিনিময়ে শয়তানের কাছে তার আত্মা বিক্রি করে দিয়েছিল। আমি বড় জোর শয়তানের কাছে নিজের দেহটা বিক্রি করতে পারি (শয়তান নাকি সবসময় রূপসী রমনী রূপেই আসে!) এর বেশি কিছু না।কিন্তু তারপরো ছোট থাকতে আমার কৌতুহলের অন্ত ছিল না।আব্বুর দাড়ি কেমনে গজায় থেকে শুরু করে কারেন্ট কি জিনিস বুঝার জন্য টেবিল ফ্যানের শক খাওয়া কোনটাই বাদ দেই নাই।
কাব্যের মলিন পাতা খুঁজতে খুঁজতে জীবনের একটা করে অধ্যায় পার হয়ে যায়। চারিদিকে কত কোলাহল। কত তুচ্ছ বিষয় নিয়েই না মেতে আছি কতকাল। কতদিন হল শুভ্রের বন্দনা করিনা, খেয়োখেয়িতে বিষ কামড় বসিয়েই ডাস্টবিনে লড়ে যাচ্ছি অবিরাম। মন্দিরে মসজিদে চার্চে গুরুদোয়ারায় গিয়ে মাথা ঠেকায় ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু সেই নিষ্প্রাণের জন্যই আবার অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আরে এটাই তো সময় - আসেন আমরা সবাই পশু হই!!!
এক
গত তিনমাসে আমি একটা পুরো অমানুষ হয়ে গেছি। গাধার মতো খাটতে খাটতে আর ঘোড়ার মতো দৌড়াতে দৌড়াতে আমি যে একটা মানুষ সেটাই ভুলে গেছি। সচল খুলেছি এক-আধবার, একটু চোখ বুলিয়ে সটকে পড়েছি। কতো প্রিয় লেখকের কতো লেখা পড়া হয়নি। তিনমাস ধরে একটা লাইন ও লিখিনি অফিসের মেইল বা মীটিং মাইনুটস ছাড়া...
একটা আস্ত শীতকাল চলে গেলো, একদিন ও লেপের ভেতর ঢুকে গল্পের বই পড়িনি।
সচল সাবরিনা সুলতানা খুবই অসুস্থ। তার মাসকিউলার ডিসথ্রপি আগে থেকেই ছিল। আজ দুপুরে নিউমোনিয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। শ্বাসযন্ত্রের পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। এ জন্যে বিকেলের দিকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।